পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৪৭
সিলেবাস
বিষয় - ভূগোল (বাংলাদেশ ও বিশ্ব), পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা টপিক - ভূগোল (বাংলাদেশ ও বিশ্ব) ও পরিবেশ ১) বাংলাদেশ ও অঞ্চলভিত্তিক ভৌগোলিক অবস্থান, সীমানা, পারিবেশিক, আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব; ২) অঞ্চলভিত্তিক ভৌত পরিবেশ (ভূ-প্রাকৃতিক), সম্পদের বণ্টন ও গুরুত্ব; ৩) বাংলাদেশের পরিবেশ: প্রকৃতি ও সম্পদ, প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ। উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ সম্পর্কিত অষ্টম, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণির বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], বাংলাপিডিয়া, ওয়ার্ল্ড এটলাস ওয়েবসাইট, ব্রিটানিকা এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]। ------------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৭ প্রশ্ন

.
কোন অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি বেশি দেখা যায়?
  1. কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে
  2. উপকূলীয় অঞ্চলে
  3. বরেন্দ্র অঞ্চলে
  4. পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে
ব্যাখ্যা

ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়। 
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।

এছাড়াও,
• ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি: 
- বাংলাদেশের পাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ যেমন ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি, দিনাজপুর ও রংপুর জেলার বরেন্দ্র বনভূমিকে ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি বলা হয়।
- এই বনভূমির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শীতকালে এই বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায় এবং গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

• স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা, পূর্বে হরিণঘাটা নদী, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে রাইমঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংশিক প্রান্তসীমা পর্যন্ত এ বনভূমি বিস্তৃত। 
- এটি খুলনা বিভাগের ৬,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। 
- সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও লোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল বৃক্ষ সমৃদ্ধ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোন বিভাগের সাথে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত সংযোগ নেই?
  1. খুলনা
  2. রংপুর
  3. বরিশাল
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের ৫টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। এগুলো হলো: পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মেঘালয়।
- উল্লেখ্য ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলো হলো – আসাম, মিজোরাম, মণিপুর, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুনাচল ও ত্রিপুরা। এদের মধ্যে ৪টির সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে।

• বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি। ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- মিয়ানমারের সাথে যে ৩টি জেলার সীমান্ত রয়েছে এগুলো হলো: রাঙামাটি, বান্দরবন ও কক্সবাজার।
- রাঙামাটি জেলায় বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তরেখা পরস্পরকে স্পর্শ করেছে। অর্থাৎ এটি তিনদেশের সীমান্ত যুক্ত হওয়া একটি সাধারণ জেলা। ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরাম উভয় রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী সাধারণ জেলাও রাঙামাটি।
- বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের সাথে কোন দেশের সীমান্ত সংযোগ নেই।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

.
'মদক তং' বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রাঙামাটি
  2. খাগড়াছড়ি
  3. বান্দরবান
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা

সাকা হাফং:
- সাকা হাফং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য জেলা বান্দরবানের থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নে অবস্থিত একটি পাহাড়।
- স্থানীয়ভাবে এই শৃঙ্গকে 'মদক তং' নামেও ডাকা হয়।
- এর অবস্থান ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পর্বতশৃঙ্গ রয়েছে, যেগুলোর অবস্থান মূলত বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার দুর্গম এলাকায়।
- এদের মধ্যে তাজিংডং অন্যতম, এটা বান্দরবানের রুমা উপজেলায় অবস্থিত এবং সরকারিভাবে একে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ বলা হয়ে থাকে।

উৎস: প্রথম আলো।

.
তিব্বত মালভূমির দক্ষিণে কোন পর্বতমালা অবস্থিত?
  1. কুনলুন পর্বতমালা
  2. হিমালয় পর্বতমালা
  3. কারাকোরাম পর্বতমালা
  4. হেংতুয়ান পর্বতমালা
ব্যাখ্যা

তিব্বত মালভূমি:
- সমুদ্র সমতল থেকে অতি উচ্চ বিস্তীর্ণ সমভূমিকে মালভূমি বলে। মালভূমি প্রায়ই পর্বতবেষ্টিত হয়।
- পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমি হল তিব্বতীয় মালভূমি।
- এটি মধ্য এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার একটি বিশাল উচ্চভূমি।
- তিব্বতীয় মালভূমির আয়তন প্রায় ২,৫০০,০০০ বর্গকিলোমিটার (৯৬৫,০০০ বর্গমাইল)। 
- এটি সমুদ্রতল থেকে ১৩,০০০ - ১৫,০০০ ফুট (৪,০০০ - ৫,০০০ মিটার) উঁচু।

• তিব্বত মালভূমির উত্তরে রয়েছে ‘কুনলুন’ পর্বত এবং দক্ষিণে হিমালয়; পশ্চিমে কারাকোরাম পর্বতমালা; পূর্বে হেংতুয়ান পর্বতমালা।
- এখানে আরও রয়েছে গাংদেস পর্বতমালা - নাইনকেন তাংগুলা পর্বতমালা এবং এর শাখা।

উল্লেখ্য,
- কারাকোরুম-টাংলা পর্বতমালা: কারাকোরুম-টাংলা পর্বতমালা পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত। পর্বতব্যবস্থাটি অনেক সমান্তরাল পর্বতশ্রেণীর সমন্বয়ে গঠিত, যার গড় উচ্চতা ৫০০০ থেকে ৬০০০ মিটার। মূল অংশটি সিনচিয়াং ও কাশ্মীরের সীমান্তে অবস্থিত। এটি চীনের বৃহত্তম নদী - ইয়াংজি নদীর জন্মস্থান।

উৎস: i) Britannica.
ii) World atlas.

.
গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন কোন মালভূমির অংশ?
  1. পামীর মালভূমি
  2. কলোরাডো মালভূমি 
  3. তিব্বত মালভূমি 
  4. পাতাগোনিয়া মালভূমি
ব্যাখ্যা

গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন:
- বিখ্যাত গিরিখাত গ্রান্ড ক্যানিয়ন উত্তর আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত কলোরাডো মালভূমির একটি অংশ।
- এই গিরিখাতের মধ্য দিয়ে কলোরাডো নদী বয়ে গেছে।
- গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন মূলত অনুভূমিক স্তরযুক্ত শিলা এবং লাভা প্রবাহ নিয়ে গঠিত।

উল্লেখ্য, কলোরাডো মালভূমি:
- কলোরাডো মালভূমি উত্তর আমেরিকাঞ্চলে অবস্থিত।
- এটি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি রাজ্য কলোরাডো, নিউ মেক্সিকো, ইউটা এবং অ্যারিজোনাতে বিস্তৃত।
- এই মালভূমিটি অত্যন্ত ঐতিহাসিক এবং ভূগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে বহু জাতীয় উদ্যান, যেমন গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন, আর্চস, ক্যাটেড্রাল ভ্যালি এবং মেসা ভার্ডে অবস্থিত।
- এটি পাদদেশীয় মালভূমি।
- কলোরাডো মালভূমিতে সর্বাপেক্ষা দীর্ঘ ও গভীর গিরিখাতটির নাম গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন।

উৎস: Britannica.

.
বাংলাদেশ কোন দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত?
  1. ২০°৩৮′–২৬°৩৪′ উত্তর
  2. ২০°৩৪′–২৬°৩৮′ উত্তর
  3. ৮৮°০১′–৯২°৪১′ পূর্ব
  4. ৮৮°৪১′–৯২°০১′ পূর্ব
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা:
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে বাংলাদেশের অবস্থান।
- বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার মধ্যে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা) অতিক্রম করেছে। পূর্ব-পশ্চিমে সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৪৪০ কি.মি. এবং উত্তর-উত্তর পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৭৬০ কি.মি.।
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম এবং মিয়ানমার; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের, পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

.
সেন্ট বার্নার্ড গিরিপথ কোন পর্বতমালায় অবস্থিত?
  1. আল্পস 
  2. রকি
  3. আন্দিজ
  4. হিমালয়
ব্যাখ্যা

সেন্ট বার্নার্ড গিরিপথ:
- সেন্ট বার্নার্ড গিরিপথ সুইস আল্পস পর্বতমালায় অবস্থিত।
- এটি সুইজারল্যান্ডের তৃতীয় সর্বোচ্চ গিরিপথ।
- এটি সুইজারল্যান্ড এবং ইতালির সীমান্তে প্রায় ৮,১০০ ফুট বা ২৪৬৯ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।
- এটি সুইজারল্যান্ডের মার্টিগনি এবং ইতালির আওস্তা উপত্যকার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
- এটি আল্পস পর্বতমালার একটি গুরুত্বপূর্ণ পাস, যা ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে।

উৎস: Britannica.

.
চর কুকরি মুকরি কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. নোয়াখালী
  2. ভোলা
  3. লক্ষ্মীপুর
  4. বরগুনা 
ব্যাখ্যা

চর কুকরি মুকরি:
- চর কুকরি মুকরি ভোলা জেলায় অবস্থিত।
- চর কুকরি মুকরির অবস্থান ভোলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপাসাগরের কোল ঘেষা মেঘনা নদীর মোহনায় যা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসাবে পরিচিত।
- এক সময় এই চরে অধিক কুকুর ও ইঁদুর (এখানে মেকুর নামে পরিচিত) পাওয়া যেত, এ কারণেই এটি চর কুকরি মুকরি নামে স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে উঠে।
- ১৯৮৯ সালের ১৪ মে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার একর জমিতে সংরক্ষিত শ্বাসমূলীয় ম্যানগ্রোভ জাতীয় বৃক্ষের বনায়ন শুরু হয়।
- চর কুকরি মুকরির বনভূমিতে স্থান পেয়েছে সুন্দরী, গেওয়া, পশুর, কেওড়া, নারিকেল, বাঁশ ও বেত। 
- মাছ ধরা ও কৃষিকাজ চর কুকরি মুকরিতে বসবাসকারী মানুষের প্রধান পেশা।

উল্লেখ্য,
- চর মানিক: ভোলা,
- চর জব্বর: ভোলা,
- চর নিউটন: ভোলা,
- চর সাকুচিয়া: ভোলা,
- চর গজারিয়া :লক্ষীপুর,
- চর আলেকজান্ডার: লক্ষীপুর,
- দুবলার চর: সুন্দরবনের দক্ষিণে,
- মহুরীর চর: ফেনী,
- নির্মল চর: রাজশাহী।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

.
চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোন শিলায় পরিণত হয়?
  1. স্লেট
  2. কোয়ার্টজাইট
  3. নিস
  4. মার্বেল
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত শিলা:
- রূপান্তরিত শিলা হলো এমন শিলা যা উচ্চ তাপ, প্রচণ্ড চাপ এবং রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যমান আগ্নেয় বা পাললিক শিলার ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নতুন রূপ।
- যেমন- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট, গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে, কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।
- রূপান্তরিত শিলা অত্যন্ত শক্তিশালী ও টেকসই, যা স্ফটিকাকৃতির পুনঃগঠন প্রদর্শন করে।

⇒ রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১। রূপান্তরিত শিলা স্ফটিক যুক্ত;
২। এই শিলা অত্যন্ত কঠিন;
৩। এই শিলায় জীবাশ্ম নেই;
৪। কোনো কোনো রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর দেখা যায়।

⇒ রূপান্তরিত শিলার প্রকারভেদ:
ক. আগ্নেয়শিলা প্রচন্ড তাপে ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে আগ্নেয়শিলা থেকে রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয়।
- যেমন: গ্রানাইট থেকে নিস (Gneiss) তৈরি হয়।
খ. পাললিক শিলা প্রচন্ড তাপে ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে, পাললিক শিলা থেকে রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয়।
- যেমন: বেলেপাথর থেকে কোয়ার্টজাইট (Quartzite) তৈরি হয়।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
ইয়ারলাং সাংপো গ্র্যান্ড গিরিখাত কোথায় অবস্থিত?
  1. নেপালের হিমালয়ে
  2. চীনের তিব্বত অঞ্চলে
  3. পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে
  4. ভারতের অরুণাচলে
ব্যাখ্যা

ইয়ারলাং সাংপো গ্র্যান্ড গিরিখাত:
- বিশ্বের সবচেয়ে গভীর গিরিখাত ইয়ারলাং সাংপো গ্র্যান্ড গিরিখাত যা চীনের তিব্বত অঞ্চলে অবস্থিত।
- এটি ব্রহ্মপুত্র গিরিখাত নামেও পরিচিত।
- এই গিরিখাতের গভীরতা সর্বোচ্চ ১৯ হাজার ৭১৪ ফুট এবং এটির দৈর্ঘ্য ৩১৩ মাইলের বেশি।

উল্লেখ্য,
- ইয়ারলাং সাংপো নদীর উৎপত্তিস্থল কৈলাস পর্বতের কাছে। সেখান থেকে এই নদী পূর্ব দিকে প্রায় ১ হাজার ১০০ মাইল বয়ে গেছে এবং তিব্বতের পেই গ্রামের কাছে গিরিখাতে প্রবেশ করার আগে হিমালয়ের উত্তর অংশে প্রবাহিত হয়েছে।

উৎস: World Atlas. 

১১.
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি কোন ধরনের কয়লা পাওয়া যায়?
  1. বিটুমিনাস
  2. অ্যানথ্রাসাইট
  3. পিট
  4. গ্রাফাইট
ব্যাখ্যা

কয়লা:
- শক্তির অন্যতম উৎস কয়লা।
- বর্তমানে দেশে প্রধান পাঁচটি কয়লা খনি রয়েছে।
- এসব কয়লা খনি থেকে প্রধানত তিন ধরনের কয়লা পাওয়া যায়। যথা-বিটুমিনাস, লিগনাইট ও পীট।
- বিটুমিনাস ও লিগনাইট শ্রেণির কয়লায় ছাই ও গন্ধকের পরিমাণ বেশি এবং কার্বনের পরিমাণ খুবই কম।
- পীট কয়লার উদ্ভব হয় উদ্ভিদ হতে কয়লায় পরিণত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে। 

• বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে বিটুমিনাস ধরনের কয়লা পাওয়া যায়।
- উত্তরবঙ্গের বড়পুকুরিয়া, খালাসপীর, ফুলবাড়ী, দিঘিপাড়া এবং জামালগঞ্জ-এই পাঁচটি প্রধান কয়লা ক্ষেত্রে এ জাতীয় উচ্চমানের কয়লার মজুদ রয়েছে।
- বাংলাদশে বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলন হয়।
- বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি হতে প্রাপ্ত কয়লার মান উচ্চ উদ্ধায়ী বিটুমিনাস শ্রেণী হতে সাব বিটুমিনাস শ্রেণীর অন্তর্গত। যার মূল উপাদান হচ্ছে ফিক্সড কার্বন-৪৮.৪০%, এ্যাশ- ১২.৪০%, ভোলাটাইল মেটার-২৯.২০%, মোট ময়েশ্চার-১০%, ক্ষতিকারক উপাদান সালফারের পরিমাণ-০.৫৩% এবং তাপ দহন ক্ষমতা-১১,০৪০ বিটিউ পার পাউন্ড।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে মোট পাঁচটি কয়লা ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। 
- এগুলো হলো- জামালগঞ্জ (জয়পুরহাট), বড়পুকুরিয়া (দিনাজপুর), খালাশপীর (রংপুর), দিঘীপাড়া (দিনাজপুর) ও ফুলবাড়ি (দিনাজপুর)। এর মধ্যে চারটি কয়লা ক্ষেত্র (জামারগঞ্জ, বড়পুকুরিয়া, খালাশপীর ও দিঘীপাড়া) আবিষ্কার করেছে জিএসবি। 
- এছাড়াও বগুড়া জেলার নন্দীগ্রামের কুচমা, নওগাঁ জেলার পত্নীতলা, চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ এবং রংপুর জেলার পীরগঞ্জে কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
ii) বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড (বিসিএমসিএল) ওয়েবসাইট।
iii) প্রথম আলো।

১২.
কর্কটক্রান্তি রেখা মোট কয়টি দেশের ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছে?
  1. ১০টি
  2. ১১টি
  3. ১৩টি
  4. ১৭টি
ব্যাখ্যা

কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer):
- কর্কটক্রান্তি রেখা হলো উত্তর গোলার্ধে বিষুবরেখার সমান্তরালে অবস্থিত একটি কাল্পনিক রেখা যা নিরক্ষরেখার প্রায় ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত।
- কর্কটক্রান্তি রেখা প্রধানত ১৭টি দেশ, ৩টি মহাদেশ ও ৬টি জলাশয়ের ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- প্রধান দেশসমূহ: আলজেরিয়া, নাইজার, লিবিয়া, মিশর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার, চীন, তাইওয়ান, মেক্সিকো, বাহামা, পশ্চিম সাহারা, মৌরিতানিয়া, মালি।
- যেসব এলাকার ওপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা গেছে, সেসব এলাকা এবং আশপাশের এলাকায় তাপ অনেক বেশি। এখানে সূর্যের কিরণ লম্বভাবে পড়ে। 

উল্লেখ্য,
- কর্কটক্রান্তি রেখা বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে অতিক্রম করেছে। এই রেখার অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ুর অন্তর্গত এবং এখানে উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া বিরাজ করে। 

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) Worldatlas.

১৩.
বাংলাদেশের একমাত্র উৎপাদনশীল কঠিন শিলার খনি কোথায় অবস্থিত?
  1. দিনাজপুর
  2. জয়পুরহাট
  3. পঞ্চগড়
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা

কঠিন শিলা (Hard Rock):
- পাললিক শিলা থেকে পৃথক এবং সাধারণভাবে শক্ত, ঘন, কেলাসিত আগ্নেয় অথবা রূপান্তরিত শিলাকে কঠিন শিলা বলে।
- বাংলাদেশের একমাত্র উৎপাদনশীল কঠিন শিলার খনি মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি।
- এটি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার মধ্যপাড়ায় অবস্থিত।
- এটি একটি ভূ-গর্ভস্থ খনি যা থেকে গ্রানাইট বা কঠিন শিলা উত্তোলন করা হয়।
- আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৭৪।
- বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়: ২০০৭ সালের ২৫ মে। 
- গভীরতা: ১২৮ মিটার।
- মজুদ: ১৭১ মেট্রিক টন।

উল্লেখ্য,
- দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় অবস্থিত মধ্যপাড়া খনির ভূগর্ভ থেকে প্রতিদিন তিন শিফটে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর সফলতার সাথে উত্তোলন করা যায়।
- দেশে এই কঠিন শিলা থেকে উত্তোলিতে পাথর খুবই উন্নত মানের এবং দেশের উন্নয়ন ও নির্মাণ কাজে ব্যবহারের জন্য মজবুত ও টেকসই।

উৎস: i) খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা। 

১৪.
বিশ্বের সর্বোচ্চ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি 'ওজোস দেল সালাদো' কোন দুটি দেশের সীমান্তে অবস্থিত?
  1. চিলি-আর্জেন্টিনা
  2. পেরু-বলিভিয়া 
  3. ইকুয়েডর-কলম্বিয়া
  4. ভেনেজুয়েলা-ব্রাজিল
ব্যাখ্যা

ওজোস দেল সালাদো: 
- ওজোস দেল সালাদো হলো বিশ্বের সর্বোচ্চ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি।
- এটি আর্জেন্টিনা-চিলি সীমান্তে আন্দিজ পর্বতমালায় অবস্থিত। 
- এর উচ্চতা ৬,৮৯৩ মিটার। 
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত এবং আতাকামা মরুভূমির পূর্বে অবস্থিত একটি স্ট্র্যাটো-আগ্নেয়গিরি। 
- উল্লেখযোগ্যভাবে, ওজোস দেল সালাদোতে বিশ্বের সর্বোচ্চ হ্রদ রয়েছে, যা ৬,৩৯০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- এটি হিমালয়ের বাইরে বিশ্বের সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরি এবং সাতটি মহাদেশের সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরি বা 'ভলক্যানিক সেভেন সামিট'-এর অংশ। 

উৎস: World Atlas.

১৫.
হিমালয় পর্বতমালা কোন দুটি ভূ-তাত্ত্বিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলে সৃষ্টি হয়েছে?
  1. ইউরেশীয় এবং আফ্রিকান
  2. ভারতীয় এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয়
  3. ইউরেশীয় এবং ভারতীয়
  4. আফ্রিকান এবং অ্যান্টার্কটিক 
ব্যাখ্যা

হিমালয় পর্বতমালা:
- হিমালয় এশিয়ার একটি পর্বতমালা।
- এটি অনেকগুলো পর্বতের সমন্বয়ে গঠিত যা তিব্বতীয় মালভূমি থেকে ভারতীয় উপমহাদেশকে পৃথক করেছে।
- ভূ-তত্ত্ববিদদের ধারণা অনুযায়ী, ভারতীয় প্লেট ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে হিমালয় সৃষ্টি হয়েছে।
- বিশ্বের তিনটি প্রধান নদী- সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গার উৎপত্তি হয়েছে এই পর্বতমালা থেকেই।
- হিমালয়ের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম মাউন্ট এভারেস্ট। এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এভারেস্টের উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার বা ২৯,০৩২ ফুট।

উল্লেখ্য,
- হিমালয় পর্বতমালার উত্তর-পশ্চিমে হিন্দুকুশ এবং কারাকোরাম পর্বতমালা এবং উত্তরে তিব্বতের উচ্চ ও বিশাল মালভূমি অবস্থিত ।
- হিমালয় পর্বতমালা মূলত ভারত, চীন, নেপাল, পাকিস্তান ও ভুটান এই দেশগুলতে বিস্তৃত ।

উৎস: i) Britannica।
ii) National Geographic।

১৬.
কোন প্রাণীটি রক্ষার জন্য নিঝুম দ্বীপ সামুদ্রিক এলাকা গুরুত্বপূর্ণ?
  1. চিত্রা হরিণ
  2. ডলফিন
  3. সামুদ্রিক কচ্ছপ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

নিঝুম দ্বীপ:
- নিঝুম দ্বীপ নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত।
- এর আয়তন ৯১ বর্গ কিলোমিটার।
- এটি বঙ্গোপসাগরের বুকে মেঘনা নদীর মোহনায় জেগে ওঠা এই চর হাতিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে দুই কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
- দ্বীপের তিন দিকে সাগর অন্যদিকে মেঘনার মোহনা।
-  ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল দ্বীপটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে সরকার।

উল্লেখ্য,
- নিঝুম দ্বীপ সামুদ্রিক এলাকা মূলত বিপন্ন প্রজাতির ইরাবতী ডলফিন, চিত্রা হরিণ, হ্যামারহেড হাঙ্গর, সামুদ্রিক কচ্ছপ এবং মূল্যবান ইলিশ মাছের প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্র রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 
- বর্তমানে চিত্রা হরিণ নিঝুম দ্বীপের প্রধান বন্য প্রাণী। নিঝুম দ্বীপে একরপ্রতি চিত্রল হরিণের ঘনত্ব সুন্দরবনের চেয়ে তিন গুণ বেশি।
- ন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে রয়েছে এশীয় উদবিলাই, মেছোবাঘ ইত্যাদি।
- বিভিন্ন প্রজাতির পাখির মধ্যে রয়েছে নিশি বক, দেশি কানিবক, গো বক, দেশি পানকৌড়ি, ধূসর বক, কাদাখোঁচা, বালিহাঁস, কালো হাঁস ইত্যাদি।
- সরীসৃপের মধ্যে রয়েছে দেশি গুইসাপ ও নানা জাতের সামুদ্রিক কচ্ছপ। সামুদ্রিক কচ্ছপের গুরুত্বপূর্ণ প্রজননস্থল এই নিঝুম দ্বীপ। 

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৭.
'দেখার হাওর' বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. সুনামগঞ্জ
  2. মৌলভীবাজার
  3. কিশোরগঞ্জ
  4. হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা

দেখার হাওর:
- 'দেখার হাওর' (ডেকার হাওর) বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।
- এটি সুনামগঞ্জ সদর, শান্তিগঞ্জ (দক্ষিণ সুনামগঞ্জ), দোয়ারাবাজার ও ছাতক-এই চার উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত একটি অন্যতম বৃহত্তম ও ফসলি হাওর।
- এই হাওরটি বোরো ধানের জন্য বিখ্যাত এবং স্থানীয়ভাবে একে 'বোরোর শস্য ভাণ্ডার' বলা হয়।
- ভরা বর্ষায় হাওরের সৌন্দর্য মানুষের নজর কাড়ে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকেরা বোরো রোপণ করেন।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
ii) প্রথম আলো।

১৮.
লাউয়াছড়া কী ধরনের বন?
  1. ম্যানগ্রোভ বন
  2. পর্ণমোচী বন
  3. চিরহরিৎ বন
  4. তৈগা বন
ব্যাখ্যা

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান:
- লাউয়াছড়া মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত একটি চিরহরিৎ বা মিশ্র চিরসবুজ ক্রান্তীয় রেইনফরেস্ট।
- এটি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
- এর আয়তন ১২৫০ হেক্টর।
- ১৯২৫ সালে বনায়ন করে সৃষ্ট বনরাজি এখন ঘন প্রাকৃতিক বনের আকার ধারণ করেছে।
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে এই বনকে 'জাতীয় উদ্যান' হিসেবে ঘোষণা করে।
- বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলের চিরহরিৎ বর্ষাবন বা রেইন ফরেষ্টের মতো এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- সূর্যের আলোর জন্য প্রতিযোগিতা করে এ বনের গাছপালা খুব উঁচু হয়ে থাকে, এবং অনেক ওপরে ডালপালা ছড়িয়ে চাঁদোয়ার মত সৃষ্টি করে।
- এই বন এতই ঘন যে মাটিতে সূর্যের আলো পড়েনা বললেই চলে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৯.
কোন খনিজ সম্পদকে ‘তরল সোনা’ বলা হয়?
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. কয়লা
  3. পেট্রোলিয়াম
  4. কঠিন শিলা
ব্যাখ্যা

তরল সোনা:
- পেট্রোলিয়ামকে তার উচ্চ বাণিজ্যিক মূল্য এবং বহুমুখী ব্যবহারের কারণে 'তরল সোনা' বলা হয়।

• মাটির নিচে থেকে যে তরল জ্বালানি তোলা হয়, তাকে পেট্রোলিয়াম বলে।
- এই তরলের গুরুত্ব এতটাই যে, পেট্রোলিয়ামকে তরল সোনা আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
- এটি মূলত হাইড্রোকার্বন এবং অন্যান্য কিছু জৈব যৌগের মিশ্রণ।
- এদের মধ্যে কার্বন এবং হাইড্রোজেন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত তেলকে আংশিক পাতন পদ্ধতিতে পৃথক করা হয়।
- মাটির নিচে থেকে যে তরল জ্বালানি তোলা হয়, তাকে পেট্রোলিয়াম বলে। 

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০.
ভারতের সেভেন সিস্টার্সের কয়টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে?
  1. ৩টি 
  2. ৪টি 
  3. ৫টি 
  4. ৬টি 
ব্যাখ্যা

ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চল:
- ভারতের সেভেন সিস্টার্স বলতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে বোঝানো হয়।
- রাজ্যগুলো হলো: আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম। 
- এই সাত রাজ্যের আয়তন ২,৬২,১৭৯ বর্গকিলোমিটার, যা ভারতের মোট এলাকার প্রায় ৭.৯৭ শতাংশ।
- ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে এদের সংযোগকারী সরু করিডোরটি আসামের গুয়াহাটিতে অবস্থিত যা চিকেন'স নেক নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- সেভেন সিস্টার্স অন্তর্ভুক্ত ৪টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমানা সংযোগ রয়েছে।
- এগুলো হলো: আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম, ত্রিপুরা।

উৎস: i) Britannica.
ii) Ministry of Home Affairs ওয়েবসাইট।

২১.
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৩ সালে
  2. ১৯৭৬ সালে
  3. ১৯৭৮ সালে
  4. ১৯৮২ সালে
ব্যাখ্যা

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান:
- ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি গাজীপুর জেলার গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত।
- এর মোট আয়তন ৫০২২ হেঃ।
- এটি ঢাকা বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগের অধীনে পরিচালিত হয়। 

• প্রাণিবৈচিত্র্য:
- ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে একসময় বাঘ, কালোচিতা, চিতাবাঘ, মেঘলা চিতা, হাতি, ময়ূর, মায়া হরিণ ও সম্বর হরিণ দেখা যেত। ১৯৮৫ সালে এ বনে খেঁকশিয়াল, গন্ধগোকুল, বেজি, কাঠবিড়ালী, গুই সাপ আর কয়েক প্রজাতির সাপ দেখা গেছে। একটি হিসাব অনুযায়ী, ভাওয়াল গড়ে ৬৪ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে যার মধ্যে ৬ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ১০ প্রজাতির উভচর ও ৩৯ প্রজাতির পাখি রয়েছে। বনবিভাগ এ বনে অজগর, ময়ূর, হরিণ ও মেছোবাঘ ছেড়েছে। এছাড়া ২০১২ সালে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে ১৬টি তক্ষক ছাড়া হয়।

• উদ্ভিদ:
- ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান মূলত ক্রান্তীয় পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমি। এ বনে ২২১ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে যার মধ্যে ২৪ প্রজাতির লতা, ২৭ প্রজাতির তৃণ, ৩ প্রজাতির পামজাতীয় বৃক্ষ, ১০৫ প্রজাতির ঔষধি, ১৯ প্রজাতির গুল্ম, ৪৩ প্রজাতির বৃক্ষ। শাল (Shorea robusta) এ উদ্যানের প্রধান বৃক্ষ। অন্যান্য বৃক্ষের মধ্যে কাঁঠাল, আজুলি, কুম্ভী, গান্ধী গজারি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া এ বনে কৃত্রিমভাবে ইউক্যালিপটাস আর রাবারের বনায়ন করা হয়েছে।

উৎস: বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

২২.
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহের মধ্যে কোনটি সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি?
  1. মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় 
  2. লালমাই পাহাড়
  3. বরেন্দ্রভূমি 
  4. পার্বত্য চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।

• বরেন্দ্রভূমি:
- বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
- প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩.
কত সালে বড়পুকুরিয়া কয়লা ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৯৮৫ সালে
  2. ১৯৮৬ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা

বড়পুকুরিয়া কয়লা ক্ষেত্র:
- বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) কর্তৃক ১৯৮৫ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লা ক্ষেত্র আবিষ্কার করা হয়।
- দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় বাংলাদেশের একমাত্র কয়লাখনি ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু করে ২০০৫ সালে। 
- কয়লাখনিটি বড়পুকুরিয়ায় অবস্থিত দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে কয়লার জোগান দিয়ে থাকে।

• বড়পুকুরিয়া কোল বেসিনের বিস্তৃতি ৬.৬৮ বর্গকিলোমিটার।  
- এই বেসিনে কয়লার মোট মজুদ ৩৯০ মিলিয়ন মেট্রিক টন।
- সমগ্র কয়লা ক্ষেত্রের উপরিভাগ বারিন্ড ক্লে স্তর (মধুপুর ক্লে) দ্বারা আবৃত রয়েছে। 
- বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি হতে প্রাপ্ত কয়লার মান উচ্চ উদ্ধায়ী বিটুমিনাস শ্রেণী হতে সাব বিটুমিনাস শ্রেণীর অন্তর্গত, যার মূল উপাদান হচ্ছে ফিক্সড কার্বন-৪৮.৪০%, এ্যাশ- ১২.৪০%, ভোলাটাইল মেটার-২৯.২০%, মোট ময়েশ্চার-১০%, ক্ষতিকারক উপাদান সালফারের পরিমাণ-০.৫৩% এবং তাপ দহন ক্ষমতা-১১,০৪০ বিটিউ পার পাউন্ড।

উৎস: i) বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড (বিসিএমসিএল) ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

২৪.
লালমাই পাহাড়ের গড় উচ্চতা কত?
  1. ৬-১২ মিটার
  2. ৬-১৮ মিটার
  3. প্রায় ২১ মিটার
  4. প্রায় ৩০ মিটার
ব্যাখ্যা

লালমাই পাহাড়: 
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার।
- গড় উচ্চতা ২১ মিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫.
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডকে কত তারিখে মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
  1. ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪
  2. ২৬ মার্চ, ২০১৪
  3. ২৭ অক্টোবর, ২০১৪
  4. ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৪
ব্যাখ্যা

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground) খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত যা বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত। 
- এটি সুন্দরবনের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের গভীরে অবস্থিত যা গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের একটি অংশ।
- এটি গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- এর আয়তন: ১,৭৩৮ বর্গ কিলোমিটার। 
- এই গিরিখাতটির গড় গভীরতা প্রায় ১২০০ মিটার। 
- এটি ডলফিন, তিমি, হাঙ্গর, সামুদ্রিক কচ্ছপ এবং বিপন্ন সামুদ্রিক প্রজাতির প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্র। 

• সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডকে ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া (MPA) বা সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। 
- এটি বাংলাদেশের প্রথম মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া। 

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া ২টি। যথা: সোয়াচ অব নো-গ্রাউন্ড মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া ও সেন্টমার্টিন মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া। 

উৎস: i) বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
ii) IUCN ওয়েবসাইট।
iii) The Daily Star Bangla.

২৬.
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বনভূমি কোন দেশে রয়েছে?
  1. ব্রাজিল
  2. রাশিয়া
  3. কানাডা
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বনভূমি:
- পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বনভূমি রয়েছে রাশিয়ায়।

উল্লেখ্য,
- বিশ্বের মোট বনভূমির ২০.৪১ শতাংশই রাশিয়ায়। দেশটিতে ৮১ কোটি ৪৮ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬০ হেক্টর বনভূমি রয়েছে। পৃথিবীর মোট আবাসযোগ্য জমির আট ভাগের এক ভাগ পড়েছে রাশিয়ায়। আয়তনের বিশালত্বের কারণে দেশটি নয়টি সময় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। দেশটির বনভূমির বড় অংশ রয়েছে ফার ইস্টার্ন ফেডারেল অঞ্চলে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে সাইবেরিয়ান ফেডারেল অঞ্চল। এসব এলাকার বেশির ভাগ গাছই লার্চ, পাইন ও স্প্রুস জাতের।

⇒ জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা ৪.৬ বিলিয়ন হেক্টর এলাকায় বনভূমি রয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ বনভূমির দেশ:
১. রাশিয়া,
২. ব্রাজিল,
৩. কানাডা,
৪. যুক্তরাষ্ট্র,
৫. চীন।

উৎস: i) Global Forest Resources Assessment 2025, FAO.
ii) Worldometer.

২৭.
কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গ কোন দুটি দেশের সীমান্তে অবস্থিত?
  1. নেপাল ও চীন
  2. ভারত ও ভুটান
  3. নেপাল ও ভারত
  4. ভারত ও চীন
ব্যাখ্যা

কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গ:
- কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গ ভারত এবং নেপালের সীমান্তে অবস্থিত। 
- এটি পূর্ব হিমালয়ে অবস্থিত, উত্তর-পূর্ব ভারতের সিকিম রাজ্য এবং পূর্ব নেপালের সীমান্তে অবস্থিত।
- এটি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং ভারতের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।
- এর উচ্চতা ৮,৫৮৬ মিটার।
- এই পর্বতটি গ্রেট হিমালয় পর্বতমালার অংশ।

উৎস: Britannica.

২৮.
চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারন্য কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. কক্সবাজার 
  2. চট্টগ্রাম 
  3. রাঙ্গামাটি
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা

চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারন্য:
- চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বাংলাদেশের একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।
- এটি চুনতি অভয়ারণ্য নামেও পরিচিত।
- চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য চট্টগ্রাম জেলার লোহাগড়া ও বাঁশখালি উপজেলা এবং কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায় অবস্থিত।
- এর আয়তন ৭,৭৬৪ হেক্টর।

• বনের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও বিপন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য ১৯৮৬ সালে এই অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বন্য এশীয় হাতির যাতায়াতের একটি সংযোগপথ বা করিডোর হিসেবে এই অভয়ারণ্যের গুরুত্ব অপরিসীম।
- এই অভয়ারণ্য তার বিশালাকায় শতবর্ষী মাদার গর্জন গাছের জন্য সুপরিচিত যা এই বনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

• জীববৈচিত্র্য:
- বন্য এশীয় হাতি এই বনের অন্যতম আকর্ষণ এবং এরা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বনের মধ্য দিয়েই চলাচল করে।
- এই বনে ১২০০ প্রজাতির উদ্ভিদ দেখা যায়। যার মধ্যে ৪৫ প্রজাতির উচু গাছও রয়েছে।
- বড় প্রজাতির গাছের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: গর্জন, রাকতান, জাম, উরি আম, চাপালিশ, শিমুল, কড়ই প্রভৃতি। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ভেষজ উদ্ভিদ এবং লতাগুল্ম এ বনে পাওয়া যায়।
- জীবজন্তুর মধ্যে ২ প্রজাতির উভচর, ২ প্রজাতির সরীসৃপ, ২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী এবং প্রায় ১১ ধরনের পাখি বর্তমানে বেশি দেখতে পাওয়া যায়।
- বন্য প্রানীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: হাতি, কয়েক ধরনের বিড়াল, দেশি বন শুকর, হনুমান প্রভৃতি এবং পাখির মধ্যে আছে: কাঠঠোকরা, ছোট বসন্তবৌরি, বনস্পতি, বড় কুবো, আবাবিল, তিলা ঘুঘু, ফিঙে, ময়না, ভাত শালিক প্রভৃতি। এছাড়াও বেশ কিছু জলজ প্রানীও এই বনে পাওয়া যায়।  

উৎস:  বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ ওয়েবসাইট।

২৯.
আমাজন রেইনফরেস্ট কয়টি দেশ জুড়ে বিস্তৃত?
  1. ৬টি 
  2. ৮টি 
  3. ৯টি 
  4. ১১টি 
ব্যাখ্যা

আমাজন রেইনফরেস্ট:
- আমাজন রেইনফরেস্ট হলো দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত পৃথিবীর বৃহত্তম ক্রান্তীয় বা নিরক্ষীয় রেইনফরেস্ট যা প্রায় ৭ মিলিয়ন বর্গ কি.মি. এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং আমাজন নদী অববাহিকার অধিকাংশ অংশ ধারণ করে।
- এটি মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘনবর্ধন বনাঞ্চল।
- একে প্রায়শই "পৃথিবীর ফুসফুস" বলা হয়। 
- এটি বিশ্বের মোট জীববৈচিত্র্যের এক-তৃতীয়াংশের আবাসস্থল
- আমাজন রেইনফরেস্টে পাওয়া গেছে ১৬,০০০ প্রজাতি এবং ৩৯০ বিলিয়ন বিভিন্ন রকমের গাছ যারা প্রায় ৫৫ মিলিয়ন বছর ধরে টিকে রয়েছে।
- আমাজন বন পৃথিবীর অক্সিজেনের একটি বড় অংশ সরবরাহ করে এবং বিপুল পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উল্লেখ্য,
- আমাজন বন ৯টি দেশ জুড়ে বিস্তৃত।
- দেশগুলো হলো: ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ভেনিজুয়েলা, সুরিনাম, পেরু, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, গায়ানা এবং ফ্রেঞ্চ গায়ানা।
- এর মধ্যে আমাজন বনের ৬৪% রয়েছে ব্রাজিলে।

উৎস: World Atlas.

৩০.
বাংলাদেশে প্রথম কোথায় চীনামাটির সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. বিজয়পুর, নেত্রকোনা
  2. নালিতাবাড়ী, শেরপুর 
  3. হাইদগাঁও, চট্টগ্রাম 
  4. মধ্যপাড়া, দিনাজপুর
ব্যাখ্যা

চীনামাটি:
- চীনামাটি বা কেওলিন (Kaolin) হলো একধরণের উন্নতমানের সাদা কর্দম খনিজ, যা মূলত সিরামিক, টাইলস এবং তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 
- এটি উচ্চ তাপমাত্রায় পুড়িয়ে তৈরি করা হয়, ফলে এটি অত্যন্ত শক্ত, অভেদ্য এবং স্বচ্ছ প্রকৃতির হয়। 
- একে সাদা মাটিও বলা হয়। 
- এটি সিরামিক শিল্প, টেবিলওয়্যার (চায়ের সেট), স্যানিটারি ওয়্যার (টয়লেট), এবং কাগজ শিল্পে ফিলার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

• বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
- বাংলাদেশে প্রথম ১৯৫৭ সালে নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর এলাকায় চীনামাটির সন্ধান পাওয়া যায়।
- এটি দেশের সবচেয়ে বড় চীনামাটি বা সাদামাটির খনি অবস্থিত।
- এছাড়া শেরপুরের নালিতাবাড়ী, চট্টগ্রামের হাইদগাঁও ও সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জত এবং দিনাজপুরের মধ্যপাড়া, নওগাঁ জেলার পত্নীতলা ও ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় চীনামাটি মজুতের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া। 
ii) খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।

৩১.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক পাহাড়ি বনাঞ্চল কোনটি?
  1. লাউয়াছড়া
  2. মধুপুর গড়
  3. রেমা–কালেঙ্গা
  4. রাতারগুল
ব্যাখ্যা

রেমা–কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক পাহাড়ি বনাঞ্চল রেমা-কালেঙ্গা।
- এটি সুন্দরবনের পরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক বন।


- রেমা–কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত।
- এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বণ্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং জীব ও উদ্ভিদবৈচিত্র্যে দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ বনাঞ্চল।
- এটি মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার খুব কাছে এবং ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত সংলগ্ন।

• রেমা–কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে এটির আরো সম্প্রসারণ করা হয়।
- বনবিভাগের কালেঙ্গা রেঞ্জের চারটি বিটের (কালেঙ্গা, রেমা, ছনবাড়ী আর রশিদপুর) মধ্যে রেমা, কালেঙ্গা আর ছনবাড়ী বিস্তীর্ণ জঙ্গল নিয়ে রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য গঠিত।
- বর্তমানে এই বনে ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৬৭ প্রজাতির পাখি, ৭ প্রজাতির উভচর, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৬৩৮ প্রজাতির গাছপালা-লতাগুল্ম পাওয়া যায়।
- রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়াশ্রমে আছে ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, সাত প্রজাতির উভচর, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ১৬৭ প্রজাতির পাখি। এছাড়া ৬৩৮ প্রজাতির গাছপালা ও লতাগুল্মও আছে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

৩২.
গারো পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী?
  1. নকরেক
  2. বালফাক্রাম
  3. তুরা
  4. আরবেলা
ব্যাখ্যা

গারো পাহাড়:
- গারো পাহাড় বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারোখাসি পাহাড়শ্রেণীর অন্তর্গত। 
- এটি বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ জেলাসমূহ গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। 
- এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম ও সবচেয়ে উঁচু পাহাড়।
- মেঘালয়ের রাজধানী শিলং এখানে অবস্থিত।
- গারো পাহাড়ে রয়েছে তিনটি জেলা তুরা, বলপাকরাম এবং নকরেক। 
- গারো পাহাড় বিশ্বের অন্যতম বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চলসমূহের মধ্যে একটি। 
- গারো পাহাড়ের দীর্ঘতম নদীটির নাম সিমসাং। নদীটির উৎপত্তি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪০০ মিটার উচ্চতায় নকরেক অঞ্চলে, পরবর্তীতে নদীটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে প্রবাহিত হয়েছে। 
- গারো পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম নকরেক। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ১৪১২ মিটার।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ভারতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩৩.
কোনটি আগ্নেয় শিলার উদাহরণ?
  1. গ্রানাইট
  2. চুনাপাথর
  3. মার্বেল
  4. কয়লা 
ব্যাখ্যা

আগ্নেয় শিলা:
- ভূগর্ভের গলিত ম্যাগমা বা ভূপৃষ্ঠের লাভা শীতল ও কঠিন হয়ে যে কঠিন শিলা গঠিত হয়, তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।
- এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম শিলা যা সাধারণত স্ফটিকাকার, স্তরহীন এবং অত্যন্ত শক্ত হয়।
- এই শিলা কোনো স্তর বা জীবাশ্ম ধারণ করে না।
- আগ্নেয় শিলার উদাহরণ: গ্রানাইট, ব্যাসল্ট, গ্যাব্রো, সিয়েনাইট, পিউমিস। 

• আগ্নেয় শিলার বৈশিষ্ট্য:
- আগ্নেয় শিলার স্তর নেই অর্থাৎ অস্তরীভূত শিলা;
- আগ্নেয় শিলায় কোনো জীবাশ্ম নেই;
- আগ্নেয় শিলা অপ্রবেশ্য;
- আগ্নেয় শিলা সুদৃঢ় ও সুসংহত। 

অন্যদিকে, 
- চুনাপাথর, কয়লা পাললিক শিলা এবং মার্বেল রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪.
বাংলাদেশের কোন বিভাগের সবগুলো জেলা সীমান্তবর্তী?
  1. রংপুর
  2. রাজশাহী
  3. বরিশাল
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

সীমান্তবর্তী জেলা:
- বাংলাদেশের সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সবগুলো জেলার সাথে ভারতের সীমান্ত রয়েছে।
- এই দুটি বিভাগের প্রতিটি জেলা সীমান্তবর্তী। 

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে ৩০টি জেলার আর মিয়ানমারের সাথে রয়েছে ৩টি জেলার। এদের মধ্যে ১টি জেলার (রাঙ্গামাটি) আবার দুই দেশের সাথেই সীমান্ত রয়েছে।
- বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগের সাথে ভারতের কোন সীমান্ত সংযোগ নেই।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য ৫টি।

• চট্টগ্রাম বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলা: চট্ট্রগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি।
• খুলনা বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলা: সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া।
• রাজশাহী বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলা: রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও জয়পুরহাট।
• রংপুর বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলা: পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম।
• ময়মনসিংহ বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলা: জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা।
• সিলেট বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলা: সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩৫.
মাউন্ট গডউইন (K2) পর্বতশৃঙ্গটি কোন দেশের সীমান্তে অবস্থিত?
  1. পাকিস্তান-চীন
  2. ভারত-নেপাল
  3. ভারত-পাকিস্তান
  4. নেপাল-চীন
ব্যাখ্যা

কে২: মাউন্ট গডউইন
- বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ কে২ বা মাউন্ট গডউইন।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৮,৬১১ মিটার (২৮,২৫১ ফুট)।
- এটি হিমালয় পর্বতমালার কারাকোরাম পর্বতশ্রেণির অন্তর্গত।
- এটি পাকিস্তান-চীন সীমান্তে বিস্তৃত।
- পর্বতটি পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চল এবং চীনের জিনজিয়াং অঞ্চল সীমান্তে কারাকোরাম পর্বতশ্রেণীতে অবস্থিত।
- এই পর্বতটি ‘স্যাভেজ মাউন্টেন’ বা চোগোরি নামেও পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় এটি জংলী পর্বত নামেও পরিচিত। 
- ১৮৫৬ সালে কর্নেল টিজি মন্টগোমেরি এটি আবিষ্কার করেন এবং কারাকোরাম রেঞ্জের দ্বিতীয় শৃঙ্গ হিসেবে 'K2' নামকরণ করেন।
- পরে, এটি জরিপকারী হেনরি গডউইন-অস্টেনের সম্মানে মাউন্ট গডউইন-অস্টেন নামেও পরিচিত হয়। 
- ১৯৫৪ সালের ৩১ জুলাই ইতালীয় অভিযাত্রী দল প্রথম এর চূড়ায় আরোহণ করেন।

উৎস: Britannica.

৩৬.
পৃথিবীর দীর্ঘতম স্থলসীমান্ত কোন দুটি দেশের মধ্যে অবস্থিত?
  1. রাশিয়া ও কাজাখস্তান
  2. কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র
  3. চীন ও রাশিয়া 
  4. আর্জেন্টিনা ও চিলি
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর দীর্ঘতম স্থলসীমান্ত:
- পৃথিবীর দীর্ঘতম স্থলসীমান্ত রয়েছে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে।
- এই দুই দেশের মধ্যকার সীমান্তটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮,৮৯৩ কিলোমিটার। 
- এটি বিশ্বের দীর্ঘতম অসামরিক বা অরক্ষিত সীমান্ত হিসেবেও পরিচিত।

উল্লেখ্য, দীর্ঘতম স্থলসীমান্ত:
১. আমেরিকা ও কানাডা: দৈর্ঘ্য ৮৮৯৩ কিলোমিটার।
২. রাশিয়া ও কাজাখস্তান: দৈর্ঘ্য ৭৬৪৪ কিলোমিটার।
৩. আর্জেন্টিনা ও চিলি: দৈর্ঘ্য ৬৬৯১ কিলোমিটার।
৪. চীন ও মঙ্গোলিয়া: দৈর্ঘ্য ৪৬৩০ কিলোমিটার।
৫. ভারত ও বাংলাদেশ: দৈর্ঘ্য ৪১৪২ কিলোমিটার।

উৎস: World Atlas.

৩৭.
বেন নেভিস কোন দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ?
  1. আয়ারল্যান্ড
  2. যুক্তরাজ্য
  3. ফ্রান্স
  4. ইতালি
ব্যাখ্যা

বেন নেভিস:
- যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হল বেন নেভিস।
- এটি স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ড অঞ্চলের ফোর্ট উইলিয়াম শহরের কাছে অবস্থিত।
- এর উচ্চতা প্রায় ১,৩৪৫ মিটার (৪,৪১৩ ফুট)।
- যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গটি গ্র্যাম্পিয়ান পর্বতমালার অংশ।

উল্লেখ্য,
- বেন নেভিসসহ যুক্তরাজ্যে ২০০ টিরও বেশি পর্বত রয়েছে যার বেশিরভাগই স্কটল্যান্ডে।
- প্রকৃতপক্ষে, যুক্তরাজ্যের ২০০টি সর্বোচ্চ পর্বতের মধ্যে ১৯২টি স্কটল্যান্ডে পাওয়া যায়।

উৎস: i) Britannica.
ii) Global Adventure Challenges.

৩৮.
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন কোনটি?
  1. আমাজন
  2. সুন্দরবন
  3. অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ ম্যানগ্রোভ
  4. কঙ্গো বন
ব্যাখ্যা

ম্যানগ্রোভ:
- ম্যানগ্রোভ হলো উপকূলীয় নোনা জল ও কর্দমাক্ত মাটিতে জন্মানো বিশেষ ধরনের উদ্ভিদ, যা চরম প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে।
- শ্বাসমূল ও ঠেসমূলযুক্ত এই গাছগুলো উপকূলকে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি ও ক্ষয় থেকে রক্ষা করে।
- গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপের সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন।

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ম্যানগ্রোভ বন সৃষ্টি হয়েছে।
- সুন্দরবনের ৬২ শতাংশ বাংলাদেশে এবং বাকী অংশ ভারতে অবস্থিত।
- এ বনের গাছপালা লোনা পানি সহনশীল এবং বৃক্ষসমূহের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম।
- এ বনের মাটিতে অতিরিক্ত লবণ ও পচা জৈব পদার্থ থাকায় অক্সিজেনের অভাব ঘটে বলে গাছপালা শ্বাসমূল তৈরী করে।
- বৃক্ষসমূহ চিরহরিৎ।
- ম্যানগ্রোভ বনের প্রধান প্রধান বৃক্ষ হলো: সুন্দরী, ধুন্দুল, গরান, বাইন, কেওড়া, পশুর, গোলপাতা, হেন্তাল ইত্যাদি।
- বন্যপ্রাণীসমূহের মধ্যে: রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর ইত্যাদি।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) কৃষি শিক্ষা ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯.
নিচের কোন দেশটি পলিনেশিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ফিজি
  2. টোঙ্গা
  3. পাপুয়া নিউগিনি
  4. সলোমন দ্বীপপুঞ্জ
ব্যাখ্যা

পলিনেশিয়া:
- মধ্য ও দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ১০০০টিরও বেশি দ্বীপ নিয়ে পলিনেশিয়া অঞ্চল গঠিত।
- এটিকে বৃহত্তর ওশেনিয়া অঞ্চলের একটি উপ-অঞ্চল হিসেবে গণ্য করা হয়।
- পলিনেশিয়ার আদি অধিবাসীদেরকে 'পলিনেশীয়' বলা হয়।
- নিউজিল্যান্ড পলিনেশিয়ার বৃহত্তম দেশ।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জটিকেও পলিনেশিয়ার অন্তর্গত করা হয়; এটি পলিনেশিয়া ত্রিভুজের উত্তর শীর্ষবিন্দুটি গঠন করেছে।

• পলিনেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- নিউজিল্যান্ড, টোঙ্গা, সামোয়া, টুভালু, হাওয়াই (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য), ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া, কুক দ্বীপপুঞ্জ ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
- ফিজি, পাপুয়া নিউগিনি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ মেলানেশিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: World Atlas.

৪০.
সুন্দরবনের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বন কোনটি?
  1. হরিণঘাটা বন
  2. গোড়াপদ্মা বন
  3. কুয়াকাটা বন
  4. টেংরাগিরি বন
ব্যাখ্যা

টেংরাগিরি বন:
- সুন্দরবনের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বা ম্যানগ্রোভ বন হলো টেংরাগিরি বন যা ফাতরার বন নামেও পরিচিত।
- টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন বরগুনা জেলার দক্ষিণাংশে অবস্থিত। 
- এই বনাঞ্চলের আয়তন ১৩ হাজার ৬৪৪ একর।

• ১৯৬৭ সালে বন বিভাগ একে ‘টেংরাগিরি বনাঞ্চল’ নামকরণ করে।
- ১৯২৭ সালের জরিপ অনুযায়ী ১৯৬০ সালের ১২ জুলাই তৎকালীন সরকার এটিকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষণা করে। 

উল্লেখ্য,
- এ বনের বৃক্ষরাজির মধ্যে রয়েছে সুন্দরী, কেওড়া, বাইন, পশুর, কাঁকড়া, রেইনট্রি, জারুল, ধুন্দল, বনকাঁঠাল, বট, তেঁতুল, গেওয়া, করমচা, গরান, শিংড়া, হাররা, হেতাল, গিলালতা, কালিয়ালতা, বলাই, হারগোজা, গোলপাতাসহ অসংখ্য প্রজাতির গাছ-গাছড়া। এ বনে বানর, শুকর, সজারু, শিয়াল, বাদুর, কুকুর, বেজি, চামচিকা, গুইসাপ, গোখরাসাপ, অজগর সাপ, বাবুই, পেঁচা, বউ কথা কও, চিল, শালিক, শ্যামা, টুনটুনি, ঘুঘু, মাছরাঙা, সাদাবক, ডাহুক, দোয়েল, বুলবুলি ইত্যাদিসহ অসংখ্য প্রজাতির বণ্যপ্রাণী রয়েছে।

উৎস: i) বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইয়াট।
ii) প্রথম আলো। 

৪১.
সেন্ট মার্টিনকে মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৯৯ সালে
  2. ২০১৫ সালে
  3. ২০১৯ সালে
  4. ২০২২ সালে
ব্যাখ্যা

সেন্ট মার্টিন মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া:
- অনিয়ন্ত্রিত জাহাজ ও ইঞ্জিনচালিত নৌকার চলাচল, মাত্রাতিরিক্ত মত্স্য সম্পদ আহরণ, সমুদ্রে বর্জ্য ও ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ নিক্ষেপ, প্রবাল উপনিবেশ ধ্বংস, জীববৈচিত্র্য হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধে সেন্টমার্টিন দ্বীপ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ৭০ মিটার গভীর সমুদ্রের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গ কিমি এলাকাকে ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা করা হয়েছে।

• বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর ধারা ১৩ (১) ও ১৩ (২)-এর ক্ষমতাবলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলাধীন বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিন দ্বীপকে ‘সেন্টমার্টিন মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া’ ঘোষণা করে।
- এ মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়াটি এখন পর্যন্ত দেশের সর্ববৃহৎ এবং দ্বিতীয় মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া।
- প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিকভাবে হুমকির মুখে থাকা প্রবাল, গোলাপী ডলফিন, হাঙ্গর, রে মাছ, সামুদ্রিক কাছিম, সামুদ্রিক পাখি, সামুদ্রিক ঘাস, সামুদ্রিক জীব বৈচিত্র্য এবং এদের আবাসস্থল সংরক্ষণ; সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের টেকসই আহরণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকার মানোন্নয়ন; ব্লু ইকোনমি সমৃদ্ধকরণ ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-১৪) অর্জনের লক্ষ্যে এই সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- মিয়ানমার সীমান্তের কাছে বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন।
- দ্বীপটি কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
- দ্বীপটির জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনের ৫৯০ হেক্টর এলাকাকে ‘পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণা করেছিল সরকার।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বণিক বার্তা।

৪২.
ক্যাম্পস (Campos) কোন ধরনের ভূ-প্রকৃতি?
  1. তৃণভূমি
  2. মরুভূমি
  3. বনভূমি
  4. পাহাড়ি অঞ্চল
ব্যাখ্যা

ক্যাম্পস (Campos) তৃণভূমি:
- ক্যাম্পোস হলো দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের একটি ক্রান্তীয় সাভানা তৃণভূমি অঞ্চল। 
- এর অবস্থান প্রধানত দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল, উরুগুয়ে এবং আর্জেন্টিনা।
- এটি একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় বা ক্রান্তীয় সাভানা তৃণভূমি।
- এই অঞ্চলে বিস্তীর্ণ ঘাসের মাঠ, গুল্ম এবং কিছু গাছপালা দেখা যায়, যা বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল।
- ক্যাম্পস তৃণভূমি কৃষি ও পশুচারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- এটি বন বাস্তুতন্ত্রের তুলনায় বেশি বৈচিত্র্যময় এবং প্রায়শই পাম্পাস (Pampas) তৃণভূমির সাথে সংলগ্ন।

উৎস: Britannica.

৪৩.
আপালেশিয়ান পর্বতমালা মূলত কোন কোন দেশ জুড়ে বিস্তৃত?
  1. যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো
  2. যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবা
  3. কানাডা ও গ্রিনল্যান্ড
  4. যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
ব্যাখ্যা

আপালেশিয়ান পর্বত:
- আপালেশিয়ান পর্বতমালা উত্তর আমেরিকার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি ভঙ্গিল পর্বতশ্রেণী।
- এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা জুড়ে বিস্তৃত।
- কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা পর্যন্ত প্রায় ৩,২০০ কিমি (২,০০০ মাইলের বেশি) বিস্তৃত। 
- এটি রকি পর্বতমালার চেয়ে প্রাচীন পর্বত। 
- এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ নর্থ ক্যারোলিনার মাউন্ট মিচেল। 
- এই অঞ্চলটি কয়লা, লোহা এবং অন্যান্য খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। 

উৎস: Britannica.

৪৪.
হরিপুর তেলক্ষেত্র কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৯৫৫ সালে
  2. ১৯৫৭ সালে
  3. ১৯৮৬ সালে
  4. ১৯৮৭ সালে
ব্যাখ্যা

হরিপুর খনিজ তেলক্ষেত্র:
- হরিপুর তেলক্ষেত্র বাংলাদেশের প্রথম খনিজ তেলক্ষেত্র। 
- এটি ১৯৮৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের জৈন্তাপুরের হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রের ৭ নম্বর কূপে আবিষ্কৃত হয়। 
- ১৯৮৭ সালে তেলক্ষেত্রটি থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয়।
- প্রাথমিক জরিপের হিসাব অনুযায়ী, হরিপুর তেলক্ষেত্রে অন্তত ১ কোটি (বা ১০ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে।
- ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত এই সাত বছরে তেলক্ষেত্রটি থেকে মোট প্রায় ৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হয়। অর্থাৎ তেলক্ষেত্রে যে মজুত, তার মাত্র ৫ শতাংশ তেল উত্তোলন করা হয়। মাটির নিচে রয়ে যায় বাকি প্রায় ৯৫ শতাংশ তেল।
- ১৯৯৪ সাল থেকে তেল উৎপাদনে স্থগিত হয়ে যায়।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) প্রথম আলো।

৪৫.
দেবতাখুম বান্দরবানের কোন উপজেলায় অবস্থিত?
  1. থানচি
  2. রোয়াংছড়ি
  3. আলীকদম
  4. লামা
ব্যাখ্যা

দেবতাখুম:
- দেবতাখুম বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলায় অবস্থিত।
- বান্দরবানে ছোট বড় অনেক খুম আছে, যেমন থানচির আমিয়াখুম, ভেলাখুম ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- খুম অর্থ হচ্চে জলাধার। দেবতাখুম মূলত তারাছা খালের একটি অংশ, যার দুই পাশে পাহাড় দিয়ে ঘেরা এবং গভীর পানির পাথুরে জায়গা।
- এই খুমের দুইপাশে রয়েছে বিশাল জঙ্গল।
- উঁচু পাহাড়ের কারণে খুমের ভিতর সরাসরি সূর্যের আলো পৌঁছায় না, তাই খুমের যত ভিতরে যাওয়া যায় ততই শীতল মনে হয়।
- জায়গাটি খুব শান্ত এবং কোলাহলমুক্ত। এর পানিও বেশ স্বচ্ছ।
- বাঁশের ভেলায় চেপে এই খুমের ভিতর যাওয়ার সময় পর্যটকদেরকে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি দেয়।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
ii) প্রথম আলো।

৪৬.
ব্যাসল্ট অঞ্চলের উপাদান প্রধানত কী দ্বারা গঠিত?
  1. লোহা ও তামা
  2. নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন
  3. সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম
  4. সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

ব্যাসল্ট অঞ্চল (Basalt Zone): 
- সমুদ্র তলদেশের ভূত্বক প্রধানত ব্যাসল্ট জাতীয় এবং মহাদেশীয় ভূত্বক ফেলসিক স্তরবিহীন।
- ব্যাসল্ট-এর প্রধান খনিজ উপাদানের নাম সিলিকন (Si) এবং ম্যাগনেসিয়াম (Mg) যা সাধারণভাবে সিমা (Sima) নামে পরিচিত।
- ধারণা করা হয় যে, এ ব্যাসল্ট স্তরই সারা পৃথিবী জুড়ে বহিরাবরণ হিসেবে মহাদেশের মেফিক স্তরের নিচে ও গভীর সমুদ্রের তলদেশে বিদ্যমান।
- ভূ-ত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে ৩০° সে. তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: ভুমিরূপবিদ্যা, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪৭.
পামীর মালভূমি কোন ধরনের মালভূমি?
  1. লাভা গঠিত মালভূমি
  2. পর্বতবেষ্টিত মালভূমি
  3. পাদদেশীয় মালভূমি
  4. মহাদেশীয় মালভূমি
ব্যাখ্যা

পামীর মালভূমি:
- কয়েকটি পাহাড়ের সম্মিলিত স্থানে যে সমতল অঞ্চল তৈরি হয় তাই মালভূমি।
- পামীর মালভূমি পর্বতবেষ্টিত মালভূমি।
- পামীর মালভূমি মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত বিশ্বের সর্বোচ্চ ও বৃহত্তম মালভূমির মধ্যে অন্যতম।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা হচ্ছে প্রায় ১৯,০০০ থেকে ২০,০০০ ফুট।
- এটি মধ্য এশিয়ার তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও চীনের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এর বেশিরভাগ অংশ তাজিকিস্তানে অবস্থিত।

⇒ এই অঞ্চলটি তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, চীন ও পাকিস্তানের সীমান্তে হিমালয়, কারাকোরাম, হিন্দু কুশ ও তিয়ান শান পর্বতমালাকে সংযুক্ত করেছে।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অত্যধিক উচ্চতায় অবস্থিত হওয়ার কারণে এবং বিশ্বের প্রধান পর্বতশ্রেণীগুলোর মিলনস্থল হওয়ায় একে "পৃথিবীর ছাদ" বলা হয়। 
- এটি প্রাচীন 'সিল্ক রোড'-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

উৎস: Britannica.