পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ। সোর্স: যেকোনো গাইড বই, লাল নীল দীপাবলি, যেকোনো একাডেমিক ব্যক্তির বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
মনসামঙ্গল কাব্যের চাঁদ সদাগর কার ভক্ত ছিলেন?
  1. ক) মনসা দেবীর
  2. খ) শ্রীকৃষ্ণের
  3. গ) চণ্ডী দেবির
  4. ঘ) শিবের
ব্যাখ্যা
মনসামঙ্গল  মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
- সর্পদেবী মনসার কাহিনী এর উপজীব্য।
- মনসামঙ্গলের প্রচলিত কাহিনীটি হচ্ছে বণিক চন্দ্রধর বা চাঁদ সওদাগরের সঙ্গে মনসার দ্বন্দ্ব এবং শেষপর্যন্ত চন্দ্রধর কর্তৃক মনসার পূজা প্রদানের মধ্য দিয়ে তার সমাপ্তি।
- চাঁদ সওদাগর চম্পাই নগরের বণিক। 
- বীরপুরুষ, আত্মশক্তিতে অবিচল বিশ্বাসী চাঁদ সওদাগর মহাজ্ঞানী দেবতা শিবের ভক্ত। 
- স্ত্রী সনকা গোপনে মনসা দেবীর পূজা করতেন। 
- এ কাব্যের অন্যান্য চরিত্র বেগুলা, লক্ষীন্দর। 
- মনসামঙ্গলের  আদি কবি  কানা হরিদত্ত,।
- এরপর আর যাঁরা মনসামঙ্গল রচনা করেন তাঁরা হলেন পুরুষোত্তম, নারায়ণদেব (আনু. ১৫শ শতক),  বিজয়গুপ্ত এবং  বিপ্রদাস  পিপিলাই বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গলই (১৪৯৪) সর্বাপেক্ষা পরিচিত এবং সাহিত্যিক গুণসম্পন্ন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
কোনটি শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র নয়?
  1. ক) কৃষ্ণ
  2. খ) রাধা
  3. গ) রাম
  4. ঘ) বড়াই
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি
 - কৃষ্ণ ( পরমাত্মা)
- রাধা ( জীবাত্মা)  
- বড়াই (এ দুয়ের সংযোগকারী অনুঘটক / দূতী)

মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
 - শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
-  মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন। 
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনী ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুূরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দম-এর প্রভাব রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া
.
ফারসি কাব্য কাসাসুল আম্বিয়া অনুসরনে রচিত কাব্য কোনটি?
  1. ক) নবী বংশ
  2. খ) মরু ভাষ্কর
  3. গ) জ্ঞানপ্রদীপ
  4. ঘ) মোস্তফা চরিত
ব্যাখ্যা
সৈয়দ সুলতান (আনু. ১৫৫০-১৬৪৮) এর সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য।
- ফারসি কাসাসুল আম্বিয়া অনুসরণে এটি রচিত। 
- গ্রন্থটি ১৫৮৪ সালে রচিত। 
- এটি হযরত মুহম্মদের জীবনী কাব্য। 
- এর দ্বিতীয় খন্ডের নাম 'রাসুল চরিত' 

- মক্তুল হুসেন কাব্যের রচয়িতা মুহম্মদ খান ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য
-  নবীবংশ,
- জ্ঞানপ্রদীপ,
- জ্ঞানচৌতিশা ও
- জয়কুম রাজার লড়াই  । 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
মহাকবি আলাওল রচিত মৌলিক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রাগতালনামা
  2. খ) তোহফা
  3. গ) সিকান্দরনামা
  4. ঘ) সপ্তপয়কর
ব্যাখ্যা
আলাওল (আনু. ১৬০৭-১৬৮০) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মহাকবি আলাওলের সমসাময়িক আরাকানের রাজা ছিলেন রাজা সুধর্মা।
- আলাওল মধ্যযুগের সর্বাধিক গ্রন্থপ্রণেতা। তাঁর মোট কাব্যসংখ্যা সাত।

সেগুলির মধ্যে আখ্যানকাব্য হচ্ছে
- পদ্মাবতী (মালিক মুহম্মদ জায়সীকৃত হিন্দি পদুমাবত থেকে রচিত),
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী (সাধনকৃত 'মৈনাসত' থেকে),
- সপ্তপয়কর (নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি 'হফত্ পয়কর' থেকে),
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (গাওয়াসীকৃত ফারসি সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল থেকে) ও
- সিকান্দরনামা (নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি সিকান্দরনামা অনুসরণে)

নীতিকাব্য
- তোহফা (ইউসুফ গদাকৃত ফারসি তুহুফ-ই-নসাঈহ থেকে)

সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য
- রাগতালনামা (মৌলিক গ্রন্থ)।

এ ছাড়াও বৈষ্ণবপদের অনুরূপ তাঁর কিছু গীতিকবিতা আছে।
- রাগতালনামা ও গীতিকবিতাগুলি তাঁর মৌলিক রচনা, অন্যগুলি অনুবাদমূলক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
বিপ্রদাস পিপিলাই কোন মঙ্গলকাব্যের রচয়িতা?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) চণ্ডীমঙ্গল
  3. গ) কালিকামঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
বিপ্রদাস পিপিলাই রচিত মঙ্গলকাব্যের নাম 'মনসা বিজয়'।
- বিজয় গুপ্তের প্রায় সমসাময়িক কবি বিপ্রদাস পিপিলাই। 
- তিনি বিজয় গুপ্তের মনসামঙ্গল রচনার এক বছর পর তাঁর মনসাবিজয় কাব্য রচনা করেন।

বিপ্রদাস পিপিলাই (১৫শ শতক)  
- তিনি মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম কবি। ১৪১৭ শতাব্দে (১৪৯৫ খ্রি) তিনি মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেন।
- এ কাব্যের প্রাপ্ত পুথিগুলির মধ্যে দুটি এশিয়াটিক সোসাইটি (কলকাতা), একটি বর্ধমান সাহিত্যসভা এবং আরেকটি বিশ্বভারতীর পুথিশালায় সংরক্ষিত আছে।
- কাব্যমধ্যে কবি যে আত্মপরিচয় দিয়েছেন তা থেকে জানা যায় যে, তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বাদুড়্যা-বটগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত  ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম মুকুন্দ পন্ডিত।
- বিপ্রদাসের কাব্যে মনসা দেবীর চরিত্র অপেক্ষাকৃত নমনীয় এবং স্নেহমমতা ও করুণায় সমধিক আর্দ্র।
- তাঁর কাব্যের আখ্যানধারা বেশ সরল ও কাব্যভাষা সাবলীল; চরিত্রচিত্রণেও তিনি সংযম ও পরিচ্ছন্ন রুচির পরিচয় দিয়েছেন।
- এ কাব্যে চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যযাত্রার বর্ণনা প্রসঙ্গে সপ্তগ্রামের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।

 উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
.
বিদ্যাপতি কোন ভাষায় পদ রচনা করেন নি?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) মৈথিলি
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) অবহটঠ
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি ছিলেন বৈষ্ণব কবি ও পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। 
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। 
- বিদ্যাপতি মৈথিলী,  অবহট্ঠ ও সংস্কৃত ভাষায় বহু  গ্রন্থ ও পদ রচনা করেন।
- শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন।
- কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- সুমধুর এই বৈষ্ণব পদাবলির জন্যই তিনি বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।