পরীক্ষা আর্কাইভ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

পরীক্ষা৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়24 minutes
মোট প্রশ্ন১১
সিলেবাস
৪৬তম বি.সি.এস. প্রস্তুতি - সাবজেক্ট ফাইনাল ও রিভিশন [রাউন্ড – ২] বিষয়ের নাম: সাধারণ বিজ্ঞান সম্পূর্ণ [৭০ নাম্বার]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ১১ প্রশ্ন

.
রুই মাছের আঁইশ কোন প্রকৃতির?
  1. সাইক্লয়েড
  2. টিনয়েড
  3. গ্যানয়েড
  4. প্লাকয়েড
সঠিক উত্তর:
সাইক্লয়েড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইক্লয়েড
ব্যাখ্যা
রুই মাছের দেহ গঠন (বাহ্যিক): 
- রুই মাছের দেহ অনেকটা মাকু আকৃতির। 
- দেহের মধ্যভাগ কিছুটা প্রশস্ত এবং লেজ ও মাথার দিক ক্রমশ সরু হয়ে গেছে, এ ধরনের গঠনকে স্ট্রিমলাইনড গঠন বলে। 
- এদের দেহ রুপালি আঁইশ দ্বারা আবৃত, কিন্তু এদের মাথা আঁইশ দ্বারা আবৃত থাকে না। 
- রুই মাছ সর্বোচ্চ ২ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং ওজন ৪৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। 
- রুই মাছের দেহ তিন অংশে বিভক্ত। 
যথা- মাথা, দেহ কাণ্ড এবং লেজ। 
- মুখছিদ্র ছোট ও মাংসল ঠোঁট দ্বারা পরিবেষ্টিত। 
- মাথার পেছনের অংশে কানকো দিয়ে ঢাকা ৪ জোড়া ফুলকা আছে। 

মাথা: 
- দেহের অগ্রপ্রান্ত থেকে কানকোর পশ্চাৎ প্রান্ত পর্যন্ত অংশ হলো মাথা। 
- রুই মাছের মাথা ১০-১২ সে.মি লম্বা এবং এর পৃষ্ঠীয় ভাগ উত্তল। 
- উদর হতে মস্তকের উপরিভাগ বেশি উত্তল। 
- মুখ নিচের দিকে অবস্থিত, মুখের দু কোণা পেছনের দিকে বাঁকা, ফলে মুখ অর্ধচন্দ্রাকৃতির দেখায়। 
- রুই মাছের চোখের কোনো পাতা নেই, মাথার দু-পার্শ্বে বড় বড় দুটি চোখ অবস্থিত। 
- চোখের কর্নিয়া স্বচ্ছ আবরণ দ্বারা আবৃত। 

দেহ কাণ্ড: 
- রুই মাছের কানকো শেষভাগ থেকে পায়ু পর্যন্ত অংশকে দেহ কাণ্ড বা ধর বলে। 
- দেহ কাণ্ড বেশ লম্বা, লেজের দিকে ক্রমশ সরু। 

লেজ: 
- দেহ কাণ্ডের শেষভাগে লেজ অবস্থিত। 
- প্রায় মধ্যভাগের পর থেকে লেজ দু-খণ্ডে বিভক্ত। 
- লেজ পুচ্ছপাখনা নামে পরিচিত। 

ত্বক: 
- রুই মাছের সমস্ত দেহ ত্বক দ্বারা ঢাকা থাকে। 
- ত্বকের দুটি স্তর, বাইরের স্তরটিকে বলা হয় এপিডার্মিস এবং ভেতরের স্তরটিকে বলা হয় ডার্মিস। 
- এপিডার্মিসে রঞ্জক কোষ এবং মিউকাস কোষ থাকে। 
- মিউকাস কোষ পিচ্ছিল পদার্থ নিঃসরণ করে দেহকে পিচ্ছিল রাখে, ফলে এদের চলাফেরা করতে সুবিধা হয়। 

আঁইশ: 
- রুই মাছের দেহ বড় বড় সাইক্লয়েড আঁইশ দ্বারা আবৃত। 
- এ আঁইশের মধ্যে বৃত্তাকার এক ধরনের রেখা থাকে, একে সারকুলাস বলে। 
- এ সারকুলাস পর্যবেক্ষণ করে মাছের বয়স নির্ণয় করা হয়। 
- আঁইশের কেন্দ্রকে ফোকাস বলে। 
- রুই মাছের আঁইশের বৃদ্ধি বেশি হয় গ্রীষ্মকালে ও বসন্তকালে। 

পাখনা: 
- রুই মাছের দেহে ৫ ধরনের পাখনা আছে। 
- এ পাখনাগুলো হলো মাথার কাছে বক্ষের দিকে বক্ষ পাখনা, পিঠের দিকে পৃষ্ঠ পাখনা, দেহের মাঝ বরাবর নিচের দিকে শ্রেণিপাখনা, পায়ুর একটু পেছনে পায়ু পাখনা এবং একেবারে পেছন দিকে পুচ্ছ পাখনা রয়েছে। 
- এ পাখনাগুলো এদের চলাচলে সাহায্য করে। 

পার্শ্বরেখা: 
- রুই মাছের দেহের দু-পাশেই আঁইশের নিচে এক সারি ছোট ছোট গর্ত আছে যা পার্শ্বরেখা সৃষ্টি করে। 
- এ গর্তের মধ্যে সংবেদী অঙ্গ যুক্ত থাকে। 
- এ সংবেদী অঙ্গের মাধ্যমে রুই মাছ পানির গুণাগুণ (যেমন- পিএইচ, ঘোলাত্ব ইত্যাদি) বুঝতে সক্ষম হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
.
স্টেইনলেস স্টীলে সর্বোচ্চ পরিমাণে থাকে -
  1. কার্বন
  2. লোহা
  3. নিকেল
  4. ক্রোমিয়াম
সঠিক উত্তর:
লোহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা
ব্যাখ্যা
- স্টেইনলেস স্টীলে সর্বোচ্চ পরিমাণে থাকে - লোহা (৭৪%)। 

সংকর ধাতু: 

- বিভিন্ন ধাতু একত্রে মিশিয়ে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- এই সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না। 
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্ৰধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু। 
যেমন - পিতলের মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং জিংক 35% থাকে। 
- প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করা হয়। 
যেমন- 
• স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু। স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1% এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়। 
• কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%। এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু। 
• আবার, পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%। এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু। 
- কপারের দুইটি সংকর ধাতু আছে। যথা: পিতল (ব্রাস) ও কাঁসা (ব্রোঞ্জ)। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
.
চোখের একমাত্র আলোক সংবেদী অংশ কোনটি?
  1. রেটিনা
  2. আইরিশ
  3. পিউপিল
  4. অন্ধবিন্দু
সঠিক উত্তর:
রেটিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেটিনা
ব্যাখ্যা
রেটিনা: 
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা। 
- চোখের 'রেটিনা' স্তরটি আলোক সংবেদী, এতে আলোক সংবেদী কোষ থাকে। 
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত। 
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ। 
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী। 
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
.
স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব কোনটি?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. পটাশিয়াম ক্লোরাইড
  3. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  4. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম কার্বনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
দ্রব (Solute): 
- দুটি উপাদানের সমন্বয়ে উৎপন্ন দ্রবণে যে উপাদানটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে এবং যে উপাদানটি অপর উপাদানের মধ্যে দ্রবীভূত থাকে তাকে দ্রব বলা হয়। 
- খাদ্য লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাতে খাদ্য লবণ দ্রব। 
একইভাবে, 
- চিনির জলীয় দ্রবণে চিনি দ্রব। 
- দ্রাবকের মধ্যে দ্রবের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী দ্রবকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(i) স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব এবং 
(ii) অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব: 
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 001 mol.L-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়। 
যেমন - সিলভার ক্লোরাইড (AgCl), সিলভার ব্রোমাইড (AgBr), সিলভার আয়োডাইড (AgI), সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3),  ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড (CaF2), ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4), ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2, লেড ক্লোরাইড (PbCl2) ইত্যাদি স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব। 

অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব: 
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে। 
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCI), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl), অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
হাইড্রার নামকরণ করেছেন কোন বিজ্ঞানী? 
  1. থিওফ্রাস্টাস
  2. ট্রেম্বলে
  3. লিনিয়াস
  4. অ্যারিস্টটল
সঠিক উত্তর:
লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিনিয়াস
ব্যাখ্যা
হাইড্রা: 
- Hydra আবিষ্কার করেন আব্রাহাম ট্রেম্বলে। 
- হাইড্রার নামকরণ করেন বিজ্ঞানী লিনিয়াস। 
- বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির Hydra পাওয়া যায় তন্মধ্যে Hydra vulgaris সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। 
- কর্ষিকার সাহায্যে এরা খাদ্য গ্রহণ, দেহের সংকোচন, প্রসারণ ও চলাচল সম্পন্ন করে থাকে। 
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় শ্বসন ও রেচন সম্পন্ন করে। 
- মুকুলোদগম ও দ্বিবিভাজনের সাহায্যে অযৌন জনন এবং জননকোষ সৃষ্টি করে যৌন জনন সম্পন্ন করে। 
- Hydra পুনরুৎপত্তি (regeneration) ক্ষমতা প্রাপ্ত। 
- Hydra মিঠাপানির প্রাণী। 
- এরা সাধারণত খাল, বিল, পুকুর, হ্রদ, ডোবা, ঝর্ণার পানিতে বাস করে। 
- ঘোলা পানিতে এদের কম পাওয়া গেলেও পরিস্কার, অপেক্ষাকৃত শীতল এবং স্রোতহীন পানিতে এদেরকে তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটিকে মস্তিষ্কের যোজক বলা হয়?
  1. পনস
  2. মেডুলা
  3. সেরিব্রাম
  4. সেরিবেলাম
সঠিক উত্তর:
পনস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পনস
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র: 
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অংশ হলো মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জু। 
- মস্তিষ্ক হলো সমগ্র স্নায়ুতন্ত্রের চালক। 
- মানুষের মস্তিষ্ক করোটির মধ্যে সুরক্ষিত। 
- মস্তিষ্ক মেনিনজেস নামক পর্দা দ্বারা আবৃত। 
- মানুষের মস্তিষ্কের প্রধান অংশ তিনটি। 
যথা- (ক) গুরুমস্তিষ্ক (খ) মধ্যমস্তিষ্ক (গ) পশ্চাৎ বা লঘুমস্তিষ্ক। 

গুরুমস্তিষ্ক: 
- মস্তিষ্কের প্রধান অংশ হলো গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম। 
- এটা ডান ও বাম খণ্ডে বিভক্ত, এদের ডান ও বাম সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার বলে। 
- মানব মস্তিষ্কে সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার অধিকতর উন্নত ও সুগঠিত, এই দুইখণ্ড ঘনিষ্ঠভাবে স্নায়ুতন্তু দ্বারা সংযুক্ত। 
- এর উপরিভাগ ঢেউ তোলা ও ধূসর বর্ণের, দেখতে ধূসর বর্ণের হওয়ায় একে ধূসর পদার্থ বা গ্রে ম্যাটার বলে। 
- গুরুমস্তিষ্কের অন্তঃস্তরে কেবলমাত্র স্নায়ুতন্ত্র থাকে, স্নায়ুতন্তুর রং সাদা। 
- তাই মস্তিষ্কের ভিতরের স্তরের নাম শ্বেত পদার্থ বা হোয়াইট ম্যাটার। 
- শ্বেত পদার্থের ভিতর দিয়ে স্নায়ুতন্তু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায়। 
- ধূসর পদার্থের কয়েকটি স্তরে বিশেষ আকারে স্নায়ুকোষ দেখা যায়, এই স্নায়ুকোষগুলো গুরুমস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে গুচ্ছ বেঁধে স্নায়ুকেন্দ্র সৃষ্টি করে। 
- এগুলো বিশেষ বিশেষ কর্মকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। 
- দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, চিন্তা-চেতনা, স্মৃতি, জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক ও পেশি চালনার ক্রিয়াকেন্দ্র গুরুমস্তিষ্কে অবস্থিত। 
- সেরিব্রামের নিচের অংশ হলো- থ্যালামাস ও হাইপোথ্যালামাস। 
- এগুলো ধূসর পদার্থের পুঞ্জ। 
- ক্রোধ, লজ্জা, গরম, শীত, নিদ্রা, তাপ সংরক্ষণ ও চলন এই অংশের কাজ। 

মধ্যমস্তিস্ক: 
- গুরুমস্তিষ্ক ও পনস-এর মাঝখানে মধ্যমস্তিষ্ক অবস্থিত। 
- মধ্যমস্তিষ্ক দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তির সাথেও সম্পর্কযুক্ত। 

পশ্চাৎ বা লঘুমস্তিষ্ক: 
- লঘুমস্তিষ্ক গুরুমস্তিষ্কের নিচে ও পশ্চাতে অবস্থিত। 
- এটা গুরুমস্তিষ্কের চেয়ে আকারে ছোট। 
- দেহের ভারসাম্য রক্ষা করা পশ্চাৎ বা লঘুমস্তিষ্কের প্রধান কাজ। 
- এছাড়া লঘুমস্তিষ্ক কথা বলা ও চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- এর তিনটি অংশ- গনস সেরিবেলাম: পনসের বিপরীতদিকে অবস্থিত খন্ডাংশটি হলো সেরিবেলাম। 
- এটা অনেকটা ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। 
- সেরিবেলাম ডান ও বাম দু'অংশে বিভক্ত। 

পনস: 
- পনস লঘুমস্তিষ্কের সামনে ও নিচে অবস্থিত। 
- পনসকে মস্তিষ্কের যোজক বলা হয়। 
- এটা গুরুমস্তিষ্ক, লঘুমস্তিষ্ক ও মধ্যমস্তিষ্ককে সুষুম্নাশীর্ষকের সাথে সংযোজিত করে। 

মেডুলা: 
- এটা মস্তিষ্কের নিচের অংশ। 
- সুষুম্নাশীর্ষক পনসের নিম্নভাগ থেকে মেরুরজ্জুর উপরিভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত। 
অর্থাৎ, এটা মস্তিষ্ককে মেরুরজ্জুর সাথে সংযোজিত করে, এজন্য একে মস্তিষ্কের বোঁটা বলা হয়। 
- মস্তিষ্কের এ অংশ হৃৎস্পন্দন, খাদ্যগ্রহণ ও শ্বসন ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
.
'মেসন' কোন বলের বিনিময় কণা?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. তাড়িতচৌম্বক বল
  3. দুর্বল নিউক্লিয় বল
  4. সবল নিউক্লিয় বল
সঠিক উত্তর:
সবল নিউক্লিয় বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
- 'মেসন' সবল নিউক্লিয় বলের একটি বিনিময় কণা। 

মৌলিক বল: 

- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বরং অন্যান্য বল এ সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
মৌলিক বলগুলো হলো - 
১. মহাকর্ষ বল (Gravitational Force), 
২. তাড়িতচৌম্বক বল (Electromagnetic Force), 
৩. সবল নিউক্লিয় বল (Strong Nuclear Force) এবং 
৪. দুর্বল নিউক্লিয় বল (Weak Nuclear Force)। 

সবল নিউক্লিয় বল: 
- সবল নিউক্লিয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল। 
- এটি তড়িৎ চৌম্বক বল থেকেও একশ গুণ বেশি শক্তিশালী। কিন্তু এটা খুবই অল্প দূরত্বে (10-15m) কাজ করে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে যে নিউক্লিয়াস রয়েছে তার ভেতরকার প্রোটন এবং নিউট্রনের নিজেদের মাঝে এই প্রচণ্ড শক্তিশালী বল কাজ করে নিজেদের আটকে রাখে। 
- প্রচণ্ড বলে আটকে থাকার কারণে এর মাঝে অনেক শক্তি জমা থাকে। 
- তাই বড় নিউক্লিয়াসকে ভেঙে কিংবা ছোট নিউক্লিয়াসকে জোড়া দিয়ে এই বলের কারণে অনেক শক্তি তৈরি করা সম্ভব। 
- নিউক্লিয়ার বোমা সে জন্য এত শক্তিশালী। 
- সূর্য থেকে আলোর তাপও এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 

 
উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
কোন প্রাণীতে হিমোসিল নামক দেহগহ্বর থাকে?
  1. তেলাপোকা
  2. ব্যাঙ
  3. হাইড্রা
  4. মাছ
সঠিক উত্তর:
তেলাপোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেলাপোকা
ব্যাখ্যা
Arthropoda পর্ব: 
- এরা সন্ধিপদী প্রাণী। 
- এদের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ১২,৫৭,০৪০। 
- ১৮৪৫ সালে Siebold এ পর্বের নামকরণ করেন। 

Arthropoda পর্বের বৈশিষ্ট্য:  
- এ পর্বের নামকরণ দুটি গ্রিক শব্দ Arthros সন্ধিযুক্ত ও Podos = পদ হতে গৃহীত হয়েছে। 
১। আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের দেহে তিন ততোধিক জোড়া সন্ধিযুক্ত পার্শ্বীয় পা বা উপাঙ্গ থাকে (সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ এ পর্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য)। 
২। এরা ত্রিস্তরী, দ্বিপার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসম, দেহ ট্যাগমায় বিভক্ত। 
৩। দেহ পুরু কিউটিকলযুক্ত কাইটিন আবরণ দ্বারা আবৃত ও বাহ্যিকভাবে খণ্ডায়িত। 
৪। মাথায় এন্টেনা ও একজোড়া পুঞ্জাক্ষি থাকে। 
৫। এই পর্বের প্রাণীতে হিমোসিল নামক দেহগহ্বর থাকে, যে সিলোম বক্ত দ্বারা পূর্ণ থাকে তাকে হিমোসিল (hemocoel) বলে। 
৬। রক্তসংবহনতন্ত্র মুক্ত ধরদের। 
৭। মালপিজিয়ান নালিকার মাধ্যমে রেচন ক্রিয়া সম্পন্ন করে। 
উদাহরণ: Oxya chinensis (ঘাস ফড়ি), Periplaneta americana (তেলাপোকা), Penaeus monodon (বাগদা চিংড়ি), Papilio xuthus (প্রজাপতি) ইত্যাদি। 


উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
.
নিচের কোনটি টেরিডোফাইটা উদ্ভিদ?
  1. Pteris
  2. Psilotum
  3. Lycopodium
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
টেরিডোফাইটা: 
- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। 
- এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ। 
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ থেকে ৪১ গোত্রের ১৯৫ প্রজাতির টেরিডোফাইট নথিভুক্ত করা হয়েছে। 
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো- 
Pteris
Psilotum
Lycopodium
• Equisetum ইত্যাদি। 

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
১। এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক। 
২। এরা অবীজী উদ্ভিদ। 
৩। দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪। এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
৫। জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৬। গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে। 
৭। পুংগ্যামিটোফাইট সচল এবং অ্যান্থেরিডিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৮। স্ত্রীগ্যামিটোফাইট নিশ্চল এবং আর্কিগোনিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৯। ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
১০। অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়। 
১১। এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান। 
১২। জীবনচক্রে সুস্পষ্ট হেটারোমরফিক জনুক্রম বিদ্যমান। 
১৩। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পোরোফিল ঘন সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
শিশুদের জন্মের ৯ মাস বয়সে কোন টিকা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়? 
  1. Measles Vaccine
  2. BCG Vaccine
  3. Oral Polio Vaccine
  4. Diphtheria and Tetanus Vaccine
সঠিক উত্তর:
Measles Vaccine
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Measles Vaccine
ব্যাখ্যা
- শিশুদের জন্মের ৯ মাস বয়সে 'Measles Vaccine' টিকা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। 

ভ্যাকসিনেশন: 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়েকটি রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
উদ্ভিদের অত্যাবশ্যকীয় মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন
  2. পটাশিয়াম
  3. ফসফরাস
  4. ম্যাঙ্গানিজ
সঠিক উত্তর:
ম্যাঙ্গানিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাঙ্গানিজ
ব্যাখ্যা
অত্যাবশ্যকীয় উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে,আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন: ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান। 

ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। 
যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)। 

মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- মাইক্রো উপাদান ৬টি। 
যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।