পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১০
সিলেবাস
বিষয় - নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন টপিকসমূহ: 1) Definition of Values Education and Good Governance; 2) Relation between Values Education and Good Governance; 3) General Perception of Values Education and Good Governance; 4) Importance of Values Education and Good Governance in the life of an individual as a citizen as well as in the making of society and national ideals; উৎস: অষ্টম, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণির পৌরনীতি বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]। ------------------------ [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১০ প্রশ্ন

.
সমাজে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ, ব্যবহার ও কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য যে নীতিমালার ভিত্তি প্রয়োজন, তাকে কী বলা হয়?
  1. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি। এটি বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল-মন্দ বিচারের মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে।
অর্থাৎ সমাজে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ, ব্যবহার ও কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য যে নীতিমালার ভিত্তি প্রয়োজন, তাকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ যত বেশি উন্নত হয়, সেই সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল হয়ে ওঠে।
- সুশাসন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান।

সামাজিক মূল্যবোধের সংজ্ঞা:
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সর্বসম্মত বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি, যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
-এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং ভাল-মন্দ বিচারের মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে।
-এস.সি. ডডের ভাষায়, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো সেইসব রীতি-নীতি, যা ব্যক্তি সমাজের কাছে আশা করে এবং সমাজ ব্যক্তির কাছ থেকে লাভ করে।"
- এম.আর. উইলিয়ামস বলেছেন, "মূল্যবোধ হলো মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড, যার ভিত্তিতে মানুষের আচরণ ও আইনকানুন নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সমাজে মানুষের কাজের ভাল-মন্দ বিচার করা হয়।"

সামাজিক মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
সামাজিক মূল্যবোধের বিভিন্ন সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করে এর প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা যায়।
- বিশ্বাস ও আদর্শের সমষ্টি
- মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী
- মানব আচরণ বিচারের মানদণ্ড
- বিমূর্ত, অলিখিত ও সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থিত আচরণবিধি
- স্থান-কাল-পাত্র ভেদে পরিবর্তনশীল
- প্রত্যেক সমাজেই বিদ্যমান

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কোনটি অপরিহার্য পূর্বশর্ত?
  1. অংশগ্রহণ
  2. সুশাসন
  3. জবাবদিহিতা
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- ইংরেজিতে সুশাসনকে 'Good Governance' বলা হয়।
- সুশাসন বুঝতে হলে প্রথমে শাসনের মূল ধারণা জানা জরুরি।
- Governance একটি বহুমাত্রিক ধারণা, যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ ও প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়।
- Government শব্দটি 'kubernao' ল্যাটিন শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ পরিচালনা বা শাসন করা।
- সুশাসন বর্তমানে একটি জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হিসেবে পরিচিত।
- সুশাসন হলো সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নতির অন্যতম পূর্বশর্ত।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক প্রথম সুশাসন ধারণাটি প্রবর্তন করে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি মূল স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এই চারটি স্তম্ভ হলো: (i) দায়িত্বশীলতা, (ii) স্বচ্ছতা, (iii) আইনী কাঠামো, এবং (iv) অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ই-গভর্নেন্স (E- Governance) এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Efficient Governance
  2. Electrical Governance
  3. Electronic Governance
  4. Effective Governance
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স (E-Governance):
- ই-গভর্নেন্সের পূর্ণরূপ: Electronic Governance (ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স)।
- ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি সেবা ও তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছানোর পদ্ধতিই ই-গভর্নেন্স।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা।
- বর্তমান বিশ্বে সুশাসন বাস্তবায়নের জন্য ই-গভর্নেন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ই-গভর্নেন্সের প্রধান লক্ষ্য:
- স্বচ্ছতা (Transparency) – সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া।
- দ্রুততা (Efficiency) – প্রশাসনিক কাজ দ্রুত ও সঠিকভাবে সম্পন্ন করা।
- সহজীকরণ (Simplification) – জনগণের জন্য সরকারি সেবাগ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ করা।
- জবাবদিহিতা (Accountability) – সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ করা।

ই-গভর্নেন্স ও সুশাসন:
- ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে জনগণ সহজেই সরকারি তথ্য ও সেবা পেতে পারে।
- এটি দুর্নীতি হ্রাস করে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করে।
- সরকারি সেবাগুলো আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম মাধ্যম।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
.
কোন কারণে বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক করা প্রয়োজন?
  1. সুশাসনের নিশ্চিত করতে
  2. আইন প্রয়োগ কঠিন করতে
  3. নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা বাড়াতে
  4. প্রশাসনিক ব্যয় কমানো
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ:
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক রাখা প্রয়োজন।
- বিচার বিভাগের স্বতন্ত্রতা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।
- এটি নির্বাহী বিভাগের অযাচিত হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করে।
- বাংলাদেশে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ আইনি কাঠামোতে বিদ্যমান।
- তবে এটি এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। 

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ বলতে রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার কার্যক্রম পৃথক ব্যক্তিবর্গ বা প্রতিষ্ঠানসমূহের হাতে ন্যস্ত করাকে বোঝায়।
- এর উদ্দেশ্য হলো এক বিভাগের ক্ষমতায় অন্য বিভাগের হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করা।
- এই ধারণাটি প্রাচীনকাল থেকেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের নিকট পরিচিত ছিল।
- এরিস্টটল, পলিবিয়াস এবং সিসেরো এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
- মধ্যযুগে মার্সিলিও অব পাদুয়া ও জিন বডিন এই মতবাদকে সমর্থন করেন।
- আধুনিক যুগে হবস, লক প্রভৃতি দার্শনিক স্বতন্ত্রীকরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মন্টেস্কু সুস্পষ্টভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের নীতি উপস্থাপন করেন।
- তবে বাস্তবে পরিপূর্ণ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ সম্ভব নয় এবং এটি কাম্যও নয়।
- তাই, ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের পাশাপাশি ক্ষমতার ভারসাম্য ও পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণের নীতিও মেনে চলা প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারকে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে?
  1. দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা
  2. দারিদ্র্য দূরীকরণ করা
  3. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়:
- সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারকে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হয়।
- একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সরকারকে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন:

১. মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
- সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা
২. জবাবদিহিমূলক ও দক্ষ প্রশাসন গঠন
- জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠা
- দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা
৩. আইন ও বিচার ব্যবস্থার উন্নয়ন
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
৪. গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ
- ব্যাপক জনঅংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি
- শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গঠন
৫. সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন
- দারিদ্র্য দূরীকরণ
- জনসচেতনতা বৃদ্ধি
৬. সুশাসনের ভারসাম্য ও মানবাধিকার রক্ষা
- ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা
- কার্যকর মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা
৭. সামাজিক ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখা
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধি

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নাগরিকদের বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ফলে কী বাধাগ্রস্ত হয়?
  1. মূল্যবোধ
  2. নৈতিকতা
  3. সুশাসন
  4. রাষ্ট্রের উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ:
- বেশিরভাগ রাষ্ট্রে, বিশেষ করে অনুন্নত, উন্নয়নশীল ও সদ্য স্বাধীন দেশগুলোতে তত্ত্বগতভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও বাস্তবে জনগণের বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়ে থাকে।
- জনগণ তাদের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারে না।
- সরকার সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের ওপর সেন্সরশিপ আরোপ করে।
- ফলে জনগণ রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে যথাযথভাবে অবগত হতে পারে না।
- মুক্ত চিন্তা ও বিতর্ককে সরকার প্রায়শই হুমকি হিসেবে দেখে এবং তাই বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে।
- এই পরিস্থিতির ফলে সুশাসন ব্যাহত হয় এবং গণতন্ত্রের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

অর্থাৎ নাগরিকদের বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ফলে সুশাসন বাধাগ্রস্ত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
.
মূল্যবোধের কোন উপাদান মানুষকে ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিতের পার্থক্য করতে সাহায্য করে?
  1. শৃঙ্খলাবোধ
  2. সহনশীলতা
  3. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
  4. সামাজিক ন্যায়বিচার
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের উপাদান:
গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় যে উপাদানগুলো মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত, সেগুলো হলো:
১. নীতি ও ঔচিত্যবোধ:
- সামাজিক জীবনে ভালো-মন্দ, সঠিক-ভুল বিচার করার ভিত্তি হলো নীতি ও ঔচিত্যবোধ। সমাজে কারো ক্ষতি না করা, কটুক্তি না করা এবং অন্যের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন এই নীতি ও ঔচিত্যবোধের অন্তর্ভুক্ত। এটি মানুষের মধ্যে নৈতিকতার বিকাশ ঘটায় এবং তাকে ন্যায়, অন্যায়, ভালো, মন্দ, উচিত, অনুচিতের পার্থক্য করতে সাহায্য করে।
২. সামাজিক ন্যায়বিচার:
- ধর্ম-বর্ণ, লিঙ্গ, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি সমান বিচার। সামাজিক ন্যায়বিচার মানে হলো সমাজে সকলের প্রতি আইনের চোখে সমান আচরণ ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।
৩. শৃঙ্খলাবোধ:
- সমাজের নিয়ম-নীতি ও আচরণে শৃঙ্খলা বজায় রাখার মূল্যবোধ। এটি সমাজের অগ্রগতির প্রধান সোপান এবং সমাজের কাঠামো ঠিক রাখে।
৪. সহনশীলতা:
- সহনশীলতা হচ্ছে সুনাগরিকের অন্যতম গুণ এবং গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূল্যবোধ। এটি মানুষকে একে অপরের মতামত ও বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে সাহায্য করে।
৫. সহমর্মিতা:
- অন্যের দুঃখ-কষ্টের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন এবং সাহায্য করার ইচ্ছা। এটি সমাজে সহানুভূতির পরিবেশ সৃষ্টি করে।
৬. সৌজন্যবোধ:
- পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভদ্রতার প্রদর্শন। এটি সামাজিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটায় এবং একে অপরের প্রতি সদাচরণের মানদণ্ড তৈরি করে।
৭. মানবিকতা:
- মানবিকতা হচ্ছে মানুষের মৌলিক অধিকার, সম্মান ও মঙ্গলার্থে সহানুভূতির মূল্যবোধ। এটি মানুষের প্রতি সহানুভূতির অনুভূতি তৈরি করে।
৮. শ্রমের মর্যাদা:
- কাজের প্রতি সম্মান এবং শ্রমের উপযুক্ত মূল্যায়ন। এটি সমাজে শ্রমিক শ্রেণির মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং সমাজের উন্নয়ন ঘটায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
.
সামাজিক মনোবিজ্ঞানী মিল্টন রকিচ (Milton Rokeach) এর মতে, মানুষের মধ্যে প্রধানত কয় ধরনের মূল্যবোধ বিদ্যমান?
  1. দুই ধরনের
  2. তিন ধরনের
  3. চার ধরনের
  4. পাঁচ ধরনের
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের ধরন:
- মূল্যবোধ হলো এমন নীতি ও মানদণ্ড, যা মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- এটি কিছু বিশেষ চিন্তা ও অভ্যেসের সমষ্টি, যা সময়ের সঙ্গে স্থায়ী হয়ে ওঠে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজের নিয়ম, প্রথা ও আদর্শ তৈরি করতে সাহায্য করে।
- এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি, যা ন্যায় ও সমতা প্রতিষ্ঠা করে। 

- সামাজিক মনোবিজ্ঞানী মিল্টন রকিচ (Milton Rokeach) এর মতে, মানুষের মধ্যে প্রধানত দুই ধরনের মূল্যবোধ বিদ্যমান।
- একটি হচ্ছে টার্মিনাল মূল্যবোধ (Terminal Values) এবং অপরটি ইন্সট্রুমেন্টাল মূল্যবোধ (Instrumental Values) ।

→ টার্মিনাল মূল্যবোধ (Terminal Values):
- এটি মানুষের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য গঠিত মূল্যবোধ।
- অর্থাৎ, ব্যক্তি তার জীবনে যে চূড়ান্ত লক্ষ্য বা আদর্শ অনুসরণ করতে চায়, সেটিই তার টার্মিনাল মূল্যবোধ।

→ ইন্সট্রুমেন্টাল মূল্যবোধ (Instrumental Values):
- এটি টার্মিনাল মূল্যবোধ অর্জনের জন্য গৃহীত আচরণগত মূল্যবোধ।
- অর্থাৎ, মানুষ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে নীতিগত ও আচরণগত দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে, সেটিই ইন্সট্রুমেন্টাল মূল্যবোধ।

→ এছাড়া, সমাজ জীবনে মানুষ চার ধরনের মূল্যবোধের মুখোমুখি হয়:
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ: ব্যক্তির নিজস্ব চিন্তা, নীতি-নৈতিকতা, বিশ্বাস ও আচরণের মাধ্যমে গঠিত মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ: সমাজে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় মূল্যবোধ, যেমন—সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা ও শিষ্টাচার।
- ধর্মীয় মূল্যবোধ: ধর্মীয় অনুশীলন, বিশ্বাস ও ঐতিহ্য থেকে গড়ে ওঠা মূল্যবোধ।
- পেশাগত মূল্যবোধ: কর্মক্ষেত্রে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার উপর ভিত্তি করে গঠিত মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: মূল্যবোধ, মনোভাব,কর্মসন্তষ্টি, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]
.
মূল্যবোধের ভিত্তিতে মানুষ কী বিচার করতে পারে?
  1. ন্যায় ও অন্যায়
  2. ভালো ও মন্দ
  3. নৈতিকতা ও অনৈতিকতা
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো একটি মানবিক গুণ, যা একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের ওপর নির্ভরশীল। এটি সমাজে বসবাস, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিক আচরণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে।

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- এটি ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় ও নৈতিকতা-অনৈতিকতার পার্থক্য নির্ধারণ করে।
- মূল্যবোধ আপেক্ষিক, অর্থাৎ সময়, সমাজ ও সম্পর্কের ভিত্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে।
- এটি শৃঙ্খলা, মানবিকতা, সহমর্মিতা, সৌজন্যবোধ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার মতো বিভিন্ন উপাদান নিয়ে গঠিত। 
অর্থাৎ মূল্যবোধের ভিত্তিতে মানুষ ন্যায় ও অন্যায়, ভালো ও মন্দ , নৈতিকতা ও অনৈতিকতা বিচার করতে পারে ।

মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ সুন্দর ও আদর্শ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এটি মানুষের আচরণ ও চিন্তাধারাকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।
- সুতরাং, একটি নৈতিক ও সুসংগঠিত সমাজ গঠনে মূল্যবোধ অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের সাধারণ বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. এটি স্থির ও অপরিবর্তনীয়
  2. এটি সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে
  3. এটি ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে প্রভাব ফেলে
  4. এটি স্থান, কাল ও পরিস্থিতি অনুসারে পরিবর্তিত হয়
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত প্রশ্নে "এটি স্থির ও অপরিবর্তনীয়" মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়, কারণ মূল্যবোধ স্থান, কাল ও পরিস্থিতি অনুসারে পরিবর্তিত হয়।
অর্থাৎ সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ, ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে প্রভাব, স্থান, কাল ও পরিস্থিতি অনুসারে পরিবর্তিত হওয়া মূল্যবোধের সাধারণ বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত। 

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
১. নৈতিক প্রাধান্য: মূল্যবোধ মানুষের আচরণের নৈতিক দিক নির্ধারণ করে।
২. নির্দিষ্টতা: সমাজে মূল্যবোধের নির্দিষ্ট কাঠামো ও সীমাবদ্ধতা থাকে।
৩. বিভিন্নতা: সমাজ, সংস্কৃতি এবং অঞ্চলের পার্থক্য অনুসারে মূল্যবোধের বৈচিত্র্য দেখা যায়।
৪. আপেক্ষিকতা: সময়, স্থান এবং প্রেক্ষাপট অনুসারে মূল্যবোধের ধারণা পরিবর্তিত হতে পারে।
৫. সামাজিক মানদণ্ড: মূল্যবোধ সমাজে ভালো-মন্দ বিচার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে।
৬. পরিবর্তনশীলতা: সমাজের পরিবর্তনের সাথে মূল্যবোধের ধারা ও ধারণা পরিবর্তিত হয়।
৭. সম্পর্কের সেতু: মূল্যবোধ মানুষকে একত্রিত করতে সাহায্য করে এবং সমাজে সম্পর্ক স্থাপন করে।

মূল্যবোধের উপাদান:
১. নীতিবোধ: সমাজে ভালো-মন্দ, সঠিক-ভুল বিচার করার ভিত্তি।
২. শৃঙ্খলা: সমাজের নিয়ম-নীতি ও আচরণের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখার মূল্যবোধ।
৩. সহমর্মিতা: অন্যের দুঃখ-কষ্টের প্রতি সহানুভূতি এবং সাহায্যের ইচ্ছা।
৪. সৌজন্যবোধ: মানুষের মধ্যে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভদ্রতা প্রদর্শন।
৫. মানবিকতা: মানুষের মৌলিক অধিকার, সম্মান ও মঙ্গলার্থে সহানুভূতির মূল্যবোধ।
৬. শ্রমের মর্যাদা: কাজের প্রতি সম্মান এবং শ্রমের উপযুক্ত মূল্যায়ন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।