পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes৪৫ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৪৬
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৫৪ বিষয় - নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন টপিকসমূহ: 1) Impact of Values Education and Good Governance in national development; 2) How the element of Good Governance and Values Education can be established in society in a given social context; 3) The benefits of Values Education and Good Governance and the cost society pays adversely in their absence. এবং বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিকসমূহ: ১. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা: রাজনৈতিক দলসমূহের গঠন, ভূমিকা ও কার্যক্রম, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সম্পর্কাদি, সুশীল সমাজ ও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমূহ এবং এদের ভূমিকা। ২. বাংলাদেশ ও উপমহাদেশের বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজ সংস্কারক। ------------------ [এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৬ প্রশ্ন

.
স্বরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. চিত্তরঞ্জন দাস
  2. সুভাষ চন্দ্র বসু
  3. মতিলাল নেহরু
  4. ক+গ
সঠিক উত্তর:
ক+গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক+গ
ব্যাখ্যা

স্বরাজ পার্টি:
- সময়কাল: ১৯২৩ সালে।
- প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মতিলাল নেহরু (জওহরলাল নেহরুর পিতা) ও চিত্তরঞ্জন দাস। 
- মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের বিকল্প হিসেবে কম কঠোর হিন্দু মতাদর্শী এবং আরও ধর্মনিরপেক্ষ কংগ্রেস নেতারা ব্রিটিশদের প্রবর্তিত রাজনৈতিক সংস্কারের সঙ্গে আংশিক সহযোগিতার পথে হাঁটেন।
- ১৯২৩ সালের কেন্দ্রীয় আইনসভা নির্বাচনে ৪০টির বেশি আসন জয়ী হয়।
- তবে ব্রিটিশদের জন্য প্রয়োজনীয় আইন পাস রোধ করার মতো যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়।
- ১৯২৭ সালে স্বরাজ পার্টি ভেঙ্গে যায়।
- স্বরাজ পার্টি ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা ভারতের রাজনৈতিক আন্দোলনে বিকল্প কৌশল তৈরি করেছিল।

উদ্দেশ্য:
- স্বরাজ (স্বশাসন) অর্জন, যা ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতার আন্দোলনে ব্যবহৃত শব্দ।
- ১৯২৩ সালে কেন্দ্রীয় আইনসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ব্রিটিশ নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন পরিচালনা।
- আইনসভায় ব্রিটিশ নীতিকে ব্যাহত করা এবং সরকারী কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি।

উৎস: ব্রিটানিকা

.
রাজনৈতিক দল নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তাকে কি বলে?
  1. Poliology
  2. Stasiology
  3. Political party
  4. Soteriology
সঠিক উত্তর:
Stasiology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Stasiology
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দলের ধারণা:
- বর্তমান যুগে রাজনৈতিক দলের সাহায্যেই শাসনকার্য পরিচালিত হয়।
- আধুনিক অর্থে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয় সপ্তদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে।
- রাণী প্রথম এলিজাবেথের রাজত্বকালে হুইগ (Whig) ও টোরি (Tory) নামক দুইটি দলের সৃষ্টি হয়।
- রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মতভাবে আলোচনা মূলত: শুরু হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে।
- রাজনৈতিক দল নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তা "Stasiology” বা (স্টাসিউলজি) নামে পরিচিত।
- ‘Stasis’ শব্দের অর্থ বিরোধীতার মনোভাব।
- এই শব্দটি গ্রিক থেকে ইংরেজি ভাষায় এসেছে।
- যখন কিছু সংখ্যক মানুষ মতাদর্শগতভাবে একমত পোষণ করে এবং ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় তখন তাকে রাজনৈতিক দল বলে। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
’বেঙ্গল প্যাক্ট’ চুক্তির রূপকার কে?
  1. পন্ডিত মতিলাল নেহেরু
  2. মহাত্মা গান্ধী
  3. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
  4. নবাব আব্দুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
ব্যাখ্যা

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ:
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ১৮৭০ সালের ৫ নভেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সি. আর দাশ নামেও পরিচিত।
- বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিক থেকে তিনি রাজনীতিতে জড়িত হন।
- অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে মহাত্না গান্ধীর ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি লাভজনক আইনজীবির
পেশা পরিত্যাগ করে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে আরো বেশী সোচ্চার হয়ে ওঠেন।
- ১৯২৩ সালে তিনি মুসলমান সম্প্রদায়ের সাথে একটি চুক্তি করেন যা ’বেঙ্গল প্যাক্ট’ নামে পরিচিত।
- ’বেঙ্গল প্যাক্ট’ এ সরকারি চাকুরিতে মুসলমানদের জন্য শতকরা ৫৫ ভাগ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়।
- রাজনৈতিক নিষ্ঠা ও গভীর দেশপ্রেমের জন্য এই উপমহাদেশের জনগণ চিত্তরঞ্জন দাশকে 'দেশবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯২৫ সালের ১৬ জুন অসুস্থ অবস্থায় দার্জিলিংয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য কী?
  1. রাজনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণ
  2. প্রার্থী মনোনয়ন
  3. জনমত গঠন
  4. সরকার গঠন
সঠিক উত্তর:
সরকার গঠন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার গঠন
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দলের কার্যাবলি:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হল রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ এবং সরকার গঠন।
- ক্ষমতায় এসে নিজের কর্মসূচি ও মতাদর্শকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রতিটি দলই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশে একাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে।
- শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের লক্ষ্য হল ক্ষমতায় টিকে থাকা।
- রাজনৈতিক দলের কার্যাবলি বহুমুখী।

• অন্যান্য নানাবিধ কার্যাবলি-
- রাজনৈতিক ব্যবস্থার স্থায়িত্ব সংরক্ষণ।
- রাজনৈতিক সংযোগ সাধন।
- রাজনৈতিক নিয়োগ।
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ।
- সমস্যা নির্বাচন ও সমস্যা সমাধান।
- জনমত গঠন ও প্রার্থী মনোনয়ন ইতাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

.
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন কোন পেশা দিয়ে?
  1. ইমামতি
  2. ডাক্তারি
  3. সরকারি কর্মকর্তা
  4. শিক্ষকতা
সঠিক উত্তর:
শিক্ষকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষকতা
ব্যাখ্যা

মওলানা আবদলু হামিদ খান ভাসানীঃ
- তৎকালীন পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহকুমা শহরের ধনপাড়া গ্রামে তিনি ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
- টাঙ্গাইলের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
- ভাসানীর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ-খেলাফত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
- ১৯৩৭ সালে মওলানা ভাসানী মুসলিম লীগে যোগদান করেন এবং আসাম মুসলিম লীগের সভাপতি হন।
- তিনি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন ১৯৪৯ সালের ২৪ জুন।
- রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠায় ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি।
- ১৯৫৭ সালে মওলানা ভাসানী ঢাকায় পাকিস্তানের সকল বামপন্থী দলের একটি সম্মেলন আহবান করেন।
- ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নামক নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং দলের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন এবং টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম); বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
“যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই” উক্তিটি কার-
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. অ্যালান বল
  3. ম্যাকাইভার
  4. হ্যারল্ড লাসওয়েল
সঠিক উত্তর:
জন স্টুয়ার্ট মিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা

বিরোধী দল:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।
- “যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই” উক্তিটি করেন জন স্টুয়ার্ট মিল।
- গণতন্ত্র রক্ষায় বিরোধীদলের বিকল্প নেই।
উল্লেখ্য,
- ‘Comparative Politics and Government’ নামক গ্রন্থের লেখক অ্যালান বল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

.
প্রথম বাঙালি মুসলমান হিসাবে কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন কে?
  1. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. নওয়াব আবদুল লতিফ
  4. এ. কে. ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
এ. কে. ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক:
- বরিশাল জেলার বানরীপাড়া থানার চাখার গ্রামে ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পূর্ণ নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক। 
- ১৯০৬ সালে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্টেটের চাকরি গ্রহণ করেন।
- লক্ষ্ণৌ শহরে ১৯১৬ সালে যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, সেইটাই ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে পরিচিত।
- তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন ১৯২৭ সালে।
- ১৯৩৫-৩৬ সালে প্রথম বাঙালি মুসলমান হিসাবে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।
- তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন ১৯৩৭ সালে। 
- ১৯৪০ সালে জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- তিনি ‘ঋণ সালিশী বোর্ড’ গঠন করেন।
- ১৯৪০ সালে মহাজনী আইন পাসের মাাধ্যমে সুদের হার ও চক্রবৃদ্ধি রহিত করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় গঠিত ফ্লাউড কমিশনের সুপারিশেই ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন পাস হয়।
- দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর-অব-ল উপাধিতে ভূষিত করে ১৯৫৫ সালে।
- ১৯৫৯ সালে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তাঁকে ‘হিলাল-ই-পাকিস্তান’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজাপুর উপজেলার ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]।

.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. সরকারি নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার
  2. সরকারি ক্ষমতা অর্জন
  3. সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা।
  4. গোষ্ঠীগত স্বার্থ রক্ষা করা
সঠিক উত্তর:
সরকারি ক্ষমতা অর্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারি ক্ষমতা অর্জন
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রক্রিয়ার উপরে প্রভাব
বিস্তার করে।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এদের কোন দলীয় সংগঠন নেই।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কোন রাজনৈতিক দল নয় বিধায় এদের কোন দলীয় কর্মসূচিও নেই।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্বাচনে প্রার্থী দেয় না এবং নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালায় না।
- এরা সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে না।
- সরকারি ক্ষমতা দখল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য নয় বরং সরকারি  নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করাই এর উদ্দেশ্য।
- সরকারি নীতি নির্ধারণে চাপ প্রয়োগ করে গোষ্ঠীগত স্বার্থ রক্ষা করাই চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান উদ্দেশ্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

.
হাজী শরীয়তুল্লাহ্ মৃত্যুর পর 'ফরায়েজি আন্দোলনের' নেতৃত্ব দেন কে?
  1. দুদু মিয়া
  2. মাওলানা কেরামত আলী জৌনপুরী
  3. শহীদ তিতুমীর
  4. নওয়াব আবদুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
ব্যাখ্যা

হাজী শরীয়তুল্লাহ্:
- হাজী শরীয়তুল্লাহ্ বাংলার একজন ইসলামি সংস্কারক।
-  তিনি ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর মহকুমার অন্তর্গত শামাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ১৭৮১ সালে।
- শরিয়তপুর জেলার নামকরণ করা হয়েছে তাঁর নামানুসারে। 
- দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থানকালে তিনি ওয়াহাবি মতবাদের প্রতি আকৃষ্ট হন।
- তিনি শিক্ষক তাহের সোম্বলের নিকট সুফিবাদের কাদেরিয়া তরিকায় দীক্ষিত হন।
- ওয়াহাবি মতবাদের ভিত্তিতেই হাজী শরীয়তুল্লাহ্ তাঁর সংস্কারমূলক আন্দোলন শুরু করেন।
- তিনি ইসলামের অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্য বা ‘ফরজ’ পালনের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন। 
- অত্যাচারী জমিদারদের শোষণ হতে কৃষকদের মুক্ত করার লক্ষ্যে তাঁর সংস্কারমূলক আন্দোলন পরিচালিত হয়। 
- হাজী শরীয়তুল্লাহর সংস্কারমূলক আন্দোলন পরবর্তীতে ’ফরায়েজি আন্দোলন’ নামে পরিচিতি পায়। 
- ১৮৪০ সালে শরীয়তুল্লাহ মৃত্যুবরণ করলে, পুত্র দুদু মিয়া 'ফরায়েজি আন্দোলনের' নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১০.
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা-
  1. একদলীয়
  2. দ্বি-দলীয়
  3. বহুদলীয়
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বহুদলীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুদলীয়
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন রূপ: 
- রাজনৈতিক দলকে মোটামুটিভাবে তিনভাগে ভাগ করা যায়।
যথা− একদলীয়, দ্বি-দলীয় এবং বহুদলীয়।

⇒  একদলীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রে একটিমাত্র রাজনৈতিক দল থাকে।
যেমন− ইতালীর ফ্যাসিষ্ট দল এবং জার্মানীর নাৎসী দল।
- এক দলীয় ব্যবস্থায় জনমত প্রকাশের সুবিধা থাকে না। 
- বর্তমানে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে এত সমস্যা থাকে যে, শুধু একটি বা দুটি দল সমস্যার সমাধান করতে পারে না।

⇒  দ্বি-দলীয় ব্যবস্থায় মাত্র দুটি রাজনৈতিক দল থাকে। বৃটেনে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান।

- বহুদলীয় ব্যবস্থায় একটি রাষ্ট্রে বহু দল থাকে। যেমন- বাংলাদেশ।

- গণতন্ত্রকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য বহুদলীয় ব্যবস্থা অত্যন্ত আবশ্যক। 
- অপ্রয়োজনীয় ও জনসমর্থনহীন অসংখ্য রাজনৈতিক দল গড়ে উঠলে তা গণতন্ত্রের জন্য হয় হুমকিস্বরূপ।

উৎস: পৌরনীতি (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

১১.
কার উদ্যোগে ইংরেজ সরকার নীল কমিশন (Indigo Commission) গঠন করে?
  1. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. মীর নাসির আলী তিতুমীর
  4. সৈয়দ আমীর আলী
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা

নওয়াব আবদুল লতিফ:
- নওয়াব আবদুল লতিফ উনিশ শতকের বাংলার মুসলিম জাগরণের অগ্রদূত ও সমাজসেবক। 
- ফরিদপুর জেলার রাজাপুরে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি ১৮২৮ সনে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হন ১৮৪৯ সালে। 
- তিনিই প্রথম সরকারি আমলা যিনি নীলকরদের অত্যাচারের হাত থেকে নীল চাষীদের রক্ষায় এগিয়ে আসেন।
- নওয়াব আবদুল লতিফের উদ্যোগে নীলকরদের অত্যাচার বন্ধ করার লক্ষ্যে ১৮৬০ সালে ইংরেজ সরকার নীল কমিশন (Indigo Commission) গঠন করে।
- ভুপালের নবাবের দরবারেও কিছুকাল প্রধানমন্ত্রীর পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- নওয়াব আবদুল লতিফ মুসলমানদের শিক্ষিত করতে ১৮৬৭ সালে মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি স্থাপন করেন।
- বাংলার মুসলিম সমাজে একটি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে তার অবদান গুরুত্বপূণ।
- নওয়াব আবদুল লতিফের জীবনাবসান হয় ১৮৯৩ সালের ১০ জুলাই।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত-
  1. চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমূহ
  2. রাজনৈতিক দল
  3. সুশীল সমাজ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্র:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হল রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ এবং সরকার গঠন।
- ক্ষমতায় এসে নিজের কর্মসূচি ও মতাদর্শকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রতিটি দলই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশে একাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে।
- শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের লক্ষ্য হল ক্ষমতায় টিকে থাকা।
- গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক দল একে অপরের পরিপূরক।
- গণতন্ত্র ছাড়া যেমন রাজনৈতিক দল টিকতে পারে না।
- তেমনি রাজনৈতিক দল না থাকলে গণতন্ত্রও সম্ভব নয়।
- রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সাংগঠনিক কাঠামোর সাহায্যে এক ধরনের প্রতিনিধিত্ব সৃষ্টি করে।
- বতর্মান প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক দল। 
- গণতন্ত্র মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা দিয়ে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
রাজা রামমোহন রায় কবে 'ঈশ্বরের সমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ১৮২২ সালে
  2. ১৮২৮ সালে
  3. ১৮৩০ সালে
  4. ১৮৩৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮২৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮২৮ সালে
ব্যাখ্যা

রাজা রামমোহন রায়ঃ
- পশ্চিম বঙ্গের হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে রাজা রামমোহন রায় ১৭৭২ (মতান্তরে ১৭৭৪) সালের ২২শে মে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর বংশগত পদবী ছিল বন্দোপাধ্যায়।
- নবাবের কাছ থেকে রায় রায়হান উপাধি লাভ করেন।
- তিনি হিন্দুদের ধর্মশাস্ত্র উপনিষদ ও বেদান্ত অধ্যয়ন করে একেশ্বর বাদের অস্তিত্ব খুঁজে পান।
- মনযারাতুল্ আদিয়ান শীর্ষক তাঁর প্রথম গবেষণামূলক গ্রন্থটি বিভিন্ন ধর্মের আলোচনায় নিবেদিত। 
- তিনি সতীদাহের মতো কুপ্রথার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে সক্ষম হন, যা ১৮২৯ সালে বিশেষ আইনের মাধ্যমে এ প্রথা বন্ধ করতে সরকারকে প্রভাবিত করে।
- ১৮২১ সালে রামমোহন সম্বাদ কৌমুদী নামে বাংলা সংবাদপত্র ও ১৮২২ সালে মিরাত-উল-আখবার নামে ফারসি সংবাদপত্র প্রকাশ করেন।
- ১৮২৮ সালে রাজা রামমোহন ব্রাহ্মসভা (পরবর্তীসময়ে ব্রাহ্মসমাজ) অর্থাৎ ঈশ্বরের সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন 
- ১৮৩৩ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের ব্রিষ্টল নগরীতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া। 

১৪.
চট্টগ্রাম কারাগার ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেবার নির্দেশ প্রদান করেন কে?
  1. আম্বিকা চক্রবর্তী
  2. কল্যাণী দাস
  3. শহীদ তিতুমীর
  4. মাস্টারদা সূর্যসেন
সঠিক উত্তর:
মাস্টারদা সূর্যসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাস্টারদা সূর্যসেন
ব্যাখ্যা

মাস্টারদা সূর্যসেনঃ 
- ১৮৯৪ সালে মাস্টারদা সূর্যসেন জন্মগ্রহণ করেন।
- সূর্যসেন ছিলেন পেশায় শিক্ষক তাই তাঁকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য বলা হত মাস্টারদা সূর্যসেন।  
- বি.এ পড়ার সময় তিনি তাঁর শিক্ষক শতীশচন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন। 
- ১৯৩০ সালের এপ্রিল মাস থেকে ভারতবর্ষের স্বাধীনতার লক্ষ্যে মাস্টারদা ব্রিটিশদের উপর আক্রমণ চালাতে শুরু করেন।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের ফসল।
-  এ যুদ্ধে ১৪ জন বিপ্লবী শহীদ হন।
- মাস্টারদা প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্তকে বোমা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম কারাগার ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেবার নির্দেশ প্রদান করেন ১৯৩২ সালের জুন মাসে।
- মাস্টারদা পটিয়া এলাকার গৈরালা গ্রামে আত্নগোপন করেন।
- একজন গ্রামবাসীর বিশ্বাসঘাতকতায় ১৯৩৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মাস্টারদা গ্রেফতার হন।
- ১৯৩৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সূর্যসেনকে ফাঁসি দেয়া হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১৫.
সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারের ক্ষমতা চর্চা কীভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে?
  1. প্রশাসনিক বিভাগের মাধ্যমে
  2. আদালতের মাধ্যমে
  3. সাংবাদিকতার মাধ্যমে
  4. রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র এবং রাজনৈতিক দল:
- সংসদীয় গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
- এই ব্যবস্থায় সরকারের ক্ষমতা চর্চা সাংবিধানিকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে, যা তাত্ত্বিকভাবে জনগণের হাতে থাকলেও বাস্তবে রাজনৈতিক দলগুলো দ্বারা পরিচালিত হয়।
- উন্নত গণতন্ত্রে কার্যকর বিরোধী দলগুলো ক্ষমতাসীন দলগুলোর চেয়ে বেশি অবদান রাখে।
- সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংসদ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
- সরকার ও বিরোধী দলের সৌহার্দপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে।
 
তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
'ইন্ডিপেন্ডেন্ট মুসলিম পার্টি' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী 
  3. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী 
ব্যাখ্যা

হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী
- তিনি ১৮৯২ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সোহ্‌রাওয়ার্দী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এস.সি (সম্মান) ও বি.সি.এল ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৯২০ সালে ইংল্যান্ড থেকে ভারতে ফিরেই তিনি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯২৪ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র পদে অধিষ্ঠিত হন।
- হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ইন্ডিপেন্ডেন্ট মুসলিম পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন ১৯২৬ সালে। 
- তিনি বেঙ্গল মুসলিম ইলেকশন বোর্ড নামে অপর একটি সংগঠন গড়ে তোলেন ১৯২৯ সালে।
- ১৯৩২ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠকে তিনি মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করেন।
- ১৯৩৭ সালে সোহ্‌রাওয়ার্দী কলকাতায় ইউনাইটেড মুসলিম পার্টি নামে একটি দল গঠন করেন এবং নিজে এই দলের সম্পাদক হন।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পাকিস্তানের প্রথম ও প্রধান বিরোধীদল আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সোহ্‌রাওয়ার্দীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- প্রকৃতপক্ষে তিনিই ছিলেন বাংলায় মুসলিম লীগের স্থপতি।
- সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৯৪৩-১৯৪৫ সালে খাজা নাজিমউদ্দীন মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী ছিলেন।
- তিনি ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
- পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী হিসাবে কাজ করেন।
- তিনি ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
- তিনি পাকিস্তানের ১৯৫৬ সালের সংবিধান প্রণয়নে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও  পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
রাষ্ট্রের 'বিকল্প সরকার' হিসেবে কাজ করে কে?
  1. বিরোধী দল
  2. সুশীল সমাজ
  3. সরকারি দল
  4. চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমূহ
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
ব্যাখ্যা

বিকল্প সরকারঃ 
- 'বিকল্প সরকার' হিসেবে কাজ করে বিরোধী দল। 
- 'বিকল্প সরকার' বলতে বোঝানো হয় এমন একটি রাজনৈতিক দল বা জোট, যারা বর্তমান সরকার ব্যর্থ হলে বা পরবর্তী নির্বাচনে হারলে সেই সরকারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।
- “যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই” উক্তিটি করেন জন স্টুয়ার্ট মিল।
- গণতন্ত্র রক্ষায় বিরোধীদলের বিকল্প নেই।

• বিরোধী দলের ভূমিকা:
- গঠনমূলক সমালোচনা।
- অধিকার বাস্তবায়ন।
- গণতন্ত্র রক্ষা।
- বিকল্প নীতি উত্থাপন।
- সমস্যা চিহ্নিত করা।
- জনমত গঠন।
- প্রার্থী মনোনয়ন।
- পারস্পরিক সম্পর্ক।
- রাজনৈতিক সংযোগ সাধন।
 - রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ।
- জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে-
  1. ক্ষমতাসীন দল
  2. বিরোধী দল
  3. সরকারি কর্মকর্তা
  4. সুশীল সমাজ
সঠিক উত্তর:
সুশীল সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশীল সমাজ
ব্যাখ্যা

সুশীল সমাজঃ
- সচেতনতা সৃষ্টি ও মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করে সুশীল সমাজ।
- সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে।
- বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সমাধান ও জনগণের স্বার্থরক্ষায় সক্রিয় থাকে এই সুশীল সমাজ।
- সুশীল সমাজের মধ্যে বেসরকারি সংস্থাসমূহ, পেশাজীবী সংস্থাসমূহ, ব্যবসায়ী সংগঠনসমূহ, আইনজীবী সংগঠনসমূহ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন গণমাধ্যমসমূহ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
- সুশীল সমাজের রয়েছে চারটি মৌলিক উপাদান- ১. বহুদলীয় গণতন্ত্র, ২. জনমত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা, ৩. গোপনীয়তা ও ৪. বৈধতা।
- সুশীল সমাজ নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি ঐচ্ছিক সংঘ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং যুগান্তর।

১৯.
“বিধবা বিবাহ প্রবর্তন আমার জীবনের সর্বপ্রধান সৎকর্ম।” উক্তিটি কার?
  1. লর্ড ডার্লহৌসী
  2.  লর্ড ক্যানিং
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন:
- তার অমরকীর্তি হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রচলন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নিজের ভাষায়, “বিধবা বিবাহ প্রবর্তন আমার জীবনের সর্বপ্রধান সৎকর্ম।”
- পূর্বে রীতি ছিল হিন্দু নারীর পতি মারা গেলে সে আর বিয়ে করতে পারবে না।
- ১৮২৯ সালে প্রণীত সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আইনের ফলে হিন্দু বিধবারা সহমরণ থেকে মুক্তি পেলেও বিধবা বিবাহের রীতি না থাকায় বিধবারা মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হয়।
- ১৮৫৩ সালে তিনি এ অত্যাচারের বিরুদ্ধে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন।
- ১৮৫৫ সালের ৪ঠা অক্টোবর তিনি ৯৮৭ জনের স্বাক্ষরিত একখানা স্মারকলিপি ভারত সরকারের নিকট পেশ করেন।
- ১৮৫৫ সালের ১৭ই নভেম্বর ব্যবস্থাপক সভায় বিধবা বিবাহ আইনের খসড়া পেশ করা হলে ভারতের সর্বত্র পক্ষে-বিপক্ষে
ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়।
- রাজা রাঁধা কান্ত দে এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৭,০০০ লোকের স্বাক্ষরিত এক আবেদন পত্র ভারত সরকারের নিকট দাখিল করেন।
- পরিশেষে লর্ড ডার্লহৌসীর সহায়তায় ১৮৫৬ সালের ২৬শে জুলাই বিধবা বিবাহ আইন পাস হলেও তা বাস্তবায়ন সহজ হয়নি।
- ১৮৭০ সালের ১১ই আগষ্ট নিজ পুত্র নারায়নচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের বিয়ের মাধ্যমে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
- বহুবিবাহ এবং বাল্য বিবাহ রোধেও তিনি প্রয়াস চালান।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য কি?
  1. সরকারি স্বার্থ উদ্ধার
  2. ব্যাক্তি স্বার্থ উদ্ধার
  3. গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধার
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধার
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় স্বার্থে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।
- আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- শ্রমিক সংগঠন, কৃষক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমিতি, শিল্পপতিদের সমিতি এবং অন্যান্য পেশাজীবী এ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ, সুশাসনের জন্যে নাগরিক, এফবিসিসিআই প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন পরিষদ, আমলাতন্ত্র, সেনাবাহিনী প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য হলো গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধার।

- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে।
- এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২১.
'দি স্পিরিট অব ইসলাম' গ্রন্থের লেখক কে?
  1.  নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. সৈয়দ আমীর আলী
  4. সৈয়দ আহমদ খান
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা

সৈয়দ আমীর আলী:
- সৈয়দ আমীর আলী ১৮৪৯ সালে হুগলীর এক সম্ভ্রান্ত শিয়া মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন একজন প্রখ্যাত আইনজীবী এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক খ্যাতিমান লেখক।
- ভারতে মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণ বিশেষ করে বাংলার মুসলমানদের নবজাগরণের তিনি ছিলেন অন্যতম অগ্রদূত। 
- ভারতীয়দের মধ্যে তিনিই প্রথম ইংল্যান্ডের প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন।
- সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত।
- ইসলামী ও পাশ্চাত্য জ্ঞানের অধিকারী আমীর আলী ছিলেন একজন সুলেখক।
- তিনি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেন।
- তার দুটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে: (১) দি স্পিরিট অব ইসলাম এবং (২) এ সর্ট হিস্টরি অব দি স্যারাসিন।
 - ১৯০৪ সালে অবসর গ্রহণের পর তিনি ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং ১৯২৮ সালে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

২২.
কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন পেতে হলে দরখাস্তকারী দল কর্তৃক সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত আসনসমূহে প্রদত্ত মোট ভোটের কত শতাংশ (%) ভোট লাভ করে থাকতে হবে?
  1. ২%
  2. ৫%
  3. ৭%
  4. ১০%
সঠিক উত্তর:
৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫%
ব্যাখ্যা

৯০বি(১)এ ধারাঃ
(i) বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিলের তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যে কোনো একটিতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কমপক্ষে একটি আসন লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(ii) উক্তরূপ নির্বাচনের যেকোন একটিতে দরখাস্তকারী দল কর্তৃক নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত আসনসমূহে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যার ৫% ভোট লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(iii) কেন্দ্রীয় কমিটি ও অফিস, অফিসসহ কমপক্ষে ১০টি জেলা কমিটি এবং অফিসসহ কমপক্ষে ৫০টি উপজেলা/থানা কমিটি থাকতে হবে।

উৎস: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো।

২৩.
কলকাতায় মুসলিম মহিলা ট্রেনিং স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয় কার প্রচেষ্টায়?
  1. সৈয়দ আমীর আলী
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. সৈয়দ আহমদ খান
  4. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
ব্যাখ্যা

নারী শিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবায় বেগম রোকেয়ার অবদানঃ 
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন সাহিত্যিক, শিক্ষাব্রতী, সমাজসংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- ১৯০৯ সালের ১লা অক্টোবর মাত্র পাঁচজন ছাত্রী নিয়ে ভাগলপুরে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
- রোকেয়ার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ১৯১৭ সালে এই স্কুল মধ্য ইংরেজি গার্লস স্কুলে এবং ১৯৩১ সালে উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে রূপান্তরিত হয়।
- বেগম রোকেয়া ১৯১৬ সালে “আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম” বা মুসলিম মহিলা সমিতি নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন।
- তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯২৯ সালে কলকাতায় মুসলিম মহিলা ট্রেনিং স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মুসলিম নারী জ্ঞান-বিজ্ঞানে প্রতিষ্ঠা লাভ করুক, আত্মনির্ভরশীল হয়ে মাথা তুলে দাড়াক, সামাজিক কর্মকান্ডে পুরুষের মত নারীও সমান অবদান রাখতে সক্ষম হোক এটাই ছিল তাঁর স্বপ্ন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

২৪.
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ জারি করা হয়-
  1. ১৯৭১ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৭৩ সালে
  4. ১৯৭৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ঃ 
- বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর সংসদ কার্যকর না থাকায় ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ জারি করেছিলেন।
- বাংলাদেশের সব কয়টি নির্বাচন হয়েছে ১৯৭২ সালে জারি করা রাষ্ট্রপতির আদেশ দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ (আরপিও) অনুযায়ী।
- এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ নামে পরিচিত।
- ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই বছরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছিলো এ আইনে।
- ২০০৯ সালে সরকার জাতীয় সংসদে একটি বিল উত্থাপন করে এবং এটিই জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধনী) আইন ২০০৯ (২০০৯ সালের ১৩নং আইন) হিসেবে সংসদে পাশ হয়।
- সর্বমোট ৩০ ধারায় গঠিত এ আইনবলে ইতোপূর্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক জারীকৃত তিনটি অধ্যাদেশ রহিত করা হয়।
- ইতোপূর্বে বিদ্যমান মোট পনেরটি ধারা সংশোধিত হয়।
- এ ছাড়া কিছু নতুন ধারাও আইনে সন্নিবেশিত হয় যার মধ্যে অধ্যায় ৬ (ক) ছিল সম্পূর্ণ নতুন।
- রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন, প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয় নিরূপণ কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারীকে রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো সে সময়ে সংযোজিত হয়েছে। 
- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯১(এ) ধারায় বলা আছে, নির্বাচন কমিশন যদি সন্তুষ্ট হয় যে, নির্বাচনে বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন এবং চাপ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন বিরাজমান অপকর্মের কারণে যুক্তিযুক্ত, ন্যায়সঙ্গত এবং আইনানুগভাবে নির্বাচন পরিচালনা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে না, তাহলে যে কোনো ভোটকেন্দ্র বা সম্পূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনের যে কোনো পর্যায়ে ভোট গ্রহণসহ নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ করতে পারবে।

উৎস:  বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও বাংলাপিডিয়া।

২৫.
ভারতীয় উপমহাদেশের সাধারণ জনগণের মাঝে শিক্ষার দ্যুতি ছড়ানোর জন্য কে তাঁর সমুদয় সম্পত্তি ওয়াক্‌ফ করে যান?
  1. হাজী শরীয়তুল্লাহ্
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  4. হাজী মুহম্মদ মুহসীন
সঠিক উত্তর:
হাজী মুহম্মদ মুহসীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজী মুহম্মদ মুহসীন
ব্যাখ্যা

হাজী মুহম্মদ মুহসীনঃ
- তিনি ১৭৩২ সালে হুগলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শিক্ষানুরাগী এ দানবীর তার অর্থ দিয়ে বহু বিদ্যাপিঠ স্থাপন করে গেছেন।
- হুগলিতে ‘হুগলি মহসিন কলেজ’ ও ‘চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ’ প্রতিষ্ঠার সময় মহসিনের ওয়াকফকৃত অর্থ ব্যবহৃত হয়।
- ১৭৬৯-৭০ সালের সরকারি দলিল অনুযায়ী তৎকালীন দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন করেন।
- তিনি ‘মহসিন ফান্ড' নামক তহবিল প্রতিষ্ঠা করেন ১৮০৬ সালে।
- বঙ্গের হাতেম তাই নামে খ্যাত মুহসিন তাঁর অগাধ সম্পত্তি জনকল্যাণে দান করে যান।
- ভারতীয় উপমহাদেশের সাধারণ জনগণের মাঝে শিক্ষার দ্যুতি ছড়ানোর জন্য তাঁর সমুদয় সম্পত্তি ওয়াক্‌ফ করে যান।
- ১৮০৬ সালের ২৬ এপ্রিল তাঁর বিশাল সম্পত্তি থেকে ১,৫৬,০০০ টাকা নিয়ে মুহসিন ট্রাষ্ট গঠন করেন।
- মুহসীন জীবিত অবস্থাতেই খুলনা ও যশোর এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য বহু দীঘি, পুকুর ও খাল খনন করেন।
- জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে তাঁর স্মরণীয় দান হচ্ছে হুগলীতে দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন।
- দরিদ্রদের মাঝে বিনামুল্যে ওষুধপত্র বিতরণ, চিকিৎসা প্রদান এবং চিকিৎসার জন্য অর্থ সাহায্য অন্যতম।
- বঙ্গের হাতেম তাই নামে খ্যাত মুহসিন তাঁর অগাধ সম্পত্তি জনকল্যাণে দান করে যান।
- দানশীলতার জন্য তিনি দানবীর খেতাব পেয়েছিলেন। 
- গরীব, দুঃখী, অন্ধ, এতিম, বৃদ্ধ অসহায়দের তিনি উদারভাবে দান করতেন।
- তাঁর দানের ক্ষেত্রে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃষ্টান এমনকি চোর-ডাকাতও ভেদাভেদ ছিলনা।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬.
‘আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা’- উক্তিটি কার?
  1. লাস্কি
  2. জন অস্টিন
  3. অধ্যাপক হল্যান্ড
  4. আইনবিদ স্যামন্ড
সঠিক উত্তর:
আইনবিদ স্যামন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনবিদ স্যামন্ড
ব্যাখ্যা

• আইন:
- আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Law'। 
- সাধারণভাবে আইন বলতে আমরা সুনির্দিষ্ট নীতি ও নিয়ম কানুনকে বুঝে থাকি যা সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য। 
- বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্নভাবে আইনের সংজ্ঞা দিয়েছেন:

• এরিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।”
• অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ ও বলবৎ করা হয়।"
• আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, "আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।”

সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়ম-কানুনকে বোঝায় যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২৭.
UNDP-এর দৃষ্টিতে সুশাসন মূলত কী?
  1. রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক  কর্তৃত্বের চর্চা 
  2. রাজনৈতিক আধিপত্য
  3. জনগণের চাহিদা
  4. জনগণের বৈধ অধিকার
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক  কর্তৃত্বের চর্চা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক  কর্তৃত্বের চর্চা 
ব্যাখ্যা

• UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”।
- UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র: UNDP ওয়েবসাইট।

২৮.
টেকসই উন্নয়নের জন্যে নিম্নের কোন বিষয়টি অপরিহার্য?
  1. শিক্ষা
  2. সুশাসন
  3. আইন
  4. মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

• টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন:
- টেকসই উন্নয়ন মূলত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে গৃহীত একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা।
- সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং আইনের শাসন বজায় থাকে।
- টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশাসন অপরিহার্য, কারণ এটি ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
- সুশাসন শুধু প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি করে না, বরং সমাজের সবস্তরে উন্নয়নের পথ তৈরি করে।
- এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক- যা টেকসই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯.
সুশাসনের পূর্বশর্ত নিচের কোনটি ?
  1. গ্রহণযোগ্যতা
  2. জবাবদিহিতা
  3. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  4. উপরোক্ত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা

• সুশাসনের পূর্বশর্ত:
যেকোন দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সুশাসন। সুশাসন প্রতিষ্ঠার কিছু পূর্বশর্ত রয়েছে।

সুশাসনের পূর্বশর্ত গুলো হচ্ছে:- 
- আইনের শাসন, 
- স্বচ্ছতা, 
- জবাবদিহিতা, 
- গ্রহণযোগ্যতা,
- দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রশাসন,
- অংশগ্রহণমূলক সরকার ব্যবস্থা, 
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা স্বাধীন প্রচারমাধ্যম,
- দায়বদ্ধতা, 
- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ,
- রাজনৈতিক স্বাধীনতার সুরক্ষা, 
- অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ততা,  
- বাকস্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, 
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, 
- বৈধতা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

৩০.
প্রশাসনে স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার কীভাবে রোধ করা যায়?
  1. সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
  2. শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
  3. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
  4. উন্নত জীবনযাপনের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

- সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রশাসনে স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ হয়।

• বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার উপায়:
- বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে অনেক অন্তরায় রয়েছে।
- দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতা সম্পদের অপব্যবহার, শাসনরীতির অনিয়ম, প্রশাসনে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার স্বাভাবিক চিত্র।
- এ ক্ষেত্রে যদি সরকার সংসদকে কার্যকরি করার যথাযথ পদক্ষেপ নেয় এবং সংসদ তার কার্যকর ভূমিকা পালন করে তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

⇒ সুশাসন নিশ্চিত করার উপায়:
- দুর্নীতি প্রতিরোধ: 
- জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ,
- গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ,
- স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা- নারীর ক্ষমতায়ন,
- এনজিওদের ভূমিকা পালনের সুযোগ সৃষ্টি,
- রাজনৈতিক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ,
- রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩১.
কোন ধরনের মূল্যবোধ আধুনিক বিশ্বে সর্বাধিক প্রাধান্য পাচ্ছে?
  1. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  4. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২.
বাংলাদেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাঁধা কোনটি?
  1. একাধিক রাজনৈতিক দল
  2. এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা
  3. আইনের শাসন
  4. দুর্নীতি
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

• সুশাসনের ইস্যু:
- সুশাসনের ইস্যু বলতে প্রতিকূলতা কে বুঝায়।
- বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সুশাসনের ইস্যু হলো দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ, অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি।
- তাছাড়া খাদ্যে ভেজাল, নারী নির্যাতন, জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাতে উপকূলীয় অঞ্চলসহ বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ এবং কৃষি জমির ক্ষতি সুশাসন প্রতিষ্ঠার অভিযানে এ ইস্যুগুলো ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এসব ইস্যুগুলো অবশ্যই মোকাবেলা করতে হবে।

⇒ দুর্নীতি:
- বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- দুর্নীতির কারণে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- জনগণের সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমে যাচ্ছে।
- ক্ষমতাবান কিছু ব্যক্তি ফায়দা লুটছে।
- বাংলাদেশ অনেকবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
- শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাত, ভূমি প্রশাসন, জন প্রশাসন, ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ সেক্টর, স্থানীয় সরকার- এক কথায় বাজার ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সকল ক্ষেত্রেই দুর্নীতির সংস্কৃতি লক্ষণীয়।

তথ্যসূত্র: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩.
‘সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদণ্ড’ উক্তিটি কার?
  1. ফ্রাঙ্কেল
  2. এইচ এম জনসন
  3. পল সাত্রে
  4. জন লক
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, যেমন -

• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।

⇒ ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
- "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৪.
সুশাসনের সাথে কোন ধরনের মূল্যবোধের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে?
  1. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ-এর সাথে সুশাসনের নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো হলো:
- আইনের শাসন,
- ন্যায়পরায়ণতা,
- সচেতনাবোধ সৃষ্টি,
- পরমত সহিষ্ণুতা,
- স্বচ্ছতা,
- দায়বদ্ধতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫.
ভদ্রবেশী অপরাধ কোনটি? 
  1. ছিনতাই
  2. দুর্নীতি
  3. মাদকাসক্তি
  4. নারী নির্যাতন
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

• অপরাধ:
- অপরাধ বলতে বুঝায় গোষ্ঠীগত রীতিনীতির পরিপন্থী কোনো আচার-আচরণ।
- এসব আচরণ প্রতিষ্ঠিত কোনো গোষ্ঠী কিংবা তাদের আইন কর্তৃক অনুমোদিত নয়।
- সাধারণত অপরাধের দু'টি দিক রয়েছে -
(ক) সামাজিক: সমাজের বিধিবহির্ভূত কাজকে অপরাধ বলা হয়,
(খ) আইনগত: এটি রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী আচরণ। অর্থাৎ রাষ্ট্র বা আইন কর্তৃক অননুমোদিত কাজ হচ্ছে অপরাধ।

⇒ ভদ্রবেশী অপরাধ:
- সাধারণত 'ভদ্রলোকেরা' যে অপরাধ করে তাকে ভদ্রবেশী অপরাধ বলে।
- শিক্ষিত, পেশাজীবী এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গই এ ধরনের অপরাধের সাথে বেশি যুক্ত থাকেন।
- দায়িত্বে অবহেলা, কাজে ফাঁকি, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, আয়কর ফাঁকি, জালিয়াতি, প্রতারণা, তহবিল তছরূপ, মিথ্যা সাক্ষ্যদান, ট্রেডমার্ক বা বইয়ের পাণ্ডুলিপি চুরি বা নকল করা ইত্যাদি ভদ্রবেশী অপরাধ বলে পরিগণিত।

⇒ কিশোর অপরাধ:
- কিশোর-কিশোরী দ্বারা সংঘটিত অপরাধ হচ্ছে কিশোর অপরাধ।
- ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ছেলে কিংবা মেয়ে দ্বারা সংঘটিত অপরাধকে কিশোর অপরাধ বলে অভিহিত করা হয়।

⇒ সংগঠিত অপরাধ:
- সংগঠিত অপরাধ হচ্ছে দলগত অপরাধ।
- 'চেইন অব কমান্ড' অনুসরণ করে 'সিন্ডিকেট' পদ্ধতিতে বেশকিছু মানুষ সমন্বিতভাবে এ ধরনের অপরাধ সংঘটন করে।
- জাতীয় বা আন্তর্জাতিক মাফিয়াচক্র, সন্ত্রাসীগোষ্ঠী সংগঠিত অপরাধে যুক্ত থাকে।
- চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, নারী ও মানব পাচার, জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড, পতিতাবৃত্তি ইত্যাদি অপরাধ দলগতভাবে সংঘটিত অপরাধ।
- বিভিন্ন সরকারী সেবা যেমন ভিসা-পাসপোর্ট, স্বাস্থ্যসেবা, ভূমি অফিস বিভিন্ন ক্ষেত্রেও 'সিন্ডিকেট'ভিত্তিক অপরাধ পরিলক্ষিত হয়।

⇒ ফৌজদারি অপরাধ:
- ফোজদারী অপরাধ সরাসরি আইনের লংঘন এবং শাস্তিযোগ্য।
- এতে প্রত্যক্ষভাবে প্রতিপক্ষ বা অন্য ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
- সম্পত্তি হরণ কিংবা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীকে আক্রমণের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়।
- সম্পত্তি আত্মসাৎ, জবরদখল, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন-জখম, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, রাহাজানি ইত্যাদি ফৌজদারি অপরাধ।

তথ্যসূত্র: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৬.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য হলো কোনটি? 
  1. নিয়মিত কর প্রদান
  2. নিয়মিত ব্যবসা করা 
  3. নিয়মিত অধিকার ভোগ করা
  4. সরকার পরিচালনা করা
সঠিক উত্তর:
নিয়মিত কর প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়মিত কর প্রদান
ব্যাখ্যা

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য:
- সামাজিক দায়িত্ব পালন।
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন।
- আইন মান্য করা।
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন।
- নিয়মিত কর প্রদান।
- রাষ্ট্রের সেবা করা।
- সন্তানদের শিক্ষাদান।
- রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ।
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা।
- আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য করা।
- সচেতন ও সজাগ হওয়া।
- সংবিধান মেনে চলা।
- সুশাসনের আগ্রহ।
- উদার ও প্রগতিশীল দলের প্রতি সমর্থন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩৭.
মানুষের মানবিক গুণাবলির সূক্ষ্ম বিকাশে নিচের কোনটি প্রভাব বিস্তার করে?
  1. মূল্যবোধ
  2. আইন
  3. সুশাসন
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি হল সামাজিক মূল্যবোধ।
- বস্তুত সামাজিক মূল্যবোধ হল সামাজিক শিষ্টাচার, সততা, সত্যবাদিতা, ন্যায়-বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, শৃঙ্খলাবোধ, সময়ানুবর্তিতা, দানশীলতা, উদারতা প্রভৃতি মানবিক সুকুমার বৃত্তির সমষ্টি।
- সামাজিক পরিবর্তনের ফলে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে।

তথ্যসূত্র: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৮.
'সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ' কোন ধরনের মূল্যবোধ অন্তর্ভুক্ত?
  1. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে ৷

» রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
→ রাজনৈতিক সততা,
→ শৃঙ্খলাবোধ, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
→ রাজনৈতিক সহনশীলতা,
→ রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
→ দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
→ পরমতসহিষ্ণুতা,
→ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
→ সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯.
প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য-এর মতানুসারে, কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়? 
  1. দুর্নীতিমুক্ত শাসন
  2. দায়িত্বশীল প্রশাসন
  3. আইনের শাসন 
  4. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
মত প্রকাশের স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মত প্রকাশের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য-এর মতে, সুশাসনের উপাদান নয় -মত প্রকাশের স্বাধীনতা।

• সুশাসনের উপাদান:
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।

⇒ প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের ৪টি উপাদানের কথা বলেছেন। যথা:-
১। Law and Order - আইনের শাসন।
২। People Learning Administration - দায়িত্বশীল প্রশাসন,
৩। Justice and Rationally as the basis of decision - সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে ন্যায়বিচার ও যৌক্তিকতা এবং,
৪। Corruption Free Government - দুর্নীতিমুক্ত শাসন।

তথ্যসূত্র:
i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

৪০.
রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতিপ্রবণতার প্রধান কারণ কোনটি? 
  1. অর্থনৈতিক বৈষম্য
  2. স্বচ্ছতার অভাব
  3. অসৎ নেতৃত্ব
  4. নৈতিকতার অভাব
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতার অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতার অভাব
ব্যাখ্যা

- নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব সমাজের শাসন ও প্রশাসনে দুর্নীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

• দুর্নীতি এবং নৈতিকতা:
- সাধারণভাবে দুর্নীতি বলতে আইন ও নীতির বিরুদ্ধ কাজকে বুঝায়।
- দুর্নীতির সাথে পেশা, সুেযাগ-সুবিধা, পদবি, ক্ষমতা, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে জড়িত.
- নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব সমাজের শাসন ও প্রশাসনে দুর্নীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
- কারণ এটি ব্যক্তির আচরণ এবং সমাজের সামগ্রিক মানকে প্রভাবিত করে।
- যখন ব্যক্তিরা সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে না বা নৈতিকভাবে দুর্বল হয়,
- তখন তারা দুর্নীতির দিকে ঝুঁকতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১.
অধিকার ব্যবস্থার অবাধ বাস্তবায়ন কী নিশ্চিত করে?
  1. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
  2. নৈতিকতা বৃদ্ধি
  3. স্বেচ্ছাচার
  4. সুশাসন
সঠিক উত্তর:
স্বেচ্ছাচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বেচ্ছাচার
ব্যাখ্যা

- অধিকার অবাধ হলে স্বেচ্ছাচার প্রতিষ্ঠিত হবে। 

• অধিকার:
- অধিকার প্রধানত ২ প্রকার।
- সকল অধিকারের উৎস হচ্ছে - রাষ্ট্র।
- অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ হচ্ছে - আইন।
- অধিকার অবাধ হলে স্বেচ্ছাচার প্রতিষ্ঠিত হবে। 
- মৌলিক অধিকারের রক্ষাকবচ - সংবিধান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৪২.
সুশাসন বলতে শাসনের কোন দিককে বুঝানো হয়?
  1. বিপরীত দিক
  2. পরিমানগত দিক
  3. গুণগত দিক
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গুণগত দিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণগত দিক
ব্যাখ্যা

- সুশাসন দ্বারা শাসনের গুণগত দিক বুঝায়।

• সুশাসন:
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- সুশাসন হল রাষ্ট্র, সমাজ ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক ও আপেক্ষিক।
- সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- সুশাসন সকলের স্বার্থই রক্ষা করার চেষ্টা করে থাকে।
- সুশাসনের নির্দিষ্ট কিছু উপাদান রয়েছে।
- সুশাসন চিহ্নিতকরণে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহের উপর জোর দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩.
কোন ধরনের মূল্যবোধ দ্বারা সকলের মধ্যে জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা দ্বারা সকলের মধ্যে জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।

» সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো হলো: 
- আইনের শাসন,
- ন্যায়পরায়ণতা,
- সচেতনাবোধ সৃষ্টি,
- পরমত সহিষ্ণুতা,
- স্বচ্ছতা, 
- দায়বদ্ধতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪.
একজন প্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ হলো -
  1. কর্মদক্ষতা 
  2. ক্ষমতা
  3. জনকল্যাণ 
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
জনকল্যাণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনকল্যাণ 
ব্যাখ্যা

• মৌলিক মূল্যবোধ:
- একজন প্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ হচ্ছে জনকল্যাণ।
- এটি নির্দেশ করে যে প্রশাসক তার সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করেন।
- জনকল্যাণের উদ্দেশ্য হলো জনগণের উন্নতি, সামাজিক ন্যায়বিচার, এবং সুষম উন্নয়ন সাধন করা। প্রশাসকের প্রতিটি কার্যক্রম ও নীতিগত সিদ্ধান্ত জনগণের কল্যাণকে কেন্দ্র করে হওয়া উচিত, যাতে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়।

অন্যদিকে,
- ক্ষমতা প্রশাসকের কাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয়, কিন্তু যদি এটি জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হয়, তবে এটি অপ্রয়োজনীয় হতে পারে। প্রশাসকের কাছে থাকা ক্ষমতা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।
- কর্মদক্ষতা প্রশাসকের জন্য একটি প্রয়োজনীয় গুণ, তবে এটি মৌলিক মূল্যবোধ নয়। এটি জনকল্যাণ সাধনের জন্য একটি সহায়ক উপাদান। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫.
সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান কোনটি?
  1. শ্রমের মর্যাদা
  2. রাজনীতি চর্চা
  3. সামাজিক সাম্য 
  4. আইনের অপপ্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
শ্রমের মর্যাদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রমের মর্যাদা
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও
পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি হল সামাজিক মূল্যবোধ।
- বস্তুত সামাজিক মূল্যবোধ হল সামাজিক শিষ্টাচার, সততা, সত্যবাদিতা, ন্যায়-বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, শৃঙ্খলাবোধ, সময়ানুবর্তিতা, দানশীলতা, উদারতা প্রভৃতি মানবিক সুকুমার বৃত্তির সমষ্টি।
- সামাজিক পরিবর্তনের ফলে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে।

⇒ সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান হলো:
- আইনের শাসন, নৈতিকতা, সাম্য, ন্যায়বিচার, ঔচিত্যবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, নাগরিক চেতনা ও কর্তব্যবোধ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:  i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬.
কোনটি সুশাসনের মূল উপাদানগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. গণতন্ত্র
  2. জনবান্ধব প্রশাসন
  3. নৈতিক মূল্যবোধ
  4. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

উল্লিখিত সবগুলো সুশাসনের মূল উপাদান। অপশনে সঠিক উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।

• সুশাসন:

- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।

⇒ নিম্নে সুশাসনের উপাদানসমূহ:
- গণতন্ত্র, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা, বৈধতা, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা, স্বাধীন প্রচার মাধ্যম, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জনবান্ধব প্রশাসন, সততা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, সুশীল সমাজ দক্ষতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিকেন্দ্রীকরণ, লিঙ্গ বৈষম্যের অনুপস্থিতি, প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।