পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২৫
সিলেবাস
[নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২৪০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।] বিষয়: বাংলা ব্যাকরণ পরীক্ষার টপিক: ১. উপসর্গ ও অনুসর্গ, ২. এক কথায় প্রকাশ, ৩. বিপরীতার্থক শব্দ।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৫ প্রশ্ন

.
'যে নারীর হাসি পবিত্র' এক কথায় কী বলা হয়?
  1. সুচিস্মিতা
  2. সুহাসিনী
  3. শুচিস্মিতা
  4. সুহাস্য
ব্যাখ্যা

• 'যে নারীর হাসি পবিত্র’ তাকে এক কথায় বলে = শুচিস্মিতা।

• একাধিক পদ বা উপবাক্যকে একটিমাত্র শব্দে প্রকাশ করাকেই বাক্য সংকোচন বা এক কথায় প্রকাশ বলা হয়।
- এর মূল উদ্দেশ্য হলো বক্তব্যকে সংক্ষিপ্ত করা এবং একই সাথে অর্থের কোনো পরিবর্তন না করে বা অর্থকে আরও সমৃদ্ধ করে উপস্থাপন করা।

• কিছু এক কথায় প্রকাশ নিম্মরুপ:
- যে নারীর হাসি সুন্দর = সুহাসিনী;
- যে নারীর হাসি পবিত্র = শুচিস্মিতা;
- যে নারী নিয়ন্ত্রণ করে = নিয়ন্তা;
- যে নারীর হিংসা নেই = অনসূয়া;
- যে নারীর স্বামী বর্তমান = সধবা;
- যে নারীর স্বামী ও সন্তান নেই = অবীরা;
- যে নারীর স্বামী বিদেশে থাকে = প্রোষিতভর্তৃকা;
- যে নারী বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করে = ভিখারিনী।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
উপসর্গ এবং প্রত্যয়ের মধ্যে পার্থক্য কোনটি?
  1. উপসর্গ শব্দের পরে, প্রত্যয় শব্দের আগে বসে।
  2. উপসর্গ শব্দের আগে, প্রত্যয় শব্দের পরে বসে।
  3. ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে।
  4. নতুন শব্দ গঠন করে।
ব্যাখ্যা

• উপসর্গ শব্দের আগে বসে আর প্রত্যয় শব্দের পরে বসে—এইটাই উপসর্গ ও প্রত্যয়ের মূল পার্থক্য।

পার্থক্য:
- উপসর্গ হলো বাংলা ভাষার এমন কিছু অব্যয়সূচক বর্ণ বা শব্দাংশ, যা স্বাধীনভাবে বাক্যে ব্যবহৃত হয় না।
- কিন্তু কোনো ধাতু বা শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- উপসর্গ যুক্ত হলে মূল শব্দের অর্থ পরিবর্তিত হতে পারে, কখনো সংকুচিত হয় আবার কখনো বিস্তৃত হয়।
- যেমন—‘প্র’, ‘অ’, ‘সু’, ‘বি’, ‘পরি’ ইত্যাদি উপসর্গ শব্দের আগে বসে নতুন অর্থ প্রকাশ করে।
• প্র + গতি = প্রগতি;
- মূল শব্দ গতি মানে সাধারণভাবে “চলাফেরা” বা “গমন”।
- যখন প্র উপসর্গটি যুক্ত হয় তখন প্রগতি মানে শুধু চলা নয়, বরং উন্নতি, অগ্রগতি বা অগ্রসর হওয়া বোঝায়।
• আবার, অ + জ্ঞান = অজ্ঞান;
- মূল শব্দ জ্ঞান মানে “জানা বা বোধ”।
- কিন্তু, উপসর্গ অ যুক্ত হলে অজ্ঞান মানে জ্ঞানের অভাব বোঝায়।

অন্যদিকে,
- প্রত্যয় হলো এমন বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যা কোনো ধাতু (ক্রিয়াপদের মূল) বা নাম শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে মূল শব্দের অর্থ পরিবর্তিত হয় এবং নতুন পদ (বিশেষ্য, বিশেষণ ইত্যাদি) গঠিত হয়।
- প্রত্যয় অব্যয়সূচক শব্দাংশ হলেও তা শব্দের পরে বসে নতুন শব্দ তৈরি করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

.
‘নিন্দিত’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. অবমানিত
  2. প্রসন্ন
  3. চপল
  4. নন্দিত
ব্যাখ্যা

• ‘নিন্দিত’ মানে নিন্দা বা অবমানিত।
- এর বিপরীত শব্দ -‘নন্দিত’, প্রশংসিত বা কৃতজ্ঞতাপূর্ণ।

কিছু অন্যান্য বিপরীতার্থক শব্দযুগল:
- অবমানিত ↔ সম্মানিত; 
- চপল ↔ গম্ভীর; 
- প্রসন্ন ↔ বিষণ্ণ; 
- হলাহল ↔ সুধা/অমৃত;
- হর্ষ/হরিষ ↔ বিষাদ;
- সন্নিকৃষ্ট ↔ বিপ্রকৃষ্ট;
- সন্ধি ↔ বিগ্রহ;
- সরল ↔ গরল, কুটিল, জটিল;
- অমৃত ↔ গরল;
- আবিষ্কার ↔ অজ্ঞাত বস্তু;
- আবির্ভাব ↔ তিরোভাব;
- জঙ্গম ↔ স্থাবর;
- নশ্বর ↔ অবিনশ্বর;
- সুন্দর ↔ কুৎসিত;
- আপদ ↔ সম্পদ;
- নির্মল ↔ পঙ্কিল, মলিন;
- প্রসারণ ↔ সংকোচন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
নিচের কোনটি অনুসর্গ নয়?
  1. দিয়া
  2. কর্তৃক
  3. অন্য
  4. চেয়ে
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ নয়: অন্য।

• অনুসর্গ:
- অনু’ মানে পরে বা পিছনে, আর ‘সর্গ’ মানে সৃষ্টি বা ব্যবহার।
- অনুসর্গ হলো এমন একটি শব্দাংশ যা পদের পরে বসে এবং সেই শব্দের সঙ্গে পরবর্তী শব্দের সম্পর্ক দেখায়।
- অনুসর্গ পদের পরে বসে কারক বা সম্পর্ক নির্দেশ করে।
- অনুসর্গ হলো অব্যয় পদ এবং এর নিজস্ব অর্থ থাকে।
- এটি পদের পরে বসে ওই শব্দের সঙ্গে পরবর্তী শব্দের সম্পর্ক নির্দেশ করে।
- অনুসর্গ দিয়ে কারক নির্ণয় করা যায়।
- অনুসর্গ বিভক্তির মতো কাজ করে।
- কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনুসর্গ: হইতে, হতে, চেয়ে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
-
“অন্য” শব্দটি হলো অনন্বয়ী অব্যয়।
- এই শব্দটি সাধারণত স্বতন্ত্রভাবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
- এটি বাক্যে বিভিন্ন ভাব প্রকাশ করতে- যেমন বিস্ময়, সম্মতি, অসম্মতি, বা প্রশ্ন- ব্যবহার করা হয়। 
- একই সাথে শব্দটি বাক্যের সৌন্দর্য ও রূপ বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে।

উৎস: 
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ;
প্রথম আলো।

.
'বিজয় লাভের ইচ্ছা' -এর এক কথায় প্রকাশিত রূপ হলো-
  1. জিজ্ঞাসা
  2. জিজীবিষা
  3. জিগীষা
  4. বিজিগীষা
ব্যাখ্যা

“বিজয় লাভের ইচ্ছা" -এর এক কথায় প্রকাশিত রূপ হলো বিজিগীষা।
- 'যুদ্ধ' বা 'বিজয়' সম্পর্কিত ইচ্ছা বাংলা ব্যাকরণে এক কথায় বিজিগীষা দ্বারা প্রকাশিত হয়। 

অন্যদিকে,
∗ জিজ্ঞাসা – জানবার ইচ্ছা বোঝায়;
∗ জিজীবিষা – বেঁচে থাকার ইচ্ছা বোঝায়;
∗ জিগীষা –  জয় করার ইচ্ছা বোঝায়।

• কিছু এক কথায় প্রকাশ:
- নিন্দা করার ইচ্ছা = জুগুপ্সা;
- করার ইচ্ছা = চিকীর্ষা;
- মুক্তি পেতে ইচ্ছা=মুমুক্ষা;
- প্রবেশ করার ইচ্ছা=বিবক্ষা;
- বাস করার ইচ্ছা=বিবৎসা;
- বমন করিবার ইচ্ছা=বিবমিষা;
- রমণ বা সঙ্গমের ইচ্ছা=রিরংসা;
- দান করার ইচ্ছা = দিৎসা;
- জিষ্ণু = জয়লাভ করতে অভ্যস্ত;
- জিগমিষা = গমন করার ইচ্ছা;
- তিতীর্ষা = ত্রাণ লাভের ইচ্ছা;
- ঈপ্সা = পেতে ইচ্ছা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
‘নির্মল’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. চপল
  2. পঙ্কিল
  3. প্রগতি
  4. স্বচ্ছ
ব্যাখ্যা

•‘নির্মল’ মানে পরিষ্কার, স্বচ্ছ বা শুদ্ধ। 
- এর বিপরীত অর্থ হলো ‘মলিন’ বা ‘পঙ্কিল’।
- মলিন’ বা ‘পঙ্কিল’ মানে দূষিত বা অশুদ্ধ।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দসমূহ:
- চপল ↔ গম্ভীর; 
- প্রগতি ↔ স্থবিরতা; 
- স্বচ্ছ ↔ মলিন; 
- নন্দিত ↔ নিন্দিত;
- নবীন ↔ প্রবীণ;
- নশ্বর ↔ অবিনশ্বর;
- নিকৃষ্ট ↔ উৎকৃষ্ট;
- নিত্য ↔ অনিত্য;
- নিদ্রিত ↔ জাগ্রত;
- নিমগ্ন ↔ উদাসীন;
- নিয়োগ ↔ বরখাস্ত;
- নিরত ↔ বিরত;
- নিরাকার ↔ সাকার;
- নিশ্চেষ্ট ↔ সচেষ্ট;
- নিষেধ ↔ বিধি;
- নীরস ↔ সরস;
- নেতিবাচক ↔ ইতিবাচক;
- নৈঃশব্দ্য ↔ সশব্দ। 

উৎস:
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
নিচের কোনটি অনুসর্গের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়?
  1. বাক্যের অর্থ স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করে
  2. নতুন শব্দ তৈরি করা
  3. সম্পর্ক নির্দেশ করা
  4. বিভক্তি নির্দেশ করা
ব্যাখ্যা

অনুসর্গের কাজ নয়- নতুন শব্দ তৈরি করা।

• অনুসর্গের কাজ:
- অনুসর্গ হলো এমন শব্দাংশ যা সবসময় নামপদ বা সর্বনাম পদের পরে বসে।
- এটি বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত হয়ে এক পদের সঙ্গে পদের সম্পর্ক স্থাপন করে।
- এটি বিভক্তির মতো কাজ করে, ফলে বাক্যের কারক সম্পর্ক বোঝা যায়।
- এছাড়া, অনুসর্গ বাক্যের অর্থ স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করতে সাহায্য করে।
- যেমন: ‘তার থেকে ভালো’–এখানে ‘থেকে’ শব্দটি সম্পর্ক স্থাপন করে ‘ভালো’ শব্দের সঙ্গে।
- তবে শব্দের আগে বসে অর্থ পরিবর্তন করা বা নতুন শব্দ তৈরি করা অনুসর্গের কাজ নয়; অনুসর্গ সর্বদা শব্দের পরে বসে।
- এটি উপসর্গের কাজ, কারণ উপসর্গ শব্দের আগে বসে অর্থ পরিবর্তন করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

.
‘অপমান’ শব্দে ‘অপ’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিকৃত 
  2. নিকৃষ্ট
  3. বিপরীত 
  4. অভাব
ব্যাখ্যা

‘অপমান’ শব্দে ‘অপ’ উপসর্গটি বিপরীত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• ‘উপসর্গ’:
- উপসর্গ’ শব্দের মূল অর্থ হলো ‘উপসৃষ্ট’।
- এর প্রধান কাজ হলো মূল শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ তৈরি করা।
- উপসর্গের নিজস্ব অর্থ নেই, তবে এটি মূল শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।
- উদাহরণস্বরূপ, ‘অপমান’ শব্দে ‘অপ’ উপসর্গ বিপরীত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- এখানে ‘মান’ শব্দের বিপরীতে এটি অবমাননা, অসম্মান বা হেয় প্রতিপন্ন করার অর্থ প্রকাশ করছে।

উল্লেখ্য, 
- উপসর্গ ৩ প্রকার:
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষার নিজস্ব ২১টি উপসর্গ আছে:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
- উদাহরন:
- আনমনা এর ‘আন’ = দেশি উপসর্গ।
- নিখুঁত এর ‘নি’ = দেশী উপসর্গ।

• তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ হলো সেই উপসর্গ যা সংস্কৃত থেকে এসেছে এবং সংস্কৃত ধাতু/শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- তৎসম উপসর্গ ২০টি: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির্, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।
- উদাহরণ: অবহেলা এর ‘অব’ = তৎসম উপসর্গ।

• বিদেশি উপসর্গ:
- বিদেশি উপসর্গগুলো মূলত ফারসি, আরবি, উর্দু-হিন্দি, এবং ইংরেজি ভাষা থেকে এসেছে।
- পাশাপাশি কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলা ভাষায় প্রচলিত হয়েছে।
- আরবি: আম, খাস, লা, গর, বাজে, খয়ের।
- ফারসি: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু: হর।
- ইংরেজি: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

.
'প্রাচী’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. প্রাচীন
  2. প্রাচিতি 
  3. প্রাচ্য
  4. প্রতীচী
ব্যাখ্যা

• ‘প্রাচী’ মানে পূর্ব দিক বা পূর্বাঞ্চল। 
- এর বিপরীত অর্থ হলো ‘প্রতীচী’।
- প্রতীচী মানে পশ্চিম দিক বা পশ্চিমাঞ্চল।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দসমূহ:
- প্রাচীন ↔ আধুনিক; 
- প্রাচ্য ↔ পাশ্চাত্য; 
- আপদ ↔ সম্পদ;
- আবির্ভাব ↔ তিরোভাব;
- আলো ↔ আঁধার;
- উৎকর্ষ ↔ অপকর্ষ;
- উত্তরণ ↔ অবতরণ;
- অনুরক্ত ↔ বিরক্ত;
- অনুমেয় ↔ অননুমেয়;
- নিয়ত ↔ বিরত;
- প্রবিষ্ট ↔ প্রস্থিত;
- উদ্ধত ↔ বিনীত;
- ঔদ্ধত্য ↔ বিনয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০.
এক কথায় প্রকাশ করুন- ‘যে ভূমি উর্বর নয়’।
  1. পতিত
  2. ঊষর
  3. অনুর্বর
  4. বন্ধ্যা
ব্যাখ্যা

‘যে ভূমি উর্বর নয়’ তাকে এক কথায় অনুর্বর বলা হয়।

কিছু এক কথায় প্রকাশ- 
- যে জমিতে ফসল জন্মায় না = ঊষর;
- পতিত অর্থ- অব্যবহৃত জমি = অনাবাদি;
- ‘যে নারীর সন্তান হয় না’ = বন্ধ্যা;
-  যে জমিতে এক বছরের মধ্যে দু’বার ফসল জন্মায় = দো-ফসলি।

উৎস: 
ভাষা শিক্ষা – হায়াৎ মামুদ;
বাংলা একাডেমি অভিধান।

১১.
‘সন্ধি’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. নিগ্রহ
  2. সম্মিলন
  3. সংযোগ
  4. বিগ্রহ
ব্যাখ্যা

• ‘সন্ধি’ মানে সংযোগ বা মিলন।
- এর বিপরীত অর্থ হলো ‘বিগ্রহ’।
- ‘বিগ্রহ’ মানে বিচ্ছেদ বা আলাদা থাকা।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দসমূহ:
- কৃপণ ↔ বদান্য;
- কৃশ ↔ স্থুল;
- কৃষ্ণ ↔ শুভ্র, শুক্ল, গৌর, সাদা, ধবল;
- কেন্দ্রীকরণ ↔ বিকেন্দ্রীকরণ;
- কোমল ↔ কঠিন, কর্কশ;
- গাম্ভীর্য ↔ চাপল্য, রম্য, দুরন্তপনা;
- গৃহী ↔ সন্ন্যাসী;
- চিরন্তন ↔ ক্ষণকালীন;
- সচল ↔ নিশ্চল;
- সচেতন ↔ অচেতন;
- সচেষ্ট ↔ নিশ্চেষ্ট;
- সজাগ ↔ নিদ্রিত।

উৎস:
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২.
যে অব্যয়সূচক বর্ণ বা শব্দাংশ স্বাধীনভাবে বাক্যে ব্যবহৃত হয় না, তাকে কী বলে?
  1. প্রত্যয়
  2. উপসর্গ
  3. ধাতু
  4. অনুসর্গ 
ব্যাখ্যা

উপসর্গ:
- উপসর্গ হলো বাংলা ভাষার এমন কিছু অব্যয়সূচক বর্ণ বা শব্দাংশ, যা স্বাধীনভাবে বাক্যে ব্যবহৃত হয় না।
- কিন্তু কোনো ধাতু বা শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- উপসর্গ যুক্ত হলে মূল শব্দের অর্থ পরিবর্তিত হতে পারে, কখনো সংকুচিত হয় আবার কখনো বিস্তৃত হয়।

- উপসর্গের কাজ:
• ‘জ্ঞান’ মানে জানা বা বোধ।
- ‘অজ্ঞান’ মানে অজ্ঞ বা মূর্খ।
- এখানে উপসর্গ ‘অ’ মূল শব্দের অর্থকে সংকুচিত করছে।

• উপসর্গ মূল শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- উদাহরণ: আ + শা = আশা;
- এখানে 'শা' এর সম্পূর্ণ অর্থ নেই, কিন্তু 'আশা' নতুন অর্থ তৈরি করে-ভালো আশা বা কামনা।

• অর্থের পরিবর্তন:
- উপসর্গ মূল শব্দের অর্থ বদলায়।
- উদাহরণ: ভ্রমণ → পরিভ্রমণ;
- 'ভ্রমণ' মানে শুধু ঘোরা, আর 'পরিভ্রমণ' মানে চারদিকে ঘুরে দেখা।
- এখানে অর্থের পরিবর্তন হয়েছে।

• অর্থের সংকোচন:
- কিছু ক্ষেত্রে উপসর্গ শব্দের অর্থকে সংকুচিত করে।
- উদাহরণ: জ্ঞান → অজ্ঞান;
- 'জ্ঞান' মানে জানা বা বোধ, 'অজ্ঞান' মানে অজ্ঞ বা মূর্খ।

• অর্থের সম্প্রসারণ:
- কখনো উপসর্গ শব্দের অর্থকে বিস্তৃত বা বড় করে।
- উদাহরণ: গতি → প্রগতি;
- 'গতি' মানে চলা, 'প্রগতি' মানে অগ্রগতি বা উন্নতি; এখানে অর্থ প্রসারিত হয়েছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩.
অনুসর্গের অপর নাম- 
  1. ধাতু
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া
  4. কর্মপ্রবচনীয় শব্দ
ব্যাখ্যা

অনুসর্গের অপর নাম কর্মপ্রবচনীয় শব্দ।

• অনুসর্গ ও কর্মপ্রবচনীয়:
- অনুসর্গ হলো একটি অব্যয়।
- এটি বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে বসে বাক্যে সম্পর্ক এবং অর্থ স্পষ্ট করতে সাহায্য করে।
- এটি নিজস্ব অর্থ পরিবর্তন করে না এবং বাক্যে স্বাধীনভাবে ব্যবহার হয় না।
- অনুসর্গ বিভক্তির মতো কাজ করে।
- এটি পদের কারক সম্পর্ক নির্ধারণে সাহায্য করে।
- তবে বিভক্তির মতো শব্দের শেষে যুক্ত না হয়ে, অনুসর্গ পদের পরে আলাদাভাবে বসে সেই সম্পর্ক তৈরি করে।
- এই কারণে অনুসর্গকে কর্মপ্রবচনীয় শব্দ বলা হয়।
- কারণ এটি কাজ সম্পাদন করে (কর্ম) এবং বাক্যে পদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে।
• উদাহরণ:
- “তিনি বইয়ের দ্বারা পড়ছেন” → ‘দ্বারা’ শব্দটি বইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে করণ কারক বোঝাচ্ছে।
- “আমি বাড়ি থেকে এলাম” → ‘থেকে’ শব্দটি বাড়ির সঙ্গে যুক্ত হয়ে অপাদান কারক বোঝাচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

১৪.
নিচের কোন উপসর্গগুলো খাঁটি বাংলা ও তৎসম উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়?
  1. আ, অনু, অব, নির, 
  2. প্র, পরা, অপ, নি
  3. আ, সু, বি, নি
  4. অধি, উৎ, সু, নি
ব্যাখ্যা

আ, সু, বি, নি উপসর্গগুলো খাঁটি বাংলা ও তৎসম উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।

• উপসর্গ:
- উপসর্গ হলো বাংলা ভাষার এমন কিছু অব্যয়সূচক বর্ণ বা শব্দাংশ, যা স্বাধীনভাবে বাক্যে ব্যবহৃত হয় না।
- কিন্তু কোনো ধাতু: খাঁটি বাংলা, তৎসম ও বিদেশী উপসর্গ।
-  উল্লেখযোগ্য যে, আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ খাঁটি বাংলা ও তৎসম উভয়তেই পাওয়া যায়।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষার নিজস্ব ২১টি উপসর্গ আছে:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
- উদাহরন:
- আনমনা এর ‘আন’ = দেশি উপসর্গ।
- নিখুঁত এর ‘নি’ = দেশী উপসর্গ।

• তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ হলো সেই উপসর্গ যা সংস্কৃত থেকে এসেছে এবং সংস্কৃত ধাতু/শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- তৎসম উপসর্গ ২০টি: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির্, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ,
- উদাহরণ: অবহেলা এর ‘অব’ = তৎসম উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৫.
'যা বলা হয় নি', এর এক কথায় প্রকাশ কোনটি?
  1. অনুক্ত
  2. অধীত
  3. অশ্রুতপূর্ব 
  4. অকথ্য
ব্যাখ্যা

'যা বলা হয় নি', এর এক কথায় প্রকাশ হচ্ছে অনুক্ত।

অন্যদিকে:
- অকথ্য – যা বলা যায় না বা বলার যোগ্য নয়।
-  অধীত – যা অধ্যয়ন করা হয়েছে।
- অশ্রুতপূর্ব – যা পূর্বে শোনা যায়নি।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু এক কথায় প্রকাশ:
- যিনি ন্যায়শাস্ত্রে পণ্ডিত = নৈয়ায়িক;
- যাহা সহজে লঙ্ঘন করা যায় না= অলঙ্ঘনীয়;
- যাহা সহজে উত্তীর্ণ হওয়া যায় না=দুস্তর;
- যা বলা হয়েছে=বক্ষ্যমাণ;
- যা পূর্বে চিন্তা করা যায় নি=অচিন্তিতপূর্ব;
- যা পূর্বে কখনও আস্বাদিত হয় নাই=অনাস্বাদিতপূর্ব;
- যা পূর্বে শোনা যায় নি=অশ্রুতপূর্ব;
- যা পুনঃ পুনঃ জ্বলিতেছে =জাজ্বল্যমান;
- যিনি স্মৃতি শাস্ত্র জানেন=স্মার্ত;
- যে ব্যক্তি এক ঘর হতে অন্য ঘরে ভিক্ষা করে বেড়ায়=মাধুকর;
- যা পূর্বে ছিল এখন নেই = ভূতপূর্ব;
- যা পূর্বে দেখা যায় নি = অদৃষ্টপূর্ব;
- যা কখনো নষ্ট হয় না = অবিনশ্বর।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬.
‘জঙ্গম’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. গরল 
  2. স্থাবর
  3. জটিল
  4. কুটিল
ব্যাখ্যা

• ‘জঙ্গম’ মানে চলমান বা চলাচলযোগ্য।
- এর বিপরীত অর্থ হলো ‘স্থাবর’।
- স্থাবর মানে স্থির বা অচল।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দসমূহ:
- সরল ↔ গরল, কুটিল, জটিল;
- সরস ↔ নীরস;
- সশস্ত্র ↔ নিরস্ত্র;
- সসীম ↔ অসীম;
- সংকীর্ণ ↔ প্রশস্ত;
- সংকোচন ↔ প্রসারণ;
- সংক্ষিপ্ত ↔ বিস্তৃত;
- সংক্ষেপ ↔ বিস্তার;
- সংযুক্ত ↔ বিযুক্ত;
- সংযোগ ↔ বিয়োগ;
- সংযোজন ↔ বিয়োজন;
- সংশ্লেষণ ↔ বিশ্লেষণ;
- সংশয় ↔ প্রত্যয়;
- সঞ্চয় ↔ অপচয়, নয়ছয়।

উৎস:
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭.
“আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি", এ বাক্যটিতে ‘জন্য’ হচ্ছে-
  1. উপসর্গ
  2. ধাতু
  3. অনুসর্গ
  4. প্রকৃতি 
ব্যাখ্যা

• বাক্যটি হলো: “আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।”
- এখানে ‘জন্য’ শব্দটির ব্যাকরণগত শ্রেণী হলো অনুসর্গ।

• অনুসর্গ:
- অনুসর্গ একটি অব্যয়।
- এই অব্যয় বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে বসে বাক্যে কারক বা সম্পর্ক বোঝাতে সাহায্য করে।
- এই বাক্যে ‘জন্য’ শব্দটি বিশেষ্য ‘তোমার’-এর পরে বসে উদ্দেশ্য বা সম্পর্ক প্রকাশ করছে, এবং বিভক্তির মতো কাজ করছে, তাই এটি অনুসর্গ।

অন্যদিকে,
• উপসর্গ সাধারণত শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ গঠন করে বা অর্থ পরিবর্তন করে।
- কিন্তু ‘জন্য’ শব্দটি শব্দের পরে বসেছে এবং নতুন শব্দ তৈরি করেনি।
- তাই জন্য শব্দটি উপসর্গ নয়।
• আবার, ধাতু ও প্রকৃতি শব্দ গঠনের মৌলিক অংশ হলেও ‘জন্য’ শব্দটির সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক নেই। 
- তাই জন্য শব্দটি ধাতু বা প্রকৃতি নয়। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ), ৯ম-১০ম শ্রেণি;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৮.
'অপরিচিত’ শব্দে ‘অ’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? 
  1. বিরোধ অর্থে
  2. অভাব অর্থে 
  3. নিকৃষ্ট অর্থে
  4. চিহ্নিত অর্থে
ব্যাখ্যা

‘পরিচিত’ মানে জানা, আর ‘অ’ উপসর্গ যুক্ত হয়ে অপরিচিত শব্দ ‘না-জানা’ বা জানার অভাব অর্থ প্রকাশ করেছে।

• উপসর্গ:
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব অব্যয় শব্দ মূল নাম বা ক্রিয়ার আগে বসে শব্দের অর্থ পরিবর্তন, সম্প্রসারণ বা সংকোচন ঘটায়, সেগুলোকে বাংলা ভাষায় উপসর্গ বলা হয়। 
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, ড. মুহাম্মদ এনামুল হক এবং অশোক মুখোপাধ্যায়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী:
- উপসর্গ বাংলা শব্দ সম্ভারকে সমৃদ্ধ করে;
- এবং ভাষার অর্থগত বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করে।
- উপসর্গের নিজস্ব কোনও অর্থবাচকতা নেই, তবে এটি মূল শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থ প্রকাশ করে।
- উদাহরণস্বরূপ:
• ‘তাপ’ শব্দের সঙ্গে ‘প্র’ বা ‘অনু’ যুক্ত হলে যথাক্রমে প্রতাপ (বীরত্ব, পরাক্রম) এবং অনুতাপ (অনুশোচনা, আফসোস) শব্দ তৈরি হয়। • আবার ‘হার’ শব্দের সঙ্গে ‘উ’, ‘আ’, ‘প্র’, ‘বি’ উপসর্গ যুক্ত হলে যথাক্রমে উপহার, আহার, প্রহার, বিহার তৈরি হয়।
- ‘অপরিচিত’ শব্দে ‘অ’ উপসর্গটি অজানা বা অভাব অর্থ প্রকাশ করেছে।
- যেমন:
• অচেনা (চেনা নয়), 
• অজানা (জানা নয়),
• অকেজো (কাজে লাগেনা)।

উৎস:
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ;  
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৯.
'আছো তুমি প্রভু জগৎ মাঝারে'---এখানে 'মাঝারে' অনুসর্গটির অর্থবোধকতা কী?
  1. ব্যাপ্তি
  2. বাইরে
  3. নিকট
  4. মধ্যে 
ব্যাখ্যা

“আছ তুমি প্রভু জগৎ মাঝারে” বাক্যে ‘মাঝারে’ শব্দটি ব্যাপ্তি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• 'মাঝারে' অনুসর্গটির অর্থবোধকতা:
- এই বাক্যে ‘মাঝারে’ অনুসর্গটি শুধু স্থান নির্দেশ করছে না, বরং বিস্তৃতভাবে জগৎ জুড়ে ব্যাপ্তি বোঝাচ্ছে।
- এটি কেবল ‘জগৎ’ শব্দের মধ্যে বা ভিতরে থাকার অর্থ বোঝায় না, বরং প্রভুর উপস্থিতি এবং ক্ষমতা দ্বারা জগৎকে সর্বত্র পরিবেষ্টিত বা আবৃত করা বোঝায়।
- অর্থাৎ, প্রভু জগৎ জুড়ে বিরাজমান আছেন।
- সাধারণ অর্থে ‘মাঝারে’ মানে ‘মধ্যে’ বা ‘ভিতরে’ বুঝায়।
- যেমন – ‘ঘরে মাঝারে’ মানে ‘ঘরের ভিতরে’।
- কিন্তু এখানে ‘জগৎ মাঝারে’ বলতে বোঝায় জগৎ নামক বিশাল পরিসরের সর্বত্র, অর্থাৎ বিস্তৃত বা ব্যাপক অবস্থান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

২০.
‘ঈষৎ পাংশু বর্ণ’ এর এক কথায় প্রকাশ কোনটি?
  1. অনীল
  2. কবোষ্ণ
  3. কয়রা
  4. আনীল
ব্যাখ্যা

‘ঈষৎ পাংশু বর্ণ’ এর এক কথায় প্রকাশ হচ্ছে কয়রা।

অন্যদিকে:
- অনীল – ঈষৎ নীলাভবিশিষ্ট।
- কবোষ্ণ – ঈষৎ উষ্ণ।
- আনীল – নীলাভ রঙ বা নীলবর্ণ।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশ:
- আজীবন সধবা যে নারী = চিরায়ুষ্মতী;
- উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ধন = রিকথ;
- উটের/হস্তীর শাবক = করভ;
- ঋষির দ্বারা উক্ত(কথিত) = আর্য;
- ঋজুর ভাব = আর্জব;
- ঋতুর সম্বন্ধে = আর্তব;
- কোন বিষয়ে যে শ্রদ্ধা হারিয়েছে = বীতশ্রদ্ধ;
- কনুই থেকে বদ্ধ মুষ্টি পর্যন্ত পরিমাণ = রত্নি;
- কপালে আঁকা তিলক = রসকলি;
- গৃহের প্রধান প্রবেশ পথ = দেহলি, দেউড়ি;
- গর্দভের বাসস্থান = খরশাল;
- গুরুগৃহে বাস = অন্তেবাসী;
- গুরুর পত্নী = গুর্বী;
- গাধার ডাক = রাসভ;
- জানা উচিত = জ্ঞেয়;
- ত্বরায় গমন করে যে = তুরগ;
- তার মত = তাদৃশ;
- তনুর ভাব = তনিমা;
- দৈনন্দিন জীবনের লিখিত বিবরণ = রোজনামচা;
- নিবেদন করা হয় যা = নৈবদ্য।

উৎস:
ভাষা শিক্ষা – হায়াৎ মামুদ;
বাংলা একাডেমি অভিধান।

২১.
বাংলা উপসর্গ নয় কোনটি?
  1. অজ
  2. প্র
  3. ইতি
  4. অঘা
ব্যাখ্যা

বাংলা উপসর্গ নয়- প্র।
- প্র তৎসম উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। 
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
- যেমন: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
• তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- তৎসম উপসর্গ ২০টি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস:
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম (২০১৯ সংস্করণ)।

২২.
‘করাল’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ধীর
  2. সৌম্য
  3. কঠিন
  4. রাজসিক
ব্যাখ্যা

• ‘করাল’ মানে ভয়ঙ্কর, কঠোর বা কঠিনভাবে রাগী।
- এর বিপরীত অর্থ হলো ‘সৌম্য’।
- সৌম্য মানে শান্ত, নম্র বা কোমল।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দসমূহ:
- ধীর ↔ চঞ্চল; 
- কঠিন ↔ সরল; 
- রাজসিক ↔ তামসিক; 
- স্বকীয় ↔ পরকীয়;
- হর্ষ ↔ বিষাদ;
- ক্ষতি ↔ ফায়দা/লাভ;
- ক্ষীয়মান ↔ বর্ধমান;
- সংশয় ↔ প্রত্যয়;
- সাঁঝ ↔ সকাল;
- সান্ত ↔ অনন্ত;
- সত্বর ↔ ধীর;
- সদয় ↔ নির্দয়।

উৎস:
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৩.
‘সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না’ বাক্যে ‘ছাড়া’ কোন পদ?
  1. আবেগ
  2. বিশেষ্য
  3. যোজক
  4. অনুসর্গ 
ব্যাখ্যা

• সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না। — এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
-------------------------- 
• অনুসর্গ:
- অনুসর্গ হলো এমন এক ধরনের অব্যয় যা সাধারণত বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে বসে
- এটি শব্দের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয় না।
- পৃথকভাবে বসে এবং বিভক্তির মতো কাজ করে বাক্যের অর্থকে স্পষ্ট করে। 
- এর মাধ্যমে পদের কারক সম্পর্ক বোঝানো যায়।
- উদাহরণস্বরূপ:
• “আমার জন্য সে অপেক্ষা করল” বাক্যে ‘জন্য’ একটি অনুসর্গ, যা ‘আমার’ পদের পরে বসে সম্পর্ক নির্দেশ করছে।
• “তার দ্বারা কাজটি সম্পন্ন হলো” – এখানে ‘দ্বারা’ অনুসর্গটি ‘তার’ পদের পরে বসে কর্ম নির্দেশ করছে।
• তেমনই, “খাওয়া ছাড়া আর কিছু মনে নেই” বাক্যে ‘ছাড়া’ অনুসর্গটি ‘খাওয়া’ পদের পরে বসে বাক্যের অর্থ সুস্পষ্ট করছে।

- কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ-
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দক্ষিণ, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাদন, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

২৪.
'যে নারীর স্বামী বিদেশে থাকে', তাকে এক কথায় কি বলে?
  1. প্রোষিতভর্তৃকা
  2. নিয়ন্তা 
  3. অবীরা
  4. অনসূয়া
ব্যাখ্যা

‘প্রোষিতভর্তৃকা’ শব্দটি সেই নারীর জন্য ব্যবহৃত হয় যার স্বামী বিদেশে অবস্থান করছেন। 

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশ:
- যে নারী নিয়ন্ত্রণ করে = নিয়ন্তা;
- যে নারীর হিংসা নেই = অনসূয়া;
- যে নারীর স্বামী ও সন্তান নেই = অবীরা;
- যে নারীর স্বামী বর্তমান = সধবা;
- যা পূর্বে শোনা যায় নি=অশ্রুতপূর্ব;
- হিরণ্য (স্বর্ণ) দ্বারা নির্মিত =হিরন্ময়;
- বাতাসে চরে যে=কপোত;
- পূর্ব জন্মের কথা স্মরণ আছে যার=জাতিস্বর;
- সরোবরে জন্মায় যাহা =সরোজ;
- যা পুনঃ পুনঃ জ্বলিতেছে =জাজ্বল্যমান;
- সকলের জন্য প্রযোজ্য =সর্বজনীন;
- সকলের জন্য অনুষ্ঠিত = সার্বজনীন;
- রাত্রির মধ্যভাগ = মহানিশা;
- স্মৃতিশাস্ত্রে পণ্ডিত যিনি = শাস্ত্রজ্ঞ;
- স্মৃতি শাস্ত্র রচনা করেন যিনি = শাস্ত্রকার;
- এখনও শত্রু জন্মায় নাই যার = অজাতশত্রু;
- এখনও গোঁফ-দাড়ি গজায় নাই যাহার = অজাতশ্মশ্রু;
- যে বিষয়ে কোন বিতর্ক নেই = অবিসংবাদী;
- স্ত্রীর বশীভূত = স্ত্রৈণ;
- যে নারীর হাসি সুন্দর = সুহাসিনী;
- যে নারীর হাসি পবিত্র = শুচিস্মিতা;
- যে নারীর স্বামী বর্তমান = সধবা। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৫.
‘কৃত্রিম’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. পার্থিব 
  2. তামসিক
  3. নৈসর্গিক
  4. সাধারণ
ব্যাখ্যা

• ‘কৃত্রিম’ মানে মানুষের তৈরি বা প্রাকৃতিক নয়।
- এর বিপরীত হলো নৈসর্গিক বা প্রাকৃতিক। 

• কিছু বিপরীতার্থক শব্দসমূহ:
- পার্থিব ↔ স্বর্গীয়, অলৌকিক; 
- সাধারণ ↔ অসাধারণ; 
- তামসিক ↔ আলো;
- রাজসিক ↔ সাধারণ;
- ব্যক্ত ↔ গুপ্ত;
- ভূত ↔ ভবিষ্যত;
- মনীষা ↔ নির্বোধ;
- মন্দা ↔ তেজি;
- বন্দি ↔ মুক্ত;
- সিক্ত ↔ শুষ্ক।

উৎস:
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।