পরীক্ষা আর্কাইভ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

পরীক্ষা৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়35 minutes
মোট প্রশ্ন৯৭
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 15” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি - সাবজেক্ট ফাইনাল ও রিভিশন বিষয়ের নাম: বাংলাদেশ বিষয়াবলি⎯১ [১০০ নাম্বার] (টপিকগুলোর বিস্তারিত সিলেবাস বাটনে বা পিএসসির সিলেবাসেই পাবেন।) ১) বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি। ২) বাংলাদেশের কৃষিজ সম্পদ। ৩) বাংলাদেশের অর্থনীতি। ৪) বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ৯৭ প্রশ্ন

.
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ঢাকা 
  2. কুমিল্লা 
  3. চট্টগ্রাম 
  4. গাজীপুর
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ:
- ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গাজীপুরের জয়দেবপুরের জনগণ সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল।
- এটিই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ। 

⇒ ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চে ঢাকা ব্রিগেড হেডকোয়ার্টার থেকে আকস্মিকভাবে পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার জাহান জেবের নেতৃত্বে পাকিস্তানি রেজিমেন্ট জয়দেবপুরের (গাজীপুর) দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার জন্য পৌঁছে যায়।
- এ খবর জানাজানি হতেই বিক্ষুব্ধ জনতা জয়দেবপুরে এক প্রতিরোধ সৃষ্টি করে।
- সশস্ত্র পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করলে অকুস্থলেই শহীদ হন অনেকে।
- এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
জুলাই ঘোষণাপত্রে মোট কয়টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে?
  1. ২৪টি
  2. ২৬টি
  3. ২৮টি
  4. ৩০টি
ব্যাখ্যা

জুলাই ঘোষণাপত্র:
-  ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- অন্যদিকে জুলাই জাতীয় সনদ হলো রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ঐকমত্যের একটি রাজনৈতিক দলিল।
- অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ৫ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে র ‘৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন।

⇒ জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৮টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 
- ২৮ দফা এ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।

উৎস: প্রথম আলো।

.
২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার -
  1. যুক্তরাজ্য
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. জার্মানি
  4. কানাডা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি:
- ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র।
- জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাবে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ২০১টি দেশ ও অঞ্চলে মোট ৪ হাজার ৬৫৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই রপ্তানির প্রায় ১৯ শতাংশের গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয় ৭৫৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারের।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি খাতে ৮.৮৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৯.৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। 

⇒ বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত দেশের তৈরি পোশাকের দেশ ভিত্তিক রপ্তানি হিসাব অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এ খাতের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে অবস্থান করছে। ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের আরএমজি রপ্তানি হয়েছে ১৯.৭১ বিলিয়ন ডলার যা দেশে মোট আরএমজি রপ্তানির ৫০.১০ শতাংশ।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে ৭.৫৪ বিলিয়ন ডলার (১৯.১৮ শতাংশ)।
- কানাডা ও যুক্তরাজ্যে রপ্তানি হয়েছে যথাক্রমে ১.৩০ বিলিয়ন ডলার (৩.৩১ শতাংশ) এবং ৪.৩৫ বিলিয়ন ডলার (১১.০৫ শতাংশ)।

⇒ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ৯.১০ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ১৩.৭৯ শতাংশ এবং কানাডায় ১২.০৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাজ্যে রপ্তানিতে ৩.৬৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
- ইউরোপের মধ্যে জার্মানি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার, যেখানে রপ্তানি হয়েছে ৪.৯৫ বিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে স্পেন (৩.৪০ বিলিয়ন ডলার), ফ্রান্স (২.১৬ বিলিয়ন ডলার), নেদারল্যান্ডস (২.০৯ বিলিয়ন ডলার), পোল্যান্ড (১.৭০ বিলিয়ন ডলার), ইতালি (১.৫৪ বিলিয়ন ডলার) এবং ডেনমার্ক (১.০৪ বিলিয়ন ডলার)।

উৎস: i) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)।
ii) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।
iii) প্রথম আলো।

.
বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় কত? [বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা–২০২৫]
  1. ২৭২৩ মার্কিন ডলার
  2. ২৮২০ মার্কিন ডলার
  3. ২৮২৬ মার্কিন ডলার
  4. ২৮৯০ মার্কিন ডলার
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫:
- বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা: ১৭২.২৮ মিলিয়ন।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১৭১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির স্বাভাবিক হার: ১.১২%।
- পুরুষ: মহিলা = ৯৬.৩: ১০০।
- গড় আয়ু/প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল: ৭২.৩ বছর (পুরুষ: ৭০.৮; নারী: ৭৩.৮)।
- স্থূল জন্মহার (প্রতি ১০০০): ১৯.৪ জন। 
- স্থূল মৃত্যুহার (প্রতি ১০০০): ৬.১ জন।
- মাথাপিছু জাতীয় আয়: ২,৮২০ মার্কিন ডলার।
- মাথাপিছু জিডিপি: ২,৬৭১ মার্কিন ডলার।
- মোট রপ্তানি আয়: ৪৩,৯৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- মোট আমদানি ব্যয়: ৬৪,৩৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার: ৩.৯৭%।
- মূল্যস্ফীতি: ৮.৪৮%।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর+): ৭৭.৯% (পুরুষ: ৮০.১%, মহিলা: ৭৫.৮%)।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫।

.
IDCC-এর তথ্য মতে, ২০৫০ সালের মধ্যেই বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন কত শতাংশ হ্রাস পাবে?
  1. ২০ শতাংশ
  2. ২৫ শতাংশ
  3. ২৮ শতাংশ
  4. ৩০ শতাংশ
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ:
- জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের জিডিপির দুই শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ২১০০ সাল নাগাদ এই হার বৃদ্ধি হবে নয় শতাংশ।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের ১৭ শতাংশ ভূমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং একই সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে দেশের মোট উৎপাদনের ৩০ শতাংশ হ্রাস পাবে।
- লবণাক্ততা ও বন্যার ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে উপকূলীয় অঞ্চল।
- তাছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উৎস: Transparency International Bangladesh ওয়েবসাইট।

.
দেশে কত সালে প্রথম EPZ স্থাপিত হয়?
  1. ১৯৮১ সালে
  2. ১৯৮৩ সালে
  3. ১৯৮৫ সালে
  4. ১৯৮৮ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রথম ইপিজেড:
- দেশে ১৯৮৩ সালে প্রথম EPZ স্থাপিত হয়।

⇒ বাংলাদেশের প্রথম রপ্তানী প্রক্রিয়াকরন অঞ্চল হিসাবে ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রামের হালিশহরে ৪৫৩ একর জায়গার উপর নির্মাণ করা হয় চট্টগ্রাম ইপিজেড।
- এটা সমুদ্র বন্দর থেকে ৩.১০ কিলোমিটার এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে মাত্র ১১.৩০ কিলোমিটার দুরত্বে হওয়ায় শিল্প পার্ক হিসাবে দ্রুত প্রসার লাভ করেছ।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকেই চট্টগ্রামতথা বাংলাদেশের বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে চট্টগ্রাম রপ্তানী প্রক্রিয়াকরন অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
- সম্প্রতি লন্ডন ভিত্তিক FDI ম্যাগাজিনThe Financial Times এর জরিপে চট্টগ্রাম ইপিজেড বিশ্বের ৭০০ টি ইকোনোমিক জোন এর মধ্যে Cost Effective Zone category-তে তৃতীয় স্থান এবং Best Economic Potential 2010-2011 category-তে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে (FDIম্যাগাজিন- জুন/জুলাই’১০ সংস্করণ)।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সরকারি ইপিজেডগুলো হলো:
• চট্টগ্রাম ইপিজেড: ১৯৮৩ সাল,
• ঢাকা: ১৯৯৩ সাল,
• মংলা, খুলনা: ১৯৯৮ সাল,
• কুমিল্লা: ২০০০ সাল,
• উত্তরা, নীলফামারী: ২০০১ সাল,
• ঈশ্বরদী, পাবনা: ২০০১ সাল,
• আদমজী, নারায়ণগঞ্জ: ২০০৬ সাল,
• কর্ণফুলি, চট্টগ্রাম: ২০০৬ সাল।

উৎস: BEPZA ওয়েবসাইট।

.
স্বাধীনতাযুদ্ধে মেজর জিয়াউর রহমান কত নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন?
  1. ১ নং 
  2. ২ নং 
  3. ৮ নং 
  4. ১১ নং 
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
⇒ ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর রফিকুল ইসলাম। 

⇒ ২নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর এটিএম হায়দার।

⇒ ৩নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর কে এম শফিউল্লাহ, মেজর এএনএম নুরুজ্জামান। 

⇒ ৪ নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর চিত্তরাজন দত্ত, ক্যাপ্টেন এ রব।

⇒ ৫নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর মীর শওকত আলী। 

⇒ ৬নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়িমাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
- সেক্টর কমান্ডার: উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার। 

⇒ ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: তরঙ্গপুর।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর নজরুল হক, সুবেদার মেজর এ রব এবং মেজর কাজী নুরুজ্জামান। 

⇒ ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা,
- সদরদপ্তর: কল্যাণী।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর আবু ওসমান চৌধুরী, মেজর এম এ মঞ্জুর।

⇒ ৯নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বশিরহাট।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর এম জলিল, মেজর এম এ মঞ্জুর এবং মেজর জয়নাল আবেদীন।

⇒ ১০নং সেক্টর: সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল।

⇒ ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর এম আবু তাহের।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

.
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের আওতাধীন, বাংলাদেশে বর্তমানে কয়টি চিনিকল আছে? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. ১৫টি
  2. ১৬টি
  3. ১৮টি
  4. ২১টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন (BSFIC):
- BSFIC-এর পুর্ণ রূপ: Bangladesh Sugar and Food Industries Corporation.
- বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রপতির ২৭ (১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির ২৭ নম্বর আদেশ) নম্বর আদেশক্রমে গঠিত বাংলাদেশ সুগার মিলস্ করপোরেশন এবং বাংলাদেশ ফুড অ্যান্ড অ্যালাইড ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন নামক করপোরেশন দুটি একীভূত করে ১৯৭৬ সালের ১ জুলাই হতে রাষ্ট্রপতির ২৫ নং আদেশবলে (সংশোধিত) বাংলাদেশ সুগার অ্যান্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (BSFIC) গঠিত হয়।
- বাংলাদেশ শিল্প প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী বিএসএফআইসি শিল্পমন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে।
- বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের আওতাধীন, বাংলাদেশে বর্তমানে ১৫টি চিনিকল রয়েছে।
- ২০২৪-২০২৫ মাড়াই মৌসুমে ৯ টি চিনিকলের মাড়াই কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

⇒ করপোরেশনের আওত্তাধীন চিনিকলসমূহ:
- পঞ্চগড় সুগার মিলস লি:
- ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস লি:
- শ্যামপুর সুগার মিলস লি:
- জয়পুরহাঁট সুগার মিলস লি:
- সেতাবগঞ্জ সুগার মিলস লি:
- রংপুর সুগার মিলস লি:
- ফরিদপুর সুগার মিলস লি:
- নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস লি:
- কেরু এন্ড কোং (বিডি) লি:
- পাবনা সুগার মিলস লি:
- রাজশাহী সুগার মিলস লি:
- নাটোর সুগার মিলস লি:
- জিল বাংলা সুগার মিলস লি:
- কুষ্টিয়া সুগার মিলস লি:
- মোবারকগঞ্জ সুগার মিলস লি:।

উৎস: i) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫।
ii) বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।

.
'বাংলামতি' কোন ফসলের উন্নত জাত?
  1. ধান
  2. গম
  3. ভুট্টা
  4. তামাক
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত:
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত উন্নত জাতের ফসল:
• উন্নত জাতের ধান: ইরাটম, বাংলামতি, ব্রিশাইল, চান্দিনা, হীরা, মালা, বিপ্লব, কিরণ, দুলাভোগ, দিশারী, মোহিনী, সুফলা, আশা, শ্রাবণী, প্রগতি, মুক্তা, ময়না, গাজী, শাহীবালাম, শাহজালাল। 
• উন্নত জাতের গম: সোনালিকা, বলাকা, দোয়েল, অগ্রণী, আনন্দ, কাঞ্চন, শতাব্দী ও আকবর।
• উন্নত জাতের তামাক: সুমাত্রা ও ম্যানিলা।
• উন্নত জাতের ভুট্টা: বর্ণালী, শুভ্রা, মোহর ও উত্তরণ।
• উন্নত জাতের আম: মহানন্দা, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হাড়িভাঙ্গা, ক্ষীরসাপাতি ও মােহনভােগ।
• উন্নত জাতের টমেটো: বাহার, মানিক, রতন, অপূর্ব, মিন্টো, ঝুমকা, সিঁদুর, শ্রাবণী।
• উন্নত জাতের মরিচ: বাইন, যমুনা, বালিজুরি, সূর্যমুখী, চৌরা, বারিমরিচ, বাগুরা।
• উন্নত জাতের বেগুন: শুকতারা, নয়নতারা, তারাপুরী, ইসলামপুরী, কাজলা, বিজয়, মুক্তকেশী, ঝুমকো।
• উন্নত জাতের আলু: হিরা, আইলসা, পেট্রোনিস, মুল্টা, ডায়ামন্ট, কার্ডিনাল, মন্ডিয়াল, কুফরী সিন্দুরী, চমক, ধীরা, গ্রানোলা, ক্লিওপেট্রা ও চিনেলা।
• উন্নত জাতের তুলা: সিবি-১০, রূপালী, ডেলফোজ।
• উন্নত জাতের আনারস: জায়ান্ট কিউ, হানি কুইন, ঘোড়াশাল, জলঢুপি।
• উন্নত জাতের হলুদ: ডিমলা, পাটনাই, খোচামুদি, দেবিপাট। 
• উন্নত জাতের কলা: চিনি চম্পা, সবরি, কবরী, অগ্নীশ্বর, কানাই খালি, মোহনবাশি, গানা সুন্দরী, মেহের সাগর, জাহাজি, অমৃতসাগর, সিঙ্গাপুরী, জাপকাঠালী, বীটজবা।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।

১০.
পাল শাসনামলে সংঘটিত কৈবর্ত বিদ্রোহের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
  1. ভীম
  2. দিব্য
  3. হরি
  4. মহীপাল
ব্যাখ্যা

কৈবর্ত বিদ্রোহ:
- কৈবর্ত বিদ্রোহকে বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশ এমনকি ভারতবর্ষের প্রথম সফল জনবিদ্রোহ।
- বরেন্দ্র বিদ্রোহ নামেও অভিহিত করা হয় একে।
- এ সময় পাল বংশের রাজা ছিলেন দ্বিতীয় মহীপাল, যাঁর রাজত্বকাল ধারণা করা হয় ১০৭৫ সাল থেকে ১০৮০ সালের মধ্যে।
- এই বিদ্রোহের নেতা ছিলেন দিব্যক বা দিব্য।
- তিনি খুব সম্ভব প্রথম দিকে পালদের একজন রাজকর্মচারী কিংবা সামন্ত ছিলেন।
- কৈবর্তদের একত্রিত করে একটি শক্তিশালী বাহিনী তৈরি করেন তিনি।
- কৈবর্ত বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয় ধর্মীয় কারণকে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
বলেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে নিচের কোন জনপদটি ছিল?
  1. পুণ্ড্র
  2. বঙ্গ
  3. গৌড়
  4. চন্দ্রদ্বীপ
ব্যাখ্যা

চন্দ্রদ্বীপ:
- বর্তমান বরিশাল জেলা ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখন্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- এ প্রাচীন জনপদটি বলেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।
- চন্দ্রদ্বীপ নামের আগে এ অঞ্চলটির নাম ছিল ‘বাকলা’। 
- চন্দ্রদ্বীপের রাজধানী ছিল কচুয়া।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১২.
কত সালে সর্বপ্রথম 'জাতীয় কৃষি নীতি' প্রণয়ন করা হয়েছিল?
  1. ১৯৯৭ সালে
  2. ১৯৯৮ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা

প্রথম 'জাতীয় কৃষি নীতি':
- বাংলাদেশে সর্বপ্রথম 'জাতীয় কৃষি নীতি' প্রণয়ন করা হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। 

⇒ কৃষি খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি।
- খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ, শিল্পের কাঁচামাল যোগান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ইত্যাদি ভূমিকায় কৃষি খাতের গুরুত্ব অপরিসীম।
- আর কৃষি নির্ভর বাংলাদেশের অগ্রগতি অনেকটা নির্ভরশীল এ দেশের কৃষক সমাজের সাফল্যের উপর। 
- কৃষক সমাজের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে যুগোপযোগী একটি কৃষি নীতি অপরিহার্য।
- সরকার কৃষক ও কৃষির সার্বিক কল্যাণে দীর্ঘ-মেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে 'জাতীয় কৃষি নীতি ১৯৯৯' প্রণয়ন করেছিল। 
- ফলে কৃষিতে সাফল্য দৃশ্যমান হতে শুরু হয় এবং দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায়।

⇒ পরবর্তীকালে সরকারের লক্ষ্য ও উন্নয়ন কৌশল অনুসরণে 'জাতীয় কৃষি নীতি ১৯৯৯' পরিমার্জন ও সংশোধনপূর্বক 'জাতীয় কৃষি নীতি ২০১৩' প্রণয়ন করা হয় এবং এর আলোকে গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- কৃষি নীতির মূল লক্ষ্য হলো কৃষিতে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অধিক উৎপাদনশীল ও ঘাত সহিষ্ণু জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং এগুলো প্রসারের মাধ্যমে টেকসই খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ কৃষি বাণিজ্যিকীকরণ। এ লক্ষ্যে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট, রূপকল্প ২০৪১ ইত্যাদি অনুসরণে সরকারের লক্ষ্য ও উন্নয়ন কৌশল এবং 'জাতীয় কৃষি নীতি ২০১৩' পর্যালোচনাপর্বক 'জাতীয় কষি নীতি ২০১৮' প্রণয়ন করা হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
ii) কৃষি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

১৩.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ অনুসারে, মোট দেশজ উৎপাদনে অর্থনীতির খাতসমূহের কোন অংশের অবদান সর্বাধিক?
  1. কৃষি ও বনজ
  2. শিল্প ও বাণিজ্য
  3. মৎস্য সম্পদ
  4. সেবা
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ অনুসারে, মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপিতে) অর্থনীতির খাতসমূহের সেবা খাতের অবদান সর্বাধিক।

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ অনুসারে,
⇒ বিভিন্ন খাতে মোট শ্রমশক্তির হার:
- কৃষি: ৪৪.৬৭%, 
- শিল্প: ১৭.৩৭%, 
- সেবা: ৩৭.৯৬%।

⇒ জিডিপিতে বিভিন্ন খাতে অবদান -
- কৃষি: ১০.৯৪%।
- শিল্প: ৩৭.৪৪%।
- সেবা: ৫১.৬২%।

⇒ খাত ভিত্তিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার (স্থির মূল্যে):
- কৃষি: ১.৭৯%
- শিল্প: ৪.৩৪%
- সেবা: ৪.৫১%

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫।

১৪.
কত তারিখে শহীদ শফিউরের পিতা প্রথম শহীদ মিনারের অনানুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছিলেন?
  1. ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  2. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  3. ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  4. ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
ব্যাখ্যা

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার:
- শহীদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।

⇒ প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল অতিদ্রুত এবং নিতান্ত অপরিকল্পিতভাবে।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে। শহীদ মিনারটি ছিল ১০ ফুট উচ্চ ও ৬ ফুট চওড়া। মিনার তৈরির তদারকিতে ছিলেন জিএস শরফুদ্দিন (ইঞ্জিনিয়ার শরফুদ্দিন নামে পরিচিত), ডিজাইন করেছিলেন বদরুল আলম। সাথে ছিলেন সাঈদ হায়দার।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে, ২২ ফেব্রুয়ারির শহীদ শফিউরের পিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে দশটার দিকে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন আজাদ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন।
- উদ্বোধনের দিন অর্থাৎ ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।

⇒ বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়। এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে। বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারের স্থপতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন। তাঁরই রূপকল্পনা অনুসারে নভেম্বর, ১৯৫৭ সালে তিনি ও নভেরা আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশোধিত আকারে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ কাজ শুরু হয়। ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৫.
MFS-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Mobile Finance System
  2. Mobile Finance Finance
  3. Mobile Financial Services
  4. Mobile Fiscal Service
ব্যাখ্যা

MFS:
- MFS-এর পূর্ণরূপ: Mobile Financial Services.
- MFS হচ্ছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন সেবা। 
- মোবাইল নম্বরের বিপরীতে অর্থ লেনদেনের জন্য যে একাউন্ট খোলা হয় তাই MFS হিসাব, যেখানে গ্রাহকের টাকা ইলেকট্রনিক উপায়ে জমা থাকে।
- এটা গ্রাহ কদেরকে ব্যাংকিং কার্যক্রমের সাথে মোবাইল নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে সেবা দিয়ে থাকে।
- একজন মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী ব্যাংকে না গিয়ে বাড়িতে বসে প্রয়োজনীয় আর্থিক লেনদেন সম্পাদন করতে পারেন।
- বাংলাদেশে অনেক মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেমন, বিকাশ, নগদ, উপায়, রকেট, বিনিময় ইত্যাদি।

⇒ এই সেবার মাধ্যমে নিজের MFS একাউন্টে নগদ টাকা জমা করা যায়।
- নিজের একাউন্ট হতে অন্যের MFS একাউন্টে টাকা পাঠানো যায়।
- MFS একাউন্টে জমানো টাকা দিয়ে যে কোন পণ্য ও সেবা কেনাকাটা করা যায়; বিদ্যুৎ গ্যাস পানির বিল, টিউশান ফি ইত্যাদি পরিশোধ করা যায় এবং প্রয়োজনে MFS একাউন্টে জমাকৃত টাকা তোলা যায়।

উৎস: i) Bangladesh Bank.
ii) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।

১৬.
বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান খাত কয়টি? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. ১৫টি
  2. ১৮টি
  3. ১৯টি
  4. ২১টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে জাতীয় আয় পরিমাপ পদ্ধতি:
- বাংলাদেশে জাতীয় আয় গণনার কাজটি করে থাকে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। এই প্রতিষ্ঠান প্রত্যেক বছর চলতি বাজার মূল্যে ও স্থির মূল্যে দ্রব্য ও সেবার মূল্য পরিমাপ করে থাকে। এ হিসাব করার জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে।
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো GDP ও GNI গণনা করার জন্য উৎপাদন ও ব্যয় পদ্ধতি ব্যবহার করে।

⇒ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) উৎপাদন পদ্ধতিতে GDP পরিমাপের জন্য অর্থনীতিকে মোট ১৯টি প্রধান খাতে বিভক্ত করেছে। খাতসমূহ হচ্ছে:
১। কৃষি ও বনজ এবং মৎস্য সম্পদ (উপখাত - ৪টি)।
২। খনিজ ও খনন (গ্যাস, তেল ইত্যাদি) (উপখাত - ২টি)।
৩। ম্যানুফ্যাকচারিং (উপখাত - ৩টি)।
৪। বিদ্যুৎ, গ্যাস, বাষ্প এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (উপখাত - ২টি)।
৫। পানি সরবরাহ, পয়নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পুর্নব্যবহার কার্যক্রম।
৬। নির্মাণ।
৭। পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য, যানবাহন ও মোটরসাইকেল মেরামত।
৮। পরিবহণ এবং সংরক্ষণ (উপখাত - ৫টি)।
৯। আবাসন এবং খাদ্য পরিবেশন কার্যক্রম।
১০। তথ্য ও যোগাযোগ।
১১। আর্থিক এবং বীমা কার্যক্রম (উপখাত-৩টি)।
১২। রিয়েল এস্টেট কার্যক্রম।
১৩। পেশাদার, বৈজ্ঞানিক এবং প্রযুক্তিগত কার্যক্রম।
১৪। প্রশাসনিক ও সহায়তামূক পরিষেবা কার্যক্রম।
১৫। জনপ্রশাসন ও প্রতিরক্ষা।
১৬। শিক্ষা।
১৭। মানবস্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা কার্যক্রম।
১৮। শিল্পকলা ও বিনোদন।
১৯। অন্যান্য সেবা কার্যক্রম।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ওয়েবসাইট।

১৭.
পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ব্যবহারের দাবি করেন কে?
  1. ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ  
  2. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ড. কুদরাত-এ খুদা
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- পাকিস্তান গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে অন্যতম ভাষা হিসেবে প্রস্তাব করেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।

⇒ ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের করাচিতে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়।
- এই অধিবেশনে বিরোধী দল দুটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন।"
- "প্রথম প্রস্তাবটিতে বৎসরে অন্তত একবার ঢাকায় পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠানের দাবি জানানো হয়। দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ছিল ভাষা বিষয়ক। এটিতে উর্দু ও ইংরেজির সাথে বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহার করার দাবি উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন পূর্ব বাঙলার প্রতিনিধি ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।"
- পরে বিভিন্ন পর্যায়ে মি. দত্ত মোট তিনটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন গণপরিষদে, যার প্রতিটিতেই বাংলাকে সরকারি ভাষা করার প্রস্তাব ছিল।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের প্রস্তাবটি উত্থাপনের একদিন পর ২৫শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদে তুমুল বিতর্ক হয়। প্রস্তাবটির তীব্র বিরোধিতা করেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান।
- মি. দত্তের প্রস্তাবটিই ছিল বাংলাকে সরকারি ভাষা হিসেবে গ্রহণের জন্য প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব।
- পরে পাকিস্তানের শাসকরা ১৯৫৬ সালে দেশটির প্রথম শাসনতন্ত্রে উর্দুর সাথে বাংলাকেও সরকারি ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য হয়েছিলো, যার মাধ্যমে বাংলা সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলো।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC.

১৮.
বর্তমানে বিসিআইসি’র অধীনে কয়টি চালু সার কারখানা রয়েছে? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি):
- বর্তমানে বিসিআইসি’র অধীনে ১১টি চালু শিল্প কারখানা রয়েছে, তার মধ্যে ৭টি সার কারখানা রয়েছে। 

⇒ চালু কারখানাগুলোর মধ্যে:
• ইউরিয়া সার কারখানা: ৫টি (চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরী লিমিটেড, যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেড,আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার এ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানী লিঃ, শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিঃ,ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী )।
• ডিএপি সার কারখানা: ১টি (ডিএপি ফার্টিলাইজার কোং লিঃ)।
• টিএসপি সার কারখানা: ১টি (টিএসপি কমপ্লেক্স লিঃ)।
• কাগজ কারখানা: ১টি (কর্ণফুলী পেপার মিলস্ লিঃ)।
• সিমেন্ট কারখানা: ১টি (ছাতক সিমেন্ট কোম্পানী লিঃ)।
• গ্লাসশীট কারখানা: ১টি (উসমানিয়া গ্লাসশীট ফ্যাক্টরী লিঃ)।
• স্যানিটারীওয়্যার ইস্যুলেটর কারখানা: ১টি (বাংলাদেশ ইস্যুলেটর এন্ড স্যানিটারীওয়্যার ফ্যাক্টরী লিঃ)।

এছাড়া,
- বিসিআইসি’র উৎপাদিত  পন্যের মধ্যে ৮০% রাসায়নিক সার ; এর মধ্যে ৭০% ইউরিয়া সার ও ১০% অন্যান্য সার। তাছাড়া যৌথ অংশীদারিত্বে ১০টি কারখানা রয়েছে। উল্লেখ্য যে, ১৯৯৬-৯৭ সাল থেকে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে সারা দেশে কৃষকদের মাঝে সার বিতরনের মত স্পর্শকাতর বিষয়টি বিসিআইসি’র উপর ন্যাস্ত হয়। বিসিআইসি অত্যন্ত আস্তা এবং সফলতার সাথে এই গুরু দয়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

উৎস: BCIC ওয়েবসাইট।

১৯.
বিদেশে অবস্থানরত দেশি জনগণের আয় কোনটির অন্তর্ভুক্ত হবে?
  1. GDP
  2. NNP
  3. GNP
  4. GNI
ব্যাখ্যা

মোট জাতীয় উৎপাদন (Gross national income or GNP):
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত এক বছরে একটি দেশের জনগণ যে পরিমাণ বস্তুগত ও অবস্তুগত চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার সমষ্টিকে মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP) বলে।
- একটি দেশের জনগণ দেশের ভেতরে ও দেশের বাহিরে অবস্থান করে উৎপাদন কাজ করতে পারে।
- তাই বিদেশে অবস্থানরত দেশীয় নাগরিকদের অর্জিত আয় GNP-তে অন্তর্ভূক্ত হয়।

⇒ দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত পণ্য ও সেবা বিদেশে বিক্রয় তা হল রপ্তানী আর বিদেশে উৎপাদিত পণ্য ও সেবা দেশের অভ্যন্তরে বিক্রয় তা হল আমদানি।
- এ রপ্তানি ও আমদানির ব্যবধানকে নীট রপ্তানি আয় বলে।
- অতএব একটি দেশের সব নাগরিকদের মোট ভোগ ব্যয়, মোট বিনিয়োগ ব্যয়, মোট সরকারি ব্যয় এবং নীট রপ্তানি আয়ের সমষ্টিকে মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP) বলা হয় ।

অন্যদিকে -
⇒ মোট দেশজ উৎপাদন (Gross Domestic Product or GDP):
- GDP হলো একটি দেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সীমারেখার মধ্যে দেশে অবস্থিত সকল ব্যক্তিবর্গ (দেশি ও বিদেশি) প্রাপ্ত সম্পদ ব্যবহার করে যে পরিমাণ দ্রব্য ও সেবাসামগ্রী উৎপাদন করে তার আর্থিক মূল্য।

⇒ নীট জাতীয় উৎপাদন (Net National Prduct or NNP):
- NNP হলো মোট জাতীয় উৎপাদন থেকে মূলধনের অবচয়জনিত ব্যয় বাদ দিলে পাওয়া যায় নীট জাতীয় উৎপাদন।
- মোট জাতীয় উৎপাদন করতে সারা বছর ধরে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হয়।
- ফলে যন্ত্রপাতির অবচয়জনিত কারণে প্রকৃত মূল্য হ্রাস পেতে থাকে।
- দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বজায় রাখতে হলে মোট জাতীয় উৎপাদনের কিছু অংশ মূলধনের ক্ষয়ক্ষতি পূরণের জন্য কর্তন করতে হয়।
- একে মূলধনের অবচয়জনিত ব্যয় বলে । সুতরাং,
নীট জাতীয় উৎপাদন = মোট জাতীয় উৎপাদন – মূলধনের অবচয়জনিত ব্যয়

⇒ নীট দেশজ উৎপাদন (Net Domestic Product or NDP):
- NDP হলো নীট দেশজ উৎপাদন মোট দেশজ উৎপাদনের একটি অংশ।
- মোট দেশজ উৎপাদন থেকে মূলধনের বাদ দিলে যা পাওয়া যায় তা হলো নীট দেশজ উৎপাদন ।

উৎস: i) অর্থনীতি, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০.
বাংলাদেশের কৃষির কয়টি উপখাত রয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

কৃষির উপখাত:
- বাংলাদেশের কৃষির ৪টি উপখাত রয়েছে। যথা:
• শস্য ও শাকসবজি,
• প্রাণি সম্পদ,
• বনজ সম্পদ,
• মৎস সম্পদ।

⇒ শস্য ও শাক-সবজি (Crops and vegetables):
- এটি বাংলাদেশের কৃষির সর্ববৃহৎ উপখাত।
- এ খাতে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য শস্য যেমন ধান, গম, ভুট্টা, ডাল, তৈলবীজ, বাদাম, পিয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ এবং বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি যেমন লাল শাক, পালং শাক, পটল, ঢেরস, করলা, লাউ, বেগুন, শসা, টমেটো, কপি ইত্যাদি উৎপাদিত হয়।
- তাছাড়া এ উপখাতে বিভিন্ন ধরনেরর অর্থকারী ফসল যেমন পাট, চা, আখ, তামাক, রেশম, তুলা, রবার ইত্যাদি উৎপাদিত হয়।

⇒ প্রাণিসম্পদ (Livestock):
- গৃহে পালিত নানাজাতীয় পশু-পাখি নিয়েই বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ উপখাত গঠিত।
- গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, ঘোড়া, হাঁস-মুরগি, কবুতর প্রভৃতি এদেশের প্রাণিসম্পদের অন্তর্ভূক্ত।
- প্রাণি সম্পদ থেকে প্রাপ্ত মাংস, দুধ, ডিম, ইত্যাদি মানব দেহের অত্যাবশ্যকীয় প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করে।
- তাছাড়া চাষাবাদ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, চামড়া ও চমড়া জাতীয় দ্রব্যদি উৎপাদন ও রপ্তানিতে এ উপখাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

⇒ বনজ সম্পদ (Forest Resources):
- এটি আমাদের কৃষির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপখাত।
- বাংলাদেশের মোট ভূখন্ডের শতকরা প্রায় ১৭ ভাগ জুড়ে বন রয়েছে।
- বনে সুন্দরি, গড়ান, গেওয়া, কেওড়া, শাল, গর্জন, গামাড়ি, গোলপাতা প্রভৃতি গাছ জন্মে।
- এগুলো থেকে দেশের কাঠের চাহিদার সিংহভাগ পূরণ হয় এবং কয়েকটি শিল্পের কাঁচামালের যোগান আসে।
- জ্বালানি কাঠ, বাঁশ, বেত, মোম, মধু, বিভিন্ন ধরনের ফলমূল, ইত্যাদি এ উপখাত থেকে পাওয়া যায়।

⇒ মৎস্য সম্পদ (Fisheries):
- বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৎস্য সম্পদের বিপুল সম্ভাবনা থাকায় বাংলাদেশ সরকার একে একটি পৃথক খাত হিসেবে গণ্য করেছে।
- তবে সার্বিক বিবেচনায় এ খাতও কৃষিখাতের অন্তর্ভূক্ত।
- বাংলাদেশের অসংখ্য নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়।
- এছাড়াও দেশের সামুদ্রিক মৎস্য ক্ষেত্রগুলো থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাছ আহরিত হয়।

উৎস: অর্থনীতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১.
বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা গৃহীত হয় কবে?
  1. ১৮৫৩ সালে
  2. ১৮৫৭ সালে
  3. ১৯০৩ সালে
  4. ১৯০৫ সালে
ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গ:
- বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ। ইংরেজদের ভাগ কর ও শাসন কর (Divide and Rule)-এর আকাঙ্ক্ষা বরাবরই ছিল। এখানে অভিজাত হিন্দুদের প্রতি বঞ্চিত মুসলমানের মধ্যে যে অবিশ্বাস ছিল সেটাকে কাজে লাগিয়ে বঙ্গভঙ্গ উদ্যোগ নেয় ইংরেজ শাসকেরা। হিন্দুদের বড়ো অংশ বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে এবং মুসলমানদের বড়ো অংশ বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন করে। এই প্রচেষ্টা বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক অস্বস্তি ও অবিশ্বাসকে রাজনৈতিকভাবে সামনে নিয়ে আসে।

⇒ ভারতের বড় লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- ভাগ হবার পূর্বে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও আসামের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল বাংলা প্রদেশ বা বাংলা প্রেসিডেন্সি।
- বঙ্গভঙ্গের এই পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছিল।
- বাংলা প্রেসিডেন্সির আয়তন অনেক বড় হওয়ার কারণে ১৮৫৩ থেকে ১৯০৩ সাল পর্যন্ত এর সীমানা পুনর্বিন্যাসের অনেক প্রস্তাব ব্রিটিশ সরকারি মহলে উপস্থাপন করা হয়।
- প্রকৃতপক্ষে ১৯০৩ সালে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা গৃহীত হয়।
- ১৯০৪ সালে ভারত সচিব এটি অনুমোদন করেন এবং ১৯০৫ সালের জুলাই মাসে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়। সে বছর অক্টোবরে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।
- এই পরিকল্পনায় বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী এবং ভারতের আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ। প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা।
- অপরপক্ষে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী হয় কোলকাতা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম- ১০ম শ্রেণি। 

২২.
বর্তমানে দেশের চাহিদার কত শতাংশ ঔষধ দেশে উৎপাদিত হয়? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. প্রায় ৮৪%
  2. প্রায় ৮৮%
  3. প্রায় ৯২%
  4. প্রায় ৯৮%
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ঔষধ শিল্প:
- বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প যাত্রা শুরু করে ১৯৫০-এর দশকে।
- ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর এটি আরও বৃদ্ধি পায়।
- প্রাথমিকভাবে দেশের ২০ শতাংশ চাহিদা মাত্র পূরণ করতে পারতো, বাকি ৮০ শতাংশ আমদানি করা হতো।
- বর্তমানে দেশের চাহিদার প্রায় ৯৮% ঔষধ দেশে উৎপাদিত হয়
- দেশে বর্তমানে ২৮৪টি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি নিবন্ধিত, যার মধ্যে ২২৯টি সক্রিয়ভাবে উৎপাদনে রয়েছে।
- এ বাজারের প্রায় ৭১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে শীর্ষ ১০টি কোম্পানি।
- এর মধ্যে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইনসেপ্টা, বেক্সিমকো, রেনাটা, অপসনিন, এসকেয়ার, হেলথকেয়ার অন্যতম। বড় কোম্পানিগুলো আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণায় বিনিয়োগ এবং বিস্তৃত বিতরণ কাঠামোর মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে।

⇒ বাংলাদেশে ১৯৮২ সালে ড্রাগ অর্ডিন্যান্স জারি হওয়ার পর প্রথম বারের মতো ঔষধ বা ফার্মাসিউটিক্যালসকে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
-  এতে বহুজাতিক কোম্পানির একচেটিয়া দাপট কমে আসে, গুণগত মান ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশীয় কোম্পানিগুলো ধীরে ধীরে আস্থা অর্জন করতে থাকে।
- বাংলাদেশ থেকে ওষুধ রপ্তানি শুরু হয় ১৯৮৫ সালে।
- বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৫৭ টিরও বেশি দেশে ঔষধ রপ্তানি করছি।
- বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানির শীর্ষ ১০টি গন্তব্য হলো– মিয়ানমার, যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, কেনিয়া, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও নেপাল।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, ২০১০ সালে ওষুধশিল্পের বাজার ছিল প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার, যা ২০২৪ সালে পৌঁছেছে সাড়ে ৪২ হাজার কোটিতে, ইউএস ডলারে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন। গত এক দশকে এই খাতের গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১০-১৪ শতাংশ।

উৎস: i) MedEx.
ii) বণিক বার্তা।

২৩.
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুসারে, রেমিট্যান্স প্রেরণে শীর্ষ দেশ - [ডিসেম্বর, ২০২৫] 
  1. সংযুক্ত আরব আমিরাত
  2. যুক্তরাজ্য
  3. সৌদি আরব
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুসারে রেমিট্যান্স প্রাপ্তি:
- বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, গত জুলাই-নভেম্বর সময়ে সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ ২০৫ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। যুক্তরাজ্য থেকে ১৬৭ কোটি, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে ১৫৮ কোটি, মালয়েশিয়া থেকে ১৪৩ কোটি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১০৩ কোটি ডলার এসেছে। একই সময়ে ইতালি থেকে ৮৩ কোটি, ওমান থেকে ৭৭ কোটি, কুয়েত থেকে ৬৪ কোটি, কাতার থেকে ৫৯ কোটি ও সিঙ্গাপুর থেকে ৫৫ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে।
- সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি কাজ করেন সৌদি আরবে।
- ইউএই, কুয়েত, ওমান, কাতার, বাহরাইন, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশেও প্রচুর বাংলাদেশি কর্মী গেছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে গেছেন শিক্ষার্থী ও দক্ষ পেশাজীবীরা।

রেমিট্যান্স প্রেরণে শীর্ষ দেশ:
১. সৌদি আরব, 
২. সংযুক্ত আরব আমিরাত, 
৩. যুক্তরাজ্য,  
৪. মালয়েশিয়া,
৫.  যুক্তরাষ্ট্র।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট।  [link]

২৪.
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের কয়টি গ্যাস​ক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলিত হচ্ছে? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. ২০টি
  2. ২১টি
  3. ২২টি
  4. ২৫টি
ব্যাখ্যা

গ্যাসক্ষেত্র:
- পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ২৯টি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে, এর মধ্যে উৎপাদনে আছে ২০টি।
- উত্তোলন শুরু হয়নি ৪টি। সেগুলো হলো: ভোলার ইলিশা ও ভোলা নর্থ, সিলেটের জকিগঞ্জ এবং কুতুবদিয়া।
- উত্তোলনযোগ্য গ্যাস শেষ ৫টি। খনিগুলো হলো: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, সিলেটের ছাতক, গাজীপুরের কামতা, ফেনী ও সাংগু (চট্টগ্রাম)।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালের ১ জুলাইয়ের হিসাবে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাসে অবশিষ্ট মজুত আছে প্রায় ২ টিসিএফ। হবিগঞ্জের বিবিয়ানায় আছে ১ দশমিক ৬৬ টিসিএফ। সিলেটের মৌলভীবাজারে আছে প্রায় ২০ বিসিএফ (বিলিয়ন বা শতকোটি ঘনফুট) গ্যাস। ৭০০ বিসিএফের কম মজুত আছে জালালাবাদে। সিলেটের বাখরাবাদ, কৈলাসটিলা, রশিদপুরসহ বাকি গ্যাসগুলোতেও মোটামুটি পরিমাণে গ্যাসের মজুত আছে।
- বর্তমানে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে দিনে ১৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়।
এছাড়া,
- দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৯৬২ সালে। সর্বশেষ বড় গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল ১৯৯৮ সালে, সেটি সিলেটের বিবিয়ানা। বিবিয়ানা থেকেই এখন সবচেয়ে বেশি গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। এরপর আর কোনো বড় গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ ২০২১ সালে সিলেটের জকিগঞ্জে একটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। যদিও সেখানে মজুত মাত্র ৫২ বিসিএফ।

উৎস: প্রথম আলো।

২৫.
‘তমদ্দুন মজলিশ’ সাংস্কৃতিক সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2.  ড. মুহাম্মদ এনামুল হক
  3. ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ
  4. অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিশ:
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- এটিই ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।

⇒ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিস"।
- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর নতুন বাস্তবতায় তমদ্দুন মজলিস কেবল বাংলা ভাষায়ই নয়, বরং একটা সার্বিক জীবন ব্যবস্থা ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা সম্পর্কে পরিচ্ছন্ন ভাষায় একটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছিলো।
- তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে অধ্যাপক আবুল কাশেম সম্পাদিত একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- তমদ্দুন মজলিসের নেতৃত্বেই ১৯৪৭ সালের পহেলা অক্টোবর প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- ১৯৪৮ সালের দোসরা মার্চ তমদ্দুন মজলিশসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের যৌথসভায় শামসুল আলমকে আহ্বায়ক করে 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্ম পরিষদ' নামে নতুন কমিটি হয়েছিলো।

উৎস: i) ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

২৬.
BIDS-এর প্রধান কার্যালয় কোথায় অবস্থিত?
  1. আগারগাঁও, ঢাকা
  2. মিরপুর, ঢাকা
  3. মতিঝিল, ঢাকা
  4. সেগুনবাগিচা, ঢাকা
ব্যাখ্যা

BIDS:
- BIDS-এর পূর্ণরূপ: Bangladesh Institute of Development Studies বা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত পাবলিক মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি সংস্থা যা বাংলাদেশ এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলির মুখোমুখি উন্নয়ন সমস্যাগুলির উপর নীতি-ভিত্তিক গবেষণা পরিচালনা করে।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: জুন, ১৯৪৭ সাল (পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক্স (পিআইডিই) নামে)।
- প্রধান কার্যালয়: আগারগাঁও , ঢাকা।

উলেখ্য,
- ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর, ইনস্টিটিউটটির নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ উন্নয়ন অর্থনীতি ইনস্টিটিউট (BIDE)।
- পরবর্তীতে, ১৯৭৪ সালে একটি সংসদীয় সনদ প্রদান করা হয় এবং উন্নয়ন গবেষণার বহুমুখী কেন্দ্রবিন্দু প্রতিফলিত করার জন্য ইনস্টিটিউটটির নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ উন্নয়ন অধ্যয়ন ইনস্টিটিউট (BIDS)। 

⇒ লক্ষ্য: নির্ভরযোগ্য গবেষণা পরিচালনা, নীতি সংলাপ প্রচার, নীতিগত বিকল্পগুলি প্রচার এবং তথ্যবহুল নীতি নির্ধারণের জন্য জোট তৈরির মাধ্যমে উন্নয়ন সমাধানগুলিতে শেখার সুবিধা প্রদান করা।
- ইনস্টিটিউট গবেষণা পদ্ধতির উপর প্রশিক্ষণও পরিচালনা করে এবং উন্নয়নমূলক হস্তক্ষেপের মূল্যায়নও করে।
- এই লক্ষ্যে, বিআইডিএস বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাগুলির উপর বিশ্লেষণাত্মক এবং নীতিনির্ধারিত গবেষণা পরিচালনার জন্য আর্থ-সামাজিক তথ্য সংগ্রহ এবং তৈরিতে জড়িত এবং নীতি নির্ধারণে সহায়তা করার জন্য উন্নয়নমূলক উদ্বেগের উপর গবেষণার ফলাফল এবং জ্ঞান প্রচার করে।

উৎস: BIDS ওয়েবসাইট।

২৭.
জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল কয়টি ইকোনমিক জোন নিয়ে গঠিত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এনএসইজেড):
- দেশের বৃহত্তম অর্থনৈতিক অঞ্চল জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল।
- বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় এলাকা সন্দ্বীপ চ্যানেলের পাশে প্রায় ১৩৭ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল

⇒ 'জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল' ৩টি ইকোনমিক জোন নিয়ে গঠিত। এটি চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই ও সীতাকুন্ড উপজেলা এবং ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত।
- এই শিল্পনগরের আয়তন ৩৩ হাজার ৮০৫ একর।
- এর ৪১ শতাংশ বা ১৪ হাজার একরে শুধু শিল্পকারখানা হবে, বাকি ৫৯ শতাংশ এলাকার মধ্যে আছে খোলা জায়গা, বনায়ন, বন্দর–সুবিধা, আবাসন, স্বাস্থ্য, প্রশিক্ষণ ও বিনোদনকেন্দ্র।
- ২০১৬ সালে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল নামে এই শিল্পনগরের উদ্বোধন করা হয়।

উৎস: i) বেপজা ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

২৮.
কার পতনের মাধ্যমে বাংলায় ব্রিটিশ শক্তির শাসন শুরু হয়?
  1. ঈসা খাঁ
  2. লক্ষ্মণ সেন
  3. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  4. মুর্শিদ কুলী খান
ব্যাখ্যা

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা-এর পতনের মাধ্যমে ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলায় ব্রিটিশ শক্তির শাসন শুরু হয়েছিল।

ব্রিটিশ শক্তির শাসন শুরু:
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোম্পানি কর্তৃক পরাজিত হন।
- এ যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক। এর ফলে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।
- অপরদিকে ফরাসিরা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।
- এ ভাবেই এ যুদ্ধে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯.
কোরিয়ান ইপিজেড কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. নারায়ণগঞ্জ
  3. কুড়িগ্রাম
  4. নীলফামারী
ব্যাখ্যা

কোরিয়ান ইপিজেড:
- দেশের একমাত্র বেসরকারি ইপিজেড কোরিয়ান ইপিজেড।
- এটি চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত।
- কোরিয়ান ইপিজেড-এর প্রতিষ্ঠাতা কিয়াক সুং।
- চট্টগ্রামে কোরিয়ান ইপিজেড এর কার্যক্রম ১৯৯৫ সালে শুরু হয়।
- প্রথমে দুই দেশের সরকার উদ্যোগ নিলেও কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান ইয়াংওয়ান গ্রুপ শিল্পাঞ্চলটি গড়ে তোলে বেসরকারিভাবে।
- ইয়াংওয়ান করপোরেশন পরিচালিত কেইপিজেডে বর্তমানে ৪৮টি শিল্পে ৩৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
- এই ইপিজেডের ৫২ শতাংশ জমি বনায়ন ও পরিবেশের জন্য নির্ধারিত।
- ফলে এটিকে বড় পরিবেশবান্ধব ইপিজেড বলা হয়।

উৎস: i) বণিক বার্তা।
ii) বেজা ওয়েবসাইট।

৩০.
কোন দুটি ব্যাংক একীভূত করে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়?
  1. ঢাকা ব্যাংক ও বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা
  2. বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ও বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা
  3. আব্দুল্লাহ ব্যাংক ও এনআরবি ব্যাংক
  4. ঢাকা ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক:
- বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ও বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থাকে একীভূত করে ১৬/১১/২০০৯ খ্রি. তারিখে শতভাগ রাষ্ট্র মালিকানাধীন বিশেষায়িত বাণিজ্যিক ব্যাংক (পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি) হিসেবে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল) "কোম্পানি আইন ১৯৯৪ (১৯৯৪ সালের ১৮নং আইন)" এর আওতায় ১৬ নভেম্বর, ২০০৯ খ্রি. তারিখে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ এন্ড ফার্মস-এ রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হয় এবং ব্যাংক পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক হতে ১৯ নভেম্বর, ২০০৯ খ্রি. তারিখে ব্যাংকিং লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও বিডিবিএল এর মধ্যে ৩১ ডিসেম্বর, ২০০৯ খ্রি. তারিখে সম্পাদিত Vendors Agreement মোতাবেক বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা (বিএসআরএস) ও বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংকের সকল সম্পদ-দায় বিডিবিএল এর নিকট হস্তান্তরিত হয় এবং ০৩ জানুয়ারি, ২০১০ খ্রি. তারিখে ব্যাংকটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।

⇒ প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলী:
- দেশের অন্যতম প্রধান আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), অবকাঠামো, ইউটিলিটি, পরিবহন, যোগাযোগ এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পসহ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য ঋণ প্রদানের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতা প্রদান;
- আমানত সংগ্রহের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি সুদৃঢ় করা এবং সঞ্চয়ের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে জনগণের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা;
- দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা।

উৎস: বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ওয়েবসাইট।

৩১.
‘অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা’ যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার কত নম্বর দফায় স্থান পায়?
  1. ২ নং
  2. ৯ নং
  3. ১১ নং
  4. ১৮ নং
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো 'নৌকা'।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।

⇒ এই দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হলো:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ।
৩. পাটের ব্যবসায় জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা।
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা।
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা।
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনোভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২.
টাকার অঙ্কে কোন পণ্যটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আমদানি করা হয়? [অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫]
  1. সার
  2. তুলা
  3. সুতা
  4. পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যসামগ্রী
ব্যাখ্যা

আমদানি পরিস্থিতি:
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট আমদানি ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৬৮,৩৫৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- এটি পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ২.৪ শতাংশ বেশি।

⇒ সার্বিক আমদানি পরিস্থিতি (সাময়িক):
ক) প্রধান প্রাথমিক পণ্য
১. তুলা: ৩,৪৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২. গম: ১,৬২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৩. তৈলবীজ: ১,০৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৪. অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম: ৬২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৫. চাল: ৬৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

খ) প্রধান শিল্পজাত পণ্যসমূহ
১. পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যসামগ্রী: ৪,৫১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। 
২. সার: ২,৬২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৩. সুতা: ৩,৬১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৪. ভোজ্যতৈল: ২,৭১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৫. স্টেপল ফাইবার: ১,৫৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৬. ক্লিংকার: ৮৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

⇒ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- একক পণ্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি আমদানি করা হয়: তুলা।
- শিল্পজাত পণ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি করা হয়: পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যসামগ্রী।
- প্রাথমিক পণ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি করা হয়: তুলা।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫।

৩৩.
মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে শীর্ষ জেলা কোনটি? [কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪]
  1. কিশোরগঞ্জ
  2. ময়মনসিংহ
  3. সুনামগঞ্জ
  4. নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা

মৎস্য উৎপাদন:
- মোট মৎস্য উৎপাদনের পরিমাণ: ৫০,১৮,৪৮৩ মে.টন।
- মিঠা পানিতে মৎস্য উৎপাদনের পরিমাণ: ৪৩,৮৯,৮৬০ মে.টন।
- লোনা মৎস্য উৎপাদনের পরিমাণ: ৪,২৮,৬২৩ মে.টন।

⇒ মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে শীর্ষ জেলা:
১. ময়মনসিংহ - ৩,৪৫,০০১ মেট্রিক টন।
২. কুমিল্লা - ৩,১৫,৪৫৭ মেট্রিক টন।
৩. যশোর - ২,৪৮,০৮৯ মেট্রিক টন।

⇒ মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ:
১. চট্টগ্রাম - ৮,৮০,৭৯৭ মেট্রিক টন।
২. খুলনা - ৮,২২,৩৬১ মেট্রিক টন।
৩. রাজশাহী - ৫,৭৬,৮৩০ মেট্রিক টন।

এছাড়াও, মৎস্য উৎপাদনের পরিমাণ -
• ইলিশ - ১০.৫৫%।
• চিংড়ি - ৫.১৯%।
• মেজরকার্প (রুই, কাতলা, মৃগেল) - ২২.৬৪%।
• এক্সটিককার্প (সিলভারকার্প, গ্রাসকার্প, ইত্যাদি) - ১১.০৯%।
• অন্যান্যকার্প (কালিবাউস, বাটা, ঘনিয়া) - ৩.১৩%।
• তেলাপিয়া - ৮.৭৬%।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

৩৪.
আইয়ুব খান নিম্নের কোন ব্যবস্থাটি চালু করেছিলেন?
  1. রাজতন্ত্র
  2. সমাজতন্ত্র
  3. সংসদীয় গণতন্ত্র
  4. মৌলিক গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

আইয়ুব খান:
- আইয়ুব খান সামরিক শাসন যাত্রার ২১ দিনের মাথায় ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজে প্রেসিডেন্ট পদ দখল করেন।

⇒ ক্ষমতাদখলের পর আইয়ুব খান কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রন করেন। ১৯৫৯ সালে 'পোডো' (PODO) এবং 'এবডো' (EBDO) নামক দুটি আদেশ জারি করে রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপ ও নির্বাচনে রাজনীতিবিদদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেন।

⇒ জেনারেল আইয়ুব ১৯৫৯ সালে ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ নামে নতুন একটা রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু করেন। 
- মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় শাসনকাঠামোকে ৪টি স্তরে বিন্যস্ত করা হয়েছিল। ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা ছিল সর্বনিম্ন স্তর এবং এর সদস্যদের বলা হতো ‘মৌলিক গণতন্ত্রী’। ১৯৬৫ সালে পরোক্ষ নির্বাচনব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আগে নির্বাচিত ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী এ নির্বাচনে নির্বাচকমণ্ডলী হিসেবে কাজ করেন। এ নির্বাচনে বিরোধীদলীয় জোটের প্রার্থী ফাতেমা জিন্নাহকে পরাজিত করে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

⇒ আইয়ুব খানের আবিষ্কৃত মৌলিক গণতন্ত্রব্যবস্থা দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পায়নি এবং আইয়ুব খানের স্বপ্নও সফল হয়নি। ১৯৬৯ সালে গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আইয়ুব খানের পতন হয় এবং তাঁর পতনের মধ্য দিয়ে মৌলিক গণতন্ত্রব্যবস্থার অবসান ঘটে।
- ২৪ মার্চ ১৯৬৯ ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য হন।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

৩৫.
বন অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, বাংলাদেশ সরকার নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ দেশের মোট আয়তনের প্রায় -
  1. ১৩.২৮%
  2. ১৫.৫৮%
  3. ১৭.৩৮%
  4. ১৮.৬৮%
ব্যাখ্যা

বন:
- বন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ।
- একটি দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য দেশের মোট আয়তনের কমপক্ষে শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কারণ ভূমির ক্ষয়রোধ, ভূমির উর্বরতা বৃদ্ধি, জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা, বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতির জন্য বনভূমি থাকা প্রয়োজন।

⇒ বাংলাদেশের বনভূমিকে পাঁচটি অঞ্চলে ভাগ করা যায়; যথা- ১। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি; ২। সিলেটের বনাঞ্চল; ৩। সুন্দরবন; ৪। মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি এবং ৫। দিনাজপুর ও রংপুরের বনভূমি।
- বাংলাদেশের বনভূমিতে যেসব বৃক্ষ দেখা যায় তার মধ্যে সুন্দরী, গেওয়া, গরান, কেওড়া, গর্জন, সেগুন, চাপালিস, গামারি, শিরীষ, শাল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
- এছাড়া সুন্দরবনে গোলপাতা এবং সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনে প্রচুর বাঁশ ও বেত পাওয়া যায়।
- ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, নৌকা, রেলওয়ের স্লিপার, খুঁটি প্রভৃতি তৈরিতে এসব গাছের কাঠ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবহার করা হয়।
- বন থেকে আমরা জ্বালানি কাঠও পেয়ে থাকি। বন হতে মধু, মোম, গোলপাতা, কাঠ প্রভৃতি সংগ্রহ করে অনেক লোক জীবিকা নির্বাহ করে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের আয়তন ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কি.মি. এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ প্রায় ২৩ লক্ষ হেক্টর যা দেশের মোট আয়তনের প্রায় ১৫.৫৮%।
- বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রত বনভূমির পামিাণ প্রায় ১৬ লক্ষ হেক্টর যা দেশের আয়তনের প্রায় ১০.৭৪।
- বাংলাদেশের বৃক্ষ আচ্ছাদিত ভূমির পারিমাণ দেশের মোট আয়তনের ২২.৩৭%।

উৎস: i) অর্থনীতি, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
iii) ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬.
সকল পন্য ও সেবার উপর কত শতাংশ মূল্য সংযোজন কর আরোপ হয়?
  1. ৮%
  2. ১১%
  3. ১২%
  4. ১৫%
ব্যাখ্যা

মূল্য সংযোজন কর (VAT):
- কোনো করযোগ্য পণ্য বা সেবার উৎপাদন বা ক্রয়, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিক্রয় প্রভৃতি পর্যায়ে সংযোজিত মূল্যের উপর যে কর আরোপ করা হয় তাই মূল্য সংযোজন কর বা Value Added Tax বা VAT। 
- মূল্য সংযোজন করা বা মূসক বর্তমান সময়ে বিশ্বজয়ী পরোক্ষ কর ব্যবস্থা। 
- ১৯৯১ সালের ১২ জুন জাতীয় সংসদে ভ্যাট বিল উপস্থাপিত হয় এবং ৯ জুলাই বিলটি পাশ হয়।
- ১ জুলাই, ১৯৯১ থেকে আমাদের দেশে ভ্যাট বা মুসক আইন চালু হয়। 
- মূসক সর্বপ্রথম জার্মানিতে চালু হয়। 

উল্লেখ্য,
- ভ্যাট আইন ১৯৯১, অর্থ আইন, এস.আর.ও প্রভৃতি দ্বারা ভ্যাট আইনের আওতা নির্ধারিত হয়।
- মূল্য সংযোজন কর আবার তিন ধরনের, যেমন- মূসক, টার্ণওভার কর ও সম্পূরক শুল্ক।

⇒ সকল পন্য ও সেবার উপর ১৫% মূল্য সংযোজন কর আরোপ হয়।
- আমদানি ও সরবরাহের ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর ১৫%।
- রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর ০%।

উৎস: i) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
ii) কর ব্যবস্থা ও নিরীক্ষা শাস্ত্র, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭.
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন:
- ১৯৭২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির আদেশ বলে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, 
- শিপিং কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠার পরপরই বাংলার দূত এবং বাংলার সম্পদ নামের দুটো সমুদ্রগামী জাহাজ বিএসসিতে সংযোজিত হয়।
- তারপর থেকে বিএসসি এ যাবত সর্বমোট ৪৪টি জাহাজ সংগ্রহ করে।
- তবে জাহাজের স্বাভাবিক বয়সজনিত কারণে এবং বাণিজ্যিকভাবে অলাভজনক বিবেচিত হওয়ায় বিভিন্ন পর্যায়ে ৩৬টি জাহাজ বিক্রি বা স্ক্র্যাপ করা হয়।
- বর্তমানে ৮টি জাহাজের মিশ্র বহর নিয়ে বিএসসি সমুদ্রপথে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের পতাকা বহন করছে।

⇒ সাত সদস্যের একটি পরিচালনা পরিষদের মাধ্যমে বিএসসি পরিচালিত হয়।
- নৌপরিবহণ মন্ত্রী পদাধিকার বলে সংস্থাটির চেয়ারম্যান।
- বিএসসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে অবস্থিত।
- এছাড়া ঢাকা ও খুলনায় দুটি সাব অফিস রয়েছে। 
- বহির্বিশ্বে মালামাল আনা-নেয়ার সুবিধার্থে সিঙ্গাপুর ও লন্ডনে দুটি আঞ্চলিক অফিস খোলা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।

৩৮.
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. তাজউদ্দিন আহমদ
  4. এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন  তাজউদ্দীন আহমেদ।

সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ:

- ১৯৭১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধকে বেগবান করার জন্য পাঁচটি দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয় ৮ সদস্যের 'সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ'।
- ভারতের কলকাতায় গঠন করা হয় 'জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি', যা 'সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ' নামে পরিচিতি লাভ করে।

⇒ সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন:
- আহবায়ক ছিলেন: তাজউদ্দীন আহমেদ।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।

⇒ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন-
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি),
- মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি),
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা),
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৯.
কোন মৌর্য সম্রাটের রাজত্বকালে প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য তার স্বাধীন সত্তা হারায়?
  1. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  2. সমুদ্র গুপ্ত
  3. সম্রাট অশোক
  4. বিন্দুসার
ব্যাখ্যা

পুন্ড্র:
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তীকালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুন্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুন্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুন্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০.
বিগত অর্থবছরে বাংলাদেশে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত কোনটি? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. তৈরি পোশাক
  2. চামড়াজাত শিল্প
  3. রেমিট্যান্স
  4. পাটজাত শিল্প
ব্যাখ্যা

দেশের সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন:
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় তৈরি পোশাক রপ্তানির মাধ্যমে।
- বাংলাদেশের এটিই সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত এবং দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস।
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৯.৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- তৈরি পোশাক খাতের মধ্যে নিটওয়্যার রপ্তানি হয়েছে ২১.১৫ বিলিয়ন ডলার এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৮.১৮ বিলিয়ন ডলার।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি আয় ৮.৫৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ সময়ে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৮.২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের থেকে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। 
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাটজাত পণ্য থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৮২ কোটি মার্কিন ডলার।
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৮৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার।

উৎস: i) বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো।
ii) প্রথম আলো।

৪১.
বর্তমানে বাংলাদেশে মোট কয়টি বীমা প্রতিষ্ঠান রয়েছে? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. ৩৫টি
  2. ৩৬টি
  3. ৪৬টি
  4. ৮২টি
ব্যাখ্যা

বীমা প্রতিষ্ঠান:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জীবন বীমার সুফল দেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সনের রাষ্ট্রপতির ৯৫নং আদেশ বলে বাংলাদেশের বীমা শিল্প জাতীয়করণের আওতায় আনা হয়।
- বর্তমানে বাংলাদেশে দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত বীমা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হলো: সাধারণ বীমা কর্পোরেশন এবং জীবন বীমা কর্পোরেশন।
- দুটি প্ৰতিষ্ঠান ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি (IDRA)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, দেশে ৮২টি বীমা কোম্পানি রয়েছে, যার মধ্যে ৩৬টি জীবন বীমা সংস্থা এবং ৪৬টি নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স সংস্থা রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ সরকার সরকারি বা বেসরকারি সব ধরণের বীমা প্রতিষ্ঠান এর তত্ত্বাবধান এবং নিয়ন্ত্রনের উদ্দেশ্যে বীমা আইন ২০১০ প্রণয়ন করেন।
- এই আইনের অধীনে ২০১১ সালে Insurance Development and Regulatory Authority (IDRA) বা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) IDRA ওয়েবসাইট। [link]
ii) জীবন বীমা কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।
iii) সাধারণ বীমা কর্পোরেশন। 

৪২.
রোপা আমন ধান কখন কাটা হয়?
  1. আষাঢ়-শ্রাবণে
  2. ভাদ্র-আশ্বিনে
  3. কার্তিক-অগ্রহায়ণে
  4. অগ্রহায়ণ-পৌষে
ব্যাখ্যা

আমন ধান:
- আমন ধান মূলত দুই প্রকার: রোপা আমন ও বোনা আমন।

⇒ রোপা আমন বলতে বুঝায় অন্য জমিতে চারা প্রস্তুত করে, সেই চারা ক্ষেতে রোপণ করে ধান উৎপন্ন হয়।
- রোপা আমন আষাঢ় মাসে বীজতলায় বীজ বোনা হয়।
- শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে মূল জমিতে রোপণ করা হয়।
- অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে রোপা-আমন ধান কাটা হয়।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস ওয়েবসাইট।

৪৩.
TIN-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Taxpayer Identification Number
  2. Tax Identification Number
  3. Tax Inspection Number
  4. Taxpayer Inspection Number
ব্যাখ্যা

TIN:
- TIN এর পূর্ণরূপ: Taxpayer's Identification Number.

⇒ E-TIN এর পূর্ণরূপ: Electronic Taxpayer's Identification Number.
- 'E-TIN' চালু করা হয় ২০১৩ সালে।
- এটি আয়কর নিবন্ধনের আধুনিক সংস্করন।
- এটি ১২ ডিজিটের ১টি নম্বর।
- একজন করদাতাকে সহজে, ঘরেবসে অনলাইনে নিবন্ধন পেতে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
- www. incometax.gov.bd এই সাইট গেলে ই- টিআইএন নিবন্ধন নেওয়া যাবে।

উৎস: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ওয়েবসাইট।

৪৪.
'মৎস্য আইন ১৯৫০'-এর অধীনে নিচের কোন আকারের কাতলা, রুই, মৃগেল ধরা, বিক্রি বা মজুত করা নিষিদ্ধ?
  1. ২২ সে.মি.-এর কম
  2. ২৩ সে.মি.-এর কম
  3. ২৪ সে.মি.-এর কম
  4. ২৫ সে.মি.-এর কম
ব্যাখ্যা

মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০:
- দি প্রটেকশন এন্ড কনজারভেশন অব ফিস এ্যাক্ট-১৯৫০; সাধারণভাবে মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ নামে পরিচিত।
- নির্বিচারে পোনা মাছ ও প্রজননক্ষম মাছ নিধন সমস্যা দূরীকরণে সরকার মাছের আকার, প্রজনন ও বৃদ্ধির সময়, বিচরণক্ষেত্র ইত্যাদি বিষয়ে কতিপয় বিধি নিষেধ আরোপ করে ১৯৫০ সলে এ আইন প্রণয়ন করে।
- পরবর্তীতে বাস্তব প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে আইনটি উলেস্নখযোগ্য সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জন করা হয়।

⇒ এই আইন অনুসারে,
- প্রতি বছর জুলাই হতে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ২৩ সেন্টিমিটারের (৯ ইঞ্চি) ছোট আকারের কাতলা, রুই, মৃগেল, কালিবাউস ,ঘনিয়া;
- প্রতি বছর নভেম্বর হতে মে মাস পর্যন্ত ২৫ সেন্টিমিটারের (১০ ইঞ্চি) ছোট আকারের ইলিশ (যা জাটকা নামে পরিচিত);
- প্রতি বছর নভেম্বর হতে এপ্রিল মাস পর্যমত্ম ২৩ সেন্টিমিটারের (৯ ইঞ্চি) ছোট আকারের পাংগাস;
- প্রতি বছর ফেব্রুয়ারী হতে জুন মাস পর্যন্ত ৩০ সেন্টিমিটারের ( ১২ ইঞ্চি) ছোট আকারের আকারের সিলন, বোল ও আইড় মাছ ধরা, নিজের দখলে রাখা, পরিবহন বা বিক্রয় করা নিষিদ্ধ।
- বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করে মাছ মারা যাবে না । অভ্যন্তরীণ জলাভূমিতে বিষ প্রয়োগ , পরিবেশ দূষণ , বাণিজ্যিক বর্জ্য বা অন্যবিধ উপায়ে মাছ ধংসের পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না।
- মাছ ধরার ক্ষেত্রে ৪.৫ সেন্টিমিটার বা তদপেক্ষা কম ব্যাস বা দৈর্ঘ্যের ফাঁস বিশিষ্ট ফাঁসজাল এর ব্যবহার নিষিদ্ধ।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর।

৪৫.
পোড়ামাটি নীতি'র মাধ্যমে জেনারেল টিক্কা খান কোন অপারেশন পরিচালনা করেছিলেন?
  1. অপারেশন ফ্রি বাংলাদেশ
  2. অপারেশন সার্চলাইট
  3. অপারেশন ব্লিৎজ
  4. অপারেশন ব্ল্যাক হক
ব্যাখ্যা

পোড়ামাটি নীতির মাধ্যমে জেনারেল টিক্কা খান অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনা করেছিলেন।

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy):

- ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী 'পোড়ামাটি নীতি' প্রয়োগ করেছিল।
- পোড়ামাটি নীতি এমন একটি সামরিক কৌশল যা দ্বারা সেনাবাহিনীরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের সামরিক বেসামরিক নির্বিশেষে সবাইকে হত্যার পাশাপাশি সবকিছু পুড়িয়ে দেয়। শত্রুর পক্ষে ব্যবহার করা সম্ভব এমন স্থাপনা ও অবকাঠামো পুড়িয়ে দেয়। এ থেকে পরিত্রাণ পায় না খাদ্যের উৎস, পানি সরবরাহ, পরিবহন, যোগাযোগ, শিল্পকারখানা। অর্থাৎ প্রতিপক্ষের সবকিছু জ্বালিয়ে পুড়িয়ে একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ায় হলো পোড়ামাটি নীতি।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বেলা ১১টায় মেজর জেনারেল খাদিম হুসেইন রাজাকে ফোনে চার শব্দের এক বার্তা দেন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান। প্রায় এক মাস আগে থেকে তৈরি হতে থাকা একটা সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা এভাবেই বাস্তবায়নের চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। অভিযানটির নাম ‘অপারেশন সার্চলাইট’।
- নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘণ্টা আগেই সেনাবহর রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকা সেনানিবাস থেকে বেরিয়ে পড়ে। ফার্মগেটে মিছিলের ওপর গুলি চালিয়ে অপারেশন সার্চলাইটের সূচনা করে তারা। তারপর রাতভর চলে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ। পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পুরান ঢাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলে নির্বিচার মানবনিধন। 
- জেনারেল টিক্কা, তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব অর্থাৎ সশস্ত্র বাঙালি ইউনিট ও ব্যক্তিদের নিরস্ত্রীকরণ এবং বাঙালি নেতাদের আটক করার পরিবর্তে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা এবং পোড়ামাটি নীতি অবলম্বন করেন। সৈন্যদের প্রতি তাঁর নির্দেশ ছিল: “মানুষ না, মাটি চাই।” 

এছাড়াও,
- ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকেই ‘অপারেশন ব্লিৎজ’ নামে এই অভিযানের কথা প্রথম ভেবেছিলেন পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান। এর আওতায় সামরিক শাসন জারি করে সামরিক বাহিনীকে ‘বিদ্রোহী’ রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে হেফাজতে নেওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।

৪৬.
বাংলাদেশে উৎপাদিত তামাকের ওপর ধার্যকৃত করকে কী বলে?
  1. বাণিজ্য শুল্ক
  2. আবগারি শুল্ক
  3. সম্পূরক শুল্ক
  4. মূল্য সংযোজন কর
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে উৎপাদিত তামাকের ওপর ধার্যকৃত করকে আবগারি শুল্ক বলে।

আবগারি শুল্ক:
- আবগারি শুল্ক  দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত দ্রব্যের ওপর আরোপিত কর। 
- আবগারি শুল্ক সরকারি রাজস্ব সংগ্রহের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, আবার এটি আয়ের পুনর্বণ্টনের উদ্দেশ্যেও ব্যবহৃত হতে পারে।
- করারোপের সুবিধার নীতি প্রয়োগের জন্যও আবগারি শুল্ককে ব্যবহার করা যেতে পারে, যেমন, কোনো বিশেষ দ্রব্যের (যথা, তামাকের) ওপর আবগারি শুল্ক সংগ্রহ করে উক্ত তহবিল ওই দ্রব্যের ভোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। 
- ১৯৯১-৯২ সালে মূসক-এর আওতা বহির্ভুত যেসব দ্রব্য ও সেবার ওপর আবগারি শুল্ক আরোপযোগ্য ছিল, সেগুলি হলো তামাক, প্রাকৃতিক গ্যাস ও পেট্রোলজাত দ্রব্য, সংবাদপত্রের কাগজ, সোনা-রুপা ও সোনা-রূপার জিনিসপত্র, লবণ, ব্যাংক চেক এবং সাধারণ ইট। 

অন্যদিকে,
- বহিঃশুল্ক: আমদানি-রপ্তানির উপর আরোপিত শুল্ককে বহিঃশুল্ক বলে।
- বাণিজ্য শুল্ক: বাণিজ্য শুল্ক কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ের অন্যতম উৎস। সাধারণতঃ আমদানি-রপ্তানির উপর এই শুল্ক ধার্য করা হয়।
- মূল্য সংযোজন কর: দেশের পণ্য সামগ্রীর উৎপাদন থেকে ভোগ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে সংযোজিত মূল্যের ভিত্তিতে এ কর ধার্য করা হয়। এটি একটি পরোক্ষ কর। এটি সংক্ষেপে ভ্যাট নামে পরিচিত।
- সম্পূরক শুল্ক: কিছু বিলাস সামগ্রীর আমদানি ও ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে এসব পণ্যের উপর মুসক ছাড়াও বিভিন্ন হারে অতিরিক্ষ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়ে থাকে।

উৎস: i)  অর্থনীতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৪৭.
কোন ব্যাংককে নিকাশ ঘর বলা হয়?
  1. কেন্দ্রীয় ব্যাংক
  2. বাণিজ্যিক ব্যাংক
  3. গ্রামীণ ব্যাংক
  4. সমবায় ব্যাংক 
ব্যাখ্যা

নিকাশ ঘর:
- নিকাশ এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে দেনাপাওনা অতি সহজেই নিষ্পত্তি করা যায়।
- এই প্রক্রিয়াটি সমাধা করার জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিনিধিগণ নির্দিষ্ট সময়ে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সমবেত হয়ে নেতা ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে একে অন্যের উপর আদিষ্ট চেক, ড্রাফট ইত্যাদি দলিলসমূহ বিনিময় করেন।
- অল্প সময়ের মধ্যে এই বিনিময় সমাধা করার জন্য পূর্বেই চেক ইত্যাদিকে শাখা অনুযায়ী এবং ব্যাংক অনুযায়ী আলাদা করে রাখা হয়।
- বিনিময় সমাধা করার জন্য দেনা-পাওয়ানার হিসাব বের করা হয় এবং নেতা ব্যাংকের সাথে পরিচালিত চলতি হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন সমাধা করা হয়।
- সোজা কথায় বলা যায়: একটি নির্দিষ্ট এলাকার ব্যাংকসমূহের একটি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান হল নিকাশ ঘর।
- সাধারণত দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিকাশ ঘর হিসাবে কাজ করে।
- ব্যাংকসমূহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিকট যে নগদ অর্থ জমা রাখে তা থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের জমার পরিমাণ বৃদ্ধি বা হ্রাস করে ব্যাংকগুলোর দেনা-পাওনা মিটানো হয়।

⇒ ১৯৩৫ সালে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া প্রতিষ্ঠিত হবার পূর্ব পর্যন্ত ভারত উপমহাদেশে ইম্পেরিয়াল ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার তত্ত্বাবধানে নিকাশ কার্য পরিচালিত হত। ১৯৪৮ সালে State Bank of Pakistan প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর নিকাশ ব্যবস্থার দায়িত্ব State Bank of Pakistan-এর উপর অর্পিত হয়।
- পরবর্তীকালে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর নিকাশ ব্যবস্থার দায়িত্ব 'বাংলাদেশ ব্যাংক' গ্রহণ করে।
- যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা নেই সেখানে সোনালী ব্যাংক নিকাশ ঘরের দায়িত্ব পালন করে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট।
ii) ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮.
সাইমন ড্রিং কোন পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে ১৯৭১ সালে ঢাকায় এসেছিলেন?
  1. দ্য গার্ডিয়ান
  2. দ্য টাইমস
  3. নিউজউইক
  4. দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং:
- সাইমন ড্রিং (জন্ম ১৯৪৫) একজন ব্রিটিশ সাংবাদিক, টেলিভিশন উপস্থাপক ও পরিচালক এবং ২৫শে মার্চ বর্বর পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী বিদেশী সংবাদদাতা।
- তিনি লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ, ডেইলি মেইল, দ্য সানডে টাইমস, নিউজউইক, বিবিসি টেলিভিশন রেডিও নিউজ, রয়টার প্রভৃতি গণমাধ্যমে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন।

লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে যুদ্ধের পূর্বেই তাঁর ঢাকায় আগমন।
- দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করার সময় ১৯৭১ সালের ৬ মার্চ কম্বোডিয়া থেকে ঢাকায় আসেন সাইমন ড্রিং।
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অপারেশন সার্চলাইট নামে বাঙালিদের ওপরে সশস্ত্র আক্রমণ ও গণহত্যা, ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ইত্যাদি পটভূমিতে শুরু হয় ৯ মাসব্যাপী বাঙালিদের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ, যাতে ৩০ লক্ষ বাঙালিকে জীবনদান ও কয়েক লক্ষ মা-বোনকে সম্ভ্রম বিসর্জন দিতে হয়।

⇒ ২৫শে মার্চ রাতে বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পূর্বে শাহবাগস্থ তখনকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ২শর মতো বিদেশী সাংবাদিককে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা কঠোর প্রহরায় বিশেষ কক্ষে আবদ্ধ করে রাখে। তাঁদের মধ্যে লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকার প্রতিনিধি সাইমন ড্রিংও ছিলেন।
- সকলকে পরের দিন প্লেনে তুলে পাঠিয়ে দেয়া হলেও সাইমন ড্রিং ও এসোসিয়েটেড প্রেসের ফটোগ্রাফার মাইকেল লরেন্ট  লুকিয়ে থেকে নিজেদের সাময়িকভাবে রক্ষা করতে সক্ষম হন।
- ২৭শে মার্চ কিছু সময়ের জন্য কারফিউ তুলে নেয়া হলে তাঁরা দুজন ঢাকা শহরে বেড়িয়ে পড়েন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হল (বর্তমান জহুরুল হক হল), জগন্নাথ হল, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, বঙ্গবন্ধুর ৩২নং ধানমন্ডির বাস ভবন, রেসকোর্সের কালীবাড়ি মন্দির, পুরনো ঢাকার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাসহ ২৫শে মার্চ রাত থেকে শুরু করে পাকহানাদারদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত ঢাকা নগরীর বিভিন্ন স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাইমন ড্রিং একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন।
- এটি ৩০শে মার্চ, ১৯৭১ লন্ডন থেকে প্রকাশিত দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় 'Tanks Crush Revolt in Pakistan 7,000 slaughtered: Homes burned' শিরোনামে প্রথম পৃষ্ঠায় তিন কলামে সাইমন ড্রিং (তখন বয়স ২৭)-এর ছবিসহ সবিস্তার ছাপা হয়।
- বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ২৫শে মার্চের হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বিদেশী সাংবাদিকের এটিই ছিল প্রথম প্রতিবেদন।
- এটি প্রকাশিত হওয়ার পর ঢাকায় সে রাতে ও পরবর্তী দুদিন পাকবাহিনী কী নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল, সে সম্বন্ধে বিশ্ববাসী জানতে পারে।

উৎস: i) সংগ্রামের নোটবুক।
ii) দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা।

৪৯.
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৮১ সালে
ব্যাখ্যা

প্রাথমিক শিক্ষা:
- স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৩ সালে সরকার প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করে।

⇒ ১ জানুয়ারী, ১৯৯৩ থেকে সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কার্যকর হয়।
- ১৯৭৪ সালে কুদরাত-এ-খুদা প্রণীত ‘বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন' ১৯৮৩ সালের মধ্যে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার সুপারিশ করে।
- ১৯৮১ সালে পৃথক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয়।
- অন্যদিকে এ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণের জন্য প্রথমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ২১ আগস্ট, ১৯৯০ ইং ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কোস/সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- পরবর্তীতে ৩১ নভেম্বর, ১৯৯২ ইং তারিখে এর নামকরণ করা হয় ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিট'।
- তার পূর্বে ১ জানুয়ারি, ১৯৯২ সালে প্রাথমিকভাবে ৬৮ টি উপজেলায় এই আইন চালু হয়।

উৎস: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৫০.
সর্বশেষ অর্থবছরে কোন দেশ থেকে বাংলাদেশ সর্বাধিক আমদানি করেছে? [অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫]
  1. চীন
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. ভারত
  4. মালয়েশিয়া
ব্যাখ্যা

দেশভিত্তিক আমদানি:
- বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ -

⇒ আমদানি রিপোর্ট: 
- চীন: ২০৫২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৩০.০২%)।
- ভারত: ৯৬৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (১৪.১৮%)।
- যুক্তরাষ্ট্র: ২৫০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৩.৬৭%)। 
- সিঙ্গাপুর: ২২৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৩.৩২%)।
- জাপান: ১৯৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (২.৮৮%)।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি আমদানি করা হয় – চীন থেকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ –ভারত থেকে।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫।

৫১.
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত ব্যাংক কোনটি?
  1. কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি
  2. সীমান্ত ব্যাংক
  3. ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি
  4. আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক
ব্যাখ্যা

ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি:
- বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত ব্যাংক ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি।

⇒ ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক।
- এই ব্যাংকটি আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট (এডব্লিউটি) দ্বারা পরিচালিত।
- বিস্তৃত পরিসরের কর্পোরেট, খুচরা, এসএমই এবং ইসলামিক ব্যাংকিং পণ্য নিয়ে টিবিএল ১৯৯৯ সাল থেকে বাংলাদেশে কাজ করছে এবং তখন থেকে একটি শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে জনসাধারণের আস্থা অর্জন করেছে।
- চেয়ারম্যান: জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। 
- ভাইস চেয়ারম্যান: মেজর জেনারেল মোঃ মাসুদুর রহমান। 

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশ পুলিশ দ্বারা পরিচালিত ব্যাংক কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।
- আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক আইন ১৯৯৫-এর অধীনে সৃষ্ট সরকার নিয়ন্ত্রিত একটি বিশেষায়িত ব্যাংক। 
- বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দ্বারা পরিচালিত ব্যাংক সীমান্ত ব্যাংক।

উৎস: ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি ওয়েবসাইট।

৫২.
কনসার্ট ফর বাংলাদেশের প্রধান উদ্যোক্তা কে ছিলেন?
  1. জর্জ হ্যারিসন
  2. বব ডিলান
  3. বিলি প্রেস্টন
  4. জন লেনন
ব্যাখ্যা

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন।

⇒ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিশ্বখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর।
- বাংলাদেশের জনগণের সাহায্যার্থে কিছু করার জন্য তিনি প্রথম যোগাযোগ করেন জনপ্রিয় বিটলসের অন্যতম সদস্য জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ১৯৭১ সালের ১লা অগাস্টের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।

উল্লেখ্য,
- ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ শুরু হয়েছিল পণ্ডিত রবিশঙ্করের একটি সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দিয়ে।
- এ কনসার্টের জন্য তিনি তৈরি করেছিলেন ‘বাংলাদেশ ধুন’ বলে নতুন একটি সুর।
- আর তাঁর সঙ্গে সরোদে যুগলবন্দী ছিলেন ওস্তাদ আলী আকবর খান।
- তবলায় সহযোগিতা করেছিলেন বিখ্যাত আল্লারাখা।
- তানপুরায় ছিলেন কমলা চক্রবর্তী। সেদিন ম্যাডিসন স্কয়ারের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রতিবাদী গানের রাজা বব ডিলান। 
- সেদিন বব ডিলানের সঙ্গে গিটার বাজিয়েছিলেন জর্জ হ্যারিসন, ব্যাস লিওন রাসেল ও ট্যাম্বুরিন রিঙ্গো স্টার।
- সে অনুষ্ঠানে বিটলসের অন্যতম সদস্য রিঙ্গো স্টার, লিওন রাসেল, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রেস্টন, ডন প্রেস্টন প্রমুখ গান গেয়েছেন, গিটার বাজিয়েছেন।

এছাড়াও,
- জন লেনন শেষ পর্যন্ত কনসার্ট ফর বাংলাদেশে অংশ নেননি।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC।

৫৩.
মুক্তিযুদ্ধে ডা. সিতারা বেগম কোন সেক্টরের ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’-এ চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন?
  1. ১ নং সেক্টর
  2. ২ নং সেক্টর
  3. ৫ নং সেক্টর
  4. ১১ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান:
- মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালে মোট ৬৭৬ বীর যোদ্ধাকে বিভিন্ন খেতাবে ভূষিত করা হয়েছে।
- তাদের মধ্যে দুজন নারীও রয়েছেন। একজন হলেন ডা. সেতারা বেগম এবং অন্যজন তারামন বিবি; যাদের ‘বীরপ্রতীক’ খেতাব দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত বা অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিত্সাসেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সেক্টরে হাসপাতাল বা চিকিত্সাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। এ রকম একটি হাসপাতাল ছিল ২ নম্বর সেক্টরে। নাম ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’। ডা. সিতারা বেগম বাংলাদেশ হাসপাতালে অসাধ্য সাধনের মতো সব কাজ করতেন। মুক্তিযুদ্ধে এ মহীয়সী নারীর সাহসী আবদানের জন্য তাঁকে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। ১৯৭২ সালে জেনারেল ওসমানী চিঠি দিয়ে তাঁকে বীর প্রতীক খেতাব পাওয়ার কথা জানান। তারপর তা গেজেট আকারে প্রকাশ পায়।

অন্যদিকে,
- তারামন বিবি ১১ নং সেক্টর থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
- কাঁকন বিবি ১৯৭১ সালে সংঘটিত বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক বীরযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা ও গুপ্তচর। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর বিপক্ষে মুক্তিবাহিনীর হয়ে ৫ নং সেক্টরের গুপ্তচরের কাজ করেন।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।

৫৪.
গ্রামীণ ব্যাংক কবে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাংক হিসেবে চালু হয়?
  1. ১ জানুয়ারি, ১৯৮৩
  2. ২৬ মার্চ, ১৯৮৩
  3. ২ অক্টোবর, ১৯৮৩
  4. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৩
ব্যাখ্যা

গ্রামীণ ব্যাংক:
- গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা এবং সামাজিক উন্নয়ন ব্যাংক।
- গ্রামীণ ব্যাংক ১৯৭৬ সালের প্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
- প্রথম গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ১৯৮৩ সালে জারি করা হয়েছিল। এই অধ্যাদেশটি গ্রামীণ ব্যাংককে একটি স্বাধীন ব্যাংক হিসেবে কাজ করার জন্য জাতীয় আইন দ্বারা অনুমোদন দেয়।  
- ১৯৮৩ সালের ২ অক্টোবর ব্যাংক হিসেবে চালু হয়।
- গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ১৩ জন পরিচালক নিয়ে গঠিত।

উল্লেখ্য,
- গ্রামীন ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণের ধারণা বাংলাদেশের বাইরে প্রথম মালয়েশিয়ায় চালু করে।
- গ্রামীণ ব্যাংক মূলত ভূমিহীন এবং দরিদ্র নারীদের পাঁচ জনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দল গঠনের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করে এবং এ ঋণের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে।
- ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে সমাজের নীচ থেকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সৃষ্টির প্রচেষ্টার প্রশংসায় ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- এর ৯৮% ঋণগ্রহীতা নারী।
- গ্রামীণ ব্যাংকের সবচেয়ে মানবিক ও ব্যতিক্রমী কর্মসূচি হল সংগ্রাম (ভিক্ষুক) সদস্যদের কর্মসূচি। গ্রামীণ ব্যাংক ভিক্ষুকদের আর্থিক সক্ষমতা তৈরিতে সাহায্য করার জন্য সুদ-মুক্ত ঋণ দেয়।

 উৎস: i) গ্রামীণ ব্যাংক ওয়েবসাইট।
ii) BBC.

৫৫.
চীন কত তারিখে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে?
  1. ১৬ আগস্ট, ১৯৭৪
  2. ৩১ আগস্ট, ১৯৭৪
  3. ১৬ আগস্ট, ১৯৭৫
  4. ৩১ আগস্ট, ১৯৭৫
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মোট ১৫০টি দেশ স্বীকৃতি প্রদান করে। 
- ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে সর্বপ্রথম ভুটান স্বীকৃতি প্রদান করে।
- ভুটান ও ভারত উভয় দেশই বাংলাদেশকে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বীকৃতি দিয়েছিল। 
- সর্বশেষ দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট স্বীকৃতি প্রদান করে

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৫৬.
নিম্নের কোনটি খরা সহিষ্ণু ধানের জাত?
  1. ব্রি ধান-৫১
  2. ব্রি ধান-৫২
  3. ব্রি ধান-৭১
  4. ব্রি ধান-৭৯
ব্যাখ্যা

খরা সহিষ্ণু ধানের জাতসমূহ:
• ব্রি ধান-৫৫,
• ব্রি ধান-৫৬,
• ব্রি ধান-৫৭,
• ব্রি ধান-৬৫,
• ব্রি ধান-৬৬,
ব্রি ধান-৭১.

অন্যদিকে, জলমগ্নতা সহিষ্ণু ধানের জাতসমূহ:
• ব্রি ধান-৫১
• ব্রি ধান-৫২
• ব্রি ধান-৭৯ প্রভৃতি।

উৎস: i) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
ii) বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। 

৫৭.
বিলোনিয়া স্থলবন্দর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. যশোর
  2. চুয়াডাঙ্গা
  3. কুড়িগ্রাম
  4. ফেনী
ব্যাখ্যা

স্থলবন্দরের নাম ও অবস্থান:
- বিলোনিয়া স্থলবন্দর: বিলোনিয়া, ফেনী।
- বেনাপোল স্থলবন্দর: বেনাপোল, শার্শা, যশোর।
- বুড়িমারী স্থলবন্দর: পাটগ্রাম, লালমনিরহাট।
- আখাউড়া স্থলবন্দর: আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
- ভোমরা স্থলবন্দর: ভোমরা, সাতক্ষীরা সদর।
- নাকুগাঁও স্থলবন্দর: নালিতাবাড়ী, শেরপুর।
- তামাবিল স্থলবন্দর: গোয়াইনঘাট সিলেট।
- সোনাহাট স্থলবন্দর: ভুরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম।
- দর্শনা স্থলবন্দর: দামুরহুদা, চুয়াডাঙ্গা।

উৎস: বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।

৫৮.
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কোন উইংটি বাজেট, জনবল ও হিসাবরক্ষণ দেখাশোনা করে?
  1. সরেজমিন উইং
  2. গবেষণা উইং
  3. প্রশাসনিক উইং
  4. পরিকল্পনা উইং
ব্যাখ্যা

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশাসনিক উইং:
- এ উইং এর কাজ হচ্ছে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যয় সংক্রান্ত হিসাব ও নিরীক্ষা নিশ্চিত করা ও নথিপত্র সংরক্ষণ।
- একজন পরিচালক এ উইং এর দায়িত্বে আছেন।

⇒ এ উইং এর প্রধান দায়িত্বগুলো হলো:
◉ সকল উইং এর বার্ষিক রাজস্ব বাজেট তৈরির কাজ সমন্বয় করা;
◉ মাঠ পর্যায়ের সকল অফিসসহ অত্র অধিদপ্তরের সকল প্রকার রাজস্বের হিসাব ও এর প্রতিবেদন রক্ষণাবেক্ষণ করা;
◉ বর্তমানে প্রচলিত সরকারি নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় সকল রাজস্ব ও প্রকল্প হিসাবের নিরীক্ষণ নিশ্চিত করা;
◉ বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের পরিমাণ প্রকল্প ছকে গ্রহণ করা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে সেগুলো পুর্নবিন্যাস করার জন্য পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন উইংকে উপদেশ প্রদান করা;
◉ ডিএই এর ব্যবস্থাপনা কমিটি কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশ অনুযায়ী জনবল নিয়োগ ও বদলীর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা; ডিএই এর জনবলের হালনাগাদ রেকর্ড রক্ষণাবেক্ষণ করা;
◉ দ্রব্যসামগ্রী সময়মতো সংগ্রহ, সরবরাহ, ঠিক মতো সংরক্ষণ ও হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা এবং অফিসের জন্য সকল প্রকার সরবরাহ, গুদামজাতকৃত দ্রব্য, যন্ত্রপাতি ও সম্পত্তির রেকর্ড রক্ষণাবেক্ষণ করা;
◉ ডিএই এর কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের সরকারি বিধান মোতাবেক আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতা ও সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করা।

উৎস: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট। 

৫৯.
প্রবাসীদের কল্যাণে ওয়েজ আর্নার্স স্কিম কত সালে প্রবর্তিত হয়?
  1. ১৯৭৪ সালে
  2. ১৯৭৫ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা

ওয়েজ আর্নার্স স্কিম:
- ওয়েজ আর্নার্স স্কিম ১৯৭৪ সালে প্রবর্তিত হয়।
- বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের অর্জিত আয় সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রেরণে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে স্কিমটি চালু করা হয়।
- এ সময় বৈদেশিক মুদ্রা মজুত থাকার কারণে আমদানিকারকদের অনুকূলে বৈদেশিক মুদ্রার ছাড় হ্রাস পায়, যার ফলে স্কিমটি কার্যকারিতা অর্জন করে।
-  বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমজীবীদের প্রেরিত অর্থ খোলাবাজার বিনিময় হারের কাছাকাছি হারে বিনিময়ের লক্ষ্যে স্কিমটি চালু করা হয়।

⇒ প্রবাসী কর্মীদের অবদানের বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের এবং দেশে বিদেশে কর্মীদের পরিবার পরিজনকে সাহায্য সহযোগিতা কিংবা উদ্ভূত সমস্যার সমাধান কল্পে তথা সার্বিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে সরকার Emigration Ordinance-1982 এর ১৯(১) ধারার ক্ষমতাবলে ১৯৯০ সালে “ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল” গঠন করে।
- “ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড আইন,২০১৮” এর মাধ্যমে “ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড” একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড ওয়েবসাইট।

৬০.
কোন শিপইয়ার্ডে বাংলাদেশের প্রথম যুদ্ধজাহাজ নির্মিত হয়?
  1. খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড
  2. আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড স্লিপওয়েজ লিমিটেড
  3. ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড 
  4. ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড
ব্যাখ্যা

জাহাজ নির্মাণ শিল্প:
- জাহাজ নির্মাণ শিল্প বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শিল্পখাত।
- দেশে আনুমানিক ১০,০০০ টন ক্ষমতার আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাহাজ তৈরির ক্ষমতা সম্পন্ন প্রায় ১১টি স্থানীয় শিপইয়ার্ড রয়েছে।

⇒ বাংলাদেশে তৈরি প্রথম যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণ করে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড।
- এটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিএনএস পদ্মা’।
- বিএনএস পদ্মার গতিবেগ হবে ঘন্টায় ২৩ নটিকাল মাইল (প্রায় ৩৭ মাইল)।
- ২০১১ সালের ৫ মার্চ খুলনা শিপইয়ার্ডে জাহাজটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী।
- ২০১২ সালের ৮ অক্টোবর জাহাজটি লাঞ্চিং করানো হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড (KSY) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বাধীন সরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।
- এটি বাংলাদেশ নৌবাহিনী দ্বারা পরিচালিত ও পরিচালিত হয়।
- এটি রূপসা নদীর পশ্চিম তীরে খুলনায় অবস্থিত।
- ইয়ার্ডটিতে ৯০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৭০০ টন লাইটওয়েট পর্যন্ত স্টিল/অ্যালুমিনিয়াম জাহাজ নির্মাণের ক্ষমতা রয়েছে।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র গর্বিত যুদ্ধজাহাজ নির্মাতা।
- এটি পশ্চিম জার্মান সহায়তায় ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড ১৯৯৯ সালে নৌবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা হয়।

উৎস: i) খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।

৬১.
অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি কে গ্রহণ করেন?
  1. ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. লর্ড ক্লাইভ
ব্যাখ্যা

অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি:
- জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে পরিবর্তন করেন এবং অধীনতামূলক মিত্রতার নীতি গ্রহণ করেন।
- এই নীতি অনুযায়ী ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত দেশীয় রাজ্যগুলোকে ব্রিটিশদের অধীনে ও নিরাপত্তায় থেকে রাজ্য শাসনে অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা প্রদান করা হতো।
- এই নীতির মাধ্যমে হায়দ্রাবাদ ও মারাঠারাজ্য কোম্পানির অধীনে আসে।
- টিপু সুলতান এই নীতিগ্রহণে অস্বীকার করলে চতুর্থ মহীশূর যুদ্ধে তিনি ব্রিটিশদের নিকট পরাজিত ও নিহত হন।

⇒ নীতির মূলবিন্দু:
• নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা: এই নীতির আওতায় ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত দেশীয় রাজ্যগুলোকে ব্রিটিশদের অধীনে থাকার জন্য অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা প্রদান করা হতো। অর্থাৎ, তারা নিজেদের রাজ্য শাসনে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারতেন, তবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নিরাপত্তার আওতায়।
• রাজ্যগুলোর অধীনে আসা: এই নীতির মাধ্যমে হায়দ্রাবাদ ও মারাঠা রাজ্যগুলো কোম্পানির অধীনে আসে।
• টিপু সুলতানের প্রতিক্রিয়া: টিপু সুলতান এই নীতি গ্রহণে অস্বীকার করেন, যার ফলস্বরূপ চতুর্থ মহীশূর যুদ্ধে তিনি ব্রিটিশদের কাছে পরাজিত ও নিহত হন।

⇒ লর্ড ওয়েলেসলির ভূমিকা:
• শাসনকাল: লর্ড ওয়েলেসলি ১৭৯৮ থেকে ১৮০৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
• নীতির উদ্দেশ্য: তিনি ভারত থেকে ফরাসি প্রভাব দূর করে ব্রিটিশদেরকে উপমহাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করতে চেয়েছিলেন।
• শিক্ষা সংস্কার: অসামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
• সাম্রাজ্যের শক্তি: তাঁর শাসনামল শেষ হওয়ার পরও ওয়েলেসলি ব্রিটিশদের ভারতে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে যান।

উল্লেখ্য,
- ওয়ারেন হেস্টিংস অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির সূচনা করেন। আর এই নীতি নিপুণতার সাথে ব্যাপকভাবে কার্যকর করেন লর্ড ওয়েলেসলি।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২.
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা 
  2. ময়মনসিংহ
  3. গাজীপুর
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট :
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট অবস্থিত জয়দেবপুর, গাজীপুর।
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান যা ২০৫ টির ও বেশি কৃষি বিষয়ক ফসলের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে।
- জয়দেবপুরের কেন্দ্রীয় স্টেশন ছাড়াও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ৬টি আঞ্চলিক কেন্দ্র এবং ২৪টি উপকেন্দ্র আছে।

⇒ বহুবিষয়ক কার্যক্রম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইনস্টিটিউটের ৬টি ফসলভিত্তিক গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে -
- কন্দ-ফসল গবেষণা কেন্দ্র,
- গম গবেষণা কেন্দ্র,
- উদ্যান গবেষণা কেন্দ্র,
- ডাল গবেষণা কেন্দ্র,
- তৈলশস্য গবেষণা কেন্দ্র,
- মসলা গবেষণা কেন্দ্র।

এছাড়াও,
- বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট অবস্থিত- জয়দেবপুর, গাজীপুর।
- বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট অবস্থিত- মানিক মিয়া এভিনিউ, ঢাকা।
- বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট অবস্থিত- ময়মনসিংহ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬৩.
‘মাৎস্যন্যায়’ বাংলার কোন সময়কালকে নির্দেশ করে?
  1. ৬ষ্ঠ-৭ম শতক
  2. ৭ম-৮ম শতক
  3. ৮ম-৯ম শতক
  4. ৯ম-১০ম শতক
ব্যাখ্যা

মাৎস্যন্যায়:
- ‘মাৎস্যন্যায়’ বাংলার ৭ম-৮ম শতক সময়কালকে নির্দেশ করে।

⇒ রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর থেকে পাল রাজবংশের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়কালকে মাৎস্যন্যায় বলা হয়।
- সে সময় বাংলার রাজনীতিতে চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে।
- প্রায় সমসাময়িক লিপি, খালিমপুর তাম্রশাসন এবং সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিতম কাব্যে পাল বংশের পূর্ববর্তী সময়ের বাংলার নৈরাজ্যকর অবস্থাকে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলে উল্লেখ করা হয়।
- মাৎস্যন্যায়ের সময়টি ছিল মোটামুটিভাবে ৬৫০-৭৫০ সালের মধ্যকার প্রায় ১০০ বছর।
- বাংলা অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা যখন চরমে, তখন সিংহাসনে বসেন রাজা গোপাল।
- রাজা গোপালের হাত ধরে প্রতিষ্ঠা লাভ করে পাল বংশ।
- রাজা গোপাল সিংহাসনে বসার মাধ্যমে অবসান ঘটে মাৎস্যন্যায়ের। 

উল্লেখ্য,
- সংস্কৃত শব্দ মাৎস্যন্যায়ের আক্ষরিক অর্থ ‘মাছের ন্যায়’।
- মাছেদের জগতে যেমন বড় মাছ ছোট ছোট মাছ খেয়ে ফেলে; তেমনি মানবসমাজে দুর্বলরা সবলদের হাতে, ক্ষমতাহীনরা শোষিত হয় ক্ষমতাবানদের হাতে।
- এভাবে অরাজকতা আর বিশৃঙ্খলা গ্রাস করে পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রকে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৪.
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসাবে বিএসইসি কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ৬ জুন, ১৯৯১
  2. ১৩ জুন, ১৯৯১
  3. ৩ জুন, ১৯৯৩
  4. ৮ জুন, ১৯৯৩
ব্যাখ্যা

BSEC:
- বাংলাদেশের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান BSEC-এর পূর্ণরূপ: Bangladesh Securities and Exchange Commission.
- ৮ জুন, ১৯৯৩ তারিখে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ -এর অধীনে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসাবে বিএসইসি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ সংস্থা সরকারের সহযোগিতায় তার কর্মপরিধির আওতায় পুঁজিবাজারের সামগ্রিক উন্নয়ন তথা একটি স্বয়ংক্রিয়, টেকসই ও উন্নত পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠার প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে।
- কমিশনের উদ্দেশ্য হলো গ্রাহকের পুঁজির নিরাপত্তা বিধান ও পুঁজি বাজারে বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা।
- কমিশন একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার নিয়ে গঠিত এবং চেয়ারম্যান কমিশনের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- বাজার নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন এবং সে মোতাবেক বাজার তদারকি করা কমিশনের সার্বিক দায়িত্ব।
- কমিশন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে সংযুক্ত।

⇒ বাংলাদেশে স্টক এক্সচেঞ্জ (শেয়ার বাজার) দুইটি। যথা:
• ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (১৯৫৪ সাল),
• চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (১৯৯৫ সাল)।

উৎস: BSEC ওয়েবসাইট।

৬৫.
কোন শাসকের রাজত্বকাল মুঘল ইতিহাসে 'The Age of Marble' নামে খ্যাত?
  1. আকবর
  2. জাহাঙ্গীর
  3. শাহজাহান
  4. আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা

সম্রাট শাহজাহান:
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের পুত্র ছিলেন সম্রাট শাহজাহান। 
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর শাহজাহান ১৬২৮ খ্রি. ১৪ ফেব্রুয়ারি গাজী উপাধি নিয়ে সিংহাসনে বসেন। 
- শাহজাহানের রাজত্বকাল মুঘল ইতিহাসের স্বর্ণময় এক অধ্যায়।
- তিনি ছিলেন তার পূর্ববর্তী শাসকদের মতই সামরিক প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনায় দক্ষ এক নৃপতি।
- তার সময়কাল মুঘল ইতিহাসের চিত্রকলা ও স্থাপত্যের স্বর্ণযুগ বলে বিবেচিত ও প্রশংসিত। 
- মুঘল ইতিহাসে তিনি প্রিয়তমা পত্নীর স্মৃতিতে তাজমহলের স্রষ্টা ও 'Prince of builders' নামে আজও বিখ্যাত হয়ে আছেন।

⇒ মুঘল ইতিহাসে শাহজাহানের রাজত্বকাল "The Age of Marble" নামে খ্যাত।
- সম্রাট শাহজাহান ছিলেন শিল্পকলা, স্থাপত্য ও সৌন্দর্যের পূজারী। তিনি ছিলেন ভারতবর্ষের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। তিনি ইতিহাসে "The Prince of Builders or Engineer King" নামে পরিচিত। তার স্থাপত্যরীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল তিনি লাল পাথরে স্থলে মূল্যবান শ্বেত মর্মম পাথর (White marbel) ব্যবহার করেছেন।
- তার রাজত্বকালে দিল্লি, আগ্রা, লাহোরে ব্যাপক স্থাপত্য শৈলী তৈরী করা হয়েছিল।
- কাবুল, কান্দাহার ও কাশ্মিরে মনোরম উদ্যান, প্রাসাদ, মসজিদ ইত্যাদি নির্মিত হয়েছিল।
- রাজধানী আগ্রাতে তিনি নির্মাণ করেছিলেন দীউয়ান-ই-আম, দীউয়ান-ই-খাস, মোতি মসজিদ, সালিমার উদ্যান, শীষ মহল ইত্যাদি।
- শাহজাহান ১৬৩৮ খ্রি. রাজধানী আগ্রা হতে দিল্লিতে স্থানান্তর করেন এবং নতুন নগরীর নাম দেন শাহজাহানাবাদ। এখানে তিনি লালকেল্লা, মমতাজ মহল ইত্যাদি নির্মাণ করেন।
- তার মসজিদ স্থাপত্যের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ছিল দিল্লির জামে মসজিদ।
- এছাড়াও তিনি বহু মূল্যবান রত্ন খচিত জগৎবিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন তৈরি করেন।

⇒ সম্রাট শাহজাহানের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হল আগ্রার তাজমহল। সম্রাট তার প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য বিশ হাজার দক্ষ শিল্পী ও কারিগর সুদীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ এই সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন। ভারতীয় ও পারসিক শিল্পকলার মিলন ঘটিয়ে তাজমহল নির্মিত হয়েছে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬.
বাংলাদেশ কবে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে?
  1. ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪
  2. ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪
  3. ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪
  4. ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ:
- বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যে সম্পর্কের সূত্রপাত ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়েই।
- এপ্রিলে ভারত সরকার জাতিসংঘের কাছে শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা দিতে অনুরোধ জানায়। এই অনুরোধে তৎকালীন জাতিসংঘ মহাসচিব কুর্ট ওয়াল্ডহেইম উদ্যোগী হন। 
- জাতিসংঘ মহাসচিব উ থান্ট ১৯৭১ সালের গণহত্যাকে মানব ইতিহাসে অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে ঘোষণা করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ মুক্ত হয়। 

⇒ বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ৮ আগস্ট সদস্য পদের জন্য আবেদন পাঠিয়েছিল, তবে ১১ আগস্ট নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বাংলাদেশের আবেদনটি পুনরায় বিবেচনার জন্য ২১ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করতে সব সদস্যই সম্মত হয়।
- ২৩ আগস্ট বাংলাদেশকে জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য যুক্তরাজ্য, ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুগোস্লাভিয়া সমর্থিত একটি প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদে উপস্থাপন করা হয়।
- কিন্তু ২৫ তারিখে চীন ওই প্রস্তাবে ভেটো প্রয়োগ করার ফলে ওই সময় বাংলাদেশের পক্ষে জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভ করা সম্ভব হয়নি। 

⇒ ১৯৭৪ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ পুনরায় আবেদন করে।
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে ২৯তম অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।
- বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬ তম সদস্য।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৬৭.
পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৯৬ সালে
  2. ১৯৯৭ সালে
  3. ১৯৯৮ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা

পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ):
- দারিদ্র্য বিমোচন সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও সর্বাধিক অগ্রাধিকার প্রাপ্ত একটি কার্যক্রম।
- এই কার্যক্রমকে সফলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৯৯ সালের নভেম্বর মাসে জাতীয় সংসদে গৃহীত আইনের মাধ্যমে “পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ)” প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- পিডিবিএফ একটি সংবিদিবদ্ধ, স্ব-শাসিত, অমুনাফাকাঙ্ক্ষী, আত্মনির্ভরশীল, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

⇒ পিডিবিএফ সৃষ্টির গোড়ায় ছিল আরডি-২ আরপিপি, আরডি-১২ প্রকল্প এবং পল্লী বিত্তহীন কর্মসূচী।
- ১৯৮৪ সাল থেকে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কানাডিয়ান সিডার আর্থিক ও কারিগরী সহায়তায় এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করে আসছিল।
- সরকারী সেক্টরে এগুলিই সর্বপ্রথম বিত্তহীন কল্যাণ প্রোগ্রাম যা পরবর্তীতে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) নামে একটি স্বশাসিত স্থায়ী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে।

⇒ মাইক্রোফাইনেন্স আন্দোলনে দেখানো হয়েছে যে আর্থিক পন্য তাদের কিছু চাহিদা প্রদান করলেও একটি সমৃদ্ধ বাজার দারিদ্র্যের ভিতর আছে। দরিদ্ররা যে কোন অথনীতিতে একটি সক্রিয় গ্রুপ। পিডিবিএফ দেখিযেছে যে তাদের চাহিদা পূরন করানোর পাশাপাশি সহায়ক প্রতিষ্ঠান লাভবান ও হতে পারে। পিডিবিএফ ক্ষুদ্র ঋন এর পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋন (SELP) পরিচালনা করে যাতে করে গ্রামীন বঞ্চিত মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হয়।

উৎস: পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন ওয়েবসাইট।

৬৮.
শহীদ আবু সাঈদ জুলাই আন্দোলনে কোথায় শহীদ হয়েছিলেন?
  1. ঢাকা 
  2. খুলনা 
  3. রংপুর 
  4. কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা

শহীদ আবু সাঈদ:
- রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
- ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তিনি রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন।
- ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান হাসিনা।

উৎস: i) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দৈনিক ইনকিলাব।

৬৯.
সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে ইংরেজরা কোথায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে?
  1. হুগলি
  2. সুরাট
  3. মাদ্রাজ
  4. মুম্বাই
ব্যাখ্যা

ইংরেজদের আগমন ও ক্ষমতা বিস্তার:
- পর্তুগিজ ও ওলন্দাজ বণিকদের বাণিজ্যিক সাফল্য ও এদেশের বিপুল ধন-সম্পদের বর্ণনা ইংরেজ বণিকদের মনে এদেশে বাণিজ্য করার আগ্রহ সৃষ্টি করে।
- ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইংল্যান্ডের রানী এলিজাবেথের কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদী সনদ নিয়ে এদেশে বাণিজ্য করতে আসে। 
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে তারা ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে মুম্বাইয়ের নিকট সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৬১৫ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ রাজদূত স্যার টমাস রো সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে এসে ইংরেজদের বাণিজ্যের জন্য কিছু সুবিধা আদায় করেন।
- পর্তুগিজরা বাংলা থেকে বিতাড়িত হলে ইংরেজগণ বালেশ্বরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে এবং করমণ্ডল উপকূলে কিছু জমি নিয়ে একটি দুর্গ নির্মাণ করে এবং এ দুর্গই পরে মাদ্রাজ শহরে পরিণত হয়।
- ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দে জলপথে ইংরেজগণ হুগলিতে আসে এবং বাংলার সুবেদার শাহ সুজার অনুমতি নিয়ে ১৬৫১ খ্রিস্টাব্দে সেখানে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে।

⇒ ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস ১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানিকে মুম্বাই ইজারা দেন।
- ১৬৯০ খ্রিস্টাব্দে জব চার্নক ভাগীরথী নদীর তীরে ১২০০ টাকার বিনিময়ে কলকাতা, সূতানটি ও গোবিন্দপুর এ তিনটি গ্রামের জমিদারী স্বত্ব কিনে নেন।
- পরবর্তীকালে উপমহাদেশের ভাগ্য নির্ধারণকারী দুর্গ ফোর্ট উইলিয়াম এখানেই নির্মিত হয়।
- ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট ফররুখশিয়ারের অনুমতি নিয়ে ইংরেজগণ বাংলা, মাদ্রাজ ও মুম্বাইয়ে বিনা শুল্কে অবাধ বাণিজ্য করতে থাকে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭০.
বাংলাদেশে সমুদ্র মৎস্যক্ষেত্র রয়েছে -
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

মৎস্য সম্পদ:
- সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তর হিসাব অনুযায়ী, সামুদ্রিক মৎস্য পণের মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশী রপ্তানি করে চিংড়ি।
- বর্তমানে বিশ্বের ৫৬ টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের মাছ।
- সমুদ্র থেকে বানিজ্যিকভাবে আহরিত মৎস্য প্রজাতির মধ্যে চিংড়ি ছাড়া রয়েছে সার্ডন, ইলিশ, পোয়া, রূপচান্দা ও দাতিনা ইত্যাদি।

⇒ বাংলাদেশে সমুদ্র মৎস্যক্ষেত্র রয়েছে ৪টি।
- সেগুলো হচ্ছে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড, মিডল গ্রাউন্ড, সাউথ প্যাচেন ও সাউথ অব সাউথ প্যাচেস।

⇒ সমুদ্র অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, উপকূলব্যাপী ৭১০ কিমি দীর্ঘ তটরেখা থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত একান্ত অর্থনৈতিক এলাকয় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ উন্নয়নের বিশাল সুযোগ রয়েছে।
- এই এলাকায় মৎস্য আহরন মোট ১৮৭ ও চিংড়ি আহরণে মোট ৩৮ টি ট্রলার অর্থাৎ সর্বমোট ২২৫ টি বাণিজ্যিক ট্রলার বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে মৎস্য সম্পদ আহরণে নিয়োজিত রয়েছে।
- এর বাইরে মোট ৫২ হাজার ৫১৪ টি যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক নৌযানে মৎস্য আহরনে নিয়োজিত প্রায় ২ দশমিক ৭০ লাখ মৎস্যজীবীর পরিবারের ন্যূনতম ১৩ দশমিক ৫০ লাশ মানুষের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭১.
চা বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত চা বাগানের সংখ্যা কতটি? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. ১৭০টি
  2. ১৭১টি
  3. ১৭২টি
  4. ১৭৩টি
ব্যাখ্যা

বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত চা বাগান:
- চা বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত চা বাগানের সংখ্যা ১৭১টি।
- দেশে সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে মৌলভীবাজার জেলায়। মৌলভীবাজার জেলায় ৯০টি চা বাগান রয়েছে।
- বর্তমানে দেশে ৩টি চা নিলাম কেন্দ্র রয়েছে (চট্টগ্রাম, শ্রীমঙ্গল, পঞ্চগড়)।

⇒ ১৮০০ শতাব্দীর প্রথম ভাগে ভারতবর্ষের আসাম ও তৎসংলগ্ন এলাকায় চা চাষ শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী নদীর তীরে চা আবাদের জন্য ১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দে জমি বরাদ্দ হয়।
- ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম শহরের বর্তমান চট্টগ্রাম ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় একটি চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যা কুন্ডদের বাগান নামে পরিচিত।
- সিলেটের মালনীছড়ায় প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ শুরু হয় ১৮৫৭ সালে।
- দেশ স্বাধীনের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশে শুধুমাত্র দুইটি জেলায় চা আবাদ করা হতো। একটি সিলেট জেলায় যা ‘সুরমা ভ্যালি' নামে পরিচিত ছিল, আর অপরটি চট্টগ্রাম জেলায় যা ‘হালদা ভ্যালি' নামে পরিচিত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশ চা বোর্ড ওয়েবসাইট।

৭২.
বাংলাদেশের মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কত? [কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪]
  1. ৩,৯২,৯৬,০০০ একর
  2. ১,৯৮,২৯,০০০ একর
  3. ৪,৪৮,২৯,০০০ একর
  4. ৬৩,৬৩,০০০ একর
ব্যাখ্যা

এক নজরে কৃষি পরিসংখ্যান:
- মোট আবাদযোগ্য জমি (Gross Cropped Area): ৩,৯২,৯৬,০০০ একর (১,৫৯,০৩,০০০ হেক্টর)।
- মোট আবাদী জমি (Net Cropped Area): ১,৯৮,২৯,০০০ একর (৮০,২৮,০০০ হেক্টর)।
- এক ফসলি জমি: ৫০,৪৯,০০০ একর (২০,৪৪,০০০ হেক্টর)।
- দুই ফসলি জমি: ১,০১,৪০,০০০ একর (৪১,০৫,০০০ হেক্টর)।
- তিন ফসলি জমি: ৪৫,৯৩,০০০ একর (১৮,৫৯,০০০ হেক্টর)।
- চার ফসলি জমি: ৪৭,০০০ একর (১৯,০০০ হেক্টর)।
- আবাদযোগ্য নয় এমন জমির পরিমাণ: ৮৩, ৫৮,০০০ একর।
- বনাবচল: ৬৩,৬৩,০০০ একর।
- মোট জমির পরিমাণ: ৩,৬৪,৬৫,০০০ একর।
- মোট খাদ্যশস্য: ৪,৪৮,২৯,০০০ মেট্রিক টন।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

৭৩.
জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ অনুসারে, কোনটি অগ্রাধিকার প্রাপ্ত শিল্প?
  1. হস্ত ও কারু শিল্প তাঁতজাত শিল্প
  2. ইলেকট্রিক ও ইলেক্টনিক শিল্প
  3. মৎস্য শিল্প
  4. চা শিল্প
ব্যাখ্যা

অগ্রাধিকার শিল্প:
- 'অগ্রাধিকার শিল্প (Priority Sector)' বলতে সে সমস্ত শিল্প গণ্য হবে যে শিল্পখাতগুলো বিকাশমান এবং ক্রমবর্ধমানভাবে দেশের সামগ্রিক রপ্তানিতে অবদান রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
- কোন কোন শিল্পখাত/শিল্প উপ-খাত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্পখাত/উপ-খাত হিসেবে চিহ্নিত হবে তা সময়ে সময়ে সরকার কর্তৃক ঘোষিত হবে।

⇒ অগ্রাধিকার প্রাপ্ত শিল্পখাতসমূহ:
- বৈদেশিক কর্মসংস্থান, পরিবেশসম্মত জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, পর্যটন শিল্প, হোম টেক্সটাইল শিল্প, উইন্ড মিল, ভেষজ ঔষধ শিল্প, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, এলইডি, সিএফএল বাল্ব উৎপাদন, চা শিল্প, বীজ শিল্প, প্রসাধনী ও টয়লেট্রিজ, সিমেন্ট শিল্প, লজিস্টিকস শিল্প খাত।

অন্যদিকে,
⇒ বিশেষ উন্নয়নমূলক শিল্পখাত:
- ইলেকট্রিক ও ইলেক্টনিক শিল্প; সিরামিক শিল্প; মৎস্য শিল্প; প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং শিল্প; জুয়েলারি শিল্প; পেপার ও পেপার প্রোডাক্টস; রাবার শিল্প; রেশম শিল্প; হস্ত ও কারু শিল্প তাঁতজাত শিল্প; সোলার এনার্জি; কাজুবাদাম (কাঁচা এবং প্রক্রিয়াকৃত); জীবন্ত ও প্রক্রিয়াজাত কাঁকড়া; খেলনা শিল্প; আগর শিল্প। হালাল মাংস ও মাংসজাত পণ্য এবং অন্যান্য হালাল পণ্য, রিসাইকেল্ডড পণ্য।

উৎস: জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২।

৭৪.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ অনুসারে, কোন খাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ বেশি?
  1. কৃষি
  2. পরিবহন
  3. শিল্প
  4. সেব
ব্যাখ্যা

খাতভিত্তিক কর্মসংস্থান:
⇒ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সেক্টরগুলোর মধ্যে -
• কৃষি খাতের অবদান ১০.৯৪%।
- কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির হার ১.৭৯%।
- কৃষি খাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ: ৪৪.৬৭%।

• শিল্প খাতের অবদান ৩৭.৪৪%।
- শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৪.৩৪%।
- শিল্পখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ: ১৭.৩৭%।

• সেবা খাতের অবদান ৫১.৬২%।
- সেবা খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৪.৫১%।
- সেবাখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ: ৩৭.৯৬%।

⇔ কর্মসংস্থানের দিক থেকে বৃহৎখাত কৃষিখাত এবং ছোট খাত শিল্পখাত।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫।

৭৫.
কোন সিটি কর্পোরেশন দেশে প্রথমবারের মতো বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে?
  1. ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন
  2. ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন
  3. চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন
  4. নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন
ব্যাখ্যা

আমিনবাজার বর্জ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প:
- বাংলাদেশের প্রথম বর্জ্য থেকে শক্তি বিদ্যুৎ কেন্দ্র আমিনবাজার বর্জ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প।
- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে দেশে প্রথমবারের মতো বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,
- তুরাগ নদের কাছাকাছি আমিনবাজার এলাকায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ শুরু হয়েছে।
- প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিএমইসি)।
- ২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর সিএমইসির সঙ্গে চুক্তি সই করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।
- প্রকল্পটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা: ৪২.৫ মেগাওয়াট।
- প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয়:  ১৫ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা।
- ২০২৬ সালের মধ্যে এ প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।

⇒ এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি দিন ৩ হাজার টন বর্জ্য পোড়ানোর মাধ্যমে ৪২ দশমিক ৫ মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
- বর্জ্য পোড়ানোর ফ্লাই অ্যাশ বা ছাই সিমেন্ট কারখানায় সিমেন্ট তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
- বটম অ্যাশ সড়ক নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত হবে।
- এ কেন্দ্র থেকে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা (প্রতি ইউনিট) বিদ্যুৎ ১৮.২৯৫ টাকার সমপরিমাণ ২১ দশমিক ৭৮ সেন্ট দিয়ে কিনবে বিপিডিবি।

উৎস: i) Business Insider.
ii) প্রথম আলো।

৭৬.
স্বাধীনতার পর কত সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্বকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন।
- ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরপরই স্যার এ. এফ. রহমানের উদ্যোগে তিন আবাসিক হলে (মুসলিম হল, জগন্নাথ হল ও ঢাকা হল) ছাত্র সংসদ গঠন করা হয়।
- এরই ধারাবাহিকতায় পরে গঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে (ডাকসু) তার ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণে বাংলাদেশের 'দ্বিতীয় সংসদ' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা দাবি, ১৯৬৯ সালের গণ–অভ্যুত্থান কিংবা নব্বইয়ের এরশাদবিরোধী আন্দোলন—প্রতিটি ঐতিহাসিক সংগ্রামে ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছে এবং ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছে।

⇒ হল ছাত্র সংসদের সাফল্যের পর ১৯২২-২৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (Dacca University Student's Union) গঠিত হয়। প্রত্যেক হল থেকে তিনজন ছাত্র এবং একজন শিক্ষক আর উপাচার্যের মনোনীত একজন শিক্ষক এই নিয়ে সংসদ। শিক্ষকদের মধ্যে একজন সভাপতি হতেন।
- ১৯৪৪-৪৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্র সংসদের নতুন গঠনতন্ত্র অনুমোদন করে। এই গঠনতন্ত্রের অধীনে ১৯৪৫-৪৬ সালে উপাচার্য পিজে হার্টগ পদাধিকারবলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সভাপতি হন।

স্বাধীনতার পর ডাকসুর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালে।
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ডাকসুর সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন থেকে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মাহবুবুর জামান।

উলেখ্য,
- ২০২৫ সালে ৩৮তম ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উৎস: i) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট। 
ii) The Daily Star Bangla.

৭৭.
প্রথম Genetically Modified (GM) খাদ্য ফসল কোনটি?
  1. Bt-বেগুন
  2. Bt-আলু
  3. Bt-মিষ্টি কুমড়া
  4. Bt-টমেটো
ব্যাখ্যা

প্রথম Genetically Modified (GM) খাদ্য ফসল:
- জি. এম. বা জেনেটিক্যালি মডিফায়েড হলো উদ্ভিদের বা ফসলের জিনকে মডিফাই বা পরিবর্তন করে ঐ ফসলের ফলন বাড়ানো। আর এভাবে উৎপাদিত ফসলকে জি.এম. ফসল বলা হয়। 
- হাইব্রিড সব ফসলই জি.এম. ফসল। তবে এই ধরনের ফসল প্রাকৃতিক প্রতিরূপ ফসলের তুলনায় বিষাক্ত বা কম পুষ্টি হতে পারে।

⇒ বর্তমানে জেনেটিক মডিফিকেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন ফসলের রোগ বালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও উৎপাদনে উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব হয়েছে। 
- বাংলাদেশে সরকার অনুমোদিত প্রথম জিনগতভাবে পরিবর্তন (GM) খাদ্য ফসল হলো বিটি বেগুন (Bt Brinjal)।
- এটি ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সরকার কৃষকদের মাঝে বিতরণের জন্য অনুমোদন দেয়

⇒ Bt-বেগুন: 
- Bacillus thuringiensis নামক একটি সয়েল ব্যাকটেরিয়া থেকে ক্রিস্টাল প্রোটিন জিন বেগুনের জিনোমে অন্তর্ভুক্ত করে উৎপন্ন বেগুনের নাম দেয়া হয়েছে Bt-বেগুন।
- সাধারণ বেগুন ও Bt-বেগুনের মধ্যে পার্থক্য হলো এক প্রকার পোকা সাধারণ বেগুন গাছের কচি ডগা ও ফল ছিদ্র করে নষ্ট করে ফেলে যার ফলে ফলন দারুণভাবে হ্রাস পায়। 
- পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করার জন্য কৃষককে প্রতি সিজনে ৬০-১৮০ বার পোকানাশক ওষুধ স্প্রে করতে হয়। 
- Bt-বেগুনে ঐ পোকার আক্রমণ হবে না, তাই পোকানাশক ওষুধও স্প্রে করতে হবে না।

⇒ Bt-বেগুন চাষের গুরুত্ব:
১। পোকানাশক ওষুধ কিনতে হবে না এবং স্প্রে করতে হবে না। এতে লক্ষ লক্ষ টাকা উৎপাদন খরচ কম হবে।
২। যারা বেগুন খান তারাও ঐ বিষ দ্বারা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হবেন না এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে বেঁচে যাবেন।
৩। মাটি ও পরিবেশ বিষমুক্ত থাকবে।
৪। আশেপাশের জলাশয় বিষমুক্ত থাকবে এবং জলজ পরিবেশের স্বাভাবিক উৎপাদন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
৫। উৎপাদন বাড়বে।

উৎস: i) উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। 

৭৮.
সেন আমলে প্রবর্তিত 'কৌলিন্য প্রথা' কীসের সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. ভূমি সংস্কার
  2. রাজস্ব নীতি
  3. সামরিক ব্যবস্থা
  4. সামাজিক ও বর্ণ সমীকরণ আইন
ব্যাখ্যা

কৌলিন্য প্রথা:
- কৌলিন্য প্রথা বলতে বোঝায়, যে কোনো জাতি বা গোষ্ঠী বা বর্ণ বা সম্ভ্রান্ত বংশ যারা সামাজিক সম্মান ভোগ করে এবং ঐতিহ্যগতভাবে নিজেদের সামাজিক অবস্থান এবং ‘কুল’ পরিচিতি ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। 
- সেন আমলে বল্লাল সেন কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন।

⇒ কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- বাংলাদেশে কৌলিন্য প্রথার বহুল প্রচলন দেখা যায় আঠারো ও উনিশ শতকে।
- ব্রাহ্মণগণ এ প্রথা প্রবর্তনের উদ্যোক্তা ছিলেন।
- তাঁরা তাঁদের দাবি প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এ প্রথার একটি ঐতিহাসিক ভিত্তি দেখানোর জন্য প্রচার করেন যে, সেন আমলে বল্লাল সেন কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৯.
যমুনা রেলসেতুতে কোন ধরনের রেললাইন নির্মাণ করা হয়েছে?
  1. মিটার গেজ সিঙ্গেল লাইন
  2. মিটার গেজ ডাবল লাইন
  3. ব্রড গেজ সিঙ্গেল লাইন
  4. ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন
ব্যাখ্যা

যমুনা রেলসেতু:
- যমুনা সেতু দেশের দীর্ঘতম রেলসেতু। 
- সেতুটি টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জকে সংযুক্ত করেছে।
- সেতুর দৈর্ঘ্য ৪.৮ কিলোমিটার।
- সেতুর মোট স্প্যান ৪৯টি।
- সেতুর মোট পিলার রয়েছে ৫০টি।
- সেতুটিতে ডুয়েল গেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ করা হয়েছে।
- সেতুর ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচল করতে পারবে।
- ১৮ মার্চ, ২০২৫ তারিখে যমুনা সেতু আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- যমুনা রেলসেতু প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা)।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) সেতু বিভাগ ওয়েবসাইট।

৮০.
নিচের কোনটি সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংকে একীভূত হওয়া ব্যাংকের তালিকায় নেই?
  1. ফাস্ট সিকিউরিটি ব্যাংক
  2. ইউনিয়ন ব্যাংক
  3. সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক
  4. আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক
ব্যাখ্যা

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংকে একীভূত হওয়া ব্যাংকের তালিকায় নেই। 

সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক:
- ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে নামকরণ করা হয় সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক (Sammilito Islami Bank Limited)। 
- ব্যাংকগুলো হচ্ছে: ফাস্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক।

⇒ সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ হবে এই ব্যাংকের মালিক। আগে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করা হবে। তারপর যৌথ মূলধনী কোম্পানিজ ও ফার্মগুলো থেকে কোম্পানির নিবন্ধন নেওয়া হবে। তারপর ওই কোম্পানির নামে নতুন ব্যাংক ব্যবসার লাইসেন্স নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করা হবে।

⇒  ৯ অক্টোবর পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার প্রস্তাব অনুমোদন করে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। এতে সিদ্ধান্ত হয়, নতুন ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন হবে ৪০ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি। পরিশোধিত মূলধনের ২০ হাজার কোটি টাকা দেবে সরকার। 

উৎস: i) BRAC EPL.
ii) প্রথম আলো।

৮১.
দেশের প্রথম সেচ প্রকল্প কোনটি?
  1. ফেনি সেচ প্রকল্প
  2. তিস্তা সেচ প্রকল্প
  3. কাপ্তাই সেচ প্রকল্প
  4. গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প
ব্যাখ্যা

গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প:
- গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি. কে. সেচ প্রকল্প) বাংলাদেশের একটি অন্যতম বৃহৎ সেচ প্রকল্প।
- এটি দেশের প্রথম সেচ প্রকল্প। 
- গঙ্গা নদীর দক্ষিণ তীরের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে (বাংলাদেশের ভূখন্ডে) সেচের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গৃহীত একটি প্রকল্প।
- ১৯৫৪ সালে সেচ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয় এবং ১৯৬৯ সালে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।
- জি.কে প্রকল্পের আওতাভূক্ত অঞ্চল: কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ এবং মাগুরা (উল্লিখিত চারটি জেলার সর্বমোট ১৩টি উপজেলায় এ কার্যক্রম বিস্তৃত)।

অন্যদিকে -
- মুহুরী প্রকল্প বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্প। ১৯৭৭-৭৮ অর্থ বছরে মুহুরী সেচ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং ১৯৮৫-৮৬ অর্থ বছরে এই সেচ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।
- ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নে ২০০৬ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সময়ে ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের কাজ বাস্তবায়িত হয়।
- তিস্তা সেচ প্রকল্প হলো বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প। এর কাজ শুরু হয় ১৯৭৯ সালে এবং শেষ হয় ১৯৯০ সালে।
- মেঘনা ধনাগোঙ্গা সেচ প্রকল্প : চাঁদপুরের মতলবে অবস্থিত।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।

৮২.
বাংলায় সেন বংশের শাসনকাল কত ছিল?
  1. ৮০ বছর
  2. ১০০ বছর
  3. ১৫০ বছর
  4. ২০০ বছর
ব্যাখ্যা

বাংলায় সেন বংশের শাসন:
- বাংলার ইতিহাসে সেন রাজাদের উত্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি অধ্যায়।
- ১০৭০ থেকে ১২৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ১৫০ বছর সেনরা বাংলায় রাজত্ব করে। 
- পালদের পতনের পর বাংলায় সেন রাজবংশের উত্থান ঘটে।
- সেন রাজবংশ তাদের শাসনামলে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকা নিজেদের দখলে আনে।
- ১০৭০ থেকে ১২৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত হেমন্ত সেন, বিজয় সেন, বল্লাল সেন, লক্ষ্মণ সেন, বিশ্বরূপ সেন, কেশব সেন রাজ্য পরিচালনা করেন।

⇒ বাংলার সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সামন্ত সেন।
- সামন্ত সেন কোনো রাজ্য প্রতিষ্ঠা না করায় সেন বংশের প্রথম রাজার মর্যাদা দেওয়া হয় সামন্ত সেনের পুত্র হেমন্ত সেনকে।
- এই বংশের শেষ রাজা ছিলেন লক্ষ্মণ সেন।
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজী নদীয়া আক্রমণ করলে তিনি প্রতিরোধ না করে মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর পালিয়ে আসেন।
- এই অঞ্চলে তিনি আরো ২/৩ বছর রাজত্ব করেন।

⇒ ১২০২ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করেন। সে সময় সেনদের অস্থায়ী রাজধানী ছিল নদীয়ায়। নদীয়ায় আক্রমণ করা হলে লক্ষ্মণ সেন পূর্ববঙ্গে পালিয়ে যান। এরপর লক্ষ্মণ সেনের মৃত্যু হলে সেনরা দুর্বল হতে শুরু করে। সামন্ত বিদ্রোহের ফলে বাংলায় সেনদের পতন ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৩.
বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন কোনটি?
  1. বিজিএমইএ (BGMEA)
  2. বিকেএমইএ (BKMEA)
  3. এফবিসিসিআই (FBCCI)
  4. ডিসিসিআই (DCCI)
ব্যাখ্যা

এফবিসিসিআই:
- FBCCI-এর পূর্ণরূপ: The Federation of Bangladesh Chambers of Commerce and Industry (FBCCI).
- এটি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন
- এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও চেম্বারসমূহকে একত্রিত করে সামগ্রিক ব্যবসা উন্নয়নে কাজ করা।
- দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ১৯৭৩ সালে ট্রেড অর্গানাইজেশন অর্ডিন্যান্স অ্যান্ড কোম্পানি অ্যাক্ট, ১৯১৩- এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- এফবিসিসিআই দেশব্যাপী চেম্বার ও সমিতিসমূহ গঠনে সহায়তা প্রদান করে এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ, শিল্প-বাণিজ্য, কৃষি, পর্যটন, মানবসম্পদ এবং যোগাযোগসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।
- ফেডারেশন অভিন্ন স্বার্থের প্রশ্নে দেশের শিল্প, বাণিজ্য ও বণিক সমিতিসমূহের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে।
- এফবিসিসিআই শিল্প ও বাণিজ্য মেলা আয়োজনে দেশের বিভিন্ন বণিক সমিতির সঙ্গে কাজ করে।
- এফবিসিসিআই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ফোরামের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের শিল্প-বাণিজ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে বহির্বাণিজ্য সম্পর্ক স্থাপনে ভূমিকা পালন করে।
- বিদেশী বিনিয়োগ ও যৌথ বিনিয়োগ সহযোগী নির্বাচনে কাজ করে এফবিসিসিআই।
- দেশের শিল্প ও বাণিজ্য স্বার্থ সংরক্ষণে এফবিসিসিআই সদস্য হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনসমূহের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে।
- এফবিসিসিআই বিভিন্ন দেশের জাতীয় বাণিজ্য সংস্থাসমূহের সঙ্গে যৌথ চেম্বার/সহযোগিতা চুক্তি করেছে।

উৎস: এফবিসিসিআই ওয়েবসাইট।

৮৪.
বিশ্বে আহরিত মোট ইলিশের কত শতাংশ বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. প্রায় ৬৬ শতাংশ
  2. প্রায় ৭২ শতাংশ
  3. প্রায় ৮০ শতাংশ
  4. প্রায় ৯২ শতাংশ
ব্যাখ্যা

ইলিশ:
- জাতীয় মাছ ইলিশ আমাদের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।
- বর্তমানে ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে বিশ্বে প্রথম বাংলাদেশ।
- বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশ ইলিশই হয় বাংলাদেশে।
- দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশ মাছের অবদান প্রায় ১১%।
- বাংলাদেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান ১%।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে ইলিশের চারটি প্রজনন ক্ষেত্র রয়েছে।
- দেশে ইলিশ অধ্যুষিত জেলা ৩৮টি।
- ইলিশের অভয়াশ্রম ৬টি।
- প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকে ২২ দিন।

উৎস: ।) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর।
ii) প্রথম আলো।

৮৫.
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে কয়টি ধানের শীষ আছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক:
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক গ্রহণ করা হয়।
- এ প্রতীক হলো পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা এবং এর উভয় পার্শ্বে একটি করে ধানের শীষ, চূড়ায় পাটগাছের পরস্পরযুক্ত তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পার্শ্বে দুটি করে মোট চারটি তারকা। 
- পানি, ধান ও পাট প্রতীকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে বাংলাদেশের নিসর্গ ও অর্থনীতি। এ তিনটি উপাদানের ওপর স্থাপিত জলজ প্রস্ফুটিত শাপলা হল অঙ্গীকার, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক।
- তারকাগুলোতে ব্যক্ত হয়েছে জাতির লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা।
- জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার পটুয়া কামরুল হাসান।
- সংবিধানের প্রথম ভাগ (প্রজাতন্ত্র) অনুচ্ছেদে : ৪ (৩)-এ জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে বর্ণনা করা আছে।

⇒ ভাসমান শাপলাটি এঁকেছেন মোহাম্মদ ইদ্রিস ও এর দুই পাশে ধানের শীষবেষ্টিত পাটপাতা ও চারটি তারকা যুক্ত করেছেন শামসুল আলম।
- কামরুল হাসান ও তাঁর দলের করা এই প্রতীকটি জাতীয় প্রতীক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয় ১৯৭২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি।
- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি মূলনীতি।
- জাতীয় প্রতীকের চারটি তারকা চিহ্ন দিয়ে এই চারটি মূলনীতিকেই বোঝানো হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৮৬.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ অনুসারে, কোন পণ্যটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণে রপ্তানি হয়?
  1. কৃষিজাত পণ্য
  2. পাটজাত পণ্য
  3. নিটওয়্যার
  4. হিমায়িত খাদ্য
ব্যাখ্যা

রপ্তানি পরিস্থিতি:
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৪৮,৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় অর্জিত হয় যা পূর্ববর্তী অর্থবছর ২০২৩-২৪ এর তুলনায় ৮.৬০ শতাংশ বেশি।
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে নিটওয়্যার, হস্ত শিল্পজাত দ্রব্য এবং রাসায়নিক দ্রব্যাদির উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

⇒ প্রধান প্রাথমিক পণ্য:
১। কৃষিজাত পণ্য: ৮৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। 
২। হিমায়িত খাদ্য: ৪৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৩। কাঁচাপাট: ১৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৪। চা: ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

⇒ প্রধান শিল্পজাত পণ্য:
১। নিটওয়্যার: ২১,১৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২। তৈরি পোশাক (ওভেন): ১৮,১৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। 
৩। পাটজাত পণ্য: ৭৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। 
৪। প্রকৌশল দ্রব্য: ৫৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৫। জুতা: ৬২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৬। রাসায়নিক দ্রব্য: ২২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৭। চামড়া: ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৮। হস্ত শিল্পজাত দ্রব্য: ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

⇒ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- একক পণ্য হিসাবে নীটওয়্যার সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়। 
- রপ্তানিতে ‘প্রাথমিক পণ্য’-এর অবদান/রপ্তানির হার ৩.২৭% এবং ‘শিল্পজাত পণ্য’-এর অবদান/রপ্তানির হার – ৯৬.৭৩%।
- প্রাথমিক পণ্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে  ‘কৃষিজাত পণ্য’। 

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫। 

৮৭.
শশাঙ্ক কোন শতকে গৌড়ে স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ষষ্ঠ শতকে
  2. সপ্তম শতকে
  3. অষ্টম শতকে
  4. নবম শতকে
ব্যাখ্যা

গৌড় নগরী:
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৩০ অব্দে মালদহ অঞ্চলে ভোজ বংশীয় গৌড় নামক জনৈক ব্যক্তি যে রাজ্যের পত্তন করেছিলেন কালক্রমে তাই গৌড় রাজ্য নামে পরিচিত হয়।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল গৌড় রাজ্যের রাজধানী। 
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ - পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে গৌড়ের নাম লখনৌতি (প্রদেশের নামে) পরিচিতি পায়।

⇒ শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮.
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক কবে কার্যক্রম শুরু করে?
  1. ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ
  2. ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর
  3. ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি
  4. ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ব্যাংক:
- বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। 
- বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের মুদ্রা ব্যবস্থাপনার প্রবর্তক ও নিয়ন্ত্রক, আর্থিক খাতের রেগুলেটর এবং ব্যাংকের ব্যাংক।
- এটি মুদ্রানীতি ও ব্যাংকিং বিষয়ক সরকারের পরামর্শদাতা এবং 'সরকারের ব্যাংক বা কোষাগার' হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে।

⇒ বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ (১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ১২৭) এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হলেও এর কার্যক্রম শুরুর তারিখ ধরা হয় ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর অর্থাৎ বিজয় দিবস থেকে।
- এর পূর্বে ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির ২৬ নম্বর অধ্যাদেশ বলে এদেশে কার্যরত বারোটি বাণিজ্যিক ব্যাংককে জাতীয়করণ এবং পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে রূপ দেয়া হয়।
- তবে বিদেশি ব্যাংকগুলোকে জাতীয়করণের আওতামুক্ত রাখা হয়। এছাড়া তদানীন্তন দু'টি বিশেষায়িত ব্যাংক- পাকিস্তান কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও শিল্প উন্নয়ন ব্যাংককে যথাক্রমে 'বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক' এবং 'বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক' নামে নামকরণ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ৩১ অক্টোবর ১৯৭২ তারিখের অনুমোদনক্রমে জারিকৃত বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২ (রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর ১২৭/১৯৭২) এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়; যা ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হয়। দীর্ঘ নয়মাস সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়লাভের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নেয় একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ, বাংলাদেশ। সেই দিন থেকে যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের।

উৎস: বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট।

৮৯.
ভারতীয় উপমহাদেশে কাদের মাধ্যমে প্রথম আলুর চাষ শুরু হয়েছিল?
  1. ডাচ
  2. ফরাসি
  3. পর্তুগিজ
  4. ব্রিটিশ
ব্যাখ্যা

আলু:
- বাংলাদেশের আলুর আদি জাত হচ্ছে মিষ্টি আলু।
- আর গোল আলুর আদি জাত দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে।
- সপ্তদশ শতকের প্রথম দিকে পর্তুগিজ নাবিকরা ভারতবর্ষে প্রথম আলু নিয়ে আসে বলে ধারণা করা হয়।
- পর্তুগিজরা দীর্ঘ সমুদ্র যাত্রায় আলু বোঝাই করে নিয়ে আসতো। কারণ আলু সহজে পচে না। সেদ্ধ করেই খাওয়া যায়। পেট ভরা থাকে অনেকক্ষণ।

⇒ কিন্তু আলুকে ভারতবর্ষের সর্বত্র ছড়াতে কাজ করেছিল ইংরেজরা। 
- সপ্তদশ শতকের শেষ দিকে অর্থাৎ ব্রিটিশ আমলে ভারতবর্ষ তথা বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস। তিনি ১৭৭২ থেকে ১৭৮৫ সাল পর্যন্ত টানা ১৩ বছর দায়িত্বে থাকাকালে নিজ উদ্যোগে আলুর চাষ করেছিলেন। তিনি মূলত চেয়েছিলেন ভারতে কম দামে আলু চাষ করে ইউরোপে বিক্রি করতে। তার হাত ধরে ভারতের পশ্চিম উপকূলের শহর মুম্বাই বা তৎকালীন বোম্বেসহ অনেক প্রদেশে আলুর চাষ বিস্তার লাভ করে।
- ১৮৪৭ সালে ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত ‘দ্য গার্ডেনিং মান্থলি’ ম্যাগাজিনের একটি সংখ্যায় ভারতে আলু চাষ সম্পর্কে প্রথম তথ্য পাওয়া যায়।
- পরে অষ্টাদশ শতকের শেষের দিকে উত্তর ভারত ও বাংলায় ব্রিটিশরা আলুর প্রচলন করেন।

উল্লেখ্য,
- ভারতে প্রথম আলুর চাষ শুরু হয় উত্তরখণ্ড রাজ্যের পাহাড়ি এলাকা নৈনিতালে।

উৎস: i) বাংলা পিডিয়া।
ii) বিবিসি বাংলা।

৯০.
কোন বাজেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যয়ের অনুমোদন নেওয়া হয়?
  1. সুষম বাজেট
  2. উন্নয়ন বাজেট
  3. সম্পূরক বাজেট
  4. ঘাটতি বাজেট
ব্যাখ্যা

বাজেট:
- বাজেট হচ্ছে একটি দেশের এক বছরের সম্ভাব্য সব আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব-নিকাশের বিবরণী।
- কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক বছরে সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে কতটুকু আয় প্রাপ্তির আশা করে এবং বিভিন্ন খাতে কী পরিমাণ ব্যয় করতে চায়, তার সুবিন্যস্ত হিসাবকে সরকারি বাজেট বলে।
- বাংলাদেশ সরকারের একটি বাজেটের সময়কাল হচ্ছে এক অর্থবছর, যা ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ধরা হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানে বাজেট শব্দটি ব্যবহারের পরিবর্তে সমরূপ শব্দ ‘বার্ষিক আর্থিক বিবরণী’ ব্যবহার করা হয়েছে।

• সম্পূরক বাজেট:
- কোন খাতে ব্যয়ের জন্য যে টাকা বরাদ্দ করা হয় তার চাইতে বেশি ব্যয় হলে তার অনুমোদন করতে যে বিল পাশ করা হয় তাকে সম্পূরক বাজেট বলে।
- যেকোন আর্থিক বছরের শেষে এই বাজেট করা হয়। 

• সুষম বাজেট:
- যে বাজেটে আয় ও ব্যয়ের পরিমান সমান থাকে তাকে সুষম বাজেট বলে।

• অসম বাজেট:
- যে বাজেটে আয় ও ব্যয় সমান থাকে না তাকে অসম বাজেট বলে। অসম বাজেট আবার দুই প্রকার; যথা, উদ্বৃত্ত বাজেট এবং ঘাটতি বাজেট।

ক. উদ্বৃত্ত বাজেট:
- যে বাজেটে ব্যয়ের চেয়ে আয়ের পরিমাণ বেশি ধরা হয় তাকে উদ্বৃত্ত বাজেট বলা হয়।

খ. ঘাটতি বাজেট:
- যে বাজেটে আয়ের চেয়ে ব্যয়ের পরিমাণ বেশি ধরা হয় তাকে ঘাটতি বাজেট বলে।

উৎস: অর্থনীতি, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১.
দেশে মোট আবাদকৃত জমির কত শতাংশে খাদ্যশস্যের চাষ হয়? [কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪]
  1. ৭৬.১৭%
  2. ৭৮.২৫%
  3. ৮১.২৭%
  4. ৮৩.৫৬%
ব্যাখ্যা

খাদ্যশস্যের চাষ:
- মোট আবাদকৃত জমির ৭৬.১৭% অংশে খাদ্যশস্যের চাষ হয়।

উল্লেখ্য,
- আঁশ জাতীয় ফসল: ৪.৭৫% অংশে।
- তৈলবীজ: ৩.৫১% অংশে। 
- মসলা: ২.৩৫% অংশে। 
- ডাল: ২.২৭% অংশে। 
- শীতকালীন সবজি: ১.৯৭% অংশে। 
- ভেষজ ও নেশা জাতীয় দ্রব্য: ০.৯৯% অংশে। 
- চিনি জাতীয় ফসল: ০.৬২% অংশে।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

৯২.
রবি শস্য কোনটি?
  1. ভুট্টা
  2. মিষ্টি কুমড়া
  3. গম
  4. পাট
ব্যাখ্যা

কৃষিক্ষেত্রে মৌসুম:
- ফসল উৎপাদনের জন্য সারাবছরকে দুইটি মৌসুমে ভাগ করা যায়। যথা:
i) রবি মৌসুম:
- শীতকালীন শস্যকে বলে রবি শস্য। আশ্বিন থেকে ফাল্গুন হচ্ছে রবি মৌসুম। মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য মার্চ পর্যন্ত, মতান্তরে মধ্য নভেম্বর থেকে মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত সময়কালকে রবি মৌসুম বলে। গ্রীষ্মকালে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে ফসল তোলা হয়।
- বোরো ধান, গম, মসুর ডাল, যব, সরিষা, পেঁয়াজ, মটরশুঁটি ইত্যাদি ফসলকে এ মৌসুমের প্রধান শস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর, লাউ, শিম, টমেটো, আলু ইত্যাদিও এ মৌসুমে চাষ করা হয়।

ii) খরিপ মৌসুম:
- চৈত্র থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত সময়কে খরিপ মৌসুম বলে। খরিপ মৌসুমে বিশেষ করে আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাসের মধ্যে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। খরিপ মৌসুমে তাপমাত্রা ও বায়ুর আর্দ্রতা বেশি পরিলক্ষিত হয়। খরিপ মৌসুমকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা: খরিপ-১ বা গ্রীষ্মকাল এবং খরিপ- ২ বা বর্ষাকাল।

⇒ খরিপ-১ মৌসুম:
- চৈত্র মাস থেকে আষাঢ় মাস (মধ্য মার্চ হতে মধ্য জুলাই) পর্যন্ত সময়কে খরিপ-১ বলা হয়। এইসময়কে গ্রীষ্মকালও বলা হয়।
- এ মৌসুমে উৎপন্ন ফসলগুলোকে খরিপ-১ শস্য বলে। যেমন- আউশ ধান, পাট, কাউন, ভুট্টা, তিল, মিষ্টি কুমড়া, কচু ও ঝিঙ্গা ইত্যাদি।

⇒ খরিপ-২ মৌসুম:
- শ্রাবণ মাস থেকে আশ্বিন মাস (মধ্য জুলাই হতে মধ্য অক্টোবর) পর্যন্ত সময়কে খরিপ-২ বলে। এই সময় বর্ষাকাল।
- এ মৌসুমে উৎপন্ন ফসলগুলোকে খরিপ-২ শস্য বলে। যেমন- আমন ধান, ভুট্টা, মাষকলাই, বর্ষাকালীন সবজি ইত্যাদি ।

এছাড়াও,
- কিছু ফসল ও শাক-সবজি আছে যেগুলো উভয় মৌসুমেই বা সারা বছর চাষাবাদ করা হয়ে থাকে। এদেরকে বারোমাসী ফসল বলে। যেমন- কলা, পেঁপে ইত্যাদি।

উৎস: i) কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৯৩.
বিএফআইডিসির মালিকানাধীন দেশে কয়টি রাবার বাগান রয়েছে? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. ১৬টি
  2. ১৮টি
  3. ২১টি
  4. ২৮টি
ব্যাখ্যা

রাবার:
- রাবার একটি অত্যন্ত মূল্যবান অর্থকরী বনজ সম্পদ যার বিভিন্ন ধরণের ব্যবহার রয়েছে।
- রাবার গাছের কষ (ল্যাটেক্স) থেকে রাবার উৎপন্ন হয়।
- বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে বৃটিশদের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম রাবার চাষ শুরু হয়।
- ১৯৫২ সালে তৎকালীন বনবিভাগ মালয়েশিয়া ও শ্রীলংকা হতে রাবার বীজ ও কয়েক হাজার রাবার চারা নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চট্টগ্রাম ও টাঙাইলের মধুপুর এলাকায় কিছু গাছ রোপণ করে।
- ১৯৫৯ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) বাংলাদেশে রাবার চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই করে এবং এদেশের জলবায়ু ও মাটি রাবার চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী তাই বাণিজ্যিকভাবে রাবার চাষ করার সুপারিশ করে।
- ১৯৬১ সালে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় বাণিজ্যিকভাবে চট্টগ্রাম ও সিলেটের পার্বত্য এলাকায় রাবার চাষ শুরু করা হয়।

উল্লেখ্য,
- বিএফআইডিসির মালিকানাধীন রাবার বাগান রয়েছে ১৮টি।
- বাংলাদেশে রাবার জোন রয়েছে ৩টি। এগুলো হলো: বৃহত্তর চট্টগ্রাম, সিলেট এবং টাঙ্গাইল - শেরপুর।
- ৩টি জোনে মোট রাবার বাগান ১৮টি; এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৯টি, সিলেট জোনে ৪টি এবং টাঙ্গাইল-শেরপুর জোনে ৫টি।

⇒ বিএফআইডিসি ১৯৮০-৮১ সাল হতে উচ্চ ফলনশীল রাবার চারা রোপণ শুরু করে এবং ১৯৯৭ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম, সিলেট ও মধুপুরের ১৩,২০৭ হেক্টর জমিতে ১৬টি রাবার বাগান সৃজন করে।
- তার মধ্যে ৮% চারা মালয়েশিয়া হতে আনীত প্রিম ৬০০ এবং পিবি ২৩৫ ক্লোন হতে লাগানো হয়।
- প্রতিটি ক্লোন হতে উৎপন্ন চারা হতে বছরে তিন কেজি করে রাবার উৎপন্ন হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ রাবার বোর্ড ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।

৯৪.
কোনটি ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা?
  1. MRA
  2. MCA
  3. DRA
  4. IDRA
ব্যাখ্যা

MRA:
- ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি (MRA)।
- ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানসমূহ নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিকোন এবং আনুষ্ঠানিক আর্থিক বিভাগের সাথে ক্ষুদ্রঋণের সংযোগ স্থাপনের বিষয়টি পরীক্ষাকরণের উদ্দেশ্যে ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক একটি অধ্যয়ন পরিচালনা করা হয়।
- বেসরকারী ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানসমূহকে নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মধ্যে আনয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০০৬ সালের ২৭ আগস্ট হতে ‘মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি আইন, ২০০৬ (২০০৬ সালের ৩২নং আইন) কার্যকর করেন।
- এই আইনের আওতায় ক্ষুদ্রঋণ সেক্টরের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে সরকার ‘মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি (এমআরএ)’ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ক্ষুদ্রঋণ সেক্টরকে পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মধ্যে আনয়নের লক্ষ্যে উল্লিখিত আইনের প্রয়োগ এবং ইহার উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার জন্য অথরিটিকে ক্ষমতায়ন এবং দায়বদ্ধ করা হয়।
- প্রতিষ্ঠানটি ৫ সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ দ্বারা পরিচালিত হয়।
- চেয়ারম্যান: গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক (ড. আহসান এইচ মনসুর)।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ঋণের জনক ড. মুহাম্মদ ইউনুস।
- ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের সমসাময়িক কাজ করেন ব্র্যাকের স্যার ফজলে হাসান আবেদ ও আশার প্রতিষ্ঠাতা মো. সফিকুল হক চৌধুরী। তারপর অন্যরাও এগিয়ে আসেন।
- ব্র্যাক, আশা, বুরো বাংলাদেশ, টিএমএসএস, এসএসএস, সাজেদা ফাউন্ডেশন, উদ্দীপন, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন, পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন, শক্তি ফাউন্ডেশন—এ ১০টি দেশের শীর্ষ ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি ওয়েবসাইট।

৯৫.
জুম চাষ কোন ধরনের কৃষিপদ্ধতি?
  1. পাহাড়ী চাষ
  2. স্থানান্তর কৃষি
  3. মিশ্র চাষ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

জুম চাষ:
- জুম চাষ (Shifting cultivation) পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীদের মধ্যে অতি পরিচিত একটি পাহাড়ী মিশ্র কৃষি চাষ পদ্ধতি। 
- এর প্রকৃত অর্থ হলো স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে চাষাবাদ করা।
- এ ধরনের চাষাবাদে শুষ্ক মৌসুমে বনভূমি কেটে বা পুড়িয়ে স্বল্পসময়ের জন্য (১-৩ বছর) ফসল চাষাবাদের পর প্রাকৃতিক বনভূমির পুনর্জন্ম ও মৃত্তিকার উর্বরতার ক্ষয়পূরণের জন্য দীর্ঘসময় (১০-৪০ বছর) পতিত রাখা হয়।
- এক্ষেত্রে সাধারণত পাহাড়ের গায়ে কিছু স্থানে চাষ করার পর কয়েক বছর সেই স্থানের উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য রেখে দিয়ে আবার পাহাড়ের অন্য স্থানে গিয়ে চাষ করা হয়।
- জুম চাষিদের জুমিয়া বলা হয়।
- জুম বা স্থানান্তর চাষাবাদ সাধারণভাবে ‘সুইডেন চাষাবাদ’ বা জঙ্গল পরিষ্কার ও পোড়ানো চাষাবাদ হিসেবে পরিচিত।
- এ ধরনের প্রাচীন চাষাবাদ অধিকাংশ উপজাতীয় অধিবাসীদের অতি পরিচিত।
- সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বাইরে ঢালু পাহাড়ের ওপর জুমচাষ করা হয়। 
- সাধারণভাবে জন্মানো প্রধান ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান, ভুট্টা, কাউন, তিল, শসা, মিষ্টিকুমড়া, তরমুজ, বরবটি, তুলা, কলা, আদা, হলুদ প্রভৃতি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলায় (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) জুম চাষ হয়।
- জুম চাষের বিকল্প পদ্ধতি হচ্ছে সল্ট।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৯৬.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ‘জল্লাদের দরবার’ নাটিকাটি কে রচনা করেছিলেন?
  1. এম আর আখতার মুকুল
  2. বেলাল মোহাম্মদ
  3. সিরাজুল ইসলাম
  4. কল্যাণ মিত্র
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র একটি অস্থায়ী বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
- ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে সার্বভৌম স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবার পর এর নাম বদলে বাংলাদেশ বেতার করা হয়।

⇒ ১৯৭১ সালে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র।
- প্রবাসী সরকার এই বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমেই তাদের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, নির্দেশনা প্রচারের জন্য পাঠাত। এগুলো স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হলে মুক্তিযোদ্ধারা সহজেই দিকনির্দেশনা পেতেন। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী প্রমুখের ভাষণ প্রচারিত হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে।
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত গান মুক্তিযোদ্ধাদের অপারেশন সংকেত হিসেবে কাজ করত। নির্দিষ্ট গান সম্প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে শত্রুঘাঁটিতে মুক্তিযোদ্ধারা হামলা চালাতেন।

⇒ বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠানসমূহের মধ্যে বজ্রকণ্ঠ, চরমপত্র, জল্লাদের দরবার, কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী গান, দেশাত্মবোধক গান ইত্যাদি ছিল খুবই আকর্ষণীয় ও জনপ্রিয়।
- এম আর আখতার মুকুল ছিলেন চরমপত্রের রচয়িতা ও পরিবেশক। ঢাকাইয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষায় অদ্ভুত কণ্ঠস্বর ও বাচন-ভঙ্গিতে তাঁর রণাঙ্গনের খবর পরিবেশন ছিল খুবই জনপ্রিয় ও উপভোগ্য। ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ ও মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন ছিল এ অনুষ্ঠানের সর্বশেষ পরিবেশনা।
- কল্যাণ মিত্র রচিত ইয়াহিয়া সামরিক জান্তার চরিত্র উন্মোচন করে 'জল্লাদের দরবার' নামে ব্যঙ্গাত্মক নাটিকা ছিল বেতারের আর একটি আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) সংগ্রামের নোটবুক।

৯৭.
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ড্রাগন উৎপাদনের শীর্ষ জেলা কোনটি? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. যশোর 
  2. ঝিনাইদহ 
  3. কুষ্টিয়া 
  4. মেহেরপুর
ব্যাখ্যা

ড্রাগন ফল উৎপাদন:
- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ড্রাগন উৎপাদনের শীর্ষ জেলা ঝিনাইদহ।
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন হয় ৩২ হাজার ৭৬৮ মেট্রিক টন ড্রাগন। 

• উৎপাদনের ২য় স্থানে রয়েছে যশোর। ২০২৪-২৫  অর্থবছরে উৎপাদন হয় ১২ হাজার ৫৫৩ মেট্রিক টন ড্রাগন। আর তৃতীয় শীর্ষ জেলা রাজশাহীতে উৎপাদন হয় ৪ হাজার ৪৭৭ মেট্রিক টন ড্রাগন।

⇒ ড্রাগন ফল মূলত আমেরিকার প্রসিদ্ধ একটি ফল যা বর্তমানে আমাদের দেশেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ২০০৭ সালে থাইল্যান্ড, ফ্লোরিডা ও ভিয়েতনাম থেকে এই ফলের বিভিন্ন জাত আনা হয়। ড্রাগন ফলের গাছ এক ধরনের ক্যাকটাস জাতীয় গাছ। এই গাছের কোন পাতা নেই। ড্রাগন ফলের গাছ সাধারনত ১.৫ থেকে ২.৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে।

⇒ বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সিটিউট (বারি) কতৃক উদ্ভাবিত ড্রগন ফলের নতুন জাতটি হলো বারি ড্রাগন ফল-১ যা দক্ষিণ -পূর্ব এশিয়াতে জনপ্রিয় ফল। এ ফলের আকার বড়, পাকলে খোসার রং লাল হয়ে যায় ,শাঁস গাঢ় গোলাপী রঙের, লাল ও সাদা এবং রসালো প্রকৃতির । ফলের বীজগুলো ছোট ছোট কালো ও নরম । একটি ফলের ওজন ১৫০ গ্রাম থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) কৃষি বাতায়ন।