পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন২২
সিলেবাস
বাংলাবিদ ব্যাকরণ পরীক্ষা - ২১: টপিক সমূহ: রিভিশন পরীক্ষা সম্পূর্ণ সিলেবাস [লাইভ ক্লাস - ১ থেকে ৩৯]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ২২ প্রশ্ন

.
"শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।" - বাক্যটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. ভাববাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য: 
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয় ।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যথা-
শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান। রোগী পথ্য সেবন করে।

কর্মবাচ্য: 
যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
- কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ও দ্বারা দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক অনুসর্গের ব্যবহার এবং ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়।
যথা – আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
চোরটা ধরা পড়েছে।
- কখনো কখনো কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হতে পারে।
যথা- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

• মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন -
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
- তাঁর সেখানে যাওয়া হবে না। 
- তাঁর দ্বারা এ কাজটি করা হবে। 

• কর্মকর্তৃবাচ্য:
এছাড়াও বাংলায় আরো এক ধরনের প্রকাশভঙ্গির বাক্য দেখা যায়। এ ধরনের বাক্যের বাচ্যকে বলা হয় কর্মকর্তৃবাচ্য।
- এ ধরনের বাক্যে কর্তাপদ উহ্য থাকে, তবে কর্মপদ থাকে। আর ওই কর্মপদই কর্তার কাজ করে।
- অর্থাৎ, যে বাক্যে কর্তা থাকে না, কর্মই কর্তার কাজ করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভাল দেখায় না।
- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
বাংলা ভাষার কোন রীতিকে সর্বজনীন কথ্য ভাষা হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. আঞ্চলিক কথ্য রীতি
  2. আদর্শ কথ্য রীতি
  3. প্রমিত লেখ্য রীতি
  4. সাহিত্যিক রীতি
সঠিক উত্তর:
আদর্শ কথ্য রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদর্শ কথ্য রীতি
ব্যাখ্যা
অধিকাংশ ভাষায় অন্তত দুটি রীতি থাকে:
১. কথ্য ভাষা রীতি ও
২. লেখ্য ভাষা রীতি।

বাংলা ভাষায় এসব রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে।
যেমন কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে -
১. আদর্শ কথ্য রীতি ও
২. আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

• কথ্য ভাষা রীতি:
কথ্য ভাষা রীতি ভাষার মূল রূপ। কথ্য ভাষা রীতির উপরে ভিত্তি করে লেখ্য ভাষা রীতির রূপ তৈরি হয়। স্থান ও কালভেদে ভাষার যে পরিবর্তন ঘটে তা মূলত কথ্য ভাষা রীতির পরিবর্তন। তাই কথ্য ভাষা রীতির পরিবর্তনের ফলে নতুন নতুন ভাষা ও উপভাষার জন্ম হয়।

• আদর্শ কথ্য রীতি:
আদর্শ কথ্য রীতি হলো বাঙালী জনগোষ্ঠীর সর্বজনীন কথ্য ভাষা। বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় রেডিও টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে, সংবাদ উপস্থাপনায় সভা-সেমিনারের আলোচনায় ও কবিতা আবৃতিতে এই রীতির প্রয়োগ দেখা যায়। এই রীতিই প্রমিত লেখ্য রীতির ভিত্তি। তবে বক্তার সামাজিক অবস্থান, জীবিকা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি ভেদে আদর্শ কথ্য রীতিতে কমবেশি তফাত থাকে।

প্রতিটি বাঙালি শিশুর মাতৃভাষা বা প্রথম ভাষা হলো তার আঞ্চলিক ভাষা। আদর্শ্য কথ্য বা লেখ্য প্রমিত তার কাছে দ্বিতীয় ভাষা।

সুতরাং, বলা চলে কথ্যরীতি বা কথা বলার রীতি হলাে ভাষার মৌলিক রীতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ধূতী
  2. অন্তরীক্ষ
  3. দিঙ্‌মণ্ডল
  4. কয়েদী
সঠিক উত্তর:
দিঙ্‌মণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিঙ্‌মণ্ডল
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধ বানান - 'দিঙ্‌মণ্ডল'।

• 'দিঙ্‌মণ্ডল' শব্দের অর্থ:
- দিক্‌চক্রবাল, দিগ্‌বলয়।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বানান:
• ধূতী - ধুতি, 
• অন্তরীক্ষ - অন্তরিক্ষ,
• কয়েদী - কয়েদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
নিচের কোনটি অপিনিহিতি’র উদাহরণ?
  1. গ্লাস > গেলাস
  2. স্কুল> ইস্কুল
  3. চারি > চাইর
  4. সত্য > সত্যি
সঠিক উত্তর:
চারি > চাইর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারি > চাইর
ব্যাখ্যা
অপিনিহিতি: 
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন: 
- সত্য  > সইত্য,
- আজি > আইজ,
- চারি > চাইর,
- সাধু > সাউধ,
- বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'গ্লাস > গেলাস' - মধ্য স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তন।
- 'স্কুল> ইস্কুল' - আদি স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তন।
- 'সত্য > সত্যি'- এটি একটি অন্ত্যস্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
জিভের উচ্চতা অনুসারে, নিচের কোনটি নিম্ন স্বরধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• 'আ'- নিম্ন স্বরধ্বনির উদাহরণ। 

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা- 
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।

• উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)। 
.
নিচের কোনটি তালব্য ব্যঞ্জন ধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রর্ভতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে:
পার্শ্বিক ব্যঞ্জন:
- যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে।
- লাল শব্দে 'ল' পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
যেমন- 
নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
কোনটি অলুক দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. দিনরাত
  2. চোখেমুখে
  3. হাটবাজার
  4. অহিনকুল
সঠিক উত্তর:
চোখেমুখে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোখেমুখে
ব্যাখ্যা
• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে;
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে;
- চোখে ও মুখে = চোখেমুখে;
- ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে;
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- দিন ও রাত = দিনরাত; বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের দৃষ্টান্ত।
- হাট ও বাজার = হাটবাজার; সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।
- অহি ও নকুল = অহিনকুল; বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
.
'শশব্যস্ত' এর ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. যে শশ সে ব্যস্ত
  2. শশ ও ব্যস্ত
  3. শশের মতাে ব্যস্ত
  4. ব্যস্ত যে শশ
সঠিক উত্তর:
শশের মতাে ব্যস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শশের মতাে ব্যস্ত
ব্যাখ্যা
• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।
যেমন: 
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে।
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
.
সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সৎ + আশয় = সদাশয়
  2. দু + কর = দুষ্কর
  3. অহ + অহ = অহরহ
  4. সং + সার = সংসার
সঠিক উত্তর:
সৎ + আশয় = সদাশয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৎ + আশয় = সদাশয়
ব্যাখ্যা
• 'সদাশয়' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ- 'সৎ + আশয়'।

অন্যদিকে,
- 'দুষ্কর' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = দুঃ + কর।
- 'অহরহ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = অহঃ + অহ।
- 'সংসার' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = সম্‌ + সার। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০.
নিচের কোনটি বিদেশি উপসর্গ?
  1. প্রতি
  2. অনা
  3. বে
  4. আব
সঠিক উত্তর:
বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বে
ব্যাখ্যা
• বে - বিদেশি উপসর্গ (ফারসি উপসর্গ)।
যেমন- বেআদব , বেকসুর - শব্দে ব্যবহৃত ফারসি উপসর্গ 'বে'।

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
উর্দু উপসর্গ: হর।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

অন্যদিকে,
- 'অনা, আব' খাঁটি বাংলা উপসর্গ।
- 'প্রতি' সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১.
সংস্কৃত মূল ধাতুর উদাহরণ কোনটি?
  1. আক্ 
  2. ধৃ
  3. কাট্
  4. নাচ্
সঠিক উত্তর:
ধৃ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধৃ
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত ধাতুর উদাহরণ - ধৃ।

• মৌলিক ধাতু:
যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার।
যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন:কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্, কহ্, কর্ ইত্যাদি।

সংস্কৃত মূল ধাতু: 
- যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু।
যেমন:
কৃ, গম্, ধৃ, গঠ্‌, স্থা, অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন: খাট্, আঁট্, চেঁচ্, টান্, টুট্, ডর্, ফির্, চাহ্, ভিজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২.
"কোনো প্রকার প্রত্যয়-চিহ্ন ব্যতিরেকেই কিছু ক্রিয়া-প্রকৃতি বিশেষ্য ও বিশেষণ পদ রূপে বাক্যে ব্যবহৃত হয়" - এরূপ স্থলে কোন প্রত্যয় ধরা হয়?
  1. অন প্রত্যয়
  2. অনা প্রত্যয়
  3. শূন্য প্রত্যয়
  4. না-প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
শূন্য প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• শূন্য প্রত্যয়:
কোনো প্রকার প্রত্যয়-চিহ্ন ব্যতিরেকেই কিছু ক্রিয়া-প্রকৃতি বিশেষ্য ও বিশেষণ পদ রূপে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। এরূপ স্থলে (০) শূন্য প্রত্যয় ধরা হয়।
যেমন:
এ মোকদ্দমায় তোমার জিত্ হবে না, হার্-ই হবে। গ্রামে খুব ধর্ পাকড় চলছে।

অন্যদিকে,
অন প্রত্যয় – √কাঁদ্ + অন = কাঁদন (কান্নার ভাব)।
অনা প্রত্যয় – √দুল্ + অনা = দুলনা > দোলনা, √খেল + অনা = খেলনা।
না-প্রত্যয় – বিশেষ্য গঠনে না প্রত্যয় যুক্ত হয়। যেমন: √কাঁদ্ + না = কাঁদনা > কান্না, √রাঁধ্ + না = রাঁধনা > রান্না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩.
কোনটি নির্দেশক সর্বনাম?
  1. যারা-তারা
  2. পরস্পর
  3. এই
  4. নিজেরা নিজেরা
সঠিক উত্তর:
এই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এই
ব্যাখ্যা
 নির্দেশক সর্বনাম:
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম  বলে।
যেমন -
নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি।
দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

অন্যদিকে,
• যারা-তারা - সাপেক্ষ সর্বনাম।
• পরস্পর - পারস্পরিক সর্বনাম।
• নিজেরা নিজেরা - পারস্পরিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪.
নিচের কোনটি অনুসর্গ নয়?
  1. অবধি
  2. প্রতি
  3. চেয়ে
  4. যদিও
সঠিক উত্তর:
যদিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদিও
ব্যাখ্যা
• যদিও - অনুসর্গ নয়। 
- "যদিও" একটি অব্যয়।
---------------- 
অনুসর্গ: 

- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন - 
• সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।
এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ। 

• কোন পর্যন্ত পড়েছ?
এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি। 

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা - 
- সাধারণ অনুসর্গ ও 
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
১৫.
'কী আপদ! লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।' - এখানে অনন্বয়ী অব্যয়টি কী প্রকাশ করছে?
  1. যন্ত্রণা
  2. বিরক্তি
  3. স্বীকৃতি
  4. অনুমোদনবাচকতা
সঠিক উত্তর:
বিরক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরক্তি
ব্যাখ্যা
• 'কী আপদ! লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।' - এখানে অনন্বয়ী অব্যয় 'বিরক্তি' প্রকাশ করেছে।

• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

এছাড়াও অনন্বয়ী অব্যয়ের কয়েকটি উদাহরণ-
মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
হ্যাঁ, আমি যাব না- স্বীকৃতি জ্ঞাপনে।
উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে- যন্ত্রণা প্রকাশে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
১৬.
কোন বাক্যটিতে সমধাতুজ কর্ম আছে?
  1. বাবা আমাকে একটি বই দিয়েছেন।
  2. এমন সুখের মরণ কে মরতে পারে?
  3. তোমাকে দেখে প্রীত হলাম।
  4. মা খোকাকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
সঠিক উত্তর:
এমন সুখের মরণ কে মরতে পারে?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এমন সুখের মরণ কে মরতে পারে?
ব্যাখ্যা
সমধাতুজ কর্ম: 
বাক্যের ক্রিয়া ও কর্মপদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদকে সমধাতুজ কর্ম বা ধাত্বর্থক কর্মপদ বলে।
যেমন-
আর কত খেলা খেলবে।
√খেল্ + আ = খেলা (কর্মপদ)
√খেল্ + বে = খেলা (ক্রিয়াপদ)
- মূল ‘খেল' ধাতু থেকে ক্রিয়াপদ ‘খেলবে’ এবং কর্মপদ ‘খেলা’ উভয় গঠিত হয়েছে।
- তাই ‘খেলা’ পদটি সমধাতুজ বা ধাতৃর্থক কর্ম।

- অনেক ক্ষেত্রে সমধাতুজ কর্মপদ অকর্মক ক্রিয়াকে সকর্মক করে।
যেমন-
- বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
- আর মায়াকান্না কেঁদো না গাে বাপু।
- এমন সুখের মরণ কে মরতে পারে?

অন্যদিকে, 
"বাবা আমাকে একটি বই দিয়েছেন।" - সকর্মক ক্রিয়া।
"তোমাকে দেখে প্রীত হলাম।" - মিশ্র ক্রিয়া।
"মা খোকাকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।" - প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৭.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার দৃষ্টান্ত?
  1. দোষ দেওয়া
  2. মন দেওয়া
  3. এগিয়ে চলা
  4. মার খাওয়া
সঠিক উত্তর:
এগিয়ে চলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এগিয়ে চলা
ব্যাখ্যা
• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন - মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মন দেওয়া, দোষ দেওয়া, মার খাওয়া - সংযোগ ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৮.
"ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।" - এ বাক্যে ‘ঠিকভাবে’ কোন ধরণের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  2. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

অন্যদিকে,
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!
- বা: কখনাে বা দেখা হবে।
- না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালাে লাগবে।
- তাে: মরি তাে মরব।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯.
"শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।" - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. সাধারণ অতীত
  4. ঘটমান অতীত
সঠিক উত্তর:
সাধারণ অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ অতীত
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার কাল:
- ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে।
- ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার: বর্তমান কাল, অতীত কাল ও ভবিষ্যৎ কাল।

• সাধারণ অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম -দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২০.
"গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল।" - এখানে ‘গাঁয়ে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী বিভক্তি
  2. কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
  3. কর্মে ৭মী বিভক্তি
  4. অধিকরণে ৭মী বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক: 
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
- (কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)

 • বিভক্তি:  
- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
- বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার-
• বিভক্তির নাম ও বিভক্তি:
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি:  ০, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি:  দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি:  কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি:  হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
- ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি:  এ, য়, তে।
------------------------
উপরের আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি যে, 
'গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল।' বাক্যটিতে 'কে' মানে না প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'গাঁয়ে'।
এবং এখানে সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 
তা বলা যায়,
'গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল।' কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২১.
প্রান্তিক বিরামচিহ্ন নয় কোনটি?
  1. প্রশ্নচিহ্ন
  2. দাঁড়ি
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. কমা
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
• প্রান্তিক যতিচিহ্ন নয় - কমা।

• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

• বাক্যের শেষে বসে ৩টি যতিচহ্নি বা বিরামচিহ্ন। এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন বলে।

• যতিচিহ্নকে দু'ভাগে ফেলা যায়।
যথা:
১. প্রান্তিক অর্থাৎ বাক্য যেখানে শেষ হয়।
যেমন: 
দাঁড়ি, প্রশ্নচিহ্ন, বিস্ময়চিহ্ন।

২. বাক্যান্তর্গত অর্থাৎ যেখানে বাক্য শেষ হয় না।
যেমন:
কমা, সেমিকোলন, ড্যাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২২.
কোন ছন্দকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'ছড়ার ছন্দ' বলেছেন?
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  2. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  3. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  4. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন প্রকার ছন্দ:
১. স্বরবৃত্ত ছন্দকে লৌকিক ছন্দ বলে। রবীন্দ্রনাথ এটিকে 'ছড়ার ছন্দ' বলেছেন।
২. মাত্রাবৃত্ত ছন্দকে ধ্বনিপ্রধান ছন্দ বলে।
৩. অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান বলে।
৪. পয়ার ছন্দে অন্তমিল থাকে।
৫. অমিত্রাক্ষর ছন্দে অন্তমিল থাকে না।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।