পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৮তম বিশেষ বিসিএস [স্বাস্থ্য] ⎯ সাধারণ অংশ [Archived]

পরীক্ষা৪৮তম বিশেষ বিসিএস [স্বাস্থ্য] ⎯ সাধারণ অংশ [Archived]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন২৪
সিলেবাস
পরীক্ষা – ০২ বিষয়: বাংলাদেশ বিষয়াবলি-২ টপিক: বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) মহান মুক্তিযুদ্ধ; ii) স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে সমসাময়িক ইতিহাস, iii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা: (রাজনৈতিক দলসমূহের গঠন, ভূমিকা ও কার্যক্রম, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সম্পর্কাদি, সুশীল সমাজ ও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমূহ এবং এদের ভূমিকা। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ পরবর্তী এবং সংস্কার প্রস্তাবনা)।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৮তম বিশেষ বিসিএস [স্বাস্থ্য] ⎯ সাধারণ অংশ [Archived]

৪৮তম বিশেষ বিসিএস [স্বাস্থ্য] ⎯ সাধারণ অংশ [Archived] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৪ প্রশ্ন

.
CPD এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. রেহমান সোবহান
  2. ফজলে আবেদ
  3. আতিউর রহমান
  4. মনসুর আহমেদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• CPD:
- পূর্ণরূপ: Center for Policy Dialogue.
- CPD হলো বাংলাদেশের একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা যা সরকারি বিভিন্ন বাণিজ্যিক পদক্ষেপের বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে।
- এটি ১৯৯৩ সালে অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সদর দপ্তর: ঢাকার ধানমন্ডি।
- সিপিডির লক্ষ্য বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য একটি চাহিদা-চালিত এবং জবাবদিহিমূলক উন্নয়ন প্রক্রিয়া গড়ে তোলা, তথ্যবহুল বিতর্ক উদ্দীপিত করা, জ্ঞান তৈরি করা এবং গবেষণা, সংলাপ, প্রচার এবং সমর্থনের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণকে প্রভাবিত করা।

উৎস: CPD ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো পত্রিকা।
.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
• সেক্টর:
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এসব সেক্টরকে আবার ৬৪টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- ১০ নং সেক্টর ছিল একমাত্র নৌ সেক্টর যেখানে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
পরিবেশবাদী আইনজীবী সংগঠন 'BELA' এর পূর্ণরূপ-
  1. Bangladeshi Environmental Legal Alliance
  2. Bangladesh Ecology and Legal Association
  3. Bangladesh Environmental Lawyers Association
  4. Bangladesh Environmental Legal Association
ব্যাখ্যা
BELA:
- পূর্ণরূপ: Bangladesh Environmental Lawyers Association.
- বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (BELA) একটি পরিবেশ বিষয়ক আইনজীবীদের সংগঠন।
- এটি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর প্রতিষ্ঠাতা মহিউদ্দিন ফারুক এবং বর্তমান নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
- BELA প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পরিবেশ আইনের বাস্তবায়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করা।
- BELA টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে বিস্ফোরনের কারণে নাইকোর বিরুদ্ধে মামলা করে।

উৎস: বেলা ওয়েবসাইট, পত্রিকা রিপোর্ট। 
.
কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল কত নং সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ১নং
  2. ২নং
  3. ৩ নং
  4. ৪ নং
ব্যাখ্যা
• ২ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশবিশেষ।
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর খালেদ মোশাররফ এবং মেজর এ.টি.এম হায়দার।

অন্যদিকে,
• ১ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা।
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর জিয়াউর রহমান এবং মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ৩ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা।
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৪ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা।
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
.
'জুলাই গণঅভ্যুত্থান' - এ গেজেটভুক্ত শহীদের সংখ্যা কত?
  1. ৮৩৪
  2. ৮৬৪
  3. ৮৩৮
  4. ৮৫৪
ব্যাখ্যা
• জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ২০২৪–এ শহীদদের তালিকা:
- জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ২০২৪–এ শহীদদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
- সেখানে গেজেট প্রকাশের তারিখ লেখা হয়েছে ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪।
- সরকারি গেজেট অনুযায়ী, গণ–অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪ জন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
.
"নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে কোন সংঘবদ্ধ জনসমাজ বৈধ উপায়ে শাসন ক্ষমতা দখল করতে চেষ্টা করলে তাকে রাজনৈতিক দল বলে।" সংজ্ঞাটি কে দিয়েছেন?
  1. আর এম ম্যাকাইভার
  2. এন্ডমন্ড বার্ক
  3. আর্নেস্ট বার্কার
  4. থমাস হবস
ব্যাখ্যা
• অধ্যাপক আর এম ম্যাকাইভার (R.M. MacIver) বলেন,
"নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে কোন সংঘবদ্ধ জনসমাজ বৈধ উপায়ে শাসন ক্ষমতা দখল করতে চেষ্টা করলে তাকে রাজনৈতিক দল বলে।"

অন্যদিকে,
• এন্ডমন্ড বার্ক (Edmand Burke) বলেন,
"কতকগুলো নির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে সম্মিলিত জনসমষ্টিকে রাজনৈতিক দল বলা হয়।
- অধ্যাপক আর্নেস্ট বার্কার (Ernest Barker)-এর মতানুসারে,
"বিভিন্ন মতবাদের দ্বারা পরিচালিত হলেও সকল রাজনৈতিক দলই জাতীয় স্বার্থের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে সমগ্র জাতির সাধারণ স্বার্থ সম্পর্কিত বিষয়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণের দ্বারা নির্বাচকমন্ডলীর সমর্থন পেতে সচেষ্ট হয়।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত প্রথম ব্রিগেড ফোর্সের প্রধান কে ছিলেন?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. কে.এম. সফিউল্লাহ
  3. খালেদ মোশারফে
  4. এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
• জেড ফোর্স।
• কে ফোর্স।
• এস ফোর্স।

• জেড ফোর্স:
- মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- 'জেড ফোর্স' নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

• এস ফোর্স:
- কে.এম. সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- 'এস ফোর্স' নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

• কে ফোর্স:
- কর্ণেল খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে অক্টোবর মাসে কে ফোর্স গঠিত হয়।
- 'কে ফোর্স' গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ঢাকা জেলা প্রসাশন ওয়েবসাইট।
.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিচারপতি কে ছিলেন?
  1. বিচারপতি আবু সাইদ চৌধুরী
  2. বিচারপতি আবু সাদাত মোঃ সায়েম
  3. বিচারপতি এন এন সাহা
  4. বিচারপতি আবু ওসমান চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• প্রধান বিচারপতি, বাংলাদেশ:
- সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়ান মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করেই অন্যান্য বিচারপতি দের নিয়োগ দেয়া হয়।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মো. সায়েম।
- তিনি ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে ৫ নভেম্বর ১৯৭৫ পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি ছিলেন।
- পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ রাষ্ট্রপতি হন।

উৎস: সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।
.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর 'চিফ অফ স্টাফ' হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন-
  1. এম এ রব
  2. এ কে খন্দকার
  3. খালেদ মোশারফ
  4. এম এ জি ওসমানী
ব্যাখ্যা
• কর্নেল এম এ রব:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আবদুর রব যুদ্ধে যোগ দেন।
- সিলেট অঞ্চলে ৪ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর চিত্তরঞ্জন দাশের নেতৃত্বে দুর্ধর্ষ সব যুদ্ধের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন এম এ রব।
- মুজিবনগর সরকার তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ ও সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে নিয়োগ দেয়।
- মুক্তিযুদ্ধের পরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুর রবকে মেজর জেনারেল পদ দেওয়া হয় এবং বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়।
- ১৯৭৫ সালের ১৪ নভেম্বর শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

অন্যদিকে,
- এম এ জি ওসমানী মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন এ কে খন্দকার।
- ২নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন খালেদ মোশারফ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১০.
‘শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ’ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি
ব্যাখ্যা
• শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ:
- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের প্রথম নামকরণ করা হয়েছিল ‘বিজয় তোরণ’।
- গত বছরের ৩০ জুন ওই নামে নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনও করা হয়।
- ৫ আগস্টের পর নির্মাণাধীন ওই ফটকের নাম ‘শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ’ রাখেন শিক্ষার্থীরা।
- লাল রং দিয়ে দেয়ালে তাঁরা নামটি লিখেও রাখেন।
- সেই নামেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক গতকাল রোববার দুপুরে উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় নিহত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমানের (মুগ্ধ) স্মৃতি রক্ষার্থে ‘শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ’ নামকরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ডিসিপ্লিনের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ)।
- গত বছরের মার্চে স্নাতক শেষ করে তিনি খুলনা ছেড়ে ঢাকায় চলে যান।
- ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।
- মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি আন্দোলনরত ক্লান্ত-শ্রান্ত শিক্ষার্থী-জনতাকে ‘ভাই, পানি লাগবে? পানি?’ বলছিলেন।

উৎস: প্রথম আলো।
১১.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আহতদের সরকারিভাবে কী নামে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে?
  1. জুলাই যোদ্ধা
  2. জুলাই সৈনিক
  3. অকুতোভয় বীর
  4. জুলাই কমরেড
ব্যাখ্যা
• 'জুলাই যোদ্ধা':
- গত ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ১৪০১ জনকে "জুলাই যোদ্ধা" স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।
- অতি গুরুতর ৪৯৩ জন আহতকে 'ক' শ্রেণিতে এবং গুরুতর আহত ৯০৮ জনকে 'খ' শ্রেণিতে রেখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই তালিকা প্রকাশ করে।
- গেজেটে আহতদের মেডিকেল কেস আইডি, নাম, বাবা-মায়ের নাম ও স্থায়ী ঠিকানা প্রকাশ করা হয়।
- আহতদের ধরন ভেদে 'গ' শ্রেণির তালিকাও প্রকাশ করবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
- এসব তালিকা ধরে গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের আর্থিকভাবে সহায়তা করবে সরকার।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও যুগান্তর। 
১২.
'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয়-
  1. ২৬ ই মার্চ, ১৯৭১ সাল
  2. ২৬ ই মে, ১৯৭১ সাল
  3. ১৫ আগস্ট, ১৯৭১ সাল
  4. ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ সাল
ব্যাখ্যা
• অপারেশন জ্যাকপট:
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট পরিচালিত নৌ-কমান্ডো বাহিনীর প্রথম অভিযান ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামে পরিচিত।
- অপারেশন জ্যাকপট ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি নৌ-কমান্ডোরা বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে অত্যন্ত অল্প সময়ে যুদ্ধের গতি সম্পর্কে বিশ্বকে ধারণা দিতে সক্ষম হয়।
- এদিন রাতে নৌ-কমান্ডোরা একযোগে মংলা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ বন্দর আক্রমণ করে এবং পাকিস্তান বাহিনীর ২৬ টি পণ্য ও সমরাস্ত্রবাহী জাহাজ ও গানবোট ডুবিয়ে দেয়।
- মুক্তিযুদ্ধকালে যুদ্ধাঞ্চলকে যে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এর মধ্যে ১০নং সেক্টরের অধীনে ছিল নৌ-কমান্ডো।
- মূলত সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা, নদী ও সমুদ্র বন্দরসহ বাংলাদেশের সমগ্র জলপথ নিয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩.
'স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক' স্লোগানটি কোন আন্দোলনের সাথে জড়িত?
  1. জুলাই গণ অভ্যুত্থান
  2. নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
  3. উনসত্তেরর গণ অভ্যুত্থান
  4. মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন:
- 'স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক' স্লোগানটি  নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সাথে জড়িত।
- এই আন্দোলনের সময় নূর হোসেনের গায়ে সাদা রঙ দিয়ে লেখা ছিলো 'স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক'।
- ১৯৯০ সালে ছাত্র-জনতা-পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আন্দোলনের ফলে স্বৈরাচার এরশাদের পতন হয়েছিল।
- নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে ঢাকার জিরো পয়েন্টে নূর হোসেন মারা যান।
- নূর হোসেন মারা যান: ১০ নভেম্বর, ১৯৮৭ সাল।
- এই স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে প্রাণ হারান নুর হোসেন, সেলিম, দেলোয়ার, তাজুল, ডা. মিলন, নূরুল হুদা, বাবুল, ফাত্তাহসহ অনেকে।
- নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক প্রথম আলো।
১৪.
সাত জন বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য নন কে?
  1. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  2. মোস্তফা কামাল
  3. মোহাম্মদ রুহুল আমিন
  4. হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা
• ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন ছিলেন নৌবাহিনীর সদস্য।

• মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৯৭৩ সালে সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে কে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি প্রদান করেন।
- এদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য তিনজন, সাবেক ই. পি. আর. সদস্য দুইজন এবং বিমান বাহিনী ও নো বাহিনীর একজন করে।

• বীরশ্রেষ্ঠদের কর্মস্থল:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর.।
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর.।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১৫.
শহীদ আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের ছাত্র ছিলেন?
  1. সমাজবিজ্ঞান
  2. ইংরেজি
  3. ব্যবসা প্রসাশন
  4. লোক প্রশাসন
ব্যাখ্যা
• শহীদ আবু সাঈদ:
- রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।

উৎস: প্রথম আলো।
১৬.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নয় কোনটি?
  1. সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
  2. মানবাধিকার কমিশন
  3. দুর্নীতি দমন কমিশন
  4. এফবিসিসিআই
ব্যাখ্যা
• দুর্নীতি দমন কমিশন চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নয়।

• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে।
- এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় স্বার্থে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

- আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ, সুশাসনের জন্যে নাগরিক, এফবিসিসিআই প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে রাশিয়া কয়বার ভেটো দেয়?
  1. ১ বার
  2. ২ বার
  3. ৩ বার
  4. ৪ বার
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার অবদান:
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে মোট তিনবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করে।
- তবে তিনবারই সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় সেই প্রস্তাবে ভেটো প্রদান করে, এর ফলে পাকিস্তানপন্থী প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

উল্লেখ্য,
- একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে বঙ্গোপসাগরে তাদের সপ্তম নৌবহর প্রেরণ করে। এই পদক্ষেপের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারত মহাসাগরে তাদের নৌবহর মোতায়েন করে এবং সপ্তম নৌবহরের পিছু নেয়। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়লেও শেষ পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের কৌশলগত সহায়তা বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম-১০ম শেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১৮.
শহিদ আবু সাঈদকে নিয়ে অঙ্কিত শিল্পকর্মের নাম -
  1. উন্নত মম শির
  2. অকুতোভয় বীর
  3. নির্ভীক
  4. আলোকদিশারী
ব্যাখ্যা
• শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে অঙ্কিত শিল্পকর্মের নাম ‘উন্নত মম শির’।
- শিল্পকর্মটি অঙ্কন করেছেন শিল্পী শহীদ কবির।

• আবু সাঈদ:
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ রংপুরের আবু সাঈদ।
- ১৬ই জুলাই, ২০২৪ আন্দোলন চলাকালে একজন পুলিশ সদস্যের গুলিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- তাকে কোটা আন্দোলনকারীরা আন্দোলনের প্রথম শহিদ বলে আখ্যায়িত করে।

উৎস: প্রথম আলো।
১৯.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য কতজনকে বীরপ্রতীক খেতাব প্রদান করা হয়েছিল?
  1. ৬৮
  2. ১৭৫
  3. ৪২৬
  4. ৬৭৬
ব্যাখ্যা
• বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
২০.
তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে প্রথম কত তম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ৫ম
  2. ৬ষ্ঠ
  3. ৭ম
  4. ৮ম
ব্যাখ্যা
• তত্ত্বাবধায়ক সরকার:
- ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইন পাস হয়।
- ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ বিচারপতি হাবিবুর রহমান কে প্রধান উপদেষ্টা করে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়।
- সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সাংবিধানিকভাবে অনুষ্ঠিত প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন।

উল্লেখ্য,
- ২৭ মার্চ, ১৯৯৬ সালে ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হয়েছিল।
- ৩০ জুন, ২০১১ সালে ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা' বাতিল করা হয়।

উৎস:- আইন মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।
২১.
এম. আর. আখতার মুকুল মুক্তিযুদ্ধের সময় কেন বিখ্যাত ছিলেন?
  1. সেক্টর কমান্ডার হিসেবে
  2. বীরপ্রতীক হিসেবে
  3. চরমপত্রের পাঠক হিসেবে
  4. ক্র্যাকপ্লাটুনের সদস্য হিসেবে
ব্যাখ্যা
• চরমপত্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রথম স্থাপিত হয়েছিল চট্টগ্রামের কালুরঘাটে।
- ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রটি পাকিস্তান হানাদার বিমান বাহিনীর বোমা বর্ষণের স্বীকার হয়।
- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র’ ও ‘জল্লাদের দরবার’।
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে ‘কেল্লা ফতেহ খান’ চরিত্রের মাধ্যমে চিত্রিত করা হয়েছে।
- চরমপত্র সিরিজটির পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আব্দুল মান্নান।
- চরমপত্র পাঠ করতেন এম আখতার মুকুল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়-নবম-দশম শ্রেণি। 
২২.
'জুলাই গণঅভ্যুত্থান -২০২৪' এর একদফা ঘোষণা হয় কত তারিখে?
  1. ৩১ জুলাই
  2. ২ আগস্ট
  3. ৩ আগস্ট
  4. ৪ আগস্ট
ব্যাখ্যা
 • ৩ আগস্ট ২০২৪ :
- কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা করেন যে তাদের সরকারের সাথে আলোচনার কোন পরিকল্পনা নেই এবং হাসিনার পদত্যাগ এবং ‘সবার কাছে গ্রহণযোগ্য’ একজন ব্যক্তির নেতৃত্বে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের দাবিতে লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- হাসিনা আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ছাত্ররা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
- বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে, প্রধান সমন্বয়কদের একজন নাহিদ ইসলাম শহিদ মিনারে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করেন, যেখানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগের জন্য একক দাবি ঘোষণা করে এবং আহ্বান জানায়।

• জুলাই গণঅভ্যুত্থান/ জুলাই বিপ্লব:
-জুলাই গণঅভ্যুত্থান/ জুলাই বিপ্লব নামে পরিচিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান যা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অগণিত প্রাণ বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়ে বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
- ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের বিজয়ের ধারার সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
- এটি পরে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আরো প্রবল হয়ে উঠেছিল যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চূড়ান্ত রূপ লাভ করে শেখ হাসিনার পদত্যাগের মাধ্যমে।

উৎস: বাসস।
২৩.
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আনা হয়-
  1. ১৯৯৭ সালে
  2. ২০০২ সালে
  3. ২০০৬ সালে
  4. ২০০৯ সালে
ব্যাখ্যা
- শাহাদতের ৩৫ বছর পর ২৪ জুন ২০০৬ মতিউরের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবি কবর স্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

• বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান:

- বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের জন্ম ২৯শে অক্টোবর ১৯৪১, ঢাকার পৈত্রিক নিবাসে।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয় তিনি তাদের অন্যতম।
- পেশায় ছিলেন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট।
- ১৯৭১ সালে নিয়মিত কাজের আড়ালে তিনি একটি বিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের পরিকল্পনা করতে থাকেন।
- এনিয়ে তিনি কয়েকজন দেশপ্রেমিক বাঙালি অফিসারের সাথে আলোচনা করেন।
- পরিকল্পনা মোতাবেক ২০শে আগস্ট ১৯৭১ সকাল ১১.১৫ মিনিটে পাঞ্জাবী পাইলট অফিসার রাশেদ মিনহাজসহ টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান (কল সাইন ব্লু-বার্ড-১৬৬) ছিনতাই করে ভারত অভিমূখে উড্ডয়ন করেন।
- অপর পাইলটের সাথে কন্ট্রোল নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সিন্ধুর বেদিনে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে উভয়েই শাহাদত বরণ করেন।
- পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা তার লাশ উদ্ধার করে মশরুর বিমান ঘাটির ৪র্থ শ্রেণীর কবরস্তানে অত্যন্ত অমর্যাদার সাথে দাফন করে।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২৪.
রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পেতে মোট ৩টি শর্তের কয়টি শর্ত পূরণ করতে হয়?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ১ নং শর্ত ও বাকি যেকোনো ১টি
  4. ৩টি
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন:
- ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এটিএম শামছুল হুদার নির্বাচন কমিশন ভোটে অংশ নিতে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের বিধান চালু করে।
- ওই বছরই প্রথম দফায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল নিবন্ধন পেতে চাইলে তিনটি শর্তের যেকোনো একটি পূরণ করতে হবে।
- প্রথমত, স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত কোনো সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে কমপক্ষে একটি আসনে বিজয়;
- দ্বিতীয়ত, ওই সব নির্বাচনে দলটির প্রার্থীরা যেসব আসনে অংশ নিয়েছেন, সেসব আসনে মোট ভোটের পাঁচ শতাংশ ভোট প্রাপ্তি;
- তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় কমিটিসহ একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় অফিস থাকতে হবে। দেশের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জেলায় জেলা অফিস থাকতে হবে।
- আর অন্তত ১০০টি উপজেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার থানায় অফিস থাকতে হবে, যার প্রতিটিতে সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ২০০ জন ভোটার থাকবে।

উৎস: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও BBC.