পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৫০
সিলেবাস
বিষয় - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি অধ্যায়: বৈশ্বিক ইতিহাস, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, ভূ-রাজনীতি টপিকসমূহ: ১. ভূ-রাজনীতি: i) গুরুত্বপূর্ণ স্থান (ভৌগোলিক উপনাম, আন্তর্জাতিক সীমারেখা, প্রণালী, দ্বীপ, উপদ্বীপ, সমভূমি, মালভূমি, মরুভূমি, হ্রদ, ইত্যাদি। ii) বৈশ্বিক অর্থনীতি, শিল্প, পরিবহণ ও যোগাযোগ। iii) সরকার ও রাজনীতি, জাতি ও ধর্ম, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। উৎস: ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা সম্পর্কিত বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ব্রিটানিকা, হিস্টরি.কম, সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] ------------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৫০ প্রশ্ন

.
"হাজার হ্রদের দেশ" হিসেবে পরিচিত কোন দেশ?
  1. এস্তোনিয়া
  2. সুইজারল্যান্ড
  3. ফিনল্যান্ড
  4. ইন্দোনেশিয়া
ব্যাখ্যা

ফিনল্যান্ডকে হাজার হ্রদের দেশ বলা হয়।

- ফিনল্যান্ড উত্তর ইউরোপের একটি দেশ। 
- উত্তর-পশ্চিমে সুইডেন, দক্ষিণে এস্তোনিয়া, পূর্বে রাশিয়া এবং উত্তরে নরওয়ে অবস্থিত।
- ফিনল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ, যার রাজধানী হেলসিঙ্কি।
- দেশটিতে ১৮৭,০০০ এরও বেশি হ্রদ রয়েছে। 
- ফিনল্যান্ডের হাজার হাজার হ্রদের কারণেই দেশটির ডাকনাম "হাজার হ্রদের দেশ"। 
- জনসংখ্যার সাথে হ্রদের সংখ্যার তুলনা করলে দেখা যায় যে প্রতি ২৬ জন ফিনের জন্য একটি হ্রদ রয়েছে। 
- ফিনল্যান্ডের ভূমি এলাকার ১০% জল। 

উৎস: world atlas.

.
৩৮° উত্তর অক্ষাংশ রেখা কোন অঞ্চলের সীমা নির্ধারণ করে?
  1. চীন এবং মঙ্গোলিয়া
  2. জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া
  3. ভিয়েতনাম এবং লাওস
  4. উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়া
ব্যাখ্যা

৩৮° অক্ষরেখা:

- ৩৮তম সমান্তরাল, যা প্রায় ৩৮° উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত, পূর্ব এশিয়ায় উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সীমা নির্ধারণ করে।
- এই সীমারেখা নির্বাচন করা হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে পটসডাম সম্মেলনে (জুলাই ১৯৪৫)।
- মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীরা এটিকে কোরিয়ায় অস্থায়ী সামরিক সীমানা হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন।

- উত্তরে: সোভিয়েত ইউনিয়নকে কোরিয়ার উত্তর অংশে জাপানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণ মেনে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া।
- দক্ষিণে: মার্কিন বাহিনীকে জাপানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণ মেনে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া।
- মূলত এই লাইনটি কোরিয়ার অস্থায়ী বিভাজন হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল

- উত্তর কোরিয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনে এবং দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে চলে যায়।
- ১৯৪৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার জন্ম হয়।

উৎস: Britannica.

.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কত সালে রাশিয়ার কাছ থেকে আলাস্কা ক্রয় করেছিল?
  1. ১৮৬৫
  2. ১৮৬৭ 
  3. ১৮৬৬
  4. ১৮৬৮
ব্যাখ্যা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৮৬৭ সালের ৩০শে মার্চ রাশিয়ার কাছ থেকে আলাস্কা ক্রয় করেছিল। 

আলাস্কা ক্রয়:
- যুক্তরাষ্ট্র ১৮৬৭ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে আলাস্কা ভূখণ্ড ক্রয় করে যা 'আলাস্কা ক্রয়' (Purchase of Alaska) নামে পরিচিত।
- স্বাক্ষরিত হয়: ৩০ মার্চ, ১৮৬৭।
- মূল্য: ৭.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রতি একর প্রায় ২ সেন্ট বা ০.০২ ডলার)।
- স্বাক্ষরকারী: যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম এইচ. সেওয়ার্ড এবং রাশিয়ার পক্ষে রুশ দূত এদুয়ার্ড ডি স্টোয়েকল।
- যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম এইচ. সেওয়ার্ড এই চুক্তির প্রধান উদ্যোক্তা। অনেকে এ ভূখণ্ড কেনাকে ‘সিওয়ার্ডের বোকামি’ বা ‘সিওয়ার্ডের বরফবক্স’ বলে উপহাস করেছিলেন।

উৎস:  Britannica.

.
লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপটি কোথায় অবস্থিত?
  1. কিউবা
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. ব্রাজিল
  4. জ্যামাইকা
ব্যাখ্যা

লিটল সেন্ট জেমস 
- লিটল সেন্ট জেমস হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত একটি ছোট ব্যক্তিগত দ্বীপ।
- এটি এপস্টাইন দ্বীপ নামে কুখ্যাত,  শিশু যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইন এর মালিক ছিলেন।
- তিনি ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৯ সালে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এই দ্বীপের মালিক ছিলেন।
- অভিযোগ আছে যে এ সময়ে তিনি এখানে তার সমস্ত উল্লেখযোগ্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করেছিলেন।
- এপস্টাইনের বহু বছরের মালিকানার কারণে, বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচারের জন্য দ্বীপটি ব্যবহারের অভিযোগের কারণে, দ্বীপটিকে “পেডোফাইল দ্বীপ”ও বলা হয়।

উৎস: রয়টার্স।

.
কোন দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক রাষ্ট্রের সাথে সীমান্ত ভাগ করে?
  1. ব্রাজিল
  2. ভারত
  3. চীন
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা

চীন সর্বাধিক রাষ্ট্রের সাথে সীমান্তযুক্ত।

চীন:
- চীন পূর্ব এশিয়ার একটি রাষ্ট্র।
- বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীন। 
- রাজধানী: বেইজিং।
- মুদ্রা: ইউয়ান।
- ভাষা: মান্দারিন।
- আইনসভা: ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস।
- বর্তমান প্রধানমন্ত্রী: লি কেকিয়াং।
- বর্তমান রাষ্ট্রপতি: শি জিন পিং।

উল্লেখ্য,
- চীনের সাথে ১৪টি দেশের স্থল সীমান্ত আছে।
- দেশগুলি হলো: আফগানিস্তান, ভুটান, ভারত, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, লাওস, মঙ্গোলিয়া, মায়ানমার, নেপাল, উত্তর কোরিয়া, পাকিস্তান, রাশিয়া, তাজিকিস্তান, ভিয়েতনাম।

অন্যদিকে,
- ভারতের সাথে ৮টি দেশের সাথে, ।

⇒ সর্বাধিক প্রতিবেশী রাষ্ট্র দ্বারা পরিবেষ্টিত:
1.চীন:
- সীমান্তবর্তী দেশ ১৪টি।

রাশিয়া:
- সীমান্তবর্তী দেশ ১৪টি।

2. ব্রাজিল:
- সীমান্তবর্তী দেশ ১০টি।

3. কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র:
- সীমান্তবর্তী দেশ ৯টি।

জার্মানি:
- সীমান্তবর্তী দেশ ৯টি।

উৎস: World atlas.

.
কোন দেশগুলিকে ‘মিন্ট (MINT)’ উদীয়মান অর্থনৈতিক জায়ান্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে?
  1. ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন
  2. মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, তুরস্ক
  3. দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইরান, ভিয়েতনাম
  4. জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া
ব্যাখ্যা

 "মিন্ট" দেশগুলি - মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া এবং তুরস্ক - কে উদীয়মান অর্থনৈতিক জায়ান্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- অর্থনীতিবিদ জিম ও'নিল এই শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন ।
- মূলত সম্পদের দিক থেকে, মাথাপিছু আয় , জনসংখ্যা ইত্যাদি দিক বিবেচনায় দেশগুলোকে উদীয়মান অর্থনৈতিক জায়ান্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ২০০১ সালে বিশ্ব ব্রিক দেশগুলি - ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত এবং চীন - কে বিশ্ব অর্থনীতির সম্ভাব্য শক্তিধর দেশ হিসেবে আলোচনা শুরু হয়। 
- পরবর্তীতে আরো 

উৎস: বিবিসি।

.
G20 দেশগুলি বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মোট GDP-এর আনুমানিক কত শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করে? (মার্চ-২০২৬)
  1. ৬০%
  2. ৭০%
  3. ৮৫%
  4. ৬৫%
ব্যাখ্যা

 - G20 দেশগুলি বর্তমানে বিশ্বব্যাপী GDP-এর ৮৫% প্রতিনিধিত্ব করে এবং বিশ্বের জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ।
- এই অর্থনৈতিক এবং জনসংখ্যাগত প্রভাব তাদের পদ্ধতিগত সংকট কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম করে।

G20:
- G20 বা Group of 20।
- এটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রধান ফোরাম।
- বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৯ সালে গঠিত হয়েছিল গ্রুপ অব টুয়েন্টি বা জি-২০।

⇒ জি-২০’র সদস্য: ২১টি।
যথা: 
১৯টি দেশ এবং জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকান ইউনিয়ন।
- সদস্য দেশ: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, চীন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, তুরস্ক।
- স্পেন স্থায়ী অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়।

⇒ বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৮৫ শতাংশই এই জোটের দখলে।

উৎস: i) Department of Foreign Affairs and Trade ওয়েবসাইট।
ii) ফ্রান্সের স্থায়ী মিশন ,নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ।

.
ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে কোন দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে?
  1. ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য
  2. যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য
  3. আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল
  4. যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনা
ব্যাখ্যা

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ:
- ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সঙ্গে সংঘটিত ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর, দ্বীপপুঞ্জটি আবার ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে আসে। 
- যুক্তরাজ্য ও  আর্জেন্টিনার সঙ্গে সংঘর্ষ সংঘটিত হয়।
- ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ।
- দ্বীপপুঞ্জটি পূর্ব ও পশ্চিম ফকল্যান্ড নামে দুটি প্রধান দ্বীপ এবং আরও ৭৭৬টি ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত।
- ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ইতিহাসে ফরাসি, ব্রিটিশ, স্পেনীয় ও আর্জেন্টাইনদের উপস্থিতি ছিল।
- বর্তমানে, দ্বীপপুঞ্জের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী ব্রিটিশ।
- অর্থনীতিতে মাছ ধরা, পর্যটন ও ভেড়া পালন উল্লেখযোগ্য।

উৎস: Britannica.

.
গেটিসবার্গ শহরের সাথে কোন বিখ্যাত মার্কিন প্রেসিডেন্টের নাম ঐতিহাসিকভাবে জড়িত?
  1. জর্জ ওয়াশিংটন
  2. আব্রাহাম লিঙ্কন
  3. থমাস জেফারসন
  4. থিওডোর রুজভেল্ট
ব্যাখ্যা

- গেটিসবার্গ শহরের সাথে বিখ্যাত মার্কিন প্রেসিডেন্টের আব্রাহাম লিংকন এর নাম ঐতিহাসিকভাবে জড়িত।
- আব্রাহাম লিংকন গেটিসবার্গ ভাষণ দিয়েছিলেন।


আব্রাহাম লিংকন:
- আব্রাহাম লিংকন ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম রাষ্ট্রপতি এবং প্রথম রিপাবলিক দলের প্রেসিডেন্ট।
- তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দাস প্রথা বিলুপ্ত করেন এবং ক্রীতদাসদের স্বাধীন নাগরিকের মর্যাদা দেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯ নভেম্বর ১৮৬৩ তারিখে গেটিসবার্গের ভাষণ আব্রাহাম লিংকনের একটি বিখ্যাত ভাষণ।
- আব্রাহাম লিংকন আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় পেনসিলভানিয়ার গেটিসবার্গে এই ভাষণ দেন।
- ভাষণটি দিতে তাঁর লেগেছিল তিন মিনিটেরও কম সময়।
- শব্দ ছিল মাত্র ২৭২টি।
- কিন্তু তার শিহরণ লেগেছিল গোটা বিশ্বে।
- তার বিখ্যাত উক্তি: ‘বুলেটের চাইতেও ব্যালট শক্তিশালী’ ও ‘Democracy is a government of the people, by the people and for the people’

উৎস: Britannica.

১০.
আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংকের (African Development Bank - AfDB) সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. নাইরোবি
  2. আদ্দিস আবাবা
  3. আবিদজান
  4. আক্রা
ব্যাখ্যা

আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংকের সদর দপ্তর আবিদজান, আইভরি কোস্টে অবস্থিত।

আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক (African Development Bank - AfDB):
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক হলো আফ্রিকা মহাদেশের প্রধান মাল্টিল্যাটারাল ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক।
- এটি আফ্রিকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং নীতি পরামর্শ প্রদান করে।

• AfDB প্রতিষ্ঠার চুক্তি কার্যকর হয়: ৪ আগস্ট, ১৯৬৩ (Organisation of African Unity-এর উদ্যোগে)।
- প্রতিষ্ঠার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: খার্তুম, সুদান।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৪। 
- কার্যকর: ১ জুলাই, ১৯৬৬।
- সদর দপ্তর: আবিদজান, আইভরি কোস্ট।
- সদস্য দেশ: ৮২টি (৫৪টি আফ্রিকান + ২৮টি অ-আফ্রিকান)।
- সভাপতি: ডঃ সিদি ওউলদ তাহ (মৌরিতানিয়া)।
- লক্ষ্য: আফ্রিকায় টেকসই অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, সামাজিক অগ্রগতি এবং দারিদ্র্য হ্রাস করা।
- আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের কাজ হলো আফ্রিকার দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান।

উল্লেখ্য,
- এটি African Development Bank Group-এর মূল প্রতিষ্ঠান।
- গ্রুপের অন্যান্য অংশ: African Development Fund (ADF), Nigeria Trust Fund (NTF)।

উৎস: African Development Bank ওয়েবসাইট।

১১.
কোন দেশকে মধ্যরাতের সূর্যের দেশ বলা হয়?
  1. আইসল্যান্ড
  2. নরওয়ে
  3. জাপান
  4. ডেনমার্ক
ব্যাখ্যা

- নরওয়েতে মধ্যরাতের সূর্য নামে পরিচিত একটি প্রাকৃতিক ঘটনা ঘটে ।
- গ্রীষ্মের মাসগুলিতে দেশের কিছু অংশে সারাদিন রোদ থাকে বলে দেশটির নামকরণ করা হয়েছে মধ্যরাতের দেশ।
- নরওয়ে ইউরোপের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত। 
- এর পশ্চিমে সুইডেন , উত্তরে ফিনল্যান্ড এবং রাশিয়ার সীমানা রয়েছে। 
- নরওয়ের একটি ছোট অংশ আর্কটিক সার্কেলের উত্তরে অবস্থিত।
- নরওয়ের এই উত্তর অংশ গ্রীষ্মকালে মধ্যরাতের সূর্য অনুভব করে।

নরওয়ে:
- নরওয়ে ইউরোপের বৃহত্তম দেশগুলির মধ্যে একটি।
- দেশটির আয়তন .৩৮৪,৪৮৩ বর্গ কিমি।
- এর রাজধানী: অসলো।
- মুদ্রা: নরওয়েজিয়ান ক্রোন।
- নিশীথ সূর্যের দেশ নামে পরিচিত নরওয়ে।
- উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত হওয়ায় মে থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত এখানে সূর্য পুরোপুরি অস্তমিত হয় না।

উৎস: world atlas and Britannica.com.

১২.
ম্যাকমোহন লাইন যে দুটি দেশের সীমানা নির্ধারণ করে?
  1. ভারত এবং পাকিস্তান
  2. পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান
  3. নেপাল এবং ভুটান
  4. ভারত এবং চীন 
ব্যাখ্যা

 ম্যাকমোহন লাইন: 
- ম্যাকমোহন লাইন হলো তিব্বত ও ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া একটি কূটনৈতিক সীমারেখা। 
- ১৯১৪ সালের সিমলা সম্মেলনে তৎকালীন ব্রিটিশ উপনিবেশের অ্যাডমিনিস্ট্রেটর স্যার হেনরি ম্যাকমোহনের তত্ত্বাবধানে তিব্বত ও ভারতের প্রতিনিধিদের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- তার নামানুসারে ম্যাকমোহন লাইনের নামকরণ করা হয়। 
- বর্তমানে এটি ভারত-চীন সীমান্তরেখা নামে বহুল পরিচিত। 
- কারণ, চীন বরাবরই তিব্বতকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে আর মূলত এ নিয়েই দেশটির সঙ্গে তাদের বিরোধের সূত্রপাত। 
- পরবর্তী সময়ে ১৯৫০ সালে চীন তিব্বতকে পুরোপুরি দখল করে নেয় এবং তখন থেকে এখন পর্যন্ত দেশটি এ সীমান্তরেখাকে কখনো স্বীকৃতি দেয়নি।
- এ সংক্রান্ত বিরোধে চীন ও ভারত ১৯৬২ সালে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
- চীন ভারতের কিছু এলাকা দখল করে নেয়।
- পরবর্তীতে শান্তি চুক্তির মাধ্যমে তারা দখলকৃত অংশ ফিরিয়ে দেয়।

এছাড়া,

ভারত-পাকিস্তানকে বিভক্ত করেছে লাইন অব কন্ট্রোল।
ভারত-বাংলাদেশকে বিভক্ত করেছে র‍্যাডক্লিফ লাইন।
পাকিস্তান-আফগানিস্তানকে পৃথক করেছে ডুরাল্ড লাইন।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১৩.
‘গ্লোবাল ভিলেজ’ ধারণাটি প্রথম উপস্থাপন করেন কে?
  1. আলভিন টফলার
  2. মার্শাল ম্যাকলুহান 
  3. ড্যানিয়েল বেল
  4. স্যামুয়েল হান্টিংটন
ব্যাখ্যা

- 'গ্লোবাল ভিলেজ' ধারাটি প্রথম উপস্থাপন করেন কানাডিয়ান গণযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মার্শাল ম্যাকলুহান।

• গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম: 
- গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম হচ্ছে এমন একটি পরিবেশ যেখানে পৃথিবীর সকল মানুষই একটি একক সমাজে বসবাস করে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে একে অপরকে সেবা প্রদান করে থাকে।
- কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিখ্যাত দার্শনিক 'মার্শাল ম্যাকলুহান' সর্বপ্রথম গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম শব্দটি ব্যবহার করেন।
- মার্শাল ম্যাকলুহান 'দি মিডিয়াম ইজ দি মেসেজ' (the medium is the message) এবং 'গ্লোবাল ভিলেজ' (Global village) এর প্রবক্তা বা উদ্ভাবক হিসাবে পরিচিতি পেয়েছেন।
- তিনি ১৯৬২ সালে তার প্রকাশিত গ্রন্থ 'The Gutenberg: The Making of Typographic Man' এবং ১৯৬৪ সালে তার প্রকাশিত গ্রন্থ 'Understanding Media' এ গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম এর ধারণা দেন।
- তাঁর সময়ে ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন প্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছিল।
- তাঁর মতে, ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন প্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তারের ফলে সময় ও দূরত্ব সংকুচিত হয়ে পৃথিবী একটি গ্রামে পরিণত হয়েছে।
- তিনি এ প্রযুক্তির বিস্তৃতিকে 'ইলেকট্রনিক নার্ভাস সিস্টেম' (Electronic Nervous System) নামে আখ্যায়িত করেছেন।
- পৃথিবী এ সিস্টেমের সাহায্যে সংযুক্ত হয়ে বিশ্বগ্রাম (Global village) এ রূপান্তরিত হয়েছে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি (প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান)।

১৪.
বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) প্রকল্পে প্রধানত কোন ধরনের উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত?
  1. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য
  2. সামরিক ঘাঁটি
  3. সাংস্কৃতিক বিনিময়
  4. অবকাঠামো উন্নয়ন 
ব্যাখ্যা

- ২০১৩ সালে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) চালু করেন।
- এই প্রকল্পে ইউরেশিয়া, আফ্রিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকা জুড়ে 
- বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং সংযোগ উন্নত করার জন্য অবকাঠামো প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- চীন বিআরআই অর্থনৈতিক সংযোগ এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে।
- পশ্চিমা বিশ্বের অনেকেই এটিকে চীনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে দেখেন।

উৎস: Britannica.com.

১৫.
সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করেছিলেন কোন মিশরীয় প্রেসিডেন্ট?
  1. আনোয়ার সাদাত
  2. গামাল আবদেল নাসের 
  3. হোসনি মুবারক
  4. মুহাম্মদ নাজিব
ব্যাখ্যা

সুয়েজ খাল:
- সুয়েজ খাল মিশরের সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- এটি একটি কৃত্তিম সামুদ্রিক খাল।
- এটি ভূমধ্যসাগরকে লোহিত সাগরের সাথে যুক্ত করেছে।
- নির্মাণ শুরু হয়েছে: ২৫ এপ্রিল, ১৮৫৯।
- নির্মাণ শেষ হয়: ১৭ নভেম্বর, ১৮৬৯।
- দশ বছর ধরে খননের পর পথটি ১৮৬৯ সালে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়।
- খালটি মিশরের সুয়েজ ক্যানেল অথোরিটির মালিকানাধীন।

উল্লেখ্য,
- মিশরের প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসের সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করেছিলেন ১৯৫৬ সালে।
- দখল করে নিয়েছিলেন মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান পথটির নিয়ন্ত্রণ।

উৎস: i) Britannica.
          ii) BBC.

১৬.
নিম্নে উল্লিখিত কোন দেশটি G-7 এর সদস্য দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ইতালি
  2. রাশিয়া
  3. যুক্তরাজ্য
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

G-7 এর সদস্য দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়- রাশিয়া।

G-7:

- G-7 এর পূর্ণরূপ: Group of Seven.
- এটি বিশ্বের শিল্পোন্নত ৭টি দেশের আন্তঃরাষ্ট্রীয় জোট।
- এটি বিশ্বের ধনী দেশগুলোর সংগঠন।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৫ নভেম্বর, ১৯৭৫ সালে।
- জি-৭ গঠনের প্রস্তাবক দেশ ছিল ফ্রান্স।
- G-7 এর বর্তমান সদস্য রাষ্ট্র ৭টি।
- জি-৭ এর বর্তমান সদস্য দেশ গুলো হলো: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও কানাডা।
- এই সংস্থার একমাত্র এশীয় দেশ জাপান।

উল্লেখ্য,
- ২০২৬ সালে ফ্রান্স G-7 এর সভাপতিত্ব গ্রহণ কারী দেশ।
-  সভাপতি হিসেবে, ফ্রান্স জুন ২০২৬ সালে ফ্রান্সের ইভিয়ানে G7 শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করবে।

এছাড়াও,
- বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশসমূহের সংগঠন G-8 (Group Eight) ১৫ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ২৪ মার্চ ২০১৪ রাশিয়ার সদস্যপদ বাতিল করায় এ সংস্থাটির নাম হয় G-7।
- ক্রিমিয়া ইস্যুতে চলমান অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে শিল্পোন্নত দেশগুলোর সংগঠন জি-৮ থেকে রাশিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। 

উৎস: i) G-7 ওয়েবসাইট।
ii) ফ্রান্সের স্থায়ী মিশন ,নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ।

১৭.
‘ভিক্টোরিয়া ডিজার্ট’ কোথায় অবস্থিত?
  1. মেক্সিকো
  2. অস্ট্রেলিয়া 
  3. মরক্কো
  4. কানাডা
ব্যাখ্যা

ভিক্টোরিয়া মরুভূমি (Great Victoria Desert):
- গ্রেট ভিক্টোরিয়া মরুভূমি দক্ষিণ ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত; একে বলা হয় Great Victoria Desert।
- এটি ১৮৭৫ সালে অস্ট্রেলিয়ান অনুসন্ধানকারী Ernest Giles একে মহারানী ভিক্টোরিয়ার নামানুসারে Great Victoria Desert নামকরণ করেন।
- এর আয়তন - ৩৫০,০০০ বর্গকিলোমিটার। এটি বিশ্বের ৭ম বৃহৎ ও অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম মরুভূমি।
এছাড়াও -
কয়েকটি মরুভূমি ও এদের অবস্থান:
- পাতাগোনিয়া মরুভূমি : চিলি, আর্জেন্টিনা
- থর মরুভূমি : ভারত ও পাকিস্তান
- গোবি মরুভূমি : চীন ও মঙ্গোলিয়া
- মোজাবে মরুভূমি : যুক্তরাষ্ট্র
- সাহারা মরুভূমি : আফ্রিক।
- আতাকামা মরুভূমি : চিলি
- কালাহারি মরুভূমি : নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা
- গ্রেট ভিক্টোরিয়া মরুভূমি : অস্ট্রেলিয়া।

উৎস: Britannica and World Atlas ওয়েবসাইট।

১৮.
IMF- এর সর্বশেষ সদস্যরাষ্ট্র কোনটি?
  1. লিচেনস্টাইন
  2. পূর্ব তিমুর
  3. দক্ষিণ সুদান
  4. আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা

• IMF:
- IMF- এর পূর্ণরূপ- The International Monetary Fund.
- IMF ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং
- এর সদর দপ্তর ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত।
- এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিল ৪৪টি দেশ এবং
- বর্তমানে এর মোট ১৯১টি সদস্য দেশ আছে (মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত)।
- এর সর্বশেষ সদস্য হলো লিচেনস্টাইন।
- ১৯১ তম সদস্য দেশ – লিচেনস্টাইন (Liechtenstein)। (যোগদান তারিখ- ২১ অক্টোবর, ২০২৪)

- IMF-এর প্রধান কাজ হলো বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজতর করা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদান এবং সদস্য দেশগুলোকে আর্থিক সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করা।
- এটি ঋণ প্রদান, অর্থনৈতিক নীতি পর্যালোচনা এবং আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই লক্ষ্যগুলো অর্জন করে।

উৎস: IMF অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। 

১৯.
মনরো ডকট্রিন কখন ঘোষণা করা হয়েছিল?
  1. ১৮১৭ সালে
  2. ১৮২৩ সালে
  3. ১৮২৫ সালে
  4. ১৮৩০ সালে
ব্যাখ্যা

• মনরো ডকট্রিন (Monroe Doctrine): 
-  ২ ডিসেম্বর ১৮২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো কর্তৃক কংগ্রেসকে দেওয়া বার্ষিক ভাষণে ঘোষণা করা হয়।
- জেমস মনরো ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম রাষ্ট্রপতি।
 - তিনি ১৮১৭ থেকে ১৮২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ছিলেন।
- তিনি উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বিষয়গুলিতে হস্তক্ষেপ না করতে ইউরোপীয় শক্তিগুলিকে সতর্ক করেন। 

» মনরো ডকট্রিনের মূল বক্তব্য ছিল:

১. উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার কোনো স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইউরোপের কোনো দেশ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
২. এই অঞ্চলে নতুন করে কোনো উপনিবেশ স্থাপন করা যাবে না।
৩. কোনো ইউরোপীয় হস্তক্ষেপকে আমেরিকার নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখা হবে।
৪. বিনিময়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যমান ইউরোপীয় উপনিবেশগুলোকে স্বীকৃতি দেবে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলিতে হস্তক্ষেপ করবে না।

উৎস: ব্রিটানিকা ও আল জাজিরা।

২০.
আর্যদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম কী?
  1. মহাভারত
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন 
  3. বেদ
  4. রামায়ণ
ব্যাখ্যা

• আর্য জাতি ও তাদের ইতিহাস:
- সিন্ধু সভ্যতার পতনের পর একটি জাতি ভারতে প্রবেশ করতে থাকে। 
- ইতিহাসে এরা আর্য নামে পরিচিত। 
- আর্যদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম — বেদ।
- বেদের ধর্ম খুব নিষ্ঠার সাথে পালন করতো আর্যরা। 
- বেদের অনুসারী এই আর্যরা ভারতে গড়ে তোলে এক সভ্যতা। 
- ইতিহাসে তা আর্য সভ্যতা বা বৈদিক সভ্যতা নামে পরিচিত। 
- বেদ শুধু ধর্ম গ্রন্থই ছিল না। এতে সাহিত্যের গুণও ছিল। 
- এভাবে আর্য সভ্যতা ভারতবর্ষে এক উন্নত সাহিত্যের জন্ম দেয় যা বৈদিক সাহিত্য নামে পরিচিত। আর্য সভ্যতা সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনে একটি নতুন ধারণার জন্ম দিয়েছিল। 
- এই সভ্যতাই ধাতু যুগের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় ভারতকে।
- বেদের এর অপরনাম শ্রুতি। এর কারণ, লিপিবদ্ধ হওয়ার আগে দীর্ঘকাল বেদ ছিল মানুষের স্মৃতিতে বিধৃত। 
 
উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২১.
‘রেইনবো নেশন’ নামে পরিচিত কোন দেশটি?
  1. দক্ষিণ আফ্রিকা
  2. নাইজেরিয়া
  3. নিউজিল্যান্ড
  4. ব্রাজিল
ব্যাখ্যা

- দক্ষিণ আফ্রিকার এই জাতির ডাকনাম সকল দেশের মধ্যে অনন্য, নাম এবং অর্থ উভয় দিক থেকেই। 
- দক্ষিণ আফ্রিকার নেতা টুটু কর্তৃক বিখ্যাত হয়ে ওঠার পর, দক্ষিণ আফ্রিকা উষ্ণভাবে রেইনবো নেশন নামে পরিচিত, যা বহু জাতির ঐক্য গ্রহণ এবং গঠনের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

দক্ষিণ আফ্রিকা:
- দক্ষিণ আফ্রিকা আফ্রিকা মহাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত রাষ্ট্র।
- দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রীয়/প্রশাসনিক নাম Republic of South Africa.
- দেশটির দক্ষিণে ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগর অবস্থিত।
- দুই মহাসাগর মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলীয় তটরেখার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭৩৯ মাইল।
- দেশটির আইনসভার নাম পার্লামেন্ট।
- দেশটির আইনসভা ২ কক্ষ বিশিষ্ট।
- যথা: উচ্চকক্ষ National Council, নিম্নকক্ষ National Assembly.
- মুদ্রা: র‍্যান্ড।

⇒ দক্ষিন আফ্রিকার রাজধানী ৩টি। যথা:
• নির্বাহী বা প্রশাসনিক রাজধানী: প্রিটোরিয়া।
• সংসদীয় রাজধানী: কেপ টাউন।
• বিচার বিভাগীয় রাজধানী: ব্লোয়েমফন্টেইন।

উৎস:
i) World atlas.

ii) Britannica.
iii) world population review.

২২.
সনোরা লাইন কোন দেশ দুটির মধ্যে অবস্থিত?
  1. পর্তুগাল ও স্পেন
  2. জার্মানি ও ফ্রান্স
  3. জার্মানি ও পোল্যান্ড
  4. যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো
ব্যাখ্যা

সনোরা লাইন: 
- সনোরা লাইন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যেকার একটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখা। 

- এটি মেক্সিকোর সনোরা রাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা ও ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্যে অবস্থিত। 

অপরদিকে,
- লাইন অব ডিমারকেশন: পর্তুগাল ও স্পেন,
- ওডারনিস লাইন: জার্মানি ও পোল্যান্ড।
- সিগফ্রিড লাইন: জার্মানি ও ফ্রান্স।
- হিন্ডারবার্গ লাইন: জার্মানি ও ফ্রান্স।
- সনোরা লাইন: যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

২৩.
COMECON-এর মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমন্বয় সাধন 
  2. পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সামরিক জোট তৈরি করা
  3. কূটনৈতিক সংঘর্ষ সৃষ্টি করা
  4. মার্কিন অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করা
ব্যাখ্যা

• COMECON:
- COMECON এর পূর্ণরূপ Council for Mutual Economic Assistance.
- কমিকন (COMECON) প্রতিষ্ঠিত হয় জানুয়ারি ১৯৪৯ সালে।
- এটি ছিল সোভিয়েত ব্লকের অন্তর্ভুক্ত পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমন্বয় সাধন।
- প্রতিষ্ঠাকালীন মূল সদস্য দেশ ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও রোমানিয়া।
- পরবর্তীতে আলবেনিয়া, পূর্ব জার্মানি, মঙ্গোলিয়ান গণপ্রজাতন্ত্র, যুগোস্লাভিয়া, কিউবা ও ভিয়েতনাম এতে যোগ দেয়।
- প্রাথমিকভাবে কমিকন সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও ঋণ চুক্তি নিবন্ধনের ওপর গুরুত্ব দেয়।
- ১৯৮৯–৯০ সালে পূর্ব ইউরোপে কমিউনিস্ট সরকারগুলোর পতন ঘটে।
- এর ফলে কমিকনের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা হ্রাস পায়।
- পরিণামে সংস্থার নাম পরিবর্তন হয় এবং শেষ পর্যন্ত কমিকন ভেঙে যায়।

উৎস: ব্রিটানিকা

২৪.
সোভিয়েত ইউনিয়নে কোন নীতি অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য প্রবর্তিত হয়েছিল?
  1. গ্লাসনস্ত
  2. পেরেস্ত্রইকা
  3. কমিউনিজম
  4. মার্কসবাদ
ব্যাখ্যা

- সেভিয়েত ইউনিয়নের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ ১৯৮৫ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর গ্লাস্তনস্ত এবং পেরেস্ত্রইকা নামে দুটির সংস্কারমূলক নীতি গ্রহণ করেন।

- পেরেস্ত্রইকা ছিলো অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি বিষয়ক নীতি।
- সোভিয়েত ইউনিয়নকে জার্মানি, জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো পুঁজিবাদী দেশগুলির সাথে অর্থনৈতিকভাবে সমকক্ষে নিয়ে আসার লক্ষ্যে , গর্বাচেভ অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বিকেন্দ্রীকরণ করেন এবং উদ্যোগগুলিকে স্ব-অর্থায়নকারী হতে উৎসাহিত করেন।

অন্যদিকে
- মধ্যে গ্লাস্তনস্ত ছিলো রাজনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি ।
- - সোভিয়েত নাগরিকদের ব্যাক্তি স্বাধীনতা ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য তিনি খোলামেলা আলোচনার যে মুক্ত ব্যবস্থা চালু করেছিলেন তাই গ্লাসনস্ত নীতি হিসেবে অভিহিত।
- সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পুনর্গঠনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল তার জন্য রাজনৈতিক সংস্কার ও গণসমর্থন প্রয়োজন ছিল। আর এজন্য গ্লাসনস্ত নীতি গ্রহণ করা হয়।


উৎস: হিস্টোরি ওয়েবসাইট এবং ব্রিটানিকা।।

২৫.
আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ভিত্তি স্থাপনে ঐতিহাসিক ব্রেটন উডস সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. নিউ ইয়র্ক
  2. ওয়াশিংটন ডিসি
  3. শিকাগো
  4. নিউ হ্যাম্পশায়ার
ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ভিত্তি স্থাপনে ঐতিহাসিক ব্রেটন উডস সম্মেলন ১৯৪৪ সালের ১ থেকে ২২ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের ব্রেটন উডসের মাউন্ট ওয়াশিংটন হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। 

ব্রেটন উডস সম্মেলন (Bretton Woods Conference):
- ব্রেটন উডস সম্মেলন আনুষ্ঠানিকভাবে United Nations Monetary and Financial Conference নামে পরিচিত।
- ১৯৪৪ সালের ১ - ২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের ব্রেটন উডস নামক স্থানে মাউন্ট ওয়াশিংটন হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রায় বিধ্বস্ত বিশ্ব অর্থনীতিকে সচল করা। 
- এই সম্মেলনে ৪৪টি দেশের ৭৩০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
- এই সম্মেলনের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব দ্য স্টেটের বিশেষ সহকারী হ্যারি ডেক্সটার হোয়াইট এবং ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনস।
- ১৯৪৪-এর এ সম্মেলনের সূত্র ছিল ১৯৪১ সালের আটলান্টিক কনফারেন্সে।

⇒ ১৯৪৪-এর জুনে আটলান্টিক শহরে একটি প্রাথমিক সম্মেলন হয় এবং ১ জুলাই বসে চূড়ান্ত ব্রেটন উডস কনফারেন্স।
- এ সম্মেলনে দুটি প্রতিষ্ঠান জন্ম নেয়- IMF এবং IBRD।
- IBRD শিগগিরই বিশ্বব্যাংকে পরিণত হয়।
- IMF এবং IBRD যাত্রা শুরু করে ১৯৪৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর।
- শুরুতে আইএমএফের প্রধান কাজ নির্ধারণ করা হয়েছিল আমেরিকান ডলার ও স্বর্ণের ভিত্তিতে মুদ্রা বিনিময় হারে ভারসাম্য বজায় রাখা। অন্যদিকে আইবিআরডির দায়িত্ব ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলো পুনর্নির্মাণ এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করা। 

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস বিশ্বব্যাংক ও IMF গঠনের Articles of Agreement অনুমোদন করে।
- যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার শহরে ২৯টি দেশ ব্রেটন উডস চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
- মোট ২৯টি দেশের অনুমোদন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৪৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাংক ও IMF প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) World Bank Group ওয়েবসাইট।
ii) U.S. Department of State (.gov) ওয়েবসাইট। 

২৬.
‘ডেরিয়েন গ্যাপ (Darien Gap)’ কোন দুটি দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. পানামা ও কলম্বিয়া
  2. কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা
  3. পানামা ও কোস্টারিকা
  4. নিকারাগুয়া ও হন্ডুরাস
ব্যাখ্যা

- ডেরিয়েন গ্যাপ (Darien Gap) ডেরিয়ান অঞ্চলে অবস্থিত, যা পূর্ব পানামা এবং উত্তর-পশ্চিম কলম্বিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
- এটি প্যান-আমেরিকান হাইওয়ের ৬০ মাইল (১০০ কিমি) দীর্ঘ একটি বিরতি প্রতিনিধিত্ব করে ,যা অন্যথায় আলাস্কা থেকে আর্জেন্টিনার দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এই অঞ্চলটি ঘন গাছপালাযুক্ত জলাভূমি এবং জঙ্গল দ্বারা চিহ্নিত, যা এটি অতিক্রম করা কঠিন করে তোলে। 
- বিপদ সত্ত্বেও, ডেরিয়ান গ্যাপ উত্তরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় ভ্রমণকারী অভিবাসীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হয়ে উঠেছে।
- ডারিয়েন গ্যাপ বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক অভিবাসন রুটগুলির মধ্যে একটি।
- এই অঞ্চলে কোনও স্থায়ী রাস্তা বা পথ নেই এবং ঘন রেইনফরেস্ট , জলাভূমি এবং খাড়া ভূখণ্ড দ্বারা আধিপত্য বিস্তার করে। 

উৎস: ব্রিটানিকা।

২৭.
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে নির্বাচিত হতে কমপক্ষে কতটি ইলেকটোরাল কলেজের ভোট প্রয়োজন?
  1. ২৭০টি
  2. ৩০০টি
  3. ৩২০টি
  4. ২৫০টি
ব্যাখ্যা

- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে নির্বাচিত হতে কমপক্ষে  ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজের ভোট পেতে হয়।

• ইলেক্টোরাল কলেজ
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি এবং সহ-রাষ্ট্রপতি কে নির্বাচিত হবেন তা ইলেক্টোরাল কলেজ নির্ধারণ করে। 
- ইলেক্টোরাল কলেজ কোনও বাস্তব স্থান নয়। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মধ্যে রয়েছে:

- অন্যান্য মার্কিন নির্বাচনে, প্রার্থীরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন।
- কিন্তু রাষ্ট্রপতি এবং উপরাষ্ট্রপতি সরাসরি নাগরিকদের দ্বারা নির্বাচিত হন না। বরং, তারা ইলেক্টোরাল কলেজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত হন।

- ইলেক্টোরাল কলেজের মোট ভোটের সংখ্যা ৫৩৮টি।
- মাইন ও নেব্রাসকা এই দুটো অঙ্গরাজ্য বাদে বাকি সবগুলো রাজ্যের ইলেকটোরাল ভোট যোগ দিলে যে প্রার্থী ২৭০টি বা তারও বেশি ভোট পাবেন তিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন।
- প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের বেশ কয়েকটি করে ইলেক্টোরাল ভোট থাকে, যা ওই অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যার মোটামুটিভাবে সমানুপাতিক হয়।
- ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে সর্বাধিক ৫৪টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে।

উৎস: যুক্তরাষ্ট্র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো।

২৮.
বিশ্বের কোন শহরটি মুসলমান, খ্রিষ্টান ও ইহুদি—এই তিন ধর্মের মানুষই পবিত্র হিসেবে গণ্য করে?
  1. মক্কা
  2. জেরুজালেম
  3. মদিনা
  4. দামেস্ক
ব্যাখ্যা

জেরুজালেম:
- মুসলমান, ইহুদি ও খ্রিস্টান এই তিন ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্রভূমি ফিলিস্তিনের জেরুজালেম।
- তিনটি ধর্মের মধ্যম এই শহর।
- ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন উভয়ই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে।
- ফলে জেরুজালেম এখন দুই রাষ্ট্র তথা মধ্যপ্রাচ্য সংকটের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
- জেরুজালেমকে নিয়ে স্বন্দের কেন্দ্রবিন্দু টেম্পল মাউন্ট।
- এখানেই আছে তিন ধর্মের পবিত্র স্থাপনা, যেমন: ওয়েস্টার্ন ওয়াল, চার্চ অব দি হলি সেপালচার, দি ডোম অব দি রক, আল আকসা মসজিদ।
- তাই জেরুজালেমকে পবিত্র ভূমি বলা হয়।

⇒ মুসলিমদের জন্য:
- আল-আকসা মসজিদ জেরুজালেমে অবস্থিত।
- মক্কা ও মদিনার পরে জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদকে ইসলামের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- এ মসজিদটি ফিলিস্তিনের প্রাণকেন্দ্র পবিত্র জেরুজালেম নগরীতে অবস্থিত।

⇒ ইহুদিদের জন্য:
- Western wall জেরুজালেমে অবস্থিত।
- জেরুজালেমের পুরাতন শহরে, ইহুদি জনগণের কাছে এটি প্রার্থনা এবং তীর্থযাত্রার স্থান।
- ইহুদিদের বেলায় এই আল-আকসা মসজিদের কম্পাউন্ড টেম্পল মাউন্ট নাম পরিচিত।
- প্রথম মন্দিরটি ৫৮৭-৫৮৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ব্যাবিলনীয়রা ধ্বংস করেছিল এবং দ্বিতীয় মন্দিরটি ৭০ খ্রিস্টাব্দে রোমানরা ধ্বংস করেছিল।
- টেম্পল মাউন্টকে ঘিরে থাকা ‘ওয়েস্টার্ন ওয়াল’ ইহুদিদের কাছে ‘পৃথিবীর ভিত্তিপ্রস্তর’ হিসেবে স্বীকৃত ও পবিত্র স্থান।
- চুনাপাথর দিয়ে বানানো প্রাচীন এই দেয়ালটি 'প্লেস অফ উইপিং' বা 'কান্নার জায়গা' নামেও পরিচিত।

⇒ খ্রিস্টানদের জন্য:
- যীশু খ্রিস্টের জন্মস্থান বেথলেহেম জেরুজালেম শহরে।
- এই ছোট শহরেই যিশুকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়।
- যীশুর সমাধিস্থানও এখানেই।

উৎস: Britannica.

২৯.
’মাউরি’ কোন দেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠী?
  1. পাকিস্তান
  2. নিউজিল্যান্ড
  3. আফগানিস্তান
  4. চীন
ব্যাখ্যা

মাউরি:
- মাউরি নিউজিল্যান্ডের আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের উৎপত্তি পূর্ব পলিনেশিয়া অঞ্চলে, প্রায় ৮০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে।
- ধারণা করা হয়, ১৪শ শতকে “মহান নৌবহর” হাওয়াইকি নামের একটি পৌরাণিক ভূমি থেকে এসে পৌঁছায়।
- মাওরি সমাজ মূলত আত্মীয়তার বন্ধনের উপর গঠিত।
- তাদের উপজাতিকে বলা হয় ইউই (iwi), যারা একই পূর্বপুরুষের বংশধর।
- তারা প্রধান বা নেতাদের (আরিকি – ariki) প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে।
- গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক একক হলো হাপু (hapū) — উপগোত্র বা উপ-উপজাতি।
- আরেকটি একক হলো ওয়ানাউ (whānau) — বর্ধিত পরিবার।
- মাওরি ভাষা তে রেও মাওরি (te reo Māori) নিউজিল্যান্ডের সরকারি ভাষাগুলোর একটি।
- ১৯৮৭ সাল থেকে ভাষাটির সরকারি স্বীকৃতি রয়েছে।

উৎস: Britannica.

৩০.
ফ্রান্সের দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নাম কী?
  1. সিনেট
  2. ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি
  3. কংগ্রেস
  4. ফেডারেল অ্যাসেম্বলি
ব্যাখ্যা

জাতীয় সভা (National Assembly)
⇒ ১৭ জুন থেকে ৯ জুলাই, ১৭৮৯ সাল পর্যন্ত, এটি তৃতীয় এস্টেটের প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত বিপ্লবী পরিষদের নাম ছিল; এরপর ( ৩০ সেপ্টেম্বর, ১৭৯১ তারিখে আইনসভা দ্বারা প্রতিস্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত ) এর আনুষ্ঠানিক নাম ছিল জাতীয় গণপরিষদ (Assemblée Nationale Constituante), ।

-কক্ষ বিশিষ্ট ফ্রান্সের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের নাম সিনেট (Senate)
- নিম্নকক্ষের নাম জাতীয় সভা (National Assembly)।

- সিনেটের সদস্যরা জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে।
- একটি নির্বাচিত সংস্থা (Electoral College) দ্বারা।
- বর্তমানে সিনেটের সদস্য সংখ্যা ৩২১ জন।
- প্রত্যেক সদস্যের কার্যকাল ৯ (নয়) বছর।
- প্রতি তিন বছর অন্তর সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ সদস্য অবসর গ্রহণ করেন।
- সিনেটের একটি ব্যুরো আছে।

- বর্তমানে জাতীয় সভার সদস্যসংখ্যা ৫৭৭ জন।
- এরা সরাসরি নির্বাচিত হন।
- ফরাসী জাতীয় সভার কার্যকাল হল ৫ (পাঁচ) বছর।
- নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাষ্ট্রপতি জাতীয়সভাকে ভেঙ্গে দিতে পারেন।
- জাতীয় সভারও একটি ব্যুরো আছে।

অন্যদিকে,
- Congress : এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সংসদ বোঝায়, যা দুই কক্ষে বিভক্ত: House of Representatives এবং Senate।
- রাশিয়ার ফেডারেল অ্যাসেম্বলি (Federal Assembly) হলো দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ।

- উচ্চকক্ষ (Upper House): ফেডারেশন কাউন্সিল (Federation Council)
- নিম্নকক্ষ (Lower House): স্টেট ডুমা (State Duma)
 
 উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: বৈদেশিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৩১.
’সোনালী ভেড়ার দেশ’ হিসেবে পরিচিত কোন দেশ?
  1. অস্ট্রেলিয়া
  2. কানাডা
  3. মেক্সিকো
  4. কিউবা
ব্যাখ্যা

সোনালী ভেড়ার দেশ
- অস্ট্রেলিয়া, যাকে গোল্ডেন ফ্লিসের দেশ বলা হয়, তার বিশাল ভেড়ার জন্য এই উপাধি অর্জন করেছে। 
- ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণে অবস্থিত এই দেশটি সম্ভবত স্পষ্ট ভৌগোলিক কারণে "দ্য ল্যান্ড ডাউন আন্ডার" নামেও বেশি পরিচিত।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভৌগলিক উপনাম:

- নিশীথ সূর্যের দেশ: নরওয়ে।
- সূর্যোদয়ের দেশ: জাপান।
- নিষিদ্ধ দেশ: তিব্বত।
- সাদা হাতির দেশ: থাইল্যান্ড।
- সোনালী প্যাগোডার দেশ: মিয়ানমার।
- হাজার হ্রদের দেশ: ফিনল্যান্ড।
- নীল নদের দেশ: মিশর।
- ক্যাঙ্গারুর দেশ: অস্ট্রেলিয়া।
- মার্বেলের দেশ: ইতালি।
- পঞ্চম ড্রাগনের দেশ: তাইওয়ান।
- পিরামিডের দেশ: মিশর।

উৎস:
i) Britannica.
ii) world population review.

৩২.
আফিম যুদ্ধ কোন দুই দেশের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. চীন ও ব্রিটেন 
  2. ফ্রান্স ও চীন
  3. চীন ও জাপান
  4. ভারত ও চীন
ব্যাখ্যা

আফিম যুদ্ধ চীন ও ইংল্যান্ড- এই দুইটি দেশের মধ্যে সংঘটিত হয়।

আফিম যুদ্ধ:
- আফিমের চোরাচালানকে কেন্দ্র করে চীন ও ব্রিটেনের মধ্যে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, তাই আফিম যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উনিশ শতকের গোড়া থেকে চীনের সঙ্গে ব্যবসায়ে ঘাটতি মেটাতে বঙ্গদেশ থেকে চীনে আফিম রপ্তানি শুরু করে।
- চীনা শাসকরা ১৮৩৯ সালে আফিম আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
- কিন্তু ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অবৈধ উপায়ে এ ব্যবসা অব্যাহত রাখে।
- কোম্পানির অবৈধ আফিম ব্যবসার কারণে চীন ও ব্রিটেনের মধ্যে যুদ্ধ বাধে।
- ১ম যুদ্ধে চীনারা পরাজিত হয় এবং চীন ১৮৪২ সালে নানকিং চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়।

উৎস: Britannica.

৩৩.
ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ডনরো মতবাদ’-এর মূল উদ্দেশ্য হলো-
  1. ইউরোপীয় সামরিক মহড়া বৃদ্ধি
  2. সোভিয়েত ইউনিয়নের আধিপত্যবাদ মোকাবেলা
  3. আফ্রিকা অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্যবাদ 
  4. দক্ষিণ আমেরিকার কৌশলগত সম্পদের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা
ব্যাখ্যা

- ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে নতুন আঙ্গিকে ‘ডনরো মতবাদ’ বা ট্রাম্পের সংস্করণ হিসেবে সামনে আনা হয়েছে, 
- যার মূল উদ্দেশ্য হলো লাতিন আমেরিকায় মাদক পাচার রোধ, অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কৌশলগত সম্পদের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।

- ওয়াশিংটনের এ নতুন কঠোর নীতি—‘ডনরো নীতি’। এটি ১৮২৩ সালে প্রেসিডেন্ট জেমস মনরোর ঘোষিত মনরো নীতির আধুনিক রূপ, 

⇒ প্রকৃতপক্ষে মনরো মতবাদ হলো  যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির অবস্থান, যা পশ্চিম গোলার্ধে ইউরোপীয় উপনিবেশবাদের বিরোধিতা করে।
- এই মতবাদের মূল কথা হলো বিদেশি শক্তি দ্বারা আমেরিকা মহাদেশের রাজনৈতিক বিষয়ে যেকোনো হস্তক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি সম্ভাব্য শত্রুতামূলক কাজ।
- এই মতবাদটি ২০ শতকে আমেরিকান গ্র্যান্ড কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।
- এই মতবাদ ‘পলিসি অব আইসোলেশন’ নামেও পরিচিত ছিল।

উৎস: বিবিসি এবং বণিক বার্তা।

৩৪.
ট্রাফালগার স্কয়ার কোথায় অবস্থিত?
  1. বার্থল
  2. অক্সফোর্ড
  3. লন্ডন
  4. এডিনবরা
ব্যাখ্যা

- ট্রাফালগার স্কয়ার লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার শহরে অবস্থিত।
- স্কোয়ারের নাম ১৮০৫ সালের ট্রাফালগার যুদ্ধে লর্ড নেলসনের নৌবিজয়ের স্মরণে রাখা হয়েছে।
- এটি সম্ভবত লন্ডনের সবচেয়ে বিখ্যাত স্কোয়ার।
- স্কোয়ারটি সর্বদা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এবং এতে কোনো বাগান নেই।
- সাতটি প্রধান সড়ক স্কোয়ারের চারপাশে সংযুক্ত, যেখানে অটোমোবাইল চলাচল করে।
- স্কোয়ারের কেন্দ্রে আছে নেলসনের স্তম্ভ (১৮৩৯–৪৩)।
- স্তম্ভের উচ্চতা: ১৮৫ ফুট (৫৬ মিটার)।
- স্তম্ভের উপরে আছে লর্ড নেলসনের ১৭ ফুট (৫ মিটার) উঁচু মূর্তি, যা ইএইচ বেইলি তৈরি করেছেন।
- স্তম্ভের চারটি কোণে আছে চারটি ব্রোঞ্জ সিংহ, যা স্যার এডউইন ল্যান্ডসিয়ার তৈরি এবং ব্যারন মারোচেটি দ্বারা ঢালাই করা।
- ট্রাফালগার স্কোয়ার ১৮২০ থেকে ১৮৪০-এর দশকের মধ্যে প্রাক্তন কিংস মিউজের স্থানে নির্মিত হয়।
- স্কোয়ারের পার্শ্বে অবস্থিত ন্যাশনাল গ্যালারি এবং সেন্ট মার্টিন-ইন-দ্য-ফিল্ডস গির্জা।
- চ্যারিং ক্রস মোড় দক্ষিণে সংলগ্ন, এবং সেখান থেকে স্ট্র্যান্ড অ্যাভিনিউ পূর্ব দিকে শহরের দিকে চলে যায়, পরে ফ্লিট স্ট্রিটে পরিণত হয়।
- ট্রাফালগার স্কোয়ারে ফুটপাত শিল্পীরা প্রায়শই শিল্প প্রদর্শন করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩৫.
SDR কোন প্রতিষ্ঠানের দ্বারা ব্যবহৃত হয়?
  1. IMF
  2. IDA
  3. UN
  4. NATO
ব্যাখ্যা

SDR:
- SDR-এর পূর্ণরূপ: Special Drawing Rights বা বিশেষ উত্তোলন অধিকার।
- SDR হলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) দ্বারা তৈরি একটি বিশেষ ধরনের মুদ্রা।
- এটা কোনো দেশের স্থানীয় মুদ্রা নয় বরং একটি আন্তর্জাতিক "মুদ্রা ইউনিট" যা বিভিন্ন দেশ তাদের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করতে পারে।
- এটা এমনভাবে তৈরি হয়েছে যেন বিশ্বের দেশগুলো একে ব্যবহার করে তাদের অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধান করতে পারে।

উল্লেখ্য,
⇒ বিশ্ব অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর Special Drawing Rights (SDR)-কে 'পেপার গোল্ড' (Paper Gold) বোঝানো হয়।
- ১৯৬৯ সালে IMF SDR প্রবর্তন করে।
- এটি একটি আন্তর্জাতিক রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে কাজ করে।
- এটি কোনো বাস্তব মুদ্রা বা সোনা নয় বরং একটি কাগজের (paper-based) সম্পদ যা সোনার মতো রিজার্ভের ভূমিকা পালন করে বলে এর নামকরণ করা হয় "Paper Gold"।

উৎস: IMF ওয়েবসাইট।

৩৬.
বিশ্বব্যাংকের কোন সংস্থা সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে থাকে?
  1. IBRD 
  2. IFC
  3. MIGA 
  4. IDA
ব্যাখ্যা

• IDA:
- IDA-এর পূর্ণরূপ: International Development Association.
- যেসব দেশ IBRD থেকে ঋণ পায় না, IDA তাদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে থাকে।
- এজন্যে এটি Soft Loan Window নামে পরিচিত।
- IDA ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৭৫টি।
- সর্বশেষ সদস্য বুলগেরিয়া।
- IDA সদস্য দেশগুলোর যথাক্রমে বেসরকারি খাতের উন্নয়নে এবং বহুপাক্ষিক বিনিয়োগে গ্যারান্টি প্রদান করে থাকে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ১৭ আগস্ট IDA এর সদস্যপদ লাভ করে।
- বাংলাদেশ IDA থেকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য পায়।

অন্যদিকে,
- বিশ্বব্যাংক সংশ্লিষ্ট কোন সংস্থাটি স্বল্প আয়ের উন্নয়শীল দেশে বেসরকারি খাতে আর্থিক সহায়তা ও উপদেশ দিয়ে থাকে- IFC.
- IBRD  বিশ্বব্যাংকের মূল সংস্থা হিসেবে কাজ করে।
- বহুপাক্ষিক বিনিয়োগ গ্যারান্টি এজেন্সি (MIGA ) একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা রাজনৈতিক ঝুঁকি বীমা এবং ঋণ বৃদ্ধির গ্যারান্টি প্রদান করে। 

উৎস: World Bank ওয়েবসাইট।

৩৭.
ম্যাকিয়াস সিল দ্বীপটি কোন দুই দেশের মধ্যে বিরোধপূর্ণ অঞ্চল?
  1. যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো
  2. কানাডা ও ফ্রান্স
  3. কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র
  4. যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া
ব্যাখ্যা

⇒ কানাডার নিউ ব্রান্সউইক প্রদেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেইন রাজ্যের মধ্যে অবস্থিত, ম্যাকিয়াস সিল দ্বীপটি কানাডা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্থল অঞ্চল।
- ২০ একরের এই সাধারণ দ্বীপটি প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যকার অবস্থিত।
- এই বিরোধের ইতিহাস ২০০ বছরেরও বেশি পুরনো।
- ১৮১২ সালের যুদ্ধের সময় এ বিরোধ শুরু হয়।
- তখন গ্রেট ব্রিটেন (বর্তমান কানাডা) ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশই দ্বীপটির জমি ও জলসীমার দাবি করে।
- দ্বীপটি খুব ছোট ও দূরবর্তী হওয়ায় সেখানে স্থায়ী বসতি গড়া কঠিন ছিল।
- তবুও এটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এটি জাহাজ চলাচলের একটি কৌশলগত পথের মাঝে অবস্থিত।
- দ্বীপটি গ্র্যান্ড মানান দ্বীপের কাছে অবস্থান করায় এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
- কোনো দেশই দ্বীপটির দাবি ছাড়তে চায়নি।
- ১৮৩২ সালে ব্রিটেন তাদের দাবি জোরালো করতে সেখানে একটি বাতিঘর নির্মাণ করে।
- এরপর থেকে কানাডিয়ানরা সেখানে বসবাস করে আসছে।
- তারা নাবিকদের পাথুরে উপকূল থেকে নিরাপদে রাখতে সাহায্য করে।
- একই সঙ্গে তারা মানব ও প্রাকৃতিক উভয় ধরনের বিপদ থেকে দ্বীপটিকে রক্ষা করে।

উৎস: বিবিসি।

৩৮.
নির্বাণ ধারণাটি কোন ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত?
  1. হিন্দু
  2. খ্রিস্টান
  3. বৌদ্ধ
  4. ইসলাম
ব্যাখ্যা

নির্বাণ 
⇒  ভারতীয় ধর্মীয় চিন্তাধারায়, নির্বাণ হল নির্দিষ্ট ধ্যান অনুশীলনের চূড়ান্ত লক্ষ্য। 
⇒  যদিও এই শব্দটি বেশ কয়েকটি প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্যে দেখা যায়, এটি প্রায়শই বৌদ্ধধর্মের সাথে যুক্ত , যেখানে এটি বৌদ্ধ পথের লক্ষ্য নির্দেশ করে সবচেয়ে প্রাচীন এবং সাধারণ শব্দ। নির্বাণ বলতে তৃষ্ণা, বিতৃষ্ণা এবং অজ্ঞতার নির্বাপণ এবং পরিণামে, দুঃখ এবং পুনর্জন্মকে বোঝায় এবং এর অর্থ "উড়িয়ে দেওয়া" বা "নিভে যাওয়া"।

- বৌদ্ধ ধ্যান হলো মানসিক একাগ্রতার অনুশীলন যা আধ্যাত্মিক স্বাধীনতা বা নির্বাণের দিকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে যায়। নির্বাণ পশ্চিমা ভাষায় প্রবেশ করেছে আনন্দময় বা স্বর্গীয় অবস্থা বোঝাতে।

বৌদ্ধধর্ম :
⇒ বৌদ্ধধর্ম একটি প্রধান বিশ্বধর্ম এবং দর্শন, যা খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ থেকে চতুর্থ শতাব্দীতে উত্তর-পূর্ব ভারতে সিদ্ধার্থ গৌতম (বুদ্ধ) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো দুঃখ ও পুনর্জন্মের চক্র থেকে মুক্তি (নির্বাণ) অর্জন করা। বৌদ্ধধর্ম ধ্যান এবং নৈতিক নীতির উপর জোর দেয়। বুদ্ধ তার শিষ্যদের মাধ্যমে শিক্ষা প্রচার করেন এবং বৌদ্ধ সন্ন্যাসী সমাজ (সংঘ) প্রতিষ্ঠা করেন।

⇒বৌদ্ধধর্মের মূল শিক্ষাগুলি চারটি আর্য সত্যে সংক্ষেপিত, যার মধ্যে চতুর্থ হলো অষ্টমুখী পথ। এটি কিছু হিন্দু ধারণা যেমন কর্মের মতবাদ গ্রহণ করলেও দেবতা ও অন্যান্য ধারণা প্রত্যাখ্যান করে।

⇒ ভারতে সম্রাট অশোক খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে বৌদ্ধধর্ম প্রচার করেন, কিন্তু পরবর্তী শতাব্দীতে হ্রাস পায়। এটি শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, চীন, কোরিয়া ও জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। উনিশ শতকে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে পশ্চিমা বিশ্বে জনপ্রিয়তা লাভ করে।

⇒ বৌদ্ধধর্মের প্রধান দুটি শাখা হলো মহাযান এবং থেরবাদ, যা পৃথক অনুশীলন এবং ধর্মগ্রন্থের সংগ্রহ নিয়ে গঠিত। একবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বৌদ্ধধর্মের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৩৭৫ মিলিয়ন।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩৯.
”Materialism and Empirio-criticism” গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কার্ল মার্কস
  2. ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
  3. ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন 
  4.  জোসেফ স্ট্যালিন
ব্যাখ্যা

 - ”Materialism and Empirio-criticism- বস্তুবাদ এবং অভিজ্ঞতা-সমালোচনা। প্রতিক্রিয়াশীল দর্শনের উপর সমালোচনামূলক মন্তব্য" বইটি লেনিন ১৯০৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর মাসে জেনেভা এবং লন্ডনে লিখেছিলেন। 
- মার্কসবাদের মাকবাদী সংশোধনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বইটি।

ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন 

- ভ্লাদিমির লেলিনের জন্ম ১৮৭০ সালে ভলগা নদীর তীরের রাশিয়ার ছোট শহর সিমবির্স্কে।
- তারঁ জন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারে, বড় ভাই আলেকজান্ডার প্রভাবিত ছিলেন (১৮৮৭ সালে জারকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ফাঁসি)
- শিক্ষা: আইন অধ্যয়ন, ১৮৮৯ সালে আইন অনুশীলনকালে মার্কসবাদী হয়ে ওঠেন।

- ১৯০৩ সালে লন্ডনে রাশিয়ান সোশ্যাল-ডেমোক্র্যাটিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভায় বলশেভিক উপদলের নেতা।
- বিপ্লবী সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠা ও সম্পাদনা: দলকে সর্বহারা শ্রেণীর অগ্রদূত, পেশাদার বিপ্লবীদের কেন্দ্রীভূত সংগঠন হিসেবে উপস্থাপন।
- তত্ত্ব: পরবর্তীতে লেনিনবাদ নামে পরিচিত, যা কার্ল মার্ক্সের তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ গঠন করে এবং কমিউনিস্ট বিশ্বদৃষ্টিতে রূপান্তরিত হয়।
- তিনি ১৯০৫ সালের রুশ বিপ্লবের সময় রাশিয়ায় ফিরে আসেন।
- ১৯০৭ সালে আবার নির্বাসন শুরু, পরবর্তী ১০ বছর ধরে আন্দোলন চালান।
- ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়ায় ফিরে আসেন এবং বলশেভিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন, যা অস্থায়ী সরকার উৎখাত করে
সোভিয়েত রাষ্ট্রের নেতা হিসেবে জার্মানির সঙ্গে ব্রেস্ট-লিটোভস্ক চুক্তি স্বাক্ষর (১৯১৮) করেন।
- ১৯১৯ সালে কমিন্টার্ন (কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল) প্রতিষ্ঠা করেন।
- অর্থনৈতিক বিপর্যয় রোধের জন্য নতুন অর্থনৈতিক নীতি (NEP) চালু করেন।

ভ্লাদিমির লেনিন রচিত বই:
- State and Revolution.
- Imperialism, the Highest Stage of Capitalism.
- Philosophical Notebooks.
- Materialism and Empirio-criticism.

উৎস: ব্রিটানিকা।

৪০.
বেরিং প্রণালী কোন দুই মহাদেশকে পৃথক করেছে?
  1. এশিয়া ও ইউরোপ
  2. ইউরোপ ও আফ্রিকা
  3. এশিয়া ও আফ্রিকা
  4. এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা 
ব্যাখ্যা

• বেরিং প্রণালী এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশ দুটিকে পৃথক করেছে ।
- এবং প্রশান্ত মহাসাগর ও আর্কটিক মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- এটি রাশিয়া (এশিয়া মহাদেশের অংশ) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার মধ্যে অবস্থিত।

• জিব্রাল্টার প্রণালী:
- জিব্রাল্টার প্রণালী ইউরোপ থেকে আফ্রিকাকে পৃথক করেছে।
- ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযোজনকারী একমাত্র প্রাকৃতিক পথ।

• বাব এল-মান্দেব প্রণালী (Bab el-Mandeb Strait):
- বাব এল-মান্দেব প্রণালী এশিয়া থেকে আফ্রিকাকে পৃথক করেছে।
- বাব এল-মান্দেব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী একটি প্রণালী।

• বসফরাস প্রণালী:
- মর্মর সাগর ও কৃষ্ণ সাগরকে যুক্ত করেছে বসফরাস প্রণালী।
- এই প্রণালী এশিয়া থেকে ইউরোপকে পৃথক করেছে।

উৎস: Britannica.

৪১.
'নীল ড্রাগনের দেশ' হিসেবে পরিচিত কোন দেশ?
  1. স্পেন
  2. মঙ্গোলিয়া
  3. ভিয়েতনাম
  4. লাওস
ব্যাখ্যা

- 'নীল ড্রাগনের দেশ' হিসেবে পরিচিত : ভিয়েতনাম।

- ভিয়েতনাম এশিয়ার একটি দেশ , যা হা লং উপসাগর এবং প্রাচীন বাণিজ্যিক বন্দরের জন্য পরিচিত। 
- এর জনসংখ্যা ১০২ মিলিয়নেরও বেশি, যা এটিকে বিশ্বের ১৬তম বৃহত্তম দেশ করে তুলেছে।
- এর রাজধানী হ্যানয়।
- ভিয়েতনামের একটি রপ্তানিমুখী অর্থনীতি রয়েছে এবং এর উৎপাদন খাত শক্তিশালী।

উৎস: world population review.

৪২.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন প্রেসিডেন্ট জাপানে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের অনুমোদন করেছিলেন?
  1. হ্যারি এস. ট্রুম্যান
  2. রিচার্ড নিক্সন
  3. ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট
  4. অ্যাব্রাহাম লিঙ্কন
ব্যাখ্যা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হ্যারি এস. ট্রুম্যান জাপানে পারমানবিক বোমা নিক্ষেপের অনুমোদন করেছিলেন।

হ্যারি এস. ট্রুম্যান:
- হ্যারি এস. ট্রুম্যান (Harry S. Truman) ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩তম রাষ্ট্রপতি।
- তিনি ১৯৪৫ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের মৃত্যুর পর উপরাষ্ট্রপতি থেকে রাষ্ট্রপতিত্বে উন্নীত হন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি থেকে শীতল যুদ্ধের উত্থান পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলীর নেতৃত্ব দেন।
- হ্যারি এস. ট্রুম্যান জাপানে পারমানবিক বোমা নিক্ষেপের অনুমোদন করেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। এই প্রকল্পের নাম ছিল 'ম্যানহাটান প্রজেক্ট'। পারমাণবিক বোমার জনক রবার্ট ওপেনহেইমার ছিলেন ম্যানহাটান প্রজেক্টের প্রধান।
- জাপানের দুটি শহরে এই বোমা ফেলার পর বিপুল প্রাণহানি আর ধ্বংসলীলা ঘটেছিল।
- ৩৩তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান এই পারমাণবিক বোমা বর্ষণের নির্দেশ দেন।

 
লিটলবয় ও ফ্যাটম্যান:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যখন প্রায় শেষের পথে, তখন আগস্টের জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকি শহরে পরমাণু বোমা ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
- বিশ্বে প্রথম কোন যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র। মারা গিয়েছিল হাজার হাজার মানুষ।
- জাপানের হিরোশিমা শহরে ৬ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে বোমা বর্ষণ করে। নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো লিটলবয়।
- ৯ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে নাগাসাকি শহরে পারমাণবিক বোমা বর্ষণ করে। নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো ফ্যাটম্যান।

উৎস: History.com

৪৩.
রাশিয়ান কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. জোসেফ স্টালিন
  2. লিয়ন ত্রটস্কি
  3. নিকোলাই 
  4. ভ্লাদিমির লেনিন
ব্যাখ্যা

ভ্লাদিমির লেলিন
- ভ্লাদিমির লেনিনের প্রকৃত নাম ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ।
- জন্ম: ২২ এপ্রিল ১৮৭০, সিম্বিরস্ক, রাশিয়া।
- মৃত্যু: ২১ জানুয়ারি ১৯২৪, গোর্কি (মস্কোর কাছে)।
- তিনি রাশিয়ান কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা।
- ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের প্রধান নেতা ছিলেন।
- সোভিয়েত রাষ্ট্রের স্থপতি ও নির্মাতা হিসেবে পরিচিত।

- ১৯০৩ সালে লন্ডনে রাশিয়ান সোশ্যাল-ডেমোক্র্যাটিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভায় বলশেভিক উপদলের নেতা।
- বিপ্লবী সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠা ও সম্পাদনা: দলকে সর্বহারা শ্রেণীর অগ্রদূত, পেশাদার বিপ্লবীদের কেন্দ্রীভূত সংগঠন হিসেবে উপস্থাপন।
- তত্ত্ব: পরবর্তীতে লেনিনবাদ নামে পরিচিত, যা কার্ল মার্ক্সের তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ গঠন করে এবং কমিউনিস্ট বিশ্বদৃষ্টিতে রূপান্তরিত হয়।
- তিনি ১৯০৫ সালের রুশ বিপ্লবের সময় রাশিয়ায় ফিরে আসেন।
- ১৯০৭ সালে আবার নির্বাসন শুরু, পরবর্তী ১০ বছর ধরে আন্দোলন চালান।
- ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়ায় ফিরে আসেন এবং বলশেভিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন, যা অস্থায়ী সরকার উৎখাত করে
সোভিয়েত রাষ্ট্রের নেতা হিসেবে জার্মানির সঙ্গে ব্রেস্ট-লিটোভস্ক চুক্তি স্বাক্ষর (১৯১৮) করেন।
- ১৯১৯ সালে কমিন্টার্ন (কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল) প্রতিষ্ঠা করেন।
- অর্থনৈতিক বিপর্যয় রোধের জন্য নতুন অর্থনৈতিক নীতি (NEP) চালু করেন।

ভ্লাদিমির লেনিন রচিত বই:
- State and Revolution.
- Imperialism, the Highest Stage of Capitalism.
- Philosophical Notebooks.
- Materialism and Empirio-criticism.

উৎস: ব্রিটানিকা।

৪৪.
ব্রিকস (BRICS) কর্তৃক অবকাঠামো এবং টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় কোন ব্যাংক?
  1. ADB
  2. NDB
  3. IDB
  4. IMF
ব্যাখ্যা

⇒ ব্রিকস (BRICS) কর্তৃক অবকাঠামো এবং টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় কোন ব্যাংক- New Development Bank (NDB).

New Development Bank:

- New Development Bank (NDB) প্রথমে BRICS Development Bank নামে পরিচিত ছিল।
- এটি ব্রিকস দেশসমূহ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি বহুমুখী উন্নয়ন ব্যাংক।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ৭ জুলাই, ২০১৫।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: ৫টি (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা)।
- বর্তমান সদস্য: ১১টি।
- সদস্য দেশগুলো হলো: ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, আলজেরিয়া, উজবেকিস্তান (জুলাই ২০২৫) এবং কলম্বিয়া (জুলাই ২০২৫)। [উরুগুয়ে এখনও সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে রয়েছে]
- দাপ্তরিক ভাষা: ইংরেজি।
- বর্তমান সভাপতি: দিলমা রুসেফ।
- সদর দপ্তর: সাংহাই, চীন।
- উদ্দেশ্য: BRICS সদস্য দেশসহ অন্যান্য উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অবকাঠামো এবং টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন সংগ্রহ ও প্রদান করা। এটি বিশ্বব্যাংক ও IMF-এর মতো পশ্চিমা-নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানের বিকল্প হিসেবে গড়ে উঠেছে, যাতে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বাড়ানো যায় এবং ডলার-নির্ভরতা কমানো যায়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ সালে New Development Bank-এর সদস্য পদ লাভ করে।

অন্যদিকে,
- ADB (Asian Development Bank): এটি একটি আঞ্চলিক উন্নয়ন ব্যাংক যার মূল লক্ষ্য এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন।

- ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (IDB) একটি বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক (MDB) যা সদস্য দেশ এবং বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে আমাদের সেবা প্রদানকারীদের জীবন উন্নত করার জন্য কাজ করে, যা ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলে।

- IMF (International Monetary Fund): আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল একটি প্রধান আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা, যা বিশ্বব্যাপী মুদ্রানীতি পর্যবেক্ষণ, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং সদস্য দেশগুলোর লেনদেনের ভারসাম্য সংকটে ঋণ সহায়তা প্রদান করে।


উৎস: New Development Bank ওয়েবসাইট।

৪৫.
"দ্য বিগ অ্যাপেল" বলা হয় কোন শহর কে?
  1. নিউ ইয়র্ক
  2. ওয়াশিংটন
  3. ক্যালিফোর্নিয়া 
  4. ভার্জিনিয়া 
ব্যাখ্যা

- নিউ ইয়র্ক সিটি অনেক ডাকনামে পরিচিত।
- যেমন: "সেই শহর যা কখনো ঘুমায় না" বা "গথাম"।
- সবচেয়ে জনপ্রিয় ডাকনাম হলো "দ্য বিগ অ্যাপেল"।
- এই শব্দগুচ্ছের ব্যবহার ১৯০০-এর দশকের গোড়ায় নথিভুক্ত হয়েছে।
- প্রথম জনপ্রিয়তা পায় ১৯২০-এর দশকে, যখন জন জে. ফিটজ জেরাল্ড, একজন ক্রীড়া লেখক, "অ্যারাউন্ড দ্য বিগ অ্যাপেল" নামে ঘোড়দৌড় সম্পর্কে একটি কলাম শুরু করেছিলেন।
- তবে, ১৯৭০-এর দশকে একটি পর্যটন প্রচারণার আগে পর্যন্ত "দ্য বিগ অ্যাপেল" নিউ ইয়র্ক সিটির সমার্থক হয়ে ওঠেনি।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৪৬.
AIIB-এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. টোকিও
  2. বেইজিং 
  3. সাংহাই 
  4. হংকং
ব্যাখ্যা

• এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (AIIB):
- AIIB-এর পূর্ণরূপ: Asian Infrastructure Investment Bank বা এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক।
- চীনের নেতৃত্বাধীন এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক বা এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)।
- এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থ সহায়তা করাই এই ব্যাংকের উদ্দেশ্য।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: জানুয়ারি, ২০১৬ সালে।
- AIIB এর বর্তমান সদস্য: ১১১টি দেশ।।
- সদর দপ্তর: বেইজিং, চীন।

উৎস: AIIB ওয়েবসাইট। 

৪৭.
যুক্তরাজ্যের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কে? (মার্চ-২০২৬)
  1. বরিস জনসন
  2. লিজ ট্রাস
  3. ঋষি সুনাক 
  4. কিয়ার স্টারমার
ব্যাখ্যা

- যুক্তরাজ্যের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
- ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যে জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমারকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন ব্রিটেনের রাষ্ট্রপ্রধান রাজা তৃতীয় চার্লস। 
-  নির্বাচনে ৪১২টি আসনে জয় পেয়েছে লেবার পার্টি।
- কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ১২১টি আসন।
- সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য কোনো দলের প্রয়োজন হয় ৩২৬ আসন।
- এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যে টানা ১৪ বছর পর ক্ষমতা থেকে সরে গেল কনজারভেটিভ পার্টি।

উৎস: বিবিসি এবং প্রথম আলো।

৪৮.
কেপ ভার্দে (Cape Verde) দ্বীপ রাষ্ট্রটি কোন অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. পূর্ব আফ্রিকা
  2. দক্ষিণ আফ্রিকা
  3. পশ্চিম আফ্রিকা
  4. উত্তর আফ্রিকা
ব্যাখ্যা

 ⇒ কেপ ভারদ (Cape Verde) দ্বীপ রাষ্ট্রটি পশ্চিম আফ্রিকায় অবস্থিত।

কেপ ভার্দে (Cape Verde):
- কেপ ভার্দে রাষ্ট্রটি পশ্চিম আফ্রিকায় অবস্থিত।
- এটি আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের কাছে আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ।
- রাজধানী: প্রাইয়া (Praia)।
- সরকারি ভাষা: পর্তুগিজ।
- মুদ্রা: কেপ ভার্দীয় এসকুডো (সিভিই)।
- ধর্ম: খ্রিস্টধর্ম (প্রধানত রোমান ক্যাথলিক); এছাড়াও ইসলাম।
- এর রাষ্ট্রপ্রধান হলেন রাষ্ট্রপতি এবং এর সরকারপ্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, 
- কেপ ভার্দে পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

উৎস: Britannica.

৪৯.
গ্রিনল্যান্ড কোন মহাদেশের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. ইউরোপ
  2. দক্ষিণ আমেরিকা
  3. এশিয়া
  4. উত্তর আমেরিকা
ব্যাখ্যা

গ্রিনল্যান্ড:
- গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ।
- এটি ডেনমার্কের একটি স্বশাসিত অঞ্চল।
- গ্রিনল্যান্ড উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অংশ।
- এর অবস্থান উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপ মহাদেশের মধ্যে অবস্থিত।
- এর অবস্থান কানাডা এবং আইসল্যান্ডের মাঝে অবস্থিত।
- আয়তনে মূল ডেনমার্কের চেয়ে গ্রীনল্যান্ড প্রায় ৫০ গুন বড়।
- রাজধানী: নুউক।
- গ্রিনল্যান্ডের অধিবাসীরা এস্কিমো হিসেবে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- গ্রিনল্যান্ড ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত ডেনমার্কের একটি উপনিবেশ ছিল। ১৯৭৯ সালে গণভোটের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড স্বায়ত্তশাসন লাভ করেছিল, তবে দ্বীপটির পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতি এখনও ডেনমার্কই দেখভাল করে।
- এ দ্বীপের প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে রয়েছে তেল ও গ্যাস। আরও আছে পৃথিবীর বিরল কিছু ধাতু, যেগুলোর বৈদ্যুতিক গাড়ি ও বায়ুকলের পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে উচ্চ চাহিদা রয়েছে।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.

৫০.
ইরান এর প্রাচীন নাম কোনটি?
  1. নিপ্পন
  2. শ্যামদেশ
  3. কনস্ট্যান্টিনোপল
  4. পারস্য 
ব্যাখ্যা

পারস্য (Persia):
- পারস্য হলো বর্তমান ইরান এর প্রাচীন নাম।
- ১৯৩৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে দেশের নাম ইরান গৃহীত হয়।
- পারস্য সভ্যতা ছিল প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ সভ্যতা।
-আচার্য সাইরাস দ্য গ্রেট ছিলেন পারস্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।

বিভিন্ন দেশের পূর্ব বা পুরাতন নাম:
- ইস্তাম্বুলের পুরাতন নাম- কনস্ট্যান্টিনোপল।
- ইয়াঙ্গুনের পুরাতন নাম - রেঙ্গুন।
- জাপানের পুরাতন নাম - নিপ্পন।
- জাম্বিয়ার পুরাতন নাম- উত্তর রোডেশিয়া।
- জিম্বাবুয়ের পূর্ব নাম- দক্ষিণ রোডেশিয়া।
- থাইল্যান্ড এর পুরাতন নাম- শ্যামদেশ।
- নেদারল্যান্ডের পুরাতন নাম হল্যান্ড।

উৎস: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ডটকম।