পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়08 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৫ টপিক: ধ্বনি পরিবর্তন [লাইভ ক্লাস - ৯ ও ১০]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
উৎ+মুখ > উন্মুখ কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ক) বিষমীভবন
  2. খ) ধ্বনি বিপর্যয়
  3. গ) সমীভবন
  4. ঘ) অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
সমীভবন (Assimilation) : শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন। যেমন- জন্ম > জম্ম; কাদনা > কান্না ইত্যাদি।

⇒ প্রগত (Progressive) সমীভবন : পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন। যেমন: চক্র > চক্ক;  পক্ব > পক্ক; পদ্ম > পদ্দ; লগ্ন » লগ্গ ইত্যাদি।

⇒ পরাগত (Regressive) সমীভবন : পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন: তৎ + জন্য > তজ্জন্য; তৎ + হিত > তদ্ধিত; উৎ + মুখ >উন্মুখ ইত্যাদি।

⇒ অন্যান্য সমীভবন : যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যান্য সমীভবন।
যেমন: সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ; সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি পরাগত সমীভবনের উদাহরণ?
  1. ক) লগ্ন > লগ্গ
  2. খ) কর্ম > কম্ম
  3. গ) পক্ব > পক্ক
  4. ঘ) চক্র > চক্ক
ব্যাখ্যা
• সমীভবন (Assimilation): শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন। যেমন- জন্ম > জম্ম; কাদনা > কান্না ইত্যাদি।

⇒ প্রগত (Progressive) সমীভবন : পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন। যেমন: চক্র > চক্ক;  পক্ব > পক্ক; পদ্ম > পদ্দ; লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

⇒ পরাগত (Regressive) সমীভবন : পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন: কাঁদনা > কান্না; কর্ম > কম্ম; কর্তা > কত্তা; তৎ + জন্য > তজ্জন্য; তৎ + হিত > তদ্ধিত; উৎ + মুখ >উন্মুখ ইত্যাদি।

⇒ অন্যান্য সমীভবন : যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যান্য সমীভবন।
যেমন: সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ; সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি স্বরসঙ্গতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয়?
  1. ক) বিলাতি > বিলিতি
  2. খ) মুলা > মুলো
  3. গ) সত্য > সত্যি
  4. ঘ) দেশি > দিশি 
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয়-  সত্য > সত্যি। এটি একটি অন্ত্যস্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।  

⇒ স্বরসঙ্গতি ধ্বনি পরিবর্তন: 
একটি স্বরধনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। যেমন- 
• দেশি > দিশি, 
• বিলাতি > বিলিতি, 
• মুলা > মুলো ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
সম্প্রকর্ষ ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ হলো-
  1. ক) আলাহিদা > আলাদা
  2. খ) ফাল্গুন > ফাগুন
  3. গ) জানালা ˃ জান্লা
  4. ঘ) ফলাহার > ফলার
ব্যাখ্যা
• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ: 
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো  স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ। যেমন- আটমেসে ˃ আটাসে, কুটুম্ব ˃ কুটুম, জানালা ˃ জান্লা ইত্যাদি।

ক. আদিস্বর লোপ: শব্দের শুরুর স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে আদি স্বরালোপ বলে। যেমন, অলাবু ˃ লাবু ˃ লাউ;  উদ্ধার ˃ উধার ˃ ধার ইত্যাদি।
খ. মধ্যস্বর লোপ: শব্দের মধ্যবর্তী কোন স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে মধ্য স্বরলোপ বলে। যেমন, গামোছা ˃ গামছা, অগুরু˃ অগ্রু, সুবর্ণ˃ স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বর লোপ: শব্দের শেষের স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্ত্য স্বরলোপ বলে। যেমন, আশা˃ আশ, আজি˃ আজ, চারি˃ চার, সন্ধ্যা˃ সঞ্ঝ্যা ˃ সাঁঝ, লজ্জা ˃ লাজ, চাকা ˃ চাক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
⇒ অন্তর্হতি: পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন: ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মিথ্যা > মিথ্যে কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. ক) প্রগত স্বরসঙ্গতি
  2. খ) মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
  3. গ) পরাগত স্বরসঙ্গতি
  4. ঘ) অন্যান্য স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্বরের প্রভাবে শব্দের মধ্যে অপর  স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে প্রভাবকারী স্বরের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করলে , এই রীতিকে বলা হয় স্বরসঙ্গতি। প্রধানত চারটি পদ্ধতিতে স্বরসঙ্গতি হয়ে থাকে। যথা:

⇒ প্রগত স্বরসঙ্গতি (Progressive): আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মুলা > মুলাে, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো, মিথ্যা > মিথ্যে, পুত্র > পুত্তুর ।

⇒ পরাগত স্বরসঙ্গতি (Regressive): অন্ত্যস্বরের কারণে আদিস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- আখাে > আখুয়া > এখাে, দেশি > দিশি।

⇒ মধ্যগত স্বরসঙ্গতি (Mutual): আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- বিলাতি > বিলিতি।

⇒ অন্যান্য স্বরসঙ্গতি (Reciprocal): আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যান্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন – মােজা > মুজো, ধোঁকা > ধুঁকো, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
করতাল > কত্তাল শব্দে কোন নিয়ম অনুসারে ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. ক) দ্বিত্বব্যঞ্জন
  2. খ) সমীভবন
  3. গ) সম্প্রকর্ষ
  4. ঘ) র-কার লোপ
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণের সুবিধার জন্য বা অন্য কোনো কারণে শব্দের মাঝে র-কার লোপ হয়ে পরবর্তী ব্যঞ্জন দ্বিত্ব হলে তাকে র-কার লোপ বলে।
যেমন :  
- তর্ক > তক্ক, 
- করতে > কত্তে,
- মারল > মাল্ল,
- করলাম > কল্লাম,
- করতাল > কত্তাল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
চন্দন > চন্নন কী ধরণের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. ক) মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
  2. খ) মধ্যস্বর লোপ
  3. গ) প্রগত সমীভবন
  4. ঘ) বিষমীভবন
ব্যাখ্যা
সমীভবন :
পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ব্যঞ্জনধ্বনির একটির প্রভাবে অপরটি পরিবর্তিত হয়ে সমান রূপ ধারণ করলে, তাকে সমীভবন বা সমীকরণ বলে। কেউ কেউ সমীভবনকে ব্যঞ্জনসংগতিও বলে। কেননা সমীভবনে স্বরসংগতির মতো ব্যঞ্জনসংগতি ঘটে। যেমন- বদ্ + জাত = বজ্জাত, রাঁধ + না = রান্না, কাঁদ + না = কান্না ইত্যাদি । সমীভবন আবার তিন প্রকার যথা:
- প্রগত সমীভবন।
- প্রতিগত সমীভবন।
- পারস্পরিক সমীভবন।

• প্রগত সমীভবন: পূর্ববর্তী ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনি সাদৃশ্যরূপ ধারণ করলে তাকে প্রগত সমীভবন বলে। যেমন-
যাঞ্চা > যাচ + না = যাচনা, চন্দন > চন্নন।

• প্রতিগত সমীভবন: পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনি সাদৃশ্যরূপ ধারণ করলে তাকে প্রতিগত সমীভবন বলে। যেমন-
রাধ+না = রান্না, কাঁদ + না = কান্না, বদ + জাত = বজ্জাত, তৎ + জন্য = তজ্জন্য ইত্যাদি।

• পারস্পরিক সমীভবন: পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ধ্বনি পরস্পরকে প্রভাবিত করে অন্য একটি ধ্বনিতে সাদৃশ্যরূপ প্রাপ্ত হলে তাকে পারস্পরিক সমীভবন বলে। যেমন-
উৎ + শৃঙ্খল = উচ্ছৃঙ্খল, উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস, উৎ + হার > উদ্ধার।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।