পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫

পরীক্ষাপ্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন৩১
সিলেবাস
পরীক্ষা – ২০ বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ বিষয়াবলি) টপিক: রাষ্ট্র, নাগরিকতা, সরকার ও রাজনীতি, সরকারি ও বেসরকারি লক্ষ্য, নীতি, পরিকল্পনা (অর্থনৈতিক, সামাজিক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা), কর্মসূচি, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও পররাষ্ট্র নীতি।। উৎস: বাংলাপিডিয়া, জাতীয় তথ্যবাতায়ন, বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫

প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫ · তারিখ অনির্ধারিত · ৩১ প্রশ্ন

.
বাংলাদেশে প্রথম উপজেলা পরিষদ গঠিত হয় কবে?
  1. ১৯৮০ সালে
  2. ১৯৭৮ সালে
  3. ১৯৮২ সালে
  4. ১৯৮৪ সালে
ব্যাখ্যা

উপজেলা পরিষদ:
- ১৯৮২ সালে বাংলাদেশে প্রথম উপজেলা পরিষদ গঠিত হয়।
- থানাগুলোকে উপজেলা নামে গণ্য করে সর্বত্র নির্বাচিত পরিষদের ব্যবস্থা করা হয়।
- ১৯৯১ সালে উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করা হলেও ১৯৯৮ সালে আবার উপজেলা গঠনের জন্যে আইন প্রণয়ন করা হয়।
- উপজেলা পরিষদ গঠিত হয় জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একজন চেয়ারম্যান,
- দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান (এদের মধ্যে একজন হবেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মহিলা),
- এবং কিছু সংখ্যক সদস্য নিয়ে।
- সংশ্লিষ্ট উপজেলার এলাকাভুক্ত প্রত্যেক পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি এই পরিষদের সদস্য হবেন।
- এ ছাড়া উপজেলা পরিষদে সংরক্ষিত পদে তিনজন নারী সদস্য মনোনীত হয়ে থাকেন।
- ২০০৯ উপজেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যগণ পরিষদের পরামর্শকের ভূমিকা পালন করেন।
- এই পরিষদের কার্যকাল ৫ বছর।
- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউ.এন.ও.) পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য কোনটি?
  1. দলীয় আদর্শ প্রচার করা
  2. রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ করা
  3. সরকারকে চাপ প্রয়োগ
  4. নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দল:
- প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হল রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ এবং সরকার গঠন।
- ক্ষমতায় এসে নিজের কর্মসূচি ও মতাদর্শকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রতিটি দলই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশে একাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে।
- শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের লক্ষ্য হল ক্ষমতায় টিকে থাকা।
- আর বিরোধী দলসমূহ নিজ-নিজ আদর্শের ভিত্তিতে শাসক দলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়।

এছাড়াও,
- রাজনৈতিক কিছু কার্যাবলী:
- জনমত গঠন,
- প্রার্থী মনোনয়ন,
- প্রতিশ্রুতি রক্ষা,
- সমন্বয় সাধন,
- সরকার ও জনগণের মধ্যে সংযোগ সাধন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ১ম পত্র এইচ এসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
'বাংলাদেশ স্কয়ার' কোথায় অবস্থিত?
  1. কানাডা
  2. সোমালিয়া
  3. সিয়েরা লিওন
  4. লাইবেরিয়া
ব্যাখ্যা

• লাইবেরিয়া: 
- 'বাংলাদেশ স্কয়ার' লাইবেরিয়ায় অবস্থিত। 
- ২০০৮ সালে এটি নির্মাণ করা হয়। 
- নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের শান্তি রক্ষীরা। 
- লাইবেরিয়া, পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের একটি দেশ। 
- লাইবেরিয়ার ভূখণ্ড নিম্ন এবং বালুকাময় উপকূলীয় সমভূমি থেকে ঘূর্ণায়মান পাহাড় এবং আরও অভ্যন্তরীণ বিচ্ছিন্ন মালভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- লাইবেরিয়া আফ্রিকার একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ রাষ্ট্র যা কখনো ঔপনিবেশিক শাসনের অধীন হয়নি এবং আফ্রিকার প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্র। 
- ১৮৪৭ সালে লাইবেরিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয় এবং এর সীমানা প্রসারিত করা হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা।

.
'ভিজিডি’ কর্মসূচির লক্ষ্য কী?
  1. ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ
  2. গৃহঋণ বিতরণ
  3. দুঃস্থ মহিলাদের খাদ্য সহায়তা
  4. দুঃস্থ শিশু খাদ্য সহায়তা
ব্যাখ্যা

• ভিজিডি কর্মসূচি:
- ভিজিডি কর্মসূচি বাংলাদেশ সরকারের একটি সর্ববৃহৎ সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি।
- দুঃস্থ ও অসহায় এবং শারীরিকভাবে সক্ষম মহিলাদের উন্নয়ন স্থায়ীত্বের জন্য খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি, তাদের স্বাবলম্বী/আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্যে উন্নয়ন প্যাকেজ সেবার আওতায় নির্বাচিত এনজিওর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
- এই কর্মসূচির উপকারভোগীরা ১০০% মহিলা।
- ভিজিডি’ কর্মসূচি দুঃস্থ মহিলাদের খাদ্য সহায়তা।

অপরদিকে,
- ভিজিএফ একটি মানবিক সহায়তা কর্মসূচি,
- এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হচ্ছে দরিদ্র পরিবারের দারিদ্র্য হ্রাস করা :
- দুঃস্থ ও গরীর জনগণের দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন করার লক্ষ্যে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা;
- পীড়িত জনগণ এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ করা;
- মন্দার সময়ে কর্মহীন জনগণের মধ্যে খাদ্য সরবরাহ করা;
- উপকারভোগীদেরকে সাময়িক সাহায্যের মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসনে অবদান রাখা, বিশেষ করে অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

.
বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম কী?
  1. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
  2. হান্টার কমিশন
  3. শরীফ শিক্ষা কমিশন
  4. কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

• কুদরত ই খুদা শিক্ষা কমিশন:
- জাতীয় শিক্ষা কমিশন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-ই-খুদাকে চেয়ারম্যান করে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই গঠিত হয়।
- বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন’।
- ১৯৭২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- চেয়ারম্যানের নামানুসারে এই কমিশন কুদরত-ই-খুদা কমিশন নামেও পরিচিতি পায়।
- কমিশন প্রশ্নমালার আকারে শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর লোকদের নিকট থেকে মতামত গ্রহণ করে,
-  কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

.
'বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫' প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০৬১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে- 
  1. ২১ কোটি
  2. ২৬ কোটি
  3. ৩২ কোটি
  4. ৩৬ কোটি
ব্যাখ্যা

'বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫:
- ২৪ জুলাই ২০২৫ সালে 'বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫' প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
- রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের এক অনুষ্ঠানে এই নতুন জনসংখ্যা নীতি প্রকাশ করা হয়।
- প্রতিবছর ১১ জুলাই জনসংখ্যা দিবস পালন কর হলেও অনিবার্য কারণে মন্ত্রণালয় গতকাল এই দিবস পালন করেছে।
- এর আগে জনসংখ্যা নীতি ছিল ২০১২ সালের।

- এই নীতির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২০৬১ সালের পর আর বাড়বে না।
- তখন দেশের জনসংখ্যা হবে ২১ কোটি।
- ২০৬২ সাল থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঋণাত্মক হবে এবং মোট জনসংখ্যা কমতে থাকবে।
- ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ জনসংখ্যার লভ্যাংশের যে সুযোগ পেয়ে আসছে তা অব্যাহত থাকবে ২০৬১ সাল পর্যন্ত।
- তখন সমাজে প্রবীণ মানুষের হার অনেক বেশি থাকবে।

- মানবাধিকার, ন্যায্যতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, জেন্ডার সমতা, বৈষম্যহীনতা, স্বেচ্ছা সম্মতি ও অবহিত পছন্দ, তথ্য প্রাপ্তি, গোপনীয়তা, সেবার মান ও অংশীদারত্ব–অংশগ্রহণকে ২০২৫ সালের জনসংখ্যা নীতির মূল ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫ ও প্রথম আলো।

.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. জাতীয় মর্যাদা বৃদ্ধি
  2. অন্য রাষ্ট্রের তুলনায় শক্তি বৃদ্ধি
  3. অর্থনৈতিক অগ্রগতি
  4. নিজস্ব মতবাদ সদা পরিবর্তন করা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- যে কোন দেশ বহির্বিশ্বের কাছ থেকে তার উদ্দেশ্যাবলি অর্জনের জন্য তার পররাষ্ট্র নীতি প্রণয়ন করে থাকে।
- বাংলাদেশও এই প্রচলিত রাষ্ট্রীয় নিয়মের বাইরে নয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যাবলিকে আমরা বর্ণনা করতে পারি:
১. আত্বরক্ষা,
২. অর্থনৈতিক অগ্রগতি,
৩. অন্য রাষ্ট্রের তুলনায় নিজের জাতীয় শক্তিকে রক্ষা ও প্রয়োজনবোধে বৃদ্ধি করা,
৪. নিজস্ব মতবাদে দৃঢ় থাকা, ও
৫. জাতীয় মর্যাদা বৃদ্ধি করা।

উৎস: সিভিক এডুকেশন-২, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি কোনটি?
  1. রাজনৈতিক দল
  2. চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  3. আমলাতন্ত্র
  4. ছাত্র সংগঠন
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দল:
- রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাবলির ব্যাপারে রাজনৈতিক দল গুলি নিজ-নিজ দলীয় মতাদর্শের উপর ভিত্তি করে সেসব সমস্যার সমাধানকল্পে নীতি ও কর্মসূচি নির্ধারণ করে।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হল রাজনৈতিক দল।
- নির্ধারিত নীতি ও কর্মসূচির স্বপক্ষে জনমত গঠন করা রাজনৈতিক দলের উল্লেখযোগ্য কাজ।
- প্রতিটি দল সভা-সমিতি, পত্র-পত্রিকা, পুস্তক-পুস্তিকা, রেডিও-টিভি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রভৃতির মাধ্যমে প্রচারকার্য চালিয়ে নিজস্ব নীতি ও কর্মসূচির সমর্থনে জনমত গঠনের চেষ্টা করে।
- আধুনিক গণতন্ত্রে প্রতিটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করা।
- প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্র সরকারি ক্ষমতা করায়ত্ব করে নিজ নীতি ও আদর্শকে বাস্তবে রূপায়িত করা।
- নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সমর্থন পেলে সেই উদ্দেশ্যকে সফল করে তোলার সুযোগ উপস্থিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বাংলাদেশ কমনওয়েলথ এর সদস্য হয় কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

• কমনওয়েলথ ও বাংলাদেশ:
- বাংলাদেশ কমনওয়েলথ-এর অন্যতম সদস্য।
- ২৮ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ কমনওয়েলথের ৩২তম সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়।
- এর পর থেকে কমনওয়েলথের সাথে বাংলাদেশের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- এ সংস্থার মূল লক্ষ্য হল কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সামাজিক অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সমৃদ্ধি করা।

• কমনওয়েলথ:
- কমনওয়েলথ মূলত ব্রিটেনের সাবেক উপনিবেশিক দেশগুলোর একটি রাজনৈতিক জোট।
- এটি ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় সর্বসম্মতিক্রমে।
- বর্তমান সদস্য ৫৬টি।
- সদরদপ্তর: মার্লবোরো হাউস, লন্ডন।
- এর প্রধান: রাজা তৃতীয় চার্লস।

উৎস: Commonwealth ওয়েবসাইট ও পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ কত বছর?
  1. ১৫ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ২৫ বছর
  4. ৩০ বছর
ব্যাখ্যা

• গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি:
- ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- সই করেছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর হওয়ায় এটি ২০২৬ সালে শেষ হবে। 
- চুক্তিতে নির্ধারিত হয় যে, উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে গৃহীত ফর্মুলা মোতাবেক ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে দু’দেশের মধ্যে গঙ্গার পানি ভাগাভাগি হবে, এবং ভারত নদীটির জলপ্রবাহের মাত্রা গত ৪০ বছরের গড় মাত্রায় বজায় রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।
 - যেকোন সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ৩৫ হাজার কিউসেক পানির নিশ্চয়তা পাবে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১.
বাংলাদেশের প্রথম সরকার ব্যবস্থা কেমন ছিল?
  1. একনায়কতন্ত্র
  2. রাষ্ট্রপতি শাসিত
  3. উপদেষ্টা শাসিত
  4. সংসদীয় গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রথম সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারই বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- এটি রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ছিল।
- কিন্তু পরবর্তীতে সংসদীয় সরকার প্রবর্তন করা হয়।
- বাংলাদেশ একটি এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র।
- রাষ্ট্রের শাসন বিভাগ, বিচার ও আইন বিভাগ নামে তিনটি বিভাগ রয়েছে।
- সরকার যাবতীয় কার্যাবলির জন্য জাতীয় সংসদের নিকট দায়বদ্ধ।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক কে?
  1. প্লেটো
  2. এরিস্টটল
  3. নিকোলো মেকিয়াভেলি
  4. জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা

 রাষ্ট্রবিজ্ঞান:
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান মূলত রাষ্ট্রের ভিত্তি ও সরকারের মূলনীতি নিয়ে আলোচনা করে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান একটি গতিশীল সমাজ বিজ্ঞান।
- রাষ্ট্রের কার্যক্রম, রাষ্ট্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং সমস্যা সমাধানের জন্য রাষ্ট্রীয় সংগঠনের সুসংবদ্ধ অধ্যয়নকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বলে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান সরকারের মূলনীতি ও রাষ্ট্রের মূলভিত্তি নিয়ে আলোচনা করে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আধুনিক ধারণাগুলো রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে একটি গতিশীল সামাজিক বিজ্ঞানে উন্নীত করেছে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্টীয় সংগঠন, শাসনব্যবস্থা, রাষ্ট্রের উদ্ভব ও বিকাশ, আন্ত:রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে।
- প্লেটোর ন্যায় এরিস্টটল নীতিশাস্ত্র ও রাষ্ট্রনীতির মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের উপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন।
- এরিস্টটলকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। 
- এরিস্টটল বিশ্বাস করতেন, একমাত্র রাষ্ট্রের মাধ্যমেই মানুষ সর্বোৎকৃষ্ট নৈতিক জীবন যাপন করতে সক্ষম।
- 'দি পলিটিক্স' গ্রন্থে তাঁর রাষ্ট্রচিন্তার মূল বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে।

অন্যদিকে,
- আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক হিসেবে ইতালীয় দার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে বিবেচনা করা হয়।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
জরুরি অবস্থায় কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থা উপযোগী?
  1. রাষ্ট্রপতি শাসিত
  2. মন্ত্রিপরিষদ শাসিত
  3. একনায়কতন্ত্র
  4. রাজতন্ত্র
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ও মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের মধ্যে পার্থক্য:
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের নীতির আলোকে বা শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের প্রকৃতি অনুসারে আধুনিক গণতান্ত্রিক সরকারসমূহকে দু'ভাগে বিভক্ত করা হয়। যথা- সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার। এই উভয় ধরনের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার মধ্যে নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যগুলো দেখা যায়।
১ । রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতার ক্ষেত্রে পার্থক্য: সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় নিয়মতান্ত্রিক বা নামসর্বস্ব শাসক এবং প্রকৃত শাসক এই দু'ধরনের শাসক দেখা যায়। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসনব্যবস্থার নিয়মতান্ত্রিক বা নামসর্বস্ব কোন শাসক প্রধানের পদ থাকে না। রাষ্ট্রপতিই একাধারে রাষ্ট্রপ্রধান এবং শাসন বিভাগের প্রধান কর্তা। তিনি তত্ত্বগতভাবে এবং বাস্তবে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী।

২। দায়িত্বের ক্ষেত্রে : সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় প্রকৃত প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ হল মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিসভার সকল সদস্য প্রত্যক্ষভাবে আইনসভার কাছে এবং পরোক্ষভাবে জনসাধারণের কাছে দায়িত্বশীল থাকে। অপরপক্ষে, রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি প্রত্যক্ষভাবে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হন। তিনি জনগণের কাছেই দায়িত্বশীল থাকেন।

৩। মন্ত্রিসভার ক্ষেত্রে: সংসদীয় আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। অপরপক্ষে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন ব্যবস্থায় একটি মন্ত্রিসভা থাকে। রাষ্ট্রপতিই এই মন্ত্রিসভার সদস্যদের মনোনীত ও নিযুক্ত করেন। মন্ত্রীরা রাষ্ট্রপতির কাছে দায়িত্বশীল। রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টির উপর তাদের কার্যকাল নির্ভরশীল।

৪। জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে: রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার স্বার্থে অনেক সময় আইনীভাবেই একক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থার মত দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না।

৫। নমনীয়তা: সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ও সংবিধান নমনীয়। প্রয়োজনমাফিক আইনগত কিংবা সাংবিধানিক পরিবর্তন এ ব্যবস্থাতে তুলনামূলক সহজ। পক্ষান্তরে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের সংবিধান কিংবা সরকার পরিবর্তন করতে হলে এক বিশেষ জটিল পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়।

৬। আইনসভার সার্বভৌমত্ব: সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের আইনসভা সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। আইনসভা অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করে সরকারকে অপসারণ করতে পারে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় আইনসভা নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী নয়।

৭। নির্বাচনগত পার্থক্য: রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। কিন্তু মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী প্রথমে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনে জয়ের পরে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।

৮। আইনসভা ভেঙ্গে দেবার ক্ষেত্রে: সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারে প্রধানমন্ত্রী আইনসভা ভেঙ্গে দেবার জন্য রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দান করতে পারেন। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দিতে পারেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে রাষ্ট্রপতি পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দিতে পারেন না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতি কোনটি?
  1. রাষ্ট্রপতিশাসিত
  2. এককেন্দ্রিক
  3. যুক্তরাষ্ট্রীয়
  4. বহুকেন্দ্রিক
ব্যাখ্যা

• সরকার কাঠামো:
- বাংলাদেশ একটি এককেন্দ্রিক সরকার কাঠামোভিত্তিক রাষ্ট্র।
- কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে সকল প্রশাসনিক ক্ষমতা ন্যস্ত।
- বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থার ধরণ - সংসদীয় গণতন্ত্র।
- রাজধানী ঢাকা থেকে সারাদেশের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে সারা দেশকে বিভিন্ন প্রশাসনিক এককে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।
- তবে সকল প্রশাসনিক কর্মকান্ড পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে কেন্দ্রীয় সচিবালয়।
- কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের সকল প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী।
- রাষ্ট্রপতির নামে রাষ্ট্রের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীপরিষদের কার্যকরি প্রধান হিসেবে সকল কার্য পরিচালনা করে থাকেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
'সরকার হচ্ছে রাষ্ট্রের একটি যন্ত্র বা সংস্থা'- উক্তিটি কে করেছেন?
  1. অধ্যাপক গার্নার
  2. অধ্যাপক গেটেল
  3. অধ্যাপক লাস্কি
  4. অধ্যাপক উইলোবি
ব্যাখ্যা

সরকারের ধারণা:
- যে চারটি উপাদান নিয়ে রাষ্ট্র গঠিত হয় তার মধ্যে অন্যতম একটি উপাদান হল সরকার।
- সরকার ব্যতীত রাষ্ট্র পরিচালনা করা অসম্ভব।
- রাষ্ট্রের কর্মকান্ড সরকারের মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়।
- সরকার হল একটি বাস্তব রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
- একে রাষ্ট্রের মুখপাত্রও বলা হয়।
- বৃহৎ অর্থে সরকার গঠিত হয় সকল নাগরিকের সম্মতিক্রমে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচকমন্ডলী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সরকার গঠন বা পরিবর্তন করে থাকে।
- অধ্যাপক জে ডব্লিউ গার্নার বলেন, "সরকার হচ্ছে একটি কার্য-নির্বাহী মাধ্যম বা যন্ত্র যার মাধ্যমে সরকারের সাধারণ নীতিমালা নির্ধারিত হয় এবং যার দ্বারা সাধারণ বিষয়াদি নিয়ন্ত্রিত হয় ও সাধারণ স্বার্থ রক্ষিত হয়।”
- অধ্যাপক আর জি গেটেল বলেন, "সরকার হচ্ছে রাষ্ট্রের একটি যন্ত্র বা সংস্থা।”
পরিশেষে বলা যায় যে, রাষ্ট্রের আইন-কানুন, রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত, বিধি-নিষেধ, ইচ্ছা-অনিচ্ছা যে সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকাশিত ও বাস্তবায়িত হয় তাকে সরকার বলে। সরকারবিহীন রাষ্ট্র তার কর্মকান্ড পরিচালনা করতে সক্ষম হয় না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১৬.
পৌরনীতি ও নাগরিকতার কেন্দ্রবিন্দু কোনটি?
  1. রাষ্ট্র
  2. নাগরিক
  3. জাতি
  4. নগর
ব্যাখ্যা

• নাগরিক:
- পৌরনীতি ও নাগরিকতার কেন্দ্রবিন্দু নাগরিক।
- রাষ্ট্রে বা প্রাচীন অর্থে পৌরের অধিবাসীর বিষয়বস্তুই পৌরনীতি ও নাগরিকতা'র বিষয়বস্তু।

এর পরিধি হল-
১. নাগরিকতা সম্পর্কিত বিষয়
২. রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানসমূহের আলোচনা
৩. নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভূমিকা
৪. নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত
৫. আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
কোন ধরনের শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকের স্বাধীনতা এবং অধিকার বিনষ্ট হওয়ার সুযোগ থাকে?
  1. সমাজতান্ত্রিক
  2. একনায়কতান্ত্রিক
  3. গণতান্ত্রিক
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• একনায়কতন্ত্র শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকের স্বাধীনতা এবং অধিকার বিনষ্ট হওয়ার সুযোগ থাকে। 

- একনায়কতন্ত্র হচ্ছে একটি স্বেচ্ছাচারী শাসনব্যবস্থা। 
- একনায়কতন্ত্র হল একটি অতি প্রাচীন রাষ্ট্রনৈতিক মতবাদ।
- তত্ত্বগতভাবে একনায়কতন্ত্র হল গণতন্ত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত শাসনব্যবস্থা।
- প্রাচীনকালে গ্রীস ও রোমের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মধ্যে একনায়কতান্ত্রিক শাসনের লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়।
- তবে একনায়কতন্ত্র সম্বন্ধে বর্তমান ধারণা ভিন্ন ধরনের।
- সাধারণত একনায়কতন্ত্রকে সামরিক, সাম্যবাদী এবং ফ্যাসিবাদী বা নাৎসীবাদী—মূলত এই তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়ে থাকে।

উৎস: গণতন্ত্র এবং একনায়কতন্ত্র অধ্যায়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৮.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার ন্যূনতম বয়স-
  1. ২৫ বছর
  2. ৩৫ বছর
  3. ৪৫ বছর
  4. নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ৪৮ নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতি
১. বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকিবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হইবেন। 
২. রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করিবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোন আইনের দ্বারা তাঁহাকে প্রদত্ত ও তাঁহার উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করিবেন। 
৩. এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্টপতি তাঁহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন: 

৪. কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি- 
ক. পঁয়ত্রিশ বৎসরের কম বয়স্ক হন; অথবা 
খ. সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য না হন; অথবা 
গ. কখনও এই সংবিধানের অধীন অভিশংসন দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদ হইতে অপসারিত হইয়া থাকেন। 

৫. প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রীয় নীতি সংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখিবেন এবং রাষ্ট্রপতি অনুরোধ করিলে যেকোনো বিষয় মন্ত্রীসভায় বিবেচনার জন্য পেশ করিবেন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১৯.
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ২২
  2. অনুচ্ছেদ ২৫
  3. অনুচ্ছেদ ২৬
  4. অনুচ্ছেদ ২১
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশের সংবিধানের ২৫নং অনুচ্ছেদে পররাষ্ট্র নীতি সংক্রান্ত নির্দেশনা বর্ণিত আছে।
- এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তি।

সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ:
→ অনুচ্ছেদ ২০ - অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম।
→ অনুচ্ছেদ ২১ - নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।
→ অনুচ্ছেদ ২২ - নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ।
→ ২৩নং অনুচ্ছেদে জাতীয় সংস্কৃতির কথা বলা হয়েছে।
→ ২৩(ক) অনুচ্ছেদে উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতির উল্লেখ রয়েছে।
→ অনুচ্ছেদ ২৪ - জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, প্রভৃতি।
→ অনুচ্ছেদ ২৬ - মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

২০.
নাগরিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোন নীতি অনুসরণ করে?
  1. জন্মস্থান নীতি ও অনুমোদন সূত্র
  2. জন্মসূত্র ও অনুমোদন সূত্র
  3. জন্মস্থান নীতি
  4. জন্মনীতি
ব্যাখ্যা

নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতি:
নাগরিকতা অর্জনের দু'টি পদ্ধতি রয়েছে।
এগুলো হচ্ছে: (ক) জন্মসূত্রে নাগরিক এবং (খ) অনুমোদনসূত্রে নাগরিক।

- যারা জন্মগতভাবে কোন রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করে তাদেরকে জন্মসূত্রে নাগরিক বলে।
- আর যারা কতকগুলো শর্তপূরণ করে শর্ত আরোপকারী রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করে তাদেরকে অনুমোদনসূত্রে নাগরিক বলে।

জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতি:
জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে দু'টি নীতি মেনে চলা হয়- (ক) জন্মস্থান নীতি ও (খ) জন্মনীতি।
(ক) জন্মস্থান-নীতি:
- জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী শিশু যে রাষ্ট্রে ভূমিষ্ট হয় সে রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করে।
- যদি কোন রাষ্ট্রের পতাকাবাহী জাহাজ, বিমান কিংবা দূতাবাসে জন্মগ্রহণ করে তবে সে সেই রাষ্ট্রের নাগরিক বলে বিবেচিত হবে।
যেমন- বাংলাদেশের কোন পিতা-মাতার সন্তান যদি কানাডা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বা তাদের পতাকাবাহী বিমান বা দূতাবাসে জন্মগ্রহণ করে তবে সে সন্তান কানাডা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হবে।
- অস্ট্রেলিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই নীতি অনুসরণ করে।

(খ) জন্মনীতি:
- এই নীতি অনুযায়ী শিশু যেখানেই ভূমিষ্ট হোক না কেন, পিতা-মাতার নাগরিকতাই তার নাগরিকতা নির্ধারণ করবে। যেমন:
- জাপানের কোন পিতা-মাতার সন্তান যদি রাশিয়ায় জন্মগ্রহণ করে তবে সেই সন্তান জাপানের নাগরিক বলে বিবেচিত হবে।
- বাংলাদেশ, ফ্রান্স, জাপান, ইতালী প্রভৃতি রাষ্ট্র জন্মনীতি মেনে চলে।

অনুমোদনসূত্রে নাগরিকতা অর্জন:
যদি কোন ব্যক্তি অনুমোদনসূত্রে নাগরিক হতে চায় তবে তাকে নাগরিকতা অর্জনের জন্য নিম্নলিখিত এক বা একাধিক শর্ত পূরণ করতে হয়:
(১) অনুমোদনদানকারী রাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করতে হয়, (২) সেনাবাহিনীতে যোগদান করতে হয়,
(৩) সরকারি চাকরি করতে হয়, (৪) সম্পত্তি ক্রয় করতে হয়, (৫) ভাষা জানতে হয়, (৬) নির্দিষ্ট সময় বসবাস করতে হয়।
অনুমোদনের শর্ত রাষ্ট্রভেদে আলাদা হতে পারে। শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একজন বিদেশীকে অনুমোদনকারী রাষ্ট্রের নিকট আবেদন করতে হয় এবং আবেদন মঞ্জুর হলেই একজন বিদেশী অনুমোদনদানকারী রাষ্ট্রের অনুমোদনসূত্রে নাগরিকে পরিণত হয়।

উৎস: পৌরনীতি, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১.
ঢাকায় আর্জেন্টিনার দূতাবাস পুনরায় খোলা হয় কত সালে?
  1. ২০২২ সালে
  2. ২০২৩ সালে
  3. ২০২৪ সালে
  4. ২০২৫ সালে
ব্যাখ্যা

• ঢাকায় আর্জেন্টিনার দূতাবাস:
- ঢাকায় ফের উদ্বোধন করা হলো আর্জেন্টিনার দূতাবাস।
- ৪৫ বছর পর সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩) রাজধানীর বনানীতে দেশটির দূতাবাস উদ্বোধন করা হয়।

- এ সময় উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান্তিয়াগো ক্যাফিয়ারো ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
- এ সফরে ৪৫ বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনার দূতাবাস চালু ও দুই দেশের মধ্যে ফুটবল এবং কৃষিতে সহযোগিতাসহ চারটি চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক সইকরা হয়েছে।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো

২২.
বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি দেশের কত তম প্রধান বিচারপতি?[ নভেম্বর,২০২৫]
  1. ২২তম
  2. ২৩তম
  3. ২৪তম
  4. ২৫তম
ব্যাখ্যা

• বিচার বিচার বিভাগ:
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি: বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদক।
- তিনি ২৫তম প্রধান বিচারপতি।
- রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ প্রধান করেন।

উল্লেখ্য,
- আবু সাদাত মো. সায়েম: বাংলাদেশের ১ম বিচারপতি।

উৎস: বিচার বিভাগ ওয়েবসাইট।

২৩.
বর্তমানে বিদেশে বাংলাদেশের কয়টি কূটনৈতিক মিশন আছে?[ নভেম্বর,২০২৫]
  1. ৮১টি
  2. ৫১টি
  3. ৫২টি
  4. ৬২টি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ বর্তমানে ৮১টি বিদেশি কূটনৈতিক মিশন পরিচালনা করছে।

• কূটনৈতিক মিশন:

- মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিদেশে অবস্থান করা বাংলাদেশিরাও দেশের জন্য লড়াই করেছেন।
- নয়াদিল্লি, কলকাতা, ওয়াশিংটন ডিসি, নিউ ইয়র্ক এবং লন্ডন বিশ্বের এই ৫টি বড় শহরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কূটনীতিকরা দেশের পক্ষে বিদেশি জনমত গঠনে কাজ করেছিলেন।
- একাত্তরের ওই সময়ে  কূটনীতিকরাও দেশের পক্ষে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন।
- ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল কলকাতায় সর্বপ্রথম বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন খোলা হয়।
- ওই সময়ে কলকাতার উপ হাইকমিশনার মো. হোসেন আলী এবং তৃতীয় সচিব আনোয়ারুল করিম চৌধুরী বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে কলকাতার পাকিস্তান হাইকমিশনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং হাইকমিশনটিকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন হিসেবে ঘোষণা দেন।

উৎস: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

২৪.
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. স্পিকার
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা

সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে:

রাষ্ট্রপতি শপথ বাক্য পাঠ করান:
- প্রধানমন্ত্রী।
- প্রধান বিচারপতি।
- মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ।
- স্পিকার।
- ডেপুটি স্পিকার।

প্রধান বিচারপতি শপথ বাক্য পাঠ করান:
- আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ।
- পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ।
- মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারবৃন্দ।

স্পিকার শপথবাক্য পাঠ করান:
- রাষ্ট্রপতি।
- সংসদ সদস্যবৃন্দ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

২৫.
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এ শিক্ষার কয়টি উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. ২০
  2. ২৫
  3. ৩০
  4. ৩৫
ব্যাখ্যা

• জাতীয় শিক্ষা নীতি- ২০১০:
- স্বাধীনতার পরপরই একটি শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ ড. কুদরাত এ খুদার নেতৃত্বে দেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছিল।
- উক্ত কমিশন ব্যাপক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ১৯৭৪ সালে গণমুখী আধুনিক এবং বিজ্ঞানভিত্তিক একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে।
- আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং সময়ের প্রয়োজনে এটি সংশোধন ও পরিমার্জন করা হয়েছে।
- সর্বশেষ ২০১০ সালে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়।
- এই শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য হলো জনমুখী উন্নয়ন ও প্রগতিশীল নেতৃত্বদানে উপযোগী মানবতাবাদী, মননশীল, যুক্তিবাদী, কুসংস্কারমুক্ত, অসম্প্রদায়িক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলা।

শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য:
- এই শিক্ষানীতি সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে গণমুখী, সুলভ, সুসম, সর্বজনীন, সুপরিকল্পিত, বিজ্ঞানমনস্ক এবং মানসম্পন্ন শিক্ষাদানে সক্ষম শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি ও কৌশল হিসেবে কাজ করবে।
- এই আলোকে শিক্ষার ৩০টি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও নীতিগত তাগিদ নেয়া হয়েছে।

উৎস: সমাজকর্ম প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬.
বাংলাদেশ জাতিসংঘের কততম সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে জাতিসংঘে যোগদান করেছে?
  1. ১৩২ তম
  2. ১৩৪ তম
  3.  ১৩৬ তম
  4.  ১৩৭ তম
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬-তম সদস্য রাষ্ট্র। 

- জাতিসংঘ  বিশ্বের স্বাধীন জাতিসমূহের সংগঠন।
- ১৯৪৫ সালে ৫১টি রাষ্ট্র কর্তৃক এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘ একটি বহুপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে এবং এর সদস্য রাষ্ট্রসমূহের অধিকার এবং বাধ্যবাধকতা এর সনদে অর্ন্তভূক্ত রয়েছে।
- জাতিসংঘ মূলত একটি রাজনৈতিক আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংগঠন এবং এটি অধি-রাষ্ট্রীক (supra-national) বা কোনো বিশ্ব সরকার নয়।
- বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘ বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পর্কের সূচনা হয় ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ  শুধু একটি মুক্তিআন্দোলন নয়, এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার দলনের বিরুদ্ধে আন্দোলন।
- বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ১৩৬ তম সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে যোগদান করে।

উৎস: জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ অধ্যায়, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৭.
যুক্তরাষ্ট্রের কোন প্রেসিডেন্টের শাসনামলে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়?
  1. জন এফ কেনেডি
  2. রিচার্ড নিক্সন
  3. বিল ক্লিনটন
  4. জিমি কার্টার
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশকে স্বীকৃতদানকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন রিচার্ড নিক্সন। 

- সেক্রেটারি অব স্টেট উইলিয়াম রজার্সের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ এপ্রিল।
- এছাড়া ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মুখ্য কর্মকর্তা হার্বার্ট স্পাইভ্যাক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের একটি বার্তা হস্তান্তর করেন এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সরকার রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী।
- শেখ মুজিবুর রহমান প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে ৯ এপ্রিল একটি চিঠি পাঠান যাতে তিনি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
- বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং ঢাকায় দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালের ১৮ই মে। 

উৎস: যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, বাংলাদেশ।

২৮.
জাতীয় শিশু নীতি ২০১১ অনুযায়ী কিশোর কারা?
  1. ১১ বছর থেকে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু
  2. ১২ বছর থেকে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু
  3. ১৩ বছর থেকে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু
  4. ১৪ বছর থেকে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিশু নীতি ২০১১:
- শিশুদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত হয় শিশু আইন ১৯৭৪, যা যুগোপযোগীকরণের মাধ্যমে শিশু আইন ২০১১ রূপে প্রণয়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
- পরিবার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রাসঙ্গিক সকল ক্ষেত্রে শিশুর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা একান্ত আবশ্যক।
- শিশুর সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা ও অধিকার সংরক্ষণের মাধ্যমে একটি সৎ, দেশপ্রেমিক ও কর্মক্ষম ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার যত্নশীল ও সক্রিয়।

সংজ্ঞা:
• কিশোর কিশোরী:
কিশোর-কিশোরী বলতে ১৪ বছর থেকে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদেরকে বুঝাবে।

শিশু: শিশু বলতে আঠারো বছরের কম বয়সী বাংলাদেশের সকল ব্যক্তিকে বুঝাবে। দেশের প্রচলিত কোনো আইনে এর ভিন্নতা থাকলে এই নীতির আলোকে প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে সামঞ্জস্যবিধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা
হবে।

উৎস: জাতীয় শিশু নীতি - ২০১১।

২৯.
বাংলাদেশে একটি ইউনিয়ন কয়টি ওয়ার্ডে বিভক্ত?
  1. ৮টি
  2. ৯টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা

ইউনিয়ন পরিষদের গঠন:
- একটি ইউনিয়ন ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত।
- চেয়ারম্যান ১ জন।
- নির্বাচিত সদস্য ৯ জন।
- সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৩ জন।
- ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয় মোট ১৩ জন সদস্য নিয়ে।
- প্রতি তিন ওয়ার্ড থেকে একজন মহিলা সদস্য নির্বাচিত হন।
- কার্যালয় পরিচালনার জন্য এক জন সচিব নিয়োগ করা হয়।
- ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর, সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের অপসারণ করা যায়।
- ইউনিয়ন পরিষদের সকলেই সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০.
রাষ্ট্র গঠনে সর্বাপেক্ষা মূল্যবান উপাদান কোনটি?
  1. সরকার
  2. নির্দিষ্ট ভূখন্ড
  3. জনসমষ্টি
  4. সার্বভৌমত্ব
ব্যাখ্যা

• রাষ্ট্র গঠনে সর্বাপেক্ষা মূল্যবান উপাদান হচ্ছে সার্বভৌমত্ব। 

- সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচ্য বিষয়সমূহের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
- যে চারটি উপাদানের সমন্বয়ে রাষ্ট্র গঠিত, তাদের মধ্যে সার্বভৌমত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযােগ্য উপাদান।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রকৃতি ও স্বরূপ বহুলাংশে সার্বভৌম ক্ষমতার প্রকৃতি ও অবস্থানের ওপর নির্ভর করে।
- সরকারকে যদি রাষ্ট্রের মস্তিষ্ক বলে উল্লেখ করা হয় তাহলে সার্বভৌমিকতা হল রাষ্ট্রের প্রাণ।
- সার্বভৌমিকতা বলতে রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ক্ষমতা কে বোঝায়।
- এই সার্বভৌমিকতার নির্দেশে-ই হলো আইন, যাকে আমরা অমান্য করতে পারবোনা।
- সার্বভৌমিকতা হল রাষ্ট্রের চরম অসীম অবিভাজ্য ও অহস্তান্তরযোগ্য ক্ষমতা।

উৎস: রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১.
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অনুপাত কত?
  1. ১ : ৩০
  2. ১ : ৪০
  3. ১ : ৫০
  4. ১ : ৬০
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী,
শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত:
- প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত হবে ১ : ৩০। এ লক্ষ্য পর্যায়ক্রমে ২০১৮ সালের মধ্যে অর্জন করা হবে।
এছাড়াও,
- মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত পর্যায়ক্রমে ২০১৮ সালের মধ্যে ১ : ৩০ এ উন্নীত করা হবে।

• জাতীয় শিক্ষা নীতি- ২০১০:
- স্বাধীনতার পরপরই একটি শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ ড. কুদরাত এ খুদার নেতৃত্বে দেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছিল। 
- উক্ত কমিশন ব্যাপক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ১৯৭৪ সালে গণমুখী আধুনিক এবং বিজ্ঞানভিত্তিক একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে।
- আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং সময়ের প্রয়োজনে এটি সংশোধন ও পরিমার্জন করা হয়েছে।
- সর্বশেষ ২০১০ সালে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়।
- এই শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য হলো জনমুখী উন্নয়ন ও প্রগতিশীল নেতৃত্বদানে উপযোগী মানবতাবাদী, মননশীল, যুক্তিবাদী, কুসংস্কারমুক্ত, অসম্প্রদায়িক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলা।

উৎস: জাতীয় শিক্ষা নীতি- ২০১০।