পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (সাহিত্য)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১৫ টপিক বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের লেখকগণ শওকত আলী, শওকত ওসমান, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শামসুদ্দীন আবুল কালাম, শামসুর রাহমান, সুফিয়া কামাল, সেলিনা হোসেন, সেলিম আল দীন, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, সৈয়দ মুজতবা আলী, সৈয়দ শামসুল হক, শহীদুল্লা কায়সার, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, সিকান্দার আবু জাফর, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, স্বর্ণকুমারী দেবী, সোমেন চন্দ, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, সুকান্ত ভট্টাচার্য, সুকুমার রায়, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, সৈয়দ আলী আহসান, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। [এই টপিকের উপর কোন ভিডিও লেকচার নাই]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

বাংলাবিদ (সাহিত্য) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
'যাত্রা' উপন্যাসে কোন ঐতিহাসিক কাহিনির পেক্ষাপট উপস্থাপন করা হয়েছে?
  1. ৪৭এর দেশভাগ
  2. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  3. বঙ্গভঙ্গ
  4. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
• "যাত্রা" উপন্যাসে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রির পর থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংসতা, ঢাকা শহরের গণহত্যা, প্রতিরোধ সংগ্রাম, এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।  

--------------------
• 'যাত্রা' উপন্যাস:

- মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে রচিত উপন্যাস শওকত আলীর 'যাত্রা'।
- যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন। একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'যাত্রা' উপন্যাস।
.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বড়দিদি’ উপন্যাসে বড়দিদি হিসেবে পরিচিত চরিত্রটির নাম কী?
  1. প্রমীলা
  2. সরলা
  3. মাধবী
  4. সুরমা
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বড়দিদি’ উপন্যাসে বড়দিদি চরিত্রের নাম মাধবীলতা।

- এই উপন্যাসে মাধবীলতা একজন শক্তিশালী, স্বাধীনচেতা এবং ত্যাগী নারী হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন, যিনি পরিবার ও সমাজের প্রতি নিজের কর্তব্য পালন করতে গিয়ে ব্যক্তিগত সুখের ত্যাগ স্বীকার করেন।

----------------------
• 'বড়দিদি' উপন্যাস:

- 'বড়দিদি' (১৯১৩) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম মুদ্রিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসটি সরলা দেবী সম্পাদিত 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশকালে বাংলা সাহিত্যে আলোড়নের সৃষ্টি করে। প্রথমে এর নাম ছিল 'শিশু'।
- শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের প্রধান আকর্ষণ, নারীচরিত্রের সংযম ও মাধুর্য, শাস্ত্রশাসিত জীবন ও স্বাভাবিক প্রবৃত্তির মধ্যে টানাপোড়েন এবং সহজ সাবলীল ভাষা-সবই এখানে পূর্ণমাত্রায় প্রকাশিত।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: সুরেন্দ্রনাথ, ব্রজরাজ, মাধবী, প্রমীলা। বড়দিদি 'মাধবী'র নাম।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসগুলো:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিত মশাই,
- পল্লী সমাজ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- দত্তা,
- গৃহদাহ,
- বামুনের মেয়ে,
- দেনা পাওনা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং 'বড়দিদি' উপন্যাস।
.
'আলমনগরের উপকথা' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. শওকত আলী
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
'আলমনগরের উপকথা' উপন্যাস:
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'আলম নগরের উপকথা' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে ১৯৫৪ সালে।
- এখানে সামন্তবাদ ও ধনতন্ত্রের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং উভয়ের দ্বন্দ্বের ফলে গণচেতনার বিকাশ চমৎকারভাবে ভাষারূপ পেয়েছে।

--------------
শামসুদ্দীন আবুল কালামের  রচনাসমূহ হলো:
• গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।

• উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
শামসুর রাহমানের ডাক নাম ছিল-
  1. শামসুর
  2. বাচ্চু
  3. মজলুম আদিব
  4. জীবন
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন কবি ও সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।

- তাঁর ডাক নাম ছিল 'বাচ্চু'। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।

- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। তাঁর প্রথম কবিতা 'উনিশ শ'উনপঞ্চাশ' প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।

- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর 'রূপালি স্নান' প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। 'রূপালি স্নান' কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।

- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে।
- তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'রৌদ্র করোটিতে'। কবি তাঁর দ্বিতীয় কাব্যের জন্য আদমজী পুরস্কারে ভূষিত হন। পুরস্কারটি প্রদান করেছিলেন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান। 'হাতির শুঁড়' কবিতায় যাঁর ক্ষমতাগ্রহণকে তিনি ব্যঙ্গ করেছিলেন।

- ১৯৭০ সালে প্রকাশিত তাঁর নিজ বাসভূমে কাব্য তিনি উৎসর্গ করেন আবহমান বাঙলার শহীদদের উদ্দেশ্যে। 'বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা', 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯', 'পুলিশ রিপোর্ট' 'হরতাল', 'এ লাশ আমরা রাখব কোথায়, তাঁর রচিত এ কবিতাগুলির ছত্রেছত্রে লেগে আছে এক বিক্ষুব্ধ সময়ের ছাপ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
কোনটি সেলিম আল দীন রচিত উপন্যাস?
  1. জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
  2. হরগজ
  3. অমৃত উপাখ্যান
  4. বনপাংশুল
ব্যাখ্যা
• সেলিম আল দীন রচিত উপন্যাস- অমৃত উপাখ্যান।
- এটি ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়।

-----------------
• সেলিম আল দীন:
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।
- মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর বাংলাদেশে তিনি অন্যান্যদের সঙ্গে গঠন করেন ঢাকা থিয়েটার ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- কবি ও তিমি। 

উপন্যাস:
- অমৃত উপাখ্যান। 

নাটক:
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, 
- তিনটি মঞ্চ নাটক: মুনতাসীর ফ্যান্টাসি, শকুন্তলা ও কিত্তনখোলা,
- কেরামতমঙ্গল, 
- প্রাচ্য, 
- কিত্তনখোলা, 
- হাতহদাই, 
- যৈবতী কন্যার মন, 
- চাকা, 
- হরগজ, 
- একটি মারমা রূপকথা। 
- বনপাংশুল,
- স্বর্ণবোয়াল, 
- পুত্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
সৈয়দ শামসুল হকের কোন উপন্যাস অবলম্বনে 'গেরিলা' উপন্যাসটি নির্মিত হয়েছে?
  1. নীল দংশন
  2. নিষিদ্ধ লোবান
  3. দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
  4. দুই সৈনিক
ব্যাখ্যা
'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস:
- 'নিষিদ্ধ লোবান' সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- 'নিষিদ্ধ লোবান' (১৯৮১) উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক নারী নির্যাতন, লিবিডো ক্রিয়া, লালসা ও রিরংসাবৃত্তির অভীপ্সা অভিব্যঞ্জিত হয়েছে।
- 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র 'গেরিলা'।

কাহিনি সংক্ষেপ:
এ উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে বিলকিস নামের এক নারীকে নিয়ে যে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তার পিতামাতা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, ঘরবাড়ি হারায়। তার স্বামী নিখোঁজ হয়ে যায়। ঘটনাচক্রে তার সঙ্গে পরিচয় হয় প্রদীপকুমার তথা সিরাজের। পাকিস্তানি সৈন্যরা যখন তাদের গুলিতে নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের লাশ দাফনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তখন রাতের অন্ধকারে লাশগুলো দাফন করতে গিয়ে তারা পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে ধরা পড়ে। কিন্তু অভাবনীয়ভাবে বিলকিস প্রতিবাদে অবিচল থাকে।

----------------
সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ।

উৎস: 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' শওকত ওসমান রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' নাটকটির রচয়িতা শওকত ওসমান।
- নাটকটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই নাটকটি মূলত স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত এবং এতে তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।  
 
-------------------
শওকত ওসমান:
- কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাঙ্গী। 
- জাহান্নাম হইতে বিদায়। 

• নাটক:
- তস্কর লস্কর, 
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা, 
- কাঁকর মণি, 
- বাগদাদের কবি ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' নাটক।
.
'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' ভ্রমণকাহিনিটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শহীদুল্লা কায়সার
  4. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।

------------------
• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'ছন্দোরাজ' নামে সাধারণ্যে পরিচিত ছিলেন কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুকুমার রায়
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি 'ছন্দের জাদুকর' ও 'ছন্দোরাজ' নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা 'ছন্দ-সরস্বতী' প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন-  নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০.
'সমকাল' পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন কে?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
• সিকান্দার আবু জাফর 'সমকাল' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- ঢাকা থেকে প্রকাশিত হতো মাসিক সাহিত্যপত্র সমকাল।
- সমকাল ছাড়াও দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।

---------------------
• সিকান্দার আবু জাফর:
- সিকান্দার আবু জাফর একজন কবি, সঙ্গীত রচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক ছিলেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বস্তু সিকান্দার।
- তিনি ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পূরবী,
- মাটি আর অশ্রু,
- নবী কাহিনী,
- জয়ের পথে,
- নতুন সকাল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- বৈরীবৃষ্টিতে,
- তিমিরান্তক,
- বৃশ্চিকলগ্ন,
- কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১.
মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ রয়েছে সেলিনা হোসেন রচিত কোন উপন্যাসে?
  1. হাঙর নদী গ্রেনেড
  2. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  3. যাপিত জীবন
  4. পোকামাকড়ের ঘরবসতি
ব্যাখ্যা
• 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস:
- 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে শাহপরি দ্বীপ নামক এক ছোটো দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মালেক, সাফিয়া, তোরাব আলী প্রমুখ।

সেলিনা হোসেন রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত 'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

• 'নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি' উপন্যাসটির লেখক সেলিনা হোসেন। ১৯৪৭ এ দেশ ভাগের আগের ও পরের সাহিত্য চর্চা, রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দিয়ে কাহিনি শুরু। সাথে আছে দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া কিছু পরিবারের চিত্র (১৯৪৩ যা পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত)।

• 'যাপিত জীবন'  উপন্যাসের পটভূমি ভাষা আন্দোলন। নায়ক জাফর বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধিত্ব করে। কাহিনীর পরতে পরতে বাঙালির শেকড়চিন্তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক প্রতিচিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
'দরজাটা খোলো' গল্পটি কার রচনা?
  1. সুকুমার রায়
  2. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
• সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:
- সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
- তিনি ১৯৩৬ সালের ২৩শে জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি লেখক সংঘ পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখিকা সংঘ পুরস্কার, একুশে পদক, ঋষিজ পদক লাভ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- অনতিক্রান্তবৃত্ত,
- শরৎচন্দ্র ও সামন্তবাদ,
- বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক,
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা গদ্যের সামাজিক ব্যাকরণ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্প:
- ভালো মানুষের জগৎ।

তাঁর রচিত ছোটদের গল্প:
- দরজাটা খোলো।

তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস:
- বাবুলের বেড়ে ওঠা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
'পূর্বাভাস' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• "পূর্বাভাস" একটি বিখ্যাত বাংলা কাব্যগ্রন্থ, যা সুকান্ত ভট্টাচার্য লিখেছেন। এটি মূলত কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ, যেখানে সমাজের প্রতিচ্ছবি এবং নিপীড়িত মানুষের কষ্টের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।  

-------------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:

- 'কিশোর কবি' সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
'সমুদ্রেই যাবো' ও 'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' কাব্যগ্রন্থদ্বয় কার রচনা?
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
• 'সমুদ্রেই যাবো 'ও 'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

-------------
• সৈয়দ আলী আহসান:

- সৈয়দ আলী আহসান মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের 'The Rose' নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী।

তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫.
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. পূরবী
  2. উপদ্রুত উপকূল
  3. জয়ের পথে
  4. নতুন সকাল
ব্যাখ্যা
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ উপদ্রুত উপকূল।
- গ্রন্থটি ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো: অভিমানের খেয়া, আজীবন জন্মের ঘ্রানে, বাতাসে লাশের গন্ধ, অবরোধ চারিদিকে, প্রত্যাশার প্রতিশ্রুতি, জানালায় জেগে আছি, আমি সেই অভিমান, বিষবৃক্ষ ভালোবাসা, কৃষ্ণপক্ষে ফেরা ইত্যাদি।

-----------------------
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তিনি প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; 'রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ' নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ 'উপদ্রুত উপকূল' (১৯৭৯) ও 'ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম' (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।
- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি 'মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার' লাভ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- পূরবী, জয়ের পথে ও নতুন সকাল সিকান্দার আবু জাফর উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্যগ্রন্থ-
  1. তারাবাঈ
  2. আমার প্রতিদিনের শব্দ
  3. অনেক আকাশ
  4. অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা
• 'অনল প্রবাহ' কাব্যগ্রন্থ:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্যগ্রন্থ 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি। এগুলো হচ্ছে: অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ: ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।

- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন। পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন।

অন্যদিকে, 
• সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ- তারাবাঈ ও আমার প্রতিদিনের শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭.
সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌ রচিত নাটক-
  1. নয়নচারা
  2. তরঙ্গভঙ্গ
  3. হরগজ
  4. কেরামতমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'তরঙ্গভঙ্গ' নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌র পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক 'তরঙ্গভঙ্গ'। অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।
- এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার, সাক্ষী মতলুব আলী।

- মৌলবি আবদুল সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু স্বামী হত্যার অভিযোগ আমেনা অভাবের তাড়নায় অসুস্থ স্বামী কুতুব শেখকে চিকিৎসা করাতে না পেরে সে ধুতরার বিষ পান করিয়ে স্বামী হত্যা করে। আর চারটি শিশুর আহার সংস্থান করতে না পেরে ছোটটিকেও সে মেরে ফেলে। বিচারক এর বিচার করতে বসেন।
- এ নাটকের একটি সংলাপ 'ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।'

অন্যদিকে, 
হরগজ ও কেরামতমঙ্গল সেলিম আল দীন রচিত নাটক। 

---------------
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-

• নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।