পরীক্ষা আর্কাইভ

২০ দিনে ৪৭তম বিসিএস রিভিশন - Archived

পরীক্ষা২০ দিনে ৪৭তম বিসিএস রিভিশন - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৪৬
সিলেবাস
বাংলা ব্যাকরণ (সম্পূর্ণ সিলেবাস)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

২০ দিনে ৪৭তম বিসিএস রিভিশন - Archived

২০ দিনে ৪৭তম বিসিএস রিভিশন - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৬ প্রশ্ন

.
'যাহারা ভালো, তাহারা পুরস্কৃত হইবে' – এখানে 'যাহারা, তাহারা' কী?
  1. অব্যয়
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. যোজক অব্যয়
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা

• 'যাহারা ভালো, তাহারা পুরস্কৃত হইবে' – এখানে 'যাহারা, তাহারা' - সাপেক্ষ সর্বনামের উদাহরণ।

সর্বনাম পদ:
- বাক্যে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক সর্বনাম: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক সর্বনাম: ঐ, ঐসব।
৫. সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
[প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন - কী দিয়ে ভাত খায়?]
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক সর্বনাম: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।
১১. সাপেক্ষ সর্বনাম: যেমন - যারা তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০২১ সংস্করণ)।

.
'সমাস' শব্দের ব্যুৎপত্তি কোনটি?
  1. সম্‌ + √ অ + মস্‌
  2. সম্‌ + √ অ + অস্‌
  3. সম্‌ + √ অস্‌ + অ
  4. সম্‌ + √ অস্‌
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + √ অস্‌ + অ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + √ অস্‌ + অ
ব্যাখ্যা

• 'সমাস' শব্দের ব্যুৎপত্তি - সম্‌ + √ অস্‌ + অ।

• সমাস সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য:
- অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দ একসঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
- সমাস অর্থ হল সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ।
- সমাসের কাজ হলো ভাষাকে সংক্ষপে করা, নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করা, শব্দ গঠন প্রভৃতি।
- সমাস শব্দ বা রূপতত্ত্বে আলেচিত হয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

.
ব্যাকরণে কী নিয়ে আলোচনা করা হয়? 
  1. কেবল ধ্বনি নিয়ে
  2. ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি নিয়ে
  3. শুধু শব্দ নিয়ে
  4. শুধু ভাষার উৎপত্তি নিয়ে 
সঠিক উত্তর:
ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি নিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি নিয়ে
ব্যাখ্যা

ব্যাকরণ ও বাংলা ব্যাকরণ:
- ব্যাকরণে ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- ব্যাকরণের কাজ ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ইত্যাদি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভাষার মধ্যকার সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করা। 
- যে বিদ্যাশাখায় বাংলা ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি বর্ণনা করা হয় তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে। 
- প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়।
- এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ।
- তাঁর বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে তিনি এটি রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
'অতিথি' এর সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. কুটুম
  2. অভ্যাগত
  3. কুটম্ব
  4. ভোজালি
সঠিক উত্তর:
ভোজালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোজালি
ব্যাখ্যা

• 'অতিথি' এর প্রতিশব্দ নয় 'ভোজালি'।
- 'ভোজালি' অর্থ- বাঁকানো ছোরাবিশেষ।

• 'অতিথি' এর প্রতিশব্দ:
- অভ্যাগত, মেহমান, নিমন্ত্রিত, আমন্ত্রিত, কুটুম, কুটুম্ব, আগন্তুক ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'আরক্ত' শব্দের অর্থ কী? 
  1. লাল রং
  2. রক্তবর্ণ
  3. ইষৎ রক্তবর্ণ
  4. গাঢ় লাল
সঠিক উত্তর:
ইষৎ রক্তবর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইষৎ রক্তবর্ণ
ব্যাখ্যা

• 'আরক্ত' শব্দের অর্থ - ইষৎ রক্তবর্ণ।

আরো কয়েকটি শব্দার্থ:
- 'নিমিত্তে' শব্দের অর্থ - অনুরোধ।
- 'শীকর' শব্দের অর্থ - জলকণা।
- 'চলমান' শব্দের অর্থ - গতিশীল।
- 'কর্বূর' শব্দের অর্থ - রাক্ষস।
- 'উৎকোচ' শব্দের অর্থ - ঘুষ
- 'উৎকুন' শব্দের অর্থ - উকুন

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
'রাজপুত্র' কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. তৎপুরুষ
  3. বহুব্রীহি
  4. দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
বাংলা ভাষার মূল উৎস কী?
  1. সংস্কৃত
  2. আর্যভাষা
  3. পালি ভাষা
  4. ব্রাহ্ম ভাষা
সঠিক উত্তর:
আর্যভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্যভাষা
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ:
পৃথিবীর ভাষাগুলো ইন্দো ইউরোপীয়, চিনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশিয় প্রভৃতি ভাষা পরিবারে ভাগ করা যায়।
- বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষাগােষ্ঠীর সদস্য।
- ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষার শাখা ২ টি। যথা: কেন্তুম ও শতম।
- ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষাগােষ্ঠীর শতম শাখা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি। কেন্তুম শাখার সাথে বাংলা ভাষার কোনো সম্পর্ক নেই।

- ভারতে আর্য জাতির আগমন ঘটে আনুমানিক ১৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে। তাদের ভাষা ছিল মূল আর্যভাষা। বৈদিক ভাষা এর প্রাচীনতম র‌ূপ। বাংলা ভাষার মূল উৎস আর্যভাষা বা বৈদিক ভাষা।
- বেদের ভাষাকেও বৈদিক ভাষা বলা হয়। বৈদিক ভাষার সংস্কারজাত নতুন ভাষাই সংস্কৃত ভাষা।
- ভাষা হিসেবে সংস্কৃত শব্দটির উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় মহাকাব্য রামায়ণে।

- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া।
- ধ্রুপদী ভাষা সংস্কৃতি ও পালির সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

.
ধ্বনির প্রতীককে কী বলা হয়?
  1. শব্দ
  2. অক্ষর 
  3. বর্ণ
  4. ভাষা
সঠিক উত্তর:
বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণ
ব্যাখ্যা

• বর্ণ:
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ।
- এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে।
- ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- ধ্বনির বিভাজন অনুযায়ী বাংলা বর্ণমালাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
- স্বরধ্বনির প্রতীক স্বরবর্ণ।
- ব্যঞ্জনধ্বনির প্রতীক ব্যঞ্জনবর্ণ।
- বাংলা বর্ণমালায় মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি।
- তবে মূল বর্ণের পাশাপাশি বাংলা বর্ণমালায় রয়েছে নানা ধরনের কারবর্ণ, অনুবর্ণ, যুক্তবর্ণ ও সংখ্যাবর্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
ইংরেজি ভাষায় লেখা প্রথম বাংলা ব্যাকরণের রচয়িতা কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  4. জোশুয়া মার্শম্যান 
সঠিক উত্তর:
নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
ব্যাখ্যা

বাংলা ব্যাকরণ রচনার ইতিহাস:
• প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়। এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ। তাঁর বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে তিনি এটি রচনা করেন।

• এরপর ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ।
- বইটির নাম ‘এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।

• ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি এবং ১৮২৬ সালে রামমোহন রায় ইংরেজি ভাষায় আরো দুটি উল্লেখযোগ্য বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

• উইলিয়াম কেরির ইংরেজি ভাষায় রচিত বাংলা ব্যাকরণ 'A Grammar of the Bengalee Language' (১৮০১)। ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে জন রবিনসন এই গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ প্রকাশ করেন।

• ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত রামমোহন রায়ের ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১) এবং বাংলাপিডিয়া।

১০.
'ঈষৎ কম্পিত' এর এক কথায় প্রকাশ কী?
  1. কম্পিত
  2. কম্পন
  3. আধুত
  4. স্পন্দিত
সঠিক উত্তর:
আধুত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধুত
ব্যাখ্যা

• "ইষৎ কম্পিত" এর এক কথায় প্রকাশ — 'আধুত'।

অনুরূপ কিছু এক কথায় প্রকাশ:
• "ইষৎ রক্তবর্ণ" — 'আরক্ত'।
• 'ইষৎ উষ্ণ' - 'কবোষ্ণ'।
• ঈষৎ নীলবর্ণ - নীলাভ

উৎস:
- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

১১.
বাংলা ভাষায় কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনি কোনটি?
  1. ক 
  2. য় 
  3. হ 
  4. প 
সঠিক উত্তর:
হ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ 
ব্যাখ্যা

- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনি - হ।

• কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
যেমন, 
- 'হাতি' শব্দের 'হ' কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১২.
'নদী' এর সমার্থক শব্দ—
  1. তটিনী
  2. গিরি
  3. অম্বর
  4. তোয়
সঠিক উত্তর:
তটিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তটিনী
ব্যাখ্যা

• 'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- নদ,
- নদনদী,
- গাঙ,
- স্রোতস্বিনী,
- তটিনী,
- স্রোতস্বতী,
- শৈবলিনী,
- সরিৎ,
- প্রবাহিণী,
- নির্ঝরণী,
- তরঙ্গিণী
- মন্দাকিনী
- কল্লোলিনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'গিরি' - পাহাড় এর সমার্থক শব্দ।
• 'অম্বর' - আকাশ এর সমার্থক শব্দ।
• 'তোয়' - পানি এর সমার্থক শব্দ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩.
'নবছিদ্র' শব্দটির উচ্চারণে কয়টি অক্ষর পাওয়া যায়?
  1. ১টি
  2. ২টি 
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

উত্তর: খ) ৩ টি অক্ষর পাওয়া যায়।

ব্যাখ্যা:
• অক্ষর:
এর ইংরেজি নাম - syllable. অল্প প্রয়াসে যে ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ একবারে উচ্চারিত হয় তাকে অক্ষর বলে। তাই একে শব্দাংশ ও বলা হয়।

অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা-
- মুক্তাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- ক/লা)
- বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- দিন, রাত)

যেমন: 'বিশ্ববিদ্যালয়' শব্দে ৫টি অক্ষর রয়েছে (বি + শ্ব + বি + দ্যা + লয়)।

-------------------------
'নবছিদ্র' শব্দের উচ্চারণ হল: নবোছিদ্‌রো।

'নবছিদ্র' শব্দটির উচ্চারণ বিশ্লেষণ:
- নবো (প্রথম অক্ষর);
- ছিদ্ (দ্বিতীয় অক্ষর);
- রো (তৃতীয় অক্ষর)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

১৪.
'সাতজন লোক' – এখানে 'সাত' কোন পদ?
  1. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  2. সংখ্যাবাচক বিশেষণ
  3. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক বিশেষণ
  4. উপাদানবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
সংখ্যাবাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংখ্যাবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• 'সাতজন লোক' - এখানে 'সাতজন' - সংখ্যাবাচক বিশেষণ পদ।

• নাম  বিশেষণ:
- যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

• নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৫.
'যে ভালো কাজ করে, সে সম্মান পায়।' – এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. সাপেক্ষ বাক্য 
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা

• 'যে ভালো কাজ করে, সে সম্মান পায়।' - জটিল বাক্য।

• মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা -
আশ্রিত বাক্য ....... প্রধান খণ্ডবাক্য
১. যে পরিশ্রম করে,.....সে-ই সুখ লাভ করে।
২. সে যে অপরাধ করেছে,......তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৬.
'অশিক্ষিত' শব্দের গঠন কোনটি?
  1. উপসর্গ + মূল শব্দ
  2. ধাতু + প্রত্যয়
  3. ধাতু + উপসর্গ
  4. অব্যয় + অনুসর্গ 
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ + মূল শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ + মূল শব্দ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ক) উপসর্গ + মূল শব্দ।

বিশ্লেষণ:
'অশিক্ষিত' শব্দের গঠন:

- অ (উপসর্গ) + শিক্ষিত (মূল শব্দ)।

এখানে:
- 'অ' একটি নেতিবাচক উপসর্গ যা 'না' বা 'নয়' অর্থ প্রকাশ করে
- 'শিক্ষিত' হলো মূল শব্দ যার অর্থ 'যে শিক্ষা লাভ করেছে'
- 'অ' উপসর্গ যোগে 'শিক্ষিত' শব্দের বিপরীত অর্থ তৈরি হয়েছে - 'যে শিক্ষা লাভ করেনি'।

অনুরূপ উদাহরণ:
- অসুস্থ = অ + সুস্থ;
- অযোগ্য = অ + যোগ্য;
- অপরিচিত = অ + পরিচিত।

সুতরাং 'অশিক্ষিত' শব্দটি উপসর্গ + মূল শব্দ দিয়ে গঠিত।
 
উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৭.
 'শরীর > শরীল' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. সমীভবন
  2. বিষমীভবন
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. ব্যঞ্জন বিকৃতি
সঠিক উত্তর:
বিষমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষমীভবন
ব্যাখ্যা

• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন- 
শরীর > শরীল, 
লাল > নাল, 
লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৮.
 'ত্রিনয়ন' শব্দে 'ন' ব্যবহৃত হওয়ার কারণ কী?
  1. এটি তদ্ভব শব্দ
  2. এটি দেশি শব্দ
  3. এটি সমাসবদ্ধ শব্দ
  4. এটি বিদেশি শব্দ
সঠিক উত্তর:
এটি সমাসবদ্ধ শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটি সমাসবদ্ধ শব্দ
ব্যাখ্যা

• "ণ-ত্ব বিধান": 
- বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।

এখানে,
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান। 
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। 
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে। 

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়: 
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। 
যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম ইত্যাদি। 

২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। 
যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি। 

৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।

১৯.
'লেখক' শব্দের মূল ধাতু কোনটি?
  1. লেখ্‌
  2. লেখ
  3. লিখ্‌
  4. লেখা
সঠিক উত্তর:
লিখ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিখ্‌
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) লিখ্‌।

ব্যাখ্যা:
'লেখক' শব্দের গঠন বিশ্লেষণ:
-√লিখ্ (মূল ধাতু) + অক (প্রত্যয়) = লেখক।

অন্যান্য উদাহরণ:
- √গৃহ্ + অক = গ্রাহক
- √নী + অক = নায়ক।
- √কৃ + অক = কারক।
 
উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২০.
'বউভাত' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদ্গুলোর প্রতিটিতেই অর্থ প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- ভাইবোন,
- তালতমাল ইত্যাদি।

তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

কর্মধারয় সমাস:
- যে সমাসে পরপদের অর্থ-প্রাধান্য থাকবে এবং পূর্বপদটি পরপদের বিশেষণের মত কাজ করবে, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন: নীল যে কমল = নীলকমল, এখানে পূর্বপদ নীল হচ্ছে পরপদ কমলের বিশেষণ এবং 'নীলকমল' শব্দে কমলের‌ই অর্থপ্রাধান্য। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।

২১.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. বিবাক্ষী 
  2. উদীচী
  3. সমীরন 
  4. সুক্ষ্ম
সঠিক উত্তর:
উদীচী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদীচী
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - উদীচী (বিশেষ্য):
- অর্থ: দিক; উত্তর দিক।

অন্য অপশনের বানানগুলোর শুদ্ধরূপ:
বিবাক্ষী - বিবাক্ষি।
সমীরন - সমীরণ।
সুক্ষ্ম - সূক্ষ্ম।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।

২২.
অমৃত' এর বিপরীতার্থক শব্দ—
  1. সরল
  2. মৃত্যু
  3. গরল
  4. ক্ষয়
সঠিক উত্তর:
গরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরল
ব্যাখ্যা

• 'অমৃত' এর বিপরীতার্থক শব্দ - গরল / বিষাক্ত।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দ:
'তিক্ত' - মধুর।
'অবিরল' - বিরল।
'কুটিল' - সরল।
'জীবিত' - মৃত।
'হর্ষ' - বিষাদ।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৩.
"সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।" - এ বাক্যে 'ছাড়া' হলো- 
  1. উপসর্গ 
  2. অনুসর্গ 
  3. ধাতু
  4. যোজক 
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ 
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ: 
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন - 
• সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।
এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ। 

• কোন পর্যন্ত পড়েছ?
এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি। 

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা - 
- সাধারণ অনুসর্গ ও 
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।

২৪.
‘নিরাময়’ - এর সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নিরঃ + ময়
  2. নিরা + ময়
  3. নিঃ + আময়
  4. নির + ময়
সঠিক উত্তর:
নিঃ + আময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিঃ + আময়
ব্যাখ্যা

• ‘নিরাময়’ - এর সন্ধি-বিচ্ছেদ - নিঃ + আময়।

• নিরাময় (বিশেষণ):
- রোগহীন; নীরোগ; সুস্থ।
- দূরীকৃত; বিতাড়িত (চিকিৎসা দ্বারা নিরাময় করা)।

• নিরাময় (বিশেষ্য):
- দূরীকরণ; বিতাড়ন (অসুস্থতা নিরাময়ের জন্য)।

• নিরাময়:
- শব্দ: তৎসম বা সংস্কৃত।
- সন্ধি বিচ্ছেদ: নিঃ + আময়।
- সমাস: বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: অভিগম্য অভিধান; ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

২৫.
'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।' - এখানে 'কিংবা' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. বিয়োজক
  2. অনুকার
  3. অনুসর্গ 
  4. সংকোচক
সঠিক উত্তর:
বিয়োজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিয়োজক
ব্যাখ্যা

• 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন'- এখানে 'কিংবা' বিয়োজক অব্যয়।

• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

• বিয়োজক অব্যয়: 
মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

• সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

• অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়: 
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৬.
'ছাত্রসমাজ' শব্দটি কোন প্রক্রিয়ায় গঠিত?
  1. উপসর্গ
  2. প্রত্যয়
  3. সমাস
  4. বলক যোগে
সঠিক উত্তর:
সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাস
ব্যাখ্যা

• 'ছাত্রসমাজ' - শব্দটি সমাস প্রক্রিয়ায় গঠিত

তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।

২৭.
কোনটি রূঢ়ি শব্দ নয়? 
  1. অতিথি
  2. তৈল
  3. গায়ক 
  4. প্রবীণ
সঠিক উত্তর:
গায়ক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গায়ক 
ব্যাখ্যা

• রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন-
"অতিথি = √ অত্‌ + ইথি" বলতে 'মেহমানকে' বুঝায়।
কিন্তু ব্যুৎপত্তিগত অর্থ অনুসারে বোঝায়- যার তিথি নেই। অর্থাৎ প্রকৃত অর্থ না বুঝিয়ে অন্য অর্থ বোঝাচ্ছে, তাই এটি রূঢ়ি শব্দ।

এরূপ- 
- সন্দেশ - সংবাদ (মূল অর্থ) - মিষ্টান্ন (পরিবর্তিত অর্থ);
- চিকন - চকচকে (মূল অর্থ) - সরু (পরিবর্তিত অর্থ);
- জ্যাঠামি - জেঠার ভাব (মূল অর্থ) - চাপল্য (পরিবর্তিত অর্থ);
- প্রবীণ - প্রকৃষ্ট বীণাবাদক (মূল অর্থ) - বয়স্ক ব্যক্তি (পরিবর্তিত অর্থ)।

আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
- বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, বৎস, শুশ্রূষা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন,
-গায়ক = গৈ + ণক ( অক) অর্থ গান করে যে।

উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৮.
'অকালের বাদলা' বাগধারাটির অর্থ কী?
  1. অর্থহীন কথা
  2. কালে-ভদ্রে
  3. অপ্রত্যাশিত বাধা
  4. অপরিহার্য অবলম্বন
সঠিক উত্তর:
অপ্রত্যাশিত বাধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপ্রত্যাশিত বাধা
ব্যাখ্যা

• 'অকালের বাদলা' বাগ্‌ধারার অর্থ - অপ্রত্যাশিত বাধা।

অন্যদিকে,
- 'অন্ধের যষ্টি' বাগধারার অর্থ - অপরিহার্য অবলম্বন। 
- 'আগরম বাগড়ম' বাগধারার অর্থ - অর্থহীন কথা।
- 'অবরেসবরে' বাগধারার অর্থ - কালে-ভদ্রে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞসা।

২৯.
‘উল্লাস‘- এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. উল + লাস
  2. উৎ + লাস
  3. উদ্‌ + লাস
  4. উলঃ + লাস
সঠিক উত্তর:
উৎ + লাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎ + লাস
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যায়।
যেমন-
- চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র (এখানে চ-এর প্রভাবে ত হয়েছে চ)।
- বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক (এখানে জ-এর প্রভাবে দ হয়েছে জ)
- উৎ + লাস = উল্লাস (এখানে ল-এর প্রভাবে ত হয়েছে ল)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩০.
“তালাচাবি” কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. সমার্থক দ্বিরুক্তি
  2. বিপরীতার্থক দ্বিরুক্তি
  3. ভিন্নার্থক দ্বিরুক্তি
  4. পদাত্মক দ্বিরুক্তি
সঠিক উত্তর:
ভিন্নার্থক দ্বিরুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিন্নার্থক দ্বিরুক্তি
ব্যাখ্যা

• দ্বিরুক্ত শব্দ:
- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা।
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়। -
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়।

• তালাচাবি - ভিন্নার্থক শব্দ যোগে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- চালচলন শব্দটি সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- ছোট-বড়, আসা-যাওয়া হচ্ছে বিপরীতার্থক অর্থে ব্যবহৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।

৩১.
'গরীয়ান' শব্দটির স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. গরিয়াসী
  2. গরীয়সী
  3. গরীয়াসী
  4. গরিয়ানী
সঠিক উত্তর:
গরীয়সী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরীয়সী
ব্যাখ্যা

• 'গরীয়ান' শব্দটির স্ত্রীবাচক শব্দ- 'গরীয়সী'।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• 'গরীয়ান' - এর অর্থ মর্যাদাপূর্ণ, মহান, গুরুতর, বৃহত্তর, বিত্তশালী, মহার্ঘ।
- এর স্ত্রী লিঙ্গ- গরীয়সী।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩২.
'তরঙ্গ' শব্দের বহুবচন কোনটি?
  1. তরঙ্গমালা
  2. তরঙ্গদল
  3. তরঙ্গদাম
  4. তরঙ্গরাশি
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গমালা
ব্যাখ্যা

• ‘তরঙ্গ’ শব্দের বহুবচন- 'তরঙ্গমালা'। 

বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
• আবলি- পুস্তকাবলি।
• গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
• দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
• নিকর- কমলনিকর।
• পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
• মালা- পর্বতমালা, তরঙ্গমালা। 
• রাজি- তারকারাজি।
• রাশি- বালিরাশি।
• নিচয়- কুসুমনিচয়। 

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৩.
নাম পুরুষের উদাহরণ কোনগুলো?
  1. আমি, আমরা
  2. তুমি, তোমরা
  3. সে, তারা, করিম
  4. আপনি, আপনারা
সঠিক উত্তর:
সে, তারা, করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে, তারা, করিম
ব্যাখ্যা

• পুরুষ তিন প্রকার।
যেমন:
- উত্তম পুরুষ,
- মধ্যম পুরুষ,
- নাম পুরুষ।

• উত্তম পুরুষ:
ক্রিয়ার কর্তা নিজেকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে উত্তম পুরুষ বলে।
যেমন: আমি, আমরা ইত্যাদি।

• মধ্যম পুরুষ:
বক্তা যার সাথে কথা বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে মধ্যম পুরুষ বলে।
যেমন: তুমি, তােমরা, আপনি ইত্যাদি।

• নাম পুরুষ:
বক্তা যার সম্পর্কে কিছু বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে নাম পুরুষ বলে।
যেমন:
সে, তারা, ওরা, করিম, এটা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৪.
"বাংলাদেশ জিতে থাকবে।" - এখানে ক্রিয়ার কোন কাল রয়েছে?
  1. সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল
  2. ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল
  3. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল
  4. ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল:
- যে ক্রিয়া সম্ভবত ঘটে গিয়েছে এবং সেটি বোঝাতে সাধারণ ভবিষ্যৎ কালবোধক শব্দ ব্যবহার করা হয়, এমন হলে তার কালকে পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল বলে।
ভবিষ্যতের কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজটি সমাপ্ত হয়ে যাবে।
যেমন- 
বাংলাদেশ জিতে থাকবে।
"কাঞ্চন বোধহয় কঠিন অঙ্কটা বুঝে থাকবে।"
এখানে "বুঝে থাকবে" নির্দেশ করছে যে ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট এক সময়ে অঙ্ক বোঝার কাজ সমাপ্ত হয়ে যাবে।
এটি পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩৫.
নিচের কোনটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ ?
  1. যারা ধার্মিক তারা সুখী।
  2. আমাদের সমাজ আর তাদের সমাজ এক নয়।
  3. তোমাকে দেওয়ার মতো আমার কিছুই নেই।
  4. ধনী হলেও তুমি উদার নও।
সঠিক উত্তর:
আমাদের সমাজ আর তাদের সমাজ এক নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাদের সমাজ আর তাদের সমাজ এক নয়।
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য:
পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

উল্লেখ্য,
যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, কিন্তু, ও, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তবে, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত থাকে।
যেমন:
আমাদের সমাজ আর তাদের সমাজ এক নয়।
- সূর্য উদিত হয় তবে অন্ধকার দূর হয়।

অন্যদিকে, 
• জটিল বাক্য- যারা ধার্মিক তারা সুখী।
• সরল বাক্য- তোমাকে দেওয়ার মতো আমার কিছুই নেই।
• সরল বাক্য- ধনী হলেও তুমি উদার নও।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৬.
'সৌন্দর্যতা' - কোন কারণে অপপ্রয়োগ?
  1. সন্ধিজনিত 
  2. বিভক্তিজনিত 
  3. প্রত্যয়জনিত 
  4. বাহুল্যজনিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত 
ব্যাখ্যা

• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি - সৌন্দর্যতা।
- শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - সৌন্দর্য।
- এর প্রকৃতি-প্রত্যয় - সুন্দর + য।

তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।

 এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৩৭.
'Approbation' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. সংস্করণ
  2. শিক্ষানবিস
  3. অচলাবস্থা
  4. অনুমোদন
সঠিক উত্তর:
অনুমোদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুমোদন
ব্যাখ্যা

• 'Approbation' এর বাংলা পরিভাষা - অনুমোদন। 

অন্যদিকে,  
'Deadlock' এর বাংলা পরিভাষা- 'অচলাবস্থা'। 
'Apprentice' এর বাংলা পরিভাষা- 'শিক্ষানবিস'। 
‘Edition’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - 'সংস্করণ'।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।

৩৮.
‘যা প্রকাশ করা হয়নি’ এর এক কথায় প্রকাশ কোনটি?
  1. অবক্তব্য
  2. অব্যক্ত
  3. অনুক্ত
  4. অশ্রুতপূর্ব
সঠিক উত্তর:
অব্যক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যক্ত
ব্যাখ্যা

• ‘যা প্রকাশ করা হয় নি’ এক কথায় প্রকাশ - অব্যক্ত। 

অন্যদিকে,
• ’যা বলা হয় নি এমন’ এক কথায় প্রকাশ - অনুক্ত।
• ’যা পূর্বে শোনা যায় নি এমন’ এক কথায় প্রকাশ - অশ্রুতপূর্ব।
• ‘কথায় প্রকাশ করার অযোগ্য’ এক কথায় প্রকাশ - অবক্তব্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৯.
'বাঁশি বাজে ঐ দূরে।' - বাক্যটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা

• কর্মকর্তৃবাচ্য:
এছাড়াও বাংলায় আরো এক ধরনের প্রকাশভঙ্গির বাক্য দেখা যায়। এ ধরনের বাক্যের বাচ্যকে বলা হয় কর্মকর্তৃবাচ্য।
- এ ধরনের বাক্যে কর্তাপদ উহ্য থাকে, তবে কর্মপদ থাকে। আর ওই কর্মপদই কর্তার কাজ করে।
- অর্থাৎ, যে বাক্যে কর্তা থাকে না, কর্মই কর্তার কাজ করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভাল দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ দূরে।

[এখানে কর্তা নেই। বাঁশি নিজেই কর্তার মতো বাক্যকে নেতৃত্ব দিচ্ছে বা বাজার কাজ সম্পন্ন করছে।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪০.
নিচের কোনটি পরোক্ষ উক্তিতে ব্যবহৃত হয়?
  1. ইহা
  2. সেই
  3. আজ
  4. গতকল্য
সঠিক উত্তর:
সেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেই
ব্যাখ্যা

• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরোক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

যেমন:
প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ
→ এই-সেই, 
ইহা-তাহা, 
→ এ-সে, 
আজ-সেদিন,
→ আগামীকাল-পরদিন, 
→ গতকাল-আগেরদিন, 
গতকল্য-পূর্বদিন, 
→ ওখানে-ঐখানে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪১.
‘বিস্ময়াপন্ন’ পদটির সঠিক ব্যাসবাক্য- 
  1. বিস্ময়ে যে আপন্ন
  2. বিস্ময় দ্বারা আপন্ন
  3. বিস্ময়কে আপন্ন
  4. বিস্ময়ে আপন্ন
সঠিক উত্তর:
বিস্ময়কে আপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিস্ময়কে আপন্ন
ব্যাখ্যা

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন,

অনুরূপভাবে,
- বিস্ময়কে আপন্ন = বিস্ময়াপন্ন,
- পরলোকে গত = পরলোকগত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪২.
'গরমিল' শব্দের 'গর' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. ফারসি 
  2. আরবি
  3. তৎসম 
  4. খাঁটি বাংলা 
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা

• 'গরমিল' শব্দের-  'গর' আরবি উপসর্গ।

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি – এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
- এর কতগুলো খাঁটি উচ্চারণে আবার কতগুলো বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়।
- এ সঙ্গে কতগুলো বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে।
- দীর্ঘকাল ব্যবহারে এগুলো বাংলা ভাষায় বেমালুম মিশে গিয়েছে।
- বেমালুম শব্দটিতে 'মালুম' আরবি শব্দ আর 'বে' ফারসি উপসর্গ।

• আরবি উপসর্গ ৪টি। যথা:
- আম্‌: সাধারণ অর্থে - আমদরবার, আমমোক্তার।
- খাস: বিশেষ অর্থে - খাসমহল, খাসখবর।
- লা: না অর্থে - লাজওয়াব, লাখেরাজ।
- গর : অভাব অর্থে - গরমিল, গররাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৪৩.
নিচের কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেনি?
  1. একত্রিত
  2. অধীনস্থ
  3. করিতকর্মী
  4. ঘূর্ণায়মান
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণায়মান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণায়মান
ব্যাখ্যা

• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

• অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
একত্রিত - একত্র;
অধীনস্থ - অধীন;
করিতকর্মী - করিতকর্মা;
গণ্যনীয় - গণনীয়;
জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
পুজ্য - পূজ্য;
বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৪.
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ -
  1. ল্ক
  2. ন্ধ
  3. ল্প
  4. শ্চ
সঠিক উত্তর:
ন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্ধ
ব্যাখ্যা

• ন্ধ - অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ।

যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- জ, ব্দ, ম্ফ, ল্ক, ল্গ, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ্চ, ষ্ট ইত্যাদি।

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ (দ+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্+ধ), ভ্র (ভ্+র), ষ্ণ (ষ্‌ + ণ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।

৪৫.
'কারক বিশ্লেষণ' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. বাক্যতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. রূপতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• 'কারক বিশ্লেষণ' — ব্যাকরণের বাক্যতত্ত্ব অংশের আলোচ্য বিষয়।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
তাছাড়া,
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।

৪৬.
"সেমিকোলন" - এর ক্ষেত্রে কতটুকু সময় থামতে হয়?
  1. 'এক' বলতে যে সময় প্রয়োজন
  2. এক সেকেন্ড
  3. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  4. থামার প্রয়োজন নেই
সঠিক উত্তর:
এক বলার দ্বিগুণ সময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক বলার দ্বিগুণ সময়
ব্যাখ্যা

 • ‘সেমিকোলন’:
 ‘সেমিকোলন’ এর বাংলা অর্থ- অর্ধচ্ছেদ।
- এর থামার বা বিরামের সময় - এক বলার দ্বিগুণ সময়।

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ -
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে --
- 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে --
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্রাকেট থাকলে-- 
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে --
- এক সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম-১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।