পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন২৪
সিলেবাস
বিষয় - বাংলা সাহিত্য টপিক - বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের লেখকগণ [গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের জীবনী, সাহিত্য-কর্ম, অবদান, স্বীকৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে হবে। অন্যান্য লেখকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে পড়লেই হবে।] ১. গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নীলিমা ইব্রাহিম, প্রমথ চৌধুরী, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মীর মশাররফ হোসেন, মুনীর চৌধুরী। ২. অন্যান্য লেখকগণ: গোবিন্দচন্দ্র দাস, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড, নওয়াব ফয়জুন্নেসা, নবীনচন্দ্র সেন, নির্মলেন্দু গুণ, নুরুল মোমেন, প্রেমেন্দ্র মিত্র, প্যারীচাঁদ মিত্র, ফররুখ আহমদ, বদরুদ্দীন ওমর, বন্দে আলী মিয়া, বিজন ভট্টাচার্য, বিষ্ণু দে, মনোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ, মামুনুর রশিদ, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ নজিবর রহমান, মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ২৪ প্রশ্ন

.
'আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. নবীনচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

‘শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থ:
• ‘শ্যামলী' (১৯৩৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
• এ গ্রন্থের নাম দেয়া হয়েছে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের মাটির ঘরের নামে। এটি মোট বাইশটি কবিতার সংকলন। 
• এগুলো গদ্যকবিতার বিশেষ উদাহরণ। ‘পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থের সঙ্গে এর মিল আছে।
• ‘আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ', ‘বাঁশিওয়ালা’, ‘হঠাৎ দেখা' প্রভৃতি পরিচিতি পক্তি বা কবিতাগুলি এ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।
• রবীন্দ্রনাথের-কাব্যজীবনের শেষ পর্বের নিরলঙ্কারী ভাষা, উদাসীনতা ও জীবনের প্রতি আসক্তির বিরোধী অনুভূতি ‘শ্যামলী' কাব্যের বৈশিষ্ট্য।

---------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি নামে পরিচিত-
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. গােবিন্দচন্দ্র দাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবতী
  4. মুকুন্দ দাস
সঠিক উত্তর:
গােবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গােবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি হচ্ছেন- গােবিন্দচন্দ্র দাস। 

• গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর কবিতায় পূর্ববঙ্গের প্রাকৃতিক শোভা, বস্ত্তনিষ্ঠতা এবং গভীর পত্নিপ্রেম ফুটে উঠেছে। 
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন। কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।
 
 • তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস (১৯১০) ইত্যাদি।

এছাড়াও তিনি অ্যালেন হিউমের অ্যায়োত্রক কবিতা এবং ভগবদ্গীতার কাব্যানুবাদ করেন।


- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ তাকে 'কবিকঙ্কণ' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। 
- চারণকবি ছিলেন - মুকুন্দ দাশ।
উল্লেখ্য, 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'আমআঁটির ভেঁপু' পর্বটি কোন উপন্যাসে রয়েছে?
  1. চাঁদের পাহাড়
  2. ইছামতী
  3. পথের পাঁচালী
  4. আরণ্যক
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
ব্যাখ্যা
• পথের পাঁচালী:
- 'পথের পাঁচালী' (১৯২৯) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় বিচিত্রা পত্রিকায়।  গ্রন্থকারে প্রকাশিত হয় সজনীকান্ত দাসের রঞ্জন প্রকাশনালয়, কলকাতা থেকে।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।

• উপন্যাসের তিনটি ভাগ:
- বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।

- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।
- অপরাজিত (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- এছাড়াও 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
 
উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো: 
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।
 
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ হলো:
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত, 
- আরণ্যক, 
- আদর্শ হিন্দু হোটেল, 
- দেবযান, 
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ,  
- চাঁদের পাহাড়।  
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'প্রথমা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. ফররুখ আহমদ
  3. আহসান হাবীব
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি ছিলেন একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তিনি 'কল্লোল' পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- পরে মুরলীধর বসুর সহযোগিতায় 'কালিকলম' (১৯২৬) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- তাঁর মৃত্যু কলকাতায়, ৩ মে ১৯৮৮।
 
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথমা,
- সম্রাট,
- ফেরারী ফৌজ,
- সাগর থেকে ফেরা,
- হরিণ চিতা চিল,
- কখনো মেঘ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
 
.
মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত Bury The Dead নাটকের অনুসরণে মুনীর চৌধুরী কোন নাটকটি রচনা করেন?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. কবর
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. রূপার কৌটা
সঠিক উত্তর:
কবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবর
ব্যাখ্যা
• কবর নাটক:
- মুনীর চৌধুরী একাধারে একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সমালোচক ও বাগ্মী ছিলেন।
- তাঁর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত “কবর” একটি একাঙ্ক নাটক। 
- নাটকটি ১৯৫৩ সালে ঢাকা জেলে বসে তিনি রচনা করেন এবং রাজবন্দি দ্বারা অভিনীত হয়।
- পরবর্তীতে, ১৯৬৬ সালে নাটকটি প্রথম প্রকাশ করা হয়।
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw  রচিত Bury The Dead নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে “কবর” নাটকটি লেখা হয়েছে।
 
মুনীর চৌধুরী:
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক ছিলেন।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
 
- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।
 
মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দন্ডকারণ্য।
 
প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচন,  
- বাংলা গদ্যরীতি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
.
'মে দিবস' নামক নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. বিজন ভট্টাচার্য
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. মামুনুর রশীদ
  4. সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
• 'মে দিবস' নাটকের রচয়িতা - মামুনুর রশীদ।
- এটি ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়।
 
• মামুনুর রশীদ:
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান৷
 
• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
নবীনচন্দ্র সেন রচিত আত্মজীবনীর নাম-
  1. প্রভাস
  2. আত্মচরিত
  3. আমার জীবন
  4. জীবনস্মৃতি
সঠিক উত্তর:
আমার জীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার জীবন
ব্যাখ্যা
• 'আমার জীবন' নবীনচন্দ্র সেনের আত্মজীবনী। 
 
• নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি। ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন অবকাশরঞ্জিনী প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।
 
• নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ীকাব্য':
রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস নবীনচন্দ্রের কাব্যত্রয়ী এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ। এগুলির নায়ক  কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। নবীনচন্দ্রের এই তিনটি কাব্যও মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত। কাহিনির বিশালতা এবং বহুমুখী বৈচিত্র্যের কারণে গ্রন্থত্রয়ের কাব্যবন্ধন অনেকটা শিথিল ও দুর্বল।
 
• নবীনচন্দ্র সেনের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।
 
- তিনি ভগবদ্গীতা ও চণ্ডীর কাব্যানুবাদ করেন।

- তাঁর আত্মজীবনী আমার জীবন  গ্রন্থখানি উপন্যাসের মতো সুখপাঠ্য এবং সমকালীন সমাজ, রাজনীতি ও প্রশাসন সম্পর্কিত একটি প্রামাণ্য দলিল।

অন্যদিকে, 
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।
জীবনস্মৃতি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী গ্রন্থ।
• 'প্রভাস'- নবীনচন্দ্র সেনের একটি কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
নির্মলেন্দু গুণ রচিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. চিরকালের বাঁশি
  2. অন্তর্জাল
  3. ইসক্রা
  4. নেই কেন সেই পাখি
সঠিক উত্তর:
অন্তর্জাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তর্জাল
ব্যাখ্যা
• নির্মলেন্দু গুণ রচিত ছােটগল্প :
- আপনদলের মানুষ (১৯৭৬),
- অন্তর্জাল (২০০৫)।

• নির্মলেন্দু গুণ:
- তিনি ১৯৪৫ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পূর্ণ নাম নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী। তাঁর ডাক নাম 'রতন' এবং প্রিয়জনেরা তাকে 'রতু' বলে ডাকেন।
- তাকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়। 
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন।
 
• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই, 
- না প্রেমিক না বিপ্লবী, 
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী, 
- ও বন্ধু আমার, 
- নেই কেন সেই পাখি, 
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র, 
- চাষাভূষার কাব্য, 
- পৃথিবীজোড়া গান,
- চিরকালের বাঁশি, 
- ইসক্রা, 
- দূর হ দুঃশাসন।
- দুঃখ করো না, বাঁচো,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- মুজিব- লেনিন -ইন্দিরা ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- আপনদলের মানুষ,
- অন্তর্জাল।
 
• তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।
 
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'সাত ভাই চম্পা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• 'সাত ভাই চম্পা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- বিষ্ণু দে। 
- কাব্যটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়। 
--------------- 
বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
 
তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
 
১০.
বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. নবান্ন
  2. অবরোধ
  3. যেমন ইচ্ছা তেমন
  4. গোত্রান্তর
সঠিক উত্তর:
যেমন ইচ্ছা তেমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেমন ইচ্ছা তেমন
ব্যাখ্যা
• 'যেমন ইচ্ছা তেমন' - নুরুল মোমেন রচিত নাটক। 

• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। 
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
- তাঁর রচিত নাটকের উপজীব্য সমাজের নিচের তলার মানুষের জীবনচিত্র।

• তাঁর রচিত নাটক: 
- নবান্ন, 
- জনপদ, 
- কলঙ্ক, 
- মরাচাঁদ, 
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উল্লেখ্য,
'গোত্রান্তর'- ছোটগল্পের লেখক সুবোধ ঘোষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১.
'শরৎ প্রতিভা' গবেষণা প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর আত্মজীবিনীমূলক গ্রন্থ: 'বিন্দু বিসর্গ'।
 
• তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধ-গবেষণা: 
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।
 
• তাঁর নাটক: 
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা একাডেমি প্রকাশিত কোন অভিধানের প্রধান সম্পাদক ছিলেন?
  1. সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান
  2. সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান
  3. আঞ্চলিক ভাষার অভিধান
  4. বাংলা একাডেমী ছোটদের অভিধান
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক ভাষার অভিধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক ভাষার অভিধান
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলা একাডেমি প্রকাশিত 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন। 
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদনায় ১৯৬৫ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের সংকলন-জাতীয় গ্রন্থ এটিই প্রথম।
---------------- 
- ১৯৫৫ সালে ঢাকায় বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশে অভিধান চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ হয়।
- অভিধান ও শব্দকোষ মিলে ২০০৯ সাল নাগাদ বাংলা একাডেমী প্রায় সত্তরটি অভিধান প্রকাশ করে। 
 
এসব অভিধানের মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অভিধানের নাম:
- আঞ্চলিক ভাষার অভিধান — মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, 
- চরিতাভিধান — শামসুজ্জামান খান প্রমুখ,
- উচ্চারণ অভিধান — নরেন বিশ্বাস,
- সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান — আহমদ শরীফ,
- সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান, দু-খণ্ড — আবু ইসহাক, ১৯৯৩ ও ১৯৯৮),
- বানান অভিধান — জামিল চৌধুরী,
- লেখক অভিধান — আশফাক-উল-আলম প্রমুখ,
- মধ্যযুগের বাংলা ভাষার অভিধান — মোহাম্মদ আবদুল কাইউম প্রভৃতি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
১৩.
নুরুল মোমেন রচিত এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক-
  1. রূপলেখা
  2. নেমেসিস
  3. আলোছায়া
  4. নরসুন্দর
সঠিক উত্তর:
নেমেসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেমেসিস
ব্যাখ্যা
'নেমেসিস' নাটক: 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এক চরিত্র বিশিষ্ট এমন নাটক বাংলা সাহিত্যে কম বলে ‘নেমেসিস’ উল্লেখযোগ্য।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- সুরজিত নন্দী। 
- অদৃশ্য চরিত্র হিসেবে আছে নৃপেন বোস, তার কন্যা সুলতা, ম্যানেজার অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব প্রমুখ।
 
নুরুল মোমেন: 
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক ‘রূপান্তর’ ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'। ১৯৪৮ সালে ‘বহুরূপা’ নামক রম্যরচনাটি প্রকাশিত হয়।
 
নুরুল মোমেন রচিত রম্যগ্রন্থ হলো:
- নরসুন্দর,
- হিংটিং ছট (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)।
 
নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে, 
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন।
 
উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
কোন পত্রিকাকে কেন্দ্র বাংলা গদ্যে চলিত রীতি প্রতিষ্ঠা লাভ করে?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. কল্লোল
  3. সবুজপত্র
  4. প্রগতি
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
সবুজপত্র পত্রিকা:
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে। 
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। 

প্রমথ চোধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫.
বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. মধুমতীর চর
  2. পদ্মানদীর চর
  3. ময়নামতির চর
  4. চরের জীবন
সঠিক উত্তর:
চরের জীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চরের জীবন
ব্যাখ্যা
• চরের জীবন - সিজাজুল হক ভুঞা রচিত একটি কবিতা। 

• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালে পাবনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন। 
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর নাম: কিশোর পরাগ, শিশুবার্ষিকী, জ্ঞানের আলো। 
 
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতির চর,  
- অনুরাগ, 
- পদ্মানদীর চর, 
- মধুমতীর চর, 
- ধরিত্রী। 
 
তাঁর রচিত শিশুতােষ গ্রন্থ:
- চোর জামাই,
- মৃগপরী, 
- ডাইনী বউ, 
- রূপকথা, 
- কুঁচবরণ কন্যা।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,  
- শেষ লগ্ন, 
- অরণ্য গোধূলি, 
- নীড়ভ্রষ্ট। 
 
তাঁর রচিত নাটক: 
- মসনদ। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
১৬.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ উপন্যাস কোনটি?
  1. আরণ্যক
  2. ইছামতী
  3. পথের পাঁচালী
  4. অশনি সংকেত
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ উপন্যাস: পথের পাঁচালী। 
---------------------- 
• পথের পাঁচালী:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।
- 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো- 
- অপু, দুর্গা, ইন্দির ঠাকরুন, সর্বজয়া।
---------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
 
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ হলো:
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত, 
- আরণ্যক, 
- আদর্শ হিন্দু হোটেল, 
- দেবযান, 
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ,  
- চাঁদের পাহাড়।  
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
 
১৭.
স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন কাব্যটি রচনা করেছেন?
  1. স্মরণ
  2. উৎসর্গ
  3. পূরবী
  4. আকাশ প্রদীপ
সঠিক উত্তর:
স্মরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্মরণ
ব্যাখ্যা
• 'স্মরণ' কাব্যগ্রন্থ ও কবিপত্নী মৃণানিনী দেবী:
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে ভবতারিণী দেবীর বিয়ে হয় ১৮৮৩ সালে।
- কবি পরবর্তীতে তার নাম পাল্টে রাখেন মৃণালিনী দেবী। কবিপত্নী মৃণালিনী দেবীর মৃত্যু হয় - ১৯০২ সালে; তখন কবির বয়স মাত্র ৪১ বছর।
- কবিপত্নীর মৃত্যুর কিছু দিনের মধ্যেই 'স্মরণ' কাব্যগ্রন্থের কবিতা সমূহ রচনা করেন।
- এই কাব্যগ্রন্থটি গ্রন্থাকারে পরবর্তীতে ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'স্মরণ' প্রকাশিত হয় ১৯০৩ সালে।
 
• "স্মরণ" কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা: 
- আজি প্রভাতেও শ্রান্ত নয়নে
- আজিকে তুমি ঘুমাও, আমি জাগিয়া রব দুয়ারে
- আপনার মাঝে আমি করি অনুভব
- আমার ঘরেতে আর নাই সে যে নাই
- এ সংসারে একদিন নববধূবেশে
- ঘরে যবে ছিলে মোরে ডেকেছিলে ঘরে
- সে যখন বেঁচে ছিল গো ইত্যাদি।
 
• কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোর নাম থেকেই কবিপত্নী বিয়োগে কবির মনের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

• রবীন্দ্রনাথ কর্তৃক উৎসর্গকৃত গ্রন্থ: 
- আর্জেন্টিনার নারীকবি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'পূরবী কাব্য' গ্রন্থটি উৎসর্গ করেন। 
- আকাশ প্রদীপ ও বলাকা কাব্যদ্বয় যথাক্রমে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত এবং উইলিয়াম পিয়ারসন কে উৎসর্গ করেন।
- ৪৬টি কবিতার সংকলন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'উৎসর্গ' কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও  'স্মরণ' কাব্য।
১৮.
'সুখ' নামে বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ করেছেন কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. বদরুদ্দীন ওমর
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৯.
প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. রামারঞ্জিকা
  2. বামাতোষিণী
  3. The Zamindar and Royats
  4. বেনামী বন্দর
সঠিক উত্তর:
বেনামী বন্দর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেনামী বন্দর
ব্যাখ্যা
• রামারঞ্জিকা, বামাতোষিণী, The Zamindar and Royats- প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত গ্রন্থ। 
অন্যদিকে, 
বেনামী বন্দর- প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ। 

• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- 'আলালের ঘরে দুলাল' প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে: 
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় (১৮৫৯),
- রামারঞ্জিকা (১৮৬০),
- কৃষিপাঠ (১৮৬১),
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত (১৮৭৮) এবং
- বামাতোষিণী (১৮৮১)।

• The Zamindar and Royats প্রবন্ধের রচয়িতা টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে খ্যাত প্যারীচাঁদ মিত্র।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমালোচনা করে তিনি এই প্রবন্ধটি রচনা করেন।

• ইংরেজি গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
- A Biographical Sketch of David Hare (১৮৭৭),
- The Spiritual Stray Leaves (১৮৭৯),
- Stray Thought of Spiritualism (১৮৭৯),
- Life of Dewan Ramkamal Sen (১৮৮০) এবং
- Life of Coles Worthy Grant (১৮৮১)।

• তাঁর উপন্যাস সমূহ:
- আলালের ঘরে দুলাল,
- আধ্যাত্নিকা,
- অভেদী।

• তাঁর একমাত্র প্রহসন:
- মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০.
ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. History of Bengali Language
  2. A Code of Gentoo Laws
  3. Vocabulario
  4. The Development of Bengali Language
সঠিক উত্তর:
A Code of Gentoo Laws
উত্তর
সঠিক উত্তর:
A Code of Gentoo Laws
ব্যাখ্যা
• ওয়ারেন হেস্টিংসের অনুরোধে ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচনা করেন 'A Code of Gento Laws'।

•মার্সেল প্রুস্টের 'ইন সার্চ অব লস্ট টাইম' 'A Code of Gento Laws': 
- ওয়ারেন হেস্টিংসের অনুরোধে ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচনা করেন 'A Code of Gento Laws' or Ordinations of the Pundits।
- গ্রন্থটি ১৭৭৬ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি মূলত হিন্দু আইনশাস্ত্রের একটি সারসংকলন, যা এগারোজন ব্রাহ্মণ পন্ডিত সংস্কৃত ভাষায় সংকলন করেন।
- পরে একজন মুন্সি এটি প্রথমে ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেন
- সেখান থেকে হ্যালহেড ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।
-------------------------
ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড (১৭৫১-১৮৩০):
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক।
- তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা  ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও  বাংলা লিপি ব্যবহার করেন।
- এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও  অভিধান রচনার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত  A Grammar of the Bengal Language গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়। 
- ওয়ারেন হেস্টিংসের অনুরোধে হ্যালহেড এটি রচনা করেন।
- ১৭৪৩ সালে লিসবন শহর থেকে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটি মূলত এদেশে  খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সুবিধার জন্যই সংকলিত হয়েছিল।

• কয়েকটি ব্যাকরণ গ্রন্থ: 
Manuel da Assumpção--- 'Vocabulario idioma em Bengalla e portuguez dividido em duas Partes' (১৭৪৩)
ব্রাসি হ্যালহেড --- ' A Grammar of the Bengal Language' (১৭৭৮)।
উইলিয়াম কেরি --- 'A Grammar of the Bengali Language' (১৮০১)
দীনেশচন্দ্র সেন - History of Bengali Language and Literature 
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় - Origin and Development of Bengali Language’ (ODBL)
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২১.
অনুবাদ সাহিত্য 'এলিয়টের কবিতা' এর রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. বিষ্ণু দে
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. বদরুদ্দীন ওমর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• 'এলিয়টের কবিতা' অনুবাদ করেন - বিষ্ণু দে। 
----------------- 
• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
 
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।
 
• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
২২.
পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ-দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. অবরোধ
  2. নবান্ন
  3. জনপদ
  4. মরাচাঁদ
সঠিক উত্তর:
নবান্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবান্ন
ব্যাখ্যা
• 'নবান্ন' নাটক:
- ‘নবান্ন’ হলো বিজন ভট্টাচার্যের লেখা একটি বাংলা নাটক।
- নাটকটি পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত। 
- বন্যা, দুর্ভিক্ষ ও মহামারীর পটভূমিকায় রচিত এই নাটকে দুঃস্থ-নিপীড়িত কৃষকজীবন প্রতিফলিত হয়েছে।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
 
• বিজন ভট্টাচার্য:
- বিজন ভট্টাচার্য নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন।
- ১৯০৬ সালে, ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
 
বিজন ভট্টাচার্য রচিত অন্যান্য নাটকগুলো হলো:
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩.
''উদয়ের পথে শুনি কার বাণী,
ভয় নাই, ওরে ভয় নাই। 
নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই, তার ক্ষয় নাই।'' - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ''উদয়ের পথে শুনি কার বাণী,
ভয় নাই, ওরে ভয় নাই। 
নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই, তার ক্ষয় নাই।'' - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
- কবিতাংশটুকু 'সুপ্রভাত' কবিতার অন্তর্গত।

সুপ্রভাত- কবিতা,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

রুদ্র , তোমার দারুণ দীপ্তি
এসেছে দুয়ার ভেদিয়া ;
বক্ষে বেজেছে বিদ্যুৎবাণ
স্বপ্নের জাল ছেদিয়া ।
-----
উদয়ের পথে শুনি কার বাণী ,
‘ ভয় নাই , ওরে ভয় নাই —
নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান
ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই । (সংক্ষেপিত) 

উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,'সুপ্রভাত' কবিতা। 
২৪.
''সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া-কারও মনোরঞ্জন করা নয়।'' - এই মত কে পেশ করেন?
  1. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ''সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া-কারও মনোরঞ্জন করা নয়।'' - প্রমথ চৌধুরী এই মত পেশ করেন।

• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।
----------------------
• প্রমথ চৌধুরীর বিখ্যাত কিছু উক্তি:
- সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।
- বাংলা ভাষা আহত হয়েছে সিলেটে আর নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে।
- সাহিত্য জাতির দর্পণ স্বরূপ।
- হীরক ও কাঁচ যমজ হলেও সহোদর নয়।
- সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া-কারও মনোরঞ্জন করা নয়।
- কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।
- সাহিত্যে মানবাত্মা খেলা করে এবং সেই খেলার আনন্দ উপভোগ করে।
- যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।
- জ্ঞানের প্রদীপ যেখানেই জ্বালো না কেন, তাহার আলোক চারিদিক ছড়াইয়া পড়িবে।
- যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।
- মনোজগতে বাতি জ্বালানোর জন্য সাহিত্যচর্চার বিশেষ প্রয়োজন।
- ইহা সত্যকে সুন্দর করে নাই, মিথ্যাকে সত্যের মুখোশ পরাইয়াছে।
- মন উঁচুতে উঠতে চায় নীচুতেও নামতে চায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।