পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ খাদ্য ও পুষ্টি [৬৬১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ খাদ্য ও পুষ্টি [৬৬১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়01 hr 30 mins
মোট প্রশ্ন১১৬
সিলেবাস
Full Model Test - 2
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ খাদ্য ও পুষ্টি [৬৬১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ খাদ্য ও পুষ্টি [৬৬১] · তারিখ অনির্ধারিত · ১১৬ প্রশ্ন

.
The famous novel, The Bluest Eye, is written by -
  1. American author
  2. Irish author
  3. French author
  4. Russian author
সঠিক উত্তর:
American author
উত্তর
সঠিক উত্তর:
American author
ব্যাখ্যা

The famous novel, The Bluest Eye, is written by - American author.

• The Bluest Eye:

- এটি Toni Morrison রচিত।
- এটি একটি novel.
- এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

• Toni Morrison ছিলেন একজন আমেরিকান Novelist, essayist এবং Editor.
- তাছাড়া তিনি Princeton University এর প্রফেসর ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম গুলো -
- Beloved,
- Song of Solomon,
- The Bluest Eye.

Source: Britannica.

.
বাংলাদেশে সাংবিধানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয় কত সালে?
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৫ সালে
  4. ১৯৯৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার:
- বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশের একপ্রকারের শাসন ব্যবস্থা, যার অধীনে দুইটি নির্বাচিত সরকারের মধ্যবর্তী সময়কালে সাময়িকভাবে অনির্বাচিত ব্যক্তিবর্গ কোন দেশের শাসনভার গ্রহণ করে থাকে।
- বিএনপি সরকারের পদত্যাগের পর ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানে যোগ হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে সাংবিধানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়।
- বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ছিলেন সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।
- উপদেষ্টা পরিষদের বাকিরা হলেন: ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, অধ্যাপক মো. শামসুল হক, অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, শেগুফতা বখত চৌধুরী, এ জেড এম নাছিরুদ্দিন, সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, অধ্যাপক নাজমা চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রহমান খান।
- এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার মোট ৮৬ দিন ক্ষমতায় ছিল। এই সরকার ১৯৯৬ সালের ১২ জুন জাতীয় সংসদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন।
- অবশেষে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন প্রথম সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৯০ সালে সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের পর জাতীয় নির্বাচন আয়োজন পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের জন্য গঠন করা হয়েছিল নির্দলীয় প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
- প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে ঐ সরকার গঠিত হয়েছিল।

এছাড়াও,
- ৩০ জুন, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা' বাতিল করা হয়।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোন দেশ সহায়তা করবে?
  1. চীন
  2. জাপান
  3. নেদারল্যান্ডস
  4. ইন্দোনেশিয়া
সঠিক উত্তর:
চীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চীন
ব্যাখ্যা

তিস্তা মহাপরিকল্পনা:
- তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে চীন।

⇒ তিস্তা প্রকল্পের প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৭৫ কোটি ডলার। এর মধ্যে চীন থেকে ঋণ চাওয়া হয়েছে ৫৫ কোটি ডলার। বাকিটা করা হবে সরকারি অর্থায়নে।
- চীনের রাস্ট্রদূত জানান, তিস্তা প্রকল্পের বিষয়টিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে তারা কাজ করছেন।
- চীনের বিশেষজ্ঞ দল তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাবনা যাচাই শেষে অক্টোবর, ২০২৫-এর মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনার ডিজাইন চূড়ান্ত হবে।
- ২০২৬ সালে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করে ২০২৯ সালে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- মহাপরিকল্পনায় তিস্তা নদীর ডান-বাম উভয় তীর ঘেঁষে ২২০ কিলোমিটার উঁচু গাইড বাঁধ, রিভার ড্রাইভ, হোটেল-মোটেল-রেস্তোরাঁ, পর্যটন কেন্দ্র, ১৫০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুতকেন্দ্র, শিল্প-কারখানা, ইপিজেড, ইকোনমিক জোন, কয়েক লাখ হেক্টর কৃষি জমি উদ্ধার, বনায়ন ইত্যাদি রয়েছে।
- এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তিস্তা পাড় হয়ে উঠবে পূর্ব চীনের জিয়াংসু প্রদেশের সুকিয়ান সিটির মতো সুন্দর নগরী।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) দৈনিক ইনকিলাব।

.
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ড্রাগন ফল উৎপাদনে বর্তমানে শীর্ষ জেলা কোনটি? [সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. ঝিনাইদহ
  2. কুষ্টিয়া
  3. রাজশাহী
  4. যশোর
সঠিক উত্তর:
ঝিনাইদহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝিনাইদহ
ব্যাখ্যা

ড্রাগন ফল উৎপাদন:
- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ড্রাগন উৎপাদনের শীর্ষে আছে ঝিনাইদহ জেলা।
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন হয় ৩২ হাজার ৭৬৮ মেট্রিক টন ড্রাগন।

• উৎপাদনের ২য় স্থানে রয়েছে যশোর। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন হয় ১২ হাজার ৫৫৩ মেট্রিক টন ড্রাগন। আর তৃতীয় শীর্ষ জেলা রাজশাহীতে উৎপাদন হয় ৪ হাজার ৪৭৭ মেট্রিক টন ড্রাগন।

⇒ ড্রাগন ফল মূলত আমেরিকার প্রসিদ্ধ একটি ফল যা বর্তমানে আমাদের দেশেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ২০০৭ সালে থাইল্যান্ড, ফ্লোরিডা ও ভিয়েতনাম থেকে এই ফলের বিভিন্ন জাত আনা হয়। ড্রাগন ফলের গাছ এক ধরনের ক্যাকটাস জাতীয় গাছ। এই গাছের কোন পাতা নেই। ড্রাগন ফলের গাছ সাধারনত ১.৫ থেকে ২.৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে।

⇒ বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সিটিউট (বারি) কতৃক উদ্ভাবিত ড্রগন ফলের নতুন জাতটি হলো বারি ড্রাগন ফল-১ যা দক্ষিণ -পূর্ব এশিয়াতে জনপ্রিয় ফল। এ ফলের আকার বড়, পাকলে খোসার রং লাল হয়ে যায় ,শাঁস গাঢ় গোলাপী রঙের, লাল ও সাদা এবং রসালো প্রকৃতির । ফলের বীজগুলো ছোট ছোট কালো ও নরম । একটি ফলের ওজন ১৫০ গ্রাম থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) কৃষি বাতায়ন।

.
ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা OIC এর বর্তমান সদস্য দেশ কয়টি? (অক্টোবর, ২০২৫)
  1. ৫৬টি
  2. ৫৭টি
  3. ৫৮টি
  4. ৫৯টি
সঠিক উত্তর:
৫৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫৭টি
ব্যাখ্যা

OIC:
- ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা OIC.
- OIC এর পূর্ণরূপ The Organisation of Islamic Cooperation.
- ইসরাইল কর্তৃক আল আকসা মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে OIC গঠিত হয়।
- এটি মুসলিম দেশগুলোর একটি রাজনৈতিক জোট যা রাবাত সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠার স্থান: মরক্কো।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯ সালে।
- সদর দপ্তর: জেদ্দা, সৌদি আরব।
- বর্তমান মহাসচিব: হুসাইন ইব্রাহিম তাহা (১২ তম)। (অক্টোবর, ২০২৫)
- মহাসচিবের মেয়াদ: ৫ বছর।
- অফিসিয়াল ভাষা: তিনটি (আরবি, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ)।
- বর্তমান সদস্য: ৫৭টি। (অক্টোবর, ২০২৫)

⇒ দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের দুটি দেশ OIC এর সদস্য।
• গায়ানা ও
• সুরিনাম।

- ইউরোপ মহাদেশের আলবেনিয়া OIC এর সদস্য।
- বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত OIC এর দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে সর্বপ্রথম অংশগ্রহণ করে।

তথ্যসূত্র - OIC অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

.
কার্টাগেনা প্রটোকল কার্যকর হয় কবে?
  1. ২০০১ সাল
  2. ২০০২ সাল
  3. ২০০৩ সাল
  4. ২০০৪ সাল
সঠিক উত্তর:
২০০৩ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৩ সাল
ব্যাখ্যা

কার্টাগেনা প্রটোকল (Cartagena Protocol):
- কার্টাগেনা প্রোটকলের পূর্ণনাম - The Cartagena Protocol on Biosafety to the Convention on Biological Diversity.
- কার্টাগেনা প্রটোকল জৈব-নিরাপত্তা বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- এই চুক্তিটি কলম্বিয়ার কার্টাগেনাতে আলোচিত হয়।
- চুক্তি অনুমোদন - ২৯ জানুয়ারি, ২০০০ সাল।
- চুক্তি কার্যকর - ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ সাল।

তথ্যসূত্র - কনভেনশন অন বায়ো-ডাইভার্সিটি (CBD) ওয়েবসাইট।

.
পশ্চিম এশীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন কোনটি?
  1. ESCWA
  2. ESCAP
  3. ECLAC
  4. ECE
সঠিক উত্তর:
ESCWA
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ESCWA
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ:
- জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (ECOSOC) এর অধীন ৫টি আঞ্চলিক কমিশন রয়েছে।

⇒ এগুলো হলো:
- এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (ESCAP),
- পশ্চিম এশীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (ESCWA),
- ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অর্থনৈতিক কমিশন (ECLAC),
- ইউরোপিয়ান অর্থনৈতিক কমিশন (ECE),
- আফ্রিকান অর্থনৈতিক কমিশন (ECA).

তথ্যসূত্র - UN ওয়েবসাইট।

.
ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে চালানো সামরিক অভিযানের নাম কী? (অক্টোবর, ২০২৫)
  1. অপারেশন রাইজিং লায়ন
  2. অপারেশন ডেইজ অফ রিপেন্টেন্স
  3. অপারেশন নাইট ফ্যাল
  4. অপারেশন ডার্ক হরাইজন
সঠিক উত্তর:
অপারেশন রাইজিং লায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপারেশন রাইজিং লায়ন
ব্যাখ্যা

‘অপারেশন রাইজিং লায়ন':
- ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে চালানো সামরিক অভিযানটির নাম 'অপারেশন রাইজিং লায়ন'।
- 'রাইজিং লায়ন' নামটি বাইবেলের একটি অনুচ্ছেদে সিংহের প্রতীকী পরাক্রমকে তুলে ধরে, ইসরায়েলের যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।
- ১৩ জুন ২০২৫-এর ভোরে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ যৌথভাবে 'অপারেশন রাইজিং লায়ন' পরিচালনা করে।
- ইসরায়েল প্রথমে 'ড্রোন' দ্বারা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করা, এরপর প্রধান পারমাণবিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা করে।

উল্লেখ্য:
- এই হামলার জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালায়।
- এই হামলার নাম দেয়া হয় 'অপারেশন টু প্রমিজ থ্রি’।
- ইরান পাল্টা জবাবে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ে।

তথ্যসূত্র - পত্রিকার রিপোর্ট।

.
IUCN-এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. জেনেভা, সুইজারল্যান্ড
  2. বার্ন, সুইজারল্যান্ড
  3. গ্লান্ড, সুইজারল্যান্ড
  4. জুরিখ, সুইজারল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
গ্লান্ড, সুইজারল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লান্ড, সুইজারল্যান্ড
ব্যাখ্যা

IUCN:
- বিশ্ব জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণবাদী সংস্থা (IUCN)।
- IUCN এর পূর্ণরূপ - International Union for the Conservation of Nature.
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৪৮ সালে।
- সদর দপ্তর: গ্লান্ড, সুইজারল্যান্ড।
- এটি নিয়ে বিশ্বের ১৭০ টির অধিক দেশ কাজ করছে।
- উদ্দেশ্য: বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা।

তথ্যসূত্র - IUCN অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

১০.
IMF এর বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে? (অক্টোবর, ২০২৫)
  1. ক্রিস্টিন লাগার্দে
  2. ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা
  3. রড্রিগো ডে রাতো
  4. মিশেল ক্যামডেসসুস
সঠিক উত্তর:
ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা
ব্যাখ্যা

IMF:
- IMF এর পূর্ণরূপ The International Monetary Fund.
- এটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৪৪ সাল।
- সদর দপ্তর: ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: ৪৪টি।
- বর্তমান সদস্য: ১৯১টি। (অক্টোবর, ২০২৫)
- সর্বশেষ সদস্য: লিচেনস্টাইন। (অক্টোবর, ২০২৫)
- বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক: ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। (অক্টোবর, ২০২৫)
- বাংলাদেশ সদস্যপদ লাভ করে: ১৯৭২ সালে।

তথ্যসূত্র - IMF অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

১১.
P হচ্ছে Q এর পিতা কিন্তু Q, P এর ছেলে নয়। তাদের সম্পর্কটা কোন ধরনের?
  1. পিতা-মাতা
  2. ভাই-বোন
  3. মেয়ে-পিতা
  4. ছেলে-মেয়ে
সঠিক উত্তর:
মেয়ে-পিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেয়ে-পিতা
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: P হচ্ছে Q এর পিতা কিন্তু Q, P এর ছেলে নয়। তাদের সম্পর্কটা কোন ধরনের?

সমাধান:
যেহেতু, P হচ্ছে Q এর পিতা কিন্তু Q, P এর ছেলে নয় সুতরাং Q হলো মেয়ে এবং P হচ্ছে পিতা।

সুতরাং, তাদের সম্পর্কটা মেয়ে-পিতা।

১২.
নিচের চিত্রে কয়টি ত্রিভুজ আছে?

  1. ১২টি
  2. ১৬টি
  3. ১৫টি
  4. ১৭টি
সঠিক উত্তর:
১৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭টি
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: নিচের চিত্রে কয়টি ত্রিভুজ আছে?

সমাধান:

একটি করে ফাঁকা ঘর নিয়ে ত্রিভুজ আছে - 1, 2, 3, 4, 5, 6, 7, 8 = ৮ টি
দুইটি করে ফাঁকা ঘর নিয়ে ত্রিভুজ আছে - 12, 34, 56, 78, 67, 58 = ৬ টি
চারটি করে ফাঁকা ঘর নিয়ে ত্রিভুজ আছে - 1267, 3456 = ২টি
সবগুলো ফাঁকা ঘর নিয়ে ত্রিভুজ আছে - 12345678 = ১ টি

সুতরাং, মোট ত্রিভুজ আছে = ৮ + ৬ + ২ + ১ = ১৭ টি

১৩.
একটি পানি ভর্তি বালতির ওজন ১৪ কেজি। বালতিটি অর্ধেক পানি পূর্ণ থাকলে তার ওজন হয় ৮ কেজি। খালি বালতির ওজন কত?
  1. ৩ কেজি
  2. ২.৫ কেজি
  3. ৪ কেজি
  4. ২ কেজি
সঠিক উত্তর:
২ কেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ কেজি
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি পানি ভর্তি বালতির ওজন ১৪ কেজি। বালতিটি অর্ধেক পানি পূর্ণ থাকলে তার ওজন হয় ৮ কেজি। খালি বালতির ওজন কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
পানি ভর্তি বালতির ওজন = ১৪ কেজি
অর্ধেক পানি ভর্তি বালতির ওজন = ৮ কেজি

​অর্ধেক বালতি পানির ওজন = (১৪ - ৮) কেজি = ৬ কেজি
∴ ​পূর্ণ বালতি পানির ওজন = (৬ × ২) কেজি = ১২ কেজি

​আবার,
​পূর্ণ বালতি পানির ওজন + খালি বালতির ওজন = ১৪ কেজি
⇒ ​খালি বালতির ওজন = ১৪ - ​পূর্ণ বালতি পানির ওজন
​⇒ ​খালি বালতির ওজন = ১৪ - ১২ = ২ কেজি

১৪.
যদি ORANGE = SVERKI হয় তবে GRAPES = ?
  1. UXGTMK
  2. KVETIW
  3. UGANDA
  4. KXFGDR
সঠিক উত্তর:
KVETIW
উত্তর
সঠিক উত্তর:
KVETIW
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি ORANGE = SVERKI হয় তবে GRAPES = ?

সমাধান:
​যদি ORANGE = SVERKI হয় তবে GRAPES = KVETIW

​ORANGE শব্দটির বর্ণগুলো থেকে 4 ধাপ এগিয়ে পাওয়া যায়,
O(15) + 4 → S(19)
​R(18) + 4 → V(22)
​A(1) + 4 → E(5)
​N(14) + 4 → R(18)
​G(7) + 4 → K(11)
​E(5) + 4 → I(9)

​অনুরূপভাবে,
GRAPES শব্দটির বর্ণগুলো থেকে 4 ধাপ এগিয়ে গেলে KVETIW শব্দটি পাওয়া যায়। অর্থাৎ,

​G(7) + 4 → K(11)
​R(18) +4 → V(24)
​A(1) + 4 → E(5)
​P(16) + 4 → T(20)
​E(5) + 4 → I(9)
​S(19) + 4 → W(23)

অর্থাৎ নির্ণেয় শব্দটি হবে KVETIW

১৫.
যদি 7 + 3 = 410, 3 + 2 = 15, 6 + 5 = 111 হয়, তবে 8 + 4 = ?
  1. 124
  2. 711
  3. 609
  4. 412
সঠিক উত্তর:
412
উত্তর
সঠিক উত্তর:
412
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি 7 + 3 = 410, 3 + 2 = 15, 6 + 5 = 111 হয়, তবে 8 + 4 = ?

সমাধান:
এখানে
7 + 3 = 410 ⇒ 7 - 3 = 4, 7 + 3 = 10
3 + 2 = 15 ⇒ 3 - 2 = 1, 3 + 2 = 5
6 + 5 = 111 ⇒ 6 - 5 = 1, 6 + 5 = 11

একইভাবে,
8 - 4 = 4, 8 + 4 = 12
সুতরাং, 8 + 4 = 412

১৬.
A দক্ষিণ দিকে মুখ করে ৪ কি. মি. হাঁটার পর বামদিকে ঘুরল এবং ৫ কি. মি. হাঁটল। আবার ডানদিকে ঘুরে ৮ কি. মি. হাঁটল। এখন যাত্রার স্থান থেকে সরাসরি দূরত্ব কত?
  1. ১৭ কি.মি.
  2. ২৫ কি.মি.
  3. ১৩ কি.মি.
  4. ১৬ কি.মি.
সঠিক উত্তর:
১৩ কি.মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩ কি.মি.
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: A দক্ষিণ দিকে মুখ করে ৪ কি. মি. হাঁটার পর বামদিকে ঘুরল এবং ৫ কি. মি. হাঁটল। আবার ডানদিকে ঘুরে ৮ কি. মি. হাঁটল। এখন যাত্রার স্থান থেকে সরাসরি দূরত্ব কত?

সমাধান:
প্রদত্ত তথ্যগুলোকে চিত্রের মাধ্যমে সাজিয়ে পাই,

এখন, উত্তর-দক্ষিণ দিকে- শুরুতে ৪ কি.মি. দক্ষিণ + পরে আরও ৮ কি.মি. দক্ষিণ = মোট ১২ কি.মি. দক্ষিণ
পূর্ব-পশ্চিম দিকে: শুধু পূর্ব দিকে ৫ কি.মি.

∴ সরাসরি দূরত্ব = √(১২ + ৫) = √(১৪৪ + ২৫)
= √১৬৯
= ১৩ কি.মি.

১৭.
(A) চিত্রটির আয়নায় প্রতিবিম্ব কেমন হবে?

  1. 1
  2. 2
  3. 3
  4. 4
সঠিক উত্তর:
2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: (A) চিত্রটির আয়নায় প্রতিবিম্ব কেমন হবে?

সমাধান:


সুতরাং, সঠিক উত্তর (2) নং

১৮.
Severe acute diarrhea রোগীর ক্ষেত্রে কেন শুধুমাত্র plain water দিয়ে rehydration বিপজ্জনক?
Why is plain water alone dangerous for rehydration in severe acute diarrhea?
  1. It increases gastric emptying (গ্যাস্ট্রিক খালি হওয়ার গতি বাড়ায়)
  2. It causes dilutional hyponatremia (ডিলিউশনাল হাইপোনাট্রেমিয়া সৃষ্টি করে)
  3. It increases stool frequency (স্টুলের পরিমাণ বাড়ায়)
  4. It delays intestinal healing (আন্ত্রিক সুস্থতা দেরি করে)
সঠিক উত্তর:
It causes dilutional hyponatremia (ডিলিউশনাল হাইপোনাট্রেমিয়া সৃষ্টি করে)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
It causes dilutional hyponatremia (ডিলিউশনাল হাইপোনাট্রেমিয়া সৃষ্টি করে)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর:
b) এটি ডাইলুশনাল হাইপোন্যাট্রেমিয়া (dilutional hyponatremia) ঘটায়।

কেন এটি সঠিক:
তীব্র ডায়রিয়ার কারণে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে জল এবং Electrolytes (যেমন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম) বেরিয়ে যায়। যদি শুধু সাধারণ জল দিয়ে rehydration করানো হয়, তাহলে দেহের জলীয় ভারসাম্য কিছুটা ফিরলেও, গুরুত্বপূর্ণ Electrolytes বিশেষত সোডিয়ামের ঘাটতি পূরণ হয় না। এর ফলে রক্তে সোডিয়ামের ঘনত্ব মারাত্মকভাবে কমে যায়। এই অবস্থাকে ডাইলুশনাল হাইপোন্যাট্রেমিয়া বলা হয়, যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলে এবং খিঁচুনি (seizures) এমনকি কোমা পর্যন্ত হতে পারে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) এটি গ্যাস্ট্রিক এম্প্টিং বাড়ায়: সাধারণ জল শোষণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে, কিন্তু এটি rehydration-এর প্রধান বিপদ নয়। এটি গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হয় না।
c) এটি মলের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ায়: শুধুমাত্র জল পান করলে মলের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ে না। মলের ফ্রিকোয়েন্সি মূলত সংক্রমণের ধরন এবং শরীরের প্রতিক্রিয়া উপর নির্ভর করে।
d) এটি অন্ত্রের নিরাময়কে বিলম্বিত করে: জল পান করার সঙ্গে অন্ত্রের নিরাময় প্রক্রিয়ার সরাসরি কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই। বরং, সঠিক rehydration অন্ত্রের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
Reference: WHO. Pocket Book of Hospital Care for Children, 2nd Ed. 2013.

১৯.
কোন ধরনের ডায়েট ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD) রোগীর জন্য সবচেয়ে উপযোগী?
 Which type of diet is most appropriate for patients with chronic kidney disease (CKD)?
  1. High-protein, low-carbohydrate diet (উচ্চ প্রোটিন, নিম্ন কার্বোহাইড্রেট ডায়েট)
  2. Low-protein, adequate energy diet  (কম প্রোটিন, পর্যাপ্ত ক্যালোরিযুক্ত ডায়েট)
  3. High-potassium diet(উচ্চ পটাশিয়ামযুক্ত ডায়েট)
  4. High-sodium diet(উচ্চ সোডিয়ামযুক্ত ডায়েট)
সঠিক উত্তর:
Low-protein, adequate energy diet  (কম প্রোটিন, পর্যাপ্ত ক্যালোরিযুক্ত ডায়েট)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Low-protein, adequate energy diet  (কম প্রোটিন, পর্যাপ্ত ক্যালোরিযুক্ত ডায়েট)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) Low-protein, adequate energy diet (কম প্রোটিন, পর্যাপ্ত ক্যালোরিযুক্ত ডায়েট)

কেন এটি সঠিক: ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD) আক্রান্ত রোগীদের কিডনির কার্যকারিতা কমে যায়। প্রোটিন হজমের পর নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ (যেমন ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন) তৈরি হয়, যা সুস্থ কিডনি শরীর থেকে বের করে দেয়। কিন্তু CKD রোগীর দুর্বল কিডনি এই বর্জ্য পদার্থগুলো সঠিকভাবে ছেঁকে বের করতে পারে না। ফলে, রক্তে এই বিষাক্ত পদার্থগুলো জমা হয়ে শরীরের ক্ষতি করে। তাই, প্রোটিনের পরিমাণ কমিয়ে দিলে কিডনির উপর চাপ কমে যায়।

তবে, শুধু প্রোটিন কমালেই হবে না, রোগীকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালোরি দিতে হবে যাতে শরীর নিজের প্রোটিন ভেঙে শক্তির চাহিদা পূরণ করতে বাধ্য না হয়। যদি শরীর নিজের প্রোটিন ভাঙা শুরু করে, তাহলে আরও বেশি বর্জ্য পদার্থ তৈরি হবে, যা কিডনির উপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে। তাই, কম প্রোটিন কিন্তু পর্যাপ্ত ক্যালোরিযুক্ত ডায়েট CKD রোগীর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) High-protein, low-carbohydrate diet (উচ্চ প্রোটিন, নিম্ন কার্বোহাইড্রেট): এই ধরনের ডায়েট কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে, কারণ এতে প্রোটিনের বর্জ্য পদার্থ অনেক বেশি তৈরি হবে, যা কিডনির পক্ষে বের করে দেওয়া কঠিন।
c) High-potassium diet (উচ্চ পটাশিয়াম): সুস্থ কিডনি অতিরিক্ত পটাশিয়াম শরীর থেকে বের করে দেয়। কিন্তু CKD রোগীর ক্ষেত্রে পটাশিয়াম শরীর থেকে বের হতে পারে না, ফলে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায় (হাইপারক্যালেমিয়া)। এটি হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক করে তোলে এবং মারাত্মক ক্ষেত্রে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণ হতে পারে।
d) High-sodium diet (উচ্চ সোডিয়াম): উচ্চ সোডিয়ামযুক্ত খাবার খেলে শরীরে তরল জমা হয় (Fluid retention), যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। উচ্চ রক্তচাপ CKD-এর একটি প্রধান কারণ এবং এটি কিডনির কার্যকারিতাকে আরও খারাপ করে তোলে

Reference:
Krause’s Food & the Nutrition Care Process, 15th Edition.
KDIGO Clinical Practice Guidelines for CKD, 2020.

২০.
ডায়াবেটিস মেলিটাস ব্যবস্থাপনায় কার্বোহাইড্রেট গণনার প্রধান উদ্দেশ্য কী?
 What is the main purpose of carbohydrate counting in diabetes mellitus management?
  1. To avoid weight gain (ওজন বৃদ্ধি এড়াতে)
  2. To reduce fat intake (চর্বি গ্রহণ কমাতে)
  3. To match insulin dose with carbohydrate intake (কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ অনুযায়ী ইনসুলিন ডোজ ঠিক করা)
  4. To increase protein intake (প্রোটিন গ্রহণ বাড়াতে)
সঠিক উত্তর:
To match insulin dose with carbohydrate intake (কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ অনুযায়ী ইনসুলিন ডোজ ঠিক করা)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
To match insulin dose with carbohydrate intake (কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ অনুযায়ী ইনসুলিন ডোজ ঠিক করা)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: c) কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ অনুযায়ী ইনসুলিন ডোজ ঠিক করা (To match insulin dose with carbohydrate intake)

কেন এটি সঠিক: ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে, কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে। ইনসুলিনের কাজ হলো এই শর্করাকে কোষে প্রবেশ করতে সাহায্য করা। ইনসুলিন থেরাপি নেওয়া রোগীদের জন্য, যদি তারা অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট খায় কিন্তু পর্যাপ্ত ইনসুলিন না নেয়, তাহলে রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাবে (হাইপারগ্লাইসেমিয়া)। আবার, যদি তারা কম কার্বোহাইড্রেট খায় কিন্তু বেশি ইনসুলিন নেয়, তাহলে রক্তে শর্করা বিপজ্জনকভাবে কমে যাবে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া)।

কার্বোহাইড্রেট কাউন্টিং এই ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই পদ্ধতিতে রোগী তার প্রতিটি খাবারে কত গ্রাম কার্বোহাইড্রেট আছে তা গণনা করে এবং একটি নির্দিষ্ট অনুপাত (insulin-to-carb ratio) ব্যবহার করে সেই অনুযায়ী সঠিক ইনসুলিনের ডোজ নেয়। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে এবং গ্লাইসেমিক নিয়ন্ত্রণ আরও ভালো হয়।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) ওজন বৃদ্ধি এড়াতে: কার্বোহাইড্রেট কাউন্টিং ওজন ব্যবস্থাপনার একটি পরোক্ষ অংশ হতে পারে, কিন্তু এর প্রধান উদ্দেশ্য ওজন কমানো বা বৃদ্ধি এড়ানো নয়। এর মূল লক্ষ্য হলো রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা।
b) চর্বি গ্রহণ কমাতে: এই পদ্ধতি সরাসরি চর্বি গ্রহণের পরিমাণ কমানোর জন্য ডিজাইন করা হয়নি। এর মূল ফোকাস হলো কার্বোহাইড্রেটের উপর।
d) প্রোটিন গ্রহণ বাড়াতে: কার্বোহাইড্রেট কাউন্টিং-এর সঙ্গে প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানোর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। এটি শুধুমাত্র কার্বোহাইড্রেট এবং ইনসুলিনের মধ্যে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে।

২১.
Hepatic encephalopathy রোগীর ক্ষেত্রে কোন ডায়েট উপযোগী? [Which diet is recommended in hepatic encephalopathy?]
  1. High animal protein diet (উচ্চ প্রাণীজ প্রোটিন ডায়েট)
  2. Low energy starvation diet (কম ক্যালোরি ক্ষুধার্ত ডায়েট)
  3. High fat ketogenic diet (উচ্চ চর্বি কিটোজেনিক ডায়েট)
  4. Vegetable protein and BCAA-rich diet (উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও BCAA সমৃদ্ধ ডায়েট)
সঠিক উত্তর:
Vegetable protein and BCAA-rich diet (উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও BCAA সমৃদ্ধ ডায়েট)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Vegetable protein and BCAA-rich diet (উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও BCAA সমৃদ্ধ ডায়েট)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: d) উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও BCAA সমৃদ্ধ ডায়েট (Vegetable protein and BCAA-rich diet)

কেন এটি সঠিক: হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি (Hepatic encephalopathy) হলো লিভারের গুরুতর রোগের একটি জটিলতা, যেখানে লিভার রক্ত থেকে অ্যামোনিয়ার মতো বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করতে পারে না। এর ফলে মস্তিষ্কে অ্যামোনিয়া জমা হয়ে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়।

উদ্ভিজ্জ প্রোটিন (Vegetable protein): মাংসের মতো প্রাণীজ প্রোটিনের তুলনায় উদ্ভিজ্জ প্রোটিন থেকে কম পরিমাণে অ্যামোনিয়া তৈরি হয়।
BCAA (Branched-Chain Amino Acids): এই বিশেষ অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো (লিউসিন, আইসোলিউসিন, ভ্যালাইন) মস্তিষ্কে অ্যামোনিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। এরা অ্যামোনিয়ার বিষক্রিয়া থেকে মস্তিষ্ককে রক্ষা করে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে।
তাই, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন এবং BCAA সমৃদ্ধ ডায়েট হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি রোগীদের জন্য সবচেয়ে উপকারী।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) উচ্চ প্রাণীজ প্রোটিন ডায়েট (High animal protein diet): প্রাণীজ প্রোটিন হজমের সময় প্রচুর পরিমাণে অ্যামোনিয়া তৈরি হয়। যেহেতু রোগীর লিভার এই অ্যামোনিয়া সঠিকভাবে অপসারণ করতে পারে না, তাই এটি মস্তিষ্কে জমা হয়ে হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথির লক্ষণগুলোকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
c) উচ্চ চর্বি কিটোজেনিক ডায়েট (High fat ketogenic diet): উচ্চ চর্বিযুক্ত ডায়েট লিভারের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং লিভারের কার্যকারিতাকে আরও খারাপ করতে পারে, যা এই রোগীর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
b) কম ক্যালোরি ক্ষুধার্ত ডায়েট (Low energy starvation diet): এই ধরনের ডায়েট শরীরের প্রোটিন ভেঙে শক্তির চাহিদা মেটাতে বাধ্য করে (catabolism)। এতে আরও বেশি অ্যামোনিয়া তৈরি হবে, যা রোগীর অবস্থাকে আরও খারাপ করবে।

Reference: ESPEN Guidelines on Liver Disease, 2020.

২২.
Diabetic nephropathy রোগীর জন্য কোন combination সবচেয়ে উপযোগী?
 Which combination is most appropriate for diabetic nephropathy patients?
  1. High protein + low sodium (উচ্চ প্রোটিন + কম সোডিয়াম)
  2. Low protein + controlled sodium (কম প্রোটিন + নিয়ন্ত্রিত সোডিয়াম)
  3. High potassium + high protein (উচ্চ পটাশিয়াম + উচ্চ প্রোটিন)
  4. High carbohydrate + high sodium (উচ্চ কার্বোহাইড্রেট + উচ্চ সোডিয়াম)
সঠিক উত্তর:
Low protein + controlled sodium (কম প্রোটিন + নিয়ন্ত্রিত সোডিয়াম)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Low protein + controlled sodium (কম প্রোটিন + নিয়ন্ত্রিত সোডিয়াম)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) কম প্রোটিন + নিয়ন্ত্রিত সোডিয়াম (Low protein + controlled sodium)

কেন এটি সঠিক: ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি হলো ডায়াবেটিসজনিত কারণে কিডনির কার্যকারিতা ধীরে ধীরে কমে যাওয়া। এই রোগীরা দুটি প্রধান সমস্যার সম্মুখীন হন:

প্রোটিনের বর্জ্য পদার্থ: দুর্বল কিডনি প্রোটিন হজমের পর সৃষ্ট বর্জ্য পদার্থ (যেমন ইউরিয়া) শরীর থেকে ঠিকমতো বের করতে পারে না।
তরল ও লবণ জমা: কিডনির দুর্বল কার্যকারিতার কারণে অতিরিক্ত সোডিয়াম ও তরল শরীর থেকে বের হতে পারে না, ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায়।
এই দুটি সমস্যা সামাল দিতে কম প্রোটিন ও নিয়ন্ত্রিত সোডিয়াম-এর সমন্বয় খুবই জরুরি।

কম প্রোটিন: প্রোটিনের পরিমাণ কমিয়ে দিলে কিডনির ওপর চাপ কমে, এবং বর্জ্য পদার্থের উৎপাদনও কমে যায়, যা রোগের অগ্রগতি ধীর করতে সাহায্য করে।
নিয়ন্ত্রিত সোডিয়াম: সোডিয়াম গ্রহণ সীমিত করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শরীরে অতিরিক্ত তরল জমা হওয়া প্রতিরোধ করা যায়।
এই দুটি ব্যবস্থা একসঙ্গে রোগীর কিডনির স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথির অগ্রগতি কমাতে সাহায্য করে।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) উচ্চ প্রোটিন + কম সোডিয়াম: উচ্চ প্রোটিন গ্রহণ কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে, যা ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথির অবস্থাকে আরও খারাপ করে তুলবে।
c) উচ্চ পটাশিয়াম + উচ্চ প্রোটিন: এই দুটিই নেফ্রোপ্যাথি রোগীর জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। উচ্চ প্রোটিন কিডনির ক্ষতি বাড়ায় এবং উচ্চ পটাশিয়াম হৃদস্পন্দনকে প্রভাবিত করে, যা মারাত্মক হতে পারে।
d) উচ্চ কার্বোহাইড্রেট + উচ্চ সোডিয়াম: উচ্চ সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। যদিও ডায়াবেটিসে কার্বোহাইড্রেট নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি, কিন্তু উচ্চ সোডিয়ামের কারণে সৃষ্ট জটিলতা নেফ্রোপ্যাথি রোগীর জন্য বেশি ক্ষতিকর।

Reference: ADA Nephropathy Guidelines, 2022.

২৩.
স্থায়ী ডায়রিয়ায় জিঙ্ক সম্পূরক কেন দেওয়া হয়?Why is zinc supplementation given in persistent diarrhea?
  1. It decreases intestinal motility (এটি অন্ত্রের গতি কমায়)
  2. It enhances intestinal mucosal repair and immunity (এটি অন্ত্রের মিউকোসা মেরামত ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়)
  3. It increases water absorption only (এটি শুধু পানি শোষণ বাড়ায়)
  4. It reduces glucose absorption (এটি গ্লুকোজ শোষণ কমায়)
সঠিক উত্তর:
It enhances intestinal mucosal repair and immunity (এটি অন্ত্রের মিউকোসা মেরামত ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
It enhances intestinal mucosal repair and immunity (এটি অন্ত্রের মিউকোসা মেরামত ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) এটি অন্ত্রের মিউকোসা মেরামত ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় (It enhances intestinal mucosal repair and immunity)।

কেন এটি সঠিক: জিঙ্ক হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট যা শরীরের অসংখ্য জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জড়িত। দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে জিঙ্ক সাপ্লিমেন্টেশনের মূল কারণগুলো হলো:

অন্ত্রের মেরামত: জিঙ্ক অন্ত্রের ভেতরের ঝিল্লি (mucosa) মেরামতের জন্য অপরিহার্য। এটি কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজনে সাহায্য করে, যা ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুকে দ্রুত সারিয়ে তোলে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: জিঙ্ক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঠিক কার্যকারিতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ কোষগুলোকে শক্তিশালী করে, যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে এবং ডায়রিয়ার পুনরাবৃত্তি কমায়।
ব্রাশ-বর্ডার এনজাইমের কার্যকারিতা: জিঙ্ক অন্ত্রে খাদ্য হজমের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইমগুলোর কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে, যা পুষ্টি শোষণে উন্নতি ঘটায়।
এই সম্মিলিত প্রভাবের কারণে জিঙ্ক ডায়রিয়ার তীব্রতা ও সময়কাল উভয়ই কমাতে সাহায্য করে।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) এটি অন্ত্রের গতি কমায়: জিঙ্ক সরাসরি অন্ত্রের গতি কমানোর জন্য ব্যবহার করা হয় না। এর প্রধান কাজ হলো কোষীয় মেরামত এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
c) এটি শুধু পানি শোষণ বাড়ায়: যদিও জিঙ্ক পরোক্ষভাবে পানি শোষণে সাহায্য করতে পারে, তবে এটি এর একমাত্র বা প্রাথমিক কাজ নয়। এর মূল ভূমিকা হলো অন্ত্রের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করা।
d) এটি গ্লুকোজ শোষণ কমায়: জিঙ্কের গ্লুকোজ শোষণ কমানোর কোনো সরাসরি প্রভাব নেই। বরং, এটি হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।

Reference: WHO/UNICEF Zinc Supplementation Guidelines, 2004.

২৪.
পোর্টাল হাইপারটেনশনের খাদ্যে সোডিয়াম সীমিত করার মূল কারণ কী?
What is the main reason for sodium restriction in portal hypertension?
  1. To prevent hypoglycemia (হাইপোগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধে)
  2. To reduce ascites and fluid retention (অ্যাসাইটিস ও তরল জমা কমাতে)
  3. To prevent constipation (কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে)
  4. To increase bile secretion (পিত্ত ক্ষরণ বাড়াতে)
সঠিক উত্তর:
To reduce ascites and fluid retention (অ্যাসাইটিস ও তরল জমা কমাতে)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
To reduce ascites and fluid retention (অ্যাসাইটিস ও তরল জমা কমাতে)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) অ্যাসাইটিস ও তরল জমা কমানো (To reduce ascites and fluid retention)।

কেন এটি সঠিক: পোর্টাল হাইপারটেনশন হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে লিভারের মধ্যে দিয়ে রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে পোর্টাল শিরাতে রক্তচাপ বেড়ে যায়। এই উচ্চ রক্তচাপের কারণে শিরা থেকে জলীয় অংশ বেরিয়ে আসে এবং পেটের ভেতরে জমা হয়, যাকে অ্যাসাইটিস (ascites) বলা হয়।

সোডিয়াম শরীরে জল ধরে রাখতে সাহায্য করে। যখন কোনো রোগী অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ করেন, তখন শরীর আরও বেশি জল ধরে রাখে, যা অ্যাসাইটিসকে আরও খারাপ করে তোলে। তাই, ডায়েটে সোডিয়ামের পরিমাণ সীমিত করলে শরীরে অতিরিক্ত জল জমা হওয়া কমে যায় এবং অ্যাসাইটিসের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
a) হাইপোগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধে: সোডিয়াম গ্রহণের সঙ্গে রক্তে শর্করার মাত্রা কমার (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
c) কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে: কোষ্ঠকাঠিন্য সাধারণত আঁশ (fiber) এবং তরল গ্রহণের সাথে সম্পর্কিত, সোডিয়াম নিয়ন্ত্রণের সাথে এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
d) পিত্ত ক্ষরণ বাড়াতে: সোডিয়াম পিত্ত ক্ষরণ বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয় না। পিত্ত ক্ষরণ মূলত লিভারের কার্যকারিতা এবং চর্বি হজমের উপর নির্ভর করে।

AASLD Portal Hypertension Guidelines, 2017.

২৫.
ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS) রোগে আক্রান্তদের জন্য FODMAP ডায়েটে কোন পুষ্টি উপাদানগুলো এড়িয়ে চলা হয়? In the FODMAP diet for IBS, which nutrients are avoided?
  1. Fermentable oligo-, di-, mono-saccharides and polyols (ফারমেন্টেবল ওলিগো-, ডাই-, মনো-স্যাকারাইডস ও পলিওলস)
  2. Saturated fats (স্যাচুরেটেড ফ্যাট)
  3. High protein foods (উচ্চ প্রোটিন খাবার)
  4. Vitamin C-rich foods (ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার)
সঠিক উত্তর:
Fermentable oligo-, di-, mono-saccharides and polyols (ফারমেন্টেবল ওলিগো-, ডাই-, মনো-স্যাকারাইডস ও পলিওলস)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Fermentable oligo-, di-, mono-saccharides and polyols (ফারমেন্টেবল ওলিগো-, ডাই-, মনো-স্যাকারাইডস ও পলিওলস)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) ফার্মেন্টেবল অলিগো-, ডাই-, মনো-স্যাকারাইডস এবং পলিওলস (Fermentable oligo-, di-, mono-saccharides and polyols)।

কেন এটি সঠিক: FODMAP হলো এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট যা সহজে ক্ষুদ্রান্ত্রে হজম বা শোষিত হয় না। এর পূর্ণরূপ হলো:

Fermentable (ফার্মেন্টেবল)
Oligosaccharides (অলিগোস্যাকারাইডস)
Disaccharides (ডাইস্যাকারাইডস)
Monosaccharides (মনোস্যাকারাইডস)
And
Polyols (পলিওলস)
এই কার্বোহাইড্রেটগুলো যখন হজম না হয়ে বৃহদন্ত্রে পৌঁছায়, তখন সেখানকার ব্যাকটেরিয়া সেগুলোকে ফার্মেন্ট (গাঁজানো) করে। এই প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে গ্যাস তৈরি হয় এবং অন্ত্রে তরল জমা হয়, যার ফলে IBS-এর সাধারণ লক্ষণ যেমন পেট ফাঁপা (bloating), গ্যাস, পেটে ব্যথা এবং ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য আরও বেড়ে যায়। তাই, IBS ব্যবস্থাপনার জন্য এই ধরনের খাবারগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) স্যাচুরেটেড ফ্যাট: স্যাচুরেটেড ফ্যাট হজম হতে সময় নেয় এবং অস্বস্তি তৈরি করতে পারে, কিন্তু এটি IBS-এর জন্য বিশেষভাবে এড়িয়ে চলার পুষ্টি উপাদান নয়।
c) উচ্চ প্রোটিন খাবার: প্রোটিন হজম সাধারণত IBS লক্ষণগুলিকে সরাসরি প্রভাবিত করে না। প্রোটিন কমানো IBS থেরাপির অংশ নয়।
d) ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার: ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার IBS-এ আক্রান্তদের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং সাধারণত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয় না।

Gibson & Shepherd, FODMAP Diet in IBS, Gastroenterology, 2010

২৬.
নিম্নলিখিতগুলির মধ্যে কোনটি গৃহস্থালির খাদ্য নিরাপত্তার একটি তাৎক্ষণিক নির্ধারক?Which of the following is an immediate determinant of household food security?
  1. খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি (Increase in food production)
  2. পরিবারের খাদ্য ক্রয়ক্ষমতা (Household purchasing power for food)
  3. জাতীয় খাদ্য নীতি (National food policy)
  4. খাদ্য মজুদ ব্যবস্থাপনা (Food storage management)
সঠিক উত্তর:
পরিবারের খাদ্য ক্রয়ক্ষমতা (Household purchasing power for food)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবারের খাদ্য ক্রয়ক্ষমতা (Household purchasing power for food)
ব্যাখ্যা

"Household Food Security" এর immediate determinant বা তাৎক্ষণিক নির্ধারক হলো
B) পরিবারের খাদ্য ক্রয়ক্ষমতা (Household purchasing power for food)।

কারণ:

Household food security বা পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা মূলত ব্যক্তির বা পরিবারের খাদ্য প্রাপ্তির (access) উপর নির্ভর করে।
জাতীয় পর্যায়ে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নীতি বা খাদ্য মজুদ ব্যবস্থাপনা খাদ্য সরবরাহের (food supply) দিকটি নিশ্চিত করে।
কিন্তু, একটি পরিবার যদি খাদ্য কিনতে না পারে, অর্থাৎ তাদের ক্রয়ক্ষমতা না থাকে, তবে জাতীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ থাকলেও তারা খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন করতে পারে না।
তাই, পরিবারের খাদ্য ক্রয়ক্ষমতাই হলো খাদ্য নিরাপত্তার সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ও সরাসরি নির্ধারক। এটি নিশ্চিত করে যে খাদ্য যখন সহজলভ্য হয় তখন তা ব্যক্তির নাগালের মধ্যে আছে।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল, আপনার দেওয়া ব্যাখ্যাও সঠিক:

A) খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি (Increase in food production): এটি জাতীয় পর্যায়ে খাদ্যের সহজলভ্যতা (availability) বাড়ায়, কিন্তু এর ফলে প্রতিটি পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। কারণ, উৎপাদন বাড়লেও যদি বণ্টন ব্যবস্থা অসম হয় বা মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না থাকে, তবে তারা খাদ্য পেতে ব্যর্থ হবে।
C) জাতীয় খাদ্য নীতি (National food policy): এটি একটি ম্যাক্রো বা বৃহত্তর পর্যায়ের বিষয়। এটি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সহায়ক একটি কাঠামো তৈরি করে, কিন্তু এটি সরাসরি কোনো পরিবারের খাদ্য প্রাপ্তির (access) immediate determinant বা তাৎক্ষণিক নির্ধারক নয়।
D) খাদ্য মজুদ ব্যবস্থাপনা (Food storage management): এটি খাদ্যের সহজলভ্যতার ধারাবাহিকতা বা স্থায়িত্ব (stability) নিশ্চিত করে, বিশেষ করে প্রতিকূল সময়ে। কিন্তু, এটিও সরাসরি পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার মতো তাৎক্ষণিক নির্ধারক নয়।
Reference - FAO, 2008 এবং UNICEF framework of food security

২৭.
 কমিউনিটি-ভিত্তিক পুষ্টি শিক্ষার (community-based nutrition education) সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা কোনটি? What is the biggest limitation of community-based nutrition education?
  1.  সাংস্কৃতিক বিশ্বাস ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা কঠিন (Difficulty in changing cultural beliefs and food habits)
  2. তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছায় না (Information does not reach people)
  3. পুষ্টি শিক্ষার উপকরণের অভাব (Lack of nutrition education materials)
  4. স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই (Insufficient knowledge of health workers)
সঠিক উত্তর:
 সাংস্কৃতিক বিশ্বাস ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা কঠিন (Difficulty in changing cultural beliefs and food habits)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 সাংস্কৃতিক বিশ্বাস ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা কঠিন (Difficulty in changing cultural beliefs and food habits)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) সাংস্কৃতিক বিশ্বাস ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা কঠিন (Difficulty in changing cultural beliefs and food habits)।

কেন এটি সঠিক: কমিউনিটি-ভিত্তিক পুষ্টি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি সম্পর্কিত জ্ঞান বাড়িয়ে তাদের খাদ্যাভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় বাধা হলো মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত সাংস্কৃতিক বিশ্বাস এবং প্রথাগত খাদ্যাভ্যাস।

সাংস্কৃতিক বিশ্বাস: অনেক সময় ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে নির্দিষ্ট কিছু খাবারকে ভালো বা খারাপ মনে করা হয়, যা পুষ্টিবিদদের পরামর্শের পরিপন্থী হতে পারে।
খাদ্যাভ্যাস: খাদ্যাভ্যাস প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসে। মানুষ সাধারণত সেই খাবারগুলোই গ্রহণ করে যা তাদের সমাজে প্রচলিত, সহজলভ্য এবং তারা খেতে অভ্যস্ত।
আর্থসামাজিক কারণ: খাদ্য নির্বাচনের পেছনে আর্থিক সামর্থ্য এবং খাবারের সহজলভ্যতাও একটি বড় কারণ।
পুষ্টি শিক্ষকরা তথ্য দিতে পারেন, কিন্তু সেই তথ্যকে বাস্তবে প্রয়োগ করে নিজেদের আচরণ পরিবর্তন করা অনেক কঠিন। মানুষের মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বাধাগুলো দূর করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছায় না: বর্তমান যুগে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে তথ্য পৌঁছানো এখন আর তেমন বড় সমস্যা নয়। সমস্যা হলো সেই তথ্যকে মানুষ কীভাবে গ্রহণ করে এবং প্রয়োগ করে।
C) পুষ্টি শিক্ষার উপকরণের অভাব: যদিও উপকরণের অভাব একটি সমস্যা হতে পারে, কিন্তু এটি একটি সমাধানযোগ্য সীমাবদ্ধতা। প্রশিক্ষণ এবং তহবিলের মাধ্যমে এই অভাব পূরণ করা সম্ভব। এটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের মতো গভীর বাধা নয়।
D) স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই: স্বাস্থ্যকর্মীদের জ্ঞানের অভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, কিন্তু এটি প্রশিক্ষণ দিয়ে দূর করা যায়। কমিউনিটি-ভিত্তিক প্রোগ্রামে এই কর্মীদের প্রশিক্ষণের উপর জোর দেওয়া হয়। তবে, এই প্রশিক্ষণ সাংস্কৃতিক বাধা অতিক্রমের নিশ্চয়তা দেয় না।

Reference: FAO Guidelines on Nutrition Education, 2013.

২৮.
কমিউনিটি পর্যায়ে প্রোটিন-এনার্জি অপুষ্টি (Protein-Energy Malnutrition - PEM) সবচেয়ে দ্রুত কমাতে পারে কোন ব্যবস্থা? Which intervention can reduce Protein-Energy Malnutrition (PEM) most rapidly at community level?
  1. Ready-to-use therapeutic food (RUTF) বিতরণ (Distribution of RUTF)
  2. কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি (Increase in agricultural production)
  3. Nutrition-sensitive social safety nets (e.g., cash transfer programs)
  4. Nutrition education on balanced diets
সঠিক উত্তর:
Ready-to-use therapeutic food (RUTF) বিতরণ (Distribution of RUTF)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ready-to-use therapeutic food (RUTF) বিতরণ (Distribution of RUTF)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) রেডি-টু-ইউজ থেরাপিউটিক ফুড (RUTF) বিতরণ (Distribution of Ready-to-use therapeutic food - RUTF)।

কেন এটি সঠিক: প্রোটিন-এনার্জি অপুষ্টি, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে, একটি জীবন-হুমকিস্বরূপ অবস্থা। এই ধরনের গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো দ্রুত এবং কার্যকর পুষ্টি সহায়তা নিশ্চিত করা।

RUTF হলো একটি উচ্চ-ক্যালরি, উচ্চ-প্রোটিন এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট-সমৃদ্ধ পেস্ট, যা রান্না না করে সরাসরি খাওয়া যায়। এটি প্যাকেজ করা অবস্থায় থাকে এবং ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। এর প্রধান সুবিধাগুলো হলো:

দ্রুত কার্যকারিতা: RUTF সরাসরি Severe Acute Malnutrition (SAM) বা গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের শরীরে দ্রুত পুষ্টি সরবরাহ করে, যা তাদের ওজন বাড়াতে এবং জীবন বাঁচাতে সাহায্য করে।
সহজলভ্যতা: এটি স্বাস্থ্যকর্মী বা স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে কমিউনিটি পর্যায়ে সহজেই বিতরণ করা যায় এবং বাড়িতে বসে ব্যবহার করা যায়। হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয় না।
নিরাপত্তা: এতে পানি মেশাতে হয় না, তাই সংক্রমণের ঝুঁকি কম থাকে।
যেহেতু RUTF গুরুতর অপুষ্টির জন্য বিশেষভাবে তৈরি এবং দ্রুত ফলাফল দেয়, তাই এটি কমিউনিটি পর্যায়ে PEM কমানোর জন্য সবচেয়ে কার্যকর এবং দ্রুত ব্যবস্থা।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি: কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদী সমাধান। কিন্তু এর প্রভাব দেখতে অনেক সময় লাগে এবং এটি তাৎক্ষণিকভাবে গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুর জীবন বাঁচাতে পারে না।
C) নিউট্রিশন-সেনসিটিভ সোশ্যাল সেফটি নেট: এই ধরনের কর্মসূচি (যেমন নগদ অর্থ প্রদান) পরিবারের খাদ্য কেনার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি অপুষ্টি প্রতিরোধে কার্যকর হলেও, এটি গুরুতরভাবে অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুর তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট নয়।
D) পুষ্টি শিক্ষা: পুষ্টি শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি একটি আচরণগত পরিবর্তন প্রক্রিয়া যা দীর্ঘ সময় নেয়। এটি গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুর জরুরি পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারে না।
WHO Guidelines on Management of Severe Acute Malnutrition, 2013.

২৯.
Food fortification এর সবচেয়ে বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ কী?
 What is the biggest social challenge of food fortification?
  1. প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাব (Lack of technical expertise)
  2. খাদ্যের স্বাদ, রং বা গন্ধ পরিবর্তন হওয়া (Changes in taste, color, or smell of food)
  3. ফোর্টিফাইড খাদ্যের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা (Social acceptance of fortified foods)
  4. সরকারী নীতির অনুপস্থিতি (Absence of government policy)
সঠিক উত্তর:
ফোর্টিফাইড খাদ্যের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা (Social acceptance of fortified foods)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোর্টিফাইড খাদ্যের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা (Social acceptance of fortified foods)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: C) ফোর্টিফাইড খাদ্যের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা (Social acceptance of fortified foods)।

কেন এটি সঠিক: ফুড ফোর্টিফিকেশন হলো খাদ্যে প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট (যেমন: আয়োডিন, আয়রন, ভিটামিন এ) যোগ করা, যাতে জনস্বাস্থ্য উন্নত করা যায়। এই পদ্ধতিটি খুবই কার্যকর হলেও, এর বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় সামাজিক বাধা হলো মানুষের মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ।

ভুল ধারণা: অনেক সময় মানুষ ফোর্টিফাইড খাদ্যকে "কৃত্রিম" বা "রাসায়নিক মিশ্রিত" মনে করে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বিশ্বাস ও সংস্কৃতি: কিছু সমাজে মানুষ প্রাকৃতিক খাবারের উপর বেশি নির্ভরশীল। তাদের কাছে এমন খাবার গ্রহণ করা কঠিন হতে পারে যা "প্রক্রিয়াজাত" মনে হয়।
স্বাদ ও গন্ধ: যদিও প্রযুক্তিগতভাবে খাবারের স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তন না করার চেষ্টা করা হয়, তবুও সামান্য পরিবর্তন হলেও তা মানুষের কাছে অগ্রহণযোগ্য হতে পারে।
বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ: যদি সাধারণ মানুষ ফোর্টিফাইড খাবার না কেনে বা তা গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক হয়, তাহলে এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে।
সুতরাং, প্রযুক্তি, নীতি বা গুণগত মান যত ভালোই হোক না কেন, যদি মানুষ ফোর্টিফাইড খাদ্য গ্রহণ না করে, তাহলে এই জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি সফল হবে না।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাব: প্রযুক্তিগত দক্ষতা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, কিন্তু এটি সাধারণত একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং বিদেশি সহযোগিতার মাধ্যমে এই অভাব পূরণ করা যায়।
B) খাদ্যের স্বাদ, রং বা গন্ধ পরিবর্তন হওয়া: এটি একটি সমস্যা, কিন্তু এটি আসলে গ্রহণযোগ্যতার সমস্যার একটি অংশ। যদি স্বাদ বা গন্ধ সামান্য পরিবর্তনও হয়, তবে তার ফলে মানুষের মনে এই খাবার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।
D) সরকারী নীতির অনুপস্থিতি: নীতি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার যা বাধ্যতামূলকভাবে ফোর্টিফিকেশন প্রোগ্রাম চালু করতে পারে। কিন্তু শুধুমাত্র নীতি থাকলেও তা সফল হয় না, যদি মানুষ স্বেচ্ছায় এই খাবার গ্রহণ না করে। নীতি থাকা সত্ত্বেও যদি গ্রহণযোগ্যতা না থাকে, তাহলে প্রোগ্রামটি ব্যর্থ হবে।
Reference: Allen et al., Food Fortification Guidelines, WHO 2006.

৩০.
নিউট্রিশন-সেনসিটিভ ইন্টারভেনশন (nutrition-sensitive intervention) এবং নিউট্রিশন-স্পেসিফিক ইন্টারভেনশন (nutrition-specific intervention)-এর মধ্যে মূল পার্থক্য কোনটি?What is the main difference between nutrition-sensitive and nutrition-specific interventions?
  1. Nutrition-sensitive intervention কেবল খাদ্য উৎপাদনের সাথে সম্পর্কিত, Nutrition-specific intervention শুধুমাত্র চিকিৎসার সাথে সম্পর্কিত।
  2. Nutrition-specific intervention সরাসরি পুষ্টি ঘাটতি নিরসন করে, Nutrition-sensitive intervention অন্যান্য সেক্টরের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলে।
  3. Nutrition-sensitive intervention শুধুমাত্র শিক্ষা খাতে কাজ করে, Nutrition-specific intervention শুধুমাত্র স্বাস্থ্য খাতে কাজ করে।
  4. উভয় intervention একই কিন্তু বাস্তবায়নের মাত্রা আলাদা।
সঠিক উত্তর:
Nutrition-specific intervention সরাসরি পুষ্টি ঘাটতি নিরসন করে, Nutrition-sensitive intervention অন্যান্য সেক্টরের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Nutrition-specific intervention সরাসরি পুষ্টি ঘাটতি নিরসন করে, Nutrition-sensitive intervention অন্যান্য সেক্টরের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলে।
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) নিউট্রিশন-স্পেসিফিক ইন্টারভেনশন সরাসরি পুষ্টি ঘাটতি নিরসন করে, এবং নিউট্রিশন-সেনসিটিভ ইন্টারভেনশন অন্যান্য সেক্টরের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলে।

কেন এটি সঠিক: পুষ্টির সমস্যা মোকাবিলায় দুই ধরনের প্রধান কৌশল রয়েছে:

নিউট্রিশন-স্পেসিফিক ইন্টারভেনশন (Nutrition-specific interventions): এই কার্যক্রমগুলো সরাসরি পুষ্টির সমস্যার ওপর লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়। যেমন:

-শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো।
-আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
-সরাসরি বুকের দুধ খাওয়ানোকে উৎসাহিত করা।
-গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য RUTF (Ready-to-use therapeutic food) বিতরণ করা। এই পদ্ধতিগুলো দ্রুত এবং সরাসরি পুষ্টির অভাব পূরণ করে।

নিউট্রিশন-সেনসিটিভ ইন্টারভেনশন (Nutrition-sensitive interventions): এই কার্যক্রমগুলো সরাসরি পুষ্টি নিয়ে কাজ করে না, কিন্তু অন্যান্য খাতের (যেমন: কৃষি, শিক্ষা, পানি ও স্যানিটেশন) মাধ্যমে পরোক্ষভাবে পুষ্টির মান উন্নত করে। যেমন:

কৃষি খাতে পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করা।
নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বাড়ানো, যাতে তারা তাদের ও তাদের সন্তানদের জন্য ভালো খাবার কিনতে পারে।
বিশুদ্ধ পানীয় জল ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা, যা ডায়রিয়া ও অন্যান্য রোগের ঝুঁকি কমিয়ে অপুষ্টি প্রতিরোধ করে। এই পদ্ধতিগুলো পুষ্টির মূল কারণগুলো নিয়ে কাজ করে এবং দীর্ঘমেয়াদে পুষ্টির অবস্থার উন্নতি ঘটায়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) ভুল, কারণ নিউট্রিশন-সেনসিটিভ ইন্টারভেনশন শুধু খাদ্য উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, এবং আরও অনেক ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে। একইভাবে, নিউট্রিশন-স্পেসিফিক ইন্টারভেনশন শুধুমাত্র চিকিৎসার সাথে সম্পর্কিত নয়, এটি প্রতিরোধমূলক (যেমন: বুকের দুধ খাওয়ানো) কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত করে।

C) ভুল, কারণ নিউট্রিশন-সেনসিটিভ ইন্টারভেনশন শুধুমাত্র শিক্ষা খাতে কাজ করে না। এটি কৃষি, সামাজিক সুরক্ষা, নারী উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করে। একইভাবে, নিউট্রিশন-স্পেসিফিক ইন্টারভেনশন স্বাস্থ্য খাতের বাইরেও কাজ করতে পারে।

D) ভুল, কারণ এই দুটি ইন্টারভেনশনের উদ্দেশ্য, কৌশল এবং প্রভাবের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা। একটি সরাসরি সমস্যার সমাধান করে, অন্যটি পরোক্ষভাবে এর মূল কারণগুলো নিয়ে কাজ করে।

Reference: Lancet Maternal and Child Nutrition Series, 2013.

৩১.
In implementing nutrition education in a multi-ethnic community, the biggest challenge is:
বহুজাতি বা ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর কমিউনিটিতে পুষ্টি শিক্ষা বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?
  1. Language diversity (ভাষাগত বৈচিত্র্য)
  2. Availability of food resources (খাদ্য সম্পদের প্রাপ্যতা)
  3. Socio-economic disparity (সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষম্য)
  4. Uniformity of cultural food habits (খাদ্যাভ্যাসের সাংস্কৃতিক একরূপতা)
সঠিক উত্তর:
Language diversity (ভাষাগত বৈচিত্র্য)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Language diversity (ভাষাগত বৈচিত্র্য)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) ভাষাগত বৈচিত্র্য (Language diversity)।

কেন এটি সঠিক: পুষ্টি শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো মানুষের আচরণ পরিবর্তন করা, আর এর জন্য সুস্পষ্ট এবং কার্যকর যোগাযোগ অপরিহার্য। একটি বহু-জাতিগোষ্ঠী বা বহুভাষিক কমিউনিটিতে, বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের কাছে পুষ্টি সম্পর্কিত বার্তা সঠিকভাবে পৌঁছানো এবং বোঝানো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বার্তার বিকৃতি: যদি পুষ্টির বার্তা সঠিক ভাষায় অনুবাদ বা উপস্থাপন না করা হয়, তাহলে এর অর্থ বিকৃত হতে পারে।
বোঝার অভাব: এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর্মী বা শিক্ষকের কথা যদি কমিউনিটির সদস্যরা বুঝতে না পারেন, তাহলে শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে যাবে।
বিশ্বাস ও সম্পর্ক: যদি ভাষার কারণে যোগাযোগে বাধা থাকে, তাহলে স্বাস্থ্যকর্মী এবং কমিউনিটির সদস্যদের মধ্যে বিশ্বাস এবং সম্পর্ক গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে, যা পুষ্টি শিক্ষা কার্যক্রমের সাফল্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তাই, ভাষাগত বৈচিত্র্যকে মোকাবিলা করা পুষ্টি শিক্ষা কার্যক্রমের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) খাদ্য সম্পদের প্রাপ্যতা: খাদ্য সম্পদের প্রাপ্যতা পুষ্টি শিক্ষার ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলে, কিন্তু এটি সরাসরি শিক্ষাকে বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নয়। যদি মানুষ পুষ্টি সম্পর্কে জানতে পারে কিন্তু তাদের কাছে প্রয়োজনীয় খাবার না থাকে, তাহলে এটি একটি ভিন্ন সমস্যা।
C) সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষম্য: সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষম্য একটি বড় সমস্যা যা পুষ্টির মানকে প্রভাবিত করে, কিন্তু এটি সরাসরি পুষ্টি শিক্ষার বার্তাকে মানুষের কাছে পৌঁছানো বা বোঝানোর পথে সবচেয়ে বড় বাধা নয়। এটি বরং পুষ্টি শিক্ষার ফলাফলকে প্রভাবিত করে।
D) খাদ্যাভ্যাসের সাংস্কৃতিক একরূপতা: একরূপতা কোনো চ্যালেঞ্জ নয়, বরং এটি একটি সুবিধা। যদি একটি কমিউনিটির খাদ্যাভ্যাস একই ধরনের হয়, তাহলে পুষ্টি শিক্ষা কার্যক্রমের বার্তা এবং কৌশলগুলোকে একমুখী করা সহজ হয়।
FAO, Nutrition Education in Multi-ethnic Societies, 2019.

৩২.
Which of the following best explains why knowledge-based nutrition education alone often fails to change dietary practices?
শুধু জ্ঞানভিত্তিক পুষ্টি শিক্ষা কেন প্রায়ই খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে ব্যর্থ হয়?
  1. Lack of teaching skills (শিক্ষাদানের দক্ষতার অভাব)
  2. Social and environmental determinants of food choice (খাদ্য নির্বাচনে সামাজিক ও পরিবেশগত নির্ধারক)
  3. Inadequate number of sessions (সেশনের সংখ্যা কম)
  4. Cost of nutrition education materials (শিক্ষা উপকরণের খরচ)
সঠিক উত্তর:
Social and environmental determinants of food choice (খাদ্য নির্বাচনে সামাজিক ও পরিবেশগত নির্ধারক)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Social and environmental determinants of food choice (খাদ্য নির্বাচনে সামাজিক ও পরিবেশগত নির্ধারক)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) খাদ্য নির্বাচনে সামাজিক ও পরিবেশগত নির্ধারক (Social and environmental determinants of food choice)।

কেন এটি সঠিক: পুষ্টি সম্পর্কে তথ্য বা জ্ঞান দেওয়া (knowledge-based education) এক জিনিস, আর সেই জ্ঞানকে বাস্তবে খাদ্যাভ্যাসে প্রয়োগ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার। শুধু জেনে একজন মানুষ তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারে না, কারণ খাদ্যাভ্যাস কেবল জ্ঞানের উপর নির্ভরশীল নয়।

এটি প্রভাবিত হয় বিভিন্ন জটিল সামাজিক ও পরিবেশগত কারণ দ্বারা:

সাংস্কৃতিক বিশ্বাস: কোন খাবারকে ভালো বা খারাপ মনে করা হয়, তা অনেক সময় সাংস্কৃতিক প্রথা ও ঐতিহ্যের ওপর নির্ভর করে।
আর্থ-সামাজিক অবস্থা: মানুষের আর্থিক সামর্থ্য এবং খাবারের সহজলভ্যতা তার খাদ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় নির্ধারক। স্বাস্থ্যকর খাবার অনেক সময় ব্যয়বহুল বা সহজলভ্য নাও হতে পারে।
পরিবেশ ও প্রভাব: আশেপাশের মানুষের খাদ্যাভ্যাস, পরিবারের রীতিনীতি, এবং খাদ্যের বিজ্ঞাপনও একজন ব্যক্তির সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
ব্যক্তিগত পছন্দ: স্বাদ, অভ্যাস, এবং ব্যক্তিগত পছন্দও খাদ্যাভ্যাসকে নিয়ন্ত্রণ করে।
এগুলো হলো গভীর শিকড়যুক্ত কারণ, যা শুধু তথ্য দিয়ে পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
A) শিক্ষাদানের দক্ষতার অভাব: শিক্ষকের দক্ষতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, কিন্তু এটি ব্যর্থতার মূল কারণ নয়। একজন দক্ষ শিক্ষকও যদি এই সামাজিক ও পরিবেশগত বাধাগুলো মোকাবিলা করতে না পারেন, তাহলে তার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।
C) সেশনের সংখ্যা কম: সেশনের সংখ্যা বাড়ালেও যদি মূল সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বাধাগুলো দূর না হয়, তাহলে ফলাফল একই থাকবে। বেশি সেশন হলেও মানুষ তার সামর্থ্য বা সাংস্কৃতিক অভ্যাসের বাইরে গিয়ে খাবার গ্রহণ করবে না।
D) শিক্ষা উপকরণের খরচ: শিক্ষা উপকরণের খরচ একটি ব্যবহারিক সমস্যা যা প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে বাধা দিতে পারে, কিন্তু এটি সরাসরি মানুষের আচরণ পরিবর্তনে ব্যর্থতার মূল কারণ নয়।

WHO, Social Determinants of Nutrition and Health, 2016.

৩৩.
During an evaluation of a nutrition education program, which indicator provides the most valid measure of its impact?
একটি পুষ্টি শিক্ষা প্রোগ্রামের মূল্যায়নের সময় কোন সূচক সবচেয়ে কার্যকরভাবে এর প্রভাব নির্দেশ করে?
  1. Number of posters displayed (কতগুলো পোস্টার টানানো হয়েছে)
  2. Improvement in anthropometric measures of children (শিশুদের দেহ-পরিমাপের উন্নতি)
  3. Number of teachers trained (কতজন শিক্ষক প্রশিক্ষিত হয়েছেন)
  4. Quantity of food distributed (কত খাদ্য বিতরণ হয়েছে)
সঠিক উত্তর:
Improvement in anthropometric measures of children (শিশুদের দেহ-পরিমাপের উন্নতি)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Improvement in anthropometric measures of children (শিশুদের দেহ-পরিমাপের উন্নতি)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) শিশুদের দেহ-পরিমাপের উন্নতি (Improvement in anthropometric measures of children)।

কেন এটি সঠিক: একটি প্রোগ্রামের প্রভাব মূল্যায়ন (impact evaluation) করার জন্য এমন একটি সূচক প্রয়োজন যা সরাসরি এবং নির্ভরযোগ্যভাবে প্রোগ্রামের চূড়ান্ত ফলাফলকে প্রতিফলিত করে।

পুষ্টি শিক্ষা → আচরণ পরিবর্তন → স্বাস্থ্য উন্নতি: পুষ্টি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধি করে তাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা, যা শেষ পর্যন্ত তাদের পুষ্টিগত অবস্থা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাবে।
দেহ-পরিমাপ (Anthropometric measures): শিশুদের ক্ষেত্রে এই পরিমাপগুলো (যেমন: ওজন, উচ্চতা, ওজন-বয়স, উচ্চতা-বয়স) সরাসরি অপুষ্টি বা পুষ্টির অভাবের একটি নির্ভরযোগ্য সূচক। যদি একটি পুষ্টি শিক্ষা প্রোগ্রাম সফল হয়, তাহলে শিশুরা ভালো খাবার খাবে, তাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, এবং এর প্রতিফলন তাদের শারীরিক পরিমাপে দেখা যাবে।
তাই, শিশুদের দেহ-পরিমাপের উন্নতি সরাসরি প্রমাণ করে যে পুষ্টি শিক্ষা কার্যক্রমটি সফল হয়েছে এবং এটি কেবল তথ্য বা ইনপুট নয়, বরং বাস্তব জীবনের ফলাফল নিয়ে এসেছে।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) কতগুলো পোস্টার টানানো হয়েছে: পোস্টার টানানো হলো একটি কার্যক্রমের ইনপুট বা সরবরাহ। এটি কেবল নির্দেশ করে যে বার্তাটি কতটুকু ছড়িয়েছে, কিন্তু মানুষ সেই বার্তাটি গ্রহণ করেছে বা তাদের আচরণ পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা এটি প্রমাণ করে না।
C) কতজন শিক্ষক প্রশিক্ষিত হয়েছেন: শিক্ষক প্রশিক্ষণ হলো একটি কার্যক্রমের একটি ধাপ বা ইনপুট। একজন শিক্ষক প্রশিক্ষিত হলেই যে তিনি সফলভাবে পুষ্টি শিক্ষা দিতে পারবেন এবং মানুষ তা গ্রহণ করবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
D) কত খাদ্য বিতরণ হয়েছে: খাদ্য বিতরণ হলো একটি সরবরাহ বা সহায়ক কার্যক্রম, যা পুষ্টি শিক্ষার প্রভাবের মূল্যায়নের জন্য সরাসরি ব্যবহৃত হয় না। এটি একটি আলাদা হস্তক্ষেপ (intervention)। একটি পুষ্টি শিক্ষা প্রোগ্রামের মূল্যায়নের জন্য এর প্রভাব খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যের উন্নতির উপর নির্ভর করে, শুধু খাদ্য বিতরণের পরিমাণের উপর নয়।

রেফারেন্স:
FAO/UNICEF, Monitoring and Evaluation of Nutrition Education, 2020.

৩৪.
Which theoretical model best supports the design of nutrition education programs focusing on long-term behavior change?
দীর্ঘমেয়াদী আচরণ পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে পুষ্টি শিক্ষা প্রোগ্রাম ডিজাইনের জন্য কোন তাত্ত্বিক মডেল সবচেয়ে উপযুক্ত?
  1. Health Belief Model (স্বাস্থ্য বিশ্বাস মডেল)
  2. Diffusion of Innovation Theory (নতুনত্ব বিস্তার তত্ত্ব)
  3. Transtheoretical Model (Stages of Change) (পরিবর্তনের ধাপভিত্তিক মডেল)
  4. Knowledge-Attitude-Practice Model (জ্ঞান-মনোভাব-অভ্যাস মডেল)
সঠিক উত্তর:
Transtheoretical Model (Stages of Change) (পরিবর্তনের ধাপভিত্তিক মডেল)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Transtheoretical Model (Stages of Change) (পরিবর্তনের ধাপভিত্তিক মডেল)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: c) ট্রানস্থিওরেটিক্যাল মডেল (Transtheoretical Model), যা পরিবর্তনের ধাপভিত্তিক মডেল (Stages of Change) নামেও পরিচিত।

কেন এটি সঠিক: ট্রানস্থিওরেটিক্যাল মডেল (Transtheoretical Model) হলো একটি শক্তিশালী তাত্ত্বিক কাঠামো যা মানুষের আচরণের পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে কয়েকটি ধাপে বিভক্ত করে ব্যাখ্যা করে। এই ধাপগুলো হলো: ১. প্রি-কনটেম্পলেশন (Pre-contemplation): এই ধাপে ব্যক্তি তার বর্তমান খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে কোনো সমস্যা আছে বলে মনে করে না এবং পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা নেই। ২. কনটেম্পলেশন (Contemplation): এই ধাপে ব্যক্তি পরিবর্তন নিয়ে চিন্তা শুরু করে, কিন্তু এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ৩. প্রিপারেশন (Preparation): ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নেয়, যেমন একটি পরিকল্পনা তৈরি করা। ৪. অ্যাকশন (Action): ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে নতুন আচরণ শুরু করে। ৫. মেন্টেনেন্স (Maintenance): ব্যক্তি নতুন অভ্যাসটি ধরে রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদী আচরণে পরিণত করে।

পুষ্টি শিক্ষা প্রোগ্রাম ডিজাইনের জন্য এই মডেলটি অত্যন্ত কার্যকর, কারণ এটি স্বীকার করে যে একজন ব্যক্তি রাতারাতি তার খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে না। এটি পুষ্টিবিদদের প্রতিটি ধাপে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে সাহায্য করে, যা ব্যক্তির বর্তমান মানসিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) স্বাস্থ্য বিশ্বাস মডেল (Health Belief Model): এই মডেলটি মূলত প্রতিরোধের উপর জোর দেয় এবং ব্যাখ্যা করে যে মানুষ কখন স্বাস্থ্যকর আচরণ গ্রহণ করবে (যেমন, রোগের ভয় থাকলে)। এটি কার্যকর হলেও, আচরণ পরিবর্তনের ধাপভিত্তিক প্রক্রিয়াটি এটি সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করে না।

b) নতুনত্ব বিস্তার তত্ত্ব (Diffusion of Innovation Theory): এই তত্ত্বটি একটি নতুন ধারণা বা অভ্যাসের কীভাবে একটি সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তা ব্যাখ্যা করে। এটি সমাজের মধ্যে আচরণের বিস্তারের জন্য উপযোগী, কিন্তু একক ব্যক্তির আচরণ পরিবর্তনের গভীর প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করে না।

D) জ্ঞান-মনোভাব-অভ্যাস মডেল (Knowledge-Attitude-Practice Model - KAP): এটি একটি সরল এবং রৈখিক মডেল, যা ধরে নেয় যে জ্ঞান (knowledge) মনোভাব (attitude) পরিবর্তন করবে, এবং মনোভাব আচরণে (practice) পরিবর্তন আনবে। কিন্তু বাস্তবে এটি সবসময় ঘটে না। অনেক সময় মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে জ্ঞান রাখে কিন্তু সামাজিক বা অর্থনৈতিক কারণে তা গ্রহণ করে না। তাই এটি দীর্ঘমেয়াদী আচরণের জটিলতা বোঝাতে ব্যর্থ।

রেফারেন্স:
Glanz et al., Health Behavior and Health Education Theory, Research, and Practice, 5th Edition.

৩৫.
Involving local women as peer educators in nutrition programs is considered most effective because:
পুষ্টি শিক্ষা প্রোগ্রামে স্থানীয় নারীদের peer educator হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা সবচেয়ে কার্যকর, কারণ—
  1. They represent culturally accepted role models (তারা সাংস্কৃতিকভাবে গ্রহণযোগ্য রোল মডেল)
  2.  They can distribute food supplements (তারা খাদ্য সরবরাহ করতে পারে)
  3. They reduce government expenditure (তারা সরকারি ব্যয় কমায়)
  4. They are skilled in audiovisual technology (তারা অডিওভিজ্যুয়াল টেকনোলজিতে দক্ষ)
সঠিক উত্তর:
They represent culturally accepted role models (তারা সাংস্কৃতিকভাবে গ্রহণযোগ্য রোল মডেল)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
They represent culturally accepted role models (তারা সাংস্কৃতিকভাবে গ্রহণযোগ্য রোল মডেল)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) তারা সাংস্কৃতিকভাবে গ্রহণযোগ্য রোল মডেল (তারা সাংস্কৃতিকভাবে গ্রহণযোগ্য রোল মডেল)।

কেন এটি সঠিক: একটি কমিউনিটিতে স্বাস্থ্য বা পুষ্টি সম্পর্কিত বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য, এমন একজন ব্যক্তিকে ব্যবহার করা উচিত যাকে স্থানীয় মানুষ বিশ্বাস করে এবং যার কথা শুনতে আগ্রহী। স্থানীয় নারীরা এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো বিকল্প, কারণ:

সাংস্কৃতিক নৈকট্য: তারা একই সংস্কৃতির অংশ, একই ধরনের সামাজিক রীতিনীতি এবং বিশ্বাসে অভ্যস্ত। ফলে তারা অন্যদের সাথে সহজেই সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে এবং তাদের কথা বুঝতে পারে।
বিশ্বাসের সম্পর্ক: একই কমিউনিটির একজন ব্যক্তি যখন স্বাস্থ্য বা পুষ্টি নিয়ে কথা বলেন, তখন মানুষ তার উপর সহজে বিশ্বাস স্থাপন করে। একজন বাইরের স্বাস্থ্যকর্মী বা বিশেষজ্ঞের তুলনায় তাদের বার্তা অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হয়।
সহজ যোগাযোগ: তারা স্থানীয় ভাষায় এবং পরিচিত উপমা ব্যবহার করে বার্তা দিতে পারে, যা সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজবোধ্য হয়।
আচরণের রোল মডেল: তারা নিজেরাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং পুষ্টি সম্পর্কিত জ্ঞান প্রয়োগ করে অন্যদের জন্য উদাহরণ হতে পারে। একজন প্রতিবেশী বা পরিচিত মুখ যখন ইতিবাচক পরিবর্তন দেখায়, তখন অন্যরা তা অনুসরণ করতে উৎসাহিত হয়।
তাই, পিয়ার এডুকেটর হিসেবে স্থানীয় নারীদের ব্যবহার করা কেবল সাশ্রয়ীই নয়, বরং সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে সবচেয়ে কার্যকর।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) তারা খাদ্য সরবরাহ করতে পারে: খাদ্য সরবরাহ করা একটি logistical কাজ এবং এটি পিয়ার এডুকেটরদের প্রধান কাজ নয়। তাদের মূল ভূমিকা হলো শিক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
C) তারা সরকারি ব্যয় কমায়: ব্যয় কমানো একটি গৌণ সুবিধা। পিয়ার এডুকেটর নিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রোগ্রামের কার্যকারিতা বাড়ানো, ব্যয় কমানো নয়।
D) তারা অডিওভিজ্যুয়াল টেকনোলজিতে দক্ষ: এই দক্ষতাটি একটি অতিরিক্ত সুবিধা হতে পারে, কিন্তু এটি তাদের অন্তর্ভুক্ত করার মূল কারণ নয়। সব স্থানীয় নারীর এই দক্ষতা নাও থাকতে পারে, কিন্তু তাদের সাংস্কৃতিক গ্রহণযোগ্যতা সবসময়ই থাকে।

রেফারেন্স:
UNICEF, Community-based Approaches in Nutrition Education, 2018.

৩৬.
গর্ভাবস্থায় প্রোটিনের চাহিদা সবচেয়ে বেশি কোন ট্রাইমেস্টারে বাড়ে এবং কেন?
In pregnancy, protein requirement increases most in which trimester and why?
  1. প্রথম ট্রাইমেস্টার – rapid placental growth (First trimester – rapid placental growth)
  2. দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টার – maternal tissue expansion (Second trimester – maternal tissue expansion)
  3. তৃতীয় ট্রাইমেস্টার – fetal tissue accretion (Third trimester – fetal tissue accretion)
  4. সব ট্রাইমেস্টারে সমান (Equal in all trimesters)
সঠিক উত্তর:
তৃতীয় ট্রাইমেস্টার – fetal tissue accretion (Third trimester – fetal tissue accretion)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয় ট্রাইমেস্টার – fetal tissue accretion (Third trimester – fetal tissue accretion)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: C) তৃতীয় ট্রাইমেস্টার – ভ্রূণের টিস্যু বৃদ্ধি (Third trimester – fetal tissue accretion)।

কেন এটি সঠিক: গর্ভাবস্থায় প্রোটিনের চাহিদা ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তবে তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে এই চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এর প্রধান কারণ হলো এই সময়ে ভ্রূণের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে।

ভ্রূণের টিস্যু গঠন: গর্ভধারণের শেষ তিন মাস (তৃতীয় ট্রাইমেস্টার)-এ ভ্রূণের পেশী, হাড় এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্রুত বিকাশ লাভ করে। এই টিস্যুগুলো গঠনের জন্য প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন প্রয়োজন হয়।
ওজন বৃদ্ধি: এই সময়ে ভ্রূণের ওজন সবচেয়ে দ্রুত বাড়ে, যা মূলত প্রোটিন জমা হওয়ার কারণে হয়।
মায়ের প্রয়োজন: পাশাপাশি, মায়ের প্লাজমা প্রোটিন, রক্ত এবং অন্যান্য টিস্যু তৈরির জন্যও প্রোটিন প্রয়োজন হয়। কিন্তু ভ্রূণের দ্রুত বৃদ্ধিই প্রোটিনের চাহিদা বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
তাই, একটি সুস্থ ভ্রূণের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে প্রোটিনের চাহিদা সর্বাধিক হয়।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) প্রথম ট্রাইমেস্টার: প্রথম ট্রাইমেস্টারে প্লাসেন্টার বৃদ্ধি শুরু হয়, কিন্তু তখন ভ্রূণের আকার খুবই ছোট থাকে, তাই প্রোটিনের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম।
B) দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টার: দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারে মায়ের টিস্যু এবং রক্ত ভলিউম বাড়তে থাকে, কিন্তু ভ্রূণের বৃদ্ধির হার তখনও তৃতীয় ট্রাইমেস্টারের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় না।
D) সব ট্রাইমেস্টারে সমান: গর্ভাবস্থার প্রতিটি ধাপে শরীরের চাহিদা আলাদা হয়। তাই প্রোটিনের চাহিদা প্রথম থেকে তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে ক্রমাগত বাড়তে থাকে, কোনোভাবেই সমান থাকে না।

রেফারেন্স:
FAO/WHO. Protein and amino acid requirements in human nutrition. 2007.

৩৭.
এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং (exclusively breastfeeding) চলাকালীন ভিটামিন ডি-এর অভাব শিশুদের মধ্যে প্রধানত কোন কারণে হয়? What is the main reason for Vitamin D deficiency in exclusively breastfed infants?
  1. মায়ের Vitamin D intake কম (Low maternal dietary intake)
  2. Breast milk-এর Vitamin D content অতি কম (Low vitamin D content in breast milk)
  3. শিশুর intestinal absorption দুর্বল (Poor intestinal absorption in infant)
  4. Excess calcium loss from bones (Excess calcium bone loss)
সঠিক উত্তর:
Breast milk-এর Vitamin D content অতি কম (Low vitamin D content in breast milk)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Breast milk-এর Vitamin D content অতি কম (Low vitamin D content in breast milk)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর:
B) মায়ের দুধের ভিটামিন ডি পরিমাণ অত্যন্ত কম (Low vitamin D content in breast milk)।

কেন এটি সঠিক: মায়ের বুকের দুধ শিশুদের জন্য একটি আদর্শ খাবার এবং প্রায় সব পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। কিন্তু ভিটামিন ডি এর ক্ষেত্রে বুকের দুধ একটি ব্যতিক্রম। মায়ের খাদ্যে ভিটামিন ডি পর্যাপ্ত থাকলেও, বুকের দুধে এর পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই খুব কম থাকে। প্রতি লিটার দুধে সাধারণত ২৫ আইইউ (IU)-এর কম ভিটামিন ডি থাকে, যা শিশুর দৈনিক চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

যেসব শিশু শুধুমাত্র বুকের দুধের উপর নির্ভরশীল এবং পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় না, তাদের শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব দেখা দেওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এই কারণে, বর্তমানে অনেক দেশের স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়া শিশুদের জন্য জন্মের পর থেকেই ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টেশন বা পরিপূরক দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) মায়ের ভিটামিন ডি গ্রহণ কম: মায়ের খাদ্যে ভিটামিন ডি কম থাকলে বুকের দুধে এর পরিমাণ আরও কমে যায়। এটি একটি কারণ বটে, তবে মূল কারণ হলো, মায়ের পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ সত্ত্বেও বুকের দুধে এর পরিমাণ এমনিতেই কম থাকে।
C) শিশুর অন্ত্রে শোষণ দুর্বল: সাধারণত সুস্থ শিশুদের ভিটামিন ডি শোষণের ক্ষমতা স্বাভাবিক থাকে। এই অভাবের জন্য শোষণের দুর্বলতা কোনো মূল কারণ নয়।
D) হাড় থেকে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম হ্রাস: হাড় থেকে ক্যালসিয়াম ক্ষয় ভিটামিন ডি-এর অভাবের একটি ফল, কারণ এটি শরীরে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দেয়, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়। এটি ভিটামিন ডি-এর অভাবের কারণ নয়।

রেফারেন্স:
Wagner CL, Greer FR. Prevention of rickets and vitamin D deficiency in infants. Pediatrics. 2008.

৩৮.
যদি শিশুদের পরিপূরক খাবার (complementary feeding) দিতে খুব দেরি করা হয়, তাহলে কোন পুষ্টির অভাব সবচেয়ে আগে দেখা দিতে পারে? What is the primary reason for reduced calcium absorption in the elderly?
  1. আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা (Iron deficiency anemia)
  2. Vitamin A deficiency (ভিটামিন এ-এর অভাব)
  3. Zinc deficiency (জিঙ্কের অভাব)
  4. Protein-energy malnutrition [প্রোটিন-এনার্জি অপুষ্টি (PEM)]
সঠিক উত্তর:
আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা (Iron deficiency anemia)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা (Iron deficiency anemia)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা (Iron deficiency anemia)।

কেন এটি সঠিক: জন্মের পর একটি শিশুর শরীরে মায়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত আয়রনের সঞ্চয় (iron store) থাকে। সাধারণত, এই সঞ্চয় প্রায় ৪ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত শিশুর আয়রনের চাহিদা মেটাতে পারে। ৬ মাস বয়সের পর শিশুর দ্রুত বৃদ্ধির কারণে তার আয়রনের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়, যা শুধুমাত্র বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব হয় না।

যদি এই সময়ে পরিপূরক খাবার (যা আয়রনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস) দেওয়া শুরু করতে দেরি হয়, তাহলে শিশুর শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দেয়। এই ঘাটতিই সবচেয়ে দ্রুত আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতার (anemia) কারণ হয়। তাই, ৬ মাস বয়সের পর থেকেই শিশুদের জন্য আয়রন-সমৃদ্ধ পরিপূরক খাবার চালু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) ভিটামিন এ-এর অভাব: ভিটামিন এ-এর অভাবও হতে পারে, কিন্তু এটি সাধারণত আয়রনের অভাবের মতো এত দ্রুত প্রকাশ পায় না।
C) জিঙ্কের অভাব: জিঙ্কের অভাবও পরিপূরক খাবার দেরিতে শুরু করলে দেখা দিতে পারে, কিন্তু আয়রনের সঞ্চয় দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় আয়রনের অভাবই সবচেয়ে আগে হয়।
D) প্রোটিন-এনার্জি অপুষ্টি (PEM): এটি একটি সামগ্রিক অপুষ্টি, যা সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে অপর্যাপ্ত খাবার গ্রহণের ফলে হয়। এটি আয়রনের মতো এত দ্রুত একক কোনো পুষ্টি উপাদানের অভাবের কারণে ঘটে না।

WHO. Complementary feeding: Report of the global consultation. 2002.

৩৯.
বয়স্ক মানুষের মধ্যে ক্যালসিয়াম শোষণ হ্রাসের প্রধান কারণ কোনটি?[What is the primary reason for reduced calcium absorption in the elderly?]
  1. Gastric acid production কমে যাওয়া (Reduced gastric acid secretion)
  2. Vitamin D activation কমে যাওয়া (Reduced vitamin D activation)
  3.  অন্ত্রের ভিলি চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়া (Villous atrophy)
  4. Phytate intake বেশি (High phytate intake)
সঠিক উত্তর:
Vitamin D activation কমে যাওয়া (Reduced vitamin D activation)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Vitamin D activation কমে যাওয়া (Reduced vitamin D activation)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) ভিটামিন ডি সক্রিয়করণ কমে যাওয়া (Reduced vitamin D activation)।

কেন এটি সঠিক: ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য অপরিহার্য। সূর্যের আলোতে ত্বক ভিটামিন ডি তৈরি করে, যা পরে লিভার এবং কিডনিতে সক্রিয় হয়। এই সক্রিয় ভিটামিন ডি (ক্যালসিট্রিয়ল) খাদ্য থেকে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে, কিডনির কার্যকারিতা ধীরে ধীরে কমে যায়। এর ফলে কিডনিতে ভিটামিন ডি-কে তার সক্রিয় রূপ (ক্যালসিট্রিয়ল)-এ রূপান্তরিত করার ক্ষমতা হ্রাস পায়। সক্রিয় ভিটামিন ডি-এর অভাবে খাদ্যনালী থেকে ক্যালসিয়ামের শোষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, যা বয়স্কদের মধ্যে ক্যালসিয়ামের অভাবের প্রধান কারণ।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড উৎপাদন কমে যাওয়া: গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য কিছুটা গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি ভিটামিন ডি সক্রিয়করণের হ্রাসের মতো মূল কারণ নয়।
C) অন্ত্রের ভিলি চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়া (Villous atrophy): এটি সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট রোগের কারণে ঘটে, যেমন সিলিয়াক রোগ (celiac disease)। এটি বয়স্কদের মধ্যে ক্যালসিয়াম শোষণের হ্রাসের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নয়।
D) ফাইটেট গ্রহণ বেশি: ফাইটেট (phytate) কিছু খাবারে থাকে যা ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দিতে পারে, কিন্তু এটি একটি খাদ্যতালিকাগত কারণ। বয়স্কদের মধ্যে ক্যালসিয়াম শোষণের হ্রাসের মূল কারণ হলো শারীরবৃত্তীয় (physiological) পরিবর্তন, খাদ্যতালিকাগত নয়।

রেফারেন্স:
Gallagher JC. Vitamin D and aging. Endocrinol Metab Clin North Am. 2013

৪০.
গর্ভাবস্থায় অপুষ্টি হলে কোন ফলাফলটি সবচেয়ে বেশি দীর্ঘমেয়াদী আন্তঃপ্রজন্মীয় (intergenerational) প্রভাব ফেলে?[Which outcome of maternal undernutrition has the strongest long-term intergenerational effect?]
  1. কম জন্ম ওজন (Low birth weight - LBW)
  2. সময়ের আগে জন্ম (Preterm birth)
  3. জন্মগত অস্বাভাবিকতা (Congenital anomalies)
  4. গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ (Gestational hypertension)
সঠিক উত্তর:
কম জন্ম ওজন (Low birth weight - LBW)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম জন্ম ওজন (Low birth weight - LBW)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) কম জন্ম ওজন (Low birth weight - LBW)।

কেন এটি সঠিক: মায়ের অপুষ্টির কারণে যখন একটি শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মায় (২.৫ কেজির কম), তখন এটি শুধু তার তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যকেই প্রভাবিত করে না, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী দুষ্টচক্র বা "আন্তঃপ্রজন্মীয় চক্র" (intergenerational cycle) তৈরি করে।

এই চক্রটি এভাবে কাজ করে:

কম জন্ম ওজন (LBW): অপুষ্টিতে ভোগা মায়ের গর্ভ থেকে একটি শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মায়।
শিশুকালের অপুষ্টি: এই শিশুরা শৈশবে বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়া (stunting) এবং দুর্বল জ্ঞানীয় বিকাশের (poor cognitive development) ঝুঁকিতে থাকে।
প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে রোগ: তারা যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়, তখন তাদের মধ্যে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগ (NCD) হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
পরবর্তী প্রজন্ম: এই মহিলারা যখন মা হন, তখন তাদের নিজেদের স্বাস্থ্য খারাপ থাকার কারণে তাদের গর্ভ থেকেও কম ওজনের শিশু জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে।
এইভাবেই এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে অপুষ্টির সমস্যাটি প্রবাহিত হতে থাকে। তাই, মায়ের অপুষ্টির সবচেয়ে গভীর এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব হলো কম জন্ম ওজন।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) সময়ের আগে জন্ম (Preterm birth): সময়ের আগে জন্ম নেওয়া একটি তাৎক্ষণিক জটিলতা যা গুরুতর হলেও, এটি কম জন্ম ওজনের মতো একটি সুনির্দিষ্ট আন্তঃপ্রজন্মীয় চক্র তৈরি করে না।
C) জন্মগত অস্বাভাবিকতা (Congenital anomalies): জন্মগত অস্বাভাবিকতা সাধারণত জেনেটিক বা কিছু পরিবেশগত কারণের সাথে সম্পর্কিত, অপুষ্টির সঙ্গে এর সরাসরি আন্তঃপ্রজন্মীয় সম্পর্ক কম।
D) গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ (Gestational hypertension): এটি মায়ের একটি সমস্যা যা গর্ভাবস্থায় দেখা দেয়। এর ফলে শিশুর উপর কিছু স্বল্পমেয়াদী প্রভাব থাকতে পারে, কিন্তু এটি কম জন্ম ওজনের মতো দীর্ঘমেয়াদী আন্তঃপ্রজন্মীয় প্রভাব তৈরি করে না।

রেফারেন্স:
Victora CG et al. Maternal and child undernutrition. Lancet. 2008.

৪১.
বয়স্কদের খাদ্যতালিকায় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে মৃত্যুহার কমাতে সাহায্য করে?[Which dietary modification in the elderly most critically reduces mortality?]
  1. Sodium restriction (লবণ কমানো)
  2. High protein diet (উচ্চ প্রোটিন ডায়েট)
  3. High fiber diet (উচ্চ আঁশযুক্ত খাদ্য)
  4. Vitamin supplementation (ভিটামিন সাপ্লিমেন্টেশন)
সঠিক উত্তর:
Sodium restriction (লবণ কমানো)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Sodium restriction (লবণ কমানো)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) লবণ কমানো (Sodium restriction)।

কেন এটি সঠিক: বয়স্কদের মধ্যে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো হৃদরোগ (Cardiovascular disease - CVD)। উচ্চ রক্তচাপ (hypertension) হৃদরোগের একটি প্রধান ঝুঁকির কারণ। খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ সরাসরি রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

লবণ গ্রহণ সীমিত করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। এই কারণে, বয়স্কদের মধ্যে মৃত্যুর হার কমানোর জন্য লবণ কমানোর বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধুমাত্র একটি পুষ্টিগত পরিবর্তন নয়, এটি সরাসরি একটি জীবন রক্ষাকারী পদক্ষেপ।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) উচ্চ প্রোটিন ডায়েট (High protein diet): প্রোটিন বয়স্কদের পেশী ভর (muscle mass) বজায় রাখতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, কিন্তু এর সঙ্গে মৃত্যুহার কমানোর সরাসরি ও শক্তিশালী প্রমাণ লবণের মতো নেই।
C) উচ্চ আঁশযুক্ত খাদ্য (High fiber diet): আঁশযুক্ত খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে এবং পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। যদিও এটি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, কিন্তু এর সঙ্গে মৃত্যুহার কমানোর কোনো সরাসরি যোগসূত্র প্রমাণিত হয়নি।
D) ভিটামিন সাপ্লিমেন্টেশন (Vitamin supplementation): ভিটামিন সাপ্লিমেন্টেশন তখনই প্রয়োজন হয় যখন কোনো নির্দিষ্ট ভিটামিনের অভাব থাকে। এটি নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে উপকারী হলেও, সার্বিকভাবে বা ব্যাপক পরিসরে এটি মৃত্যুহার কমানোর মতো ভূমিকা রাখে না।

রেফারেন্স:
He FJ, MacGregor GA. Salt, blood pressure and cardiovascular disease. Curr Opin Cardiol. 2007.

৪২.
শিশুর পুষ্টির ক্ষেত্রে মায়ের বুকের দুধ এবং গরুর দুধের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য কোনটি? What is the most critical nutritional difference between breast milk and cow’s milk for infants?
  1. Protein concentration (প্রোটিনের পরিমাণ)
  2. Fatty acid profile (ফ্যাটি এসিড প্রোফাইল
  3. Immunological factors (ইমিউনোলজিক্যাল ফ্যাক্টর)
  4. Lactose concentration (ল্যাক্টোজ পরিমাণ)
সঠিক উত্তর:
Immunological factors (ইমিউনোলজিক্যাল ফ্যাক্টর)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Immunological factors (ইমিউনোলজিক্যাল ফ্যাক্টর)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: C) ইমিউনোলজিক্যাল ফ্যাক্টর (Immunological factors)।

কেন এটি সঠিক: মায়ের বুকের দুধ শুধুমাত্র পুষ্টির উৎস নয়, এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে। বুকের দুধে বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধক উপাদান থাকে, যা গরুর দুধে থাকে না। এই উপাদানগুলো হলো:

ইমিউনোগ্লোবুলিন (IgA): এটি শিশুর অন্ত্রে একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা রোগজীবাণু থেকে রক্ষা করে।
ল্যাক্টোফেরিন (Lactoferrin): এটি একটি প্রোটিন যা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে বাধা দেয়।
লাইসোজাইম (Lysozyme): এটি ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর ভেঙে দেয়, যা তাদের ধ্বংস করে।
শ্বেত রক্তকণিকা (White blood cells): বুকের দুধে থাকা শ্বেত রক্তকণিকা সরাসরি সংক্রমণ মোকাবিলায় সাহায্য করে।
এই ইমিউনোলজিক্যাল উপাদানগুলো শিশুকে বিভিন্ন রোগ এবং সংক্রমণ (যেমন: ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া) থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গরুর দুধে এই ধরনের রোগ প্রতিরোধক উপাদানগুলো অনুপস্থিত।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) প্রোটিনের পরিমাণ: গরুর দুধে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকে, যা শিশুর অপরিণত কিডনির উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। যদিও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য, কিন্তু ইমিউনোলজিক্যাল সুরক্ষার চেয়ে এর গুরুত্ব কম নয়।
B) ফ্যাটি অ্যাসিড প্রোফাইল: বুকের দুধে ফ্যাটি অ্যাসিডের এমন একটি প্রোফাইল রয়েছে যা শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ এবং স্নায়ুতন্ত্রের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলেও, জীবনের প্রথম দিকে সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য ইমিউনোলজিক্যাল ফ্যাক্টরগুলো সবচেয়ে বেশি জরুরি।
D) ল্যাকটোজের পরিমাণ: বুকের দুধে গরুর দুধের চেয়ে বেশি ল্যাকটোজ থাকে। যদিও ল্যাকটোজ শক্তি সরবরাহ করে, কিন্তু এটি বুকের দুধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য নয়, কারণ এটি রোগ প্রতিরোধে সরাসরি ভূমিকা রাখে না।

রেফারেন্স:
Ballard O, Morrow AL. Human milk composition. Pediatr Clin North Am. 2013.

৪৩.
শস্যদানা (Cereals)-এ প্রোটিনের জৈবিক মান (Biological Value) কম হওয়ার প্রধান কারণ কী?
What is the main reason for the low biological value of proteins in cereals?
  1. লাইসিনের অভাব (Deficiency of Lysine)
  2. ট্রিপটোফ্যানের অভাব (Deficiency of Tryptophan)
  3. মেথিওনিনের অভাব (Deficiency of Methionine)
  4. সালফার কন্টেন্ট বেশি (Excess sulfur content)
সঠিক উত্তর:
লাইসিনের অভাব (Deficiency of Lysine)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইসিনের অভাব (Deficiency of Lysine)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) লাইসিনের অভাব (Deficiency of Lysine)।

কেন এটি সঠিক: প্রোটিনের জৈবিক মান (Biological Value - BV) হলো সেই পরিমাপ, যা নির্দেশ করে যে খাদ্য প্রোটিন কতটুকু দক্ষতার সাথে শরীরের প্রোটিনে রূপান্তরিত হতে পারে। এই মান নির্ভর করে খাদ্যে থাকা অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডগুলোর (essential amino acids) পরিমাণের ওপর। যদি কোনো একটি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডের পরিমাণ কম থাকে, তবে সেই প্রোটিনের জৈবিক মানও কম হয়।

শস্যদানা (যেমন: গম, চাল, ভুট্টা) হলো প্রোটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস, কিন্তু এদের প্রোটিনে লাইসিন নামক অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডের পরিমাণ খুব কম থাকে। যেহেতু লাইসিন প্রোটিন তৈরির জন্য একটি প্রয়োজনীয় উপাদান, এর অভাব প্রোটিন সংশ্লেষণকে সীমিত করে দেয়। এই সীমাবদ্ধতার কারণে, শস্যদানার প্রোটিন সম্পূর্ণভাবে শরীরের প্রোটিন হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে না, ফলে এর জৈবিক মান কম হয়।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) ট্রিপটোফ্যানের অভাব: শস্যদানায় ট্রিপটোফ্যান সাধারণত পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে।
c) মেথিওনিনের অভাব: মেথিওনিনের অভাব শস্যে নয়, বরং ডাল জাতীয় খাদ্যে দেখা যায়। শস্যদানায় মেথিওনিন সাধারণত পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে।
d) সালফার কন্টেন্ট বেশি: শস্যদানায় সালফার কন্টেন্ট বেশি থাকার কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি প্রোটিনের জৈবিক মান কম হওয়ার কারণ নয়।

? Reference: FAO/WHO Protein Quality Evaluation

৪৪.
ডিমের কুসুম (Egg yolk) কোন ভিটামিনের সমৃদ্ধ উৎস যা ডিমের সাদা অংশে প্রায় অনুপস্থিত?
Egg yolk is rich in which vitamin that is almost absent in egg white?
  1. ভিটামিন B12 (Vitamin B12)
  2. ভিটামিন A (Vitamin A)
  3. ভিটামিন C (Vitamin C)
  4. ভিটামিন D (Vitamin D)
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন A (Vitamin A)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন A (Vitamin A)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর:
b) ভিটামিন A (Vitamin A)।

কেন এটি সঠিক: ডিমের দুটি প্রধান অংশ থাকে: কুসুম (yolk) এবং সাদা অংশ (egg white)। এদের পুষ্টি উপাদান সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ডিমের কুসুম: এটি প্রধানত চর্বি, কোলেস্টেরল এবং চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলোর (fat-soluble vitamins) উৎস। ভিটামিন A হলো এমন একটি চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন যা কুসুমে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এছাড়া, কুসুমে ভিটামিন D, E, এবং K-ও থাকে।
ডিমের সাদা অংশ (Egg white): এটি প্রায় সম্পূর্ণ প্রোটিন এবং জল দিয়ে গঠিত। এতে কোনো চর্বি থাকে না, তাই চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো (যেমন: ভিটামিন A) এতে প্রায় অনুপস্থিত।
সুতরাং, ডিমের কুসুম ভিটামিন A-এর একটি সমৃদ্ধ উৎস, যেখানে সাদা অংশে এই ভিটামিনটি প্রায় নেই বললেই চলে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) ভিটামিন B12: ভিটামিন B12 জলে দ্রবণীয় (water-soluble) একটি ভিটামিন। এটি ডিমের সাদা এবং কুসুম উভয় অংশেই পাওয়া যায়, তবে কুসুমে এর পরিমাণ বেশি থাকে। তাই এটি সাদা অংশে প্রায় অনুপস্থিত বলা সঠিক নয়।
c) ভিটামিন C: ভিটামিন C একটি জলে দ্রবণীয় ভিটামিন যা সাধারণত ফল এবং সবজিতে পাওয়া যায়। ডিমের সাদা বা কুসুম, কোনো অংশেই এটি থাকে না।
d) ভিটামিন D: ভিটামিন D একটি চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন এবং এটি ভিটামিন A-এর মতোই ডিমের কুসুমে পাওয়া যায়। তবে, ডিমের কুসুম প্রধানত ভিটামিন A-এর জন্যও পরিচিত।

? Reference: USDA Food Composition Data

৪৫.
মাছের ক্যালসিয়াম কন্টেন্ট বেশি থাকে কোন অবস্থায়?
Calcium content in fish is high in which condition?
  1. মাছের তেলে (In fish oil)
  2. মাছের পেশীতে (In fish muscle)
  3. পুরো ছোট মাছ হাড়সহ খেলে (When small fish is consumed with bones)
  4. শুধু মাছের ডিম খেলে (When only fish roe is consumed)
সঠিক উত্তর:
পুরো ছোট মাছ হাড়সহ খেলে (When small fish is consumed with bones)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরো ছোট মাছ হাড়সহ খেলে (When small fish is consumed with bones)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: c) পুরো ছোট মাছ হাড়সহ খেলে।

কেন এটি সঠিক: ক্যালসিয়াম মূলত হাড়ের একটি প্রধান উপাদান। মাছের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যখন ছোট মাছ (যেমন: মলা, ঢেলা, পুঁটি) তার নরম কাঁটা বা হাড়সহ খাওয়া হয়, তখন শরীর প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে পারে। এই ছোট মাছের হাড়গুলো ক্যালসিয়ামের অত্যন্ত ভালো উৎস, যা মানবদেহের হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) মাছের তেলে: মাছের তেল মূলত ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং কিছু চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনের (যেমন: ভিটামিন এ, ডি) উৎস। এতে কোনো ক্যালসিয়াম থাকে না।
b) মাছের পেশীতে: মাছের পেশী বা মাংস প্রোটিনের একটি ভালো উৎস। এতে ক্যালসিয়াম থাকে ঠিকই, কিন্তু এর পরিমাণ হাড়ের তুলনায় অনেক কম।
d) শুধু মাছের ডিম খেলে: মাছের ডিম প্রোটিন, চর্বি এবং কিছু ভিটামিনের উৎস, কিন্তু এতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ খুব কম।

৪৬.
বাংলা: বাদাম ও তেলবীজে কোন ভিটামিন প্রধানত পাওয়া যায় যা জলীয় দ্রবণীয় ভিটামিন নয়?
Which vitamin is predominantly found in nuts and oilseeds that is not water-soluble?
  1. ভিটামিন E (Vitamin E)
  2. ভিটামিন B1 (Vitamin B1)
  3. ভিটামিন B6 (Vitamin B6)
  4. ভিটামিন C (Vitamin C)
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন E (Vitamin E)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন E (Vitamin E)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) ভিটামিন E (Vitamin E)।

কেন এটি সঠিক: বাদাম এবং তেলবীজ উদ্ভিজ্জ চর্বি বা ফ্যাটের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ভিটামিন ই হলো একটি চর্বিতে দ্রবণীয় (fat-soluble) ভিটামিন, যার অর্থ এটি চর্বির উপস্থিতিতেই ভালোভাবে শোষিত হয়। বাদাম ও তেলবীজে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক তেল থাকে, যা এই ভিটামিন ই-এর জন্য একটি আদর্শ মাধ্যম। ভিটামিন ই একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের কোষগুলোকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
b) ভিটামিন B1 (থায়ামিন): এটি একটি জলীয় দ্রবণীয় ভিটামিন। যদিও বাদাম ও তেলবীজে ভিটামিন B1 থাকে, তবে এটি এদের সবচেয়ে প্রধান ভিটামিন নয় এবং এটি প্রশ্নের শর্ত (জলীয় দ্রবণীয় নয়) পূরণ করে না।
c) ভিটামিন B6 (পাইরিডক্সিন): এটিও একটি জলীয় দ্রবণীয় ভিটামিন। এটি বাদামে পাওয়া গেলেও, এর পরিমাণ ভিটামিন ই-এর মতো প্রধান নয়।
d) ভিটামিন C: ভিটামিন C একটি জলীয় দ্রবণীয় ভিটামিন এবং এটি প্রধানত ফল ও সবজিতে পাওয়া যায়। বাদাম ও তেলবীজে এর উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে।

Reference: FAO Food Composition

৪৭.
দুধে ভিটামিন C কম থাকার কারণে শিশুদের জন্য কী সমস্যা হতে পারে যদি দুধই প্রধান খাদ্য হয়?
What deficiency problem may occur in infants if milk is the only food due to its low Vitamin C?
  1. স্কার্ভি (Scurvy)
  2. রিকেটস (Rickets)
  3. অ্যানিমিয়া (Anemia)
  4. নাইট ব্লাইন্ডনেস (Night blindness)
সঠিক উত্তর:
স্কার্ভি (Scurvy)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্কার্ভি (Scurvy)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) স্কার্ভি (Scurvy)।

কেন এটি সঠিক: ভিটামিন সি হলো একটি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান যা শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য প্রয়োজন, যেমন কোলাজেন তৈরি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো। মানবদেহ নিজে থেকে ভিটামিন সি তৈরি করতে পারে না, তাই এটি অবশ্যই খাদ্য থেকে গ্রহণ করতে হয়। দুধে ভিটামিন সি-এর পরিমাণ খুবই কম থাকে।
যদি কোনো শিশুর একমাত্র খাদ্য দুধ হয় এবং সে ফল বা সবজি থেকে ভিটামিন সি গ্রহণ না করে, তাহলে তার শরীরে ভিটামিন সি-এর তীব্র ঘাটতি দেখা দেবে। ভিটামিন সি-এর এই ঘাটতির কারণে যে রোগটি হয়, তাকে স্কার্ভি বলে। স্কার্ভির লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্বলতা, রক্তক্ষরণ (বিশেষত মাড়ি থেকে), হাড়ের ব্যথা, এবং পেশী ব্যথা।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
b) রিকেটস (Rickets): রিকেটস হলো ভিটামিন ডি-এর অভাবজনিত একটি রোগ, যা হাড়কে দুর্বল করে দেয়।
c) অ্যানিমিয়া (Anemia): অ্যানিমিয়া সাধারণত আয়রনের অভাবে হয়, যা রক্তে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা কমিয়ে দেয়।
d) নাইট ব্লাইন্ডনেস (Night blindness): নাইট ব্লাইন্ডনেস বা রাতকানা রোগ হলো ভিটামিন এ-এর অভাবের কারণে হয়, যা দৃষ্টিশক্তির উপর প্রভাব ফেলে।

Reference: WHO Nutrition Manual

৪৮.
শাকসবজি (Leafy vegetables)-তে কোন খনিজ সর্বাধিক পাওয়া যায়?
Which mineral is most abundant in leafy vegetables?
  1. ক্যালসিয়াম (Calcium)
  2. আয়রন (Iron)
  3. পটাশিয়াম (Potassium)
  4. সোডিয়াম (Sodium)
সঠিক উত্তর:
পটাশিয়াম (Potassium)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাশিয়াম (Potassium)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: c) পটাশিয়াম (Potassium)।

কেন এটি সঠিক: পটাশিয়াম হলো একটি অপরিহার্য খনিজ উপাদান যা শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং পেশীর কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, পালং শাক, কেল, এবং অন্যান্য সবুজ শাকসবজিতে পটাশিয়ামের পরিমাণ অন্যান্য খনিজের তুলনায় সর্বাধিক থাকে।

যদিও কিছু সবুজ শাকে ক্যালসিয়াম এবং আয়রনের মতো খনিজও থাকে, কিন্তু পটাশিয়াম তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। এই কারণে, শাকসবজিকে পটাশিয়ামের একটি চমৎকার উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) ক্যালসিয়াম: কিছু শাকে ক্যালসিয়াম থাকে (যেমন: পালং শাক), তবে অনেক শাকে অক্সালেট নামক একটি উপাদান থাকে যা ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দেয়। তাই শাক ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস হলেও, পটাশিয়ামের চেয়ে বেশি থাকে না।
b) আয়রন: শাকসবজিতে আয়রন থাকে, কিন্তু এটি উদ্ভিজ্জ আয়রন (non-heme iron), যা প্রাণীজ আয়রনের (heme iron) তুলনায় শরীরের দ্বারা কম শোষিত হয়।
d) সোডিয়াম: শাকসবজিতে সোডিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য সোডিয়াম কমানো হলে পটাশিয়াম সমৃদ্ধ শাকসবজি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

Reference: USDA Data

৪৯.
ফলমূল প্রধানত কোন ধরণের কার্বোহাইড্রেট সরবরাহ করে?
 Fruits primarily supply which type of carbohydrate?
  1. স্টার্চ (Starch)
  2. মনোস্যাকারাইড (Monosaccharides)
  3. ডাইস্যাকারাইড (Disaccharides)
  4. পলিস্যাকারাইড (Polysaccharides)
সঠিক উত্তর:
মনোস্যাকারাইড (Monosaccharides)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোস্যাকারাইড (Monosaccharides)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) মনোস্যাকারাইড (Monosaccharides)।

কেন এটি সঠিক: কার্বোহাইড্রেটকে তার গঠনের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়। মনোস্যাকারাইড হলো কার্বোহাইড্রেটের সবচেয়ে সরল রূপ, যা শরীর সরাসরি শোষণ করে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ফলমূলে প্রধানত দুই ধরনের মনোস্যাকারাইড পাওয়া যায়:

ফ্রুক্টোজ (Fructose): এটি ফলের প্রধান শর্করা।
গ্লুকোজ (Glucose): এটিও ফলে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
এই সরল শর্করাগুলো দ্রুত হজম হয় এবং শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি যোগায়। তাই, ফলকে মনোস্যাকারাইডের একটি চমৎকার উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) স্টার্চ (Starch): স্টার্চ হলো একটি পলিস্যাকারাইড, যা শস্যদানা (যেমন: চাল, গম) এবং কিছু সবজিতে (যেমন: আলু) প্রধানত পাওয়া যায়। ফলের মধ্যে স্টার্চের পরিমাণ সাধারণত খুবই কম।
c) ডাইস্যাকারাইড (Disaccharides): ডাইস্যাকারাইড হলো দুই অণু মনোস্যাকারাইড দিয়ে গঠিত। ফলমূলে কিছু পরিমাণে ডাইস্যাকারাইড (যেমন: সুক্রোজ) থাকলেও, এর প্রধান শর্করা হলো মনোস্যাকারাইড।
d) পলিস্যাকারাইড (Polysaccharides): পলিস্যাকারাইড হলো অনেকগুলো মনোস্যাকারাইডের সমন্বয়ে গঠিত জটিল শর্করা। স্টার্চ এবং ফাইবার হলো পলিস্যাকারাইডের উদাহরণ। ফাইবার ফলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও, এটি ফল থেকে প্রাপ্ত প্রধান কার্বোহাইড্রেট নয়।

Reference: Gopalan et al.

৫০.
Pulses + Cereals একসাথে খাওয়ার সুবিধা কী?
 What is the advantage of combining pulses and cereals?
  1. ক্যালসিয়াম শোষণ বাড়ায় (Enhances calcium absorption)
  2. ভিটামিন C পূরণ হয় (Fulfills Vitamin C needs)
  3. প্রোটিনের অ্যামিনো অ্যাসিড প্রোফাইল পরিপূরক হয় (Complementary amino acid profile of protein)
  4. ফ্যাট কন্টেন্ট বাড়ে (Increases fat content)
সঠিক উত্তর:
প্রোটিনের অ্যামিনো অ্যাসিড প্রোফাইল পরিপূরক হয় (Complementary amino acid profile of protein)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটিনের অ্যামিনো অ্যাসিড প্রোফাইল পরিপূরক হয় (Complementary amino acid profile of protein)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: c) প্রোটিনের অ্যামিনো অ্যাসিড প্রোফাইল পরিপূরক হয় (Complementary amino acid profile of protein)।

কেন এটি সঠিক: ডাল এবং শস্যদানা উভয়ই প্রোটিনের উৎস, কিন্তু তাদের মধ্যে থাকা অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডগুলোর পরিমাণে পার্থক্য রয়েছে।

শস্যদানা (Cereals): যেমন: চাল, গম, ভুট্টা। এদের প্রোটিনে লাইসিন (lysine) নামক অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডের পরিমাণ কম থাকে, যা প্রোটিনের জৈবিক মানকে সীমিত করে দেয়।
ডাল (Pulses): যেমন: মসুর ডাল, ছোলা, মুগ ডাল। এদের প্রোটিনে মেথিওনিন (methionine) নামক সালফার-যুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিডের পরিমাণ কম থাকে।
যখন ডাল এবং শস্যদানা একসাথে খাওয়া হয় (যেমন: ভাত-ডাল, রুটি-ডাল), তখন তারা একে অপরের অ্যামিনো অ্যাসিডের ঘাটতি পূরণ করে। শস্যের লাইসিনের ঘাটতি ডাল পূরণ করে এবং ডালের মেথিওনিনের ঘাটতি শস্য পূরণ করে। এই সমন্বয়ের ফলে একটি সম্পূর্ণ প্রোটিন তৈরি হয়, যা শরীরের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) ক্যালসিয়াম শোষণ বাড়ায়: ডাল এবং শস্য একসাথে খাওয়া ক্যালসিয়াম শোষণে কোনো সরাসরি প্রভাব ফেলে না। ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য ভিটামিন ডি এবং অন্যান্য কিছু ফ্যাক্টর প্রয়োজন হয়।
b) ভিটামিন C পূরণ হয়: ডাল এবং শস্যে ভিটামিন সি নেই। ভিটামিন সি প্রধানত ফল এবং সবজিতে পাওয়া যায়।
d) ফ্যাট কন্টেন্ট বাড়ে: ডাল এবং শস্যে ফ্যাটের পরিমাণ খুব কম। তাই এদের একত্রে খেলে ফ্যাটের পরিমাণ বাড়ে না।

Reference: FAO/WHO Report on Protein Quality

৫১.
মাংসে (Meat) কোন ভিটামিনটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে থাকে যা উদ্ভিজ্জ খাদ্যে প্রায় অনুপস্থিত?
 Which vitamin is significantly present in meat but almost absent in plant foods?
  1. ভিটামিন A (Vitamin A)
  2. ভিটামিন B12 (Vitamin B12)
  3. ভিটামিন K (Vitamin K)
  4. ভিটামিন E (Vitamin E)
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন B12 (Vitamin B12)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন B12 (Vitamin B12)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) ভিটামিন B12 (Vitamin B12)।

কেন এটি সঠিক: ভিটামিন B12, যা কোবালামিন (cobalamin) নামেও পরিচিত, এটি একটি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান। এটি স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা, রক্ত ​​কোষ গঠন এবং ডিএনএ সংশ্লেষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ভিটামিনের সবচেয়ে প্রধান এবং নির্ভরযোগ্য উৎস হলো প্রাণীজ খাদ্য।

প্রাণীজ উৎস: মাংস, মাছ, ডিম, দুগ্ধজাত পণ্য এবং পোল্ট্রিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন B12 থাকে।
উদ্ভিজ্জ উৎস: প্রাকৃতিকভাবে কোনো উদ্ভিজ্জ খাদ্যে ভিটামিন B12 পাওয়া যায় না। কিছু খাবার (যেমন: ফোর্টিফাইড সিরিয়াল বা কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ইস্ট) কৃত্রিমভাবে ভিটামিন B12 দিয়ে সমৃদ্ধ করা হয়, কিন্তু তা প্রাকৃতিকভাবে উপস্থিত নয়।
এই কারণেই যারা সম্পূর্ণ নিরামিষাশী বা ভেগান (vegan) ডায়েট অনুসরণ করেন, তাদের শরীরে ভিটামিন B12-এর অভাব দেখা দেওয়ার ঝুঁকি খুব বেশি থাকে এবং তাদের প্রায়শই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
Reference: WHO/FAO Micronutrient Guidelines

৫২.
বাদাম ও তেলবীজে প্রচুর PUFA থাকার কারণে কোন স্বাস্থ্য উপকার পাওয়া যায়?
 Due to high PUFA content in nuts and oilseeds, which health benefit is obtained?
  1. HDL কোলেস্টেরল বাড়ায় (Increases HDL cholesterol)
  2. LDL কোলেস্টেরল বাড়ায় (Increases LDL cholesterol)
  3. ট্রান্স ফ্যাট বাড়ায় (Increases trans fat)
  4. গ্লুকোজ লেভেল বাড়ায় (Increases glucose level)
সঠিক উত্তর:
HDL কোলেস্টেরল বাড়ায় (Increases HDL cholesterol)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
HDL কোলেস্টেরল বাড়ায় (Increases HDL cholesterol)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) এইচডিএল কোলেস্টেরল বাড়ায় (Increases HDL cholesterol)।

কেন এটি সঠিক: বাদাম এবং তেলবীজ, যেমন আখরোট, চিনাবাদাম, তিলের বীজ এবং সূর্যমুখীর বীজে প্রচুর পরিমাণে পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড (PUFA) থাকে। এই ধরনের স্বাস্থ্যকর চর্বিগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এলডিএল (LDL) কোলেস্টেরল হ্রাস: পিইউএফএ রক্তে "খারাপ" কোলেস্টেরল, অর্থাৎ এলডিএল (LDL)-এর পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। উচ্চ এলডিএল ধমনীতে প্লাক তৈরি করে, যা হৃদরোগের কারণ।
এইচডিএল (HDL) কোলেস্টেরল বৃদ্ধি: একই সাথে, পিইউএফএ "ভালো" কোলেস্টেরল, অর্থাৎ এইচডিএল (HDL)-এর পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। এইচডিএল কোলেস্টেরল অতিরিক্ত কোলেস্টেরলকে ধমনী থেকে সরিয়ে লিভারে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
এই দ্বৈত প্রভাবের কারণে, বাদাম এবং তেলবীজ হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) এলডিএল কোলেস্টেরল বাড়ায়: এটি ভুল। পিইউএফএ-এর প্রধান কাজ হলো এলডিএল কোলেস্টেরল কমানো।
c) ট্রান্স ফ্যাট বাড়ায়: এটি ভুল। ট্রান্স ফ্যাট হলো কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত অ-স্বাস্থ্যকর চর্বি। বাদাম ও তেলবীজে প্রাকৃতিকভাবে ট্রান্স ফ্যাট থাকে না।
d) গ্লুকোজ লেভেল বাড়ায়: এটি ভুল। বাদাম ও তেলবীজে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় না। বরং, কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

Reference: American Heart Association

৫৩.
শরীরে শক্তি ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ কোনটি থেকে আসে?
(Which component contributes the largest portion of total energy expenditure?)
  1. Basal Metabolic Rate (BMR) – বেসাল মেটাবলিক রেট
  2. Physical Activity – শারীরিক কার্যকলাপ
  3. Thermic Effect of Food (TEF) – খাবারের তাপীয় প্রভাব
  4. Adaptive Thermogenesis – অভিযোজিত তাপ উৎপাদন
সঠিক উত্তর:
Basal Metabolic Rate (BMR) – বেসাল মেটাবলিক রেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Basal Metabolic Rate (BMR) – বেসাল মেটাবলিক রেট
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) বেসাল মেটাবলিক রেট (Basal Metabolic Rate - BMR)।

কেন এটি সঠিক: বেসাল মেটাবলিক রেট (BMR) হলো সেই পরিমাণ শক্তি যা শরীর সম্পূর্ণ বিশ্রামের সময় তার মৌলিক শারীরিক কার্যক্রম (যেমন: শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্ত ​​সঞ্চালন, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ) বজায় রাখার জন্য ব্যয় করে। একজন ব্যক্তির দৈনিক মোট শক্তি ব্যয়ের (Total Daily Energy Expenditure - TDEE) প্রায় ৬০% থেকে ৭০% পর্যন্ত আসে এই BMR থেকে।

এর অর্থ হলো, যখন আমরা ঘুমিয়ে থাকি বা সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকি, তখনও আমাদের শরীরের বেশিরভাগ শক্তি এই অত্যাবশ্যকীয় কাজগুলোর জন্য খরচ হতে থাকে। এটি শারীরিক কার্যকলাপ বা খাদ্য হজমের জন্য ব্যবহৃত শক্তির চেয়ে অনেক বেশি।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
b) শারীরিক কার্যকলাপ (Physical Activity): শারীরিক কার্যকলাপের জন্য ব্যয়িত শক্তি দৈনিক মোট শক্তি ব্যয়ের প্রায় ২০% থেকে ৩০% পর্যন্ত হয়। এটি BMR-এর চেয়ে কম।
c) খাবারের তাপীয় প্রভাব (Thermic Effect of Food - TEF): TEF হলো খাবার হজম, শোষণ এবং বিপাকের জন্য ব্যয়িত শক্তি। এটি তুলনামূলকভাবে কম, যা মোট শক্তি ব্যয়ের প্রায় ১০% এর মতো।
d) অভিযোজিত তাপ উৎপাদন (Adaptive Thermogenesis): এটি হলো পরিবেশগত চাপ (যেমন: ঠান্ডা) বা বিশেষ খাদ্যতালিকাগত পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় শরীর দ্বারা উৎপাদিত তাপ। এর পরিমাণ মোট শক্তি ব্যয়ের খুব সামান্য (<১০%) অংশ।

রেফারেন্স: Mahan’s Krause’s Food & Nutrition, 15th ed.

৫৪.
Respiratory Quotient (RQ) যদি 0.7 হয়, এটি কী নির্দেশ করে?
(If RQ = 0.7, what does it indicate?)
  1. Pure carbohydrate oxidation – বিশুদ্ধ কার্বোহাইড্রেট অক্সিডেশন
  2. Pure fat oxidation – বিশুদ্ধ ফ্যাট অক্সিডেশন
  3. Pure protein oxidation – বিশুদ্ধ প্রোটিন অক্সিডেশন
  4. Mixed diet metabolism – মিশ্র খাদ্য বিপাক
সঠিক উত্তর:
Pure fat oxidation – বিশুদ্ধ ফ্যাট অক্সিডেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Pure fat oxidation – বিশুদ্ধ ফ্যাট অক্সিডেশন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) বিশুদ্ধ ফ্যাট অক্সিডেশন (Pure fat oxidation)।

কেন এটি সঠিক: রেসপিরেটরি কোশেন্ট (RQ) হলো একটি পরিমাপ যা শরীর দ্বারা উৎপাদিত কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂) এবং ব্যবহৃত অক্সিজেনের (O₂) অনুপাত নির্দেশ করে। এর মান নির্ভর করে শরীর কোন ধরনের পুষ্টি উপাদান শক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে তার উপর।

কার্বোহাইড্রেট: যখন শরীর শুধুমাত্র কার্বোহাইড্রেটকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে, তখন RQ-এর মান হয় ১.০।
ফ্যাট (চর্বি): যখন শরীর শুধুমাত্র ফ্যাটকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে, তখন RQ-এর মান সবচেয়ে কম হয়, প্রায় ০.৭।
প্রোটিন: প্রোটিন বিপাকের সময় RQ-এর মান হয় প্রায় ০.৮।
মিশ্র খাদ্য: যখন শরীর বিভিন্ন ধরনের খাদ্য উপাদান (কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, প্রোটিন) ব্যবহার করে, তখন RQ-এর মান ০.৮৫-এর কাছাকাছি থাকে।
সুতরাং, যখন RQ-এর মান ০.৭ হয়, তখন এটি নির্দেশ করে যে শরীর প্রধানত ফ্যাটকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। এটি সাধারণত উপবাস বা দীর্ঘক্ষণ শারীরিক পরিশ্রমের সময় হয়ে থাকে।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) বিশুদ্ধ কার্বোহাইড্রেট অক্সিডেশন: এটি ভুল, কারণ কার্বোহাইড্রেট অক্সিডেশনের সময় RQ-এর মান হয় ১.০।
c) বিশুদ্ধ প্রোটিন অক্সিডেশন: এটি ভুল, কারণ প্রোটিন বিপাকের সময় RQ-এর মান হয় প্রায় ০.৮।
d) মিশ্র খাদ্য বিপাক: এটি ভুল, কারণ মিশ্র খাদ্য বিপাকে RQ-এর মান সাধারণত ০.৮৫-এর কাছাকাছি থাকে।

রেফারেন্স: Guyton & Hall Textbook of Medical Physiology.

৫৫.
ডাবলি লেবেল্ড ওয়াটার (doubly labeled water) পদ্ধতিটি মূলত কোন পরিবেশে মোট শক্তি ব্যয় (Total Energy Expenditure - TEE) নির্ণয়ের জন্য 'গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড' (gold standard) হিসেবে বিবেচিত?
(The doubly labeled water technique is the gold standard for measuring TEE in which condition?)
  1. Hospitalized patients – হাসপাতালে রোগী
  2. Free-living individuals – স্বাধীনভাবে বসবাসরত মানুষ
  3. Laboratory experimental animals – পরীক্ষাগার প্রাণী
  4. Athletes during exercise – ব্যায়ামের সময় ক্রীড়াবিদ
সঠিক উত্তর:
Free-living individuals – স্বাধীনভাবে বসবাসরত মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Free-living individuals – স্বাধীনভাবে বসবাসরত মানুষ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) স্বাধীনভাবে বসবাসরত মানুষ (Free-living individuals)।

কেন এটি সঠিক: ডাবলি লেবেল্ড ওয়াটার (DLW) পদ্ধতিটি হলো মানুষের মধ্যে মোট শক্তি ব্যয়ের পরিমাপের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং নির্ভুল কৌশলগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই পদ্ধতিতে হাইড্রোজেনের একটি স্থিতিশীল আইসোটোপ (2H) এবং অক্সিজেনের একটি স্থিতিশীল আইসোটোপ (18O) পানীয় জলের সাথে মিশিয়ে পান করানো হয়।

হাইড্রোজেন (2H) শরীরের মোট জলের সাথে মিশে যায় এবং জলীয় বাষ্প ও প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।
**অক্সিজেন (18O)**ও শরীরের মোট জলের সাথে মিশে যায়, তবে এটি জলীয় বাষ্প এবং কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2​) উভয় মাধ্যমেই শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।
এই দুটি আইসোটোপের শরীর থেকে নির্গমনের হারের পার্থক্য পরিমাপ করে CO2​ উৎপাদন নির্ণয় করা হয়। CO2​ উৎপাদনের পরিমাণ থেকে মোট শক্তি ব্যয় (TEE) গণনা করা সম্ভব। এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি তার স্বাভাবিক দৈনন্দিন জীবনযাপন চালিয়ে যেতে পারে, যার ফলে এটি ল্যাবরেটরির বাইরের পরিবেশে মানুষের প্রকৃত শক্তি ব্যয় পরিমাপের জন্য সবচেয়ে আদর্শ।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) হাসপাতালে রোগী: হাসপাতালে বা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে রোগীদের জন্য ইনডাইরেক্ট ক্যালোরিমেট্রি (indirect calorimetry) বা অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যা আরও সহজ এবং ব্যবহারিক।
c) পরীক্ষাগার প্রাণী: ডাবলি লেবেল্ড ওয়াটার পদ্ধতি প্রাণীর ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়, কিন্তু এর প্রাথমিক এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবহার হলো মানুষের উপর গবেষণা করা, বিশেষ করে পুষ্টি ও বিপাকের ক্ষেত্রে।
d) ব্যায়ামের সময় ক্রীড়াবিদ: ব্যায়ামের মতো স্বল্প সময়ের তীব্র কার্যকলাপের সময় শক্তি পরিমাপের জন্য এটি ব্যবহারিক নয়। এই ধরনের ক্ষেত্রে গ্যাস অ্যানালাইজারের মতো পদ্ধতিগুলো বেশি উপযোগী। DLW পদ্ধতিটি দীর্ঘমেয়াদী (যেমন এক বা দুই সপ্তাহের) গড় শক্তি ব্যয় পরিমাপের জন্য সবচেয়ে কার্যকর।

রেফারেন্স: Schoeller DA, Am J Clin Nutr 1988.

৫৬.
Weir equation কোন প্যারামিটারের ভিত্তিতে শক্তি ব্যয় (energy expenditure) গণনা করে? (The Weir equation calculates energy expenditure based on which parameters?)
  1. O₂ consumption and CO₂ production – অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপাদন
  2. Heat production and sweat loss – তাপ উৎপাদন ও ঘাম ক্ষতি
  3. Nitrogen excretion and protein turnover – নাইট্রোজেন ক্ষরণ ও প্রোটিন টার্নওভার
  4. Blood glucose and insulin levels – রক্তের গ্লুকোজ ও ইনসুলিন স্তর
সঠিক উত্তর:
O₂ consumption and CO₂ production – অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপাদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
O₂ consumption and CO₂ production – অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপাদন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপাদন (O₂ consumption and CO₂ production)।

কেন এটি সঠিক: ওয়েইর ইকুয়েশন (Weir equation) হলো একটি বৈজ্ঞানিক সূত্র যা ইনডাইরেক্ট ক্যালোরিমেট্রি (indirect calorimetry) পদ্ধতিতে শক্তি ব্যয় (energy expenditure) গণনার জন্য ব্যবহৃত হয়। এই পদ্ধতিটি শরীরের বিপাকীয় কার্যকলাপকে পরিমাপ করে, যা অক্সিজেন গ্রহণ (O2​) এবং কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপাদন (CO2​)-এর পরিমাণের উপর নির্ভরশীল।

সূত্রটি হলো:

শক্তি ব্যয় (kcal/min)=(3.941×VO2​)+(1.106×VCO2​)
এখানে,

VO2​ = প্রতি মিনিটে ব্যবহৃত অক্সিজেনের পরিমাণ।
VCO2​ = প্রতি মিনিটে উৎপাদিত কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ।
এই সূত্রটি দেখায় যে, শরীর কতটা অক্সিজেন ব্যবহার করছে এবং কতটা কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরি করছে, তার উপর ভিত্তি করে কত শক্তি খরচ হচ্ছে তা নির্ণয় করা যায়।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) তাপ উৎপাদন ও ঘাম ক্ষতি: তাপ উৎপাদন সরাসরি পরিমাপ করা হয় সরাসরি ক্যালোরিমেট্রি (direct calorimetry) পদ্ধতিতে, যা একটি ভিন্ন কৌশল। ঘাম ক্ষতি শরীরের জলের ভারসাম্যের সঙ্গে সম্পর্কিত, শক্তি ব্যয়ের সাথে সরাসরি নয়।
c) নাইট্রোজেন ক্ষরণ ও প্রোটিন টার্নওভার: নাইট্রোজেন ক্ষরণ ব্যবহার করে প্রোটিন বিপাক এবং প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা নির্ণয় করা হয়, কিন্তু এটি শরীরের মোট শক্তি ব্যয় পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয় না।
d) রক্তের গ্লুকোজ ও ইনসুলিন স্তর: রক্তের গ্লুকোজ এবং ইনসুলিনের মাত্রা শরীরের বিপাকীয় অবস্থা এবং কার্বোহাইড্রেট হজমের সাথে সম্পর্কিত। এই মাত্রাগুলো সরাসরি মোট শক্তি ব্যয় গণনা করার জন্য ব্যবহৃত হয় না।

রেফারেন্স: Weir JB, J Physiol 1949.

৫৭.
ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি লেভেল (PAL) ১.২ সাধারণত কাকে নির্দেশ করে?(PAL = 1.2 usually indicates—)
  1. Sedentary lifestyle – স্থির জীবনধারা
  2. Moderate activity – মাঝারি শারীরিক কাজ
  3. Very active lifestyle – অত্যন্ত সক্রিয় জীবনধারা
  4. Pregnancy – গর্ভাবস্থা
সঠিক উত্তর:
Sedentary lifestyle – স্থির জীবনধারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Sedentary lifestyle – স্থির জীবনধারা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) স্থির জীবনধারা (Sedentary lifestyle)।

কেন এটি সঠিক: ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি লেভেল (PAL) হলো একজন ব্যক্তির দৈনিক মোট শক্তি ব্যয় (Total Daily Energy Expenditure - TDEE) এবং বেসাল মেটাবলিক রেট (BMR)-এর অনুপাত। এই অনুপাত দিয়ে একজন ব্যক্তির শারীরিক কার্যকলাপের মাত্রা বোঝা যায়।

PAL=BMRTDEE​
PAL-এর মান যত বেশি হবে, একজন ব্যক্তি তত বেশি সক্রিয়।

স্থির জীবনধারা (Sedentary): একজন ব্যক্তির যদি খুব কম শারীরিক কার্যকলাপ থাকে (যেমন: ডেস্ক জব, টেলিভিশন দেখা), তাহলে তার PAL-এর মান হয় ১.৪-এর নিচে। ১.২ হলো এই ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত।
কম সক্রিয় (Low active): ১.৪-১.৬
মাঝারি সক্রিয় (Moderately active): ১.৬-১.৮
অত্যন্ত সক্রিয় (Very active): ১.৯-২.৫
সুতরাং, PAL-এর মান ১.২ দ্বারা স্থির জীবনধারা নির্দেশ করে।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) মাঝারি শারীরিক কাজ: মাঝারি শারীরিক কাজ করা ব্যক্তিদের PAL-এর মান সাধারণত ১.৬ থেকে ১.৭ এর মধ্যে থাকে।
c) অত্যন্ত সক্রিয় জীবনধারা: অত্যন্ত সক্রিয় জীবনধারা, যেমন একজন ক্রীড়াবিদ বা কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করা ব্যক্তিদের PAL-এর মান ২.০ থেকে ২.৪ এর মধ্যে থাকে।
d) গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থার সময় PAL পরিমাপ করা হয় না, বরং গর্ভবতী নারীর জন্য স্বাভাবিক PAL-এর সাথে কিছু অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করা হয়। এটি একটি আলাদা পরিমাপের পদ্ধতি।

রেফারেন্স: WHO/FAO/UNU Human Energy Requirements (2004).

৫৮.
থার্মিক ইফেক্ট অফ ফুড (Thermic Effect of Food - TEF) সর্বাধিক কোন ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টের ক্ষেত্রে হয়? (Which macronutrient has the highest thermic effect of food?)
  1. Carbohydrate – কার্বোহাইড্রেট
  2. Protein – প্রোটিন
  3. Fat – ফ্যাট
  4. Alcohol – অ্যালকোহল
সঠিক উত্তর:
Protein – প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Protein – প্রোটিন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) প্রোটিন (Protein)।

কেন এটি সঠিক: থার্মিক ইফেক্ট অফ ফুড (TEF) হলো খাদ্য গ্রহণ, হজম, শোষণ এবং বিপাকের জন্য শরীর যে পরিমাণ শক্তি ব্যয় করে। এই প্রক্রিয়াটি প্রতিটি ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টের জন্য ভিন্ন।

প্রোটিন: প্রোটিন হজম করা সবচেয়ে কঠিন এবং এর জন্য শরীরকে সবচেয়ে বেশি শক্তি খরচ করতে হয়। প্রোটিনের TEF সাধারণত খাদ্য থেকে প্রাপ্ত ক্যালরির প্রায় ২০-৩০%। অর্থাৎ, ১০০ ক্যালরির প্রোটিন হজমের জন্য শরীরকে ২০-৩০ ক্যালরি খরচ করতে হয়।
কার্বোহাইড্রেট: কার্বোহাইড্রেটের TEF তুলনামূলকভাবে কম, সাধারণত প্রাপ্ত ক্যালরির ৫-১০%।
ফ্যাট (চর্বি): ফ্যাটের TEF সবচেয়ে কম, মাত্র ০-৩%। ফ্যাট হজম করতে শরীরের খুব কম শক্তি প্রয়োজন হয়।
সুতরাং, প্রোটিন হজমের জন্য শরীরের সবচেয়ে বেশি শক্তি ব্যয় হয়।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) কার্বোহাইড্রেট: কার্বোহাইড্রেটের TEF প্রোটিনের চেয়ে অনেক কম।
c) ফ্যাট: ফ্যাটের TEF সবচেয়ে কম, যা প্রায় নেই বললেই চলে।
d) অ্যালকোহল: অ্যালকোহলের TEF প্রায় ১০% হলেও এটি প্রোটিনের TEF-এর চেয়ে কম।

রেফারেন্স: Mahan’s Textbook of Nutrition

৫৯.
গর্ভাবস্থায় দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে অতিরিক্ত শক্তির চাহিদা কত? (Additional energy requirement during 2nd and 3rd trimester of pregnancy is—)
  1. 100 kcal/day and 200 kcal/day
  2. 250 kcal/day and 450 kcal/day
  3. 500 kcal/day and 700 kcal/day
  4. 150 kcal/day and 300 kcal/day
সঠিক উত্তর:
250 kcal/day and 450 kcal/day
উত্তর
সঠিক উত্তর:
250 kcal/day and 450 kcal/day
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) ২৫০ kcal/day এবং ৪৫০ kcal/day।

কেন এটি সঠিক: গর্ভাবস্থায় একজন নারীর শরীরের চাহিদা বৃদ্ধি পায়, কারণ তাকে কেবল নিজের শরীরই নয়, গর্ভের শিশুকেও পুষ্টি সরবরাহ করতে হয়। এই অতিরিক্ত চাহিদা গর্ভাবস্থার প্রতিটি ট্রাইমেস্টারে ভিন্ন হয়।

প্রথম ট্রাইমেস্টার: এই সময়ে অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয় না, কারণ ভ্রূণের বৃদ্ধি খুবই ধীরগতিতে হয়।
দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টার: এই ট্রাইমেস্টারে ভ্রূণের বৃদ্ধি দ্রুত হতে শুরু করে এবং মায়ের জরায়ু, প্লাসেন্টা এবং রক্তচাপের পরিমাণ বাড়তে থাকে। তাই, এই সময়ে দৈনিক ২৫০ কিলোক্যালরি অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয়।
তৃতীয় ট্রাইমেস্টার: গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে ভ্রূণের বৃদ্ধি সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। এই সময়ে শিশু দ্রুত ওজন এবং টিস্যু বাড়াতে থাকে, যার জন্য প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। তাই, এই ট্রাইমেস্টারে দৈনিক ৪৫০ কিলোক্যালরি অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয়।
এই অতিরিক্ত শক্তি শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি এবং মায়ের শরীরকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

রেফারেন্স: WHO/FAO, Energy and Protein Requirements (2004).

৬০.
বেসাল মেটাবলিক রেট (BMR) কমে যাওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ কোনটি?
(The most common cause of decreased BMR is—)
  1. Hyperthyroidism – হাইপারথাইরয়েডিজম
  2. Hypothyroidism – হাইপোথাইরয়েডিজম
  3. Pregnancy – গর্ভাবস্থা
  4. High lean body mass – বেশি লিন বডি মাস
সঠিক উত্তর:
Hypothyroidism – হাইপোথাইরয়েডিজম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Hypothyroidism – হাইপোথাইরয়েডিজম
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism)।

কেন এটি সঠিক: বেসাল মেটাবলিক রেট (BMR) হলো শরীরের বিশ্রামের সময় ব্যয়িত শক্তি। এই প্রক্রিয়াটি প্রধানত থাইরয়েড গ্রন্থি দ্বারা নিঃসৃত হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

হাইপোথাইরয়েডিজম: এই অবস্থায় থাইরয়েড গ্রন্থি পর্যাপ্ত পরিমাণে থাইরয়েড হরমোন তৈরি করতে পারে না। থাইরয়েড হরমোন বিপাক প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাই এর অভাবের কারণে শরীরের বিপাকীয় হার (metabolic rate) উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলস্বরূপ, BMR হ্রাস পায়, যার কারণে রোগীর ওজন বেড়ে যাওয়া, ক্লান্তি এবং ঠাণ্ডা লাগার মতো লক্ষণ দেখা যায়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) হাইপারথাইরয়েডিজম (Hyperthyroidism): এটি হাইপোথাইরয়েডিজমের বিপরীত অবস্থা। এই অবস্থায় থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত পরিমাণে হরমোন তৈরি করে, যা বিপাকীয় হার এবং BMR বৃদ্ধি করে।
c) গর্ভাবস্থা (Pregnancy): গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরের বিপাকীয় চাহিদা বেড়ে যায়, যা BMR বাড়িয়ে দেয়।
d) বেশি লিন বডি মাস (High lean body mass): লিন বডি মাস বা পেশী টিস্যু শরীরের বিপাকীয়ভাবে সবচেয়ে সক্রিয় অংশ। তাই, যার লিন বডি মাস বেশি, তার BMR-ও বেশি হয়।

রেফারেন্স: Guyton & Hall.

৬১.
দীর্ঘ অনাহার (prolonged starvation) অবস্থায় শক্তি বিপাক (energy metabolism) প্রধানত কীসের উপর নির্ভরশীল হয়? (In prolonged starvation, energy metabolism primarily depends on—)
  1. Carbohydrate oxidation – কার্বোহাইড্রেট অক্সিডেশন
  2. Fat oxidation and ketone body production – ফ্যাট অক্সিডেশন ও কিটোন উৎপাদন
  3. Protein oxidation – প্রোটিন অক্সিডেশন
  4. Alcohol metabolism – অ্যালকোহল বিপাক
সঠিক উত্তর:
Fat oxidation and ketone body production – ফ্যাট অক্সিডেশন ও কিটোন উৎপাদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Fat oxidation and ketone body production – ফ্যাট অক্সিডেশন ও কিটোন উৎপাদন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) ফ্যাট অক্সিডেশন এবং কিটোন উৎপাদন (Fat oxidation and ketone body production)।

কেন এটি সঠিক: যখন কোনো ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে খাবার গ্রহণ করে না, তখন শরীর তার শক্তির উৎস পরিবর্তন করে। এই প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে ঘটে:

১. কার্বোহাইড্রেটের ব্যবহার: প্রথম ২৪-৪৮ ঘণ্টা, শরীর তার গ্লাইকোজেন স্টোর (গ্লুকোজের সঞ্চিত রূপ) ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করে। এই স্টোর শেষ হয়ে গেলে শরীর বিকল্প উৎসের দিকে চলে যায়। ২. প্রোটিন এবং ফ্যাটের প্রাথমিক ব্যবহার: এরপর শরীর পেশী প্রোটিন এবং চর্বি ভেঙে শক্তি উৎপাদন শুরু করে। এই পর্যায়ে কিছুটা প্রোটিন ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি হয়, যা মস্তিষ্কের মতো অঙ্গগুলোর জন্য জরুরি। ৩. ফ্যাট অক্সিডেশন এবং কিটোন উৎপাদন: দীর্ঘ অনাহারের (Starvation) অবস্থায় শরীর তার বেঁচে থাকার কৌশল হিসেবে প্রধানত চর্বি (fat) ব্যবহার করা শুরু করে। চর্বি ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি হয়। এই ফ্যাটি অ্যাসিডগুলো যকৃতে (liver) গিয়ে কিটোন বডি (ketone bodies) তৈরি করে। কিটোন বডিগুলো তখন মস্তিষ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর জন্য শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে। এটি প্রোটিনকে সংরক্ষণে সহায়তা করে, যা পেশী ক্ষয় কমায়।

সুতরাং, দীর্ঘ অনাহারের ক্ষেত্রে ফ্যাট অক্সিডেশন এবং কিটোন বডি উৎপাদনই হলো শক্তির প্রধান উৎস।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) কার্বোহাইড্রেট অক্সিডেশন: কার্বোহাইড্রেটের সঞ্চয় স্বল্পস্থায়ী, তাই দীর্ঘ অনাহারের ক্ষেত্রে এটি প্রধান উৎস হতে পারে না।
c) প্রোটিন অক্সিডেশন: প্রোটিন অক্সিডেশন প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটে, কিন্তু দীর্ঘ অনাহারের ক্ষেত্রে এটি বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, শরীর পেশী প্রোটিন সংরক্ষণ করতে চায়।
d) অ্যালকোহল বিপাক: অ্যালকোহল অনাহারের সময় শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হয় না, কারণ এটি একটি পুষ্টি উপাদান নয় এবং এর বিপাক প্রক্রিয়া ভিন্ন।

রেফারেন্স: FAO/WHO/UNU Energy Metabolism (2004).

৬২.
একজন ৭০ কেজি পুরুষের BMR যদি হয় ১৬৮০ কিলোক্যালরি/দিন, তবে তার প্রতি ঘণ্টায় প্রতি কেজি শক্তি ব্যয় কত?
(If a 70 kg man has a BMR of 1680 kcal/day, what is his energy expenditure per hour per kg?)
  1. 0.5 kcal/kg/hr – ০.৫ কিলোক্যালরি/কেজি/ঘণ্টা
  2. 1 kcal/kg/hr – ১ কিলোক্যালরি/কেজি/ঘণ্টা
  3. 2 kcal/kg/hr – ২ কিলোক্যালরি/কেজি/ঘণ্টা
  4. 5 kcal/kg/hr – ৫ কিলোক্যালরি/কেজি/ঘণ্টা
সঠিক উত্তর:
1 kcal/kg/hr – ১ কিলোক্যালরি/কেজি/ঘণ্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1 kcal/kg/hr – ১ কিলোক্যালরি/কেজি/ঘণ্টা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) ১ কিলোক্যালরি/কেজি/ঘণ্টা (1 kcal/kg/hr)।

কেন এটি সঠিক: এই সমস্যাটি সমাধান করার জন্য দুটি ধাপে হিসাব করতে হবে:

ধাপ ১: প্রতিদিন প্রতি কেজি ওজন অনুযায়ী শক্তি ব্যয় নির্ণয় করা: মোট দৈনিক BMR = ১৬৮০ কিলোক্যালরি শরীরের ওজন = ৭০ কেজি প্রতিদিন প্রতি কেজি শক্তি ব্যয় = ৭০ কেজি১৬৮০ কিলোক্যালরি​=২৪ কিলোক্যালরি/কেজি/দিন

ধাপ ২: প্রতি ঘণ্টা প্রতি কেজি ওজন অনুযায়ী শক্তি ব্যয় নির্ণয় করা: এক দিন = ২৪ ঘণ্টা প্রতি ঘণ্টা প্রতি কেজি শক্তি ব্যয় = ২৪ ঘণ্টা২৪ কিলোক্যালরি/কেজি/দিন​=১ কিলোক্যালরি/কেজি/ঘণ্টা

সুতরাং, ওই পুরুষের প্রতি ঘণ্টায় প্রতি কেজি শক্তি ব্যয় হলো ১ কিলোক্যালরি।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) ০.৫ কিলোক্যালরি/কেজি/ঘণ্টা: এই মানটি হিসাবকৃত মানের অর্ধেক।
c) ২ কিলোক্যালরি/কেজি/ঘণ্টা: এই মানটি হিসাবকৃত মানের দ্বিগুণ।
d) ৫ কিলোক্যালরি/কেজি/ঘণ্টা: এই মানটি অনেক বেশি, যা কোনো স্বাভাবিক BMR-এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

৬৩.
নিম্নলিখিত কোনটি হরমোন এবং এনজাইমের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য সবচেয়ে ভালোভাবে প্রকাশ করে?
(Which of the following best explains the fundamental difference between hormones and enzymes?)
  1. হরমোন রাসায়নিক বার্তাবাহক, এনজাইম জৈব প্রভাবক
    (Hormones are chemical messengers, enzymes are biological catalysts)
  2. হরমোন সবসময় প্রোটিন, এনজাইম সবসময় স্টেরয়েড
    (Hormones are always proteins, enzymes are always steroids)
  3. হরমোন শরীরের বাইরে কাজ করে, এনজাইম শুধু কোষের ভেতরে কাজ করে
    (Hormones act outside the body, enzymes act only inside cells)
  4. হরমোন কোফ্যাক্টর ছাড়া কাজ করে, এনজাইম কোফ্যাক্টর ছাড়া কাজ করে না
    (Hormones act without cofactors, enzymes cannot act without cofactors)
সঠিক উত্তর:
হরমোন রাসায়নিক বার্তাবাহক, এনজাইম জৈব প্রভাবক
(Hormones are chemical messengers, enzymes are biological catalysts)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরমোন রাসায়নিক বার্তাবাহক, এনজাইম জৈব প্রভাবক
(Hormones are chemical messengers, enzymes are biological catalysts)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) হরমোন রাসায়নিক বার্তাবাহক, এনজাইম জৈব প্রভাবক (Hormones are chemical messengers, enzymes are biological catalysts)।

কেন এটি সঠিক: হরমোন এবং এনজাইম উভয়ই জৈবিক প্রক্রিয়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, কিন্তু তাদের কার্যকারিতার ধরন সম্পূর্ণ ভিন্ন।

হরমোন: হরমোন হলো এক ধরনের রাসায়নিক বার্তাবাহক (chemical messenger)। এরা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি (endocrine gland) থেকে নিঃসৃত হয় এবং রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শরীরের দূরবর্তী অঙ্গ বা টিস্যুতে পৌঁছে সেখানে নির্দিষ্ট শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া শুরু করে। এদের কাজ হলো কোষকে কোনো একটি নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য সংকেত দেওয়া।
এনজাইম: এনজাইম হলো জৈব প্রভাবক বা জৈব অনুঘটক (biological catalysts)। এদের প্রধান কাজ হলো শরীরের রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোর গতি বাড়ানো। এরা বিক্রিয়ার পথকে সহজ করে তোলে এবং বিক্রিয়া ঘটার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি (activation energy) কমিয়ে দেয়, কিন্তু নিজেরা বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না। এদের কাজের পরিধি সাধারণত নির্দিষ্ট থাকে এবং এরা নির্দিষ্ট সাবস্ট্রেটের ওপর কাজ করে।
এই মৌলিক পার্থক্যটিই তাদের প্রধান কার্যকারিতার মূল ভিত্তি।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) হরমোন সবসময় প্রোটিন, এনজাইম সবসময় স্টেরয়েড: এই উক্তিটি ভুল। সব হরমোন প্রোটিন নয় (যেমন: স্টেরয়েড হরমোন)। অন্যদিকে, সব এনজাইম প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়, কিন্তু কোনো এনজাইমই স্টেরয়েড নয়।
c) হরমোন শরীরের বাইরে কাজ করে, এনজাইম শুধু কোষের ভেতরে কাজ করে: এই উক্তিটিও ভুল। উভয়ই সাধারণত শরীরের ভেতরে কাজ করে। কিছু এনজাইম কোষের বাইরেও কাজ করে (যেমন: হজমকারী এনজাইম), এবং হরমোন কোষের ভেতরে কাজ করে।
d) হরমোন কোফ্যাক্টর ছাড়া কাজ করে, এনজাইম কোফ্যাক্টর ছাড়া কাজ করে না: এই উক্তিটিও সঠিক নয়। অনেক হরমোন তাদের কার্যকারিতার জন্য নির্দিষ্ট রিসেপ্টরের উপর নির্ভরশীল, যা এক ধরনের কোফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আর সব এনজাইমের কোফ্যাক্টরের প্রয়োজন হয় না। কিছু এনজাইম কোফ্যাক্টর ছাড়াই সক্রিয় থাকে।

রেফারেন্স: Ganong’s Review of Medical Physiology.

৬৪.
(কোন হরমোনটি নিউরোট্রান্সমিটারের সাথে রাসায়নিকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ কারণ এটি টাইরোসিন থেকে তৈরি?)
Which hormone is chemically similar to neurotransmitters because of its origin from amino acid tyrosine?
  1. এপিনেফ্রিন (Epinephrine)
  2. ইনসুলিন (Insulin)
  3. কর্টিসল (Cortisol)
  4. অ্যালডোস্টেরন (Aldosterone)
সঠিক উত্তর:
এপিনেফ্রিন (Epinephrine)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপিনেফ্রিন (Epinephrine)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) এপিনেফ্রিন (Epinephrine)।

কেন এটি সঠিক: এপিনেফ্রিন, যা অ্যাড্রেনালিন নামেও পরিচিত, হলো একটি হরমোন যা অ্যাড্রেনাল মেডুলা (adrenal medulla) থেকে নিঃসৃত হয়। এটি এবং এর সাথে সম্পর্কিত নরএপিনেফ্রিন (norepinephrine) ও ডোপামিন (dopamine) রাসায়নিকভাবে ক্যাটেকোলামাইন (catecholamine) নামে পরিচিত।
এই ক্যাটেকোলামাইনগুলো একটি অ্যামিনো অ্যাসিড টাইরোসিন (tyrosine) থেকে সংশ্লেষিত হয়। মজার বিষয় হলো, অনেক নিউরোট্রান্সমিটারও (যেমন: ডোপামিন, নরএপিনেফ্রিন) টাইরোসিন থেকে তৈরি হয়। এই একই উৎস এবং রাসায়নিক গঠনের কারণে এপিনেফ্রিন নিউরোট্রান্সমিটারের সাথে রাসায়নিকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ। এটি 'ফাইট-অর-ফ্লাই' (fight-or-flight) প্রতিক্রিয়ার জন্য দায়ী।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
b) ইনসুলিন (Insulin): ইনসুলিন একটি পেপটাইড হরমোন। এটি টাইরোসিন থেকে নয়, বরং অ্যামিনো অ্যাসিডের একটি দীর্ঘ শৃঙ্খল দিয়ে গঠিত।
c) কর্টিসল (Cortisol): কর্টিসল একটি স্টেরয়েড হরমোন। এটি কোলেস্টেরল থেকে তৈরি হয়, কোনো অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে নয়।
d) অ্যালডোস্টেরন (Aldosterone): অ্যালডোস্টেরনও একটি স্টেরয়েড হরমোন যা কোলেস্টেরল থেকে তৈরি হয়। এর উৎস টাইরোসিন নয়।

রেফারেন্স: Guyton and Hall Physiology.

৬৫.
কোন এনজাইমটি "অ্যালোস্টেরিক এনজাইম" (allosteric enzyme) হিসেবে পরিচিত এবং গ্লাইকোলাইসিসের (glycolysis) রেট-লিমিটিং ধাপে নিয়ন্ত্রণ করে?(Which enzyme is an allosteric enzyme and regulates the rate-limiting step of glycolysis?)
  1. হেক্সোকিনেস (Hexokinase)
  2. ফসফোফ্রুকটোকিনেস-১ (Phosphofructokinase-1 - PFK-1)।
  3. পাইরুভেট কিনেস (Pyruvate kinase)
  4. ল্যাকটেট ডিহাইড্রোজিনেস (Lactate dehydrogenase)
সঠিক উত্তর:
ফসফোফ্রুকটোকিনেস-১ (Phosphofructokinase-1 - PFK-1)।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফসফোফ্রুকটোকিনেস-১ (Phosphofructokinase-1 - PFK-1)।
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) ফসফোফ্রুকটোকিনেস-১ (Phosphofructokinase-1 - PFK-1)।

কেন এটি সঠিক: গ্লাইকোলাইসিস হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শরীর গ্লুকোজ ভেঙে শক্তি (ATP) তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় বেশ কয়েকটি ধাপ রয়েছে, কিন্তু এদের মধ্যে একটি ধাপ রয়েছে যাকে রেট-লিমিটিং ধাপ বলা হয়। এই ধাপটি হলো ফ্রুক্টোজ-৬-ফসফেটকে (Fructose-6-phosphate) ফ্রুক্টোজ-১,৬-বিফসফেটে (Fructose-1,6-bisphosphate) রূপান্তরিত করা।

এই ধাপটি নিয়ন্ত্রণ করে ফসফোফ্রুকটোকিনেস-১ (PFK-1) নামক এনজাইম। এটি একটি অ্যালোস্টেরিক এনজাইম, যার অর্থ হলো এটি তার সক্রিয় সাইট (active site) থেকে দূরে একটি ভিন্ন সাইটে (allosteric site) কিছু অণু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।

যখন কোষের শক্তি কম থাকে (যেমন, AMP বেশি থাকে), তখন PFK-1 সক্রিয় হয় এবং গ্লাইকোলাইসিসের গতি বাড়িয়ে দেয়।
যখন কোষের শক্তি বেশি থাকে (যেমন, ATP বেশি থাকে), তখন PFK-1 নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় এবং গ্লাইকোলাইসিসের গতি কমিয়ে দেয়, কারণ তখন আর শক্তির প্রয়োজন হয় না।
এই নিয়ন্ত্রণের কারণে PFK-1 হলো গ্লাইকোলাইসিসের গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) হেক্সোকিনেস (Hexokinase): এটি গ্লাইকোলাইসিসের প্রথম ধাপটি নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু এটি প্রধান রেট-লিমিটিং এনজাইম নয়।
c) পাইরুভেট কিনেস (Pyruvate kinase): এই এনজাইমটি গ্লাইকোলাইসিসের শেষ ধাপে কাজ করে, কিন্তু এটি রেট-লিমিটিং ধাপের প্রধান নিয়ন্ত্রক নয়।
d) ল্যাকটেট ডিহাইড্রোজিনেস (Lactate dehydrogenase): এটি একটি এনজাইম যা অ্যানেরোবিক গ্লাইকোলাইসিস (anaerobic glycolysis)-এর সময় পাইরুভেটকে ল্যাকটেটে রূপান্তর করে, যা গ্লাইকোলাইসিসের একটি বিকল্প শেষ ধাপ। এটি রেট-লিমিটিং ধাপ নিয়ন্ত্রণ করে না।

রেফারেন্স: Lehninger Biochemistry.

৬৬.
(কর্টিসলের অতিরিক্ত নিঃসরণ কোন রোগের সাথে সবচেয়ে বেশি সম্পর্কিত?) Which disease is most directly associated with cortisol excess?
  1. কুশিং’স সিন্ড্রোম (Cushing’s syndrome)
  2. অ্যাডিসন’স ডিজিজ (Addison’s disease)
  3. ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস (Diabetes insipidus)
  4. মিক্সিডিমা (Myxedema)
সঠিক উত্তর:
কুশিং’স সিন্ড্রোম (Cushing’s syndrome)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুশিং’স সিন্ড্রোম (Cushing’s syndrome)
ব্যাখ্যা

কর্টিসলের অতিরিক্ত নিঃসরণের সাথে সবচেয়ে সরাসরি সম্পর্কিত রোগটি হলো a) কুশিং’স সিন্ড্রোম (Cushing's syndrome)।

কুশিং’স সিন্ড্রোম হলো এমন একটি অবস্থা যা দেহে দীর্ঘ সময় ধরে অত্যধিক কর্টিসলের উপস্থিতির কারণে হয়। এটি শরীরে অতিরিক্ত কর্টিসল তৈরি হওয়ার কারণে হতে পারে অথবা দীর্ঘমেয়াদী স্টেরয়েড ঔষধ সেবনের ফলেও হতে পারে।

অন্যান্য বিকল্পগুলি ভুল কারণ:

অ্যাডিসন’স ডিজিজ (Addison’s disease): এটি কর্টিসলের ঘাটতির সাথে সম্পর্কিত, অতিরিক্ত কর্টিসলের সাথে নয়।
ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস (Diabetes insipidus): এই রোগটি ADH (অ্যান্টিডিউরেটিক হরমোন) নামক একটি হরমোনের ঘাটতি বা কার্যকারিতার অভাবের কারণে ঘটে, যা জলের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে।
মিক্সিডিমা (Myxedema): এটি একটি গুরুতর ধরনের হাইপোথাইরয়েডিজম, যেখানে থাইরয়েড গ্রন্থি যথেষ্ট থাইরয়েড হরমোন তৈরি করে না।

রেফারেন্স: Harrison’s Principles of Internal Medicine

৬৭.
অক্সিডেটিভ ডিকার্বক্সিলেশন রিঅ্যাকশনের জন্য কোন কোএনজাইম অপরিহার্য? [Which coenzyme is essential for oxidative decarboxylation reactions (e.g. pyruvate dehydrogenase]
  1. NAD+
  2. Coenzyme A
  3. থায়ামিন পাইরোফসফেট (Thiamine pyrophosphate - TPP)
  4. FAD
সঠিক উত্তর:
থায়ামিন পাইরোফসফেট (Thiamine pyrophosphate - TPP)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থায়ামিন পাইরোফসফেট (Thiamine pyrophosphate - TPP)
ব্যাখ্যা

অক্সিডেটিভ ডিকার্বক্সিলেশন রিঅ্যাকশনের জন্য অপরিহার্য কোএনজাইমটি হলো c) Thiamine pyrophosphate (TPP)।

পাইরুভেট থেকে অ্যাসিটাইল-কোএ (Acetyl-CoA) তৈরির ধাপটি হলো একটি অক্সিডেটিভ ডিকার্বক্সিলেশন প্রক্রিয়া, যা পাইরুভেট ডিহাইড্রোজিনেজ (pyruvate dehydrogenase) এনজাইম কমপ্লেক্স দ্বারা সম্পন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপেই থায়ামিন পাইরোফসফেট (TPP) একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি পাইরুভেট থেকে একটি কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2​) অণু অপসারণের (decarboxylation) জন্য অপরিহার্য।

অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ:

NAD+ এবং FAD: এগুলি এই প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলিতে ইলেকট্রন গ্রহণকারী (electron acceptors) হিসেবে কাজ করে, কিন্তু এরা ডিকার্বক্সিলেশনকে সরাসরি অনুঘটক (catalyze) করে না।
কোএনজাইম এ (Coenzyme A): এটি ডিকার্বক্সিলেশন ধাপের পরে অ্যাসিটাইল গ্রুপটি গ্রহণ করে অ্যাসিটাইল-কোএ তৈরি করে, কিন্তু এটি নিজেই ডিকার্বক্সিলেশন প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নেয় না।

রেফারেন্স: Harper’s Biochemistry

৬৮.
কোন হরমোন ইন্ট্রাসেলুলার রিসেপ্টর ব্যবহার করে জিন ট্রান্সক্রিপশন নিয়ন্ত্রণ করে? Which hormone uses an intracellular receptor to regulate gene transcription?
  1. ইনসুলিন (Insulin)
  2. কর্টিসল (Cortisol)
  3. এপিনেফ্রিন (Epinephrine)
  4. গ্লুকাগন (Glucagon)
সঠিক উত্তর:
কর্টিসল (Cortisol)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্টিসল (Cortisol)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) কর্টিসল (Cortisol)।

কেন এটি সঠিক: হরমোন তার কার্যকারিতার জন্য কোষের ভেতরে বা বাইরে অবস্থিত নির্দিষ্ট রিসেপ্টরের সাথে আবদ্ধ হয়। এই রিসেপ্টরগুলোর অবস্থান হরমোনের রাসায়নিক প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল।

কর্টিসল: কর্টিসল হলো একটি স্টেরয়েড হরমোন, যা চর্বিতে দ্রবণীয় (lipid-soluble)। এর এই বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি কোষের মেমব্রেন সহজেই অতিক্রম করে কোষের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। কোষের ভেতরে প্রবেশ করার পর এটি সাইটোপ্লাজম বা নিউক্লিয়াসে অবস্থিত একটি ইন্ট্রাসেলুলার রিসেপ্টরের সাথে আবদ্ধ হয়। এই আবদ্ধ জটিলটি (receptor-hormone complex) তখন কোষের নিউক্লিয়াসে প্রবেশ করে এবং ডিএনএ-এর নির্দিষ্ট স্থানে সংযুক্ত হয়ে জিন ট্রান্সক্রিপশনকে প্রভাবিত করে। এর ফলে নির্দিষ্ট প্রোটিন সংশ্লেষণের হার পরিবর্তিত হয়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) ইনসুলিন (Insulin): ইনসুলিন একটি পেপটাইড হরমোন। এটি চর্বিতে অদ্রবণীয় এবং কোষের মেমব্রেন অতিক্রম করতে পারে না। তাই এটি কোষের পৃষ্ঠে অবস্থিত মেমব্রেন রিসেপ্টরের সাথে আবদ্ধ হয় এবং একটি সিগনালিং ক্যাসকেড (signal cascade) শুরু করে।
c) এপিনেফ্রিন (Epinephrine): এপিনেফ্রিন একটি ক্যাটেকোলামাইন হরমোন। এটিও কোষের মেমব্রেন অতিক্রম করতে পারে না এবং কোষের পৃষ্ঠে অবস্থিত জি-প্রোটিন-কাপলড রিসেপ্টর (GPCR) ব্যবহার করে কাজ করে।
d) গ্লুকাগন (Glucagon): গ্লুকাগন একটি পেপটাইড হরমোন এবং ইনসুলিনের মতোই এটি কোষের পৃষ্ঠে অবস্থিত মেমব্রেন রিসেপ্টরের সাথে আবদ্ধ হয়ে তার প্রভাব বিস্তার করে।

রেফারেন্স: Guyton & Hall.

৬৯.
এনজাইম "Km" (Michaelis-Menten constant) আসলে কী নির্দেশ করে? [Which of the following best describes enzyme “Km” value?]
  1. সর্বোচ্চ প্রতিক্রিয়ার গতি (Maximum reaction velocity)
  2. অর্ধেক Vmax পেতে যত substrate লাগে (Substrate concentration at half Vmax)
  3. এনজাইমের স্থায়িত্ব (Enzyme stability)
  4. এনজাইম-প্রোডাক্ট কমপ্লেক্স গঠন (Enzyme-product complex formation)
সঠিক উত্তর:
অর্ধেক Vmax পেতে যত substrate লাগে (Substrate concentration at half Vmax)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধেক Vmax পেতে যত substrate লাগে (Substrate concentration at half Vmax)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) অর্ধেক Vmax পেতে যত সাবস্ট্রেট লাগে (Substrate concentration at half Vmax)।

কেন এটি সঠিক: এনজাইম কাইনেটিক্সে (enzyme kinetics), Km​ (মাইকেলিস-মেন্টেন কনস্ট্যান্ট) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটার যা এনজাইমের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে। Km​-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, এটি হলো সেই পরিমাণ সাবস্ট্রেটের ঘনত্ব, যেখানে এনজাইম তার সর্বোচ্চ কার্যকারিতা (Vmax​) অর্ধেক গতিতে পৌঁছায়।

এনজাইম এবং সাবস্ট্রেটের আকর্ষণ: Km​ মানটি এনজাইম এবং সাবস্ট্রেটের মধ্যে আকর্ষণ (affinity)-এর একটি সূচক।

যদি Km​-এর মান কম হয়, তার মানে হলো এনজাইমের সাবস্ট্রেটের প্রতি আকর্ষণ বেশি। অর্থাৎ, এনজাইমটি কম ঘনত্বের সাবস্ট্রেট থাকলেও তার অর্ধেক সর্বোচ্চ গতিতে কাজ করতে পারে।
যদি Km​-এর মান বেশি হয়, তার মানে হলো এনজাইমের সাবস্ট্রেটের প্রতি আকর্ষণ কম। তখন এনজাইমটিকে অর্ধেক সর্বোচ্চ গতিতে কাজ করার জন্য অনেক বেশি ঘনত্বের সাবস্ট্রেট প্রয়োজন হয়।
সুতরাং, Km​ মানটি সরাসরি এনজাইমের কর্মক্ষমতা এবং সাবস্ট্রেটের প্রতি তার আকর্ষণ ক্ষমতা নির্দেশ করে।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) সর্বোচ্চ প্রতিক্রিয়ার গতি (Maximum reaction velocity - Vmax): Vmax​ হলো এনজাইমের সর্বোচ্চ গতি, যা Km​ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি পরিমাপ। Km​ হলো সেই সাবস্ট্রেট ঘনত্ব, যেখানে এই Vmax​ এর অর্ধেক গতিতে কাজ করে।
c) এনজাইমের স্থায়িত্ব (Enzyme stability): Km​ এনজাইমের তাপীয় বা রাসায়নিক স্থায়িত্ব নির্দেশ করে না।
d) এনজাইম-প্রোডাক্ট কমপ্লেক্স গঠন: Km​ সরাসরি এনজাইম-প্রোডাক্ট কমপ্লেক্সের সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং এটি এনজাইম-সাবস্ট্রেট কমপ্লেক্সের স্থায়িত্ব এবং এনজাইমের কার্যকারিতার সাথে সম্পর্কিত।

রেফারেন্স: Lehninger Biochemistry.

৭০.
নিম্নলিখিত কোন হরমোনের কাজ সিএএমপি (cAMP) সেকেন্ড মেসেঞ্জার (second messenger) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত? Which of the following hormone actions is mediated by cAMP as a second messenger?
  1. ইনসুলিন (Insulin)
  2. গ্লুকাগন (Glucagon)
  3. থাইরক্সিন (Thyroxine)
  4. কর্টিসল (Cortisol)
সঠিক উত্তর:
গ্লুকাগন (Glucagon)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লুকাগন (Glucagon)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) গ্লুকাগন (Glucagon)।

কেন এটি সঠিক: গ্লুকাগন হলো একটি পেপটাইড হরমোন যা অগ্ন্যাশয় (pancreas) থেকে নিঃসৃত হয়। এর প্রধান কাজ হলো রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ানো, বিশেষ করে যখন গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়। গ্লুকাগন কোষের ওপর তার প্রভাব বিস্তার করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সিগনালিং পাথওয়ে ব্যবহার করে:

১. রিসেপ্টরের সাথে আবদ্ধ হওয়া: গ্লুকাগন কোষের পৃষ্ঠে অবস্থিত একটি জি-প্রোটিন-কাপলড রিসেপ্টর (GPCR) এর সাথে আবদ্ধ হয়। ২. অ্যাডেনাইলেট সাইক্লেস সক্রিয়করণ: এই আবদ্ধতার ফলে কোষের অভ্যন্তরে অ্যাডেনাইলেট সাইক্লেস (adenylate cyclase) নামক একটি এনজাইম সক্রিয় হয়। ৩. সিএএমপি (cAMP) উৎপাদন: অ্যাডেনাইলেট সাইক্লেস এনজাইম এটিপি (ATP) থেকে সাইক্লিক এএমপি (cyclic AMP বা cAMP) তৈরি করে। ৪. প্রোটিন কিনেস এ (PKA) সক্রিয়করণ: এই সিএএমপি তখন একটি প্রধান এনজাইম প্রোটিন কিনেস এ (PKA)-কে সক্রিয় করে। ৫. জৈবিক প্রতিক্রিয়া: PKA তখন বিভিন্ন বিপাকীয় এনজাইমকে ফসফরিলেশন করে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করে, যার ফলে যকৃতে গ্লাইকোজেনের ভাঙ্গন (glycogenolysis) শুরু হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় সিএএমপি একটি গুরুত্বপূর্ণ সেকেন্ড মেসেঞ্জার হিসেবে কাজ করে, যা হরমোনের বাহ্যিক সংকেতকে কোষের অভ্যন্তরে একটি কার্যকরী প্রতিক্রিয়ায় রূপান্তরিত করে।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) ইনসুলিন: ইনসুলিন তার কাজ করার জন্য টাইরোসিন কিনেস রিসেপ্টর (tyrosine kinase receptor) নামক একটি ভিন্ন রিসেপ্টর পাথওয়ে ব্যবহার করে।
c) থাইরক্সিন (Thyroxine): থাইরক্সিন হলো একটি অ্যামিনো অ্যাসিড-প্রাপ্ত হরমোন যা কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত ইন্ট্রাসেলুলার রিসেপ্টরের মাধ্যমে জিন ট্রান্সক্রিপশন নিয়ন্ত্রণ করে।
d) কর্টিসল (Cortisol): কর্টিসল একটি স্টেরয়েড হরমোন যা চর্বিতে দ্রবণীয়। এটিও থাইরক্সিনের মতো কোষের অভ্যন্তরে ইন্ট্রাসেলুলার রিসেপ্টর ব্যবহার করে

রেফারেন্স: Ganong Physiology

৭১.
কম্পিটিটিভ ইনহিবিশনের (Competitive inhibition) একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
Which is a key feature of enzyme inhibition in competitive inhibition?
  1. Vmax কমে যায় (Vmax decreases)
  2. Km বেড়ে যায় (Km increases)
  3. Km কমে যায় (Km decreases)
  4. Enzyme activity একেবারেই বন্ধ হয়ে যায় (Enzyme activity is completely stopped)
সঠিক উত্তর:
Km বেড়ে যায় (Km increases)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Km বেড়ে যায় (Km increases)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) Km​ বেড়ে যায় (Km​ increases)।

কেন এটি সঠিক: কম্পিটিটিভ ইনহিবিশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একটি ইনহিবিটর (inhibitor) বা প্রতিরোধক এনজাইমের সক্রিয় সাইট (active site)-এ সাবস্ট্রেটের সাথে প্রতিযোগিতা করে। এই ইনহিবিটরটি দেখতে সাবস্ট্রেটের মতোই হয়, তাই এটি এনজাইমের সাথে আবদ্ধ হতে পারে, কিন্তু এটি কোনো বিক্রিয়াকে অনুঘটক করে না।

যখন একটি কম্পিটিটিভ ইনহিবিটর উপস্থিত থাকে, তখন এনজাইমকে তার অর্ধেক সর্বোচ্চ গতি (Vmax​) পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সাবস্ট্রেটের ঘনত্ব প্রয়োজন হয়। এর কারণ হলো, কিছু এনজাইম ইনহিবিটর দ্বারা আবদ্ধ হয়ে যায়, ফলে সাবস্ট্রেটের জন্য কম এনজাইম উপলব্ধ থাকে।

Vmax​: যদি পর্যাপ্ত সাবস্ট্রেট যোগ করা হয়, তাহলে এই ইনহিবিটরের প্রভাবকে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। কারণ, সাবস্ট্রেটের ঘনত্ব অনেক বেশি হলে এটি ইনহিবিটরকে প্রতিস্থাপিত করে সক্রিয় সাইটে আবদ্ধ হতে পারে। তাই, সর্বোচ্চ গতি (Vmax​) অপরিবর্তিত থাকে।
Km​: যেহেতু অর্ধেক Vmax​ গতিতে পৌঁছানোর জন্য বেশি সাবস্ট্রেটের প্রয়োজন হয়, তাই Km​ মান বেড়ে যায়।
সুতরাং, Km​ বেড়ে যাওয়া এবং Vmax​ অপরিবর্তিত থাকা হলো কম্পিটিটিভ ইনহিবিশনের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
a) Vmax​ কমে যায়: Vmax​ কমে যাওয়া হলো নন-কম্পিটিটিভ ইনহিবিশনের (non-competitive inhibition) বৈশিষ্ট্য। নন-কম্পিটিটিভ ইনহিবিটর এনজাইমের অন্য একটি স্থানে আবদ্ধ হয় এবং এনজাইমের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।
c) Km​ কমে যায়: Km​ কমা কোনো ধরনের এনজাইম ইনহিবিশনের বৈশিষ্ট্য নয়। এটি বরং এনজাইম-সাবস্ট্রেটের আকর্ষণ বাড়লে হয়।
d) এনজাইম অ্যাক্টিভিটি একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়: কম্পিটিটিভ ইনহিবিশনে অ্যাক্টিভিটি একেবারে বন্ধ হয়ে যায় না। যদি সাবস্ট্রেটের পরিমাণ অনেক বাড়ানো হয়, তবে ইনহিবিশনের প্রভাব কাটিয়ে ওঠা যায়।

রেফারেন্স: Lehninger Principles of Biochemistry.

৭২.
পটাশিয়ামের অভাবে সাধারণত কোন সমস্যা হয়? [Potassium deficiency commonly leads to which condition?]
  1. Muscle weakness (পেশি দুর্বলতা)
  2. Blindness (অন্ধত্ব)
  3. Goiter (গলগণ্ড)
  4. Rickets (রিকেটস)
সঠিক উত্তর:
Muscle weakness (পেশি দুর্বলতা)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Muscle weakness (পেশি দুর্বলতা)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) পেশি দুর্বলতা (Muscle weakness)।

কেন এটি সঠিক: পটাশিয়াম হলো একটি অপরিহার্য ইলেকট্রোলাইট যা স্নায়ু এবং পেশীর সঠিক কার্যকারিতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শরীরের কোষের ভেতরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং স্নায়ু কোষ থেকে পেশী কোষে বৈদ্যুতিক সঙ্কেত প্রেরণে সাহায্য করে।

যখন শরীরে পটাশিয়ামের অভাব (হাইপোক্যালেমিয়া) হয়, তখন পেশী কোষগুলোর এই বৈদ্যুতিক সংকেত গ্রহণ ও প্রতিক্রিয়া করার ক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে পেশী দুর্বলতা, ক্র্যাম্প, এবং কিছু ক্ষেত্রে পেশী সংকোচন বা প্যারালাইসিসও হতে পারে। পটাশিয়ামের অভাবে হৃদপিণ্ডের পেশীর কার্যকারিতাও প্রভাবিত হতে পারে, যা মারাত্মক হতে পারে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
b) অন্ধত্ব (Blindness): রাতকানা বা অন্ধত্ব সাধারণত ভিটামিন এ-এর তীব্র অভাবের কারণে হয়।
c) গলগণ্ড (Goiter): গলগণ্ড হলো থাইরয়েড গ্রন্থির ফুলে যাওয়া অবস্থা, যা আয়োডিনের অভাবের কারণে হয়।
d) রিকেটস (Rickets): রিকেটস হলো ভিটামিন ডি-এর অভাবজনিত একটি রোগ, যা শিশুদের হাড়কে নরম এবং দুর্বল করে দেয়।

রেফারেন্স: WHO – Human Vitamin & Mineral Requirements

৭৩.
Which of the following is the richest source of Iodine?
নিচের কোনটি আয়োডিনের সর্বাধিক উৎস?
  1. Rice (চাল)
  2. Sea fish (সামুদ্রিক মাছ)
  3. Egg yolk (ডিমের কুসুম)
  4. Groundnut (বাদাম)
সঠিক উত্তর:
Sea fish (সামুদ্রিক মাছ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Sea fish (সামুদ্রিক মাছ)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) Sea fish (সামুদ্রিক মাছ)

কেন সঠিক: সামুদ্রিক মাছ ও সামুদ্রিক শৈবাল য়োডিনে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।

অন্য অপশনগুলো:
a) Rice → কার্বোহাইড্রেট উৎস, আয়োডিন কম।
c) Egg yolk → কিছু আয়োডিন থাকে, তবে প্রধান উৎস নয়।
d) Groundnut → মিনারেল আছে, আয়োডিন নেই।
রেফারেন্স: ICMR – Dietary Guidelines for Indians

৭৪.
বাংলাদেশে "ডাবল বার্ডেন অফ ম্যালনিউট্রিশন" এর বৈশিষ্ট্য কোনটি সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝায়? Which statement BEST explains the paradox of “double burden of malnutrition” in Bangladesh?
  1. শিশুদের মধ্যে PEM, আর প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন/স্থূলতা (PEM in children, obesity in adults)
  2. একই ব্যক্তির মধ্যে একই সাথে স্থূলতা ও অপুষ্টি (Obesity & undernutrition in the same person)
  3. ধনী এলাকায় PEM ও দরিদ্র এলাকায় স্থূলতা (PEM in rich, obesity in poor)
  4. কেবল ভিটামিন D এর অভাব (Only vitamin D deficiency)
সঠিক উত্তর:
শিশুদের মধ্যে PEM, আর প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন/স্থূলতা (PEM in children, obesity in adults)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিশুদের মধ্যে PEM, আর প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন/স্থূলতা (PEM in children, obesity in adults)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) শিশুদের মধ্যে PEM, আর প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন/স্থূলতা।

কেন এটি সঠিক: "ডাবল বার্ডেন অফ ম্যালনিউট্রিশন" বলতে বোঝানো হয় যখন কোনো দেশ বা সমাজে একই সময়ে পুষ্টির দুটি বিপরীত সমস্যা বিদ্যমান থাকে। একটি সমস্যা হলো অপুষ্টি বা পুষ্টির অভাব (যেমন: প্রোটিন-এনার্জি ম্যালনিউট্রিশন - PEM), এবং অন্যটি হলো অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা (obesity)।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশে এই দুটি সমস্যাই ব্যাপকভাবে দেখা যায়। একদিকে, শিশুরা প্রায়ই প্রোটিন ও ক্যালরির অভাবে ভোগে, যার ফলে তাদের মধ্যে কম ওজন (underweight), খর্বতা (stunting) এবং শীর্ণতা (wasting)-এর মতো লক্ষণ দেখা যায়। অন্যদিকে, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে অতিরিক্ত ওজন এবং স্থূলতার সমস্যা দ্রুত বাড়ছে।
এই দুটি ভিন্ন ধরনের পুষ্টিজনিত সমস্যা একই সঙ্গে বিদ্যমান থাকাটাই হলো বাংলাদেশের "ডাবল বার্ডেন অফ ম্যালনিউট্রিশন"-এর সবচেয়ে ভালো উদাহরণ।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
B) একই ব্যক্তির মধ্যে একই সাথে স্থূলতা ও অপুষ্টি: এটি সম্ভব, কিন্তু এটি কোনো দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য সমস্যা বোঝায় না।
C) ধনী এলাকায় PEM ও দরিদ্র এলাকায় স্থূলতা: এটি সাধারণত বাস্তব অবস্থার বিপরীত। স্থূলতা সাধারণত শহুরে ও ধনী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেশি দেখা যায়, আর অপুষ্টি বেশি দেখা যায় দরিদ্র গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে।
D) কেবল ভিটামিন ডি-এর অভাব: এটি ভুল। ভিটামিন ডি-এর অভাব অপুষ্টির একটি অংশ হলেও, এটি "ডাবল বার্ডেন অফ ম্যালনিউট্রিশন" এর মূল ধারণাকে সম্পূর্ণভাবে বোঝাতে পারে না।

৭৫.
ক্রোমিয়াম প্রধানত কোন কাজে গুরুত্বপূর্ণ? [Chromium plays a significant role in:]
  1. Bone mineralization (হাড়ে খনিজ জমা)
  2. Thyroid hormone synthesis (থাইরয়েড হরমোন সংশ্লেষণ)
  3. Blood clotting (রক্ত জমাট বাঁধা)
  4.   Glucose metabolism (গ্লুকোজ বিপাক)
সঠিক উত্তর:
  Glucose metabolism (গ্লুকোজ বিপাক)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
  Glucose metabolism (গ্লুকোজ বিপাক)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: d) Glucose metabolism (গ্লুকোজ বিপাক)

- Chromium ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং গ্লুকোজ মেটাবলিজমে সাহায্য করে।

অন্য অপশনগুলো:
a) Phosphorus & Calcium → হাড় গঠন।
b) Iodine → থাইরয়েড হরমোন।
c) Calcium → রক্ত জমাট বাঁধা।

রেফারেন্স: WHO/FAO – Trace Elements in Human Nutrition

৭৬.
কেশান রোগ কোন মিনারেলের অভাবে হয়? [Which mineral deficiency causes Keshan disease?]
  1. Selenium (সেলেনিয়াম)
  2. Zinc (জিঙ্ক)
  3. Magnesium (ম্যাগনেসিয়াম)
  4. Copper (কপার)
সঠিক উত্তর:
Selenium (সেলেনিয়াম)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Selenium (সেলেনিয়াম)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) সেলেনিয়াম (Selenium)।

কেন এটি সঠিক: কেশান রোগ হলো এক ধরনের কার্ডিওমায়োপ্যাথি (cardiomyopathy), যা হৃদপিণ্ডের পেশী দুর্বল করে দেয়। এই রোগটি প্রথম চীনের কেশন (Keshan) অঞ্চলে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যেখানে সেখানকার মাটিতে সেলেনিয়ামের পরিমাণ ছিল খুবই কম।

সেলেনিয়াম: এটি একটি অপরিহার্য ট্রেস মিনারেল যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এনজাইম গ্লুটাথিওন পেরোক্সিডেস (glutathione peroxidase) এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই এনজাইমটি শরীরের কোষগুলোকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
রোগের কারণ: যখন শরীরে সেলেনিয়ামের পরিমাণ খুব কমে যায়, তখন এটি হৃদপিণ্ডের পেশীকে অক্সিডেটিভ ক্ষতির বিরুদ্ধে দুর্বল করে তোলে। এর ফলে হৃদপিণ্ডের পেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কেশন রোগ দেখা দেয়।
সুতরাং, সেলেনিয়ামের অভাব এই রোগের প্রধান কারণ।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) জিঙ্ক (Zinc): জিঙ্কের অভাব হলে সাধারণত বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং ক্ষত সারতে দেরি হয়।
c) ম্যাগনেসিয়াম (Magnesium): ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে পেশী সংকুচিত হয়, পেশী ব্যথা এবং খিঁচুনি দেখা দিতে পারে।
d) কপার (Copper): কপারের অভাব হলে রক্তস্বল্পতা (anemia) এবং কিছু ক্ষেত্রে স্নায়বিক সমস্যা হতে পারে।

রেফারেন্স: Modern Nutrition in Health & Disease

৭৭.
Which of the following combinations is correct regarding mineral and its deficiency disease?
নিচের কোন মিনারেল ও তার অভাবজনিত রোগ সঠিকভাবে মিলে গেছে?
  1. Iodine – Night blindness (আয়োডিন – রাতকানা)
  2. Fluoride – Dental caries (ফ্লুরাইড – দাঁতের ক্ষয়)
  3. Zinc – Osteomalacia (জিঙ্ক – অস্টিওম্যালেশিয়া)
  4. Iron – Pellagra (আয়রন – পেলাগ্রা)
সঠিক উত্তর:
Fluoride – Dental caries (ফ্লুরাইড – দাঁতের ক্ষয়)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Fluoride – Dental caries (ফ্লুরাইড – দাঁতের ক্ষয়)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) ফ্লুরাইড – দাঁতের ক্ষয় (Fluoride – Dental caries)।

কেন এটি সঠিক: ফ্লুরাইড হলো একটি ট্রেস মিনারেল যা দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি দাঁতের এনামেলকে শক্তিশালী করে তোলে এবং অ্যাসিডের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। যখন শরীরে ফ্লুরাইডের পরিমাণ কম থাকে, তখন দাঁতের ক্ষয় (dental caries) হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফ্লুরাইড টুথপেস্ট ব্যবহার এবং ফ্লুরাইডেটেড পানি পান করা দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখার একটি কার্যকর উপায়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) আয়োডিন – রাতকানা (Iodine – Night blindness): এটি ভুল। আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা হয়, যার ফলে গলগণ্ড (goiter) এবং ক্রেটিনিজম (cretinism) হতে পারে। রাতকানা হলো ভিটামিন এ-এর অভাবজনিত রোগ।
c) জিঙ্ক – অস্টিওম্যালেশিয়া (Zinc – Osteomalacia): এটি ভুল। জিঙ্কের অভাবে বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, ক্ষত সারতে দেরি হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। অস্টিওম্যালেশিয়া হলো ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত রোগ, যা হাড়কে নরম করে দেয়।
d) আয়রন – পেলাগ্রা (Iron – Pellagra): এটি ভুল। আয়রনের অভাবে রক্তস্বল্পতা (anemia) হয়। পেলাগ্রা হলো ভিটামিন বি৩ (নিয়াসিন)-এর অভাবজনিত রোগ, যার লক্ষণগুলো হলো ডার্মাটাইটিস (ত্বকের প্রদাহ), ডায়রিয়া এবং ডিমেনশিয়া।

রেফারেন্স: Gopalan – Nutritive Value of Indian Foods

৭৮.
মলিবডেনাম কোন এনজাইমের কো-ফ্যাক্টর? [Molybdenum is a cofactor for which enzyme?]
  1. Xanthine oxidase (জ্যানথিন অক্সিডেজ)
  2. Glutathione peroxidase (গ্লুটাথায়ন পেরঅক্সিডেজ)
  3. Catalase (ক্যাটালেজ)
  4. Superoxide dismutase (সুপারঅক্সাইড ডিসমিউটেজ)
সঠিক উত্তর:
Xanthine oxidase (জ্যানথিন অক্সিডেজ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Xanthine oxidase (জ্যানথিন অক্সিডেজ)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) জ্যানথিন অক্সিডেজ (Xanthine oxidase)।

কেন এটি সঠিক: মলিবডেনাম হলো একটি অপরিহার্য ট্রেস মিনারেল (trace mineral) যা মানবদেহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এনজাইমের কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজন। এই এনজাইমগুলো হলো:

জ্যানথিন অক্সিডেজ (Xanthine oxidase): এটি হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম যা পিউরিন (purine) বিপাকে (metabolism) ভূমিকা পালন করে। এটি জ্যানথিনকে ইউরিক অ্যাসিডে রূপান্তর করে, যা শরীর থেকে বের করে দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ার জন্য মলিবডেনাম একটি অপরিহার্য কো-ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।
অ্যালডিহাইড অক্সিডেজ (Aldehyde oxidase): এটি বিভিন্ন টক্সিন (toxins) এবং অ্যালডিহাইডকে ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে।
সালফাইট অক্সিডেজ (Sulfite oxidase): এটি সালফার-যুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিডের বিপাকের জন্য প্রয়োজন।
সুতরাং, জ্যানথিন অক্সিডেজের সঠিক কার্যকারিতার জন্য মলিবডেনাম অপরিহার্য।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) গ্লুটাথায়ন পেরঅক্সিডেজ (Glutathione peroxidase): এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এনজাইমের কো-ফ্যাক্টর হলো সেলেনিয়াম (selenium)।
c) ক্যাটালেজ (Catalase): এই এনজাইমটি হাইড্রোজেন পেরঅক্সাইডকে জল এবং অক্সিজেনে রূপান্তরিত করে। এর কো-ফ্যাক্টর হলো আয়রন (iron)।
d) সুপারঅক্সাইড ডিসমিউটেজ (Superoxide dismutase): এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এনজাইমটির কো-ফ্যাক্টর হিসেবে কপার (copper), জিঙ্ক (zinc), এবং ম্যাঙ্গানিজ (manganese) কাজ করে।

রেফারেন্স: WHO/FAO – Trace Elements in Human Health

৭৯.
ট্রিপটোফ্যান লোড টেস্ট (Tryptophan load test)-এর পর কোন ভিটামিনের ঘাটতিতে জ্যান্থুরেনিক অ্যাসিড (xanthurenic acid) জমে যায়? Deficiency of which vitamin leads to accumulation of xanthurenic acid after tryptophan load test?
  1.  ভিটামিন B6 (পাইরিডক্সিন)
  2.  ভিটামিন B2 (রাইবোফ্ল্যাভিন)
  3. ভিটামিন B12 (কোবালামিন)
  4. ভিটামিন B1 (থায়ামিন)
সঠিক উত্তর:
 ভিটামিন B6 (পাইরিডক্সিন)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ভিটামিন B6 (পাইরিডক্সিন)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) ভিটামিন B6 (পাইরিডক্সিন)।

কেন এটি সঠিক: ভিটামিন B6 (যা পাইরিডক্সিন নামেও পরিচিত) একটি গুরুত্বপূর্ণ কোএনজাইম যা অ্যামিনো অ্যাসিডের বিপাক, বিশেষ করে ট্রিপটোফ্যানের বিপাকে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

ট্রিপটোফ্যানের স্বাভাবিক বিপাকীয় পথে, এটি কাইনুরেনিন (kynurenine) নামক একটি মধ্যবর্তী পদার্থে রূপান্তরিত হয়। এরপর কাইনুরেনেস (kynureninase) নামক একটি এনজাইম কাইনুরেনিনকে ভেঙে দেয়। এই কাইনুরেনেস এনজাইমটি কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য ভিটামিন B6-কে কোএনজাইম হিসেবে প্রয়োজন হয়।

যখন শরীরে ভিটামিন B6-এর ঘাটতি থাকে, তখন কাইনুরেনেস এনজাইমটি তার কাজ সঠিকভাবে করতে পারে না। ফলে কাইনুরেনিন তার বিকল্প বিপাকীয় পথে চলে যায় এবং এটি জ্যান্থুরেনিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়। এই জ্যান্থুরেনিক অ্যাসিড প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।

ট্রিপটোফ্যান লোড টেস্টের সময় অতিরিক্ত ট্রিপটোফ্যান দেওয়া হয়। যদি প্রস্রাবে জ্যান্থুরেনিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি পাওয়া যায়, তবে তা ভিটামিন B6-এর অভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) ভিটামিন B2 (রাইবোফ্ল্যাভিন): ভিটামিন B2 বিভিন্ন ফ্লাভোপ্রোটিন এনজাইমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এটি সরাসরি ট্রিপটোফ্যানের বিপাকের সাথে সম্পর্কিত নয়।
C) ভিটামিন B12 (কোবালামিন): ভিটামিন B12 প্রধানত ডিএনএ সংশ্লেষণ এবং ফ্যাটি অ্যাসিড বিপাকের সাথে সম্পর্কিত। এর অভাবে মেথাইলম্যালোনাইল-কোএনজাইম এ (methylmalonyl-CoA) জমে যায়।
D) ভিটামিন B1 (থায়ামিন): ভিটামিন B1 প্রধানত কার্বোহাইড্রেট বিপাকে, বিশেষ করে পাইরুভেট ডিহাইড্রোজিনেস কমপ্লেক্সের কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

রেফারেন্স: Harper’s Biochemistry.

৮০.
মেরুদণ্ডী স্নায়ুর (spinal cord) "সাবঅ্যাকিউট কম্বাইন্ড ডিজেনারেশন" (subacute combined degeneration) কোন ভিটামিনের ঘাটতিতে হয়? [Which vitamin deficiency produces “subacute combined degeneration” of the spinal cord?]
  1. ভিটামিন বি১ (থায়ামিন)
  2. ভিটামিন বি৬ (পাইরিডক্সিন)
  3. ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12)
  4. ভিটামিন ই
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: C) ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12)।

কেন এটি সঠিক: ভিটামিন বি১২, যা কোবালামিন (cobalamin) নামেও পরিচিত, স্নায়ু কোষের স্বাস্থ্য এবং মাইয়েলিন শিথ (myelin sheath) গঠনের জন্য অপরিহার্য। মাইয়েলিন শিথ হলো স্নায়ুকে আবৃত করে রাখে এমন একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর, যা বৈদ্যুতিক সংকেত দ্রুত প্রেরণে সাহায্য করে।

যখন শরীরে ভিটামিন বি১২-এর তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়, তখন মাইয়েলিন শিথ গঠনে সমস্যা হয়। এর ফলে মেরুদণ্ডী স্নায়ুর নির্দিষ্ট কিছু অংশের (যেমন: ডরসাল কলাম এবং করটিকোস্পাইনাল ট্র্যাক্ট) ক্ষয় (degeneration) শুরু হয়। এই অবস্থাকেই সাবঅ্যাকিউট কম্বাইন্ড ডিজেনারেশন বলা হয়। এই রোগের লক্ষণগুলো হলো হাঁটার সময় ভারসাম্যহীনতা, হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া বা দুর্বল হয়ে পড়া এবং গভীর স্পর্শ বা কম্পনের অনুভূতি হ্রাস।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
A) ভিটামিন বি১ (থায়ামিন): ভিটামিন বি১-এর অভাবে সাধারণত ওয়েনিক-করসাকফ সিন্ড্রোম (Wernicke-Korsakoff syndrome) বা বেরিবেরি (beriberi) রোগ হয়, যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে।
B) ভিটামিন বি৬ (পাইরিডক্সিন): ভিটামিন বি৬-এর অভাবে পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি (peripheral neuropathy) হতে পারে, কিন্তু এটি মেরুদণ্ডী স্নায়ুর সাবঅ্যাকিউট কম্বাইন্ড ডিজেনারেশনের কারণ নয়।
D) ভিটামিন ই: ভিটামিন ই-এর অভাবে সাধারণত অক্সিডেটিভ ক্ষতি এবং স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথির কারণ হতে পারে, কিন্তু এটিও সাবঅ্যাকিউট কম্বাইন্ড ডিজেনারেশনের প্রধান কারণ নয়।

৮১.
কোন ভিটামিন টক্সিসিটিতে নেফ্রোকেলসিনোসিস (nephrocalcinosis) এবং মেটাস্ট্যাটিক ক্যালসিফিকেশন (metastatic calcification) হয়? [Toxicity of which vitamin causes nephrocalcinosis and metastatic calcification?]
  1. ভিটামিন এ[vitamin A]
  2. ভিটামিন ডি [Vitamin D]
  3. ভিটামিন ই [Vitamin E]
  4. ভিটামিন কে [Vitamin K]
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন ডি [Vitamin D]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন ডি [Vitamin D]
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) ভিটামিন ডি (Vitamin D)।

কেন এটি সঠিক: ভিটামিন ডি হলো একটি চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন যা ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যখন অতিরিক্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি গ্রহণ করা হয়, তখন শরীরে এর বিষাক্ততা বা হাইপারভিটামিনোসিস ডি (Hypervitaminosis D) দেখা দেয়।

হাইপারভিটামিনোসিস ডি: এই অবস্থায় রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যাকে হাইপারক্যালসিমিয়া (hypercalcemia) বলা হয়।
মেটাস্ট্যাটিক ক্যালসিফিকেশন: অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম তখন শরীরের নরম টিস্যুগুলোতে (যেমন: হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, রক্তনালী) জমা হতে শুরু করে। এই অবস্থাকে মেটাস্ট্যাটিক ক্যালসিফিকেশন বলা হয়, যা টিস্যুর কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়।
নেফ্রোকেলসিনোসিস: কিডনি হলো ক্যালসিয়ামকে ফিল্টার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। যখন রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অনেক বেশি থাকে, তখন তা কিডনিতে জমা হয়ে ক্যালসিয়ামের পাথর (kidney stones) এবং নেফ্রোকেলসিনোসিস (নেফ্রনে ক্যালসিয়াম জমা হওয়া)-এর কারণ হতে পারে।
সুতরাং, ভিটামিন ডি-এর অতিরিক্ত মাত্রা নেফ্রোকেলসিনোসিস এবং মেটাস্ট্যাটিক ক্যালসিফিকেশনের প্রধান কারণ।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
A) ভিটামিন এ: ভিটামিন এ-এর টক্সিসিটির ফলে ইন্ট্রাক্রেনিয়াল হাইপারটেনশন (intracranial hypertension), যকৃতের বিষাক্ততা (hepatotoxicity) এবং হাড়ের ব্যথা হতে পারে। এর সঙ্গে ক্যালসিফিকেশনের কোনো সম্পর্ক নেই।
C) ভিটামিন ই: ভিটামিন ই-এর টক্সিসিটি তুলনামূলকভাবে কম হলেও, এটি রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে ভিটামিন কে-এর সাথে এর ইন্টারঅ্যাকশনের কারণে।
D) ভিটামিন কে: ভিটামিন কে-এর টক্সিসিটি বিরল হলেও, নবজাতকের ক্ষেত্রে এটি হেমোলাইসিস (লোহিত রক্তকণিকার ধ্বংস) এবং জন্ডিসের কারণ হতে পারে।

৮২.
হেম সংশ্লেষণ (Heme synthesis)-এর δ-অ্যামিনোলেভুলিনিক অ্যাসিড (δ-ALA) কোন ভিটামিনের কো-এনজাইম দরকার? Which vitamin acts as a coenzyme for δ-aminolevulinic acid synthase in heme synthesis?
  1.  ভিটামিন বি৬ (Vitamin B6)
  2. ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12)
  3. ভিটামিন বি১ (থায়ামিন)
  4. ভিটামিন বি২ (রাইবোফ্ল্যাভিন)
সঠিক উত্তর:
 ভিটামিন বি৬ (Vitamin B6)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ভিটামিন বি৬ (Vitamin B6)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) ভিটামিন বি৬ (Vitamin B6)।
কেন এটি সঠিক: হেম (heme) হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ অণু যা হিমোগ্লোবিন (hemoglobin) এবং অন্যান্য অনেক প্রোটিনে পাওয়া যায়। হেম সংশ্লেষণের প্রথম এবং রেট-লিমিটিং ধাপ হলো δ-অ্যামিনোলেভুলিনিক অ্যাসিড (δ-ALA) তৈরি। এই বিক্রিয়াটি δ-ALA সিনথেস (δ-ALA synthase) নামক এনজাইম দ্বারা অনুঘটক হয়।
- এই এনজাইমটি তার কার্যকারিতার জন্য একটি কো-এনজাইমের উপর নির্ভরশীল। সেই কো-এনজাইমটি হলো ভিটামিন বি৬-এর সক্রিয় রূপ, পাইরিডক্সাল ফসফেট (pyridoxal phosphate - PLP)। এটি গ্লাইসিন এবং সাক্সিনিল-কোএনজাইম এ (succinyl-CoA)-এর মধ্যে ঘনীভবন বিক্রিয়াকে অনুঘটক করে δ-ALA তৈরি করে।

সুতরাং, ভিটামিন বি৬-এর অভাব হেম সংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, যার ফলে এক ধরনের রক্তস্বল্পতা (sideroblastic anemia) দেখা দিতে পারে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
B) ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12): ভিটামিন বি১২ (কোবালামিন) প্রধানত মেথিলেশন বিক্রিয়ায় (methylation reactions) এবং লোহিত রক্তকণিকা গঠনে ভূমিকা পালন করে। এটি হেম সংশ্লেষণের সরাসরি কো-এনজাইম নয়।
C) ভিটামিন বি১ (থায়ামিন): ভিটামিন বি১ (থায়ামিন) প্রধানত কার্বোহাইড্রেট বিপাকের অক্সিডেটিভ ডিকার্বক্সিলেশন বিক্রিয়ায় কো-এনজাইম হিসেবে কাজ করে।
D) ভিটামিন বি২ (রাইবোফ্ল্যাভিন): ভিটামিন বি২ (রাইবোফ্ল্যাভিন) প্রধানত ইলেকট্রন স্থানান্তরকারী এনজাইমগুলোতে (electron transport chain) কো-ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।
এই ভিডিওতে δ-aminolevulinate synthase এর কার্যকারিতা এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় কোফ্যাক্টর নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। δ-Aminolevulinate Synthase: Physiology, Biochemistry, & Mechanism

রেফারেন্স: Harper’s Biochemistry.

৮৩.
রক্ত জমাট বাঁধার উপাদানগুলোর (clotting factors) গ্লুটামেট রেসিডিউ (glutamate residue)-এর γ-কার্বক্সিলেশন-এর জন্য কোন ভিটামিন দরকার?[Which vitamin is required for γ-carboxylation of glutamate residues in clotting factors?]
  1. ভিটামিন কে (Vitamin K)
  2. ভিটামিন সি Vitamin C
  3. ভিটামিন ডি Vitamin D
  4. ভিটামিন এ Vitamin A
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন কে (Vitamin K)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন কে (Vitamin K)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) ভিটামিন কে (Vitamin K)।

কেন এটি সঠিক: রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াটি খুবই জটিল এবং এর জন্য বেশ কয়েকটি প্রোটিন বা ক্লটিং ফ্যাক্টর প্রয়োজন হয়। এই ক্লটিং ফ্যাক্টরগুলো (যেমন: ফ্যাক্টর II, VII, IX, এবং X) যকৃতে (liver) তৈরি হয়। কার্যক্ষম হওয়ার জন্য এই প্রোটিনগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট-ট্রান্সলেশনাল পরিবর্তন প্রয়োজন, যাকে γ-কার্বক্সিলেশন বলা হয়।

ভিটামিন কে: ভিটামিন কে হলো এই γ-কার্বক্সিলেশন প্রক্রিয়ার জন্য একটি অপরিহার্য কো-ফ্যাক্টর। এটি γ-গ্লুটামিল কার্বক্সিলেস (γ-glutamyl carboxylase) নামক এনজাইমকে সহায়তা করে, যা গ্লুটামেট অ্যামিনো অ্যাসিডে একটি অতিরিক্ত কার্বক্সিল গ্রুপ যুক্ত করে।
শারীরিক গুরুত্ব: এই কার্বক্সিলেশন প্রক্রিয়া না হলে ক্লটিং ফ্যাক্টরগুলো ক্যালসিয়াম আয়নকে সঠিকভাবে আবদ্ধ করতে পারে না, যা জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য। ফলে, ভিটামিন কে-এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং রক্তক্ষরণ (bleeding) হতে পারে।
এই কারণে, ভিটামিন কে-কে "রক্ত জমাট বাঁধার ভিটামিন" বলা হয়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) ভিটামিন সি: ভিটামিন সি কোলাজেন সংশ্লেষণের জন্য অপরিহার্য, যা ত্বক, হাড়, এবং রক্তনালীর স্বাস্থ্য বজায় রাখে। ভিটামিন সি-এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়।
C) ভিটামিন ডি: ভিটামিন ডি প্রধানত ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের শোষণে সাহায্য করে, যা হাড়ের স্বাস্থ্য এবং ইমিউন ফাংশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
D) ভিটামিন এ: ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং কোষের বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। এর অভাবের কারণে রাতকানা রোগ হয়।

রেফারেন্স: Guyton; Harrison’s.

৮৪.
ফ্রিনোডার্মা" (phrynoderma) বা "টোড স্কিন" (toad skin) কোন ভিটামিনের ঘাটতিতে হয়? Which vitamin deficiency can lead to “phrynoderma” (toad skin)? 
  1. Vitamin A (ভিটামিন এ ) 
  2. Vitamin E ( ভিটামিন ই)
  3. Vitamin C ( ভিটামিন সি)
  4. Vitamin K ( ভিটামিন কে)
সঠিক উত্তর:
Vitamin A (ভিটামিন এ ) 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Vitamin A (ভিটামিন এ ) 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) ভিটামিন এ (Vitamin A)।

কেন এটি সঠিক: ভিটামিন এ ত্বকের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, পুনর্নবীকরণ এবং স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। যখন শরীরে ভিটামিন এ-এর অভাব দেখা দেয়, তখন ত্বকের একটি বিশেষ অবস্থা তৈরি হয় যাকে "ফলিকুলার হাইপারকেরাটোসিস" (follicular hyperkeratosis) বলা হয়।

ফ্রিনোডার্মা (Phrynoderma): এই অবস্থায় ত্বকের ফলিকলগুলোর মুখ শক্ত এবং পুরু হয়ে যায়। এর ফলে ত্বক খসখসে এবং দানাদার হয়ে যায়, যা ব্যাঙের চামড়ার মতো দেখায়। এই কারণেই এর আরেক নাম হলো "টোড স্কিন"। এই অবস্থাটি সাধারণত কনুই, হাঁটু, বাহু এবং নিতম্বের মতো স্থানে বেশি দেখা যায়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) ভিটামিন ই: ভিটামিন ই-এর অভাব বিরল এবং এর ফলে স্নায়বিক সমস্যা বা স্টেরিলিটি (বন্ধ্যাত্ব) হতে পারে, কিন্তু এটি ত্বকের এই অবস্থার কারণ নয়।
C) ভিটামিন সি: ভিটামিন সি-এর অভাবে স্কার্ভি (scurvy) রোগ হয়, যার লক্ষণগুলো হলো মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ, দুর্বলতা এবং ক্ষত সারতে দেরি হওয়া।
D) ভিটামিন কে: ভিটামিন কে-এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, যার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে।

রেফারেন্স: Nelson Pediatrics.

৮৫.
বার্নিং ফিট সিনড্রোম" (burning feet syndrome) কোন ভিটামিনের ঘাটতিতে হয়? Which vitamin deficiency causes “burning feet syndrome”?
  1. Vitamin B5(প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড)
  2. Vitamin B1 (থায়ামিন)
  3. Vitamin B6(পাইরিডক্সিন)
  4. Vitamin B12(কোবালামিন)
সঠিক উত্তর:
Vitamin B5(প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Vitamin B5(প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) ভিটামিন বি৫ (প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড)।

কেন এটি সঠিক: "বার্নিং ফিট সিনড্রোম" হলো একটি স্নায়বিক রোগ, যা পায়ে তীব্র জ্বালা, ব্যথা এবং অবশভাব সৃষ্টি করে। এটি প্রধানত ভিটামিন বি৫ (প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড)-এর অভাবের কারণে হয়।

প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড: এই ভিটামিনটি কোএনজাইম এ (coenzyme A) এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কোএনজাইম এ হলো এমন একটি অণু যা কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্যাটের বিপাক, এবং স্নায়বিক ট্রান্সমিটার সংশ্লেষণের জন্য অপরিহার্য।
রোগের কারণ: যখন শরীরে ভিটামিন বি৫-এর তীব্র অভাব দেখা দেয়, তখন কোএনজাইম এ-এর উৎপাদন কমে যায়। এর ফলে স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়, যা পায়ে জ্বালা এবং অন্যান্য স্নায়বিক লক্ষণ সৃষ্টি করে। এই অবস্থাটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে প্রায়শই দেখা যেত, কারণ তাদের খাবারে ভিটামিন বি৫-এর অভাব ছিল।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) ভিটামিন বি১ (থায়ামিন): ভিটামিন বি১-এর অভাবে বেরিবেরি (beriberi) রোগ হয়, যা হৃদপিণ্ড এবং স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে।
C) ভিটামিন বি৬ (পাইরিডক্সিন): ভিটামিন বি৬-এর অভাবে পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি হতে পারে, কিন্তু এটি বার্নিং ফিট সিনড্রোমের সবচেয়ে সাধারণ কারণ নয়।
D) ভিটামিন বি১২ (কোবালামিন): ভিটামিন বি১২-এর অভাবের ফলে সাধারণত মেরুদণ্ডী স্নায়ুর সাবঅ্যাকিউট কম্বাইন্ড ডিজেনারেশন হয়।

রেফারেন্স: Harper’s.

৮৬.
 শিশুদের মেথেমোগ্লোবিনেমিয়া (methemoglobinemia)-এর ঝুঁকি কোন ভিটামিনের ঘাটতিতে বাড়ে? [Which vitamin deficiency increases the risk of methemoglobinemia in infants?]
  1. Vitamin E
  2. Vitamin C
  3. Vitamin K
  4. Vitamin D
সঠিক উত্তর:
Vitamin C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Vitamin C
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) ভিটামিন সি (Vitamin C)।

কেন এটি সঠিক: মেথেমোগ্লোবিনেমিয়া হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে হিমোগ্লোবিন (hemoglobin) স্বাভাবিকভাবে অক্সিজেন বহন করতে পারে না। হিমোগ্লোবিনের মধ্যে থাকা আয়রন সাধারণত Fe2+ (ফেরাস) অবস্থায় থাকে, যা অক্সিজেন বহন করে। কিন্তু কোনো কারণে যদি এটি জারিত হয়ে Fe3+ (ফেরিক) অবস্থায় রূপান্তরিত হয়, তখন তাকে মেথেমোগ্লোবিন বলা হয়। মেথেমোগ্লোবিন অক্সিজেন বহন করতে পারে না, ফলে শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়।

ভিটামিন সি-এর ভূমিকা: ভিটামিন সি (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) হলো একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি মেথেমোগ্লোবিনকে পুনরায় হিমোগ্লোবিনে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে, যারা মেথেমোগ্লোবিনেমিয়ার প্রতি বেশি সংবেদনশীল, ভিটামিন সি-এর ঘাটতি এই রূপান্তর প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
এই কারণে, যখন কোনো শিশুর শরীরে ভিটামিন সি-এর পরিমাণ কম থাকে, তখন মেথেমোগ্লোবিনেমিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) ভিটামিন ই: ভিটামিন ই একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষের ঝিল্লিকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এর অভাবে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যেতে পারে (হেমোলাইসিস), কিন্তু মেথেমোগ্লোবিনেমিয়ার সঙ্গে এর সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
C) ভিটামিন কে: ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধার জন্য অপরিহার্য। এর অভাবে রক্তক্ষরণ বা ব্লিডিং হতে পারে।
D) ভিটামিন ডি: ভিটামিন ডি প্রধানত ক্যালসিয়াম শোষণে এবং হাড়ের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখে। এর অভাবে রিকেটস রোগ হয়।

৮৭.
হোমোসিস্টিন (homocysteine) থেকে সিস্টাথায়োনিন (cystathionine)-এ রূপান্তর কোন ভিটামিনের ঘাটতিতে হয় না? Which vitamin deficiency leads to impaired conversion of homocysteine → cystathionine?
  1. Vitamin B6
  2. Vitamin B12
  3. Folate
  4. Vitamin C
সঠিক উত্তর:
Vitamin B6
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Vitamin B6
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) ভিটামিন বি৬ (Vitamin B6)।

কেন এটি সঠিক: হোমোসিস্টিন হলো একটি অ্যামিনো অ্যাসিড যা প্রোটিন বিপাকের (protein metabolism) সময় তৈরি হয়। রক্তে এর মাত্রা বেশি হলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। শরীর হোমোসিস্টিনকে দুটি প্রধান পথের মাধ্যমে বিপাক করে:

১. পুনর্গঠন (Remethylation): এই পথে হোমোসিস্টিন আবার মেথিওনিনে (methionine) রূপান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়ার জন্য ভিটামিন বি১২ এবং ফোলেট (ভিটামিন বি৯) প্রয়োজন। ২. ট্রান্সসালফিউরেশন (Transsulfuration): এই পথে হোমোসিস্টিন দুটি ধাপে সিস্টাথায়োনিন এবং পরে সিস্টেইনে (cysteine) রূপান্তরিত হয়। এই পথের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি হলো হোমোসিস্টিন থেকে সিস্টাথায়োনিন তৈরি হওয়া, যা সিস্টাথায়োনিন β-সিনথেস (cystathionine β-synthase) নামক এনজাইম দ্বারা অনুঘটক হয়।

এই এনজাইমটি তার কার্যকারিতার জন্য ভিটামিন বি৬-কে কোএনজাইম হিসেবে ব্যবহার করে। তাই, যখন শরীরে ভিটামিন বি৬-এর ঘাটতি থাকে, তখন এই প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে হোমোসিস্টিন থেকে সিস্টাথায়োনিন তৈরি হয় না এবং রক্তে হোমোসিস্টিনের মাত্রা বেড়ে যায়।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) ভিটামিন বি১২ এবং C) ফোলেট: এই দুটি ভিটামিন হোমোসিস্টিন বিপাকের প্রথম পথ, অর্থাৎ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে, কিন্তু হোমোসিস্টিন থেকে সিস্টাথায়োনিন রূপান্তরে সরাসরি জড়িত নয়।
D) ভিটামিন সি: ভিটামিন সি হোমোসিস্টিন বিপাকের সাথে সম্পর্কিত নয়। এটি প্রধানত কোলাজেন সংশ্লেষণ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে

রেফারেন্স: Harper’s.

৮৮.
যক্ষ্মা (TB) রোগীর আইসোনিয়াজিড (isoniazid) থেরাপিতে কোন ভিটামিনের ঘাটতি হয়?
Which vitamin deficiency is precipitated by “isoniazid” therapy in tuberculosis patients?
  1. Vitamin B1
  2. Vitamin B12
  3. Vitamin B6
  4. Vitamin B2
সঠিক উত্তর:
Vitamin B6
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Vitamin B6
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: C) ভিটামিন বি৬ (Vitamin B6)।

কেন এটি সঠিক: আইসোনিয়াজিড (Isoniazid) হলো যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত একটি বহুল প্রচলিত ওষুধ। এই ওষুধটি ভিটামিন বি৬ (পাইরিডক্সিন)-এর বিপাককে প্রভাবিত করে।

কীভাবে কাজ করে: আইসোনিয়াজিড ভিটামিন বি৬-এর সাথে রাসায়নিকভাবে আবদ্ধ হয়, যার ফলে শরীরে এই ভিটামিনের কার্যকারিতা কমে যায়। এটি ভিটামিন বি৬-এর কোএনজাইম (পাইরিডক্সাল ফসফেট)-এর সংশ্লেষণকেও বাধা দেয়।
ফলাফল: ভিটামিন বি৬-এর ঘাটতি স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর কারণে পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি (peripheral neuropathy) বা হাত-পায়ে ব্যথা, অবশভাব এবং ঝিঁঝিঁ ধরার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
এই কারণে, যক্ষ্মা রোগীদের আইসোনিয়াজিড থেরাপির সময় ভিটামিন বি৬ সাপ্লিমেন্ট (পরিপূরক) গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
B) ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12): আইসোনিয়াজিড থেরাপির সঙ্গে ভিটামিন বি১২-এর সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
A) ভিটামিন বি১ (থায়ামিন): ভিটামিন বি১-এর অভাব সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী অ্যালকোহল সেবনের কারণে হয়, আইসোনিয়াজিড থেরাপির সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই।
D) ভিটামিন বি২ (রাইবোফ্ল্যাভিন): ভিটামিন বি২-এর অভাবের ফলে ঠোঁট ফাটা, জিভের প্রদাহ (glossitis) এবং মুখের কোণে ঘা হতে পারে, কিন্তু এটি আইসোনিয়াজিড থেরাপির একটি সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়।

৮৯.
Omega-3 ফ্যাটি এসিড (EPA/DHA) এর প্রধান শারীরবৃত্তীয় ভূমিকা কী?
What is the primary physiological role of Omega-3 fatty acids (EPA/DHA)?
  1. কোলেস্টেরল মাত্রা বৃদ্ধি করা (Increase cholesterol level)
  2. রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করা (Prevent blood clot formation)
  3. ভিটামিন শোষণ কমানো (Reduce vitamin absorption)
  4. হজম এনজাইম সক্রিয় করা (Activate digestive enzymes)
সঠিক উত্তর:
রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করা (Prevent blood clot formation)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করা (Prevent blood clot formation)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করা (Prevent blood clot formation)।

কেন এটি সঠিক: ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, বিশেষ করে ইপিএ (Eicosapentaenoic acid) এবং ডিএইচএ (Docosahexaenoic acid), মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদের একটি প্রধান ভূমিকা হলো রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা।

প্লেটলেট এগ্রিগেশন (Platelet aggregation) হ্রাস: আমাদের রক্তে প্লেটলেট নামে এক ধরনের কোষ থাকে, যা একত্রিত হয়ে রক্ত জমাট বাঁধার প্রাথমিক ধাপটি শুরু করে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এই প্লেটলেটগুলোকে একত্রিত হতে বাধা দেয়।
প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন (Prostaglandin) তৈরি: এটি কিছু নির্দিষ্ট প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন (যেমন: Prostaglandin I3​) তৈরি করে যা রক্তনালীগুলোকে প্রশস্ত রাখে এবং প্লেটলেটকে একত্রিত হতে বাধা দেয়। এর ফলে রক্তনালীর মধ্যে অপ্রয়োজনীয় জমাট বাঁধা (thrombosis) প্রতিরোধ হয়।
এই কারণে, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) কোলেস্টেরল মাত্রা বৃদ্ধি করা: এটি ভুল। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড (triglyceride) এবং ভিএলডিএল (VLDL) এর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, যা হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি কোলেস্টেরল বাড়ায় না।
c) ভিটামিন শোষণ কমানো: এটি ভুল। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলোর (A, D, E, K) শোষণে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না।
d) হজম এনজাইম সক্রিয় করা: এটি ভুল। হজমের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইমগুলো সাধারণত প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয় এবং তাদের কার্যকলাপের সাথে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।

Ref: Guyton & Hall, 14th Ed.

৯০.
লিনোলিক অ্যাসিড (ওমেগা-৬)-এর অভাব সবচেয়ে আগে কোন লক্ষণ সৃষ্টি করে?
What is the earliest symptom of linoleic acid (Omega-6) deficiency?
  1. চুল ঝরা (Hair loss)
  2. চর্ম প্রদাহ (Dermatitis)
  3. দৃষ্টি সমস্যা (Visual impairment)
  4. স্মৃতিশক্তি হ্রাস (Memory loss)
সঠিক উত্তর:
চর্ম প্রদাহ (Dermatitis)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্ম প্রদাহ (Dermatitis)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) চর্ম প্রদাহ (Dermatitis)।

কেন এটি সঠিক: লিনোলিক অ্যাসিড হলো একটি অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড (essential fatty acid)। এর অর্থ হলো শরীর এটি নিজে তৈরি করতে পারে না, তাই এটি অবশ্যই খাদ্য থেকে গ্রহণ করতে হয়। লিনোলিক অ্যাসিড ত্বকের ঝিল্লির গঠন এবং কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

যখন শরীরে লিনোলিক অ্যাসিডের অভাব হয়, তখন ত্বকের ঝিল্লির গঠন এবং কাজ ব্যাহত হয়। এর ফলে ত্বকে একটি বিশেষ ধরনের প্রদাহ দেখা যায়, যাকে স্কোয়ামি ডার্মাটাইটিস (squamous dermatitis) বলা হয়। এই অবস্থায় ত্বক শুষ্ক, খসখসে এবং লালচে হয়ে যায়। এটি লিনোলিক অ্যাসিডের অভাবের সবচেয়ে প্রাথমিক এবং পরিচিত লক্ষণ।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
a) চুল ঝরা: চুল ঝরা লিনোলিক অ্যাসিডের অভাবের একটি লক্ষণ হতে পারে, কিন্তু এটি সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা যায় না।
c) দৃষ্টি সমস্যা: দৃষ্টি সমস্যা (যেমন: রাতকানা) সাধারণত ভিটামিন এ-এর অভাবের কারণে হয়।
d) স্মৃতিশক্তি হ্রাস: স্মৃতিশক্তি হ্রাস ভিটামিন বি১২ বা থায়ামিনের মতো ভিটামিনের অভাবজনিত রোগ

Ref: Harper’s Biochemistry, 31st Ed.

৯১.
Omega-3 ও Omega-6 এর অনুপাত (Ratio) আদর্শভাবে কত হওয়া উচিত?
What should be the ideal ratio of Omega-3 to Omega-6 in diet?
  1. 1:1 থেকে 1:4
  2. 1:10
  3. 1:20
  4. 2:20
সঠিক উত্তর:
1:1 থেকে 1:4
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1:1 থেকে 1:4
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) ১:১ থেকে ১:৪।

কেন এটি সঠিক: ওমেগা-৬ এবং ওমেগা-৩ উভয়ই অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড যা শরীরের জন্য প্রয়োজন। কিন্তু তাদের কাজ ভিন্ন:

ওমেগা-৬: এটি সাধারণত প্রদাহজনক (pro-inflammatory) প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে।
ওমেগা-৩: এটি প্রদাহবিরোধী (anti-inflammatory) প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে।
এই দুই ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিডের মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমা দেশগুলোর খাদ্যতালিকায় ওমেগা-৬ এর পরিমাণ অনেক বেশি থাকে (সাধারণত ১৫:১ বা তারও বেশি)। এই ভারসাম্যহীনতার কারণে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, হৃদরোগ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা ওমেগা-৬ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি আদর্শ অনুপাত ১:১ থেকে ১:৪ রাখার পরামর্শ দেন। এই অনুপাত শরীরের প্রদাহজনক এবং প্রদাহবিরোধী প্রতিক্রিয়ার মধ্যে একটি সুস্থ ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) ১:১০, c) ১:২০, d) ২:২০: এই অনুপাতগুলো ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের অত্যধিক আধিপত্য নির্দেশ করে, যা শরীরের প্রদাহ বাড়িয়ে দেয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। এই অনুপাতগুলো আধুনিক খাদ্যাভ্যাসের একটি সাধারণ সমস্যা।

৯২.
Arachidonic acid কোন ফ্যাটি এসিড থেকে গঠিত হয়?
Arachidonic acid is synthesized from which fatty acid?
  1.  লিনোলেনিক অ্যাসিড (Linolenic acid)
  2. লিনোলিক অ্যাসিড (Linoleic acid)
  3. পামিটিক অ্যাসিড (Palmitic acid)
  4. ওলেইক অ্যাসিড (Oleic acid)
সঠিক উত্তর:
লিনোলিক অ্যাসিড (Linoleic acid)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিনোলিক অ্যাসিড (Linoleic acid)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) লিনোলিক অ্যাসিড (Linoleic acid)।

কেন এটি সঠিক: অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড (Arachidonic acid) হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড। এটি শরীর নিজে থেকে তৈরি করতে পারে, তবে এর জন্য এর পূর্বসূরি (precursor) লিনোলিক অ্যাসিডের প্রয়োজন হয়।

লিনোলিক অ্যাসিড (Omega-6): এটি একটি অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড যা আমাদের খাদ্য থেকে গ্রহণ করতে হয়।
শারীরিক প্রক্রিয়া: লিনোলিক অ্যাসিড খাদ্য থেকে শোষিত হওয়ার পর, এটি শরীরে এনজাইমের মাধ্যমে ধাপে ধাপে রূপান্তরিত হয়ে অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড তৈরি করে।
অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড হলো ইকোস্যানয়েড (eicosanoid) নামক জৈব অণুগুলোর একটি পূর্বসূরি। ইকোস্যানয়েডগুলো বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় (যেমন: প্রদাহ এবং রক্ত জমাট বাঁধা) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) লিনোলেনিক অ্যাসিড (Linolenic acid): লিনোলেনিক অ্যাসিড হলো একটি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা ইকোসাপেন্টানোয়িক অ্যাসিড (EPA) এবং ডোকোসাহেক্সায়েনয়িক অ্যাসিড (DHA)-এর পূর্বসূরি। এটি ওমেগা-৬ সিরিজের অন্তর্গত নয়।



c) পামিটিক অ্যাসিড (Palmitic acid): পামিটিক অ্যাসিড একটি স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, যা অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিডের পূর্বসূরি নয়।
d) ওলেইক অ্যাসিড (Oleic acid): ওলেইক অ্যাসিড একটি মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড এবং এটি অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিডের পূর্বসূরি নয়।

Ref: Guyton & Hall

৯৩.
কোন ফ্যাটি এসিড সরাসরি প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন গঠনে প্রভাব ফেলে?
Which fatty acid directly influences prostaglandin synthesis?
  1. অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড (Arachidonic acid)
  2. স্টিয়ারিক অ্যাসিড (Stearic acid)
  3. পামিটোলেইক অ্যাসিড (Palmitoleic acid)
  4. বিউটাইরিক অ্যাসিড (Butyric acid)
সঠিক উত্তর:
অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড (Arachidonic acid)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড (Arachidonic acid)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড (Arachidonic acid)।

কেন এটি সঠিক: অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ ওমেগা-৬ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড (polyunsaturated fatty acid - PUFA)। এটি আমাদের শরীরের কোষের মেমব্রেন বা ঝিল্লির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ইকোস্যানয়েড (Eicosanoid): অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিডকে ভেঙে কিছু বিশেষ ধরনের জৈব অণু তৈরি হয়, যাদেরকে সম্মিলিতভাবে ইকোস্যানয়েড বলা হয়। এই ইকোস্যানয়েডের মধ্যে রয়েছে:

♥প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন (Prostaglandins): এগুলি প্রদাহ, ব্যথা এবং জ্বর নিয়ন্ত্রণের সাথে সম্পর্কিত।

♥থ্রম্বক্সেন (Thromboxanes): এগুলি রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

♥লিউকোট্রাইন (Leukotrienes): এগুলি অ্যালার্জি এবং প্রদাহে ভূমিকা রাখে।


এই ইকোস্যানয়েডগুলো কোষীয় সংকেত হিসেবে কাজ করে এবং শরীরের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। যেহেতু অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড হলো এদের একমাত্র পূর্বসূরি (precursor), তাই এটি সরাসরি প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন গঠনে প্রভাব ফেলে।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) স্টিয়ারিক অ্যাসিড (Stearic acid): এটি একটি স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড যা মূলত শক্তি উৎপাদন এবং কোষীয় গঠনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
c) পামিটোলেইক অ্যাসিড (Palmitoleic acid): এটি একটি মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড।
d) বিউটাইরিক অ্যাসিড (Butyric acid): এটি একটি শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
এই তিনটি ফ্যাটি অ্যাসিড কেউই ইকোস্যানয়েড বা প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন তৈরির জন্য পূর্বসূরি হিসেবে কাজ করে না।

Ref: Harper’s Biochemistry

৯৪.
কোন উৎস থেকে কনজুগেটেড লিনোলিক অ্যাসিড (Conjugated Linoleic Acid - CLA) বেশি পাওয়া যায়? Which source provides highest Conjugated Linoleic Acid (CLA)?
  1. গরুর দুধ ও মাংস (Cow milk & meat)
  2. মাছের তেল (Fish oil)
  3. নারিকেল তেল (Coconut oil)
  4. সয়াবিন তেল (Soybean oil)
সঠিক উত্তর:
গরুর দুধ ও মাংস (Cow milk & meat)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরুর দুধ ও মাংস (Cow milk & meat)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) গরুর দুধ ও মাংস (Cow milk & meat)।

কেন এটি সঠিক: কনজুগেটেড লিনোলিক অ্যাসিড (CLA) হলো এক ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড, যা বিশেষ করে তৃণভোজী প্রাণীদের (ruminant animals) খাদ্যাভ্যাস থেকে তৈরি হয়। এসব প্রাণীর পেটে থাকা ব্যাকটেরিয়া তাদের খাদ্যের লিনোলিক অ্যাসিডকে সিএলএ-তে রূপান্তরিত করে।

দুগ্ধজাত পণ্য: দুধ, পনির, মাখন এবং দইয়ের মতো দুগ্ধজাত পণ্যে সিএলএ প্রচুর পরিমাণে থাকে।
মাংস: গরু, ছাগল এবং ভেড়ার মাংসও সিএলএ-এর ভালো উৎস। তবে, যে গরু বা ভেড়া ঘাস খায়, তাদের মধ্যে সিএলএ-এর পরিমাণ শস্য খাওয়া প্রাণীর চেয়ে বেশি থাকে।
এই কারণে, সিএলএ-এর প্রধান এবং সবচেয়ে ভালো প্রাকৃতিক উৎস হলো গরুর দুধ এবং মাংস।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) মাছের তেল: মাছের তেল ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যেমন ইপিএ (EPA) এবং ডিএইচএ (DHA)-এর জন্য বিখ্যাত। এতে সিএলএ থাকে না।
c) নারিকেল তেল: নারিকেল তেল প্রধানত স্যাচুরেটেড ফ্যাট (saturated fat)-এর একটি সমৃদ্ধ উৎস। এতে সিএলএ থাকে না।
d) সয়াবিন তেল: সয়াবিন তেল ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস, কিন্তু এতে সিএলএ থাকে না।

Ref: Gopalan et al.

৯৫.
Trans fat এর প্রধান সমস্যা কী?
What is the main health risk of trans fatty acids?
  1. HDL বৃদ্ধি (Increase HDL)
  2. LDL বৃদ্ধি ও HDL হ্রাস (Increase LDL & decrease HDL)
  3. রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ (Prevent clotting)
  4. Omega-3 সরবরাহ (Provide Omega-3)
সঠিক উত্তর:
LDL বৃদ্ধি ও HDL হ্রাস (Increase LDL & decrease HDL)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
LDL বৃদ্ধি ও HDL হ্রাস (Increase LDL & decrease HDL)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) এলডিএল (LDL) বৃদ্ধি ও এইচডিএল (HDL) হ্রাস।

কেন এটি সঠিক: ট্রান্স ফ্যাট হলো এক ধরনের অসম্পৃক্ত চর্বি, যা সাধারণত হাইড্রোজেনেশন (hydrogenation) নামক শিল্প প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তরল তেল থেকে তৈরি করা হয়। ট্রান্স ফ্যাটের প্রধান স্বাস্থ্য ঝুঁকি হলো এটি হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়। এটি দুটি উপায়ে কাজ করে:

এলডিএল (LDL) বৃদ্ধি: ট্রান্স ফ্যাট রক্তে "খারাপ" কোলেস্টেরল বা এলডিএল (Low-Density Lipoprotein) এর মাত্রা বৃদ্ধি করে। উচ্চ এলডিএল ধমনীর দেয়ালে জমাট বাঁধতে সাহায্য করে, যা অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস (atherosclerosis) নামক অবস্থার সৃষ্টি করে এবং হৃদরোগের কারণ হয়।
এইচডিএল (HDL) হ্রাস: একই সময়ে, ট্রান্স ফ্যাট "ভালো" কোলেস্টেরল বা এইচডিএল (High-Density Lipoprotein) এর মাত্রা কমিয়ে দেয়। এইচডিএল শরীর থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল অপসারণে সাহায্য করে। তাই, এর পরিমাণ কমে গেলে হৃদরোগের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
এই কারণে, ট্রান্স ফ্যাটকে খাদ্যের সবচেয়ে ক্ষতিকর চর্বিগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে গণ্য করা হয়।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) এইচডিএল বৃদ্ধি: এটি ভুল। ট্রান্স ফ্যাট এইচডিএল বাড়ায় না, বরং কমিয়ে দেয়।
c) রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ: এটি ভুল। ট্রান্স ফ্যাট রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ায়।
d) ওমেগা-৩ সরবরাহ: এটি ভুল। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রধানত মাছ এবং কিছু উদ্ভিজ্জ তেল (যেমন: ফ্ল্যাক্সসিড) থেকে পাওয়া যায়। ট্রান্স ফ্যাট এদের কোনোটিই সরবরাহ করে না।
Ref: WHO Technical Report on Trans Fat, 2019

৯৬.
Medium-chain triglycerides (MCT) প্রধানত কোন উৎসে বেশি থাকে?
Which source is richest in medium-chain triglycerides (MCT)?
  1. নারিকেল তেল (Coconut oil)
  2. সরিষার তেল (Mustard oil)
  3. অলিভ তেল (Olive oil)
  4. মাছের তেল (Fish oil)
সঠিক উত্তর:
নারিকেল তেল (Coconut oil)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারিকেল তেল (Coconut oil)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) নারিকেল তেল (Coconut oil)।

কেন এটি সঠিক: ট্রাইগ্লিসারাইডসকে তাদের ফ্যাটি অ্যাসিডের চেইনের দৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়। এই ভাগগুলো হলো শর্ট-চেইন, মিডিয়াম-চেইন এবং লং-চেইন।

নারিকেল তেল: নারিকেল তেল অন্যান্য উদ্ভিজ্জ তেলের তুলনায় অনন্য। এর প্রায় ৬০% থেকে ৭০% হলো মিডিয়াম-চেইন ট্রাইগ্লিসারাইডস (MCT)। নারিকেল তেলের MCT-এর মধ্যে প্রধান হলো ক্যাপ্রিলিক অ্যাসিড এবং ক্যাপ্রিক অ্যাসিড।
বিপাক (Metabolism): লং-চেইন ট্রাইগ্লিসারাইডসের (LCT) চেয়ে MCT হজম এবং শোষিত হয় অনেক দ্রুত। এগুলি সরাসরি যকৃতে (liver) চলে যায়, যেখানে তারা দ্রুত শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয় অথবা কিটোন বডিতে রূপান্তরিত হয়। এই কারণে, MCT বিশেষ করে অ্যাথলিটদের এবং কিছু নির্দিষ্ট চিকিৎসা অবস্থার রোগীদের জন্য উপকারী হতে পারে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) সরিষার তেল (Mustard oil): সরিষার তেল প্রধানত ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড দিয়ে গঠিত। এতে MCT থাকে না।
c) অলিভ তেল (Olive oil): অলিভ তেল প্রধানত মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, বিশেষ করে ওলেইক অ্যাসিডের একটি সমৃদ্ধ উৎস। এতেও MCT থাকে না।
d) মাছের তেল (Fish oil): মাছের তেল ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যেমন ইপিএ (EPA) এবং ডিএইচএ (DHA)-এর জন্য বিখ্যাত। এটি একটি পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড এবং এতে MCT নেই

৯৭.
Marasmus এবং Kwashiorkor এর প্রধান পার্থক্য কী?
What is the main difference between Marasmus and Kwashiorkor?
  1. Marasmus = protein deficiency, Kwashiorkor = calorie deficiency
  2. Marasmus = calorie deficiency, Kwashiorkor = protein deficiency
  3. দুটোই শুধু ভিটামিন ঘাটতির কারণে
  4. দুটোই শুধুই iron deficiency
সঠিক উত্তর:
Marasmus = calorie deficiency, Kwashiorkor = protein deficiency
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Marasmus = calorie deficiency, Kwashiorkor = protein deficiency
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) ম্যারাসমাস = ক্যালরি ঘাটতি, কোয়াশিওরকর = প্রোটিন ঘাটতি।

কেন এটি সঠিক: ম্যারাসমাস এবং কোয়াশিওরকর উভয়ই অপুষ্টির মারাত্মক রূপ, যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে দেখা যায়। যদিও উভয় রোগের কারণই হলো খাদ্যের পুষ্টি উপাদানের অভাব, কিন্তু তাদের মধ্যে প্রধান পার্থক্য রয়েছে:

ম্যারাসমাস (Marasmus): এটি মূলত ক্যালরি এবং প্রোটিন উভয়েরই তীব্র ঘাটতির কারণে হয়। এর ফলে শিশুর শরীর অত্যন্ত দুর্বল এবং শীর্ণ হয়ে যায়, যার লক্ষণগুলো হলো:

শরীরের ওজন বয়সের তুলনায় অনেক কম।
চামড়া ঝুলে যায়।
পেশী এবং চর্বি প্রায় পুরোটাই নষ্ট হয়ে যায়।
হাড়ের গঠন স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
শিশু অত্যন্ত দুর্বল এবং নিস্তেজ হয়ে যায়।
কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor): এটি মূলত প্রোটিনের তীব্র ঘাটতি কিন্তু ক্যালরির অভাব তুলনামূলকভাবে কম থাকার কারণে হয়। এর প্রধান লক্ষণ হলো:

শরীরে পানি জমা হওয়া বা এডিমা (edema), যার ফলে মুখ, হাত ও পা ফুলে যায়।
পেটে পানি জমে পেট ফুলে যায়।
চামড়ায় কালো কালো ছোপ দেখা যায়।
চুলের রঙ বদলে যায় বা ভঙ্গুর হয়ে যায়।
পেশী দুর্বল হয়, কিন্তু এডিমা থাকার কারণে বাহ্যিকভাবে শীর্ণ মনে হয় না।
সুতরাং, এদের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো ম্যারাসমাস হলো ক্যালরির অভাবজনিত সমস্যা, আর কোয়াশিওরকর হলো প্রোটিনের অভাবজনিত সমস্যা।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) ম্যারাসমাস = প্রোটিন ঘাটতি, কোয়াশিওরকর = ক্যালরি ঘাটতি: এটি ভুল, কারণ এটি ম্যারাসমাস এবং কোয়াশিওরকরের সংজ্ঞার বিপরীত।
C) দুটোই শুধু ভিটামিন ঘাটতির কারণে: এটি ভুল। এই দুটি রোগ প্রধানত ক্যালরি এবং/অথবা প্রোটিনের অভাবে হয়।
D) দুটোই শুধুই আয়রন ঘাটতি: এটি ভুল। আয়রনের অভাবে রক্তস্বল্পতা হয়, যা এই রোগের কারণ নয়।

Ref: Guyton’s Physiology, Park’s PSM.

৯৮.
Which of the following is the most critical limitation of using BMI in assessing nutrition in Bangladesh?
বাংলাদেশে BMI ব্যবহার করে পুষ্টি মূল্যায়নের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা কোনটি?.
  1. উচ্চতা পরিমাপ করা যায় না
  2. এটি দেহে ফ্যাট বন্টনের পার্থক্য বোঝায় না
  3. এটি বয়স অনুযায়ী আলাদা করা হয় না
  4. এটি প্রোটিন চাহিদা মাপে না
সঠিক উত্তর:
এটি দেহে ফ্যাট বন্টনের পার্থক্য বোঝায় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটি দেহে ফ্যাট বন্টনের পার্থক্য বোঝায় না
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) এটি দেহে ফ্যাট বন্টনের পার্থক্য বোঝায় না।

কেন এটি সঠিক: বডি মাস ইনডেক্স (BMI) হলো উচ্চতা ও ওজনের উপর ভিত্তি করে একজন ব্যক্তির শরীরের গড় চর্বি পরিমাপ করার একটি সহজ পদ্ধতি। যদিও এটি একটি সহজ এবং বহুল ব্যবহৃত টুল, তবে এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য।

ফ্যাট বন্টন: বিএমআই দেহের মোট চর্বি পরিমাপ করে, কিন্তু কোথায় এই চর্বি জমা হয়েছে তা বোঝায় না। এশিয়ার জনগোষ্ঠীর মধ্যে, বিশেষ করে বাংলাদেশে, পেটে বা কেন্দ্রীয় অঞ্চলে চর্বি জমার প্রবণতা বেশি (central obesity)। এই ধরনের ফ্যাট সরাসরি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য বিপাকীয় রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। যেহেতু বিএমআই এই গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যটি ধরতে পারে না, তাই স্বাভাবিক বিএমআই থাকা সত্ত্বেও একজন ব্যক্তির স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে। এই কারণে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এশিয়ান জনসংখ্যার জন্য বিএমআই-এর আলাদা কাট-অফ পয়েন্ট নির্ধারণ করেছে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) উচ্চতা পরিমাপ করা যায় না: এটি ভুল। বিএমআই হিসাব করতে উচ্চতা এবং ওজন উভয়ই পরিমাপ করা সম্ভব।
C) এটি বয়স অনুযায়ী আলাদা করা হয় না: এটি ভুল। শিশুদের এবং কিশোর-কিশোরীদের জন্য বয়স ও লিঙ্গ-ভিত্তিক বিএমআই চার্ট ব্যবহার করা হয়।
D) এটি প্রোটিন চাহিদা মাপে না: এটি ভুল। বিএমআই কখনোই প্রোটিন বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পরিমাপ করে না। এটি শুধুমাত্র শরীরের ওজনের সাথে উচ্চতার একটি সাধারণ সম্পর্ক দেখায়।

Ref: WHO, Asian cut-off for BMI.

৯৯.
ক্ষুদ্রপুষ্টি উপাদানের ঘাটতি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা কঠিন কেন?
[Micronutrient malnutrition is MOST difficult to detect in early stages because—]
  1. সবসময় ওজন কমে যায় (Always weight loss)
  2. ক্লিনিকাল উপসর্গ অনেক দেরিতে দেখা দেয় (Clinical signs appear late)
  3. কেবল শিশুদের মধ্যে হয় (Only in children)
  4. ল্যাব টেস্ট প্রয়োজন হয় না (No lab test needed)
সঠিক উত্তর:
ক্লিনিকাল উপসর্গ অনেক দেরিতে দেখা দেয় (Clinical signs appear late)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লিনিকাল উপসর্গ অনেক দেরিতে দেখা দেয় (Clinical signs appear late)
ব্যাখ্যা

ক্ষুদ্রপুষ্টি উপাদানের (Micronutrient malnutrition) ঘাটতি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা কঠিন কেন?

সঠিক উত্তর: B) ক্লিনিকাল উপসর্গ অনেক দেরিতে দেখা দেয়।

কেন এটি সঠিক: ক্ষুদ্রপুষ্টি উপাদান, যেমন ভিটামিন এবং খনিজ, শরীরের খুব সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয়। যখন এদের ঘাটতি শুরু হয়, তখন শরীর প্রাথমিক অবস্থায় সঞ্চিত ভাণ্ডার (stores) ব্যবহার করে। এই অবস্থাকে সাবক্লিনিক্যাল ঘাটতি (subclinical deficiency) বলা হয়, যেখানে কোনো বাহ্যিক বা দৃশ্যমান লক্ষণ (clinical signs) দেখা যায় না।

দৃশ্যমান লক্ষণের অভাব: এই প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যক্তি কোনো অসুস্থতা বা লক্ষণ অনুভব করে না। উদাহরণস্বরূপ, ভিটামিন সি-এর সামান্য ঘাটতিতে শরীরে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না, কিন্তু তীব্র ঘাটতি দেখা দিলে তবেই স্কার্ভির মতো রোগ প্রকাশ পায়।
বিলম্বিত প্রভাব: যখন শরীরের সঞ্চিত ভাণ্ডার সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে যায়, তখন লক্ষণগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে শুরু করে। এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই কারণে, ক্ষুদ্রপুষ্টির ঘাটতি নির্ণয়ের জন্য প্রায়শই রক্ত পরীক্ষা এবং অন্যান্য ল্যাবরেটরি টেস্টের প্রয়োজন হয়, কারণ ক্লিনিকাল লক্ষণগুলো খুব দেরিতে দেখা যায়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
A) সবসময় ওজন কমে যায়: এটি ভুল। ক্ষুদ্রপুষ্টির ঘাটতিতে সবসময় ওজন কমে না। যেমন, আয়রনের অভাবে রক্তস্বল্পতা হয়, কিন্তু ওজন কমতে পারে না।
C) কেবল শিশুদের মধ্যে হয়: এটি ভুল। ক্ষুদ্রপুষ্টির ঘাটতি শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদেরও হয়।
D) ল্যাব টেস্ট প্রয়োজন হয় না: এটি ভুল। যেহেতু প্রাথমিক পর্যায়ে ক্লিনিকাল লক্ষণ দেখা যায় না, তাই ঘাটতি নির্ণয়ের জন্য ল্যাব টেস্ট অত্যন্ত জরুরি।
Ref: WHO Micronutrient Guidelines.

১০০.
Which nutrient deficiency is MOST associated with impaired cognitive development in Bangladeshi children?
বাংলাদেশি শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হওয়ার সাথে কোন ঘাটতি সবচেয়ে বেশি সম্পর্কিত?
  1. আয়রন [Iron]
  2. ভিটামিন C [Vitamin C]
  3. সোডিয়াম [Sodium]
  4. সেলেনিয়াম [Selenium]
সঠিক উত্তর:
আয়রন [Iron]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়রন [Iron]
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) আয়রন (Iron)।

কেন এটি সঠিক: আয়রন হলো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ যা মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য। এটি স্নায়ুকোষের কার্যকারিতা, মাইয়েলিন শিথ গঠন এবং নিউরোট্রান্সমিটার তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা (Iron Deficiency Anemia): বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা একটি ব্যাপক সমস্যা। এই অবস্থায় রক্তে পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন থাকে না, যার ফলে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়।
মস্তিষ্কের বিকাশে প্রভাব: গবেষণায় দেখা গেছে যে, শৈশবে আয়রনের অভাব হলে শিশুদের জ্ঞানীয় বিকাশ (cognitive development), মনোযোগ (attention), স্মৃতিশক্তি এবং শেখার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই প্রভাবগুলো প্রায়শই দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং পরবর্তী জীবনে এর প্রভাব থেকে যায়।
সুতরাং, বাংলাদেশি শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশের ওপর আয়রনের অভাবের প্রভাব সবচেয়ে বেশি।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) ভিটামিন সি: ভিটামিন সি-এর অভাব স্কার্ভি রোগের কারণ হয়, কিন্তু এর সঙ্গে মস্তিষ্কের বিকাশের সরাসরি কোনো শক্তিশালী সম্পর্ক নেই।
C) সোডিয়াম: সোডিয়ামের ঘাটতি একটি বিরল অবস্থা। এর অভাবে ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা এবং স্নায়বিক সমস্যা হতে পারে, কিন্তু এটি শৈশবের মস্তিষ্কের বিকাশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
D) সেলেনিয়াম: সেলেনিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেস মিনারেল, কিন্তু এর অভাব সরাসরি মস্তিষ্কের বিকাশের সমস্যা তৈরি করে এমন কোনো ব্যাপক গবেষণা নেই।

Ref: Lancet Child Development & Nutrition, UNICEF

১০১.
Which nutrient deficiency in pregnant women is MOST critical in Bangladesh? [বাংলাদেশে গর্ভবতী নারীদের মধ্যে কোন পুষ্টি উপাদানের অভাব সবচেয়ে গুরুতর প্রভাব ফেলে?]
  1. আয়োডিন (Iodine)
  2. আয়রন (Iron)
  3. জিঙ্ক (Zinc)
  4. ভিটামিন E [vitamin E]
সঠিক উত্তর:
আয়রন (Iron)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়রন (Iron)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) আয়রন (Iron)।

কেন এটি সঠিক: গর্ভবতী নারীদের জন্য আয়রন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে রক্তের পরিমাণ প্রায় ৫০% বেড়ে যায়, যার জন্য অতিরিক্ত হিমোগ্লোবিনের প্রয়োজন হয়। হিমোগ্লোবিন তৈরির জন্য আয়রন অপরিহার্য।

গুরুতর প্রভাব: বাংলাদেশে গর্ভবতী নারীদের মধ্যে আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা (iron-deficiency anemia) একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা। এই অবস্থার কারণে মা এবং শিশু উভয়ের জন্যই মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়, যেমন:

মায়ের জন্য: প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, দুর্বলতা এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
শিশুর জন্য: সময়ের আগে শিশুর জন্ম (preterm birth) এবং কম ওজনের শিশু (low birth weight) জন্মের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। কম ওজনের শিশুরা ভবিষ্যতে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগে।
এই কারণে, গর্ভাবস্থায় আয়রনের অভাবকে একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে গণ্য করা হয়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
A) আয়োডিন (Iodine): আয়োডিনের অভাবও একটি গুরুতর সমস্যা, তবে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশে এর অভাব অনেকটা কমে এসেছে।
C) জিঙ্ক (Zinc): জিঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও, বাংলাদেশে এর অভাবজনিত সমস্যা আয়রনের মতো এত ব্যাপক নয়।
D) ভিটামিন ই (Vitamin E): ভিটামিন ই গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এর ঘাটতি গর্ভবতী নারীদের জন্য আয়রনের ঘাটতির মতো এত গুরুতর প্রভাব ফেলে না।

Ref: BDHS, WHO Maternal Nutrition Report

১০২.
Which classification of nutrients is MOST accurate?
পুষ্টি উপাদানের শ্রেণিবিন্যাস সবচেয়ে সঠিক কোনটি?
  1. Macronutrients & Micronutrients: ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টস এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস
  2. Energy giving, body building, protective foods: শক্তি প্রদানকারী, শরীর গঠনকারী, রোগ প্রতিরোধকারী খাদ্য
  3. Organic & inorganic nutrients: জৈব এবং অজৈব পুষ্টি উপাদান
  4. Essential & non-essential only: শুধুমাত্র অত্যাবশ্যকীয় এবং অ-অত্যাবশ্যকীয়
সঠিক উত্তর:
Macronutrients & Micronutrients: ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টস এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Macronutrients & Micronutrients: ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টস এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টস ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস।

কেন এটি সঠিক: পুষ্টি উপাদানকে দুটি প্রধান বৈজ্ঞানিক ভাগে ভাগ করা হয়, যা তাদের পরিমাণের প্রয়োজনীয়তার উপর ভিত্তি করে তৈরি। এটিই সবচেয়ে সঠিক শ্রেণিবিন্যাস।

ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টস (Macronutrients): "ম্যাক্রো" শব্দের অর্থ হলো "বৃহৎ"। এই পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরকে বেশি পরিমাণে প্রয়োজন হয় এবং এগুলি শক্তি সরবরাহ করে। এই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত পুষ্টি উপাদানগুলো হলো:

কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrates)
প্রোটিন (Proteins)
ফ্যাট (Fats)
জল (Water)
মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস (Micronutrients): "মাইক্রো" শব্দের অর্থ হলো "ক্ষুদ্র"। এই পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরকে খুব কম পরিমাণে প্রয়োজন হয়, কিন্তু এরা শরীরের বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য অপরিহার্য। এই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত পুষ্টি উপাদানগুলো হলো:

ভিটামিন (Vitamins)
খনিজ পদার্থ (Minerals)
এই শ্রেণিবিন্যাস পুষ্টি বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) শক্তি প্রদানকারী, শরীর গঠনকারী, রোগ প্রতিরোধকারী খাদ্য: এটি খাদ্য উপাদানের একটি কার্যকরী শ্রেণিবিন্যাস, যা তাদের ভূমিকার উপর ভিত্তি করে তৈরি। এটি বৈজ্ঞানিক বা জৈব-রাসায়নিক শ্রেণিবিন্যাস নয়। যেমন, প্রোটিন উভয়ই শরীর গঠনকারী এবং শক্তি প্রদানকারী হতে পারে।
C) জৈব ও অজৈব পুষ্টি উপাদান: এটি একটি আংশিক শ্রেণিবিন্যাস। উদাহরণস্বরূপ, ভিটামিন জৈব কিন্তু খনিজ পদার্থ অজৈব। এটি সম্পূর্ণ শ্রেণিবিন্যাস নয়।
D) অত্যাবশ্যকীয় ও অ-অত্যাবশ্যকীয় শুধুমাত্র: এটিও একটি আংশিক শ্রেণিবিন্যাস। কিছু অ্যামিনো অ্যাসিড বা ফ্যাটি অ্যাসিড অত্যাবশ্যকীয় হতে পারে, কিন্তু এটি সব পুষ্টি উপাদানকে সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করে না।

Ref: Gibney, Human Nutrition

১০৩.
খাবারের প্রাপ্যতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে PEM কেন থাকে? Which of the following BEST explains why PEM persists in Bangladesh despite food availability?
  1. খাদ্য বিতরণের বৈষম্য (Inequity in food distribution)
  2. মানুষ খাবার খেতে চায় না (People don’t want to eat)
  3. শুধুই দারিদ্র্য (Poverty only)
  4. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার সমস্যা নেই
সঠিক উত্তর:
খাদ্য বিতরণের বৈষম্য (Inequity in food distribution)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাদ্য বিতরণের বৈষম্য (Inequity in food distribution)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) খাদ্য বিতরণের বৈষম্য (Inequity in food distribution)।

কেন এটি সঠিক: বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন যথেষ্ট পরিমাণে হয় এবং সামগ্রিকভাবে খাবারের প্রাপ্যতা রয়েছে। কিন্তু এরপরেও প্রোটিন-এনার্জি ম্যালনিউট্রিশন (PEM) এর মতো পুষ্টি সমস্যা দেখা যায়। এর প্রধান কারণগুলো হলো:

খাদ্য বিতরণে বৈষম্য: খাদ্য উৎপাদন এবং প্রাপ্যতা থাকা সত্ত্বেও, তা সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছায় না। দরিদ্র পরিবারগুলো প্রায়শই পর্যাপ্ত এবং পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য রাখে না।
জ্ঞানের অভাব: অনেক পরিবারে পুষ্টি সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব রয়েছে। তারা জানে না কোন খাবারগুলো শিশুদের জন্য জরুরি এবং কিভাবে একটি সুষম খাদ্যতালিকা তৈরি করতে হয়।
স্বাস্থ্যবিধি ও রোগ: অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং রোগ-জীবাণুও অপুষ্টির একটি বড় কারণ। বারবার ডায়রিয়া বা অন্যান্য সংক্রমণ শিশুদের পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়, যা তাদের অপুষ্টির দিকে ঠেলে দেয়।
সুতরাং, খাদ্য বিতরণে অসমতা এবং পুষ্টি জ্ঞানের অভাব হলো প্রধান কারণ, যা খাবারের প্রাপ্যতা থাকা সত্ত্বেও অপুষ্টিকে ধরে রাখে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) মানুষ খাবার খেতে চায় না: এটি ভুল। অপুষ্টির কারণ খাবারের প্রতি অনীহা নয়, বরং খাবার কিনতে বা সংগ্রহ করতে না পারা।
C) শুধুই দারিদ্র্য: দারিদ্র্য একটি বড় কারণ হলেও এটি একমাত্র কারণ নয়। পুষ্টি জ্ঞান, স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো অন্যান্য বিষয়গুলোও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
D) রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার সমস্যা নেই: এটি ভুল। অপুষ্টি এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার দুর্বলতা একে অপরের সাথে সম্পর্কিত। অপুষ্টি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে, এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে বারবার সংক্রমণের কারণে পুষ্টি শোষণে সমস্যা হয়।

Ref: UNICEF, FAO Food Security Reports.

১০৪.
বাংলাদেশে সার্বজনীন লবণ আয়োডিনকরণ প্রোগ্রামের প্রধান উদ্দেশ্য কী? Bangladesh introduced Universal Salt Iodization (USI) mainly to prevent—
  1. গলগণ্ড (Goitre)
  2. রাত্রিকানা (Night blindness)
  3. অ্যানিমিয়া (Anemia)
  4. PEM
সঠিক উত্তর:
গলগণ্ড (Goitre)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গলগণ্ড (Goitre)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) গলগণ্ড (Goitre)।

কেন এটি সঠিক: আয়োডিন মানবদেহের থাইরয়েড গ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য একটি অপরিহার্য খনিজ। এই গ্রন্থি থাইরয়েড হরমোন তৈরি করে, যা শরীরের বিপাক (metabolism), বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন শরীরে আয়োডিনের অভাব হয়, তখন থাইরয়েড গ্রন্থি তার স্বাভাবিক হরমোন তৈরি করতে পারে না। এর ফলে গ্রন্থিটি ফুলে যায়, যাকে গলগণ্ড (goitre) বলা হয়।

আয়োডিনের অভাব শিশুদের মধ্যে মানসিক প্রতিবন্ধকতা বা ক্রেটিনিজমের (cretinism) মতো মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এই ভয়াবহ স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো মোকাবিলা করার জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৩ সালে একটি আইন প্রণয়ন করে এবং ১৯৯৬ সালে সারা দেশে সার্বজনীন লবণ আয়োডিনকরণ (USI) প্রোগ্রাম চালু করে। এই প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল সকল খাদ্য উপযোগী লবণে আয়োডিন যোগ করে আয়োডিনের অভাবজনিত রোগগুলো নির্মূল করা।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) রাত্রিকানা (Night blindness): এটি ভিটামিন এ-এর অভাবজনিত রোগ।
C) অ্যানিমিয়া (Anemia): রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া সাধারণত আয়রনের অভাবের কারণে হয়।
D) পিইএম (PEM): প্রোটিন-এনার্জি ম্যালনিউট্রিশন (PEM) হলো ক্যালরি এবং প্রোটিনের অভাবজনিত অপুষ্টি।
সুতরাং, গলগণ্ড প্রতিরোধই ছিল এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য।

Ref: ICCIDD, WHO Bangladesh Nutrition Programs.

১০৫.
গ্লাইকোলাইসিস পাথওয়ের (Glycolysis pathway) রেট-লিমিটিং এনজাইম কোনটি?Which is the rate-limiting enzyme of glycolysis?
  1. Hexokinase (হেক্সোকিনেজ)
  2. Glucokinase (গ্লুকোকিনেজ)
  3. Phosphofructokinase-1 (ফসফোফ্রুক্টোকিনেজ-১)
  4. Pyruvate kinase (পাইরুভেট কিনেজ)
সঠিক উত্তর:
Phosphofructokinase-1 (ফসফোফ্রুক্টোকিনেজ-১)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Phosphofructokinase-1 (ফসফোফ্রুক্টোকিনেজ-১)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: C) ফসফোফ্রুক্টোকিনেস-১ (Phosphofructokinase-1)।

কেন এটি সঠিক: গ্লাইকোলাইসিস হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিপাকীয় প্রক্রিয়া, যেখানে গ্লুকোজ ভেঙে শক্তি (ATP) তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়ায় একাধিক ধাপ রয়েছে। তবে, এর মধ্যে একটি ধাপের গতি সবচেয়ে ধীর এবং এটি পুরো প্রক্রিয়ার গতিকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাই একে রেট-লিমিটিং স্টেপ (rate-limiting step) বলা হয়।

ফসফোফ্রুকটোকিনেস-১ (PFK-1): এটি গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়ার তৃতীয় ধাপকে অনুঘটক করে, যেখানে ফ্রুক্টোজ-৬-ফসফেট ফ্রুক্টোজ-১,৬-বিসফসফেটে রূপান্তরিত হয়। এটিই হলো গ্লাইকোলাইসিসের রেট-লিমিটিং ধাপ। এই এনজাইমটি কোষের শক্তি স্তরের উপর নির্ভর করে নিয়ন্ত্রিত হয়।

যখন কোষে ATP-এর মাত্রা বেশি থাকে (অর্থাৎ, পর্যাপ্ত শক্তি আছে), তখন PFK-1 এর কার্যকলাপ কমে যায়।
যখন ADP বা AMP-এর মাত্রা বেশি থাকে (অর্থাৎ, শক্তির প্রয়োজন), তখন PFK-1 এর কার্যকলাপ বেড়ে যায়।
এই কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে, PFK-1 কে গ্লাইকোলাইসিসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক এনজাইম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) হেক্সোকিনেস (Hexokinase) ও B) গ্লুকোকিনেস (Glucokinase): এই এনজাইম দুটি গ্লাইকোলাইসিসের প্রথম ধাপটি অনুঘটক করে, কিন্তু এগুলি রেট-লিমিটিং এনজাইম নয়।
D) পাইরুভেট কিনেস (Pyruvate kinase): এটি গ্লাইকোলাইসিসের শেষ ধাপটিকে অনুঘটক করে। এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক এনজাইম হলেও, PFK-1-এর মতো রেট-লিমিটিং হিসেবে বিবেচিত নয়।

Ref: Lehninger Principles of Biochemistry, 8th Ed, Ch. 15

১০৬.
ফ্যাটি অ্যাসিডের β-অক্সিডেশন (β-oxidation) প্রতিটি সাইকেলে কী উৎপন্ন করে What is produced in each cycle of β-oxidation?
  1. 1 Acetyl-CoA, 1 NADH, 1 FADH₂ ১ অ্যাসিটাইল-কোএ, ১ এনএডিএইচ, ১ এফএডিএইচ₂।
  2. 2 Acetyl-CoA, 2 NADH, 1 FADH₂ ২ অ্যাসিটাইল-কোএ, ২ এনএডিএইচ, ১ এফএডিএইচ₂
  3. 1 Acetyl-CoA, 2 NADH, 2 FADH₂ ১ অ্যাসিটাইল-কোএ, ২ এনএডিএইচ, ২ এফএডিএইচ₂
  4. 2 Acetyl-CoA only ২ অ্যাসিটাইল-কোএ শুধুমাত্র
সঠিক উত্তর:
1 Acetyl-CoA, 1 NADH, 1 FADH₂ ১ অ্যাসিটাইল-কোএ, ১ এনএডিএইচ, ১ এফএডিএইচ₂।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1 Acetyl-CoA, 1 NADH, 1 FADH₂ ১ অ্যাসিটাইল-কোএ, ১ এনএডিএইচ, ১ এফএডিএইচ₂।
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) ১ অ্যাসিটাইল-কোএ, ১ এনএডিএইচ, ১ এফএডিএইচ₂।

কেন এটি সঠিক: β-অক্সিডেশন হলো ফ্যাটি অ্যাসিডকে শক্তি উৎপাদনের জন্য ভেঙে ফেলার একটি প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়াটি মাইটোকন্ড্রিয়াতে ঘটে এবং এটি একটি পুনরাবৃত্তিমূলক চক্র (cyclic process)। প্রতিটি চক্রে, একটি ফ্যাটি অ্যাসিড চেইন থেকে দুটি কার্বন ইউনিট অপসারণ করা হয়।

প্রতিটি β-অক্সিডেশন চক্রে নিম্নলিখিত পদার্থগুলো উৎপন্ন হয়:

১ অ্যাসিটাইল-কোএ (Acetyl-CoA): ফ্যাটি অ্যাসিড চেইনের শেষ থেকে দুটি কার্বন পরমাণু অ্যাসিটাইল-কোএ হিসেবে আলাদা হয়ে যায়। এই অ্যাসিটাইল-কোএ পরবর্তীতে ক্রেবস চক্রে (Krebs cycle) প্রবেশ করে আরও শক্তি উৎপাদন করে।
১ এনএডিএইচ (NADH): এই অণুটি একটি রেডক্স বিক্রিয়া থেকে উৎপন্ন হয় এবং ইলেকট্রন পরিবহন শৃঙ্খলে (electron transport chain) প্রবেশ করে।
১ এফএডিএইচ₂ (FADH₂): এই অণুটিও আরেকটি রেডক্স বিক্রিয়া থেকে উৎপন্ন হয় এবং ইলেকট্রন পরিবহন শৃঙ্খলে প্রবেশ করে।
এনএডিএইচ এবং এফএডিএইচ₂ পরে ইলেকট্রন পরিবহন শৃঙ্খলে গিয়ে এটিপি (ATP) তৈরি করে, যা শরীরের প্রধান শক্তি উৎস।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) ২ অ্যাসিটাইল-কোএ, ২ এনএডিএইচ, ১ এফএডিএইচ₂: এটি ভুল। প্রতি সাইকেলে মাত্র একটি অ্যাসিটাইল-কোএ উৎপন্ন হয়।
C) ১ অ্যাসিটাইল-কোএ, ২ এনএডিএইচ, ২ এফএডিএইচ₂: এটিও ভুল। এনএডিএইচ এবং এফএডিএইচ₂ উভয়ই একটি করে উৎপন্ন হয়।
D) ২ অ্যাসিটাইল-কোএ শুধুমাত্র: এটি ভুল, কারণ এই প্রক্রিয়ায় শক্তি বহনকারী অণু NADH এবং FADH₂ উভয়ই উৎপন্ন হয়।

Ref: Lippincott’s Illustrated Biochemistry, 8th Ed, Ch. 18

১০৭.
ট্রান্সঅ্যামিনেশন বিক্রিয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোএনজাইম কোনটি? Which coenzyme is essential for transamination?
  1. Pyridoxal phosphate (PLP, ভিটামিন B6 ডেরিভেটিভ)
  2. থায়ামিন পাইরোফসফেট (TPP) Thiamine pyrophosphate
  3. বায়োটিন Biotin
  4. ফলিক অ্যাসিড (Folic acid)
সঠিক উত্তর:
Pyridoxal phosphate (PLP, ভিটামিন B6 ডেরিভেটিভ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Pyridoxal phosphate (PLP, ভিটামিন B6 ডেরিভেটিভ)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) পাইরিডক্সাল ফসফেট (PLP), ভিটামিন B6 ডেরিভেটিভ।

কেন এটি সঠিক: ট্রান্সঅ্যামিনেশন হলো একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া যেখানে একটি অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে অ্যামিনো গ্রুপ (−NH2​) আরেকটি কিটো অ্যাসিডে স্থানান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়াটি অ্যামিনো অ্যাসিডের বিপাকের (metabolism) জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাইরিডক্সাল ফসফেট (PLP): এটি ভিটামিন বি৬ (Pyridoxine)-এর সক্রিয় রূপ। ট্রান্সঅ্যামিনেশন বিক্রিয়া অনুঘটক করার জন্য ট্রান্সঅ্যামিনেজ (transaminase) বা অ্যামিনোট্রান্সফারেজ (aminotransferase) নামক এনজাইমগুলোর প্রয়োজন হয়। এই এনজাইমগুলো PLP-কে কোএনজাইম হিসেবে ব্যবহার করে। PLP-এর কাজ হলো সাময়িকভাবে অ্যামিনো গ্রুপকে গ্রহণ করা এবং তারপর এটিকে অন্য একটি কিটো অ্যাসিডে স্থানান্তরিত করা।
সুতরাং, PLP ছাড়া ট্রান্সঅ্যামিনেশন বিক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হতে পারে না।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) থায়ামিন পাইরোফসফেট (TPP): এটি ভিটামিন বি১ (Thiamine)-এর সক্রিয় রূপ। এটি প্রধানত কার্বোহাইড্রেট বিপাকের ডিকার্বক্সিলেশন (decarboxylation) বিক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।
C) বায়োটিন (Biotin): এটি ভিটামিন বি৭। এটি কার্বক্সিলেশন (carboxylation) বিক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য, যেখানে একটি কার্বক্সিল গ্রুপ (−COO−) যুক্ত করা হয়।
D) ফলিক অ্যাসিড (Folic acid): এটি ভিটামিন বি৯। এটি প্রধানত 'ওয়ান-কার্বন' (one-carbon) মেটাবলিজম বা একক কার্বন স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত হয়, যা ডিএনএ সংশ্লেষণ এবং কোষ বিভাজনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

Ref: Harper’s, Ch. 19

১০৮.
ফেনাইলকিটোনুরিয়া (Phenylketonuria - PKU)-এর প্রধান ত্রুটি কোন এনজাইমের ঘাটতির কারণে হয়? Which enzyme deficiency causes PKU?
  1. টাইরোসিনেজ (Tyrosinase)
  2. ফেনাইলঅ্যালানিন হাইড্রক্সিলেজ (Phenylalanine hydroxylase)
  3. হোমোজেন্টিসেট অক্সিডেজ (Homogentisate oxidase)
  4. ব্রাঞ্চড-চেইন α-কিটোঅ্যাসিড ডিহাইড্রোজিনেস (Branched-chain α-ketoacid dehydrogenase)
সঠিক উত্তর:
ফেনাইলঅ্যালানিন হাইড্রক্সিলেজ (Phenylalanine hydroxylase)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেনাইলঅ্যালানিন হাইড্রক্সিলেজ (Phenylalanine hydroxylase)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) ফেনাইলঅ্যালানিন হাইড্রক্সিলেজ (Phenylalanine hydroxylase)।

কেন এটি সঠিক: ফেনাইলকিটোনুরিয়া (PKU) হলো একটি বংশগত বিপাকীয় রোগ (metabolic disorder)। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ফেনাইলঅ্যালানিন হাইড্রক্সিলেজ নামক এনজাইমের অভাব থাকে।

এনজাইমের কাজ: এই এনজাইমটি একটি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড ফেনাইলঅ্যালানিনকে আরেকটি অ্যামিনো অ্যাসিড টাইরোসিনে রূপান্তরিত করে। এটি শরীরের জন্য একটি স্বাভাবিক এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া।
PKU-এর কারণ: যখন এই এনজাইমের ঘাটতি থাকে, তখন ফেনাইলঅ্যালানিন টাইরোসিনে রূপান্তরিত হতে পারে না। এর ফলে অতিরিক্ত ফেনাইলঅ্যালানিন এবং এর উপজাত পদার্থ (by-products) রক্তে এবং মস্তিষ্কে জমা হতে থাকে। এই বিষাক্ত পদার্থগুলো মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে, যার ফলে বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা (intellectual disability), খিঁচুনি এবং অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করা গেলে একটি বিশেষ খাদ্যতালিকা অনুসরণ করে এই সমস্যাগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) টাইরোসিনেজ (Tyrosinase): এই এনজাইমের ঘাটতির কারণে অ্যালবিনিজম (albinism) হয়, যা ত্বক, চুল এবং চোখের পিগমেন্টেশনের অভাবজনিত একটি রোগ।
C) হোমোজেন্টিসেট অক্সিডেজ (Homogentisate oxidase): এই এনজাইমের ঘাটতির কারণে অ্যালক্যাপটোনুরিয়া (Alkaptonuria) নামক রোগ হয়। এই রোগে প্রস্রাব বাতাসের সংস্পর্শে এলে কালো হয়ে যায়।
D) ব্রাঞ্চড-চেইন α-কিটোঅ্যাসিড ডিহাইড্রোজিনেস (Branched-chain α-ketoacid dehydrogenase): এই এনজাইমের ঘাটতির কারণে ম্যাপল সিরাপ ইউরিন ডিজিজ (Maple syrup urine disease) হয়, যা একটি গুরুতর বিপাকীয় রোগ।

Ref: Nelson Textbook of Pediatrics, 21st Ed

১০৯.
গ্লাইকোজেন স্টোরেজ ডিজিজ টাইপ ১ (ভন জিরকের রোগ)-এ কোন এনজাইমের ঘাটতি থাকে? Which enzyme deficiency is seen in Von Gierke’s disease?
  1. গ্লুকোজ-৬-ফসফাটেজ (Glucose-6-phosphatase)
  2. ডিব্রাঞ্চিং এনজাইম (Debranching enzyme)
  3. ব্রাঞ্চিং এনজাইম (Branching enzyme)
  4. লাইসোসোমাল α-1,4-গ্লুকোসিডেস (Lysosomal α-1,4-glucosidase)
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোজ-৬-ফসফাটেজ (Glucose-6-phosphatase)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোজ-৬-ফসফাটেজ (Glucose-6-phosphatase)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) গ্লুকোজ-৬-ফসফাটেজ (Glucose-6-phosphatase)।

কেন এটি সঠিক: গ্লাইকোজেন স্টোরেজ ডিজিজ (Glycogen storage disease - GSD) হলো একদল জেনেটিক বা বংশগত রোগ, যা গ্লাইকোজেনের বিপাকে (metabolism) সমস্যার কারণে হয়। গ্লাইকোজেন হলো এক ধরনের শর্করা যা শরীর শক্তি সঞ্চয়ের জন্য ব্যবহার করে।

ভন জিরকের রোগ (Von Gierke’s disease): এটি গ্লাইকোজেন স্টোরেজ ডিজিজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ। এই রোগে গ্লুকোজ-৬-ফসফাটেজ নামক একটি এনজাইমের অভাব থাকে। এই এনজাইমটির মূল কাজ হলো যকৃত এবং কিডনিতে গ্লাইকোজেনকে গ্লুকোজে রূপান্তরিত করা, যা রক্তে শক্তি হিসেবে সরবরাহ করা হয়।
যখন এই এনজাইমের অভাব হয়, তখন গ্লাইকোজেন গ্লুকোজে রূপান্তরিত হতে পারে না এবং যকৃতে অস্বাভাবিক পরিমাণে জমা হতে থাকে। এর ফলে:

তীব্র হাইপোগ্লাইসেমিয়া (Severe hypoglycemia): রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়, কারণ যকৃত সঞ্চিত গ্লুকোজ সরবরাহ করতে পারে না।

হেপাটোমেগালি (Hepatomegaly): যকৃতে অতিরিক্ত গ্লাইকোজেন জমা হওয়ার কারণে যকৃত অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যায়।

এই কারণে, এই এনজাইমের ঘাটতিই ভন জিরকের রোগের প্রধান কারণ।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
B) ডিব্রাঞ্চিং এনজাইম (Debranching enzyme): এই এনজাইমের ঘাটতির কারণে কোরি রোগ (Cori disease) হয়।
C) ব্রাঞ্চিং এনজাইম (Branching enzyme): এই এনজাইমের ঘাটতির কারণে অ্যান্ডারসেন রোগ (Andersen disease) হয়।
D) লাইসোসোমাল α-1,4-গ্লুকোসিডেস (Lysosomal α-1,4-glucosidase): এই এনজাইমের ঘাটতির কারণে পম্পে রোগ (Pompe disease) হয়।

Ref: Harper’s, Ch. 27

১১০.
ফ্রুকটোসুরিয়া রোগের কারণ কী
What causes essential fructosuria?
  1. ফ্রুকটোকিনেস (Fructokinase) এনজাইমের ঘাটতি Fructokinase deficiency
  2. অ্যালডোলেস বি (Aldolase B) Aldolase B deficiency
  3. গ্যালাক্টোকিনেস (Galactokinase) এনজাইমের ঘাটতি Galactokinase deficiency
  4. গ্লুকোজ-৬-ফসফেট ডিহাইড্রোজিনেস (G6PD) Glucose-6-phosphate dehydrogenase deficiency
সঠিক উত্তর:
ফ্রুকটোকিনেস (Fructokinase) এনজাইমের ঘাটতি Fructokinase deficiency
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রুকটোকিনেস (Fructokinase) এনজাইমের ঘাটতি Fructokinase deficiency
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) ফ্রুকটোকিনেস (Fructokinase) এনজাইমের ঘাটতি।

কেন এটি সঠিক: ফ্রুকটোসুরিয়া হলো ফ্রুকটোজ বিপাকীয় পথের একটি বংশগত ত্রুটি। এটি একটি নির্দোষ বা নিরীহ (benign) রোগ, যার কোনো গুরুতর স্বাস্থ্যগত প্রভাব নেই।

ফ্রুকটোকিনেসের কাজ: ফ্রুকটোকিনেস হলো একটি এনজাইম যা ফ্রুকটোজকে ফ্রুকটোজ-১-ফসফেটে রূপান্তরিত করে। এই প্রক্রিয়াটি শরীরের স্বাভাবিক বিপাকের জন্য জরুরি।
রোগের কারণ: যখন এই এনজাইমের অভাব হয়, তখন ফ্রুকটোজ ফ্রুকটোজ-১-ফসফেটে রূপান্তরিত হতে পারে না এবং রক্তে ফ্রুকটোজের মাত্রা বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত ফ্রুকটোজ তখন প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়, যাকে ফ্রুকটোসুরিয়া বলা হয়। এই রোগের সাধারণত কোনো লক্ষণ থাকে না এবং এটি দৈনন্দিন জীবনে কোনো সমস্যা তৈরি করে না।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) অ্যালডোলেস বি (Aldolase B) এনজাইমের ঘাটতি: এই এনজাইমের ঘাটতির কারণে হেরিডিটারি ফ্রুকটোজ ইনটলারেন্স (Hereditary fructose intolerance) নামক একটি গুরুতর রোগ হয়। এই রোগে ফ্রুকটোজ গ্রহণের পর রক্তে ফ্রুকটোজ-১-ফসফেট জমা হয়, যা যকৃত এবং কিডনির ক্ষতি করে।
C) গ্যালাক্টোকিনেস (Galactokinase) এনজাইমের ঘাটতি: এই এনজাইমের ঘাটতির কারণে এক ধরনের গ্যালাকটোসেমিয়া (Galactosemia) হয়, যা শিশুদের মধ্যে ছানি (cataracts) সৃষ্টি করতে পারে।
D) গ্লুকোজ-৬-ফসফেট ডিহাইড্রোজিনেস (G6PD) এনজাইমের ঘাটতি: এই এনজাইমের ঘাটতির কারণে হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়া (Hemolytic anemia) হয়, যেখানে লোহিত রক্তকণিকা দ্রুত ভেঙে যায়।

Ref: Lippincott’s, Ch. 20

১১১.
গ্লুকোনিওজেনেসিস (Gluconeogenesis) পাথওয়ের কোন ধাপটি গ্লাইকোলাইসিসের (Glycolysis) অপরিবর্তনীয় ধাপকে বাইপাস করে? Which step of gluconeogenesis bypasses pyruvate kinase step of glycolysis?
  1. পাইরুভেট → অক্সালোঅ্যাসিটেট → পিইপি Pyruvate → Oxaloacetate → PEP
  2. Pyruvate → Acetyl-CoA পাইরুভেট → অ্যাসিটাইল-কোএ
  3. Lactate → Pyruvate ল্যাকটেট → পাইরুভেট
  4. Glycerol → DHAP গ্লিসারল → ডিএইচএপি
সঠিক উত্তর:
পাইরুভেট → অক্সালোঅ্যাসিটেট → পিইপি Pyruvate → Oxaloacetate → PEP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাইরুভেট → অক্সালোঅ্যাসিটেট → পিইপি Pyruvate → Oxaloacetate → PEP
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) পাইরুভেট → অক্সালোঅ্যাসিটেট → পিইপি।

কেন এটি সঠিক: গ্লাইকোলাইসিস এবং গ্লুকোনিওজেনেসিস দুটি বিপরীত প্রক্রিয়া। গ্লাইকোলাইসিসে গ্লুকোজ ভেঙে শক্তি তৈরি হয়, আর গ্লুকোনিওজেনেসিসে নন-কার্বোহাইড্রেট উৎস থেকে গ্লুকোজ তৈরি হয়। গ্লাইকোলাইসিসের তিনটি ধাপ অপরিবর্তনীয় (irreversible)। এদের মধ্যে একটি হলো পাইরুভেট কিনেস (pyruvate kinase) দ্বারা অনুঘটক করা শেষ ধাপটি।

গ্লুকোনিওজেনেসিস এই অপরিবর্তনীয় ধাপটিকে বাইপাস করতে দুটি ভিন্ন এনজাইম ব্যবহার করে:

প্রথম এনজাইম: পাইরুভেট কার্বক্সিলেস (Pyruvate carboxylase) পাইরুভেটকে মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরে অক্সালোঅ্যাসিটেটে (oxaloacetate) রূপান্তরিত করে।
দ্বিতীয় এনজাইম: এরপর, পিইপি কার্বক্সিকিনেস (PEP carboxykinase) নামক আরেকটি এনজাইম অক্সালোঅ্যাসিটেটকে ফসফোইনলপাইরুভেটে (PEP) রূপান্তরিত করে।
এই দুটি এনজাইম মিলে গ্লাইকোলাইসিসের পাইরুভেট কিনেস ধাপটিকে বাইপাস করে, যা গ্লুকোনিওজেনেসিস প্রক্রিয়াকে সফলভাবে সম্পন্ন হতে দেয়।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) পাইরুভেট → অ্যাসিটাইল-কোএ: এটি একটি অপরিবর্তনীয় বিক্রিয়া, যা গ্লাইকোনিওজেনেসিসে ঘটে না। বরং এটি ক্রেবস চক্রে প্রবেশের জন্য পাইরুভেটকে রূপান্তরিত করে।
C) ল্যাকটেট → পাইরুভেট: এটি একটি সহজ রূপান্তর এবং এটি সরাসরি পাইরুভেট কিনেস ধাপকে বাইপাস করে না। এটি গ্লুকোনিওজেনেসিসের একটি সম্ভাব্য শুরু।
D) গ্লিসারল → ডিএইচএপি: এটি একটি ভিন্ন উপায়ে গ্লুকোনিওজেনেসিস প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে, কিন্তু এটি পাইরুভেট কিনেস ধাপকে বাইপাস করার প্রক্রিয়া নয়।

Ref: Lehninger, Ch. 16

১১২.
ম্যাপল সিরাপ ইউরিন ডিজিজ (MSUD)-এর জৈব-রাসায়নিক ত্রুটি কী? What is the biochemical defect in MSUD?
  1. ব্রাঞ্চড-চেইন α-কিটোঅ্যাসিড ডিহাইড্রোজিনেস এনজাইমের ঘাটতি Branched-chain α-ketoacid dehydrogenase deficiency
  2. ফেনাইলঅ্যালানিন হাইড্রক্সিলেজ (Phenylalanine hydroxylase) এনজাইমের ঘাটতি Phenylalanine hydroxylase deficiency
  3. টাইরোসিনেজ (Tyrosinase) এনজাইমের ঘাটতি Tyrosinase deficiency
  4. হোমোজেন্টিসেট অক্সিডেজ (Homogentisate oxidase) এনজাইমের ঘাটতি Homogentisate oxidase deficiency
সঠিক উত্তর:
ব্রাঞ্চড-চেইন α-কিটোঅ্যাসিড ডিহাইড্রোজিনেস এনজাইমের ঘাটতি Branched-chain α-ketoacid dehydrogenase deficiency
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রাঞ্চড-চেইন α-কিটোঅ্যাসিড ডিহাইড্রোজিনেস এনজাইমের ঘাটতি Branched-chain α-ketoacid dehydrogenase deficiency
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) ব্রাঞ্চড-চেইন α-কিটোঅ্যাসিড ডিহাইড্রোজিনেস এনজাইমের ঘাটতি।

কেন এটি সঠিক: ম্যাপল সিরাপ ইউরিন ডিজিজ (Maple syrup urine disease - MSUD) হলো একটি বিরল, বংশগত বিপাকীয় রোগ। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর তিনটি নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিডকে সঠিকভাবে ভাঙতে পারে না। এই অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো হলো:
লিউসিন (leucine)
আইসোলিউসিন (isoleucine)
ভ্যালিন (valine)

এই তিনটি অ্যামিনো অ্যাসিডকে একত্রে ব্রাঞ্চড-চেইন অ্যামিনো অ্যাসিড (branched-chain amino acids - BCAAs) বলা হয়।
এনজাইমের কাজ: ব্রাঞ্চড-চেইন α-কিটোঅ্যাসিড ডিহাইড্রোজিনেস নামক একটি এনজাইম কমপ্লেক্স এই অ্যামিনো অ্যাসিডগুলোর বিপাকে একটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
রোগের কারণ: যখন এই এনজাইমটি ত্রুটিপূর্ণ হয় বা এর ঘাটতি থাকে, তখন ব্রাঞ্চড-চেইন অ্যামিনো অ্যাসিড এবং তাদের বিষাক্ত উপজাত পদার্থ (by-products) রক্তে এবং মূত্রে জমা হতে শুরু করে। এই জমা হওয়া পদার্থগুলোর কারণে মূত্রে একটি মিষ্টি গন্ধ তৈরি হয়, যা ম্যাপল সিরাপের গন্ধের মতো।
এই রোগটি যদি সময় মতো নির্ণয় ও চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে মস্তিষ্কের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে এবং শিশুর মৃত্যুও হতে পারে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
B) ফেনাইলঅ্যালানিন হাইড্রক্সিলেজ (Phenylalanine hydroxylase) এনজাইমের ঘাটতি: এই এনজাইমের অভাবে ফেনাইলকিটোনুরিয়া (PKU) নামক রোগ হয়।
C) টাইরোসিনেজ (Tyrosinase) এনজাইমের ঘাটতি: এই এনজাইমের অভাবে অ্যালবিনিজম (Albinism) রোগ হয়, যার কারণে ত্বকে পিগমেন্টেশন থাকে না।
D) হোমোজেন্টিসেট অক্সিডেজ (Homogentisate oxidase) এনজাইমের ঘাটতি: এই এনজাইমের অভাবে অ্যালক্যাপটোনুরিয়া (Alkaptonuria) রোগ হয়।

১১৩.
সাক্সিনাইল-কোএ সিনথেটেজ এনজাইম (Succinyl-CoA synthetase) টিসিএ চক্রে (TCA cycle) কোন ধরনের শক্তি উৎপন্ন করে? What type of energy is produced by Succinyl-CoA synthetase in the TCA cycle?
  1. ATP (এটিপি)
  2. GTP (জিটিপি)
  3. NADH (এনএডএইচ)
  4. FADH₂ (এফএডএইচ₂)
সঠিক উত্তর:
GTP (জিটিপি)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
GTP (জিটিপি)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) জিটিপি (GTP)।

কেন এটি সঠিক: টিসিএ চক্র (TCA cycle) বা ক্রেবস চক্র (Krebs cycle) হলো শক্তি উৎপাদনের একটি কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়া। এই চক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে, সাক্সিনাইল-কোএ সিনথেটেজ নামক এনজাইমটি সাক্সিনাইল-কোএ (succinyl-CoA)-কে সাক্সিনেট (succinate)-এ রূপান্তরিত করে। এই বিক্রিয়াটি সরাসরি ফসফেট গ্রুপ স্থানান্তরের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে, যাকে সাবস্ট্রেট-লেভেল ফসফোরিলেশন (substrate-level phosphorylation) বলা হয়।

জিটিপি (GTP): এই বিক্রিয়ায় সরাসরি এটিপি (ATP) তৈরি না হয়ে জিটিপি (Guanosine triphosphate) তৈরি হয়। জিটিপি একটি উচ্চ-শক্তির যৌগ এবং এটিপি-এর মতোই কাজ করে। এটিপি এবং জিটিপি একে অপরের সঙ্গে সহজেই রূপান্তরিত হতে পারে, তাই জিটিপি-কে এটিপি-এর সমতুল্য শক্তি হিসেবে ধরা হয়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) এটিপি (ATP): যদিও জিটিপি পরবর্তীতে এটিপি-তে রূপান্তরিত হতে পারে, তবে টিসিএ চক্রের এই ধাপে সরাসরি এটিপি উৎপন্ন হয় না।
C) এনএডিএইচ (NADH): এনএডিএইচ এবং ডিহাইড্রোজিনেস এনজাইমগুলো (যেমন: আইসোসাইট্রেট ডিহাইড্রোজিনেস) অন্য ধাপে তৈরি হয়।
D) এফএডিএইচ₂ (FADH₂): এফএডিএইচ₂ একটি ভিন্ন ধাপে তৈরি হয়, যেখানে সাক্সিনেট ডিহাইড্রোজিনেস এনজাইমটি কাজ করে।
Ref: Lehninger Principles, Ch. 16

১১৪.
হেরিডিটারি ফ্রুকটোজ ইনটলারেন্স (Hereditary fructose intolerance) কোন এনজাইমের ঘাটতির কারণে হয়? Hereditary fructose intolerance is caused by deficiency of which enzyme?
  1. Fructokinase (ফ্রুক্টোकिनেজ)
  2. Aldolase B (অ্যালডোলেজ বি)
  3. Galactokinase (গ্যালাক্টোকিনেজ)
  4. Hexokinase (হেক্সোকিনেজ)
সঠিক উত্তর:
Aldolase B (অ্যালডোলেজ বি)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Aldolase B (অ্যালডোলেজ বি)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) অ্যালডোলেজ বি (Aldolase B)।

কেন এটি সঠিক: হেরিডিটারি ফ্রুকটোজ ইনটলারেন্স (HFI) একটি বংশগত বিপাকীয় রোগ যা ফ্রুকটোজযুক্ত খাবার (যেমন: ফল, সুক্রোজ) খাওয়ার পর মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করে।

অ্যালডোলেজ বি-এর কাজ: অ্যালডোলেজ বি হলো একটি এনজাইম যা যকৃতে (liver) ফ্রুকটোজ-১-ফসফেটকে ভেঙে ডাইহাইড্রোক্সিঅ্যাসিটোন ফসফেট (DHAP) এবং গ্লিসারালডিহাইডে পরিণত করে। এটি ফ্রুকটোজ বিপাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
রোগের কারণ: যখন এই এনজাইমের অভাব হয়, তখন ফ্রুকটোজ-১-ফসফেট যকৃতের কোষে জমা হতে শুরু করে। এই জমা হওয়া পদার্থটি বিষাক্ত এবং এটি যকৃতের কার্যকারিতাকে বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে:

হাইপোগ্লাইসেমিয়া (Hypoglycemia): রক্তে শর্করার মাত্রা মারাত্মকভাবে কমে যায়।
বমি: ফ্রুকটোজ গ্রহণের পর বমি হয়।
হেপাটোমেগালি (Hepatomegaly): যকৃত ফুলে যায়।
যদি চিকিৎসা না করা হয়, তবে যকৃতের গুরুতর ক্ষতি এবং কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস পেতে পারে।
সুতরাং, অ্যালডোলেজ বি-এর ঘাটতিই এই গুরুতর রোগের প্রধান কারণ।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) ফ্রুকটোকিনেস (Fructokinase): এই এনজাইমের অভাবে এসেনশিয়াল ফ্রুকটোসুরিয়া (Essential fructosuria) নামক একটি নিরীহ রোগ হয়, যেখানে ফ্রুকটোজ প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যায় এবং কোনো গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করে না।
C) গ্যালাক্টোকিনেস (Galactokinase): এই এনজাইমের ঘাটতি গ্যালাকটোজের বিপাককে প্রভাবিত করে এবং গ্যালাকটোসেমিয়া (Galactosemia) নামক রোগ হয়।
D) হেক্সোকিনেস (Hexokinase): হেক্সোকিনেস গ্লুকোজ বিপাকের প্রথম ধাপে কাজ করে, কিন্তু এটি ফ্রুকটোজ ইনটলারেন্সের কারণ নয়।

Ref: Harper’s Illustrated Biochemistry, Ch. 20

১১৫.
β-অক্সিডেশনে লম্বা চেইনের ফ্যাটি অ্যাসিড (long-chain fatty acids) কোন অর্গানেলে অক্সিডাইজ হয়? In which organelle are long-chain fatty acids oxidized during β-oxidation?
  1. Cytoplasm (সাইটোপ্লাজম)
  2. Mitochondrial matrix (মাইটোকন্ড্রিয়াল ম্যাট্রিক্স)
  3. Endoplasmic reticulum (এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম)
  4. Nucleus (নিউক্লিয়াস)
সঠিক উত্তর:
Mitochondrial matrix (মাইটোকন্ড্রিয়াল ম্যাট্রিক্স)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mitochondrial matrix (মাইটোকন্ড্রিয়াল ম্যাট্রিক্স)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) মাইটোকন্ড্রিয়াল ম্যাট্রিক্স (Mitochondrial matrix)।

কেন এটি সঠিক: β-অক্সিডেশন হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিপাকীয় প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ফ্যাটি অ্যাসিড ভেঙে শক্তি (ATP) তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়াটি প্রধানত কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াতে ঘটে, কারণ এখানেই এর জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইমগুলো থাকে।

মাইটোকন্ড্রিয়াল ম্যাট্রিক্স (Mitochondrial matrix): এটি মাইটোকন্ড্রিয়ার ভিতরের অংশ। লম্বা চেইনের ফ্যাটি অ্যাসিডগুলো কোষের সাইটোপ্লাজম থেকে এই ম্যাট্রিক্সে প্রবেশ করার পর β-অক্সিডেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এখানে ফ্যাটি অ্যাসিডগুলো অ্যাসিটাইল-কোএ (acetyl-CoA), এনএডিএইচ (NADH) এবং এফএডিএইচ₂ (FADH₂) তে রূপান্তরিত হয়, যা পরবর্তীতে ক্রেবস চক্র (Krebs cycle) এবং ইলেকট্রন পরিবহন শৃঙ্খলের (electron transport chain) মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন করে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) সাইটোপ্লাজম (Cytoplasm): ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রাথমিক সক্রিয়করণ (activation) সাইটোপ্লাজমে ঘটে, কিন্তু অক্সিডেশন প্রক্রিয়াটি নয়। লম্বা চেইনের ফ্যাটি অ্যাসিড সাইটোপ্লাজম থেকে মাইটোকন্ড্রিয়ায় প্রবেশ করার জন্য একটি বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থার (carnitine shuttle) প্রয়োজন হয়।
C) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম (Endoplasmic reticulum): এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম প্রোটিন এবং লিপিড সংশ্লেষণের সাথে জড়িত। এটি ফ্যাটি অ্যাসিডের কিছু পরিবর্তন ঘটায়, কিন্তু β-অক্সিডেশন এখানে হয় না।
D) নিউক্লিয়াস (Nucleus): নিউক্লিয়াস কোষের জেনেটিক উপাদান ধারণ করে এবং কোষের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোনো বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় জড়িত নয়।
Ref: Lippincott’s Biochemistry, Ch. 18

১১৬.
ম্যাপল সিরাপ ইউরিন ডিজিজ (MSUD) মূলত কোন অ্যামিনো অ্যাসিডের ভাঙন বন্ধ করে? Maple syrup urine disease (MSUD) primarily blocks degradation of which amino acids?
  1. অ্যারোমেটিক অ্যামিনো অ্যাসিড Aromatic amino acids (Tyrosine, Phenylalanine)
  2. ব্রাঞ্চড-চেইন অ্যামিনো অ্যাসিড (লিউসিন, আইসোলিউসিন, ভ্যালিন)। Branched-chain amino acids (Leucine, Isoleucine, Valine)
  3. সালফার-যুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিড Sulfur-containing amino acids (Methionine, Cysteine)
  4. মৌলিক অ্যামিনো অ্যাসিড Basic amino acids (Lysine, Arginine)
সঠিক উত্তর:
ব্রাঞ্চড-চেইন অ্যামিনো অ্যাসিড (লিউসিন, আইসোলিউসিন, ভ্যালিন)। Branched-chain amino acids (Leucine, Isoleucine, Valine)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রাঞ্চড-চেইন অ্যামিনো অ্যাসিড (লিউসিন, আইসোলিউসিন, ভ্যালিন)। Branched-chain amino acids (Leucine, Isoleucine, Valine)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) ব্রাঞ্চড-চেইন অ্যামিনো অ্যাসিড (লিউসিন, আইসোলিউসিন, ভ্যালিন)।

কেন এটি সঠিক: ম্যাপল সিরাপ ইউরিন ডিজিজ (Maple syrup urine disease - MSUD) হলো একটি বিরল জেনেটিক বা বংশগত রোগ যা প্রোটিন বিপাকের (metabolism) ত্রুটির কারণে হয়। এই রোগে শরীর তিনটি নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিডকে সঠিকভাবে ভাঙতে পারে না। এই অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো হলো:
লিউসিন (Leucine)
আইসোলিউসিন (Isoleucine)
ভ্যালিন (Valine)
এই তিনটি অ্যামিনো অ্যাসিডের আণবিক গঠন শাখাযুক্ত হওয়ায় এদেরকে "ব্রাঞ্চড-চেইন অ্যামিনো অ্যাসিড" বলা হয়।

রোগের কারণ: এই অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো ভাঙার জন্য ব্রাঞ্চড-চেইন α-কিটোঅ্যাসিড ডিহাইড্রোজিনেস (branched-chain α-ketoacid dehydrogenase) নামক একটি এনজাইম কমপ্লেক্সের প্রয়োজন হয়। যখন এই এনজাইমটি ত্রুটিপূর্ণ হয়, তখন এই অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো এবং তাদের বিষাক্ত উপজাত পদার্থ (by-products) রক্তে এবং মূত্রে জমা হতে শুরু করে। এর ফলে মূত্রে একটি মিষ্টি গন্ধ তৈরি হয়, যা ম্যাপল সিরাপের গন্ধের মতো।
এই রোগটি যদি সময় মতো নির্ণয় ও চিকিৎসা না করা হয়, তবে এটি মস্তিষ্কের গুরুতর ক্ষতি করতে পারে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
A) অ্যারোমেটিক অ্যামিনো অ্যাসিড: এই অ্যামিনো অ্যাসিডগুলোর বিপাকের ত্রুটির কারণে ফেনাইলকিটোনুরিয়া (PKU) এবং টাইরোসিনেমিয়ার (Tyrosinemia) মতো রোগ হয়।
C) সালফার-যুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিড: এই অ্যামিনো অ্যাসিডগুলোর বিপাকের ত্রুটির কারণে হোমোসিস্টিনুরিয়া (Homocystinuria) নামক রোগ হয়।
D) মৌলিক অ্যামিনো অ্যাসিড: এই অ্যামিনো অ্যাসিডগুলোর বিপাকের সাথে সম্পর্কিত ত্রুটিগুলো ইউরিয়া চক্রের ব্যাধির (Urea cycle disorders) কারণ হতে পারে।

Ref: Harper’s, Ch. 20