পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্সতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন২১
সিলেবাস
Exam - 85 Bangla - 8 Topic: শব্দ ও পদের গঠন, বানান, শব্দের উৎস, শব্দের শ্রেণি বিভাগ, প্রকৃতি-প্রত্যয়।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স · তারিখ অনির্ধারিত · ২১ প্রশ্ন

.
উৎসমূল অনুসারে ‘জঙ্গি’ কোন ভাষার শব্দ?
  1. তুর্কি
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- উৎসমূল অনুসারে 'জঙ্গি'- 'ফারসি' ভাষার শব্দ।

• 'জঙ্গি' শব্দের অর্থ:
- সামরিক, যুদ্ধবিষয়ক।

• 'ফারসি' ভাষার কিছু শব্দ:
- রপ্তানি, 
- খোদা, 
- নামাজ, 
- রোজা, 
- চশমা, 
- তোশক, 
- দোকান, 
- কারখানা, 
- আমদানি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম -
  1. উপসর্গ
  2. প্রত্যয়
  3. পদাণু
  4. পদ
ব্যাখ্যা
• পদ: 
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।

বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন:
১. বিশেষ্য।
২. সর্বনাম।
৩. বিশেষণ।
৪. ক্রিয়া।
৫. ক্রিয়া বিশেষণ।
৬. অনুসর্গ।
৭. যোজক।
৮. আবেগ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
'নৈপুণ্য' অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. মেঠো
  2. নেয়ে
  3. বেতো
  4. চোরা
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় যোগ করলে শব্দের অর্থ অনেক সময় বদলে যায়- 
'না→ নেয়ে' প্রত্যয় সাধিত শব্দটি 'নৈপুণ্য' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
----------------------
• বিভিন্ন অর্থে প্রত্যয় সাধিত কিছু শব্দ:
- যুক্ত অর্থে: টাক  → টেকো।
- ভাব অর্থে: ইতর → ইতরামি।
- নৈপুণ্য অর্থে: না → নেয়ে।
- অবজ্ঞা অর্থে: চোর→চোরা। 
- বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা।
- পেশা অর্থে: ডাক্তার → ডাক্তারি।
- মালিক অর্থে: জমিদার → জমিদারি।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
.
‘ভাস্বর’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ভাস্‌ + স্বর
  2. √ভাস্‌ + বর
  3. √ভাস্‌ + সর
  4. √ভা + স্বর
ব্যাখ্যা
• 'ভাস্বর' শব্দটি: 
- শব্দটি বিশেষণ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = √ ভাস্‌ + বর।

• 'ভাস্বর' শব্দের অর্থ: 
- দীপ্তিমান, আলোকিত, উজ্জ্বল।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
নিচের কোন শব্দটি উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে?
  1. বিবিয়ানা
  2. বিকল
  3. আণবিক
  4. অংশীদার
ব্যাখ্যা
• 'বিকল' শব্দে 'বি' উপসর্গটি ভিন্নতা (নেই বা নিন্দনীয়) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অন্যদিকে,
• 'বিবিয়ানা' শব্দটি গঠিত হয়েছে বিদেশি প্রত্য়গত নিয়মে। 
'বিবিয়ানা' এর প্রকৃতি-প্রত্যয়: 'বিবি +আনা'।

• 'আণবিক' - অনু + ইক (ষ্ণিক) এবং
অংশীদার - অংশী + দার  শব্দ দুটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. শূদ্র
  2. স্বত্ব
  3. যন্ত্রনা
  4. সমীচীন
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'যন্ত্রনা' - বানানটি অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধ বানান: 'যন্ত্রণা'।

• 'যন্ত্রনা' শব্দের অর্থ:
- পীড়া, যাতনা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
.
'উক্তি' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয় কোনটি?
  1. √উচ্‌ + তি
  2. √উক্‌ + তি
  3. √বচ্‌ + তি
  4. √উক্‌ + ই
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'উক্তি'-এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়: '√ বচ্‌ + তি'। 
 
• 'উক্তি' শব্দের অর্থ: 
- কথা; বচন; বাক্য। 
 
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে কী বলে?
  1. নির্দেশক
  2. বলক
  3. বিভক্তি
  4. বচন
ব্যাখ্যা
• লগ্নক:
পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।
- লগ্নক চার ধরনের:
 
বিভক্তি:
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। 
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।
 
নির্দেশক:
যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। ‘লোকটি’ বা ‘ভালোটুকু’ পদের ‘টি’ বা ‘টুকু’ হলো নির্দেশকের উদাহরণ।
 
বচন:
যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। ‘ছেলেরা’ বা ‘বইগুলো’ পদের ‘রা’ বা ‘গুলো’ হলো বচনের উদাহরণ।
 
বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
‘তখনই’ বা ‘এখনও’ পদের ‘ই’ বা ‘ও’ হলো বলকের উদাহরণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. চাকরি
  2. আসমান
  3. ইন্দ্রিয়
  4. ফাঁপর
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'ইন্দ্রিয়' - তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।

• 'ইন্দ্রিয়' শব্দের অর্থ: 
- দেহের ১৪টি অঙ্গপ্রতঙ্গ ও শক্তি যা দিয়ে বাহ্য বিষয়ের জ্ঞান ও অনুভূতি উপলব্দ হয়।

অন্যদিকে, 
'চাকরি'- ফারসি শব্দ।
'আসমান' - ফারসি শব্দ।
'ফাঁপর' - দেশি শব্দ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০.
'টেকসই' শব্দের 'সই' কোন প্রত্যয়?
  1. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• 'টেকসই' শব্দের 'সই' - বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
 
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
যেমন -
→ লাজ + উক = লাজুক,
→ বড় + আই = বড়াই,
→ ঘর + আমি = ঘরামি।
 
• বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার। যথা:
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।
 
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
• বাজ (দক্ষ অর্থে)- কলমবাজ, ধড়িবাজ, ধোঁকাবাজ। 
• বন্দি (বন্দ্-ফারসি): জবানবন্দি, সারিবন্দি, নজরবন্দি, কোমরবন্দ।
সই: (মতো অর্থে) - জুতসই, মানানসই, চলনসই, টেকসই। 
 
দ্রষ্টব্য: 'টিপসই' ও 'নামসই' শব্দ দুটোর 'সই' প্রত্যয় নয়। এটি 'সহি' (অর্থ-স্বাক্ষর) শব্দ থেকে উৎপন্ন।
-----------------
বিশেষ তথ্য:
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক।
- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১.
'আগ্নেয়' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয় কোনটি হবে?
  1. অগ্নী + য়
  2. অগ্নি + ইয়
  3. অগ্নি + এয়
  4. অগ্নি + অ
ব্যাখ্যা
• 'আগ্নেয়' (বিশেষণ):
- শব্দটি সংস্কৃত থেকে আগত।
- শব্দটির প্রকৃতি প্রত্যয় = অগ্নি + এয়। 
 
• 'আগ্নেয়' অর্থ:
- অগ্নি সম্বন্ধীয়, 
- অগ্নিগর্ভ, 
- অগ্নিনিঃসারক, 
- আগুনের তাপে গলিত হয়ে উৎপন্ন।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

১২.
'হরতন, রুইতন' শব্দ দুটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত?
  1. পর্তুগিজ
  2. ফরাসি
  3. ওলন্দাজ
  4. গুজরাটি
ব্যাখ্যা
• 'হরতন, রুইতন' শব্দ দুটি ওলন্দাজ ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে। 
 
অন্যদিকে,
• ওলন্দাজ ভাষার কয়েকটি শব্দ হলো:
- ইস্কাপন, টেক্‌কা, তুরুপ, রুইতন, হরতন ইত্যাদি।

• ফরাসি শব্দ:
- ডিপো, রেস্তোরাঁ, কুপন।   

• গুজরাটি ভাষার শব্দ: 
- খদ্দর, হরতাল।
 
• পর্তুগিজ ভাষার কিছু শব্দ হলো:
- আলপিন, বালতি, আনারস, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. জ্যোতিরিন্দ্র
  2. তিরস্কার
  3. সদ্যজাত
  4. পশ্বধম
ব্যাখ্যা
• 'সদ্যজাত'- বানানটি অশুদ্ধ। 
- এর শুদ্ধ বানান: 'সদ্যোজাত'।

• 'সদ্যোজাত' শব্দের অর্থ:
- এইমাত্র জন্মলাভ করেছে এমন,
- নবজাত।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ শুদ্ধ বানান: 
- অগ্ন্যাশয়,
- পিপীলিকা,
-শিরশ্ছেদ,
- সমভিব্যাহারে, 
- যশোধন,
সরণি,
- পল্বল।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা বানান অভিধান।
১৪.
নিচের কোন শব্দটিতে 'বৃত্তি' অর্থে ''ই'' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. উমেদারি
  2. মোক্তারি
  3. দোকানি
  4. জমিদারি
ব্যাখ্যা
বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে 'ই/ ঈ' প্রত্যয়টি ব্যবহৃত হয়েছে- ''মােক্তার-মােক্তারি'' শব্দে। 
------------------ 
বিভিন্ন অর্থে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়ের ব্যবহার:

• বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে :
ডাক্তার-ডাক্তারি, মােক্তার-মােক্তারি, পােদ্দার-পােদ্দারি, ব্যাপার- ব্যাপারি, চাষ-চাষি।

• ভাব অর্থে :
বাহাদুর +ই = বাহাদুরি, উমেদার- উমেদারি।
 
• মালিক অর্থে :
জমিদার-জমিদারি, দোকান-দোকানি।
 
• জাত, আগত বা সম্বন্ধ বােঝাতে :
ভাগলপুর-ভাগলপুরি, মাদ্রাজ-মাদ্রাজি, রেশম-রেশমি, সরকার-সরকারি (সম্বন্ধ বাচক)।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম-১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
১৫.
'ডাকহরকরা' কোন কোন শব্দের মিশ্রণে গঠিত?
  1. ফারসি + আরবি
  2. তৎসম + আরবি
  3. হিন্দি + ফারসি
  4. বাংলা + ফারসি
ব্যাখ্যা
• 'ডাকহরকরা' শব্দটি হিন্দি 'ডাক' এবং ফারসি 'হরকরা' শব্দের মিশ্রণে গঠিত শব্দ।

• 'ডাকহরকারা' শব্দের অর্থ:
- এক ডাকঘর থেকে অন্য ডাকঘরে চিঠিপত্র বহনকারী, রানার।
- ডাকঘরের যে কর্মচারী বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিঠিপত্র বিলি করে।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা শব্দ।
১৬.
'বন্ধুত্ব’ শব্দের মধ্যে কোন প্রত্যয় রয়েছে?
  1. ত্ব
ব্যাখ্যা
• 'বন্ধুত্ব’ শব্দের মধ্যে 'ত্ব' প্রত্যয় রয়েছে। 

তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:

• তা ও ত্ব-প্রত্যয় : বিশেষ্য গঠনে যুক্ত হয়।  
• বন্ধু + তা = বন্ধুতা, শত্রু + তা = শত্রুতা,  
• বন্ধু + ত্ব = বন্ধুত্ব; গুরু+ত্ব = গুরুত্ব;
• ঘন + ত্ব = ঘনত্ব, মহৎ + ত্ব = মহত্ত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭.
'প্রত্যয় ও উপসর্গ' দিয়ে গঠিত শব্দকে কী বলে?
  1. যৌগিক শব্দ
  2. মৌলিক শব্দ
  3. সাধিত শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
• 'প্রত্যয় ও উপসর্গ' দিয়ে গঠিত শব্দকে সাধিত শব্দ বলে।
------------- 
- উপসর্গ ও প্রত্যয় ছাড়া শব্দ গঠনের আরাে কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে।
- এর মধ্যে প্রধান প্রক্রিয়া হলাে সমাস, যার মাধ্যমে একাধিক শব্দ এক শব্দে পরিণত হয়। যেমন হাট’ ও ‘বাজার’ শব্দ দুটি সমাসবদ্ধ হয়ে হয় হাটবাজার।
- এছাড়া কোনাে শব্দের দ্বৈত ব্যবহারে নতুন শব্দ গঠিত হলে তাকে বলে শব্দদ্বিত্ব, যেমন ‘ঠক’ ও ‘ঠক’ মিলে গঠিত হয় ঠকঠক’, একইভাবে ‘অঙ্ক ও অনুরূপ ধ্বনি ‘টঙ্ক মিলে হয় অঙ্কটঙ্ক।
------------- 
• সাধিত শব্দ:
 একাধিক শব্দের সমাস হয়ে বা ধাতু ও শব্দের সঙ্গে প্রত্যয় যোগ হয়ে যে শব্দ তৈরি হয়, তাকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে। 
মৌলিক শব্দ ছাড়া অন্য সকল শব্দই সাধিত শব্দ।
যেমন- জমিদার শব্দটি বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত।
যেমন: জমিদার = জমিদার + ই, পেশা বা বৃত্তি অর্থে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে।
উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - প্রহার, উপহার।
 
• মৌলিক শব্দ:
যে শব্দকে আর কোনভাবে বিশ্লেষণ করা যায়না বা ভাঙ্গা যায়না, তাকে মৌলিক শব্দ বলে।
উপরের গাছ, চাঁদ, মাছ এই তিনটি শব্দকে আর আলাদা করে বিশ্লেষণ করা যায়না।

যৌগিক শব্দ:
যে শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তা-ই যৌগিক শব্দ।
যেমন- কর্তব্য, দৌহিত্র, গায়ক।

• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন -
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
'কার্পণ্যতা' বানানটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. সন্ধিজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. বাহুল্যজনিত
  4. বিভক্তিজনিত
ব্যাখ্যা
• 'সৌহার্দতা'-  'অপপ্রয়োগ'। 
-এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: 'সৌহার্দ'। 
এটি  প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ। 
 
• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।
 
• এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৯.
নিচের কোনটি পর্তুগিজ শব্দ?
  1. ভবন
  2. বারান্দা
  3. বেহালা
  4. তামাক
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'বেহালা'- পর্তুগিজ শব্দ। 

• 'বেহালা' শব্দের অর্থ:
- ছড় দিয়ে বাজানো হয় এমন চারটি তারের বাদ্যযন্ত্রবিশেষ। 
---------------
• পর্তুগিজ ভাষার কিছু শব্দ হলো:
- আলপিন, বালতি, আনারস, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ভবন- তৎসম শব্দ।
বারান্দা - ফারসি শব্দ।
তামাক - দেশি শব্দ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২০.
শব্দের ক্ষুদ্রাংশকে কী বলা হয়?
  1. বর্ণ
  2. অক্ষর
  3. রূপ
  4. শব্দাংশ
ব্যাখ্যা
• শব্দের ক্ষুদ্রাংশকে বলা হয় - রূপ।
- এক বা একাধিক ধ্বনির অর্থবোধক সম্মিলনে শব্দ তৈরি হয়।
- রূপ গঠন করে শব্দ।
- সেই জন্য শব্দতত্ত্বকে রূপ্ততত্ত্ব (Morphology) বলা হয়। 

শব্দমূল: 
- এক বা একাধিক শব্দ নিয়ে তৈরি হয় শব্দমূল।
- শব্দমূলের এক নাম প্রকৃতি। 
- নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সাথে উপসর্গ ও প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে। এদের বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যদিকে শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে অবস্থান করে তখন তাকে বলে হয় পদ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২১.
কোন শব্দটি শুদ্ধ বানানে লিখিত নয়?
  1. প্রোজ্জল
  2. শ্মশান
  3. জিগীষা
  4. অচিন্তনীয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
প্রোজ্জল - বানানটি অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধ বানান: 'প্রোজ্জ্বল'।

• 'প্রোজ্জ্বল' শব্দের অর্থ:
- বিশেষভাবে উজ্জ্বল। 

• কয়েকটি শুদ্ধ বানান:
- কৌতূহল,
- মন্ত্রিসভা,
- মুমূর্ষু,
- সমীচীন,
- স্বায়ত্তশাসন,
- প্রতিযোগিতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।