পরীক্ষা আর্কাইভ

খাদ্য অধিদপ্তর নিয়োগ প্রস্তুতি

পরীক্ষাখাদ্য অধিদপ্তর নিয়োগ প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১১ বিষয়: বাংলা টপিক: সাহিত্য অংশ: কাজী নজরুল ইসলাম, প্রমথ চৌধুরী, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মীর মশাররফ হোসেন, মুনীর চৌধুরী, ফররুখ আহমদ, শওকত আলী, শওকত ওসমান, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শামসুদ্দীন আবুল কালাম, শামসুর রাহমান, কায়কোবাদ, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, সুফিয়া কামাল, সেলিনা হোসেন, সেলিম আল দীন, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, সৈয়দ মুজতবা আলী, সৈয়দ শামসুল হক, স্বর্ণকুমারী দেবী, সুকান্ত ভট্টাচার্য, হাসান আজিজুল হক, হাসান হাফিজুর রহমান, হুমায়ুন আজাদ, হুমায়ূন আহমেদ, কামিনী রায়, কুসুমকুমারী দাশ। ব্যাকরণ অংশ: ১. শব্দপ্রকরণ [সমাস; উপসর্গ ও অনুসর্গ], ২. পদ-প্রকরণ [পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ], ৩. বাক্য প্রকরণ [বাক্য ও বাক্যের প্রকারভেদ; বাক্য ও উক্তির পরিবর্তন; কারক ও বিভক্তি; বাচ্য ও বাচ্যের পরিবর্তন, প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ; বানান ও বাক্যশুদ্ধি; যতিচিহ্ন ও এর ব্যবহার; পরিভাষা]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

খাদ্য অধিদপ্তর নিয়োগ প্রস্তুতি

খাদ্য অধিদপ্তর নিয়োগ প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
’সুশিক্ষিত লোক মানে স্বশিক্ষিত’-এই উক্তিটি কার?
  1. ড.মনিরুজ্জামান
  2. শেখ ফজলল করিম
  3. প্রমথ চৌধুরি
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী:
- তিনি ছিলেন বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- সবুজপত্র পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে চলিতরীতি প্রবর্তন করেন।
- এছাড়া বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধ রচনা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- ছোটোগল্প ও সনেট রচনাতেও হিসেবেও তার বিশিষ্ট অবদান রয়েছে।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত পত্রিকা সবুজপত্র।
- প্রমথ চৌধুরি উক্তি: ’সুশিক্ষিত লোক মানে স্বশিক্ষিত’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।
- আহুতি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি।
- বীরবলের হালখাতা।
- নানাকথা।
- নানা চর্চা।
- রায়তের কথা।
- প্রবন্ধ সংগ্রহ ( ১ম খণ্ড-১৯৫২, ২য় খণ্ড-১৯৫৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
কোনটি ’কর্মধারয় সমাস’-এর উদাহরণ?
  1. অকালমৃত্যু
  2. গোলাভরা
  3. শান্তশিষ্ট
  4. গাছপাকা
ব্যাখ্যা
• ’কর্মধারয় সমাস’-এর উদাহরণ- শান্তশিষ্ট।

• কিছু কর্মধারয় সমাসের সমস্যমান পদে 'যে' যোজক থাকে,
যেমন
- খাস যে জমি = খাসজমি,
- চিত যে সাঁতার = চিতসাঁতার
- ভাজা যে বেগুন = বেগুনভাজা,
- সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ
- কনক যে চাঁপা = কনকচাঁপা,
- টাক যে মাথা = টাকমাথা
- যে চালাক সে চতুর= চালাকচতুর,
- যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।

অন্যদিকে,
- গাছপাকা, গোলাভরা, অকালমৃত্যু এই তিনটি তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
.
’বেমালুম’ শব্দে ‘বে’ কোন উপসর্গ?
  1. বাংলা উপসর্গ
  2. ফারসি উপসর্গ
  3. তৎসম উপসর্গ
  4. আরবি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
- ’বেমালুম’ শব্দে ‘বে’ একটি ফারসি উপসর্গ।

♦ ফারসি উপসর্গ: কম-, কার-, দর-, না-, নিম-, ফি-, ব-, বে-, বর-, বদ-

উল্লেখ্য,
- উপসর্গগুলোর নিজস্ব কোনো অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অন্য শব্দের আগে যুক্ত হলে এদের অর্থদ্যোতকতা বা নতুন শব্দ সৃজনের ক্ষমতা থাকে।

• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে
যেমন:
- বাংলা,
- তৎসম (সংস্কৃত)
- এবং বিদেশি উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
.
নিচের কোনটিতে সাধারণ অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ভালো করে খেয়ে নাও।
  2. মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
  3. মাথার উপরে নীল আকাশ।
  4. বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
- দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
- বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

অন্যদিকে,
• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকেতৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
- ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক কোনটি?
  1. ভদ্রার্জুন
  2. উজানে মৃত্যু
  3. জমীদার দর্পণ
  4. বহিপীর
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- তারাচরণ শিকদার রচিত নাটক- ভদ্রার্জুন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক- ‘উজানে মৃত্যু’. ‘বহিপীর’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।-নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অধিকরণ কারক
  2. সম্বন্ধ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
.
তুমি কখন এলে?- এ বাক্যের ভাববাচ্যের রূপান্তর-
  1. এসেছো কখন?
  2. কখন আসা হলো?
  3. আসা হলো, কখন?
  4. তুমি এসছো?
ব্যাখ্যা
• কর্তাবাচ্য: তুমি কখন এলে?
• ভাববাচ্য: কখন আসা হলো?
------------------------------
• কর্তাবাচ্য থেকে ভাববাচ্য রূপান্তর:
- কর্তাবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে একটি ক্রিয়াবিশেষ্যকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় নিয়ে আসতে হয়।
যেমন
• কর্তাবাচ্য: ওখানে কেন গেলে?
• ভাববাচ্য: ওখানে কেন যাওয়া হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
.
’জননী’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. শওকত ওসমান
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
•  জননী:
- এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত শওকত ওসমানের প্রথম উপন্যাস।
- সন্তানের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য একজন মা গোপনে যে কোনো পথ অবলম্বন করতে পারেন, শওকত ওসমান সে কথাই এ উপন্যাসে ব্যক্ত করেছেন।
- মহেশডাঙ্গার দরিয়াবিবি সন্তান মোনাদি'কে আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য ইয়াকুবের শয্যাসঙ্গিনী হয়।
- ইয়াকুবের ঔরষে তার গর্ভে সন্তান এলেও সামাজিক সকল বিপত্তি এড়িয়ে অসীম মমতায় তাকে লালন-পালন করে।
- এ উপন্যাসে ফুটে উঠেছে মুসলিম সমাজের শরিয়তি দ্বন্দ্ব, বিত্তবানদের স্বার্থপরতা, গ্রামের দরিদ্র মানুষদের পারস্পরিক বিবাদ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।
- ওসমান জামাল এটি ইংরেজিতে 'জননী' (১৯৯৩) নামেই অনুবাদ করে অক্সফোর্ড থেকে প্রকাশ করেন।
- উপন্যাসের চরিত্র: দরিয়া বিবি, আজহার, মোনাদি, ইয়াকুব, চন্দ্ৰকোটাল।
------------------------------
শওকত ওসমান:
- বাংলাদেশের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক শওকত ওসমান।
- শওকত ওসমান ২ জানুয়ারি, ১৯১৭ সালে হুগলীর সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান ।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- জাহান্নাম হইতে বিদায়

তাঁর রচিত একটি নাটক:
- তস্কর লস্কর
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা
- কাঁকর মণি
- বাগদাদের কবি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
নিচের কোনটি প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধ?
  1. অধীরতা
  2. কার্পন্যতা
  3. অলসতা
  4. চঞ্চলতা
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধ = কার্পন্যতা।
শব্দটির শুদ্ধরূপ= কার্পন্য।

অন্যদিকে,
- অধীরতা, অলসতা, চঞ্চলতা, শুদ্ধ।
---------------------------------------
•প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত আরোকিছু শব্দ:

• অপপ্রয়োগ =  প্রয়োগ
- দারিদ্র্যতা =  দারিদ্র্য / দরিদ্রতা;
- সৌজন্যতা =  সৌজন্য;
- বৈচিত্র্যতা =  বিচিত্রতা / বৈচিত্র্য;
- দৈন্যতা = দীনতা / দৈন্য;

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'চাঁদের অমাবস্যা' একটি-
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• চাঁদের অমাবস্যা:
- এটি মনঃসমীক্ষণমূলক অস্তিত্ববাদী উপন্যাস।
- আরেফ আলী নামের এক স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের চেতনাগত জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি এ উপন্যাসের মূল বিষয়।
- এক জ্যোৎস্না রাতে আরেফ আলী ঘর থেকে বের হয়ে দেখে বাঁশঝাড়ের ভেতর এক নগ্ন যুবতির লাশ পড়ে আছে।
- পাশে দণ্ডায়মান কাদের মিয়া (আরেফ আলী যে বাড়িতে আশ্রিত সেই বাড়ির মালিক)।
- এখানে আরেফ আলী কী করবে?
- সে কি সবাইকে জানিয়ে দিবে সত্য ঘটনা? 
- যদি জানায় তাহলে তার আশ্রয়চ্যুতি ঘটবে, নিজের উপর ও চেপে যেতে পারে সে অপরাধ।
- আর না বললে সে মনে মনে অস্থির হয়ে যায়।
 - উপন্যাসের চরিত্র: আরেফ আলী, কাদের (দরবেশ), আলফাজ উদ্দিন (দাদা সাহেব)।
-------------------------------------
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা
- কাঁদো নদী কাঁদো।

•  তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১.
’রক্ত গোলাপ’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সেলিনা হোসেন
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ছিলেন প্রখ্যাত কবি, কথা-সাহিত্যিক, ও নাট্যকার।
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
-  সাহিত্যের সকল শাখায় অনলস পদচারণার কারণে তিনি সর্বমহলে ‘সব্যসাচী’ লেখক হিসেবে পরিচিত।
• তাঁর রচিত উপন্যাস‘রক্ত গোলাপ’ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে প্রথম জাদুবাস্তবতা নিয়ে আসে।
- যে জাদুবাস্তবতা বিশ্বখ্যাত লেখক মার্কোয়েস তাঁর উপন্যাসে অনেক পরে নিয়ে আসেন।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২.
কোন বানানটি প্রমিত?
  1. সদ্যেজাত
  2. শূণ্য
  3. মধ্যাহ্ণ
  4. নৈর্ঋত
ব্যাখ্যা
•  বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- সঠিক বানান = নৈর্ঋত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ: 
- দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকের মধ্যবর্তী কোণ।
- রাক্ষসবিশেষ।

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ =সদ্যেজাত;
• শুদ্ধ =সদ্যোজাত;

• অশুদ্ধ = শূণ্য;
• শুদ্ধ = শূন্য;

• অশুদ্ধ = মধ্যাহ্ণ;
• শুদ্ধ = মধ্যাহ্ন;

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩.
হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. একুশে ফেব্রুয়ারি
  2. প্ৰথমা
  3. বিমুখ প্রান্তর
  4. রাজা যায় রাজা আসে
ব্যাখ্যা
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান (জুন ১৪, ১৯৩২ – এপ্রিল ১, ১৯৮৩) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক ছিলেন।
- ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে তাঁর জন্ম।
- বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন।
- পরবর্তীতে সওগাত (১৯৫৩), ইত্তেহাদ (১৯৫৫-১৯৫৭), পাকিস্তান (১৯৬৫) এবং স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলা পত্রিকায় কাজ করেন।
- ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি দৈনিক বাংলার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি নির্বাচিত হন।
-  অমর একুশের প্রথম সাহিত্য সংকলন ' একুশে ফেব্রুয়ারি সম্পাদনা করেন তিনি।
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৬ খন্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়।
- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - বিমুখ প্রান্তর।

•  তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত রচিত কাব্য:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত রচিত গল্প: 
- আরো দুটি মৃত্যু।

অন্যদিকে,
’প্রেমেন্দ্র মিত্র’ রচিত কাব্যগ্রন্থ- ‘প্ৰথমা’।
’আবুল হাসান’ রচিত কাব্যগ্রন্থ- ‘‘রাজা যায় রাজা আসে'’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
'Permanence'- এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. মিথ্যা সাক্ষ্য
  2. স্থায়িত্ব
  3. প্রবেশ্য
  4. অনুমতিযোগ্য
ব্যাখ্যা
•'Permanence'- এর বাংলা পরিভাষা- স্থায়িত্ব।

অন্যদিকে,
• Perjury - এর বাংলা পরিভাষা- মিথ্যা সাক্ষ্য।
• Permeable - এর বাংলা পরিভাষা- প্রবেশ্য।
• Permissibility - এর বাংলা পরিভাষা- অনুমতিযোগ্য।

উৎস: বাংলা একডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
১৫.
কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি- “দখিন দুয়ার গেছে খুলি?- কোন কবিতার অংশ?
  1. মায়া কাজল
  2. উদাত্ত পৃথিবী
  3. অভিযাত্রিক
  4. তাহারেই পড়ে মনে
ব্যাখ্যা
তাহারেই পড়ে মনে 
সুফিয়া কামাল,

“হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়,
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?”
কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি-
“দখিন দুয়ার গেছে খুলি?
বাতাবী নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?
দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?” (সংক্ষিপ্ত)
---------------------------------------------
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- সুফিয়া কামাল মূলত কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁকে জননী সাহসিকা বলা হয়।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ’সৈনিক বধূ’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা,
- একাত্তরের ডায়েরী।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- একাল আমাদের কাল;
- তাঁর লিখিত ডায়রি: একাত্তরের ডায়রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬.
'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' - বাক্যে ’বেশ’ কী ধরনের বিশেষণ?
  1. অবস্থাবাচক
  2. পূরণবাচক
  3. গুণবাচক
  4. ভাববাচক
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষণ :
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন
- 'খুব ভালো খবর' ও 'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

উল্লেখ্য
• বিশেষণ:
- যে শব্দ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের গুণ, পরিমাণ, রং, সংখ্যা ইত্যাদি বোঝায় বা বর্ণনা করে, তাকে বিশেষণ বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৭.
হুমায়ুন আজাদ রচিত ’শব্দ থেকে কবিতা’ কী ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. ছড়া
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• ’শব্দ থেকে কবিতা: 
- এটি হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি প্রবন্ধ।
- সাহিত্যের নানা রূপের মধ্যে একটি হচ্ছে কবিতা।
- রচনাটিতে কবিতার শিল্পরূপ ও তার বৈশিষ্ট্য অপরূপ ভাষায় বর্ণিত হয়েছে।
- কাকে বলা যায় কবিতা? লেখকের মতে, যা পড়লে মনের ভিতর স্বপ্ন জেগে ওঠে, ছবি ভেসে ওঠে, তা-ই কবিতা।
- শব্দের সঙ্গে শব্দ মিলিয়ে লেখা হয় কবিতা।
-------------------------------------------------------------------
• হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্য অলৌকিক ইস্টিমার।
- তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার (প্রথম কাব্যগ্রন্থ),
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- যতোই গভীরে যায় মধু, যতোই ওপরে যাই নীল,
- আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে,
- পেরোনোর কিছু নেই ইত্যাদি‌।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল (প্রথম প্রকাশিত)
- সবকিছু ভেঙে পড়ে,
- মানুষ হিসেবে আমার অপরাধসমূহ,
- রাজনীতিবিদগণ,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ,
- একটি খুনের স্বপ্ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া সপ্তম শ্রেণির বাংলা পাঠ্য বই সপ্তবর্ণ।