পরীক্ষা আর্কাইভ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

পরীক্ষানৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৬ টপিক: i) আইন, আইনের উৎস, সাম্য, স্বাধীনতা, অধিকার ও রাষ্ট্র। ii) প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থাপিত প্রশ্নসমূহ। [লাইভ ক্লাস-৯ ও ১০]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, আইনের উৎস নয় কোনটি?
  1. ন্যায়বিচার
  2. প্ৰথা
  3. বিচারকের রায়
  4. সার্বভৌমের আদেশ
ব্যাখ্যা

আইনের উৎস:

• অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

অন্যদিকে,
• জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা:
১. সার্বভৌমের আদেশ।

• ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

উল্লেখ্য,
- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

.
'আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।' - এই উক্তিটি কার?
  1. জন অস্টিনের
  2. এরিস্টটলের 
  3. হল্যান্ডের
  4. হেনরি মেইনের
ব্যাখ্যা

আইন:
- আইন ফার্সি শব্দ।
- ফার্সি ভাষায় আইন শব্দের অর্থ সুনির্দিষ্ট নীতি বা নিয়ম।
- সমাজ জীবনে প্রচলিত বিধি-বিধানের নামই আইন।
- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।

• আইনের প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
১. গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলের , "আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।"
২. আইনবিদ জন অস্টিনের মতে, "সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন।"
৩. অধ্যাপক হল্যান্ড বলেন, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়।"
৪. স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।"
৫. আইনের সার্বজনীন ও উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন। তাঁর মতে, "আইন হল সমাজের সে সব সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যাদের পিছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"

উৎস: পৌরনীতি, (এসএসসি প্রোগ্রাম) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
আধুনিক রাষ্ট্রে আইনের প্রধানতম উৎস কোনটি?
  1. ন্যায়বিচার
  2. আইনসভা
  3. প্রথা
  4. ধর্ম
ব্যাখ্যা

আইনসভা: 
- আধুনিক রাষ্ট্রে আইনসভাই হচ্ছে আইনের প্রধানতম উৎস।
- আইনসভা সমাজের প্রয়োজনের সাথে সংগতি রেখে নতুন নতুন আইন তৈরি করে, আইনের রদবদল ও সংশোধন করে থাকে।
- আইনসভাই হচ্ছে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক পরিষদ।
- তাই আইনসভা জনমতের সাথে সঙ্গতি রেখে আইন প্রণয়ন করে থাকে।
- আইনসভাই হচ্ছে আইন প্রণয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

অন্যদিকে,
• ন্যায়বিচার: যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রচলিত আইন যখন অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে কিংবা নতুন সমস্যার সমাধান প্রচলিত আইনের মধ্যে না পাওয়া যায়, তখন বিচারকগণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য নিজেদের বিচারবুদ্ধি ও ন্যায়বোধ প্রয়োগ করেন। এভাবে নতুন আইন সৃষ্টি হয় এবং আইন যুগোপযোগী হয়।

• প্রথা বা রীতিনীতি: প্রথা হল আইনের এক সুপ্রাচীন উৎস। প্রত্যেক সমাজেই সুপ্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন প্রকার প্রথা ও রীতিনীতি প্রচলিত। এ সমস্ত প্রথা ও রীতিনীতি সমাজ জীবনের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। সমাজ জীবনের প্রয়োজনীয়তা ও কল্যাণের দিকে দৃষ্টি দিয়ে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ যখন এগুলোর প্রতি সমর্থন জানায় তখন এ সব প্রথা ও রীতিনীতি আইনে পরিণত হয়। অতএব এভাবেই সমাজ জীবনে প্রচলিত প্রথা ও রীতিনীতি আইনের উৎস রূপে গণ্য হয়।

• ধর্ম: আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হল ধর্ম। বিশ্বে প্রচলিত প্রত্যেক ধর্মের অনুশাসন মর্যাদা সহকারে পালিত হয়ে থাকে। ধর্মীয় এ সমস্ত অনুশাসনের যেগুলো সমাজ জীবনকে বিকশিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করে থাকে সেগুলো পরবর্তিতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের স্বীকৃতি পেয়ে আইনের মর্যাদা লাভ করে। মুসলিম, খ্রিষ্টীয় ও হিন্দু আইন এর উপযুক্ত উদাহরণ।

উৎস: পৌরনীতি, (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
“জনগণ আইন মেনে চলে শাস্তির ভয়ে।” - এ প্রসঙ্গে ভিন্ন মত পোষণ করেন কে?
  1. জন অস্টিন
  2. টমাস হবস
  3. রুশো
  4. জেরমী বেন্থাম
ব্যাখ্যা

আইন মান্য করার কারণ
- রাষ্ট্রের আইন জনগণ কেন মান্য করে এ নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী টমাস হবস, জেরমী বেন্থাম ও জিন অস্টিন মনে করেন, “জনগণ আইন মেনে চলে শাস্তির ভয়ে।”
- অস্টিনের মতে, “আইন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের আদেশ বিধায় জনগণ আইন মান্য করে চলে। কেননা জনগণের মধ্যে এ চেতনা জাগে যে, রাষ্ট্র শুধুমাত্র আইন ভঙ্গকারীকে অভিযুক্ত করে না বরং শাস্তি প্রদান করে থাকে।

অপরদিকে
- এরিস্টটল, লক, রুশো, গ্রিণ এ প্রসঙ্গে ভিন্ন মত পোষণ করেন।
- তাঁদের মতে, আইনের উপযোগিতার উপলব্ধি হল আইন মান্য করার অপরিহার্য কারণ।
- তাঁদের ধারণা আইন অধিকার রক্ষা করে।
- দুর্বলকে সবলের হাত থেকে রক্ষার জন্য আইনের প্রয়োজন।
- আইনের প্রয়োজনীয়তার উপলব্ধি স্বাভাবিকভাবেই জনসাধারণকে আইন মান্য করতে সহায়তা করে।

উল্লেখ্য,
- আইন মান্য করা সম্পর্কিত উপরোক্ত দু’টি মতাবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন জন হেনরি মেইন।
- তিনি বলেন, শাস্তির ভয়ে এবং আইনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে উভয়বিধ কারণে জনসাধারণ আইন মান্য করে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি, (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
‘সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা অর্থহীন’- কে বলেছেন?
  1. আব্রাহাম লিংকন
  2. রুশো
  3. জন লক
  4. ম্যাকাইভার 
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা ও সাম্যের সম্পর্ক:
- স্বাধীনতা ও সাম্যের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
- কেউ কেউ স্বাধীনতা ও সাম্যের মধ্যে বিরোধ খুঁজে পান।
- লর্ড এ্যাক্টন, টকভিল স্বাধীনতা ও সাম্যকে পরস্পর বিরোধী আদর্শ বলে মনে করেন। 
- লর্ড এ্যাকটন বলেন, “সাম্যের নেশা স্বাধীনতার আশাকে ব্যর্থ করেছে।”
- কিন্তু তাঁদের ধারণা সঠিক নয়, কেননা স্বাধীনতা ও সাম্যের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
- স্বাধীনতা বলতে যা খুশি তা করা বুঝায় না।
- স্বাধীনতা বলতে নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতা বোঝায়।

• সাম্য ও স্বাধীনতার সম্পর্ক নিম্নরূপ-
১। সাম্যের মাঝে স্বাধীনতার মূল্য নিহিত। সাম্য নিয়ন্ত্রণের নিশ্চয়তা বিধান করে। সাম্য সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্র সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার সমবণ্টনের ব্যবস্থা করে।
২। সাম্য ও স্বাধীনতার মধ্যে কোন বিরোধ নেই। পরস্পর পরস্পরের সহায়ক ও পরিপূরক। স্বাধীনতা উপভোগের জন্য সাম্যের প্রয়োজন। অধ্যাপক টনি বলেন, “সাম্য স্বাধীনতার জন্য অপরিহার্য। সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতাকে কল্পনা করা যায় না।”
৩। দার্শনিক রুশো বলেন, “সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা অর্থহীন।” সাম্য না থাকলে স্বাধীনতা থাকতে পারেনা। অধ্যাপক লাস্কি বলেন, “রাষ্ট্র যত বেশি সমতা বিধান করবে, স্বাধীনতার উপভোগ তত বেশি নিশ্চিত হবে।” সাম্য সকলকে পর্যাপ্ত সুবিধা দান করে সম্পদের সমবণ্টনকে নিশ্চিত করে। 

উৎস: পৌরনীতি, (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
'যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি লাভের সমতা' কোন ধরনের সাম্য?
  1. ব্যক্তিগত
  2. সামাজিক
  3. অর্থনৈতিক
  4. রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক সাম্য
- নিজ নিজ পেশায় নিয়োজিত থাকা, পেশা পরিবর্তনের সুযোগ, যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি লাভের সমতা ইত্যাদি অর্থনৈতিক
সাম্য।
- সুস্থ-সুন্দর জীবন গড়ে তোলার জন্য অর্থনৈতিক সাম্য অত্যন্ত জরুরি।
- অর্থনৈতিক সাম্য না থাকলে মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
- ফলে মনের সুকুমার বৃত্তির বিকাশও বাধাগ্রস্থ হয়। অর্থনৈতিক সাম্য থাকলে রাষ্ট্র ও দ্রুত সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারে। 

অন্যদিকে,
• রাজনৈতিক সাম্য: প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই সব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য। সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে। রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে। প্রাপ্ত বয়স্ক সকল নাগরিকের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছ।

• ব্যক্তিগত সাম্য: মত প্রকাশের সাম্য, গোপনীয়তা রক্ষার সাম্য, বন্ধু নির্বাচনের মতো বিষয়গুলো ব্যক্তিগত সাম্য, অন্যের ক্ষতি না করে
নিজের মতো কাজ করা এক ধরনের ব্যক্তিগত সাম্য। আধুনিক সমাজে ব্যক্তিগত সাম্যকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়।

• সামাজিক সাম্য:  মানুষ সামাজিক জীব। সমাজের একজন সদস্য হিসেবে সকল সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। যেমন
বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান এ রীতি অনুযায়ী অংশগ্রহণের সুযোগ, গ্রাম্য সালিসে ন্যায় বিচার পাওয়ার সুযোগ ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক স্বাধীনতা নয়?
  1. নিজের পছন্দ অনুসারে ভোট দেওয়া
  2. প্রতিবাদ ও সরকারের সমালোচনা
  3. জামিন পাওয়ার অধিকার
  4. মতামত প্রকাশ
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক স্বাধীনতা:
- রাজনৈতিক বিষয়াদিতে অংশ গ্রহণের অধিকারকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।
- নিজের পছন্দ অনুসারে ভোট দেওয়ার, নির্বাচিত হওয়ার, মতামত প্রকাশ, প্রতিবাদ ও সরকারের সমালোচনা করার স্বাধীনতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।
- অধ্যাপক লাস্কির মতে, “রাষ্টীয় ব্যাপারে সক্রিয় হওয়ার ক্ষমতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।”
- অধ্যাপক লাস্কি রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য যথোপযুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা ও খোলাখুলি সংবাদ সরবরাহ করার কথা বলেছেন।

অন্যদিকে,
- গৃহের গোপনীয়তা রক্ষা, চিঠির গোপনীয়তা রক্ষা, জামিন পাওয়ার অধিকার ব্যক্তিগত স্বাধীনতার উদাহরণ

উৎস: পৌরনীতি (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

.
সাম্য ও গণতন্ত্রের সম্পর্ক কেমন?
  1. বিরূপ
  2. সম্পূরক
  3. নির্ভরশীল
  4. চমৎকার
ব্যাখ্যা

সাম্য ও গণতন্ত্র:
- সাম্য ও গণতন্ত্র পরস্পর নির্ভরশীল।
- সাম্য না থাকলে গণতন্ত্র অর্থহীন।
- কেননা গণতন্ত্র প্রত্যেকেরমতের মূল্যায়ন করে।
- সাম্যের অনুপস্থিতিতে এটা সম্ভব নয়।
- যেখানে শ্রেণিভেদ প্রথা ও জাতিভেদ প্রথা রয়েছে, বংশ ও রক্তের আলাদা মর্যাদা রয়েছে সেখানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অচল।
- অর্থাৎ সামাজিক সাম্য গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্ত।
- সমাজবিজ্ঞানী উফ বলেন, “গণতান্ত্রিক সমাজ বলতে বুঝায় মুক্ত, সমান, সক্রিয় ও সচেতন নাগরিকের এক সমাজ।”
- এরূপ সমাজ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা সৃষ্টি ও সংরক্ষণ করতে পারে।
- তদ্রুপ যে সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রকট সেখানে জীবিকার্জন নিয়ে মানুষ এত ব্যস্ত হবে যে, রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা করার সময় ও সুযোগ পাবে না।
- আবার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের সুযোগ থাকে বলে জনগণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সুযোগ লাভ
করে। তাই দেখা যায় গণতন্ত্র ও সাম্য পরস্পর নির্ভরশীল। 

উৎস: পৌরনীতি (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

.
রাষ্ট্র গঠনের কোন উপাদানকে রাষ্ট্রের প্রাণ বলা হয়?
  1. জনসমষ্টি
  2. ভূখন্ড
  3. সরকার
  4. সার্বভৌমত্ব
ব্যাখ্যা

- সার্বভৌমত্বকে রাষ্ট্রের প্রাণ বলা হয়।

সার্বভৌমত্ব:

- রাষ্ট্র গঠনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল সার্বভৌমত্ব।
- এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা।
- সার্বভৌমত্ব ব্যতীত কোন দেশ রাষ্ট্র বলে পরিগণিত হতে পারে না।
- যেমন ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পূর্বে বাংলাদেশের অন্যান্য উপাদান থাকা সত্ত্বেও সার্বভৌম ক্ষমতা না থাকায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র বলে পরিগণিত হতে পারে নি।
- সার্বভৌমত্বের দু’টো দিক রয়েছে। যথা-
- (ক) অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ব, যার দ্বারা রাষ্ট্র তার সীমানার মধ্যে যেকোন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর অবাধ ও সীমাহীন ক্ষমতার অধিকারী। এ ক্ষমতার মাধ্যমে রাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখে।
- (খ) বাহ্যিক সার্বভৌমত্ব - এ ক্ষমতা বলে রাষ্ট্র বহি:শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করে।

 উল্লেখ্য,
- যে সামাজিক সংগঠনের জনসমষ্টি, ভূখন্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব রয়েছে তাকে রাষ্ট্র বলে।
- রাষ্ট্রের উপাদান ৪টি। যথা-
(১) জনসমষ্টি,
(২) ভূখন্ড,
(৩) সরকার ও
(৪) সার্বভৌমত্ব।
- এ চারটি উপাদানের মধ্যে সার্বভৌমত্ব অন্যতম।
- সার্বভৌমত্বকে রাষ্ট্রের প্রাণ বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

১০.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রধান প্রবক্তা কে ?
  1. ডাইসি 
  2. এরিস্টটল
  3. হবস
  4. মন্টেস্কু
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা: 
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্থায়ী আসন দেন মন্টেস্কু।
- ১৭৪৮ সনে তিনি তার 'The spirit of laws' গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- এজন্য মন্টেস্কুকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
- মন্টেস্কু মনে করেন যে, প্রত্যেক সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা রয়েছে− আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা।
- তিনি বলেন যে, এই তিনটি ক্ষমতা অথবা এর যেকোনো দুটি এক হাতে বা এক ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে একত্রিত হলে ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হবে। 

অন্যদিকে,
- মহামতি এরিস্টটল তিন ধরনের ক্ষমতা বণ্টনের কথা বলেছেন।
- তিনি সরকারকে (ক) আলোচনামূলক, (খ) শাসন সম্পর্কীয় ও (গ) বিচার বিষয়ক এই তিন ভাগে ভাগ করেন।
- এই তিনটি কাজের একত্রীকরণ হলে প্রশাসনের দক্ষতা হ্রাস পাবে বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন।
- মার্সিলিও অব পাদুয়া ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির জোরালো সমর্থক ছিলেন।
- তিনি রোমান সম্রাটদের যুগে এবং সামন্তবাদী মধ্যযুগে লুপ্ত হওয়া ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণকে পুনর্জীবিত করেন।
- তিনি সরকারের আইন প্রণয়ন ও শাসন কার্যের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রচনা করেন।
- ষোড়শ শতাব্দীতে জীন বদিন সম্রাট কর্তৃক বিচার ক্ষমতা প্রয়োগের বিপদ সম্পর্কে ইঙ্গিত দান করেন এবং বিচার বিভাগকে স্বাধীন রাখার পক্ষে রায় দান করেন।

উৎস: পৌরনীতি (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

১১.
জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন (UNCAC) স্বাক্ষরিত হয় কোথায়?
  1. মেরিডা, মেক্সিকো
  2. জেনেভা, সুইজারল্যান্ড
  3. ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া
  4. নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন:
- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশনের নাম- United Nations Convention Against Corruption (UNCAC)।
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption।
- এটি জাতিসংঘের একমাত্র বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী চুক্তি।
- লক্ষ্য: দুর্নীতি প্রতিরোধ, অপরাধীকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সম্পদ পুনরুদ্ধার ও কারিগরি সহায়তা।
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর ২০০৩।
- স্বাক্ষরকাল: ৯-১১ ডিসেম্বর ২০০৩।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, মেক্সিকো।
- কার্যকর: ১৪ ডিসেম্বর ২০০৫।
- বর্তমান রাষ্ট্রপক্ষ: ১৯৫টি দেশ।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।

উৎস: UNCAC ওয়েবসাইট।

১২.
বাংলাদেশে উন্নয়ন ও সুশাসনের বড় অন্তরায় কোনটি?
  1. স্বজনপ্রীতি
  2. অস্বচ্ছতা
  3. স্বেচ্ছাচারিতা
  4. দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।
- বাংলাদেশে উন্নয়ন ও সুশাসনের বড় অন্তরায় রয়েছে দুর্নীতি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৩.
লর্ড ব্রাইসের মতে, আইন মান্য করার কারণ নয় কোনটি?
  1. শাস্তির ভয়
  2. সহানুভূতি
  3. নির্লিপ্ততা
  4. আনুগত্য 
ব্যাখ্যা

- লর্ড ব্রাইস মানুষের আইন মানার পেছনে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করেছেন: নির্লিপ্ততা, শ্রদ্ধা, সহানুভূতি, শাস্তির ভয় এবং যৌক্তিকতার উপলব্ধি। এর মধ্যে 'অনুগত্য ' অন্তর্ভুক্ত নয়।

আইন মান্য করার কারণ:

- আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা।
- প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।
- আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা।

লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন:
১. যৌক্তিকতার উপলব্ধি
২. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
৩. নির্লিপ্ততা
৪. সহানুভূতি
৫. শাস্তির ভয়

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ডকে কি বলে?
  1. সুশাসন 
  2. মূল্যবোধ 
  3. গণতান্ত্রিকতা
  4. নৈতিকতা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে, তাকেই আমরা সাধারণত মূল্যবোধ বলে থাকি।
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ড যে সকল নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।

মূল্যবোধের ধারণা ও সংজ্ঞা:
- বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে মূল্যবোধের বিশেষ করে সামাজিক মূল্যবোধের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- স্টুয়ার্ট সি. ডড (Stuart C. Dodd) বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।"
- এম. আর. উইলিয়াম (M.R. William)-এর মতে, “মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। এর আদর্শে মানুষের আচার-ব্যবহার ও রীতি-নীতি নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এই মানদণ্ডে সমাজে মানুষের কাজের ভালো-মন্দ বিচার করা হয়।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৫.
সুশাসনের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. অংশগ্রহণ
  2. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  3. আইনের শাসন
  4. নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা
ব্যাখ্যা

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা:
- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা হচ্ছে সুশাসনের প্রধান উপাদান।
- এটি সরকারের স্বচ্ছতা ও আইনের শাসনের উপর নির্ভর করে।
- জবাবদিহিতার মাধ্যমেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
- শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেই নয় বরং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের জবাবদিহিতাও আবশ্যক।
- দুর্নীতি কমাতে ও রাজনৈতিক উন্নয়নে জবাবদিহিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- অন্যদিকে, আইন ও নীতি মান্য করে যখন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন করা হয় তখন তাকে স্বচ্ছতা বলে।
- সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা প্রণয়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে সহজেই সঠিক তথ্য পাওয়া যায়।
- স্বচছতা প্রতিষ্ঠা পেলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে যায়।

অন্যদিকে,
• অংশগ্রহণ: পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ সুশাসনের অন্যতম একটি উপাদান। সুশাসনের মূল ভিত্তি
নারী এবং পুরুষ উভয়রেই অংশগ্রহণ। বিশ্বব্যাংক মনে করে, সকলের অংশগ্রণের মাধ্যমেই কার্যকরী উন্নয়ন সম্ভব। অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে অধিক ক্ষমতাশীল করা। রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে ভোটদান।

• আইনের শাসন: সুশাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে আইনের শাসন। এটি একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ। মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আইনের শাসন। প্রশাসনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আইনের
শাসন থাকা দরকার। আইনের মাধ্যমেই স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা ও আধিপত্য রোধ করা যায়। আইন হতে হবে অবশ্যই নিরপেক্ষ। রাষ্ট্রের সংবিধান হচ্ছে একটি রাষ্ট্রের আইনের প্রধানতম উৎস।

• নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা: পক্ষপাতহীন অবস্থা বা নিরপেক্ষতাই পারে সুশাসন নিশ্চিত করতে। সুশাসন ততক্ষণ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠা পাবে না যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে ভূমিকা পালন করে। নিরপেক্ষতা আসতে হলে মেধার ভিত্তিতে সরকারি চাকুরি দিহে হবে। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
আইনের মৌলিক উৎস কোনটি?
  1. প্রথা
  2. সংবিধান
  3. আইন পরিষদ
  4. ধর্ম
ব্যাখ্যা

আইনের উৎস:
- আইনের প্রাচীনতম উৎস- প্রথা।
- গ্রেট ব্রিটেনে প্রথাভিত্তিক আইন রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ উৎস.. ধর্ম।
- পারিবারিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত আইন- ধর্ম থেকে নেয়া হয়।
- আধুনিককালের আইনের উৎস- আইন পরিষদ।
- আইনের মৌলিক উৎস সংবিধান।
- স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক.. আইন।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
মূল্যবোধের চালিকাশক্তি কোনটি?
  1. সুশাসন
  2. সংস্কৃতি 
  3. উন্নয়ন
  4. গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-আচরণ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধের দ্বারা।
- আমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংস্কৃতি মানুষকে তার কাঙিক্ষত আচরণটি শেখায়।
- সুতরাং সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৮.
প্লেটোর মতে রাষ্ট্র ও ব্যক্তির সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদগুন কোনটি?
  1. সাহস
  2. প্রজ্ঞা
  3. ন্যায়
  4. মিতাচার
ব্যাখ্যা

সদগুন: 
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুন কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

উল্লেখ্য, 
- অ্যারিস্টটল সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান কতটি?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা

সুশাসনের উপাদান:
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৮টি।

- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- ইউএনডিপি এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৯টি।
- বিশ্বব্যাংকের এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- আইডিএ (International Development Agency) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

২০.
জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার আইন কোনটি?
  1. বেসরকারী আইন
  2. সরকারী আইন
  3. দেওয়ানী আইন
  4. ফৌজদারী আইন
ব্যাখ্যা

আইনের প্রকারভেদ:
- ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক, ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্কের ভিত্তিতে আইনকে তিনভাগে ভাগ করা হয়। যথা− (১) বেসরকারী আইন, (২) সরকারী আইন এবং (৩) আন্তর্জাতিক আইন।
• (১) বেসরকারী আইন− ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক রক্ষার জন্য যে আইন মেনে চলা হয় তাকে বেসরকারী আইন বলে। বেসরকারী আইনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে।

• (২) সরকারী আইন− ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক রক্ষার জন্য যে আইন প্রয়োগ করা হয় তাকে সরকারী আইন বলে। এই আইন আবার নিুলিখিতভাবে বিভক্ত হয় :
- (ক) শাসনতান্ত্রিক আইন− এগুলো মৌলিক আইন যার দ্বারা রাষ্ট্রের ধরন, সরকারের ধরন, সরকারের বিভাগগুলোর মধ্যে সম্পর্ক নিরূপণ ও জনগণের সাথে সম্পর্ক নিরূপণ করা হয়।
- (খ) প্রশাসনিক আইন− প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ক্ষমতা, দায়িত্ব এবং জনগণের সঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সম্পর্ক নিরূপণের জন্য যে আইন প্রণীত হয় তাকে প্রশাসনিক আইন বলে।
- (গ) ফৌজদারী আইন− চুরি, ডাকাতি ও মারামারি সংক্রান্ত বিষয়গুলো যে আইনের দ্বারা মীমাংসা করা হয় তাকে ফৌজদারী আইন বলে।
- (ঘ) দেওয়ানী আইন− টাকা-পয়সা ও জমি-জমা সংক্রান্ত বিবাদের মীমাংসা যে আইনের দ্বারা করা হয় তাকে দেওয়ানী আইন বলে।

• (৩) আন্তর্জাতিক আইন: আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যে সমস্ত নিয়মগুলো সভ্য রাষ্ট্রসমূহ তাদের পারস্পরিক চলার ক্ষেত্রে মেনে চলে তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে।

উৎস: পৌরনীতি (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।