পরীক্ষা আর্কাইভ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষাভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
"পরীক্ষা – ৭ টপিক: রিভিশন (পরীক্ষা – ৫ ও ৬) [Class Lecture 7 to 11]"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড কোন যুগের সৃষ্টি?
  1. টারশিয়ারি যুগ
  2. সাম্প্রতিককাল
  3. প্লাইস্টোসিন কাল
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground)  খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত। 
- এটি প্লাইস্টোসিন কালে সৃষ্টি হয়েছে।
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত। 
- গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
-  সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল এবং পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের অধিকাংশ পলল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
.
ভৌগোলিক ভাবে বাংলাদেশের কোন জেলার মধ্যে দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে?
  1. মাগুড়া
  2. নাটোর
  3. সিরাজগঞ্জ
  4. ফেনী
ব্যাখ্যা
কর্কটক্রান্তি রেখা:
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।
- এটি বাংলাদেশের উপর দিয়ে (কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ) অতিক্রম করেছে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- এদেশ প্রায় ২০°৩৪' উত্তর থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১' পূর্ব থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- ফলে এদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
ফেরেলের সূত্রানুযায়ী দক্ষিণ গোলার্ধে বায়ু কোন দিকে প্রবাহিত হয়?
  1. ডাক দিকে
  2. বাম দিকে
  3. উপরের দিকে
  4. নিচের দিকে
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহ:
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়।
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়।
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী, পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রভাবে উৎপন্ন কোরিওলিস বলের প্রভাবে উচ্চতা অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ু সোজা পথে না প্রবাহিত হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে বেঁকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
 - বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। যথা-নিয়ত বায়ু, সাময়িক বায়ু, স্থানীয় বায়ু ও অনিয়মিত বায়ু।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত
  2. মাটির রং লাল ও ধূসর
  3. দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশে অবস্থিত
  4. কুমিল্লার লালমাই পাহাড় এর উদাহরণ
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:

- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো:
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।  

সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি এলাকা এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তর্ভুক্ত।
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদ-নদী ও এদের উপনদী, শাখানদী বাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত।
- বাংলাদেশের বৃহত্তম এ এলাকার নদীগুলো প্রায়ই গতি পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন পললভূমি গঠিত হতে দেখা যায়।
- এ সমভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কালনী ও ব্রহ্মপুত্রের মিলিত প্রবাহ কী নামে পরিচিত?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. যমুনা
  4. কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা
মেঘনা নদী: 
- আসামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপত্তি।
- উৎপত্তিস্থলে মেঘনার নাম বরাক।
- সুরমা ও কুশিয়ারা নামে সিলেট জেলার আমলশীদ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- সুরমা ও কুশিয়ারা পুনরায় মিলিত হয়েছে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে।
- সুরমা ও কুশিয়ারার মিলিত স্রোতের নাম কালনী।
- ভৈবরবাজারে কালনী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র মিলিত হয়ে মেঘনা নাম ধারন করে।
- মেঘনার উপনদী: মনু, বাউলাই, তিতাস, গোমতী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের গড় তাপমাত্রা কত?
  1. ১৮° - ২৬°
  2. ২০° - ২৮°
  3. ২৩° - ৩০°
  4. ১৪° - ২৪°
ব্যাখ্যা
ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের বিভিন্নতার কারণে জলবায়ুর ধরনেরও পার্থক্য দেখা যায়। ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের ৩০°-৪৫° অক্ষাংশের মধ্যে যে সকল মহাদেশসমূহের অবস্থান তাদের পশ্চিমাংশ জুড়েই ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল বিস্তৃত।
- পশ্চিম এশিয়ার তুরস্ক, সিরিয়া, লেবানন, ইসরায়েল; দক্ষিণ ইউরোপের পুর্তগাল, স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস; ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ সাইপ্রাস, চিলি, করসিকা, মালটা; আফ্রিকার তিউনেশিয়া, লিবিয়া, মরক্কো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া এই অঞ্চলের উদাহরণ।

বৈশিষ্ট্য:
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল এবং শীতকাল বৃষ্টিবহুল। 
- এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে গড় উষ্ণতা থাকে ২০° - ২৮° সে. এবং শীতকালে উষ্ণতা ১০° সে. এর কম থাকে।
- এই জলবায়ু অঞ্চলে যে বৈশিষ্ট্যটি উল্লেখযোগ্য তা হলো- এখানে সমুদ্র বায়ুর প্রভাবে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৮ সে.মি থেকে ৭৫ সে.মি।
- সাধারণত অন্যান্য এলাকার তুলনায় সমুদ্র উপকূলে বৃষ্টিপাতের হার বেশি।
- বৃষ্টিপাত অধিক বলে এখানে শীতকালীন বৃক্ষ যেমন- জলপাই, কর্ক, তুঁত, নিম, পাইন গাছের উৎপত্তি লক্ষ্যণীয়। কম বৃষ্টি হয় এমন স্থানে
ঝোপঝাড় জন্মে।
- প্রকৃতপক্ষে ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক।

উৎস: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলের লাইফ লাইন বলা হয় কোন নদীকে?
  1. গড়াই
  2. তিস্তা
  3. কপোতাক্ষ
  4. করতোয়া
ব্যাখ্যা
পশ্চিমাঞ্চলের লাইফ লাইন: 
- গড়াই নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত যা পশ্চিমাঞ্চলের লাইফ লাইন হিসেবে পরিচিত।   
- এটি গঙ্গা তথা পদ্মার একটি প্রধান শাখানদী ।  
- গড়াই নদীটি কুষ্টিয়া জেলার হতাশহরিপুর ইউনিয়নে প্রবহমান পদ্মা নদী হতে উৎপত্তি লাভ করে মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে মধুমতি নদীতে পতিত হয়েছে। 
- কুষ্টিয়া জেলার উত্তরে হার্ডিঞ্জ সেতুর ১৯ কিলোমিটার ভাটিতে তালবাড়িয়া নামক স্থানে গড়াই নদী পদ্মা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। 
- এই নদীটি কুষ্টিয়া জেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গণেশপুর নামক স্থানে ঝিনাইদহ জেলায় প্রবেশ করেছে।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
ভূপৃষ্ঠে চাপ বলয় কয়টি?
  1. ৬টি
  2. ৪টি
  3. ৩টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
বায়ুচাপ বলয়:
- ভূ-পৃষ্ঠে নানা প্রকার ও আকৃতির বায়ুচাপ বলয় দেখতে পাওয়া যায়।
- ভূপৃষ্ঠে প্রধানত ৭টি চাপ বলয় রয়েছে।
- এদের ৩টি নিম্নচাপ বলয় ও ৪টি উচ্চচাপ বলয়।
এগুলো হলো:
১.নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়,
২.উত্তর মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়,
৩.দক্ষিণ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়,
৪. কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়,
৫.মকরীয় উচ্চচাপ বলয়,
৬.উত্তর মেরু উচ্চচাপ বলয় এবং
৭.দক্ষিণ মেরু উচ্চচাপ বলয়।

উৎস: একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর ভূগোল ১ম পত্র বই (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।