‘পতাকাটি উড়ছে।’ - বাক্যটিতে কোন ধরনের বাচ্য বিদ্যমান?
ক
কর্তৃবাচ্য
খ
কর্মবাচ্য
গ
ভাববাচ্য
ঘ
কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর: ঘ
কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
কর্মকর্তৃবাচ্য
ঘ
ব্যাখ্যা
• কর্মকর্তৃবাচ্য: যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে। যেমন: - কাজটা ভালো দেখায় না। - বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে। - জল পড়ে পাতা নড়ে।
অনুরূপ, - পতাকাটি উড়ছে। - বাক্যে উড়ার কাজ পতাকা নিজেই করছে। সুতরাং কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করেছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
২.
‘আজকাল সৎ মানুষের চেয়ে ধনী মানুষের মূল্য বেশি’- বাক্যে ‘আজকাল’ কোন পদের দৃষ্টান্ত?
ক
বিশেষণ
খ
আবেগ
গ
সর্বনাম
ঘ
ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর: ঘ
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ক্রিয়া বিশেষণ
ঘ
ব্যাখ্যা
• ‘আজকাল সৎ মানুষের চেয়ে ধনী মানুষের মূল্য বেশি’- বাক্যে ‘আজকাল’ কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ পদের দৃষ্টান্ত
⇒ ক্রিয়া বিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ: - ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়। - লোকটি ধীরে হাঁটে। এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।
ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে। যেমন: - টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে। - ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। যেমন: - আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি। - যথাসময়ে সে হাজির হয় ।
• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ। যেমন: - মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। যেমন: - তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।
• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। যেমন: - আমি কি যাব?
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩.
প্রান্তিক বিরামচিহ্নের সংখ্যা কয়টি?
ক
৪টি
খ
৫টি
গ
৩টি
ঘ
২টি
সঠিক উত্তর: ক
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
৪টি
ক
ব্যাখ্যা
⇒ বিরাম চিহ্ন: মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।
- বাক্যের শেষে বসে ৪টি যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন। - এগুলো হলো: ১. দাঁড়ি (।) ২. প্রশ্নচিহ্ন (?) ৩. বিস্ময়চিহ্ন (!) ৪. দুই দাঁড়ি (।।)। - এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন বলে।
উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২য় খণ্ড)।
৪.
“তারা তােমাদের ভােলেনি।” - কোন ধরনের বাক্যের দৃষ্টান্ত?
ক
বিবৃতিবাচক বাক্য
খ
আবেগবাচক বাক্য
গ
অনুজ্ঞাবাচক
ঘ
কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক
বিবৃতিবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
বিবৃতিবাচক বাক্য
ক
ব্যাখ্যা
• বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
⇒ বিবৃতিবাচক বাক্য: সাধারণভাবে কোনাে বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলােকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে। যেমন- • আমরা রােজ বেড়াতে যেতাম। • তারা তােমাদের ভােলেনি।
অন্যদিকে, ⇒ অনুজ্ঞাবাচক বাক্য: আদেশ, নিষেধ, অনুরােধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বােঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়। যেমন- • আমাকে একটি কলম দাও। • তার মঙ্গল হােক।
⇒ আবেগবাচক বাক্য: কোনাে কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে। যেমন- • দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি। • অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তাে ভয়েই মরি!
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৫.
বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে কোন বাক্যে?
ক
পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।
খ
সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী।
গ
অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
ঘ
অত্যন্ত দুঃখিত হলাম।
সঠিক উত্তর: গ
অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
গ
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে। শুদ্ধ বাক্য: অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
[বাক্যে ব্যবহৃত অন্যান্য শব্দটি বহুবচন প্রকাশক। ‘বিষয়’ শব্দের সঙ্গে পুনরায় ‘গুলোর’ বহুবচন লগ্নক যুক্ত হওয়ায় বহুবচনের দ্বিত্ব প্রয়োগ বা অপ্রয়োগ ঘটেছে।]
⇒ সূত্র: বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এর ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬.
নিচের কোন বাক্যটি অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ করে?
ক
তার মঙ্গল হোক।
খ
মন দিয়ে পড়।
গ
সে একটু হাসুক।
ঘ
ভালো করে পড়লে সফল হবে।
সঠিক উত্তর: খ
মন দিয়ে পড়।
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
মন দিয়ে পড়।
খ
ব্যাখ্যা
• মন দিয়ে পড়।- বাকে অনুজ্ঞা ভাবের প্রকাশ ঘটেছে।
• ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।
- ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার। ১. নির্দেশক ভাব, ২. অনুজ্ঞা ভাব, ৩. সাপেক্ষ ভাব, ৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব।
⇒ নির্দেশক ভাব: সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়। ক. সাধারণ নির্দেশক: - আমরা বই পড়ি। - তারা বাড়ি যাবে।
খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়: - আপনি কি আসবেন? - সে কি গিয়েছিল?
⇒ অনুজ্ঞা ভাব: আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব হয়। যেমন- ক. আদেশাত্মক- • বর্তমান কালে: চুপ কর। • ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।
খ. নিষেধাত্মক- • বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না। • ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।
গ. অনুরোধসূচক- • বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই। • ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।
ঘ. উপদেশাত্মক- • বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড়। • ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।
⇒ সাপেক্ষ ভাব: একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন- ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করত। খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে। গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।
⇒ আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব: আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন: - সে যাক। - যা হয় হোক। - সে একটু হাসুক। - বৃষ্টি আসে আসুক। - তার মঙ্গল হোক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭.
‘সকলে ঘটনাটা জেনেছে।’- বাক্য ব্যবহৃত ‘সকলে’ কোন পদের উদাহরণ?
⇒ সর্বনাম: বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: ১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন- আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।
৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন: নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি। দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।
৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।
৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় । যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।
৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।
৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।
- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৮.
‘বাবুয়ানা’ কোন ধরনের শব্দের দৃষ্টান্ত?
ক
যৌগিক শব্দ
খ
তদ্ভব শব্দ
গ
রূঢ়ি শব্দ
ঘ
মৌলিক শব্দ
সঠিক উত্তর: ক
যৌগিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
যৌগিক শব্দ
ক
ব্যাখ্যা
• যৌগিক শব্দ: যেসব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ অনুযায়ী হয়ে থাকে, তাকে বলা হয় যৌগিক শব্দ। অন্যভাবে বলা যায়, যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ এক, সেসব শব্দকে বলা হয় যৌগিক শব্দ। যেমন: - কৃ + তব্য = কর্তব্য, অর্থ- যা করা উচিত। - বাবু + আনা = বাবুয়ানা, অর্থ- যিনি বাবুর ভাব নিয়ে চলেন। - পিতা + হীন = পিতৃহীন, অর্থ- যার পিতা নেই।
অন্যদিকে, • তদ্ভব শব্দ: তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ। এই ‘তদ্ভব’ পরিভাষার ‘তৎ’ = তার, এবং ভাব (‘ভব’) = উৎপন্ন অর্থ বুঝায়। এখানেও ‘তার’ বলতে ‘সংস্কৃত’কে নির্দেশ করছে। অর্থাৎ যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তনের ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, তাদেরকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ। যেমন - সংস্কৃত - হস্ত, প্রাকৃত - হত্থ, তদ্ভব - হাত। সংস্কৃত - চর্মকার, প্রাকৃত - চম্মআর, তদ্ভব - চামার ইত্যাদি।
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ: যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ। উদাহরণ: সন্দেশ - (মূলঅর্থ) সংবাদ, পরিবর্তিত অর্থ- মিষ্টান্ন।
• মৌলিক শব্দ: যে শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে বলা হয় মৌলিক শব্দ। - উদাহরণ: আম, কলা, দেশ, গোলাপ, ভাই, বোন, হাত, পা, নাক, মাটি, ঘর, বউ ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯.
‘চোখে জ্বলজ্বল করছে স্বপ্ন।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘জ্বলজ্বল’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্ব?
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব: কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ঠন শব্দটি পর পর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।
⇒ কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে। যেমন: খপাখপ, হবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০.
সংখ্যা বা পরিমাণের স্বল্পতা নির্দেশ করছে নিচের কোন পদাশ্রিত নির্দেশকযুক্ত শব্দটি?
ক
বইখানি
খ
পায়েসটুকু
গ
চুড়িগাছি
ঘ
মানুষগুলো
সঠিক উত্তর: খ
পায়েসটুকু
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
পায়েসটুকু
খ
ব্যাখ্যা
• পদাশ্রিত নির্দেশক: যে সব অব্যয় বা প্রত্যয় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদকে নির্দেশ করার জন্য বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলা হয়।
পদার্শিত নির্দেশকের বচনভেদে প্রয়োগ: ⇒ একবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টি, টা, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি। উদাহরণ: কলমটি, বইটা, বৈঠকখানা, বইখানি, লাঠিগাছা, চুড়িগাছি ইত্যাদি।
⇒ বহুবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: গুলি, গুলা, গুলো ইত্যাদি। উদাহরণ: আমগুলি, ফলগুলো, বিড়ালগুলা প্রভৃতি।
⇒ কোনো সংখ্যা বা পরিমাপের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টে, টুক, টুকু, টুকুন, টো, গোটা ইত্যাদি। উদাহরণ: তিনটে চাল, ভাতটুকু, পায়েসটুকু, এতটুকুন মেয়ে দুটো ভাত, প্রভৃতি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
‘যে সহে, সে রহে।’- কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
ক
যৌগিক বাক্য
খ
সরল বাক্য
গ
জটিল বাক্য
ঘ
অমিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর: গ
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
জটিল বাক্য
গ
ব্যাখ্যা
⇒ জটিল বাক্য: যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন: - যে সহে, সে রহে। - যে রক্ষক, সে ভক্ষক। - যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই। - যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে। - যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
============= ⇒ সরল বাক্য: যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন: - পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে। - তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন ৷
➤ সরল বাক্যে অনেক সময়ে ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে ৷ যেমন: - আমরা তিন ভাইবোন।
➤ বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়। যেমন: - তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন।
⇒ যৌগিক বাক্য: দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন: - হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে। - সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷ - অন্ধকার হয়ে এসেছে – বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল। - তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি-এতে দোষের কিছু নেই।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।