পরীক্ষা আর্কাইভ

বিসিএস জব সল্যুশন [১০ম - ৫০তম বিসিএস]

পরীক্ষাবিসিএস জব সল্যুশন [১০ম - ৫০তম বিসিএস]তারিখ১ জানুয়ারি, ২০২৩সময়01 hr 30 mins১৯৯ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন২০০
সিলেবাস
৪৯তম স্পেশাল বিসিএস [ব্যবস্থাপনা (৭৩১)] মূল প্রশ্নপত্রের উপর Live পরীক্ষা।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বিসিএস জব সল্যুশন [১০ম - ৫০তম বিসিএস]

বিসিএস জব সল্যুশন [১০ম - ৫০তম বিসিএস] · ১ জানুয়ারি, ২০২৩ · ২০০ প্রশ্ন

.
ধারাবাহিক ক্ষুদ্র উন্নতি বলতে কোন ধারনাকে বোঝায়?
  1. কাইজেন
  2. ইকোনমি অফ স্কেল
  3. SOP
  4. গ্যান্ট চার্ট
সঠিক উত্তর:
কাইজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাইজেন
ব্যাখ্যা

• কাইজেন একটি জাপানি শব্দ, যার অর্থ "ধারাবাহিক ক্ষুদ্র উন্নতি"। এটি একটি ব্যবস্থাপনা দর্শন যা বলে—ছোট ছোট পরিবর্তন বা উন্নতি নিয়মিতভাবে করলে দীর্ঘমেয়াদে বড় ফল পাওয়া যায়। এটি মূলত উৎপাদন, গুণগত মান, এবং কর্মক্ষেত্রের দক্ষতা বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়।

কাইজেন-এর মূল বৈশিষ্ট্য
- ধারাবাহিকতা: প্রতিদিন ছোট ছোট পরিবর্তন আনতে উৎসাহিত করে।
- সবার অংশগ্রহণ: কর্মী থেকে ব্যবস্থাপক—সবাই উন্নয়নের অংশ।
- নতুন সমস্যা সমাধান: সমস্যা চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক সমাধান খোঁজা হয়।
- নষ্ট সময় ও সম্পদের হ্রাস: অপচয় কমিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ায়।

.
বোনাসকে শুধুমাত্র ত্রৈমাসিক আয়ের সাথে সংযুক্ত করার ফলে কি ঘটে?
  1. ব্যবস্থাপকদের জন্য পূর্বানুমানযোগ্য নগদ প্রবাহ বৃদ্ধি
  2. দীর্ঘমেয়াদী মূল্যের ক্ষতির বিনিময়ে স্বরমেয়াদী মুনাফা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টির তাগিদ
  3. মেধাভিত্তিক শৃংখলা সংস্কৃতির সৃষ্টি
  4. শেয়ারহোল্ডারদের মূল লক্ষ্যর সাথে সংযুক্তি
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘমেয়াদী মূল্যের ক্ষতির বিনিময়ে স্বরমেয়াদী মুনাফা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টির তাগিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘমেয়াদী মূল্যের ক্ষতির বিনিময়ে স্বরমেয়াদী মুনাফা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টির তাগিদ
ব্যাখ্যা

যখন বোনাস শুধুমাত্র ত্রৈমাসিক আয় বা লাভের সাথে সংযুক্ত থাকে, তখন ব্যবস্থাপকরা স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য পূরণে অতিরিক্ত উৎসাহিত হন। এর ফলে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যা দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির মূল্যের ক্ষতি ঘটায়, যেমন:

- গবেষণা ও উন্নয়ন খরচ কমানো
- ভবিষ্যতের বিনিয়োগ স্থগিত রাখা
- খরচ কমাতে কর্মী ছাঁটাই
- আয় বাড়াতে অস্থায়ী কৌশল গ্রহণ

এই প্রবণতা "short-termism" নামে পরিচিত, যা ব্যবস্থাপনা তত্ত্বে একটি নেতিবাচক আচরণ হিসেবে বিবেচিত।

.
রিক্রুট মেন্ট ইয়েল্ড রেশিও (Recruitment Yield Ratio" কী?
  1. নির্বাচিত/আবেদনকারী অনুপাত
  2. নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য ব্যয়কৃত খরচ ও প্রার্থীর সংখ্যার অনুপাত
  3. যোগ্যতা/ প্রয়োজন অনুপাত
  4. উপস্থিতি/ বাছাই অনুপাত
সঠিক উত্তর:
নির্বাচিত/আবেদনকারী অনুপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বাচিত/আবেদনকারী অনুপাত
ব্যাখ্যা

Yield Ratio হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ সংক্রান্ত মেট্রিক যা নির্বাচিত প্রার্থীর সংখ্যাকে মোট আবেদনকারীর সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে হিসাব করা হয়। এটি দেখায়—নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোন ধাপে কতজন প্রার্থী পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হয়েছেন।

 

Yield Ratio-এর ব্যবহার

- নিয়োগ প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা মূল্যায়ন
- সোর্সিং চ্যানেলের দক্ষতা যাচাই (যেমন: জব পোর্টাল, রেফারেল)
- নিয়োগ খরচ কমানো ও সময় সাশ্রয়
- প্রতিটি ধাপে প্রার্থীর গুণগত মান বিশ্লেষণ

.
পরিচালনা পর্ষদের চূড়ান্ত জবাবদিহিতা কাদের প্রতি থাকে?
  1. ঋণদাতাগণ 
  2. সরকার
  3. শেয়ারহোল্ডারগণ 
  4. মালিকপক্ষ
সঠিক উত্তর:
শেয়ারহোল্ডারগণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেয়ারহোল্ডারগণ 
ব্যাখ্যা

• পরিচালনা পর্ষদ (Board of Directors) হলো কোম্পানির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণকারী সংস্থা, যার মূল দায়িত্ব হলো শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করা। তারা কোম্পানির কৌশল, নীতিমালা, এবং ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি করে যাতে শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগের মূল্য বৃদ্ধি পায়।

কেন শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি জবাবদিহি?
- শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানির মালিক (বিশেষ করে পাবলিক কোম্পানিতে)
- পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের ভোটে নির্বাচিত হয়
- পর্ষদকে বার্ষিক সাধারণ সভায় (AGM) তাদের কার্যক্রমের হিসাব দিতে হয়
- Corporate Governance নীতিমালায় পর্ষদের জবাবদিহিতা শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে

.
নিচের কোন কৌশলটি মালিক ও ব্যবস্থাপকের ভেতর দ্বন্দ্ব হ্রাসে সবচেয়ে বেশী কার্যকর?
  1. স্বচ্ছতা, প্রণোদনার সামঞ্জস্য এবং সক্রিয় বোর্ড পর্যবেক্ষন নিশ্চিত করা
  2. ব্যবস্থাপকের স্বায়ত্বশাসন ও সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
  3. শেয়ারহোল্ডার হস্তক্ষেপ হ্রাসে তাদের ভোটাধিকার সীমিত করা
  4. আভ্যন্তরীণ অডিট বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা, প্রণোদনার সামঞ্জস্য এবং সক্রিয় বোর্ড পর্যবেক্ষন নিশ্চিত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা, প্রণোদনার সামঞ্জস্য এবং সক্রিয় বোর্ড পর্যবেক্ষন নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা

• এই প্রশ্নটি Principal-Agent Problem বা Agency Theory-এর প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মালিক (Principal) অর্থাৎ শেয়ারহোল্ডার এবং ব্যবস্থাপক (Agent) অর্থাৎ কোম্পানির পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে স্বার্থের অমিল থেকে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এই দ্বন্দ্ব হ্রাসে সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো:

 ১. স্বচ্ছতা (Transparency):
- ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম, সিদ্ধান্ত, এবং আর্থিক তথ্য শেয়ারহোল্ডারদের কাছে উন্মুক্ত রাখলে বিশ্বাস বাড়ে।
- স্বচ্ছতা কমলে তথ্যের অসমতা (Information Asymmetry) বাড়ে, যা দ্বন্দ্বের মূল কারণ।

 ২. প্রণোদনার সামঞ্জস্য (Incentive Alignment):
- ব্যবস্থাপকের বেতন, বোনাস, স্টক অপশন ইত্যাদি শেয়ারহোল্ডারদের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থের সাথে সংযুক্ত করলে তারা কোম্পানির মূল্য বৃদ্ধিতে আগ্রহী হয়।
- উদাহরণ: Performance-based bonus, Equity-based compensation

 ৩. সক্রিয় বোর্ড পর্যবেক্ষণ (Active Board Monitoring):
- স্বাধীন ও সক্রিয় পরিচালনা পর্ষদ ব্যবস্থাপকের কার্যক্রম তদারকি করে।
- Audit, Risk, এবং Remuneration কমিটি দ্বন্দ্ব হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এই তিনটি উপাদান একত্রে Corporate Governance Framework-এর মূল ভিত্তি, যা মালিক ও ব্যবস্থাপকের মধ্যে দ্বন্দ্ব হ্রাসে সবচেয়ে কার্যকর।

অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
খ) ব্যবস্থাপকের স্বায়ত্বশাসন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
- এটি কখনো কার্যকর হতে পারে, তবে অতিরিক্ত স্বাধীনতা দিলে মালিকের স্বার্থ উপেক্ষিত হতে পারে।
- Moral hazard এবং Opportunistic behavior-এর ঝুঁকি বাড়ে।

গ) শেয়ারহোল্ডার হস্তক্ষেপ হ্রাসে তাদের ভোটাধিকার সীমিত করা
- এটি গণতান্ত্রিক কর্পোরেট কাঠামোর পরিপন্থী।
- শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষমতা কমালে জবাবদিহিতা কমে, দ্বন্দ্ব আরও বাড়ে।

ঘ) আভ্যন্তরীণ অডিট বৃদ্ধি
- এটি তদারকির একটি উপাদান, তবে এককভাবে যথেষ্ট নয়।
- অডিট কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা থাকে, যেমন: সময়, স্কোপ, এবং গভীরতা।

রেফারেন্স
- Investopedia: Agency Theory in Corporate Governance
- FasterCapital: Aligning Manager and Shareholder Interests
-Theory and Practice of Corporate Governance – Stephen Bloomfield

.
"গ্লাস ক্লিফ” বলতে কি বুঝায়?
  1. নারীর নেতৃত্বের পদে প্রতীকী পদোন্নতি
  2. প্রতিষ্ঠানে নারীদের নিরাপত্তা প্রদানে বাধা
  3. নারীর উচ্চপদে পদোন্নতির বাধা
  4. সঙ্কট কিংবা ঝুঁকির সময়ে নেতৃত্বের পদে পদোন্নতি/নিয়োগ
সঠিক উত্তর:
সঙ্কট কিংবা ঝুঁকির সময়ে নেতৃত্বের পদে পদোন্নতি/নিয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঙ্কট কিংবা ঝুঁকির সময়ে নেতৃত্বের পদে পদোন্নতি/নিয়োগ
ব্যাখ্যা

• Glass Cliff হলো একটি সামাজিক ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত ধারণা, যা প্রথম ২০০৫ সালে ব্রিটিশ গবেষক Michelle K. Ryan এবং Alexander Haslam প্রবর্তন করেন। এটি বোঝায়—নারীদের (বা সংখ্যালঘুদের) নেতৃত্বের পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় এমন সময়, যখন প্রতিষ্ঠানটি সংকটে থাকে বা ব্যর্থতার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এই অবস্থায় তাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে, এবং ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠান সহজেই তাদের দায়ী করতে পারে।

গ্লাস ক্লিফ-এর বৈশিষ্ট্য:
- ঝুঁকিপূর্ণ সময়ের পদোন্নতি: সংকটকালীন সময়ে নারীদের নেতৃত্বে আনা হয়
- প্রতীকী অগ্রগতি: পদোন্নতি হলেও বাস্তবিক সহায়তা বা ক্ষমতা কম থাকে
- ব্যর্থতার সম্ভাবনা বেশি: প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হলে নারী নেতাকে দায়ী করা সহজ হয়
- সামাজিক স্টেরিওটাইপ: “নারীরা সংকটে ভালো নেতৃত্ব দেয়”—এই ধারণা থেকে অনেক সময় এমন পদোন্নতি হয়

অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
ক) প্রতীকী পদোন্নতি | এটি “Tokenism” ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত, Glass Cliff নয় | 
খ) নিরাপত্তা বাধা | এটি কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বা হয়রানির বিষয়, Glass Cliff নয় | 
গ) পদোন্নতির বাধা | এটি “Glass Ceiling” বোঝায়, Glass Cliff নয় | 

সোর্স: ইনভেস্টোপিডিয়া।

.
একজন কর্মী সততাকে মূল্যায়ণ করে কিন্তু চাকরি রক্ষার্থে মিথ্যা রিপোর্ট লিখেছেন। এটি নিচের কোনটি নির্দেশ করে?
  1. কগনেটিভ ডিজোনেন্স
  2. ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স
  3. মেকিয়াডেলিয়ান আচরন
  4. সিদ্ধান্ত গ্রহপের অদক্ষতা
সঠিক উত্তর:
কগনেটিভ ডিজোনেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কগনেটিভ ডিজোনেন্স
ব্যাখ্যা

• Cognitive Dissonance হলো একটি মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা, যেখানে একজন ব্যক্তি নিজের বিশ্বাস, মূল্যবোধ বা আচরণের মধ্যে দ্বন্দ্ব অনুভব করেন। অর্থাৎ, তারা এমন কিছু করেন যা তাদের নিজস্ব নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, ফলে মানসিক অস্বস্তি বা চাপ অনুভব করেন।

 উদাহরণস্বরূপ:  
একজন কর্মী সততা মূল্যায়ন করেন, কিন্তু চাকরি রক্ষার্থে মিথ্যা রিপোর্ট লিখেছেন।  
➤ তার মূল্যবোধ (সততা) এবং আচরণ (মিথ্যা লেখা) পরস্পর বিরোধী।  
➡এতে তিনি অস্বস্তি বা মানসিক দ্বন্দ্ব অনুভব করেন—এটাই Cognitive Dissonance।

অন্যান্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা
খ) ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স:  
এটি নিজের ও অন্যের আবেগ বুঝে তা ব্যবস্থাপনার দক্ষতা। এখানে কর্মীর দ্বন্দ্বের অনুভূতি থাকলেও, এটি EI নয়।

গ) মেকিয়াভেলিয়ান আচরণ:  
এটি কৌশলী, স্বার্থপর, এবং উদ্দেশ্য হাসিলে নীতিহীন আচরণ বোঝায়। কর্মী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলেন নিজের সুবিধার জন্য, তাহলে এটি হতে পারে। কিন্তু প্রশ্নে বলা হয়েছে—তিনি সততা মূল্যায়ন করেন, তাই এটি নয়।

ঘ) সিদ্ধান্ত গ্রহণের অদক্ষতা:  
এটি বোঝায়—তথ্য বিশ্লেষণ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারা। কিন্তু এখানে কর্মী দ্বন্দ্বে পড়েছেন, সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম ছিলেন না।

রেফারেন্স
- Festinger, L. (1957). A Theory of Cognitive Dissonance. Stanford University Press.

.
বোর্ডের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ কারণ (সবচেয়ে উপযুক্ত উত্তর কোনটি?)
  1. মুলত পরিচালকদের নিয়ন্ত্রক-তদারকি (Regulatory Scrutiny) থেকে সুরক্ষা দেয়।
  2. পক্ষপাতহীন তদারকির মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা কর্মকান্ডের সাথে শেয়ারহোল্ডারদের চাহিদা সামঞ্জস্যপূর্ণ করে।
  3. স্বল্লমেয়াদি কৌশলের মাধ্যমে সর্বাধিক সর্বাধিক মুনাফা অর্জন করতে সহায়তা করে।
  4. কৌশলগত সব সিদ্ধান্ত বিনা প্রশ্নে নির্বাহীদের হাতে হস্তান্তর করে।
সঠিক উত্তর:
পক্ষপাতহীন তদারকির মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা কর্মকান্ডের সাথে শেয়ারহোল্ডারদের চাহিদা সামঞ্জস্যপূর্ণ করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পক্ষপাতহীন তদারকির মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা কর্মকান্ডের সাথে শেয়ারহোল্ডারদের চাহিদা সামঞ্জস্যপূর্ণ করে।
ব্যাখ্যা

বোর্ডের স্বাধীনতা (Board Independence) বলতে বোঝায়—পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা নির্বাহী ব্যবস্থাপনার বাইরে থেকে আসা, পক্ষপাতহীন, এবং শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি Corporate Governance-এর একটি মূল স্তম্ভ।

 স্বাধীন বোর্ডের ভূমিকা:

- পক্ষপাতহীন তদারকি: CEO বা ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্তকে নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করে।
- শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা: কোম্পানির কৌশল, ঝুঁকি, এবং সম্পদের ব্যবহার শেয়ারহোল্ডারদের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
- জবাবদিহিতা নিশ্চিত: ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ায়।
- সংঘাত হ্রাস: Principal-Agent দ্বন্দ্ব কমায়।

 
অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ

ক) পরিচালকদের নিয়ন্ত্রক-তদারকি থেকে সুরক্ষা দেয়:  
➡ এটি ভুল ধারণা। স্বাধীন বোর্ড তদারকি বাড়ায়, সুরক্ষা নয়।

গ) স্বল্পমেয়াদি কৌশলের মাধ্যমে সর্বাধিক মুনাফা অর্জন:  
➡ স্বাধীন বোর্ড দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টিতে আগ্রহী, স্বল্পমেয়াদি মুনাফা নয়।

ঘ) কৌশলগত সব সিদ্ধান্ত নির্বাহীদের হাতে হস্তান্তর:  
➡ এটি স্বাধীন বোর্ডের বিপরীত। স্বাধীন বোর্ড নির্বাহীদের সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন করে ও মূল্যায়ন করে।

.
নীচের কোনটি গুনমান নিয়ন্ত্রনের একটি টুল হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. গ্যান্ট চার্ট
  2. কন্ট্রোল চার্ট
  3. ভ্যালু চেইন বিশ্লেষণ
  4. MBO
সঠিক উত্তর:
কন্ট্রোল চার্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কন্ট্রোল চার্ট
ব্যাখ্যা

Control Chart (বা Shewhart Chart) হলো একটি গুণমান নিয়ন্ত্রণের পরিসংখ্যানভিত্তিক টুল, যা সময়ের সাথে প্রক্রিয়ার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে। এটি দেখায়—প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে কিনা, অর্থাৎ স্বাভাবিক সীমার মধ্যে চলছে কিনা।

 Control Chart-এর মূল উপাদান:
- Central Line (CL): গড় মান
- Upper Control Limit (UCL): সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য সীমা
- Lower Control Limit (LCL): সর্বনিম্ন গ্রহণযোগ্য সীমা
- ডেটা পয়েন্ট: সময়ের সাথে প্রক্রিয়ার ফলাফল

➡ যদি ডেটা পয়েন্টগুলো UCL ও LCL-এর মধ্যে থাকে, তাহলে প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণে আছে।  
➡ যদি বাইরে চলে যায়, তাহলে সমস্যা বা ব্যতিক্রম ঘটেছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

অন্যান্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা

ক) গ্যান্ট চার্ট:  
➡ এটি প্রকল্প ব্যবস্থাপনার টুল, যা কাজের সময়সূচি ও অগ্রগতি দেখায়। গুণমান নিয়ন্ত্রণের টুল নয়।

গ) ভ্যালু চেইন বিশ্লেষণ:  
➡ এটি কৌশলগত বিশ্লেষণ টুল, যা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কার্যক্রমে মূল্য সংযোজন বিশ্লেষণ করে। গুণমান নিয়ন্ত্রণের সরাসরি টুল নয়।

ঘ) MBO (Management by Objectives):  
➡ এটি ব্যবস্থাপনা কৌশল, যেখানে লক্ষ্য নির্ধারণ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে কর্মক্ষমতা পরিমাপ করা হয়। গুণমান নিয়ন্ত্রণের টুল নয়।

১০.
ব্যবস্থাপনার নব্য ধ্রুপদী মতবাদের অন্তর্ভূক্ত নয় কোন তত্ত্বটি?
  1. মানব সম্পর্কমতবাদ
  2. মানবীয় সম্পর্ক মতবাদ
  3. আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা 
  4. পরিস্থিতি পরিপ্রেক্ষত মতবাদ
সঠিক উত্তর:
পরিস্থিতি পরিপ্রেক্ষত মতবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিস্থিতি পরিপ্রেক্ষত মতবাদ
ব্যাখ্যা

ব্যবস্থাপনার তত্ত্বগুলোকে মূলত তিনটি প্রধান ধারায় বিভক্ত করা হয়:

​ধ্রুপদী মতবাদ (Classical Theory): যা মূলত সংগঠন কাঠামো, দক্ষতা এবং আনুষ্ঠানিকতার উপর জোর দেয়। এর প্রধান অংশ হলো:​

বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা (Scientific Management)
​আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা (Bureaucratic Management) 
​প্রশাসনিক তত্ত্ব (Administrative Theory)

​নব্য ধ্রুপদী মতবাদ (Neo-Classical Theory): এটি ধ্রুপদী মতবাদের কাঠামোগত পদ্ধতির সম্প্রসারণ, যেখানে মানবিক উপাদান এবং অনানুষ্ঠানিক সম্পর্কের উপর জোর দেওয়া হয়। এটি কর্মীদের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিককে গুরুত্ব দেয়। এর প্রধান অংশ হলো:​

মানবীয় সম্পর্ক মতবাদ (Human Relations Theory) (Elton Mayo)
​মানব সম্পর্ক মতবাদ (Human Relations Movement) এবং
আচরণগত বিজ্ঞান বা মানবিক আচরণগত মতবাদ (Behavioural Science Approach)। 

​আধুনিক মতবাদ (Modern Theory): এই মতবাদগুলো নব্য ধ্রুপদী মতবাদের পরে এসেছে। এর প্রধান অংশ হলো:​
পরিমাণগত মতবাদ (Quantitative Theory)
​পরিস্থিতি পরিপ্রেক্ষিত মতবাদ (Contingency Theory)
​সিস্টেম মতবাদ (System Theory)

বলে রাখা ভালো,
 এখানে নব্য ধ্রুপদী মতবাদের বাইরে দুটো অপশন আছে: আমলাতান্ত্রিক এবং পরিবেশ পরিস্থিতি প্রেক্ষিত মতবাদ। দুটো মতবাদের পক্ষেই যুক্তি রয়েছে। এখন প্রশ্নকর্তার চিন্তা-চেতনার উপর ভিত্তি করে সঠিক উত্তর নির্ভর করবে।

Bureaucratic Management Theory (Max Weber)

 মূল বৈশিষ্ট্য:
- প্রতিষ্ঠানের কাঠামো ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়ম, কর্তৃত্ব, ও দায়িত্বের স্পষ্ট বিভাজন  
- হায়ারার্কি, নির্ধারিত নিয়ম, ও নিরপেক্ষতা—এগুলো Weber-এর তত্ত্বের ভিত্তি  

- এটি ধ্রুপদী তত্ত্বের অংশ, কারণ Weber-এর কাজ Fayol ও Taylor-এর সময়কালেই বিকশিত  

- তবে কিছু লেখক এটিকে নব্য ধ্রুপদী আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করেন, কারণ এটি সংগঠনের কাঠামোগত দিক বিশ্লেষণ করে, যা মানব সম্পর্ক তত্ত্বের পরিপূরক হতে পারে

Contingency Theory
 মূল ধারণা:
 “There is no one best way to manage. The best approach depends on the situation.”- এটি বলে যে পরিস্থিতি, পরিবেশ, প্রযুক্তি, ও নেতৃত্বের ধরন অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা কৌশল পরিবর্তন করতে হবে  
- স্থির নীতি নয়, বরং পরিবর্তনশীল কৌশল—যা Classical বা Neo-Classical তত্ত্বের বিপরীত

- এটি নব্য ধ্রুপদী নয়, বরং আধুনিক/Post-Classical তত্ত্ব  
- এর বিকাশ ঘটে ১৯৬০-এর দশকে, Mayo, Maslow, McGregor-এর Human Relations School-এর পর  
এটি Neo-Classical-এর মানবিক ও আচরণগত দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা বলে

সুতরাং: পরিস্থিতি প্রেক্ষিত মতবাদকেই শ্রেয় উত্তর বলে মনে হয়েছে।

১১.
আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ সবচেয়ে বেশী কার্যকর হয় যখন প্রতিষ্ঠান -
  1. সৃজনশীল সমাধানের প্রতি গুরুত্ব দেয়
  2. কঠোর নিয়ম কানুন মেনে চলা ও Standardized কর্মপদ্ধতির প্রতি বেশী গুরুত্ব দেয়
  3. অনানুষ্ঠানিক দলগত কাজকে বেশী গুরুত্ব দেয়
  4. মূল্যবোধের প্রতিবেশী গুরুত্ব দেয়
সঠিক উত্তর:
কঠোর নিয়ম কানুন মেনে চলা ও Standardized কর্মপদ্ধতির প্রতি বেশী গুরুত্ব দেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠোর নিয়ম কানুন মেনে চলা ও Standardized কর্মপদ্ধতির প্রতি বেশী গুরুত্ব দেয়
ব্যাখ্যা

নিয়ন্ত্রণ হলো একটি প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যেখানে নিয়ম, নীতিমালা, এবং মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়।  

 এটি Max Weber-এর তত্ত্বের ভিত্তিতে গঠিত, যিনি আমলাতন্ত্রকে একটি যুক্তিবাদী ও কাঠামোগত সংগঠন হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

কখন এটি সবচেয়ে কার্যকর?

যখন প্রতিষ্ঠান:

- Standardized কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করে  
- নিয়ম-কানুন ও প্রক্রিয়াগত শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চায় 
- পুনরাবৃত্তি ও নির্ভরযোগ্যতা প্রয়োজন হয়  
- নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব নির্ধারিত থাকে  
- ব্যক্তিগত উদ্ভাবন নয়, বরং প্রক্রিয়াগত শৃঙ্খলা গুরুত্বপূর্ণ

 যেমন:  
- ব্যাংক  
- সরকারি দপ্তর  
- বিমা প্রতিষ্ঠান  
- উৎপাদন শিল্প (mass production)

মূল উপাদানসমূহ

1. নিয়ম ও নীতিমালা:  
   ➤ প্রতিটি কাজের জন্য নির্ধারিত নিয়ম থাকে  
   ➤ ব্যতিক্রম বা সৃজনশীলতা কম

2. হায়ারার্কি (Hierarchy):  
   ➤ কর্তৃত্বের স্তরভিত্তিক কাঠামো  
   ➤ কে কাকে রিপোর্ট করবে তা স্পষ্ট

3. দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব:  
   ➤ প্রত্যেকের দায়িত্ব নির্ধারিত  
   ➤ কর্তৃত্বের সীমা নির্ধারিত

4. দলিলীকরণ (Documentation):  
   ➤ প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম লিখিতভাবে সংরক্ষিত

5. নিরপেক্ষতা ও অপ্রভাবিত সিদ্ধান্ত:  
   ➤ ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত

কখন এটি কম কার্যকর?

- উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠান, যেখানে সৃজনশীলতা ও নমনীয়তা প্রয়োজন  
- টিমওয়ার্ক ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ  
- দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশ, যেখানে নিয়মের বাইরে চিন্তা করতে হয়

১২.
একটি ঔষধ কোম্পানী একটি রসায়নাগার অধিগ্রহণ করেছে। এটি কোনটির উদাহরণ?
  1. হরাইজন্টাল ডাইভারসিফিকেশন
  2. আনরিলেটেড ডাইভারসিফিকেশন
  3. ভার্টিক্যাল ডাইভারসিফিকেশন
  4. রিলেটেড ডাইভারসিফিকেশন
সঠিক উত্তর:
ভার্টিক্যাল ডাইভারসিফিকেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভার্টিক্যাল ডাইভারসিফিকেশন
ব্যাখ্যা

এই অধিগ্রহণটি হলো ভার্টিক্যাল ডাইভারসিফিকেশন (Vertical Diversification), যা সাধারণত ব্যাকওয়ার্ড ভার্টিক্যাল ইন্টিগ্রেশন (Backward Vertical Integration) নামেও পরিচিত।

​ভার্টিক্যাল ডাইভারসিফিকেশন ঘটে যখন কোনো কোম্পানি তার উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলের (supply chain) আগের বা পরের ধাপের কোনো কোম্পানিকে অধিগ্রহণ করে।

​ক্ষেত্র: একটি ঔষধ কোম্পানি।

​অধিগ্রহণ: একটি রসায়নাগার (যা ঔষধ তৈরির কাঁচামাল বা উপকরণ সরবরাহ করে)।

​যেহেতু ঔষধ কোম্পানিটি তার পণ্যের উৎপাদন প্রক্রিয়ার আগের ধাপের (অর্থাৎ কাঁচামাল বা মৌলিক রাসায়নিক সরবরাহকারী) একটি প্রতিষ্ঠানকে অধিগ্রহণ করেছে, তাই এটি ভার্টিক্যাল ডাইভারসিফিকেশন বা ব্যাকওয়ার্ড ইন্টিগ্রেশনের উদাহরণ।

অন্যান্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা

ক) হরাইজন্টাল ডাইভারসিফিকেশন:  
➡ একই ধরণের বা প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করা (যেমন: একটি ঔষধ কোম্পানি আরেক ঔষধ কোম্পানি কিনে নেয়)। এখানে তা হয়নি।

খ) আনরিলেটেড ডাইভারসিফিকেশন:  
➡ সম্পূর্ণ ভিন্ন খাতে প্রবেশ (যেমন: ঔষধ কোম্পানি যদি রেস্টুরেন্ট চেইন কিনে)। রসায়নাগার ঔষধ শিল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই এটি নয়।

ঘ) রিলেটেড ডাইভারসিফিকেশন:  
➡ সম্পর্কিত কিন্তু ভিন্ন পণ্য বা বাজারে প্রবেশ (যেমন: ঔষধ কোম্পানি যদি স্বাস্থ্যসেবা অ্যাপ তৈরি করে)। রসায়নাগার সরাসরি উৎপাদন চেইনের অংশ হওয়ায় এটি নয়।

১৩.
HCROI (Human Capital Return on Investment)কী পরিমাপ করে?
  1. প্রশিক্ষণ খরচের শতকরা হার
  2. প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনশীলতার অনুপাত
  3. মানৰ সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করা অর্থের শতকরা প্রতিদান
  4. অবসরের পর কর্মীদের কর্ম দক্ষতা ও বেতনের অনুপাত
সঠিক উত্তর:
মানৰ সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করা অর্থের শতকরা প্রতিদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানৰ সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করা অর্থের শতকরা প্রতিদান
ব্যাখ্যা

HCROI হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ মানব সম্পদ মেট্রিক, যা পরিমাপ করে—কর্মীদের উপর বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান কতটা আর্থিক ফলাফল (return) অর্জন করছে। এটি মানব সম্পদের উৎপাদনশীলতা ও লাভজনকতা বিশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়।

 HCROI-এর মূল উদ্দেশ্য:
- মানব সম্পদে বিনিয়োগ (যেমন: বেতন, প্রশিক্ষণ, সুবিধা) কতটা লাভজনক
- কর্মীদের মাধ্যমে অপারেটিং প্রফিট কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে
- HR কৌশল ও সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা মূল্যায়ন


১৪.
জনগনের কাছ থেকে সঠিক তথ্য গোপন করা হলে নিম্নের কোন বিষয়টি লঙ্ঘিত হয়?
  1. নৈতিকতা
  2. ন্যায়বিচার
  3. মূল্যবোধ 
  4. সামাজিক দায়বদ্ধতা
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা (Ethics) হলো ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক আচরণের এমন একটি মানদণ্ড, যা সত্য, স্বচ্ছতা, এবং দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।  

➡ যখন কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি জনগণের কাছ থেকে সঠিক তথ্য গোপন করে, তখন তারা সত্য প্রকাশে ব্যর্থ হয়, যা সরাসরি নৈতিকতার লঙ্ঘন।

উদাহরণ:

- সরকার বা কোম্পানি যদি স্বাস্থ্যঝুঁকি, অর্থনৈতিক অবস্থা, বা পরিবেশগত বিপদের তথ্য গোপন করে,  
  ➤ জনগণ ভুল সিদ্ধান্ত নেয়  
  ➤ ক্ষতি হয় ব্যক্তিগত, সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ে  
  ➤ এটি নৈতিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা

 অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ

(খ) ন্যায়বিচার:  
➡ এটি আইনি বা বিচারিক প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত, তথ্য গোপনের সরাসরি লঙ্ঘন নয়

(গ) মূল্যবোধ:  
➡ এটি ব্যক্তিগত বা সাংস্কৃতিক বিশ্বাস, তবে নৈতিকতা-ই মূল কাঠামো

(ঘ) সামাজিক দায়বদ্ধতা:  
➡ এটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব জনগণের প্রতি, কিন্তু তথ্য গোপন প্রথমে নৈতিকতার লঙ্ঘন। 

১৫.
ট্র্যান্সফরমেশনাল লিডারশীপের জন্য কোন ধরনের ক্ষমতা (Power)বেশি জরুরী?
  1. কোয়ার্সিভ 
  2. রেফারেন্ট 
  3. লেজিটিমেট 
  4. পুরস্কার প্রদানের ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
রেফারেন্ট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেফারেন্ট 
ব্যাখ্যা

• Transformational Leadership এমন এক নেতৃত্বধারা যেখানে নেতা কর্মীদের অনুপ্রাণিত করেন, দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেন, এবং উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের দিকে পরিচালিত করেন। এই ধরণের নেতৃত্বে ব্যক্তিত্ব, আস্থা, এবং অনুসরণযোগ্যতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

রেফারেন্ট ক্ষমতা কী?
- Referent Power হলো এমন ক্ষমতা যা নেতার ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ, এবং সম্পর্কের গুণ থেকে আসে। কর্মীরা নেতাকে সম্মান করেন, বিশ্বাস করেন, এবং অনুসরণ করতে চান—এটাই রেফারেন্ট ক্ষমতার ভিত্তি।

 Transformational Leader:
- আদর্শ ও মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত করেন
- দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেন
- আস্থা ও সম্পর্কের ভিত্তিতে নেতৃত্ব দেন
- কর্মীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নয়নে সহায়তা করেন
এইসব গুণ রেফারেন্ট ক্ষমতার মাধ্যমে বিকশিত হয়, যা coercion বা পুরস্কারের চেয়ে অনেক গভীর ও স্থায়ী।

 অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
ক) কোয়ার্সিভ (Coercive Power):  
➡ এটি ভয় বা শাস্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে। Transformational Leadership এ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

গ) লেজিটিমেট (Legitimate Power):  
➡ এটি পদ বা দায়িত্ব থেকে আসে। যদিও এটি প্রাসঙ্গিক, কিন্তু Transformational Leadership মূলত আদর্শ ও সম্পর্কভিত্তিক।

ঘ) পুরস্কার প্রদানের ক্ষমতা (Reward Power):  
➡ এটি বাহ্যিক প্রণোদনা দেয়, কিন্তু Transformational Leadership অভ্যন্তরীণ প্রেরণা জাগ্রত করে।

১৬.
পরামর্শমূলক নির্দেশনার অসুবিধা কোনটি?
  1. অবাধ্যতা সৃষ্টি
  2. অধস্তনদের উপর অতিমাত্রায় কর্তৃত্ব ফলানো
  3. অধস্তনদের কাছ থেকে শর্তহীণ আনুগত্য প্রত্যাশা করা
  4. অধস্তনদের উপর পূর্ণ মাত্রায় নির্ভরশীলতা
সঠিক উত্তর:
অধস্তনদের উপর পূর্ণ মাত্রায় নির্ভরশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধস্তনদের উপর পূর্ণ মাত্রায় নির্ভরশীলতা
ব্যাখ্যা

পরামর্শমূলক নির্দেশনার অসুবিধা (Disadvantage of Consultative Direction)
​পরামর্শমূলক নির্দেশনা (Consultative Direction), যা অংশগ্রহণমূলক বা গণতান্ত্রিক নির্দেশনার কাছাকাছি, সেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে অধস্তনদের মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হয়। এই পদ্ধতির প্রধান অসুবিধা হলো:

​অধস্তনদের উপর পূর্ণ মাত্রায় নির্ভরশীলতা (Excessive dependence on subordinates): পরামর্শমূলক নির্দেশনায় ব্যবস্থাপককে প্রায়শই ভালো সিদ্ধান্তের জন্য বা এমনকি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অধস্তনদের মতামতের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হতে হয়। যদি অধস্তনরা অপরিণত, অনভিজ্ঞ, অথবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়, তবে ব্যবস্থাপকের পক্ষে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
​সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া: পরামর্শমূলক প্রক্রিয়ায় সকলের মতামত নিতে গিয়ে অনেক সময় ব্যয় হতে পারে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে সমস্যা সৃষ্টি করে।

​অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
​বাকি বিকল্পগুলো সাধারণত স্বৈরাচারী (Autocratic) বা কর্তৃত্বমূলক (Authoritative) নির্দেশনার অসুবিধা:

​ক) অবাধ্যতা সৃষ্টি: এটি স্বৈরাচারী বা কর্তৃত্বমূলক নির্দেশনার ফলে তৈরি হয়, যেখানে কর্মীরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে না পারায় ক্ষুব্ধ হয়ে অবাধ্য হয়ে ওঠে।

​খ) অধস্তনদের উপর অতিমাত্রায় কর্তৃত্ব ফলানো: এটি কর্তৃত্বমূলক বা স্বৈরাচারী নির্দেশনার মূল বৈশিষ্ট্য, পরামর্শমূলক নির্দেশনার নয়।

​গ) অধস্তনদের কাছ থেকে শর্তহীণ আনুগত্য প্রত্যাশা করা: এটিও স্বৈরাচারী নির্দেশনার একটি বৈশিষ্ট্য, যেখানে কর্মীদের বিনা প্রশ্নে আদেশ মানতে হয়।

১৭.
নিচের কোনটি মালিকানা ও নিয়ন্ত্রনের পৃথকীকরন সংক্রান্ত কার্যক্রমকে সবচাইতে বেশি ব্যহত করে?
  1. স্বাধীন পরিচালকবৃন্দ
  2. নির্বাহীপদে থাকা পারিবারিক মালিকানা
  3. সচেতন শেয়াহোল্ডারদের সক্রিয়তা
  4. প্রতিষ্ঠাতা পরিচালকের সক্রিয় অংশগ্রহন
সঠিক উত্তর:
নির্বাহীপদে থাকা পারিবারিক মালিকানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বাহীপদে থাকা পারিবারিক মালিকানা
ব্যাখ্যা

মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের পৃথকীকরণ (Separation of Ownership and Control) বলতে বোঝায় যে, একটি কোম্পানির মালিকানা (শেয়ারহোল্ডার) এবং এর দৈনন্দিন কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা (পরিচালক/ম্যানেজার) ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে থাকবে। এটি সাধারণত বৃহৎ পাবলিক কোম্পানিগুলোতে দেখা যায়।

​নির্বাহীপদে থাকা পারিবারিক মালিকানা: যখন একটি কোম্পানির মালিকানা ধরে রাখা পরিবার বা প্রতিষ্ঠাতারা নিজেরাই নির্বাহী পদে (CEO, MD ইত্যাদি) থাকে, তখন মালিকানা (পরিবার) এবং নিয়ন্ত্রণ (নির্বাহী পদ) একীভূত হয়ে যায়। এটি এই পৃথকীকরণের ধারণাকে সবচেয়ে বেশি ব্যাহত করে। কারণ এক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থের পরিবর্তে পারিবারিক স্বার্থ প্রাধান্য পেতে পারে।

​অন্যান্য অপশন
​ক) স্বাধীন পরিচালকবৃন্দ (Independent Directors): এরা মালিক বা নির্বাহীর বাইরের লোক হওয়ায় তারা বোর্ডের তদারকি বাড়ায় এবং মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের পৃথকীকরণকে জোরদার করে।

​গ) সচেতন শেয়াহোল্ডারদের সক্রিয়তা (Active Shareholders): সচেতন শেয়ারহোল্ডাররা ব্যবস্থাপনা বা বোর্ডকে জবাবদিহি করতে চাপ দেয়, যা মালিকদের পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণকে আরও কার্যকর করে তোলে এবং পৃথকীকরণকে ব্যাহত করে না।

​ঘ) প্রতিষ্ঠাতা পরিচালকের সক্রিয় অংশগ্রহণ: যদিও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালকের সক্রিয় অংশগ্রহণ মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণকে কিছুটা একত্রিত করে, তবে নির্বাহীপদে থাকা পারিবারিক মালিকানা আরও বিস্তৃত এবং গভীর প্রভাব ফেলে, যেখানে কেবল একজন ব্যক্তি নয়, বরং একটি পুরো গোষ্ঠী বা প্রজন্ম নিয়ন্ত্রণের সাথে মালিকানাকে যুক্ত রাখে।

১৮.
একজন ব্যবস্থাপক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় কর্মীদের দ্বিমত পোষন কিংবা তর্ক-বিতর্ককে উৎসাহ দেন কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনি একাই নেন। এখানে কোন নেতৃত্বের বৈপরীত্য ফুটে উঠেছে?
  1. সেবামূলক বনাম নির্দেশনামূলক নেতৃত্ব
  2. ক্ষমতায়ন বনাম কেন্দ্রীয়করণ
  3. গণতান্ত্রিক বিশ্বাস বনাম আমলাতন্ত্র
  4. গণতান্ত্রিক বিশ্বাস বনাম রূপান্তরমূলক
সঠিক উত্তর:
ক্ষমতায়ন বনাম কেন্দ্রীয়করণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষমতায়ন বনাম কেন্দ্রীয়করণ
ব্যাখ্যা

যেখানে একজন ব্যবস্থাপক কর্মীদের দ্বিমত পোষণ বা তর্ক-বিতর্ককে উৎসাহিত করেন, সেখানে তিনি কর্মীদের ক্ষমতায়ন (Empowerment) এবং অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতি (Participative Culture) তৈরি করতে চান।

​অন্যদিকে, যখন তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত একাই নেন, তখন তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে নিজের কাছে কেন্দ্রীয়করণ (Centralization) করেন।

​এই পরিস্থিতিতে এই দুটি বিপরীতমুখী আচরণের মধ্যে বৈপরীত্য (Contradiction) ফুটে ওঠে:

​  ক্ষমতায়ন (Empowerment): কর্মীদের মতামত চাওয়া, আলোচনায় উৎসাহিত করা—যা কর্মীদের অনুভূত ক্ষমতা ও গুরুত্ব বাড়ায়।

​  কেন্দ্রীয়করণ (Centralization): চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল একজন ব্যক্তির হাতে রাখা—যা ক্ষমতাকে কেবল একটি স্তরে সীমাবদ্ধ করে।

​এই বৈপরীত্যের কারণে কর্মীদের মধ্যে এই ধারণা তৈরি হতে পারে যে তাদের মতামত চাওয়া হলেও তা আসলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলছে না।

১৯.
কল কারখানায় 'শান্তির অগ্রদূত'বলা হয় কোন মনীষীকে?
  1. হেনরী এল গ্র্যান্ট
  2. এলটন মেয়ো
  3. মেরী পার্কার ফলেট
  4. অলিভার শেলডন
সঠিক উত্তর:
এলটন মেয়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এলটন মেয়ো
ব্যাখ্যা

Elton Mayo ছিলেন একজন অস্ট্রেলিয়ান সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানী, যিনি শিল্প ব্যবস্থাপনা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন-এ বিপ্লব ঘটান।  
তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো Hawthorne Studies, যা শ্রমিকদের আচরণ, মনোভাব, ও সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে পরিচালিত হয়।

শান্তির অগ্রদূত উপাধির পেছনের কারণ:

1. শ্রমিকদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করেন  
   ➤ তিনি দেখান যে শ্রমিকরা কেবল মজুরি নয়, সম্মান, সম্পর্ক ও সহানুভূতির প্রতিও সংবেদনশীল।

2. শিল্পে সামাজিক শান্তি ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলেন  
   ➤ Hawthorne গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে সহানুভূতিশীল ব্যবস্থাপনা শ্রমিকদের মধ্যে উৎপাদনশীলতা ও শান্তি বাড়ায়।

3. মানব সম্পর্ক মতবাদের জনক  
   ➤ তিনি বলেন, “মানুষ যন্ত্র নয়”, তাই তাদের আবেগ, সামাজিক চাহিদা ও দলীয় সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।

 এইসব কারণে তাঁকে কল-কারখানায় ‘শান্তির অগ্রদূত’ বলা হয়—কারণ তিনি শিল্প ব্যবস্থাপনায় মানবিকতা ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন।


 অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ

- হেনরী এল গ্র্যান্ট:  
  ➤ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অবদান নেই, শান্তির ধারণার সাথে সম্পর্কিত নন

- মেরী পার্কার ফলেট:  
  ➤ নেতৃত্ব ও সংঘর্ষ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ, তবে ‘শান্তির অগ্রদূত’ উপাধি নয়

- অলিভার শেলডন:  
  ➤ প্রশাসনিক দক্ষতা ও নৈতিকতা নিয়ে কাজ করেছেন, কিন্তু মানবিক শান্তি নয়

২০.
প্রতিষ্ঠানের সুশাসন রক্ষায় কোম্পানি সেক্রেটারির মূল ভূমিকা কি?
  1. বোর্ড সভায় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ বিশেষভাবে উপস্থাপন
  2. ব্যবস্থাপনা গত সিদ্ধান্তের অনুমোদন
  3. আইনানুগতা, নিয়ন্ত্রক দাখিল (regulatory filings) এবং বোর্ড কার্যপ্রণালীর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা
  4. শেয়ারহোল্ডারদের জন্য স্বল্পমেয়াদি মুনাফা বৃদ্ধির কৌশল নির্ধারন
সঠিক উত্তর:
আইনানুগতা, নিয়ন্ত্রক দাখিল (regulatory filings) এবং বোর্ড কার্যপ্রণালীর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনানুগতা, নিয়ন্ত্রক দাখিল (regulatory filings) এবং বোর্ড কার্যপ্রণালীর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা

Company Secretary একটি প্রতিষ্ঠানের সুশাসন (Corporate Governance) রক্ষায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন।  
তাঁর দায়িত্ব শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং আইনানুগতা, নৈতিকতা, এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

মূল দায়িত্বসমূহ:

- আইনানুগতা নিশ্চিতকরণ:  
  ➤ কোম্পানি আইন, কর আইন, শ্রম আইনসহ সকল প্রাসঙ্গিক বিধি-বিধান মেনে চলা

- নিয়ন্ত্রক দাখিল (Regulatory Filings):  
  ➤ BSEC, RJSC, স্টক এক্সচেঞ্জ, এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থায় সময়মতো প্রতিবেদন দাখিল

- বোর্ড কার্যপ্রণালীর স্বচ্ছতা:  
  ➤ বোর্ড সভার নথি প্রস্তুত, রেজুলেশন রক্ষণাবেক্ষণ, এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহায়তা

- শেয়ারহোল্ডার ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগ: 
  ➤ AGM আয়োজন, লভ্যাংশ ঘোষণা, এবং তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতা বজায় রাখা

২১.
MBO একটি - 
  1. নিয়ন্ত্রন পদ্ধতি
  2. কৌশল 
  3. কেন্দ্রীয়করণ পদ্ধতি
  4. বিকেন্দ্রীকরণ পদ্ধতি
সঠিক উত্তর:
কৌশল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৌশল 
ব্যাখ্যা

Management by Objectives (MBO) হলো একটি পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা কৌশল, যেখানে:

 ➤ সংস্থার লক্ষ্য ও ব্যক্তিগত লক্ষ্য একত্রিত করে  
 ➤ পরিমাপযোগ্য উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়  
 ➤ কর্মীদের উদ্দেশ্যভিত্তিক কাজ করতে উৎসাহিত করা হয়  
 ➤ ফলাফল মূল্যায়ন হয় নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের ভিত্তিতে

MBO-এর মূল বৈশিষ্ট্য:

- লক্ষ্য নির্ধারণ:  
  ➤ ব্যবস্থাপক ও কর্মী যৌথভাবে উদ্দেশ্য ঠিক করেন

- পরিকল্পনা ও সম্পাদন:  
  ➤ উদ্দেশ্য অনুযায়ী কাজ ভাগ করা হয়

- ফলাফল মূল্যায়ন:  
  ➤ অর্জিত ফলাফল ও লক্ষ্য তুলনা করে কর্মক্ষমতা নির্ধারণ

 এটি একটি কৌশল (Strategy), যা উৎপাদনশীলতা, স্বচ্ছতা, ও জবাবদিহিতা বাড়ায়।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ

(ক) নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি:  
➡ MBO নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং পরিকল্পনা ও লক্ষ্যভিত্তিক কৌশল

(গ) কেন্দ্রীয়করণ পদ্ধতি:  
➡ MBO-তে ব্যবস্থাপক ও কর্মী যৌথভাবে কাজ করেন, এটি কেন্দ্রীভূত নয়

(ঘ) বিকেন্দ্রীকরণ পদ্ধতি:  
➡ যদিও কিছু বিকেন্দ্রীকরণ থাকে, MBO মূলত কৌশলগত পরিকল্পনা পদ্ধতি

২২.
Thoery X মনে করে- 
  1. মানুষ কাজ পছন্দ করে
  2. মানুষ কাজ অপছন্দ করে
  3. মানুষ সৃজনশীল
  4. মানুষ দক্ষ
সঠিক উত্তর:
মানুষ কাজ অপছন্দ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ কাজ অপছন্দ করে
ব্যাখ্যা

Theory X হলো Douglas McGregor-এর প্রবর্তিত একটি মানব আচরণভিত্তিক ব্যবস্থাপনা তত্ত্ব, যা তিনি তাঁর বই “The Human Side of Enterprise” (1960)-এ উপস্থাপন করেন। Theory X এবং Theory Y—এই দুটি তত্ত্ব কর্মীদের প্রতি ব্যবস্থাপকের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করে।

 Theory X-এর মূল ধারণা:

- মানুষ কাজকে স্বাভাবিকভাবে অপছন্দ করে
- তারা দায়িত্ব নিতে চায় না, বরং নির্দেশনা পছন্দ করে
- শাস্তি বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়া তারা কাজ করবে না
- উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কঠোর তদারকি প্রয়োজন

এই তত্ত্বে ব্যবস্থাপকরা মনে করেন—কর্মীরা অলস, দায়িত্বহীন, এবং কেবল বাহ্যিক প্রণোদনায় কাজ করে।

২৩.
লাইন অথরিটি কী? অধিনস্তদের ...
  1. সরাসরি আদেশ দেবার ক্ষমতা
  2. সরাসরি পরামর্শ দেবার ক্ষমতা
  3. সরাসরি অডিট করার ক্ষমতা
  4. Production Line পর্যবেক্ষনের ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
সরাসরি আদেশ দেবার ক্ষমতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরাসরি আদেশ দেবার ক্ষমতা
ব্যাখ্যা

লাইন অথরিটি হলো এমন একটি প্রশাসনিক ক্ষমতা, যার মাধ্যমে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপক অধীনস্থ কর্মীদেরকে সরাসরি আদেশ দিতে পারেন এবং তাদের কাজের জন্য দায়বদ্ধ রাখেন। এটি প্রতিষ্ঠানের মূল কার্যক্রম (যেমন: উৎপাদন, বিক্রয়, অপারেশন) পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

লাইন অথরিটির বৈশিষ্ট্য:

- সরাসরি আদেশ প্রদান ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা
- কাজের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা নির্ধারণ
- উৎপাদন, বিক্রয়, বা অপারেশন বিভাগে প্রয়োগযোগ্য
- হায়ারার্কিক্যাল (ধাপে ধাপে) কাঠামোতে কার্যকর

২৪.
কর্মীদের Compensation নির্ধারনে ইক্যুয়িটি থিওরির প্রভাব কি?
  1. ন্যায্যতা ও তুলনামূলক সমতারভিত্তিতে বেতন নির্ধারন
  2. সর্বদা বাজারমূল্যের উপর বেতন নির্ধারন
  3. ব্যাক্তিগত দক্ষতার ভিত্তিতে বেতন নির্ধারন
  4.  ব্যবস্থাপকের ভিন্ন বেতন স্কেল
সঠিক উত্তর:
ন্যায্যতা ও তুলনামূলক সমতারভিত্তিতে বেতন নির্ধারন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যায্যতা ও তুলনামূলক সমতারভিত্তিতে বেতন নির্ধারন
ব্যাখ্যা

ইক্যুইটি থিওরি (Equity Theory), যা মনোবিজ্ঞানী জে. স্ট্যাসি অ্যাডামস (J. Stacy Adams) দ্বারা বিকশিত, কর্মীদের ক্ষতিপূরণ (Compensation) এবং প্রেরণা (Motivation) নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

​এই তত্ত্ব অনুসারে, কর্মীরা তাদের প্রাপ্ত ফলাফল (Outputs) (যেমন: বেতন, সুবিধা, পদোন্নতি) এবং তাদের দেওয়া ইনপুট (Inputs) (যেমন: প্রচেষ্টা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা) এর অনুপাতকে তাদের সহকর্মী বা অন্যান্য কর্মীদের একই অনুপাতের সাথে তুলনা করে।

​ইক্যুইটি থিওরির মূল প্রভাব হলো:

​➤ ন্যায্যতা ও সমতা (Fairness and Equity): কর্মীদের Compensation বা ক্ষতিপূরণ এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে যেন তারা মনে করে যে তাদের ইনপুট-আউটপুট অনুপাত তুলনীয় অন্যান্য কর্মীদের বা বাজারের গড় অনুপাতের সাথে ন্যায্য ও সমান। যদি কর্মী মনে করেন যে তিনি তুলনামূলকভাবে কম পাচ্ছেন (Underpaid), তবে তিনি হতাশ হবেন এবং কাজের প্রচেষ্টা কমিয়ে দেবেন (অর্থাৎ, ইনপুট কমিয়ে দেবেন)।

➤​ভেতরের তুলনা (Internal Comparison): সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ভেতরের কর্মীদের মধ্যে একই কাজ বা অনুরূপ কাজের জন্য বেতনের কাঠামোতে যেন স্বচ্ছতা ও সমতা থাকে, তা নিশ্চিত করা।

​অর্থাৎ, এই তত্ত্ব কর্মীদের প্রেরণা বজায় রাখার জন্য তুলনামূলক ন্যায্যতার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।

২৫.
ভেস্টিবিউল বহির্ভূত পাঠ (Vestibule) প্রশিক্ষন কোনটি?
  1. প্রশিক্ষনে যন্ত্রপাতির ব্যবহার
  2. প্রশিক্ষনে প্রশিক্ষকের অনুপস্থিতি
  3. প্রশিক্ষন সময়কালীন গ্রুপ ভিত্তি ককাজ
  4. প্রশিক্ষন বহর্ভূত পাঠ নির্ধারন
সঠিক উত্তর:
প্রশিক্ষনে যন্ত্রপাতির ব্যবহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশিক্ষনে যন্ত্রপাতির ব্যবহার
ব্যাখ্যা

• Vestibule Training হলো এমন একটি প্রশিক্ষণ পদ্ধতি যেখানে কর্মীদেরকে মূল কাজের পরিবেশের বাইরে, কিন্তু একই ধরণের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এটি সাধারণত নতুন কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত হয়, যাতে তারা ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশে দক্ষতা অর্জন করতে পারে।

Vestibule Training-এর বৈশিষ্ট্য:
- মূল উৎপাদন এলাকা থেকে আলাদা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র  
- আসল যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ব্যবহার  
- প্রশিক্ষক দ্বারা তত্ত্ব ও ব্যবহারিক শিক্ষা প্রদান  
- নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে দক্ষতা অর্জন  
- প্রশিক্ষণ শেষে কর্মীরা সরাসরি কাজ শুরু করতে সক্ষম হয়

 তাই, "প্রশিক্ষণে যন্ত্রপাতির ব্যবহার"-ই Vestibule Training-এর মূল বৈশিষ্ট্য।

২৬.
Matrix Structure কোনটিকে একত্রিত করে?
  1. আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কাঠামো
  2. পণ্য ও কর্মী
  3. স্তর ও নেটওয়ার্ক
  4. ফাংশনাল ও ডিভিশনাল কাঠামো
সঠিক উত্তর:
ফাংশনাল ও ডিভিশনাল কাঠামো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাংশনাল ও ডিভিশনাল কাঠামো
ব্যাখ্যা

• Matrix Structure হলো একটি উদ্দেশ্য-মুখী (Project-Oriented) সংগঠন কাঠামো, যেখানে একই কর্মীকে একাধিক কর্তৃত্বের অধীনে কাজ করতে হয়—একদিকে ফাংশনাল ম্যানেজার, অন্যদিকে প্রজেক্ট বা ডিভিশনাল ম্যানেজার।
• এটি ফাংশনাল (Functional) ও ডিভিশনাল (Divisional) কাঠামোর সমন্বয়ে গঠিত, যাতে দক্ষতা ও নমনীয়তা একসাথে অর্জন করা যায়।

 Matrix Structure-এর বৈশিষ্ট্য:
- দ্বৈত কর্তৃত্ব (Dual Authority): কর্মী ফাংশনাল ও প্রজেক্ট ম্যানেজার উভয়ের অধীনে কাজ করে
- উদ্দেশ্যভিত্তিক দল: নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা প্রকল্পের জন্য দল গঠন
- সম্পদ ভাগাভাগি: দক্ষতা ও প্রযুক্তি বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যবহার করা যায়
- যোগাযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধি: বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় সহজ হয়

২৭.
নেতৃত্বের উদ্দেশ্য-মুখী (Path-Goal)তত্ত্বের উদ্ভাবক কে?
  1. এফ ই ফিডলার
  2. রবার্ট জে হাউস
  3. সি আই বার্নার্ড
  4. মার্শাল হার্টস
সঠিক উত্তর:
রবার্ট জে হাউস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবার্ট জে হাউস
ব্যাখ্যা

Path-Goal Theory হলো একটি উদ্দেশ্য-মুখী নেতৃত্ব তত্ত্ব, যা Robert J. House ১৯৭১ সালে প্রবর্তন করেন। এই তত্ত্বটি Victor Vroom-এর Expectancy Theory-এর উপর ভিত্তি করে গঠিত।

 মূল ধারণা:
নেতার কাজ হলো—
- কর্মীদের লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করা
- সেই লক্ষ্য অর্জনের পথ পরিষ্কার করা
- বাধা দূর করে কর্মীদের অনুপ্রাণিত করা

 চারটি নেতৃত্ব ধারা:
1. Directive Leadership – কাজের নির্দেশনা ও কাঠামো প্রদান  
2. Supportive Leadership – সহানুভূতিশীল ও সহায়ক আচরণ  
3. Participative Leadership – সিদ্ধান্ত গ্রহণে কর্মীদের অংশগ্রহণ  
4. Achievement-Oriented Leadership – উচ্চ লক্ষ্য নির্ধারণ ও আত্মবিশ্বাস জাগানো

 এই তত্ত্বে নেতৃত্বের ধরণ পরিস্থিতি ও কর্মীদের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।

২৮.
লিন ম্যানেজমেন্ট কী?
  1. অপচয় দূর করে দক্ষতা বৃদ্ধি
  2. ব্যয় সংকোচন
  3. নমনীয় উৎপাদনে ব্যবস্থা
  4. মজুদ ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
অপচয় দূর করে দক্ষতা বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপচয় দূর করে দক্ষতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

Lean Management হলো একটি প্রক্রিয়াভিত্তিক ব্যবস্থাপনা দর্শন, যার মূল লক্ষ্য হলো—  
 “অপচয় কমিয়ে সর্বোচ্চ মূল্য প্রদান”

এই পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠান এমনভাবে কাজ করে যাতে অপ্রয়োজনীয় কাজ, সময়, ও সম্পদের অপচয় দূর হয়, এবং গ্রাহক ও উৎপাদনের জন্য সর্বোচ্চ কার্যকারিতা অর্জন করা যায়।

• Lean Management-এর মূল নীতিমালা:
1. Value নির্ধারণ: গ্রাহকের দৃষ্টিতে কোন কাজ বা ফিচার মূল্যবান
2. Value Stream Mapping: কোন ধাপে অপচয় হচ্ছে তা চিহ্নিত করা
3. Flow তৈরি: কাজের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা
4. Pull System: চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন
5. Continuous Improvement (Kaizen): নিয়মিত উন্নয়ন ও অপচয় হ্রাস

 Lean Management মূলত Toyota Production System থেকে উদ্ভূত, এবং এটি উৎপাদন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সফটওয়্যার উন্নয়ন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

২৯.
প্রতিষ্ঠানের এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে অধিক দায়িত্বপূর্ণ পদে বদলী করলে তা-
  1. উলম্ব পদোন্নতি
  2. শুষ্ক পদোন্নতি
  3. সমান্তরাল পদোন্নতি
  4. খাড়াখাড়ি পদোন্নতি
সঠিক উত্তর:
উলম্ব পদোন্নতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উলম্ব পদোন্নতি
ব্যাখ্যা

“প্রতিষ্ঠানের এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে অধিক দায়িত্বপূর্ণ পদে বদলীকরলে”—এই বাক্যে দুটি বিষয় স্পষ্ট:

1. বিভাগ পরিবর্তন হয়েছে  
2. পদটি অধিক দায়িত্বপূর্ণ অর্থাৎ উচ্চতর স্তরের

 এই দুইটি মিলিয়ে এটি উলম্ব পদোন্নতির সংজ্ঞার সাথে মিলে যায়, যেখানে একজন কর্মীকে উচ্চতর দায়িত্ব, ক্ষমতা ও মর্যাদাসম্পন্ন পদে উন্নীত করা হয়।

- উলম্ব পদোন্নতি (Vertical Promotion)
উলম্ব পদোন্নতি হলো এমন পরিবর্তন, যেখানে:

- কর্মীর পদমর্যাদা বৃদ্ধি পায়  
- দায়িত্ব, কর্তৃত্ব, ও বেতন সাধারণত বাড়ে  
- এটি উর্ধ্বমুখী অগ্রগতি, যেমন: সহকারী ব্যবস্থাপক → ব্যবস্থাপক

➡ যদি বিভাগ পরিবর্তন হয়, কিন্তু নতুন পদটি উচ্চতর স্তরের, তাহলে সেটি উলম্ব পদোন্নতি হিসেবেই গণ্য হয়।

৩০.
ভ্রুমের প্রেষনা তত্ত্বে 'Expectancy' বলতে কী বুঝায়?
  1. সাংগঠনিক পুরস্কার
  2. বিশ্বাস ও কর্ম ক্ষমতা তৈরী করে
  3. বিশ্বাস ও ফলাফল তৈরী করে
  4. ফলাফলের মূল্য
সঠিক উত্তর:
বিশ্বাস ও কর্ম ক্ষমতা তৈরী করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বাস ও কর্ম ক্ষমতা তৈরী করে
ব্যাখ্যা

Expectancy Theory (Victor Vroom)- 
Victor Vroom-এর Expectancy Theory of Motivation অনুযায়ী, একজন কর্মী তখনই কাজ করতে উৎসাহিত হন, যখন তিনি বিশ্বাস করেন যে:

1. চেষ্টা করলে ভালো কর্মক্ষমতা অর্জন করবেন (Expectancy)  
2. ভালো কর্মক্ষমতা হলে পুরস্কার পাবেন (Instrumentality)  
3. পুরস্কারটি তাঁর কাছে মূল্যবান (Valence)

Expectancy বলতে কী বোঝায়?

➡ Expectancy হলো কর্মীর সেই বিশ্বাস, যে তিনি যদি পর্যাপ্ত চেষ্টা করেন, তাহলে তিনি চাকরির দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে পারবেন।

 এটি নির্ভর করে:
- পূর্ব অভিজ্ঞতা, 
- আত্মবিশ্বাস,
- প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ,
- পর্যাপ্ত সম্পদ ও সহায়তা।
 তাই "Expectancy" = বিশ্বাস + কর্মক্ষমতা অর্জনের সম্ভাবনা

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ
(ক) সাংগঠনিক পুরস্কার:  
➡ এটি Instrumentality-র অংশ

(গ) বিশ্বাস ও ফলাফল তৈরী করে:  
➡ আংশিকভাবে সঠিক, কিন্তু ফলাফল নয়, বরং ক্ষমতা অর্জনের বিশ্বাস Expectancy বোঝায়

(ঘ) ফলাফলের মূল্য:  
➡ এটি Valence বোঝায়—পুরস্কারের প্রতি ব্যক্তিগত আকর্ষণ

রেফারেন্স : Mindtools

৩১.
নিচের কোনটি কার্যকর সিদ্ধান্তের সংখ্যাত্মক কৌশল হিসাবে বিবেচিত হয়ে থাকে?
  1. সৃজনশীল চিন্তা
  2. স্বতঃ প্রবৃত্ত জ্ঞান
  3. পে-অফ ম্যাট্রিক্স
  4. অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞতা
সঠিক উত্তর:
পে-অফ ম্যাট্রিক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পে-অফ ম্যাট্রিক্স
ব্যাখ্যা

কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের কৌশলগুলিকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:

১. গুণগত (Qualitative) এবং
২. সংখ্যাত্মক (Quantitative)।

​সংখ্যাত্মক কৌশল (Quantitative Technique) হলো সেইসব পদ্ধতি, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংখ্যা, পরিসংখ্যান, গাণিতিক মডেল ও সম্ভাব্যতা ব্যবহার করে বিকল্পগুলির বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করে।

​গ) পে-অফ ম্যাট্রিক্স (Pay-off Matrix): এটি একটি সংখ্যাত্মক সরঞ্জাম। এটি একটি সারণী আকারে বিভিন্ন বিকল্প সিদ্ধান্তের অধীনে ভবিষ্যতে ঘটার সম্ভাব্য বিভিন্ন অবস্থার (States of Nature) সংখ্যাগত ফলাফল (Pay-off) বা মুনাফা প্রদর্শন করে। ব্যবস্থাপক এই সংখ্যাগুলি বিশ্লেষণ করে গাণিতিক উপায়ে সবচেয়ে অনুকূল বিকল্পটি নির্বাচন করতে পারেন।

​অন্যান্য অপশন
​ক) সৃজনশীল চিন্তা,
খ) স্বতঃ প্রবত্ত জ্ঞান এবং
ঘ) অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞতা: এই তিনটিই হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুণগত (Qualitative) কৌশল।

এগুলি মানুষের ব্যক্তিগত বিচার, প্রজ্ঞা, বা অন্তর্দৃষ্টির উপর নির্ভর করে, সংখ্যা বা গাণিতিক মডেলের উপর নয়।

৩২.
Cost Leadership কী?
  1. সর্ব নিম্ন খরচে পণ্য সরবরাহ করা
  2. প্রতিযোগিতা এড়ানো
  3. বাজারভিত্তিক ব্যবস্থাপনা
  4. দামের সাথে মানের সম্পর্ক
সঠিক উত্তর:
সর্ব নিম্ন খরচে পণ্য সরবরাহ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্ব নিম্ন খরচে পণ্য সরবরাহ করা
ব্যাখ্যা

কস্ট লিডারশিপ (Cost Leadership) হলো কৌশলগত ব্যবস্থাপনার একটি অন্যতম প্রধান কৌশল, যা হার্ভার্ড অধ্যাপক মাইকেল পোর্টার (Michael Porter) তাঁর "জেনারেটিক স্ট্র্যাটেজিস" মডেলে প্রস্তাব করেছিলেন।

​এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো:

​-- প্রতিযোগীদের তুলনায় সর্বনিম্ন উৎপাদন ব্যয় (Lowest Cost of Production) অর্জন করা।

​-- এই সর্বনিম্ন ব্যয় অর্জনের মাধ্যমে বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দামে (বা প্রতিযোগীদের তুলনায় কম দামে) পণ্য বা পরিষেবা সরবরাহ করা।

​এর ফলে, প্রতিষ্ঠানটি হয় বিশাল মার্কেট শেয়ার লাভ করতে পারে, নতুবা একই দামে বিক্রি করে প্রতিযোগীদের তুলনায় বেশি মুনাফা অর্জন করতে পারে।

৩৩.
'সার্ভেন্ট লিডারশীপ' সবচেয়ে বেশী কার্যকর নিচের কোন পরিস্থিতিতে?
  1. বোর্ড যখন শেয়ার হোল্ডারদের স্বার্থকে একমাত্র অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে।
  2. প্রতিষ্ঠানে যখন স্বল্প মেয়াদী মুনাফা অর্জনে বেশি মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।
  3. কর্মীরা যখন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব মানতে অস্বীকৃতি জানায়।
  4. প্রতিষ্ঠানে যখন নৈতিক সংকট বিরাজমান
সঠিক উত্তর:
প্রতিষ্ঠানে যখন নৈতিক সংকট বিরাজমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিষ্ঠানে যখন নৈতিক সংকট বিরাজমান
ব্যাখ্যা

Servant Leadership হলো এমন এক নেতৃত্বধারা, যেখানে নেতা:

➡ নিজের ক্ষমতা প্রয়োগের আগে কর্মীদের কল্যাণ, নৈতিকতা, ও মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দেন  
➡ নেতৃত্বের মূল উদ্দেশ্য হয় সেবা, সহানুভূতি, এবং নৈতিক পুনর্গঠন

কেন এটি নৈতিক সংকটে কার্যকর?
যখন প্রতিষ্ঠানে:
- বিশ্বাসহীনতা, দুর্নীতি, বা মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখা দেয়  
- কর্মীরা আস্থা হারায়, এবং নৈতিক দিকনির্দেশনা প্রয়োজন হয়  
- তখন Servant Leader:

  - সহানুভূতি ও সততার মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে আনেন  
  - মূল্যবোধভিত্তিক সংস্কৃতি পুনর্গঠন করেন  
  - দীর্ঘমেয়াদী বিশ্বাস ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করেন

➡ তাই নৈতিক সংকটের সময় Servant Leadership সবচেয়ে কার্যকর।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ
(ক) শেয়ারহোল্ডার-প্রাইমেসি বোর্ড: এখানে কেবল শেয়ারহোল্ডারের স্বার্থ যদি একমাত্র লক্ষ্য হয়, তাহলে সার্ভেন্ট লিডারশিপের নৈতিক ও মানুষ-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি সংঘাতের মধ্যে পড়ে।

(খ) স্বল্পমেয়াদী মুনাফা-ফোকাস: সার্ভেন্ট লিডারশিপ দীর্ঘমেয়াদি মূল্য ও কর্মী উন্নয়নে বিশ্বাস করে—শর্ট-টার্ম লাভে অতিরিক্ত জোর দিলে এর কার্যকারিতা কমে।

(গ) কর্মীরা যখন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব মানতে অস্বীকৃতি জানায়: নেতৃত্ব মানতে অস্বীকৃতির মূল কারণ হলো প্রায়শই নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা বা বৈধতার অভাব। সার্ভেন্ট লিডারশিপ বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে পারে, তবে এটি প্রাথমিকভাবে একটি কার্যকরতার পরিস্থিতি নয়, বরং একটি প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ যা অন্যান্য ধরনের নেতৃত্ব দিয়েও সমাধান করা যেতে পারে।

৩৪.
Job Evaluation এর মূল উদ্দেশ্য কি?
  1. ন্যায্য ও সমতা ভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রদান
  2. কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন ও প্রশিক্ষন
  3. প্রশিক্ষনের প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন
  4. কাজের মান ও কাঠামো নির্ধারন
সঠিক উত্তর:
ন্যায্য ও সমতা ভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যায্য ও সমতা ভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রদান
ব্যাখ্যা

Job Evaluation হলো একটি পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদের আপেক্ষিক মূল্য বা গুরুত্ব নির্ধারণ করা হয়।  

➡ এর মূল লক্ষ্য হলো ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত ও অভ্যন্তরীণভাবে সমতা ভিত্তিক বেতন কাঠামো তৈরি করা।

Job Evaluation-এর মূল উদ্দেশ্য:

- ন্যায্য বেতন কাঠামো তৈরি:  
  ➤ একই ধরনের কাজের জন্য সমান বেতন নিশ্চিত করা  
  ➤ অভ্যন্তরীণ বেতন বৈষম্য দূর করা

- পদের গুরুত্ব নির্ধারণ:  
  ➤ কোন পদ কতটা দায়িত্বপূর্ণ ও জটিল, তা বিশ্লেষণ করা

- বেতন নির্ধারণে সহায়তা:  
  ➤ প্রতিটি পদের জন্য উপযুক্ত বেতন স্কেল নির্ধারণ

- প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা বজায় রাখা:  
  ➤ কর্মীদের মধ্যে ন্যায্যতা ও সন্তুষ্টি বৃদ্ধি

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ
(খ) কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন ও প্রশিক্ষণ:  
➡ এটি Performance Appraisal ও Training Need Assessment-এর অংশ

(গ) প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন:  
➡ এটি Training & Development বিভাগের কাজ

(ঘ) কাজের মান ও কাঠামো নির্ধারণ:  
➡ এটি Job Analysis-এর কাজ, যা Job Evaluation-এর পূর্বধাপ

রেফারেন্স
- Armstrong, M. – A Handbook of Human Resource Management Practice

৩৫.
প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে কোন নিয়ন্ত্রন কৌশল উত্তম?
  1. সংখ্যাত্বক উপাত্ত বিশ্লেষণ
  2. বিশেষ প্রতিবেদন বিশ্লেষণ
  3. ব্যাক্তিগত পর্যবেক্ষন
  4. আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা
সঠিক উত্তর:
আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা
ব্যাখ্যা

আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা হলো একটি স্বতন্ত্র ও উদ্দেশ্যভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি, যা প্রতিষ্ঠানের:

- অর্থনৈতিক কার্যক্রম  
- নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা  
- নীতিমালা ও প্রক্রিয়া  
- ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও শাসন কাঠামো

এসবের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা যাচাই করে।

 কেন এটি স্বচ্ছতা ও গতিশীলতার জন্য উত্তম?

- স্বচ্ছতা:  
  ➤ অনিয়ম, দুর্নীতি, বা ভুল হিসাব চিহ্নিত করে  
  ➤ তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রদান করে

- গতিশীলতা:  
  ➤ প্রক্রিয়াগত দুর্বলতা চিহ্নিত করে  
  ➤ উন্নয়নমূলক সুপারিশ দেয়  
  ➤ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে

➡ এটি নিয়মিত ও কাঠামোগত মূল্যায়ন হওয়ায়, প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী দক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।

 অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ

(ক) সংখ্যাত্বক উপাত্ত বিশ্লেষণ:  
➡ এটি সহায়ক টুল, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ কৌশল নয়

(খ) বিশেষ প্রতিবেদন বিশ্লেষণ:  
➡ এটি নিরীক্ষার অংশ, কিন্তু স্বতন্ত্র কৌশল নয়

(গ) ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ:  
➡ এটি অনানুষ্ঠানিক ও সীমিত, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নয়

৩৬.
Organizational Development কোন বিষয়কে প্রাধান্য দেয়?
  1. প্রক্রিয়া, সম্পর্ক, ও কর্ম সংস্কৃতির দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন
  2. আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় হ্রাস
  3. কর্ম সম্পর্ক ও কর্ম পরিবেশ সম্পর্কে টেকসই উন্নয়ন
  4. মানব সম্পদের পরিপূর্ণ ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
প্রক্রিয়া, সম্পর্ক, ও কর্ম সংস্কৃতির দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রক্রিয়া, সম্পর্ক, ও কর্ম সংস্কৃতির দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

Organizational Development হলো একটি পরিকল্পিত, কাঠামোগত পরিবর্তন প্রক্রিয়া, যার লক্ষ্য:

➡ প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কার্যকারিতা, কর্ম সংস্কৃতি, ও আন্তঃসম্পর্কের উন্নয়ন  
➡ এটি দীর্ঘমেয়াদী এবং মানবিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন-কে কেন্দ্র করে

 OD-এর মূল ফোকাস:

- প্রক্রিয়া উন্নয়ন:  
  ➤ কাজের ধারা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ও সমস্যা সমাধান পদ্ধতির উন্নয়ন

- সম্পর্ক উন্নয়ন:  
  ➤ কর্মীদের মধ্যে বিশ্বাস, সহযোগিতা, ও দলগত কাজের মান বৃদ্ধি

- সংস্কৃতি পরিবর্তন:  
  ➤ মূল্যবোধ, আচরণ, ও নেতৃত্বের ধরণে ইতিবাচক পরিবর্তন

➡ এই তিনটি বিষয়ই সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী সক্ষমতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।

Source: OD Network 

৩৭.
নিচের কোনটি অন্তর্জাত (Intrinsic) পুরস্কার?
  1. বোনাস
  2. পরিবহন সুবিধা
  3. সক্ষমতা অর্জনের জন্য সুযোগ সৃষ্টি
  4. কাজের উত্তম পরিবেশ
সঠিক উত্তর:
সক্ষমতা অর্জনের জন্য সুযোগ সৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সক্ষমতা অর্জনের জন্য সুযোগ সৃষ্টি
ব্যাখ্যা

পুরস্কার বা প্রণোদনাকে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা হয়: অন্তর্জাত (Intrinsic) এবং বহির্জাত (Extrinsic)।

​অন্তর্জাত পুরস্কার (Intrinsic Rewards)
​অন্তর্জাত পুরস্কার হলো সেইসব পুরষ্কার যা ব্যক্তির অভ্যন্তর থেকে আসে এবং যা কাজটি সম্পাদনের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। এই পুরস্কারগুলি কর্মীর মনস্তাত্ত্বিক সন্তুষ্টি এবং অভ্যন্তরীণ প্রেরণা বৃদ্ধি করে।

​গ) সক্ষমতা অর্জনের জন্য সুযোগ সৃষ্টি: এই সুযোগ পেলে কর্মী কাজটি করে ব্যক্তিগতভাবে সন্তুষ্ট হন, নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন এবং স্ব-মূল্যায়ন বৃদ্ধি পায়। এই অনুভূতি সরাসরি কাজের মধ্যে থেকে আসে, তাই এটি একটি অন্তর্জাত পুরস্কার।

​বহির্জাত পুরস্কার (Extrinsic Rewards)
​বহির্জাত পুরস্কার হলো সেইসব সুবিধা যা বাইরের কোনো উৎস (যেমন: সংস্থা বা ব্যবস্থাপক) থেকে আসে এবং যা কাজটি সম্পন্ন করার বিনিময়ে প্রদান করা হয়। এইগুলি সাধারণত স্পর্শযোগ্য (Tangible) বা দৃশ্যমান সুবিধা।

​ক) বোনাস: একটি আর্থিক সুবিধা, যা কর্মীর বাইরে থেকে দেওয়া হয়। (বহির্জাত)
​খ) পরিবহন সুবিধা: একটি সুযোগ-সুবিধা বা ভাতা, যা সংস্থা প্রদান করে। (বহির্জাত)
​ঘ) কাজের উত্তম পরিবেশ: এটি একটি পরিবেশগত সুবিধা, যা কাজের শর্তাবলীর অংশ। (বহির্জাত)

৩৮.
একটি বহুজাতিক কোম্পানী ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক শুধু সফটওয়্যার না বরং কর্মীদের মানসিকতা, দক্ষতা ও সংস্কৃতির পরিবর্তনও আনতে চান। এটি কোন ধরনের নেতৃত্বকে প্রতিফলিত করে?
  1. লেনদেনমূলক (Transactional)
  2. রূপান্তর মূলক (Transformational)
  3. সেবামূলক (Servant)
  4. লেইসেজ ফেয়ার মূলক (Laissez-faire)
সঠিক উত্তর:
রূপান্তর মূলক (Transformational)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপান্তর মূলক (Transformational)
ব্যাখ্যা

রূপান্তরমূলক নেতৃত্ব (Transformational Leadership) এমন একটি নেতৃত্বধারা যেখানে নেতা:

- শুধু কার্যসম্পাদন বা সফটওয়্যার প্রয়োগে সীমাবদ্ধ থাকেন না  
- বরং কর্মীদের মানসিকতা, দক্ষতা, ও সাংগঠনিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে সচেষ্ট হন  
- দৃষ্টিভঙ্গি, অনুপ্রেরণা, ও দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আনেন

 প্রশ্নে উল্লেখিত ডিজিটালাইজেশন + মানসিকতা ও সংস্কৃতির পরিবর্তন—এই সমন্বয়ই Transformational Leadership-এর নিখুঁত উদাহরণ।

Transformational Leadership-এর বৈশিষ্ট্য:- Visionary Thinking: ভবিষ্যৎমুখী পরিকল্পনা  
- Employee Empowerment: কর্মীদের বিকাশে উৎসাহ  
- Cultural Shift: প্রতিষ্ঠানের মূল্যবোধ ও আচরণে পরিবর্তন  
- Innovation Drive: নতুন প্রযুক্তি ও পদ্ধতি গ্রহণে নেতৃত্ব

Source: Harvard Business Review 

৩৯.
BCG Matrix এর 'Star' বলতে কী বুঝায়?
  1. অধিক দাম কম মুনাফা
  2. উর্ধ্ব প্রবৃদ্ধি বাজারে উচ্চ বাজার শেয়ার
  3. নিম্ন প্রবৃদ্ধি বাজারে উচ্চ বাজার শেয়ার
  4. কম দাম, অধিক মুনাফা
সঠিক উত্তর:
উর্ধ্ব প্রবৃদ্ধি বাজারে উচ্চ বাজার শেয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উর্ধ্ব প্রবৃদ্ধি বাজারে উচ্চ বাজার শেয়ার
ব্যাখ্যা

BCG Matrix (Boston Consulting Group Matrix) হলো একটি পণ্য বা ব্যবসা ইউনিট বিশ্লেষণ পদ্ধতি, যা দুটি মাত্রায় মূল্যায়ন করে:

1. বাজার প্রবৃদ্ধির হার (Market Growth Rate)  
2. বাজারে শেয়ার (Relative Market Share)

 এই ম্যাট্রিক্সে চারটি কোষ থাকে:  
Star, Cash Cow, Question Mark, Dog

 'Star' এর বৈশিষ্ট্য:

- উচ্চ বাজার প্রবৃদ্ধি  
- উচ্চ বাজার শেয়ার  
- প্রতিষ্ঠানকে বড় বিনিয়োগ করতে হয়, কারণ বাজার দ্রুত বাড়ছে  
- ভবিষ্যতে Cash Cow-এ রূপান্তরিত হতে পারে

 এটি উন্নয়নশীল ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী অবস্থান নির্দেশ করে।

৪০.
নিচের কোনটি সমন্বয় সাধনের নীতি নয়?
  1. আদেশের ঐক্য
  2. নির্দেশনার ঐক্য
  3. নমনীয়তার নীতি
  4. দলীয় সমঝোতার নীতি
সঠিক উত্তর:
নমনীয়তার নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নমনীয়তার নীতি
ব্যাখ্যা

সমন্বয় (Coordination) হলো ব্যবস্থাপনার একটি মৌলিক কার্য, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ, কর্মী ও কার্যক্রমকে একটি অভিন্ন লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করা হয়। Fayol এবং অন্যান্য ব্যবস্থাপনা চিন্তাবিদরা সমন্বয় সাধনের জন্য কিছু নির্দিষ্ট নীতি উল্লেখ করেছেন।  

 সমন্বয় সাধনের মূল নীতিগুলো

আদেশের ঐক্য (Unity of Command):  
  ➤ একজন কর্মী কেবল একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ পালন করবে। এতে বিভ্রান্তি ও দ্বৈত আদেশ এড়ানো যায়।  

নির্দেশনার ঐক্য (Unity of Direction):  
  ➤ একই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সব কার্যক্রম একটি পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের অধীনে পরিচালিত হবে।  

দলীয় সমঝোতা (Team Spirit / Esprit de Corps):  
  ➤ কর্মীদের মধ্যে সহযোগিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্য বজায় রাখা হবে।  

 এগুলোই সমন্বয় সাধনের মূল নীতি হিসেবে স্বীকৃত। 

নমনীয়তার নীতি (Flexibility) কেন নয়?

- নমনীয়তা হলো ব্যবস্থাপনার একটি গুণ বা বৈশিষ্ট্য, যা পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে অভিযোজনের ক্ষমতা বোঝায়।  
- এটি Contingency Approach বা Adaptive Management-এর সাথে সম্পর্কিত।  
- কিন্তু এটি সমন্বয় সাধনের নির্দিষ্ট নীতি নয়।  

৪১.
একজন ব্যবস্থাপক ব্যাক্তিগত সম্পর্কের জেরে প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকারী নির্বাচন করেছেন। কিন্তু প্রকল্পটি যথাসময়ে এবং সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখানে কোন নৈতিক অবস্থান ক্ষুন্ন হয়েছে বলে মনে করেন?
  1. সামাজিক দায়বদ্ধতা
  2. সততা ও স্বচ্ছতা
  3. স্বার্থ-সংক্রান্ত সংঘাত
  4. ন্যায়বিচার
সঠিক উত্তর:
স্বার্থ-সংক্রান্ত সংঘাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বার্থ-সংক্রান্ত সংঘাত
ব্যাখ্যা

যখন একজন ব্যবস্থাপক ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে সরবরাহকারী নির্বাচন করেন, তখন:

- তিনি নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের উপরে স্থান দেন  
- যদিও প্রকল্পটি সফল হয়েছে, তবুও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় পক্ষপাত ঘটেছে  
- এতে সততা, স্বচ্ছতা, এবং ন্যায্য প্রতিযোগিতা বিঘ্নিত হয়

➡ এই পরিস্থিতি Conflict of Interest-এর স্পষ্ট উদাহরণ, কারণ ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে সিদ্ধান্তে প্রভাব পড়েছে।

Conflict of Interest-এর লক্ষণ:

- ব্যক্তিগত লাভ বা সম্পর্কের কারণে পেশাগত সিদ্ধান্তে প্রভাব  
- প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের বিপরীতে ব্যক্তিগত পক্ষপাত  
- স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রশ্নবিদ্ধতা

➡ এমনকি যদি প্রকল্প সফল হয়, তবুও নৈতিক অবস্থান ক্ষুন্ন হয় কারণ প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় থাকে না।


অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ

(ক) সামাজিক দায়বদ্ধতা:  
➡ এটি বহির্বিশ্বের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব, যেমন পরিবেশ, সমাজ, ইত্যাদি

(খ) সততা ও স্বচ্ছতা:  
➡ এটি আংশিকভাবে প্রভাবিত, কিন্তু মূল সমস্যা স্বার্থের সংঘাত

(ঘ) ন্যায়বিচার:  
➡ এটি বিচারিক বা নীতিগত সমতা বোঝায়, তবে এখানে নির্বাচন প্রক্রিয়ার পক্ষপাতই মুখ্য

৪২.
সীমাবদ্ধ যৌক্তিকতা কি?
  1. বিদ্যমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ
  2. ভবিষ্যত অবস্থা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ
  3. নমনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহ
  4. গ্রহনযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ
সঠিক উত্তর:
গ্রহনযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রহনযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ
ব্যাখ্যা

সীমাবদ্ধ যৌক্তিকতা (Bounded Rationality)

​সীমাবদ্ধ যৌক্তিকতা (Bounded Rationality)  অর্থনীতিবিদ হার্বার্ট সাইমন (Herbert Simon) দ্বারা প্রবর্তিত একটি বৈপ্লবিক ধারণা, যা চিরায়ত অর্থনৈতিক তত্ত্বের এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে যে মানুষ সব সময় সম্পূর্ণ যৌক্তিক (Perfectly Rational) সিদ্ধান্ত নেয়।

ধারণার মূল ভিত্তি ও যুক্তি
​সাইমনের যুক্তি অনুসারে, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী মানুষ যখন কোনো সমস্যা বা পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তখন তাদের যৌক্তিকতা বাস্তবে নিম্নলিখিত সীমাবদ্ধতা দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়:

​   জ্ঞানীয় সীমাবদ্ধতা (Cognitive Limitations): মানুষের মস্তিষ্ক সব বিকল্প তথ্য বিশ্লেষণ করার জন্য পর্যাপ্ত শক্তিশালী নয়।

​   সময় ও ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা (Time and Cost Constraints): সব বিকল্প খুঁজে বের করতে এবং মূল্যায়ন করতে যে সময় ও খরচ হয়, তা প্রায়শই বাস্তবসম্মত নয়।

​   তথ্যের সীমাবদ্ধতা (Information Limitations): সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা এবং প্রক্রিয়া করা অসম্ভব।

ফলাফল: সন্তোষজনক সিদ্ধান্ত (Satisficing)
​এই সীমাবদ্ধতার ফলস্বরূপ, মানুষ আদর্শগতভাবে সর্বোত্তম (Optimal) বা নিখুঁত সিদ্ধান্ত নেয় না। বরং তারা এমন একটি সিদ্ধান্ত খুঁজে বের করে যা পর্যাপ্ত পরিমাণে ভালো বা গ্রহণযোগ্য (Acceptable)। এই প্রক্রিয়াটিকে সাইমন "Satisficing" বলে অভিহিত করেছেন।

​Satisficing: এই শব্দটি এসেছে দুটি শব্দের সমন্বয়ে: Satisfying (সন্তোষজনক) এবং Sufficing (পর্যাপ্ত)। এটি নির্দেশ করে যে ব্যবস্থাপকরা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা সব বিকল্প খোঁজার পরিবর্তে প্রথম যে বিকল্পটি খুঁজে পান যা তাদের আকাঙ্ক্ষার স্তর (Aspiration Level) পূরণ করে, সেটিকেই বেছে নেন।

গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ: এটি সরাসরি Satisficing-কে বোঝায়। মানুষের সীমাবদ্ধতা থাকায়, তারা নিখুঁত সেরা সিদ্ধান্ত না নিয়ে কেবল গ্রহণযোগ্য সমাধান গ্রহণ করে। এটিই সাইমনের তত্ত্বের কেন্দ্রীয় বিষয়।

অপশন বিশ্লেষণ 
ক) বিদ্যমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ: এটি একটি সাধারণ প্রক্রিয়া, কিন্তু সীমাবদ্ধ যৌক্তিকতার বিশেষত্ব নয়। যৌক্তিক বা অযৌক্তিক উভয় সিদ্ধান্তই বর্তমান অবস্থার ভিত্তিতে নেওয়া হতে পারে।

​খ) ভবিষ্যৎ অবস্থা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ: এটি মূলত কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ বা দূরদর্শিতার পরিচায়ক। এটি যৌক্তিকতার সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে না।

​গ) নমনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ: এটি সিদ্ধান্তের একটি গুণ বা বৈশিষ্ট্য (যা পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে), কিন্তু এটি সেই প্রক্রিয়া নয় যার মাধ্যমে সীমাবদ্ধ যৌক্তিকতা কাজ করে।

৪৩.
ব্যাবস্থাপনাকে একটি সামাজিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হলে নিচের কোন বিষয়টির উপর পুরুত্ব আরোপ করা হয়?
  1. পুজির সঠিক ব্যবাহার
  2. কর্ম দক্ষতা ও সংগঠনের শৃংখলা বজায় রাখা
  3. মানবসম্পদ ও পারস্পরিক সম্পর্ক
  4. পরিবেশের মানোন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
মানবসম্পদ ও পারস্পরিক সম্পর্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানবসম্পদ ও পারস্পরিক সম্পর্ক
ব্যাখ্যা

ব্যাবস্থাপনাকে যখন একটি সামাজিক প্রক্রিয়া (Social Process) হিসেবে দেখা হয়, তখন এর মূল মনোযোগ কর্মীদের বা মানুষের উপর নিবদ্ধ হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গির প্রবক্তারা মনে করেন যে, একটি প্রতিষ্ঠান কেবল যন্ত্রপাতি ও পুঁজির সমষ্টি নয়, বরং এটি বিভিন্ন ধরনের মানুষ ও তাদের সম্পর্কের সমন্বয়ে গঠিত।

​এই দৃষ্টিভঙ্গিতে যে বিষয়গুলির উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়:

​মানবসম্পদ (Human Resources): কর্মীদের প্রয়োজন, প্রেরণা (motivation), সন্তুষ্টি (satisfaction) এবং উন্নয়ন (development) হলো প্রধান বিবেচ্য বিষয়। লক্ষ্য থাকে কর্মীদের সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো।

​পারস্পরিক সম্পর্ক (Interpersonal Relationships): ব্যবস্থাপক এবং কর্মীদের মধ্যে, এবং কর্মীদের নিজেদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ, বোঝাপড়া এবং দলগত সংহতি (team cohesion) তৈরি করা। প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে এই সম্পর্কগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

​সংক্ষেপে, সামাজিক প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যবস্থাপনা মানবীয় উপাদান এবং তার গতিশীল আন্তঃসম্পর্ককে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়, যা প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ এবং ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলে।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ

(ক) পুঁজির সঠিক ব্যবহার:  
➡ এটি অর্থনৈতিক বা কারিগরি দৃষ্টিভঙ্গি, সামাজিক নয়

(খ) কর্ম দক্ষতা ও শৃঙ্খলা:  
➡ এটি প্রশাসনিক বা নিয়ন্ত্রণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি, সামাজিক নয়

(ঘ) পরিবেশের মানোন্নয়ন:  
➡ এটি Corporate Social Responsibility (CSR)-এর অংশ, কিন্তু সামাজিক প্রক্রিয়ার মূল ফোকাস নয়

৪৪.
ফিডলারের মতে কোন পরিস্থিতিতে কর্মমুখী নেতা বেশী কার্যকর?
  1. সবসময় 
  2. কখনই নয়
  3. অত্যন্ত অনুকূল বা অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে
  4. যখন পরিস্থিতি নেতার প্রতি কর্মীদের ঘৃণার উদ্রেক করে
সঠিক উত্তর:
অত্যন্ত অনুকূল বা অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অত্যন্ত অনুকূল বা অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে
ব্যাখ্যা

ফিডলারের পরিস্থিতিনির্ভর নেতৃত্ব তত্ত্ব (Fiedler's Contingency Theory)

Fred Fiedler-এর মতে, নেতৃত্বের কার্যকারিতা নির্ভর করে নেতার ধরন এবং পরিস্থিতির প্রকৃতি-র উপর।  
তিনি দুই ধরনের নেতার কথা বলেন:

1. কর্মমুখী নেতা (Task-oriented leader)  
2. সম্পর্কমুখী নেতা (Relationship-oriented leader)

 কর্মমুখী নেতা কার্যকর হয় যখন:

- পরিস্থিতি অত্যন্ত অনুকূল (যেখানে নেতা কর্তৃত্বপূর্ণ, কাজ স্পষ্ট, ও দল অনুগত)  
- অথবা অত্যন্ত প্রতিকূল (যেখানে কাজ জটিল, সম্পর্ক দুর্বল, ও কর্তৃত্ব সীমিত)

 এই দুই চরম পরিস্থিতিতে কর্মমুখী নেতা কাজের প্রতি মনোযোগ দিয়ে উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে পারেন।

Source: Mindtools

৪৫.
'Forced Distribution' পদ্ধতি কী?
  1. শ্রেণী ভিত্তিক রেটিং
  2. সহকর্মীদের দ্বারা মূল্যায়ন
  3. কর্মীদের নির্দিষ্ট কর্ম দক্ষতার শ্রেণীতে ভাগ করা
  4. শ্রেণীবিহীন ধারাবাহিক মূল্যায়ন
সঠিক উত্তর:
কর্মীদের নির্দিষ্ট কর্ম দক্ষতার শ্রেণীতে ভাগ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মীদের নির্দিষ্ট কর্ম দক্ষতার শ্রেণীতে ভাগ করা
ব্যাখ্যা

Forced Distribution Method হলো একটি Performance Appraisal Technique, যেখানে কর্মীদের নির্দিষ্ট অনুপাত অনুযায়ী শ্রেণীতে ভাগ করা হয়—যেমন:

- শীর্ষ কর্মী (Top Performers)  
- গড় কর্মী (Average Performers)  
- দুর্বল কর্মী (Low Performers)

 এটি Bell Curve বা Normal Distribution-এর ভিত্তিতে তৈরি, যেখানে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মীকে উচ্চ, মধ্য, ও নিম্ন শ্রেণীতে জোরপূর্বক ফেলা হয়।

Forced Distribution-এর বৈশিষ্ট্য:
- Objective Ranking:  
  ➤ ব্যক্তিগত পক্ষপাত কমানো হয়

- Fixed Percentage Allocation:  
  ➤ যেমন: 10% শ্রেষ্ঠ, 70% গড়, 20% দুর্বল

- High-stakes Decisions:  
  ➤ পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ, বা চাকরি বাতিলের ভিত্তি হতে পারে

৪৬.
কোন আইনটি কর্মচারীদের ক্ষতিপূরণ সংশ্লিষ্ট?
  1. বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬
  2. সরকারী কর্মচারী আইন ২০১৮
  3. কোম্পানী আইন ১৯৯৪
  4. ব্যাংক কোম্পানী বিধি ২০০৩
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এ কর্মচারীদের জন্য ক্ষতিপূরণ (Compensation) সম্পর্কিত বিস্তারিত বিধান রয়েছে। এই আইনের কিছু অংশ কর্মচারীদের আহত বা অসুস্থ হলে বা কর্মস্থলে মৃত্যু হলে মালিক কর্তৃক প্রদেয় ক্ষতিপূরণ (যেমন: আঘাতজনিত বা পেশাগত রোগের ক্ষতিপূরণ) নিয়ে আলোচনা করে। এটি বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য প্রধান আইন।

৪৭.
হফস্টিডের সাংস্কৃতিক মাত্রা (Cultural Dimension) তত্ত্বে কোন মাত্রাটি নেই?
  1. ক্ষমতার দূরত্ব
  2. ব্যাক্তিবাদ/সমষ্টিবাদ
  3. অনিশ্চয়তা পরিহার
  4. ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক পার্থক্য
সঠিক উত্তর:
ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক পার্থক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক পার্থক্য
ব্যাখ্যা

হফস্টিডের সাংস্কৃতিক মাত্রা তত্ত্ব (Hofstede’s Cultural Dimensions Theory)

Geert Hofstede বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক পার্থক্য বিশ্লেষণ করতে ছয়টি মাত্রা নির্ধারণ করেন, যা মূলত সংগঠন ও সমাজে মানুষের আচরণ ও মূল্যবোধ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

 হফস্টিডের ছয়টি সাংস্কৃতিক মাত্রা:
1. Power Distance (ক্ষমতার দূরত্ব):  
   কতটা অসমতা সমাজে গ্রহণযোগ্য—উচ্চ বা নিম্ন ক্ষমতার ব্যবধান।

2. Individualism vs. Collectivism (ব্যক্তিবাদ বনাম সমষ্টিবাদ):  
   ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য বনাম গোষ্ঠীভিত্তিক সম্পর্কের গুরুত্ব।

3. Uncertainty Avoidance (অনিশ্চয়তা পরিহার):  
   অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি মোকাবেলায় সমাজের সহনশীলতা।

4. Masculinity vs. Femininity:  
   প্রতিযোগিতা ও অর্জন বনাম যত্ন ও সহযোগিতার প্রতি ঝোঁক।

5. Long-Term vs. Short-Term Orientation:  
   ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বনাম অতীত ও বর্তমানের প্রতি মনোযোগ।

6. Indulgence vs. Restraint:  
   আনন্দ ও চাহিদা পূরণের স্বাধীনতা বনাম নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা।

৪৮.
'জেড' তত্ত্বের জনক কে?
  1. উইলিয়াম ওচি
  2. হ্যারল্ড কুঞ্জ
  3. রবার্ট ওয়েন
  4. ম্যাক্স ওয়েবার
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম ওচি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম ওচি
ব্যাখ্যা

Theory Z একটি ব্যবস্থাপনা তত্ত্ব যা জাপানি ও আমেরিকান ব্যবস্থাপনা দর্শনের সমন্বয়ে গঠিত। এটি William Ouchi কর্তৃক ১৯৮১ সালে প্রবর্তিত হয় তাঁর বই “Theory Z: How American Business Can Meet the Japanese Challenge”-এ।

 Theory Z-এর মূল বৈশিষ্ট্য:
- দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান
- কর্মীদের কল্যাণ ও সুখের প্রতি গুরুত্ব
- সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ (Consensus Decision Making)
- দলগত কাজ ও পারস্পরিক আস্থা
- সংগঠনের প্রতি কর্মীদের আনুগত্য বৃদ্ধি

 Ouchi বিশ্বাস করতেন—জাপানি কোম্পানিগুলোর সফলতার মূল রহস্য প্রযুক্তি নয়, বরং মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার বিশেষ কৌশল।

৪৯.
নীচের কোনটি পরোক্ষ ক্ষতিপূরনের উদাহরণ?
  1. মূল বেতন
  2. স্বাস্থ্য বীমা
  3. কমিশন 
  4. বোনাস
সঠিক উত্তর:
স্বাস্থ্য বীমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাস্থ্য বীমা
ব্যাখ্যা

পরোক্ষ ক্ষতিপূরণ হলো এমন সুবিধা যা কর্মী নগদ হিসেবে সরাসরি গ্রহণ করেন না, কিন্তু এটি তাদের মোট কর্মসংস্থান সুবিধার অংশ। এটি কর্মীদের কল্যাণ, নিরাপত্তা, এবং জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক।

 স্বাস্থ্য বীমা, পেনশন সুবিধা, অবকাশকালীন ছুটি, প্রশিক্ষণ সুবিধা ইত্যাদি পরোক্ষ ক্ষতিপূরণের উদাহরণ।

৫০.
কারখানার শ্রমিকদের কাজ নিয়ন্ত্রণে কোন পদ্ধতিটি উত্তম?
  1. আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা
  2. ব্যাক্তিগত পর্যবেক্ষণ
  3. বাজেট 
  4. ব্রেক-ইভেন বিন্দু বিশ্লেষন
সঠিক উত্তর:
ব্যাক্তিগত পর্যবেক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাক্তিগত পর্যবেক্ষণ
ব্যাখ্যা

কারখানার ফ্লোরে বা উৎপাদন পরিবেশে শ্রমিকদের কাজ (Manual Labor/Operations) নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ (Personal Observation) সবচেয়ে উত্তম এবং সরাসরি পদ্ধতি।

​সরাসরি তদারকি: একজন সুপারভাইজার বা ব্যবস্থাপক সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পারেন যে শ্রমিকরা সঠিকভাবে, মানসম্মত পদ্ধতি মেনে এবং নিরাপদভাবে কাজ করছে কিনা।

​তাৎক্ষণিক সংশোধন: পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ভুল বা ত্রুটিগুলি ধরা পড়ে এবং সাথে সাথেই সংশোধন বা প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, যা উৎপাদনের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

​কর্মক্ষমতা ও আচরণের মূল্যায়ন: এটি কেবল আউটপুট পরিমাপ করে না, বরং কর্মীর প্রচেষ্টা, মনোভাব এবং নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করছে কিনা—তাও মূল্যায়ন করতে সাহায্য করে।

​অন্যান্য পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা

​ক) আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা (Internal Audit): এটি মূলত আর্থিক, প্রক্রিয়াগত বা পদ্ধতিগত নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে, কিন্তু ফ্লোরে শ্রমিকের দৈনিক কাজের গতি, গুণমান বা আচরণ সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে না।

​গ) বাজেট (Budget): এটি একটি আর্থিক পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম। এটি সামগ্রিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু এটি সরাসরি শ্রমিকের কাজ বা প্রচেষ্টার গুণমান নিয়ন্ত্রণ করে না।

​ঘ) ব্রেক-ইভেন বিন্দু বিশ্লেষণ (Break-Even Analysis): এটি একটি কৌশলগত এবং আর্থিক বিশ্লেষণ সরঞ্জাম যা মুনাফা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন বিক্রয় বা উৎপাদন স্তর নির্ধারণ করে। এটি প্রত্যক্ষভাবে শ্রমিকের কাজের সাথে সম্পর্কিত নয়।

৫১.
মতানৈক্য দূরীকরনে ব্যাবস্থাপকের করনীয় কী?
  1. পরিকল্পনা 
  2. সংগঠন 
  3. সমন্বয় সাধন
  4. প্রেষণা
সঠিক উত্তর:
সমন্বয় সাধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমন্বয় সাধন
ব্যাখ্যা

মতানৈক্য সাধারণত কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন বিভাগের, ব্যক্তির, বা লক্ষ্য-প্রক্রিয়ার মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গি, উদ্দেশ্য, বা সম্পদের ব্যবহারে পার্থক্য থেকে সৃষ্টি হয়। একজন দক্ষ ব্যবস্থাপক এই মতানৈক্য দূর করতে পারেন সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে, কারণ:

 সমন্বয় সাধনের কার্যকর দিক:

- উদ্দেশ্য ও কাজের সামঞ্জস্যতা আনা: সবাই যেন একই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করে
- যোগাযোগের সেতুবন্ধন তৈরি: ভুল বোঝাবুঝি কমে, মতানৈক্য হ্রাস পায়
- সম্পদের সঠিক ব্যবহার: দ্বন্দ্ব কমে, উৎপাদনশীলতা বাড়ে
- দলগত কাজের পরিবেশ সৃষ্টি: পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা বাড়ে

➡ তাই মতানৈক্য দূরীকরণে Coordination-ই সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।

৫২.
কোন সভার সিদ্ধান্তক্রমে আদায়কৃত মূলধনের উপর শতকরা হারে লভ্যাংশ ঘোষণা ও বণ্টন  করা হয়?
  1. সাধারন সভা
  2. পরিচালকমন্ডলীর সভা
  3. শেয়ার মালিকদের সভা
  4. সাধারন ও পরিচালকমন্ডলীর যৌথ সভা
সঠিক উত্তর:
শেয়ার মালিকদের সভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেয়ার মালিকদের সভা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ অনুযায়ী লভ্যাংশ ঘোষণার প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করে থাকে।  

পরিচালকমণ্ডলীর ভূমিকা:  
   - পরিচালকমণ্ডলী (Board of Directors) প্রথমে কোম্পানির আর্থিক বিবরণী, মুনাফা ও রিজার্ভ বিশ্লেষণ করে।  
   - তারা একটি লভ্যাংশ প্রস্তাব (recommendation) তৈরি করে।  

শেয়ারহোল্ডারদের সভায় অনুমোদন:  
   - এই প্রস্তাবটি বার্ষিক সাধারণ সভা (Annual General Meeting – AGM)-তে শেয়ার মালিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।  
   - শেয়ারহোল্ডাররা ভোটের মাধ্যমে এটি অনুমোদন করলে তবেই লভ্যাংশ ঘোষণা ও কটন (deduction) কার্যকর হয়।  

পরিচালকমণ্ডলী কেবল প্রস্তাব করতে পারে, কিন্তু অনুমোদন ছাড়া লভ্যাংশ প্রদান করতে পারে না।  


ক) সাধারণ সভা:  
  ➤ সাধারণ সভা বলতে AGM বা EGM বোঝানো হতে পারে, তবে এখানে নির্দিষ্টভাবে শেয়ার মালিকদের সভা-ই সঠিক উত্তর।  

খ) পরিচালকমণ্ডলীর সভা:  
  ➤ তারা কেবল প্রস্তাব করে, কিন্তু চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে পারে না।  

ঘ) সাধারণ ও পরিচালকমণ্ডলীর যৌথ সভা:  
  ➤ আইন অনুযায়ী এমন কোনো যৌথ সভার বাধ্যবাধকতা নেই।  

৫৩.
নীচের কোনটি কমিটির সীমাবদ্ধতা?
  1. বিভক্ত দায়িত্ব
  2. কমিটির নর্ম
  3. উপযুক্ত সদস্য বাছাই
  4. সদস্য সংখ্যা নির্ধারন
সঠিক উত্তর:
বিভক্ত দায়িত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভক্ত দায়িত্ব
ব্যাখ্যা

কমিটির সীমাবদ্ধতা: "বিভক্ত দায়িত্ব" কেন সীমাবদ্ধতা?

কমিটি হলো একটি সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী গোষ্ঠী, যেখানে একাধিক সদস্য একত্রে কাজ করেন।  

➡ কিন্তু যখন দায়িত্ব বিভক্ত হয়, তখন:

- কার কোন কাজ তা স্পষ্ট না থাকলে দ্বন্দ্ব বা বিলম্ব ঘটে  
- জবাবদিহিতা দুর্বল হয়, কারণ কেউ এককভাবে দায় নিতে চায় না  
- সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি ও অস্পষ্টতা দেখা দেয়

 এই "বিভক্ত দায়িত্ব" কমিটির একটি মূল সীমাবদ্ধতা, যা কার্যকারিতা ব্যাহত করে।

 অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ

(খ) কমিটির নর্ম (Committee Norms):  
➡ এটি কমিটির আচরণবিধি বা সংস্কৃতি, যা সীমাবদ্ধতা নয়, বরং কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক

(গ) উপযুক্ত সদস্য বাছাই:  
➡ এটি সফল কমিটি গঠনের পূর্বশর্ত, সীমাবদ্ধতা নয়

(ঘ) সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ:  
➡ এটি পরিকল্পনার অংশ, সীমাবদ্ধতা নয় যদি সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হয়

৫৪.
জাস্ট-ইন-টাইম ইনভেন্টরির মূল লক্ষ্য হলো-
  1. বড় মজুদ রাখা
  2. পরিবহন ব্যয় কমানো
  3. মজুদ কমানো
  4. দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
সঠিক উত্তর:
মজুদ কমানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মজুদ কমানো
ব্যাখ্যা

Just-In-Time (JIT) হলো একটি ইনভেন্টরি ব্যবস্থাপনা কৌশল, যার মূল উদ্দেশ্য হলো:
যখন প্রয়োজন, তখনই উপকরণ বা পণ্য সরবরাহ করা, যাতে অপ্রয়োজনীয় মজুদ না থাকে।

JIT-এর মূল লক্ষ্য:- মজুদ কমানো  
- স্টোরেজ খরচ হ্রাস  
- অপচয় ও অতিরিক্ত মালামাল এড়ানো  
- উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে নিখুঁত সমন্বয়

➡ এতে কার্যক্ষমতা বাড়ে, এবং ব্যবসার খরচ কমে।

source: -Investopedia

৫৫.
মধ্য ব্যবস্থাপক মূলত কোন কাজটি করেন?
  1. কৌশলগত পরিকল্পনা
  2. কার্যকরী বাস্তবায়ন
  3. শ্রমিকদের তদারকি
  4. নীতি প্রনয়ন
সঠিক উত্তর:
কার্যকরী বাস্তবায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্যকরী বাস্তবায়ন
ব্যাখ্যা

মধ্য ব্যবস্থাপক হলো সেই স্তরের কর্মকর্তা যারা উচ্চ ব্যবস্থাপনার কৌশলগত পরিকল্পনাকে নিম্ন স্তরের কর্মীদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেন।  
তারা উপরের নির্দেশনা ও নিচের কার্যক্রম-এর মধ্যে সংযোগকারী সেতু হিসেবে কাজ করেন।

মধ্য ব্যবস্থাপকের মূল দায়িত্ব:
- কার্যকরী বাস্তবায়ন:  
  ➤ উচ্চ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা ও নীতিমালা বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা  
  ➤ প্রকল্প, কার্যক্রম, ও টিম পরিচালনা করা

- তদারকি ও সমন্বয়:  
  ➤ বিভিন্ন বিভাগ ও কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়  
  ➤ কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন ও প্রতিবেদন তৈরি

- যোগাযোগ ও নির্দেশনা:  
  ➤ উচ্চ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যোগাযোগ  
  ➤ কর্মীদের নির্দেশনা ও সহায়তা প্রদান

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ
(ক) কৌশলগত পরিকল্পনা:  
➡️ এটি উচ্চ ব্যবস্থাপনার (Top Management) কাজ।

(গ) শ্রমিকদের তদারকি:  
➡️ এটি নিম্ন ব্যবস্থাপকের (First-line Manager) কাজ।

(ঘ) নীতি প্রণয়ন:  
➡️ এটি Top Management বা Board Level-এর দায়িত্ব।

রেফারেন্স
- Robbins & Coulter – Management  
- Harvard Business Review: Role of Middle Managers

৫৬.
মানবসম্পদ উন্নয়নে "Development" বলতে কি বুঝায়?
  1. দীর্ঘমেয়াদী সক্ষমতা বৃদ্ধি
  2. দক্ষতার পরিসর বৃদ্ধি
  3. ব্যবস্থাপকের পদোন্নতি নিশ্চিত
  4. প্রশিক্ষন ও প্রবৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘমেয়াদী সক্ষমতা বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘমেয়াদী সক্ষমতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

Development বলতে বোঝায় কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদী সক্ষমতা বৃদ্ধি।  
এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একজন কর্মীকে ভবিষ্যতের দায়িত্ব পালনের জন্য মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, ও নেতৃত্বমূলক দক্ষতায় প্রস্তুত করা হয়।

➡ এই উন্নয়ন কেবল বর্তমান কাজের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের জটিল ও কৌশলগত দায়িত্ব পালনের জন্য কর্মীকে প্রস্তুত করে।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ

(খ) দক্ষতার পরিসর বৃদ্ধি:  
➡ এটি Training-এর অংশ।

(গ) ব্যবস্থাপকের পদোন্নতি নিশ্চিত:  
➡ এটি Development-এর সম্ভাব্য ফলাফল।

(ঘ) প্রশিক্ষণ ও প্রবৃদ্ধি:  
➡ 'প্রশিক্ষণ' স্বল্পমেয়াদী হওয়ায় এটি 'উন্নয়ন'-এর কেন্দ্রীয় ধারণা নয়। 'প্রবৃদ্ধি' (Growth) শব্দটি উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত হলেও, 'দীর্ঘমেয়াদী সক্ষমতা বৃদ্ধি' শব্দটি এর সামগ্রিক এবং কৌশলগত তাৎপর্যকে সবচেয়ে ভালোভাবে তুলে ধরে।

৫৭.
লিডার মেম্বার এক্সচেঞ্জ তত্ত্বে -
  1. শুধুমাত্র নেতার বৈশিষ্ট্যের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়
  2. প্রত্যেক অনুসারীর সাথে নেতার সম্পর্ক বিবেচনা করে
  3. প্রত্যেককে আলাদা করে গুরুত্ব আরোপ করা হয়
  4. আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্ক উপেক্ষা করে
সঠিক উত্তর:
প্রত্যেক অনুসারীর সাথে নেতার সম্পর্ক বিবেচনা করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যেক অনুসারীর সাথে নেতার সম্পর্ক বিবেচনা করে
ব্যাখ্যা

LMX Theory বা Leader-Member Exchange তত্ত্ব হলো একটি আন্তঃব্যক্তিক নেতৃত্ব তত্ত্ব, যা বলে:

 নেতা ও অনুসারীর মধ্যে সম্পর্কের গুণমানই নেতৃত্বের কার্যকারিতা নির্ধারণ করে।

এই তত্ত্বে নেতারা সব অনুসারীর সঙ্গে সমানভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলেন না—বরং সম্পর্কের গভীরতা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে দলভুক্ত (in-group) ও বহির্ভুক্ত (out-group) অনুসারী তৈরি হয়।

 মূল ধারণা:

- In-group:  
  নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ, বিশ্বাসভাজন, অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত  
  ➤ বেশি সুযোগ, উন্নয়ন, ও সমর্থন পায়

- Out-group:  
  সীমিত যোগাযোগ, কেবল আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব  
  ➤ কম সুযোগ ও সীমিত সম্পৃক্ততা

এই পার্থক্য প্রতিটি অনুসারীর সঙ্গে নেতার সম্পর্কের ভিত্তিতে তৈরি হয়।

Source: Mindtools

৫৮.
কর্পোরেট গভর্ন্যান্সে এজেন্সি সমস্যা কমানোর সর্বোত্তম পদ্ধতি কোনটি?
  1. ব্যাবস্থাপকের দায়িত্ব ও ক্ষমতা
  2. স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ ও স্বয়ংক্রিয় বোর্ড মনিটরিং
  3. ব্যবসা পরিচালনায় শেয়ারহোল্ডারদের হস্তক্ষেপ
  4. নিয়মিত রিপোর্টিং এবং আভ্যন্তরীন অডিটের উপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ ও স্বয়ংক্রিয় বোর্ড মনিটরিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ ও স্বয়ংক্রিয় বোর্ড মনিটরিং
ব্যাখ্যা

এজেন্সি সমস্যা (Agency Problem) হলো এমন একটি সংঘাত, যেখানে কোম্পানির ব্যবস্থাপক (এজেন্ট), যারা দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তাদের নিজস্ব স্বার্থকে কোম্পানির মালিক বা শেয়ারহোল্ডারদের (প্রধান) স্বার্থের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।

​এজেন্সি সমস্যা কমানোর জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো স্বচ্ছতা (Transparency) এবং শক্তিশালী তদারকি (Monitoring) নিশ্চিত করা।

​➤➤➤স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ (Transparent Disclosure):​ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত, আর্থিক ফলাফল এবং কর্মক্ষমতা সম্পর্কে শেয়ারহোল্ডারদের কাছে সময়মতো ও সঠিক তথ্য প্রকাশ নিশ্চিত করে।

​এর ফলে ব্যবস্থাপক জানেন যে তাদের সিদ্ধান্তগুলি প্রকাশিত হবে, যা তাদের অসঙ্গত আচরণ থেকে বিরত রাখে।

​➤➤স্বয়ংক্রিয় বোর্ড মনিটরিং (Active Board Monitoring):​কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদকে (Board of Directors) শক্তিশালী ও স্বাধীন করা। পর্ষদ যেন কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনার কর্মক্ষমতা ও কৌশলগুলি তদারকি করতে পারে।

​বিশেষ করে স্বাধীন পরিচালকদের (Independent Directors) সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং বোর্ড কমিটি (যেমন: অডিট কমিটি) সক্রিয়ভাবে কাজ করলে ব্যবস্থাপনার জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।

​অন্যান্য অপশন:
​ক) ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব ও ক্ষমতা: এটি সমস্যার মূল কারণগুলির মধ্যে একটি। শুধু দায়িত্ব ও ক্ষমতা সংজ্ঞায়িত করলেই সমস্যা কমে না, যদি তদারকি না থাকে।

​গ) ব্যবসা পরিচালনায় শেয়ারহোল্ডারদের হস্তক্ষেপ: শেয়ারহোল্ডাররা দৈনন্দিন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এটি সুশাসনের (Governance) মূল নীতির পরিপন্থী।

​ঘ) নিয়মিত রিপোর্টিং এবং আভ্যন্তরীন অডিটের উপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি: রিপোর্টিং এবং অভ্যন্তরীণ অডিট অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এগুলি হলো মনিটরিংয়ের সরঞ্জাম (Tools) মাত্র। এই সরঞ্জামগুলি তখনই কার্যকর হবে, যখন স্বতন্ত্র পরিচালনা পর্ষদ ও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে তদারকির কাঠামোটি তৈরি করা হবে। তাই, 'স্বচ্ছতা ও স্বয়ংক্রিয় বোর্ড মনিটরিং' হলো একটি বৃহত্তর এবং সামগ্রিক সমাধান।

৫৯.
ERG Theory কোন তত্ত্ব পরিবর্তন করে তৈরি করা হয়েছে -
  1. ইক্যুইটি তত্ত্ব
  2. চাহিদা-সোপান (Need Hierarchy) তত্ত্ব
  3. দ্বি-উপাদান (Two-Factor) তত্ত্ব
  4. Path-goal তত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
চাহিদা-সোপান (Need Hierarchy) তত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাহিদা-সোপান (Need Hierarchy) তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

ERG Theory (Existence, Relatedness, Growth) তৈরি করেছেন Clayton Alderfer, যা Maslow-এর Need Hierarchy তত্ত্ব-এর একটি পরিমার্জিত সংস্করণ।

Maslow-এর তত্ত্বে পাঁচটি স্তরের চাহিদা ছিল—শারীরিক, নিরাপত্তা, সামাজিক, সম্মান, ও আত্ম-উন্নয়ন।  

Alderfer এই পাঁচটি স্তরকে তিনটি শ্রেণিতে সংক্ষেপ করেন:
1. Existence (অস্তিত্ব):  
মৌলিক জীবনধারণ ও নিরাপত্তা চাহিদা—যেমন খাদ্য, পানি, চাকরি, নিরাপত্তা।

2. Relatedness (সম্পর্ক):  
   সামাজিক সম্পর্ক, ভালোবাসা, ও স্বীকৃতি—যেমন পরিবার, বন্ধুত্ব, সহকর্মীদের সাথে সম্পর্ক।

3. Growth (উন্নয়ন):  
   আত্ম-উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, সৃজনশীলতা—যেমন ব্যক্তিগত উন্নয়ন, অর্জন, সৃজনশীল কাজ।

Source: Mindtools

৬০.
নিচের কোনটি ফাইলিং এর উদ্দেশ্য নয়?
  1. তথ্য সংরক্ষণ
  2. যোগাযোগ 
  3. দ্রুত তথ্য খুজে পাওয়া
  4. অফিসিয়াল কর্যক্রমে গতি আনা
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ 
ব্যাখ্যা

ফাইলিং (Filing) হলো কোনো অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথি, কাগজপত্র বা রেকর্ডকে সুসংগঠিত ও পদ্ধতিগতভাবে সংরক্ষণ করার প্রক্রিয়া, যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজনমতো তা দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায়।

​ফাইলিং-এর মূল উদ্দেশ্যগুলি হলো:

​ক) তথ্য সংরক্ষণ: গুরুত্বপূর্ণ নথি ও কাগজপত্রকে সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ ও দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করা।

​গ) দ্রুত তথ্য খুঁজে পাওয়া: সুসংগঠিতভাবে সংরক্ষণ করার ফলে প্রয়োজনমতো রেকর্ডগুলি তাৎক্ষণিকভাবে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়।

​ঘ) অফিসিয়াল কার্যক্রমে গতি আনা: দ্রুত তথ্য খুঁজে পাওয়ার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং অফিসের দৈনন্দিন কাজগুলি দ্রুত ও কার্যকর হয়।

৬১.
সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি কোনটি?
  1. প্রজ্ঞা
  2. ঝুঁকি গ্রহণ
  3. সন্তোষজনক অর্জন
  4. নমনীয়তা
সঠিক উত্তর:
প্রজ্ঞা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজ্ঞা
ব্যাখ্যা

সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি হিসেবে সাধারণত একাধিক উপাদান কাজ করে, তবে প্রশ্নে দেওয়া বিকল্পগুলোর মধ্যে প্রজ্ঞা (Knowledge) বা তথ্য (Information) হলো সবচেয়ে মৌলিক ও অপরিহার্য ভিত্তি।

​সিদ্ধান্ত গ্রহণ বলতে একাধিক বিকল্প থেকে শ্রেষ্ঠ বিকল্পটি বেছে নেওয়াকে বোঝায়। এই প্রক্রিয়াটি সঠিক ও কার্যকর করতে যা প্রয়োজন:

​প্রজ্ঞা (Knowledge) ও তথ্য (Information)
​সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রজ্ঞা (Knowledge) বা জ্ঞানই হলো প্রধান ভিত্তি। জ্ঞান বলতে প্রয়োজনীয় তথ্য (Information), অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক ধারণা বোঝায়।

​তথ্য সংগ্রহ: একটি ভালো সিদ্ধান্ত নিতে হলে প্রথমে সমস্যা সম্পর্কিত সঠিক ও পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করতে হয়।

​তথ্য বিশ্লেষণ: সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিটি বিকল্পের সুবিধা, অসুবিধা এবং সম্ভাব্য ফলাফল (Pros and Cons) মূল্যায়ন করা হয়। এই বিশ্লেষণের মাধ্যমেই প্রজ্ঞা প্রয়োগ করা সম্ভব হয়।

​যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত: প্রজ্ঞার সাহায্যেই যুক্তিসঙ্গত ও যৌক্তিক (Rational) সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

​অন্যান্য অপশনের প্রাসঙ্গিকতা
খ) ঝুঁকি গ্রহণ (Risk-taking): এটি একটি মনোভাব (Attitude) বা কার্যধারা (Action) যা সিদ্ধান্তের ফলাফলের সাথে যুক্ত। সব সিদ্ধান্তেই কম-বেশি ঝুঁকি থাকে, কিন্তু ঝুঁকি গ্রহণ সিদ্ধান্তের সরাসরি ভিত্তি নয়।

​গ) সন্তোষজনক অর্জন (Satisficing): এটি হলো সীমিত যৌক্তিকতা (Bounded Rationality) ধারণার ভিত্তিতে হার্বার্ট সাইমন কর্তৃক প্রদত্ত একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের মডেলের লক্ষ্য বা ফলাফল। এর অর্থ হলো, শ্রেষ্ঠ বিকল্পের পরিবর্তে "যথেষ্ট ভালো" বা "সন্তোষজনক" বিকল্পটি বেছে নেওয়া। এটি একটি পদ্ধতি, ভিত্তি নয়।

​ঘ) নমনীয়তা (Flexibility): এটি একটি গুণ (Quality) যা একটি ভালো সিদ্ধান্ত বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা উচিত, যাতে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্তটি সহজেই মানিয়ে নেওয়া যায়। এটি সিদ্ধান্তের ভিত্তি নয়, বরং এর একটি বৈশিষ্ট্য।

৬২.
নীচের কোনটি স্থায়ী পরিকল্পনা?
  1. প্রক্রিয়া
  2. প্রকল্প 
  3. কর্মসূচি 
  4. লক্ষ্য
সঠিক উত্তর:
প্রক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা

​স্থায়ী পরিকল্পনা (Standing Plans):
​স্থায়ী পরিকল্পনা বা আবর্তনশীল পরিকল্পনা (Recurring Plans) হলো সেইসব পরিকল্পনা, যা একবার তৈরি হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে বারবার ব্যবহার করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কাজ পরিচালনায় সহায়তা করে।

​স্থায়ী পরিকল্পনার উদাহরণ
​নীতি (Policy): এটি ব্যবস্থাপনার চিন্তাভাবনার সাধারণ নির্দেশনা দেয়।

​প্রক্রিয়া (Procedure):
- এটি একটি নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার জন্য ধাপে ধাপে অনুসরণীয় পথ বা ক্রম। যেমন: কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া, বা গ্রাহকের অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া। এটি স্থায়ী পরিকল্পনা, কারণ এটি বারবার একই কাজকে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ব্যবহৃত হয়।

​পদ্ধতি (Rule):
- এটি কর্মীদের কী করা উচিত বা উচিত নয়, তার নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়।

সোর্স: বাউবি পাঠ্য।

৬৩.
Inventory Management এর ABC Analysis কিভাবে আইটেমগুলোকে শ্রেণীবদ্ধ করে?
  1. বর্ননাক্রমে
  2. সংরক্ষনের স্থান অনুযায়ী
  3. নির্ভরযোগ্যতা অনুযায়ী
  4. বার্ষিক ব্যবহারের মূল্যে
সঠিক উত্তর:
বার্ষিক ব্যবহারের মূল্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ষিক ব্যবহারের মূল্যে
ব্যাখ্যা

ABC Analysis হলো একটি ইনভেন্টরি শ্রেণীবিন্যাস পদ্ধতি, যা বার্ষিক ব্যবহারের মূল্য (Annual Consumption Value) অনুযায়ী আইটেমগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে:

শ্রেণীবিন্যাস :

- A শ্রেণি:  
  - উচ্চ মূল্য ও কম সংখ্যক আইটেম  
  - মোট ব্যবহারের প্রায় ৭০–৮০%  
  - ঘনিষ্ঠ নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন

- B শ্রেণি:  
  - মাঝারি মূল্য ও মাঝারি সংখ্যক আইটেম  
  - মোট ব্যবহারের প্রায় ১৫–২৫%

- C শ্রেণি:  
  - কম মূল্য ও বেশি সংখ্যক আইটেম  
  - মোট ব্যবহারের প্রায় ৫–১০%  
  - সাধারণ নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট

➡ এই বিশ্লেষণ Pareto Principle (80/20 Rule)-এর ভিত্তিতে কাজ করে।

সোর্স: -Investopedia 

৬৪.
ইন্টারনাল লোকাস অফ কন্ট্রোল থাকা ব্যাক্তি নিচের কোনটিতে বিশ্বাস করেন?
  1. সাফল্য ভাগ্যের উপর নির্ভরশীল
  2. সাফল্য বাহ্যিক শক্তির উপর নির্ভরশীল
  3. সাফল্য নিজ প্রচেষ্টার উপর নির্ভরশীল
  4. কর্মক্ষমতা সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত
সঠিক উত্তর:
সাফল্য নিজ প্রচেষ্টার উপর নির্ভরশীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাফল্য নিজ প্রচেষ্টার উপর নির্ভরশীল
ব্যাখ্যা

ইন্টারনাল লোকাস অফ কন্ট্রোল (Internal Locus of Control) 

Julian Rotter-এর সামাজিক শিক্ষণ তত্ত্ব অনুযায়ী, Locus of Control হলো একটি ব্যক্তির বিশ্বাস—তার জীবনের ঘটনাগুলো কোন উৎস থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়।

 Internal Locus of Control-যুক্ত ব্যক্তি বিশ্বাস করেন:

- নিজের সিদ্ধান্ত, প্রচেষ্টা, ও দক্ষতা-ই সাফল্যের মূল কারণ  
- তারা নিজের নিয়তি গড়তে সক্ষম  
- ব্যর্থতা বা সাফল্য তাদের নিজের নিয়ন্ত্রণে

উদাহরণ:
- একজন ছাত্র যদি Internal Locus of Control রাখেন, তিনি বলবেন:  
  “আমি ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি, তাই পরীক্ষায় ভালো করেছি।”
- বিপরীতে, External Locus of Control-যুক্ত ব্যক্তি বলবেন:  
  “ভাগ্য ভালো ছিল, তাই পাশ করেছি।”

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ
(ক) সাফল্য ভাগ্যের উপর নির্ভরশীল:  
➡ এটি External Locus of Control-এর বৈশিষ্ট্য।

(খ) সাফল্য বাহ্যিক শক্তির উপর নির্ভরশীল:  
➡ এটি পরিস্থিতি, অন্য মানুষ, বা ভাগ্য-কে দায়ী করে—External Locus।

(ঘ) কর্মক্ষমতা সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত:  
➡ এটি ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক External Attribution, Internal নয়।

 রেফারেন্স

- Rotter, J.B. – Social Learning Theory  
- Robbins & Judge – Organizational Behavior  

৬৫.
উচ্চস্তরের চাহিদা পূরণে ব্যার্থতা প্রায়ই নিম্নস্তরের চাহিদা পূরণের প্রতি অধিক মনোযোগ সৃষ্টি করে। ERG তত্ত্ব অনুযায়ী একে কী বলে?
  1. প্রয়োজনের শ্রেণিবিন্যাস (Need-Hierarchy)
  2. Regression
  3. প্রত্যাশা (Expectancy)
  4. Self-actualization
সঠিক উত্তর:
Regression
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Regression
ব্যাখ্যা

ERG তত্ত্বে Regression
ERG Theory (Existence, Relatedness, Growth) অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি উচ্চস্তরের চাহিদা (যেমন: Growth) পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে সে নিম্নস্তরের চাহিদা (যেমন: Relatedness বা Existence) পূরণের দিকে ফিরে যায় বা মনোযোগ বাড়ায়।  

➡ এই আচরণকে বলা হয় Regression বা ফ্রাস্ট্রেশন-রিগ্রেশন প্রক্রিয়া।

উদাহরণ:

- একজন কর্মী যদি পেশাগত উন্নয়ন বা সৃজনশীল কাজের সুযোগ না পান, তাহলে তিনি হয়তো আরও বেশি সামাজিক স্বীকৃতি বা নিরাপত্তা খুঁজবেন  

Source: Mindtools

৬৬.
কে কর্তৃত্বগ্রহণ তত্ত্বে 'উদাসীনতার ক্ষেত্র' এর উপর গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন?
  1. চেস্টার বার্নার্ড
  2. ম্যাক্স ওয়েবার
  3. এলটন মেয়ো
  4. পিটার ড্রাকার
সঠিক উত্তর:
চেস্টার বার্নার্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চেস্টার বার্নার্ড
ব্যাখ্যা

Chester Barnard, তার বিখ্যাত বই “The Functions of the Executive” (1938)-এ কর্তৃত্বগ্রহণ তত্ত্ব (Acceptance Theory of Authority) উপস্থাপন করেন।  
এই তত্ত্বে তিনি বলেন, কর্মীরা তখনই কর্তৃত্ব মেনে নেয়, যখন সেই আদেশ:

- তাদের মূল্যবোধ, স্বার্থ, ও বোধগম্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ  
- অতিরিক্ত চাপ বা বিরোধ সৃষ্টি করে না


 এই গ্রহণযোগ্যতার সীমাকেই তিনি বলেন “Zone of Indifference”—যেখানে কর্মীরা প্রশ্ন না করে আদেশ পালন করেন।

Zone of Indifference-এর বৈশিষ্ট্য:

- এটি কর্মীর মানসিক গ্রহণযোগ্যতার সীমা  
- আদেশ যদি এই সীমার মধ্যে থাকে, কর্মী স্বাভাবিকভাবে পালন করে  
- আদেশ যদি সীমার বাইরে যায়, কর্মী প্রতিরোধ বা প্রশ্ন করতে পারে

Source: managementstudyguide.com

৬৭.
নীচের কোনটি কোম্পানির সচিবের দায়িত্ব নয়?
  1. পরিচালনা পর্ষদ ও শেয়ারহোল্ডারদের সভা আহবান
  2. কোম্পানির আভ্যন্তরীণ নিয়মকানুন তৈরী ও বাস্তবায়ন
  3. পরিচালকদের প্রেষনা প্রদান
  4. কোম্পানির কম্পায়েন্স নিশ্চিত করা
সঠিক উত্তর:
পরিচালকদের প্রেষনা প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিচালকদের প্রেষনা প্রদান
ব্যাখ্যা

​কোম্পানির সচিব (Company Secretary - CS) হলেন একজন শীর্ষ পর্যায়ের নির্বাহী, যিনি মূলত আইনি ও নিয়ন্ত্রণমূলক সম্মতি (Legal and Regulatory Compliance) এবং সুশাসনের (Governance) কাজগুলো তদারকি করেন।

​পরিচালকদের প্রেষণা প্রদান বা তাদের অনুপ্রাণিত করার কাজটি সাধারণত কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) বা বোর্ডের চেয়ারম্যান-এর দায়িত্ব। পরিচালকরা মূলত তাদের পারিশ্রমিক, ব্যবসার ফলাফল এবং স্টেকহোল্ডারদের স্বার্থ পূরণের মাধ্যমেই কাজ করতে অনুপ্রাণিত হন। এই কাজটি সচিবের আইনি বা প্রশাসনিক ভূমিকার অন্তর্ভুক্ত নয়।

​সচিবের মূল দায়িত্বসমূহ

​ক) পরিচালনা পর্ষদ ও শেয়ারহোল্ডারদের সভা আহবান: সচিবের একটি প্রধান আইনি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব হলো সভাগুলির এজেন্ডা তৈরি, নোটিশ পাঠানো এবং সভার কার্যবিবরণী (Minutes) সংরক্ষণ করা।

​খ) কোম্পানির আভ্যন্তরীণ নিয়মকানুন তৈরী ও বাস্তবায়ন: আইনি ও সুশাসন সংক্রান্ত দিক থেকে কোম্পানি যেন সুসংগঠিত থাকে, সে জন্য নীতি ও পদ্ধতির কাঠামো তৈরি, যেমন: আচরণবিধি (Code of Conduct) ও পর্ষদের চার্টার তৈরি, এবং তা তদারক করা সচিবের দায়িত্ব।

​ঘ) কোম্পানির কম্পায়েন্স নিশ্চিত করা: এটি সচিবের মূল কাজ (Core Function)। এর অর্থ হলো নিশ্চিত করা যে কোম্পানি সকল প্রযোজ্য আইন, বিধি, প্রবিধান এবং অভ্যন্তরীণ নীতি কঠোরভাবে মেনে চলছে।

৬৮.
নিম্নোক্ত কোনটি সাম্যতা নীতির সবচেয়ে ভালো উদাহরণ?
  1. সবার সাথে ভালো ব্যবহার করা
  2. সবাইকে সমান হারে বোনাস দেয়া
  3. কাজের ফলাফল অনুযায়ী পুরস্কার প্রদান করা
  4. সবাইকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা
সঠিক উত্তর:
কাজের ফলাফল অনুযায়ী পুরস্কার প্রদান করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজের ফলাফল অনুযায়ী পুরস্কার প্রদান করা
ব্যাখ্যা

Henri Fayol-এর ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় সাম্যতা (Equity) বোঝায়:

 “কর্মীদের প্রতি ন্যায্যতা ও সদাচরণ বজায় রাখতে হবে, যাতে তারা সম্মানিত ও উৎসাহিত বোধ করেন।”

 এটি সমান আচরণ নয়, বরং ন্যায্য আচরণ—যেখানে যোগ্যতা, পরিশ্রম, ও ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।

---

 কেন "কাজের ফলাফল অনুযায়ী পুরস্কার প্রদান" সবচেয়ে ভালো উদাহরণ?

- এটি ন্যায্যতা বজায় রাখে, কারণ:
  - যারা বেশি অবদান রাখেন, তারা বেশি পুরস্কার পান 
  - কর্মীদের মধ্যে প্রেরণা ও প্রতিযোগিতা তৈরি হয়  
  - অসাম্য নয়, বরং যুক্তিসঙ্গত পার্থক্য প্রতিষ্ঠিত হয়

 Fayol-এর সাম্যতা নীতির মূল উদ্দেশ্যই হলো ন্যায্যতা ও সম্মান নিশ্চিত করা, যা এই উদাহরণে স্পষ্ট।

---

 অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ

(ক) সবার সাথে ভালো ব্যবহার করা:  
➡ এটি সদাচরণ, কিন্তু সাম্যতা নয় যদি কর্মদক্ষতা উপেক্ষিত হয়

(খ) সবাইকে সমান হারে বোনাস দেওয়া:  
➡ এটি সমতা (equality), কিন্তু সাম্যতা (equity) নয়  
➡ দক্ষ কর্মী ও কম অবদানকারীকে সমান পুরস্কার দিলে অন্যায় হয়

(ঘ) সবাইকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা:  
➡ এটি নৈতিক আচরণ, কিন্তু পুরস্কার বা মূল্যায়নের ন্যায্যতা বোঝায় না

৬৯.
Divestiture কৌশল কী?
  1. সম্পূর্ণ ব্যবসা বিক্রয়
  2. আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষনা
  3. ব্যবসায়ের অপ্রয়োজনীয় বা অলাভজনক অংশ বিক্রয়
  4. বৈশ্বিক বিনিয়োগ
সঠিক উত্তর:
ব্যবসায়ের অপ্রয়োজনীয় বা অলাভজনক অংশ বিক্রয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যবসায়ের অপ্রয়োজনীয় বা অলাভজনক অংশ বিক্রয়
ব্যাখ্যা

Divestiture হলো একটি কৌশলগত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান:

- তাদের অপ্রয়োজনীয়, অলাভজনক, বা কৌশলগতভাবে অপ্রাসঙ্গিক ব্যবসা ইউনিট, সম্পদ, বা বিভাগ বিক্রয় বা বিচ্ছিন্ন করে  
- এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান মূল ব্যবসায় মনোযোগ, আর্থিক স্থিতিশীলতা, ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে চায়

Divestiture-এর সাধারণ উদাহরণ:

- একটি প্রযুক্তি কোম্পানি তার হার্ডওয়্যার বিভাগ বিক্রি করে শুধু সফটওয়্যার-এ মনোযোগ দেয়  
- একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান অঞ্চলভিত্তিক অলাভজনক শাখা বিক্রি করে দেয়  
- কোনো ব্যাংক বীমা ইউনিট বিক্রি করে মূল ব্যাংকিং কার্যক্রমে মনোযোগ দেয়

 অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ

(ক) সম্পূর্ণ ব্যবসা বিক্রয়:  
➡ এটি Acquisition বা Business Sale

(খ) আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষণা:  
➡ এটি Bankruptcy, যা আর্থিক সংকটের ফল

(ঘ) বৈশ্বিক বিনিয়োগ:  
➡ এটি Foreign Direct Investment (FDI) বা Global Expansion

Source: Investopedia

৭০.
যদি কোনো প্রতিষ্ঠান টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে যেয়ে কর্মীদের দক্ষতা ও সামগ্রিক উন্নয়নকে উপেক্ষা করেন, তাহলে কোন ঝুঁকিটি সবচেয়ে বেশী পরিলক্ষিত হবে?
  1. দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ফলাফল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
  2. সামাজিক ও মানবিক টেকসই উন্নয়ন ব্যাহত হবে
  3. প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়লেও কার্যকারিতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে
  4. স্টেকহোল্ডার নীতির কার্যকারিতা থাকলেও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে
সঠিক উত্তর:
সামাজিক ও মানবিক টেকসই উন্নয়ন ব্যাহত হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক ও মানবিক টেকসই উন্নয়ন ব্যাহত হবে
ব্যাখ্যা

যদি কোনো প্রতিষ্ঠান টেকসই ব্যবস্থাপনা (Sustainable Management) নিশ্চিত করতে গিয়ে কর্মীদের দক্ষতা ও সামগ্রিক উন্নয়নকে (Employee Skill and Overall Development) উপেক্ষা করে, তবে সবচেয়ে বড় যে ঝুঁকিটি পরিলক্ষিত হবে তা হলো সামাজিক ও মানবিক টেকসই উন্নয়ন (Social and Human Sustainability) ব্যাহত হওয়া।

​সামাজিক ও মানবিক টেকসই উন্নয়ন কেন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
​টেকসই উন্নয়নের তিনটি মূল স্তম্ভ রয়েছে: অর্থনৈতিক, পরিবেশগত, এবং সামাজিক।

​   মানবসম্পদ (Human Capital) সামাজিক স্তম্ভের ভিত্তি: কর্মীদের দক্ষতা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, এবং উন্নয়ন হলো সামাজিক টেকসই উন্নয়নের মূল উপাদান। কর্মীদের উপেক্ষা করা মানেই মানব পুঁজি এবং কাজের নৈতিক পরিবেশকে (Ethical Work Environment) সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করা।

   ​নৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা (Ethical and Social Responsibility): কর্মীদের উন্নয়নকে উপেক্ষা করা হলে, প্রতিষ্ঠানটি কেবল কর্মীদের প্রতি তার নৈতিক দায়িত্ব লঙ্ঘন করে না, বরং এটি একটি অস্থিতিশীল অভ্যন্তরীণ পরিবেশ তৈরি করে। কর্মীরা যদি মনে করে তাদের অগ্রগতিকে মূল্য দেওয়া হচ্ছে না, তবে তারা হতোদ্যম হবে, যা সামগ্রিকভাবে সংগঠনের সামাজিক পরিবেশকে দুর্বল করে দেবে।

অন্যান্য অপশন

ক) দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ফলাফল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে: এটি একটি গৌণ প্রভাব। কর্মী সন্তুষ্টি ও দক্ষতার অভাবের কারণেই দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক ক্ষতি হবে। অর্থাৎ, সামাজিক টেকসই উন্নয়নের ব্যর্থতা থেকেই আর্থিক ঝুঁকিটি আসে।

​গ) প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়লেও কার্যকারিতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে: এটিও একটি গৌণ প্রভাব। কর্মীরা যদি প্রশিক্ষিত না হয় এবং তাদের দক্ষতা উন্নত না হয়, তবে তারা নতুন প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারবে না, যার ফলে কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

​ঘ) স্টেকহোল্ডার নীতির কার্যকারিতা থাকলেও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে: কর্মী (যারা অন্যতম প্রধান স্টেকহোল্ডার) উন্নয়নকে উপেক্ষা করা হলে স্টেকহোল্ডার নীতির কার্যকারিতা এমনিতেই ব্যাহত হয়। সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার চেয়েও কর্মীদের বিশ্বাস (Trust) এবং প্রেরণা (Motivation) এর অভাব বেশি প্রকট হবে।

৭১.
কর্তৃত্বের ভিত্তিতে কমিটির প্রকারভেদ নয় কোনটি?
  1. রৈখিক কমিটি
  2. বিশেষজ্ঞ কমিটি
  3. সহযোগী কমিটি
  4. মেয়াদী কমিটি
সঠিক উত্তর:
মেয়াদী কমিটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেয়াদী কমিটি
ব্যাখ্যা

কর্তৃত্বের ভিত্তিতে কমিটির প্রকারভেদ

কর্তৃত্বের ভিত্তিতে কমিটি বলতে বোঝায়—কমিটির সদস্যদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, দায়িত্ব, ও ভূমিকার ধরন অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ। এই ভিত্তিতে সাধারণত নিচের তিনটি কমিটি গঠিত হয়:

- রৈখিক কমিটি (Line Committee):  
  সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা থাকে এবং এটি প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ।

- বিশেষজ্ঞ কমিটি (Staff Committee):  
  পরামর্শমূলক ভূমিকা পালন করে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।

- সহযোগী কমিটি (Functional/Collegial Committee):  
  সদস্যরা যৌথভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, কর্তৃত্ব ভাগাভাগি হয়।

 এই তিনটি কমিটি কর্তৃত্বের ধরন অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ।

৭২.
কোন পদ্ধতির মাধ্যমে বাজেটীয় নিয়ন্ত্রণে নমনীয়তা অর্জন সম্ভব নয়?
  1. আদর্শ-ব্যয় পদ্ধতি
  2. বিকল্প বাজেট
  3. পরিবর্তনশীল বাজেট
  4. বার্ষিক বাজেট
সঠিক উত্তর:
আদর্শ-ব্যয় পদ্ধতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদর্শ-ব্যয় পদ্ধতি
ব্যাখ্যা

আদর্শ-ব্যয় পদ্ধতিতে প্রতিটি কার্যকলাপের জন্য পূর্বনির্ধারিত স্থির মানদণ্ড বা স্ট্যান্ডার্ড কস্ট নির্ধারিত থাকে এবং বাস্তব ফলাফলের সঙ্গে সেই স্ট্যান্ডার্ডের বিচ্যুতির ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়। এটি মূলত পারফরম্যান্স মূল্যায়ন ও বিচ্যুতি বিশ্লেষণের একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামো যা বাজেটকে পরিস্থিতি-অনুকূলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তনযোগ্য করে না.

অন্যান্য অপশনগুলোর নমনীয়তা 

- বিকল্প বাজেট (Alternative Budgets) বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য একাধিক বাজেট তৈরি করে; ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি অনুযায়ী উপযুক্ত বিকল্প বেছে নিয়ে দ্রুত খরচ ও আয়ের কাঠামো সামঞ্জস্য করতে পারে, ফলে নমনীয়তা থাকে।  

- পরিবর্তনশীল বা নমনীয় বাজেট (Flexible Budget) সরাসরি কার্যক্রমের বাস্তব স্তরের উপর ভিত্তি করে বাজেট সমন্বয় করে, তাই এটি সবচেয়ে উচ্চ নমনীয়তা প্রদান করে.  

- বার্ষিক বাজেট (Annual Budget) হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমার্জন করা যায়; এটি সম্পূর্ণ স্থির নয় এবং পরিবেশ পরিবর্তে সংশোধনযোগ্যতার মাধ্যমে আংশিক নমনীয়তা দিতে পারে.

৭৩.
একটি প্রতিষ্ঠান নতুন পণ্য তৈরি করার আগে গ্রাহকের ব্যবহার ও চাহিদার বিশ্লেষন করেন তারপর তার প্রোটোটাইপ তৈরি করেন। এটি কোন ধরনের ব্যবস্থাপনা ধারনার উদাহরণ?
  1. রুপান্তরমূলক নেতৃত্ব
  2. ডিজাইন থিংকিং
  3. ডেটা মাইনিং
  4. টেকসই সাপ্লাই-চেইন ম্যানেজমেন্ট
সঠিক উত্তর:
ডিজাইন থিংকিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিজাইন থিংকিং
ব্যাখ্যা

Design Thinking হলো একটি মানব-কেন্দ্রিক সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি, যেখানে:

- গ্রাহকের চাহিদা, অভিজ্ঞতা ও ব্যবহার বিশ্লেষণ করা হয়  
- তারপর সমস্যা সংজ্ঞায়িত করে, সমাধান ভাবা হয়, এবং  
- প্রোটোটাইপ তৈরি করে তা পরীক্ষা করা হয়


 এটি নতুন পণ্য বা সেবা উদ্ভাবনের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেখানে সহানুভূতি, সৃজনশীলতা ও পুনরাবৃত্তি গুরুত্বপূর্ণ।

-

 Design Thinking-এর ধাপসমূহ:

1. Empathize – গ্রাহকের অভিজ্ঞতা ও চাহিদা বোঝা 
2. Define – সমস্যা নির্ধারণ  
3. Ideate – সমাধানের ধারণা তৈরি  
4. Prototype – নমুনা বা প্রোটোটাইপ তৈরি  
5. Test – ব্যবহারকারীর প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ

 প্রশ্নে বলা হয়েছে: গ্রাহকের ব্যবহার ও চাহিদা বিশ্লেষণ করে প্রোটোটাইপ তৈরি করা হচ্ছে—এটি Design Thinking-এর সরাসরি প্রয়োগ।

---

 অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ

(ক) রূপান্তরমূলক নেতৃত্ব (Transformational Leadership):  
➡ এটি নেতৃত্বের ধরন, যেখানে নেতা অনুপ্রেরণা দিয়ে পরিবর্তন ঘটান—পণ্য উদ্ভাবনের পদ্ধতি নয়।

(গ) ডেটা মাইনিং:  
➡ এটি তথ্য বিশ্লেষণের প্রযুক্তিগত পদ্ধতি, কিন্তু প্রোটোটাইপ তৈরির মানব-কেন্দ্রিক ধাপ এতে নেই।

(ঘ) টেকসই সাপ্লাই-চেইন ম্যানেজমেন্ট:  
➡ এটি সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশল, পণ্য উদ্ভাবনের প্রক্রিয়া নয়।

Source: Interaction Design Foundation

৭৪.
টিম তৈরির প্রথম ধাপ কোনটি?
  1. ফর্মিং
  2. স্টর্মিং
  3. নর্মিং
  4. পারফরমিং
সঠিক উত্তর:
ফর্মিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফর্মিং
ব্যাখ্যা

Bruce Tuckman ১৯৬৫ সালে টিম ডেভেলপমেন্টের জন্য একটি জনপ্রিয় মডেল প্রস্তাব করেন, যেখানে টিম গঠনের প্রক্রিয়াকে চারটি ধাপে ভাগ করা হয় (পরে একটি পঞ্চম ধাপ যোগ হয়)।  

➡ এই মডেল অনুযায়ী, প্রথম ধাপ হলো “Forming”, যেখানে টিম সদ্য গঠিত হয় এবং সদস্যরা একে অপরকে চিনতে শুরু করে।

Tuckman-এর টিম ডেভেলপমেন্ট মডেল

1. Forming – পরিচিতি ও কাঠামো বোঝা  
2. Storming – মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব  
3. Norming – নিয়ম প্রতিষ্ঠা ও সহযোগিতা  
4. Performing – দক্ষ দলীয় কাজ  
5. Adjourning – কাজ শেষ ও দল ভাঙা

সোর্স: mindtools

৭৫.
শীর্ষ পর্যায়ের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকের জন্য নিচের কোন দক্ষতাটি বেশী প্রয়োজন?
  1. ধারনাগত
  2. নিয়োগ সংক্রান্ত জ্ঞান
  3. যোগাযোগ দক্ষতা
  4. কৌশলগত দক্ষতা
সঠিক উত্তর:
ধারনাগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারনাগত
ব্যাখ্যা

“শীর্ষ পর্যায়ের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক” (Top-level HR Manager) বলতে বোঝানো হচ্ছে —
যিনি প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ নীতি নির্ধারণ, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কৌশল নির্ধারণ করেন (যেমনঃ HR Director, Chief HR Officer ইত্যাদি)।

তাদের কাজ শুধুমাত্র নিয়োগ বা প্রশিক্ষণ পরিচালনা নয়; বরং পুরো প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা কাঠামো, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা তৈরি করা।

ধারণাগত দক্ষতা (Conceptual Skill) 

ধারণাগত দক্ষতা হলো এমন এক ক্ষমতা, যার মাধ্যমে একজন ব্যবস্থাপক —
সংগঠনকে সামগ্রিকভাবে বুঝতে পারেন,
বিভিন্ন বিভাগ বা ইউনিটের পারস্পরিক সম্পর্ক অনুধাবন করতে পারেন,
জটিল সমস্যার সামগ্রিক সমাধান কল্পনা ও পরিকল্পনা করতে পারেন,
দীর্ঘমেয়াদি নীতি ও কৌশল নির্ধারণ করতে পারেন।
এই দক্ষতা ব্যবস্থাপকের চিন্তাশক্তি, দূরদৃষ্টি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা নির্দেশ করে।

কেন এটি শীর্ষ পর্যায়ে সবচেয়ে প্রয়োজনীয়

শীর্ষ ব্যবস্থাপনা (Top Management) সাধারণত কৌশলগত সিদ্ধান্ত (Strategic Decisions) নেয় — যেমন কর্মী উন্নয়ন নীতি, প্রতিভা ধরে রাখার কৌশল, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশ ইত্যাদি।এজন্য তাদেরকে কেবল মানবসম্পদের খুঁটিনাটি কাজ নয়, বরং পুরো প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিভঙ্গি (Vision) ও পরিবেশ বুঝতে হয়।
সঠিক নীতিনির্ধারণের জন্য তাদের চিন্তা করতে হয় — “আজকের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের ৫–১০ বছর পরে প্রতিষ্ঠানকে কোথায় নিয়ে যাবে?”
এ ধরনের চিন্তা করতে ধারণাগত দক্ষতা অপরিহার্য।

Robbins & Coulter এর মতে,

“Conceptual skills enable top managers to see the organization as a whole, understand how its parts depend on one another, and anticipate how changes in one part affect others.”

তারা উল্লেখ করেছেন যে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাতেও শীর্ষ পর্যায়ে এই ধারণাগত দৃষ্টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি কৌশল নির্ধারণে সহায়তা করে।

অন্য অপশনগুলো
(খ) নিয়োগ সংক্রান্ত জ্ঞান   - এটি মধ্য বা নিম্ন পর্যায়ের HR অফিসার/রেক্রুটমেন্ট ম্যানেজারের কাজের অংশ। শীর্ষ পর্যায়ে এর বিশদ প্রয়োগ কম।
(গ) যোগাযোগ দক্ষতা  -  এটি সব স্তরের ব্যবস্থাপকের জন্য প্রয়োজনীয়, কিন্তু শীর্ষ পর্যায়ের HR ব্যবস্থাপকের মূল শক্তি হলো দূরদৃষ্টি ও নীতি-নির্ধারণ।
(ঘ) কৌশলগত দক্ষতা   - এটি ধারণাগত দক্ষতার একটি উপাংশ। কৌশলগত চিন্তা করতে হলে ধারণাগত বোঝাপড়াই প্রয়োজন। তাই “ধারণাগত দক্ষতা” হলো ভিত্তি।

৭৬.
লার্নিং অর্গানাইজেশন' ধারনাটি কার?
  1. এলটন মেয়ো
  2. পিটার সেনজে
  3. মেড়ী পাড়ড়কাড়
  4. হেনরী ফেওল
সঠিক উত্তর:
পিটার সেনজে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিটার সেনজে
ব্যাখ্যা

লার্নিং অর্গানাইজেশন (Learning Organization)
ধারণাটি জনপ্রিয় করেন Peter Senge, তার বিখ্যাত বই “The Fifth Discipline: The Art and Practice of the Learning Organization” (1990)-এ।

এই ধারণা অনুযায়ী, একটি প্রতিষ্ঠান তখনই লার্নিং অর্গানাইজেশন হয়ে ওঠে যখন:

- সকল স্তরের কর্মীরা ক্রমাগত শেখে ও নিজেদের উন্নয়ন করে
- জ্ঞান ভাগাভাগি হয় এবং দলগত শেখার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে
- পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকে
- সিস্টেম থিংকিং (System Thinking) প্রয়োগ করে প্রতিষ্ঠান সামগ্রিকভাবে চিন্তা করে

Peter Senge-এর ৫টি মূল শৃঙ্খলা (Five Disciplines):

1. Personal Mastery – ব্যক্তিগত দক্ষতা ও শেখার মানসিকতা  
2. Mental Models – পূর্বধারণা ও চিন্তাধারার বিশ্লেষণ  
3. Shared Vision – দলগত লক্ষ্য ও অনুপ্রেরণা  
4. Team Learning – দলগত শেখা ও সহযোগিতা  
5. Systems Thinking – সামগ্রিকভাবে চিন্তা করা ও সংযোগ বোঝা

 অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ

(ক) এলটন মেয়ো:  
➡ তিনি হথর্ন গবেষণা ও মানবিক সম্পর্ক তত্ত্বে অবদান রেখেছেন, লার্নিং অর্গানাইজেশন নয়।

(ঘ) হেনরী ফেওল:  
➡ তিনি প্রশাসনিক তত্ত্বের জনক, যেমন পরিকল্পনা, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি।

রেফারেন্স

 Peter Senge – The Fifth Discipline  

৭৭.
কে ম্যানেজমেন্ট অডিট পরিচালনা করেন?
  1. সরকারী কর্মকর্তা
  2. ট্রেড ইউনিয়ন
  3. আর্থিক হিসাবরক্ষক
  4. আভ্যন্তরীণ বা বহিরাগত বিশেষজ্ঞ
সঠিক উত্তর:
আভ্যন্তরীণ বা বহিরাগত বিশেষজ্ঞ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আভ্যন্তরীণ বা বহিরাগত বিশেষজ্ঞ
ব্যাখ্যা

ম্যানেজমেন্ট অডিট বা ব্যবস্থাপনা নিরীক্ষা হলো একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক দক্ষতা ও কার্যকারিতা মূল্যায়ন করার একটি প্রক্রিয়া। এর উদ্দেশ্য হলো ব্যবস্থাপনার নীতি, কৌশল, সাংগঠনিক কাঠামো এবং নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিগুলি বিশ্লেষণ করে তা লক্ষ্য অর্জনের জন্য কতটা উপযুক্ত তা দেখা।

​এই কাজটি সাধারণত পরিচালনা পর্ষদের অনুরোধে স্বাধীন এবং বিশেষজ্ঞ কারো দ্বারা সম্পন্ন করা হয়, যাতে তারা নিরপেক্ষ মতামত পেতে পারে।

​১। অভ্যন্তরীণ বিশেষজ্ঞ (Internal Experts): কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ (Internal Audit Department) বা অভ্যন্তরীণভাবে গঠিত কোনো বিশেষজ্ঞ দল এটি পরিচালনা করতে পারে। যখন ব্যবস্থাপনার একটি নির্দিষ্ট অংশ বা কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়, তখন তারা প্রায়শই এই কাজ করে।

​২। বহিরাগত বিশেষজ্ঞ (External Experts): বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য এবং বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ব্যবহারের জন্য বহিরাগত পরামর্শদাতা সংস্থা (Management Consulting Firms) বা স্বাধীন বিশেষজ্ঞ নিরীক্ষকদের (যেমন: বিশেষায়িত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা অভিজ্ঞ পেশাদার) নিয়োগ করা হয়।

​অন্যান্য অপশন

​সরকারী কর্মকর্তা: তারা সাধারণত সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সরকারি সংস্থার অডিট (কমপ্লায়েন্স অডিট বা পারফরম্যান্স অডিট) করে, কিন্তু প্রাইভেট কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট অডিট করে না।

​ট্রেড ইউনিয়ন: তারা শ্রমিকদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করে, অডিট পরিচালনা করে না।

​আর্থিক হিসাবরক্ষক (Financial Auditor): তারা মূলত আর্থিক বিবৃতি (Financial Statements) পরীক্ষা করে, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার কৌশলগত দক্ষতার মূল্যায়ন করে না।

৭৮.
কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে 'হ্যালো এফেক্ট' কী?
  1. কেবল নেতিবাচক মূল্যায়ন
  2. SWOT মূল্যায়ন
  3. সহকর্মীদের সাথে সম্পর্কভিত্তিক মূল্যায়ন
  4. একটি বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে সার্বিক মূল্যায়ন
সঠিক উত্তর:
একটি বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে সার্বিক মূল্যায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে সার্বিক মূল্যায়ন
ব্যাখ্যা

হ্যালো এফেক্ট (Halo Effect)

​কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে 'হ্যালো এফেক্ট' হলো এক ধরনের জ্ঞানীয় পক্ষপাত (Cognitive Bias)। এটি ঘটে যখন একজন মূল্যায়নকারী কর্মীর শুধুমাত্র একটি ইতিবাচক বা নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে তার সামগ্রিক কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন করে।

​উদাহরণস্বরূপ:

​➤যদি কোনো কর্মী খুব ভালো পোশাক পরিধান করে (একটি ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য), মূল্যায়নকারী তার অন্যান্য কাজের দিক বিবেচনা না করেই তাকে সামগ্রিকভাবে উচ্চ রেটিং দিতে পারেন। (ইতিবাচক হ্যালো এফেক্ট)

➤যদি কোনো কর্মী খুব লাজুক হয় (একটি নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য), মূল্যায়নকারী তার চমৎকার কাজের গুণগত মান উপেক্ষা করে তাকে সামগ্রিকভাবে নিম্ন রেটিং দিতে পারেন। (নেতিবাচক হ্যালো এফেক্ট বা হর্ন এফেক্ট)।

​সংক্ষেপে, এটি একটি বিশেষ দিক থেকে প্রভাবিত হয়ে সম্পূর্ণ চিত্রটি বিকৃত করে দেখার প্রবণতা।

৭৯.
ইনক্রিমেন্টাল ইনোভেশন কী?
  1. নতুন শিল্প তৈরী
  2. ধারাবাহিক উন্নয়ন
  3. প্রায়োগিক গবেষণা
  4. সময়ের সাথে আয় বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
ধারাবাহিক উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারাবাহিক উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

ইনক্রিমেন্টাল ইনোভেশন 

ইনক্রিমেন্টাল ইনোভেশন হলো এমন একটি উন্নয়নমূলক কৌশল, যেখানে বিদ্যমান পণ্য, সেবা, বা প্রক্রিয়ায় ছোট ছোট পরিবর্তন বা উন্নয়ন আনা হয়—যা সময়ের সাথে মান, কার্যকারিতা, বা ব্যবহারযোগ্যতা বাড়ায়।

➡ এটি বিপ্লব নয়, বরং বিবর্তন  
➡ নতুন শিল্প নয়, বরং বিদ্যমানের ধারাবাহিক উন্নয়ন

 উদাহরণ:

- একটি স্মার্টফোনে নতুন ক্যামেরা ফিচার যোগ করা  
- সফটওয়্যারে ইউজার ইন্টারফেসের ছোট পরিবর্তন  
- গাড়ির জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানো

➡ এগুলো ইনক্রিমেন্টাল ইনোভেশন, কারণ মূল পণ্য একই, শুধু ধাপে ধাপে উন্নয়ন হয়েছে।


অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ

(ক) নতুন শিল্প তৈরী:  
➡ এটি Radical বা Disruptive Innovation-এর উদাহরণ।

(গ) প্রায়োগিক গবেষণা:  
➡ এটি Applied Research, যা ইনোভেশনের পূর্বধাপ হতে পারে, কিন্তু নিজেই ইনক্রিমেন্টাল নয়।

(ঘ) সময়ের সাথে আয় বৃদ্ধি:  
➡ এটি ফলাফল, ইনোভেশনের সংজ্ঞা নয়।

রেফারেন্স

Investopedia: Incremental Innovation

৮০.
একটি প্রতিষ্ঠান কঠোর পরিকল্পনার মাধ্যমে কার্য পরিচালনা করার অবস্থান থেকে সরে এসে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেয়া শুরু করেছে। ফলে কর্মীরা অস্থিরতায় ভুগছে। এই অবস্থাকে কিভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?
  1. ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের ব্যার্থতা
  2. এজাইল ব্যবস্থাপনার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
  3. সাপ্লাই চেইন দূর্বলতা
  4. কর্মী ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা
সঠিক উত্তর:
এজাইল ব্যবস্থাপনার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এজাইল ব্যবস্থাপনার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

এজাইল ব্যবস্থাপনার প্রভাব

Agile Management হলো একটি নমনীয় ও প্রতিক্রিয়াশীল কৌশল, যা দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্য সম্পাদনে সহায়ক।  

 যখন একটি প্রতিষ্ঠান কঠোর পরিকল্পনা (rigid planning) থেকে সরে এসে Agile পদ্ধতি গ্রহণ করে, তখন:

- নিয়মিত পরিবর্তন, পুনঃমূল্যায়ন, ও অভিযোজন ঘটে  
- কর্মীদের জন্য নতুন কাজের ধরণ, অগ্রাধিকার পরিবর্তন, ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়  
- ফলে কর্মীরা অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, ও মানসিক চাপ অনুভব করতে পারেন

এই অবস্থাকে বলা যায় Agile ব্যবস্থাপনার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বিশেষ করে যদি পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, সমন্বয়, ও নেতৃত্ব না থাকে।

সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- Role ambiguity – কে কী করবে তা স্পষ্ট নয়  
- Change fatigue – ঘন ঘন পরিবর্তনে ক্লান্তি  
- Loss of control – পূর্বনির্ধারিত কাঠামো না থাকায় অনিশ্চয়তা  
- Communication overload – নিয়মিত মিটিং ও আপডেটের চাপ

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ

(ক) ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের ব্যর্থতা:  
➡ এটি প্রযুক্তি পরিবর্তনের প্রসঙ্গ, কিন্তু প্রশ্নে পরিকল্পনা ও মানিয়ে নেওয়ার বিষয় রয়েছে।

(গ) সাপ্লাই চেইন দুর্বলতা:  
➡ এটি উৎপাদন ও সরবরাহ সংক্রান্ত সমস্যা, কর্মীদের অস্থিরতার সঙ্গে সম্পর্ক নেই।

(ঘ) কর্মী ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা:  
➡ এটি একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে, কিন্তু প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত পরিবর্তনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়।

রেফারেন্স
McKinsey – Agile Transformation Challenges 

৮১.
ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স কি?
  1. মানুষকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা
  2. সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্তি প্রয়োগ
  3. আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সংক্রান্ত দক্ষতা
  4. নিজের ও অন্যের আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
নিজের ও অন্যের আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিজের ও অন্যের আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা
ব্যাখ্যা

ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স (EI) হলো এমন একটি মানসিক দক্ষতা, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি:

- নিজের আবেগ চিনতে, বুঝতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন
- অন্যের আবেগ অনুধাবন করে সহানুভূতির সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন
- সম্পর্ক গড়ে তুলতে, নেতৃত্ব দিতে, ও দ্বন্দ্ব সমাধানে দক্ষতা দেখাতে পারেন
- EI কর্মক্ষেত্রে, নেতৃত্বে, এবং সামাজিক যোগাযোগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

EI-এর ৫টি মূল উপাদান (Daniel Goleman অনুসারে):
1. Self-awareness – নিজের আবেগ ও আচরণ বোঝা  
2. Self-regulation – আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা  
3. Motivation – অভ্যন্তরীণ প্রেরণা  
4. Empathy – অন্যের অনুভূতি বোঝা  
5. Social skills – সম্পর্ক গড়ে তোলা ও টিমওয়ার্ক

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ

(ক) মানুষকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা:  
➡ EI-এর একটি ফল হতে পারে, কিন্তু EI-এর সংজ্ঞা নয়।

(খ) সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্তি প্রয়োগ:  
➡ এটি Rational Intelligence বা Cognitive Skill, EI নয়।

(গ) আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সংক্রান্ত দক্ষতা:  
➡ এটি প্রযুক্তিগত বিষয়, EI নয়।

রেফারেন্স
- MindTools: Emotional Intelligence

৮২.
প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত প্রয়োগ গতিশীল করতে কোন কাজটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
  1. নির্দেশনা
  2. সঠিক পরিকল্পনা
  3. দক্ষ জনবল
  4. সমন্বয়
সঠিক উত্তর:
সমন্বয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমন্বয়
ব্যাখ্যা

সমন্বয় হলো এমন একটি মূল ব্যবস্থাপকীয় কার্যক্রম, যা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ, কর্মী, ও সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য ও সহযোগিতা নিশ্চিত করে।  

 সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর সেটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে,  
- বিভিন্ন বিভাগকে একসঙ্গে কাজ করতে হয়  
- সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হয়  
- সময়, দায়িত্ব, ও লক্ষ্য একত্রিত করতে হয়

এই কাজগুলো সমন্বয় ছাড়া সম্ভব নয়, তাই সিদ্ধান্ত প্রয়োগে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 উদাহরণ:

একটি হাসপাতাল যদি নতুন টেলিমেডিসিন সেবা চালু করে, তাহলে:
- আইটি বিভাগ, চিকিৎসক, প্রশাসন, ও গ্রাহকসেবা—সবাইকে একত্রে কাজ করতে হয়
- এই সমন্বয় না থাকলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ব্যাহত হয়


অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ

(ক) নির্দেশনা:  
➡এটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের একটি ধাপ, কিন্তু সমন্বয় ছাড়া নির্দেশনা কার্যকর হয় না।

(খ) সঠিক পরিকল্পনা:  
➡ এটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বধাপ, প্রয়োগ নয়।

(গ) দক্ষ জনবল:  
➡ এটি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু দক্ষ জনবলও সমন্বয় ছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে।

 রেফারেন্স

 Robbins & Coulter – Management  

৮৩.
জটিল সমস্যা বিশ্লেষণ ও তার কৌশলগত সমাধান নিরূপনের পারদর্শীতা ব্যবস্থাপকের কোন দক্ষতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ধারনাগত 
  2. প্রযুক্তিগত
  3. মানবিক
  4. কার্যনির্বাহী
সঠিক উত্তর:
ধারনাগত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারনাগত 
ব্যাখ্যা

ধারণাগত দক্ষতা হলো এমন একটি ব্যবস্থাপকীয় ক্ষমতা, যার মাধ্যমে একজন ব্যবস্থাপক:

- জটিল সমস্যা বিশ্লেষণ করতে পারেন  
- বৃহত্তর চিত্র (big picture) বুঝতে পারেন  
- কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে পারদর্শীতা দেখান  
- বিভিন্ন কার্যক্রম ও বিভাগকে সংযুক্ত করে সামগ্রিক সমাধান নির্ধারণ করতে পারেন

➡ এই দক্ষতা উচ্চপর্যায়ের ব্যবস্থাপনায় (যেমন CEO, GM) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও কৌশল নির্ধারণে যুক্ত থাকেন।

৮৪.
'Cost per Hire' মেট্রিকে কি কি অন্তর্ভুক্ত?
  1. নিয়োগ বিজ্ঞাপন খরচ ও প্রশিক্ষন
  2. বিজ্ঞাপন খরচ, বেতন ভাতা
  3. শুধুমাত্র বেতন খরচ
  4. কর্মী পরিবর্তন রেশিও
সঠিক উত্তর:
নিয়োগ বিজ্ঞাপন খরচ ও প্রশিক্ষন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়োগ বিজ্ঞাপন খরচ ও প্রশিক্ষন
ব্যাখ্যা

Cost per Hire (CPH)

Cost per Hire হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ Human Resource (HR) মেট্রিক, যা প্রকাশ করে—  
"একজন কর্মীকে নিয়োগ দিতে প্রতিষ্ঠান কত টাকা খরচ করছে।"
এই মেট্রিকটি নিয়োগ প্রক্রিয়ার দক্ষতা ও খরচ বিশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়।

Cost per Hire-এ সাধারণত যা অন্তর্ভুক্ত হয়:

- নিয়োগ বিজ্ঞাপন খরচ (Job postings, বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম ফি)
- নিয়োগ সংস্থার ফি (Recruitment agency charges)
- ইন্টারভিউ ও মূল্যায়ন খরচ (Assessment tools, panel time)
- প্রশিক্ষণ খরচ (Training materials, onboarding sessions)
- প্রশাসনিক খরচ (Documentation, HR time)

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ

(খ) বিজ্ঞাপন খরচ, বেতন ভাতা:  
➡ বেতন ভাতা CPH-এর অংশ নয়, এটি Employee Compensation-এর অন্তর্ভুক্ত।

(গ) শুধুমাত্র বেতন খরচ:  
➡ CPH শুধুমাত্র বেতন নয়, বরং নিয়োগ প্রক্রিয়ার খরচ।

(ঘ) কর্মী পরিবর্তন রেশিও:  
➡ এটি Attrition বা Turnover Rate-এর অংশ, CPH নয়।

৮৫.
নিচের কোনটি দুর্বল পরিচালনা পর্ষদের সবচাইতে সম্ভাব্য পরিণতি?
  1. বিলম্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
  2. ব্যবস্থাপকের সুযোগসন্ধানী আচরণ ও এজেন্সী খরচ বৃদ্ধি
  3. নির্বাহী কার্যক্রমে শেয়ারহোল্ডারদের অধিকতর সম্পৃক্ততা
  4. পরিচালনা পর্যায়ে স্বায়ত্বশাসন বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
ব্যবস্থাপকের সুযোগসন্ধানী আচরণ ও এজেন্সী খরচ বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যবস্থাপকের সুযোগসন্ধানী আচরণ ও এজেন্সী খরচ বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

​দুর্বল পরিচালনা পর্ষদ (Weak Board of Directors) হলো কর্পোরেট সুশাসনের (Corporate Governance) একটি বড় সমস্যা। পরিচালনা পর্ষদের প্রধান কাজ হলো ব্যবস্থাপনাকে তদারকি করা এবং শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করা।

​দুর্বল তদারকি (Weak Oversight): যখন পরিচালনা পর্ষদ দুর্বল হয় (যেমন, পরিচালকরা অদক্ষ, ম্যানেজমেন্টের প্রতি অতিমাত্রায় অনুগত, বা কম সভা করে), তখন তারা নির্বাহী ব্যবস্থাপকদের (CEO, MD) পর্যাপ্তভাবে তদারকি করতে পারে না।

​এজেন্সী সমস্যা (Agency Problem): দুর্বল তদারকির সুযোগে, ব্যবস্থাপকরা (Agent) শেয়ারহোল্ডারদের (Principal) স্বার্থের পরিবর্তে নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ (বেশি বেতন, অতিরিক্ত সুবিধা, ঝুঁকি এড়িয়ে চলা) পূরণে মনোযোগ দিতে পারে। এই অবস্থাকেই বলা হয় ব্যবস্থাপকের সুযোগসন্ধানী আচরণ (Managerial Opportunism)।

​এজেন্সী খরচ বৃদ্ধি (Increased Agency Costs): ব্যবস্থাপকের এই সুযোগসন্ধানী আচরণ এবং তাদের কর্মকাণ্ড তদারকি করতে ব্যর্থ হওয়ায় যে আর্থিক ক্ষতি বা অতিরিক্ত ব্যয় হয়, তাকে এজেন্সী খরচ বলা হয়। দুর্বল পর্ষদ এই খরচ কমাতে ব্যর্থ হয়, ফলে তা বৃদ্ধি পায়।

​অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
​ক) বিলম্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ: সাধারণত শক্তিশালী এবং অনেক সদস্যের পর্ষদে এটি ঘটে, দুর্বল পর্ষদে নয়। দুর্বল পর্ষদ সাধারণত ব্যবস্থাপকের সিদ্ধান্তকে সহজেই অনুমোদন দেয়।

​গ) নির্বাহী কার্যক্রমে শেয়ারহোল্ডারদের অধিকতর সম্পৃক্ততা: দুর্বল পর্ষদের কারণে শেয়ারহোল্ডাররা অসন্তুষ্ট হয়ে চেষ্টা করতে পারে সম্পৃক্ত হতে, কিন্তু এটি পর্ষদের পরিনতি নয়, বরং এটি সেই পরিণতির একটি প্রতিক্রিয়া।

​ঘ) পরিচালনা পর্যায়ে স্বায়ত্বশাসন বৃদ্ধি: এই স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি (যা ব্যবস্থাপকদের আরও বেশি স্বাধীনতা দেয়) ব্যবস্থাপকের সুযোগসন্ধানী আচরণের কারণ, পরিণতি নয়। কিন্তু সুযোগসন্ধানী আচরণ ও এজেন্সী খরচ বৃদ্ধি হলো সেই স্বায়ত্তশাসনের সরাসরি ও চূড়ান্ত অর্থনৈতিক পরিণতি।

৮৬.
একটি প্রাইভেট হাসপাতাল গ্রামীণ এলাকায় প্রসারের জন্য টেলিমেডিসিন সেবা চালু করেছে। এটি নিচের কোনটির উদাহরণ - 
  1. ডাইভারসিফিকেশন 
  2. রিট্রেঞ্চমেন্ট
  3. টার্ন-এরাউন্ড
  4. মার্কেট ডেভেলপমেন্ট
সঠিক উত্তর:
মার্কেট ডেভেলপমেন্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্কেট ডেভেলপমেন্ট
ব্যাখ্যা

মার্কেট ডেভেলপমেন্ট কৌশল হলো যখন কোনো কোম্পানি তার বিদ্যমান পণ্য বা পরিষেবা (Existing Product) নিয়ে নতুন বাজারে (New Market) প্রবেশ করে।

​বিদ্যমান পণ্য/পরিষেবা: হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা/চিকিৎসা পরিষেবা, এক্ষেত্রে টেলিমেডিসিন সেবা।
​নতুন বাজার: গ্রামীণ এলাকা, যেখানে হাসপাতালটির সরাসরি উপস্থিতি ছিল না।

​এখানে হাসপাতালটি তার মূল সেবা (চিকিৎসা) নিয়ে নতুন ভৌগোলিক এলাকায় (গ্রামীণ এলাকায়) বা নতুন গ্রাহক গোষ্ঠীর কাছে যাচ্ছে, তাই এটি মার্কেট ডেভেলপমেন্ট।

​অন্যান্য বিকল্পের সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ
​ক) ডাইভারসিফিকেশন (Diversification): এটি ঘটে যখন কোনো কোম্পানি নতুন পণ্য নিয়ে নতুন বাজারে প্রবেশ করে। (যেমন: হাসপাতাল যদি পোশাক শিল্পে বিনিয়োগ করত)।

​খ) রিট্রেঞ্চমেন্ট (Retrenchment): এটি হচ্ছে ব্যবসার আকার কমানো, কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়া বা খরচ কমানোর মাধ্যমে সংকুচিত হওয়া। (যেমন: লোকসান কমাতে শাখা বন্ধ করা)।

​গ) টার্ন-এরাউন্ড (Turn-around): এটি সাধারণত লোকসানে থাকা কোম্পানিকে লাভজনক করতে নেওয়া আমূল পরিবর্তনমূলক পদক্ষেপ। (যেমন: ব্যাপক কাঠামোগত পরিবর্তন ও পরিচালন পদ্ধতির উন্নতি)।

৮৭.
একজন ব‍্যবস্থাপক তার অধিনস্ত কর্মচারীকে কিছু ক্ষমতা দিলেও তার প্রতিটি সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেন অথবা অগ্রাহ্য করেন। এতে হেনরী ফেওয়েলের কোন নীতি লঙ্ঘিত হয় বলে মনে করেন?
  1. কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব
  2. সমতা 
  3. আদেশের ঐক্য (Unity of Command)
  4. শৃংখলা (Discipline)
সঠিক উত্তর:
কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব
ব্যাখ্যা

প্রশ্নে বলা হয়েছে 

“একজন ব্যবস্থাপক তার অধীনস্ত কর্মচারীকে কিছু ক্ষমতা (authority) দিলেও তার প্রতিটি সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেন বা অগ্রাহ্য করেন।”

এখানে দেখা যাচ্ছে, কর্মচারীকে দায়িত্ব (responsibility) দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করার বাস্তব ক্ষমতা বা স্বাধীনতা দেওয়া হয়নি।
এতে তার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করা সম্ভব নয় — যা হেনরি ফেওলের মূল নীতির পরিপন্থী।

  হেনরি ফেওলের নীতি
Henri Fayol (1841–1925) ছিলেন আধুনিক প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা তত্ত্বের অন্যতম প্রবর্তক।
তিনি ১৪টি মৌলিক ব্যবস্থাপনা নীতি (Principles of Management) প্রস্তাব করেন, যার একটি হলো —
Authority and Responsibility (কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব)।

  কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব নীতি 

“যে ব্যক্তিকে কোনো দায়িত্ব (Responsibility) দেওয়া হবে, তাকে সেই দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত কর্তৃত্ব (Authority) প্রদান করতে হবে।”

অর্থাৎ দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব — দুটোই সমান অনুপাতে থাকা জরুরি।
একটি বেশি বা কম হলে সংগঠনে বিভ্রান্তি, হতাশা ও শৃঙ্খলাভঙ্গ ঘটে।

  কেন এখানে নীতি লঙ্ঘিত হয়েছে

ব্যবস্থাপক কর্মচারীকে দায়িত্ব দিয়েছেন (যেমন সিদ্ধান্ত নেওয়া, কাজ সম্পাদন করা),
কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিটি সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করছেন বা অগ্রাহ্য করছেন —
এর মানে তিনি কর্মচারীর কর্তৃত্ব কেড়ে নিচ্ছেন।

ফলে দায়িত্ব আছে, কিন্তু কর্তৃত্ব নেই — এটি Fayol-এর “Authority and Responsibility” নীতির সরাসরি লঙ্ঘন।
 
অন্যান্য অপশন
(খ) সমতা (Equity)
এটি ন্যায় ও সদাচরণ সম্পর্কিত; এখানে সমস্যা কর্তৃত্বের অসমতা, ন্যায়বিচারের নয়।

(গ) আদেশের ঐক্য (Unity of Command)
এই নীতি বলে, একজন কর্মচারী কেবল একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে আদেশ নেবে; কিন্তু এখানে সমস্যা হচ্ছে ‘হস্তক্ষেপ’, একাধিক আদেশ নয়।

(ঘ) শৃঙ্খলা (Discipline)
এটি নিয়ম ও আচরণ সংক্রান্ত নীতি; এখানে মূল সমস্যা শৃঙ্খলা নয়, বরং দায়িত্ব ও কর্তৃত্বের ভারসাম্য।

৮৮.
Turnaround Strategy সাধারনত কখন গ্রহন করা হয়?
  1. প্রতিষ্ঠানে বৈচিত্র্য আনতে
  2. বৈশ্বিক সম্প্রসারনের জন্য
  3. পতনের সম্মুখীন প্রতিষ্ঠানকে পুনরুদ্ধারের জন্য
  4. অসন্তুষ্ট কর্মীদের মনোবল ফেরাবার জন্য
সঠিক উত্তর:
পতনের সম্মুখীন প্রতিষ্ঠানকে পুনরুদ্ধারের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পতনের সম্মুখীন প্রতিষ্ঠানকে পুনরুদ্ধারের জন্য
ব্যাখ্যা

Turnaround Strategy হলো এমন একটি পুনরুদ্ধারমূলক কৌশল, যা কোনো প্রতিষ্ঠান আর্থিক, পরিচালনাগত, বা বাজারগত সংকটে পতিত হলে গ্রহণ করে। এর লক্ষ্য হলো:

- প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় স্থিতিশীল ও লাভজনক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা
- ব্যয় হ্রাস, সম্পদ পুনর্বিন্যাস, নেতৃত্ব পরিবর্তন, এবং নতুন কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা করা

➡ এটি সাধারণত সংকটকালীন ব্যবস্থাপনা (Crisis Management)-এর অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

---

 Turnaround Strategy-এর সাধারণ ধাপ:

1. সমস্যা চিহ্নিতকরণ  
2. ব্যয় সংকোচন ও অপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম বন্ধ  
3. নতুন নেতৃত্ব বা ব্যবস্থাপনা কাঠামো  
4. বাজার পুনরুদ্ধার কৌশল  
5. দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ

 অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ

(ক) প্রতিষ্ঠানে বৈচিত্র্য আনতে:  
➡ এটি Diversification Strategy, Turnaround নয়।

(খ) বৈশ্বিক সম্প্রসারণের জন্য:  
➡এটি Global Expansion Strategy, যা উন্নয়নমূলক, সংকটকালীন নয়।

(ঘ) অসন্তুষ্ট কর্মীদের মনোবল ফেরাবার জন্য:  
➡ এটি Human Resource বা Motivation Strategy, Turnaround নয়।

 রেফারেন্স

- Pearce & Robinson – Strategic Management  
- Kotler & Keller – Marketing Management  

৮৯.
অন্যদের অনুপ্রাণিত করার দক্ষতাকে কি বলে?
  1. কারিগরি দক্ষতা
  2. মানবিক দক্ষতা
  3. যোগাযোগ দক্ষতা
  4. আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা
সঠিক উত্তর:
আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা
ব্যাখ্যা

অন্যদের অনুপ্রাণিত করা, অর্থাৎ তাদের উৎসাহ দেওয়া, সহানুভূতি প্রকাশ, এবং ইতিবাচক প্রভাব ফেলা—এটি মূলত আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতার (Interpersonal Skill) অংশ।

এই দক্ষতার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি:

- সহযোগিতা ও সমন্বয় বজায় রাখতে পারেন  
- দলনেতা হিসেবে নেতৃত্ব দিতে পারেন  
- আবেগ ও মনোভাব বুঝে কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন  
- অনুপ্রেরণা ও আত্মবিশ্বাস জাগাতে পারেন

 তাই, Interpersonal Skill-ই এমন দক্ষতা যা অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে সহায়তা করে।

 অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ

(ক) কারিগরি দক্ষতা (Technical Skill):  
➡ এটি প্রযুক্তিগত বা পেশাগত কাজের দক্ষতা বোঝায়, যেমন সফটওয়্যার ব্যবহার, যন্ত্র পরিচালনা।

(খ) মানবিক দক্ষতা (Human Skill):  
➡ এটি ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত একটি বিস্তৃত ধারণা, যা Interpersonal Skill-এর ছায়া হতে পারে, কিন্তু অনুপ্রেরণা দেওয়ার নির্দিষ্ট দক্ষতা নয়।

(গ) যোগাযোগ দক্ষতা (Communication Skill):  
➡ এটি তথ্য আদান-প্রদানের দক্ষতা, যা Interpersonal Skill-এর অংশ হতে পারে, কিন্তু অনুপ্রেরণার পূর্ণ রূপ নয়।

 রেফারেন্স

- Robbins & Coulter – Management  
- MindTools: Interpersonal Skills

৯০.
প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানীর জন্য কোন দলিলটির প্রয়োজন নেই?
  1. পরিমেলবন্ধ
  2. পরিমেল নিয়মাবলী
  3. নিবন্ধনপত্র
  4. কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র
সঠিক উত্তর:
কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র
ব্যাখ্যা

কোম্পানি আইন ১৯৯৪ অনুযায়ী প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির প্রয়োজনীয় দলিল

প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠনের জন্য সাধারণত নিচের দলিলগুলো প্রয়োজন হয়:

1. পরিমেলবন্ধ (Memorandum of Association):  
   কোম্পানির উদ্দেশ্য, নাম, মূলধন, রেজিস্টার্ড অফিসের ঠিকানা ইত্যাদি নির্ধারণ করে।

2. পরিমেল নিয়মাবলী (Articles of Association):  
   কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার নিয়মাবলী নির্ধারণ করে।

3. নিবন্ধনপত্র (Certificate of Incorporation):  
   রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ কর্তৃক প্রদানকৃত আইনগত স্বীকৃতি।

 কিন্তু “কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র (Certificate of Commencement of Business)” প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির জন্য প্রয়োজন নেই।

➡ এটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির জন্য বাধ্যতামূলক, কিন্তু প্রাইভেট কোম্পানি নিবন্ধনের পরই ব্যবসা শুরু করতে পারে—অতিরিক্ত অনুমতির প্রয়োজন হয় না।


রেফারেন্স

- বাংলাদেশ কোম্পানি আইন, ১৯৯৪

৯১.
এট্রিশন রেট (Attrition rate)' কী?
  1. গড় নিয়োগ
  2. গড় অবসর
  3. প্রশিক্ষণ খরচ ও বেতনের অনুপাত
  4. স্বেচ্ছায় প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যাওয়া কর্মীদের শতকরা হার
সঠিক উত্তর:
স্বেচ্ছায় প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যাওয়া কর্মীদের শতকরা হার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বেচ্ছায় প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যাওয়া কর্মীদের শতকরা হার
ব্যাখ্যা

Attrition Rate বা Employee Attrition Rate হলো এমন একটি মানবসম্পদ সূচক, যা প্রকাশ করে—  

"একটি নির্দিষ্ট সময়সীমায় কত শতাংশ কর্মী স্বেচ্ছায় প্রতিষ্ঠান ছেড়ে গেছেন।"

এটি সাধারণত বার্ষিক ভিত্তিতে পরিমাপ করা হয় এবং সংস্থার স্থায়িত্ব, কর্মী সন্তুষ্টি, ও সাংগঠনিক সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।



 উদাহরণ:  
যদি বছরে ২০ জন কর্মী চাকরি ছেড়ে যায় এবং গড় কর্মী সংখ্যা হয় ২০০, তাহলে  
Attrition Rate = (20 ÷ 200) × 100 = 10%

 রেফারেন্স

- SHRM – Understanding Attrition Rate  
- Investopedia: Attrition Definition  

৯২.
টেইলরিজম থিওরি অনুযায়ী বিশেষায়নের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো যায় কিন্তু তা প্রায়শই শ্রমিকদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটা কোন ধরনের ট্রেড-ওফ (Trade-off) প্রকাশ করে?
  1. কার্যকর তত্ত্বাবধান বনাম প্রশিক্ষন
  2. মানকায়ন (Standardization) বনাম খরচ হ্রাস (Cost Reduction)
  3. দক্ষতা বনাম মানব সন্তুষ্টি
  4. সময়-চালনা (Time-Studies) বনাম সময়সূচী
সঠিক উত্তর:
দক্ষতা বনাম মানব সন্তুষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষতা বনাম মানব সন্তুষ্টি
ব্যাখ্যা

টেইলরিজম ও Trade-off

টেইলরিজম (Taylorism) বা Scientific Management Theory, Frederick W. Taylor-এর প্রবর্তিত একটি তত্ত্ব, যেখানে বিশেষায়ন, সময় অধ্যয়ন, এবং মানকায়নের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো হয়।

তবে এই পদ্ধতিতে:

- কর্মীদের কাজ এতটাই পুনরাবৃত্তিমূলক ও যান্ত্রিক হয়ে যায় যে তারা বিরক্ত, অনুপ্রাণিতহীন, এবং অসন্তুষ্ট হয়ে পড়ে
- দক্ষতা বাড়ে, কিন্তু মানবিক সন্তুষ্টি কমে যায়

➡ তাই এটি একটি Trade-off প্রকাশ করে:  
“দক্ষতা বনাম মানব সন্তুষ্টি”

উদাহরণ:

- একটি কারখানায় শ্রমিক যদি সারাদিন শুধু স্ক্রু লাগানোর কাজ করে, তার দক্ষতা বাড়বে, কিন্তু কাজের আগ্রহ ও মানসিক তৃপ্তি কমে যাবে


 অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ

(ক) কার্যকর তত্ত্বাবধান বনাম প্রশিক্ষণ:  
➡ এটি নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষতা উন্নয়নের প্রসঙ্গ, কিন্তু শ্রমিকের বিরক্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই।

(খ) মানকায়ন বনাম খরচ হ্রাস:  
➡ এই Trade-off উৎপাদন খরচের দিক, কিন্তু মানবিক দিক নয়।

(ঘ) সময়-চালনা বনাম সময়সূচী:  
➡ এটি পরিকল্পনা ও সময় ব্যবস্থাপনার Trade-off, শ্রমিকের সন্তুষ্টির প্রসঙ্গ নয়।

রেফারেন্স

- Robbins & Coulter – Management  
- Management Study Guide: Scientific Management Limitations

৯৩.
২১ শতকে নিচের কোনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মূখ্য উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. যে কোনো মূল্যে শেয়ারহোল্ডারদের সম্পদ সর্বাধিক করা
  2. মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি সমাজ ও পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলা
  3. সমাজ ও পরিবেশের মানোন্নয়ন করা
  4. কর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও পরিবেশ বান্ধব বিনিয়োগ
সঠিক উত্তর:
মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি সমাজ ও পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি সমাজ ও পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলা
ব্যাখ্যা

২১ শতকের ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য
আধুনিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু লাভ অর্জন নয়, বরং টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক দায়বদ্ধতা, এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখাকে তাদের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করে।
- এটি Triple Bottom Line ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ:  
  Profit (লাভ), People (মানবসম্পদ), Planet (পরিবেশ)
- CSR (Corporate Social Responsibility) ও ESG (Environmental, Social, Governance) নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত
- শেয়ারহোল্ডার ছাড়াও স্টেকহোল্ডারদের—যেমন কর্মী, গ্রাহক, সমাজ—স্বার্থ রক্ষা করে
তাই, মুনাফার পাশাপাশি সমাজ ও পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলা-ই ২১ শতকের ব্যবসার মূল দর্শন।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ
(ক) যে কোনো মূল্যে শেয়ারহোল্ডারদের সম্পদ সর্বাধিক করা:  
➡ এটি 20th century shareholder capitalism-এর ধারণা, যা এখন সমালোচিত।

(গ) সমাজ ও পরিবেশের মানোন্নয়ন করা:  
➡ এটি একটি মহৎ উদ্দেশ্য, কিন্তু মুনাফা অর্জনের দিকটি বাদ পড়েছে, তাই ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য নয়।

(ঘ) কর্মসংস্থান ও পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ:  
➡ এটি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ব্যবসার সামগ্রিক উদ্দেশ্যকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিফলিত করে না।

৯৪.
নীচের কোনটি ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা পরিমাপের ভিত্তি নয়?
  1. মুনাফার পরিমাপ
  2. অর্জিত জ্ঞান
  3. উৎপাদনশীলতার হার
  4. বিক্রয়ের পরিমাপ 
সঠিক উত্তর:
অর্জিত জ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্জিত জ্ঞান
ব্যাখ্যা

কেন "অর্জিত জ্ঞান" ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা পরিমাপের ভিত্তি নয়?

অর্জিত জ্ঞান হলো একটি ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ, যা ব্যবস্থাপক কাজে ব্যবহার করতে পারেন। তবে এটি পরিমাপযোগ্য দক্ষতার সূচক নয়, কারণ:

- এটি পরোক্ষভাবে দক্ষতা নির্দেশ করে, সরাসরি নয়
- জ্ঞান থাকা মানেই দক্ষতা প্রয়োগে সফলতা নয়
- দক্ষতা পরিমাপ করতে হয় ফলাফলভিত্তিক সূচকে, যেমন: মুনাফা, উৎপাদনশীলতা, বিক্রয়

 ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা পরিমাপের ভিত্তি হিসেবে যেগুলো গ্রহণযোগ্য:

- মুনাফার পরিমাপ: পরিচালনার দক্ষতায় লাভজনকতা বাড়ে
- উৎপাদনশীলতার হার: সময় ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার
- বিক্রয়ের পরিমাণ: বাজারে কার্যকারিতা ও কৌশলের সফলতা

➡ এই সূচকগুলো পরিসংখ্যানভিত্তিক, ফলাফলনির্ভর, এবং তুলনামূলক বিশ্লেষণে উপযোগী।

 রেফারেন্স

- Robbins & Coulter – Management  

৯৫.
একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবার জন্য গবেষণা, উন্নয়ন ও প্রযুক্তিতে প্রচুর বিনিয়োগ করেন। এটি কোন ধরনের কৌশল?
  1. ডিফেন্ডার 
  2. প্রস্পেক্টর
  3. রিএক্টর 
  4. এনালাইজার
সঠিক উত্তর:
প্রস্পেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্পেক্টর
ব্যাখ্যা

Prospector Strategy হলো Miles & Snow-এর কৌশলগত শ্রেণিবিন্যাসের একটি ধরন, যেখানে প্রতিষ্ঠান:

- নতুন বাজার, পণ্য, ও প্রযুক্তি অনুসন্ধানে সক্রিয় থাকে
- গবেষণা ও উন্নয়নে (R&D) উচ্চ বিনিয়োগ করে
- প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে উদ্ভাবন ও পরিবর্তনকে অগ্রাধিকার দেয়
- ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত থাকে, এবং নতুন সুযোগ খোঁজে

➡ এই কৌশল অনুসরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে প্রথম প্রবেশকারী (first movers) হওয়ার চেষ্টা করে এবং নতুনত্বের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকে।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ
ক) ডিফেন্ডার (Defender):  
➡ স্থিতিশীল বাজারে কাজ করে, বিদ্যমান পণ্য ও প্রক্রিয়ায় দক্ষতা ধরে রাখে। উদ্ভাবনের চেয়ে দক্ষতা ও খরচ নিয়ন্ত্রণে বেশি মনোযোগ দেয়।

গ) রিএক্টর (Reactor):  
➡ কোনো সুসংগঠিত কৌশল অনুসরণ করে না, বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানায়। এটি অদক্ষ ও অস্থির কৌশল।

ঘ) এনালাইজার (Analyzer):  
➡ Prospector ও Defender কৌশলের সংমিশ্রণ। এটি নতুনত্ব ও স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রাখে। উদ্ভাবন করে, তবে সাবধানতার সঙ্গে।

রেফারেন্স
- Management Study Guide: Strategic Types  
- Robbins & Coulter – Management

৯৬.
নীচের কোনটি বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা?
  1. মানবিক সম্পর্কের উপর অতিরিক্ত গুরুত্ব
  2. উৎপাদনের উপর কম গুরুত্ব
  3. নিয়ম ও দক্ষতার উপর অতিরিক্ত গুরত্ব
  4. আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনার অভাব
সঠিক উত্তর:
নিয়ম ও দক্ষতার উপর অতিরিক্ত গুরত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়ম ও দক্ষতার উপর অতিরিক্ত গুরত্ব
ব্যাখ্যা

Scientific Management Theory, যা Frederick W. Taylor প্রবর্তন করেন, মূলত দক্ষতা, সময় অধ্যয়ন, এবং কাজের মানদণ্ড নির্ধারণের উপর ভিত্তি করে। যদিও এটি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে, তবুও এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

প্রধান সীমাবদ্ধতা:
- মানবিক দিক উপেক্ষা: কর্মীদের আবেগ, সম্পর্ক, ও সামাজিক চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না
- অতিরিক্ত নিয়ম-কানুন: কাজের প্রতিটি ধাপকে এতটাই কাঠামোবদ্ধ করা হয় যে সৃজনশীলতা ও নমনীয়তা বাধাগ্রস্ত হয়
- দক্ষতা ও মানদণ্ডের উপর অতিরিক্ত জোর: কর্মীদেরকে কেবল যন্ত্রের মতো বিবেচনা করা হয়
- দ্বৈত কর্তৃত্ব ও সংঘাত: লাইন ও স্টাফ কর্তৃত্বে বিভ্রান্তি তৈরি হয়

➡ তাই, “নিয়ম ও দক্ষতার উপর অতিরিক্ত গুরুত্ব”-ই বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার একটি মূল সীমাবদ্ধতা।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ
ক) মানবিক সম্পর্কের উপর অতিরিক্ত গুরুত্ব:  
➡ এটি Human Relations Theory-এর বৈশিষ্ট্য, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার নয়।

খ) উৎপাদনের উপর কম গুরুত্ব:  
➡ বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা বরং উৎপাদন বৃদ্ধির উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়।

ঘ) আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনার অভাব:  
➡ বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনা অত্যন্ত কাঠামোবদ্ধ ও বিশ্লেষণভিত্তিক।

রেফারেন্স  
- Robbins & Coulter – Management

৯৭.
কোম্পানী ব্যবস্থাপনায় মূলত কোন পদ্ধতি অনুসরন করা হয়?
  1. গণতান্ত্রিক
  2. স্বৈরতান্ত্রিক
  3. পিতৃতান্ত্রিক
  4. পরামর্শমূলক
সঠিক উত্তর:
পরামর্শমূলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরামর্শমূলক
ব্যাখ্যা

পরামর্শমূলক পদ্ধতি হলো এমন একটি ব্যবস্থাপনা শৈলী যেখানে ব্যবস্থাপনা/ম্যানোজার কর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ করে মতামত নেয়, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব রাখা হয় নেতৃত্বের হাতে — এটি ত্বরিত সিদ্ধান্ত ও কর্মসংস্কৃতির মধ্যে সমতা বজায় রাখে; এজন্য কোম্পানিতে মূলত এই পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয়।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা 
পরামর্শমূলক পদ্ধতির সংজ্ঞা

পরামর্শমূলক (consultative) ব্যবস্থাপনায় পরিচালক, ম্যানেজার বা সুপারভাইজাররা কর্মীদের মতামত ও তথ্য সংগ্রহ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে আলোচনা করেন। তবে চূড়ান্ত প্রশাসনিক ক্ষমতা ও দায়িত্ব ম্যানেজারেরই থাকে — অর্থাৎ অংশগ্রহণ আছে কিন্তু সিদ্ধান্তাধিকার পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া হয় না।

 কেন কোম্পানিতে এটি প্রধানত ব্যবহৃত হয়

সময়-ম্যাবিলিটি (speed vs. inclusion) এ সুষম সমাধান: পূর্ণত: গণতান্ত্রিক পদ্ধতি (সব সিদ্ধান্তে ব্যাপক ভোট/সম্মতি) ধীর এবং অপ্রয়োগ্য হতে পারে; স্বৈরতান্ত্রিক পদ্ধতি দ্রুত সিদ্ধান্ত দেয় কিন্তু কর্মীবৃন্দের মোরাল ও উদ্ভাবন ক্ষুণ্ন করে। পরামর্শমূলক পদ্ধতি দুইয়ের মধ্যে একটা ভারসাম্য করে — কর্মীরা অংশ নেবে, ফলত গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে; তবুও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।

বিভিন্ন স্তরের দায়বদ্ধতা বজায় থাকে: কোম্পানিতে নির্দিষ্ট দায়বদ্ধতা, আইনগত দায় ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত থাকে — সবকিছু এমপ্লয়িদের ভোটে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়; তবু তাদের ইনপুট নেওয়া কার্যকর।
সংস্কৃতি ও নিয়ন্ত্রণ: আধুনিক কর্পোরেট পরিবেশে কর্মীর প্রতিভা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান বরং সম্পূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চান না—এজন্য পরামর্শমূলক পদ্ধতি উপযুক্ত।

 অন্যান্য পদ্ধতির সঙ্গে তুলনা

গণতান্ত্রিক (Democratic): সিদ্ধান্তগ্রহণে বেশি অংশগ্রহণ,—উদ্ভাবন বাড়ে কিন্তু বড় বা সময়সংবেদনশীল সিদ্ধান্তে জটিল। কিছু স্টার্টআপ/কোভ-অপারেশন বা স্বশাসিত টিমে কার্যকর, কিন্তু প্রচুর কোম্পানিতে এটি 'মূলত' পদ্ধতি নয়।

স্বৈরতান্ত্রিক (Autocratic): তাত্ক্ষণিক ও দৃঢ় সিদ্ধান্তে উপযোগী—সংকট বা খুব দ্রুত ব্যবস্থাপনার সময় কার্যকর; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে কর্মী অনুপ্রেরণা ও সৃষ্টিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করে।

পিতৃতান্ত্রিক (Paternalistic): নেতা পরিবারের মতো আচরণ করে—কর্মীর কল্যাণের কথা ভাবা হয়; কিছু সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায় (উদাহরণ: কিছু ঐতিহ্যগত ব্যবসা), কিন্তু আধুনিক বৃহৎ কোম্পানিতে এটি পুরোপুরি প্রাধান্য পায় না।

বাস্তব প্রয়োগের উদাহরণ

বড় কর্পোরেটে নতুন নীতি চালুর আগে ম্যানেজাররা শ্রমিক/ইউনিট প্রতিনিধিদের সাথে পরামর্শ করে, তাদের উদ্বেগ-প্রস্তাব নথিভুক্ত করে এবং পরে পাইলট প্রয়োগ করে।

পারফরম্যান্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে কর্মীর ফিডব্যাক নেওয়া, কিন্তু বোনাস/চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত শেষে ম্যানেজারী অনুমোদন — এটা পরামর্শমূলক মডেলের উদাহরণ।

৯৮.
কোন মতবাদ অনুযায়ী, প্রেষণা দানের একই পদ্ধতি সব জায়গায় কাজ করে না?
  1. পদ্ধতি মতবাদ
  2. লক্ষ্য স্থাপন তত্ত্ব
  3. পরিস্থিতি প্রেক্ষিত মতবাদ
  4. দ্বি-উপাদান তত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
পরিস্থিতি প্রেক্ষিত মতবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিস্থিতি প্রেক্ষিত মতবাদ
ব্যাখ্যা

Contingency Perspective বা পরিস্থিতি-ভিত্তিক মতবাদ অনুযায়ী,  
একই প্রেষণা কৌশল সব কর্মী বা পরিস্থিতিতে সমানভাবে কার্যকর হয় না।”

এই মতবাদ মনে করে:
- কর্মীদের চাহিদা, পরিবেশ, সংস্কৃতি, দক্ষতা, ও মনোভাব ভিন্ন হতে পারে
- তাই প্রেষণা কৌশলও ভিন্ন হতে হবে
- নেতা বা ব্যবস্থাপককে পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল নির্বাচন করতে হয়

➡ উদাহরণ:  
একজন অভিজ্ঞ কর্মীকে স্বাধীনতা ও চ্যালেঞ্জ দিয়ে অনুপ্রাণিত করা যায়,  
অন্যদিকে নতুন কর্মীকে সহায়তা ও নির্দেশনা দিয়ে উৎসাহিত করতে হয়।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ
ক) পদ্ধতি মতবাদ (Process Theory):  
➡ এটি প্রেষণার অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে, যেমন Expectancy Theory, Equity Theory। এটি পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তনের কথা বলে না।

খ) লক্ষ্য স্থাপন তত্ত্ব (Goal-Setting Theory):  
➡ এটি বলে—নির্দিষ্ট ও চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য কর্মীদের প্রেষণা বাড়ায়। তবে এটি পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তনের কথা বলে না।

ঘ) দ্বি-উপাদান (Two-Factor Theory):  
➡ এটি Herzberg-এর Hygiene ও Motivator উপাদান ব্যাখ্যা করে। এটি কর্মক্ষেত্রের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উপাদান নিয়ে আলোচনা করে, কিন্তু পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল পরিবর্তনের কথা বলে না।

রেফারেন্স
- Robbins, S.P. – Organizational Behavior  

৯৯.
নিচের কোনটি SMART লক্ষ্য?
  1. এ বছরের তুলনায় আগামী বছর বিক্রির পরিমান ২৫% বৃদ্ধি করা
  2. আগামী বছর বিক্রির পরিমান সর্বোচ্চ বৃদ্ধি করা
  3. ১০০% ভোক্তা সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা
  4. ব্যবসার মুনাফা ১০% বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
এ বছরের তুলনায় আগামী বছর বিক্রির পরিমান ২৫% বৃদ্ধি করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ বছরের তুলনায় আগামী বছর বিক্রির পরিমান ২৫% বৃদ্ধি করা
ব্যাখ্যা

SMART লক্ষ্য বলতে বোঝায় এমন লক্ষ্য যা নির্দিষ্ট (Specific), পরিমাপযোগ্য (Measurable), অর্জনযোগ্য (Achievable), প্রাসঙ্গিক (Relevant), এবং সময়সীমাবদ্ধ (Time-bound)।

“এ বছরের তুলনায় আগামী বছর বিক্রির পরিমাণ ২৫% বৃদ্ধি করা”:

- Specific: বিক্রির পরিমাণ বৃদ্ধি
- Measurable: ২৫% বৃদ্ধি
- Achievable: পূর্ববর্তী তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়নযোগ্য
- Relevant: ব্যবসার বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত
- Time-bound: “আগামী বছর” সময়সীমা নির্ধারিত

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ
(খ) সর্বোচ্চ বৃদ্ধি করা:  
➡ অস্পষ্ট ও অপরিমাপযোগ্য—“সর্বোচ্চ” মানে কত? কখন?

(গ) ১০০% ভোক্তা সন্তুষ্টি:  
➡ অবাস্তব ও অর্জনযোগ্য নয়—সব ভোক্তা কখনোই ১০০% সন্তুষ্ট থাকবে না।

(ঘ) ব্যবসার মুনাফা ১০% বৃদ্ধি:  
➡ সময়সীমা নেই—Time-bound নয়, তাই SMART নয়।

১০০.
কনকারেন্ট কন্ট্রোল কী?
  1. আগের থেকে কাজ নিয়ন্ত্রণ
  2. কাজ চলাকালীন নিয়ন্ত্রণ
  3. কাজের শেষে নিয়ন্ত্রণ
  4. পরিস্থিতি অনুযায়ী
সঠিক উত্তর:
কাজ চলাকালীন নিয়ন্ত্রণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজ চলাকালীন নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা

Concurrent Control হলো এমন একটি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যা কাজ চলাকালীন সময়ে বাস্তব সময়েই কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে। এর মাধ্যমে ত্রুটি বা বিচ্যুতি ঘটার আগেই বা ঘটার সময়েই শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

বৈশিষ্ট্য:
- রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ  
- ত্রুটি প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা  
- উৎপাদন, পরিষেবা, বা অপারেশন চলাকালীন প্রয়োগযোগ্য  
- মান নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ

➡ উদাহরণ:  
একটি কল-কারখানায় উৎপাদন চলাকালীন যন্ত্রের তাপমাত্রা বা গতি পর্যবেক্ষণ করে নিয়ন্ত্রণ করা—এটি কনকারেন্ট কন্ট্রোল।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ
ক) আগের থেকে কাজ নিয়ন্ত্রণ:  
➡ এটি ফিডফরওয়ার্ড কন্ট্রোল (Feedforward Control), যেখানে কাজ শুরুর আগে পরিকল্পনা ও পূর্বাভাসের ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

গ) কাজের শেষে নিয়ন্ত্রণ:  
➡ এটি ফিডব্যাক কন্ট্রোল (Feedback Control), যেখানে কাজ শেষ হওয়ার পর ফলাফল বিশ্লেষণ করে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

ঘ) পরিস্থিতি অনুযায়ী:  
➡ এটি Contingency Control-এর ধারণা, যা পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।

রেফারেন্স
- Robbins & Coulter. Management  

১০১.
'পরিবার থেকেই শিক্ষার শুরু'-এখানে 'থেকে' শব্দের সাথে যুক্ত 'ই'-এর ব্যাকরণিক পরিচয় কী?
  1. উপসর্গ
  2. প্রত্যয়
  3. ধাতু
  4. বলক
সঠিক উত্তর:
বলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) বলক।
--------------
• বাংলা ব্যাকরণে, শব্দ গঠনের বিভিন্ন উপাদান রয়েছে, যেমন উপসর্গ, প্রত্যয়, ধাতু, এবং বলক। প্রশ্নে দেওয়া বাক্য ‘পরিবার থেকেই শিক্ষার শুরু’-এর মধ্যে ‘থেকে’ শব্দের সঙ্গে যুক্ত ‘ই’ শব্দটির ব্যাকরণিক পরিচয় হলো- বলক।

• বলক:

যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে।
যেমন -
'তখনই' বা ‘এখনও' পদের 'ই' বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

অন্য অপশন,

উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
যেমন-
- অজানা (অ + জানা), অভিযােগ (অভিযােগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ’, ‘অভি’, ‘বে’ হলাে উপসর্গ।

• প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন -
→ বাঘ + আ = বাঘা।
→ দিন + ইক = দৈনিক।
উপরের উদাহরণে 'আ' ও 'ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং 'বাঘা' ও 'দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে। এসকল ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
যেমন: ‘লিখ্‌ + আ = লিখা; এখানে, লিখ্‌ হলো ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১০২.
আহমদ শরীফের মতে মধ্যযুগে চণ্ডীদাস নামে কতজন কবি ছিলেন?




সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো- খ) ৩

ব্যাখ্যা:
আহমদ শরীফের গবেষণা অনুসারে, মধ্যযুগে চণ্ডীদাস নামে তিনজন কবি ছিলেন।
যথা:
১। অনন্ত বড়ু চণ্ডীদাস- সর্বপ্রাচীন চণ্ডীদাস,
২। চণ্ডীদাস- চৈতন্য পূর্বকালের বা জ্যেষ্ঠ সমসাময়িক এবং
৩। দীন চণ্ডীদাস- আঠারো শতকের শেষার্ধ।

এই তিনজনের রচিত পদাবলীতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনী এবং বৈষ্ণব ভক্তির প্রতিফলন ঘটেছে।

• আহমদ শরীফের গবেষণাগ্রন্থ (যেমন: "বাঙালী ও বাংলা সাহিত্য") অনুসারে,


উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং আহমদ শরীফের গবেষণাগ্রন্থ (যেমন: "বাঙালী ও বাংলা সাহিত্য")।

১০৩.
মধুসূদন দত্তের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কায়কোবাদ
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

ব্যাখ্যা:
মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩) বাংলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি, যিনি বিশেষত তাঁর ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ এবং আধুনিক বাংলা সনেটের জন্য বিখ্যাত। তিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার সূচনা করেন। তাঁর পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি কে ছিলেন, তা নির্ধারণ করতে আমাদের সময়কাল এবং সাহিত্যে অবদান বিবেচনা করতে হবে।

অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:

ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১):
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মধুসূদন দত্তের — পরবর্তী কালের কবি। তিনি জন্মগ্রহণ করেন মধুসূদনের মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ে এবং তাঁর সাহিত্যকর্ম মধুসূদনের পরে বিকশিত হয়। তাই তিনি মধুসূদনের পূর্ববর্তী কবি হতে পারেন না।

খ) কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১):
কায়কোবাদ একজন উল্লেখযোগ্য কবি, যিনি তাঁর — ‘মহাশ্মশান কাব্য’ এর জন্য পরিচিত। কিন্তু তিনি মধুসূদনের — পরবর্তী সময়ে সাহিত্যকর্ম শুরু করেন। তাঁর জন্মও মধুসূদনের সক্রিয় সাহিত্যজীবনের পরে। সুতরাং, তিনি পূর্ববর্তী কবি নন।

গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯):
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন মধুসূদন দত্তের — পূর্ববর্তী এবং সমসাময়িক কালের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি ও সাংবাদিক। তিনি ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে এবং তাঁর সামাজিক ও ব্যঙ্গাত্মক কবিতার জন্য বিখ্যাত। তিনি বাংলা সাহিত্যে মধুসূদনের আগে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন এবং তাঁর কাজ মধুসূদনের সময়ে প্রভাব বিস্তার করেছিল। তাই তিনি মধুসূদনের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি হিসেবে বিবেচিত হন।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পর্কিত আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিলো তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

ঘ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী (১৮৮০-১৯৩১):
ইসমাইল হোসেন সিরাজী মধুসূদনের — পরবর্তী কালের কবি। তিনি তাঁর জাতীয়তাবাদী ও মুসলিম সাহিত্যের জন্য পরিচিত। তাঁর জন্ম ও সাহিত্যকর্ম মধুসূদনের মৃত্যুর পরে শুরু হয়, তাই তিনি পূর্ববর্তী কবি হতে পারেন না।

তাই বলা চলে, মধুসূদন দত্তের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি হলেন — ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (ড. সুকুমার সেন), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১০৪.
'এ কাজ করতে আমি বদ্ধ পরিকর'- এখানে 'পরিকর' শব্দের অর্থ কী?
[মূল প্রশ্নে 'পরিবার' লেখা ছিল]
  1. শ্বাস
  2. প্রতিজ্ঞা
  3. কোমর
  4. প্রতিশ্রুত
সঠিক উত্তর:
কোমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোমর
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) কোমর।
-------------------
প্রথমে শব্দের অর্থগুলো জেনে নিই-

• বদ্ধ শব্দের অর্থ- বাঁধা; আবদ্ধ; বাঁধানো।
• পরিকর অর্থ- কটিবন্ধ।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,




ব্যাখ্যা:
বাক্যটি — “এ কাজ করতে আমি বদ্ধ পরিকর” — এখানে ‘পরিকর’ শব্দের অর্থ কোমর।
‘বদ্ধ পরিকর’ মানে কোমর বেঁধে প্রস্তুত হওয়া বা দৃঢ় সংকল্প করা।

অর্থাৎ বাক্যটির ভাবার্থ —
“এ কাজটি করতে আমি দৃঢ়ভাবে প্রস্তুত।”

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; Accessible Dictionary by Bangla Academy.
---------------------

সংস্কৃত ‘বদ্ধ’ এবং ‘পরিকর’ শব্দ সহযোগে গঠিত শব্দ হলো বদ্ধপরিকর। এটি বিশেষণ পদ। বদ্ধপরিকর শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, কঠোর প্রতিজ্ঞা, দৃঢ়সংকল্প, কোনো কাজ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে এমন বোঝায় প্রভৃতি। ব্যুৎপত্তিগতভাবে ‘বদ্ধ’ শব্দের অর্থ হলো, ‘বাঁধা’ আর ‘পরিকর’ শব্দের একাধিক অর্থের মধ্যে একটি অর্থ হলো, কোমর বা কটিবন্ধ, কোমরবন্ধনী। ইংরেজিতে যেটিকে আমরা বলি বেল্ট। সেই হিসেবে বদ্ধপরিকর শব্দের আক্ষরিক অর্থ হয় কোমর বা কটিবন্ধ বাঁধা। সংস্কৃত থেকে জাত কোমরবন্ধনী বাঁধা প্রসঙ্গটিই কালক্রমে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ অর্থরূপে পরিগ্রহ করেছে।

সূত্র: 'আজকের পত্রিকা'র রিপোর্ট - "শব্দের আড়ালে গল্প: বদ্ধপরিকর", লেখক: রাজীব কুমার সাহা, আভিধানিক ও প্রাবন্ধিক।
----------------------

অতিরিক্ত আলোচনা:
এই প্রশ্নের উত্তর বিশ্লেষণের জন্য আমরা বিগত ৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার একটি প্রশ্ন যদি পর্যালোচনা করি।

'গড্ডালিকা প্রবাহ' বাগ্‌ধারায় 'গড্ডল' শব্দের অর্থ কী?
ক) গরু
খ) ছাগল
গ) ভেড়া
ঘ) মহিষ

• ‘গড্ডলিকা প্রবাহ’ বাগ্‌ধারার অর্থ - অন্ধভাবে অনুসরণ। কিন্তু এখানে আক্ষরিক অর্থে 'গড্ডল' শব্দের অর্থ 'ভেড়া' হয়েছে।

একইভাবে, এখানেও 'এ কাজ করতে আমি বদ্ধ পরিকর'- বাক্যে পরিকর শব্দের আক্ষরিক অর্থ ধরলে সেটার অর্থ হয় কটি বা কোমর।

১০৫.
'শিক্ষককে বুঝতে হবে শিক্ষার্থী কী চায়'- এই বাক্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর প্রয়োগ হয়েছে-
  1. একবচন বোঝাতে
  2. বহুবচন বোঝাতে
  3. একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে
  4. প্রথমটি একবচন, পরেরটি বহুবচন বোঝাতে
সঠিক উত্তর:
একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে।

ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে, ‘শিক্ষক’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দ দুটি লিঙ্গ-নিরপেক্ষ এবং বচন-নিরপেক্ষ (singular and plural neutral) শব্দ, যা প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভর করে একবচন (singular) বা বহুবচন (plural) উভয়ই বোঝাতে পারে।

বাক্যটি বিশ্লেষণ করা যাক:
বাক্য: “শিক্ষককে বুঝতে হবে শিক্ষার্থী কী চায়। ”এখানে ‘শিক্ষক’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দ দুটির সঙ্গে কোনো বচন নির্দেশক শব্দ (যেমন: ‘একজন’, ‘সকল’, ‘অনেক’) যুক্ত নেই। ফলে এগুলো প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভর করে একজন শিক্ষক বা একাধিক শিক্ষক এবং একজন শিক্ষার্থী বা একাধিক শিক্ষার্থী উভয়কেই বোঝাতে পারে।

‘শিক্ষককে’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দের বিভক্তি (‘-কে’ এবং বিভক্তিহীন রূপ) কোনো নির্দিষ্ট বচন নির্দেশ করে না। বাংলায় এই ধরনের শব্দ সাধারণত একবচন এবং বহুবচন উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হতে পারে।

তাই বালা যায়, ‘শিক্ষক’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দ দুটির প্রয়োগ একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৬.
'তিনি কথা শুনে ঘুমাতে পারলেন না' - বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কী হবে?
  1. তিনি কথা না শুনে ঘুমাতে পারলেন না
  2. তিনি কথা না শুনে ঘুমাতে পারলেন
  3. তিনি জেগে রইলেন কথা না শুনে
  4. তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন
সঠিক উত্তর:
তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন।

ব্যাখ্যা:
বাক্যটি — “তিনি কথা শুনে ঘুমাতে পারলেন না” — এটি একটি নেতিবাচক (Negative) বাক্য।
এর অস্তিবাচক (Affirmative) রূপ করতে হলে “না” বাদ দিয়ে অর্থ বজায় রেখে ইতিবাচকভাবে প্রকাশ করতে হয়।

এখানে,
“ঘুমাতে পারলেন না” = “জেগে রইলেন” (অর্থ একই থাকে)।

অতএব, অস্তিবাচক রূপ হবে —
“তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন।”

অন্যদিকে,
অন্যান্য অপশনগুলোতে নেতিবাচক 'না' শব্দটি রয়েছে; যা নেতিবাচক বাক্যের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৭.
কোন্ ধ্বনি পরিবর্তনটি যথাযথ নয়?
  1. ক্রন্দন > কাঁদা
  2. অঞ্চল > আঁচল
  3. সংগীত > গীতিকা
  4. দন্ত > দাঁত
সঠিক উত্তর:
সংগীত > গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংগীত > গীতিকা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) সংগীত > গীতিকা।

ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষায় ধ্বনি পরিবর্তনের মাধ্যমে শব্দের রূপান্তর ঘটে, যা প্রায়শই তৎসম, তদ্ভব বা দেশি শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে দেখা যায়। ধ্বনি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়ম অনুসারে, তৎসম শব্দ থেকে তদ্ভব শব্দে রূপান্তরের সময় ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটে, যেমন স্বরধ্বনি বা ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তন।

চলুন অপশন বিশ্লেষণ করি —
ক) ক্রন্দন → কাঁদা:
এটি ধ্বনি-পরিবর্তনের মাধ্যমে গঠিত। তৎসম শব্দ ‘ক্রন্দন’ (অর্থ: কান্না) থেকে তদ্ভব শব্দ ‘কাঁদা’ (ক্রিয়া, অর্থ: কাঁদা বা কান্না করা) গঠিত হয়েছে।

খ) অঞ্চল → আঁচল:
এটি ধ্বনি-পরিবর্তনের উদাহরণ। তৎসম শব্দ ‘অঞ্চল’ (অর্থ: কাপড়ের প্রান্ত বা অঞ্চল) থেকে তদ্ভব শব্দ ‘আঁচল’ (অর্থ: শাড়ির প্রান্ত) গঠিত হয়েছে।

গ) সংগীত → গীতিকা:
‘সংগীত’ থেকে ‘গীতিকা’ গঠনের জন্য কোনো সরাসরি ধ্বনিগত পরিবর্তন নেই। বরং এটি অন্য একটি শব্দগঠন (প্রত্যয়যুক্ত রূপ)। ‘গীতিকা’ একটি তৎসম শব্দ, যা ‘গীত’ (গান) শব্দের সঙ্গে ‘-ইকা’ প্রত্যয় যোগ করে গঠিত। 'গীতিকা' সংগীতের একটি রূপ বা ছোট গান বোঝায়, কিন্তু ‘সংগীত’ থেকে ধ্বনি পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি উৎপন্ন হয় না।

ঘ) দন্ত → দাঁত:
এটি স্পষ্ট ধ্বনি-পরিবর্তনের উদাহরণ (স্বরবিকৃতি ও উচ্চারণগত পরিবর্তন)। তৎসম শব্দ ‘দন্ত’ (অর্থ: দাঁত) থেকে তদ্ভব শব্দ ‘দাঁত’ গঠিত হয়েছে।

অতএব, যথাযথ নয় — গ) সংগীত > গীতিকা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৮.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহাঙ্গীর-
  1. বাঁধন-হারা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. কুহেলিকা
  4. শিউলিমালা
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস ‘কুহেলিকা’ (প্রকাশকাল: ১৯৩১ খ্রি.)-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো — জাহাঙ্গীর।
এই উপন্যাসে তিনি একজন শিক্ষিত, দেশপ্রেমিক, বিপ্লবী চরিত্র — যিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ খুঁজছেন।
---------------
• 'কুহেলিকা' উপন্যাস সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য:
কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস ‘কুহেলিকা’ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়। গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১)।

- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর বিপ্লবী স্বদেশি দলের সঙ্গে যুক্ত।
- কিন্তু তার যে প্রেমের সম্পর্ক ও নারী সম্পর্কে ধারণা তা যথেষ্ট ঋণাত্মক।

এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

- নারী সম্পর্কে এ উপন্যাসে বলা হয়েছে:
‘ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

-----------------
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে কিছু সংক্ষিপ্ত তথ্য:

- বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিলো ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১০৯.
'উৎক্ষেপণ' শব্দের 'উৎ' উপসর্গ কোন্ অর্থ ধারণ করছে?
  1. জোর
  2. ঊর্ধ্ব
  3. আড়াল
  4. গতি
সঠিক উত্তর:
ঊর্ধ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊর্ধ্ব
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) ঊর্ধ্ব।

----------------
ব্যাখ্যা:
‘উৎক্ষেপণ’ শব্দটি গঠিত হয়েছে —
উৎ (উপসর্গ) + ক্ষেপণ (মূল শব্দ)

এখানে ‘উৎ’ উপসর্গের অর্থ হলো ঊর্ধ্ব বা উপরের দিকে।
অর্থাৎ, উৎক্ষেপণ মানে হচ্ছে উপরের দিকে নিক্ষেপ করা বা উচ্চে ছোড়া।

যেমন: রকেটের উৎক্ষেপণ (রকেটকে আকাশে ঊর্ধ্বে পাঠানো)।

উল্লেখ্য,
- ’উৎ’ একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

’উৎ’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’ঊর্ধ্বমুখিতা" অর্থে- উদ্যম, উন্নতি, উৎক্ষিপ্ত, উদগ্রীব, উত্তোলন।
• ’আতিশয্য’ অর্থে- উচ্ছেদ, উত্তপ্ত, উৎফুল্ল, উৎসুক, উৎপীড়ন।
• ’প্রস্তুতি’ অর্থে- উৎপাদন, উচ্চারণ।
• ’অপকর্ষ’ অর্থে- উৎকোচ, উচ্ছৃঙ্খল, উৎকট।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

১১০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শব্দের শুরুতে মাত্রাযুক্ত এ-কার ব্যবহার করতেন কেন?
  1. এ-কার মাত্রা যুক্ত বলে
  2. 'এ' মাত্রাহীন বর্ণ বলে
  3. 'এ' উচ্চারণ বোঝাতে
  4. 'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে
সঠিক উত্তর:
'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) 'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে।

• ‘এ’ এবং 'অ্যা' - এর উচ্চারণ:
‘এ’- কারের উচ্চারণ ভিন্নতা (‘এ’ এবং 'অ্যা') নির্দেশকল্পে রবীন্দ্রনাথ ‘এ’-কারের মুদ্রণে মাত্রাযুক্ত ও মাত্রাহীন ব্যবহার প্রচলন করেন; যা নির্দেশ করে ধ্বনির পার্থক্য—‘এ’ এবং ‘অ্যা’। শব্দের শুরুতে মাত্রাহীন ‘এ’-কার থাকলে উচ্চারণ সংবৃত হয়, অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে ‘এ’ ধ্বনি উচ্চারিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ‘মেলা’ শব্দটি যদি মাত্রাহীন ‘এ’-কার দিয়ে লেখা হয়, তার উচ্চারণ হবে স্বাভাবিক ‘মেলা’, যা ‘গেলা’ শব্দের ‘এ’ ধ্বনির অনুরূপ। এ ধরনের উচ্চারণের আরও উদাহরণ হলো: দেবী, সেরা, সেই, বেদনা, মেয়ে, গেলা, জেলা ইত্যাদি।

অপরদিকে, শব্দের আদিতে মাত্রাযুক্ত ‘এ’-কার থাকলে উচ্চারণ বিবৃত হয়, অর্থাৎ ‘অ্যা’ ধ্বনি প্রকাশ পায়। যেমন, ‘মেলা’-র উচ্চারণ হবে ‘ম্যালা’, যা ‘ঠেলা’ শব্দের ‘এ’ ধ্বনির অনুরূপ। তদ্রূপ, কেমন, যেমন, যেন, ফেনা প্রভৃতি শব্দেও এই ধ্বনির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১১.
কোন শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. ডাক্তারখানা
  2. হাসপাতাল
  3. আকাশছোঁয়া
  4. গুণমান
সঠিক উত্তর:
ডাক্তারখানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাক্তারখানা
ব্যাখ্যা

• ডাক্তারখানা - শব্দটি বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত।

ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে, প্রত্যয় হলো এমন শব্দাংশ যা কোনো শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে বা শব্দের অর্থ বা ভাব পরিবর্তন করে।

প্রশ্নে দেওয়া অপশনগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:

ক) ডাক্তারখানা:
এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত। ‘ডাক্তার’ শব্দটির সঙ্গে ‘-খানা’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ‘ডাক্তারখানা’ গঠিত হয়েছে। ‘খানা’ একটি প্রত্যয়, যা স্থান বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এখানে ‘ডাক্তারখানা’ মানে ডাক্তারের চিকিৎসার স্থান বা হাসপাতাল। এটি স্পষ্টভাবে প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।

খ) হাসপাতাল:
এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত নয়। ‘হাসপাতাল’ ইংরেজি hospital শব্দ থেকে এসেছে। এটি একটি সম্পূর্ণ শব্দ, যার কোনো অংশ বাংলায় প্রত্যয় হিসেবে যুক্ত হয়নি। এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত নয়।

গ) আকাশছোঁয়া:
এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত নয়। ‘আকাশছোঁয়া’ একটি সমাসবদ্ধ শব্দ এটি সমাসের মাধ্যমে গঠিত, প্রত্যয়ের মাধ্যমে নয়।

ঘ) গুণমান: এটি সঠিক শব্দ নয়। এর শুদ্ধ শব্দ হবে ‘গুণবান’।

তাই, ডাক্তারখানা শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১২.
'সত্যকে স্বীকার করতে অনেক ব্যক্তিরাই চায়না।'- এখানে ভুল ঘটেছে-
  1. বানান ও প্রত্যয়ের
  2. অর্থ ও বচনের
  3. অর্থ ও প্রত্যয়ের
  4. বানান ও বচনের
সঠিক উত্তর:
বানান ও বচনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বানান ও বচনের
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) বানান ও বচনের।

ব্যাখ্যা:
বাক্যটি হলো: “সত্যকে স্বীকার করতে অনেক ব্যক্তিরাই চায়না।” এই বাক্যে দুটি প্রধান ভুল রয়েছে: বানান এবং বচন (number) সংক্রান্ত।

বানানের ভুল:
বাক্যে “চায়না” লেখা হয়েছে, যা ভুল। বাংলা বানানের প্রমিত রূপে সঠিক শব্দটি হলো “চায় না”।
“চায়না” একটি অপ্রমিত রূপ, যা কথ্য ভাষায় ব্যবহৃত হলেও আনুষ্ঠানিক লেখায় গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলা একাডেমির প্রমিত বানান নিয়ম অনুসারে ক্রিয়াপদ ‘চাওয়া’ এর নেতিবাচক রূপে ‘চায় না’ লেখা হয়। উদাহরণ: “সে যেতে চায় না।”

বচনের ভুল:
বাক্যে “অনেক ব্যক্তিরাই” ব্যবহৃত হয়েছে, যা বচনের দিক থেকে ভুল।
"অনেক" শব্দটি ইতিমধ্যে বহুবচন বোঝায়। তাই আবার "রা" (বহুবচন চিহ্ন) যোগ করার দরকার নেই। এক্ষেত্রে "ই" (বলক) যোগ করলে হবে: অনেক ব্যক্তিই। অথবা "অনেক" ছাড়া হবে: ব্যক্তিরাই।

বাক্যটির সঠিক রূপ হবে: “সত্যকে স্বীকার করতে অনেক ব্যক্তিই চায় না।”

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১৩.
পরিভাষিক শব্দ বলতে বুঝায়-
  1. ইংরেজি শব্দের বাংলা রূপান্তর
  2. বিদেশি শব্দের অনুবাদ
  3. বিষয়গত সুনির্দিষ্ট অর্থবোধক শব্দ
  4. ব্যবহারিক প্রয়োজনে নবনির্মিত শব্দ
সঠিক উত্তর:
বিষয়গত সুনির্দিষ্ট অর্থবোধক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষয়গত সুনির্দিষ্ট অর্থবোধক শব্দ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) বিষয়গত সুনির্দিষ্ট অর্থবোধক শব্দ।

ব্যাখ্যা:
পরিভাষিক শব্দ বলতে এমন শব্দ বোঝায় যা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়, পেশা, শাস্ত্র, বা ক্ষেত্রের (যেমন: বিজ্ঞান, চিকিৎসা, আইন, সাহিত্য) সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সেই ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে। এই শব্দগুলো সাধারণত একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয় এবং তাদের অর্থ সাধারণ ব্যবহারের থেকে আলাদা বা সীমিত হতে পারে। উদাহরণ: ‘পরিবাহক’ (conductor, বিদ্যুৎ পরিবহনের প্রেক্ষাপটে), ‘শিক্ষাতত্ত্ব’ (pedagogy, শিক্ষাবিজ্ঞানে)।

অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:

ক) ইংরেজি শব্দের বাংলা রূপান্তর: ভুল।
পরিভাষিক শব্দ শুধু ইংরেজি শব্দের বাংলা রূপান্তর নয়। এটি যেকোনো বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে এবং তৎসম, তদ্ভব, বা নতুন গঠিত শব্দ হতে পারে। উদাহরণ: ‘অণুজীব’ (microbe) ইংরেজি থেকে এলেও, এটি বিজ্ঞানের পরিভাষা হিসেবে সুনির্দিষ্ট।

খ) বিদেশি শব্দের অনুবাদ: ভুল।
পরিভাষিক শব্দ বিদেশি শব্দের অনুবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এগুলো স্থানীয়ভাবে গঠিত বা বিষয়ভিত্তিক শব্দও হতে পারে। উদাহরণ: ‘গ্রন্থাগার’ (library) বিদেশি শব্দের অনুবাদ, কিন্তু পরিভাষা হিসেবে এটি গ্রন্থ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট।

ঘ) ব্যবহারিক প্রয়োজনে নবনির্মিত শব্দ: আংশিকভাবে সঠিক, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ নয়।
কিছু পরিভাষিক শব্দ নতুন করে গঠিত হতে পারে (যেমন: ‘দূরদর্শন’ বা ‘টেলিভিশন’), কিন্তু সব পরিভাষিক শব্দ নবনির্মিত নয়। অনেক পরিভাষা তৎসম বা প্রচলিত শব্দ থেকেও আসে (যেমন: ‘শিক্ষাতত্ত্ব’ বা ‘অর্থনীতি’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১৪.
'মৃগয়া' শব্দের মৃগ বলতে কি বোঝানো হয়?
  1. বানর
  2. সিংহ
  3. পশু
  4. বন
সঠিক উত্তর:
পশু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশু
ব্যাখ্যা

• 'মৃগয়া' শব্দের 'মৃগ' বলতে 'পশু' বোঝানো হয়।

• উল্লেখ্য,
'মৃগ' শব্দের অর্থ - হরিণ, পশু।
'মৃগয়া' শব্দের অর্থ - হরিণ শিকার; বন্য পশুপাখি শিকার।

অন্যদিকে,
• 'বানর' শব্দের অর্থ - বাঁদরসুলভ স্বভাববিশিষ্ট, শাখামৃগ, মর্ব।
• 'সিংহ' শব্দের অর্থ - মৃগেন্দ্র, স্ত্রী. সিংহী /শিংহি।
• 'বন' শব্দের অর্থ - অরণ্য, জঙ্গল, কানন, কুঞ্জ, গহন, বিপিন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১৫.
কোন শব্দটি বিসর্গসন্ধির মাধ্যমে গঠিত?
  1. নীরব
  2. উজ্জ্বল
  3. মানোত্তীর্ণ
  4. সংগ্রাম
সঠিক উত্তর:
নীরব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীরব
ব্যাখ্যা

• বিসর্গসন্ধির মাধ্যমে গঠিত শব্দটি হলো - নীরব।
শব্দটির সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ, নিঃ + রব = নীরব।

অন্যদিকে,
- ব্যঞ্জনে + ব্যঞ্জনে = ব্যঞ্জনসন্ধি - আগে ৎ বা দ্ এবং পরে চ্ বা ছ্‌ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে চ হয়। এবং ৎ বা দ্‌ -এর পরে জ্‌ বা ঝ্‌ থাকলে ত্ দ্‌ স্থানে জ্‌ হয়। যেমন - উৎ + জ্বল = উজ্জ্বল।

- ব্যঞ্জনে + ব্যঞ্জনে = ব্যঞ্জনসন্ধি - ম্-এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে, ম্ স্থলে অনুস্বার হয়। যেমন- সম্ + সার = সংসার, সম্ + গ্রাম = সংগ্রাম।

- প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-উ ধ্বনি বা দীর্ঘ-উ ধ্বনির যোগে ও-ধ্বনি হয়। বানানে তা ও-কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়। যেমন: কাল + উত্তীর্ণ = কালোত্তীর্ণ, মান + উত্তীর্ণ = মানোত্তীর্ণ।

বিসর্গ সন্ধি:
- পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ্ বা ছ্‌ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ্, ট্‌ বা ঠ্‌ থাকলে ষ্‌; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।

যেমন:
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়,
- দুঃ + চিন্তা = দুশ্চিন্তা,
- নিঃ + ছিদ্র = নিশ্ছিদ্র,
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১১৬.
ভাষার অর্থযুক্ত ক্ষুদ্রতম একক কোনটি?
  1. অক্ষর
  2. রূপমূল
  3. শব্দ
  4. বর্গ
সঠিক উত্তর:
রূপমূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপমূল
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) রূপমূল।

----------------------
• শব্দ ও রূপমূল:

শব্দকে আরও ক্ষুদ্রতর অংশে বিভক্ত করলে এমন উপাদান পাওয়া যায় যা অর্থ প্রকাশে অংশগ্রহণ করে। ভাষার এই ক্ষুদ্রতম অর্থযুক্ত একককে বলা হয় রূপমূল। অর্থাৎ, রূপমূল হলো ভাষার ক্ষুদ্রতম উপাদান যাদের সুস্পষ্ট অর্থ থাকবে বা অন্ততপক্ষে অর্থের কোনো যৌক্তিক ইঙ্গিত থাকবে।

আমরা জানি, ভাষার সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম উপাদান হলো ধ্বনিমূল, তবে ধ্বনিমূলের মধ্যে কোনো অর্থ বহন করার ক্ষমতা নেই। অন্যদিকে, রূপমূল সর্বদা কোনো না কোনোভাবে অর্থসংশ্লিষ্ট থাকে।

উদাহরণ:
• শব্দ: অবোধ।
• রূপমূল বিশ্লেষণ: অ + বোধ,

এখানে,
• ‘অ’ → উপসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত, স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে না পারলেও অভাব বোঝায়।
• ‘বোধ’ → স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে।

রূপমূলের শ্রেণীবিন্যাস:
- মুক্ত রূপমূল (Free Morpheme): স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে।
উদাহরণ: বোধ, গান, মাটি।

- বদ্ধ রূপমূল (Bound Morpheme): স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে না, অন্য রূপমূলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থ বোঝায়।
উদাহরণ: ‘অ’ (অবোধে), ‘উৎ’ (উৎক্ষেপণে)।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১১৭.
ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্য কোথায়?
  1. লেখার ধরনে
  2. উচ্চারনের বিশিষ্টতায়
  3. সংখ্যাগত পরিমানে
  4. ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে
সঠিক উত্তর:
ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে।

-------------
ব্যাখ্যা:

বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনি এবং বর্ণ দুটি ভিন্ন ধারণা, এবং এদের মধ্যে পার্থক্য প্রধানত তাদের প্রকৃতি এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার মধ্যে নিহিত। নিচে এই পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

ধ্বনি:
ধ্বনি হলো মুখ থেকে উচ্চারিত শব্দ বা কথনের একক, যা কান দিয়ে শোনা যায়। এটি একটি শ্রুতিগ্রাহ্য (auditory) উপাদান। ধ্বনি ভাষার মৌখিক রূপের অংশ এবং এটি উচ্চারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। উদাহরণ: ‘ক’ ধ্বনি বা ‘আ’ ধ্বনি উচ্চারণের সময় শোনা যায়। ধ্বনির সংখ্যা ভাষার উচ্চারণ প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে।

বর্ণ:
বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত রূপ বা চিহ্ন, যা চোখ দিয়ে দেখা যায়। এটি একটি দৃষ্টিগ্রাহ্য (visual) উপাদান। বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ (যেমন: অ, আ, ই) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ (যেমন: ক, খ, গ) রয়েছে, যা ধ্বনিকে লিখিত আকারে প্রকাশ করে।

উদাহরণ: যখন আমরা ‘ক’ উচ্চারণ করি, তখন তা ধ্বনি হিসেবে শোনা যায়, কিন্তু যখন লিখি ‘ক’, তখন তা বর্ণ হিসেবে দেখা যায়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১৮.
চর্যাপদের খণ্ডিত পদগুলো তিব্বতি থেকে প্রাচীন বাংলায় রূপান্তর করেন-
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. রাজেন্দ্রলাল মিত্র
  4. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
সুকুমার সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) সুকুমার সেন।

ব্যাখ্যা:
চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, যা ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত বৌদ্ধ সহজিয়া পদাবলী। এই পদগুলো মূলত প্রাচীন বাংলা, মৈথিলি, ওড়িয়া, এবং অসমীয়ার মতো পূর্ব ভারতীয় ভাষার মিশ্রণে রচিত। চর্যাপদের পাণ্ডুলিপি প্রথম আবিষ্কৃত হয় তিব্বতে, এবং এগুলো তিব্বতি ভাষায় অনুবাদিত বা টীকাকৃত আকারে পাওয়া যায়।
-------------
প্রেক্ষাপট:
• প্রশ্নটি স্পষ্টভাবে জিজ্ঞাসা করছে যে চর্যাপদের খণ্ডিত পদগুলো (২৩, ২৪, ২৫, এবং ৪৮ নং) তিব্বতি অনুবাদ থেকে প্রাচীন বাংলায় কে রূপান্তর করেছেন। বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত, (অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়) অনুসারে, এই কাজটি করেছেন সুকুমার সেন। তিনি আনুমানিকভাবে প্রাচীন বাংলায় রূপান্তর করেছেন।

• ১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেন। এই পাণ্ডুলিপিতে ২৩ এর খণ্ডিত, ২৪, ২৫, এবং ৪৮ নং পদগুলো ছিল না।

• অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত অনুসারে,
মূল পুথির চারখানা পাতা লুপ্ত। এই চর্যাটির শেষ চার পঙ্‌ক্তি ও টীকা, ২৪ নং চর্যার সমস্ত অংশ ও টীকা এবং তার পরের অর্থাৎ ২৫ নং চর্যার মূল ও টীকার প্রথম অংশ বিনষ্ট। তবে এই চর্যাগুলির তিব্বতী অনুবাদ পাওয়া গিয়েছে। ডক্টর প্রবোধচন্দ্র বাগচী সেই অনুবাদ প্রকাশ করেন ১৯৪২ সালে। সেই অনুবাদ অবলম্বনে এই চর্যাগুলির মূল কী ছিল তা অনুমান করে একটি পাঠ-পরিকল্পনা দিয়েছেন ডক্টর হুকুমার সেন তাঁর 'চর্যাীতি পদাবলী' গ্রন্থের ৭৬ থেকে ৭৯ পৃষ্ঠায়।


অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
ক) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়: ভুল।
তিনি তাঁর ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে চর্যাপদের ভাষাকে প্রাচীন বাংলা হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং এর সাহিত্যিক ও ভাষাগত গুরুত্ব বিশ্লেষণ করেন। তাঁর গবেষণা, বিশেষ করে The Origin and Development of the Bengali Language এবং চর্যাপদের ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, এই কাজের জন্য উল্লেখযোগ্য।

খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী: ভুল।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে চর্যাপদের মূল পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেন, কিন্তু তিনি তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার বা রূপান্তরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিব্বতি অনুবাদ ১৯৫৬ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী ও শান্তিভিক্ষু শাস্ত্রীর সম্পাদনায় বিশ্বভারতী থেকে প্রকাশিত হয়।

গ) রাজেন্দ্রলাল মিত্র: ভুল।
রাজেন্দ্রলাল মিত্র (১৮২৪-১৮৯১) চর্যাপদ আবিষ্কারের (১৯০৭) অনেক আগে মারা যান। তিনি সংস্কৃত সাহিত্য ও পুরাতত্ত্ব নিয়ে কাজ করলেও চর্যাপদের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।

ঘ) সুকুমার সেন: সঠিক।
অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত অনুসারে, সুকুমার সেন প্রবোধচন্দ্র বাগচীর সংস্কৃত অনুবাদের ভিত্তিতে চর্যাপদের খণ্ডিত পদগুলো প্রাচীন বাংলায় রূপান্তর করেন এবং তা প্রকাশ করেন।
--------------------
--------------------
'চর্যাপদ' সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য:

• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
• ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
• চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
• উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।

• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
• এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।

• চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
• ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
• সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত - অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়; চর্যাগীতি_পরিক্রমা- ড. নির্মল দাশ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- সুকুমার সেন, Buddhist Mystic Songs- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, এবং বাংলাপিডিয়া।

১১৯.
'স্বাধীন' শব্দের ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. স্বীয়-এর অধীন
  2. সত্ত্বার অধীন
  3. স্ব-এর অধীন
  4. স্বত্তের-অধীন
সঠিক উত্তর:
স্ব-এর অধীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ব-এর অধীন
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - স্ব-এর অধীন। এটি একটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।
- স্ব-এর অধীন = স্বাধীন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান।

১২০.
ফররুখ আহমদের গ্রন্থ কোনটি?
  1. হরফের ছড়া
  2. বর্ণশিক্ষা
  3. বর্ণপরিচয়
  4. সহজ ছড়া
সঠিক উত্তর:
হরফের ছড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরফের ছড়া
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ক) হরফের ছড়া।

------------------
‘হরফের ছড়া’ গ্রন্থ:

‘হরফের ছড়া’ ফররুখ আহমদের লেখা একটি বর্ণশিক্ষার বই, যা শিশুদের জন্য ছড়ার মাধ্যমে বাংলা বর্ণমালা শেখানোর উদ্দেশ্যে রচিত। এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: তিনি ‘বর্ণপরিচয়’ নামে বিখ্যাত বর্ণশিক্ষার বই লিখেছেন। শিশুদের বাংলা ভাষা শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে এটিই প্রথম।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘সহজ পাঠ’ নামে শিশুসাহিত্য রচনা করেছেন।
‘বর্ণশিক্ষা’ বলতে কোনো গ্রন্থ পাওয়া যায়নি।

----------------
ফররুখ আহমদ এর জীবিনী ও সাহিত্যকর্ম:

- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

তাঁর শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত গ্রন্থ:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- নতুন লেখা,
- ছড়ার আসর,
- চিড়িয়াখানা,
- কিস্‌সা কাহিনী,
- মাহফিল ১ম ও ২য় খণ্ড,
- ফুলের জলসা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. ‘হরফের ছড়া’ রচনা।

১২১.
Pick the correctly spelt word:
  1. Conscintious
  2. Consientious
  3. Concientious
  4. Conscientious
সঠিক উত্তর:
Conscientious
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Conscientious
ব্যাখ্যা

• The correctly spelt word: Conscientious.

• Conscientious (adjective):
- English Meaning: Meticulous, careful; Feeling a moral responsibility to do your work carefully and to be fair to others.
- Bangla Meaning: বিবেকবান; বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন।

• Example:
- A conscientious public servant.
- She has always been a very conscientious worker.

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

১২২.
They talked about going on a vacation'. Here 'going' is a/an-
  1. participle
  2. infinitive
  3. verbal noun
  4. gerund
সঠিক উত্তর:
gerund
উত্তর
সঠিক উত্তর:
gerund
ব্যাখ্যা

• They talked about going on a vacation.
- Here 'going' is a gerund.

- Here, “going” comes after the preposition “about”, so it must function as a noun.
- প্রদত্ত বাক্যে, going (verb+ing)- preposition “about” -এর object হিসেবে বসে noun -এর কাজ করেছে তাই এটি gerund.
- অর্থাৎ, 'going' এখানে যাওয়ার কাজ (an act or instance of going) বুঝাচ্ছে।
- এটি participle নয়, কারণ এই বাক্যে এটি কোনো noun/pronoun কে modify করেনি।

• Gerund:
- Verb -এর সাথে ing যোগ হয়ে যদি noun -এর কাজ করে অর্থাৎ, একই সাথে Verb ও noun -এর কাজ করে, তখন তাকে Gerund বলে।
- সহজে → Gerund = Verb + ing = noun = Verb + noun -এর কাজ করে।
- Gerunds don’t describe action—they act as nouns.

• Functions of the Gerund:
1. As a subject of a verb: Rising early is a good habit.
2. As an object of a verb: I like reading poetry.
3. As an object of a preposition: I am tired of waiting.
4. As a complement of a verb: Seeing is believing.
5. As absolutely (part of a compound noun): This is my writing table.

অন্যদিকে,
• Present participle:
- Verb -এর সাথে ing যোগ হয়ে যদি adjective -এর কাজ করে অর্থাৎ, একই সাথে Verb ও adjective -এর কাজ করে, তাহলে তাকে present participle বলে।
- সহজ ভাষায় → present participle হলো Verb + ing = adjective = Verb + adjective কাজ করে।
- Present participle দ্বারা চলমান sense বোঝায়।
- যেমন: Everything was in going order.

• Infinitive:
- Infinitive হচ্ছে verb এর base form অথবা to + base form.
- যেমন: go, to go.

• Infinitive দুই রকম হতে পারে। যেমন:
- To -যুক্ত infinitive এবং
- To -বিহীন infinitive বা Bare Infinitive.

• Verbal Noun:
- কোন বাক্যের Verb + ing - এর পূর্বে the এবং পরে of থাকলে তাকে Verbal Noun বলে।
- The + verb+ing + of = verbal noun.
- যেমন: The making of the plan is in hand.

Source:
1. High School English Grammar and Composition by Wren And Martin.
2. A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hussain.

১২৩.
The novel 'Wuthering Heights' was penned by the author under the penname-
  1. Ellise Bellet
  2. Ellis Belle
  3. Ellis Bell
  4. Una Elis
সঠিক উত্তর:
Ellis Bell
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ellis Bell
ব্যাখ্যা

• The novel 'Wuthering Heights' was penned by the author under the pen name Ellis Bell.

• Wuthering Heights:

- Emily Bronte রচিত এই উপন্যাসটি ১৮৪৭ সালে Ellis Bell ছদ্মনামে প্রকাশিত হয়।
- 'Heathcliff' এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন এতিম বালক।
- অন্যের আশ্রয়ে থাকে এবং পরবর্তীতে আশ্রয়দাতার কন্যা Catherine Earnshaw -এর সাথে তার মনের মিলন ঘটে, দুইজন দুইজনকে ভালোবেসে ফেলে।
- কিন্তু Catherine প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে অন্যত্র বিয়ে করলে Heathcliff নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।
- যখন ফিরে আসে তখন সে অঢেল অর্থ বিত্তের মালিক।
- কাহিনীর এ পর্যায়ে তাকে তার মালিকের বাড়ি Wuthering Heights কিনে নেয়ার পাশাপাশি প্রাক্তন প্রেমিকা Catherine -এর ননদের সাথে প্রেমের অভিনয় করে সম্পত্তির লোভে তাকে বিয়ে করতে দেখা যায়।
- পরবর্তীতে এই বিয়েটা ভেঙে যায় এবং এরপর Catherine মারা যায়। তার ভাই Hindley ও মারা যায়। কিন্তু তাদের সন্তানরা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে।
- Heathcliff -এর সন্তানও এদের সাথে যোগ দেয়। এভাবে কাহিনী এক প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্মের মাঝে এগিয়ে চলে।
- এটি ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রোমান্টিক ট্র্যাজেডি এবং Gothic Novel -এর একটি অন্যতম উদাহরণ।

• Main characters:
- Catherine Earnshaw,
- Cathy Linton,
- Edgar Linton,
- Heathcliff (The central character)
- Lockwood, etc.

• Emily Bronte (1818-1848):
- Emily Bronte ছিলেন একজন ইংরেজ লেখিকা ও কবি।
- তার পুরো নাম Emily Jane Bronte, তার ছদ্মনাম Ellis Bell.
- তিনি Charlotte Bronte -এর ছোট বোন।
- “Wuthering Heights” উপন্যাসকে ঘিরেই মূলত তার পরিচতি।
- মাত্র ত্রিশ বছর বয়সেই এই উপন্যাসিক মৃত্যু বরণ করেন।

• Notable Works:
- Poems by Currer, Ellis and Acton Bell,
- Wuthering Heights, etc.

Source: Britannica.

১২৪.
Which gender is the noun 'neighbour'?
  1. Masculine
  2. Feminine
  3. Neuter
  4. Common
সঠিক উত্তর:
Common
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Common
ব্যাখ্যা

• 'Neighbour' is a Common gender.

• Neighbour (noun, adjective, verb)
- English Meaning: one living or located near another.
- Bangla Meaning: প্রতিবেশী; প্রতিবাসী; পড়শি।

- The noun "neighbour" refers to a person (male or female) who lives near or next to another.

• Common gender:
- A noun that denotes either a male or female is said to be of the common gender.
- অর্থাৎ, Noun টি পুংবাচক বা স্ত্রীবাচক উভয়কেই বুঝালে তা Common Gender হয়।
- যেমন: Infant (শিশু), Deer (হরিণ), student (ছাত্র/ছাত্রী), lawyer (উকিল), Neighbor (প্রতিবেশী), orphan (এতিম), parent (মা, বাবা), spouse (দম্পতি) etc.

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. High School English Grammar and Composition by Wren And Martin.

১২৫.
'Someone sneezed loudly at the back of the hall'.
In this sentence the verb 'sneezed' is-
  1. causative
  2. intransitive
  3. transitive
  4. factitive
সঠিক উত্তর:
intransitive
উত্তর
সঠিক উত্তর:
intransitive
ব্যাখ্যা

• 'Someone sneezed loudly at the back of the hall'.
- In this sentence, the verb 'sneezed' is intransitive.

- "sneezed" এখানে Intransitive verb কারণ এটি কোনো Direct object গ্রহণ করেনি।
- Intransitive verb হলো এমন Verb যা কোন Direct object ছাড়াই সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে।
-
The verb "sneezed" does not take a direct object - it expresses an action that does not pass over to an object.
- অর্থাৎ এটি কেবল subject -এর কাজ বোঝাচ্ছে, sneezed কোনো বস্তু বা ব্যক্তিকে (object) প্রভাবিত করছে না।

• Intransitive verb:
- An intransitive verb is a verb that denotes an action which does not pass over to an object, or which expresses a state or being.
- অর্থাৎ, intransitive verb হলো subject নিজের দ্বারাই যে কাজ সম্পন্ন হয়, action (কাজ) সম্পন্ন হওয়ার জন্য object -এর দ্বারস্থ হতে হয় না।
- যে verb -এর কর্ম (direct object) নেই তাকে Intransitive verb বলে।
- এই verb কে 'কি' বা 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় না। Direct object থাকে না বলে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় না।
- সাধারণত verb-এর পরে কোনো word না থাকলে অথবা verb-এর পরে adverb/preposition থাকলে সেটি Intransitive verb হবে।

• More Examples:
- The glass broke.
- We shall stop here a few days.
- The leaves fall in winter.

অন্যদিকে,
• Causative Verb:
- Subject যখন নিজে কাজ না করে অন্যকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেয় তখন এই অর্থে causative verb ব্যবহৃত হয়।
- Help, Get, Have, Let, Make ইত্যাদি বহুল প্রচলিত causative verb.
- Make, have, get প্রভৃতি যোগে অনেক verb- কে causative verb এ পরিণত করা যায়।
- যেমন: He always has me do his work. (সে সব সময় আমাকে দিয়ে তার কাজ করিয়ে নেয়।)

• Transitive verb:
- যে verb এর object আছে তাকে transitive verb বলে৷
- Transitive verbs এর সাধারণ Structure হচ্ছে: subject + verb + object.
- Object সর্বদাই Noun অথবা Pronoun হয়।
- তাই বাক্যে verb এর পরে Noun অথবা Pronoun থাকলে verb টি সাধারণত transitive verb হবে।
- আবার intransitive verb এর শেষে preposition + object যুক্ত করেও তাকে transitive verb এ পরিণত করা যায়।
- যেমন: He writes a letter. write হলো transitive verb, কারণ এর object হলো a letter.

• Factitive Verb:
- যে Verb এর Object বসানোর পরও Objective Complement ছাড়া বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে Factitive Verb বলে।
- Factitive Verb হলো এমন ক্রিয়া যা দুটি object নেয় - একটি direct object এবং একটি object complement।
- এই verb direct object কে object complement হিসেবে বর্ণিত অবস্থায় পরিণত করে বা নিয়োগ দেয়।
- কিছু factitive verbs হলো: Elect, Select, Make, Appoint, Call, Name, etc.

- যেমন: The manager appointed him secretary.
- উল্লিখিত বাক্যে secretary হচ্ছে Objective Complement Factitive Object.
- "The manager appointed him" দ্বারা বাক্য সম্পন্ন হচ্ছে না, তাই Objective Complement হিসেবে secretary বসানোর পর বাক্যটি সম্পন্ন হয়েছে।
- যেহেতু Object (him) বসানোর পরও Objective Complement ছাড়া বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয়নি তাই এটি Factitive Verb.

Source:
1. High School English Grammar and Composition by Wren And Martin.
2. A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hussain.

১২৬.
A person who leaves his/her own country to settle permanently in another is called a/an-
  1. immigrant
  2. expatriate
  3. emigrant
  4. migrant
সঠিক উত্তর:
emigrant
উত্তর
সঠিক উত্তর:
emigrant
ব্যাখ্যা

• A person who leaves his/her own country to settle permanently in another is called an emigrant.

• Emigrant (Noun, Adjective)
- English Meaning: A person who leaves his/her own country to settle permanently in another country.
- Bangla Meaning: স্বদেশত্যাগী; বাস্তুত্যাগী বা দেশান্তরী (ব্যক্তি)।

অন্যদিকে,
• Immigrant (Noun):
- English Meaning: A person who comes to a country to take up permanent residence.
- Bangla Meaning: বহিরাগত; অভিবাসী; বসবাসের জন্য বিদেশে আগমনকারী।

• Expatriate (Noun, verb, adjective):
- English Meaning: A person who lives in a foreign country.
- Bangla Meaning: প্রবাসী ব্যক্তি।

• Migrant (Noun):
- English Meaning: A person who moves from one place to another, especially in order to find work or better living conditions; a bird or animal that migrates.
- Bangla Meaning: বসবাসের উদ্দেশ্যে এক স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র গমনকারী (বিশেষত পাখি)।

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

১২৭.
Identify the word that can be used as both singular and plural:
  1. light
  2. shot
  3. criterion
  4. cannon
সঠিক উত্তর:
cannon
উত্তর
সঠিক উত্তর:
cannon
ব্যাখ্যা

• The correct answer is- ঘ) cannon.

• Cannon (Noun & Verb):
- English meaning: An old type of large, heavy gun, usually on wheels, that fires solid metal or stone balls.
- Bangla meaning: (collective; plural- এর স্থলে প্রায়ই 'singular ব্যবহৃত হয়) (বিশেষত ধাতুর তৈরি নীরেট গোলানিক্ষেপক, প্রাচীন) কামান; আধুনিক সামরিক বিজ্ঞানে ব্যবহৃত গোলানিক্ষেপক ভারী, স্বয়ংক্রিয় কামান।

- Cannon -এর plural form হলো দুইটি- cannons or cannon.
- তবে সাধারণত plural হিসেবে cannon-ই ব্যবহার করা হয়।
- cannon (same form in military contexts).

অন্যদিকে,
• Light [uncountable noun] - আলোক; আলো → singular: light, plural: lights.

• Shot [countable noun] - গুলি; গুলিবর্ষণ; গুলির শব্দ → singular: shot, plural: shots.
- তবে ছোট সীসা বা ইস্পাতের গুলি, বিশেষ করে শটগানের জন্য চার্জ তৈরি করা অর্থে plural noun: shot ব্যবহৃত হয়।
- প্রচলিত plural form হলো- Shots.
- যেমন: Several shots were fired.

• Criterion (plural criteria বিচারের মাপকাঠি; মানদণ্ড) → singular: criterion, plural: criteria.

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

১২৮.
Identify the correct passive form, "People thought that the despot was corrupt"
  1. The despot had been thought to be corrupt.
  2. It was thought that the despot was corrupt.
  3. The despot was thought to be corrupt.
  4. The despot is thought to be corrupt.
সঠিক উত্তর:
The despot was thought to be corrupt.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The despot was thought to be corrupt.
ব্যাখ্যা

- Active: People thought that the despot was corrupt.
- Passive: The despot was thought to be corrupt.

- এই ধরনের complex বাক্যে যেখানে that-clause আছে, সেখানে passive form তৈরির দুটি উপায় আছে:
- প্রথম উপায় (Impersonal passive) দ্বিতীয় অংশকে 'It' ধরে। যেমন:
- Active: People thought that the despot was corrupt.
- Passive: It was thought that the despot was corrupt.

- Subject হিসেবে People থাকলে Passive voice -এ সাধারণত তা লেখা হয় না।
- তবে, দ্বিতীয় অংশে transitive verb থাকলে দ্বিতীয় অংশেরও Passive করতে হয়।

- দ্বিতীয় উপায় (Personal passive):
- সাধারণত Acknowledge, assume, think, claim, believe, know, report, understand, ইত্যাদি verb যুক্ত Active voice এর Passive করার নিয়ম-
- Personal object টিকে subject ধরা হয়।
- Tense অনুযায়ী auxiliary verb বসে।
- মূল verb -এর past participle + to be + direct object + by + subject -এর objective form.
- যেমন:
- Active: People thought that the despot was corrupt.
- Passive: The despot was thought to be corrupt.

- তবে এই প্রশ্নে গ) অপশনটিই সবচেয়ে উপযুক্ত হবে কারণ:
- Option গ) is more direct and commonly used when the focus is on the despot as the subject of the belief.

অন্যান্য অপশনগুলো বিশ্লেষণ:
ক) The despot had been thought to be corrupt.
- এটি ভুল কারণ, এখানে ভুল tense (had been = past perfect) ব্যবহার হয়েছে।

ঘ) The despot is thought to be corrupt.
- এটি ভুল কারণ, এখানে ভুল tense (is = present, কিন্তু মূল বাক্যে past tense) ব্যবহার হয়েছে।

১২৯.
'After lunch we went for a leisurely stroll'. Here 'leisurely' is a /an-
  1. adverb
  2. adjective
  3. noun
  4. conjunction
সঠিক উত্তর:
adjective
উত্তর
সঠিক উত্তর:
adjective
ব্যাখ্যা

• 'After lunch we went for a leisurely stroll'.
- Here 'leisurely' is an adjective.

- The word "leisurely" describes the noun "stroll" — it tells what kind of stroll it was.
- When a word modifies a noun, it functions as an adjective.
- অর্থাৎ, 'leisurely' শব্দটি noun 'stroll' এর আগে বসে এটিকে বর্ণনা করছে।

• Leisurely (adjective)
- English Meaning: acting or done at leisure; unhurried or relaxed.
- Bangla Meaning: ব্যস্ততাহীন।

• Leisurely (adverb)
- English Meaning: without haste: deliberately.
- Bangla Meaning: মন্থরগতিতে; ধীরে ধীরে; ব্যস্ততাহীনভাবে।

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

১৩০.
The play "Englishmen for My Money" was written by-
  1. Christopher Marlowe
  2. Thomas Kyd
  3. William Haughton
  4. Ben Jonson
সঠিক উত্তর:
William Haughton
উত্তর
সঠিক উত্তর:
William Haughton
ব্যাখ্যা

• The play "Englishmen for My Money" was written by William Haughton.

• Englishmen For My Money: Or A Woman Will Have Her Will:
- Englishmen for My Money, or A Woman Will Have Her Will হলো এলিজাবেথীয় যুগের একটি কমেডি নাটক, যা ১৫৯৮ সালে William Haughton রচনা করেছিলেন।
- Scholars and critics often cite it as the first city comedy.
- এই নাটকটি একটি dramatic subgenre সূচনা করেছিল, যা পরবর্তীতে Thomas Dekker, Thomas Middleton, Ben Jonson, এবং অন্যান্যরা পরবর্তী বছর ও দশকে আরও প্রসারিত ও উন্নত করেছিলেন।

• Summary:
- গল্পটি আবর্তিত হয় এক ধনী বিধবা মিসেস ফ্লাওয়ারডেলকে নিয়ে, যাকে তিনজন পুরুষ - স্যার লিওনেল ফ্রিভিল, স্যার থমাস লং এবং মাস্টার গ্যালিয়ার্ড - এর প্রতি আকৃষ্ট হয়। প্রতিটি পুরুষ তার স্নেহ ও ভাগ্য জয়ের চেষ্টা করে, কিন্তু মিসেস ফ্লাওয়ারডেল তার নিজের পথ নির্ধারণ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং সে এমন ব্যক্তিকে বেছে নেয় যে তার ইচ্ছা পূরণ করতে পারে। নাটকটি সেই সময়ের সামাজিক রীতিনীতি এবং নারী-পুরুষের মধ্যে ক্ষমতার গতিশীলতার উপর একটি বুদ্ধিদীপ্ত এবং বিনোদনমূলক দৃষ্টিপাত। হটনের লেখনী ধারালো ও হাস্যরসাত্মক, এবং চরিত্রগুলি সুসংহত ও স্মরণীয়।

• William Haughton (1575-1605):
- William Haughton ছিলেন এলিজাবেথীয় যুগের একজন ইংরেজ নাট্যকার।
- তিনি ১৫৯৭ থেকে ১৬০৫ সাল পর্যন্ত সক্রিয় ছিলেন এবং প্রখ্যাত Admiral’s Men (a theatrical company) নাট্যকোম্পানির জন্য নাটক লিখতেন।
- He collaborated in many plays with Henry Chettle, Thomas Dekker, John Day and Richard Hathway.
- তার সবচেয়ে বিখ্যাত নাটক হলো "Englishmen For My Money", এই নাটকটিকেই ইংরেজি ভাষার প্রথম প্রহসন-ভিত্তিক শহুরে কমেডি (City Comedy) হিসেবে ধরা হয়।

• Notable works:
- Englishmen For My Money,
- The Devil and His Dame,
- The English Moor, etc.

Source:
1. Britannica.
2. Goodreads.com

১৩১.
"... I cannot but conclude the Bulk of your Natives, to be the most pernicious race of little odious vermin that Nature ever suffered to crawl upon the surface of the Earth". the statement occurs in
  1. Robinson Crusoe
  2. A Doll's House
  3. Vanity Fair
  4. Gulliver's Travels
সঠিক উত্তর:
Gulliver's Travels
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Gulliver's Travels
ব্যাখ্যা

"... I cannot but conclude the Bulk of your Natives, to be the most pernicious race of little odious vermin that Nature ever suffered to crawl upon the surface of the Earth". - এই উক্তিটি এসেছে Jonathan Swift-এর বিখ্যাত ব্যঙ্গাত্মক রচনা Gulliver’s Travels থেকে।

• Gulliver's Travels:

- Jonathan Swift রচিত একটি novel, তিনি Augustan age এর একজন Author, তাই এটি Augustan age এর রচনা।
- এটি 18th century এর একটি famous satire.
- এটি ৪ খন্ডের একটি রম্য রচনা।
- এর full title হচ্ছে - Travels into Several Remote Places in the World.
- এই novel টি ১৭২৬ সালে প্রকাশিত হয়।

• Lemuel Gulliver সমুদ্র ভ্রমণে বের হয় এবং পথিমধ্যে ঝড়ের কবলে পড়ে জাহাজ ভেঙ্গে যায়।
- Gulliver প্রানে বেঁচে যায় কিন্তু এক অদ্ভুত দেশে নিজেকে আবিষ্কার করে যেখানে সবার উচ্চতা ৬ ইঞ্চির নিচে।
- তার বিশাল দেহ নিয়ে লিলিপুটদের নানা উপকারে আসে, এমনকি পার্শ্ববর্তী রাজ্য Blefuscu এর সাথে চলমান যুদ্ধেও লড়াই করে।
- এভাবে সে লিলিপুটদের রাজ্যে একপ্রকার হিরোতে পরিণত হয়।
- যদিও এক পর্যায়ে Gulliver তাদের রোষের শিকার হয় এবং তার শাস্তি হয় তার চোখ তুলে ফেলা হবে।
- পরিশেষে Gulliver শাস্তি এড়াতে সমর্থ হয় এবং বেঁচে ফিরে আসে।

• Jonathan Swift:
- তিনি একজন Anglo-Irish author এবং clergyman ছিলেন।
- তিনি Augustan age এর একজন Author.
- Jonathon Swift, an Anglo-Irish author, who was the foremost prose satirist in the English language.
- অর্থাৎ, ইংরেজি সাহিত্যের সবচেয়ে বিখ্যাত ব্যঙ্গরচয়িতা বা satirist হলেন Jonathan Swift.
- তার রচিত বিখ্যাত satire হলো ‘Gulliver’s Travels’.
- তাঁর ছদ্মনাম Isaac Bickerstaff.

• Famous works:
- Gulliver's Travels,
- A Tale of a Tub,
- A Modest Proposal,
- The Battle of Books.

Other options,
ক) Robinson Crusoe
লেখক: Daniel Defoe.

খ) A Doll’s House
লেখক: Henrik Ibsen.

গ) Vanity Fair
লেখক: William Makepeace Thackeray.

Source: Britannica & Live MCQ lecture.

১৩২.
'We know that the earth is a planet'. The underlined part is a/an-
  1. noun clause
  2. adverbial clause
  3. adjective clause
  4. principal clause.
সঠিক উত্তর:
noun clause
উত্তর
সঠিক উত্তর:
noun clause
ব্যাখ্যা

We know that the earth is a planet. The underlined part is a/an - Noun clause.
- এখানে "that the earth is a planet" অংশটি 'know' verb -এর object হিসেবে কাজ করছে।

• Noun clause:

- যে সব subordinate- clause noun এর কাজ করে থাকে অর্থাৎ, subject, object, compliment, বা case in apposition- এর কাজ করে থাকে তাদেরকে বলে noun clause.
- Noun clauses are used when a single word isn't enough.

• একটি বাক্যের যেসব স্থানে Noun clause বসতে পারে -

1. Verb এর subject হিসেবে।
Example: That he has much money is known to all.

2. Verb এর object হিসেবে।
Example: I know that he has done it.

3. Verb এর complement হিসেবে।
Example: This is what I said.

4. Preposition এর object হিসেবে;
Example: I cannot understand the meaning of what he said.

5. Noun/ pronoun - এর apposition হিসেবে।
Example: The fact that he is a thief is clear to all.

Source:
- A Passage to the English Language, S.M. Zakir Hussain.
- Advanced Learner's Grammar and Composition by Chowdhury and Hossain.

১৩৩.
Select the sentence in which 'better' is an adverb.
  1. We're helping for better weather tomorrow.
  2. Sound travels better in water than in air.
  3. It's hard to decide which one is better.
  4. He joined the gym to better his health.
সঠিক উত্তর:
Sound travels better in water than in air.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Sound travels better in water than in air.
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো খ) Sound travels better in water than in air.
- এই বাক্যে 'better' শব্দটি 'travels' verb কে বর্ণনা করছে।
- এটি বলছে শব্দ কীভাবে ভ্রমণ করে।
- অর্থাৎ, "শব্দ পানিতে বেশি ভালোভাবে ভ্রমণ করে"।
- যেহেতু এটি verb কে modify করছে, তাই এটি adverb.

Better: [adverb]
English meaning: in a more excellent or pleasant way; to a higher or greater degree.
Bangla meaning: কোনো কাজ বা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো বা বেশি আনন্দদায়কভাবে ঘটেছে।

Example:
- She sings much better than I do.
- Sound travels better in water than in air.

Other options,

ক) We're hoping for better weather tomorrow.
- 'better' এখানে adjective.
- এটি noun 'weather' কে বর্ণনা করছে।

গ) It's hard to decide which one is better.
- এখানে better হচ্ছে adjective।
- এখানে "better" শব্দটি "which one" কে বর্ণনা করছে।
- এটি verb 'is' এর পরে complement হিসেবে এসেছে।

ঘ) He joined the gym to better his health.
- এখানে better হলো verb, অর্থাৎ “উন্নত করা”।

Source:
- Oxford Dictionary.

১৩৪.
Fill in the blanks with appropriate words. 'Selina knocked it _______ the park with her performance in culinary art.
  1. outside
  2. out of
  3. inside
  4. off
সঠিক উত্তর:
out of
উত্তর
সঠিক উত্তর:
out of
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো খ) out of.

Complete sentence: Selina knocked it out of the park with her performance in culinary art.
Bangla: সেলিনা রান্নার শিল্পে তার পারফরম্যান্স দিয়ে অসাধারণ সফলতা পেয়েছে/দুর্দান্ত করেছে।

knock sb/sth out of the park: [idiom]

English meaning: to do something much better than someone else, or to be much better than someone or something else/ to do something extremely well.
Bangla meaning: কারো চেয়ে অনেক ভালো কিছু করা, বা কারো/কিছুর চেয়ে অনেক বেশি সাফল্য অর্জন করা/ কোনো কাজ চরমভাবে দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা।

Example:
- Hotel Ferrero knocks everyone out of the park with their breakfast.
- The BBC is hitting them all out of the park at the moment, in children's drama at least.
- I feel like I can write anything for this actor, and she'll knock it out of the park.
- If I don't hit this out of the park, I'm finished.

সঠিক idiom টি হলো - knock out of the park তাই উল্লিখিত অন্য অপশন গুলো এখানে অপ্রাসঙ্গিক।

Source:
- Cambridge Dictionary.

১৩৫.
The idiom 'icing on the cake' means -
  1. a slice of the cake
  2. an attractive but unnecessary addition
  3. an attractive service
  4. an attractive and essential enhancement
সঠিক উত্তর:
an attractive but unnecessary addition
উত্তর
সঠিক উত্তর:
an attractive but unnecessary addition
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - খ) an attractive but unnecessary addition.

• The icing on the cake:
[idiom]
English meaning: If you describe something as the icing on the cake, you mean that it makes a good thing even better, but it is not essential.
Bangla meaning: এর মানে হলো এটি ইতিমধ্যেই ভালো কিছুকে আরও ভালো করে তোলে, কিন্তু এটি অপরিহার্য নয়।

Example:

- I was just content to see my daughter in such a stable relationship, but a grandchild, that really was the icing on the cake.

- I love my job, and getting public recognition is merely the icing on the cake.

- The third goal was the icing on the cake.

Other options,
ক) a slice of the cake:
→ কেকের একটি টুকরো।

খ) an attractive but unnecessary addition:
→ আকর্ষণীয় কিন্তু অপ্রয়োজনীয় সংযোজন।

গ) an attractive service:
→ আকর্ষণীয় সেবা।

ঘ) an attractive and essential enhancement:
→ আকর্ষণীয় এবং প্রয়োজনীয় সংযোজন।

অপশন গুলোর অর্থ বিবেচনা করে দেখা যায়, সঠিক উত্তর - খ) an attractive but unnecessary addition.

Source:
- Cambridge Dictionary.
- Collins Dictionary.

১৩৬.
Choose the synonym for 'fright':
  1. placidity
  2. composure
  3. apprehension
  4. equanimity
সঠিক উত্তর:
apprehension
উত্তর
সঠিক উত্তর:
apprehension
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) apprehension.

• Fright: [noun]

English meaning: the feeling of fear, especially if felt suddenly, or an experience of fear that happens suddenly.
Bangla meaning: আকস্মিক প্রচণ্ড ভীতি; আতঙ্ক; ত্রাস; সন্ত্রাস; শঙ্কা।

Other options,

ক) Placidity: [noun]
English meaning: the fact of being calm and peaceful, with very little movement.
Bangla meaning: শান্ততা; প্রসন্নতা।

খ) Composure: [noun]
English meaning: the state of being calm and in control of your feelings or behaviour.
Bangla meaning: শান্তি; স্থৈর্য; আত্মসংবরণ।

গ) Apprehension: [noun]
English meaning:
- worry about the future, or a fear that something unpleasant is going to happen.
- an act of catching and arresting someone who has not obeyed the law.
- the act of understanding something, or the way that something is understood.

Bangla meaning:

- [Countable noun, Uncountable noun] আশঙ্কা; ভবিষ্যৎ বিষয়ে উৎকণ্ঠার অনুভূতি: filled with apprehension; an apprehension of failure.
- [Uncountable noun] (আইন সম্বন্ধীয়) গ্রেফতার: the apprehension of a thief.
- [Uncountable noun] উপলব্ধি; চেতনা; বোধ: apprehension of truth.

ঘ) Equanimity: [noun]
English meaning: a calm mental state, especially after a shock or disappointment or in a difficult situation
Bangla meaning: মনমেজাজের প্রশান্তি।

অপশন বিবেচনা করে দেখা যায়, Fright এর synonym হলো - Apprehension.

Source:
- Cambridge Dictionary.
- Accessible Dictionary.
- Oxford Dictionary.

১৩৭.
"Rubiyat of Khayyam" is attributed to
  1. Edward FitzGerald
  2. Scott Fitzgerald
  3. Thomas Fitzgerald
  4. William Fitzgerald
সঠিক উত্তর:
Edward FitzGerald
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Edward FitzGerald
ব্যাখ্যা

সাহিত্য কর্মটির সঠিক নাম - The Rubaiyat of Omar Khayyam.

The Rubaiyat of Omar Khayyam:
- এটি রচনা করেন সাহিত্যিক Edward Fitzgerald.
- যুগ শ্রেষ্ঠ জ্যেতির্বিজ্ঞানী ওমার খৈয়ামের রচনা থেকে অনুপ্রাণিত।
- এটি মূলত: অনুবাদ নয় বরং মূল গ্রন্থকে সামনে রেখে মৌলিক রচনা।
- এটি ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসে একটি Classic হিসেবে বিবেচিত।
- It is one of the most frequently quoted lyric poems, and many of its phrases are passed into common currency.
- প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৫৯ সালে।
- ইংরেজি সংস্করণে এই নামের সাথে যুক্ত হয়- "the Astronomer-Poet of Persia" বাক্যটি।

• Edward Fitzgerald:
- Edward Fitzgerald belongs to the Victorian Period.
- He was born on March 31, 1809, in England.
- FitzGerald was educated at Trinity College, Cambridge, where he formed a lifelong friendship with William Makepeace Thackeray.

• Notable Work:
- The Rubaiyat of Omar Khayyam.

Source: Live MCQ English Essence and Britannica.

১৩৮.
'We work every day except Friday'. In this sentence 'except' is a/an
  1. adjective
  2. noun
  3. preposition
  4. pronoun
সঠিক উত্তর:
preposition
উত্তর
সঠিক উত্তর:
preposition
ব্যাখ্যা

We work every day except Friday. In this sentence, 'except' is a/an - Preposition.
- এখানে except শব্দটি বোঝাচ্ছে "Friday-এর বাইরে" বা "Friday ছাড়া"।
- অর্থাৎ এটি Friday-এর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করছে, যা হলো preposition-এর কাজ।
- এটি দেখাচ্ছে যে শুক্রবার ছাড়া বাকি সব দিন কাজ হয়।

• Except: [preposition]
English meaning: ​used before you mention the only thing or person about which a statement is not true.
Bangla meaning: ব্যতীত; ছাড়া।

Example:
- We work every day except Sunday.
- They all came except Matt.
- I had nothing on except for my socks.

Source:
- Oxford Dictionary.
- Accessible Dictionary.

১৩৯.
Who wrote "A Vindication of the Rights of Women"?
  1. Claire Clairmont
  2. Marry Wollstonecraft
  3. Mary Wollstonecraft Godwin
  4. Mary Shelley
সঠিক উত্তর:
Mary Wollstonecraft Godwin
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mary Wollstonecraft Godwin
ব্যাখ্যা

A Vindication of the Rights of Woman:
- এটি রচনা করেন British writer Mary Wollstonecraft Godwin.
- এটি ১৭৯২ সালে প্রকাশিত একটি প্রসিদ্ধ নারীবিদ্বেষ-বিরোধী প্রবন্ধ, যা ব্রিটিশ লেখক এবং নারী অধিকার কর্মী Mary Wollstonecraft লিখেছেন।
- এই রচনায় নারীদের শিক্ষা, রাজনীতি, সমাজ এবং বিবাহে ক্ষমতায়ন (empowerment) নিশ্চিত করার জন্য যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে।

Mary Wollstonecraft/ Mary Wollstonecraft Godwin:
- জন্ম ২৭ এপ্রিল, ১৭৫৯, লন্ডন, ইংল্যান্ড — মৃত্যু ১০ সেপ্টেম্বর, ১৭৯৭, লন্ডন।
- তিনি ছিলেন একজন ইংরেজি লেখিকা এবং নারীদের শিক্ষাগত ও সামাজিক সমতার প্রবল সমর্থক। তিনি তার বিশ্বাসসমূহ “A Vindication of the Rights of Woman” (১৭৯২) গ্রন্থে উপস্থাপন করেন, যা নারীবাদ (ফেমিনিজম)-এর একটি ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত।

Notable works:
- A Vindication of the Rights of Woman,
- Letters Written During a Short Residence in Sweden, Norway, and Denmark,
- Maria; or, The Wrongs of Woman.

Other option,
খ) Marry Wollstonecraft: Marry ভুল বানান, সঠিক বানান হলো - Mary Wollstonecraft.

-----------
উল্লেখ্য -
• Mary Wollstonecraft:
- Married name: Mary Wollstonecraft Godwin is actually her full married name, but she is generally known as Mary Wollstonecraft.
- Spouse name: William Godwin.
- Daughter: Mary Wollstonecraft Shelley.

Source: Britannica.

১৪০.
Which sentence is correct?
  1. The picture was hanged on the wall.
  2. The picture was hung on the wall.
  3. The picture was hunged on the wall.
  4. The picture had hanged on the wall.
সঠিক উত্তর:
The picture was hung on the wall.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The picture was hung on the wall.
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) The picture was hung on the wall.

"Hang" verb এর past tense ও past participle আলাদা ব্যবহারে বিভক্ত।


• Hang(verb) ঝোলা; ঝুলে থাকা; ঝুলানো; ঝুলিয়ে রাখা।
- এই অর্থে এর past tense, past participle form হবে Hung.
- hang something from the ceiling; a picture hanging on the wall; windows hung with curtains.

• Hang (verb) ফাঁসি দেওয়া; ফাঁসি হওয়া; ফাঁসি নেওয়া
- এই অর্থে এর past tense, past participle form hanged হবে।
- He was hanged for murder, খুনের দায়ে ফাঁসি হয়েছে;
- He hanged himself, ফাঁস নিয়ে মরেছে।

অর্থাৎ, যখন কোনো ছবি বা বস্তু দেওয়ালে ঝুলানো হয়, তখন past tense ও past participle হলো hung.
- যখন কারো ফাঁসিতে ঝুলানো হয়, তখন past tense ও past participle হলো hanged.

• যেহেতু এখানে ছবি দেয়ালে ঝুলানো হয়েছে, তাই সঠিক ব্যবহার হবে: was hung.

Other options,

ক) The picture was hanged on the wall.
- Hanged ব্যবহার হয় ফাঁসিতে ঝুলানো এর জন্য, যেমন Execution-এর ক্ষেত্রে।
- এখানে ছবির প্রসঙ্গ, তাই ভুল।

খ) The picture was hunged on the wall.
- এখানে, Hunged হলো ভুল বানান; English-এ hung হলো সঠিক past participle.

ঘ) The picture had hanged on the wall.
- hanged ফাঁসির জন্য ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়া, past perfect tense "had hanged" এখানে প্রয়োজন নেই, কারণ সাধারণ description দেওয়া হচ্ছে।

Source:
- Accessible Dictionary.

১৪১.
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নেতৃস্থানীয় ভুমিকা পালন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন 'তমুদ্দুন মজলিস'। তমুদ্দুন মজলিস-এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন?
  1. রসায়ন
  2. পদার্থ বিজ্ঞান
  3. অর্থনীতি
  4. ইসলামী শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
পদার্থ বিজ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদার্থ বিজ্ঞান
ব্যাখ্যা

⇒ 'তমদ্দুন মজলিস'-এর নেতা জনাব আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

♦ তমদ্দুন মজলিশ:
→ তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
→ তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
→ ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
→ অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
→ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।
→ মদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবুল কাশেমের অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া, শাহেদ আলী, আবদুল গফুর, বদরুদ্দীন উমর, হাসান ইকবাল
→ অধ্যাপক আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ তমদ্দুন মজলিশের সভাপতি নির্বাচিত হন।
→ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে বস্তুত তমদ্দুন মজলিশই প্রথম প্রতিবাদ উত্থাপন করে।
→ এই সংগঠন ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
→ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে তমদ্দুন মজলিশের প্রকাশিত পুস্তিকাটির নাম ছিল 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু'।
→ তমদ্দুন মজলিশ ছাত্র-শিক্ষক মহলে বাংলাভাষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
→ ১৯৪৭ সালের মধ্যেই বহু প্রখ্যাত এবং অখ্যাত লেখক বাংলা রাষ্ট্রভাষার প্রতি তাদের দ্ব্যর্থহীন সমর্থন জানিয়েছিলেন।
→ পাকিস্তানের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিষয়তালিকা থেকে এবং নৌ ও অন্যান্য বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলাকে বাদ দেয়া হয়।
→ এমনকি পাকিস্তানের গণপরিষদের সরকারি ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও উর্দুকে নির্বাচন করা হয়। ফলে বাঙালিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১৪২.
বাংলাদেশের জাতীয় দিবস কোনটি?
  1. ২৬ মার্চ
  2. ২১ ফেব্রুয়ারী
  3. ১৬ ডিসেম্বর
  4. ৫ আগস্ট
সঠিক উত্তর:
২৬ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬ মার্চ
ব্যাখ্যা

⇒ ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় ও স্বাধীনতা দিবস।

♦ স্বাধীনতা দিবস:
→ ১৯৮০ সালের ৩ অক্টোবর ২৬ শে মার্চকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
→ ১৯৮১ সাল থেকে ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
→ ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। সেজন্যে একে স্বাধীনতা দিবস বলা হয়।

♦ উল্লেখ্য:
→ ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
→ ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস।
→ ৫ আগস্ট 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস'।

♦ বাংলাদেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিবস:
→ ০২ মার্চ জাতীয় পতাকা দিবস।
→ ০১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দিবস।
→ ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস।
→ ১৬ জুলাই 'জুলাই শহীদ দিবস'।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১৪৩.
নিম্নোক্ত কোন ভারতীয় রাজ্যের বাংলাদেশের সাথে কোন ভূমি সীমানা নাই?
  1. নাগাল্যান্ড
  2. মিজোরাম
  3. মেঘালয়
  4. আসাম
সঠিক উত্তর:
নাগাল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগাল্যান্ড
ব্যাখ্যা

⇒ ভারতের নাগাল্যান্ড রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের কোন ভূমি সীমানা নেই।

♦ বাংলাদেশের সীমান্ত:
→ বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে। যথা:
• ভারত ও
• মিয়ানমার।
→ বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা: ৩২টি।
→ ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩০টি।
→ মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩টি।
→ বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।

♦ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত:
→ ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪১৪২ কিলোমিটার।
→ এটি পৃথিবীর ৫ম দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমারেখা।
→ বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
→ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্যসমূহ: আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন, ওয়ার্ল্ড এটলাস ও Statistica.com

১৪৪.
আয়নাঘর কী?
  1. স্বচ্ছ কামরা
  2. পরিবেশ বান্ধব কৃষিকাজ
  3. গোপন কারাগার
  4. একটি হলিউড মুভি
সঠিক উত্তর:
গোপন কারাগার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপন কারাগার
ব্যাখ্যা

⇒ আয়নাঘর দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর গোয়েন্দা শাখার অধীনে পরিচালিত 'গোপন কারাগার'।

♦ আয়নাঘর:
→ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই (ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স) এবং বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কাউন্টার-টেরোরিজম ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (সিটিআইবি) দ্বারা পরিচালিত একটি গোপন আটক কেন্দ্রের নাম আয়নাঘর।
→ আয়নাঘর দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর গোয়েন্দা শাখার অধীনে পরিচালিত হয়।
→ এটি রাজনৈতিক বিরোধীদের, সরকার-সমালোচকদের, সন্দেহভাজন 'চরমপন্থী' বা 'সন্ত্রাসী'দের গুম করে আটক রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
→ মূলত সরকার-বিরোধী চক্রান্তে সন্দেহভাজনদের আটক রাখা হত এখানে।
→ শুধু তৎকালীন সরকারের সমালোচকেরা নন, ‘চরমপন্থী’ বা ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসাবে চিহ্নিত করেও বহু মানুষকে ‘আয়নাঘর’ বা সেই জাতীয় গোপন বন্দিশালাগুলিতে আটক করা হয়েছিল।

♦ আয়নাঘরের অবস্থান:
→ আয়নাঘরের অবস্থান ঢাকা সেনানিবাস এলাকায়, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে, যেখানে প্রাচীর-আবৃত অন্ধকার কক্ষসমূহ ছিল।
→ এতে কমপক্ষে ১৬টি কক্ষ রয়েছে, প্রতিটিতে ৩০ জন করে বন্দি রাখার সক্ষমতা রয়েছে।

♦ উল্লেখ্য:
→ ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে নিয়ে বহুল আলোচিত ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
→ রাজধানীর আগারগাঁও, কচুক্ষেত ও উত্তরা এলাকায় তিনটি স্পট পরিদর্শন করেন তিনি।

তথ্যসূত্র - পত্রিকার রিপোর্ট।

১৪৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে নিম্নের কোন অধিকারটি মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. বাক-স্বাধীনতার অধিকার
  2. শিক্ষার অধিকার
  3. সভা সমাবেশের অধিকার
  4. ধর্মচর্চার অধিকার
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার অধিকার
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে শিক্ষার অধিকার মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত নয়।

♦ বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়:
→ বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয় মৌলিক অধিকার।
→ বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে বাক-স্বাধীনতার অধিকার, সভা সমাবেশের অধিকার ও ধর্মচর্চার অধিকার মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।

♦ তৃতীয় অধ্যায়ের অন্যান্য আলোচ্য বিষয়সমূহ:
→ আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য, সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা, বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ, আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার, জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ, গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ, জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ, বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ, চলাফেরার স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতা, সংগঠনের স্বাধীনতা, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা, পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার।

♦ বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
• প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র।
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন।
• অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১৪৬.
'কম-দামে কেনা বেশী দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা'-বইটির লেখক কে?
  1. আবুল কালাম শামসূদ্দীন
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. শামসুদ্দিন আবুল কালাম
  4. এস ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা

♦ বেশি দামে কেনা কম দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা:
→ 'বেশি দামে কেনা কম দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা' গ্রন্থের লেখক আবুল মনসুর আহমেদ।
→ 'বেশি দামে কেনা কম দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা' গ্রন্থে যে ৪২টি নিবন্ধ রয়েছে।
→ সেগুলির মধ্যে প্রথম ৩৯টি ১৯৭২ ও ৭৩ সালে দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক 'ইত্তেফাক'-এ প্রকাশিত হয়েছে।
→ এই গ্রন্থে প্রকাশিত ৪২-টি নিবন্ধ পাচ মিশালা হহলেও প্রত্যেকাঢর মূল বক্তব্য অভিন্ন।
→ প্রবন্ধগুলোতে নানান দিকে উদ্ভুত জাতীয় সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানেরই পথ-নির্দেশনা লেখক তার লেখাগুলো দিয়েছেন।
→ অনেক বিষয়ে তিনি লেখা ও আলোচনা শুরু করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার দায়িত্ব ন্যস্ত করেছেন সবার উপর।

♦ আবুল মনসুর আহমেদ:

→ তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
→ আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
→ তিনি খিলাফত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

♦ ব্যঙ্গরচনা:
→ আয়না,
→ ফুড কনফারেন্স,
→ গালিভারের সফরনামা

♦ স্মৃতিকথা:
→ আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী),
→ আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
→ শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

♦ তাঁর রচিত উপন্যাস:
→ সত্যমিথ্যা,
→ জীবন ক্ষুধা,
→ আবে-হায়াৎ

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৪৭.
১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের পর ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে দেনদরবার করার ক্ষেত্রে কোন নেতা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন?
  1. হাকিম আজমল খান
  2. শেরে বাংলা এ, কে. ফজলুল হক
  3. স্যার সলিমুল্লাহ
  4. স্যার আব্দুর রহিম
সঠিক উত্তর:
স্যার সলিমুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যার সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা

⇒ ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের পর ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে দেনদরবার করার ক্ষেত্রে নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

♦ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস:
→ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
→ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ঢাকার রমনা এলাকায় নিজ জমি দান করেন।
→ বঙ্গভঙ্গের পর ঢাকায় 'সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন' এবং 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক শিক্ষা সমিতির' সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
→ নওয়াব সলিমুল্লাহ ১৯০৫ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছিলেন।
→ ১৯১২ সালের ২৯ জানুয়ারি লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকায় আগমন করে তিন দিন অবস্থান করেন।
→ ৩১ জানুয়ারি নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি মুসলিম প্রতিনিধি দল বড়লাটের সঙ্গে দেখা করে একটি মানপত্র প্রদান করেন এবং কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করে পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের স্বার্থসংরক্ষণের প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
→ ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এক ইশতেহারে ভারত সরকার কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ ঘোষণা করা হয়।
- ১৯২১ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান হয়ে আসছে।

তথ্যসূত্র - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪৮.
সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ইংরেজী নাম কী?
  1. Parliament
  2. National Parliament
  3. Legislature
  4. The House of the Nation
সঠিক উত্তর:
The House of the Nation
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The House of the Nation
ব্যাখ্যা

⇒ সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ইংরেজী নাম 'The House of the Nation'.
→ সংবিধানের পঞ্চম ভাগে আইনসভার উল্লেখ রয়েছে।
→ সংবিধানের ৬৫ নং অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে।

♦ জাতীয় সংসদ:
→ জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
→ দেশের সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা এ সংসদের ওপর ন্যস্ত।
→ প্রতি নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
→ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে (২০১১) মহিলা আসন সংখ্যা ৫০ করা হয়।
→ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
→ জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।
→ সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করা হয়।
→ জাতীয় সংসদের কার্য পরিচালনার জন্য কোরাম থাকতে হয়।
→ অধিবেশনে কোরামের জন্য ন্যূনতম ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন।
→ সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে।
→ ৬০ জনের কম সদস্য উপস্থিত থাকলে স্পিকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।

১৪৯.
জিএসপি (GSP) এর পূর্ণ রূপ কী?
  1. Generalized System of Preference
  2. Global System of Positioning
  3. Global Strategic Partnership
  4. Government Support Program
সঠিক উত্তর:
Generalized System of Preference
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Generalized System of Preference
ব্যাখ্যা

⇒ জিএসপি (GSP) এর পূর্ণরূপ 'Generalized System of Preferences'.

♦ GSP:
→ Generalized System of Preferences (GSP) হল উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া এক ধরণের শুল্কমুক্ত বা শুল্ক হ্রাস সংক্রান্ত বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা।
→ GSP হচ্ছে পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার।
→ ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রথম GSP সুবিধা চালু করে।
→ নিম্ন আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশ হিসেবে গণ্য করা হয়।

♦ উল্লেখ্য:
→ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে প্রথম জিএসপি সুবিধা দেয় ১ জানুয়ারি, ১৯৭৬ সালে।
→ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা হারায় ২৭ জুন, ২০১৩ সালে।
→ যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা পাবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত।

তথ্যসূত্র - ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওয়েবসাইট, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ওয়েবসাইট, পত্রিকা রিপোর্ট।

১৫০.
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্যের অন্যতম প্রস্তাব কি?
  1. দ্বি-স্তর বিশিষ্ট সংসদ
  2. সংসদের আসন বৃদ্ধি
  3. সংরক্ষিত নারী আসন বাতিল
  4. পি আর (PR) চালু করা
সঠিক উত্তর:
দ্বি-স্তর বিশিষ্ট সংসদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বি-স্তর বিশিষ্ট সংসদ
ব্যাখ্যা

⇒ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্যের অন্যতম প্রস্তাব দ্বি-স্তর বিশিষ্ট সংসদ।

♦ সংস্কার প্রস্তাব:
→ এই সংস্কারে বর্তমান এককক্ষ সংসদের পরিবর্তে নিম্নকক্ষ (জাতীয় সংসদ) এবং উচ্চকক্ষ (সিনেট) গঠিত হবে।
→ যাতে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া আরও সুষ্ঠু, জনকেন্দ্রিক এবং চেক-অ্যান্ড-ব্যালেন্স সহ নিশ্চিত হয়।
→ নিম্নকক্ষে ৪০০ সদস্য (৩০০ সরাসরি নির্বাচিত + ১০০ নারী সংরক্ষিত সরাসরি নির্বাচিত) এবং উচ্চকক্ষে ১০৫ সদস্য (১০০ সমানুপাতিক + ৫ রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন, ৩০% নারী সংরক্ষিত) থাকবে।

♦ উল্লেখ্য:
→ রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার আনার লক্ষ্যে প্রস্তাব তৈরির জন্য ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে সরকার।
→ সেগুলো হলো সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন কমিশন।
→ সংস্কার প্রশ্নে ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
→ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই কমিশনের সভাপতি।

তথ্যসূত্র - পত্রিকার রিপোর্ট।

১৫১.
বাংলাদেশের ওয়ারেন্ট অফ প্রেসিডেন্স অনুযায়ী সর্ব প্রথম কে অবস্থান করেন?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধান উপদেষ্টা
  4. প্রধান বিচারপতি
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা

জুলাই, ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত ওয়ারেন্ট অফ প্রেসিডেন্স অনুযায়ী:

রাষ্ট্রপতি (President of the Republic) এর অবস্থান সর্ব প্রথম।

উল্লেখ্য,
২. প্রধানমন্ত্রী
৩. সংসদের স্পিকার
৪. বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিগণ।
৫. কেবিনেট মন্ত্রিগণ; কেবিনেটের প্রধান হুইপ; সংসদের ডেপুটি স্পিকার; সংসদে বিরোধী দলের নেতা
৬. কেবল পদমর্যাদা অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সমমানের পদে থাকা ব্যক্তিরা।
৭. বিশেষ দূত ও কমনওয়েলথ দেশের হাইকমিশনারগণ, যারা বাংলাদেশে নিয়োগপ্রাপ্ত।
৮. প্রধান নির্বাচন কমিশনার; পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান; সংসদে বিরোধী দলের ডেপুটি নেতা;সুপ্রিম কোর্টের বিচারকগণ(আপিল বিভাগ); রাষ্ট্রের রাজ্য মন্ত্রীগণ; হুইপ।

এছাড়াও,
ওয়ারেন্ট অফ প্রেসিডেন্সে মোট ২৫টি পদক্রম রয়েছে।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।

১৫২.
পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে ছিলেন?
  1. বিচারপতি সাত্তার
  2. বিচারপতি সায়েম
  3. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. বিচারপতি হামদুর রহমান
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি সাত্তার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি সাত্তার
ব্যাখ্যা

• ১৯৭০ এর নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।

১৯৭০ এর নির্বাচন:

- ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের ও ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- অবশ্য ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়ের ফলে দুর্গত ও উপকূলীয় এলাকায় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন ১৭ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।
- নির্বাচনে মোট ২৪টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের পূর্ব পাকিস্তান অংশের জন্য ১৬২টি সাধারণ আসন ও ৭টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ মোট বরাদ্দ ছিল ১৬৯টি আসন।
- জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৭টি সংরক্ষিত আসন সহ মোট ১৬৭টি আসন লাভ করে।
- প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে ৩০০টি সাধারণ আসন ও ১০টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ মোট ৩১০টি আসন বরাদ্দ ছিল।
- প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ ২৮৮টি সাধারন আসন ও ১০টি সংরক্ষিত আসন সহ মোট ২৯৮টি আসন লাভ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, মোজাম্মেল হক ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১৫৩.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক চা বাগান রয়েছে কোন জেলায়?
  1. সিলেট
  2. চট্টগ্রাম
  3. মৌলভীবাজার
  4. পঞ্চগড়
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা

• চা-বাগান:
- চা বোর্ড কর্তৃক নিবন্ধকৃত দেশে মোট চা-বাগানের সংখ্যা - ১৭০ টি।
- মৌলভীবাজার জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ৯০ টি।
- হবিগঞ্জ জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ২৫ টি।
- সিলেট জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ১৯ টি।
- চট্টগ্রাম জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ২২ টি।
- রাঙ্গামাটি জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ২ টি।
- পঞ্চগড় জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ১১ টি।
- ঠাকুরগাওঁ জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ১ টি।
- খাগড়াছড়ি জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা -১ টি

উৎস: বাংলাদেশ চা বোর্ড ওয়েবসাইট।

১৫৪.
চীন, ভারত ও বাংলাদেশের প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদী, চীন বা তিব্বতে কী নামে পরিচিত?
  1. ইয়াংসি
  2. লিজিয়াং
  3. হয়াইলি
  4. ইয়ারলাং সাংপো
সঠিক উত্তর:
ইয়ারলাং সাংপো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইয়ারলাং সাংপো
ব্যাখ্যা

ইয়ারলাং সাংপো” (Yarlung Tsangpo):
- ব্রহ্মপুত্র নদী এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী এবং এটি তিনটি দেশের মধ্যে প্রবাহিত: চীন, ভারত, এবং বাংলাদেশ।
- ব্রহ্মপুত্র নদী চীনের তিব্বত মালভূমিতে উৎপন্ন হয় এবং সেখানে এ নদীকে “ইয়ারলাং সাংপো” (Yarlung Tsangpo) নামে ডাকা হয়।
- পরে এটি ভারতে প্রবেশ করে “সিয়াং” নামে পরিচিত হয় এবং বাংলাদেশে এসে “ব্রহ্মপুত্র” নামে প্রবাহিত হয়।

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি, চীনা কর্তৃপক্ষ তিব্বতের ভূখণ্ডে ইয়ারলাং সাংপো” (Yarlung Tsangpo) নদীতে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ শুরু করেছে। - এমন একটি প্রকল্প যা ভারতের ও বাংলাদেশের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

উৎস: ব্রিটানিকা ও বিবিসি নিউজ।

১৫৫.
বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়
  3. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  4. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

• শহীদ আবু সাঈদ:
- রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।

উৎস: প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার।

১৫৬.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনটি?
  1. তথ্য মন্ত্রণালয়
  2. প্রেস কাউন্সিল
  3. বিটিআরসি
  4. বাংলাদেশ টেলিভিশন
সঠিক উত্তর:
প্রেস কাউন্সিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেস কাউন্সিল
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রেস কাউন্সিল।

♦ প্রেস কাউন্সিল:
→ প্রেসের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার মানোন্নয়ন ও মান সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৭৪ সালে প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট প্রণয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল গঠিত হয়।
→ প্রেস কাউন্সিল একটি আধা-বিচারিক সংস্থা।
→ প্রেস কাউন্সিলের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশে সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং তাদের মান উন্নত ও বজায় রাখা।

♦ প্রেস কাউন্সিলের কার্যাবলী:
• সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা বজায় রাখতে সহায়তা করা।
• উচ্চ পেশাগত মান অনুযায়ী সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা এবং সাংবাদিকদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন করা।
• সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা ও সাংবাদিকদের দ্বারা জনসাধারণের উচ্চমানের রুচি বজায় রাখা এবং নাগরিকের অধিকার ও দায়িত্বের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
• সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত সকলের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও জনসেবার মনোভাব বৃদ্ধি করা।
• জনস্বার্থ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সরবরাহ ও প্রচারে বাধা সৃষ্টিকারী যেকোনো উন্নয়ন পর্যালোচনা করা।
• সাংবাদিকতা পেশায় ব্যক্তিদের জন্য সঠিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুবিধা প্রদান করা।



তথ্যসূত্র -
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল ওয়েবসাইট।
Media Landscapes

১৫৭.
Demographic Dividend বলতে কী বুঝায়?
  1. শিশু মৃত্যুহার হ্রাস
  2. জন্মহার শূনের কোটায় আনা
  3. জনসংখ্যার অধিকাংশ বেকার
  4. কর্মক্ষম বয়স গোষ্ঠীর অনুপাত বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
কর্মক্ষম বয়স গোষ্ঠীর অনুপাত বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মক্ষম বয়স গোষ্ঠীর অনুপাত বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

• ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড:
- যখন একটি দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যা অর্থাৎ ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী জনসংখ্যার পরিমাণ দেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশের অধিক হয় তখন তাকে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- জনসংখ্যার এরূপ অবস্থায় নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী (১৫ বছরের কম ও ৬৪) সংখ্যা কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী অপেক্ষা কম হয়।
- বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশ অবস্থা অতিবাহিত করছে।
- বিবিএসের জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২–এর সমন্বয়কৃত জনসংখ্যার চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২২ হাজার ৯১১ জন।
- তার মধ্যে ১৫-৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম শ্রমশক্তির সংখ্যা হলো ১১ কোটি ৭ লাখ প্রায়, যা মোট জনসংখ্যার ৬৫.২৩ শতাংশ।
- জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের তথ্যানুসারে ২০৫০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জনমিতিক লভ্যাংশের সুবিধা ভোগ করবে।
- জনসংখ্যার এরূপ অবস্থাকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হলে একটি দেশ দ্রুত উন্নয়ন সাধন করতে পারে।

উৎস: বিবিএস ও জাতিসংঘ ওয়েসাইট এবং প্রথম আলো।

১৫৮.
ভাষা-পরিবার অনুযায়ী সাঁওতাল জনগোষ্ঠী প্রধানত কোন পরিবার ভুক্ত?
  1. ইন্দো-আর্য
  2. দ্রাবিড়
  3. অস্ট্রিক-অস্ট্রো এসিয়াটিক (মুন্ডা)
  4. তিব্বত-বর্মী
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক-অস্ট্রো এসিয়াটিক (মুন্ডা)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক-অস্ট্রো এসিয়াটিক (মুন্ডা)
ব্যাখ্যা

সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চল এবং ছোটনাগপুর; পরে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সাঁওতাল পরগনায়।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।

সাঁওতালরা খুবই উৎসবপ্রিয় জাতি। বাঙালিদের মতো এদেরও বারো মাসে তেরো পার্বণ। তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব যা নৃত্যগীতবাদ্য সহযোগে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

নববর্ষের মাস ফাল্গুনে অনুষ্ঠিত হয় স্যালসেই উৎসব,
- চৈত্রে বোঙ্গাবোঙ্গি,
- বৈশাখে হোম,
- আশ্বিনে দিবি,
- পৌষ শেষে সোহরাই উৎসব পালিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৫৯.
লর্ড কর্ণওয়ালিস ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল হওয়ায় পূর্বে কোন্ ভূমিকায় ছিলেন?
  1. ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী
  2. ফ্রান্সে নিযুক্ত ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত
  3. যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান
  4. কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান
ব্যাখ্যা

• লর্ড কর্নওয়ালিস ভারতের গভর্নর-জেনারেল হওয়ার আগে আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে দক্ষিণাঞ্চলে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

• চার্লস কর্নওয়ালিস:

সেভেন ইয়ার্স ওয়ার (১৭৫৬–৬৩)-এর একজন অভিজ্ঞ সৈনিক ছিলেন কর্নওয়ালিস।
এই যুদ্ধে (১৭৬২ সালে) তিনি তার পিতার আর্ল উপাধি ও অন্যান্য পদবি উত্তরাধিকার সূত্রে পান।
তিনি যদিও উত্তর আমেরিকার উপনিবেশবাসীদের প্রতি ব্রিটিশ নীতির বিরোধিতা করেছিলেন, তবুও তিনি আমেরিকান বিপ্লব দমন করার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন।

- ১৭৭৬ সালের শেষ দিকে তিনি জেনারেল জর্জ ওয়াশিংটনের দেশপ্রেমিক বাহিনীকে নিউ জার্সি থেকে বিতাড়িত করেন, কিন্তু ১৭৭৭ সালের শুরুর দিকে ওয়াশিংটন আবার রাজ্যের একটি অংশ পুনর্দখল করেন।

- ১৭৮০ সালের জুন মাসে দক্ষিণাঞ্চলে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান হিসেবে কর্নওয়ালিস জেনারেল হোরেশিও গেটসের বিরুদ্ধে সাউথ ক্যারোলিনার ক্যামডেনে (১৬ আগস্ট, ১৭৮০) এক বড় জয় লাভ করেন।

- পূর্ব নর্থ ক্যারোলিনা হয়ে ভার্জিনিয়ায় অগ্রসর হয়ে তিনি জোয়ারভাটার বন্দর নগর ইয়র্কটাউনে তার ঘাঁটি স্থাপন করেন।
- সেখানে তিনি আমেরিকান ও ফরাসি স্থলবাহিনীর (ওয়াশিংটন ও কমতে দ্য রোশামবো এর নেতৃত্বে) এবং ফরাসি নৌবাহিনীর (কমতে দ্য গ্রাস এর নেতৃত্বে) দ্বারা অবরুদ্ধ হন।
- অবশেষে তিনি এক দীর্ঘ অবরোধের পর তার বিশাল সেনাবাহিনীসহ আত্মসমর্পণ করেন।

- যদিও ইয়র্কটাউনে আত্মসমর্পণের ঘটনাটি যুদ্ধকে উপনিবেশবাসীদের পক্ষে সিদ্ধান্ত করে দেয়, তবুও কর্নওয়ালিস নিজ দেশে উচ্চ মর্যাদা বজায় রাখেন।
- ১৭৮৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি ভারতের গভর্নর-জেনারেলের পদ গ্রহণ করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১৬০.
আশিস নন্দী, শশী থারুর প্রমুখ লেখকের মতে দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রথম প্রবক্তা কোন সংঘটনটি?
  1. মুসলিম লীগ
  2. সর্ব ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
  3. আর.এস.এস.
  4. জমিয়তে-ই-হিন্দ
সঠিক উত্তর:
মুসলিম লীগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুসলিম লীগ
ব্যাখ্যা

♦ দ্বি-জাতি তত্ত্ব:
→ দ্বি-জাতি তত্ত্ব হলো একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শন, যার মতে হিন্দু ও মুসলমানরা ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন জীবনাচার ও ভিন্ন ঐতিহ্যের কারণে একই জাতি নয়; তারা দুটি স্বতন্ত্র জাতি। তাই তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র থাকা আবশ্যক।

দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও আশিস নন্দী, শশী থারু প্রমুখ :
- আশিস নন্দী, শশী থারুর প্রমুখ লেখকের মতে দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রথম প্রবক্তা মুসলিম লীগ।
- তারা আরও মনে করেন যে পাকিস্তান চাওয়া মুসলিম লীগের দাবি ছিল, কংগ্রেসের নয়।
- মূলত তাদের মতে, বিনায়ক দামোদর সাভারকর জিন্নাহর দ্বিজাতি ত্বত্তের ১৬ বছর পূর্বে দ্বিজাতি ত্বত্ত প্রদান করেছিলনে।
- এবং বিনায়ক দামোদর সাভারকর ছিলেন হিন্দু মহাসভার সভাপতি।
- প্রসঙ্গত, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ পার্লামেন্টে বলেছে যে, "নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (CAB) প্রয়োজন হয়েছিল কারণ কংগ্রেস ১৯৪৭ সালে ধর্মীয় ভিত্তিতে ভারতকে ভাগ করেছিল।"
- এর উত্তরে শশী থারুর প্রশ্ন করছেন, "অমিত শাহ কি ইতিহাস জানেন না? জিন্নাহ, দুই-জাতির তত্ত্ব, মুসলিম লীগের পাকিস্তান রেজোলিউশন এসব কি তিনি জানেন না? বাস্তবে পাকিস্তান চাওয়া মুসলিম লীগের দাবি ছিল, কংগ্রেসের নয়।"

♦ দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও সৈয়দ আহমদ খান এর ভূমিকা:
→ সৈয়দ সায়্যদ আহমদ খান মীরাটে ১৬ মার্চ ১৮৮৮ সালের এক বক্তৃতায় হিন্দু ও মুসলিমকে আলাদা করে ‘two nations’ উল্লেখ করেন; এই মীরাট-বক্তৃতাই আধুনিক 'দ্বি-জাতি' ধারণার সবচেয়ে প্রাথমিক স্পষ্ট রূপগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
→ মীরাটে দেওয়া বক্তৃতায় সৈয়দ আহমদ খান স্পষ্টভাবে বলেন: 'হিন্দু এবং মুসলমান দুটি পৃথক সম্প্রদায়, যাদের ধর্ম, ঐতিহ্য এবং জীবনধারা ভিন্ন। একটি যৌথ রাষ্ট্রে তাদের একসঙ্গে শাসন করা কঠিন হবে।'
→ মীরাট বক্তব্যে সৈয়দ সরাসরি আলাদা রাষ্ট্র দাবি করেননি; তিনি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের ওপর জোর দিয়ে সম্ভাব্য ক্ষমতা-অসাম্য তুলে ধরেছিলেন।
→ তিনি মনে করতেন যে হিন্দু ও মুসলমানদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পার্থক্যের কারণে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ আলাদা।
→ এই বক্তৃতা এবং তাঁর অন্যান্য লেখনীতে তিনি মুসলমানদের জন্য পৃথক রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তাঁর এই ধারণা দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

• জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব:
- জাতিতত্ত্বের বিশ্লেষণে একটি জনগোষ্ঠীকে তখনই জাতি বলা যায়, যার ভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, মনন, কৃষ্টি, ধর্ম এমনকি অর্থনীতি একটি একক সত্তায় পরিণতি লাভ করে।
- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারতের হিন্দু ও মুসলমান এ দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দুটি পৃথক জাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এটিই মূলত জিন্নাহর 'দ্বিজাতি তত্ত্ব'।
- ১৯৩৯ সালে জিন্নাহ্ তাঁর 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' ঘোষণা করেন।
- পরবর্তী বছর লাহোরে মুসলিম লীগের ঘোষণায় এরই প্রতিধ্বনি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
- ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্।
- এ অধিবেশনেই বাংলার নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এ.কে. ফজলুল হক বিখ্যাত লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এতে বলা হয় যে, কোনো শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনা এদেশে কার্যকর বা মুসলমানদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না যদি একটি নিম্নবর্ণিত মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত না হয়।

♦ দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও আল্লামা ইকবাল এর ভূমিকা:
→ ১৯৩০ সালে আল্লামা ইকবাল এলাহাবাদে All India Muslim Legue-এর বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতির ভাষণে দ্বি-জাতি তত্ত্বের বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং এতে সমর্থন ব্যক্ত করেন।
→ এই ভাষণে তিনি উত্তর-পশ্চিম ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলোকে একত্র করে স্বশাসিত মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব দেন।
→ তাঁর কবিতা ও রচনা মুসলমানদের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আত্মপরিচয় জাগ্রত করতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।
→ ইতিহাসবিদদের মতে, স্যার সাইয়্যদের বপন করা বীজকে ইকবাল দার্শনিক ভিত্তি ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দেন, যা পরবর্তীতে জিন্নাহর নেতৃত্বে পাকিস্তান আন্দোলনের রূপ নেয়।

উৎস:
i) Shashitharoor Website। [Link]
ii)The Demonic and the Seductive in Religious Nationalism: Vinayak Damodar Savarkar and the Rites of Exorcism in Secularizing South Asia by Ashis Nandy। [Link]
iii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iv) বাংলাপিডিয়া, ব্রিটানিকা ও কয়েকটি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
v) Dwan ওয়েবসাইট।

১৬১.
নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা সামরিক জোট কত সালে সাক্ষরিত হয়?
  1. ১৯৩৯
  2. ১৯৪৩
  3. ১৯৪৯
  4. ১৯৬০
সঠিক উত্তর:
১৯৪৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৯
ব্যাখ্যা

♦ নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা সামরিক জোট ১৯৪৯ সালে সাক্ষরিত হয়।

NATO:

- NATO-এর পূর্ণরূপ:North Atlantic Treaty Organisation অথবা উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উত্তর আটলান্টিক চুক্তির মাধ্যমে NATO গঠিত হয়।
- ন্যাটো মূলত সামরিক সহযোগিতার জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয় ৪ এপ্রিল, ১৯৪৯।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: ১২টি।
- বর্তমান সদস্য: ৩২টি।
- সদর দপ্তর: ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।
- বর্তমান মহাসচিব: মার্ক রুট্টে।
- মুসলিম দেশ: আলবেনিয়া ও তুরস্ক।

⇒ ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল ওয়াশিংটনে এক চুক্তির মাধ্যমে ন্যাটো গঠিত হয়েছিল।
- এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের হাত থেকে পশ্চিম বার্লিন এবং ইউরোপের নিরাপত্তা বাস্তবায়ন করা।
- ন্যাটো একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি, যে চুক্তির আওতায় জোটভুক্ত দেশগুলো পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
- এর প্রত্যেকটি সদস্য রাষ্ট্র তাদের সামরিক বাহিনীকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখতে বদ্ধপরিকর।
- এছাড়াও, ন্যাটো প্রতিষ্ঠার চুক্তিটি ১৪টি ধারার।

উৎস: NATO ওয়েবসাইট।

১৬২.
বাংলাদেশ-ICCPR এর স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। ICCPR এর পূর্ণরূপ কী?
  1. International Conference on Civil and Political Rights
  2. International Conference of Civil and Political Rights
  3. International Covenant on Civil and Political Rights
  4. International Covenant of Civil and Political Rights
সঠিক উত্তর:
International Covenant on Civil and Political Rights
উত্তর
সঠিক উত্তর:
International Covenant on Civil and Political Rights
ব্যাখ্যা

♦ বাংলাদেশ-ICCPR এর স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। ICCPR এর পূর্ণরূপ International Covenant on Civil and Political Rights.

ICCPR:

- ICCPR-এর পূর্ণরূপ: International Covenant on Civil and Political Rights.

⇒ এটি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তি।
- গৃহীত হয়: ১৯৬৬ সালে।
- কার্যকর হয়: ২৩ মার্চ, ১৯৭৬ সালে।
- আন্তর্জাতিক এই চুক্তি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়।
- বিশ্বের প্রতিটি মানুষের অধিকার সংরক্ষণ করার জন্য অর্থাৎ বিশ্বের প্রতিটি পেশার এবং প্রতিটি মানুষ যেন সমান অধিকার পায় সেই লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালে দুইটি আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এর উদ্দেশ্য হলো মানুষের মৌলিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার যেমন-জীবনের অধিকার, বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচারের অধিকার সুরক্ষা করা।
- এতে মোট ৫৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
- এই চুক্তি বাস্তবায়ন তদারকি করে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটি (UN Human Rights Committee)।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ এটি ২০০০ সালে অনুমোদন করে।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

১৬৩.
গ্রিনল্যান্ড নিচের কোন রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সুইডেন
  2. ডেনমার্ক
  3. নরওয়ে
  4. ফিনল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
ডেনমার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেনমার্ক
ব্যাখ্যা

♦ গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অন্তর্ভুক্ত।

গ্রিনল্যান্ড:
- গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ।
- এটি ডেনমার্কের একটি স্বশাসিত অঞ্চল।
- গ্রিনল্যান্ড উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অংশ।
- এর অবস্থান উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপ মহাদেশের মধ্যে অবস্থিত।
- এর অবস্থান কানাডা এবং আইসল্যান্ডের মাঝে অবস্থিত।
- আয়তনে মূল ডেনমার্কের চেয়ে গ্রীনল্যান্ড প্রায় ৫০ গুন বড়।
- রাজধানী: নুউক।
- গ্রিনল্যান্ডের অধিবাসীরা এস্কিমো হিসেবে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- গ্রিনল্যান্ড ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত ডেনমার্কের একটি উপনিবেশ ছিল। ১৯৭৯ সালে গণভোটের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড স্বায়ত্তশাসন লাভ করেছিল, তবে দ্বীপটির পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতি এখনও ডেনমার্কই দেখভাল করে।
- এ দ্বীপের প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে রয়েছে তেল ও গ্যাস। আরও আছে পৃথিবীর বিরল কিছু ধাতু, যেগুলোর বৈদ্যুতিক গাড়ি ও বায়ুকলের পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে উচ্চ চাহিদা রয়েছে।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.

১৬৪.
বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে একজন আমেরিকান ঐতিহাসিক মন্তব্য করেছেন; 'বাংলাদেশের রাজনীতি ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, ধারনা বা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নয়" এই ঐতিহাসিকের নাম কি?
  1. এন্থনি মাসকারেনহাস
  2. লরেঞ্চ জিরিং
  3. লরেঞ্চ লিফশূলজ্
  4. হেনরি কিসিঞ্জার
সঠিক উত্তর:
লরেঞ্চ জিরিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লরেঞ্চ জিরিং
ব্যাখ্যা

♦ বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে একজন আমেরিকান ঐতিহাসিক মন্তব্য করেছেন; 'বাংলাদেশের রাজনীতি ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, ধারনা বা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নয়" এই ঐতিহাসিকের নাম লরেঞ্চ জিরিং।

অধ্যাপক লরেঞ্চ জিরিং:
- 'বাংলাদেশের রাজনীতি ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, ধারণা বা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নয়'- লরেঞ্চ জিরিং (Lawrence Ziring) কর্তৃক প্রদত্ত।
- তিনি তাঁর গ্রন্থ 'বাংলাদেশ: মুজিব থেকে এরশাদ: একটি বিশ্লেষনধর্মী ইতিহাস'-এই গ্রন্থে এই পর্যবেক্ষণ করেছেন।
- যেখানে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিশ্লেষণ করেছেন।
- এই গ্রন্থে জিরিং উল্লেখ করেছেন যে, স্বাধীনতার প্রথম বিশ বছরে বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে, যারা জনগণের অনুভূতিগুলিকে প্রকাশ করার চেষ্টা করলেও প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান বা ধারণার ভিত্তি স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

- মূলত এটি একটি নিরপেক্ষ ইতিহাসের বই। ১৯৪০-১৯৯০ সাল পর্যন্ত প্রতিটি বাঙালি রাজনৈতিক নেতা, তাঁদের শাসনকাল, তাঁদের সাফল্য-ব্যর্থতা, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা/অস্থিরতা সহ বিভিন্ন বিষয় নিরপেক্ষভাবে উঠে এসেছে।

⇒ এছাড়াও, তিনি "মুজিব, এরশাদ ও হাসিনা: রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ইতিহাস" নামক একটি বইয়ের লেখক।


Link: core.ac.uk page: 124.

উৎস: বাংলাদেশ: মুজিব থেকে এরশাদ: একটি বিশ্লেষনধর্মী ইতিহাস।

১৬৫.
বিশ্বের প্রথম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী কোনটি?
  1. UNOSOM
  2. UNMOGIP
  3. UNTSO
  4. UNEF
সঠিক উত্তর:
UNTSO
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNTSO
ব্যাখ্যা

♦ বিশ্বের প্রথম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী UNTSO (United Nations Truce Supervision Organization).

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন:
- জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন (United Nations Peacekeeping Mission) একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ যা সংঘাতপ্রবণ দেশগুলোতে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।
- এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য হলো সংঘর্ষমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা, মানবাধিকার রক্ষা করা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পরিচালনায় সহায়তা করা।
- বর্তমানে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং এশিয়া জুড়ে জাতিসংঘের ১১টি শান্তিরক্ষা মিশন চলমান রয়েছে।
- এগুলো হলো: MINURSO (পশ্চিম সাহারা), MINUSCA (মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র), MONUSCO (গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র), UNDOF (গোলান হাইটস), UNFICYP (সাইপ্রাস), UNIFIL (লেবানন), UNISFA (আবিয়েই), UNMIK (কসোভো), UNMISS (দক্ষিণ সুদান), UNMOGIP (ভারত ও পাকিস্তান), UNTSO (মধ্যপ্রাচ্য)।

⇒ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের মূল উদ্দেশ্য:
- সংঘাতের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সশস্ত্র বিরোধী পক্ষদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করা।
- যুদ্ধ বা সংঘাতের কারণে বিপর্যস্ত জনগণের জন্য মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া।
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য জাতিসংঘ মিশন আঞ্চলিক সরকারের সহায়তায় কাজ করে থাকে।
- যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা, যেমন অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন শুরু হয়।
- ১৯৪৮ সালে সংঘটিত ১ম আরব-ইসরাইল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই মিশনের নাম ছিল "United Nations Truce Supervision Organization (UNTSO)"।
- এটি ছিল জাতিসংঘের প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ১৯৪৮ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি সঠিকভাবে পালন হচ্ছে কিনা তা মনিটর করা।

এছাড়াও,
- জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন নোবেল পুরস্কার লাভ করেন ১৯৮৮ সালে।

উৎস: United Nations Peacekeeping ওয়েবসাইট।

১৬৬.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কোন চুক্তির মাধ্যমে সমাপ্ত হয়?
  1. প্যারিস চুক্তি
  2. ভারসাই চুক্তি
  3. জেনেভা চুক্তি
  4. রোম চুক্তি
সঠিক উত্তর:
ভারসাই চুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারসাই চুক্তি
ব্যাখ্যা

♦ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তি:

- বিধ্বংসী প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে ১৯১৯ সালের ২৮ জুন ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- স্থান: ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদের হল অফ মিররসে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
- পক্ষসমূহ: মিত্রশক্তি (ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান) এবং জার্মানি।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির ওপর যে ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়েছিল, তা মূলত স্বাক্ষরিত ভার্সাই চুক্তি (Treaty of Versailles)-এর মাধ্যমে হয়েছিল। এই চুক্তিটি জার্মানিকে যুদ্ধের জন্য দায়ী করে এবং মিত্র দেশগুলোর ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করে।
- ফলাফল: যুদ্ধের কারণে মিত্র দেশগুলোর যে ক্ষতি হয়েছিল, তার জন্য জার্মানিকে বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হয়।

• প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (World War I) ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত সংঘটিত হয়েছিল এবং এটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ।
- যুদ্ধটি মূলত ইউরোপের বিভিন্ন শক্তির মধ্যে সংঘটিত হলেও এর প্রভাব ছিল পৃথিবীজুড়ে।

⇒ যুদ্ধের পটভূমি:
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।
- যুদ্ধের ফলাফল: মিত্র শক্তির বিজয়।
- অক্ষশক্তি: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, অটোমান সাম্রাজ্য ও বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তি: সার্বিয়া, রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জাপান প্রভৃতি দেশ।

উৎস: i) History.com
ii) Britannica.

১৬৭.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন প্রেসিডেন্ট জাপানে পারমানবিক বোমা নিক্ষেপের অনুমোদন করেছিলেন?
  1. হাঁরি এস. ট্রুম্যান
  2. ফ্রাঙ্কলিন ডি, বুজভেল্ট
  3. রিচার্ড নিক্সন
  4. জর্জ ডারিও বুশ
সঠিক উত্তর:
হাঁরি এস. ট্রুম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাঁরি এস. ট্রুম্যান
ব্যাখ্যা

♦ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হ্যারি এস. ট্রুম্যান জাপানে পারমানবিক বোমা নিক্ষেপের অনুমোদন করেছিলেন।

হ্যারি এস. ট্রুম্যান:
- হ্যারি এস. ট্রুম্যান (Harry S. Truman) ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩তম রাষ্ট্রপতি।
- তিনি ১৯৪৫ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের মৃত্যুর পর উপরাষ্ট্রপতি থেকে রাষ্ট্রপতিত্বে উন্নীত হন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি থেকে শীতল যুদ্ধের উত্থান পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলীর নেতৃত্ব দেন।
- হ্যারি এস. ট্রুম্যান জাপানে পারমানবিক বোমা নিক্ষেপের অনুমোদন করেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। এই প্রকল্পের নাম ছিল 'ম্যানহাটান প্রজেক্ট'। পারমাণবিক বোমার জনক রবার্ট ওপেনহেইমার ছিলেন ম্যানহাটান প্রজেক্টের প্রধান।
- জাপানের দুটি শহরে এই বোমা ফেলার পর বিপুল প্রাণহানি আর ধ্বংসলীলা ঘটেছিল।
- ৩৩তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান এই পারমাণবিক বোমা বর্ষণের নির্দেশ দেন।

লিটলবয় ও ফ্যাটম্যান:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যখন প্রায় শেষের পথে, তখন আগস্টের জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকি শহরে পরমাণু বোমা ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
- বিশ্বে প্রথম কোন যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র। মারা গিয়েছিল হাজার হাজার মানুষ।
- জাপানের হিরোশিমা শহরে ৬ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে বোমা বর্ষণ করে। নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো লিটলবয়।
- ৯ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে নাগাসাকি শহরে পারমাণবিক বোমা বর্ষণ করে। নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো ফ্যাটম্যান।

উৎস: History.com

১৬৮.
ODS (Ozone Depleting Substances) এর ব্যবহার কমানোর জন্য কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. কিয়োটো প্রটোকল
  2. মন্ট্রিল প্রটোকল
  3. প্যারিস চুক্তি
  4. রামসার কনভেনশন
সঠিক উত্তর:
মন্ট্রিল প্রটোকল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্ট্রিল প্রটোকল
ব্যাখ্যা

♦ ODS (Ozone Depleting Substances) এর ব্যবহার কমানোর জন্য মন্ট্রিল প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়।

⇒ ODS (Ozone Depleting Substances) হলো এমন পদার্থ যা সাধারণত রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র এবং অ্যারোসলের মতো পণ্যগুলিতে ব্যবহৃত হয়।

মন্ট্রিল প্রটোকল:
- Montreal Protocol-এর পূর্ণরূপ: The Montreal Protocol on Substances that Deplete the Ozone Layer.
- মন্ট্রিল প্রোটোকল হল ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পদার্থ (ODS) ব্যবহার এবং উৎপাদন বন্ধ করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- মন্ট্রিল প্রোটকলের মূখ্য আলোচ্য বিষয়: ওজোন স্তরের সুরক্ষা।

⇒ চুক্তি গৃহীত হয়: ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৭ সালে।
- কার্যকর হয়: ১ জানুয়ারী, ১৯৮৯ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: মন্ট্রিল, কানাডা।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশ: ২০০টি।
- চুক্তি অনুমোদনকারী দেশ: ১৯৮টি।

উল্লেখ্য,
- ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (সিএফসি), হ্যালন, কার্বন টেট্রাক্লোরাইড, মিথাইল ক্লোরোফর্ম, মিথাইল ব্রোমাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, হাইড্রোব্রোমোফ্লোরোকার্বন ইত্যাদি গ্যাসের প্রভাবে দিন দিন ক্ষয়ে যাচ্ছে এই ওজোন স্তর। যার ফলে তৈরি হচ্ছে ওজোন হোল বা গর্ত। প্রায় সকল ওজোনস্তর ক্ষয়কারী দ্রব্য (ওডিএস) ই অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রিন হাউস গ্যাস হিসেবে চিহ্নিত। ওজোনস্তর ক্ষয়কারী দ্রব্য ও এর বিকল্পসমূহ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এ গ্যাসগুলো সাধারণতঃ রেফ্রিজারেশন ও এয়ারকন্ডিশনিং সিস্টেমে, এ্যাজমা চিকিৎসায় উৎপাদিত ইনহেলারে, ফ্যান, প্লাস্টিক ফোম তৈরি ও মাইক্রোইলেকট্রিক সার্কিট পরিস্কার করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মানবসভ্যতাকে রক্ষার জন্য ওজোনস্তর রক্ষায় কাজ করা একান্ত প্রয়োজন। তাই ওজোনস্তরের ক্ষয়কারী দ্রব্যের ব্যবহার কমাতে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
- ধরিত্রীকে রক্ষার লক্ষ্যে ওজোনস্তর রক্ষায় জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির উদ্যোগে ১৯৮৫ সালে 'ভিয়েনা কনভেনশন' গৃহীত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কানাডার মন্ট্রিলে "মন্ট্রিল প্রটোকল" নামে এক যুগান্তকারী চুক্তি গৃহীত হয়।

উৎস: i) UNEP ওয়েবসাইট।
ii) Ozone Secretariat।
ii) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি)।

১৬৯.
আফিম যুদ্ধ কোন দুইটি দেশের মধ্যে সংঘটিত হয়?
  1. চীন ও আফগানিস্তান
  2. চীন ও ইংল্যান্ড
  3. চীন ও রাশিয়া
  4. ইংল্যান্ড ও আফগানিস্তান
সঠিক উত্তর:
চীন ও ইংল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চীন ও ইংল্যান্ড
ব্যাখ্যা

♦ আফিম যুদ্ধ চীন ও ইংল্যান্ড- এই দুইটি দেশের মধ্যে সংঘটিত হয়।

আফিম যুদ্ধ:
- আফিমের চোরাচালানকে কেন্দ্র করে চীন ও ব্রিটেনের মধ্যে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, তাই আফিম যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উনিশ শতকের গোড়া থেকে চীনের সঙ্গে ব্যবসায়ে ঘাটতি মেটাতে বঙ্গদেশ থেকে চীনে আফিম রপ্তানি শুরু করে।
- চীনা শাসকরা ১৮৩৯ সালে আফিম আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
- কিন্তু ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অবৈধ উপায়ে এ ব্যবসা অব্যাহত রাখে।
- কোম্পানির অবৈধ আফিম ব্যবসার কারণে চীন ও ব্রিটেনের মধ্যে যুদ্ধ বাধে।
- ১ম যুদ্ধে চীনারা পরাজিত হয় এবং চীন ১৮৪২ সালে নানকিং চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়।

• নানকিং চুক্তি:
- প্রথম আফিম যুদ্ধে পরাজয়ের পর চীনের শাসকগোষ্ঠী ব্রিটিশদের সাথে একটি অপমানজনক 'অসম চুক্তি' স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়।
- এই চুক্তির নাম নানকিং চুক্তি।
- চিনা কমিশনার চিইং (Chiying) এবং নব নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার হেনরি পট্টিনগার (Sir Henry Pottinger) -এর উদ্যোগে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ২৯ আগস্ট, ১৮৪২ সালে
- এই চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশদের হংকংয়ের নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল।
- এছাড়া চীন কর্তৃক ব্রিটেনকে বিভিন্ন বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানে বাধ্য হয়।
- পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে চীন সরকার ৯৯ বছরের জন্যে হংকংকে ব্রিটেনের নিকট লিজ দেয় এবং ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই লিজের মেয়াদ শেষে ব্রিটেন পুনরায় চীনের নিকট হংকং কে হস্তান্তর করে।

উৎস: Britannica.

১৭০.
কেপ ভারদ (Cape Verde) দ্বীপ রাষ্ট্রটি কোথায় অবস্থিত?
  1. গালফ অফ গিনি
  2. ফ্রেঞ্ছ পলিনেশিয়া
  3. দক্ষিন আফ্রিকা
  4. পশ্চিম আফ্রিকা
সঠিক উত্তর:
পশ্চিম আফ্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিম আফ্রিকা
ব্যাখ্যা

♦ কেপ ভারদ (Cape Verde) দ্বীপ রাষ্ট্রটি পশ্চিম আফ্রিকায় অবস্থিত।

কেপ ভার্দে (Cape Verde):
- কেপ ভার্দে রাষ্ট্রটি পশ্চিম আফ্রিকায় অবস্থিত।
- এটি আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের কাছে আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ।
- রাজধানী: প্রাইয়া (Praia)।
- সরকারি ভাষা: পর্তুগিজ।
- মুদ্রা: কেপ ভার্দীয় এসকুডো (সিভিই)।
- ধর্ম: খ্রিস্টধর্ম (প্রধানত রোমান ক্যাথলিক); এছাড়াও ইসলাম।
- এর রাষ্ট্রপ্রধান হলেন রাষ্ট্রপতি এবং এর সরকারপ্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য,
- কেপ ভার্দে পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

উৎস: Britannica.

১৭১.
নিম্নোক্ত কোন দেশ বা অঞ্চল জাতিসংঘের সদস্য দেশ নয়?
  1. তিমুর লিস্টি
  2. দক্ষিন সুদান
  3. ওয়েস্টার্ন সাহারা
  4. সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক
সঠিক উত্তর:
ওয়েস্টার্ন সাহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়েস্টার্ন সাহারা
ব্যাখ্যা

♦ ওয়েস্টার্ন সাহারা জাতিসংঘের সদস্য দেশ নয়। তিমুর লিস্টি, দক্ষিন সুদান ও সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক জাতিসংঘের সদস্য দেশ।

ওয়েস্টার্ন সাহারা (পশ্চিম সাহারা):
- পশ্চিম সাহারা বা ওয়েস্টার্ন সাহারা আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত একটি বিচ্ছিন্ন জনবহুল অঞ্চল যার বেশিরভাগই মরুভূমি।
- বৃহত্তম শহর: লায়াউন।
- ওয়েস্টার্ন সাহারা একটি বিতর্কিত অঞ্চল।
- এটি পূর্বে স্পেনের উপনিবেশ (Spanish Sahara) ছিল। ১৯৭৫ সালে তা স্বাধীন হয়। কিন্তু মরক্কো ওই এলাকার অনেকটাই দখল করে নেয়। তখন থেকে পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের সঙ্গে লড়াই চলছে মরক্কোর।
- দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম সাহারা অঞ্চলে সংঘর্ষ চলছে। পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের নাম পোলিসারিও ফ্রন্ট। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত লাগাতার যুদ্ধ চলার পর মরক্কো এবং পোলিসারিও-র মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তি সই হয়। কিন্তু ২০২০ সাল থেকে পোলিসারিও নতুন করে লড়াই শুরু করেছে।
- ওয়েস্টার্ন সাহারা জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র নয়। জাতিসংঘ এই অঞ্চলকে "Non-self-governing territory" হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

অন্যদিকে,
- তিমুর-লিস্টি (পূর্ব তিমুর) ২০০২ সালে জাতিসংঘে যোগদান করে।
- দক্ষিণ সুদান ২০১১ সালে জাতিসংঘে যোগদান করে।
- সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ১৯৬০ সালে জাতিসংঘে যোগদান করে।

⇒ জাতিসংঘ:
- বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো জাতিসংঘ (United Nations Organization).
- এটি জাতিপুঞ্জের (League of Nations) উত্তরসূরী।
- জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরিত হয়: ২৬ জুন, ১৯৪৫।
- জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৪ অক্টোবর, ১৯৪৫।
- স্বাক্ষরের স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য: ৫১টি।
- বর্তমান সদস্য: ১৯৩টি।
- সর্বশেষ সদস্য: দক্ষিণ সুদান।
- বর্তমান মহাসচিব: আন্তোনিও গুতেরেস।
- সদর দপ্তর: ম্যানহাটন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র।
- দাপ্তরিক ভাষা ৬টি: ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, চীনা, রুশ, স্প্যানিশ এবং আরবি।
- কার্যকরী দাপ্তরিক ভাষা ২টি: ইংরেজি ও ফ্রেঞ্চ।

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) Britannica.

১৭২.
নিম্নোক্ত কোন দেশটি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (EU) সদস্য নয়?
  1. বুলগেরিয়া
  2. হাঙ্গেরি
  3. পোল্যান্ড
  4. সুইজারল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
সুইজারল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুইজারল্যান্ড
ব্যাখ্যা

♦ সুইজারল্যান্ড ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (EU) সদস্য নয়। অন্যদিকে বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (EU) সদস্য।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (
European Union):
- বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১ নভেম্বর, ১৯৯৩ সালে।
- সদরদপ্তর: ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ: ৬টি।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ: ২৭টি।

⇒ ইইউ দেশগুলো হলো: অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রীস, হাঙ্গেরি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া , স্লোভেনিয়া, স্পেন এবং সুইডেন।

উল্লেখ্য,
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপিয়ান দেশগুলো তাদের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য একটি অর্থনৈতিক জোট গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করে।
• ১৮ এপ্রিল, ১৯৫১ সালে প্যারিসে একচুক্তির মাধ্যমে ইউরোপিয় কয়লা ও ইস্পাত পরিষদ (ECSE- European Coal and Steel Community) গঠিত হয়।
• ২৫ মার্চ, ১৯৫৭ সালে বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস্, ইতালি ফ্রান্স ও সাবেক পশ্চিম জার্মানী এ ৬টি রাষ্ট্রের মধ্যে 'রোম চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়।
- এ চুক্তি অনুযায়ী ১৭ জানুয়ারি, ১৯৫৮ সালে European Economic Community (EEC) এবং Euratom প্রতিষ্ঠিত হয়।
• পরবর্তীতে EEC একটি একক ইউরোপিয় অর্থনীতি গঠন করার প্রয়াস চালায়।
- ১৯৬৫ সালে সম্পাদিত 'ব্রাসেলস চুক্তি' সংগঠনটিকে European Community (EC) রূপান্তরিত করে।
• ১৯৯২ সালে স্বাক্ষরিত 'ম্যাসট্রিক্ট চুক্তি'র ভিত্তিতে EC রূপান্তরিত হয়ে বর্তমান ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন European Union (EU) হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

এছাড়াও,
- শেনজেনভুক্ত দেশ: ২৯টি।
- ইউরো মুদ্রা ব্যবহারকারী দেশ: ২০টি।

উৎস: EU ওয়েবসাইট।

১৭৩.
নিম্নোক্ত কোন দেশটি 'Five Eyes' ভুক্ত নয়?
  1. অস্ট্রেলিয়া
  2. ফ্রান্স
  3. নিউজিল্যান্ড
  4. কানাডা
সঠিক উত্তর:
ফ্রান্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

♦ 'Five Eyes' গোয়েন্দা জোটের অন্তর্ভুক্ত দেশ নয় ফ্রান্স। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডা Five Eyes-এর সদস্য।

Five Eyes:
- Five Eyes ইন্টেলিজেন্স অ্যালায়েন্স, যা FVEY নামেও পরিচিত।
- ‘এটি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং নিউজিল্যান্ডের একটি গোয়েন্দা জোট।
- জোটটি UKUSA চুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
- তারা বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে একসাথে কাজ করে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে তারা তাদের দেশকে নিরাপদ রাখতে একে অপরকে সাহায্য করছে।
- সন্ত্রাসবাদ, সাইবার হুমকি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সম্পর্কিত তথ্য তারা শেয়ার করে।

⇒ UKUSA চুক্তি:
- ১৯৪৩ সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য একটি সমবায় গোয়েন্দা চুক্তি গঠন করে যা BRUSA চুক্তি নামে পরিচিত।
- এই গোপন চুক্তিটি পরবর্তীতে UKUSA চুক্তি হিসাবে আনুষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।
- এই চুক্তিটি ফাইভ আই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের ভিত্তি স্থাপন করে।

উৎস: Five Eyes ওয়েবসাইট।

১৭৪.
"কেবল আয়ের অভাব নয়, বরং সামর্থ্যের অভাবই দারিদ্র্যের মূল কারন"-অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন কোন গ্রন্থে এই যুক্তি তুলে ধরেন?
  1. Development as Freedom
  2. Women and Human Development
  3. Development through Disposition
  4. Development, Environment and Power
সঠিক উত্তর:
Development as Freedom
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Development as Freedom
ব্যাখ্যা

♦ "কেবল আয়ের অভাব নয়, বরং সামর্থ্যের অভাবই দারিদ্র্যের মূল কারন"- অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন 'Development as Freedom' গ্রন্থে এই যুক্তি তুলে ধরেন।

অমর্ত্য সেন:
- অমর্ত্য সেন একজন ভারতীয় বাঙালী অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক।
- ১৯৯৮ সালে তিনি অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন।
- দারিদ্র এবং দুর্ভিক্ষ নিয়ে গবেষণার জন্য ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান অমর্ত্য সেন।

⇒ ১৯৫১ সালে আইএসসি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে তিনি ভর্তি হন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে এবং তারপর অর্থনীতি নিয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন ইংল্যাণ্ডে কেম্ব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে। এছাড়াও তিনি ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ক্যামব্রিজের ট্রিনিটি কলেজের মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
- তিনি ইকোনমিস্ট ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির একজন ট্রাষ্টি।
- তিনিই প্রথম ভারতীয় শিক্ষাবিদ যিনি একটি অক্সব্রিজ কলেজের প্রধান হন। এছাড়াও তিনি প্রস্তাবিত নালন্দা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবেও কাজ করেছেন।
- ২০০৬ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে অনূর্ধ্ব ষাট বছর বয়সী ভারতীয় বীর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ২০১০ সালে তাকে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,
- "কেবল আয়ের অভাব নয়, বরং সামর্থ্যের অভাবই দারিদ্র্যের মূল কারণ" - এই উক্তিটি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন-এর। তিনি তার "Development as Freedom" গ্রন্থে এই যুক্তি তুলে ধরেন। এখানে 'সামর্থ্যের অভাব' বলতে শুধু আর্থিক সংগতিই নয়, বরং মানুষের সক্ষমতার অভাবকেও বোঝানো হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুযোগ এবং স্বাধীনতা লাভের অভাব।

এছাড়াও,
- অমর্ত্য সেনের লেখা গ্রন্থাবলি ৩০টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- The Idea Of Justice-গ্রন্থটির রচয়িতা অমর্ত্য সেন। বইটি মূলত জন রলসের 'A Theory of Justice' (1971)-এর মৌলিক ধারণাগুলির একটি সমালোচনা এবং সংশোধন।

উৎস: i) Britannica.
ii) Development as Freedom- Amartya Sen.

১৭৫.
নিম্নোক্ত কোন রাষ্ট্রটি সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা SCO -এর সদস্য নয়?
  1. আজারবাইজান
  2. ভারত
  3. পাকিস্তান
  4. ইরান
সঠিক উত্তর:
আজারবাইজান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজারবাইজান
ব্যাখ্যা

♦ আজারবাইজান রাষ্ট্রটি সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা SCO -এর সদস্য নয়। অন্যদিকে ভারত, পাকিস্তান ও ইরান সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা SCO -এর সদস্য।

Shanghai Cooperation Organisation (SCO):
- সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) হলো একটি ইউরেশীয় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংস্থা।
- এর মূল লক্ষ্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
- গঠিত হয়: ১৫ জুন, ২০০১ সাল।
- সদরদপ্তর: বেইজিং, চীন।
- প্রতিষ্ঠিত সদস্য দেশ: ৬টি (চীন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান)।
- বর্তমান সদস্য দেশ: ১০টি (রাশিয়া, চীন, ভারত, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, ইরান, বেলারুশ)।
- সর্বশেষ সদস্য: বেলারুশ।
- বর্তমান মহাসচিব: Nurlan Yermekbayev।
- ২টি পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র: আফগানিস্তান, মঙ্গোলিয়া।

উলেখ্য,
- ২০২৫ সালের Shanghai Cooperation Organisation (SCO)-এর ২৫তম শীর্ষ সম্মেলন চীনের তিয়ানজিন শহরে ৩১ আগস্ট -১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি SCO-এর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্মেলন ছিল। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং।

উৎস: Shanghai Cooperation Organisation ওয়েবসাইট।

১৭৬.
ভারত পাকিস্তানের মধ্যে ইন্দাস ওয়াটার ট্রিটি (IWT) কোন সালে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ১৯৪৮
  2. ১৯৭৪
  3. ১৯৬৫
  4. ১৯৮০
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

♦ ভারত পাকিস্তানের মধ্যে ইন্দাস ওয়াটার ট্রিটি (IWT) ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত হয়।
অপশনে সঠিক উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।
------------------------

সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি (Indus Waters Treaty):
- ভারতের উজান থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু অববাহিকায় প্রবাহিত নদীগুলোর পানি ব্যবহার সংক্রান্ত চুক্তি হচ্ছে সিন্ধু পানি চুক্তি।
- চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৬০ সাল।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: করাচি, পাকিস্তান।
- মধ্যস্থতাকারী: বিশ্বব্যাংক।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী: ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আইয়ুব খান।

⇒ সিন্ধু পানি চুক্তি অনুসরণ করেই এসব নদীর পানি ব্যবহার করা হয়।
- এই চুক্তি সিন্ধু নদের অববাহিকার ছয়টি নদী দুই দেশের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে।
- চুক্তি অনুযায়ী ভারতকে তিনটি পূর্বাঞ্চলীয় নদীর নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল। এগুলো হলো ইরাবতী, বিপাশা ও শতদ্রু।
- অন্যদিকে পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছিল পশ্চিমাঞ্চলীয় তিনটি নদ–নদী অর্থাৎ সিন্ধু, ঝিলম এবং চেনাবের নিয়ন্ত্রণ। বলা হয় পশ্চিম অংশের এ তিনটি নদ–নদীর মাধ্যমে পাকিস্তানে মোট পানির প্রায় ৮০ ভাগ সরবরাহ করে।
- চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান পায় ৭০ ভাগ পানি আর ভারত পায় ৩০ ভাগ পানি।
- চুক্তিটি কোনো দেশ একতরফাভাবে স্থগিত বা বাতিল করার বিধান নেই। বরং এতে সুস্পষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
---------------------

অতিরিক্ত আলোচনা:

১৯৬০ সালে IWT স্বাক্ষরিত হলেও, ভারত ভাগের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক জল-বণ্টন বন্দোবস্ত হয়েছিল ৪ মে ১৯৪৮—Inter-Dominion Agreement on Punjab Canal Waters. এই চুক্তিতে ভারত পাকিস্তানের অববাহিকায় পানি সরবরাহ দেবে, আর পাকিস্তান বার্ষিক অর্থপ্রদান করবে—যা ছিল স্থায়ী চুক্তি হওয়া পর্যন্ত একটি স্টপগ্যাপ/অন্তর্বর্তী সমাধান।
এই অন্তর্বর্তী বন্দোবস্তই পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংক-মধ্যস্থ আলোচনার পথ খুলে দেয় এবং ১৯৬০ সালের IWT-তে পৌঁছাতে সহায়তা করে।

তাই প্রশ্নটি যদি “ইন্দাস ব্যবস্থায় দুই দেশের প্রথম আনুষ্ঠানিক জল-ব্যবস্থাপনা চুক্তি/সমঝোতা”—এই অর্থে নেওয়া হয়, তহলে ক) ১৯৪৮ অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর। কিন্তু প্রশ্নে সরাসরি এই চুক্তি কত সালে স্বাক্ষরিত হয়েছে, এটা জানতে চাওয়া হয়েছে। সেই হিসাবে ঘুরিয়ে উত্তর নেওয়ার সুযোগ কম।


উৎস:
i) Britannica.
ii) UNTC ওয়েবসাইট।
iii) Ministry of External Affairs, Government of India.

১৭৭.
হালিমা ইয়াকুব কোন দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন?
  1. ব্রুনেই
  2. মালয়েশিয়া
  3. সিংগাপুর
  4. তানজানিয়া
সঠিক উত্তর:
সিংগাপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিংগাপুর
ব্যাখ্যা

♦ হালিমা ইয়াকুব সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতি ছিলেন।

হালিমা ইয়াকুব:
- হালিমা ইয়াকুব সিঙ্গাপুরের অষ্টম ও প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।
- ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে হালিমা ইয়াকুব ক্ষমতায় এসেছিলেন।
- ২০২৩ সালে ভারতীয় বংশোদ্ভূত অর্থনীতিবিদ থারমান শানমুগারাতনাম হালিমা ইয়াকুবের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

উল্লেখ্য,
- সিঙ্গাপুরে প্রেসিডেন্ট পদ অনেকটা আলংকারিক। প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে নগররাষ্ট্রটির পুঞ্জীভূত আর্থিক রিজার্ভ দেখভাল করেন, সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন এবং দুর্নীতিবিরোধী তদন্ত অনুমোদন করেন। তবে এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বেশ কঠিন কিছু শর্ত রয়েছে। সংবিধান মতে, প্রেসিডেন্ট হচ্ছে নির্দলীয় একটি পদ।

⇒ সিঙ্গাপুর:
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ধনী নগররাষ্ট্র সিঙ্গাপুর।
- রাজধানী: সিঙ্গাপুর সিটি।
- মুদ্রা: সিঙ্গাপুরীয় ডলার।
- দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী: লরেন্স ওং (Lawrence Wong)।
- দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট: থারমান শানমুগারাতনাম (Mr Tharman Shanmugaratnam)।
- সিঙ্গাপুর ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল। ১৯৫৯ সালে সিঙ্গাপুর স্ব-শাসিত হয়ে ওঠে।

এছাড়াও,
- আধুনিক সিঙ্গাপুরের জনক হলেন লি কুয়ান ইউ। লি কুয়ান ইউ ১৯৫৯ সালের জুন মাসে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি ১৯৫৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
- তাঁর দীর্ঘ শাসনামলে , সিঙ্গাপুর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে সমৃদ্ধ দেশ হয়ে ওঠে।

উৎস: Britannica.

১৭৮.
সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া পাকিস্তানের উপ প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী, ইসহাক দার পাকিস্তানের কোন্ রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত?
  1. পাকিস্তান পিপলস পাটি (PPP)
  2. পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (PTI)
  3. পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ)
  4. জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ)
ব্যাখ্যা

♦ সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া পাকিস্তানের উপ প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী, ইসহাক দার পাকিস্তানের পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) দলের সাথে সম্পৃক্ত।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার:
- মুহাম্মদ ইসহাক দার একজন পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ।
- তিনি বর্তমানে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ২০২৪ সাল থেকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
- ইসহাক দার পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) দলের সাথে সম্পৃক্ত।
- তিনি মুসলিম লীগ এন-এর প্রধান নওয়াজ শরীফের বেয়াই।

⇒ ২৩ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় অবতরণ করেন।
- ১৩ বছর পর বাংলাদেশ সফরে আসা পাকিস্তানের কোন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন ইসহাক দার। এর আগে ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানি ঢাকা সফর করেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের বাংলাদেশ সফরটি যতটা কূটনৈতিক, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক। তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে আমাদের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি সার্ক পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলেছেন। তাঁর সফরকালে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি চুক্তি ও চারটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

১৭৯.
তুরস্কের বিচ্ছিন্নতাবাদী দল Kurdistan Workers' Party বা PKK এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. জালাল তালাবানী
  2. মাসুদ বারজানী
  3. মাজলুম আবদি
  4. আবদুল্লাহ ওচালান
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ ওচালান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ ওচালান
ব্যাখ্যা

♦ তুরস্কের বিচ্ছিন্নতাবাদী দল Kurdistan Workers' Party বা PKK এর প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ ওচালান।

Kurdistan Workers' Party (PKK):
- কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) একটি কুর্দি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ও সামরিক সংগঠন।
- এটি মূলত তুরস্ক, ইরান, ইরাক এবং সিরিয়ায় কুর্দিদের অধিকারের পক্ষে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
- পিকেকে ১৯৭৮ সালে আবদুল্লাহ ওচালানের (Abdullah Ocalan) নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
- পিকেকে শুরুতে একটি সাম্যবাদী বিপ্লবী গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- সংগঠনটির মূল দাবি ছিল স্বাধীন কুর্দিস্তান প্রতিষ্ঠা, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন ও সাংস্কৃতিক অধিকারের দিকেও মনোযোগ দেয়।
- পিকেকে-কে বিভিন্ন দেশ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করলেও, অনেকের কাছে এটি কুর্দিদের অধিকারের জন্য সংগ্রামী প্রতিরোধ শক্তি।

উল্লেখ্য,
- পিকেকে ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে।
- পিকেকে'র আদর্শ বিপ্লবী মার্কসবাদ-লেনিনবাদ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী জাতিগত-জাতীয়তাবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো অন্যান্য দেশ সহ অনেক দেশ পিকেকেকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
- পিকেকে'র প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু হল তুরস্কের পুলিশ, সামরিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সম্পদ।
- সম্প্রতি (১ মার্চ, ২০২৫) কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) দেশটির সরকারের সঙ্গে চলমান ৪০ বছরের সংঘাতের অবসান ঘটানোর জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে।

উৎস: i) BBC.
ii) Republic of Türkiye Ministry of Foreign Affairs.

১৮০.
প্রাচীনকালে কোন দেশে সিভিল সার্ভিসের ধারণা প্রথম উদ্ভূত হয়?
  1. মিশর
  2. গ্রীস
  3. চীন
  4. রোম
সঠিক উত্তর:
চীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চীন
ব্যাখ্যা

♦ প্রাচীনকালে সিভিল সার্ভিসের ধারণা প্রথম উদ্ভূত চীনে।

সিভিল সার্ভিস:
- সিভিল সার্ভিস একটি রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
- এর মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং নাগরিকদের সেবা প্রদান করে। এটি মূলত একটি পেশাদার, অরাজনৈতিক ও দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী বাহিনী, যারা সংবিধান ও সরকারের নীতিমালার আলোকে কাজ করে।
- এছাড়া, তারা সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এর অন্তর্ভুক্ত কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের নানা স্তরে নিয়োজিত থাকেন।

⇒ সিভিল সার্ভিসের উদ্ভব হয়েছে – প্রাচীন কালেই; যখন কিনা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে রাজতন্ত্র বিদ্যমান ছিল।
- এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার তথ্য অনুসারে, সিভিল সার্ভিসের ধারণার উদ্ভব হয়েছিল প্রাচীন মিশরীয় ও গ্রীক সভ্যতার সময়।
- পরবর্তীতে, রোমান সাম্রাজ্য প্রশাসনিক দপ্তর নির্মাণের মাধ্যমে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল; যা পরবর্তীতে রোমান ক্যাথলিক চার্চগুলোও অনুসরণ করে।

⇒ চীনে খ্রিস্টপূর্ব ২ অব্দে সিভিল সার্ভিসের উদ্ভব হয় যা চীনা সভ্যতা/সাম্রাজ্যকে দুই হাজার বছরের বেশি সময় ধরে স্থায়িত্ব দিয়েছে।
- যোগ্যতার ভিত্তিতে সিভিল সার্ভিসের প্রাচীনতম উদাহরণগুলির মধ্যে একটি হলো চীনের ইম্পেরিয়াল আমলাতন্ত্র।
- চীনে সিভিল সার্ভিসের চাকরিকে ‘Iron Rice Bowl’ বলা হয়। চাকরির নিরাপত্তা ও উচ্চ বেতনের জন্য এই নামকরণ করা হয়েছে।
- চীনের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা মান্দারিন ভাষায় হয় ‘Guako’।
- খ্রিষ্টপূর্ব ২০৬ অব্দে চীনের হান রাজবংশের রাজা গাওজু (Gaozu) এর শাসনামলে মেধাভিত্তিক সিভিল সার্ভিসের উন্মেষ ঘটে। তিনি প্রথম পরীক্ষার মাধ্যমে রাজকর্মচারী নিয়োগের ব্যবস্থা চালু করেন। এই সময়ে ইম্পেরিয়াল পরীক্ষা ব্যবস্থা (Keju বা Civil Service Examination) চালু হয়, যা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার উপর নির্ভরশীল ছিল। এই ব্যবস্থা পরবর্তীতে সুই (৫৮১-৬১৮) এবং তাং রাজবংশের (৬১৮-৯০৭) সময়ে আরও উন্নত হয়।
- পরবর্তীতে অন্যান্য রাজবংশের শাসনের সময় তা বিভিন্ন সংশোধন ও পরিমার্জনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে থাকে ও অধিক সুসংগঠিত হয়।
- সং সাম্রাজ্য (Song Dynasty – 960–1279) প্রথম যোগ্যতা (jinshi degree) ও পরীক্ষা পদ্ধতির প্রচলন ঘটায়।
- মিং সাম্রাজ্যের (Ming dynasty – 1368–1644) সময় সিভিল সার্ভিস সিস্টেম চূড়ান্ত রূপে পৌঁছায় এবং পরবর্তীতে কিং সাম্রাজ্যও এই পদ্ধতিই অনুসরণ করে। এই সময় সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাগণ নিজের এলাকায় নিয়োগ না পাওয়া, এক স্থানে তিনবছরের বেশি দায়িত্ব পালন না করা ইত্যাদি নিয়ম অন্তর্ভূক্ত হয়। তাছাড়া, উচ্চপদের জন্য যোগ্যতার ক্ষেত্রে বেশ কিছু জিনিস অন্তর্ভূক্ত এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য শাস্তির বিধান করা হয়।
- চীনে ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর মূলত বর্তমান রাষ্ট্রীয় সিভিল সার্ভিসের প্রচলন ঘটে। সাধারণত কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সংশ্লিষ্টরাই এই সার্ভিসে যোগদান করে।

• তাই, সিভিল সার্ভিসের উদ্ভব হিসেবে চীন দেশকেই গণ্য করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের পর এই কাঠামো দুটি ভাগে বিভক্ত হয়—ভারত ও পাকিস্তানের নিজ নিজ প্রশাসনিক কাঠামোতে। পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর, ১৯৭২ সালে সিভিল সার্ভিস পুনর্গঠিত হয়ে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (BCS) নামে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.

১৮১.
একটি ঘনকের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল 48 বর্গমিটার। ঘনকটির কর্ণের দৈর্ঘ্য কত?
  1. 2√2 মিটার
  2. 2√3 মিটার
  3. 2 মিটার
  4. 2√6 মিটার
সঠিক উত্তর:
2√6 মিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2√6 মিটার
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি ঘনকের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল 48 বর্গমিটার। ঘনকটির কর্ণের দৈর্ঘ্য কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
ঘনকের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল 48 বর্গমিটার

আমরা জানি,
ঘনকের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল = 6a2, [যেখানে a হলো ঘনকের একটি বাহুর দৈর্ঘ্য।]

প্রশনমতে,
6a2 = 48
⇒ a2 = 48/6
⇒ a2 = 8
⇒ a = √8 = 2√2
∴ a = 2√2 মিটার

আবার,
আমরা জানি,
ঘনকের কর্ণের দৈর্ঘ্য = a√3
= (2√2) × √3 ; [a = 2√2]
= 2√(2 × 3)
= 2√6

সুতরাং, ঘনকটির কর্ণের দৈর্ঘ্য 2√6 মিটার।

১৮২.
একটা লোহার গোলক গলিয়ে কয়টি সমান আয়তনের গোলক তৈরী সম্ভব যাদের প্রত্যেকের ব্যাসার্ধ বড় গোলকটির অর্ধেক?


  1. ১৬

সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটা লোহার গোলক গলিয়ে কয়টি সমান আয়তনের গোলক তৈরী সম্ভব যাদের প্রত্যেকের ব্যাসার্ধ বড় গোলকটির অর্ধেক?

সমাধান:
ধরি,
বড় গোলকের ব্যাসার্ধ = R
ছোট গোলকের ব্যাসার্ধ, r = R/2

আমরা জানি,
গোলকের আয়তন V = (4/3)πr3

এখন,
বড় গোলকের আয়তন = (4/3)πR3
ছোট গোলকের আয়তন = (4/3)π(R/2)3 = (1/8) × (4/3)πR3

∴ ছোট গোলকের সংখ্যা = বড় গোলকের আয়তন ÷ ছোট গোলকের আয়তন
= {(4/3)πR3} ÷ {(1/8) × (4/3)πR3}
= 1/(1/8)
= 8

সুতরাং, বড় গোলকটি গলিয়ে ৮টি সমান ছোট গোলক তৈরি করা সম্ভব।

১৮৩.
logx4 = - 2 হলে x = কত?
  1. 1/2
  2. - 1/2
  3. 2
  4. - 2
সঠিক উত্তর:
1/2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1/2
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: logx4 = - 2 হলে x = কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
logx4 = - 2
⇒ 4 = x- 2
⇒ 4 = 1/x2
⇒ x2 = 1/4
⇒ x2 = (1/2)2
∴ x = 1/2

১৮৪.
একটি ত্রিভুজের প্রথম কোণ দ্বিতীয় কোণের অর্ধেক। তৃতীয় কোণ অপর দুই কোণের বিয়োগফলের তিনগুণ। দ্বিতীয় কোণটি কত ডিগ্রী?
  1. ৩০
  2. ৬০
  3. ৯০
  4. ৪৫
সঠিক উত্তর:
৬০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬০
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি ত্রিভুজের প্রথম কোণ দ্বিতীয় কোণের অর্ধেক। তৃতীয় কোণ অপর দুই কোণের বিয়োগফলের তিনগুণ। দ্বিতীয় কোণটি কত ডিগ্রী?

সমাধান:
ধরি,
দ্বিতীয় কোণ = x
প্রথম কোণ দ্বিতীয় কোণের অর্ধেক।
∴ প্রথম কোণ = x/2
এবং,
তৃতীয় কোণটি অপর দুই কোণের বিয়োগফলের তিনগুণ।
অর্থাৎ, তৃতীয় কোণ = 3{x - (x/2)} = 3(2x - x)/2 = 3x/2

আমরা জানি,
ত্রিভুজের তিনটি কোণের সমষ্টি সর্বদা 180°

প্রশ্নমতে,
x + (x/2) + (3x/2) = 180°
⇒ (2x + x + 3x)/2 = 180°
⇒ 6x/2 = 180°
⇒ 3x = 180°
⇒ x = 180°/3
∴ x = 60°

অতএব, দ্বিতীয় কোণটি হলো 60°.

১৮৫.
একটি সমান্তর ধারার 4র্থ (চতুর্থ) এবং 12 তম পদের যোগফল 20 । ঐ ধারার প্রথম 15 পদের যোগফল কত?
  1. 100
  2. 150
  3. 200
  4. 300
সঠিক উত্তর:
150
উত্তর
সঠিক উত্তর:
150
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি সমান্তর ধারার 4র্থ (চতুর্থ) এবং 12 তম পদের যোগফল 20 । ঐ ধারার প্রথম 15 পদের যোগফল কত?

সমাধান:
আমরা জানি,
সমান্তর ধারার n-তম পদ = a + (n - 1)d ; যেখানে a = প্রথম পদ, d = সাধারণ অন্তর।

সুতরাং,
সমান্তর ধারার 4র্থ পদ = a + (4 - 1)d = a + 3d
সমান্তর ধারার 12 পদ = a + (12 - 1)d = a + 11d

প্রশ্নমতে,
a + 3d + a + 11d = 20
∴ 2a + 14d = 20 ........ (1)

আবার,
সমান্তর ধারার প্রথম n পদের যোগফল = (n/2) × {2a + (n - 1)d}
∴ সমান্তর ধারার প্রথম 15 পদের যোগফল = (15/2) × {2a + (15 - 1)d}
= (15/2) × {2a + 14d}
= (15/2) × 20 ; [(1) নং হতে]
= 15 × 10
= 150

সুতরাং, ঐ ধারার প্রথম 15 পদের যোগফল 150

১৮৬.
x2 + 6x - 27 < 0 অসমতাটির সমাধান সেট নিচের কোনটি?
  1. [-9, 3]
  2. [3, ∞)
  3. (-9, 3)
  4. (∞, -9)
সঠিক উত্তর:
(-9, 3)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
(-9, 3)
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: x2 + 6x - 27 < 0 অসমতাটির সমাধান সেট নিচের কোনটি?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
⇒ x2 + 6x - 27 < 0

এখন,
⇒ x2 + 9x - 3x - 27 = 0
⇒ x(x + 9) - 3(x + 9) = 0
⇒ (x + 9)(x - 3) = 0
হয়, (x + 9) = 0
∴ x = - 9

এবং, (x - 3) = 0
∴ x = 3

অসমতাটি হলো x2 + 6x - 27 < 0 যেহেতু এটি একটি দ্বিঘাত অসমতা, এর সমাধানটি মূল দুটি বিন্দুর মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত হবে। অর্থাৎ, x এর মান - 9 এবং 3 এর মধ্যে থাকবে।

সুতরাং, সমাধান সেট = (- 9, 3)

বিকল্প সমাধান:
যদি x = - 10 হয়, তাহলে (- 10)2 + 6(- 10) - 27 = 100 - 60 - 27 = 13 > 0
যদি x = 0 হয়, তাহলে (0)2 + 6(0) - 27 = 0 - 0 - 27 = - 27 < 0
যদি x = 4 হয়, তাহলে (4)2 + 6(4) - 27 = 16 + 24 - 27 = 13 > 0

সুতরাং, সমাধান সেটটি (-9, 3) এর মধ্যে অবস্থিত।

১৮৭.
একটা বাক্সে ৪টা লাল, ৩টা নীল, ২টা হলুদ ও ১টা সবুজ বল আছে। কমপক্ষে কয়টা বল উঠালে সেখানে অন্তত একটা লাল বল থাকবেই?




সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটা বাক্সে ৪টা লাল, ৩টা নীল, ২টা হলুদ ও ১টা সবুজ বল আছে। কমপক্ষে কয়টা বল উঠালে সেখানে অন্তত একটা লাল বল থাকবেই?

সমাধান:
লাল বল = ৪
নীল বল = ৩
হলুদ বল = ২
সবুজ বল = ১
মোট = ৪ + ৩ + ২ + ১ = ১০ বল

সমাধান করতে হবে: কমপক্ষে কয়টা বল তুললে অন্তত একটি লাল বল উঠবেই।

- কমপক্ষে লাল বল বের করার জন্য worst case বিবেচনা করতে হবে।
worst case = প্রথমে সব লাল না তুলে বাকি সব রঙের বল তুলতে হবে।

লাল নয় এমন বলের সংখ্যা = ৩ + ২ + ১ = ৬
অতএব, ৬টা বল তোলার পরও আমরা কোনো লাল বল নাও পেতে পারি।

এখন,
৬টা লাল নয় এমন বলের পর আরও ১টা বল তুললে লাল বল আসবেই।
অতএব, ৭টা বল তুলতে হবে।

সঠিক উত্তর: (গ) ৭

১৮৮.
যদি M = {a, b, 1, 2} এবং N = {1, 2} হয়, তবে N - M এর মান কত?
  1. { }
  2. {a, b}
  3. { 0 }
  4. {- a, - b}
সঠিক উত্তর:
{ }
উত্তর
সঠিক উত্তর:
{ }
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি M = {a, b, 1, 2} এবং N = {1, 2} হয়, তবে N - M এর মান কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
M = {a, b, 1, 2} এবং N = {1, 2}

প্রদত্ত রাশি,
N - M = {1, 2} - {a, b, 1, 2} = { }
N - M = { }

অথবা,
যদি M = {a, b, 1, 2} এবং N = {1, 2} হয়, তবে N - M এর মান হলো একটি খালি সেট, অর্থাৎ ∅ বা { }। এর কারণ হলো N সেটের সকল উপাদান (1 এবং 2) M সেটে উপস্থিত রয়েছে। N - M মানে হলো N সেটের এমন সকল উপাদান যা M সেটে নেই, এবং এই ক্ষেত্রে এমন কোনো উপাদান নেই।

সুতরাং, N - M = ∅ বা {}

১৮৯.
ax + by = a2; bx - ay = ab; এই সহ-সমীকরণের (x, y) এর সমাধান কোনটি?
  1. (a2, b2)
  2. (a, b)
  3. (0, a)
  4. (a, 0)
সঠিক উত্তর:
(a, 0)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
(a, 0)
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ax + by = a2; bx - ay = ab; এই সহ-সমীকরণের (x, y) এর সমাধান কোনটি?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
ax + by = a2 ............ (1)
bx - ay = ab..........(2)

সমীকরণ (1)-কে b দিয়ে গুণ করে পাই, abx + b2y = a2b.......(3)
সমীকরণ (2)-কে a দিয়ে গুণ করে পাই, abx - a2y = a2b.......(4)

এখন, (3) - (4) করে পাই,
abx + b2y - abx + a2y = a2b - a2b
⇒ y(a2 + b2) = 0
∴ y = 0

y এর মান (1) নং এ বসিয়ে পাই,
ax + 0 = a2
⇒ x = a2/a = a
∴ x = a

সুতরাং, সমাধান (x, y) = (a, 0)

১৯০.
একটি গুণোত্তর ধারার পঞ্চম পদটি ৩২ ও অষ্টম পদটি ২৫৬ হলে উক্ত ধারার সাধারণ অনুপাত কত?

  1. ১৬

  2. ১/২
সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি গুণোত্তর ধারার পঞ্চম পদটি ৩২ ও অষ্টম পদটি ২৫৬ হলে উক্ত ধারার সাধারণ অনুপাত কত?

সমাধান:
আমরা জানি,
একটি গুণোত্তর ধারার n-তম পদ = arn -1

দেওয়া আছে,
৫ম পদ, ar4 = 32 .........(১)
৮ম পদ, ar7 = 256 .........(২)

এখন, (২) নং কে (১) নং দ্বারা ভাগ করে পাই,
ar7/ar4 = 256/32
⇒ r3 = 8
⇒ r3 = 23
∴ r = 2

সুতরাং, ধারাটির সাধারণ অনুপাত ২ ।

১৯১.
একটি ট্রেন প্রতি সেকেন্ডে ১০০ ফুট বেগে চলছে। এক ব্যক্তির বন্দুকের গুলির বেগ সেকেন্ডে ২০০ ফুট। উক্ত ব্যক্তি চলন্ত ট্রেনের ৩০০ ফুট সামনে একটা স্তম্ভ লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে কত সেকেন্ড পর তা স্তম্ভকে আঘাত করবে?

  1. ১.৫

  2. ০.৫
সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি ট্রেন প্রতি সেকেন্ডে ১০০ ফুট বেগে চলছে। এক ব্যক্তির বন্দুকের গুলির বেগ সেকেন্ডে ২০০ ফুট। উক্ত ব্যক্তি চলন্ত ট্রেনের ৩০০ ফুট সামনে একটা স্তম্ভ লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে কত সেকেন্ড পর তা স্তম্ভকে আঘাত করবে?

সমাধান:
ট্রেনের বেগ = ১০০ ফুট/সেকেন্ড
গুলির বেগ = ২০০ ফুট/সেকেন্ড
স্তম্ভের দূরত্ব = ৩০০ ফুট

ব্যক্তি ট্রেনের উপর থেকে সামনের দিকে গুলি ছুড়েছে, তাই গুলির আপেক্ষিক কার্যকর বেগ = ট্রেনের বেগ + গুলির বেগ।

কার্যকর বেগ = ২০০ + ১০০ = ৩০০ ফুট/সেকেন্ড
সময় = দূরত্ব ÷ বেগ = ৩০০ ÷ ৩০০ = ১ সেকেন্ড

১৯২.
দুইটি সংখ্যার ল,সা, গু 4x2 + 12x2 - 16x - 48, গ,সা,গু 2x+4। একটি সংখ্যা 4x2 + 20x + 24 হলে অপরটি-
  1. x2 - 4
  2. 2(x2 - 4)
  3. 4(x2 - 4)
  4. x + 2
সঠিক উত্তর:
2(x2 - 4)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2(x2 - 4)
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: দুইটি সংখ্যার ল,সা, গু 4x2 + 12x2 - 16x - 48, গ,সা,গু 2x+4। একটি সংখ্যা 4x2 + 20x + 24 হলে অপরটি-

সমাধান:

[মূল প্রশ্নে 4x2 + 12x2 - 16x - 48 অংশটি ভুল দেওয়া আছে, এটি: 4x3 + 12x2 - 16x - 48 হবে, তাই ল,সা, গু 4x3 + 12x2 - 16x - 48 ধরে সমাধান করা হয়েছে]

ল,সা, গু = 4x3 + 12x2 - 16x - 48
গ,সা,গু = 2x + 4

একটি সংখ্যা = 4x2 + 20x + 24
অপর সংখ্যা = ?

আমরা জানি,
প্রথম সংখ্যা ​× দ্বিতীয় সংখ্যা​ = ল.সা.গু × গ.সা.গু

গ,সা,গু = 2x + 4 = 2(x + 2)

একটি সংখ্যা = 4x2 + 20x + 24
= 4(x2 + 5x + 6)
= 4(x + 2)(x + 3)

ল,সা, গু = 4x3 + 12x2 - 16x - 48
= 4(x3 + 3x2 - 4x - 12)
= 4[x2(x + 3) - 4(x + 3)]
= 4(x + 3)(x2 - 4)
= 4(x + 3)(x - 2)(x + 2)

প্রথম সংখ্যা ​× দ্বিতীয় সংখ্যা​ = ল.সা.গু × গ.সা.গু
দ্বিতীয় সংখ্যা = [4(x + 3)(x - 2)(x + 2) × 2(x + 2)] / [4(x + 2)(x + 3)]
= [8(x + 3)(x - 2)(x + 2)2] / [4(x + 2)(x + 3)]
= 2(x - 2)(x + 2)
= 2(x2 - 4)

১৯৩.
যদি গতকাল শুক্রবার হতো, তাহলে আজ থেকে ৮১ তম দিন কি বার হবে?
  1. শুক্রবার
  2. বুধবার
  3. সোমবার
  4. রবিবার
সঠিক উত্তর:
বুধবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুধবার
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি গতকাল শুক্রবার হতো, তাহলে আজ থেকে ৮১ তম দিন কি বার হবে?

সমাধান:
গতকাল শুক্রবার ছিল।
অতএব, আজ শনিবার।
এখন আজ থেকে ৮১ তম দিন কোন বার হবে তা বের করতে হবে।

প্রতি সপ্তাহে ৭ দিন থাকে, তাই আমরা ৮১ কে ৭ দিয়ে ভাগ করব:

৮১ ÷ ৭ = ১১ সপ্তাহ এবং ৪ দিন।
অতএব, ৮১ দিনের ব্যবধান মানে ৪ দিন পরের বার।

এখন আজ (শনিবার) থেকে ৪ দিন যোগ করি:
আজ = শনিবার (দিন ০)
দিন ১ = রবিবার
দিন ২ = সোমবার
দিন ৩ = মঙ্গলবার
দিন ৪ = বুধবার

∴ সঠিক উত্তর: বুধবার

১৯৪.
নীচের ধারার পরবর্তী সংখ্যা কোনটি? ১, √৯, ৫, √৪৯, ......


  1. ১০
  2. ১২
সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: নীচের ধারার পরবর্তী সংখ্যা কোনটি? ১, √৯, ৫, √৪৯, ......

সমাধান:
দেওয়া ধারা: ১, √৯, ৫, √৪৯, ......

প্রথম পদ = ১
দ্বিতীয় পদ = √৯ = ৩
তৃতীয় পদ = ৫
চতুর্থ পদ = √৪৯ = ৭
পঞ্চম পদ = ?

এখন সংখ্যাগুলি দেখি: ১, ৩, ৫, ৭.......

প্যাটার্ন: এটি একটি বিজোড় সংখ্যার ধারা যেখানে প্রতিটি পদ আগের পদ থেকে ২ বেশি।

১ থেকে ৩ = +২
৩ থেকে ৫ = +২
৫ থেকে ৭ = +২
৭ থেকে ? = +২
পরবর্তী সংখ্যা = ৭ + ২ = ৯

∴ সঠিক উত্তর: খ) ৯

১৯৫.
১ জন লোক ১ টা কলা ১ মিনিটে খেতে পারে। তাহলে ৫ জন লোকের ৫ টা কলা খেতে কত মিনিট সময় লাগবে?

  1. ২৫

  2. ১০
সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ১ জন লোক ১ টা কলা ১ মিনিটে খেতে পারে। তাহলে ৫ জন লোকের ৫ টা কলা খেতে কত মিনিট সময় লাগবে?

সমাধান:
১ জন লোক ১ টা কলা = ১ মিনিট
১ জন লোক ৫ টা কলা = ৫ মিনিট

৫ জন লোক ১ টা করে কলা = ১ মিনিট (সবাই একসাথে খায়)
৫ জন লোক ৫ টা কলা = ১ মিনিট (প্রতিটি লোক ১ টা কলা খায়)

কারণ: যখন ৫ জন লোক একসাথে খায়, তারা একই সময়ে কলা খাওয়া শুরু করে এবং শেষ করে। প্রতিটি লোক ১ টা কলা খেতে ১ মিনিট সময় নেয়।

১৯৬.
একটি বই 10% ক্ষতিতে বিক্রি করা হইল। বিক্রয়মূল্য 60 টাকা বেশী হলে 5% লাভ হত। বইটির ক্রয়মূল্য কত টাকা?
  1. 200
  2. 300
  3. 400
  4. 500
সঠিক উত্তর:
400
উত্তর
সঠিক উত্তর:
400
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি বই 10% ক্ষতিতে বিক্রি করা হইল। বিক্রয়মূল্য 60 টাকা বেশী হলে 5% লাভ হত। বইটির ক্রয়মূল্য কত টাকা?

সমাধান:
ধরি,
বইটির ক্রয়মূল্য = 100 টাকা
10% ক্ষতিতে, বিক্রয়মূল্য = 100 - 10 = 90 টাকা
5% লাভে, বিক্রয়মূল্য = 100 + 5 = 105 টাকা
∴ বিক্রয়মূল্য বেশি = 105 - 90 = 15 টাকা

বিক্রয়মূল্য 15 টাকা বেশি হলে ক্রয়মূল্য = 100 টাকা
বিক্রয়মূল্য 1 টাকা বেশি হলে ক্রয়মূল্য = 100/15 টাকা
বিক্রয়মূল্য 60 টাকা বেশি হলে ক্রয়মূল্য = (100 × 60)/15 টাকা
= 400 টাকা

সুতরাং, বইটির ক্রয়মূল্য 400 টাকা।

১৯৭.
কোন যান্ত্রিক গিয়ারের চাকা ছোট হলে সংযুক্ত অবস্থায় বড়টির চেয়ে ছোট চাকাটি কিভাবে ঘুরবে?
  1. আস্তে
  2. জোরে
  3. একইভাবে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জোরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জোরে
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কোন যান্ত্রিক গিয়ারের চাকা ছোট হলে সংযুক্ত অবস্থায় বড়টির চেয়ে ছোট চাকাটি কিভাবে ঘুরবে?

সমাধান:

গিয়ার মেকানিজমের নীতি:

যখন দুটি গিয়ার চাকা সংযুক্ত থাকে, তখা তারা একে অপরকে স্পর্শ করে এবং চলে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
- ছোট চাকার দাঁতের সংখ্যা < বড় চাকার দাঁতের সংখ্যা
- যখন সংযুক্ত থাকে, উভয় চাকার দাঁত একটি নির্দিষ্ট সময়ে একই সংখ্যক বার মিলিত হয়

গতির সম্পর্ক:
- ছোট চাকাটি বড় চাকার চেয়ে দ্রুত গতিতে ঘোরে (জোরে/বেগে ঘোরে)।

কারণ:
- যদি বড় চাকায় 100 দাঁত এবং ছোটটায় 20 দাঁত থাকে
- বড় চাকা 1 বার ঘুরলে, ছোট চাকা 5 বার ঘোরে
- তাই ছোট চাকা আরও বেশি দ্রুত ঘোরে
- সঠিক উত্তর: খ) জোরে

সুতরাং, ছোট চাকাটি বড় চাকার চেয়ে জোরে/দ্রুত গতিতে ঘোরে।

১৯৮.
১৫ মিটার লম্বা একটি স্কেলের এক প্রান্তে ১০ কেজি ওজন বাঁধা হয়েছে। একই প্রান্ত থেকে স্কেলের দৈর্ঘ্যের ৩ : ২ অনুপাতে একটি পেরেক লাগানো আছে। অপর প্রান্তে কত কেজি ওজন দিলে স্কেলের ভারসাম্য থাকবে?
  1. ৪৫
  2. ৩০
  3. ১৫

সঠিক উত্তর:
১৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ১৫ মিটার লম্বা একটি স্কেলের এক প্রান্তে ১০ কেজি ওজন বাঁধা হয়েছে। একই প্রান্ত থেকে স্কেলের দৈর্ঘ্যের ৩ : ২ অনুপাতে একটি পেরেক লাগানো আছে। অপর প্রান্তে কত কেজি ওজন দিলে স্কেলের ভারসাম্য থাকবে?

সমাধান:

স্কেলের মোট দৈর্ঘ্য = ১৫ মিটার
এক প্রান্তের ওজন = ১০ কেজি
পেরেক বিভাজন = ৩ : ২

৩ : ২ অনুপাতে পুরো ১৫ মিটারকে ৫ ভাগে ভাগ করলে পেরেকটি এক প্রান্ত থেকে ৯ মিটারে আছে। অপর অংশ = ৬ মিটার। ভারসাম্য শর্ত অনুযায়ী টর্ক সমান হবে।

বাঁ দিকের টর্ক = ১০ কেজি × ৯ মিটার = ৯০
ডান দিকের টর্ক = W × ৬ মিটার

W = ৯০ ÷ ৬ = ১৫ কেজি

সঠিক উত্তর: গ) ১৫ কেজি

১৯৯.
একটি থলিতে 3 টি সবুজ এবং 2 টি লাল বল আছে। অপর একটি থলিতে 2 টি সবুজ এবং 5 টি লাল বল আছে। নিরপেক্ষভাবে প্রত্যেক থলি থেকে একটি করে বল তোলা হল। দুইটি বলের মধ্যে অন্তত একটি সবুজ হওয়ার সম্ভাব্যতা কত?
  1. 5/7
  2. 2/7
  3. 5/12
  4. 1/4
সঠিক উত্তর:
5/7
উত্তর
সঠিক উত্তর:
5/7
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি থলিতে 3 টি সবুজ এবং 2 টি লাল বল আছে। অপর একটি থলিতে 2 টি সবুজ এবং 5 টি লাল বল আছে। নিরপেক্ষভাবে প্রত্যেক থলি থেকে একটি করে বল তোলা হল। দুইটি বলের মধ্যে অন্তত একটি সবুজ হওয়ার সম্ভাব্যতা কত?

সমাধান:
প্রথম থলিতে, 3 টি সবুজ বল, 2 টি লাল বল
দ্বিতীয় থলিতে, 2 টি সবুজ বল, 5 টি লাল বল

অন্তত একটি সবুজ হওয়ার সম্ভাব্যতা = 1 - দুইটি বলই লাল
প্রথম থলি থেকে লাল বলের সম্ভাবনা = 2/5
দ্বিতীয় থলি থেকে লাল বলের সম্ভাবনা = 5/7

দুইটি লাল হওয়ার সম্ভাব্যতা = (2/5) × (5/7) = 2/7
অন্তত একটি সবুজ হওয়ার সম্ভাব্যতা = 1 - (2/7) = 5/7

∴ সঠিক উত্তর: ক) 5/7

২০০.
PQR ত্রিভূজের ∠Q =90° এবং ∠P = 2∠R হলে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. PR = 2QR
  2. PQ = 2PR
  3. PR = 2PQ
  4. QR = 2PQ
সঠিক উত্তর:
PR = 2PQ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
PR = 2PQ
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: PQR ত্রিভূজের ∠Q =90° এবং ∠P = 2∠R হলে নিচের কোনটি সঠিক?

সমাধান:
এখানে,
∠Q = 90°
∠P = 2∠R

আমরা জানি,
∠P + ∠Q + ∠R = 180°
∠Q = 90°
⇒ ∠P + ∠R = 90°

∠P = 2∠R
⇒ 2∠R + ∠R = 90°
⇒ ∠R = 30°,

∴ ∠P = 60°
সমকোণ ত্রিভুজে,
PR = অতিভুজ
QR = বিপরীত ∠P,
PQ = বিপরীত ∠R

sin P = QR / PR
→ sin 60° = √3/2
→ QR = (√3/2) PR

sin R = PQ/PR
→ sin 30° = 1/2
→ PQ = (1/2) PR
সুতরাং, PR = 2 PQ