পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৪৬
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৮ রিভিশন পরীক্ষা (পরীক্ষা ১-৭) ক্লাস (১-৫)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৬ প্রশ্ন

.
প্রথম যে সাহাবি বাইআতে রিদওয়ানে বাইয়াত গ্রহণ করেন–
  1. আবু সিনান (রা)
  2. সালমান ফারসি (রা)
  3. সালমা ইবনে আকওয়া (রা)
  4. উমর (রা)
ব্যাখ্যা
সর্বপ্রথম যিনি এই বাইয়াত গ্রহণ করেছিলেন, তিনি ছিলেন হযরত আবু সিনান আসাদী (রা)। তিনি সকলের আগে অগ্রসর হয়ে বলেন: “হে আল্লাহর রাসুল (সঃ)! হাত বাড়িয়ে দিন যাতে আমি বাইয়াত গ্রহণ করতে পারি।” তিনি বললেনঃ “কীসের উপর বাইয়াত গ্রহণ করবে?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “আপনার অন্তরে যা রয়েছে তারই উপর আমি বাইয়াত গ্রহণ করবো।” তাঁর পিতার নাম ছিল অহাব।

সূত্র: তাফসির ইবনে কাসির(সুরা ফাতহের ৮-১০ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)
.
সুরা হুজুরাতে নবি কারিম (সা) এর বিষয়ে কয়টি আদব শিক্ষা দেওয়া হয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
সুরা হুজুরাতে নবি কারিম (সা) এর বিষয়ে  মোট ৩টি আদব শিক্ষা দেওয়া হয়েছে:
আদব-০১: হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রবর্তী হয়ো না এবং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
আদব-০২: হে ঈমানদারগণ, তোমরা নবীর আওয়াজের উপর তোমাদের আওয়াজ উঁচু করো না এবং তোমরা নিজেরা পরস্পর যেমন উচ্চস্বরে কথা বল, তাঁর সাথে সেরকম উচ্চস্বরে কথা বলো না।
আদব-০৩: নিশ্চয় যারা তোমাকে হুজরাসমূহের পিছন থেকে ডাকাডাকি করে তাদের অধিকাংশই বুঝে না।

সূত্র: তাফসির ফাতহুল মাজিদ (সুরা হুজরাত এর ১-৫ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)
.
ইফকের ঘটনায় জড়িত কোন সাহাবিকে হযরত আবু বকর (রা) আর কোন আর্থিক সাহায্য করবেন না বলে ঘোষণা দেন?
  1. মিসতাহ ইবনে আসাসা (রা)
  2. হযরত হিমনাহ (রা)
  3. হযরত হাসসান (রা)
  4. এদের কেউ নয়
ব্যাখ্যা
সুরা নুর এর ২২ নং আয়াত হযরত আবু বকর (রা)-এর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়, যখন তিনি হযরত মিসতাহ ইবনে আসাসা (রা)-এর প্রতি কোন প্রকার অনুগ্রহ ও সাহায্য সহানুভূতি না করার শপথ করেন। কেননা, তিনি হযরত আয়েশা (রা)-এর প্রতি অপবাদ রচনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সম্পর্কে তিনি ছিলেন হযরত আবু বকর (রা) এর খালাত ভাই

সূত্র: তাফসির ইবনে কাসির (সুরা নুর এর ২২ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য) 
.
পবিত্র কুরআনের একটি অংশ অপর অংশের কী হিসেবে নাযিল হয়েছে?
  1. নাসেখ হিসেবে
  2. বিপরীতার্থক হিসেবে
  3. সমার্থক হিসেবে
  4. মানসুখ হিসেবে
ব্যাখ্যা
রাসুলে কারিম (সা) ইরশাদ করেছেন, পবিত্র কুরআনের এক অংশ অপর অংশের  সমার্থক হিসেবে নাযিল হয়েছে।  অথচ, পূর্ববর্তী লোকেরা পবিত্র কুরআনের এক অংশকে অপর অংশের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর কারণে কারণে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।

সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২২০ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)
.
সুফিগণ ‘ইহসান’কে কোন ভিন্ন পরিভাষায় প্রকাশ করে থাকেন?
  1. মারেফাত
  2. হাকিকত
  3. সুফিবাদ
  4. তাসাউফ
ব্যাখ্যা
যারা ধর্ম নিয়ে সাধনা করেন, তারা হলেন সুফি। তারা আধ্যাতিকতার বিষয়টিকে গুরুত্বারোপ করে থাকেন। আত্মশুদ্ধি তাদের মূল আলোচ্য বিষয়। সুফিগণ ইহসানকে তাসাউফ বলে অভিহিত করে থাকেন।

সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইমান এর ০১ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)
.
কাকে ঘরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে না?
  1. যে সংবাদবাহক নিয়ে আসে
  2. যে সংবাদবাহকের সাথে আসে
  3. যে আগে সালাম দেয় না
  4. না-বালক
ব্যাখ্যা
রাসুলে কারিম (সা) ইরশাদ করেছেন, যে প্রথমে সালাম দেয় না, তাকে ঘরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে না।
আর যে সংবাদবাহকের সাথে আসে, তার অনুমতির প্রয়োজন হয় না।

সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল আদাব এর ৪৪৭১ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)
.
খৃষ্টান পাদ্রী বুহায়রার সাথে রাসুলে কারিম (সা) এর কবে সাক্ষাত হয়েছিল?
  1. ৫৯৫ সালে
  2. ৫৭৮ সালে
  3. ৫৮৮ সালে
  4. ৫৮২ সালে
ব্যাখ্যা
হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাল্যকালে ১২ বছর বয়সে ৫৮২ সালে চাচা আবু তালিবের সাথে সিরিয়া সফরের সময় খ্রিস্টান পাদ্রী বুহাইরার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল। বুহাইরা ছিলেন একজন জ্ঞানী ও ধর্মযাজক, যিনি বালক মুহাম্মদের (সা.) মধ্যে নবুওয়াতের চিহ্ন দেখতে পান এবং তাঁকে ইসলামের শেষ নবী হিসেবে চিহ্নিত করেন। কিছু বর্ণনা অনুযায়ী, বুহাইরা বালক মুহাম্মাদকে দেখেই বুঝতে পেরেছিলেন যে, তিনি "শেষ নবী" হবেন। তিনি মুহাম্মাদের পিঠে "নবুয়তের চিহ্ন" দেখেছিলেন, যা তাকে এই ধারণায় পৌঁছে দিয়েছিল। বুহাইরা মুহাম্মাদকে কিছু প্রশ্ন করেছিলেন এবং তার উত্তর শুনে নিশ্চিত হয়েছিলেন যে, তিনি সেই প্রতিশ্রুত নবী। 
.
নবী মুহাম্মদ (সা)-এর মাদানি জীবনের প্রথম মসজিদটি কী নামে পরিচিত?
  1. মসজিদে বনু সালামা
  2. মসজিদে নববি
  3. মসজিদে কিবলাতাইন
  4. মসজিদে কুবা
ব্যাখ্যা
নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর মদিনায় নির্মিত প্রথম মসজিদটি মসজিদে কুবা নামে পরিচিত। এটি ইসলামের ইতিহাসে মুসলমানদের প্রথম স্থাপনাসমূহের মধ্যে অন্যতম। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর নবী (সা.) এখানে কিছু সময় অবস্থানকালে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। 
.
৬ষ্ঠ হিজরিতে উমরাহ প্রতিরোধে কুরাইশরা কার নেতৃত্বে অশ্বারোহী বাহিনী পাঠায়?
  1. আবু সুফিয়ান
  2. খালিদ বিন ওয়ালিদ
  3. আমর ইবনে আস
  4. ইকরামা
ব্যাখ্যা
৬ষ্ঠ হিজরিতে মুসলিমগণ হুদায়বিয়ার প্রান্তরে পৌঁছালে মুসলিম বাহিনীকে প্রতিরোধ করার জন্য মক্কা থেকে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের নেতৃত্বে একটি বাহিনী পাঠানো হয়েছিল। তারা মুসলমানদের ওপর সরাসরি আক্রমণের সাহস পায়নি। তাদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ নামাযরত অবস্থায় মুসলমানদের ওপর আক্রমণের পরিকল্পনা করে। 
১০.
কোন মসজিদে/স্থানে ৭০ জন নবি-রাসুল নামাজ আদায় করেছেন?
  1. মসজিদে কিবলাতাইন
  2. মসজিদে কুবা
  3. মসজিদে খায়েফ
  4. মসজিদে শাজারাহ
ব্যাখ্যা
সৌদি আরবের দক্ষিণ মিনার আল-দিবাআ পর্বতের পাদদেশে মসজিদুল খায়েফে মহানবী (সা.), মুসা (আ.)-সহ ৭০ জন নবী-রাসুল নামাজ আদায় করেছেন। এ জন্য একে নবীদের মসজিদ বলা হয়। মূলত এর নাম মসজিদুল খায়েফ। ইসলামের ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ মসজিদ মিনার দক্ষিণে ছোট জামরার কাছে অবস্থিত। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় অবস্থানকালে এ মসজিদে নামাজ আদায় করতেন।
১১.
حرمة المصاهرة অর্থ কী?
  1. ব্যাভিচারের কারণে নিষিদ্ধ হওয়া
  2. ব্যভিচারীর অনির্ধারিত শাস্তি
  3. ব্যাভিচারের জন্য বেত্রাঘাত করা
  4. ব্যভিচারীর নির্ধারিত শাস্তি
ব্যাখ্যা
"حرمة المصاهرة" শব্দটি "বিবাহ/ব্যভিচারের কারণে হারাম হওয়া" বা "বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে নিষিদ্ধ হওয়া" অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটি ইসলামের একটি পরিভাষা, যা দ্বারা বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে কিছু আত্মীয়ের সাথে বিবাহ হারাম হয়ে যাওয়াকে বোঝায়।
আরও স্পষ্ট করে বললে, حرمة المصاهرة বলতে বোঝায়, বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে কিছু আত্মীয়ের সাথে আজীবন বিবাহ করা হারাম হয়ে যাওয়া। যেমন, স্ত্রীর মা, নাতনী, শাশুড়ি, ইত্যাদি।
​ 
এই হারাম হওয়াটা মূলত দুটি কারণে হয়ে থাকে:
বৈবাহিক সম্পর্ক (عقد الزواج):
যখন কোনো পুরুষ কোনো নারীকে বিয়ে করে, তখন সেই নারীর সাথে তার কিছু আত্মীয়ের (যেমন, স্ত্রীর মা, নাতনী) সাথে তার বিবাহ হারাম হয়ে যায়।
​ 
সহবাস/ব্যভিচার (وطء):
ব্যভিচার/সহবাসের মাধ্যমেও কিছু আত্মীয়ের সাথে বিবাহ হারাম হতে পারে, যেমন, কোন নারীর সাথে সহবাসের কারণে তার মায়ের সাথে বিবাহ হারাম হয়ে যায়, যদিও তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক নাও থাকে। 
সুতরাং, حرمة المصاهرة দ্বারা বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে কিছু আত্মীয়ের সাথে বিবাহ করাকে চিরতরে হারাম করাকে বোঝানো হয়। 
১২.
বেদের ৪টি ভাগের মধ্যে সর্বপ্রাচীন কোনটি?
  1. সামবেদ
  2. ঋগবেদ
  3. যজুর্বেদ
  4. অথর্ববেদ
ব্যাখ্যা
বেদের চারটি ভাগের মধ্যে প্রাচীনতম বেদ হল ঋগ্বেদ। এটি হিন্দুধর্মের প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থ এবং বিশ্বের প্রাচীনতম গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম। 
১৩.
জাবিল ফুরুজ এ নারীর সংখ্যা কত?
  1. ১২
ব্যাখ্যা
জাবিল ফুরুজ বা নির্দিষ্ট অংশীদারদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ৮ জন। ৪ জন পুরুষ এবং ৮ জন মহিলা নিয়ে মোট ১২ জন জাবিল ফুরুজ বা প্রথম শ্রেণীর অংশীদার। এরা হলেন ঐ শ্রেণির ওয়ারিশ যাদের আংশ কুরআন ও হাদিস দ্বারা নির্ধারিত এবং যাদের অংশ দেওয়া ব্যতিত অন্য কারো অংশ দেওয়া যায় না
১৪.
বিষ্ণুর অবতার নন কে?
  1. পরশুরাম
  2. বামন
  3. প্রণব
  4. প্রহ্লাদ
ব্যাখ্যা
বিষ্ণুর ১০ অবতার হলেন মীন, কর্ম, বরাহ, প্রহ্লাদ, বামন, পরশুরাম, রামচন্দ্র, বলরাম, বুদ্ধদেব ও কণ্ঠি অবতার। সুতরাং প্রণব কোন অবতার নন।
১৫.
মাসাবিহ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ওয়ালীউদ্দিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আত তিবরিযি
  2. ইমাম নববি
  3. ইমাম আল বাগাভি
  4. ইমাম ইবনে হুব্বান
ব্যাখ্যা
'মিশকাতুল মাসাবীহ' দুটি গ্রন্থের সংকলন। যার একটি হচ্ছে কিতাবুল মাসাবিহ (এর লেখক ইমাম আল বাগাভী ৪৩৬ হিজরী থেকে ৫১৬) ও অপরটি মিশকাত (লিখেছেনঃ শায়েখ ওয়ালীউদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল খাতীব আল আমরী আত তিবরিযী ৮০০ হিজরীর শেষের দিকে মৃত্যু বরণ করেন)। পরবর্তিতে উভয় গ্রন্থকে একত্রিত করে নাম দেওয়া হয়েছে 'মিশকাতুল মাসাবীহ'।
১৬.
হযরত আলী (রা) বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা কত?
  1. ৫৮৬
  2. ৭৯৮
  3. ৮১৬
  4. ১১৬০
ব্যাখ্যা
হযরত আলি (রাঃ) সর্বমোট ৫৮৬টি হাদিস বর্ননা করেছেন। তিনি ইসলামের ৪র্থ খলিফা ও রাসুলে কারিম (সা) এর জামাতা।  রাসুল (সা) তাকে জ্ঞানের দরজা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
১৭.
নিচের কোন সাহাবি হাদিসের ক্ষেত্রে ‘মুকছিরিন’ এর অন্তর্ভূক্ত নন?
  1. আবু সায়িদ খুদরি (রা)
  2. আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা)
  3. আনাস বিন মালিক (রা)
  4. আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা)
ব্যাখ্যা
হাজারের ঊর্ধ্বে মাত্র সাতজন সাহাবি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যথা: ১. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহ ‘আনহু, হাদিস সংখ্যা: (৫৩৭৪), ২. আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ওমর রাদিয়াল্লাহ ‘আনহু, হাদিস সংখ্যা: (২৬৩০), ৩. আনাস ইব্‌ন মালিক রাদিয়াল্লাহ ‘আনহু, হাদিস সংখ্যা: (২২৮৬), ৪. উম্মুল মুমেনিন আয়েশা রাদিয়াল্লাহ ‘আনহা, হাদিস সংখ্যা: (২২১০), ৫. আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস রাদিয়াল্লাহ ‘আনহু, হাদিস সংখ্যা: (১৬৬০), ৬. জাবের ইব্‌ন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহ ‘আনহু, হাদিস সংখ্যা: (১৫৪০), ৭. আবু সায়িদ খুদরি রাদিয়াল্লাহ ‘আনহু, হাদিস সংখ্যা: (১১৭০)। এদেরকে মুকছিরিন সাহাবি বলা হয়।
১৮.
জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা) বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা কত?
  1. ১১৬০
  2. ২২১০
  3. ২২৭৪
  4. ১৫৪০
ব্যাখ্যা
হাজারের ঊর্ধ্বে মাত্র সাতজন সাহাবি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাদের একজন হলেন জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা)। তার বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা- ১৫৪০। তিনি মুকছিরিন সাহাবির অন্তর্ভূক্ত।
১৯.
২য় সর্বোচ্চ হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি কে?
  1. আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা)
  2. আয়েশা (রা)
  3. আনাস বিন মালিক (রা)
  4. এদের কেউ নন
ব্যাখ্যা
২য় সর্বোচ্চ হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি হলেন- আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ওমর (রা)।

হাজারের ঊর্ধ্বে মাত্র সাতজন সাহাবি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যথা: ১. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহ ‘আনহু, হাদিস সংখ্যা: (৫৩৭৪), ২. আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ওমর রাদিয়াল্লাহ ‘আনহু, হাদিস সংখ্যা: (২৬৩০), ৩. আনাস ইব্‌ন মালিক রাদিয়াল্লাহ ‘আনহু, হাদিস সংখ্যা: (২২৮৬), ৪. উম্মুল মুমেনিন আয়েশা রাদিয়াল্লাহ ‘আনহা, হাদিস সংখ্যা: (২২১০), ৫. আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস রাদিয়াল্লাহ ‘আনহু, হাদিস সংখ্যা: (১৬৬০), ৬. জাবের ইব্‌ন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহ ‘আনহু, হাদিস সংখ্যা: (১৫৪০), ৭. আবু সায়িদ খুদরি রাদিয়াল্লাহ ‘আনহু, হাদিস সংখ্যা: (১১৭০), তাদের উপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন।
২০.
মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থে কতগুলো হাদিস রয়েছে?
  1. ৭২০০
  2. ৫৯৪৫
  3. ৫৩৪৫
  4. ৫৭৪৫
ব্যাখ্যা
মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থে মোট ৫৯৪৫টি হাদিস রয়েছে, যা বিভিন্ন সূত্রে সংকলিত। এই গ্রন্থটি মূলত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত: কিতাবুল মাসাবিহ এবং মিশকাতুল মাসাবিহ, যার মধ্যে মোট ৫৯৪৫টি হাদিস অন্তর্ভুক্ত। 
২১.
নিচের কোনটি মেনে মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থটি সংকলিত হয়েছে?
  1. বুখারির অধ্যায়সমূহের বিন্যাস
  2. আসমাউর রিজাল এর বর্ণভিত্তিক
  3. ফিকহশাস্ত্রের ধারাবাহিকতা
  4. জয়িফ>হাসান>সহিহ
ব্যাখ্যা
মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থটি ফিকহশাস্ত্রের ধারাবাহিকতা মেনে সংকলিত হয়েছে, এটি মূলত হাদীসশাস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য সংকলন, যা আল মাসাবীহ গ্রন্থের একটি পরিশোধিত ও বর্ধিত রূপ এবং হাদীসের বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে হাদীস সংগ্রহ করে তৈরি করা হয়েছে। তবে এটি সুনান গ্রন্থ নয়।
২২.
মিশকাতুল মাসাবিহ একটি — গ্রন্থ।
  1. মুসনাদ
  2. সুনান
  3. সংকলিত
  4. জামে’
ব্যাখ্যা
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদীস শাস্ত্রের একটি সংকলিত গ্রন্থ। এটি মূলত দুটি হাদীস গ্রন্থের সমন্বিত রূপ: ইমাম আল বাগাভী (র.) রচিত 'মাসাবীহুস সুন্নাহ' এবং তার উপর ভিত্তি করে শাইখ ওয়ালীউদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খতীব আত-তিবরীযী কর্তৃক সংযোজিত 'মিশকাত'। এই গ্রন্থটিতে বিভিন্ন হাদীস গ্রন্থ, যেমন সহীহ বুখারী, মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ ইত্যাদি থেকে হাদীস সংকলিত হয়েছে। 
২৩.
মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থের প্রতিটি অধ্যায় কতটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ২টি
ব্যাখ্যা
মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থের প্রতিটি অধ্যায় সাধারণত তিনটি অনুচ্ছেদে (ফাসল) বিভক্ত থাকে, যেখানে প্রথম দুই অনুচ্ছেদে সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের হাদিস এবং তৃতীয় অনুচ্ছেদে অন্যান্য হাদিসগ্রন্থের হাদিস উল্লেখ করা হয়। 
২৪.
মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থে কতটি অধ্যায় আছে?
  1. ২১টি
  2. ৩১টি
  3. ৩২টি
  4. ৫১টি
ব্যাখ্যা
মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থে মোট ৩১টি অধ্যায় রয়েছে। এই গ্রন্থটি মূলত আল মাসাবিহ গ্রন্থের একটি পরিশোধিত ও বর্ধিত রূপ, যেখানে হাদিসের সূত্র ও রাবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। 
২৫.
মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. এখানে কেবল বুখারি ও মুসলিম গ্রন্থের বাছাইকৃত হাদিস সংকলিত হয়েছে
  2. এখানে কেবল সহিহ ও হাসান হাদিস সংকলিত হয়েছে
  3. এখানে কেবল মারফু’ ও মাওকুফ হাদিস সংকলিত হয়েছে
  4. এখানে মারফু, মাওকুফ ও মাকতু হাদিস সংকলিত হয়েছে
ব্যাখ্যা
মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থে মারফু (নবী (সাঃ)-এর সাথে সম্পর্কিত), মাওকুফ (সাহাবিদের সাথে সম্পর্কিত), এবং মাকতু (তাবেয়ীদের সাথে সম্পর্কিত) - এই তিন ধরনের হাদিস সংকলিত হয়েছে। শায়খ ওয়ালীউদ্দিন মুহাম্মাদ আল-খাতীব এই হাদিস গ্রন্থটি বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থ থেকে বিষয়ভিত্তিক হাদিস একত্রিত করে সংকলন করেছেন। 
২৬.
ইলমের তুলনা কেমন বৃষ্টির সাথে করা যায়?
  1. জীবনদায়ী বৃষ্টি
  2. ঝড়ো বৃষ্টি
  3. শ্রাবণের বারিধারা
  4. বন্যার পানি
ব্যাখ্যা
ইলম বা জ্ঞানকে জীবনদায়ী বৃষ্টির সাথে তুলনা করা যায়, যেমনটা সহীহ মুসলিম এবং অন্যান্য হাদিসে বর্ণিত আছে। বৃষ্টি যেভাবে মৃত ও অনুর্বর ভূমিকে সজীব করে তোলে, তেমনি আসমানী ইলম বা ধর্মীয় জ্ঞানও মৃত আত্মাকে সঞ্জীবিত করে তোলে। এই জ্ঞানের মাধ্যমে মানুষের চরিত্র ও নফসের সংশোধন হয় এবং নেক আমল করার তৌফিক লাভ হয়। 
২৭.
হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ কোন প্রকারের রাবি?
  1. মুকছিরুন
  2. মুতাওয়াসসিতুন
  3. মুকিল্লুন
  4. এদের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) ছিলেন মুতাওয়াসসিতুন পর্যায়ের সাহাবি।  তিনি কুরআন শরীফ নাযিলের পদ্ধতি সম্পর্কে পারদর্শী ছিলেন এবং কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাকারীদের একজন হিসেবে পরিচিত। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) মোট ৮৪৮টি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ছিলেন হাদিস বর্ণনাকারীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান একজন সাহাবি। 
২৮.
সুনান গ্রন্থের অধ্যায় বিন্যাস হয়-
  1. উসুলে ফিকহ পদ্ধতিতে
  2. জামে’ পদ্ধতিতে
  3. রাবিদের বর্ণানুক্রমে
  4. ফিকহি পদ্ধতিতে
ব্যাখ্যা
সুনান গ্রন্থের অধ্যায়গুলো ফিকহী বা বিষয়ভিত্তিক রীতিতে বিন্যস্ত হয়, যেখানে পবিত্রতা, সালাত (নামাজ), সিয়াম (রোজা), যাকাত ইত্যাদি ফিকহী বিষয়ের উপর ভিত্তি করে অধ্যায়গুলো সাজানো থাকে। এই ধরনের গ্রন্থকে 'সুনান' বলা হয় এবং এর মধ্যে সুনান আবু দাউদ, সুনান নাসাঈ, ও সুনান ইবন মাজা উল্লেখযোগ্য।
২৯.
আউস ও খাজরাজ গোত্রের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধ কোনটি?
  1. বদর
  2. উহুদ
  3. মুস্তালিক
  4. বুয়াস
ব্যাখ্যা
আউস ও খাজরাজ গোত্রদ্বয়ের মধ্যে মদিনায় বেশ কয়েকটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ ছিল ইয়াওম আল-বুয়াস (Battle of Bu'ath), যা ইসলাম আবির্ভাবের আগে ঘটেছিল। এই যুদ্ধগুলো তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের শত্রুতা ও কলহের কারণ ছিল, যা মদিনাকে রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল করে তুলেছিল। এই গোত্র দুটি ইয়েমেন থেকে মদিনা বা ইয়াসরিব-এ এসে বসতি স্থাপন করে এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রাধান্য নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। 
৩০.
উকায মেলা সাধারণত কত তারিখে শুরু হতো?
  1. ২ জিলহজ
  2. ৫ মুহাররম
  3. ১ জিলকদ
  4. ৭ সফর
ব্যাখ্যা
উকায মেলা সাধারণত জিলকদ মাসের প্রথম তারিখে অনুষ্ঠিত হতো, । যা প্রাক-ইসলামী যুগে একটি মাসব্যাপী আয়োজন ছিল। মক্কার কাছাকাছি নাখলা ও তায়েফের মধ্যবর্তী উকায নামক স্থানে এই মেলা বসতো এবং এটি ছিল কবি ও সাহিত্যিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনক্ষেত্র।
৩১.
জন্মের পর রাসুল (সা) কতদিন আমিনার দুধ পান করেন?
  1. ৭ দিন
  2. ১৩ দিন
  3. ১৪ দিন
  4. ২১ দিন
ব্যাখ্যা
জন্মের পর রাসুল (সা.) সাত দিন আমিনার দুধ পান করেন। এরপর স্বামীর শোক ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণে আমিনার বুকে দুধের স্বল্পতা দেখা দিলে আবু লাহাবের দাসী সুয়াইবাহ একদিন বা সাত দিন (তথ্যসূত্রভেদে ভিন্নতা আছে) দুধ পান করান। এরপরই মূলত হালিমা সাদিয়ার কাছে তাকে লালন-পালনের জন্য দেওয়া হয়।
৩২.
‘আহমাদ’ শব্দটি পবিত্র কুরআনে কতবার আছে?
ব্যাখ্যা
পবিত্র কুরআনে 'আহমাদ' শব্দটি একবার উল্লেখ করা হয়েছে, যা সুরা আছ-ছফ (৬১)-এর ৬ নম্বর আয়াতে পাওয়া যায়। এটি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি নামের একটি রূপ, যার অর্থ অত্যন্ত প্রশংসিত বা যিনি আল্লাহর প্রশংসা করেন। 
৩৩.
পৃথিবীর প্রথম শান্তি সংঘ কোনটি?
  1. জাতিপুঞ্জ
  2. জাতিসংঘ
  3. হিলফুল ফুজুল
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর প্রথম শান্তি সংঘ হলো হিলফুল ফুজুল (حلف الفضول)। এটি ছিল মক্কার একটি কল্যাণ ও শান্তিভিত্তিক সংগঠন, যা নবী মুহাম্মাদ (সা.) ১৭ বছর বয়সে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং এটি সম্মিলিতভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করত, বিশেষ করে যারা কোনো নির্দিষ্ট বংশ বা গোষ্ঠীর সুরক্ষার অধীনে ছিল না। 
৩৪.
খাদিজা (রা) এর সাথে রাসুলের (সা) বিবাহের মোহর ছিল কত?
  1. ৪০০ দিরহাম
  2. ৫০০ দিরহাম
  3. ৬০০ দিরহাম
  4. ৩০০০ দিরহাম
ব্যাখ্যা
রাসুল (সা.)-এর অধিকাংশ স্ত্রী ও কন্যাদের মোহর ছিল ৫০০ দিরহাম, তবে উম্মে হাবিবাহ (রা.)-এর মোহর এর চেয়ে বেশি ছিল। অন্য একটি বর্ণনা মতে  রাসুল (সা.) হযরত খাদিজা (রা.)-এর সাথে বিবাহের সময় বিশটি উট মোহরানা হিসেবে দিয়েছিলেন। 
৩৫.
রাসুল (সা) এর পালক পিতার নাম কী ছিল?
  1. আব্দুল্লাহ
  2. আবদুল মুত্তালিব
  3. হারিস ইবনে আবদুল উজ্জা
  4. জায়েদ ইবনে হারেসা
ব্যাখ্যা
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পালক পিতা হলেন হালিমা আস-সাদিয়ার স্বামী হারিস ইবনে আবদুল উজ্জা।  তিনি ছিলেন হাওয়াযিন গোত্রের অধিবাসী।
৩৬.
কৃতদাসের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন কে?
  1. হযরত জায়েদ ইবন হারিসা (রা)
  2. হযরত বিলাল (রা)
  3. হযরত আম্মার বিন ইয়াসির (রা)
  4. হযরত সুমাইয়া (রা)
ব্যাখ্যা
প্রথম যে মুক্তিপ্রাপ্ত বা কৃতদাস ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তিনি হলেন হযরত জায়েদ ইবন হারিসা (রা.)। তিনি ছিলেন রাসুল (সা.)-এর মুক্তি পাওয়া দাস এবং পরে তাঁর পোষ্যপুত্র হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন। 
৩৭.
উম্মে জামিলা কার স্ত্রী ছিলেন?
  1. আবু লাহাব
  2. আবু সুফিয়ান
  3. ইকরিমা
  4. মুসায়লামা
ব্যাখ্যা
আরওয়া বিনতে হারব ( আরবি : أروى بنت حرب ), যিনি উম্মে জামিলা ( আরবি : أم جميل ) নামে বেশি পরিচিত , তিনি ছিলেন নবী মুহাম্মদের (সা) একজন খালা , যার নাম কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে । তিনি ছিলেন আবু লাহাবের স্ত্রী এবং আবু সুফিয়ানের বোন। আরওয়াকে সাধারণত ইসলাম এবং নবির বিরোধিতা করার জন্য এবং একটি কবিতার জন্য স্মরণ করা হয়।
৩৮.
নিচের কোন মহিলা মিথ্যা নবুওয়াতের দাবি করেছিল?
  1. হান্না বিনতে ফাকুজ
  2. সাজাহ
  3. আতিয়া
  4. উম্মে জামিলা
ব্যাখ্যা
ইসলামী ঐতিহাসিক সূত্রমতে, সাজাহ বিনতে আল-হারিস (সাজাহ আল-ইয়ামামাহ নামেও পরিচিত) ছিলেন একজন মহিলা, যিনি মিথ্যা নবুওয়াতের দাবি করেছিলেন। তিনি ইয়ামামাহ অঞ্চলের একজন প্রভাবশালী নেত্রী ছিলেন এবং মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর জীবদ্দশাতেই তিনি নবুওয়াতের দাবি করেন।
৩৯.
কোন হিজরিকে ‘সানাতুল উফুদ’ বলে অভিহিত করা হয়?
  1. ৭ম হিজরি
  2. ৮ম হিজরি
  3. ৯ম হিজরি
  4. ১২তম হিজরি
ব্যাখ্যা
"সানাতুল উফুদ" বা প্রতিনিধি প্রেরণের বছর বলতে সেই বছরকে বোঝানো হয়, যখন মক্কা বিজয়ের পর বিভিন্ন আরব গোত্রের প্রতিনিধি দল মহানবি (সা.)-এর কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ করে এবং তাঁর প্রতি আনুগত্যের ঘোষণা দেয়, যার ফলে বছরটি 'প্রতিনিধিদের বছর' নামে পরিচিতি লাভ করে। এটি ছিল ৯ম হিজরি।
৪০.
সাইয়েদুল আনসার বলা হয় কাকে?
  1. আনাস ইবনে মালিক (রা)
  2. আবু আইয়ুব আনসারী (রা)
  3. সাইদ ইবনে মুয়াজ (রা)
  4. সাদ ইবনে মুয়াজ (রা)
ব্যাখ্যা
সাদ ইবনে মুয়াজ (রা) (আওস গোত্রের) আনসারদের নেতা ছিলেন। বদর, উহুদ এবং খন্দকের যুদ্ধে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আনসার (الأنصار) শব্দের অর্থ হলো "সাহায্যকারী" বা "যারা বিজয় এনেছে"। তারা মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করা মুসলমানদের (মুহাজির) আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং তাদের সাহায্য করেছিলেন।
৪১.
স্বামী একবার তালাক উচ্চারণ করে ইদ্দতের মধ্যে পুনরায় স্ত্রীকে গ্রহণ করলে একে কী বলা হয়?
  1. তালাকে বায়েন
  2. তালাকে বিদঈ
  3. তালাকে মুগাল্লাযাহ
  4. তালাকে রাজয়ি
ব্যাখ্যা
স্বামী একবার তালাক উচ্চারণ করে ইদ্দতের (আইনগতভাবে নির্ধারিত একটি সময়কাল, সাধারণত তিন মাস) মধ্যে স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণ করলে একে তালাকে রজয়ী (তালাক-ই-রেজায়ি) বলা হয়। এই ধরনের তালাকের মাধ্যমে বৈবাহিক সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয় না এবং ইদ্দত শেষ হওয়ার আগে স্বামী চাইলে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারে, যার জন্য নতুন কোনো বিয়ে বা 'হাললা'র প্রয়োজন হয় না। 
৪২.
মিরাসের ক্ষেত্রে মায়ের অংশ ১/৩ হয় কোন অবস্থায়?
  1. মৃতের সন্তান থাকলে
  2. মৃতের স্ত্রী থাকলে
  3. মৃতের এক কন্যা থাকলে
  4. মৃতের সন্তান ও ভাইবোন না থাকলে
ব্যাখ্যা
মুসলিম আইনে, যখন একজন মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান-সন্ততি (পুত্র বা কন্যা) এবং পিতা-মাতা, দাদা-দাদী বা নানী-নানা জীবিত থাকে না, তখন মৃত ব্যক্তির মা তাঁর স্বামীর অংশ (যদি থাকে) দেওয়ার পর বাকি সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) পান। 
৪৩.
দুধপান করার ফলে বিবাহ হারাম হওয়ার শর্ত কী?
  1. যেকোন বয়সে দুধপান করা
  2. ২ বার দুধপান করা
  3. দুধপানের বয়সে দুধপান করা
  4. জন্মের প্রথম ৪০ দিনে দুধপান করা
ব্যাখ্যা
কোন নারী অন্য কোন সন্তানকে তার দুই বছর বয়সের মধ্যে দুধ পান করালেই কেবল দুধমাতা সাব্যস্ত হবে (সহিহ মুসলিম, ২/১০৭৬ পৃ., হা/১৪৫৩-এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)। এজন্য শর্ত হল, সর্বনিম্ন পাঁচবার দুধ পান করাতে হবে। অর্থাৎ বাচ্চা স্তনে মুখ লাগানোর পর থেকে মুখ না সরানো পর্যন্ত একবার হিসাবেই গণ্য হবে। এভাবে পাঁচবার দুধপান করালে দুধমাতা সাব্যস্ত হবে। তার চেয়ে কম হলে দুধমাতা সাব্যস্ত হবে না (সহিহ ইবনু হিব্বান, হা/৪২২২; সুনানে সুগরা, বায়হাক্বী, হা/২৮৫৫; শারহুস সুন্নাহ, বাগাভী, হা/২২৮৩, সনদ ছহীহ)।
৪৪.
‘হুবলা’ শব্দের অর্থ কী?
  1. গর্ভবতী
  2. তালাকপ্রাপ্তা
  3. বিধবা
  4. দাসী
ব্যাখ্যা
‘হুবলা’ একটি আরবি শব্দ। এ  শব্দের অর্থ- গর্ভবতী। এছাড়া তালাকপ্রাপ্তা এর আরবি প্রতিশব্দ- মুতাল্লাকাতুন। 
৪৫.
ফারায়েজ শিক্ষা করা কী?
  1. ওয়াজিব
  2. সুন্নাত
  3. ফরজ
  4. ফরজে কেফায়া
ব্যাখ্যা
ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) শিক্ষা করা ফরজে কিফায়া। এর অর্থ হলো, এই জ্ঞান সমাজের কিছু সংখ্যক মুসলিমের মধ্যে থাকলে, সকলের পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যায় এবং সমাজের সবার উপর থেকে এর বাধ্যবাধকতা রহিত হয়। কিন্তু যদি সমাজের কেউ এই জ্ঞান অর্জন না করে, তবে যারা জ্ঞান অর্জন করেনি, তারা সবাই গুনাহগার হবে।
৪৬.
একজন ব্যক্তি রাগের বশে স্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলে— “তুমি আমার জন্য হারাম”। ইসলামী ফিকহে এটি কোন প্রকার তালাকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. তালাকে আহসান
  2. তালাকে বিদঈ
  3. তালাকে সরিহ
  4. তালাকে কেনায়াহ
ব্যাখ্যা
অস্পষ্ট শব্দাবলির মাধ্যমে যে তালাক দেওয়া হয়, তাকে কিনায়াহ তালাক বলে। এছাড়া স্পষ্ট শব্দাবলির মাধ্যমে যে তালাক দেওয়া হয়, তাকে তালাকে সরিহ বলে। সুতরাং উপরোক্ত পদ্ধতিটি তালাকে কিনায়াহ হবে।