পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৪
সিলেবাস
বাংলাদেশের ইতিহাস: ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৯। সোর্স: যেকোনো গাইড বই, ষষ্ঠ থেকে SSC & HSC বোর্ড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৪ প্রশ্ন

.
১৯৪৭ সালে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব করেন -
  1. ক) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
  2. খ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
  3. গ) আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
  4. ঘ) করাচী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৭ সালে হিন্দীকে ভারতের রাষ্ট্র ভাষা করার সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য জিয়াউদ্দিন আহমদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
-  এর প্রতিবাদে ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সমস্যা' শীর্ষক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছিলেন, ‘বাংলাদেশের কোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষার পরিবর্তে উর্দু ভাষা গ্রহণ করা হইলে উহা রাজনৈতিক পরাধীনতারই নামান্তর হইবে'। 
 
উৎস: এসএসএইচএল প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
.
কাগমারি সম্মেলনের মূল আলোচ্যসূচি ছিল কোনটি?
  1. ক) পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন
  2. খ) ক ও গ
  3. গ) জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- কাগমারি সম্মেলন টাঙ্গাইল জেলার কাগমারিতে ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন ও সাংস্কৃতিক সম্মেলন।
-  ৭ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিল অধিবেশনে মূল আলোচ্যসূচি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এবং জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি। 
- কিন্তু সিয়াটো ও সেন্টোর সামরিক চুক্তির প্রতি আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী  হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করলে সম্মেলনে মতবিরোধের সৃষ্টি হয়। 
- ১৯৫৪ সালে  যুক্তফ্রণ্ট নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোর একুশ দফা প্রতিশ্রুতির অন্যতম ছিল জোটনিরপেক্ষ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি। 
- সোহরাওয়ার্দীর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বক্তব্য আওয়ামী লীগের বামপন্থি নেতৃবৃন্দ সমর্থন করেন নি। 
- এঁদের পুরোধা ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি (সম্মেলনেরও সভাপতি) মওলানা  আবদুল হামিদ খান ভাসানী। 
- আওয়ামী লীগের আইনসভার সদস্য ও নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কাউন্সিল অধিবেশনে মওলানা ভাসানী সোহরাওয়ার্দীর অনুসৃত সামরিক জোটের সমালোচনা করেন। 
- ওই ভাষণে মওলানা প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেন।
-  সোহরাওয়ার্দী সামরিক জোটের পক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করেন। তিনি পাকিস্তান স্বাক্ষরিত সামরিক চুক্তি এবং কেন্দ্র কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানে আরোপিত অর্থনৈতিক নীতিমালার পক্ষেও রায় দেন।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
.
ছয় দফার কোন দফায় লাহোর প্রস্তাবকে ভিত্তি করা হয়েছে?
  1. ক) ২য় দফা
  2. খ) ১ম দফা
  3. গ) ৩য় দফা
  4. ঘ) ৫ম দফা
ব্যাখ্যা

ছয় দফা কর্মসূচি
পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠী কর্তৃক পূর্ব বাংলাকে শোষণের বিরুদ্ধে ছয় দফা কর্মসূচি ছিল তীব্র প্রতিবাদ আর বাঙালির অধিকার আদায়ের সনদ বা মুক্তিসনদ । ছয় দফা কর্মসূচি ছিল নিম্নরূপ :
১ম দফা : লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানের জন্য সত্যিকার অর্থে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হবে । সরকার হবে সংসদীয় পদ্ধতির । সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সকল প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটে জাতীয় ও প্রাদেশিক আইনসভাগুলো গঠিত হবে ।
২য় দফা : যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের হাতে থাকবে দেশরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয়। অবশিষ্ট সকল বিষয় প্রদেশের হাতে থাকবে ।
৩য় দফা : দেশের দুই অঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু থাকবে অথবা দেশের দুই অঞ্চলের জন্য একই মুদ্রা থাকবে। তবে সংবিধানে এমন ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে এক অঞ্চলের মুদ্রা ও মূলধন অন্য অঞ্চলে পাচার হতে না পারে।
৪র্থ দফা : সকল প্রকার ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে তবে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নির্বাহের জন্য আদায় কৃত অর্থের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকার পাবে ।
৫ম দফা : বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার উপর প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা থাকবে। সকল প্রকার বৈদেশিক চুক্তি ও সহযোগিতার ব্যাপারে প্রাদেশিক সরকার দায়িত্ব পালন করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা যুক্তিযুক্ত হারে উভয় সরকার কর্তৃক মেটানো হবে।
৬ষ্ঠ দফা : আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য আঞ্চলিক সরকারগুলো স্বীয় কর্তৃত্বাধীন আধা সামরিক বাহিনী (প্যারা মিলিশিয়া) গঠন ও পরিচালনা করতে পারবে ।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
১৯৬৯ সালে নিম্নের কোন সংঘঠন ১১দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে?
  1. ক) সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদ
  2. খ) সম্মিলিত রাজনৈতিক দল
  3. গ) ছাত্র সংগ্রাম কমিটি
  4. ঘ) সম্মিলিত বিরোধী জোট
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ), পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া গ্রুপ)-এর নেতৃবৃন্দ ‘ছাত্র সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করে এবং তাদের ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
-  ১১ দফার মধ্যে ১৯৬৬ সালে  শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন সম্পর্কিত ৬ দফার সাথে ছাত্র সমস্যাকেন্দ্রিক দাবি দাওয়ার পাশাপাশি কৃষক ও শ্রমিকদের স্বার্থ সংক্রান্ত দাবিসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 
- বস্ত্তত ১১ দফা কর্মসূচীর মাধ্যমে ছাত্র নেতৃবৃন্দ যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তা ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী দলগুলোর মধ্যে একটি আন্দোলনগত ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- তাছাড়া এসময় থেকেই শেখ মুজিবের মুক্তি ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি প্রাধান্য পেতে শুরু করে। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-সহ ছাত্র সংগ্রাম কমিটির পূর্ব বাংলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ঊনসত্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া 
.
কয়টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে DAC(Democratic Action Committee) গঠিত হয়?
  1. ক) ৮টি
  2. খ) ৭টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৯টি
ব্যাখ্যা

- দেশ বিভাগের পর থেকে রাজনৈতিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাঙালিরা দারুণ বৈষম্যের শিকার হয়।
- বাঙালির মনে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভের সঞ্চার হতে থাকে।
- এটিতে জ্বালানীর কাজ করে ছয়দফা ভিত্তিক আন্দোলন এবং প্রহসনমূলক আগরতলা মামলা।
- উল্লেখ্য যে আগরতলা মামলার আসামিদের মুক্তির আন্দোলন এক পর্যায় আইয়ূব খান সরকারের উৎখাত আন্দোলনে রূপ নেয়।
- বাঙালির এই আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে পূর্ব পাকিস্তানের ৮ টি বিরোধী রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে ‘গণতান্ত্রিক সংগ্রাম কমিটি' (Democratic Action Committee) সংক্ষেপে DAC নামে একটি ঐক্যজোট গঠন করা হয়।
- পরবর্তীতে ছাত্রদের এগারো দফা আন্দোলন এটির সাথে একাত্ম হলে আন্দোলন দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলে ।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, ওপেন স্কুল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
১৯৫৬-৫৮ সাল মেয়াদে কার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক পরিষদে ক্ষমতাসীন ছিল?
  1. ক) মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. খ) শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) আতাউর রহমান খান
  4. ঘ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
- পাকিস্তানি শাসনামলের ২৪ বছরের মধ্যে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক ক্ষমতায় ছিল মাত্র ২ বছর (১৯৫৬-৫৮) এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে কোয়ালিশন সরকার হিসেবে কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল মাত্র ১৩ মাস (১২ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬- ১১ অক্টোবর ১৯৫৭)। 

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
.
১৯৬২ সালের পাকিস্তান সংবিধানে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য জাতীয় পরিষদে আসন বরাদ্ধ ছিল -
  1. ক) ১৫০টি
  2. খ) ৯০টি
  3. গ) ৭৫টি
  4. ঘ) ১২০টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৬২ সালের সংবিধান এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তন করে। 
- জাতীয় পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ১৫৬ জন (পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ৭৫ জন করে। ৬টি মহিলা আসন সংরক্ষিত ছিল।)
- প্রাদেশিক আইন পরিষদের সদস্য সংখ্যা ছিল ১৫০ এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন ৫টি । 
- মৌলিক গণতন্ত্রীদের ভোটে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হতেন। জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের কোনো ক্ষমতা ছিল না।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
আগরতলা মামলায় আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী কে?
  1. ক) টমাস ফেডারিক
  2. খ) টমাস উইলিয়াম
  3. গ) টমাস চার্লস
  4. ঘ) খ ও গ উভয়
ব্যাখ্যা

- মামলা পরিচালনা করার জন্য সরকার ১৯৬৮ সালের ১২ এপ্রিল আইন ও বিচার পদ্ধতি সংক্রান্ত একটি ফৌজদারী অধ্যাদেশ জারি করে। 
- অধ্যাদেশ নং ৫-১৯৬৮ অনুয়ায়ী বিচারকার্য সুচারুরূপে সম্পূর্ণ করার জন্য সাবেক প্রধান বিচারপতি এস এ রহমানকে চেয়ারম্যান এবং বিচারপতি এম আর খান ও বিচারপতি মকসুমুল হাকিম এর সমন্বয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি ট্রাইবুনাল গঠন করা ।
- এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিখ্যাত আইনজীবী মঞ্জুর কাদের।

- অপরদিকে আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য একটি ‘ডিফেন্স কমিটি' গঠন করা হয়।
- এই কমিটিতে ছিলেন ড. আলীম আল রাজী, মওদুদ আহমেদ, আতাউর রহমান খান, আবদুস সালাম খান, খান বাহাদুর ইসলাম, খান বাহাদুর নাজিরুদ্দিন, জহিরুদ্দিন, জুলমত আলী খান ও মোল্লা জালাল উদ্দিন প্রমূখ এবং নেতৃত্ব দেন ইংল্যান্ডের রাণীর আইন বিষয়ক উপদেষ্টা বিখ্যাত ব্রিটিশ আইনজীবী টমাস উইলিয়াম।
- মামলার অভিযোগ সম্পর্কে শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকলেই লিখিত ও মৌখিকভাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। 
- শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে উচ্চ কণ্ঠে বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের দাবি দাওয়া ধামাচাপা দেওয়ার জন্য অর্থাৎ জনগণের এবং সারা বিশ্বের দৃষ্টি অন্য দিকে ঘোরাতে এই মামলা নাটকের উদ্ভব ঘটানো হয়েছিল।
- মামলায় প্রায় আড়াই শতাধিক ব্যক্তির নিকট থেকে সাজানো সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
- সরকারের কঠোর নীতি গ্রহণের জন্য অনেকেই সাক্ষী হতে বাধ্য হলেও তারা আদালতে এসে বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য আসামিদের বিপক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করে। ফলে বিচারকার্যে সরকারের আশানুরূপ অগ্রগতি ব্যাহত হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, ওপেন স্কুল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
প্রথম যে শহীদ মিনার নির্মিত হয় তার পরিকল্পনা করেন -
  1. ক) হামিদুর রহমান
  2. খ) কামরুল হাসান
  3. গ) মোর্তজা বশির
  4. ঘ) ড. সাঈদ হায়দার
ব্যাখ্যা
- বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারির রক্তাক্ত প্রহরের দুই দিন পর ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তৈরি করেন প্রথম শহীদ মিনার। 
- সাঈদ হায়দার ছিলেন ওই শহীদ মিনারের নকশাকার।
- ১৯৫২ সালের ২৪ তারিখে ডা. সাঈদ হায়দারের নকশা অনুসারে মেডিকেল কলেজের গেইটের সামনে শহীদ মিনার উদ্বোধন করা হয়।
- ২৬ তারিখে পুলিশ শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে। 
- ভাষা সংগ্রামে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সরকার সাঈদ হায়দারকে ২০১৬ সালে একুশে পদকে ভূষিত করে। 
- সাঈদ হায়দার ১৯২৫ সালে পাবনায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং ১৯৫৮ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক হেলথে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা নেন।
- ভাষাসংগ্রামী ও শহীদ মিনারের অন্যতম এই উদ্যোক্তা ২০২০ সালে মারা যান। 
 
উৎস: প্রথম আলো, ইতিহাস, এসএইচএল প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
কোয়ালিশন মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন -
  1. ক) কৃষি
  2. খ) শিক্ষা
  3. গ) শিল্প
  4. ঘ) স্বাস্থ্য
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ব পাকিস্তানে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে কোয়ালিশন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।
- বঙ্গবন্ধু ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬ এই মন্ত্রিসভায় শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন।
- কিন্তু ১৯৫৭ সালের ৩০ মে দলীয় কাজে মনোনিবেশের জন্যে স্বেচ্ছায় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।
- ফজলুল হক নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু কৃষি ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং অসমাপ্ত আত্মজীবনী)
১১.
১৯৫৫ সালে শেখ মুজিবের প্রকাশিত প্রচার পুস্তিকার নাম -
  1. ক) সোনার বাংলা শশ্মান কেন?
  2. খ) পাকিস্তান সৃষ্টির যৌক্তিকতা
  3. গ) ছয়দফা- আমাদের বাঁচার দাবী
  4. ঘ) কেন পূর্ববঙ্গের অটনমি চাই
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৫ সালে কেন্দ্রীয় গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- শেখ মুজিব এ সময় ‘কেন পূর্ববঙ্গের অটনমি চাই' শীর্ষক এক পুস্তিকা আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে প্রকাশ করে পূর্ব বাংলার উপর উপনিবেশিক শোষণ ও পশ্চিম পাকিস্তানের বাজারে পরিণত করার প্রক্রিয়া সম্বন্ধে জনগণকে সচেতন করতে শুর করেন। 
- আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে তিনি ১৯৫৫ সালের অক্টোবরে দলের নাম হতে ‘মুসলিম' কথাটি বাদ দেওয়ার প্রস্তাব আনলে প্রায় সর্বসম্মতভাবে তা গৃহীত হয়।
 
উৎস: সিভিক এডিকশন -২, এসএসএইচএল প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১২.
'আওয়ামী মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠিত হয় -
  1. ক) ২৫ জুন, ১৯৪৯
  2. খ) ২৩ জুন, ১৯৪৯
  3. গ) ২১ জুন, ১৯৪৯
  4. ঘ) ২৭ জুন, ১৯৪৯
ব্যাখ্যা
- ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজগার্ডেনে এক কর্মী সম্মেলনে পূর্ব বাংলার বাঙালি প্রগতিশীল নেতা ও কর্মী ঢাকায় মিলিত হয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন 'আওয়ামী মুসলিম লীগ' গঠন করেন।
- নবগঠিত এই দলের সভাপতি নির্বাচিত হন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক।
- যুগ্ম সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান।
- ১৯৫৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দলটির নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।

উৎসঃ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।
১৩.
বঙ্গবন্ধু রচিত 'কারাগারের রোজনামচা' বইতে কোন সময়ের বর্ণনা রয়েছে?
  1. ক) ১৯৫৩ - ১৯৫৫
  2. খ) ১৯৬২ - ১৯৬৪
  3. গ) ১৯৫৯-১৯৬১
  4. ঘ) ১৯৬৬ - ১৯৬৮
ব্যাখ্যা
- কারাগারের রোজনামচা হলো বঙ্গবন্ধু রচিত দ্বিতীয় প্রকাশিত বই।
- বাংলা একাডেমি ২০১৭ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বইটি প্রকাশ করে।
- এটির ভূমিকা লেখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু কারান্তরীন থাকালীকান তার জেল জীবনের ডায়েরিকে ‘কারাগারের রোজনামচা’ নামে বই আকারে প্রকাশ করা হয়।
 
১৯৬৬ সালে ৬ দফা দেবার পর বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা গ্রেফতার হন । ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত বন্দি থাকেন। সেই সময়ে কারাগারে প্রতিদিনের ডায়েরি লেখা শুরু করেন। ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত লেখাগুলি এই বইয়ে প্রকাশ করা হয়েছে।বইটির ইংরেজি অনুবাদ করেন অধ্যাপক ড. ফকরুল আলম।

(তথ্যসূত্র: কারাগারের রোজনামচা)
১৪.
শেখ মুজিবুর রহমান 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত হন কত তারিখে?
  1. ক) ৭ জুন, ১৯৬৯
  2. খ) ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯
  3. গ) ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯
  4. ঘ) ৩ মার্চ, ১৯৭০
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রদত্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তোফায়েল আহমদ তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৭১ সালের ৩রা মার্চ পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির জনক’ অভিধায় ভূষিত করা হয়।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)