পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৪৪
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১১: আইন বিষয়াবলী - (সাবজেক্ট ফাইনাল) Topic: Laws related to Criminal matters.
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৪ প্রশ্ন

.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে "ভৌত বা ফরেনসিক সাক্ষ্য" এর মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. রক্ত, বীর্য, চুল
  2. ডিএনএ, আঙুলের ছাপ
  3. ডিজিটাল ভার্সাটাইল ডিস্ক
  4. আইরিস ইমপ্রেশন, পায়ের ছাপ
সঠিক উত্তর:
ডিজিটাল ভার্সাটাইল ডিস্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিজিটাল ভার্সাটাইল ডিস্ক
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩ অনুসারে, "ভৌত বা ফরেনসিক সাক্ষ্য" (Physical or Forensic Evidence) বলতে এমন উপাদান বা বস্তু বোঝায় যা রক্ত, বীর্য, চুল, ডিএনএ, আঙুলের ছাপ, পায়ের ছাপ, আইরিস ইমপ্রেশন, শরীরের উপাদান, অঙ্গ বা অঙ্গের অংশ ইত্যাদি, যা কোনো অপরাধের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে বা কোনো তথ্য প্রমাণ বা অপ্রমাণ করে।
- ডিজিটাল ভার্সাটাইল ডিস্ক (ডিভিডি) একটি ডিজিটাল রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়, যা ধারা ৩-এর অধীনে "দলিলি সাক্ষ্য" (Documentary Evidence) হিসেবে গণ্য, কিন্তু ভৌত বা ফরেনসিক সাক্ষ্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।

- অন্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
ক) রক্ত, বীর্য, চুল: এগুলো ফরেনসিক সাক্ষ্যের অংশ, কারণ এগুলো অপরাধের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে।
খ) ডিএনএ, আঙুলের ছাপ: এগুলো ফরেনসিক সাক্ষ্যের সুস্পষ্ট উদাহরণ।
ঘ) আইরিস ইমপ্রেশন, পায়ের ছাপ: এগুলোও ফরেনসিক সাক্ষ্যের অংশ, কারণ এগুলো অপরাধী বা অপরাধের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারে।
---------
⇒ The Evidence Act,1872, Section-3(3) all materials or objects relating to blood, semen, hair, all body material, organ or part of organ, Deoxyribo Nucleic Acid (DNA), finger impression, palm impression, iris impression and foot print or any other similar material or object which may- (i) establish that an offence has been committed or establish a link or relation between an offence and its victim or an offence and its offender; and
(ii) prove or disprove a fact:
such materials or objects are called physical or forensic evidence.]

⇒ [“Digital record" or “electronic record” means any record, data or information generated, prepared, sent, received or stored in magnetic or electro-magnetic, optical, computer memory, micro film, computer generated micro fiche including audio, video, Digital Versatile Disc or Digital Video Disc (DVD), records of Closed Circuit Television (CCTV), drone data, records from cell phone, hardware, software or any other digital device as defined in Digital Security Act, 2018 (Act No. 46 of 2018)]

.
‘E’ একটি পরিবহনকারী হিসেবে ‘Z’-এর সম্পত্তি বহনের জন্য অর্পিত হয় এবং সেই সম্পত্তি অসাধুভাবে আত্মসাৎ করে। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর বিধান অনুসারে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  4. ১০ বছরের কারাদণ্ড
সঠিক উত্তর:
৭ বছরের কারাদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪০৫ অনুসারে, কোনো ব্যক্তি যিনি সম্পত্তি বা সম্পত্তির উপর নিয়ন্ত্রণের জন্য অর্পিত হয়েছেন, সেই সম্পত্তি অসাধুভাবে আত্মসাৎ করলে বা নিজের ব্যবহারে রূপান্তর করলে তা অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ (Criminal Breach of Trust) হিসেবে গণ্য। এখানে, ‘E’ একজন পরিবহনকারী হিসেবে ‘Z’-এর সম্পত্তি বহনের জন্য অর্পিত ছিলেন এবং তা অসাধুভাবে আত্মসাৎ করেছেন, যা ধারা ৪০৫-এর অধীনে অপরাধ। ধারা ৪০৭ অনুসারে, পরিবহনকারী হিসেবে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের শাস্তি হলো ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা। সুতরাং, অপরাধের নাম অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছরের কারাদণ্ড।
সুতরাং, ‘E’-এর অপরাধের জন্য ধারা ৪০৭ অনুসারে অপরাধের নাম অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছরের কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৪০৭: পরিবহনকারী, গুদামদার ইত্যাদির দ্বারা বিশ্বাসভঙ্গ-
যে কেউ, যিনি পরিবহনকারী (carrier), ঘাটের মালিক বা তত্ত্বাবধায়ক (wharfinger), অথবা গুদামদার (warehouse-keeper) হিসেবে কোনো সম্পত্তি সংরক্ষণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হন, এবং সেই সম্পত্তি সম্পর্কে বিশ্বাসভঙ্গ করেন, তিনি সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং তার সাথে অর্থদণ্ডও হতে পারে।
---------- 
⇒The Penal Code, 1860- Section 407- Criminal breach of trust by carrier, etc.
Whoever, being entrusted with property as a carrier, wharfinger or warehouse-keeper, commits criminal breach of trust in respect of such property, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.

.
ফৌজদারী কার্যবিধির ৫০৮ ধারা কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. মামলা প্রত্যাহার
  2. জব্দকৃত সম্পত্তি বিক্রি
  3. পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ
  4. অনুসন্ধান বা বিচার মুলতবি রাখা
সঠিক উত্তর:
অনুসন্ধান বা বিচার মুলতবি রাখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসন্ধান বা বিচার মুলতবি রাখা
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ৫০৮ ধারা, ধারা ৫০৩ বা ৫০৬-এর অধীন কমিশন জারির ক্ষেত্রে অনুসন্ধান, বিচার বা অন্যান্য কার্যক্রম মুলতবি রাখার বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত। এই মুলতবি রাখার সময়কাল কমিশন কার্যকর ও ফেরত দেওয়ার জন্য ন্যায়সংগতভাবে পর্যাপ্ত হতে হবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৮- অনুসন্ধান বা বিচার মুলতবিকরণ:
- সে ক্ষেত্রে ৫০৩ বা ৫০৬ ধারার অধীন কমিশন দেয়া হয়েছে সেক্ষেত্রে উহা কার্যকরীকরণ ও ফেরত দেয়ার জন্য ন্যায়সংগতভাবে পর্যাপ্ত কোন নির্ধারিত সময়ের জন্য সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান, বিচার বা অন্যান্য কার্যক্রম মুলতবি রাখা যাবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 508- Adjournment of inquiry or trial:
In every case in which a commission is issued under section 503 or section 506, the inquiry, trial or other proceeding may be adjourned for a specified time reasonably sufficient for the execution and return of the commission.

.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে "Conclusive proof" এর ক্ষেত্রে আদালত কী করবে?
  1. আরো প্রমাণ চাইবে
  2. সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখবে
  3. বিপরীত সাক্ষ্য গ্রহণ করবে
  4. বিপরীত সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না
সঠিক উত্তর:
বিপরীত সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপরীত সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৪ অনুসারে, "Conclusive proof" (চূড়ান্ত প্রমাণ) বলতে এমন প্রমাণ বোঝায় যেখানে একটি তথ্য প্রমাণিত হলে আদালত অন্য তথ্যটিকে প্রমাণিত হিসেবে গ্রহণ করবে এবং এর বিপরীতে কোনো সাক্ষ্য গ্রহণের অনুমতি দেবে না।
অর্থাৎ, চূড়ান্ত প্রমাণের ক্ষেত্রে আদালত বিপরীত সাক্ষ্য বিবেচনা করবে না।
- অন্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
ক) আরো প্রমাণ চাইবে: ভুল, কারণ চূড়ান্ত প্রমাণের ক্ষেত্রে আরো প্রমাণের প্রয়োজন হয় না।
খ) সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখবে: ভুল, কারণ চূড়ান্ত প্রমাণের ক্ষেত্রে আদালত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, স্থগিত করে না।
গ) বিপরীত সাক্ষ্য গ্রহণ করবে: ভুল, কারণ ধারা ৪ স্পষ্টভাবে বলে যে চূড়ান্ত প্রমাণের ক্ষেত্রে বিপরীত সাক্ষ্য গ্রহণ করা যাবে না।
---------
⇒ The Evidence Act,1872, Section-4-“Conclusive proof”:
- When one fact is declared by this Act to be conclusive proof of another, the Court shall, on proof of the one fact, regard the other as proved, and shall not allow evidence to be given for the purpose of disproving it.

.
‘D’ Z-এর সম্পত্তি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে, কিন্তু বৃষ্টির কারণে আগুন জ্বলে না। দণ্ডবিধির কোন ধারায় অনুসারে 'D' এর কাজটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ?
  1. ধারা ১১৭
  2. ধারা ১২৩
  3. ধারা ৫০৬
  4. ধারা ৫১১
সঠিক উত্তর:
ধারা ৫১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৫১১
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৫১১ অনুসারে, যে কেউ এমন কোনো অপরাধ করার চেষ্টা করে, যা দণ্ডবিধিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা কারাদণ্ড দ্বারা শাস্তিযোগ্য, এবং সেই চেষ্টায় অপরাধ সংঘটনের দিকে কোনো কাজ করে, তবে তা শাস্তিযোগ্য। যদি অপরাধের চেষ্টার জন্য আলাদা শাস্তির বিধান না থাকে, তবে শাস্তি হবে মূল অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তির অর্ধেক পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা, বা উভয়ই। এখানে, ‘D’ Z-এর সম্পত্তি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেছে, যা ধারা ৪৩৫ (অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ক্ষতিকর কাজ) এর অধীনে অপরাধ। ধারা ৪৩৫ অনুসারে, এই অপরাধের শাস্তি ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা, বা উভয়ই। যেহেতু ‘D’ অপরাধটি সম্পূর্ণ করেনি, বরং চেষ্টা করেছে, তাই এটি ধারা ৫১১-এর অধীনে সম্পত্তি ধ্বংসের চেষ্টা হিসেবে শাস্তিযোগ্য, এবং সর্বোচ্চ শাস্তি হবে ৩ বছর ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা, বা উভয়ই।

- অর্থাৎ ‘D’-এর কাজ, অর্থাৎ সম্পত্তি ধ্বংসের জন্য অগ্নিসংযোগের চেষ্টা, ধারা ৫১১ (এবং ধারা ৪৩৫-এর সাথে সম্পর্কিত) অনুসারে শাস্তিযোগ্য। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ঘ) ধারা ৫১১।

⇒ দণ্ডবিধির ৫১১ ধারার বিধান যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনের উদ্যোগের সাজা:-
কোন ব্যক্তি যদি এই বিধিবলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটন করার অথবা অনুরূপ কোন অপরাধ সংঘটন করানোর উদ্যোগ করে এবং অনুরূপ উদ্যোগের মাধ্যমে অপরাধটি সংঘটনের উদ্দেশ্যে কোন কাজ করে, তবে যেক্ষেত্রে অনুরূপ উদ্যোগের সাজার জন্য এই বিধিতে কোন প্রকাশ্য বিধান করা হয় নাই, সেক্ষেত্রে সে ব্যক্তি অপরাধটির জন্য সে ধরনের অপরাধের জন্য বিহিত দণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের অর্ধেক পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা সে অপরাধটির জন্য যে অর্থ দণ্ডেও বিধান করা হয়েছে সে অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
উদাহরণ:
(ক) 'ক' একটি বাক্স ভেঙ্গে কিছু গহনাপত্র চুরি করার উদ্যোগ করে। সে বাক্সটি ভেঙ্গে দেখতে পায় যে, উহাতে কোন গহনাপত্র নাই। সে চুরির উদ্দেশ্যে এই কাজটি করেছে; সুতরাং সে এই ধারার আওতায় অপরাধী বলে পরিগণিত হবে।
(খ) 'ক', 'চ'- এর পকেটে হাত দিয়ে চ-এর পকেট মারার উদ্যোগ নেয়। 'চ'- এর পকেটে কিছু ছিল না বলে ক-এর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। 'ক' এই ধারার আওতায় অপরাধী বলে পরিগণিত হবে।
----------- 
⇒ The Penal Code, 1860,Section 511- Punishment for attempting to commit offences punishable with imprisonment for life or imprisonment:
Whoever attempts to commit an offence punishable by this Code with imprisonment for life or imprisonment, or to cause such an offence to be committed, and in such attempt does any act towards the commission of the offence, shall, where no express provision is made by this Code for the punishment of such attempt, be punished with imprisonment of any description provided for the offence, for a term which may extend to one-half of the longest term of imprisonment provided for that offence, or with such fine as is provided for the offence, or with both.

Illustration:
(a) A makes an attempt to steal some jewels by breaking open a box, and finds after so opening the box, that there is no jewel in it. He has done an act towards the commission of theft, and therefore is guilty under this section. 
(b) A makes an attempt to pick the pocket of Z by thrusting his hand into Z's pocket. A fails in the attempt in consequence of Z's having nothing in his pocket. A is guilty under this section.

.
ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন জামিননামা, সমন, ওয়ারেন্ট ইত্যাদি ফরম কোন তফসিলে অন্তর্ভুক্ত?
  1. ২য় তফসিল
  2. ৩য় তফসিল
  3. ৪র্থ তফসিল
  4. ৫ম তফসিল
সঠিক উত্তর:
৫ম তফসিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ম তফসিল
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫ম তফসিলে বিভিন্ন ফরমের বিবরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেমন জামিননামা, সমন, ওয়ারেন্ট ইত্যাদি। এই তফসিলে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ব্যবহৃত ফরমগুলোর কাঠামো এবং প্রয়োগের নিয়মাবলী উল্লেখ করা হয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধিতে মোট ৫টি তফসিল রয়েছে, যা নিম্নরূপ:
১ম তফসিল (First Schedule)- বাতিল। 
২য় তফসিল (Second Schedule)- আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ, জামিনযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য অপরাধ এবং দন্ডবিধির অপরাধসমূহ কোন আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য ইত্যাদি বিষয়সমূহ উল্লেখ রয়েছে। 
৩য় তফসিল (Third Schedule)- ম্যাজিস্ট্রেটগণের সাধারণ ক্ষমতা উল্লেখ রয়েছে। 
৪র্থ তফসিল (Fourth Schedule)- ম্যাজিস্ট্রেটগণের উপর আরোপযোগ্য অতিরিক্ত ক্ষমতা উল্লেখ রয়েছে। 
৫ম তফসিল (Fifth Schedule)- ফরম সমূহের বিষয়ে বলা রয়েছে।

.
ইসলামী ফৌজদারি আইন পরিবর্তনের জন্য ব্রিটিশ প্রশাসন কোন গভর্নর-জেনারেলের সময়ে প্রথম পদক্ষেপ নেয়?
  1. লর্ড ডালহৌসি 
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা

⇒ ইসলামী ফৌজদারি আইনের সংস্কারের প্রথম উদ্যোগ ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংসের সময়ে গৃহীত হয়েছিল। তিনি বাংলার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিচার বিভাগীয় প্রশাসনে পরিবর্তন আনার জন্য একটি পরিকল্পনা (Warren Hastings Plan) প্রণয়ন করেন। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে তিনি ডাকাতি দমনের জন্য ইসলামী ফৌজদারি আইনের বিদ্যমান বিধানে প্রথম পরিবর্তন আনেন। ১৭৭৩ সালে তিনি আরও কিছু সংস্কার প্রস্তাব করেন, যেমন:
- হত্যার ক্ষেত্রে অভিপ্রায়কে (intention) প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা, অস্ত্রের প্রকৃতির পরিবর্তে।
- নিহতের উত্তরাধিকারীদের হত্যাকারীকে ক্ষমা করার অধিকার বিলোপ।
- জরিমানার পরিমাণ অপরাধের প্রকৃতি ও অপরাধীর সামর্থ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
যদিও এই প্রস্তাবগুলি তৎকালীন কাউন্সিল কর্তৃক পুরোপুরি গৃহীত হয়নি, কারণ কোম্পানির "অস্পষ্ট মালিকানা" (cloudy title) নিযামতের উপর তাদের আইন পরিবর্তনের ক্ষমতাকে সীমিত করেছিল, তবুও এটি ছিল ইসলামী ফৌজদারি আইন সংস্কারের প্রথম আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ।

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) লর্ড ডালহৌসি: লর্ড ডালহৌসি ১৮৪৮-১৮৫৬ সাল পর্যন্ত গভর্নর-জেনারেল ছিলেন। তাঁর সময়ে দণ্ডবিধি (১৮৬০) প্রণয়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়, কিন্তু তিনি সংস্কারের প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
খ) লর্ড কর্নওয়ালিস: লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৮৬ সালে গভর্নর-জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৭৯০ সালে ইসলামী ফৌজদারি আইনে পদ্ধতিগত সংস্কার শুরু করেন (Cornwallis Code)। তিনি হত্যার ক্ষেত্রে অভিপ্রায়ের উপর ভিত্তি করে বিচার, কিসাস বা দিয়াতের অধিকার বিলোপ, এবং শারীরিক অঙ্গচ্ছেদের পরিবর্তে কারাদণ্ড প্রবর্তন করেন। কিন্তু এটি হেস্টিংসের পরবর্তী সময়ের ঘটনা, তাই তিনি প্রথম পদক্ষেপের সূচনাকারী নন।
ঘ) লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক: বেন্টিঙ্ক ১৮২৮-১৮৩৫ সাল পর্যন্ত গভর্নর-জেনারেল ছিলেন এবং সতীদাহ প্রথা বিলোপ (১৮২৯) এর মতো সামাজিক সংস্কারের জন্য পরিচিত। তবে ইসলামী ফৌজদারি আইনের প্রাথমিক সংস্কারে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য নয়।

অর্থাৎ ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২ সালে ডাকাতি দমনের জন্য ইসলামী ফৌজদারি আইনে প্রথম পরিবর্তন আনেন এবং ১৭৭৩ সালে আরও সংস্কার প্রস্তাব করেন, যা তাঁকে এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর করে। পরবর্তী গভর্নর-জেনারেলরা, বিশেষত কর্নওয়ালিস, এই সংস্কারকে আরও এগিয়ে নিয়েছেন, কিন্তু প্রথম পদক্ষেপ হেস্টিংসের আমলেই শুরু হয়।

তথ্যসূত্র: Enactment of Penal Code, 1860: A Historical Analysis by Dr. Masuma Pervin. [লিঙ্ক]

.
‘A’ তার ঋণদাতাদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন রোধ করার উদ্দেশ্যে অসাধুভাবে তার সম্পত্তি একজন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করে, পর্যাপ্ত মূল্য ছাড়াই। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর বিধান অনুসারে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ২ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৫ বছরের কারাদণ্ড
সঠিক উত্তর:
২ বছরের কারাদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪২১ অনুসারে, যে কেউ অসাধুভাবে বা জালিয়াতিমূলকভাবে তার সম্পত্তি কোনো ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করে, গোপন করে, বা অপসারণ করে, পর্যাপ্ত মূল্য ছাড়াই, এবং এর মাধ্যমে তার ঋণদাতাদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন রোধ করার উদ্দেশ্যে বা এমন সম্ভাবনা জেনে কাজ করে, সে এই অপরাধের জন্য দায়ী। এই অপরাধের শাস্তি হলো ২ বছর পর্যন্ত যেকোনো প্রকারের কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয়ই। এখানে, ‘A’ অসাধুভাবে তার সম্পত্তি পর্যাপ্ত মূল্য ছাড়াই হস্তান্তর করেছে, যাতে ঋণদাতাদের মধ্যে বণ্টন রোধ করা যায়, যা ধারা ৪২১-এর অধীনে অপরাধ। সুতরাং, সর্বোচ্চ শাস্তি ২ বছরের কারাদণ্ড।
- ‘A’-এর কাজ ধারা ৪২১-এর অধীনে জালিয়াতিমূলকভাবে সম্পত্তি অপসারণ বা গোপন হিসেবে গণ্য, এবং এর সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ২ বছরের কারাদণ্ড। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ক) ২ বছরের কারাদণ্ড।

⇒The Penal Code, 1860- Section-421.Dishonest or fraudulent removal or concealment of property to prevent distribution among creditors:
- Whoever dishonestly or fraudulently removes, conceals or delivers to any person, or transfers or causes to be transferred to any person, without adequate consideration, any property, intending thereby to prevent, or knowing it to be likely that he will thereby prevent, the distribution of that property according to law among his creditors or the creditors of any other person, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুসারে 'গ্রেপ্তার স্মারক' (Memorandum of Arrest) প্রণয়ন করতে হবে?
  1. ধারা ৪৬
  2. ধারা ৪৬ক
  3. ধারা ৪৬খ
  4. ধারা ৪৬গ
সঠিক উত্তর:
ধারা ৪৬ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৪৬ক
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮,(Act No. V of 1898)-এর SCHEDULE V-এ নতুন Form IA, যা "গ্রেপ্তার স্মারক" (Memorandum of Arrest) নামে পরিচিত, ধারা ৪৬ক (Section 46A)-এর অধীনে উল্লেখিত হয়েছে। এই ফর্মটি গ্রেপ্তারের সময় এবং স্থানে প্রস্তুত করতে হয় এবং গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির সাথে ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতে পাঠাতে হয়। ফর্মটির উদ্দেশ্য হলো গ্রেপ্তারের বিস্তারিত তথ্য (যেমন গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম, ঠিকানা, গ্রেপ্তারের কারণ, শারীরিক অবস্থা, পরিবারকে অবহিত করার তথ্য) রেকর্ড করা, যাতে গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮,-এর SCHEDULE V-তে নতুন Form IA সন্নিবেশিত হয়েছে যা "MEMORANDUM OF ARREST" নামে পরিচিত এবং এটি ধারা 46A অনুসারে প্রস্তুত করতে হবে। এই ফর্মে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম, পিতার নাম, স্বামীর নাম (যদি থাকে), ঠিকানা ও বয়স
- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির NID/পাসপোর্ট/জন্ম নিবন্ধন নম্বর (যদি থাকে)
- গ্রেফতারের স্থান
- গ্রেফতারের তারিখ ও সময়
- গ্রেফতারের কারণ (সম্পর্কিত আইন ও ধারা উল্লেখসহ)
- নিশ্চয়তা প্রদানকারী/অভিযোগকারীর নাম ও ঠিকানা (যদি থাকে)
- মামলা/জিডি নম্বর
- গ্রেফতারের পরিপত্র নম্বর ও তারিখ (যদি প্রযোজ্য হয়)
- গ্রেফতারের সময় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা
- শরীরে কোন আঘাতের কারণ থাকলে তা উল্লেখ
- উপস্থিত নিবন্ধিত চিকিৎসকের নাম ও শংসাপত্র (যদি আঘাতপ্রাপ্ত হয় তাহলে এর একটি কপি সংযুক্ত করতে হবে)
- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য/আত্মীয়/বন্ধু/প্রতিবেশীকে জানানো হয়েছে কিনা - হ্যাঁ/না
- গ্রেফতারের তথ্য জানানো ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা
- তথ্য প্রাপ্ত ব্যক্তির যোগাযোগ নম্বর
- সেই আদালতের নাম যেখানে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে তোলা হবে
- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপ (যদি অস্বীকার না করে)
- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য বা স্থানীয় সম্মানিত ব্যক্তির স্বাক্ষর (যদি না পাওয়া যায় তবে কারণ উল্লেখ করতে হবে)
- গ্রেফতার কর্মকর্তার নাম, পদবী, আইডি নম্বর ও স্বাক্ষরও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

নির্দেশনা:
এই মেমো গ্রেফতারের সময় ও স্থানে প্রস্তুত করা হবে এবং গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির সাথে ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতে পাঠাতে হবে। আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের শংসাপত্র ও মুক্তির দলিল সংযুক্ত করতে হবে। মেমো এর একটি কপি মামলার ডায়েরিতে সংরক্ষণ করতে হবে ভবিষ্যৎ ব্যবহারের জন্য।

১০.
একটি মামলায় প্রশ্ন ওঠে যে ‘C’ কবে জন্মগ্রহণ করেছে। ‘C’-এর মৃত ডাক্তারের ডায়েরিতে একটি এন্ট্রি পাওয়া যায়, যেখানে লেখা আছে যে তিনি একটি নির্দিষ্ট দিনে ‘C’-এর মাকে সন্তান প্রসবের জন্য সহায়তা করেছিলেন। সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুসারে এই এন্ট্রি প্রাসঙ্গিক?
  1. ধারা ৩২(১)
  2. ধারা ৩২(২)
  3. ধারা ৩২(৩)
  4. ধারা ৩২(৪)
সঠিক উত্তর:
ধারা ৩২(২)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৩২(২)
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩২(২) অনুসারে, কোনো মৃত ব্যক্তির বক্তব্য যদি ব্যবসায়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বা পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় লিখিত হয়, তবে তা প্রাসঙ্গিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য। এখানে ‘C’-এর মৃত ডাক্তারের ডায়েরিতে লিখিত এন্ট্রি, যেখানে তিনি ‘C’-এর মাকে সন্তান প্রসবের জন্য সহায়তা করার কথা উল্লেখ করেছেন, তা তার পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে ব্যবসায়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে লিখিত। তাই এই এন্ট্রি ধারা ৩২(২)-এর অধীনে প্রাসঙ্গিক।

অন্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
- ধারা ৩২(১): মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ বা সংশ্লিষ্ট ঘটনার পরিস্থিতি সম্পর্কিত বক্তব্যের প্রাসঙ্গিকতা নির্ধারণ করে, যা ‘C’-এর জন্মতারিখের সাথে সম্পর্কিত নয়।
- ধারা ৩২(৩): মৃত ব্যক্তির বক্তব্য যদি তার আর্থিক বা সম্পত্তিগত স্বার্থের বিরুদ্ধে হয় বা তাকে মামলার জন্য দায়ী করতে পারে, তবে তা প্রাসঙ্গিক। এই এন্ট্রি এই শ্রেণিতে পড়ে না।
- ধারা ৩২(৪): জনসাধারণের অধিকার, রীতি বা সাধারণ স্বার্থ সম্পর্কিত মৃত ব্যক্তির মতামত প্রাসঙ্গিক, যা এখানে প্রযোজ্য নয়।

⇒The Evidence Act, 1872, Section-32: Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant
- Statements, written or verbal, of relevant facts made by a person who is dead, or who cannot be found, or who has become incapable of giving evidence, or whose attendance cannot be procured without an amount of delay or expense which under the circumstances of the case appears to the Court unreasonable, are themselves relevant facts in the following cases:–
When it relates to cause of death;
(1) When the statement is made by person as to the cause of his death, or as to any of the circumstances of the transaction which resulted in his death, in cases in which the cause of that person's death comes into question. 
Such statements are relevant whether the person who made them was or was not, at the time when they were made, under expectation of death, and whatever may be the nature of the proceeding in which the cause of his death comes into question.
or is made in course of business;
(2) When the statement was made by such person in the ordinary course of business, and in particular when it consists of any entry or memorandum made by him in books kept in the ordinary course of business, or in the discharge of professional duty; or of an acknowledge-ment written or signed by him of the receipt of money, goods, securities or property of any kind; or of a document used in commerce written or signed by him; or of the date of a letter or other document usually dated, written or signed by him.
---------
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে, আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-
ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারণ সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণা (dying declaration);
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি (statement made in course of business);
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরণের মামলার উদ্ভব করতে পারে (statement against interest of maker);
iv) সর্বসাধারণের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত (opinion as to public right or custom, or matters of general interest);
v) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি (relates to existence of relationship);
vi) পারিবারিক দলিল বা উইল (statement made in will or deed relating to family affairs);
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি (Statement made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question).
-----------
-The Evidence Act, 1872, Section-32: Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant.
- When it relates to cause of death;
or is made in course of business;
or against interest of maker;
or gives opinion as to public right or custom, or matters of general interest;
or relates to existence of relationship;
or is made in will or deed relating to family affairs;
or in document relating to transaction mentioned in section 13, clause (a);
or is made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question

১১.
ব্রিটিশ আমলে Evidence সম্পর্কিত আইন সংকলনের প্রথম প্রচেষ্টা কবে হয়?
  1. ১৮৩৫ সালে
  2. ১৮৫৭ সালে
  3. ১৮৬৮ সালে
  4. ১৮৩৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৩৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩৫ সালে
ব্যাখ্যা

⇒ ব্রিটিশ আমলে ভারতে সাক্ষ্য আইনের (Law of Evidence) কোডিফিকেশনের প্রথম উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা হিসেবে ১৮৩৫ সালে একটি আইন পাস করা হয়েছিল। এই আইনটি ছিল সাক্ষ্য আইনের নিয়মাবলীকে সুসংগঠিত করার প্রাথমিক প্রয়াস। তবে, এই আইন এবং পরবর্তী সময়ে ১৮৩৫ থেকে ১৮৫৩ সালের মধ্যে প্রণীত প্রায় এগারোটি আইন অপর্যাপ্ত এবং ভারতীয় প্রেক্ষাপটের জন্য উপযুক্ত নয় বলে বিবেচিত হয়েছিল।

- ব্রিটিশ ভারতে প্রেসিডেন্সি আদালতগুলো (বোম্বাই, মাদ্রাস এবং কলকাতায়) ইংরেজি সাক্ষ্য আইনের নিয়ম অনুসরণ করত, কিন্তু মফস্সিল আদালতগুলোতে (প্রেসিডেন্সি শহরের বাইরের আদালত) সাক্ষ্য আইনের কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম ছিল না। এর ফলে মফস্সিল আদালতগুলোতে সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে অবাধ স্বাধীনতা ছিল, যা বিচার প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল। এই বিশৃঙ্খলা দূর করার জন্য সাক্ষ্য আইনের কোডিফিকেশনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

- ১৮৩৫ সালের আইনটি ছিল এই দিকে প্রথম পদক্ষেপ। তবে, এটি ভারতীয় প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ কার্যকর ছিল না। পরবর্তীতে, ১৮৬৮ সালে স্যার হেনরি মেনের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করা হয়, যার খসড়াও ভারতীয় পরিস্থিতির জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়নি। অবশেষে, ১৮৭০ সালে স্যার জেমস ফিটজ জেমস স্টিফেনকে সাক্ষ্য আইনের কোডিফিকেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি একটি খসড়া তৈরি করেন, যা হাইকোর্ট, বারের সদস্য এবং সিলেক্ট কমিটির মতামতের ভিত্তিতে পরিমার্জন করা হয়। এই খসড়ার ভিত্তিতেই ১৮৭২ সালের ১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সাক্ষ্য আইন (Indian Evidence Act, 1872) কার্যকর হয়।

অর্থাৎ ১৮৩৫ সালে সাক্ষ্য আইনটি ছিল ব্রিটিশ আমলে সাক্ষ্য আইনের প্রথম কোডিফিকেশন প্রয়াস, যদিও এটি পরবর্তীতে অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হয়। এটি শেষ পর্যন্ত ১৮৭২ সালে ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ এবং কার্যকর কোডিফিকেশনে পরিণত হয়।

There was a dire necessity for the codification of the rules of law. In 1835 the first attempt was made to codify the rules of evidence by passing the Act, 1835. Between 1835 and 1853 about eleven enactments were passed dealing with the law of evidence. But all these enactments were found inadequate.



তথ্যসূত্র: HISTORICAL BACKGROUND OF THE INDIAN EVIDENCE ACT, 1872 by Vepa P. Sarathi. [লিঙ্ক]

১২.
‘D’ ‘Z’-এর উইলে ‘B’-এর নাম মুছে ফেলে, যাতে সম্পত্তি শুধু নিজে এবং ‘C’-এর মধ্যে ভাগ হয়। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর বিধান অনুসারে এই অপরাধের নাম কী?
  1. প্রতারণা
  2. জালিয়াতি
  3. ক্ষতিসাধন
  4. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
সঠিক উত্তর:
জালিয়াতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জালিয়াতি
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪৬৩ অনুসারে, কোনো ব্যক্তি যদি প্রতারণার উদ্দেশ্যে, ক্ষতি করার, সম্পত্তি হস্তান্তর করানোর, বা কোনো দাবি বা অধিকার সমর্থনের উদ্দেশ্যে মিথ্যা দলিল তৈরি বা পরিবর্তন করে, তবে তা জালিয়াতি (Forgery) হিসেবে গণ্য। ধারা ৪৬৪ অনুসারে, কোনো দলিলে অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলকভাবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন করা জালিয়াতির সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এখানে, ‘D’ ‘Z’-এর উইলে ‘B’-এর নাম মুছে ফেলে প্রতারণার উদ্দেশ্যে সম্পত্তির ভাগ পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছে, যা ধারা ৪৬৪-এর দ্বিতীয় উপায়ে (দলিলে পরিবর্তন) জালিয়াতি।

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) প্রতারণা: প্রতারণা (ধারা ৪১৫) হলো প্রতারণামূলকভাবে কাউকে সম্পত্তি হস্তান্তর বা কাজ করতে প্ররোচিত করা। এখানে ‘D’-এর কাজ প্রাথমিকভাবে মিথ্যা দলিল তৈরি বা পরিবর্তন, তাই এটি জালিয়াতি।
গ) ক্ষতিসাধন: ক্ষতিসাধন (ধারা ৪২৫) হলো সম্পত্তির ক্ষতি বা ধ্বংস করার অপরাধ। এখানে ‘D’ সম্পত্তি ধ্বংস করেনি, বরং দলিল পরিবর্তন করেছে।
ঘ) অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ: অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ (ধারা ৪০৫) হলো দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পত্তির অসাধু ব্যবহার। এখানে ‘D’ কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পত্তি নিয়ে কাজ করেনি।
অর্থাৎ ‘D’-এর কাজ ধারা ৪৬৩ এবং ৪৬৪-এর অধীনে জালিয়াতি হিসেবে গণ্য। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো খ) জালিয়াতি।
---------
⇒ দণ্ডবিধির ৪৬৩ ধারার বিধান জালিয়াতি:
- কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের কিংবা কোন ব্যক্তিবিশেষের ক্ষতিসাধনের জন্য অথবা কোন দাবি বা স্বত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে অথবা কোন ব্যক্তিকে তার সম্পত্তি ত্যাগে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অথবা কোন প্রকাশ্য বা অনুক্ত চুক্তি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে অথবা কোন প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে বা যাতে প্রতারণা সংঘটিত হতে পারে এইরূপ অভিপ্রায়ে, কোন মিথ্যা দলিল কিংবা দলিলের অংশবিশেষ প্রণয়ন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি জালিয়াতি করেছে বলে পরিগণিত হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৪৬৪ ধারার বিধান মিথ্যা দলিল তৈয়ার করা:- নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি মিথ্যা দলিল তৈয়ার করেছে বলে পরিগণিত হয়-প্রথমত:- যদি কোন ব্যক্তি, যে ব্যক্তি দ্বারা যার প্রদত্ত ক্ষমতা বলে কোন দলিল কিংবা উহার অংশবিশেষ প্রণীত, স্বাক্ষরিত, সীলমোহরযুক্ত বা সম্পাদিত হয় নাই বা যে সময়ে উক্ত দলিল বা উহার অংশবিশেষ প্রণীত, স্বাক্ষরিত, সীলমোহরযুক্ত বা সম্পাদিত হয় নাই বলে সে জানে, অথবা সে দলিলটি বা উহার অংশবিশেষ সে ব্যক্তি দ্বারা বা তৎপ্রদত্ত ক্ষমতা বলে কিংবা সে সময়ে প্রণীত স্বাক্ষরিত, সীলমোহরযুক্ত কিংবা সম্পাদিত হয়েছে বলে বিশ্বাস জন্মাইবার উদ্দেশ্যে অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলকভাবে এইরূপ দলিল বা অংশবিশেষ প্রণয়ন, স্বাক্ষর, সীলমোহরযুক্ত বা সম্পাদন করে অথবা দলিলটি সম্পাদিত হয়েছে বলে বুঝাবার জন্য কোন চিহ্ন বা প্রতীক স্থাপন করে; অথবা
দ্বিতীয়ত:- কোন দলিল তৎকর্তৃক বা অন্য কোন ব্যক্তি দ্বারা সম্পাদিত হওয়ার পরে কোনরূপ আইনসম্মত ছাড়াই অসাধুভাবে অথবা প্রতারণামূলক ভাবে, বাতিলকরণের মাধ্যমে বা অপর কোন উপায়ে দলিলের কোন গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিবর্তন করে; দলিলটি যদি অপরাধী দ্বারা সম্পাদিত না হয়ে অপর কোন ব্যক্তি দ্বারা সম্পাদিত হয়ে থাকে, তবে এইরূপ পরিবর্তনের সময়ে সে ব্যক্তি জীবিত থাকুক অথবা পরলোকগত হোক তাতে অপরাধের কোনরূপ তারতম্য হবে না; অথবা
তৃতীয়ত:- কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলকভাবে এমন কোন ব্যক্তিকে দিয়ে কোন দলিল স্বক্ষরিত, সীলমোহরযুক্ত সম্পাদিত কিংবা পরিবর্তিত করায় যে ব্যক্তি মানসিক অপ্রকৃতিস্থতা কিংবা প্রমত্ততার কারণে অথবা তাকে যেভাবে প্রতারণা করা হয়েছে তার ফলে উক্ত দলিলটির বিষয়বস্তু বা পরিবর্তনের প্রকৃতি সম্পর্কে অবহিত নয় বলে সে জানে।
ব্যাখ্যা ১:- কোন ব্যক্তির নিজের নাম, স্বাক্ষরও জালিয়াতির সামিল হতে পারে।
ব্যাখ্যা ২:- কোন প্রকৃত ব্যক্তি দ্বারা সম্পাদিত হয়েছে বলে বিশ্বাস জন্মাবার অভিপ্রায়ে কাল্পনিক কোন ব্যক্তির নামে দলিল সম্পাদন অথবা কোন মৃত ব্যক্তি জীবদ্দশায় সম্পাদিত করেছিল বলে বিশ্বাস জন্মাবার অভিপ্রায়ে সে মৃত ব্যক্তির নামে দলিল সম্পাদন জালিয়াতি বলে গণ্য হবে।

উদাহরণ
(ক) ক চ-কে দিয়ে খ-এর প্রতিপক্ষে ১০,০০০ টাকার জন্য একটি লেটার অব ক্রেডিট লিখে নিয়ে পরে ক খ-কে ঠকাবার উদ্দেশ্যে, ১০,০০০-টাকার সাথে একটি শূন্য যোগ করে উহাকে ১,০০,০০০ টাকা করে নেয়, এই অভিপ্রায়ে যে, খ বিশ্বাস করবে যে, চ ঐরূপ লিখেছে। ক জালিয়াতি করেছে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 463- Forgery:
- Whoever makes any false document or part of a document, with intent to cause damage or injury, to the public or to any person, or to support any claim or title, or to cause any person to part with property, or to enter into any express or implied contract, or with intent to commit fraud or that fraud may be committed, commits forgery.

⇒ The Penal Code, 1860-Section 464. Making a false document:
 A person is said to make a false document:
Firstly.-Who dishonesty or fraudulently makes, signs, seals or executes a document or part of a document, or makes any mark denoting the execution of a document, with the intention of causing it to be believed that such document or part of a document was made, signed, sealed or executed by or by the authority of a person by whom or by whose authority he knows that it was not made, signed, sealed or executed, or at a time at which he knows that it was not made, signed, sealed or executed; or 
Secondly.-Who, without lawful authority, dishonestly or fraudulently, by cancellation or otherwise, alters a document in any material part thereof, after it has been made or executed either by himself or by any other person, whether such person be living or dead at the time of such alteration; or 
Thirdly.-Who dishonestly or fraudulently causes any person to sign, seal, execute or alter a document, knowing that such person by reason of unsoundness of mind or intoxication cannot, or that by reason of deception practiced upon him he does not know the contents of the document or the nature of the alteration.
Explanation 1.-A man's signature of his own name may amount to forgery.
Explanation 2.- The making of a false document in the name of a fictitious person, intending it to be believed that the document was made by a real person, or in the name of a deceased person, intending it to be believed that the document was made by the person in his lifetime, may amount to forgery.

১৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫২৪(১) অনুসারে, যদি ছয় মাসের মধ্যে সম্পত্তির কোনো দাবিদার না আসে, তবে সম্পত্তি কার নিয়ন্ত্রণে থাকে?
  1. পুলিশের নিয়ন্ত্রণে
  2. সরকারের নিয়ন্ত্রণে
  3. আদালতের নিয়ন্ত্রণে
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিয়ন্ত্রণে
সঠিক উত্তর:
সরকারের নিয়ন্ত্রণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারের নিয়ন্ত্রণে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির (Code of Criminal Procedure) ধারা ৫২৪(১) অনুসারে, যদি ছয় মাসের মধ্যে জব্দকৃত সম্পত্তির কোনো দাবিদার না আসে এবং যে ব্যক্তির কাছ থেকে সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে সে যদি প্রমাণ করতে না পারে যে সম্পত্তিটি বৈধভাবে অর্জিত হয়েছে, তবে সেই সম্পত্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এই সম্পত্তি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে বিক্রি করা যেতে পারে।

- ধারা ৫২৩(২) অনুসারে, যদি সম্পত্তির মালিক অজ্ঞাত থাকে, তবে ম্যাজিস্ট্রেট এক মাসের মধ্যে দাবিদারকে হাজির হওয়ার জন্য প্রকাশনা জারি করেন।
- ধারা ৫২৪(১) অনুসারে, ছয় মাসের মধ্যে কোনো দাবিদার না এলে এবং সম্পত্তির বৈধতা প্রমাণ না হলে, সম্পত্তি সরকারের হয়ে যায় এবং বিক্রির নির্দেশ দেওয়া যায়।
- ধারা ৫২৪(২) অনুসারে, এই ধরনের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়, যেখানে আপিল সংশ্লিষ্ট আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে যে আদালতে আপিল করা হয় সেখানে দায়ের করা যায়।
অতএব, ধারা ৫২৪(১) অনুসারে, ছয় মাসের মধ্যে সম্পত্তির কোনো দাবিদার না আসলে সম্পত্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে।

১৪.
প্রাচীন ভারতের বিচার ও প্রশাসনব্যবস্থায় ধননন্দের সময়ে (খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অব্দে) আদালতের ভাষা কী ছিল?
  1. পালি
  2. প্রাকৃত
  3. সংস্কৃত
  4. অপভ্রংশ
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

⇒ ধননন্দের সময়ে (খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অব্দে) প্রাচীন ভারতের বিচারব্যবস্থায় আদালতের প্রধান ভাষা ছিল সংস্কৃত। এই সময়ে সংস্কৃত ছিল শাস্ত্রীয় ও প্রশাসনিক কাজের জন্য প্রধান ভাষা, এবং আদালতের রায় ঘোষণা ও আনুষ্ঠানিক বিচারকার্য সংস্কৃতে পরিচালিত হতো। তবে, প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সংস্কৃতের পাশাপাশি প্রাকৃত ভাষাও ব্যবহৃত হতো, কারণ প্রাকৃত ছিল সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রচলিত ভাষা। বিচারকগণ বহুভাষী ছিলেন এবং সংস্কৃত, প্রাকৃত ও জনভাষায় পারদর্শী ছিলেন, যা তাদের বিচার প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ভাষায় উপস্থাপিত প্রমাণ বুঝতে সহায়তা করত।

অন্যান্য অপশনের ব্যাখ্যা:
ক) পালি: পালি প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ ও তৎসংক্রান্ত সাহিত্যে ব্যবহৃত হতো। ধননন্দের সময়ে এটি আদালতের প্রধান ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হতো না। পালির প্রভাব পরবর্তীকালে, বিশেষ করে অশোকের সময়ে বৌদ্ধ ধর্মের প্রসারের সাথে বৃদ্ধি পায়।
খ) প্রাকৃত: প্রাকৃত ছিল জনসাধারণের মুখের ভাষা এবং প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য আদালতে ব্যবহৃত হতো। তবে, আদালতের আনুষ্ঠানিক ভাষা হিসেবে সংস্কৃতই প্রাধান্য পেত।
ঘ) অপভ্রংশ: অপভ্রংশ পরবর্তীকালে (প্রায় খ্রিস্টীয় ৬ষ্ঠ শতাব্দীর পর) ভারতীয় উপমহাদেশে সাহিত্য ও স্থানীয় ভাষা হিসেবে বিকশিত হয়। ধননন্দের সময়ে এটি আদালতের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হতো না।

প্রেক্ষাপট: ধননন্দের সময়ে বিচারব্যবস্থা ধর্মশাস্ত্র, স্মৃতি এবং সদাচারের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হতো। বিচারকগণ শাস্ত্রজ্ঞ এবং বহুভাষী হওয়ায় তারা সংস্কৃতের পাশাপাশি প্রাকৃত ভাষায় উপস্থাপিত প্রমাণ বুঝতে পারতেন। আদালতের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম, যেমন রায় ঘোষণা এবং রাজকীয় আদেশ (যা ভূর্জপত্র বা তালপত্রে লিখিত হতো), সংস্কৃত ভাষায় সম্পন্ন হতো। এই সময়ে বিচার প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল সত্য উদঘাটন, এবং সংস্কৃত ছিল এই প্রক্রিয়ার মর্যাদাপূর্ণ ও আনুষ্ঠানিক ভাষা।

অর্থাৎ ধননন্দের সময়ে আদালতের প্রধান ভাষা ছিল সংস্কৃত, যা বিচারকার্যের আনুষ্ঠানিকতা ও শাস্ত্রীয় মর্যাদা বজায় রাখত। প্রাকৃত ভাষা প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য ব্যবহৃত হলেও, সংস্কৃতই ছিল আদালতের মূল ভাষা।

তথ্যসূত্র: ভারতীয় বিচারব্যবস্থা ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ, “সাহিত্য সম্রাট জার্নাল”।(লিঙ্ক)

১৫.
‘E’ একজন ব্যক্তিকে চুরি যাওয়া গহনা ফেরত দেওয়ার জন্য নির্যাতন করে, যার ফলে ব্যক্তির একটি দাঁত ভেঙে যায়। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর কোন ধারা অনুসারে ‘E’ অপরাধী হবে?
  1. ধারা ৩২৫
  2. ধারা ৩২৯
  3. ধারা ৩৩১
  4. ধারা ৩৩৩
সঠিক উত্তর:
ধারা ৩৩১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৩৩১
ব্যাখ্যা

⇒ ‘E’ একজন ব্যক্তিকে চুরি যাওয়া গহনা ফেরত দেওয়ার জন্য নির্যাতন করে, যার ফলে ব্যক্তির একটি দাঁত ভেঙে যায়। এই ক্ষেত্রে, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৩৩১ প্রযোজ্য হবে।
⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৩৩১-এ বলা হয়েছে, যে কেউ স্বীকারোক্তি বা তথ্য আদায় করার উদ্দেশ্যে অথবা কোনো সম্পত্তি বা মূল্যবান নিরাপত্তা ফেরত দেওয়ার জন্য কাউকে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর ক্ষতি (grievous hurt) সাধন করে, সে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানার জন্য দায়ী হবে।

গুরুতর ক্ষতি (Grievous Hurt): দণ্ডবিধির ধারা ৩২০-এ গুরুতর ক্ষতির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে একটি দাঁত ভাঙা বা হারানো (loss or fracture of a tooth) গুরুতর ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হয়। অতএব, ‘E’ কর্তৃক সৃষ্ট ক্ষতি গুরুতর ক্ষতির শ্রেণীভুক্ত।
উদ্দেশ্য: ‘E’ চুরি যাওয়া গহনা ফেরত পাওয়ার জন্য নির্যাতন করেছে, যা ধারা ৩৩১-এ উল্লিখিত "সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার জন্য বাধ্য করা" উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

- অর্থাৎ ‘E’-এর কাজটি ধারা ৩৩১-এর অধীনে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে, কারণ তিনি সম্পত্তি (গহনা) ফেরত পাওয়ার উদ্দেশ্যে গুরুতর ক্ষতি (দাঁত ভাঙা) সৃষ্টি করেছেন। সঠিক উত্তর: গ) ধারা ৩৩১।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 331. Voluntarily causing grievous hurt to extort confession, or to compel restoration of property:
 Whoever voluntarily causes grievous hurt for the purpose of extorting from the sufferer or any person interested in the sufferer any confession or any information which may lead to the detection of an offence or misconduct, or for the purpose of constraining the sufferer or any person interested in the sufferer to restore or to cause the restoration of any property or valuable security or to satisfy any claim or demand or to give information which may lead to the restoration of any property or valuable security shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.

১৬.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় স্মৃতি পুনরুজ্জীবন (Refreshing Memory) সম্পর্কিত বিধান বর্ণিত আছে?
  1. ধারা ১৪৯
  2. ধারা ১৫৯
  3. ধারা ১৪৬
  4. ধারা ১৫৫
সঠিক উত্তর:
ধারা ১৫৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ১৫৯
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৫৯ এ স্মৃতি পুনরুজ্জীবন (Refreshing Memory) সম্পর্কিত বিধান বর্ণিত আছে। এই ধারায় বলা হয়েছে যে, একজন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদানের সময় তার স্মৃতি সতেজ করার জন্য নির্দিষ্ট লিখিত দলিল বা উপকরণ দেখতে পারেন। এই বিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
নিজের লেখা দলিল: সাক্ষী তার নিজের লিখিত দলিল দেখে স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করতে পারেন, যদি দলিলটি ঘটনার সময় বা তার অল্প সময় পরে লেখা হয় এবং আদালত মনে করে যে ঘটনাটি তখন সাক্ষীর স্মৃতিতে সতেজ ছিল।
অন্যের লেখা দলিল: সাক্ষী অন্য কোনো ব্যক্তির লিখিত দলিল দেখে স্মৃতি সতেজ করতে পারেন, যদি তিনি সেই দলিল পড়ার সময় তা সঠিক বলে জানতেন এবং ঘটনার সময় বা অল্প সময় পরে তা পড়েছিলেন।
দলিলের নকল: আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে, যদি মূল দলিল উপস্থাপনের যথেষ্ট কারণ না থাকে (যেমন, মূল দলিল হারিয়ে গেছে), তবে সাক্ষী দলিলের নকল দেখে স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞের ক্ষেত্রে: একজন বিশেষজ্ঞ (যেমন, তদন্তকারী পুলিশ অফিসার) তার পেশাগত পুস্তক, রেফারেন্স উপকরণ, বা কেস ডায়েরি দেখে স্মৃতি সতেজ করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, একজন পুলিশ অফিসার কেস ডায়েরি দেখে তার সাক্ষ্যের বিষয়ে স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করতে পারেন।
⇒ অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৫৯ স্মৃতি পুনরুজ্জীবন সম্পর্কিত বিধান প্রদান করে, যা সাক্ষীকে দলিল বা উপকরণের সাহায্যে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য প্রদানে সহায়তা করে। অন্যান্য ধারাগুলো (১৪৯, ১৪৬, ১৫৫) এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত নয়।

⇒ The Evidence Act 1872 এর ১৫৯ ধারার বিধান মতে স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করা বলতে বুঝায় সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রদান কালে তাহার নিজের লেখা দেখে স্মৃতি মনে করা। তবে সাক্ষী অন্যের লেখা কিছু দেখেও স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করতে পারবে যদি তিনি পূর্বে উক্ত লেখা পড়ে/পড়ার সময় সত্য বলে জেনে থাকেন।
⇒ The Evidence Act 1872 এর ১৫৯ ধারার মতে স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করা (Refreshing memory). সাক্ষ্য প্রদানের সময় কোন সাক্ষী কোন লেখা দ্বারা তার স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। মূল লেখা দেখে স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করা যায়। আদালত অনুমতি দিলে সাক্ষী দলিলের নকল দেখেও স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। একজন বিশেষজ্ঞ তার পেশা সম্পর্কিত পুস্তক/বই দেখে স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করতে করতে পারে।
---------
⇒ The Evidence Act 1872, Section 159 Refreshing memory: A witness may, while under examination, refresh his memory by referring to any writing made by himself at the time of the transaction concerning which he is questioned, or so soon afterwards that the Court considers it likely that the transaction was at that time fresh in his memory.
The witness may also refer to any such writing made by any other person, and read by the witness within the time aforesaid, if when he read it he knew it to be correct.

১৭.
ফৌজদারী কার্যবিধির ৫২৩ ধারা অনুযায়ী পুলিশ কর্তৃক জব্দকৃত সম্পত্তি সম্পর্কে প্রথমে কী করতে হবে?
  1. সম্পত্তি বিক্রির আদেশ দিতে হবে
  2. সম্পত্তি পুলিশ হেফাজতে রাখতে হবে
  3. সম্পত্তি সরাসরি মালিককে ফেরত দিতে হবে
  4. সঙ্গে সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে
সঠিক উত্তর:
সঙ্গে সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঙ্গে সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ৫২৩ ধারা অনুযায়ী, পুলিশ অফিসার কর্তৃক ধারা ৫১ অনুযায়ী গৃহীত, চোরাই বলে সন্দেহযুক্ত বা অপরাধের সাথে সম্পর্কিত সম্পত্তি জব্দ করা হলে, তা সঙ্গে সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট এরপর সম্পত্তির হেফাজত, প্রদান বা মালিক অজ্ঞাত হলে ঘোষণা জারির বিষয়ে যথাযথ আদেশ দিতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৩ ধারার বিধান:- ৫১ ধারা অনুসারে গৃহীত মাল বা চোরাইমাল আটকের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্তৃক গৃহীত পদ্ধতি:
(১) ৫১ ধারা অনুসারে গৃহীত বা চেরাইমাল বলে কথিত বা সন্দেহযুক্ত বা কোন অপরাধ সংঘটনের সন্দেহ সৃষ্টিকারী অবস্থায় প্রাপ্ত সম্পত্তি কোন পুলিশ অফিসার জব্দ করলে সঙ্গে সঙ্গে তা কোন ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানাতে হবে এবং উক্ত ম্যাজিষ্ট্রেট উক্ত সম্পত্তির বিহিত ব্যবস্থা বা উহার দখলের অধিকারী ব্যক্তিকে প্রদান বা এরূপ ব্যক্তিকে না পাওয়া গেলে উহার হেফাজত ও অর্পণ সম্পর্কে যেরূপ মনে করেন সেরূপ আদেশ দিবেন।
- জব্দকৃত মারের মালিক অজ্ঞাত হলে পদ্ধতি:
(২) সম্পত্তি দখলের অধিকারী ব্যক্তি যদি পরিচিত হয় তাহলে ম্যাজিষ্ট্রেট যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সেরূপ শর্তে (যদি আরোপিত হয়) তাকে সম্পত্তি প্রদানের আদেশ দিতে পারবেন। কিন্তু উক্ত ব্যক্তি যদি অজ্ঞাত হয় তাহলে ম্যাজিষ্ট্রেট উক্ত সম্পত্তি আটক রাখতে পারবেন এবং সেক্ষেত্রে, তিনি সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণসহ এই মর্মে একটি ঘোষণা দিবেন যে, উক্ত সম্পত্তিতে কারো কোন দাবী থাকলে ঘোষণা তারিখ হতে এক মাসের মধ্যে তার সামনে হাজির হয়ে উক্ত দাবী প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section-523: Procedure by police upon seizure of property taken under section 51 or stolen:
(1) The seizure by any police-officer of property taken under section 51, or alleged or suspected to have been stolen, or found under circumstances which create suspicion of the commission of any offence, shall be forthwith reported to a Magistrate, who shall make such order as he thinks fit respecting the disposal of such property or the delivery of such property to the person entitled to the possession thereof, or, if such person cannot be ascertained, respecting the custody and production of such property.
-Procedure where owner of property seized unknown:
(2) If the person so entitled is known, the Magistrate may order the property to be delivered to him on such conditions (if any) as the Magistrate thinks fit. If such person is unknown, the Magistrate may detain it and shall, in such case, issue a Proclamation specifying the articles of which such property consists, and requiring any person who may have a claim thereto, to appear before him and establish his claim within [one month] from the date of such proclamation.

১৮.
'মিথ্যা প্রমাণ তৈরি করা' (Fabricating false evidence) এর সংজ্ঞা কোন ধারায় দেওয়া আছে?
  1. ধারা ১৯১
  2. ধারা ১৯২
  3. ধারা ১৯৩
  4. ধারা ১৯৪
সঠিক উত্তর:
ধারা ১৯২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ১৯২
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১৯২ ধারার বিধান: মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবন করা:- কোন ব্যক্তি যদি কোন অবস্থার অস্তিত্ব সৃষ্টি বা উদ্ভাবন করে, অথবা কোন বইতে বা রেকর্ডে মিথ্যা কথা লিপিবদ্ধ করে অথবা মিথ্যা বিবরণ সাক্ষ্য হিসেবে কোন বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমে অথবা সরকারী কর্মচারীর সম্মুখে সরকারী কর্মচারী হিসেবে কোন আইনগত কার্যক্রমে অথবা কোন সালিসের সম্মুখে উত্থাপন করার উদ্দেশ্যেই যদি তা করা হয়ে থাকে এবং অনুরূপ অবস্থা বা মিথ্যা দলিল বা মিথ্যা বিবৃতি যদি এমন প্রকৃতির হয় যে, উক্ত কার্যক্রমে যিনি সাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে তাঁর মতামত গঠন করবেন, তিনি উক্ত অবস্থা বা মিথ্যা দলিল বা মিথ্যা বিবৃতিজনিত সাক্ষ্যে প্রভাবিত হয়ে অনুরূপ কার্যক্রমের সাথে গুরুত্বপূর্ণভাবে জড়িত কোন বিষয় সম্পর্কে ভুল ধারণা বা মত পোষণ করবেন, তবে সে ব্যক্তি 'মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করেছে' বলে পরিগণিত হয়।
--------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 192. Fabricating false evidence:
Whoever causes any circumstance to exist or makes any false entry in any book or record, or makes any document containing a false statement, intending that such circumstance, false entry or false statement may appear in evidence in a judicial proceeding, or in a proceeding taken by law before  a public servant as such, or before an arbitrator, and that such  circumstance, false entry or false statement, so appearing in evidence, may cause any person who in such proceeding is to form an opinion upon the evidence, to entertain an erroneous opinion touching any point material to the result of such proceeding, is said "to fabricate the evidence.” 

Illustrations:
(a) A puts jewels into a box belonging to Z, with the intention that they may be found in that box, and that this circumstance may cause Z to be convicted of theft. A has fabricated false evidence. 
(b) A makes a false entry in his Shop-book for the purpose of using it as corroborative evidence in a Court of Justice. A has fabricated false evidence. 
(c) A, with the intention of causing Z to be convicted of a criminal conspiracy, writes a letter in imitation of Z's handwriting purporting to be addressed to an accomplice in such criminal conspiracy, and puts the letter in a place which he knows that the officers of the Police are likely to search. A has fabricated false evidence.

১৯.
‘E’ একটি মামলায় ‘F’-এর বিরুদ্ধে দাবি করে যে একটি গাড়ি বিক্রির সময় ত্রুটিপূর্ণ ছিল। ‘E’ বলে, “এই বিষয়ে ‘G’-এর কাছে জিজ্ঞাসা করো, তিনি সব জানেন।” ‘G’ বলেন, “গাড়িটি বিক্রির সময় ত্রুটিপূর্ণ ছিল।” সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুসারে ‘G’-এর বক্তব্য স্বীকারোক্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্য?
  1. ধারা ১৮
  2. ধারা ১৯
  3. ধারা ২০
  4. ধারা ২২
সঠিক উত্তর:
ধারা ২০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ২০
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ২০ অনুসারে, মামলার কোনো পক্ষ যদি কোনো ব্যক্তির কাছে স্পষ্টভাবে তথ্যের জন্য উল্লেখ করে, তবে সেই ব্যক্তির বক্তব্য স্বীকারোক্তি (Admission) হিসেবে গ্রহণযোগ্য। এখানে ‘E’ স্পষ্টভাবে বলেছে, “এই বিষয়ে ‘G’-এর কাছে জিজ্ঞাসা করো, তিনি সব জানেন।” তাই ‘G’-এর বক্তব্য, “গাড়িটি বিক্রির সময় ত্রুটিপূর্ণ ছিল,” ধারা ২০-এর অধীনে স্বীকারোক্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
--------- 
⇒ The Evidence Act, 1872- Section- 20. Admissions by persons expressly referred to by party to suit:
- Statements made by persons to whom a party to the suit has expressly referred for information in reference to a matter in dispute are admissions.
Illustrations:
- The question is whether a horse sold by A to B is sound.
- A says to B–"Go and ask C; C knows all about it." C's statement is an admission.

২০.
ইসলামী ফৌজদারি আইনের শাস্তির দর্শনের ভিত্তি কী ছিল?
  1. সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা
  2. প্রতিশোধের উদ্দেশ্যে শাস্তি
  3. অপরাধীর পুনর্বাসনের জন্য শাস্তি
  4. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
সঠিক উত্তর:
অপরাধীর পুনর্বাসনের জন্য শাস্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরাধীর পুনর্বাসনের জন্য শাস্তি
ব্যাখ্যা

⇒ ইসলামী ফৌজদারি আইনে শাস্তির দর্শন প্রতিশোধ (revenge) নয়, বরং অপরাধীর সংস্কার বা পুনর্বাসনের (reformation) উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। শাস্তি নির্ধারণের ক্ষেত্রে এটি অপরাধের সীমা অতিক্রম করা উচিত নয় এবং এটি সমাজে উদাহরণ স্থাপনের (exemplary) মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক (deterrent) হওয়া উচিত। কুরআনের সূরা আল-মায়িদা (৫:৩৮)-এর উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে: "চোর পুরুষ ও চোর নারীর হাত কেটে দাও, তাদের কৃতকর্মের প্রতিদানস্বরূপ, আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি exemplary punishment। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ইসলামী সমাজে শাস্তির উদ্দেশ্য হলো অপরাধীকে সংস্কার করা এবং সমাজে অপরাধ প্রতিরোধ করা। ইসলামী অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, যাতে অপরাধের প্রবৃত্তি হ্রাস পায়।
উদাহরণস্বরূপ, চুরির মতো অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তি (যেমন, হাত কাটা) নির্ধারিত হলেও, এটি সমাজে সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখার জন্য এবং অপরাধীকে সংশোধনের পথে আনার জন্য প্রয়োগ করা হয়। ইসলামী সমাজে সরল জীবনযাপন, সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং অপ্রয়োজনীয় রীতিনীতি থেকে বিরত থাকার উপর জোর দেওয়া হয়, যা অপরাধের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা: যদিও ইসলামী ফৌজদারি আইনের একটি লক্ষ্য ছিল সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, তবে এটি শাস্তির মূল দর্শন নয়। শৃঙ্খলা রক্ষা একটি ফলাফল, কিন্তু শাস্তির প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল অপরাধীর পুনর্বাসন।
খ) প্রতিশোধের উদ্দেশ্যে শাস্তি: ইসলামে শাস্তি প্রতিশোধের জন্য নয়। প্রতিশোধের পরিবর্তে, ইসলামী আইন অপরাধীর সংস্কার ও সমাজের সুরক্ষার উপর জোর দেয়। উদাহরণস্বরূপ, দিয়াত (রক্তমূল্য) বা কিসাস (সমান প্রতিশোধ) ব্যবস্থা থাকলেও, এগুলো সংস্কার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য নিয়ন্ত্রিত হয়।
ঘ) বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ: ইসলামী ফৌজদারি আইনে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা একটি গৌণ বিষয় ছিল। শাস্তির দর্শন মূলত অপরাধীর সংস্কার ও সমাজে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার সাথে সম্পর্কিত। বিচারকদের বিবেচনাধীন ক্ষমতা (যেমন তাজির) থাকলেও, এটি শাস্তির প্রধান ভিত্তি নয়।

অর্থাৎ ইসলামী ফৌজদারি আইনের শাস্তির দর্শন ছিল অপরাধীর পুনর্বাসন ও সংস্কারের উপর ভিত্তি করে, যা সমাজে ন্যায়বিচার ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োগ করা হতো। এটি প্রতিশোধের পরিবর্তে প্রতিরোধমূলক ও সংস্কারমূলক পদ্ধতির উপর জোর দেয়।

তথ্যসূত্র: Enactment of Penal Code, 1860: A Historical Analysis by Dr. Masuma Pervin. [লিঙ্ক]

২১.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে cross-examination এ কোন ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যায়?
  1. সাক্ষীর সত্যতা পরীক্ষা করার জন্য প্রশ্ন
  2. সাক্ষীর পরিচয় ও জীবনযাত্রা সম্পর্কিত প্রশ্ন
  3. সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার জন্য প্রশ্ন
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৪৬ অনুসারে, জেরায় (Cross-examination) সাক্ষীকে এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যায় যা নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যে সহায়ক হয়: 
সাক্ষীর সত্যতা পরীক্ষা করার জন্য প্রশ্ন (ক): জেরায় একটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো সাক্ষীর সাক্ষ্যের সত্যতা যাচাই করা। এটি সাক্ষীর দেওয়া তথ্যের সঠিকতা বা নির্ভরযোগ্যতা পরীক্ষা করার জন্য প্রশ্ন জিজ্ঞাসার মাধ্যমে করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, সাক্ষীর দেওয়া বিবৃতির সাথে তার পূর্বের বিবৃতি বা অন্য প্রমাণের অসঙ্গতি খুঁজে বের করা।
সাক্ষীর পরিচয় ও জীবনযাত্রা সম্পর্কিত প্রশ্ন (খ): জেরায় সাক্ষীর পরিচয়, পেশা, সামাজিক অবস্থান বা জীবনযাত্রা সম্পর্কিত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যায় যাতে তার প্রেক্ষাপট বোঝা যায়। এটি সাক্ষীর সাক্ষ্যের পটভূমি বা বিশ্বাসযোগ্যতা মূল্যায়ন করতে সহায়ক হয়।
সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার জন্য প্রশ্ন (গ): জেরায় এমন প্রশ্ন করা যায় যা সাক্ষীর চরিত্র বা বিশ্বাসযোগ্যতার উপর প্রশ্ন তুলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, সাক্ষীর পূর্বের অপরাধের রেকর্ড বা পক্ষপাতমূলক আচরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা যেতে পারে। তবে, ধারা ১৪৬-এর প্রোভাইসো অনুসারে, ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টার মামলায় সাক্ষীর সাধারণ নৈতিক চরিত্র বা পূর্বের যৌন আচরণ সম্পর্কিত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যায় না, যদি না আদালতের অনুমতি থাকে এবং তা ন্যায়ের স্বার্থে প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয়।

অর্থাৎ জেরায় সাক্ষীর সত্যতা পরীক্ষা, তার পরিচয় ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার জন্য প্রশ্ন করা যায়। অতএব, সঠিক উত্তর হলো উপরের সবগুলো।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪৬ ধারার বিধান জেরায় আইনসঙ্গত প্রশ্ন: যখন সাক্ষীকে জেরা করা হয় তখন ইতিপূর্বে উল্লেখিত প্রশ্নসমূহ ছাড়াও এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে, যা দ্বারা:
১) তার সত্যবাদিতা পরীক্ষা করা যায়।
২) তার পরিচয় ও মর্যাদা জানা যায়, অথবা
৩) তার চরিত্রের প্রতি আঘাত করে তার বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করা যায়, যদিও এরূপ প্রশ্নের উত্তরের দ্বারা তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অপরাধের সাথে জড়িত হতে পারে অথবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তার দণ্ড বা বাজেয়াপ্তির সম্ভাবনা থাকে।
তবে শর্ত থাকে যে, ধর্ষণের অপরাধ বা ধর্ষণের চেষ্টার জন্য একটি মামলায়, দফা (৩) এর অধীনে ভিক্টিমের সাধারণ অনৈতিক চরিত্র বা পূর্ববর্তী যৌন আচরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যাবে না:
আরও শর্ত থাকে যে, এই ধরনের প্রশ্ন শুধুমাত্র আদালতের অনুমতি নিয়েই জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে, যদি এটি ন্যায়বিচারের জন্য আদালতের কাছে প্রয়োজনীয় বলে মনে হয়।
----------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section-146. Questions lawful in cross-examination:
 When a witness is cross-examined, he may, in addition to the questions hereinbefore referred to, be asked any questions which tend –
(1) to test his veracity,
(2) to discover who he is and what is his position in life, or
(3) to shake his credit, by injuring his character, although the answer to such questions might tend directly or indirectly to criminate him or might expose or tend directly or indirectly to expose him to a penalty or forfeiture:
Provided that in a prosecution for an offence of rape or attempt to rape, no question under clause (3) can be asked in the cross-examination as to general immoral character or previous sexual behaviour of the victim:
Provided further that such question can only be asked with the permission of the Court, if it appears to the Court necessary for the ends of justice.

২২.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হলে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা যাবে?
  1. Section 46A
  2. Section 46C
  3. Section 46E
  4. Section 54A
সঠিক উত্তর:
Section 46E
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Section 46E
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির, ১৮৯৮-এর (Act No. V of 1898) দ্বিতীয় সংশোধনী অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর অধীনে ধারা ৪৬ঙ (Section 46E)-এর উপ-ধারা (৩)-এর প্রভিশন (Proviso) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি গুরুতরভাবে অসুস্থ বা আহত হয় এবং শারীরিকভাবে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থাপন করা অসম্ভব হয়, তবে তাকে ইলেকট্রনিক ভিডিও লিংকের মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা যাবে। এই প্রক্রিয়া ম্যাজিস্ট্রেটের সন্তুষ্টি এবং তার নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে সম্পন্ন হবে। এই বিধান গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এবং বিচার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদানের জন্য সন্নিবেশিত হয়েছে।

- অর্থাৎ ধারা ৪৬ঙ (Section 46E)-এর উপ-ধারা (৩)-এর প্রভিশন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ বা আহত হলে এবং শারীরিকভাবে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজিরা অসম্ভব হলে, তাকে ইলেকট্রনিক ভিডিও লিংকের মাধ্যমে হাজির করা যাবে।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 46E. Examination of arrested person by medical officer.-
(1) When any person arrested appears to be sick or bears any mark of injury, he shall, soon after the arrest is made, be examined and provided with first aid treatment by a medical officer of a Government hospital; and if such medical officer is not available, by a registered medical practitioner:

Provided that where the arrested person is a female, the examination of her body shall, if practicable, be conducted by or under the supervision of a female medical officer or a female medical practitioner, or in the presence of a female staff nurse or a female attendant, as the case may be.

(2) Where an examination and treatment are conducted under sub-section (1), a certificate along with the report of such examination and treatment shall be furnished by the medical officer or registered medical practitioner, as the case may be, to the concerned police-officer, as well as to the arrested person or to a person nominated by him.

(3) Where an arrested person, being sick or injured, is produced before the Magistrate, the Magistrate may pass necessary orders for his medical treatment:
Provided that where the arrested person is severely injured or sick in a manner which requires his admission into a hospital and renders his physical production before the Magistrate impracticable, he may be produced through electronic video linkage, subject to the satisfaction of the Magistrate and to such terms as the Magistrate may determine.”

২৩.
‘E’ একজন মহিলার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে, যিনি বিশ্বাস করেন যে ‘E’ তার স্বামী, কিন্তু ‘E’ জানে যে সে তার স্বামী নয়। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৩৭৬ অনুসারে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ২ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  3. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
সঠিক উত্তর:
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৩৭৫ অনুসারে, কোনো পুরুষ যদি জেনে যে সে মহিলার স্বামী নয়, এবং মহিলা তাকে স্বামী মনে করে সম্মতি দেয়, তবে তা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য (চতুর্থ শর্ত)। এখানে, ‘E’ জেনে যে সে মহিলার স্বামী নয়, তার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছে, যা ধারা ৩৭৫-এর অধীনে ধর্ষণ। ধারা ৩৭৬ অনুসারে, ধর্ষণের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা।
- সুতরাং, ‘E’-এর অপরাধের জন্য ধারা ৩৭৬ অনুসারে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারার বিধান ধর্ষণ (Rape):- কোন পুরুষ অতঃপর উল্লেখিত ব্যতিক্রম ভিন্ন অপর সকল ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পাঁচটি যেকোন অবস্থায় কোন স্ত্রীলোকের সাথে যৌনসঙ্গম করলে সে ধর্ষণ করেছে বলে পরিগণিত হবে।
প্রথমত:- স্ত্রীলোকটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে।
দ্বিতীয়ত:- স্ত্রীলোকটির সম্মতি ব্যতিরেকে।
তৃতীয়ত:- স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমেই, যেক্ষেত্রে মৃত্যু বা জখমের ভয় প্রদর্শন করে স্ত্রীলোকটির সম্মতি আদায় করা হলে।
চতুর্থত:- স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমেই, যেক্ষেত্রে পুরুষটি জানে যে, সে স্ত্রীলোকটি স্বামী নয়, এবং পুরুষটি ইহার জানে যে, স্ত্রীলোকটি তাকে এমন অপর একজন পুরুষ বলে ভুল করেছে, যে পুরুষটির সাথে সে আইন সম্মতভাবে বিবাহিত হয়েছে বা বিবাহিত বলে বিশ্বাস করে।
পঞ্চমত:- স্ত্রীলোকটি সম্মতিক্রমে অথবা সম্মতি ব্যতিরেকে, যদি স্ত্রীলোকটির বয়স চৌদ্দ বৎসরের কম হয়।
ব্যাখ্যা:- ধর্ষণের অপরাধের জন্য আবশ্যকীয় যৌনসঙ্গমের জন্য যৌনাঙ্গ প্রবিষ্ট করাই যথেষ্ট গণ্য হবে।
ব্যতিক্রম:- কোন পুরুষের কর্তৃক নিজ স্ত্রীর সাথে যৌনসঙ্গম ধর্ষণ বলে পরিগণিত হবে না, যদি স্ত্রী তের বৎসরে নিম্ন বয়স্কা না হয়।
--------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 375.Rape:
 A man is said to commit "rape" who except in the case hereinafter excepted, has sexual intercourse with a woman under circumstances falling under any of the five following descriptions: 
Firstly. Against her will. 
Secondly. Without her consent. 
Thirdly. With her consent, when her consent has been obtained by putting her in fear of death, or of hurt. 
Fourthly. With her consent, when the man knows that he is not her husband, and that her consent is given because she believes that he is another man to whom she is or believes herself to be lawfully married. 
Fifthly. With or without her consent, when she is under fourteen years of age. 
Explanation. Penetration is sufficient to constitute the sexual intercourse necessary to the offence of rape. 
Exception. Sexual intercourse by a man with his own wife, the wife not being under thirteen years of age, is not rape.

২৪.
Criminal Procedure Code-এর প্রথম সংস্করণ কোন সালে প্রণীত হয়?
  1. ১৮৬০ সালে
  2. ১৮৬১ সালে
  3. ১৮৮২ সালে
  4. ১৮৯৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৬১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬১ সালে
ব্যাখ্যা

⇒ ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড (Code of Criminal Procedure) এর ইতিহাস ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনকালে ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
- এই কোডের প্রথম সংস্করণ ১৮৬১ সালে প্রণীত হয়েছিল, যা ভারতীয় দণ্ডবিধি (Indian Penal Code), ১৮৬০ পাস হওয়ার পরবর্তী বছরে কার্যকর হয়।
- এই কোডটি ফৌজদারি মামলার তদন্ত, বিচার এবং আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য একটি কাঠামো প্রদান করেছিল।
অর্থাৎ ১৮৬১ সালের কোডটি ব্রিটিশ ভারতে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে সুসংগঠিত করার জন্য প্রণীত হয়েছিল।
- এটি পরবর্তীতে ১৮৮২, ১৮৯৮ এবং আরও অনেকবার সংশোধিত হয়েছে, যাতে সময়ের সাথে আইনের প্রয়োগ আরও কার্যকর হয়।
- ১৮৬১ সালের এই কোডটি ভারতীয় ফৌজদারি আইনের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

২৫.
একজন ব্যক্তি হঠাৎ ঝগড়ার উত্তেজনায় (Sudden fight in heat of passion) অন্য একজনকে মেরে ফেললে তা খুন না হয়ে Culpable homicide হিসেবে গণ্য হতে পারে ধারা ৩০০ এর কোন ব্যতিক্রমের আওতায়?
  1. ব্যতিক্রম ২
  2. ব্যতিক্রম ৩
  3. ব্যতিক্রম ৪
  4. ব্যতিক্রম ৫
সঠিক উত্তর:
ব্যতিক্রম ৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যতিক্রম ৪
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩০০-এর ব্যতিক্রম ৪-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দোষপূর্ণ হত্যা (Culpable Homicide) তখন খুন (Murder) হিসেবে গণ্য হবে না, যদি তা নিম্নলিখিত শর্তে ঘটে:
- পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই (without premeditation) হঠাৎ ঝগড়ার উত্তেজনায় (in a sudden fight in the heat of passion) ঘটে।
- ঝগড়াটি হঠাৎ এবং আকস্মিকভাবে (upon a sudden quarrel) শুরু হয়।
- অপরাধী অযাচিত সুবিধা গ্রহণ করেনি (without taking undue advantage)।
- অপরাধী নিষ্ঠুর বা অস্বাভাবিকভাবে (cruel or unusual manner) আচরণ করেনি।
এই ব্যতিক্রমে আরও বলা হয়েছে যে, কে প্রথমে উস্কানি দিয়েছে বা আক্রমণ শুরু করেছে তা বিবেচ্য নয়। অর্থাৎ, ঝগড়ার উৎপত্তি যে কোনো পক্ষ থেকে হতে পারে, কিন্তু যদি উপরের শর্তগুলো পূরণ হয়, তবে তা খুন নয়, বরং দোষপূর্ণ হত্যা হিসেবে বিবেচিত হবে।

উদাহরণ: যদি দুজন ব্যক্তি হঠাৎ ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে এবং উত্তেজনার মুহূর্তে একজন অপরজনকে আঘাত করে মেরে ফেলে, তবে পূর্বপরিকল্পনা না থাকলে এবং অযাচিত সুবিধা বা নিষ্ঠুর আচরণ না থাকলে এটি ধারা ৩০০-এর ব্যতিক্রম ৪-এর আওতায় দোষপূর্ণ হত্যা হিসেবে গণ্য হবে।
------------
⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার বিধান খুন:- খুনের যে সবক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নির্দেশ করা হয়েছে। সে সকল ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের জন্যই করা হয়ে থাকে, অথবা

দ্বিতীয়ত, যদি কার্যটি কোন ব্যক্তিকে এমনভাবে দৈহিক আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে, যে আঘাতের ফলে যে ব্যক্তিকে আঘাত দেওয়া হল, সে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে অপরাধী জানে, অথবা

তৃতীয়ত, যদি কোন ব্যক্তিকে দৈহিক আঘাত দানের উদ্দেশ্যে কার্যটি করা হয় এবং যদি যে দৈহিক আঘাত দেওয়ার অভিসন্ধি করা হয়েছে, সে আঘাতটি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে যথেষ্ট হয়, অথবা
চতুর্থত, যদি যে ব্যক্তি কার্যটি অনুষ্ঠান করে সে ব্যক্তি জানে যে, কার্যটি এমন আশু বিপজ্জনক যে, ইহার দরুণ খুব সম্ভব মৃত্যু ঘটবে, অথবা ইহার দরুণ অবশ্যই এমন দৈহিক আঘাত ঘটবে, যার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে এবং মৃত্যু ঘটাবার বা অনুরূপ দৈহিক আঘাত ঘটাবার ঝুঁকি গ্রহণের অপর কোন অজুহাত ব্যতিরেকে অনুরূপ কার্য করে।
ব্যতিক্রম ১:- যেক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন পরিগণিত হবে না :- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনার ফলে অপরাধী আত্ম-সংযমশক্তি হারাইয়া ফেলে এবং যে ব্যক্তি প্ররোচনা দান করেছে, সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় অথবা ভুলক্রমে বা দুর্ঘটনাক্রমে অপর কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।

উপরোক্ত ব্যতিক্রমটি নিম্নোক্ত শর্তাবলী সাপেক্ষে:-
প্রথমত, প্ররোচনাটি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করার বা তার ক্ষতি সাধনের অজুহাতস্বরূপ অপরাধী কর্তৃক স্বয়ং প্রার্থীত বা প্ররোচিত হতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, উক্ত প্ররোচনাটি আইনানুসারে কৃত কোন কার্য দ্বারা বা কোন সরকারী কর্মচারীর সরকারী কর্মচারী হিসেবে যথাযোগ্য ক্ষমতাবলীর আইনসম্মত প্রয়োগসঞ্জাত হতে পারবে না।
তৃতীয়ত, প্ররোচনা আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের আইনসম্মত প্রয়োগক্রমে সম্পাদিত কোন কার্য পালন হতে পারবে না।
ব্যাখ্যা:- প্ররোচনাটি এমন মারাত্মক ও আকস্মিক ছিল কিনা, যার ফলে অপরাধটি খুনের শামিল হবে না, তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন।
ব্যতিক্রম ২:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধী সরল মনে তার আত্মরক্ষার অথবা সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগক্রমে তাকে আইন প্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং যার বিরুদ্ধে সে এই অধিকার প্রয়োগ করে, কোনরূপ পূর্ব-পরিকল্পনা ব্যতীত অথবা অনুরূপ অধিকার রক্ষার জন্য যতটুকু ক্ষতিসাধন করা আবশ্যক, তদপেক্ষা বেশি ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা ব্যতিরেকে, তার মৃত্যু ঘটায়।
ব্যতিক্রম ৩:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি দোষী একজন সরকারী কর্মচারী হিসেবে অথবা সরকারী কর্মচারীর সহায়তাকারী হিসেবে তাকে প্রদত্ত আইনানুগ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং এমন একটি কাজ সম্পাদন করে মত্যু ঘটায়, যা সে অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য আবশ্যকীয় ও আইনসম্মত বলে সরল মনে বিশ্বাস করে এবং সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে তার প্রতি কোনরূপ দুরভিসন্ধি ছাড়াই কার্যটি করে।
ব্যতিক্রম ৪:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধটি কোন আকস্মিক বিবাদের সময় আকস্মিক উত্তেজনার কারণে কোনরূপ পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই সংঘটিত হয় এবং অপরাধী কোন অন্যায় সুযোগ গ্রহণ না করে থাকে অথবা নিষ্ঠুরভাবে বা অস্বাভাবিকভাবে কার্য না করে থাকে।
ব্যাখ্যা:- এইরূপ ক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রথম উস্কানি দেয় বা প্রথম আঘাত করে, তা আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়।
ব্যতিক্রম ৫:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি সে ব্যক্তির মৃত্যু হয়, সে ব্যক্তি আঠারো বৎসরের উর্ধ্ব বয়স্ক হলে স্বেচ্ছায় স্বীয় সম্মতিক্রমে মৃত্যুবরণ করে বা মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করে।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 300. Murder:
 Except in the cases hereinafter excepted, culpable homicide is murder, if the act by which the death is caused is done with the intention of causing death, or-
Secondly.- If it is done with the intention of causing such bodily injury as the offender knows to be likely to cause the death of the person to whom the harm is caused, or –
Thirdly.- If it is done with the intention of causing bodily injury to any person and the bodily injury intended to be inflicted is sufficient in the ordinary course of nature to cause death, or –
Fourthly.- If the person committing the act knows that it is so imminently dangerous that it must, in all probability, cause death, or such bodily injury as is likely to cause death, and commits such act without any excuse for incurring the risk of causing death or such injury as aforesaid.
When culpable homicide is not murder
Exception 1.-Culpable homicide is not murder if the offender, whilst deprived of the power of self-control by grave and sudden provocation, causes the death of the person who gave the provocation or cause the death of any other person by mistake or accident.
The above exception is subject to the following provisos:
Firstly.-That the provocation is not sought or voluntarily provoked by the offender as an excuse for killing or doing harm to any person. 
Secondly.-That the provocation is not given by anything done in obedience to the law, or by a public servant in the lawful exercise of the powers of such public servant. 
Thirdly.-That the provocation is not given by anything done in the lawful exercise of the right of private defence. 
Explanation.- Whether the provocation was grave and sudden enough to prevent the offence from amounting to murder is a question of fact.
Exception 2.- Culpable homicide is not murder if the offender, in the exercise in good faith of the right of private defense of person or property, exceeds the powers given to him by law and causes the death of the person against whom he is exercising such right of defense without premeditation, and without any intention of doing more harm than is necessary for the purpose of such defense.
Exception 3.- Culpable homicide is not murder if the offender, being a public servant or aiding a public servant acting for the advancement of public justice, exceeds the powers given to him by law, and causes death by doing an act which he, in good faith, believes to be lawful and necessary for the due discharge of his duty as such public servant and without ill-will towards the person whose death is caused.
Exception 4.-Culpable homicide is not murder if it is committed without premeditation in a sudden fight in the heat of passion upon a sudden quarrel and without the offender's having taken undue advantage or acted in a cruel or unusual manner. 
Explanation.- It is immaterial in such cases which party offers the provocation or commits the first assault.
Exception 5.- Culpable homicide is not murder when the person whose death is caused, being above the age of eighteen years, suffers death or takes the risk of death with his own consent.

২৬.
‘D’ নিয়মিতভাবে চুরি হওয়া সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় করে, জেনে যে সেগুলো চুরি হয়েছে। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর বিধান অনুসারে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  3. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
সঠিক উত্তর:
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪১৩ অনুসারে, যে কেউ নিয়মিতভাবে চুরি হওয়া সম্পত্তি জেনে বা বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও ক্রয়-বিক্রয় করে, তার শাস্তি হলো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১০ বছর পর্যন্ত যেকোনো প্রকারের কারাদণ্ড এবং জরিমানা। এখানে, ‘D’ নিয়মিতভাবে চুরি হওয়া সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় করেছে, জেনে যে সেগুলো চুরি হয়েছে, যা ধারা ৪১৩-এর অধীনে অপরাধ। সুতরাং, সর্বোচ্চ শাস্তি হলো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
সুতরাং, ধারা ৪১৩ অনুসারে ‘D’-এর অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ৪১৩ ধারার বিধান অভ্যাসগতভাবে চোরাই সম্পত্তির বেচাকেনা করা:- কোন ব্যক্তি যদি যে সম্পত্তি চোরাই বলে সে জানে বা তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, অভ্যাসগতভাবে বরাবর সে সম্পত্তির বেচাকেনা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।
-------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 413. Habitually dealing in stolen property:- Whoever habitually receives or deals in property which he knows or has reason to believe to be stolen property, shall be punished with imprisonment for life, or with imprison - ment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.

২৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন অধ্যায়ে সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণের জন্য কমিশন প্রেরণের বিধান রয়েছে?
  1. অধ্যায় XXXVI
  2. অধ্যায় XXXIX
  3. অধ্যায় XL
  4. অধ্যায় XLI
সঠিক উত্তর:
অধ্যায় XL
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যায় XL
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি (Code of Criminal Procedure) এর অধ্যায় XL (Chapter XL) এর মধ্যে সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণের জন্য কমিশন প্রেরণের বিধান রয়েছে। এই অধ্যায়টি "Of Commissions for the Examination of Witnesses" শিরোনামে পরিচিত এবং এতে ধারা 503 থেকে 508A পর্যন্ত বিধানগুলো রয়েছে। এই ধারাগুলোতে সাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়া কমিশন জারির প্রক্রিয়া, কমিশন কার কাছে পাঠানো যাবে, কীভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে, এবং কমিশন ফেরত প্রদানের নিয়মাবলী বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
অতএব, সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণের জন্য কমিশন প্রেরণের বিধান ফৌজদারি কার্যবিধির অধ্যায় XL এর অধীনে রয়েছে।

২৮.
একটি মামলায় প্রশ্ন ওঠে যে ‘A’ এবং ‘B’ বৈধভাবে বিবাহিত কিনা। ‘A’-এর মৃত পিতা একটি উইলে লিখেছিলেন, “আমার পুত্র ‘A’ এবং ‘B’ একটি নির্দিষ্ট তারিখে বিবাহ করেছেন।” সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুসারে এই উইলের বক্তব্য প্রাসঙ্গিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য?
  1. ধারা ৩২(৩)
  2. ধারা ৩২(৫)
  3. ধারা ৩২(৬)
  4. ধারা ৩২(৭)
সঠিক উত্তর:
ধারা ৩২(৬)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৩২(৬)
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩২(৬) অনুসারে, মৃত ব্যক্তির বক্তব্য যদি রক্ত, বিবাহ বা দত্তক সম্পর্কের অস্তিত্ব সম্পর্কিত হয় এবং তা কোনো উইল, দলিল, পারিবারিক বংশতালিকা, সমাধিস্তম্ভ, পারিবারিক প্রতিকৃতি বা এই জাতীয় অন্য কোনো বিষয়ে লিখিত হয়, এবং বক্তব্যটি বিতর্ক শুরুর আগে দেওয়া হয়, তবে তা প্রাসঙ্গিক। এখানে ‘A’-এর মৃত পিতার উইলে লিখিত বক্তব্য, “‘A’ এবং ‘B’ একটি নির্দিষ্ট তারিখে বিবাহিত হয়েছেন,” বিবাহ সম্পর্কের অস্তিত্ব নির্দেশ করে এবং উইলে লিখিত, তাই ধারা ৩২(৬)-এর অধীনে প্রাসঙ্গিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

অন্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
ধারা ৩২(৩): মৃত ব্যক্তির বক্তব্য যদি তার আর্থিক বা সম্পত্তিগত স্বার্থের বিরুদ্ধে হয় বা তাকে ফৌজদারি মামলা বা ক্ষতিপূরণের মামলার জন্য দায়ী করতে পারে, তবে তা প্রাসঙ্গিক। এই বক্তব্য এই শ্রেণিতে পড়ে না।
ধারা ৩২(৫): মৃত ব্যক্তির বক্তব্য যদি রক্ত, বিবাহ বা দত্তক সম্পর্কের বিষয়ে হয় এবং তিনি এই সম্পর্ক সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন, তবে তা প্রাসঙ্গিক। তবে এটি উইল বা দলিলের মতো নির্দিষ্ট নথির উল্লেখ করে না, তাই এখানে প্রযোজ্য নয়।
ধারা ৩২(৭): ধারা ১৩(ক)-এ উল্লিখিত লেনদেন সম্পর্কিত কোনো দলিল, উইল বা অন্য নথিতে থাকা বক্তব্য প্রাসঙ্গিক। এটি সম্পত্তির অধিকার বা দাবি সম্পর্কিত, যা এখানে প্রযোজ্য নয়।

-The Evidence Act, 1872, Section-32:Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant
- Statements, written or verbal, of relevant facts made by a person who is dead, or who cannot be found, or who has become incapable of giving evidence, or whose attendance cannot be procured without an amount of delay or expense which under the circumstances of the case appears to the Court unreasonable, are themselves relevant facts in the following cases:–
(6)or is made in will or deed relating to family affairs;
- When the statement relates to the existence of any relationship by blood, marriage or adoption between persons deceased, and is made in any will or deed relating to the affairs of the family to which any such deceased person belonged, or in any family pedigree or upon any tombstone, family portrait or other thing on which such statements are usually made, and when such statement was made before the question in dispute was raised.

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে, আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-
ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারণ সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণা (dying declaration);
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি (statement made in course of business);
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরণের মামলার উদ্ভব করতে পারে (statement against interest of maker);
iv) সর্বসাধারণের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত (opinion as to public right or custom, or matters of general interest);
v) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি (relates to existence of relationship);
vi) পারিবারিক দলিল বা উইল (statement made in will or deed relating to family affairs);
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি (Statement made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question).
-----------
-The Evidence Act, 1872, Section-32: Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant.
- When it relates to cause of death;
or is made in course of business;
or against interest of maker;
or gives opinion as to public right or custom, or matters of general interest;
or relates to existence of relationship;
or is made in will or deed relating to family affairs;
or in document relating to transaction mentioned in section 13, clause (a);
or is made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question

২৯.
‘A’ একজন ব্যক্তি ‘Z’-কে হুমকি দেয় যে, যদি ‘Z’ তাকে ১০,০০০ টাকা না দেয়, তবে সে ‘Z’-এর সন্তানকে আঘাত করবে। ভয়ের কারণে ‘Z’ টাকা দেয়। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর কোন ধারা অনুসারে ‘A’ অপরাধী হবে?
  1. ধারা ৩৩৬
  2. ধারা ৩৮৩
  3. ধারা ৩৮৬
  4. ধারা ৩৮৮
সঠিক উত্তর:
ধারা ৩৮৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৩৮৬
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৩৮৬ অনুসারে, যে কেউ কোনো ব্যক্তিকে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের (grievous hurt) ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে এবং তার ফলে সম্পত্তি বা মূল্যবান নিরাপত্তা হস্তান্তর করায়, সে দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানার জন্য দায়ী হবে। এই ক্ষেত্রে, ‘A’ ‘Z’-এর সন্তানকে আঘাত করার ভয় দেখিয়ে ১০,০০০ টাকা হস্তান্তর করিয়েছে। যদিও প্রশ্নে "আঘাত" শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তবে এটি গুরুতর আঘাতের ভয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, কারণ সন্তানের প্রতি হুমকি গুরুতর প্রকৃতির। অতএব, এই ঘটনা ধারা ৩৮৬-এর অধীনে চাঁদাবাজি হিসেবে বিবেচিত হবে।
অর্থাৎ ‘A’-এর কাজটি গুরুতর আঘাতের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা ধারা ৩৮৬-এর অধীনে অপরাধ। অতএব, সঠিক উত্তর হলো ধারা ৩৮৬।
--------- 
⇒ The Penal Code, 1860- Section-386. Extortion by putting a person in fear of death or grievous hurt:
Whoever commits extortion by putting any person in fear of death or of grievous hurt to that person or to any other, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.

৩০.
দেওয়ানি মামলায় প্রমাণের ভার (Burden of Proof) কার উপর থাকে?
  1. সাক্ষীর উপর
  2. বাদীর উপর
  3. বিবাদীর উপর
  4. বিচারকের উপর
সঠিক উত্তর:
বাদীর উপর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাদীর উপর
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১০১ এবং ১০২ অনুসারে, দেওয়ানি মামলায় প্রমাণের ভার (Burden of Proof) সাধারণত বাদী (Plaintiff) বা যিনি মামলা দায়ের করেন তার উপর থাকে। এর কারণ হলো, বাদীই আদালতে কোনো আইনি অধিকার বা দায়িত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য নির্দিষ্ট তথ্যের অস্তিত্ব দাবি করেন। তিনি যে তথ্য বা দাবি উপস্থাপন করেন, তা প্রমাণ করার দায়িত্ব তারই। যদি কোনো পক্ষ কোনো প্রমাণ না দেয়, তবে যিনি মামলায় ব্যর্থ হবেন, প্রমাণের ভার তার উপর বর্তায়। দেওয়ানি মামলায় এটি সাধারণত বাদী হন, কারণ তিনিই মামলার দাবি নিয়ে আদালতে আসেন।

দেওয়ানি মামলায় প্রমাণের ভারের মানদণ্ড:
দেওয়ানি মামলায় বাদীকে সাধারণত প্রাধান্যের প্রমাণ (Preponderance of the Evidence) প্রদান করতে হয়, অর্থাৎ তাদের দাবি ৫০% এর বেশি সম্ভাব্য সত্য বলে প্রমাণ করতে হয়। এটি ফৌজদারি মামলার তুলনায় কম কঠোর মানদণ্ড, যেখানে প্রসিকিউশনকে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ঊর্ধ্বে (Beyond a Reasonable Doubt) প্রমাণ করতে হয়।

অর্থাৎ দেওয়ানি মামলায় প্রমাণের ভার সাধারণত বাদীর উপর থাকে, কারণ তিনিই আদালতে দাবি উত্থাপন করেন এবং সেই দাবির সমর্থনে তথ্য প্রমাণ করার দায়িত্ব তার। এটি সাক্ষ্য আইনের ধারা ১০১ ও ১০২-এর মূলনীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

৩১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৫ ধারার (১) উপধারা অনুসারে কে বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনার অনুমতি দিতে পারে?
  1. সরকার
  2. ম্যাজিস্ট্রেট
  3. পুলিশ সুপার
  4. অ্যাটর্নি জেনারেল
সঠিক উত্তর:
ম্যাজিস্ট্রেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৫ ধারার (১) উপধারা অনুসারে, কোনো মামলার ইনকোয়ারি বা বিচারকারী ম্যাজিস্ট্রেট সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদের নিম্নপদস্থ কোনো পুলিশ অফিসার ব্যতীত অন্য যেকোনো ব্যক্তিকে বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনার অনুমতি প্রদান করতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৫- সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনার অনুমতি:
(১) কোন মামলার ইনকোয়ারি বা বিচারকারী ম্যাজিস্ট্রেট সরকার কর্তৃক এতদ্‌বিষয় নির্ধারিত পদের নিম্নপদস্থ কোন পুলিশ অফিসার ব্যতীত অন্য যেকোনো ব্যক্তিকে বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনার অনুমতি প্রদান করতে পারবেন, কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল, সরকারি সলিসিটর, পাবলিক প্রসিকিউটর অথবা সরকার কর্তৃক এই বিষয়ে সাধারণ বা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন অফিসার ব্যতীত কোন ব্যক্তি উক্ত অনুমতি ব্যতিরেকে বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনার অধিকারী হবে না।
(২) মামলা প্রত্যাহারের ব্যাপারে এরূপ অফিসারের ধারা-৪৯৪ এ উল্লিখিত ক্ষমতা থাকবে এবং তাঁর প্রত্যাহৃত মামলার ক্ষেত্রে উক্ত ধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে।
(৩) বাদীপক্ষের মামলা পরিচালনাকারী কোন ব্যক্তিতা ব্যক্তিগতভাবে বা কোন অ্যাডভোকেট কর্তৃক এরূপ করতে পারবেন।
(৪) যে অপরাধের জন্য আসামীর বিচার চলছে সেই অপরাধের কোন তদন্তে অংশ গ্রহণ করে থাকলে কোন পুলিশ অফিসারকে বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনার অনুমতি প্রদান করা হবে না।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section 495- Permission to conduct prosecution:
(1) Any Magistrate inquiring into or trying any case may permit the prosecution to be conducted by any person other than an officer of police below the rank to be prescribed by the Government in this behalf but no person, other than the Attorney-General, Government Solicitor, Public Prosecutor or other officer generally or specially empowered by the Government in this behalf, shall be entitled to do so without such permission.
(2) Any such officer shall have the like power of withdrawing the prosecution as is provided by section 494, and the provisions of that section shall apply to any withdrawal by such officer.
(3) Any person conducting the prosecution may do so personally or by a pleader.
(4) An officer of police shall not be permitted to conduct the prosecution if he has taken any part in the investigation into the offence with respect to which the accused is being prosecuted.

৩২.
একটি হত্যার মামলায় ‘E’ এবং ‘F’ অভিযুক্ত। ‘F’ দুষ্কর্মের সহযোগী হিসেবে সাক্ষ্য দেয় যে ‘E’ হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। ‘F’-এর সাক্ষ্যের সমর্থনে অন্য কোনো প্রমাণ নেই। সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুসারে ‘F’-এর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য এবং এর ভিত্তিতে সাজা বেআইনি হবে না?
  1. ধারা ১১৫
  2. ধারা ১৩০
  3. ধারা ১৩২
  4. ধারা ১৩৩
সঠিক উত্তর:
ধারা ১৩৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ১৩৩
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৩৩ অনুসারে, দুষ্কর্মের সহযোগী (accomplice) একজন আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য উপযুক্ত সাক্ষী হিসেবে গণ্য। তার অসমর্থিত (uncorroborated) সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাজা দেওয়া হলেও কেবল এই কারণে সাজা বেআইনি হবে না। এখানে ‘F’ দুষ্কর্মের সহযোগী হিসেবে ‘E’-এর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছে, এবং তার সাক্ষ্যের সমর্থনে অন্য কোনো প্রমাণ না থাকলেও ধারা ১৩৩-এর অধীনে এটি গ্রহণযোগ্য এবং এর ভিত্তিতে সাজা বৈধ।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারার বিধান দুষ্কর্মে সহযোগী: দুষ্কর্মের সহযোগী আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি বলিয়া গণ্য হইবেন। দুষ্কর্মের সহযোগীর অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আসামিকে সাজা দেওয়া হইলে কেবল সেই কারণেই উক্ত সাজা বেআইনি হইবে না।

⇒ ১৩৩ ধারা অনুযায়ী একজন দুষ্কর্মের সহযোগী অন্যান্য সহযোগী আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার যোগ্য এবং এর উপর ভিত্তি করে শাস্তি দেওয়া হলে বেআইনি হবে না।
-----------
⇒ The Evidence Act, 1872- Section-133. Accomplice: An accomplice shall be a competent witness against an accused person, and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.

৩৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী বিচার সমাপ্তির পর রায় উন্মুক্ত আদালতে ঘোষণা করতে হবে?
  1. ধারা ৩৬৪
  2. ধারা ৩৬৫
  3. ধারা ৩৬৬
  4. ধারা ৩৬৭
সঠিক উত্তর:
ধারা ৩৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৩৬৬
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি (Code of Criminal Procedure) এর অধ্যায় XXVI-এর ধারা ৩৬৬-এর অধীনে রায় ঘোষণার পদ্ধতি সম্পর্কিত বিধান দেওয়া আছে। এই ধারার উপ-ধারা (১) অনুযায়ী, প্রত্যেক ফৌজদারি আদালতের মূল এখতিয়ারে বিচারের রায় উন্মুক্ত আদালতে ঘোষণা করতে হবে। রায়টি হয় বিচার শেষ হওয়ার সাথে সাথে ঘোষণা করা হবে, অথবা পরবর্তী কোনো নির্দিষ্ট সময়ে, যার নোটিশ পক্ষগুলো বা তাদের উকিলদের দেওয়া হবে। এছাড়াও, রায়টি আদালতের ভাষায় বা আসামি বা তার উকিলের বোধগম্য ভাষায় ঘোষণা করতে হবে।

অর্থাৎ ধারা ৩৬৬-এর অধীনে আরও উল্লেখ আছে যে, যদি প্রসিকিউশন বা ডিফেন্সের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়, তবে পুরো রায়টি প্রিসাইডিং জজের দ্বারা পড়ে শোনাতে হবে। এছাড়াও, আসামির উপস্থিতি সাধারণত বাধ্যতামূলক, তবে কিছু ক্ষেত্রে (যেমন, শুধুমাত্র জরিমানার শাস্তি বা খালাসের ক্ষেত্রে) তার উকিলের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা যেতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৬: রায় প্রদানের পদ্ধতি:
১। মূল বিচারিক আদালতের প্রতিটি মামলার রায় ঘোষণা করতে হবে, অথবা রায়ের মূল সারাংশ ব্যাখ্যা করতে হবে—
(ক) খোলা আদালতে, হয় মামলার অবসানের সাথে সাথে অথবা পরে নির্ধারিত কোনো সময়ে, যার বিষয়ে পক্ষগণ বা তাদের আইনজীবীদের পূর্বে নোটিশ দিতে হবে; এবং
(খ) আদালতের ভাষায়, অথবা এমন ভাষায় যা আসামি বা তার আইনজীবী বুঝতে পারেন। তবে যদি প্রসিকিউশন বা ডিফেন্স পক্ষের অনুরোধ থাকে, তাহলে সম্পূর্ণ রায় বিচারক নিজে পড়ে শোনাবেন।
২। যদি আসামি হেফাজতে থাকে, তাহলে তাকে আদালতে হাজির করে রায় শোনানো হবে। যদি হেফাজতে না থাকে, তবে আদালত তাকে রায় শুনতে আসার নির্দেশ দিবে, তবে যদি আসামির ব্যক্তিগত উপস্থিতি মওকুফ করা হয় এবং রায় শুধুমাত্র জরিমানার বা খালাসের হয়, সেক্ষেত্রে রায় তার আইনজীবীর উপস্থিতিতে ঘোষণা করা যেতে পারে।
৩। রায় ঘোষণার দিনে যদি কোনো পক্ষ বা তাদের আইনজীবী অনুপস্থিত থাকেন, বা তাদের নোটিশ প্রদানে কোনো ত্রুটি বা ত্রুটিপূর্ণ সেবা হয়,
তবুও শুধু এই কারণেই রায় বাতিল হবে না।
৪। এই ধারার কোনো কিছুই ধারা ৫৩৭-এর ক্ষমতা বা প্রভাব সীমিত করে না।
----------- 
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section-366. Mode of delivering judgment:
(1) The judgment in every trial in any Criminal Court of original jurisdiction shall be pronounced, or the substance of such judgment shall be explained- 
(a) in open Court either immediately after the termination of the trial or at some subsequent time of which notice shall be given to the parties or their pleaders, and 
(b) in the language of the Court, or in some other language which the accused or his pleader understands: 
Provided that the whole judgment shall be read out by the presiding Judge, if he is requested so to do either by the prosecution or the defence. 
(2) The accused shall, if in custody, be brought up, or, if not in custody, be required by the Court to attend, to hear judgment delivered, except where his personal attendance during the trial has been dispensed with and the sentence is one of fine only or he is acquitted, in either of which cases it may be delivered in the presence of his pleader.
(3) No judgment delivered by any Criminal Court shall be deemed to be invalid by reason only of the absence of any party or his pleader on the day or from the place notified for the delivery thereof, or of any omission to serve, or defect in serving, on the parties of their pleaders, or any of them, the notice of such day and place.
(4) Nothing in this section shall be construed to limit in any way the extent of the provisions of section 537.

৩৪.
‘E’ একটি বই বিক্রি করে, যাতে Z-এর সম্পর্কে মানহানিকর বিষয় রয়েছে, এবং তিনি জানেন যে এটি মানহানিকর। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর বিধান অনুসারে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ১ বছরের কারাদণ্ড
  2. ২ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৫ বছরের কারাদণ্ড
সঠিক উত্তর:
২ বছরের কারাদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৫০২ অনুসারে, যে কেউ জেনেশুনে মানহানিকর বিষয় সম্বলিত কোনো মুদ্রিত বা খোদিত উপাদান বিক্রি করে বা বিক্রির জন্য প্রদর্শন করে, সে অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের শাস্তি হলো ২ বছর পর্যন্ত সাধারণ কারাদণ্ড, জরিমানা, বা উভয়ই। এখানে, ‘E’ জেনেশুনে Z-এর সম্পর্কে মানহানিকর বিষয় সম্বলিত একটি বই বিক্রি করেছে, যা ধারা ৫০২-এর অধীনে শাস্তিযোগ্য।

অর্থাৎ ‘E’-এর কাজ ধারা ৫০২-এর অধীনে মানহানিকর বিষয় বিক্রি হিসেবে গণ্য, এবং সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ২ বছরের সাধারণ কারাদণ্ড, জরিমানা, বা উভয়ই। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো খ) ২ বছরের কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ৫০২ ধারা – মানহানিকর বিষয়সম্বলিত মুদ্রিত বা খোদিত বস্তু বিক্রয়:
যে ব্যক্তি জানে যে কোনো মুদ্রিত বা খোদিত বস্তুতে মানহানিকর বিষয় রয়েছে এবং সে সেই বস্তু বিক্রয় বা বিক্রয়ের জন্য প্রস্তাব করে, তাকে দুই বছরের জন্য বিনাশ্রম কারাদণ্ড, বা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section 502-Sale of printed or engraved substance containing defamatory matter:
- Whoever sells or offers for sale any printed or engraved substance containing defamatory matter, knowing that it contains such matter, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

৩৫.
সাক্ষ্য আইনের Estoppel নীতি কোন বিষয়ে প্রযোজ্য হয়?
  1. ঘটনা বিষয়ক প্রশ্নে
  2. আইন বিষয়ক প্রশ্নে
  3. চুক্তি বিষয়ক প্রশ্নে
  4. সাক্ষ্য প্রদানের প্রক্রিয়ায়
সঠিক উত্তর:
ঘটনা বিষয়ক প্রশ্নে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটনা বিষয়ক প্রশ্নে
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের Estoppel নীতি (প্রতিবন্ধক বা স্বকার্যজনিত বাধা) হলো এমন একটি আইনি নীতি, যা কোনো ব্যক্তিকে তার পূর্বে প্রদত্ত ঘোষণা, কাজ বা কার্যবিরতির বিপরীতে পরবর্তীতে অস্বীকার করতে বাধা দেয়, যদি সেই ঘোষণা বা কাজের উপর ভিত্তি করে অন্য কোনো ব্যক্তি তার অবস্থান পরিবর্তন করে থাকে। এই নীতি সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১৫ এর অধীনে বর্ণিত হয়েছে।
- Estoppel নীতি প্রযোজ্য হয় ঘটনা বিষয়ক প্রশ্নে (factual matters), অর্থাৎ যেসব ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি তার ইচ্ছাকৃত ঘোষণা, কাজ বা কার্যবিরতির মাধ্যমে অন্য কাউকে কোনো বিষয় সত্য বলে বিশ্বাস করিয়ে তাকে কোনো কাজ করতে প্ররোচিত করে। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো নিশ্চিত করা যে কোনো ব্যক্তি তার পূর্বের বক্তব্য বা আচরণের বিপরীতে গিয়ে অন্যের ক্ষতি করতে পারবে না।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তি অন্যকে বলে যে একটি সম্পত্তি তার মালিকানাধীন এবং সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে অন্য ব্যক্তি সেই সম্পত্তি ক্রয় করে, তবে প্রথম ব্যক্তি পরবর্তীতে তার মালিকানা অস্বীকার করতে পারবে না।

অর্থাৎ Estoppel নীতি ঘটনা বিষয়ক প্রশ্নে প্রযোজ্য, কারণ এটি ব্যক্তির ঘোষণা বা কাজের উপর ভিত্তি করে কার্যকর হয়, আইনি অধিকার বা প্রক্রিয়াগত বিষয়ের উপর নয়।

৩৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৯ অনুসারে, কোন সাক্ষীর জবানবন্দি সরাসরি তাকে আদালতে হাজির না করেও প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়?
  1. সরকারি কর্মকর্তা
  2. সিভিল সার্জন
  3. অন্য কোনো চিকিৎসক সাক্ষী
  4. খ অথবা গ 
সঠিক উত্তর:
খ অথবা গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ অথবা গ 
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৯ ধারার (১) উপধারা অনুসারে, সিভিল সার্জন বা অন্য কোনো চিকিৎসক সাক্ষীর জবানবন্দি, যদি আসামীর উপস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক গৃহীত ও প্রত্যায়িত হয় বা অধ্যায়-৪০ অনুসারে কমিশনে গৃহীত হয়, তবে তাকে সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির না করেও ইনকোয়ারী, বিচার বা অন্য কার্যক্রমে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৯- চিকিৎসক সাক্ষীর জবানবন্দি:
(১) আসামীর উপস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক গৃহীত ও প্রত্যায়িত বা অধ্যায়-৪০ অনুসারে কমিশনে গৃহীত কোন সিভিল সার্জন বা অন্য কোন চিকিৎসক সাক্ষীর জবানবন্দি তাকে সাক্ষী হিসাবে ডাকা না হলেও, এ বিধির অধীন কোন ইনকোয়ারী, বিচার বা অন্যকোন কার্যক্রমে সাক্ষ্যরূপে দেয়া যাবে।
(২) চিকিৎসক সাক্ষীকে সমন করার ক্ষমতাঃ
আদালত সঠিক মনে করলে এরূপ সাক্ষীকে সমন করতে এবং তার জবানবন্দির বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাকে পরীক্ষা করতে পারবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 509- Deposition of medical witness:
(1) The deposition of a Civil Surgeon or other medical witness, taken and attested by a Magistrate in the presence of the accused, or taken on commission under Chapter XL, may be given in evidence in any inquiry, trial or other proceeding under this Code, although the deponent is not called as a witness.
Power to summon medical witness
(2) The Court may, if it thinks fit, summon and examine such deponent as to the subject-matter of his deposition.

৩৭.
‘D’ একজন ব্যক্তিকে ৫ দিন ধরে একটি গুদামে আটকে রাখে, যাতে সে কোথাও যেতে না পারে। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর কোন ধারা অনুসারে ‘D’ অপরাধী হবে?
  1. ধারা ৩৪০
  2. ধারা ৩৪২
  3. ধারা ৩৪৩
  4. ধারা ৩৪৪
সঠিক উত্তর:
ধারা ৩৪৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৩৪৩
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৪৩ অনুসারে, কোনো ব্যক্তিকে ৩ দিন বা তার বেশি সময় অন্যায়ভাবে বন্দী করলে শাস্তি ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা, বা উভয়ই। ‘D’-এর ৫ দিনের বন্দীকরণ এই ধারার অধীনে অপরাধ।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৩ ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি কেউ তিন দিনের বেশি সময় ধরে অন্য কোনো ব্যক্তিকে wrongful confinement (অবৈধ অবরোধ) করে, তবে তাকে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে, অথবা জরিমানা বা উভয়টাই হতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৩ ধারা- তিন বা ততোধিক দিনের জন্য অবৈধ অবরোধ:
কোন ব্যক্তি যদি কাউকে তিন বা ততোধিক দিনের জন্য অবৈধভাবে অবরোধ করে রাখে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section 343: Wrongful confinement for three or more days:
Whoever wrongfully confines any person for three days or more, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

৩৮.
"Notice to Produce" সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় আলোচিত হয়েছে?
  1. ধারা ৬৫
  2. ধারা ৬৬
  3. ধারা ৬৭
  4. ধারা ৬৩
সঠিক উত্তর:
ধারা ৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৬৬
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬৬ "নোটিশ টু প্রোডিউস" (Notice to Produce) সম্পর্কিত নিয়মাবলী নিয়ে আলোচনা করে। এই ধারায় বলা হয়েছে যে, ধারা ৬৫(ক)-এ উল্লিখিত দলিলের বিষয়বস্তুর গৌণ সাক্ষ্য (Secondary Evidence) উপস্থাপন করতে হলে, যে পক্ষ গৌণ সাক্ষ্য দিতে চায় তাকে অবশ্যই মূল দলিলের অধিকারী পক্ষ বা তার আইনজীবীকে আইন দ্বারা নির্ধারিত নোটিশ দিতে হবে। যদি কোনো আইনে নোটিশের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকে, তবে আদালত যে পরিমাণ সময় যুক্তিসঙ্গত মনে করে তা নোটিশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ধারা ৬৬-এর শর্তাংশে (Proviso) ছয়টি ব্যতিক্রম উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এই ব্যতিক্রমগুলি হলো:
১) যখন দলিলটি নিজেই একটি নোটিশ।
২) যখন মামলার প্রকৃতি অনুসারে বিপক্ষীয় পক্ষ জানে যে তাকে মূল দলিল উপস্থাপন করতে হবে।
৩) যখন প্রমাণিত হয় যে বিপক্ষীয় পক্ষ জালিয়াতি বা জোরপূর্বক মূল দলিল দখল করেছে।
৪) যখন বিপক্ষীয় পক্ষ বা তার এজেন্টের কাছে মূল দলিল আদালতে থাকে।
৫) যখন বিপক্ষীয় পক্ষ বা তার এজেন্ট দলিলটি হারিয়ে ফেলেছে বলে স্বীকার করে।
৬) যখন দলিলের অধিকারী ব্যক্তি আদালতের এখতিয়ারের বাইরে থাকে বা আদালতের প্রক্রিয়ার আওতায় নেই।

- অর্থাৎ "নোটিশ টু প্রোডিউস" সম্পর্কিত বিধান সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬৬-এ আলোচিত হয়েছে। এই ধারা গৌণ সাক্ষ্য উপস্থাপনের পূর্বশর্ত হিসেবে নোটিশের প্রয়োজনীয়তা এবং এর ব্যতিক্রমগুলি স্পষ্ট করে। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো খ) ধারা ৬৬।
----------
⇒ The Evidence Act,1872- Section- 66. Rules as to notice to produce:
Secondary evidence of the contents of the documents referred to in section 65, clause (a), shall not be given unless the party proposing to give such secondary evidence has previously given to the party in whose possession or power the document is, or to his Advocate, such notice to produce it as is prescribed by law; and if no notice is prescribed by law, then such notice as the Court considers reasonable under the circumstances of the case: 
Provided that such notice shall not be required in order to render secondary evidence admissible in any of the following cases, or in any other case in which the Court thinks fit to dispense with it:– 
(1) when the document to be proved is itself a notice; 
(2) when, from the nature of the case, the adverse party must know that he will be required to produce it; 
(3) when it appears or is proved that the adverse party has obtained possession of the original by fraud or force; 
(4) when the adverse party or his agent has the original in Court; 
(5) when the adverse party or his agent has admitted the loss of the document; 
(6) when the person in possession of the document is out of reach of, or not subject to, the process of the Court.

৩৯.
‘C’ ‘Z’-এর কুকুরকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে অসাধুভাবে নিয়ে যায়, ‘Z’-এর সম্মতি ছাড়া। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৩৭৮ অনুসারে এই অপরাধের নাম কী?
  1. অপহরণ
  2. চুরি
  3. প্রতারণা
  4. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
সঠিক উত্তর:
চুরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুরি
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৩৭৮ অনুসারে, কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া অসাধুভাবে তার অধিকারে থাকা চলমান সম্পত্তি নিয়ে যাওয়া চুরি হিসেবে গণ্য। ধারা ৩৭৮-এর ব্যাখ্যা ৪ অনুসারে, পশুকে প্রলোভন দিয়ে নিয়ে যাওয়া চুরি। এখানে, ‘C’ ‘Z’-এর কুকুরকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে অসাধুভাবে নিয়েছে, যা ধারা ৩৭৮-এর অধীনে চুরি।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারার বিধান চুরি:- কোন ব্যক্তি যদি কারো দখল হতে তার সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত সম্পত্তি অনুরূপভাবে গ্রহণের জন্য স্থানান্তর করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।

ব্যাখ্যা ১:- কোন বস্তু যতক্ষণ পর্যন্ত অস্থাবর সম্পত্তি না হওয়া বিধায় মাটির সাথে যুক্ত থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত উহা চুরি করার বস্তু বলে গণ্য হবে না, কিন্তু যে মুহূর্তে উহাকে মাটি হতে বিচ্ছিন্ন করা হয় সে মহূর্তেই উহা চুরি করার বস্তু হওয়ার যোগ্য গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ২:- যে কাজ কর্তৃক (মাটি হতে) বিচ্ছিন্নতা সাধন করা হয়, সে কাজ দ্বারাই স্থানান্তর করা হলে তা চুরি হতে পারে।
ব্যাখ্যা ৩:- কোন ব্যক্তি কোন বস্তুর গতির প্রতিবন্ধক অপসারণ করলে বা উহাকে অপর কোন বন্ধু হতে বিচ্ছিন্ন করলে এবং বাস্তবিকভাবে উহা স্থানান্তর করলে উক্ত বস্তু স্থানান্তর করে বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা ৪:- কোন ব্যক্তি যে কোন উপায়ে কোন পশুকে হাঁটায়, সে লোক সে পশুকে এবং অনুরূপভাবে সৃষ্ট গতির ফলে উক্ত পশু দ্বারা স্থানান্তরিত প্রত্যেক বস্তুকে স্থানান্তর করে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ৫:- সংজ্ঞায় উল্লেখিত সম্মতি প্রকাশ্য অথবা পরোক্ষ হতে পারে: এবং উক্ত সম্মতি দখলকারী ব্যক্তি বা উক্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ্য বা পরোক্ষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির দ্বারা প্রদত্ত হতে পারে।

------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-378. Theft:
-Whoever, intending to take dishonestly any moveable property out of the possession of any person without that person's consent, moves that property in order to such taking, is said to commit theft.
Explanation 1.-A thing so long as it is attached to the earth, not being moveable property, is not the subject of theft; but it becomes capable of being the subject of theft as soon as it is severed from the earth.
Explanation 2.-A moving effected by the same act which effects the severance may be a theft.
Explanation 3.-A person is said to cause a thing to move by removing an obstacle which prevented it from moving or by separating it from any other thing, as well as by actually moving it.
Explanation 4.-A person, who by any means causes an animal to move, is said to move that animal, and to move everything which, in consequence of the motion so caused, is moved by that animal.
Explanation 5.-The consent mentioned in the definition may be express or implied, and may be given either by the person in possession, or by any person having for that purpose authority either express or implied.

৪০.
‘D’ জানে যে, তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা নেই। তবুও একটি অচল চেক দিয়ে ‘Z’-এর কাছ থেকে পণ্য কিনে, পরিশোধের ইচ্ছা না রেখে। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর বিধান অনুসারে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  4. ১০ বছরের কারাদণ্ড
সঠিক উত্তর:
৭ বছরের কারাদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪১৫ অনুসারে, প্রতারণার মাধ্যমে কাউকে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে বা সম্পত্তি ধরে রাখার সম্মতি দিতে প্ররোচিত করা, অথবা এমন কিছু করতে বা না করতে প্ররোচিত করা যা প্রতারিত না হলে সে করত না বা বাদ দিত না, এবং যা শারীরিক, মানসিক, খ্যাতি বা সম্পত্তির ক্ষতি করে, তা প্রতারণা (Cheating) হিসেবে গণ্য। এখানে, ‘D’ জেনে যে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা নেই, একটি অচল চেক দিয়ে ‘Z’-এর কাছ থেকে পণ্য কিনেছে, পরিশোধের ইচ্ছা না রেখে। এটি ধারা ৪১৫-এর উদাহরণ (d)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে বলা হয়েছে যে অচল চেক দিয়ে সম্পত্তি হস্তান্তর করানো প্রতারণা।

- যেহেতু এই প্রতারণার ফলে পণ্য (সম্পত্তি) হস্তান্তর হয়েছে, তাই ধারা ৪২০ প্রযোজ্য। ধারা ৪২০ অনুসারে, প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর করানো বা মূল্যবান দলিল নষ্ট করার শাস্তি হলো ৭ বছর পর্যন্ত যেকোনো প্রকারের কারাদণ্ড এবং জরিমানা।

- ‘D’-এর কাজ ধারা ৪১৫-এর অধীনে প্রতারণা হিসেবে গণ্য, এবং যেহেতু এটি সম্পত্তি হস্তান্তরের সাথে জড়িত, ধারা ৪২০ অনুসারে সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো গ) ৭ বছরের কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৪২০ অনুযায়ী,
যদি কেউ প্রতারণা করে এবং এর ফলে প্রতারিত ব্যক্তিকে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে বাধ্য করে, অথবা প্রতারিত ব্যক্তিকে কোনো মূল্যবান দলিল (যেমন চেক, চুক্তি ইত্যাদি) তৈরি, পরিবর্তন বা ধ্বংস করতে প্ররোচিত করে, তাহলে সেই ব্যক্তি অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের জন্য তাকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে এবং এর পাশাপাশি তাকে অর্থদণ্ডও দেয়া যেতে পারে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section-420: Cheating and dishonestly inducing deliver of property:
- Whoever cheats and thereby dishonestly induces the person deceived to deliver any property to any person, or to make, alter or destroy the whole or any part of a valuable security, or anything which is signed or sealed, and which is capable to being converted into a valuable security, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.

৪১.
Res Gestae বক্তব্য কোন অবস্থায় গ্রহণযোগ্য নয়?
  1. স্বতঃস্ফূর্ত হলে
  2. পূর্বপরিকল্পিত হলে
  3. বাহ্যিক চাপবিহীন হলে
  4. ঘটনার সাথে সম্পর্কিত হলে
সঠিক উত্তর:
পূর্বপরিকল্পিত হলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বপরিকল্পিত হলে
ব্যাখ্যা

⇒ রেস গেস্তে (Res Gestae) বিবৃতি সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬-এর অধীনে গ্রহণযোগ্য হয় যখন এটি ঘটনার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত, স্বতঃস্ফূর্ত, এবং ঘটনার সমসাময়িক বা তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হয়। এই বিবৃতি হিয়ারসে (hearsay) নিয়মের ব্যতিক্রম হিসেবে গ্রহণযোগ্য, কারণ এটি সাধারণত নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। তবে, রেস গেস্তে বিবৃতি গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়, এবং এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো বিবৃতিটি পূর্বপরিকল্পিত বা পরিকল্পিতভাবে দেওয়া যাবে না।

অপশন গুলির বিশ্লেষণ:
ক) স্বতঃস্ফূর্ত হলে: রেস গেস্তে বিবৃতির একটি প্রধান শর্ত হলো এটি স্বতঃস্ফূর্ত হতে হবে। অর্থাৎ, বিবৃতিটি ঘটনার সময় বা তাৎক্ষণিকভাবে, কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা চিন্তাভাবনা ছাড়াই দেওয়া হয়। সুতরাং, স্বতঃস্ফূর্ত হলে বিবৃতি গ্রহণযোগ্য হয়, এটি অগ্রহণযোগ্যতার কারণ নয়।
খ) পূর্বপরিকল্পিত হলে: রেস গেস্তে বিবৃতি গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য এটি অবশ্যই স্বতঃস্ফূর্ত হতে হবে এবং বিবৃতিদাতার মিথ্যা বলার বা তথ্য বিকৃত করার সুযোগ থাকতে পারবে না। যদি বিবৃতিটি পূর্বপরিকল্পিত বা চিন্তাভাবনা করে দেওয়া হয়, তবে এটি রেস গেস্তের মানদণ্ড পূরণ করে না, কারণ এতে মিথ্যা বা বানোয়াট তথ্য থাকার সম্ভাবনা থাকে। ফলে, পূর্বপরিকল্পিত বিবৃতি রেস গেস্তে হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
গ) বাহ্যিক চাপবিহীন হলে: রেস গেস্তে বিবৃতি বাহ্যিক চাপ, প্রভাব বা জবরদস্তি ছাড়া দেওয়া হতে হবে। যদি বিবৃতিটি বাহ্যিক চাপবিহীন হয়, তবে এটি নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয় এবং গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। সুতরাং, বাহ্যিক চাপবিহীন হওয়া অগ্রহণযোগ্যতার কারণ নয়।
ঘ) ঘটনার সাথে সম্পর্কিত হলে: রেস গেস্তে বিবৃতির আরেকটি শর্ত হলো এটি অবশ্যই ঘটনার সাথে সম্পর্কিত হতে হবে এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট, পরিস্থিতি বা আবেগ বোঝাতে সহায়ক হতে হবে। ঘটনার সাথে সম্পর্কিত হওয়া বিবৃতির গ্রহণযোগ্যতার জন্য অপরিহার্য, তাই এটি অগ্রহণযোগ্যতার কারণ নয়।

প্রেক্ষাপট: রেস গেস্তে বিবৃতি সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬-এর অধীনে গ্রহণযোগ্য হয় যখন এটি ঘটনার সাথে সময় ও পরিস্থিতির দিক থেকে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হয় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেওয়া হয়।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তি দুর্ঘটনার পরপরই বলেন, “সে আমাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে!” এটি রেস গেস্তে হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কিন্তু যদি একই ব্যক্তি ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর পরিকল্পিতভাবে বা চিন্তাভাবনা করে বিবৃতি দেন, তবে তা রেস গেস্তে হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না, কারণ এতে মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য থাকার সম্ভাবনা থাকে।

অর্থাৎ রেস গেস্তে বিবৃতি তখনই গ্রহণযোগ্য নয় যখন এটি পূর্বপরিকল্পিত বা চিন্তাভাবনা করে দেওয়া হয়, কারণ এটি স্বতঃস্ফূর্ততা ও নির্ভরযোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করে না। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো খ) পূর্বপরিকল্পিত হলে।

৪২.
ফৌজদারি কার্যবিধি 1898 এর Section 167 অনুযায়ী, রিমান্ডে পাঠানোর আগে ম্যাজিস্ট্রেট কী নির্দেশ দিতে পারেন?
  1. জামিন দিতে 
  2. আদালতে হাজির করতে
  3. চিকিৎসক দ্বারা পরীক্ষা করতে
  4. মামলা প্রত্যাহার করতে
সঠিক উত্তর:
চিকিৎসক দ্বারা পরীক্ষা করতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিকিৎসক দ্বারা পরীক্ষা করতে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮, (Act No. V of 1898)-এর ধারা ১৬৭-এর সংশোধিত রূপে, বিশেষত দ্বিতীয় সংশোধনী অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর অধীনে, ধারা ১৬৭(২ক) (Section 167(2A)) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ হেফাজতে আটকের (রিমান্ড) অনুমোদন দেওয়ার আগে নির্দেশ দিতে পারেন যে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক দ্বারা পরীক্ষা করা হবে। এই বিধানের উদ্দেশ্য হলো গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা যাচাই করা এবং পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ প্রতিরোধ করা। যদি হেফাজতের সময় নির্যাতনের অভিযোগ উঠে বা শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়, তবে ম্যাজিস্ট্রেট আবারও চিকিৎসা পরীক্ষার নির্দেশ দিতে পারেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারেন।
- অর্থাৎ  ধারা ১৬৭(২ক) অনুসারে, রিমান্ডে পাঠানোর আগে ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ দিতে পারেন যে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক দ্বারা পরীক্ষা করা হবে।
-------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section-167 (2A) A Magistrate authorizing the detention of an accused person in police custody under sub-section (2), may order that the accused be examined by a medical officer of nearest government hospital before he is handed over to such custody; and upon expiry of the period of police custody, the accused shall be produced before the Magistrate without unnecessary delay; and if, upon such production, there appears to be any mark of injury on the body of the person accused, or the accused alleges that he has been subjected to torture during such custody, the Magistrate shall direct that the accused be examined by a medical officer of the nearest government hospital and where the medical report reveals that the accused has been subjected to torture during police custody, the Magistrate shall proceed in accordance with law.

৪৩.
দণ্ডবিধির ৬০ ধারা অনুযায়ী, কারাদণ্ডের ধরন নির্ধারণের ক্ষেত্রে কার ক্ষমতা রয়েছে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. সরকার
  3. অপরাধী
  4. রায়দানকারী আদালত
সঠিক উত্তর:
রায়দানকারী আদালত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রায়দানকারী আদালত
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৬০ ধারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, যে আদালত অপরাধীকে দণ্ডিত করবে (রায়দানকারী আদালত) তারই এ ক্ষমতা রয়েছে। ধারাটির শুরুতেই বলা হয়েছে, "it shall be competent to the Court which sentences such offender..." অর্থাৎ "সেই আদালতের জন্য এটা কর্তব্য হবে, যে আদালত অপরাধীকে দণ্ডিত করে..."।
- ধারাটি আদালতকে তিনটি বিকল্প দেয়:
১. কারাদণ্ড সম্পূর্ণরূপে সশ্রম (wholly rigorous) হতে পারে।
২. কারাদণ্ড সম্পূর্ণরূপে বিনাশ্রম (wholly simple) হতে পারে।
৩. কারাদণ্ডের এক অংশ সশ্রম এবং বাকি অংশ বিনাশ্রম (partly rigorous and partly simple) হতে পারে।
- এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র সেই বিশেষ আদালতের রয়েছে, যে আদালত মামলাটির চূড়ান্ত রায় দেয় এবং অপরাধীকে কারাদণ্ড প্রদান করে।
⇒ অর্থাৎ দণ্ডবিধির ৬০ ধারা অনুযায়ী, কারাদণ্ডের ধরন (সম্পূর্ণ সশ্রম, সম্পূর্ণ বিনাশ্রম, বা আংশিক সশ্রম ও বাকি বিনাশ্রম) নির্ধারণের ক্ষমতা রায়দানকারী আদালত এর রয়েছে। সঠিক উত্তর: ঘ) রায়দানকারী আদালত।

⇒ The Penal Code, 1860- Section-60: Sentence may be (in certain cases of imprisonment, wholly or partly rigorous or simple:
In every case in which an offender is punishable with imprisonment which may be of either description, it shall be competent to the Court which sentences such offender to direct in the sentence that such imprisonment shall be wholly rigorous, or that such imprisonment shall be wholly simple, or that any part of such imprisonment shall be rigorous and the rest simple.

৪৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুসারে সংক্ষিপ্ত বিচারে অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, অভিযুক্তের জিজ্ঞাসাবাদ ও রায় ঘোষণা একই অধিবেশনে সম্পন্ন করা যেতে পারে?
  1. ধারা ২৬০
  2. ধারা ২৬২
  3. ধারা ২৬৪
  4. ধারা ২৬৪ক 
সঠিক উত্তর:
ধারা ২৬৪ক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ২৬৪ক 
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির, ১৮৯৮ (Act No. V of 1898)-এর দ্বিতীয় সংশোধনী অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ২৬৪ক (Section 264A) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, সংক্ষিপ্ত বিচারে (summary trials) নিম্নলিখিত প্রক্রিয়াগুলো, যদি সম্ভব হয়, একই অধিবেশনে সম্পন্ন করা যেতে পারে:
- অভিযোগ গঠন (framing of charges),
- সাক্ষ্যগ্রহণ (recording of evidence),
- ধারা ৩৪২-এর অধীনে অভিযুক্তের জিজ্ঞাসাবাদ (examination of the accused),
- এবং রায় ঘোষণা (pronouncement of judgment)।
এই বিধান ধারা ২৬২-এর বিপরীতে প্রযোজ্য এবং আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে যেকোনো স্থানে এই প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করার অনুমতি দেয়।
------- 
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section-264A. Special procedure for summary trials.- Notwithstanding anything contained in section 262, the framing of charges, recording of evidence, examination of the accused under section 342, and pronouncement of judgment may, if practicable, be completed in the same session at any place within the jurisdiction of the Court.