পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন২২
সিলেবাস
Exam - 22 Topic: Science (Full Syllabus) (বিগত বছরের বিসিএস, ব্যাংক ও বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নের টপিকসমূহ)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২২ প্রশ্ন

.
Newton's first law states that an object will remain at rest or in uniform motion unless acted upon by a:
  1. Frictional force
  2. Magnetic force
  3. Balanced force
  4. Net external force
ব্যাখ্যা

• Newton-এর প্রথম আইন, যা Law of Inertia নামেও পরিচিত, বলছে যে একটি বস্তু তার অবস্থান পরিবর্তন করবে না বা একই গতিতে চলতে থাকবে যদি না এর উপর কোনো বাহ্যিক বল প্রয়োগ করা হয়। অর্থাৎ, একটি বস্তু বিশ্রামে থাকলে তা তখনও বিশ্রামে থাকবে, এবং যদি তা সমান গতিতে সরতে থাকে, তবে তা সেই গতিতে চলতেই থাকবে। এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হলে অবশ্যই একটি net external force প্রয়োগ করতে হবে। সাধারণ উদাহরণ হলো, একটি বই টেবিলে রাখা আছে। বইটি নিজে থেকে সরবে না যতক্ষণ না কেউ তা ঠেলে বা টানে। সুতরাং, Newton-এর প্রথম সূত্রের মূল বক্তব্য হলো, কোনো বস্তু শুধুমাত্র বাহ্যিক বলের প্রভাবে তার গতি বা অবস্থান পরিবর্তন করে। সঠিক উত্তর: ঘ) Net external force.

নিউটনের গতি বিষয়ক প্রথম সূত্র: 
প্রথম সূত্র: “বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থায় থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে সরল পথে চলতে থাকবে”। 
অর্থাৎ, বাইরে থেকে বল ক্রিয়া না করলে- 
(১) স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং 
(২) গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে চলতে থাকবে। 

সুতরাং দেখা যায় যে, গতির প্রথম সূত্র বস্তুর জড়তার ধর্ম বিবৃত করে এবং বলের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- স্থির বস্তু সর্বদাই স্থির থাকতে চায় এবং গতিশীল বস্তু সর্বদাই গতিশীল থাকতে চায়, বস্তুর এ প্রবণতাকে জড়তা বলে। এজন্য এই সূত্রকে জড়তার সূত্রও বলা হয়। 
- সূত্রটিকে অন্যভাবেও বলা যায়, যদি কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করা হয় তাহলে তার গতির পরিবর্তন বা স্থিতি অবস্থার পরিবর্তন হবে না। 
অর্থাৎ, বল প্রয়োগ না করলে বস্তুর ত্বরণ শূন্য হয়। 

অন্যদিকে,
• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্রটি হলো বলের সূত্র।
• নিউটনের তৃতীয় সূত্রটি হলো বলের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কিত সূত্র। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
What is another name for the instrument that measures earthquakes?
  1. Gravimeter
  2. Oscillator
  3. Seismometer
  4. Anemometer
ব্যাখ্যা

• ভূমিকম্প মাপার যন্ত্রের আরেকটি নাম হলো Seismometer। এটি পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ কম্পন বা সিসমিক ঢেউ শনাক্ত করে এবং রেকর্ড করে। যখন ভূমিকম্প ঘটে, তখন পৃথিবীর স্তরগুলিতে কম্পন সৃষ্টি হয়, যা এই যন্ত্র দ্বারা সংবেদন করা যায়। Seismometer সাধারণত একটি স্থির অংশ এবং একটি চলমান অংশ নিয়ে গঠিত, যা কম্পনের মাত্রা ও দিক উভয়ই নির্ণয় করতে সাহায্য করে। এই ডেটা বিশ্লেষণ করে ভূমিকম্পের শক্তি, কেন্দ্রবিন্দু এবং সময় নির্ধারণ করা যায়। ভূমিকম্প বিজ্ঞানীরা বা সিসমোলজিস্টরা এই যন্ত্র ব্যবহার করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকম্পের পূর্বাভাস তৈরি করেন। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো গ) Seismometer.

• বৈজ্ঞানিক যন্ত্র ও তার ব্যবহার:
- বায়ুচাপ মাপার যন্ত্র- ব্যারোমিটার। 
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ক যন্ত্র -ফ্যাদোমিটার 
- দুধের বিশুদ্ধতা নির্ণায়ক যন্ত্র- ল্যাকটোমিটার। 
- তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র- থার্মোমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণয়ক যন্ত্র- ম্যানোমিটার। 
- আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম- সিসমোগ্রাফ। 
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার। 
- ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম- রিখটার স্কেল। 
- সূক্ষ্ম সময় ও সমুদ্রের দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় যন্ত্র- ক্রনোমিটার। 

উৎস: ব্রিটানিকা।

.
Which of these is considered a clean and renewable energy source?
  1. Hydro Power 
  2. Oil
  3. Coal
  4. Kerosene
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর হলো ক) Hydro Power.

হাইড্রো পাওয়ার বা জলবিদ্যুৎ একটি পরিষ্কার ও নবায়নযোগ্য শক্তি উৎস। এটি নদী বা জলাধারের পানির প্রবাহ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, যা বায়ু বা সূর্যের মতো প্রাকৃতিক চক্রের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে পুনঃউৎপন্ন হয়। হাইড্রো পাওয়ার ব্যবহার করলে বাতাসে দূষণ, কার্বন নিঃসরণ বা গ্রিনহাউস গ্যাসের উৎপাদন খুব কম হয়, তাই এটি পরিবেশবান্ধব। অন্যদিকে, তেল, কয়লা এবং কেরোসিন জীবাশ্ম জ্বালানি, যা দহনের সময় প্রচুর কার্বন নিঃসরণ করে এবং পরিবেশের ক্ষতি করে। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ হচ্ছে- 
• সৌর শক্তি, 
• জলবিদ্যুৎ, 
• বায়ু বিদ্যুৎ, 
• বায়োগ্যাস, 
• ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ হচ্ছে- 
• কয়লা, 
• খনিজ তেল, 
• প্রাকৃতিক গ্যাস, 
• নিউক্লিয় শক্তি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
At a temperature of 0°C, the minimum distance required for an echo to be heard is:
  1. 10 m
  2. 20 m
  3. 16.6 m
  4. 30 m
ব্যাখ্যা

• 0°C তাপমাত্রায় শব্দের গতি প্রায় 332 m/s হয়। একটি ইকো শোনার জন্য শব্দকে উৎস থেকে প্রতিবিম্বক পর্যন্ত যেতে এবং ফিরে আসতে সময় লাগে। মানুষের কানের জন্য ন্যূনতম ইকো শোনার সময় আনুমানিক 0.1 সেকেন্ড। সুতরাং, ন্যূনতম দূরত্ব d হবে d = v × t / 2 = 332 × 0.1 / 2 প্রায় 16.6 মিটার। এখানে ভাগ করার কারণ হলো শব্দকে দু’বার পথ পাড়ি দিতে হয় যাতে এটি ফিরে আসতে পারে। তাই 0°C-এ ন্যূনতম দূরত্ব, যেখান থেকে ইকো শোনা যায়, প্রায় 16.6 মিটার। সঠিক উত্তর হলো গ 16.6 m

শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1। 
- 0°C বা 273 K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব 0.3m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m (0°C বা 273 K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
The first law of thermodynamics is also known as:
  1. Law of conservation of energy
  2. Law of entropy
  3. Law of pressure-volume
  4. Law of thermal expansion
ব্যাখ্যা

• The first law of thermodynamics is also known as the Law of Conservation of Energy (ক). এটি বলছে যে, একটি সিস্টেমে মোট শক্তি কখনো সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না; এটি শুধুমাত্র এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হতে পারে। অর্থাৎ, যদি একটি সিস্টেমে তাপ যোগ করা হয় বা কাজ করা হয়, তবে সেই শক্তি সিস্টেমের আভ্যন্তরীণ শক্তি বা বাইরের কাজের মাধ্যমে সমন্বিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি বয়লারের ভিতরে তাপ যোগ করলে পানি গরম হয় এবং বাষ্পের আকারে শক্তি প্রয়োগ করতে সক্ষম হয়। এই আইন আমাদের জানায় যে শক্তি সর্বদা স্থায়ী এবং এর হিসাব রাখা সম্ভব।

সঠিক উত্তর: ক) Law of conservation of energy.

তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র: 
- কাজ তথা যান্ত্রিক শক্তিকে তাপে বা তাপশক্তিকে কাজে তথা যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হলে যান্ত্রিক শক্তি এবং তাপ পরস্পরের সমানুপাতিক হবে। 
সুতরাং, W ∝ H. 
বা, W = JH 
এখানে, W হলো কাজের পরিমাণ, H হলো তাপের পরিমাণ এবং J হচ্ছে জুলের ধ্রুবক। J কে তাপের যান্ত্রিক সমতা বা জুল তুল্যাঙ্কও বলা হয়। 
- বিজ্ঞানী জুল সর্বপ্রথম কাজ ও তাপের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং এ সম্পর্কটি একটি সূত্রের সাহায্যে প্রকাশ করেন। 
- এ সূত্রকে জুলের সূত্র আবার তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্রও বলা হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
Which principle allows a periscope to help you see over obstacles?
  1. Polarization
  2. Dispersion
  3. Reflection of light
  4. Refraction
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর হলো গ) Reflection of light.

পেরিস্কোপ একটি সরঞ্জাম যা আপনাকে বাধার পেছনের বস্তু দেখতে সাহায্য করে। এটি মূলত দুটি আয়না ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। পেরিস্কোপের কাজের মূল নীতি হলো আলোর প্রতিবিম্ব বা প্রতিফলন। যখন আলো একটি আয়নার সাথে সংস্পর্শে আসে, তখন তা নির্দিষ্ট কোণে প্রতিফলিত হয়। পেরিস্কোপের উপরের আয়নাটি আলোর পথ ধরে আসা প্রতিচ্ছবিকে নিচের দিকে প্রতিফলিত করে, আর নিচের আয়নাটি সেই আলোকে চোখের দিকে প্রতিফলিত করে। এর ফলে আমরা সরাসরি লাইন অফ সাইট না হলেও কোন বাধার উপরে বা পিছনের বস্তু দেখতে পারি। পেরিস্কোপের এই কাজ শুধুমাত্র আলোর প্রতিফলনের কারণে সম্ভব, বরং পোলারাইজেশন, বিচ্ছিন্নকরণ বা প্রতিসরণের সাথে এর সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।

পেরিস্কোপ: 
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুটি সমতল দর্পণ প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখা যায় না তা আমরা দেখতে পাই। 

- পেরিস্কোপ তৈরি হয় একটি লম্বা সরু টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের (আয়না) দুটি ফালি বা স্ট্রিপ স্থাপন করে। 
- দর্পণ দুটিকে টিউবের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়। 
- এরা পরস্পরের সাথে সমান্তরাল থাকে এবং ৯০° কোণে আলোর বিসরণ ঘটায় বা বাঁকিয়ে দেয়। 
- স্টেডিয়ামে ভিড়ের মধ্যে খেলা দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়। 
- এছাড়া বাঙ্কারে ওতপেতে থাকা সৈন্যরা ভূমিতে কী আছে তা দেখার এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে কী আছে তা ডুবোজাহাজ থেকে দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

.
What is the main function of a diode?
  1. Generate AC
  2. Store energy
  3. Amplify signals
  4. Rectify AC to DC
ব্যাখ্যা

• ডায়োডের প্রধান কাজ হলো AC (Alternating Current) কে DC (Direct Current) তে রূপান্তর করা, অর্থাৎ এটি রেক্টিফায়ার হিসেবে কাজ করে। ডায়োড একটি একদিকের প্রবাহের যন্ত্র, যা শুধুমাত্র বিদ্যুৎকে এক দিক দিয়ে প্রবাহিত হতে দেয় এবং বিপরীত দিকের প্রবাহকে ব্লক করে। এজন্য এটি AC সার্কিটে ব্যবহার করা হলে AC সিগন্যালের ধনাত্মক অংশকে ধরে রাখে এবং ঋণাত্মক অংশকে রোধ করে, ফলে আউটপুটে DC পাওয়া যায়। অন্য অপশনগুলো যেমন AC তৈরি করা, শক্তি সঞ্চয় করা বা সিগন্যাল অ্যাম্প্লিফাই করা ডায়োডের মূল কাজ নয়। তাই ডায়োডের প্রধান ফাংশন হলো AC কে DC তে রূপান্তর করা।

সঠিক উত্তর: ঘ) Rectify AC to DC.

ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
Where are protons and neutrons located in an atom?
  1. Electron cloud
  2. Nucleus
  3. Outer shell
  4. Energy level
ব্যাখ্যা

• পরমাণুর ভেতরে প্রোটন এবং নিউট্রন মূলত নিউক্লিয়াসে (nucleus) অবস্থান করে। নিউক্লিয়াস হলো পরমাণুর কেন্দ্রীয় অংশ, যেখানে প্রোটনগুলি ধনাত্মক চার্জ বহন করে এবং নিউট্রনগুলি নিরপেক্ষ থাকে। এই প্রোটন এবং নিউট্রনের সংমিশ্রণ পরমাণুর ভর এবং স্থিতিশীলতা নির্ধারণ করে। অন্যদিকে, ইলেকট্রনগুলি নিউক্লিয়াসের চারপাশে ইলেকট্রন ক্লাউড বা বাহ্যিক শেলের মধ্যে থাকে। তাই, পরমাণুর ভরের বেশির ভাগ অংশ নিউক্লিয়াসে কেন্দ্রীভূত থাকে। সুতরাং প্রোটন এবং নিউট্রনের অবস্থান হলো নিউক্লিয়াস, যা পরমাণুর কেন্দ্রীয় এবং ঘন অংশ।

উত্তর: খ) Nucleus

পরমাণুর গঠন: 
- পরমাণুর একটি কেন্দ্র আছে, যার নাম নিউক্লিয়াস। 
- এই নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 
- সুতরাং পরমাণুর সকল ধনাত্মক আধান এবং প্রায় সম্পূর্ণ ভরই নিউক্লিয়াসে কেন্দ্রীভূত। 
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ভ্রমণ করে।‌ 
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে ততটি ইলেকট্রনও আছে। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
Alkali metals are found in which group of the periodic table?
  1. Group 18
  2. Group 17
  3. Group 2
  4. Group 1
ব্যাখ্যা

• আলকালি ধাতুগুলি পারমাণবিক টেবিলের Group 1-এ পাওয়া যায়, অর্থাৎ সঠিক উত্তর হবে ঘ) Group 1। এই গ্রুপের ধাতু যেমন লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাশিয়াম (K) ইত্যাদি খুবই প্রতিক্রিয়াশীল এবং প্রাকৃতিকভাবে একক অবস্থায় পাওয়া যায় না। এগুলি পানি বা বায়ুর সঙ্গে দ্রুত প্রতিক্রিয়া করে হাইড্রোক্সাইড তৈরি করে এবং তীব্র তাপ উৎপন্ন করে। আলকালি ধাতুগুলি নরম, ধাতব আভাযুক্ত এবং সাদা-রূপের। এরা একই ইলেকট্রন বাহির করে স্থিতিশীল হতে চায়, তাই প্রতিক্রিয়াশীলতা খুব বেশি। এই কারণে, এগুলি সাধারণত তেলের মধ্যে সংরক্ষণ করা হয়। Group 1-এ পাওয়া ধাতুগুলি পারমাণবিক ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যে একে অপরের সাথে মিল রয়েছে।

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রূপা (Ag) ও সোনা (Au)। 
- এ মৌল তিনটির ধাতব উজ্জ্বলতা অসাধারণ। 
- বর্তমান বাজারে সংকর ধাতুর তৈরী ধাতব মুদ্রা প্রচলিত আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
Which substance is used as a moderator to slow down neutrons in a nuclear reactor?
  1. Graphite
  2. Uranium
  3. Plutonium
  4. Cadmium
ব্যাখ্যা

• নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরে নিউট্রনকে ধীরে করার জন্য যে পদার্থটি ব্যবহার করা হয় তাকে মডারেটর (Moderator) বলা হয়। মডারেটরের কাজ হলো দ্রুতগতির নিউট্রনকে ধীরগতির (thermal) নিউট্রনে রূপান্তর করা, যাতে তারা আরও কার্যকরভাবে পারমাণবিক ফিশন প্রতিক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে। বিভিন্ন পদার্থ মডারেটরের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে সবচেয়ে সাধারণ এবং কার্যকর পদার্থ হলো গ্রাফাইট। গ্রাফাইট শক্তিশালী হলেও হালকা, এবং এটি নিউট্রনের গতিকে ধীরে করতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে, ইউরেনিয়াম এবং প্লুটোনিয়াম মূলত ফিশন প্ররোচক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, আর ক্যাডমিয়াম হলো একটি নক্ষত্রশোষক (neutron absorber), যা নিউট্রনকে শোষণ করে প্রতিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। সুতরাং, নিউট্রন ধীরে করার জন্য গ্রাফাইটই সঠিক উত্তর।

গ্রাফাইটের ব্যবহার: 
- কাঠ পেন্সিলের শীষ হিসেবে গ্রাফাইট প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। 
- বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে গ্রাফাইটের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার বিদ্যমান। 
- তন্মধ্যে শুষ্ক ব্যাটারির পজিটিভ দণ্ড হিসেবে এবং গ্রাফাইটের গুঁড়া ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইডের সাথে মিশ্রণ হিসেবে ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। 
- এছাড়া বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ইলেকট্রোডরূপে ও ইলেকট্রোটাইপ তৈরিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 
- গ্রাফাইট অতি উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে ও গলে বলে ধাতু ক্রুসিবল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 
- পারমাণবিক চুল্লিতে নিউট্রনের গতি হ্রাসের জন্য মন্থরক হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।

১১.
By what process is alcohol prepared from starch?
  1. Hydrogenation
  2. Saponification
  3. Distillation
  4. Fermentation
ব্যাখ্যা

• আলকোহল স্টার্চ থেকে মূলত ফার্মেন্টেশন (Fermentation) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়। স্টার্চ এমন একটি জটিল কার্বোহাইড্রেট যা সরাসরি মদে রূপান্তর করা যায় না। প্রথমে স্টার্চকে এনজাইম বা অ্যাসিডের সাহায্যে সহজ চিনির (যেমন গ্লুকোজ) আকারে ভেঙে নেওয়া হয়। এরপর এই সহজ চিনি বিশেষ ধরনের খামির বা ইস্টের উপস্থিতিতে অ্যানেরোবিয়িক (অক্সিজেনহীন) পরিবেশে ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আলকোহলে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ মূলত ইথানল এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডে রূপান্তরিত হয়। প্রাপ্ত ইথানল পরিশোধন বা ডিস্টিলেশনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ করা হয়। তাই স্টার্চ থেকে আলকোহল তৈরির মূল প্রক্রিয়া হলো ফার্মেন্টেশন।

উত্তর: ঘ) Fermentation.

অ্যালকোহল: 
- মিথানল বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। 
- মিথানল মূলত অন্য রাসায়নিক পদার্থ প্রস্তুত করতে ব্যবহৃত হয়। 
- রাসায়নিক শিল্পে ইথানয়িক এসিড, বিভিন্ন জৈব এসিডের এস্টার প্রস্তুত করা হয়। 
- ইথানলকে প্রধানত পারফিউম, কসমেটিকস ও ওষুধ শিল্পে দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রেডের ইথানলকে ওষুধ শিল্পে এবং রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলের ৯৬% জলীয় দ্রবণকে রেকটিফাইড স্পিরিট (rectified spirit) বলে। 
- পারফিউম শিল্পেও ইথানলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। পারফিউমে ইথানল ব্যবহারের পূর্বে তাকে গন্ধমুক্ত করা হয়। 

- ওষুধ ও খাদ্য শিল্প ব্যতীত অন্য শিল্পে রেকটিফাইড স্পিরিট সামান্য মিথানল যোগে বিষাক্ত করে ব্যবহার করা হয়, একে মেথিলেটেড স্পিরিট (methylated spirit) বলে। 
- কাঠ এবং ধাতুর তৈরি আসবাবপত্র বার্নিশ করার জন্য মেথিলেটেড স্পিরিট ব্যবহার করা হয়। 
- বর্তমানে ব্রাজিলে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানিরূপে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- স্টার্চ (চাল, গম, আলু ও ভুট্টা) থেকে গাঁজন (Fermentation) প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়। 
- এছাড়া চিনি শিল্পের উপজাত উৎপাদ (by-product) চিটাগুড় থেকে একই প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল (ইথানল) পাওয়া যায়। 
- বাংলাদেশের দর্শনায় কেরু এন্ড কেরু কোম্পানিতে ইথানল প্রস্তুত করে দেশের চাহিদা পূরণ করা হয়। 
- অ্যালকোহলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে একদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর চাপ কমে, অপরদিকে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১২.
Hg is the symbol of which element with atomic number:
  1. 79
  2. 80
  3. 78
  4. 81
ব্যাখ্যা

• Hg হলো পারদ (Mercury) উপাদানের প্রতীক, যার পারমাণবিক সংখ্যা 80। পারদ একটি ভারী, তামার রঙের তরল ধাতু যা সাধারণত তাপমাত্রা কক্ষেও তরল অবস্থায় থাকে। এটি বৈদ্যুতিকভাবে চালক এবং রাসায়নিকভাবে কিছুটা সক্রিয়। পারদ প্রধানত তাপমাত্রা মাপার থার্মোমিটার, ব্যারোমিটার, এবং বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জামে ব্যবহার করা হয়। এটি মাটিতে, পানিতে এবং বায়ুমণ্ডলে একমাত্রিকভাবে ছড়িয়ে যেতে পারে, এবং অতিরিক্ত সংস্পর্শে বিষাক্ত। Hg-এর বিশেষত্ব হলো এটি একমাত্র ধাতু যা সাধারণ অবস্থায় তরল। পারমাণবিক সংখ্যার হিসাব অনুযায়ী Hg-এর নিউক্লিয়াসে 80 প্রোটন থাকে, যা এটিকে প্রায় সকল ধাতুর মধ্যে আলাদা করে। সুতরাং, Hg-এর পারমাণবিক সংখ্যা হলো 80।

উত্তর: খ) 80

কিছু গুরুত্বপূর্ণ মৌলের পারমানবিক সংখ্যা:
- সিলিকনের পারমাণবিক সংখ্যা ১৪,
- সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১১,
- ম্যাগনেসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১২,
- কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা ৬,
- আর্সেনিকের পারমাণবিক সংখ্যা ৩৩,
- নাইট্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ৭,
- ইউরেনিয়ামের পারমানবিক সংখ্যা ৯২।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩.
Which molecule represents the main form of energy stored in mitochondria?
  1. ATP
  2. ADP
  3. RNA
  4. Glycogen
ব্যাখ্যা

• মাইটোকন্ড্রিয়ায় প্রধান শক্তির উৎস হিসেবে যে অণুটি কাজ করে তা হলো ATP। ATP বা অ্যাডেনোসিন ট্রাইফসফেট হলো একটি উচ্চ-শক্তির অণু, যা কোষের বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপ চালানোর জন্য তাত্ক্ষণিক শক্তি সরবরাহ করে। মাইটোকন্ড্রিয়া খাদ্য থেকে প্রাপ্ত শক্তিকে রূপান্তরিত করে ATP তৈরি করে, যা পরে প্রোটিন সংযুক্তি, এনজাইমিক প্রতিক্রিয়া, পেশীর সংকোচন এবং নিউরোনে সিগন্যাল প্রেরণ সহ জীববৈজ্ঞানিক বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ব্যবহার হয়। ADP বা অ্যাডেনোসিন ডাইফসফেট হলো ATP এর নিম্ন শক্তির রূপ, যা পুনরায় ATP তে রূপান্তরিত হয়। RNA মূলত প্রোটিন সংশ্লেষে গুরুত্বপূর্ণ, এবং গ্লাইকোজেন হলো শক্তির সংরক্ষিত আকার, তবে তা সরাসরি তাত্ক্ষণিক শক্তি সরবরাহ করে না। তাই সঠিক উত্তর হলো ক) ATP।

 মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- মাইটোকন্ড্রিয়া হলো প্রকৃত জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ থাকে, তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তি ঘর বলা হয়। 
- এতে ক্রেবস চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ইত্যাদি সংঘটিত হয়। 
- কলিকার ১৮৫০ সালে সাইটোপ্লাজমে এসব অঙ্গাণু আবিষ্কার করেন। 
- অল্টম্যান ১৮৯৪ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার উপস্থিতি আবিষ্কার করেন। 
- বেন্ডা ১৮৯৮ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার নামকরণ করেন। 
- বিভাজনের মাধ্যমে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। কোষে একটিমাত্র মাইটোকন্ড্রিয়া থাকলে তা কোষ বিভাজনের সাথেই বিভাজিত হয়। 

মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ: 
১। কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে। 
২। শ্বসনের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনজাইম ও কোএনজাইম ধারণ করে। 
৩। শ্বসন এর বিভিন্ন পর্যায় যেমন- ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন পরিবহন, অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ইত্যাদি এখানে সম্পন্ন হয়। 
৪। কিছু পরিমাণ DNA ও RNA উৎপন্ন করে। 
৫। ADP কে ATP তে রূপান্তর করার মাধ্যমে ATP তে শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে সহায়তা করে। 
৬। স্নেহ বিপাকে অংশ গ্রহণ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
Hemoglobin is found in which type of blood cell?
  1. Plasma
  2. Platelet
  3. White blood cell
  4. Red blood cell
ব্যাখ্যা

• হিমোগ্লোবিন প্রধানত রক্তের কোন ধরণের কোষে পাওয়া যায় তা জানতে হলে আমাদের রক্তের গঠন সম্পর্কে বোঝা জরুরি। রক্ত মূলত চার ধরনের অংশ নিয়ে গঠিত—প্লাজমা, লাল রক্তকোষ, সাদা রক্তকোষ এবং প্লেটলেট। হিমোগ্লোবিন হলো একটি প্রোটিন যা অক্সিজেনকে ধারণ এবং পরিবহন করার কাজ করে। এটি লাল রক্তকোষে থাকে এবং শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুস থেকে শারীরের সব কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। সাদা রক্তকোষ মূলত রোগপ্রতিরোধে কাজ করে, প্লেটলেট রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে, আর প্লাজমা রক্তের তরল অংশ। তাই হিমোগ্লোবিন পাওয়া যায় লাল রক্তকোষে (Red blood cell)।

সঠিক উত্তর: ঘ) Red blood cell

রক্ত (Blood): 
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ তরল পদার্থ। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়। 
- রক্ত হৃদপিন্ড, শিরা, উপশিরা, ধমনি, শাখা ধমনি ও কৈশিকনালি পথে আবর্তিত হয়। 
- এটি ক্ষারধর্মী, লবণাক্ত স্বাদযুক্ত পদার্থ। 
- সাধারণত হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে (Bone marrow) রক্ত কণিকার জন্ম। 
- রক্ত এক প্রকার লাল তরল যোজক কলা। 
- রক্ত রক্তরস ও রক্ত কণিকার সমন্বয়ে গঠিত। 

রক্তের কাজ: 
- রক্ত দেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- এটি দেহের নানাবিধ কাজ করে। 
যেমন- 
• অক্সিজেন পরিবহন: লোহিত রক্ত কণিকা কোষে অক্সিজেন বহন করে। 
• কার্বন ডাইঅক্সাইড অপসারণ: নিঃশ্বাস বায়ুর সাথে দেহের কোষে উৎপন্ন CO2 বাইরে বের করে দেয়। 
• খাদ্যসার পরিবহন: রক্তরস গাড়ুকোজ, অ্যামাইনো অ্যাসিড ও চর্বি কণা ইত্যাদি কোষে সরবরাহ করে। 
• তাপের সমতা রক্ষা: দেহের সর্বত্র তাপের সমতা রক্ষা করে। 
• বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন: রক্ত দেহের সকল দূষিত ও বর্জ্য পদার্থ বহন করে বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও কার্বন ডাইঅক্সাইড হিসেবে নিষ্কাশন করে। 
• হরমোন পরিবহন: হরমোন সরাসরি রক্তে মিশে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন অঙ্গে সঞ্চালিত হয়ে বিভিন্ন জৈবিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
• রোগ প্রতিরোধ: শ্বেত রক্ত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেহকে জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। 
• রক্ত জমাট বাঁধা: অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং দেহের রক্ত ক্ষরণ বন্ধ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
Which layer directly covers the brain and spinal cord?
  1. Skull
  2. Meninges
  3. Dura mater only
  4. Axon
ব্যাখ্যা

• যে স্তরটি সরাসরি মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডকে আচ্ছাদিত করে, সেটি হলো মেনিনজেস (Meninges)। মেনিনজেস হলো তিনটি সুরক্ষামূলক স্তর – ডিউরা মেটার (Dura mater), অ্যারাকনয়েড মেটার (Arachnoid mater) এবং পিয়া মেটার (Pia mater)। এর মধ্যে পিয়া মেটার মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের পৃষ্ঠের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে লেগে থাকে, অর্থাৎ এটি সরাসরি স্নায়ুতন্ত্রকে ঢেকে রাখে। মেনিনজেসের প্রধান কাজ হলো মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডকে আঘাত, সংক্রমণ ও অন্যান্য বাহ্যিক ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেওয়া। তাই, প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে সঠিক উত্তর হলো খ) Meninges.

স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬.
Which mosquito species is known to carry Plasmodium parasites?
  1. Aedes
  2. Anopheles
  3. Culex
  4. Armigeres
ব্যাখ্যা

• যে মশা Plasmodium পরজীবী বহন করে এবং মানুষের মধ্যে ম্যালেরিয়া রোগ ছড়ায়, সেটি হলো Anopheles প্রজাতির মশা। এই মশা প্রধানত সন্ধ্যা ও রাতের বেলা কামড়ায় এবং স্ত্রী মশাগুলোই রক্ত চুষে থাকে, কারণ তাদের ডিম বিকাশের জন্য রক্তের প্রয়োজন হয়। যখন সংক্রমিত Anopheles মশা মানুষকে কামড়ায়, তখন তার লালার সঙ্গে Plasmodium পরজীবী মানব রক্তে প্রবেশ করে। পরে এই পরজীবী যকৃত ও রক্তকণিকায় বৃদ্ধি পেয়ে ম্যালেরিয়ার লক্ষণ সৃষ্টি করে, যেমন জ্বর, কাঁপুনি ও দুর্বলতা। তাই সঠিক উত্তর হলো — খ) Anopheles.

অ্যানোফিলিস: 
- ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণুবাহী মশা হলো অ্যানোফিলিস। 
- স্যার রোনাল্ড রস প্রমাণ করেন যে অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া জ্বরের জন্য দায়ী। 
- ১৮৯৭ সালে ভারতে কর্মরত ব্রিটিশ ডাক্তার স‍্যার রোনাল্ড রস প্রমাণ করেন যে Anopheles মশা এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে। 
- এ আবিষ্কারের কারণে তাকে ১৯০২ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়। 
- তিনি সুস্থ ও সংক্রমিত পাখিদেরকে অধ্যয়ন করে প্লাসমোডিয়াম জীবাণুর সমগ্র জীবনচক্র সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করেন। 
- তিনি দেখান যে মশার লালাগ্রন্থিতে প্লাসমোডিয়াম জীবাণু থাকে এবং মশার কামড়ের মাধ্যমে এটি অন্য পোষকের দেহে সংক্রমিত হয়। 
- তাঁর এই কাজের উপর ভিত্তি করে অ্যানোফিলিস মশার বংশবিস্তার রোধের মাধ্যমে ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। 
অন্যদিকে, 
- ডেঙ্গু রোগের জীবাণুবাহী মশার প্রজাতি হলো- এডিস। 
- ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগের জীবাণুবাহী মশা হলো- কিউলেক্স। 
- কালাজ্বরের জীবাণুবাহী মশা হলো- স্যান্ড ফ্লাই। 

উৎস: ব্রিটানিকা এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১৭.
Which disease is caused by a virus, not bacteria?
  1. Anthrax
  2. Leprosy
  3. Salmonellosis
  4. Measles
ব্যাখ্যা

• হাম (Measles) একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা Measles virus (Morbillivirus) দ্বারা ঘটে। এটি একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ যা প্রধানত শিশুদের আক্রান্ত করে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ভাইরাসটি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্যদের শরীরে প্রবেশ করে। প্রাথমিক লক্ষণগুলির মধ্যে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে দাগ দেখা দেওয়া উল্লেখযোগ্য। টিকা (MMR vaccine) গ্রহণের মাধ্যমে হাম প্রতিরোধ করা যায়। অপরদিকে, Anthrax, Leprosy ও Salmonellosis ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট রোগ। তাই সঠিক উত্তর হলো — ঘ) Measles.

• ভাইরাসজনিত রোগ: 
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ: জন্ডিস, পোলিও, জলাতঙ্ক, কোভিড-১৯, হার্পিস, দাদ, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি। 

 • ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ: 
- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ: যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, মেনিনজাইটিস, কলেরা, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, আমাশয়, প্লেগ, কুষ্ঠ ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য, 
- 'নিউমোনিয়া' রোগটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১৮.
If you consume 10 grams of fat, about how many kilocalories will it provide?
  1. 40 kcal
  2. 70 kcal
  3. 90 kcal
  4. 120 kcal
ব্যাখ্যা

• চর্বি বা ফ্যাট আমাদের শরীরের অন্যতম প্রধান শক্তির উৎস। প্রতি গ্রাম ফ্যাট প্রায় ৯ কিলোক্যালরি (kcal) শক্তি প্রদান করে। সুতরাং, যদি কেউ ১০ গ্রাম ফ্যাট গ্রহণ করে, তবে তা থেকে মোট শক্তি পাওয়া যাবে ১০ × ৯ = ৯০ কিলোক্যালরি। অর্থাৎ, ১০ গ্রাম ফ্যাট শরীরে প্রায় ৯০ কিলোক্যালরি শক্তি সরবরাহ করে। ফ্যাট শরীরে দীর্ঘমেয়াদে শক্তি সঞ্চয়ের কাজও করে এবং এটি ভিটামিন A, D, E ও K শোষণে সহায়তা করে। তাই সঠিক পরিমাণে ফ্যাট গ্রহণ শরীরের জন্য উপকারী হলেও অতিরিক্ত ফ্যাট গ্রহণ স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
- সঠিক উত্তর: গ) ৯০ kcal

খাদ্যের কাজ: 
- মানবদেহের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই, খাদ্য দেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য কাজ করে থাকে। 
যেমন- 
১। দেহের গঠন, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ: 
- মাতৃগর্ভে ভ্রূণ সৃষ্টির পর হতে ২০/২৫ বছর বয়স পর্যন্ত দেহ গঠন ও বৃদ্ধিসাধন প্রক্রিয়া চলতে থাকে। 
- এছাড়া কায়িক শ্রম, রোগ-বালাই, ইত্যাদিতে দেহ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। 
- খাদ্য মানব দেহে এসব গঠন, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করে থাকে। 
যেমন- দেহের পেশি গঠনে প্রোটিন ও অস্থি বা হাড় গঠনে ক্যালসিয়াম কাজ করে। 

২। তাপ ও শক্তি উৎপাদন: 
- দেহের স্বাভাবিক উষ্ণতা বজায় রাখা ও অভ্যন্তরীণ কাজ সম্পাদন করে দেহকে সচল রাখার জন্য খাদ্য তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 
- দেহে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন হয় বলেই দেহ সচল ও সক্রিয় থাকে। 
- স্নেহ জাতীয় খাদ্য হতে দেহে সর্বাধিক তাপ ও শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- শর্করা জাতীয় খাদ্য হতে উৎপন্ন শক্তিও দেহে অতি প্রয়োজনীয়। 
যেমন- ১ গ্রাম শর্করা হতে ৪ কিলোক্যালরি (প্রায়), ১ গ্রাম প্রোটিন হতে ৪ কিলোক্যালরি (প্রায়) এবং ১ গ্রাম ফ্যাট হতে ৯ কিলোক্যালরি (প্রায়) শক্তি পাওয়া যায়। 

৩। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি: 
- খাদ্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে দেহকে জীবাণু ও রোগের আক্রমণ হতে রক্ষা করে। 
- প্রধানত ভিটামিন ও খনিজ লবণ জাতীয় খাদ্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে দেহকে সুস্থ রাখে। 

৪। দেহের অভ্যন্তরীণ কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ: 
- মানবদেহে প্রতিনিয়ত অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক কর্মক্রিয়া চলতে থাকে। 
- হৃৎপিণ্ড (Heart), ফুসফুস (Lung), পাকস্থলী (Stomatch), মস্তিষ্ক (Brain), বৃক্ক (Kidney), যকৃত (Liver) ইত্যাদি সবসময় সক্রিয় অবস্থায় থাকে। 
- এনজাইম ও হরমোনসমূহ শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈব রাসায়নিক কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। 
- এছাড়া বিপাক, পরিপাক, শোষণ ইত্যাদি কাজ সংঘটিত হয়। 
- এসব কাজে প্রোটিন, খনিজ লবণ, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, পানি ইত্যাদি বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
The total blood volume in an adult human body is approximately:
  1. 5–6 L
  2. 8–9 L
  3. 2–3 L
  4. 10–12 L
ব্যাখ্যা

• প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে মোট রক্তের পরিমাণ প্রায় ৫–৬ লিটার (উত্তর: ক)। রক্ত শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৭–৮ শতাংশ। এই রক্ত শরীরের প্রতিটি অংশে অক্সিজেন, পুষ্টি ও হরমোন বহন করে এবং বর্জ্য পদার্থ নির্গমনে সাহায্য করে। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দেহে গড়ে ৫.৫ লিটার এবং মহিলার ক্ষেত্রে প্রায় ৪.৫–৫ লিটার রক্ত থাকে। রক্তের এই পরিমাণ শারীরিক গঠন, লিঙ্গ, ওজন এবং পরিবেশগত অবস্থার ওপর কিছুটা নির্ভরশীল হলেও সাধারণত ৫–৬ লিটার রক্তই মানুষের শরীরে স্বাভাবিক বলে ধরা হয়।

রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা।
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়।
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়, এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪ ।
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস।
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত।
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে যা শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%।

রক্তের উপাদান:
- মানব দেহের রক্ত প্রধানত রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত।
- স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
- উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা (Blood corpuscles) বলে।
- প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলো রক্তরসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০.
What term is often used to describe Antonie van Leeuwenhoek?
  1. Father of Anatomy
  2. Father of Chemistry
  3. Father of Physics
  4. Father of Microbiology
ব্যাখ্যা

• Antonie van Leeuwenhoek কে সাধারণত "Father of Microbiology" বলা হয়। তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি নিজ হাতে তৈরি অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে অণুজীব বা মাইক্রোঅর্গানিজম পর্যবেক্ষণ করেন। তার আবিষ্কারের মাধ্যমে মানুষের কাছে প্রথমবারের মতো ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া, ও শুক্রাণুর অস্তিত্ব উন্মোচিত হয়। তিনি জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করেন, যেখানে অণুজীবের গঠন ও আচরণ নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। তার অবদান বিজ্ঞান জগতে মাইক্রোবায়োলজির ভিত্তি স্থাপন করে। তাই সঠিক উত্তর হলো — ঘ) Father of Microbiology.

• অণুজীববিজ্ঞান:
- অণুজীববিজ্ঞান হলো জীববিজ্ঞানের একটি শাখা যা অণুজীব নিয়ে আলোচনা করে। 
- অণুজীব বলতে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, শৈবাল, এবং প্রোটোজোয়া-র মতো অতি ক্ষুদ্র জীবকে বোঝায়, যা খালি চোখে দেখা যায় না। 
- এই শাখার মূল আলোচ্য বিষয় হল অণুজীবের গঠন, কার্যাবলী, বাস্তুসংস্থান, এবং রোগ সৃষ্টিকারী ক্ষমতা। 

• অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক-ই প্রথম অণুজীব আবিষ্কার করেন, তাই তাঁকে অণুজীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়।

• অণুজীববিজ্ঞান এর গুরুত্ব:
- রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা: অণুজীববিজ্ঞান রোগের কারণ নির্ণয় এবং উপযুক্ত প্রতিষেধক ও ঔষধ তৈরিতে সহায়তা করে।  
- খাদ্য সুরক্ষা: খাদ্য উৎপাদনে অণুজীবের ভূমিকা এবং খাদ্য সংরক্ষণে অণুজীবের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে জানতে সহায়তা করে।  
- পরিবেশ সুরক্ষা: পরিবেশের দূষণ নিয়ন্ত্রণে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য অণুজীবের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে সহায়তা করে।  
- কৃষি: অণুজীব সার তৈরিতে এবং ফসলের রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।  
- শিল্প: বিভিন্ন শিল্প কারখানায় যেমন - ফার্মাসিউটিক্যালস, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং বায়োটেকনোলজিতে অণুজীব ব্যবহার করা হয়। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান। 
- ব্রিটানিকা।

২১.
Which insect is mainly used in sericulture?
  1. Honeybee
  2. Termite
  3. Silkworm
  4. Butterfly
ব্যাখ্যা

• রেশম উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত প্রধান পোকাটি হলো রেশমকীট (Silkworm)। রেশমকীটের বৈজ্ঞানিক নাম Bombyx mori। এটি একধরনের পোষ মানানো পতঙ্গ, যা শুঁয়োপোকার স্তরে রেশম উৎপাদন করে। রেশমকীট মূলত তুঁত গাছের পাতা খেয়ে বেঁচে থাকে এবং তার কোকুন বা ডিম্বাকার আবরণ থেকে মূল্যবান রেশম সুতা তৈরি হয়। এই রেশম সুতা বস্ত্র শিল্পে ব্যবহৃত হয়, যা অত্যন্ত নরম, উজ্জ্বল ও বিলাসবহুল। রেশমচাষ বা সেরিকালচার অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্প, যা বহু মানুষের জীবিকার উৎস। তাই রেশম উৎপাদনে মূল ভূমিকা পালন করে রেশমকীট।

আধুনিক চাষ: 

- মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে - পিসিকালচার; 
- চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে - প্রণকালচার; 
- মৌমাছির চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে - এপিকালচার; 
- রেশমের চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে - সেরিকালচার; 
- উদ্যানবিদ্যা বিষয়ক বিদ্যাকে বলে - হর্টিকালচার; 
- পাখিপালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলে - এভিকালচার; 
- সামুদ্রিক মৎস পালনবিদ্যাকে বলে - মেরিকালচার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

২২.
Where in space is the James Webb Space Telescope located?
  1. Geostationary Orbit
  2. Lunar Orbit
  3. Low Earth Orbit
  4. Lagrange Point 2 (L2)
ব্যাখ্যা

• জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপটি ল্যাগ্রেঞ্জ পয়েন্ট ২ (L2)-তে অবস্থান করছে, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ কিলোমিটার দূরে। এই স্থানে পৃথিবী ও সূর্যের মহাকর্ষীয় টান এমনভাবে ভারসাম্য রক্ষা করে যে টেলিস্কোপটি পৃথিবীর সাথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পারে, কিন্তু তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থানে থাকে। এই অবস্থান থেকে টেলিস্কোপটি পৃথিবীর ছায়া ও আলোর ব্যাঘাত ছাড়াই মহাবিশ্বের গভীরতম অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করতে পারে। L2 পয়েন্ট অবস্থান করায় জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ ঠান্ডা থাকে, যা ইনফ্রারেড বিকিরণ শনাক্ত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ:
- বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী স্পেস টেলিস্কোপ জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ।
- এটি মার্কিন মহাকাশ সংস্থা NASA, কানাডীয় মহাকাশ সংস্থা ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় নির্মিত একটি মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র।
- এটিকে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ-এর উত্তরসূরী হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছে।
- জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের আয়না ৬.৫ মিটার ব্যাসের (২১.৩ ফুট), যা হাবলের আয়নার তুলনায় প্রায় সাত গুণ বড়। আয়না বড় হওয়ার ফলে এটি অনেক বেশি আলো সংগ্রহ করতে সক্ষম, যা দূরবর্তী গ্যালাক্সি ও মহাবিশ্বের প্রাচীনতম ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণে সহায়তা করে।
- টেলিস্কোপটি পৃথিবীকে কেন্দ্র করে সরাসরি ঘোরে না, বরং সূর্যকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ কক্ষপথে চলে—লিসাজু (Lissajous) প্যাটার্নে দ্বিতীয় ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্টে (L2)। এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার (৯.৩ লক্ষ মাইল) দূরে, পৃথিবীর রাতের দিকের অংশে অবস্থিত।
- ওয়েবের মূল লক্ষ্য হলো ছায়াপথের জন্ম ও বিবর্তন এবং নক্ষত্র ও গ্রহসমূহের সৃষ্টি সংক্রান্ত গবেষণা।

উল্লেখ্য,
- সবচেয়ে পুরনো ব্ল্যাকহোলের সন্ধান পেয়েছে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ।
- সূর্যের চেয়ে ষোলো লক্ষগুণ ভারী এই ব্ল্যাকহোলের বয়স প্রায় মহাবিশ্বের বয়সের কাছাকাছি, যেখানে মহাবিশ্বের বয়স ১৩৮০ কোটি বছর।
- এই ব্ল্যাকহোলটি নক্ষত্র-অর্থাৎ তারাদের জন্মের বিষয়ে আরো নিখুঁত তথ্য দেবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
- এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের দুটি ইনফ্রারেড ক্যামেরা ব্যবহার করেছেন।
- মিড-ইনফ্রারেড যন্ত্র (MIRI) এবং নিয়ার ইনফ্রারেড ক্যামেরা। 

উৎস: 
১। ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 
২। স্পেস ডট কম।