পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৪
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৬ টপিক: সমাস - দ্বন্দ্ব, কর্মধারয় ও তৎপুরুষ সমাস [লাইভ ক্লাস - ১১ ও ১২]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৪ প্রশ্ন

.
কোনটি পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) রোগমুক্ত
  2. খ) অকালপক্ব
  3. গ) রাতকানা
  4. ঘ) ঈশ্বরদত্ত
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু, ঋণমুক্ত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- অকালে পক্ব = অকালপক্ব ও রাতে কানা = রাতকানা সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- ঈশ্বর কর্তৃক দত্ত = ঈশ্বরদত্ত তৃতীয় তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
‘অহোরাত্র’ কোন ধরনের সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) কর্মধারয় সমাস
  3. গ) বহুব্রীহি সমাস
  4. ঘ) দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
 
দ্বন্দ্ব সমাস নিম্নোক্ত কয়েক প্রকার হতে পারে-
⇒ মিলনার্থক দ্বন্দ্ব,
⇒ বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব,
⇒ বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব,
⇒ অঙ্গবাচক দ্বন্দ্ব,
⇒ বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব,
⇒ সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব,
⇒ সমার্থক দ্বন্দ্ব,
⇒ একশেষ দ্বন্দ্ব,
⇒ অলুক দ্বন্দ্ব,
⇒ নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব।

• নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব: 
যে দ্বন্দ্ব সমাস কোনো নিয়ম মানে না তাকে নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন: 
- অহঃ ও নিশা = অহর্নিশ।
- অহঃ ও রাত্র = অহোরাত্র।
- দিবা ও রাত্রি = দিবারাত্র।
- কুশ ও লব = কুশীলব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
.
‘অবুঝ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) অব্যয়ীভাব
  2. খ) নঞ্ তৎপুরুষ
  3. গ) অলুক দ্বন্দ্ব
  4. ঘ) উপমান কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• নঞ্ তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে নঞর্থক বা না-বাচক অব্যয় অর্থাৎ না, নেই, নাই, নয় প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়। বাংলায় ব্যবহৃত নঞর্থক অব্যয়গুলোর মধ্যে 'নয়, না, নেই, অ, অন, অনা, আ, গর, ন, নি, বি, বে' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। নঞ স্বরবর্ণের পূর্বে বসলে 'অন' এবং ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্বে বসলে 'অ' হয়।
যেমন:
- নয় কাতর = অকাতর,
- ন অশন = অনশন,
- নয় বুঝ = অবুঝ,
- নয় সরকারি = বেসরকারি ইত্যাদি।

এরূপ- নীরব, বেআইনি, নির্জন, নাস্তিক, নাতিদীর্ঘ প্রভৃতি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
.
কোনটি রূপক কর্মধারায় সমাস নয়?
  1. ক) কালচক্র
  2. খ) প্রাণপ্রিয়
  3. গ) বিদ্যাধন
  4. ঘ) সিংহাসন
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।

অন্যদিকে,
‘সিংহাসন’ মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস । এর ব্যাস কাব্য হচ্ছে- সিংহ চিহ্নিত যে আসন = সিংহাসন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি ও ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
.
‘সাত-পাঁচ' কোন ধরনের সমাস?
  1. ক) সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
  2. খ) তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব সমাস
  4. ঘ) দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

⇒ সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় দ্বারা সংখ্যা বোঝায় তাকে বলা হয় সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন- সাত-পাঁচ, ছয়-নয়, নয়-ছয়, ঊনিশ-বিশ. সাত-সতের, লক্ষ-কোটি, দশ-বারো ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটি তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস?
  1. ক) জনাকীর্ণ
  2. খ) মাল্যদান
  3. গ) সংগীতাসর
  4. ঘ) অশ্বপদ
ব্যাখ্যা
⇒ তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস :
যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লোপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জন দ্বারা আকীর্ণ = জনাকীর্ণ;
- ঈশ্বর কর্তৃক দত্ত = ঈশ্বরদত্ত;
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা;
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ;
- লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা;
- রক্ত দ্বারা সিক্ত = রক্তসিক্ত;
- ধামা দ্বারা চাপা = ধামাচাপা;
- অস্ত্র দ্বারা উপচার = অস্ত্রোপাচার;
- স্বনাম দ্বারা ধন্য = স্বনামধন্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মালাকে দান = মাল্যদান দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
- সংগীতের জন্য আসর = সংগীতাসর  চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস।
- অশ্বের পদ = অশ্বপদ ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি ড. হায়াৎ মামুদ।
.
পূর্বপদের এ, য়, তে বিভক্তি লোপ পেয়ে হয়-
  1. ক) চতুর্থী তৎপুরুষ
  2. খ) তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. গ) সপ্তমী তৎপুরুষ
  4. ঘ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
ছাত্রের সমাজ= ছাত্রসমাজ।
দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা।

১. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
২. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
৩. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৪. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৫. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৬. সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৭. নঞ্ তৎপুরুষ সমাস: না বাচক নঞ্ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্ তৎপুরুষ সমাস বলে।
৮. উপপদ তৎপুরুষ সমাস: যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়, সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।।
.
কোনটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কাটাচোখা
  2. খ) ঋষিকবি
  3. গ) কানাকানি
  4. ঘ) ঔষধি
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে- কর্ম + ধৃ+ ণিচ + আ = কর্মধারয়। এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে। অর্থাৎ, যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- যা কাঁচা তাই পাকা= কাঁচাপাকা,
- ঋষি যে কবি = ঋষিকবি  ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে-
  1. ক) উপমান কর্মধারয়
  2. খ) বহুপদী দ্বন্দ্ব
  3. গ) উপমিত কর্মধারয়
  4. ঘ) উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
⇒ উপপদ তৎপুরুষ:
কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়  তাকে উপপদ তৎপুরুষ বলে।
যেমন:
- দ্রুত গমন করে যে = দ্রুতগামী;
- গায়ে পড়ে যে = গায়েপড়া;
- জাদু করে যে = জাদুকর;
- শিরো ধার্য যা = শিরোধার্য;
- বর্ণ চুরি করে যে = বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. ক) উপমান কর্মধারয় সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।
  2. খ) যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়।
  3. গ) উপমিত কর্মধারয় সমাসে উভয় পদই বিশেষণ হয়।
  4. ঘ) যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
ব্যাখ্যা
• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে। এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়। 
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।
যেমন:
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

অতএব,
‘উপমিত কর্মধারয় সমাসে উভয় পদই বিশেষণ হয়।’ এই কাব্যটি অশুদ্ধ।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)।
১১.
‘তোমরা’ এর ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) তুমি ও সে
  2. খ) তুমি ও তারা
  3. গ) তারা ও সে
  4. ঘ) সে ও তুমি
ব্যাখ্যা
⇒ একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসের সমস্যমান পদগুলোর কেবল একটি পদের প্রাধান্য থাকে এবং সেই পদের সাহায্যে অন্য পদের অর্থ প্রকাশ পায় তাকে একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- সে, তুমি ও আমি = আমরা;
- সে ও তুমি = তোমরা;
- জয়া ও পতি = দম্পতি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১২.
কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাস?
  1. ক) কাজলকালো
  2. খ) নয়নপদ্ম
  3. গ) কুসুমকোমল
  4. ঘ) মনমাঝি
ব্যাখ্যা
• উপমিত কর্মধারয়:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম;
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ; 
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

[এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।]

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে;
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত;
- কুসুমের ন্যায় কোমল = কুসুমকোমল।

[এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।]

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
কিছু কর্মধারয় নমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয় । এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩.
‘বজ্জাত’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) অলুক তৎপুরুষ
  2. খ) বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব
  3. গ) উপমান কর্মধারয়
  4. ঘ) পঞ্চমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
- সাধারণত পুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহীত, নিয়ত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, চালানাে, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরস্পরের ফলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়। কোনো কোনো সময় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের ব্যাসবাক্যে ‘এর’, ‘চেয়ে’ ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বদ থেকে জাত = বজ্জাত;
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত;
- প্রাণের চেয়ে অধিক = প্রাণাধিক;
- সত্য থেকে ভ্রষ্ট = সত্যভ্রষ্ট;
- প্রাণের চেয়ে প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- জেল থেকে মুক্ত= জেলমুক্ত;
- জেল থেকে খালাস = জেলখালাস;
- পণ হতে মুক্তি = পণমুক্তি;
- আগা থেকে গােড়া = আগাগােড়া;
- পদ থেকে চ্যুত = পদচ্যুত ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪.
কোনটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কাঁচকলা
  2. খ) দাকুমড়া
  3. গ) আদায়-কাঁচকলায়
  4. ঘ) গাছপাকা
ব্যাখ্যা
• সাধারণ কর্মধারয় সমাস:
মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
(বিশেষণ+ বিশেষ্য)
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা;
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন;
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা।

অন্যদিকে,
- আদায় ও কাঁচকলায় = আদায়-কাঁচকলায় (অলুক দ্বন্দ্ব সমাস)।
- দা ও কুমড়া = দাকুমড়া ( বিপরীতার্থক বা বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস)।
- গাছে পাকা = গাছপাকা ( সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।