পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়34 minutes
মোট প্রশ্ন৩৭
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৬: বিষয়ের নাম: বাংলাদেশ বিষয়াবলী - [১০০ নাম্বার] পরীক্ষার টপিক: i) বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯৪৭ - মুক্তিযুদ্ধ + সমসাময়িক) ii) বাংলাদেশের সংবিধান iii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সরকার ব্যবস্থা iv) বাংলাদেশের জনসংখ্যা, আদমশুমারি, জাতি, গোষ্ঠী ও উপজাতি সংক্রান্ত বিষয়াদি। v) বাংলাদেশের জাতীয় অর্জন, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনাসমূহ, জাতীয় পুরস্কার, বাংলাদেশের খেলাধুলাসহ চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি। উৎস: উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির পৌরনীতি ও সুশাসন বোর্ড বই, বাংলাপিডিয়া, সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইট ও যেকোনো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৭ প্রশ্ন

.
‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ - পুস্তিকাটি সম্পাদনা করেন -
  1. ক) আবুল মনসুর আহমদ
  2. খ) কাজী মোতাহার হোসেন
  3. গ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
  4. ঘ) দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ
ব্যাখ্যা
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালে ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ প্রকাশিত হয়।
- এই পুস্তিকার নিবন্ধন সমূহের লেখক ছিলেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন,
- অধ্যাপক আবুল কাশেম এবং
- আবুল মনসুর আহমদ।
- ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে অধ্যাপক আবুল কাশেম সম্পাদিত পুস্তিকা প্রকাশ করে। 
- এই পুস্তিকায় বাংলা ভাষাকে পূর্ব বাংলায় শিক্ষার একমাত্র মাধ্যম, অফিস ও আদালতের ভাষা এবং পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তুলে ধরা হয়।
- দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ১৯৪৯ সালে মজলিশের সভাপতি নির্বাচিত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
'এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে' পোস্টারটি কার আঁকা?
  1. ক) মোহাম্মদ বিন সুলতান
  2. খ) কামরুল হাসান
  3. গ) মোস্তফা মনোয়ার
  4. ঘ) এস এম সুলতান
ব্যাখ্যা
• কামরুল হাসান:
- কামরুল হাসান প্রখ্যাত বাংলাদেশি চিত্রশিল্পী।
- প্রকৃত নাম আবু শরাফ মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
- ’১৯২১ সালের ২ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার নারেঙ্গা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি চিত্রশিল্পী হলেও নিজে ‘পটুয়া’ নামে পরিচিত হতে পছন্দ করতেন।
-  কামরুল হাসান স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ে জেনারেল ইয়াহিয়ার মুখের ছবি দিয়ে আঁকা ‘এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে’ পোস্টারটি খুব বিখ্যাত হয়।
- কামরুল হাসান বাংলাদেশের স্বাধিকার ও অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন (১৯৬৯-৭০) এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারি মনোগ্রাম তৈরি করার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
১৯৪৮ সালের ১৫ মার্চ খাজা নাজিমুদ্দিন সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে কত দফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন?
  1. ক) ৫ দফা
  2. খ) ৬ দফা
  3. গ) ৮ দফা
  4. ঘ) ৯ দফা
ব্যাখ্যা
- আন্দোলনের তীব্রতার প্রেক্ষিতে ১৫ মার্চ মুখ্যমন্ত্রী নাজিমুদ্দিন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে ৮ দফা চুক্তিতে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি, তদন্ত কমিটি গঠন, শিক্ষার মাধ্যম বাংলা ও ব্যবস্থাপক সভায় রাষ্ট্রভাষা সংক্রান্ত বিষয় উত্থাপনে রাজি হন।

- চুক্তিগুলো ছিল-
- ভাষার প্রশ্নে গ্রেপ্তার করা সবাইকে মুক্তি প্রদান করা হবে।
- পুলিশি অত্যাচারের বিষয়ে তদন্ত করে একটি বিবৃতি প্রদান করা হবে।
- বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা করার জন্য পূর্ব বাংলার আইন পরিষদে একটি বিশেষ প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।
- সংবাদপত্রের উপর হতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।
- আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না।
- ২৯ ফেব্রুয়ারি হতে জারিকৃত ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করতে হবে।
- পূর্ব বাংলার সরকারি ভাষা হিসাবে ইংরেজি উঠে যাবার পর বাংলাকে সরকারি ভাষা হিসাবে প্রবর্তন করা হবে।
- রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলন " রাষ্ট্রের দুশমনদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয় নাই" এই মর্মে মুখ্যমন্ত্রী ভুল স্বীকার করে বক্তব্য দিবেন।
 
- তড়িঘড়ি করে তাঁর চুক্তি সম্পাদনের মূল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল জিন্নাহর আসন্ন ঢাকা
সফর যেন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।

উৎস: ইতিহাস, এইচএসএল প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
শান্তিতে অবদানের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পেয়েছিলেন -
  1. ক) জুলিও কুরি পদক
  2. খ) জুলিও ফ্রিডম পদক
  3. গ) নেহেরু পদক
  4. ঘ) ম্যাগসেসে পদক
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রবর্তিত হয় ১৯৫০ সালে।
- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' কর্তৃক 'জুলিও কুরি' শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।
- স্বাধীন বাংলাদেশে কোনো রাষ্ট্রনেতার সেটিই ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক পদক লাভ।

উৎস: কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
.
বাংলাদেশে মোট শিক্ষা বোর্ড কতটি রয়েছে?
  1. ক) ৮ টি
  2. খ) ১০টি
  3. গ) ১১ টি
  4. ঘ) ১২টি
ব্যাখ্যা
শিক্ষা বোর্ড:
- বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ১১টি শিক্ষাবোর্ড রয়েছে - 
১। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, 
২। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড,
৩। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা, 
৪। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম, 
৫। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা, 
৬। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী, 
৭। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর,  
৮। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল,  
৯। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেট, 
১০। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর,
১১। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
১৯৫৬ সালের সংবিধান বাতিল করেন -
  1. ক) এ কে ফজলুল হক
  2. খ) ইস্কান্দার মির্জা
  3. গ) খাজা নাজিমুদ্দীন
  4. ঘ) ইয়াহিয়া খান
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৬ সালের নির্বাচিত গণপরিষদের দায়িত্ব ছিল একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা।
- কিন্তু শাসকগোষ্ঠীর অনিহার কারণে এই কাজে বিলম্ব হয়।
- এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৫ সালে গভর্ণর জেনারেল পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান ঘোষণা করা হয়। 
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ যে সংবিধান প্রণীত ও কার্যকর করা হয়েছিল তা মাত্র ২ বছর ৮ মাসকাল চালু ছিল ।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট জেনারেল (অব.) ইস্কান্দার মীর্জা সামরিক আইন জারি করেন এবং ১৯৫৬ সালের সংবিধান বাতিল ঘােষণা করেন।

উৎস:- ইতিহাস প্রথম পত্র - এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র,  এইচ এস সি,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কখন থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস হিসেবে দেশব্যাপী পালিত হয়?
  1. ক) ১৯৫৪ সাল থেকে
  2. খ) ১৯৫৩ সাল থেকে
  3. গ) ১৯৫২ সাল থেকে
  4. ঘ) ১৯৫১ সাল থেকে
ব্যাখ্যা
• শহীদ দিবস:
- ১৯৫৩ সাল থেকে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে বাঙালির শহীদ দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে।
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটির দিন ঘোষিত হয়
- ১৯৯৯ সালে ১৭ নভেম্বর প্যারিসে  ইউনেস্কোর অধিবেশনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ এর স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ভাষা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়। 
- ১৯৬২ সালে সংবিধানে তা বহাল থাকে। 
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই দিনটি সারাবিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

উৎস: - ইতিহাস প্রথম পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বপরিচয়- নবম-দশন শ্রেণি।
.
'আমরা হিন্দু বা মুসলিম যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।' উক্তিটি কার?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) কাইয়ুম চৌধুরী
  3. গ) ড. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. ঘ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
 ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি-
''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

উৎস: বাংলাদেশে ও বিশ্ব পরিচয়, ৭ম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
.
কয়টি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়?
  1. ক) ৩টি  
  2. খ) ৪ টি
  3. গ) ৬টি  
  4. ঘ) ৭টি  
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট:
- যুক্তফ্রণ্ট ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দল সমুহের নির্বাচনী মোর্চা।
- এ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে।
- যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল।
- এ চারটি দল হলো আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল।
- যুক্তফ্রন্ট চারটি দল নিয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ২১ দফা।

[বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইতে সংশোধন আকারে বলা হয়েছে যুক্তফ্রন্ট প্রধানত ৫ টি  দলের সমন্বয়ে গঠিত। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র ১ম ও ২য় খন্ডে চারটি বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত বলা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র অধিক গ্রহনযোগ্য হওয়ায় ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

উৎস: ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র।
১০.
নিচের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বাংলাদেশে বসবাস করে না?
  1. ক) মুন্ডা
  2. খ) নাগা
  3. গ) মাহাতো
  4. ঘ) খিয়াং
ব্যাখ্যা
• ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী:
- নাগা নৃগোষ্ঠী বাংলাদেশে বাস করে না। এরা উত্তর-পূর্ব ভারত এবং উত্তর-পশ্চিম মায়ানমারের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী।
- মুন্ডা, মাহাতো ও খিয়াং নৃগোষ্ঠীসহ বাংলাদেশে মোট ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ব্রিটানিকা।
১১.
কত তারিখে 'ছয়দফা দিবস' পালিত হয়?
  1. ক) ৭ জুন
  2. খ) ১৩ মার্চ
  3. গ) ১৮ জুন
  4. ঘ) ১২ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
• ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলসমূহের সম্মেলেনে বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন সংবলিত ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন।
- পরবর্তীতে ১৮-২০ মার্চ ১৯৬৬ আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সভায় ৬ দফা গৃহিত হয়। পরবর্তীতে, বঙ্গবন্ধু ছয়দফা উত্থাপনের জের ধরে গ্রেপ্তার হন।
- ৭ জুন ছয় দফা দাবী এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবীতে হরতাল চলাকালে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে অনেকে নিহত হয়।
- এর ফলশ্রুতিতে ৭ জুনকে ছয় দফা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
- ছয় দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।

উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেনি।
১২.
১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ কত দিন অব্যাহত ছিল?
  1. ক) ১৯ দিন
  2. খ) ১৭ দিন
  3. গ) ১৪ দিন
  4. ঘ) ১১ দিন
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ:
- ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টির পর কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে এই দুই দেশের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
- ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই কাশ্মীরকে তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করত।
- কাশ্মীর সমস্যাকে কেন্দ্র করে ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হয়।
- ৬ আগস্ট পাকিস্তান বাহিনী ভারত আক্রমণ করলে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়।
- ৬ সেপ্টেম্বর ভারত লাহোর আক্রমণে অগ্রসর হয়।
- ১৭ দিন যুদ্ধের পর জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২৩ সেপ্টেম্বর যুদ্ধ বিরতি ঘোষিত হয়।
- ১৯৬৬ সালের ১০ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত ‘তাসখন্দ চুক্তি'র মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
কোন প্রতিষ্ঠান পত্রিকার নিবন্ধনের কাজ করে?
  1. ক) তথ্য অধিদপ্তর
  2. খ) সাংবাদিক সমিতি
  3. গ) চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর
  4. ঘ) প্রেস কাউন্সিল
ব্যাখ্যা
- চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের নিবন্ধন শাখা থেকে সংবাদপত্রের নিবন্ধন প্রদান করা হয় ।
- চলচ্চিত্র ও প্রকাশনার মাধ্যমে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের চিত্র ভবিষ্যত প্রজন্মের ধারণ করা এবং সরকারের অনুসৃত নীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রমে জনগণকে সম্পৃক্ত করা এ অধিদপ্তরের মূল লক্ষ্য।
- এ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এ অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে জনসচেতনতামূলক প্রামাণ্যচিত্র, ডকুড্রামা, সংবাদচিত্র এবং ফিচার ফিল্ম নির্মাণ করে থাকে।
- পাশাপাশি নিয়মিত ও অ্যাডহক প্রকাশনার আওতায় সাময়িকী-পুস্তক-পুস্তিকা অ্যালবাম ও পোস্টার প্রকাশ করে।
- এ অধিদপ্তরের চলচ্চিত্র ও প্রকাশনাসমূহ তথ্য মন্ত্রণালয়ের গণযোযোগ অধিদপ্তরের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে বিতরণ করা হয়ে থাকে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। [লিঙ্ক]
১৪.
নিচের কোন দুইজন খেতাবধারী মহিলা মুক্তিযোদ্ধা?
  1. ক) ক্যাপ্টেন হালিমা ও তারামন বিবি।
  2. খ) ক্যাপ্টেন সুফিয়া বেগম ও পরিজন বিবি
  3. গ) ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম ও তারামন বিবি
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম ও জাহানারা বেগম
ব্যাখ্যা
তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম:
- বাংলাদেশের দুইজন 'বীরপ্রতীক' খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি
- তারামন বিবির আসল নাম ছিল তারাবানু। 
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য 'বীরপ্রতীক' উপাধিতে ভূষিত করে। 
- তিনি ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। 
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য অন্য আরেকজন মহিলা মুক্তিযুদ্ধাকে 'বীরপ্রতীক' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তিনি হলেন- ডা. সেতারা বেগম।
- ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে ২নং সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং ডেইলি স্টার পত্রিকা।
১৫.
ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকে বাংলাদেশের কোন ক্রিকেটার পাঁচ উইকেট পেয়েছেন?
  1. ক) তাসকিন আহমেদ
  2. খ) মো: রফিক
  3. গ) রুবেল হোসেন
  4. ঘ) তাইজুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
ভারত ও বাংলাদেশ ম্যাচ:
- বাংলাদেশি ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদের ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হয় ১৭ জুন, ২০১৪ তারিখে।
- ভারতের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসাবে ৫ উইকেট লাভ করেন।

উৎস: ক্রিকইনফো।
১৬.
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রথম কে প্রচার করেন?
  1. ক) আলী জাফর
  2. খ) আবুল হাসান
  3. গ) আব্দুল লতিফ
  4. ঘ) এম এ হান্নান
ব্যাখ্যা
• স্বাধীনতার ঘোষণা:
- গ্রেফতার হওয়ার পূর্ব মুহুর্তে ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
ঘোষণাটি ইংরেজিতে ছিলো যেন বিশ্ববাসী বুঝতে পারে।
- স্বাধীনতার এ ঘোষণা বাংলাদেশের সকল স্থানে তদানীন্তন ইপিআর এর ট্রান্সমিটার, টেলিগ্রাম ও টেলিপ্রিন্টারের মাধ্যমে প্রচার করা হয়৷
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম. এ. হান্নান চট্টগ্রামের বেতার কেন্দ্র থেকে একবার এবং সন্ধ্যায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয়বার প্রচার করেন।
- ২৭ মার্চ উক্ত বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান পুনরায় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন৷

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭.
কোন সেক্টর নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ড গঠিত হয়?
  1. ক) ৭ নং সেক্টর
  2. খ) ৮ নং সেক্টর
  3. গ) ৯ নং সেক্টর
  4. ঘ) ১০ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• সেক্টর:
 - ১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এরমধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর। দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
- ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
খাসিয়া সম্প্রদায়ের বসবাস কোথায়?
  1. ক) বান্দরবান
  2. খ) সুনামগঞ্জ
  3. গ) রংপুর
  4. ঘ) রাজশাহী
ব্যাখ্যা
খাসিয়া সম্প্রদায়:
- খাসিয়া (বা খাসি) বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক নৃগোষ্ঠি।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- খাসিয়ারা প্রায় পাঁচ শতাধিক বছর আগে আসাম থেকে বাংলাদেশে আসে।
- তারা আসামে এসেছিল সম্ভবত তিববত থেকে।
 - তাদের প্রধান আবাসস্থল উত্তর-পূর্ব ভারত। 
- খাসিয়া সম্প্রদায় বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ জেলায় বসবাস করে।
- এদের আদি নিবাস ছিলো তিব্বতে।
- খাসিয়া গ্রাম পুঞ্জি এবং পুঞ্জি প্রধান সিয়েম নামে পরিচিত।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও সংশ্লিষ্ট জেলা সমূহের ওয়েবসাইট।
১৯.
স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয়েছিল -
  1. ক) ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  2. খ) ৭ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  3. গ) ১৭ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  4. ঘ) ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
• পতাকা:
- প্রথম পতাকা উত্তোলন ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- গৃহীত হয় ৬ মার্চ।
- সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- প্রথম নকশাকার – শিব নারায়ণ দাস (৬ জুন ১৯৭০)
- প্রথম আনুষ্ঠানিক উত্তোলন – ২৩ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে এবং একই দিনে সারা বাংলাদেশে।
- বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন – কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে।
- জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত – ১০:৬ (৫:৩)।

উৎস: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
২০.
জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ অনুসারে, বাংলাদেশে জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম বিভাগ কোনটি?
  1. ক) বরিশাল
  2. খ) সিলেট
  3. গ) চট্রগ্রাম
  4. ঘ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
• জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ অনুসারে,
- জনসংখ্যায় বৃহত্তম বিভাগ - ঢাকা।
- জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম বিভাগ - বরিশাল।

- জনসংখ্যায় বৃহত্তম জেলা - ঢাকা।
- জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম জেলা - বান্দরবান।

- বিভাগ হিসেবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি - ঢাকা বিভাগে।
- বিভাগ হিসেবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে কম - বরিশাল বিভাগে।

- বিভাগ হিসেবে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি - ঢাকা বিভাগে।
- বিভাগ হিসেবে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম - বরিশাল বিভাগে।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
২১.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা' সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ক) ১৯নং অনুচ্ছেদে
  2. খ) ১৭নং অনুচ্ছেদে
  3. গ) ১৮নং অনুচ্ছেদে
  4. ঘ) ১৫নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ সংবিধান:
- বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে ১৭ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র পরিচালনার ‍মূলনীতি হিসেবে 'অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাকে' সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে,
-  ১৫ নং অনুচ্ছেদ : মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা।
- ১৮ নং অনুচ্ছেদ : জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা
- ১৯ নং অনুচ্ছেদ : সুযোগের সমতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
২২.
মুক্তিযুদ্ধের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন কে?
  1. ক) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার
  2. খ) কর্নেল (অব.) এম. এ. জি ওসমানী
  3. গ) কর্নেল (অব.) আবদুর রহমান
  4. ঘ) লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ:
 - বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে।
- ঐদিন হানাদার বাহিনী তাদের শোচনীয় পরাজয় মেনে নিয়ে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী নিয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
- আমরা লাভ করি প্রিয় মাতৃভূমি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
- আত্মসমৰ্পণ অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন যৌথবাহিনীর কমান্ডার লে.জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- আত্মসমৰ্পণ অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান সেনাপতি গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার। 
- রেসকোর্স ময়দানের খোলা আকাশের নিচে একটি টেবিলে বসে যৌথবাহিনীর পক্ষে লে. জেনারেল অরোরা এবং পরাজিত পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে লে. জেনারেল এ.এ.কে নিয়াজি আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- বন্দী করা হয় পাকিস্তানি বাহিনীর প্রায় ৯৩ হাজার সদস্যকে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি এবং  ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
২৩.
বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের সদস্য সংখ্যা কত ছিল?
  1. ক) ৫ জন
  2. খ) ৬ জন
  3. গ) ৭ জন
  4. ঘ) ৮ জন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠন:
- বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি, তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দনি আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে ১০ এপ্রিল একটি অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়।
- ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল নতুন সরকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে।
- ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয় ।

• অস্থায়ী সরকারের  ৬ সদস্য বিশিষ্ট:
১. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: রাষ্ট্রপতি,
২. সৈয়দ নজরুল ইসলাম: উপ-রাষ্ট্রপতি, 
৩. তাজউদ্দিন আহমদ: প্রধানমন্ত্ৰী,  
8. খন্দকার মোশতাক আহমদ: পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্ৰী,  
৫. এম. মনসুর আলী: অর্থমন্ত্রী,
৬. এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান: স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী, 

• উল্লেখ্য যে, রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে আটক থাকায় উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার প্রদান করা হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪.
বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি কোনটি?
  1. ক) শৃঙ্খলা বোধ
  2. খ) ভাতৃত্ববোধ
  3. গ) ঐক্য ও সংহতি
  4. ঘ) ধর্মীয় ঐক্য
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
অনুচ্ছেদ - ৯: জাতীয়তাবাদ
"ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালী জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করিয়া জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করিয়াছেন, সেই বাঙালী জাতির ঐক্য ও সংহতি হইবে বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।"

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
২৫.
বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল শহর -
  1. ক) সিলেট
  2. খ) গাজীপুর
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ 'ডিজিটাল সিটি' হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে সিলেট
- নগরীর নিরাপত্তায় আইটি ক্যামেরা চালুর পর এবার ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই সেবা চালু হয়েছে।
-  মার্চ ২০১৯ সাল থেকে  থেকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ৬২ এলাকায় এ সেবা পাচ্ছেন নগরবাসী।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটকে 'ওয়াইফাই সিটি' আখ্যা দিয়ে পাবলিক ওয়াইফাইয়ের ইউজার নাম রেখেছেন 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'।
- আর পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে জাতীয় স্লোগান 'জয় বাংলা'।

উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা নিউজ।
২৬.
বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় কবে?
  1. ক) ১৯৭৪ সালে
  2. খ) ১৯৭৫ সালে
  3. গ) ১৯৭৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৭ সালে
ব্যাখ্যা
• পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম:
- বাংলাদেশের পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর হচ্ছে সরকারি সংস্থা। পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় ১৯৭৬ সালে
- সরকার ১৯৬০ সালে সীমিত আকারে এবং ১৯৬৫ সালে সারা দেশে জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম শুরু করে।
- অর্থাৎ সরকারের আগেই পরিবার পরিকল্পনার কাজ শুরু করেছিল এফপিএবি।
- স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠানের নাম হয় বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি।
- বাংলাদেশে ১৯৭৬ সালে প্রথম জনসংখ্যা নীতি প্রণয়নে ভূমিকা রাখে বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি।
- ১৯৯০-র দশকের গোড়ার দিকে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে প্রবেশের পর সরকার পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে প্রজনন স্বাস্থ্য রক্ষার উপাদানগুলি অন্তর্ভুক্তির একটি পূর্ণাঙ্গ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
২৭.
বাংলাদেশের খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটিতে কতজন চিকিৎসক ছিলেন?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা
• খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি:
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে  আহবায়ক করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- ৩৪ জন সদস্যের মধ্যে ২৪ জন আইনজীবী, ৪ জন প্রফেসর, ৩ জন সমাজকর্মী ও ১ জন ডাক্তার (ডা. ক্ষিতীশ চন্দ্র মণ্ডল), সাংবাদিক, কৃষিবিদ ছিলেন।
-এই কমিটিতে একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য ছিলেন ন্যাপ (মোজাফফর) থেকে ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচিত সদস্য সুরঞ্জিন সেনগুপ্ত। 
- কমিটিতে ৭ জন গণপরিষদ মহিলা সদস্য থেকে ১ (রাজিয়া বানু) অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- সুরঞ্জিন সেনগুপ্ত ছাড়া বাকি সবাই ছিল আওয়ামী লীগের।
- কমিটিকে পরবর্তী ১০ জুনের মধ্যে গণপরিষদে সংবিধানের খসড়া উপস্থাপন করতে বলা হয়।

উৎস:- বাংলাদেশের সংবিধান।
২৮.
জাতীয় সংসদের ২নং আসনটি বাংলাদেশের কোন জেলায়?
  1. ক) পঞ্চগড়
  2. খ) মেহেরপুর
  3. গ) রাঙামাটি
  4. ঘ) কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
- জাতীয় সংসদের ১নং ও ২নং আসন দুটি পঞ্চগড় জেলায়।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় (বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি) সংসদীয় আসন সংখ্যা ১ করে।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ৩০০ নম্বর আসনটি বান্দরবানের।
- ২৯৪-২৯৭ নং আসনগুলো কক্সবাজার জেলায়।
- সংরক্ষিত নারী আসন - ৫০ টি।
- সর্বোচ্চ ২০টি আসন রয়েছে ঢাকা জেলায়।

উৎস: জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট।
২৯.
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘প্রাচ্যের নতুন তারকা' উপাধি দিয়েছে -
  1. ক) নিউইয়র্ক টাইমস
  2. খ) ওয়াশিংটন পোস্ট
  3. গ) খালিজ টাইমস
  4. ঘ) নিউজ উহক
ব্যাখ্যা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা খালিজ টাইমসে  রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি মানবিক আবেদনের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে 'প্রাচ্যের নতুন তারকা' হিসেবে অভিহিত করেছে।

অন্যদিকে,
- লেডি অব ঢাকা- যুক্তরাষ্ট ভিত্তিক  প্রভাবশালী বিজনেস ম্যাগাজিন ‘ফোর্বস’।
- মাদার অব হিউম্যানিটি- ব্রিটিশ মিডিয়া।
- কারিশম্যাটিক লিডার- মিশরের রাষ্টদূত মাহামুদ ইজ্জত।
- বিশ্ব মানবতার বিবেক- কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল সন্তোস।
- বিরল মানবতাবাদী নেতা- তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

উৎস: প্রথম আলো।
৩০.
কে বৈদ্যনাথ তলার নাম মুজিব নগর রাখেন?
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  3. গ) তাজউদ্দিন আহম্মেদ
  4. ঘ) এম এ হান্নান
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এই স্থানের নামকরণ করেন মুজিবনগর।

• মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশে একটি অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়।
- ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন।
- সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।

উৎস: ইতিহাস , এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১.
ফেসবুকে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় ভাষা -
  1. ক) সাঁওতালী
  2. খ) মারমা
  3. গ) হাজং
  4. ঘ) চাকমা
ব্যাখ্যা
উপজাতি:
- বাংলাদেশি অঞ্চল ফরম্যাট হিসেবে বাংলা ভাষার পাশাপাশি চাকমা ভাষা যুক্ত করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।
- বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ মিলিয়ে অন্তত ১০ থেকে ১৫ লাখ চাকমা ফেসবুক ব্যবহারকারী রয়েছে।
- ফেসবুকে চাকমা ভাষা যুক্ত করতে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করেছেন জ্যোতি চাকমা।

- উল্লেখ্য, এর আগে গুগল তাদের জিবোর্ডে চাকমা কিবোর্ড যুক্ত করেছে।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৩২.
'কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা'  ছয় দফার কততম দফায় অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ক) ষষ্ঠ দফা
  2. খ) পঞ্চম দফা
  3. গ) তৃতীয় দফা
  4. ঘ) দ্বিতীয় দফা
ব্যাখ্যা
• ছয় দফা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ও শােষণ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ছয় দফা কর্মসূচি ঘােষণা করেন।

• দফা গুলো হলো:
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৩৩.
ত্রিপুরা উপজাতিদের ভাষার নাম কী?
  1. ক) ককবরক
  2. খ) সাদ্রি
  3. গ) মৈতৈ
  4. ঘ) মান্দি
ব্যাখ্যা
উপজাতি:
-  ককবরক ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ভাষা। এর অর্থ মানুষের ভাষা।
- এই ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই। বাংলা ও রোমান হরফে লেখা হয়।
- ককবোরক ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সরকারি ভাষা।
এছাড়াও,
- আচিক খুসিক গারো উপজাতিদের ভাষা।
- চাকমা এবং সাওতালরা যথাক্রমে চাকমা, ও সাওতালি ভাষায় কথা বলে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, সপ্তম শ্রেণি ও  দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৩৪.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের প্রচ্ছদ কোন রঙের?
  1. ক) লাল
  2. খ) সবুজ
  3. গ) সাদা
  4. ঘ) নীল
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রচ্ছদ (cover page)  সাদা রঙের।

• সংবিধান:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় - ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালরে ১১ অক্টোবর খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন। 
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৫.
ভারতীয় বাহিনী ও মুক্তিবাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে - 
  1. ক) ১৯৭১ সালের ২১শে জুলাই
  2. খ) ১৯৭১ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর
  3. গ) ১৯৭১ সালের ২১শে অক্টোবর
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ: 
- বাংলাদেশ হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের প্রথম দেশ, যে দেশ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত আমাদের নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছে।
- বিশেষভাবে ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে।
- পাকিস্তান ৩রা ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করলে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
- ৬-১৬ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীও পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয় ৷

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা নবম - দশম শ্রেণি। 
৩৬.
১৯৭১ সালে কোথায় পাকিস্তানি বাহিনী অস্ত্র সমর্পণ করে?
  1. ক) ঢাকা সেনানিবাসে
  2. খ) কুমিল্লা সেনানিবাসে
  3. গ) যশোর সেনানিবাসে
  4. ঘ) চট্টগ্রাম সেনানিবাস
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে মোট ১১ টি সেক্টরে ও ৬৪ টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করা হয়।
-  যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।
- পাকিস্তানি বাহিনী যুদ্ধবন্দী হলেও ঢাকা সেনানিবাসে তাদের অবস্থান ছিল সশস্ত্র এবং জ্যাকব ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের অস্ত্র রাখার অনুমতি দেন।
- ১৯৭১ সালের ১৯ ডিসেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের গলফ মাঠে অস্ত্র সমর্পণ করে পাকিস্তানি বাহিনীর ৩০ হাজার সৈন্য।
- তাদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। মিত্রবাহিনীর পক্ষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল সগৎ সিং অস্ত্র গ্রহণ করেন।
- আত্মসমর্পণের দলিলের নাম ছিল ‘ইন্সট্রুমেন্ট অব সারেন্ডার’ । এই ঘটনাকে ফল অব ঢাকা বা ঢাকার পতন বলেও ডাকা হয়।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট এবং  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭.
মুজিবনগর সরকারের বহির্বিশ্বের বিশেষ দূত হিসেবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল?
  1. ক) বিচারপতি আবু রইস চৌধুরী
  2. খ) বিচারপতি এম. এস. রহমান
  3. গ) বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. ঘ) বিচারপতি আবু জামান চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭০-৭১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য দ্বারা মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করা ছিল এ সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য ।
- মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, স্টকহোম) বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপন করে।
- এসব মিশন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে।
- সরকার বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত নিয়োগ দেয়।
- তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমতসৃষ্টি ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।