পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৩৫
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৫১ বিষয় - সাধারণ বিজ্ঞান টপিক - ভৌত বিজ্ঞান: রসায়ন বিজ্ঞান বিষয়ক ১. পদার্থের অবস্থা ও ধর্ম, পারমাণবিক গঠন, মৌলিক কণা, মৌলের ধর্ম, পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন, সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়া, কার্বনের বহুমুখী ব্যবহার, এসিড, ক্ষার, লবণ, পদার্থের ক্ষয়। ২. মৌলিক কণা, ধাতব পদার্থ এবং তাদের যৌগসমূহ, পদার্থের দ্রবণ ধর্ম ও দ্রাব্যতা, সাবানের কাজ, অধাতব পদার্থ, জারণ-বিজারণ, ব্যাপন, অভিস্রবণ, প্রস্বেদন, তড়িৎ কোষ, অজৈব ও জৈব যৌগ, পলিমার। এবং বিষয় - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি টপিক - আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সম্পর্ক i) বৈশ্বিক দ্বন্দ্ব ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল, দ্বন্দ্বপূর্ণ সাগর ও অন্যান্য; ii) NATO, Warsaw Pact, INTERPOL, ANZUS, নিরাপত্তা সম্মেলন সমূহ; iii) নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তি; iv) বিভিন্ন গোয়েন্দা, গেরিলা ও জঙ্গী সংস্থা, বিদ্রোহী জোট; [FBI, CIA, FSB, RAW, Fairfax, মোসাদ, আমান, M16, হামাস, হিজবুল্লাহ, আল শাবাব, আইরিস রিপানলিকান আর্মি, টুপাক আমারু, ফার্ক, আবু শায়াফ, শাইনিং পাথ, M-23, উলফা, খেমারুজ, পিকেকে, ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর, গডস আর্মি, ইসলামিক স্ট্যাট, হুথি বিদ্রোহী, লস্কর - ই তৈইব্যা, জইশ মোহাম্মদ, হিজবুত তাহরীর, JKLF, নকশাল, তানজিম আল জিহাদ, M19]। ------------------ [এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৫ প্রশ্ন

.
'North Atlantic Treaty Organization' বা ন্যাটো চুক্তিপত্রে মোট কতটি অনুচ্ছেদ (Article) রয়েছে?
  1. ৫টি
  2. ৮টি
  3. ১৪টি
  4. ২০টি
ব্যাখ্যা

ন্যাটো (NATO):
- সামরিক বা নিরাপত্তা জোট যা North Atlantic Treaty Organization বা ন্যাটো নামে পরিচিত।
- ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ১২টি দেশের মধ্যে NATO চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এটি Washington Treaty নামেও পরিচিত।
- ন্যাটোর বর্তমান সদস্য- ৩২টি দেশ। 
- সর্বশেষ সদস্য দেশ- সুইডেন [৭ মার্চ, ২০২৪]
- NATO -এর বর্তমান সদরদপ্তর- বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থিত। [পূর্বে সদরদপ্তর - লন্ডন ও প্যারিসে অবস্থিত ছিলো।]
- ন্যাটোর বর্তমান মহাপরিচালক - Jens Stoltenberg [নরওয়ের নাগরিক]
- NATO চুক্তিপত্রে মোট ১৪টি অনুচ্ছেদ (Article) রয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ হলো- আর্টিকেল- ৫।
- অনুচ্ছেদ/আর্টিকেল-৫: Collective Security বা যৌথ নিরাপত্তা ন্যাটো চুক্তির ৫ নং অনুচ্ছেদ। Article - 5 কে এই চুক্তির heart বলা হয়।
- অনুচ্ছেদ- ৫ এ বলা হয়েছে - যদি জোটভুক্ত কোন সদস্য দেশ আক্রান্ত হয়, তাহলে এই জোটের সকল সদস্য দেশ আক্রান্ত হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং সকল সদস্য দেশ আক্রান্ত দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এগিয়ে আসবে।
- অনুচ্ছেদ- ১০: Open Door Policy [নতুন সদস্য দেশ অন্তর্ভুক্তি] ন্যাটোর নতুন সদস্য দেশ অন্তর্ভুক্তি হয় এই অনুচ্ছেদ অনুসারে। 
- ন্যাটোর সদস্য হওয়ার পূর্ব শর্ত হলো - দেশটিকে ইউরোপিয়ান দেশ হতে হবে। [ব্যাখ্যা আপডেট - ডিসেম্বর, ২০২৫]

সূত্র: NATO ওয়েবসাইট।

.
'ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর' কোন দেশের গেরিলা সংগঠন?
  1. লেবানন
  2. ভারত
  3. আফগানিস্তান
  4. প্যালেস্টাইন
ব্যাখ্যা

ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর:
- ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর প্যালেস্টাইনের সংগঠন ফাতাহ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি গেরিলা বাহিনী।
- এটি ১৯৭০ সালে গঠিত এবং ১৯৭৪ সালে বিলুপ্ত করা হয়৷
- ১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বরে জর্ডানের ক্ষমতা দখলের চেষ্টার সময় জর্ডানের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এবং জর্ডানের রাজা হুসেনকে হত্যা করার জন্য এই গোষ্ঠীটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- ১৯৭২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত হয় গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক।
- এতে অংশ নেওয়া ১১ জন ইসরাইলি অ্যাথলেটকে 'ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর' নামে প্যালেস্টাইনের একটি সশ্বস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা অপহরণ করে । 

উল্লেখ্য,
- হিজবুল্লাহ- লেবাননের একটি গেরিলা সংগঠন।
- হামাস- প্যালেস্টাইনের একটি গেরিলা সংগঠন।
- উলফা (ULFA)- ভারতের আসামের গেরিলা সংগঠন।
- তালেবান - আফগানিস্তানের গেরিলা সংগঠন।

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান হয় কোন চুক্তির মাধ্যমে?
  1. বেলফোর চুক্তি
  2. প্যারিস শান্তি চুক্তি
  3. ব্রেটন উডস চুক্তি
  4. ভার্সাই চুক্তি
ব্যাখ্যা

ভার্সাই চুক্তি:
-ভার্সাই চুক্তি, ১৯১৯ সালে ভার্সাই প্রাসাদে স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক চুক্তি, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটায়।
- এই চুক্তির স্থান ফ্রান্সের ভার্সাই নগরী।
- এই চুক্তিতে অংশগ্রহনকারী দেশ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মিত্রশক্তি (যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি ও জাপান) এবং জার্মানি।
- এই চুক্তি ফলাফল হিসাবে জার্মানি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয়।
- এটি ২য় ভার্সাই চুক্তি নামেও পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- প্যারিস শান্তি চুক্তি হয় ১৯৭৩ সালে।
- ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি 'বেলফোর' ঘোষণা।
- ব্রিটন উডস চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ প্রতিষ্ঠা হয়।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ডটকম।

.
আনজুস (ANZUS) -এর সদস্য নয় কোনটি?
  1. অস্ট্রেলিয়া
  2. নিউজিল্যান্ড
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. জিম্বাবুয়ে
ব্যাখ্যা

ANZUS:
- ANZUS এর পূর্ণরূপ- Australia, New Zealand, United States Security Treaty।
- এটি একটি নিরাপত্তা চুক্তি যার উদ্দেশ্যে তিনটি দেশ একে অপরের সাথে পারস্পরিক সহায়তা প্রদান এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি।
- এর প্রতিষ্ঠাকাল- ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৫১।
- ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এটি ১৯৫২ সালে কার্যকর হয়।
- বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৩। যথা- অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্র।

উৎস: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ডটকম।

.
ডেটন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কবে?
  1. ১৯৯৩ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৬ সালে
  4. ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা

ডেটন শান্তি চুক্তি:
- ডেটন শান্তি চুক্তির পূর্ণনাম - General Framework Agreement for Peace in Bosnia and Herzegovina।
- বসনিয়া সংকট সমাধানের উদ্দেশ্যে ডেটন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- ডেটন শান্তি চুক্তির অন্য নাম- প্যারিস প্রোটোকল, ডেটন-প্যারিস চুক্তি। 
- যুক্তরাষ্ট্রের ওহায়ো অঙ্গরাজ্যের ডেটনে অবস্থিত বিমানঘাটিতে এই চুক্তির খসড়া প্রণীত হয়। এই জন্য এই চুক্তিকে ডেটন শান্তি চুক্তি বলা হয়।
- ডেটন চুক্তির মধ্যস্থতাকারী ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট - বিল ক্লিন্টন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী - ওয়ারেন ক্রিস্টোফার।
- এই চুক্তিটির প্রধান শান্তি আলোচক - রিচার্ড হলব্রোক।
- ডেটন চুক্তির খসড়া প্রস্তুত - ২১ নভেম্বর, ১৯৯৫ সাল।
- ডেটন চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ - ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ সাল
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান - প্যারিস, ফ্রান্স।
- চুক্তির পক্ষ সমূহ - বসনিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়া। 
- ডেটন চুক্তি স্বাক্ষরকারীর নাম -
১. বসনিয়ার পক্ষে - প্রেসিডেন্ট আলিজা ইজটবেগোভিচ।
২. ক্রোয়েশিয়ার পক্ষে - প্রেসিডেন্ট ফ্রাঞ্জো টুডম্যান।
৩. সার্বিয়ার পক্ষে - স্লোভাদান মিলোসোভিচ।

উৎস:  হিস্টরি.কম ও ব্রিটানিকা।

.
কমনওয়েলথ মূলত একটি কী জোট?
  1. রাজনৈতিক
  2. সামাজিক
  3. অর্থনৈতিক
  4. সাংস্কৃতিক
ব্যাখ্যা

কমনওয়েলথ:
- কমনওয়েলথ মূলত ব্রিটেনের সাবেক উপনিবেশিক দেশগুলোর একটি রাজনৈতিক জোট।
- স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য ব্রিটেনের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে কমনওয়েলথ।
- ব্রিটেনের রাজা বা রানী হলেন এ সংস্থার প্রধান।
- এটি প্রতিষ্ঠিত হয়- ১৯৪৯ সালে।
- বর্তমান সদস্য ৫৬টি।
- এর সদরদপ্তর- মার্লবোরো হাউস, লন্ডন।
- এ সংস্থার মূল লক্ষ্য হল কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সমৃদ্ধি করা।
উল্লেখ্য,
- ১৯ নভেম্বর, ১৯২৬ সালে 'বেলফোর ঘোষণার' মাধ্যমে ব্রিটিশ কমনওয়েলথ অব নেশনস ধারণার গোড়াপত্তন হয়।
- ১১ ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক 'স্ট্যাটিউট অব ওয়েস্ট মিনিস্টার' আইন অনুমোদিত হয়।
- এ আইনের মাধ্যমে উপনিবেশগুলোর পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ কমনওয়েলথ স্বতন্ত্র মর্যাদা লাভ করে।
- ২৮ এপ্রিল, ১৯৪৯ সালে 'লন্ডন ঘোষণা'র মাধ্যমে কমনওয়েলথ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।
- আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রাকালে ব্রিটিশ শব্দটি বাদ দিয়ে 'কমনওয়েলথ অব নেশনস' (Commonwealth of Nations) করা হয়। [ব্যাখ্যা আপডেট - ডিসেম্বর, ২০২৫]

উৎস: কমনওয়েলথ ওয়েবসাইট।

.
'ইন্টারপোল গ্লোবাল কমপ্লেক্স ফর ইনোভেশন' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ফ্রান্স
  2. সংযুক্ত আরব আমিরাত
  3. যুক্তরাজ্য
  4. সিঙ্গাপুর
ব্যাখ্যা

ইন্টারপোল :
- ইন্টারপোল হল আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা।
- International Criminal Police Organization হলো ইন্টারপোল এর পূর্ণরূপ।
- প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৩ সালে। 
- বর্তমান সদর দপ্তর ফ্রান্সের লিওঁ শহরে।
- ১৯৪৬ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে এবং ১৯৮৯ সালে ফ্রান্সের লিওঁ শহরে সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়।
- বর্তমান সদস্য: ১৯৬টি দেশ।
- সর্বশেষ সদস্য দেশ: পালাউ।
- ২০১৫ সাল থেকে সিঙ্গাপুরে অবস্থিত, ইন্টারপোল গ্লোবাল কমপ্লেক্স ফর ইনোভেশন হল সাইবার অপরাধ, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইন্টারপোলের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু।
- বাংলাদেশ সদস্যপদ লাভ করে: ১৪ অক্টোবর, ১৯৭৬ সাল।
- বর্তমান মহাসচিব: ভালডেসি উরকুইজা। 
- তিনি ব্রাজিলের নাগরিক।
- ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ৯২তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
- ইন্টারপোলের বর্তমান সভাপতি হলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আহমেদ নাসের আল-রাইসি।
- মিঃ আল-রাইসি ২০২১ সালের নভেম্বরে ইস্তাম্বুলে ৮৯তম সাধারণ পরিষদে নির্বাচিত হন।
- ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। [ব্যাখ্যা আপডেট - ডিসেম্বর, ২০২৫]

উৎস: ইন্টারপোল অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

.
চীনের সাথে ভারত ও ভুটানের বিরোধপূর্ণ স্থান কোনটি?
  1. সিয়াচেন হিমবাহ
  2. লাদাখ
  3. ইম্ফল
  4. ডোকলাম
ব্যাখ্যা

ডোকলাম (Doklam)
- ভারত, চীন ও ভুটান -এই তিন দেশের জংশন হিসেবে বিবেচিত ডোকলাম মালভূমি।
- ভুটান, চীন ও ভারত সীমান্তে অবস্থিত ডোকলাম।
- ডোকলাম (Doklam) নিয়ে চীনের সাথে ভারত ও ভুটানের বিরোধ রয়েছে।
- দোকলাম সংকট আসলে শুধু ভারত-চীন উত্তেজনা নয়; বরং চীন-ভুটান সীমান্তবিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস এর মূলে রয়েছে।
- ভুটান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুবই সতর্ক রাষ্ট্র, কারণ চীন-ভারতের বিরোধে সরাসরি একপক্ষ নেওয়া তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
- ভারতের প্রধান উদ্বেগ- যদি চীন দোকলামে স্থায়ীভাবে রুট তৈরি করে, তবে সিলিগুড়ি করিডর হুমকির মুখে পড়বে।

অন্যদিকে,
- সিয়াচেন হিমবাহ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্ব।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও প্রথম আলো।

.
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি অনুমোদন হয়েছিল কত সালে?
  1. ২০১৫ সালে
  2. ২০১৭ সালে
  3. ২০১৮ সালে
  4. ২০১৯ সালে
ব্যাখ্যা

পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি :
-  এই চুক্তির অপর নাম Nuclear Weapon Ban Treaty।
- পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয় ০৭ জুলাই, ২০১৭। 
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে ২০ সেপ্টেম্বর , ২০১৭।
- জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রথম পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি।
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এই চুক্তি ২০১৭ সালে অনুমোদন করেছিল ১২২টি দেশ।
- কিন্তু এটি আইন হিসাবে কার্যকর করতে অন্তত ৫০টি দেশের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল।
- ICAN পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে কাজ করছে (২০১৭ সালে শান্তিতে নোবেল পেয়েছে)।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও বিবিসি নিউজ।

১০.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা FBI এর বর্তমান পরিচালক কে?
  1. তুলসী গ্যাবার্ড
  2. ক্যাশ প্যাটেল
  3. রবার্ট কিসেন
  4. ক্রিস্টোফার রে
ব্যাখ্যা

Federal Bureau of Investigation (FBI):
- FBI এর পূর্ণরূপ Federal Bureau of Investigation.
- FBI মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠাকাল: ২৬ জুলাই, ১৯০৮ সাল।
- সদর দপ্তর: ওয়াশিংটন পেনসিলভানিয়া এভিনিউ, যুক্তরাষ্ট্র।
- বর্তমান পরিচালক: ক্যাশ প্যাটেল। 
- এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন।
- FBI মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সংঘটিত অপরাধের অনুসন্ধান এবং দেশি-বিদেশি যেকোন নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলা ও সুরক্ষা প্রদানে নিয়োজিত। [ব্যাখ্যা আপডেট - ডিসেম্বর, ২০২৫]

উৎস: FBI অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

১১.
‘অপারেশন র‍্যাথ অফ গড’ পরিচালনা করে কে?
  1. আইএসআই (ISI)
  2. মোসাদ (Mossad)
  3. এমআই৬ (MI6)
  4. সিআইএ (CIA)
ব্যাখ্যা

মোসাদ (Mossad):
- পূর্ণ নাম- সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট ফর ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অপারেশনস
- মোসাদ বিদেশী গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, গোয়েন্দা বিশ্লেষণ এবং গোপন অভিযানের সাথে জড়িত।
- ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে ইনস্টিটিউট ফর কো-অর্ডিনেশন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় মোসাদ।
- রুভেন শিলোহ প্রথম পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিক হত্যাকাণ্ডের পর ‘অপারেশন র‍্যাথ অফ গড’ পরিচালনা করে মোসাদ।
- ১৯৭২ সালের সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনি জঙ্গিদের দ্বারা ১১ জন ইসরায়েলি ক্রীড়াবিদকে অপহরণ ও হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল কর্তৃক পরিচালিত গোপন হত্যা অভিযানের নাম 'অপারেশন র‍্যাথ অফ গড'।
- এই অভিযানটি 'অপারেশন বেয়োনেট' নামেও পরিচিত।
- ইরান, সিরিয়া, এবং অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক দেশগুলোকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সংস্থাটি।
- মোসাদ তার দক্ষ অপারেশন এবং অসাধারণ সাফল্যের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ডটকম।

১২.
হিজবুল্লাহ পরিচালিত টিভি চ্যানেল কোনটি?
  1. বিবিসি
  2. আল শিফা
  3. আল মানার
  4. আল জাজিরা
ব্যাখ্যা

হিজবুল্লাহ:
- হিজবুল্লাহ লেবাননের মুসলিম শিয়া সম্প্রদায়ের একটি রাজনৈতিক ও সশ্বস্ত্র গোষ্ঠী।
- এর বর্তমান ও তৃতীয় মহাসচিব শেখ হাসান নাসরুল্লাহ।
- ১৯৯২ সাল থেকে হাসান নসরুল্লাহ হিজবুল্লাহর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
- ১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন ও গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ১৯৮৫ সালে প্রকাশ্যে হিজবুল্লাহর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- হিজবুল্লাহ ইরান ও সিরিয়ার সমর্থনপুষ্ট।
- আল মানার হিজবুল্লাহ পরিচালিত একটি টিভি চ্যানেল ৷ [ব্যাখ্যা আপডেট - ডিসেম্বর, ২০২৫]

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, আল মানার এবং ব্রিটানিকা।

১৩.
ইসলামিক স্টেট (আইএস) -এর প্রথম খলিফা ছিলেন কে?
  1. আবু ইব্রাহিম আল হাশেমি আল কুরাইশি
  2. আবু বকর আল বাগদাদি
  3. মোল্লা বিন ওমর
  4. কাশেম সুলাইমানি
ব্যাখ্যা

ইসলামিক স্টেট (আইএস):
- ইসলামিক স্টেট (আইএস) মধ্যপ্রাচ্যের একটি জঙ্গি সংগঠন।
- শুরুতে এর নাম ছিল ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড লেভান্ট (আইএসআইএল)। 
- ২০১৪ সালে আইএস সিরিয়া, ইরাক ও লিবিয়ার বিস্তৃর্ণ অঞ্চল দখল করে নিজেদের খিলাফত ঘোষণা করে।
- এর প্রথম খলিফা ছিলেন আবু বকর আল বাগদাদি।
- তিনি ২৬ অক্টোবর ২০১৯ সিরিয়ার ইদলিব শহরে মার্কিন অভিযানে নিহত হন।
- তার মৃত্যুর পর আবু ইব্রাহিম আল হাশেমি আল কুরাইশি আইএস এর খলিফা নিযুক্ত হন।
- গত ৩ ফেব্রুয়ারি সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আইএস প্রধানের গোপন আস্তানায় মার্কিন বিশেষ বাহিনী অভিযান চালায়। ওই অভিযানেই ইরাকি নাগরিক আবু ইব্রাহিম আল–কুরায়শি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেকে উড়িয়ে দেন।

উৎস: আল জাজিরা এবং প্রথম আলো।

১৪.
সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ কোন সাগরে অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ চীন সাগর
  2. জাপান সাগর
  3. পূর্ব চীন সাগর
  4. পীত সাগর
ব্যাখ্যা

সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ:
- পূর্ব চীন সাগরে অবস্থিত সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে জাপান ও চীনের মধ্যকার বিরোধ দীর্ঘদিনের।
- সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জটি উৎসুরি, তাইশো, কুবা, কিতা কোজিমা ও মিনামি কোজিমা নামের পাঁচটি দ্বীপ এবং তিনটি ভাসমান পাথুরে টিলার সমন্বয়ে গঠিত।
- এর আয়তন ৭ বর্গ কিলোমিটার।
- তাইওয়ান থেকে ১২০ নটিক্যাল মাইল, চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল এবং জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপ থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল দূরে এর অবস্থান।
- জাপানিরা এই দ্বীপগুলোকে 'সেনকাকু' (Senkaku) বলে ডাকে।
- তবে চীনাদের কাছে এগুলো 'তিয়াওইউ' (Diaoyu) নামে পরিচিত।
- চতুর্দশ শতক থেকে চীন সেনকাকুর মালিকানা দাবি করে আসছে।
- ১৪ জানুয়ারি ১৮৯৫ জাপান প্রথম দ্বীপপুঞ্জটির নিয়ন্ত্রণ পায়।
- ১৯৬৮ সালে এশিয়ার অর্থনীতিবিষয়ক জাতিসংঘ কমিশন দ্বীপটিতে তেল-গ্যাস মজুত থাকার কথা জানায়। এর পর থেকেই তিন দেশ দ্বীপের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাটানি করছে।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।

১৫.
'গডস আর্মি' কোন দেশের গেরিলা গোষ্ঠী?
  1. ফিলিপাইন
  2. ভারত
  3. ফিলিস্তিন
  4. মিয়ানমার
ব্যাখ্যা

গডস আর্মি:
- মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড সিমান্তের কাইন স্টেটে স্বাধীনতাকামী গেরিলা গোষ্ঠীর নাম গডস আর্মি।
- এরা খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
- কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন থেকে গডস আর্মির জন্ম হয়েছে।
- লুথার ও জনি নামের দুই কিশোর গডস আর্মি গড়ে তোলে।
অন্যদিকে,
- 'হিজবুল্লাহ' লেবাননের একটি গেরিলা সংগঠন।
- 'হামাস' ও 'ব্লাক সেপ্টেম্বর' প্যালেস্টাইনের একটি গেরিলা সংগঠন।
- 'উলফা' ভারতের আসামের গেরিলা সংগঠন।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১৬.
প্যারিস চুক্তি বা প্রথম ভার্সাই চুক্তির আওতায় মোট কতটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

প্যারিস চুক্তি - ১৭৮৩ (Treaty of Paris - 1783)
- যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা/বিপ্লবী যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্যে ফ্রান্সের প্যারিসে ব্রিটিশদের সাথে বিবাদমান পক্ষ সমূহের যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় তাকে প্যারিস চুক্তি - ১৭৮৩ বলে।
- ১৭৮৩ সালে প্যারিসে বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে চারটি পৃথক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বিবাদমান পক্ষগুলোর (আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস্‌) মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
- ১৭৭৮ সাল থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সাথে যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের Continental Congress - এর প্রতিনিধিরা শান্তি আলোচনা শুরু করে। এই প্রতিনিধি দলের সদস্য ছিলেন - জন এডামস, বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন, জন জে, থমাস জেফারসন ও হেনরি লরেন্স।
- ১৭৮২ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড শেলবর্ন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সাথে ঐক্যমত্যে পৌঁছান এবং চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করেন।
- 'প্রথম ভার্সাই চুক্তি'টি মূলত প্যারিস চুক্তিরই অতিরিক্ত অংশ।
উল্লেখ্য, 
- চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় - ১৭৮৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর।
- প্যারিস চুক্তি বা প্রথম ভার্সাই চুক্তির আওতায় মোট ৪টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এগুলোর মধ্যে ২টি প্যারিসে ও ২টি ভার্সাইতে স্বাক্ষরিত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ডটকম।

১৭.
ইরানের গোয়েন্দা সংস্থা কোনটি?
  1. আমান
  2. মুখবরাত
  3. সাভাক
  4. মোসাদ
ব্যাখ্যা

সাভাক:
- পূর্ণরূপ- SAVAK (Organization of National Security and Information)।
- অর্গানাইজেশন অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ওরফে সাভাক ছিল ইরানের গোয়েন্দা সংস্থা। 
- ১৯৫৭ সালে সিআইএ আর মোসাদের আদলে এটি গড়ে তোলা হয়। 
- ইরানের সবথেকে ভয়ংকর সংগঠন ছিল এই সাভাক।
- সাভাকের অত্যাচার আর জিজ্ঞাসাবাদের পদ্ধতি ছিল ভয়ংকর।
- সাভাক তেহরানের কুখ্যাত এভরিন কারাগারসহ দেশজুড়ে অনেকগুলো নিজস্ব কারাগার পরিচালনা করতো।
- ১৯৭৯ সালে সাভাক বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, 
- ইরানের বর্তমান প্রধান গোয়েন্দা সংস্থার নাম - MOIS
- ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার নাম মোসাদ (Mossad), আমান (Aman)।
- মুখবরাত মিশরের গোয়েন্দা সংস্থার নাম।

সূত্র: ব্রিটানিকা।

১৮.
এস-৪০০ কোন দেশের ক্ষেপণাস্ত্র?
  1. যুক্তরাষ্ট 
  2. যুক্তরাজ্য
  3. ইসরাইল
  4. রাশিয়া
ব্যাখ্যা

এস-৪০০:
- এস-৪০০ হলো রাশিয়ার তৈরি একটি উন্নত এবং শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।
- এটি বিমান, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংস করতে সক্ষম।
- এটি একই সাথে বিভিন্ন ধরনের লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত এবং আঘাত করতে পারে।
- এস-৪০০ এর দীর্ঘতম ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

উল্লেখ্য,
- পৃথিবীর সবচেয়ে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আর-৩৬এম রয়েছে রাশিয়ারই হাতেই।
- আমেরিকার সর্বোচ্চ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ইউজিএম-১৩৩ ট্রাইডেন্ট ২।
- চিনা ক্ষেপণাস্ত্র ডংফেং-৫এ-এর পাল্লা ১৩ হাজার কিলোমিটার।

সূত্র: ব্রিটানিকা

১৯.
রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ কোনটি?
  1. কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ
  2. স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জ
  3.  শাখালিন দ্বীপপুঞ্জ
  4. ক+গ
ব্যাখ্যা

বিরোধপূর্ণ দ্বীপ:
- চীন ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ সেনকাকু।
- রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ- কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ ও শাখালিন দ্বীপপুঞ্জ।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রাশিয়া কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ দখল করে নেয়।
- আবু মুসা দ্বীপ ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয়ই দাবি করে।
- পেরেজিল বা লাইলা দ্বীপ নিয়ে বিরোধ রয়েছে স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে।
- স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে চীন, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিরোধ বিদ্যমান।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।

২০.
ভারত সরকার কত সালে Jammu-Kashmir Liberation Front (JKLF) কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে?
  1. ২০১৭ সালে
  2. ২০১৯ সালে
  3. ২০২১ সালে
  4. ২০২৩ সালে
ব্যাখ্যা

Jammu-Kashmir Liberation Front:
- JKLF (Jammu-Kashmir Liberation Front) হলো ভারতের কাশ্মীর রাজ্যের স্বাধীনতাকামী গেরিলা সংগঠন।
- এটির প্রতিষ্ঠাতা আমানুল্লাহ খান এবং মকবুল ভাট।
- এটি ১৯৭৭ সালে ব্রিটেনের বার্মিংহামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ভারত সরকার ২০১৯ সালে ইয়াছিন মালিককে গ্রেফতার ও JKLF কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

উৎস:  সাউথ এশিয়া টেরোরিজম পোর্টাল।

২১.
সোভিয়েত ইউনিয়ন ন্যাটোর (NATO) বিকল্প সামরিক জোট হিসেবে কোন জোট গঠন করে?
  1. Warsaw Pact
  2. NPT
  3. APEC
  4. NAFTA
ব্যাখ্যা

ওয়ারশ প্যাক্ট:
- ওয়ারশ চুক্তি সংস্থা বা ওয়ারশ প্যাক্ট হল একটি রাজনৈতিক ও সামরিক চুক্তি জোট যা ১৪ মে ১৯৫৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পূর্ব ইউরোপীয় কয়েকটি দেশের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন ন্যাটোর (NATO) বিকল্প সামরিক জোট হিসেবে ওয়ারশ চুক্তি জোট গঠন করে।
- পূর্ব ইউরোপের রাষ্ট্র পোল্যান্ডের বৃহত্তম শহর ও রাজধানী ওয়ারশ এর নাম অনুসারে চুক্তিটির নামকরণ করা হয়।
- এই জোটের উদ্দেশ্য ছিলো পুঁজিবাদী দেশগুলোর আগ্রাসন প্রতিহত করা।
- সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সাথে সাথে ১৯৯১ সালের ১ জুলাই ওয়ারশ প্যাক্ট বিলুপ্ত ঘটে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

২২.
মিয়ানমার, লাওস ও থাইল্যান্ডের সীমানা মিলে গঠিত অঞ্চলের নাম?
  1. গোল্ডেন ক্রিসেন্ট
  2. গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল
  3. গোল্ডেন ভিলেজ
  4. গোল্ডেন লাইন
ব্যাখ্যা

গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল:
- মিয়ানমার, লাওস ও থাইল্যান্ডের সীমানা মিলে গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল। 
- গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল বাংলাদেশের পূর্বে অবস্থিত।
- মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি সীমানা রয়েছে।
অন্যদিকে,
- মাদক উৎপাদন ও চোরাচালানের পথ হিসেবে ইরান, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানকে একত্রে বলা হয় গোল্ডেন ক্রিসেন্ট।
- এই অঞ্চল বাংলাদেশের পশ্চিমে।
- আর গোল্ডেন ওয়েজ হচ্ছে ভারতের হিমাচল প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, নেপাল ও ভুটানের কিছু অংশ।
- এই অংশ বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার ২৬ টি গ্রামকে গাঁজা উৎপাদনের জন্য 'গোল্ডেন ভিলেজ' বলা হয়।

উৎস: প্রথম আলো অনলাইন নিউজ।

২৩.
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৬০
  2. ১৯৬২
  3. ১৯৬৩
  4. ১৯৬৪
ব্যাখ্যা

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন (Munich Security Conference - MSC)
- মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন (MSC) বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার অন্যতম প্রধান ফোরাম।
- এটি প্রতি বছর জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত হয়। 
- এই সম্মেলন বিশ্বনেতা, সামরিক কর্মকর্তা, কূটনীতিক, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের একত্রিত করে।
- মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৩ সালে। 
- এর প্রতিষ্ঠাতা এভাল্ড-হেইনরিখ ফন ক্লাইস্ট (Ewald-Heinrich von Kleist)।
- এর প্রাথমিক নাম- "Wehrkundetagung" (ডিফেন্স কনফারেন্স)
- শুরুতে এটি শুধু ন্যাটো সদস্যদের জন্য ছিল।
- সময়ের সাথে সাথে এটি বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
- এটি শুধুমাত্র সামরিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করে না, বরং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, মানবাধিকার, সাইবার নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূরাজনীতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সুযোগ তৈরি করে।
- এই সম্মেলনে সাধারণত বিশ্ব রাজনীতির শীর্ষ নেতা ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
- সাম্প্রতিক যুদ্ধ, সংঘাত ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা নিয়ে আলোচনা হয়।
- রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, চীন-তাইওয়ান সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
 - প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নিরাপত্তা হুমকি নিয়েও আলোচনা হয়।
- ২০২৫ সালের মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন ১৪ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত হয়।
- বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে এই সম্মেলনে যোগ দেন।

উৎস:
ব্রিটানিকা ও প্রথম আলো অনলাইন নিউজ।

২৪.
ঊর্ধ্বপাতনযোগ্য পদার্থ নয় - 
  1. ইথানল 
  2. আয়োডিন
  3. ন্যাপথলিন
  4. নিশাদল
ব্যাখ্যা

• ইথানল ঊর্ধ্বপাতনযোগ্য পদার্থ নয়। 

ঊর্ধ্বপাতন:
- যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থে তাপ প্রয়োগ করা হলে কঠিন পদার্থটি তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে।
- নিশাদল (NH4Cl), কর্পূর (C10H16O), ন্যাপথলিন (C10H8), কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) ইত্যাদি পদার্থগুলোতে তাপ প্রয়োগ করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়।
- এই পদার্থগুলোকে উদ্বায়ী পদার্থ বলা হয়।

অন্যদিকে, ইথানল তরল পদার্থ। 

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

২৫.
হাইড্রোজেনের কোন আইসোটোপ প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না?
  1. ট্রাইটিয়াম
  2. ডিউটেরিয়াম
  3. প্রোটিয়াম
  4. কুইন্টিয়াম
ব্যাখ্যা

• কুইন্টিয়াম - প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না। 

• আইসোটোপ:
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে।
- হাইড্রোজেনের মোট ৭টি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে।
- প্রকৃতিতে পাওয়া গেছে ৩টি (প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম) আইসোটোপ এবং অন্যগুলো ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
- প্রকৃতিতে পাওয়া তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, তাই তারা একে অপরের আইসোটোপ।
- এখন পর্যন্ত ৩০০০ সংখ্যক থেকে বেশি আইসোটোপ সম্পর্কে জানা গেছে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২৬.
আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC) এখন পর্যন্ত কয়টি মৌল স্বীকৃতি দিয়েছে?
  1. 120
  2. 118
  3. 108
  4. 112
ব্যাখ্যা

• আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC) 118 টি মৌল শনাক্ত করেছে।

আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC):
 - আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (International Union of Pure and Applied Chemistry বা সংক্ষেপে IUPAC) এখন পর্যন্ত 118টি মৌলিক পদার্থকে শনাক্ত করেছে।
 - IUPAC সংস্থাটি আন্তর্জাতিকভাবে রসায়ন ও ফলিত রসায়নের বিভিন্ন নিয়মকানুন দেখাশোনা করে এবং নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন কোন নিয়ম গ্রহণযোগ্য এবং কোনটি বর্জনযোগ্য।
 - 118টি মৌলের মধ্যে বেশির ভাগ মৌলই প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এবং বাকি কিছু মৌল ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়েছে।
 - ল্যাভয়সিয়ে মাত্র 33টি মৌল নিয়ে ছক তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন।
 - মেন্ডেলিফ 63টি আবিষ্কৃত মৌল এবং 4টি অনাবিষ্কৃত মৌল নিয়ে পর্যায় সারণি নামে যে ছকটি তৈরি করেছিলেন, তা বর্তমানে 118টি মৌলের আধুনিক পর্যায় সারণি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

২৭.
কোন পরমাণু মডেলটি সৌর মডেল নামে পরিচিত?
  1. ডাল্টনের পরমাণু মডেল
  2. বোর পরমাণু মডেল
  3. অ্যাভোগেড্রোর পরমাণু মডেল
  4. রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল
ব্যাখ্যা

পরমাণু মডেল (Atom Model): 
- ১৮৯৭-১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন বিজ্ঞানী পরমাণুর উপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রাপ্ত তথ্য থেকে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে যে মতবাদ উপস্থাপন করেন, তা পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
যেমন- থমসন পরমাণু মডেল, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল, বোর পরমাণু মডেল ইত্যাদি। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল: 
- পরমাণুতে মৌলিক কণিকাগুলো কিভাবে সজ্জিত আছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড একটি মডেল প্রস্তাব করেন যা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
- তিনি পরমাণুর গঠনকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন, তাই তাঁর প্রস্তাবিত মডেলকে পরমাণুর সৌর মডেলও বলা হয়। 

- তাঁর প্রস্তাবগুলো হলো- 
(১) পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট ভারী কেন্দ্র বিদ্যমান যা পরমাণুর প্রায় সব ভর বহন করে। এর নাম নিউক্লিয়াস। এর আয়তন সমগ্র পরমাণুর আয়তনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। 
(২) সকল পরমাণু আধান নিরপেক্ষ। অতএব, নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক আধানের সমান সংখ্যক ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারিদিকে আবর্তন করে। 
(৩) সৌরমন্ডলে গ্রহগুলো যেমন সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান তেমনি পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের চারিদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে সর্বদা ঘূর্ণায়মান। ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট নিউক্লিয়াস এবং ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রনের মধ্যে পারস্পরিক কেন্দ্রমুখী স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল এবং ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের কেন্দ্রবিমুখী বল পরস্পর সমান ও বিপরীতমুখী। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা: 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল পরমাণুতে নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসের চারিদিকে পরিভ্রমণরত ইলেকট্রনের অস্তিত্ব সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করলেও এর সীমাবদ্ধতার কারণে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
- এর সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটিসমূহ নিম্নরূপ: 
১. সৌরমন্ডলের গ্রহগুলো তড়িৎ নিরপেক্ষ। কিন্তু পরমাণুর কক্ষপথে আবর্তনকারী ইলেকট্রনসমূহ ঋণাত্মক চার্জযুক্ত এবং এরা পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। 
২. ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বানুসারে চার্জযুক্ত ইলেকট্রন কণা বৃত্তাকার পথে ঘূর্ণায়মান থাকলে তা অবিচ্ছিন্নভাবে (Continuous) শক্তি বিকিরণ করার কথা। এভাবে শক্তি হারাতে থাকলে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণে ইলেকট্রনের কক্ষপথ সর্পিলাকারে হ্রাস পেয়ে এক সময় ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে পতিত হবে। 
অর্থাৎ, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলেরই আর কোন অস্তিত্ব থাকে না। অথচ পরমাণু হতে ক্রমাগত শক্তি বিকিরণ বা ইলেকট্রনসমূহের নিউক্লিয়াসে পতন কখনই ঘটে না। 
৩. আবর্তনশীল ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার ও আকৃতি সম্বন্ধে কোনো ধারণা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলে পাওয়া যায় না। 
৪. একাধিক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো কিভাবে পরিভ্রমণ করে তার কোনো উল্লেখ এ মডেলে নেই। 
৫. পরমাণুর বর্ণালী সম্বন্ধে কোনো সুষ্ঠু ব্যাখ্যা এ মডেলে নেই। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮.
প্রমাণ অবস্থায় এক মোল গ্যাসের আয়তন কত?
  1. 0.0224 লিটার
  2. 2.24 লিটার
  3. 0.224 লিটার
  4. 22.4 লিটার
ব্যাখ্যা

মোলার আয়তন: 
- যে কোনো উপাদানের এক মোল পরিমাণ পদার্থের আয়তনকে মোলার আয়তন বলে। 
- পদার্থের ভৌত অবস্থা ভেদে মোলার আয়তন ভিন্ন ভিন্ন। 
- কঠিন ও তরল উপাদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদার্থের মোলার আয়তন বিভিন্ন হয়। তবে গ্যাসের ক্ষেত্রে একই তাপমাত্রা ও চাপে সকল গ্যাসের এক মোলার আয়তন একই হয়। 
- প্রমাণ অবস্থায় এক মোল যে কোনো গ্যাসের আয়তন 22.4 লিটার। 
- 0°C তাপমাত্রাকে প্রমাণ তাপমাত্রা এবং 1 বায়ুমণ্ডলীয় চাপকে প্রমাণ চাপ বলে। 
- তাপমাত্রার বৃদ্ধি ঘটালে গ্যাসের আয়তনের বৃদ্ধি এবং তাপমাত্রার হ্রাস ঘটালে গ্যাসের আয়তনের হ্রাস ঘটে। 
- আবার গ্যাসের উপর আরোপিত চাপের বৃদ্ধি ঘটালে আয়তনের হ্রাস ঘটে। আরোপিত চাপের হ্রাস ঘটালে আয়তনের বৃদ্ধি ঘটে। 
- এক মোল অণু = গ্রাম আণবিক ভর = 6.023×1023 টি অণু। আর প্রতিটির সম্পর্ক হলো যে কোনো গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন প্রমাণ অবস্থায় 22.4 লিটার। 

অর্থাৎ, 
• এক মোল অণু হাইড্রোজেন = 2 গ্রাম হাইড্রোজেন = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল অণু অক্সিজেন = 32 গ্রাম অক্সিজেন = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল অ্যামোনিয়া = 17 গ্রাম অ্যামোনিয়া = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল কার্বন ডাই-অক্সাইড = 44 গ্রাম কার্বন ডাই-অক্সাইড = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯.
কোনটি মৌলিক গ্যাসের অণু হিসেবে পরিচিত?
  1. H2O
  2. O3
  3. N2
  4. NH3
ব্যাখ্যা

রাসায়নিক বন্ধন: 
- পদার্থ মাত্রই অসংখ্য পরমাণুর এক সাথে অণু হিসেবে আবদ্ধ থাকার একটি স্থায়ী অবস্থা। তবে নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো এক পরমাণুক অনুরূপে প্রকৃতিতে স্থায়ীরূপে অবস্থান করে। 
- চারিপার্শ্বের বায়ুতে যে নাইট্রোজেন অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, ক্লোরিন ইত্যাদি গ্যাসগুলো আছে এরা প্রত্যেকেই মৌলিক গ্যাস অণু। 
- মৌলিক গ্যাসের অণুগুলো দ্বিপরমাণুক অণু। যেমন- N2, O2, H2, F2, Cl2 ইত্যাদি। 

- ওজোন (O3), ফসফরাস (P4), সালফার (S8) এরাও মৌলিক অণু কিন্তু বহু পরমাণুক অণু। আবার পানি (H2O), খাবার লবণ (NaCl) কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), অ্যামোনিয়া (NH3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl) প্রভৃতি যৌগের অণুতে ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু মিলে অণুগঠন করেছে। 
- একই ধরনের দুই বা ততোধিক পরমাণু একত্রে মিলিত হয়ে মৌলের একটি অণু সৃষ্টি করে এবং ভিন্ন ধরনের দুই বা ততোধিক পরমাণুর সংযোজনের ফলে যৌগের অণু উৎপন্ন করে। 
- সব অণুর মধ্যেই পরমাণুগুলো এক বিশেষ আকর্ষন বলের দ্বারা পরস্পর পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে। 
- এভাবে একই বা ভিন্ন ভিন্ন মৌলের দুই বা ততোধিক পরমাণু মিলিত হয়ে রাসায়নিক বন্ধনের সৃষ্টি হয়। 
- আবার একই মৌলের অসংখ্য পরমাণু পরস্পর যুক্ত হয়েও রাসায়নিক বন্ধন সৃষ্টি করতে পারে। যেমন- ধাতব বন্ধন। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০.
বিশুদ্ধ অবস্থায় ২০°-২৭°C তাপমাত্রায় পানির pH কত? 
ব্যাখ্যা

পানি: 
- পানি একটি তরল পদার্থ। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় পানি তরল হলেও অত্যন্তশীতল অবস্থায় কঠিন বরফে পরিণত হয়। আবার উচ্চ তাপমাত্রায় গ্যাসীয় বাষ্পে পরিণত হয়। 
- জীবজগতের সকল উদ্ভিদ ও প্রাণির দেহ গঠনের জন্য পানি একটি অপরিহার্য উপাদান। 

পানির ধর্ম: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বচ্ছ, স্বাদহীন, গন্ধহীন ও বর্ণহীন হয়ে থাকে। 
- পানির কিছু সাধারণ ধর্ম নিম্নে উল্লেখ করা হলো- 

• গলনাংক: 
- শীতল অবস্থায় পানি কঠিন বরফ হিসেবে থাকে। 
- প্রমাণ চাপে বরফ ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলে যায়। 
অর্থাৎ, পানির গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 

• স্ফূটনাংক: 
- প্রমাণ চাপে অর্থাৎ ৭৬০ মি মি পারদ চাপে পানি ১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়। 
অর্থাৎ, পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

• অম্লত্ব ও ক্ষারকত্ব: 
- বিশুদ্ধ পানি নিরপেক্ষ। 
অর্থাৎ, বিশুদ্ধ অবস্থায় এটি অ্যাসিড বা ক্ষার কোন ধর্মই প্রদর্শন করে না। 
- তবে এসিডের উপস্থিতিতে এটি ক্ষার হিসেবে আবার ক্ষারের উপস্থিতিতে এটি অ্যাসিড হিসেবে কাজ করে। 
- বিশুদ্ধ অবস্থায় ২০°-২৭°C তাপমাত্রায় পানির pH হলো ৭, তবে উচ্চ তাপমাত্রার পানির pH ৭ এর নিচে। 

• দ্রাবক: 
- পানি একটি ভাল দ্রাবক। 
- এটি বেশিরভাগ অজৈব লবণ এবং কিছু কিছু জৈব যৌগ দ্রবীভূত করতে পারে। 
- এজন্য পানিকে সর্বজনীন দ্রাবক বলা হয়। 

• ঘনত্ব: 
- ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয়। 
- ৪° সেলসিয়াসের চেয়ে কম ও বেশি তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব কমতে থাতে। 
- ৪° সেলসিয়াসে পানির ঘনত্ব ১ গ্রাম/কিউবিক সেন্টিমিটার বা ১০০০ কেজি/ঘনমিটার। 
অর্থাৎ, ১ সি সি পানির ভর ১ গ্রাম এবং ১ ঘন মিটিার পানির ভর ১০০০ কেজি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১.
কোনটি শুষ্ক বরফের উপাদান? 
  1. NH3
  2. CO2
  3. H2O
  4. PH3
ব্যাখ্যা

• শুষ্ক বরফ:
- শুষ্ক বরফ( Dry ice ) হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এর কঠিন রূপ। 
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন হয়, যার অর্থ এটি তার কঠিন রূপ থেকে সরাসরি তার গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়। 
- "শুষ্ক বরফ" আসলে কঠিন হিমায়িত কার্বন ডাই অক্সাইড, যা ঠাণ্ডা -78.5 °C (-109.3° ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় পরমানন্দ বা গ্যাসে পরিণত হয়। 
- তাই এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৩২.
যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে বলে পরস্পরের-
  1. আইসোটোন
  2. আইসোটোপ
  3. আইসোমার
  4. আইসোবার
ব্যাখ্যা

আইসোবার: 
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলা হয়। 

আইসোটোন: 
- যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোন বলে। 

আইসোটোপ: 
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। 

আইসোমার: 
- যে সব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে আইসোমার বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৩.
উদ্ভিদে কত ধরনের প্রস্বেদন দেখা যায়? 
  1. তিন ধরনের
  2. পাঁচ ধরনের
  3. চার ধরনের
  4. দুই ধরনের
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন: 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার সামান্য অংশই বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করে। 
- অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে। 
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। 
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে। 

- উদ্ভিদে তিন ধরনের প্রস্বেদন দেখা যায়। 
যথা- 
(ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, 
(খ) ত্বকীয় প্রস্বেদন এবং 
(গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪.
নিচের কোন পদার্থের ব্যাপনহার সর্বোচ্চ?
  1. নাইটোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. হাইড্রোজেন
  4. কার্বন ডাই অক্সাইড
ব্যাখ্যা

• হাইড্রোজেনের(H2) ব্যাপনহার সর্বোচ্চ।

• ব্যাপন:
- কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কঠিন, তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থ উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানের দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
- যেমন: ঘরের এক কোণে কোনো একটি সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে সারা ঘরে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এটি ব্যাপন প্রক্রিয়ার উদাহরণ।
- কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে সময় কম লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার বেশি এবং কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার কম।
- H2. He, N2, O2 এবং CO2 গ্যাসগুলোর আণবিক ভর যথাক্রমে 2, 4, 28, 32 এবং 44।
- এই গ্যাসগুলোর মধ্যে H2 এর আণবিক ভর কম, তাই H2 এর ব্যাপন হার বেশি হবে।
এবং CO2 এর আণবিক ভর বেশি, কাজেই CO2 এর ব্যাপন হার কম হবে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৫.
সবচেয়ে হালকা ধাতু কোনটি?
  1. হিলিয়াম
  2. পারদ
  3. সোডিয়াম
  4. লিথিয়াম
ব্যাখ্যা

• লিথিয়াম (Li):
- লিথিয়াম (Li) হলো বিশ্বের সবচেয়ে হালকা ধাতু।
- এটি পারমাণবিক সংখ্যা ৩ এবং ঘনত্ব পানির ঘনত্ব এর চেয়েও কম।
- ফলে লিথিয়াম পানিতে ভাসতে পারে।

• লিথিয়ামের বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
- এটি পর্যায় সারণির ক্ষারীয় ধাতু (Alkali Metal) গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত।
- এটি খুবই হালকা এবং নরম, ছুরি দিয়ে কাটা যায়।
- এটি খুব বেশি বিক্রিয়াশীল (reactive), বিশেষ করে পানির সাথে তীব্র বিক্রিয়া করে।
- লিথিয়াম ব্যাটারি, ওষুধ (বাইপোলার ডিসঅর্ডার), মহাকাশ প্রযুক্তি, এবং হালকা সংকর ধাতু (alloy) তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

• কয়েকটি ধাতু সম্পর্কে গুরত্বপূর্ণ তথ্য:
- পারদ একমাত্র ধাতু যা তরল অবস্থায় থাকে, এটি তাপ কুপরিবাহী, ধাতুর মধ্যে পারদের গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম।
- সবচেয়ে সক্রিয় ধাতু- পটাসিয়াম (K)।
- সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ধাতু- লোহা।
- উড়োজাহাজ তৈরিতে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু ব্যবহার করা হয়।
- লিথিয়াম, সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম ধাতু পানি আপেক্ষা হালকা।
- লোহা বায়ুর অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে মরিচা (Fe2O3.nH2O) গঠন করে।
- সোডিয়াম ধাতুকে কেরোসিনের নিচে রাখা হয়।
- সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু- প্লাটিনাম।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, রসায়ন এবং ব্রিটানিকা।