ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম আইনের উৎস চারটি।
১) আল কুরআন ২) আল হাদিস ৩) ইজমা ৪) কিয়াস।
৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি [১৯১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৩ প্রশ্ন
⇒ মুসলিম আইনের উৎস চারটি।
১) আল কুরআন ২) আল হাদিস ৩) ইজমা ৪) কিয়াস।
⇒মহানবী (স.) ৬২০ সালে মিরাজে গমন করে ৫ ওয়াক্ত নামাজের নির্দেশ পান।
-ইসলামের কিবলা ক’বার দিকে ফিরে নামাজ আদায় করতে হয়।
-মুসলমানদের প্রথম কিবলা ছিল বায়তুল মুকাদ্দাস।
⇒শিয়া রাজনৈতিক মতবাদ হিসেবে অভিভূত হয়েছিলেন ৬৮০ সালের ১০ই মহররম কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইনকে হত্যার মধ্য দিয়ে।
-এই শিয়ারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত। যেমন-যায়েদী,ইমামী,ইসনা আশারিয়া, ইসমাইলীয়।
-ইসমাইলীয়রা সপ্তম ইমামে বিশ্বাসী।
⇒ হানাফী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা আবু হানিফা ফিকাহ শাস্ত্রে ইজতেহাদ, কিয়াস ও ইসতেহসানের উপর বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন।
- তার শিষ্য ইউসুফ ‘কিতাব-উল-খারাজ’ গ্রন্থে আবু হানিফার মতামত লিপিবদ্ধ করেন।
- তার অনুসারীদের আহল-আর-রায় বা যুক্তিবাদী বলা হত।
⇒ মহানবী (স.) ৬২০ সালে নবুয়তের ১০ম বছরে আল্লহর দিদারে যান।
- যা মিরাজ নামে পরিচিত।
- এই মিরাজেই তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামজের নির্দেশ পান।
⇒ খারেজীদের মতে গান-বাজনা মদ্যপান জুয়া খেলা ধূমপান সবকিছুই মুসলমানদের জন্য হারাম।
-এজন্যই তাদেরকে ইসলামের বিশুদ্ধতাবাদী ‘Puritans of Islam’ বলা হয়।
⇒মালেক ইবনে আনাস ৭১৩ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন।
-ইমাম আবু হানিফা ইজতেহাদ ও কিয়াসকে প্রাধান্য দিলেও
-ইমাম মালেক জনহিতকর নীতি বা মাসলাহাত(Maslahat) কে প্রাধান্য দেন।
⇒সালাত আরবী শব্দ যার অর্থ পুড়িয়ে ফেলা। নামাজ ফার্সি শব্দ।
-ইসলামের কিবলা ক’বার দিকে ফিরে নামাজ আদায় করতে হয়। নামাজের পূর্বে ওজু করা বাঞ্ছনীয়।
-নামাজের মধ্যে ৬ টি বাহিরে ৭ টি সহ মোট ১৩টি আহকাম ও আরকান বিদ্যমান।
⇒নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বাণী, কাজ, অনুমোদিত বা অনুচিত কাজের বর্ণনাই হাদিস।
-হাদিস প্রথমত দুই প্রকার।
-সাহিহ হাদিস: যেগুলো সুপষ্টভাবে সত্য ও প্রামাণিক।
-দাঈফ হাদিস: যেগুলোর প্রামাণিকতা সন্দেহজনক।
⇒মহানবী (স.) ৬২০ সালে মিরাজে গমন করে ৫ ওয়াক্ত নামাজের নির্দেশ পান।
-ইসলামের কিবলা ক’বার দিকে ফিরে নামাজ আদায় করতে হয়।
-২য় হিজরীর শাবান মাসে কিবলা বায়তুল মুকাদ্দাসের দিক থেকে কা’বার দিকে পরিবর্তত হয়।
⇒ঈমান অর্থ বিশ্বাস।
-ঈমানের আরেক নাম হচ্ছে কালিমা।
-ঈমানের অংশ ৩টি। মনে বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকৃতি, কাজে প্রকাশ।
⇒নিসাব পরিমান সম্পদের ২.৫% হারে যাকাত প্রদান করতে হয়।
-৭.৫ তোলা স্বর্ণ ও ৫২.৫ তোলা রৌপ্য পরিমান সম্পদই যাকাতের নিসাব।
-৯ম হিজরিতে থেকে যাকাত মুসলিম রাষ্ট্রের আয়ের উৎস হিসেবে পরিগণিত হয়।
⇒নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট কার্যাবলী পালনের নামই হজ্ব।
-এহরাম বাধা, তাওয়াফ করা,সায়ি করা,মিনা ও আরাফায় অবস্থান, কুরবানী দেয়া সহ বেশ কিছু কার্যাবলী পালনের নামই হজ্ব।
⇒৮টি শ্রেণীর মাঝে যাকাত বন্টন করা হয়।
-ফকির,মিসকিন,যাকাত আদায়ের কর্মচারী,দাস মুক্তির জন্য,ঋণ গ্রস্থ,নও মুসলিম, মুসাফির,আল্লাহর রাস্তায়।
⇒কিয়াস ও ইজতেহাদকে কেন্দ্র করে মতবিরোধের ফলে চারটি সুন্নি গোষ্ঠি বা মাযহাবের সৃষ্টি হয়।
-হানাফী, মালিকী,শাফেয়ী এবং হাম্বলী।
-আব্বাসীয় আমলে এই চার মাজহাবের উৎপত্তি ঘটে।
⇒শাফেয়ী মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মোহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আল শাফেয়ী।
-তিনি ৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে গাজায় জন্মগ্রহণ করেন।
-তিনি তার “কিতাব ইখতেলাফ আল হাদিস” নামক একটি গ্রন্থে হাদিসের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
-কিন্তু যুক্তিবাদীরা তার এই গ্রন্থটিকে গ্রহণ করেন নি।
⇒ওয়াসিল বিন আতা হাসান বসরির সহচর্য থেকে আলাদা হয়ে যে মতবাদ বা দর্শন প্রচার করেন তাই মুতাজিলা নামে পরিচিত।
-মতাদর্শগত দিক থেকে তাদেরকে ‘মানজিলা বাইনা মানজিলা তাইন’বা মধ্যমপন্থা অবলম্বনকারী বলে আখ্যায়িত করা হয়।
⇒মুতাজিলাবাদের বিকল্প হিসেবে আশারিয়াবাদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
-তাদের মতে আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়।
-তার অস্তিত্ব চিরন্তন।
-কুরআন চিরন্তন বিশেষ প্রয়োজনে মহানবী (স.) এর উপর নাজিল হয়েছে।
⇒হাম্বলি মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আহমদ বিন হাম্বল।
-তিনি ১৬৪ হিজরী ৭৮০ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদের জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই ২৪১ হিজরী ৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
-তিনি পনেরো বছর বয়সে হাদিস অধ্যায়ন শুরু করেন।
-তার সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব হচ্ছে বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ ‘মসনদ’ যে গ্রন্থে ২৮,০০০ হাদিস সন্নিবেশ করেছিলেন।
⇒ শিয়াদের মতে খলিফারা সমস্ত দোষের উর্ধ্বে।
- তারা মনে করে রাসুল (স.) এর বংশধরদের মধ্য থেকেই বংশীয় ভাবে ইমাম নির্বাচিত হবে।
-অন্যবংশ থেকে ইমাম নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নেই।
⇒ ইজতেহাদ,ইসতেহসান,কিয়াসকে কেন্দ্র করে মতবাদ প্রকাশ করেন ইমামে আজম আবু হানিফা।
- তার অন্যতম শিষ্য ছিলেন আবু হউসুফ।
- যিনি হানাফী মতবাদ সম্বলিত"কিতাব উল খারাজ" গ্রন্থ রচনা করেন।
⇒মালেক ইবনে আনাস ৭১৩ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন।
-শৈশবেই তিনি কুরআন ও ফিকাহ শাস্ত্রে বুৎপত্তি অর্জন করেন।
-তিনি মুহাদ্দিস ও আইনজ্ঞ হিসেবে অল্প দিনেই খ্যাতি অর্জন করেন।
-হাদিস সংগ্রহে অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়ে ১৭০০ হাদিস সম্বলিত একটি গ্রন্থ ‘আল মুয়াত্তা’ প্রকাশ করেন।
⇒ইমাম আবু হানিফা ইরাকি স্কুলের প্রথিকৃৎ ছিলেন।
-তিনি ফিকাহ শাস্ত্রে ইজতেহাদ, কিয়াস ও ইসতেহসানের উপর বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন।
-খলিফা আবু জাফর আল মনসুর তাকে প্রধান বিচারকের পদে বসায়
-কিন্তু তিনি অস্বীকৃতি জানালে তাকে কারারুদ্ধ করা হয়।
⇒মুতাজিলাবাদের বিকল্প হিসেবে আশারিয়াবাদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
-আব্বাসীয় খলিফাদের সময়ে আহমদ ইবনে হাম্বল মুতাজিলা নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন।
-তারা ইমাম মালেকের ‘বিলা কাইফা’ নীতি গ্রহণ করেছিলেন।
⇒আব্বসীয় শাসনামলে হাদিস সংকলিত হয়ে সহিহ সিত্তাহ ৬টি বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ হয়।
-সেগুলো হলো: ১) সহিহ বুখারী ২) সহিহ মুসলিম ৩) সহিহ তিরমিজি ৪) সহিহ ইবনে মাজাহ ৬) সহিহ আল নিসাই।
⇒খারিজিরা গণতন্ত্রমনা ছিল।
-খলিফা পদের জন্য যে কোন ব্যক্তি বা গোত্রের মধ্যে কোন দাসও যদি যোগ্য হয় সে খলিফা হবে।
⇒কুরআন,হাদিস,ইজমার দ্বারা যখন কোন সমস্যার সমাধান হয় না তখন মুজতাহিদগণের অবরোহনমূলক যুক্তিতর্কের (Analogical deduction) মাধ্যমে সেই সমস্যার মোকাবেলা করা হয়।
-এই কিয়াসকে কেন্দ্র করে সুন্নী চার মাযহাবে মতবিরোধ বিদ্যমান।
⇒পবিত্র কুরআনে ৬৬৬৬ টি আয়াত রয়েছে।
-যেগুলো ২ ভাগে বিভক্ত।
-১) আয়াতে মুহকামাত ২) আয়াতে মুতাসাবাহাত।
⇒নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বাণী, কাজ, অনুমোদিত বা অনুচিত কাজের বর্ণনাই হাদিস।
-আবু হুরায়রা,আয়েশা, আনাস, আ. বিন ওমর সহ অনেক সাহাবী হাদিস বর্ণনা করেছেন।
-সবচয়ে বেশি হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা (রা.)।
⇒হাদিস ইসলামের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
-নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বাণী, কাজ, অনুমোদিত বা অনুচিত কাজের বর্ণনা।
-আবু হুরায়রা,আয়েশা, আনাস, আ. বিন ওমর সবচয়ে বেশি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
-ইমাম জুহুরী সর্ব প্রথম হাদিস সংকলন শুরু করেন।
⇒যায়েদ বিন সাবিত, আ.বিন যুবায়ের,ওসমান সহ অনেকে কুরআন লিপিবদ্ধ করতেন।
-তারা উটের চামড়া, হাড়,কাঠ,পাথর, গাছের ছালে সেগুলো লিখে রাখতেন।
-যায়েদ বিন সাবিত (রা.) রাসূল (সা.) এর ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন।
⇒মুতাজিলা মতবাদ হতে আলাদা হয়ে আবুল হাসান আশয়ারির এ মতবাদ প্রচার করেন।
-এ মতবাদ কে বিজ্ঞানসম্মত বলা হয়।
⇒পবিত্র কুরআনে ৩০টি পারা।
-১১৪টি সুরা যার ৯২টি মক্কি,২২টি মাদানী।
-৪৫৮ টি রুকু,৬৬৬৬ টি আয়াত রয়েছে।
⇒সাওম আরবী শব্দ যার অর্থ বিরত থাকা।
-পবিত্র কুরআনে সূরা বাকারায় রোজার কথা বলা আছে।
-রমজান মাসে পূর্ণ মাস রোজা রাখা প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমানদের জন্য ফরজ।
-রমজান মাসেই কুরআন নাজিল হয়।
-২য় হিজরিতে রোজা ফরজ হয়।
⇒যাকাত আরবী শব্দ যার অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া।
-পবিত্র কুরআনে নামাজের সাথে ২০টি জায়গায় যাকাতের কথা বলা আছে।
-সম্পত্তির নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর নামে উৎসর্গ করার নামই যাকাত।
⇒মহানবী (স.) এর উপর ৪০ বছর বয়সে ৬১০ খ্রিস্টাব্দে জিব্রাইল(আ) এর মাধ্যমে পবিত্র রমজান মাসের ২১ থেকে ২৯ তারিখের কোন এক বিজোড় রাতে কুরআন নাজিল হয়।
-যা মক্কায় ১৩ বছর মদিনায় ১০ বছর মোট দীর্ঘ ২৩ বছরে রাসূলের বিভিন্ন প্রয়োজনে অবতীর্ণ হয়।
⇒মুরজিয়ারা মূলত খারেজীদের প্রতিদ্বন্দ্বী মতবাদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
-খারিজি মতবাদ খণ্ডন করতেই মুরজিয়ার মতবাদ প্রচার করে।
-খারেজি ও শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যবর্তী স্থানে তাদের মতবাদের অবস্থান।
⇒শাফেয়ী মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মোহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আল শাফেয়ী।
-তিনি ৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে গাজায় জন্মগ্রহণ করেন।
-মিশরই ছিল শাফেয়ী মতবাদ প্রচারের প্রাণকেন্দ্র।
-তিনি ৮২০ সালে কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন।
⇒বেশ কিছু মতপার্থক্যের জন্য খারেজীরা বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়।
-যেমন: আজরাকী,ইবাদী,নাজদায়ী,জায়েদী,ইয়াজিদী ইত্যাদি।
-এগুলোর মধ্যে আজরাকিরা ছিল উগ্রপন্থী।
ইমাম মালেক ইজতেহাদ ও ইসতেহসানের প্রয়োগে সতর্কতা অবলম্বন করেন।
-তিনি হাদিসকে সকল যুক্তি তর্কের উপরে রাখেন।
-তিনি আল্লাহর মহিমা ও সর্বময় ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার জন্য বিনা দ্বিধায় গ্রহন নীতি বা “বিলা কায়েফা”(Bila kaifa) উদ্ভবন করেন।
⇒ওয়াসিল বিন আতা মুতাজিলা সম্প্রদায় এবং মতবাদের প্রবক্তা।
-তিনি বিখ্যাত দার্শনিক হাসান আল বসরীর সান্নিধ্যে ছিলেন।
-ওয়াসিল বিন আতা হাসান বসরির সহচর্য থেকে আলাদা হয়ে যে মতবাদ বা দর্শন প্রচার করেন তাই মুতাজিলা নামে পরিচিত।
⇒তাদের মতে শিরক ছাড়া আল্লাহ যে কাউকে ক্ষমা করতে পারেন।
-তাই কবীরাহ গুনাহ করলে কেউ অমুসলমান হয় না।
-কবিরাহ গুনাকারি বেহেশতে যাবে না দোযখেও যাবে না।
⇒শিয়াদের মতে রাসূল (স.)এর পর আলী (রা.) এর আগে সব খলিফা দখলদার ।
⇒আলী (রা.) একমাত্র ন্যায় সংগত উত্তসূরী।