পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৩২
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৫৩: বিষয় - সাধারণ বিজ্ঞান টপিক - ভৌত বিজ্ঞান: রসায়ন বিজ্ঞান বিষয়ক ১. পদার্থের অবস্থা ও ধর্ম, পারমাণবিক গঠন, মৌলিক কণা, মৌলের ধর্ম, পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন, সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়া, কার্বনের বহুমুখী ব্যবহার, এসিড, ক্ষার, লবণ, পদার্থের ক্ষয়। ২. মৌলিক কণা, ধাতব পদার্থ এবং তাদের যৌগসমূহ, পদার্থের দ্রবণ ধর্ম ও দ্রাব্যতা, সাবানের কাজ, অধাতব পদার্থ, জারণ-বিজারণ, ব্যাপন, অভিস্রবণ, প্রস্বেদন, তড়িৎ কোষ, অজৈব ও জৈব যৌগ, পলিমার। এবং বিষয় - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি টপিক - আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সম্পর্ক i) বৈশ্বিক দ্বন্দ্ব ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল, দ্বন্দ্বপূর্ণ সাগর ও অন্যান্য; ii) NATO, Warsaw Pact, INTERPOL, ANZUS, নিরাপত্তা সম্মেলন সমূহ; iii) নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তি; iv) বিভিন্ন গোয়েন্দা, গেরিলা ও জঙ্গী সংস্থা, বিদ্রোহী জোট; [FBI, CIA, FSB, RAW, Fairfax, মোসাদ, আমান, M16, হামাস, হিজবুল্লাহ, আল শাবাব, আইরিস রিপানলিকান আর্মি, টুপাক আমারু, ফার্ক, আবু শায়াফ, শাইনিং পাথ, M-23, উলফা, খেমারুজ, পিকেকে, ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর, গডস আর্মি, ইসলামিক স্ট্যাট, হুথি বিদ্রোহী, লস্কর - ই তৈইব্যা, জইশ মোহাম্মদ, হিজবুত তাহরীর, JKLF, নকশাল, তানজিম আল জিহাদ, M19]। ------------------ [এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৩২ প্রশ্ন

.
Good Friday Agreement নামে পরিচিত কোনটি?
  1. অটোয়া চুক্তি
  2. বেলফাস্ট চুক্তি
  3. অসলো চুক্তি
  4. উই রিভার চুক্তি
ব্যাখ্যা
বেলফাস্ট চুক্তি:
- উত্তর আয়ারল্যান্ডে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বেলফাস্ট চুক্তিটি একটি মাইলফলক হিসাবে বিবেচিত হয়। উত্তর আয়ারল্যান্ড - এর শাসনতন্ত্র কিরকম হবে তা এই চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
- চুক্তি স্বাক্ষর: ১০ এপ্রিল, ১৯৯৮ সাল।
- চুক্তি কার্যকর: ডিসেম্বর, ১৯৯৯ সাল।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: বেলফাস্ট, উত্তর আয়ারল্যান্ড।
- চুক্তির পক্ষ: ব্রিটিশ সরকার, আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের কয়েকটি রাজনৈতিক দল।
- 'বেলফাস্ট চুক্তির' অপর নাম - Good Friday Agreement.

তথ্যসূত্র - Britannica.com
.
ডেটন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান কোনটি?
  1. প্যারিস
  2. রোম
  3. নিউ ইয়র্ক
  4. জেনেভা
ব্যাখ্যা
ডেটন শান্তি চুক্তি (Dayton Peace Agreement):
- ডেটন শান্তি চুক্তির পূর্ণনাম - General Framework Agreement for Peace in Bosnia and Herzegovina।
- বসনিয়া সংকট সমাধানের উদ্দেশ্যে ডেটন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- যুক্তরাষ্ট্রের ওহায়ো অঙ্গরাজ্যের ডেটনে অবস্থিত বিমানঘাটিতে এই চুক্তির খসড়া প্রণীত হয়। এই জন্য এই চুক্তিকে ডেটন শান্তি চুক্তি বলা হয়।
- ডেটন চুক্তির মধ্যস্থতাকারী ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট - বিল ক্লিন্টন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী - ওয়ারেন ক্রিস্টোফার।
- চুক্তিটির প্রধান শান্তি আলোচক - রিচার্ড হলব্রোক।
- চুক্তির খসড়া প্রস্তুত - ২১ নভেম্বর, ১৯৯৫ সাল
- চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ - ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ সাল
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান - প্যারিস, ফ্রান্স।
- চুক্তির পক্ষ সমূহ - বসনিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়া
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী -
১. বসনিয়ার পক্ষে - প্রেসিডেন্ট আলিজা ইজটবেগোভিচ।
২. ক্রোয়েশিয়ার পক্ষে - প্রেসিডেন্ট ফ্রাঞ্জো টুডম্যান।
৩. সার্বিয়ার পক্ষে - স্লোভাদান মিলোসোভিচ।

তথ্যসূত্র - হিস্টরি.কম ও ব্রিটানিকা।
.
FSB পূর্বে কী নামে পরিচিত ছিল?
  1. KGB
  2. TGF
  3. KFS
  4. KML
ব্যাখ্যা
FSB:
- FSB এর পূর্ণরূপ The Federal Security Service যা রাশিয়ান ভাষায় Federalnaya Sluzhba Bezopasnosti.
- এটি রাশিয়ান প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন - এর সময় এই গোয়েন্দা সংস্থার নাম ছিলো - KGB (Committee for State Security)।
- ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত হওয়ার পর ১৯৯৪-৯৫ সময়ে এর নাম হয় - Federal Counterintelligence Service (FSK) |
- ১৯৯৫ সাল থেকে এই সংস্থাটির বর্তমান নাম করেন তৎকালীন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট Boris Yeltsin.
- রাশিয়ার অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা, সীমান্ত অপরাধ, চোরাচালান, ফেডারেল কোন আইন ভঙ্গ করলে তার তদন্ত ও অপরাধী সনাক্তকরণ ইত্যাদি বিষয়ে FSB কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

তথ্যসূত্র - FSB অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
.
জেনেভা কনভেনশনের আওতায় কয়টি চুক্তি রয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
জেনেভা কনভেনশন:
- জেনেভা কনভেনশন সম্পাদিত হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ও এর ফলাফল হিসেবে।
- যুদ্ধপরাধকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে জেনেভা কনভেনশনকে মান্য করা হয়।
- মূলত এটি যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- ১৯৪৯ সালের ১২ আগস্ট সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ‘জেনেভা কনভেনশন’ স্বাক্ষরিত হয়।
- এর আওতায় ৪টি চুক্তি ও ৩টি প্রটোকল রয়েছে।
- যুদ্ধকালীন সামরিক, বেসামরিক ও স্বেচ্ছাসেবীদের রক্ষার জন্য এতে চারটি চুক্তি থাকায় এই চুক্তিকে ‘চারটি রেডক্রস কনভেনশন’ বলা হয়।

কনভেনশনসমূহ:
• ১ম জেনেভা কনভেনশন:
- ১৯৪৯ সালে; যুদ্ধকালীন সময়ে ভূমি ও স্থল যুদ্ধে আহত ও অসুস্থ সৈন্যদের প্রতি আচরণ ও সুরক্ষা সংক্রান্ত।

• ২য় জেনেভা কনভেনশন:
- ১৯৪৯ সালে; সমুদ্রস্থ যুদ্ধক্ষেত্রে আহত, অসুস্থ এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত জাহাজের সৈন্যদের প্রতি আচরণ ও সুরক্ষা সংক্রান্ত। ১৯০৭ সালে ‘হেগ চুক্তি’ সংশোধন করে এটি স্বাক্ষরিত হয়।

• ৩য় জেনেভা কনভেনশন:
- ১৯৪৯ সালে; যুদ্ধবন্দিদের প্রতি আচরণ ও তাদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত।

• ৪র্থ জেনেভা কনভেনশন:
- ১৯৪৯ সালে, যুদ্ধাবস্থায় বেসামরিক জনগণ রক্ষার্থে ও তাদের সুরক্ষা সংক্রান্ত।

তথ্যসূত্র - Britannica.com & History.com
.
আলজিয়ার্স চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৭৬ সালে
  3. ১৯৭৭ সালে
  4. ১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা
আলজিয়ার্স চুক্তি:
- এই চুক্তিটি একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি।
- ইরাক-ইরান দুই দেশের মধ্যে আলজিয়ার্স চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১৯৭৫ সালে।
- অনুমোদিত হয়: ১৯৭৬ সালে।
- মধ্যস্থতাকারী দেশ: আলজেরিয়া।
- স্বাক্ষরের স্থান: আলজিয়ার্স, আলজেরিয়া।
- ইরানের পক্ষে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভী এবং ইরাকের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
- ইরাক কর্তৃক ইরান আক্রমনের মধ্য দিয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর,১৯৮০ সালে চুক্তিটি অকার্যকর হয়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com & History.com
.
ULFA ভারতের কোন রাজ্যের স্বাধীনতাকামী সংগঠন?
  1. মিজোরাম
  2. মেঘালয়
  3. মণিপুর
  4. আসাম
ব্যাখ্যা
উলফা:
- United Liberation Front of Assam - ULFA ভারতের আসাম রাজ্যের স্বাধীনতাকামী সংগঠন।
- এটি ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- উলফার নেতাদের মধ্যে পরেশ বড়ুয়া, অনুপ চেটিয়া, অরবিন্দ রাজখোয়া প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
- বাংলাদেশের আলোচিত দশট্রাক অস্ত্রের চোরাচালানের সাথে উলফা জড়িত ছিলো।

তথ্যসূত্র - South Asia Terrorism Portal.
.
অটোয়া চুক্তি কী উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার রোধ
  2. স্থলমাইন নিষিদ্ধকরণ
  3. ফিলিস্তিনে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অটোয়া চুক্তি:
- এটি স্থলমাইন নিষিদ্ধকরণ বিষয়ক চুক্তি।
- চুক্তিটি Anti-Personnel Landmines Convention নামে পরিচিত।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭ সালে।
- স্বাক্ষরের স্থান: অটোয়া, কানাডা।
- কার্যকর হয়: ১ মার্চ ১৯৯৯ সালে।
- অনুমোদনকারী দেশ: ১৬৫টি। (জুলাই, ২০২৫)
- সব ধরনের স্থলমাইন ব্যবহার, উৎপাদন, মজুদ, নিষিদ্ধকরণ এবং ধ্বংস করা হলো এই চুক্তির উদ্দেশ্য।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ ৭ মে, ১৯৯৮ সালে চুক্তিটি স্বাক্ষর করে এবং ৬ সেপ্টেম্বর, ২০০০ সালে তা অনুমোদন করে।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ ওয়েবসাইট ও হিউম্যান রাইট ওয়াচ ওয়েবসাইট।
.
QUAD-এর বর্তমান সদস্য দেশ কয়টি? (জুলাই, ২০২৫)
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
কোয়াড (QUAD):
- QUAD-এর পূর্ণরূপ: Quadrilateral Security Dialogue.
- কোয়াড হল অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি কূটনৈতিক জোট।
- এটি একটি অনানুষ্ঠানিক কৌশলগত নিরাপত্তা ফোরাম।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ২০০৭ সালে।
- সদস্য দেশ: ৪টি। (জুলাই, ২০২৫)
• যুক্তরাষ্ট্র,
• অস্ট্রেলিয়া,
• ভারত,
• জাপান।
- কোয়াডের প্রাথমিক উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হল উন্মুক্ত, সমৃদ্ধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য কাজ করা।

তথ্যসূত্র - অস্ট্রেলিয়ান সরকারের ওয়েবসাইট।
.
Chemical Weapons Convention (CWC) স্বাক্ষরকারী দেশ কয়টি? (জুলাই, ২০২৫)
  1. ১৯০টি
  2. ১৯১টি
  3. ১৯২টি
  4. ১৯৩টি
ব্যাখ্যা
Chemical Weapons Convention (CWC):
- CWC রাসায়নিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ বিষয়ক চুক্তি।
- CWC এর পূর্ণরূপ Chemical Weapons Convention.
- এটি জাতিসংঘের অনুমোদনক্রমে স্বাক্ষরিত একটি বহুপাক্ষিক চুক্তি।
- চুক্তির বিষয়: রাসায়নিক অস্ত্রের উৎপাদন, মজুদ ও ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
- যে সকল দেশের হাতে রাসায়নিক অস্ত্র রয়েছে তাদেরকে এই অস্ত্র ধ্বংস করার কথাও বলা হয়েছে।
- ১৯৯২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের দপ্তরে নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক সম্মেলন (Conference on Disarmament) অনুষ্ঠিত হয়।
- এই সম্মেলনে রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদন বন্ধের চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করা হয়।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১৩ জানুয়ারি, ১৯৯৩ সালে।
- কার্যকর হয়: ২৯ এপ্রিল, ১৯৯৭ সালে।
- স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৯৩টি। (জুলাই, ২০২৫)
- ইসরায়েল স্বাক্ষর করেছে কিন্তু অনুমোদন করেনি।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ ও OPCW ওয়েবসাইট।
১০.
'NPT' চুক্তির বিষয়বস্তু নিচের কোনটি?
  1. পারমাণবিক অস্ত্র প্রসার রোধ সংক্রান্ত
  2. জীবাণু অস্ত্র সংক্রান্ত
  3. স্থলমাইন নিষিদ্ধকরণ
  4. রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদন নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত
ব্যাখ্যা
'NPT' চুক্তি:
- NPT-এর পূর্ণরূপ: Nuclear Non- Proliferation Treaty.
- এটি হলো পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১ জুলাই, ১৯৬৮।
- কার্যকর হয়: ৫ই মার্চ, ১৯৭০।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ১৯১টি। (জুলাই, ২০২৫)

উল্লেখ্য,
- পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদক মোট রাষ্ট্রের সংখ্যা ৯টি।
- রাষ্ট্রগুলো হলো: চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, পাকিস্তান, ইসরায়েল ও উত্তর কোরিয়া।

এছাড়াও,
- বাংলাদেশ পারমানবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে (NPT) স্বাক্ষর করে: ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৯ সালে।

তথ্যসূত্র - Arms Control Association ওয়েবসাইট & UNODA ওয়েবসাইট।
১১.
'শাত-ইল-আরব' জলপথটি কোথায় অবস্থিত?
  1. অ্যাডেন উপসাগর
  2. ওমান উপসাগর
  3. পারস্য উপসাগর
  4. মান্নার উপসাগর
ব্যাখ্যা
শাত-ইল-আরব:
- 'শাত-ইল-আরব' দক্ষিণ-পূর্ব ইরাকের নদী।
- আল-কুরনাহ শহরে টাইগ্রিস এবং ইউফ্রেটিস নদীর মিলিত প্রবাহ।
- এই জলপথের অবস্থান পারস্য উপসাগরে।
- এর মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে ইরাক ও ইরানের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে।
- ১৯৮০-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত শাত-ইল-আরবকে কেন্দ্র করে ইরান ও ইরাকের মধ্যে যুদ্ধ হলেছিল।
- শাত-ইল আরব জলপথকে কেন্দ্র করে ইরাক ও ইরানের মধ্যে বিরোধ অবসানের উদ্দেশ্যে ১৯৭৫ সালের ১৩ জুন আলজিয়ার্স চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- বর্তমানে এটি ইরানের দখলে রয়েছে।

তথ্যসূত্র - হিস্টরি.কম এবং ব্রিটানিকা।
১২.
Interpol এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা কত? (জুলাই, ২০২৫)
  1. ১৯০টি
  2. ১৯২টি
  3. ১৯৪টি
  4. ১৯৬টি
ব্যাখ্যা
Interpol:
- Interpol হল আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা।
- এর পূর্ণরূপ International Criminal Police Organization.
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯২৩ সাল।
- বর্তমান সদর দপ্তর: লিওঁ, ফ্রান্স।
- ১৯৪৬ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে এবং ১৯৮৯ সালে ফ্রান্সের লিওঁ শহরে সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়।
- বর্তমান সদস্য: ১৯৬টি দেশ। (জুলাই, ২০২৫)
- সর্বশেষ সদস্য দেশ: পালাউ।
- বাংলাদেশ সদস্যপদ লাভ করে: ১৪ অক্টোবর, ১৯৭৬ সাল।
- বর্তমান মহাসচিব: ভালডেসি উরকুইজা। (জুলাই, ২০২৫)
- তিনি ব্রাজিলের নাগরিক।
- ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ৯২তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র - ইন্টারপোল অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১৩.
কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ' নিয়ে বিরোধ রয়েছে-
  1. জাপান ও চীন
  2. রাশিয়া ও জাপান
  3. চীন ও ফিলিপাইন
  4. স্পেন ও মরক্কো
ব্যাখ্যা
কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ:
- রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ ও শাখালিন দ্বীপপুঞ্জ।
- কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- কুরিল দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের উত্তরে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের কাছ থেকে এই দ্বীপগুলো সোভিয়েত ইউনিয়ন দখল করে নেয়।
- প্রশান্ত মহাসাগরের যে চারটি দ্বীপ নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ এটি তার মধ্যে একটি হলো এই কুরিল দ্বীপপুঞ্জ।
- বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জের চারটির মধ্যে দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় দ্বীপ কুনাশির।
- চারটি দ্বীপের সমন্বয়ে এই কুরিল দ্বীপপুঞ্জকে জাপান তাদের নর্দান টেরিটরি হিসাবে অভিহিত করে।
- এমনকি এই বিরোধের কারণে রাশিয়া ও জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবসান ঘোষণা করে হওয়া শান্তিচুক্তিতেও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করে নি।

তথ্যসূত্র - Britannica.com & Worldatlas.com
১৪.
ন্যাটোর অনুচ্ছেদে 'প্রতিরক্ষা সক্ষমতা' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ২
  2. অনুচ্ছেদ ৩
  3. অনুচ্ছেদ ৪
  4. অনুচ্ছেদ ৫
ব্যাখ্যা
⇒ ন্যাটোর অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১: শান্তিপূর্ণ সমাধান,
- অনুচ্ছেদ ২: বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক,
- অনুচ্ছেদ ৩: প্রতিরক্ষা সক্ষমতা,
- অনুচ্ছেদ ৪: পরামর্শ,
- অনুচ্ছেদ ৫: সম্মিলিত প্রতিরক্ষা,
- অনুচ্ছেদ ৬: আক্রমণের সংজ্ঞা,
- অনুচ্ছেদ ৭: জাতিসংঘ সনদের বাধ্যবাধকতা,
- অনুচ্ছেদ ৮: অ-দ্বন্দ্বমূলক সম্পৃক্ততা,
- অনুচ্ছেদ ৯: বাস্তবায়ন পরিষদ,
- অনুচ্ছেদ ১০: অতিরিক্ত পক্ষসমূহ,
- অনুচ্ছেদ ১১: চুক্তি অনুমোদন এবং প্রয়োগ,
- অনুচ্ছেদ ১২: চুক্তি পর্যালোচনা,
- অনুচ্ছেদ ১৩: জোটের সদস্যতা ত্যাগ,
- অনুচ্ছেদ ১৪: চুক্তির অন্যান্য সংস্করণের গ্রহণযোগ্যতা।

তথ্যসূত্র - ন্যাটো অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১৫.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে মৌলগুলো কী অনুসারে সাজানো হয়েছে?
  1. পারমাণবিক ভর
  2. ঘনত্ব
  3. পারমাণবিক সংখ্যা
  4. ধাতব ধর্ম
ব্যাখ্যা
• আধুনিক পর্যায় সারণিতে মৌলগুলো তাদের পারমাণবিক সংখ্যা অনুসারে সাজানো হয়েছে। 

• পর্যায় সারণি:
- আবিষ্কৃত মৌল সমূহকে তাদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলির সামঞ্জস্য রেখে যে সারণিতে পর্যায় ক্রমে স্থান দেয়া হয়েছে তাকে পর্যায় সারণি (Periodic table) বলে।

• আধুনিক পর্যায় সারণিতে (Modern Periodic Table) মৌলগুলোর পারমাণবিক সংখ্যা অর্থাৎ প্রোটন সংখ্যার ক্রম অনুসারে সাজানো হয়েছে।
- ১৯১৩ সালে মোসলে পারমাণবিক ভরের পরিবর্তে পারমাণবিক সংখ্যা অনুসারী মৌলগুলোকে পর্যায় সারণিতে সাজানোর প্রস্তাব দেন।
- এর পূর্বে মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণিতে মৌলগুলো তাদের পারমাণবিক ভর অনুযায়ী সাজানো ছিলো। 

• আধুনিক পর্যায় সারণির বৈশিষ্ট্য:
- পর্যায় সারণির মৌলগুলোকে তাদের পারমাণবিক সংখ্যা (প্রোটন সংখ্যা) অনুসারে সাজানো হয়।
- পর্যায় সারণিতে 18টি গ্রুপ এবং 7টি পর্যায় রয়েছে।
- একটি গ্রুপ হল পর্যায় সারণীর উল্লম্ব কলাম, যা মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসের উপর ভিত্তি করে গঠিত।
- একটি পর্যায় হল পর্যায় সারণীর অনুভূমিক সারি।
- প্রতিটি পর্যায় বামদিকের গ্রুপ ১ থেকে শুরু করে ডানদিকে গ্রুপ ১৮ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মূল পর্যায় সারণির নিচে ল্যান্থানাইড ও অ্যাক্টিনাইড সারির মৌল হিসেবেও দেখানো হলেও এগুলো যথাক্রমে ৬ এবং ৭ পর্যায়ের অংশ।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১৬.
পদার্থের কঠিন অবস্থার ধর্ম নয় কোনটি?
  1. সুনির্দিষ্ট বিন্যাস
  2. আলোক ধর্ম
  3. দৃঢ়তা
  4. আকৃতিবিহীন
ব্যাখ্যা
• "আকৃতিবিহীন" পদার্থের কঠিন অবস্থার ধর্ম নয়, এটি তরল অবস্থার ধর্ম। 

• পদার্থ:
- যার ভর ও আয়তন আছে, একটি নির্দিষ্ট স্থান দখল করে এবং চাপ প্রয়োগে বাধাদান করে তাকে পদার্থ বলা হয়।

• অবস্থার উপর ভিত্তি করে পদার্থকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা:
- কঠিন পদার্থ, তরল পদার্থ ও বায়বীয় পদার্থ। 
এই ৩ টি অবস্থা ছাড়াও পদার্থের আরো ২ টি অবস্থা দেখা যায়।
যথা 
- তরল স্ফটিক অবস্থা ও প্লাজমা অবস্থা। 

• কঠিন অবস্থা (Solid state):
- পদার্থের এ অবস্থায় নির্দিষ্ট ভরের পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতির, নির্দিষ্ট আয়তন ও আকৃতি থাকে। এ অবস্থায় পদার্থের নির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক গঠন বিন্যাসে থাকে।
- এ অবস্থায় উপাদান কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল খুবই প্রবল থাকে এবং উপাদান কণার গতিশক্তি খুবই নগণ্য।
- গতিশক্তি কম হওয়ায় সুনির্দিষ্ট নিয়মে সজ্জিত থাকে। এ কারণে নির্দিষ্ট আকৃতির ও উচ্চ ঘনত্ববিশিষ্ট হয়।
- এ অবস্থায় পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি গতিশক্তির তুলনায় অনেক বেশি থাকে।

• কঠিন অবস্থার ধর্ম:
- সুনির্দিষ্ট বিন্যাস,
- দৃঢ়তা ও আলোক ধর্ম ,
- নির্দিষ্ট আকার, আকৃতি ও আয়তন থাকে।

অন্যদিকে,
প্রবাহ ধর্ম, পৃষ্ঠতলটান, আকৃতি বিহীন ইত্যাদি পদার্থের তরল অবস্থার ধর্ম।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
বিশুদ্ধ নাইট্রিক এসিডের ক্ষেত্রে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. বর্ণহীন তরল পদার্থ
  2. আয়নিত নয়
  3. পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে না
  4. হাইড্রোজেন আয়ন অনুপস্থিত থাকে
ব্যাখ্যা
• বিশুদ্ধ নাইট্রিক এসিড পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে। 

• এসিড:
-  যে সব পদার্থ পানিতে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) তৈরি করে তাদেরকে এসিড বলা হয়। 

• উদাহরণ:
সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড।

• এসিডের সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
-  অ্যাসিড টক স্বাদযুক্ত। 
- নীল লিটমাসকে লাল করে।
- ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- মৃদু এসিড জলীয় দ্রবণে আংশিক বিয়োজিত হলেও তীব্র এসিড জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণরূপে বিয়োজিত হয়। 

• বিশুদ্ধ সালফিউরিক এসিড এবং নাইট্রিক এসিড বর্ণহীন তরল পদার্থ। যৌগ দুটি আণবিক অবস্থায় থাকে।
- এরা আয়নিত নয় বলে অর্থাৎ হাইড্রোজেন আয়ন অনুপস্থিত।
- এই কারণে বিশুদ্ধ সালফিউরিক এসিড এবং নাইট্রিক এসিড এসিডের ধর্ম প্রদর্শন করে না এবং বিদ্যুৎ পরিবহন করে না।
- এই এসিডগুলোকে শুধু পানিতে দ্রবীভূত করলেই হাইড্রোজেন আয়ন উৎপন্ন করে।
- ফলে তখন এরা এসিডের ধর্ম প্রদর্শন করে এবং বিদ্যুৎ পরিবহন করে। 


H2SO4 (l) + পানি → H2SO4(aq)
H2SO4 (aq) → 2H+ (aq) + SO42-(aq)
অনুরূপভাবে,
HNO3 (l) + পানি →  HNO3(aq)
HNO3(aq) →  H+ (aq) + NO3- (aq)

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১৮.
প্রস্বেদনের হার নির্ণয় করা যায় কোনটির মাধ্যমে?
  1. অডোমিটার
  2. পটেনশিওমিটার
  3. গ্যানং পটোমিটার
  4. ক্রেসকোগ্রাফ
ব্যাখ্যা
• গ্যানং পটোমিটারের সাহায্যে প্রস্বেদনের হার নির্ণয় করা যায়। 

• প্রস্বেদন:

- উদ্ভিদের পাতা বা অন্য কোনো অঙ্গ হতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি বাষ্পাকারে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বলা হয়। 

• প্রস্বেদনের প্রকারভেদ:
প্রস্বেদন প্রধানত তিন প্রকার। যথা:  
- পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন। 
- কিউটিকুলার প্রস্বেদন।
- লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।

• প্রস্বেদনের গুরুত্ব:  
→ উদ্ভিদের দেহে পানির পরিবহন:
- প্রস্বেদন প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের মূল দ্বারা শোষিত পানিকে কান্ড এবং পাতার মাধ্যমে উপরে উঠতে সাহায্য করে।  
→ উদ্ভিদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঠান্ডা রাখা:
- অতিরিক্ত পানি বাষ্পীভূত হওয়ার সময় উদ্ভিদ দেহকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।  
→ খনিজ লবণ পরিবহন:
- প্রস্বেদনের ফলে যে টান সৃষ্টি হয়, তা মাটির থেকে শোষিত খনিজ লবণ এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান উদ্ভিদদেহে পরিবহন করতে সাহায্য করে।  
→ উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশ:
- প্রস্বেদন উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করতে সহায়তা করে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১৯.
পরমাণুর অস্থায়ী মূল কণিকা নয় কোনটি?
  1. মেসন
  2. নিউট্রিনো
  3. অ্যান্টি নিউট্রিনো
  4. নিউট্রন
ব্যাখ্যা
• নিউট্রন পরমাণুর অস্থায়ী মূল কণিকা নয় , এটি পরমাণুর স্থায়ী মূল কণিকা। 

• পরমাণু ও পরমাণুর মূল কণিকা:
- পরমাণু কতগুলো অতিসূক্ষ্ম কণিকার সমষ্টি। এ সব অতিসূক্ষ্ম কণিকাকে আর বিভাজন করা যায় না এবং এরা মূল উপাদান হিসেবে সব পরমাণুতেই থাকে। এদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলা হয়।

• পরমাণুর মূল কণিকা তিন ধরনের।
যথা:
- স্থায়ী মূল কণিকা,
- অস্থায়ী মূল কণিকা,
- কম্পোজিট কণিকা।

•  স্থায়ী মূল কণিকা:
- যে সব মূল কণিকা স্থায়ীভাবে সকল মৌলের পরমাণুতেই উপস্থিত থাকে তাদেরকে স্থায়ী মূল কণিকা বলে।
- উদাহরণ- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।
- শুধুমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণুতে ১ টি ইলেকট্রন ও ১ টি প্রোটন আছে।  এতে কোন নিউট্রন নেই।

• অস্থায়ী মূল কণিকা:
- যে সকল কণিকা কোনো কোনো মৌলের পরমাণুতে ক্ষণস্থায়ীভাবে অবস্থান করে তাকে অস্থায়ী মূল কণিকা(Temporary Core Particle) বলা হয়। 
- উদাহরণ- নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন ইত্যাদি। 

• কম্পোজিট কণিকা (Composite particles):
- স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে, যাদেরকে কম্পোজিট কণিকা বলা হয়।
- উদাহরণ- আলফা কণিকা, ডিউটেরন কণিকা। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
কোন বিক্রিয়ায় জারণ-বিজারণ ঘটে না?
  1. দহন বিক্রিয়া
  2. সংযোজন বিক্রিয়া
  3. প্রশমন বিক্রিয়া
  4. বিয়োজন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• প্রশমন বিক্রিয়ায় জারণ-বিজারণ ঘটে না। 

• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া:
- রেডক্স অর্থ জারণ-বিজারণ। যে বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে তাকে রেডক্স বিক্রিয়া বলে।   

- Reduction (বিজারণ) শব্দের প্রথমাংশ Red এবং Oxidation (জারণ) শব্দের প্রথমাংশ Ox এর সমন্বয়ে গঠিত শব্দ হলো Redox. 

• রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া:  
- জারণ এবং বিজারণ উভয় প্রক্রিয়া একই সাথে ঘটে।
- একটি পদার্থ ইলেকট্রন ত্যাগ করার সাথে সাথেই অন্য একটি পদার্থ সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে।
- এই কারণে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়াগুলিকে একত্রে রেডক্স বিক্রিয়া বলা হয়।
- জারণ-বিজারণ একটি যুগপৎ বিক্রিয়া। 

• কিছু বিক্রিয়াতে জারণ বিজারণ বিক্রিয়া ঘটে থাকে।
→ উদাহরণ-
- সংযোজন বিক্রিয়া, 
- বিয়োজন বিক্রিয়া, 
- প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া,
- দহন বিক্রিয়া। 

• নন-রেডক্স বিক্রিয়া:
- এ ধরণের বিক্রিয়ায় জারণ-বিজারণ তথা ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে না।

→ উদাহরণ-
- প্রশমন বিক্রিয়া,
- অধ:ক্ষেপণ বিক্রিয়া ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২১.
ব্যাপনের হার কোনটির উপর নির্ভর করে না?
  1. তাপমাত্রা
  2. মাধ্যমের ঘনত্ব
  3. অর্ধভেদ্য পর্দা
  4. অণুর ভর
ব্যাখ্যা
• ব্যাপনের হার অর্ধভেদ্য পর্দার উপর নির্ভর করে না। 

• ব্যাপন:
- যে প্রক্রিয়ায় একই তাপমাত্রা ও চাপে কোনো গ্যাসীয় বা তরল পদার্থ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অন্য কোনো গ্যাসীয় বা তরল মাধ্যমের উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে তাকে ব্যাপন বলে। 

• ব্যাপনের গুরুত্ব:
-  সালোকসংশ্লেষণে CO2 গ্রহণ ও O2 ত্যাগ ব্যাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
-  শ্বসনে গ্লুকোজ জারণে O2 ব্যবহৃত হয় যা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কোষে প্রবেশ করে। CO2-এ প্রক্রিয়ায় কোষ থেকে বের হয়ে যায়।
- উদ্ভিদ দেহে শোষিত পানি দেহ থেকে প্রস্বেদনের মাধ্যমে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বের করে দেয়।
- প্রাণী দেহে শ্বসন ও রক্ত থেকে পুষ্টি উপাদান, O2 প্রভৃতি লসিকায় বহন ও লসিকা থেকে কোষে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে।

• ব্যাপনের হার অনুর ভর, মাধ্যমের ঘনত্ব ও তাপমাত্রা প্রভৃতির উপর নির্ভর করে।

অন্যদিকে,
• অর্ধভেদ্য পর্দা:
- যে পর্দা দিয়ে কেবল দ্রবণের দ্রাবক অণু আচলাচল করতে পারে কিন্তু দ্রব অণু চলাচল করতে পারে না তাকে অর্ধভেদ্য পর্দা বলা হয়। 
- অর্ধভেদ্য পর্দা অভিস্রবন নিয়ন্ত্রণ করে। ব্যাপনের হার এটির উপর নির্ভর করে না।

তথ্যসূত্র:
- বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, NCTB।
২২.
ড্রাই সেলে ক্যাথোড হিসেবে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. লৌহ দণ্ড
  2. জিংক দণ্ড
  3. কার্বন দণ্ড
  4. অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
• ড্রাই সেলে ক্যাথোড হিসেবে কার্বনের দণ্ড ব্যবহার করা হয়।

• ড্রাই সেল:

- ড্রাই সেল বা শুষ্ক কোষ হলো এক ধরনের গ্যালভানিক কোষ। 

• ড্রাই সেলের মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। 
- সাধারণত টর্চলাইট জ্বালাতে, রেডিও বাজাতে, টিভির রিমোট চালাতে, খেলনা চালাতে ড্রাই সেল ব্যবহার করা হয়।
 
• ড্রাই সেলের গঠন:
- ড্রাই সেল অ্যানোড এবং ক্যাথোড দ্বারা গঠিত।
- ড্রাই সেলে অ্যানোড হিসেবে সাধারণত ধাতব জিংকের তৈরি ছোট কৌটা ব্যবহার করা হয়।
- ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড (MnO2) অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড NH4Cl জিংক ক্লোরাইড (ZnCl2) ও পাতিত পানি মিশ্রিত করে প্রস্তুতকৃত কাই (paste) দ্বারা জিংকের তৈরি ছোট কৌটা পূর্ণ করা হয়।
- এরপর জিংকের কৌটাটির মাঝখানে একটি কার্বন (গ্রাফাইট) দণ্ড প্রবেশ করানো হয়।
- ড্রাই সেলে কার্বন দণ্ড ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে।
- ড্রাই সেলের অ্যানোড ও ক্যাথোড প্রান্তকে যদি বাল্ব বা কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্রের দুই প্রান্তে যুক্ত করা হয় তখন ইলেকট্রনের প্রবাহ সৃষ্টি হয় অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।

• ড্রাই সেলে অ্যানোড হিসেবে জিঙ্ক এবং ক্যাথোড হিসেবে কার্বন দণ্ড ব্যবহৃত হয়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২৩.
ধাতুর ক্ষয়রোধের পদ্ধতি নয় কোনটি?
  1. ইলেকট্রোপ্লেটিং
  2. পানিতে ধৌতকরণ
  3. রং করা
  4. গ্যালভানাইজিং
ব্যাখ্যা
• পানিতে ধৌতকরণ ধাতুর ক্ষয়রোধের কোনো পদ্ধতি নয়। 

• ধাতুর ক্ষয়:

- ধাতু যখন বাতাসের অক্সিজেন, আর্দ্রতা বা অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, তখন তাকে ধাতুর ক্ষয় বলা হয়।

• এটি একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যেখানে ধাতু বাতাসের অক্সিজেন, জলীয় বাষ্প, বা অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে এসে অক্সিডাইজড (জারিত) হয় এবং ক্ষয়ে যায়। 
- এটিকে মরিচা পড়া বা ক্ষয়ে যাওয়া বলা হয়। 

• ধাতুর ক্ষয় বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন:  
→ রাসায়নিক বিক্রিয়া:
- যখন ধাতু বাতাসের অক্সিজেন বা অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসে, তখন তাদের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, যা ধাতুর ক্ষয় ঘটায়।
→ বায়ু দূষণ:
- বায়ু দূষণের কারণে অ্যাসিড বৃষ্টি বা অন্যান্য ক্ষতিকারক পদার্থ ধাতুর সংস্পর্শে এলে, তা দ্রুত ক্ষয়ে যেতে পারে।

• ধাতু ক্ষয়রোধের উপায়:
(i) রং করা,
(ii) ইলেকট্রোপ্লেটিং,
(iii) গ্যালভানাইজিং করে ইত্যাদি।

• ধাতু বা সংকর ধাতু যদি বাতাসের অক্সিজেন এবং পানির সংস্পর্শে না আসে তবে ধাতু ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না।
 • কম সক্রিয় ধাতু সাধারণত বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে না। কিন্তু বেশি সক্রিয় ধাতু বাতাসের অক্সিজেন এবং পানির সাথে দ্রুত বিক্রিয়া করে।
- অতএব, বেশি সক্রিয় ধাতুর ক্ষয় হওয়া থেকে ধাতুকে রক্ষা করার জন্য বেশি সক্রিয় ধাতুর উপর কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়।
- এভাবে বেশি সক্রিয় ধাতুকে ক্ষয় হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়।
- একটি অধিক সক্রিয় ধাতুর উপর কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দুইভাবে দেওয়া যায়। যথা-ইলেকট্রোপ্লেটিং ও গ্যালভানাইজিং।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২৪.
উচ্চতর জৈব এসিডের সোডিয়াম লবণকে কী বলা হয়?
  1. কাপড় কাঁচার সোডা
  2. সাবান
  3. টেস্টিং সল্ট
  4. সৈন্ধব লবণ
ব্যাখ্যা
• উচ্চতর জৈব এসিডের সোডিয়াম লবণকে বলা হয় সাবান। 

• সাবান:
- উচ্চতর তৈল এসিডের (যেমন: স্টিয়ারিক এসিড, পামিটিক এসিড) সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণকে সাবান বলা হয়। 

• সাবানের ব্যবহার:
- সাবান সাধারণত কঠিন পদার্থ, তবে পানিতে দ্রবীভূত হতে পারে এবং জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় প্রকৃতির হয়।  
- সাবান পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি ময়লা এবং গ্রিজ অপসারণে সহায়ক।

• এটি এক ধরনের জৈব অ্যাসিডের লবণ। সাবান তৈরির জন্য চর্বি বা তেলকে ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করানো হয়, যা Saponification নামে পরিচিত।
- এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফ্যাটি অ্যাসিড এবং গ্লিসারিন তৈরি হয় এবং ফ্যাটি অ্যাসিড ক্ষারের সাথে মিশে সাবান তৈরি করে।  

• বিক্রিয়াটি হলো:
 স্টিয়ারিক এসিড (C17H35COOH) + NaOH → C17H35COONa (সোডিয়াম স্টিয়ারেট) + H2O

- এখানে সোডিয়াম স্টিয়ারেট হলো সাবানের রাসায়নিক নাম।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২৫.
শুকনা চুনে পানি ঢাললে কোনটি ঘটে?
  1. তাপের শোষণ ঘটে
  2. মিশ্রণের তাপমাত্রা হ্রাস পায়
  3. মিশ্রণের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়
  4. বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তি উৎপাদের অভ্যন্তরীণ শক্তি থেকে কম হয়
ব্যাখ্যা
• শুকনা চুনে পানি ঢাললে মিশ্রণের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। 

• রাসায়নিক বিক্রিয়া:

- রাসায়নিক বিক্রিয়া হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে এক বা একাধিক পদার্থ একত্রিত হয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী নতুন পদার্থে রূপান্তরিত হয়।

• তাপের পরিবর্তনের ভিত্তিতে বিক্রিয়াকে দুইভাগে ভাগ করা হয়।
যথা-
- তাপোৎপাদী বিক্রিয়া।
- তাপহারী বিক্রিয়া। 

• তাপোৎপাদী বিক্রিয়া:
- যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে তাপ উৎপন্ন হয়, তাকে তাপোৎপাদী বিক্রিয়া বলা হয়। 

• শুকনা চুন (ক্যালসিয়াম অক্সাইড, CaO) পানির সাথে বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Ca(OH)2] তৈরি করে।
- এই বিক্রিয়াটি অত্যন্ত তাপ উৎপাদী (Exothermic) অর্থাৎ তাপ নির্গত হয়। 
- এই বিক্রিয়ায় 63.95 kJ/mol তাপ উৎপন্ন হয়।
- এর ফলে শুকনা চুনে পানি ঢাললে মিশ্রণের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তি উৎপাদের অভ্যন্তরীণ শক্তি থেকে বেশি হয়। 

• বিক্রিয়াটি হলো - CaO + H2O → Ca(OH)2 ​+ 63.95 kJ/mol

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২৬.
সম্পৃক্ত দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে কোনটি ঘটে?
  1. দ্রবণের ঘনমাত্রা কমে
  2. দ্রবণের ঘনমাত্রা বৃদ্ধি পায়
  3. দ্রাবকের শতকরা পরিমাণ শূন্য হয়
  4. দ্রবণের ঘনমাত্রার কোন পরিবর্তন ঘটে না
ব্যাখ্যা
সম্পৃক্ত দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলেও দ্রবণের ঘনমাত্রার কোন পরিবর্তন ঘটে না। 

• দ্রবণ:
- দ্রবণ হলো একটি সমসত্ত্ব মিশ্রণ, যেখানে দুটি বা ততোধিক পদার্থ সমানভাবে একে অপরের সাথে মিশ্রিত থাকে।

• দ্রবণের শ্রেণিবিভাগ (Classification of Solution):
ঘনমাত্রা অনুযায়ী দ্রবণকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন-
i. সম্পৃক্ত দ্রবণ (Saturated Solution)।
ii. অসম্পৃক্ত দ্রবণ (Unsaturated Solution)। 
iii. অতিপৃক্ত দ্রবণ (Super-saturated Solution)। 

• সম্পৃক্ত দ্রবণ (Saturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক দ্রব দ্রবীভূত হয়ে যে দ্রবণ উৎপন্ন করে তাকে ঐ নির্দিষ্ট তাপমাত্রার সম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়।

• সম্পৃক্ত দ্রবণের বৈশিষ্ট্য:  
- একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপে, দ্রাবকে দ্রবীভূত দ্রবের সর্বোচ্চ পরিমাণ বিদ্যমান থাকে।
- অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলেও দ্রবণের ঘনমাত্রার কোনো পরিবর্তন ঘটে না। 
- অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে তা অদ্রবীভূত অবস্থায় থেকে যায় । 
- যদি তাপমাত্রা পরিবর্তন করা হয়, তবে দ্রাবকের দ্রবণ ক্ষমতা পরিবর্তন হতে পারে এবং দ্রবণটি সম্পৃক্ত নাও থাকতে পারে।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.
জৈব যৌগের মূল উপাদান কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. কার্বন
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা
• কার্বনের ক্যাটেনেশন ধর্মের কারণে এটি জৈব যৌগের প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়।

• জৈব যৌগ:
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।

• উদাহরণ:  মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি।

• জৈব যৌগের বৈশিষ্ট্য:
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, সালফার প্রভৃতি মৌল যুক্ত থাকে।
- কার্বন জৈব যৌগের প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয় কারণ কার্বন ক্যাটেনেশন ধর্ম সম্পন্ন মৌল। 
- প্রধানত সমযোজী বন্ধন দ্বারা গঠিত হয়।
- নিম্ন গলনাঙ্ক ও নিম্ন স্ফুটনাঙ্ক বিশিষ্ট হয়।
- জৈব যৌগ পোলার দ্রাবক যেমন পানিতে অদ্রবণীয়, কিন্তু জৈব দ্রাবক যেমন, ইথার ও বেনজিনে দ্রবণীয়। তবে হাইড্রক্সিল মূলক যুক্ত যৌগ (চিনি, অ্যালকোহল) পানিতে দ্রবণীয়।
- জৈব যৌগের দহনের পর কোন অবশেষ থাকে না।
- জৈব যৌগ গলিত অবস্থায় বা দ্রবণে আয়নিত হয় না বলে তড়িৎ বিশ্লেষ্য নয়। অর্থাৎ বিশুদ্ধ জৈব যৌগ তড়িৎ অপরিবাহী।
- জৈব বিক্রিয়ার কৌশল জটিল ও মন্থর প্রকৃতির হয়। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮.
অভিস্রবনে কোনটির স্থানান্তর ঘটে?
  1. দ্রবণ
  2. দ্রাবক
  3. দ্রব
  4. প্রথমে দ্রব ও এরপর দ্রাবক
ব্যাখ্যা
• অভিস্রবনে দ্রবণের দ্রাবক অণুর স্থানান্তর ঘটে। 

• অভিস্রবণ:

- অভিস্রবণ (Osmosis) হল একটি ভৌত প্রক্রিয়া, যেখানে একটি অর্ধভেদ্য পর্দা (semi-permeable membrane) দিয়ে ঘেরা দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ এর মধ্যে দ্রাবক (যেমন: পানি) কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে বেশি ঘনত্বের দ্রবণের দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে (spontaneously) চলাচল করে। 

• অভিস্রবণের বৈশিষ্ট্য:
→ অর্ধভেদ্য পর্দা:
- অভিস্রবণ প্রক্রিয়ার জন্য একটি অর্ধভেদ্য পর্দা অপরিহার্য। এই পর্দা শুধুমাত্র দ্রাবক অণুগুলোকে (যেমন: পানি) চলাচল করতে দেয়, কিন্তু দ্রবীভূত পদার্থ (যেমন: লবণ) চলাচল করতে দেয় না।
→ ঘনত্বের পার্থক্য:
- দ্রবণ দুটির মধ্যে দ্রাবকের ঘনত্বের পার্থক্য থাকতে হবে। অভিস্রবণ প্রক্রিয়া এই পার্থক্যের কারণে ঘটে।
- যতক্ষণ পর্যন্ত উভয় দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত এই চলাচল  চলতে থাকে।
→ স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া:
- অভিস্রবণ একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া, অর্থাৎ এখানে কোনো বাহ্যিক শক্তির প্রয়োজন হয় না।
→ ব্যাপনের একটি প্রকার:
- অভিস্রবণ মূলত ব্যাপন প্রক্রিয়ার একটি বিশেষ রূপ, যেখানে দ্রাবক অণুগুলি চলাচল করে।  
→ অভিস্রবণের গুরুত্ব:  
- উদ্ভিদের শিকড় দিয়ে পানি শোষণ, কোষের অভ্যন্তরে পানি চলাচল, এবং বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় অভিস্রবণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

তথ্যসূত্র:
- বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, NCTB।
২৯.
প্লাস্টিক কোন ধরনের পলিমার?
  1. প্রাকৃতিক
  2. সংশ্লেষিত
  3. জৈব
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্লাস্টিক হলো সংশ্লেষিত বা কৃত্রিম পলিমার। 

• প্লাস্টিক:
- যে সব পলিমারকে তাপদিলে নমনীয় হয় এবং চাপ দিয়ে বিভিন্ন আকৃতি প্রদান করা যায় সে সব পদার্থকে প্লাস্টিক বলে।
- প্লাস্টিক (plastic) হলো পলিমারের একটি বিশেষ রূপ। 
- কোন প্লাস্টিক পদার্থের প্রক্রিয়াজাত করার গুণাবলি যেমন নমনীয়তা ও আকৃতি প্রদান ইত্যাদি গুণাবলি কে প্লাস্টিসিটি বলে।

• সংশ্লেষিত পলিমার:
- সংশ্লেষিত পলিমার হল পরীক্ষাগারে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হওয়া পলিমার।
- এগুলি প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় না, বরং কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়। 
- প্লাস্টিক হলো সংশ্লেষিত পলিমার (Synthetic Polymer), যা পেট্রোলিয়ামজাত পদার্থ (যেমন: ইথিলিন, প্রোপিলিন) থেকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়।

• প্লাস্টিকের উদাহরণ:
- পলিথিন।
- পলিস্টাইরিন।
- PVC.

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০.
নিচের কোনটি জৈব অম্ল?
  1. HCl
  2. H2SO4
  3. CH3COOH
  4. HNO3
ব্যাখ্যা
• অ্যাসিটিক অ্যাসিড(CH3COOH) হলো অন্যতম একটি জৈব অম্ল। 

• জৈব এসিড:

- যে জৈব যৌগে কার্বক্সিল গ্রুপ (-COOH) বিদ্যমান থাকে তাকে জৈব এসিড (অম্ল) বা ফ্যাটি এসিড বলে। 

• বৈশিষ্ট্য:
- জলীয় দ্রবণে H+ আয়ন দান করে, যা তাদের অম্লীয় করে তোলে।
- সাধারণত অজৈব অ্যাসিডের তুলনায় দুর্বল প্রকৃতির হয়।
- জৈব এসিড টক স্বাদ সম্পন্ন হয়। 
- পানি ও জৈব দ্রাবকে দ্রবণীয়।

• উদাহরণ: সাইট্রিক অ্যাসিড, অক্সালিক অ্যাসিড, অ্যাসকরবিক অ্যাসিড, অ্যাসিটিক অ্যাসিড(CH3COOH) ইত্যাদি। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১.
জিঙ্ক সালফেটকে কী বলা হয়?
  1. ব্লু ভিট্রিওল
  2. হোয়াইট ভিট্রিওল
  3. চাইনিজ হোয়াইট
  4. গ্রিন ভিট্রিওল
ব্যাখ্যা
• জিঙ্ক সালফেটকে বলা হয় হোয়াইট ভিট্রিওল।

• হোয়াইট ভিট্রিওল:
- জিঙ্ক সালফেট একটি অজৈব লবণ, যা হোয়াইট ভিট্রিওল নামে পরিচিত। এর রাসায়নিক সংকেত ZnSO4·7H2O।

• "ভিট্রিওল" শব্দটি ল্যাটিন vitriolum (কাচের মতো) থেকে এসেছে, কারণ এই লবণগুলি কাচের মতো স্বচ্ছ স্ফটিক গঠন করে।

অন্যদিকে,
• ব্লু ভিট্রিওল (কপার সালফেট):  

- আর্দ্র কপার সালফেটকে বলা হয় ব্লু ভিট্রিওল। 
- এর রাসায়নিক সংকেত CuSO4·5H2O
- এটি সাধারণত ছত্রাকনাশক, কীটনাশক এবং ইলেক্ট্রোপ্লেটিং-এ ব্যবহৃত হয়।

• গ্রিন ভিট্রিওল :  
- আর্দ্র ফেরাস সালফেটকে বলা হয় গ্রিন ভিট্রিওল। এর রাসায়নিক সংকেত FeSO4·7H2O।
- এটি একটি সবুজ রঙের স্ফটিক।
- এটি আয়রনের ঘাটতিজনিত রোগ এবং কিছু শিল্প প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।

• চাইনিজ হোয়াইট:
- জিঙ্ক অক্সাইড ZnO কে চাইনিজ হোয়াইট বলা হয়। 

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
৩২.
পর্যায় সারণিতে বাম থেকে ডানে গেলে পরমাণুর আকারে কী পরিবর্তন হয়?
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. প্রথমে বৃদ্ধি পায় পরে হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
• পর্যায় সারণিতে বাম থেকে ডানে গেলে পরমাণুর আকার হ্রাস পায়। 

• পর্যায় সারণি:

- যে সারণির মাধ্যমে মৌলিক পদার্থগুলোকে তাদের পারমাণবিক সংখ্যা (atomic number) এবং ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের ভিত্তিতে কতকগুলো ছকে সাজানো হয় তাকে পর্যায় সারণি বলা হয়। 

• পর্যায় সারণিতে ৭ টি পর্যায় ও ১৮ টি গ্রুপ রয়েছে। 
- পর্যায় সারণিতে একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে মৌলের ইলেকট্রন সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বহিঃস্থ স্তর সংখ্যা একই থাকে।
- এর ফলে যেসব পরিবর্তন হয় তা নিম্নরূপ:
→ পারমাণবিক ব্যাসার্ধ:
- পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে নিউক্লিয়াসের চার্জ বাড়ে, যা ইলেকট্রন ঘনত্বকে নিউক্লিয়াসের দিকে আকর্ষণ করে এবং এর ফলে পারমাণবিক ব্যাসার্ধ হ্রাস পায়।  
- ফলে পরমাণুর আকার হ্রাস পায়। 
→ ধাতব ধর্ম:
- একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে ধাতব ধর্ম হ্রাস পায়, কারণ পরমাণুগুলোর ইলেকট্রন ত্যাগ করার প্রবণতা হ্রাস পায়।  
→ অধাতব ধর্ম:
- অধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায়, কারণ পরমাণুগুলোর ইলেকট্রন গ্রহণ করার প্রবণতা বৃদ্ধি করে।  
→ তড়িৎ ঋণাত্মকতা:
- তড়িৎ ঋণাত্মকতা বৃদ্ধি পায়, কারণ পরমাণুগুলোর ইলেকট্রনকে নিজের দিকে আকর্ষণ করার প্রবণতা বাড়ে।  
→ ইলেকট্রন আসক্তি:
- ইলেকট্রন আসক্তি বাড়ে, কারণ পরমাণুগুলো সহজে একটি অতিরিক্ত ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারে। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।