পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
বাংলাবিদ ব্যাকরণ: পরীক্ষা – ১০ টপিক: উপসর্গ ও ধাতু [লাইভ ক্লাস - ১৮ ও ১৯]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
নিচের কোন শব্দটি উপসর্গযোগে গঠিত হয়নি?
  1. আঘাটা
  2. আষাঢ়
  3. আকাল
  4. আকাঠা
ব্যাখ্যা
• আষাঢ় শব্দটি উপসর্গযোগে গঠিত হয়নি।
• আষাঢ় (আষাঢ়া +অ) প্রত্যয়সাধিত শব্দ।

অন্যদিকে,
- আঘাটা, আকাল, আকাঠা শব্দগুলো 'আ' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ।

উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- উপসর্গের কাজ নতুন শব্দ তৈরি করা।
- উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবােধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 
- এজন্য বলা হয় "উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে"।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
.
নিচের কোন শব্দটি গঠনে খাঁটি বাংলা উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আবছায়া
  2. পরামর্শ
  3. অপমান
  4. দুর্ভাগ্য
ব্যাখ্যা
• আবছায়া শব্দটি গঠনে খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'আব' ব্যবহৃত হয়েছে।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- বাংলা ভাষায় খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যেমন:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
পরামর্শ, অপমান ও দুর্ভাগ্য যথাক্রমে সংস্কৃত পরা, অপ ও দুর উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরাঅপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন শব্দে 'উপ' উপসর্গটি ক্ষুদ্রার্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উপদ্বীপ
  2. উপবন
  3. উপভোগ
  4. উপনেতা
ব্যাখ্যা
• উপনেতা শব্দটিতে ক্ষুদ্রার্থে 'উপ' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।

অন্যদিকে, 
- 'উপদ্বীপ' ও 'উপবন' শব্দে সাদৃশ্য অর্থে 'উপ' উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'উপভোগ' শব্দে বিশেষ অর্থে 'উপ' উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে।

• 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- সামীপ্য অর্থে - উপকূল, উপকণ্ঠ।
- সদৃশ অর্থে -  উপদ্বীপ, উপবন। 
- ক্ষুদ্র অর্থে - উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
- বিশেষ অর্থে - উপনয়ন (পৈতা), উপভোগ। 

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
বিদেশি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. বনাম
  2. অনাচার
  3. পাতিহাঁস
  4. বিফল
ব্যাখ্যা
• 'বনাম' বিদেশি উপসর্গ 'ব' যোগে গঠিত শব্দ।
• এখানে 'ব' ফারসি উপসর্গ।

• বিদেশি উপসর্গ:
- কতগুলো বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে।
- দীর্ঘকাল ব্যবহারে এগুলো বাংলা ভাষায় 'বেমালুম' মিশে গিয়েছে।
- 'বেমালুম' শব্দটিতে 'মালুম' আরবি শব্দ আর 'বে' ফারসি উপসর্গ।

- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, , কম।
- উর্দু/হিন্দি উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

অন্যদিকে,
- 'অনাচার' খাঁটি বাংলা উপসর্গ  'অনা' যোগে গঠিত।
- 'পাতিহাঁস' সংস্কৃত উপসর্গ 'পাতি' যোগে গঠিত।
- 'বিফল' সংস্কৃত উপসর্গ 'বি' যোগে গঠিত।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
'নির্বাসন' শব্দটি কোন ধরনের উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ?
  1. বাংলা উপসর্গ
  2. সংস্কৃত উপসর্গ
  3. ফারসি উপসর্গ
  4. আরবি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
- 'নির্বাসন' শব্দটি সংস্কৃত উপসর্গ 'নির' যোগে গঠিত শব্দ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• 'নির' উপসর্গের ব্যবহার:
- অভাব অর্থে - নিরব, নির্জীব, নিরহঙ্কার, নিরাশ্রয়, নির্ধন 
- নিশ্চয় অর্থে - নির্ধারণ, নির্ণয়, নির্ভর।
- বাহির/বহির্মুখিতা অর্থে - নির্গত, নিঃসরণ, নির্বাসন।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

.
'অপবাদ' শব্দে 'অপ' উপসর্গটি কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিপরীত
  2. নিকৃষ্ট
  3. স্থানান্তর
  4. বিকৃত
ব্যাখ্যা
• 'অপবাদ' শব্দে 'অপ' উপসর্গটি বিপরীত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'অপ' একটি সংস্কৃত উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

'অপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- বিপরীত অর্থে - অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ ।
- নিকৃষ্ট অর্থে - অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে - অপসারণ, অপহরণ, অপনোদন ।
- বিকৃত অর্থে - অপমৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
কোনটি আরবি উপসর্গ ?
  1. কম
  2. লা
  3. দর
  4. বে
ব্যাখ্যা
• 'লা'  আরবি উপসর্গ।

• আরবি উপসর্গ:
- আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।

অন্যদিকে,
-'কম', দর ও 'বে' ফারসি উপসর্গ।

• ফারসি উপসর্গ:
- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
কোনটি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ?
  1. হরতাল
  2. ঢাকাই
  3. বিকাশ
  4. হরহামেশা
ব্যাখ্যা
• 'হরহামেশা' শব্দটি  হিন্দি উপসর্গ 'হর' যোগে গঠিত।

• উর্দু-হিন্দি উপসর্গ:
- হর: প্রত্যেক অর্থে হররোজ, হরমাহিনা, হরকিসিম, হরহামেশা।

অন্যদিকে,
- বিকাশ, ঢাকাই, হরতাল উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ নয়।
- হরতাল - গুজরাটি শব্দ।
- ঢাকাই প্রত্যয়সাধিত শব্দ।
- বিকাশ প্রত্যয়সাধিত শব্দ।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
কোনটি বাংলা ধাতু?
  1. কৃ
  2. গম্
  3. নাচ্
  4. ধূ
ব্যাখ্যা
• নাচ্ বাংলা ধাতুর উদাহরণ।

• মৌলিক ধাতু

- যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু।
- এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্, পড়, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।

বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:
(ক) বাংলা, (খ) সংস্কৃত এবং (গ) বিদেশি ধাতু।

ক. বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।
যেমন - কাট্, কাঁদ, জানু, নাচ্ ইত্যাদি।

খ. সংস্কৃত ধাতু:
- বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন: কৃ, গম্, ধূ, গঠ, স্থা ইত্যাদি।

গ. বিদেশাগত ধাতু:
- প্রধানত হিন্দি এবং ক্বচিৎ আরবি-ফারসি ভাষা থেকে যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সেগুলোকে বিদেশাগত ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলা হয়।
- যেমন: ভিক্ষে মেগে খায়। এ বাক্যে 'মাগ্‌' ধাতু হিন্দি 'মাঙ্‌' থেকে আগত।
- এছাড়াও কতগুলো ক্রিয়ামূল রয়েছে যাদের ক্রিয়ামূলের মূল ভাষা নির্ণয় করা কঠিন।
- এ ধরনের ক্রিয়ামূলকে বলা হয় অজ্ঞাতমূল ধাতু।
- যেমন 'হের ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে?'এ বাক্যে 'হের' ধাতুটি কোন ভাষা থেকে আগত তা জানা যায় না।
- তাই এটি অজ্ঞাতমূল ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ।
১০.
'খাদ্য' শব্দটি কোন শ্রেণির ধাতু হতে গঠিত?
  1. সংস্কৃত
  2. দেশি
  3. বিদেশি
  4. খাঁটি বাংলা
ব্যাখ্যা
• 'খাদ্য' শব্দটি সংস্কৃত ধাতু হতে গঠিত।
• খাদ্‌ + অ =খাদ্য এখানে 'খাদ্‌' সংস্কৃত ধাতু।

• সংস্কৃত ধাতু:
- বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন: কৃ, গম্, ধূ, গঠ, স্থা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১.
যে ধাতু বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে কী বলে?
  1. সাধিত ধাতু
  2. মৌলিক ধাতু
  3. যৌগিক ধাতু
  4. সংযোগমূলক ধাতু
ব্যাখ্যা
• যে ধাতু বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে মৌলিক ধাতু বলে।

• মৌলিক ধাতু:
- যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু।
- এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্, পড়, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সাধিত ধাতু:
- মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম শব্দের সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে।
যেমন:
- বল + আ = বলা,
- দেখ + আ = দেখা,
- পড় + আ = পড়া,
- হাট্‌ + আ  = হাটা।

• যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাতক অব্যয়ের সাথে কর্‌, দে, পা, খা, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু সংযুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয়, তাই যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু।
যেমন:
- যোগ (বিশেষ্য) + কর্‌ (ধাতু) = 'যোগ কর' (সংযোগমূলোক ধাতু)।
- সাবধান (বিশেষ্য) +হ (ধাতু) = সাবধান হ (সংযোগমূলক ধাতু)।
- বাক্য- এখনও সাবধান হও, নতুবা আখেরে খারাপ হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১২.
কোনটি সংস্কৃত ধাতুজাত শব্দ?
  1. বুঝা
  2. খাদক
  3. হাসি
  4. রাখা
ব্যাখ্যা
• 'খাদক' সংস্কৃত ধাতুজাত শব্দ।
- খাদক = খাদ্‌ + অক 'খাদ্‌' শব্দটি সংস্কৃত ধাতু।

• সংস্কৃত ধাতু:
- বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন: কৃ, গম্, ধূ, গঠ, খাদ্‌, স্থা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- বুঝা = বুঝ্‌ + আ,
- করা = কর্‌ + আ, 
- রাখা = রাখ্‌ + আ।
- বাংলা ধাতুযোগে গঠিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৩.
'গমন' শব্দের মূল ধাতু কোনটি?
  1. গতি
  2. গম্‌
  3. গৃ
  4. গম্য
ব্যাখ্যা
• 'গমন' শব্দের মূল ধাতু 'গম্‌'।
- গম্‌ সংস্কৃত মৌলিক ধাতু।

• ধাতু বা ক্রিয়ামূল: 

- ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
- ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওয়া যায় :
- ধাতু বা ক্রিয়ামূল এবং ক্রিয়া বিভক্তি।
- ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়া বিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তাই ধাতু।
যেমন-
'চলে'- একটি  ক্রিয়াপদ। এতে দুটি অংশ রয়েছে: '√চল্‌ + এ'; এখানে 'চল্‌' ধাতু এবং 'এ' হচ্ছে বিভক্তি।
- ক্রিয়ার মূল বা ধাতু বােঝাতে (√) চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।

• ধাতুর প্রকারভেদ:
- ধাতু তিন প্রকারের:
(১) মৌলিক ধাতু,
(২) সাধিত ধাতু এবং
(৩) যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু।

• মৌলিক ধাতু:
- যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু।
- এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্, পড়, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।

• সাধিত ধাতু:
- মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম শব্দের সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে।
যেমন:
- বল + আ = বলা,
- দেখ + আ = দেখা,
- পড় + আ = পড়া,
- হাট্‌ + আ  = হাটা।

• যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাতক অব্যয়ের সাথে কর্‌, দে, পা, খা, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু সংযুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয়, তাই যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু।
যেমন:
- যোগ (বিশেষ্য) + কর্‌ (ধাতু) = 'যোগ কর' (সংযোগমূলোক ধাতু)।
- সাবধান (বিশেষ্য) +হ (ধাতু) = সাবধান হ (সংযোগমূলক ধাতু)।
- বাক্য- এখনও সাবধান হও, নতুবা আখেরে খারাপ হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ।

১৪.
'লোকটি ভিক্ষা মেগে খায়' এ বাক্যে 'মাগ' ধাতুটি কোন ভাষার?
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. হিন্দি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
- লোকটি ভিক্ষা মেগে খায়' এ বাক্যে 'মাগ' ধাতুটি হিন্দি ভাষার।

• বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:
(ক) বাংলা, (খ) সংস্কৃত এবং (গ) বিদেশি ধাতু।

• বিদেশাগত ধাতু:
- প্রধানত হিন্দি এবং ক্বচিৎ আরবি-ফারসি ভাষা থেকে যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সেগুলোকে বিদেশাগত ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলা হয়।
- যেমন- ভিক্ষে মেগে খায়।
- এ বাক্যে 'মাগ্‌' ধাতু হিন্দি 'মাঙ' থেকে আগত।

• বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।
যেমন - কাট্, কাঁদ, জানু, নাচ্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ধাতু:
- বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন: কৃ, গম্, ধূ, গঠ, স্থা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৫.
'তিনি তার ছেলেকে পড়াচ্ছেন' এ বাক্যে 'পড়া' কোন ধরনের ধাতু?
  1. ণিজন্ত ধাতু
  2. নামধাতু
  3. সংযোগমূলক ধাতু
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
'তিনি তার ছেলেকে পড়াচ্ছেন' এ বাক্যে 'পড়া'- ণিজন্ত ধাতু।

• নাম ধাতু:
- বিশেষ্য, বিশেষণ এবং অনুকার অব্যয়ের পরে 'আ' প্রত্যয় যোগ করে যে নতুন ধাতুটি গঠিত হয় তা-ই নাম ধাতু।
- যেমন-সে ঘুমাচ্ছে। 'ঘুম্' থেকে নাম ধাতু 'ঘুমা'।
- 'ধমক্' থেকে নাম ধাতু 'ধমকা'।আমাকে ধমকিও না।

• প্রযোজক/ণিজন্ত ধাতু:
- মৌলিক ধাতুর পরে প্রেরণার্থ (অপরকে নিয়োজিত করা অর্থে) 'আ' প্রত্যয় যোগ করে প্রযোজক ধাতু বা ণিজন্ত ধাতু গঠিত হয়।
- যেমন কর্ + আ করা (এখানে 'করা' একটি ধাতু)। যেমন- সে নিজে করে না, আর একজনকে দিয়ে করায়।
- অনুরূপভাবে পড় + আ = পড়া; তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন।

• যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাতক অব্যয়ের সাথে কর্‌, দে, পা, খা, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু সংযুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয়, তাই যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু।
যেমন:
- যোগ (বিশেষ্য) + কর্‌ (ধাতু) = 'যোগ কর' (সংযোগমূলোক ধাতু)।
- সাবধান (বিশেষ্য) +হ (ধাতু) = সাবধান হ (সংযোগমূলক ধাতু)।
- বাক্য- এখনও সাবধান হও, নতুবা আখেরে খারাপ হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।