পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্সতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২২
সিলেবাস
Exam - 42 Bangla: Topic: কারক-বিভক্তি, ক্রিয়ার কাল ও ক্রিয়াপদ, বাচ্য ও উক্তি।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স · তারিখ অনির্ধারিত · ২২ প্রশ্ন

.
জমি থেকে ফসল পাই।” -বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলো কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক: 
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।
যেমন-

• বিচ্যুত : গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
• গৃহীত : সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
• জাত : জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
• বিরত : পাপে বিরত হও।
• দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
• রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও।
• আরম্ভ : সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
• ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
.
”মা শিশু কে চাঁদ দেখাচ্ছেন”- বাক্যে ”দেখাচ্ছেন” কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সংযোগ ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. নামক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন
- মা শিশু কে চাঁদ দেখাচ্ছেন;

- এখানে ’দেখাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
.
নিচের কোনটি সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. কমে আসা
  2. এগিয়ে চলা
  3. পেয়ে বসা
  4. বৃদ্ধি পাওয়া
ব্যাখ্যা
• সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ = বৃদ্ধি পাওয়া।

- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।

অন্যদিকে,
- কমে আসা, এগিয়ে চলা, পেয়ে বসা, ইত্যাদি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।

উল্লেখ্য,
• যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
.
”গাঁয়ে মানে না, আপনি মোড়ল।“ - বাক্যটিতে ”গাঁয়ে” শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে শূন্য
  2. করণকারকে সপ্তমী
  3. কর্তৃকারকে সপ্তমী
  4. করণকারকে শূন্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃ কারক:
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।

• কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:

- প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি : হামিদ বই পড়ে।
- দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
- তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
- ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
- সপ্তমী বা এ বিভক্তি: গাঁয়ে মানে না, আপনি মোড়ল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. মন দেওয়া
  2. বৃদ্ধি পাওয়া
  3. এগিয়ে চলা
  4. গান করা
ব্যাখ্যা
• যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ = এগিয়ে চলা।
-------------------------------
• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন
- মরে যাওয়া,
- কমে আসা,
- এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা,
- উঠে পড়া,
- পেয়ে বসা, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মন দেওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া, গান করা, সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ।

উল্লেখ্য,
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
.
”সে রোজ সকালে এক কাপ চা পান করে।” বাক্যে নিম্নরেখ শব্দ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন
- সে রোজ সকালে এক কাপ চা পান করে।
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সমাজের নানা রকম অন্ধতা, গোঁড়ামি, ও কুসংস্কারকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে গেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
.
”একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।” বাক্যটির কর্তাবাচ্য রূপ কী হবে?
  1. একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি
  2. একটু বাহিরে বেড়িয়ে আসো
  3. একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা হোক
  4. একটু বাইরে বেড়িয়ে এসো
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।
• কর্তাবাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

উল্লেখ্য,
- ভাববাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়।
যেমন
• ভাববাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।
• কর্তাবাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
.
তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতো মাইলের পর মাইল। নিম্নরেখ শব্দ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
সম্বন্ধ কারক:
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ। এই কারকে শব্দের সঙ্গে '-র', -এর', '-য়ের', '-কার', '-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
- আমার জামার বোতামগুলো একটু অন্য রকম।
- তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতো মাইলের পর মাইল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
.
”তুমি হাঁটবে।” - বাক্যটির ভাববাচ্য রূপ কী হবে?
  1. তোমাকে হাঁটতে হবে।
  2. তুমি হাঁটো।
  3. তুমি হাঁটতে থাক।
  4. তোমাকে হাঁটবে।
ব্যাখ্যা
• কর্তায় প্রথমা বিভক্তি প্রযুক্ত হয় এবং ক্রিয়া কর্তার অনুসারী হয়।
যেমন-
- কর্তৃবাচ্য: তুমি হাঁটবে।
- ভাববাচ্য: তোমাকে হাঁটতে হবে।


- ভাববাচ্য: এবার একটি গান করা হোক।
- কর্তৃবাচ্য: এবার (তুমি) একটি গান কর।

- ভাববাচ্য: তার যেন আসা হয়।
- কর্তৃবাচ্য: সে যেন আসে।

উল্লেখ্য,
• কর্তৃবাচ্য: যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে।
• ভাববাচ্য: যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ এবং ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১০.
নীরা বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে। - উক্তিটির প্রত্যক্ষরূপ কোনটি?
  1. নীরা বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করতাম।
  2. নীরা বলেছিল, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।
  3. নীরা বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।"
  4. নীরা বলে, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তি: নীরা বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।"
• পরোক্ষ উক্তি: নীরা বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।
---------------------------------------
• অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন
• প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।"
• পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

উল্লেখ্য,
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।

• উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

যেমন
- ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।" এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।
- ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। এটি পরোক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১১.
”বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।” বাক্যটির কর্মবাচ্য রূপ কী হবে?
  1. বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হয়।
  2. বিদ্বানকে সকলে আদৃত করে।
  3. বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
  4. বিদ্বানকে সকলে সমাদৃত করে।
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য
-  কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে-
-  কর্তায় তৃতীয়া , কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।

যেমন:
• কর্তৃবাচ্য: বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
• কর্মবাচ্য: বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।

• কর্তৃবাচ্য: খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন।
• কর্মবাচ্য: বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।

• কর্তৃবাচ্য: মুবারক পুস্তক পাঠ করছে।
• কর্মবাচ্য: মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ এবং ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১২.
”সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।” - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান
  2. নিত্য অতীত
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. সাধারণ বর্তমান
ব্যাখ্যা
সাধারণ বর্তমান:
- যে ক্রিয়া বর্তমান কালে নিয়মিতভাবে ঘটে, তাকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন
- আমি স্কুলে যাই।
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।

উল্লেখ্য,
• বর্তমান কাল
- বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে।

• বর্তমান কাল চার প্রকার:
- সাধারণ বর্তমান,
- ঘটমান বর্তমান,
- পুরাঘটিত বর্তমান এবং;
- অনুজ্ঞা বর্তমান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৩.
”শরতে কাশফুল ফোটে।” কোন প্রকার বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তাবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তাবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন
- ঝরনা ছবি আঁকে।
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।

• অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে।
যেমন
- ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।
- শরতে কাশফুল ফোটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ এবং ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৪.
”কাল একবার এসো।” - কী অর্থে অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে?
  1. সম্ভাবনা
  2. উপদেশ
  3. অনুরোধ
  4. বিধান
ব্যাখ্যা
• ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
- আদেশে অর্থে: সদা সত্য বলবে।
- সম্ভাবনায় অর্থে : চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
- বিধান অর্থে: রোগ হলে ওষুধ খাবে।
- অনুরোধ অর্থে: কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)।

উল্লেখ্য,
আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে।

উৎস: উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
১৫.
মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।"- উক্তিটির পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. মিহির বললো, তার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।
  2. মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
  3. মিহির বলে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
  4. মিহির বললো যে, সে জানতো সবুজ সে বাসায় থাকতো।
ব্যাখ্যা
• অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন
• প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।"
• পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

উল্লেখ্য,
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।

• উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

যেমন
- ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।" এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।
- ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। এটি পরোক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৬.
'পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা।'- কী অর্থে অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে?
  1. আদেশ
  2. উপদেশ
  3. অনুরোধ
  4. প্রার্থনা
ব্যাখ্যা
বর্তমান কালের অনুজ্ঞা
• আদেশ: কাজটি করে ফেল। তোমরা এখন যাও।
•  উপদেশ:
- সত্য গোপন করো না। কড়া রোদে ঘোরাফেরা করিস না
- 'পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা।'
• অনুরোধ: আমার কাজটা এখন কর। অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।
• প্রার্থনা: আমার দরখাস্তটা পড়ুন। :
• অভিশাপ: মর, পাপিষ্ঠ।

উল্লেখ্য,
আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে।

উৎস: উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
১৭.
'রাজু পুস্তক পাঠ করছে।' বাক্যটির কর্মবাচ্যে রূপ হবে-
  1. রাজু কর্তৃক পুস্তক পাঠ হচ্ছে।
  2. রাজু কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
  3. রাজু কর্তৃক পুস্তক পাঠ্য হচ্ছে।
  4. পুস্তক কর্তৃক রাজু পঠিত হচ্ছে।
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য: রাজু পুস্তক পাঠ করছে।
• কর্মবাচ্য: রাজু কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
------------------------------------------
• কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য
-  কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে-
-  কর্তায় তৃতীয়া , কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।

যেমন:
• কর্তৃবাচ্য: বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
• কর্মবাচ্য: বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।

• কর্তৃবাচ্য: খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন।
• কর্মবাচ্য: বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ এবং ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৮.
”ছেলেরা মাঠে খেলছে” বাক্যটিতে ”খেলছে” কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. নামক্রিয়া
  4. সংযোগ ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।

যেমন
- সে লিখছে।
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।

• এখানে লিখছে ও খেলছে - এগুলো সরল ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৯.
লোকটি বলল, "বাঃ! পাখিটি তো চমৎকার।"- উক্তিটির পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. লোকটি আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।
  2. লোকটি আনন্দের সাথে বলল, পাখিটি চমৎকার।
  3. লোকটি হাসি দিয়ে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।
  4. লোকটি বলল যে, পাখিটি চমৎকার।
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নবোধক, অনুজ্ঞাসূচক ও আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে হলে প্রধান খন্ডবাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়। যেমন-

• আবেগসূচক বাক্য:
 
- প্রত্যক্ষ উক্তি : লোকটি বলল, "বাঃ! পাখিটি তো চমৎকার।"
- পরোক্ষ উক্তি : লোকটি আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।

- প্রত্যক্ষ উক্তি : ভিখারিনী বলল, "শীতে আমরা কতই না কষ্ট পাচ্ছি।"
- পরোক্ষ উক্তি: ভিখারিনী দুঃখের সাথে বলল যে, তারা শীতে বড়ই কষ্ট পাচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
২০.
নিচের কোন বাক্যটিতে অসমাপিকা ক্রিয়া নেই?
  1. ভালো করে পড়াশোনা করলে।
  2. ভালো করে পড়াশোনা করবে।
  3. প্রভাতে সূর্য উঠলে।
  4. আমরা হাত-মুখ ধুয়ে।
ব্যাখ্যা
- ”ভালো করে পড়াশোনা করবে।” এটি একটি সমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ।
- এ বাক্যে কোন অসমাপিকা ক্রিয়া নেই।

• সমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- ভালো করে পড়াশোনা করবে।
-  ছেলেরা খেলা করছে।
- এ বছর বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে,
- ভালো করে পড়াশোনা করলে।
- প্রভাতে সূর্য উঠলে।
- আমরা হাত-মুখ ধুয়ে। এ বাক্যগুলো অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫, এবং ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২১.
শিক্ষক বললেন, "তোমরা কি ছুটি চাও?"- উক্তিটির পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. আমরা ছুটি চাই কি না, শিক্ষক তা জিজ্ঞাসা করে।
  2. শিক্ষক জিজ্ঞাসা করলেন, "তোমরা কি ছুটি চাও?
  3. শিক্ষক বললেন যে, "তোমরা কি ছুটি চাও?
  4. আমরা ছুটি চাই কি না, শিক্ষক তা জিজ্ঞাসা করলেন।
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নবোধক, অনুজ্ঞাসূচক ও আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে হলে প্রধান খন্ডবাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়। যেমন-

• প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, "তোমরা কি ছুটি চাও?"
• পরোক্ষ উক্তি : আমরা ছুটি চাই কি না, শিক্ষক তা জিজ্ঞাসা করলেন।

• প্রত্যক্ষ উক্তি: বাবা বললেন, "কবে নাগাদ তোমাদের ফল বের হবে?"
• পরোক্ষ উক্তি : আমাদের ফল কবে নাগাদ বের হবে, বাবা তা জানতে চাইলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
২২.
”শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।” বাক্যটিতে ”দিলেন” কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. অসমাপিকা ক্রিয়া
  2. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  3. অকর্মক ক্রিয়া
  4. ত্রিকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
- এই বাক্যে 'দিলেন' একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া।
- 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম ('বই'), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম ('ছাত্রকে')।

উল্লেখ্য,
- বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার:
- সকর্মক ক্রিয়া।
- অকর্মক ক্রিয়া।
- দ্বিকর্মক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫,সালের সংস্করণ।