পরীক্ষা আর্কাইভ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

পরীক্ষাগুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভারতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২৩ বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক: বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯৪৭ - ৭৫) : ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট, পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ছয়দফা, আগরতলা মামলা, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচন, বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা, মুজিবনগর সরকার, মুক্তিযুদ্ধের কৌশল, বহিঃশক্তির ভূমিকা) বাংলাদেশকে বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য পদ অর্জন। উৎস: ইতিহাস সংক্রান্ত বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] [নম্বর কাভার - ৪]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. প্রফেসর আবুল কাশেম
  2. অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
• তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং
- এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।
- তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবুল কাশেমের অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া, শাহেদ আলী, আবদুল গফুর, বদরুদ্দীন উমর, হাসান ইকবাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় সিনিয়র ছাত্র।
- প্রফেসর আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।
- দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ১৯৪৯ সালে মজলিশের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে অধ্যাপক আবুল কাশেম সম্পাদিত একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- এ ঐতিহাসিক পুস্তিকায় সন্নিবেশিত নিবন্ধগুলোতে এদের লেখক কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমদ ও অধ্যাপক আবুল কাশেম বাংলাকে পূর্ব বাংলায় শিক্ষার একমাত্র মাধ্যম, অফিস ও আদালতের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন।
- তাঁরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিও তুলে ধরেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
.
‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’ গানটির গীতিকার কে?
  1. খান আতাউর রহমান
  2. গোবিন্দ হালদার
  3. আব্দুল গফফার চৌধুরী
  4. নজরুল ইসলাম বাবু
ব্যাখ্যা
• খান আতাউর রহমান:
- তিনি গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক, চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিচালক ও অভিনেতা।
- ১৯২৮ সালের ১১ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার রামকান্তপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- চলচ্চিত্রের সঙ্গে খান আতাউর যুক্ত হন জং কারদার পরিচালিত ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ দিয়ে।
- 'জীবন থেকে নেয়া' চলচ্চিত্রের ‘এ খাঁচা ভাঙবো আমি কেমন করে’ কিংবা ‘এ কি সোনার আলোয়’, ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’ এর মত জনপ্রিয় গানগুলো খান আতাউরের লেখা।
- খান আতাউর পরিচালনা শুরু করেন ১৯৬৩ সালে ‘অনেক দিনের চেনা’ চলচ্চিত্র দিয়ে।
- ১৯৯৭ সালে সর্বশেষ তিনি ‘এখনো অনেক রাত’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন।
- একই বছর ১২ই ডিসেম্বর চলচ্চিত্রটি মুক্তির দিনও ধার্য করেছিলেন।
- কিন্তু তার আগেই ১ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তার পরিচালিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ‘রাজা সন্ন্যাসী’,
- ‘আবার তোরা মানুষ হ’,
- ‘দিন যায় কথা থাকে’,
- ‘আরশি নগর’ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা নিউজ টুয়েন্টি ফোর ও প্রথম আলো।
.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন কে?
  1. শামসুল আলম
  2. অধ্যাপক নূরুল হক ভূঞা
  3. আবদুল মতিন
  4. কাজী গোলাম মাহবুব
ব্যাখ্যা
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।
- এর আহবায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঞা।
- ১৯৪৮ সালের ২রা মার্চ ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠন করা হয় (এটি দ্বিতীয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ নামেও পরিচিত) এবং আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
- ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় গঠিত ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা: নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো।
.
মুজিবনগর সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়াবলি ও পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. তাজউদ্দীন আহমদ
  2. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  3. এম মনসুর আলী
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ: 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- রাষ্ট্রপতি।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম- উপরাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানে অন্তরীণ থাকার কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত)। 
- তাজউদ্দীন আহমদ- প্রধানমন্ত্রীএবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। 
- খন্দকার মোশতাক আহমদ- মন্ত্রী, পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 
- এম মনসুর আলী- মন্ত্রী, অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
- এ এইচ এম কামরুজ্জামান- মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
.
মুজিবনগর সরকারকে শপথ বাক্য কে পাঠ করান?
  1. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  2. অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক
  3. এম হোসেন আলী
  4. তাজউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার: 
- মুজিবনগর সরকার  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল প্রণীত ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ ছিল বাংলাদেশের মুক্তি আকাঙ্ক্ষী রাষ্ট্রের প্রথম সংবিধান।
- ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুসারে ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। কারণ ঘোষণাপত্রে লেখা হয়েছে- ‘আমাদের এই - স্বাধীনতার ঘোষণা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।’
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। 
- শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ। 
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
- এ সরকার গঠনের মাত্র ২ ঘণ্টা পর পাকিস্তানি বিমান বাহিনী মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- পরে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তর করা হয়। 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর। 
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।
- নবগঠিত সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে এখানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
- মুজিবনগর সরকারকে ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ভাগ করা হয়।
- মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন হয় ১৮ এপ্রিল ১৯৭১।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
.
কোন শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে 'বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন' সংঘটিত হয়?
  1. মওলানা আকরম খাঁ শিক্ষা কমিশন
  2. শরীফ শিক্ষা কমিশন
  3. এয়ার মার্শাল নূর খান কমিশন
  4. ড. কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা
• ১৯৬২'র শিক্ষা আন্দোলন: 
- ১৯৬২ সালের আগস্ট মাসে শরিফ কমিশনের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পেলে ছাত্র আন্দোলন নতুন রূপ লাভ করে।
- এ প্রতিবেদনের সুপারিশে ছাত্রদের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
- ফলে কঠোর আন্দোলন শুরু হয়। এ আন্দোলন 'বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন’ নামে পরিচিত ।

- ১৫ই আগস্ট থেকে ১০ই সেপ্টেম্বর প্রতিদিন বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৭ই সেপ্টেম্বর হরতাল পালনকালে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন নিহত এবং কয়েকশ’ আহত হয়।
- এ আন্দোলনের ফলে শরিফ কমিশনের সুপারিশ স্থগিত হয়।
- এই আন্দোলনের ফলে ছাত্ররা আইয়ুববিরােধী আন্দোলনের অন্যতম শক্তিতে পরিণত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া, প্রথম আলো রিপোর্ট।
.
বর্তমানে বীর বিক্রম খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত জন?
  1. ৪২৪ জন
  2. ১৭৪ জন
  3. ৬৭ জন
  4. ৪২৬ জন
ব্যাখ্যা
• বীরত্বসূচক খেতাব:
- বীরত্বসূচক খেতাব  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- এ পরিকল্পে চার পর্যায়ের খেতাব প্রদানের বিধান ছিল: (ক) সর্বোচ্চ পদ, (খ) উচ্চ পদ, (গ) প্রশংসনীয় পদ, (ঘ) বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্র।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন, 
- বীর উত্তম - ৬৮ জন, 
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন, 
- বীর প্রতীক- ৪২৬ জন। 

এছাড়াও,
তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী], 
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম), 
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক), 
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)। 

বর্তমানে (২০২১ সালের পরবর্তীতে) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন, 
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন, 
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
.
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়ক কে ছিলেন?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. শাহারিয়ার কবির
  3. রাশেদ খান মেনন
  4. নীলিমা ইব্রাহীম
ব্যাখ্যা
• জাহানারা ইমাম (১৯২৯-১৯৯৪)  শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর শৈশবকালে মুসলিম পরিবারের মেয়েদের নিকট আধুনিক শিক্ষালাভের দ্বার উন্মুক্ত ছিল না।
- তবে তিনি তাঁর ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পিতা আবদুল আলীর তত্ত্বাবধানে রক্ষণশীলতার বাইরে এসে আধুনিক শিক্ষা লাভ করেছিলেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম ইউরোপীয় দেশ কোনটি?
  1. পশ্চিম জার্মানি
  2. পূর্ব জার্মানি
  3. যুক্তরাজ্য
  4. ইতালি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৬ ডিসেম্বর প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- একইদিন দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্যমতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম দেশ ভুটান এবং দ্বিতীয় দেশ ভারত।
- সাবেক পূর্ব জার্মানি ১১ জানুয়ারি ১৯৭২ ইউরোপের প্রথম আর বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
- আর সাবেক পশ্চিম জার্মানি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় প্রায় তিন সপ্তাহ পর ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২।

সূত্র: প্রথম আলো ও বাংলাপিডিয়া।
১০.
বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয় কোথায়?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রসভায়
  2. কলকাতাস্থ বাংলাদেশ মিশনে
  3. বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে
  4. ৭ মার্চের জনসভায়
ব্যাখ্যা
• প্রথম জতীয় পতাকা উত্তোলন:
- ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনের পশ্চিম গেটে বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলিত হয়।
- সেদিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রব।
- সেই পতাকার মাঝখানে হলুদ বৃত্ত ছিল। আর বৃত্তের মধ্যে ছিল বাংলাদেশের মানচিত্র।
- সেই থেকে প্রতি বছর ২ মার্চ জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস পালন করা হয়।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চে তার বাসভবনে পতাকা উত্তোলন করেছিলেন।

- ১৯৭২ সালে শিবনারায়ণ দাশের ডিজাইন করা পতাকা থেকে মানচিত্রটি বাদ দেওয়া হয়। 
- পতাকার মাপ, রং ও তার ব্যাখ্যাসহ একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয় পটুয়া কামরুল হাসানকে। 
- কামরুল হাসান আমাদের জাতীয় পতাকার যে রূপ দিয়েছিলেন সেটিই বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সবুজ আয়তক্ষেত্রের মধ্যে লাল বৃত্ত। সবুজ রং বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক, বৃত্তের লাল রং উদীয়মান সূর্য, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের প্রতীক।
-  বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।
 
উৎস: বিডিনিউজ ও প্রথম আলো রিপোর্ট।
১১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘের কোন দেশ বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান করেছিল?
  1. যুক্তরাজ্য
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  4. চীন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান:
- ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান করেছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন
- যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে মোট তিনবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন তিন বার ই ভেটো দেয়।
- এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করে।
- তার পাল্টা ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০তম নৌবহর ৭ম নৌবহরের পিছু নেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১২.
১৯৬৬ সালে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ‘ছয় দফা’ দাবি কোথায় উথ্থাপন করা হয়?
  1. করাচীতে
  2. লাহোরে
  3. ঢাকায়
  4. ইসলামাবাদে
ব্যাখ্যা
• ঐতিহাসিক ছয়দফা: 
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা ‘ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ মনু মিয়া।

• দফা গুলো হলো:
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন,
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

 উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৩.
বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার পর ঢাকায় আসেন ১৯৭২ সালের কত তারিখে? 
  1. ৮ জানুয়ারি
  2. ৯ জানুয়ারি
  3. ১০ জানুয়ারি
  4. ১১ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের পর পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক চাপে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দানে বাধ্য হয়।
- বঙ্গবন্ধু ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন গমন করেন।
- সেখান থেকে দিল্লিতে কিছু সময় অবস্থান করে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঢাকায় আসেন।
- ১০ জানুয়ারিকে বঙ্গবন্ধুর ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৪.
ঐতিহাসিক ছয়দফার কয়টি দফা অর্থনীতি বিষয়ক ছিল?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
• ঐতিহাসিক ছয়দফা: 
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা ‘ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ মনু মিয়া।

দফা গুলো হলো:
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন,
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

 উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৫.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন কবে?
  1. ২ মার্চ, ১৯৭১
  2. ৪ মার্চ, ১৯৭১
  3. ৫ মার্চ, ১৯৭১
  4. ৭ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• মার্চের অসহযোগ আন্দোলন:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন ২ মার্চ।
- অসহযোগ আন্দোলন ১৯৭১ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে ১৯৭১ সালের ২ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পরিচালিত আন্দোলন।
- এ আন্দোলনে কেন্দ্রীয় শাসনের বিপরীতে স্বশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়।
- ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে দিগনির্দেশনামূলক ভাষণের মাধ্যমে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- অসহযোগ আন্দোলনের শুরুতেই ২ মার্চ ছাত্র সংগঠনগুলি ‘স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিততে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতাহার ঘোষণা করে।
- এতে ‘বাংলাদেশ' নামে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং এর তিনটি লক্ষ্য নির্দিষ্ট করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। [লিঙ্ক]