পরীক্ষা আর্কাইভ

GKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

পরীক্ষাGKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২: টপিক সমূহ: মধ্যযুগ রাশিদুন খিলাফত, উমাইয়া খিলাফাত, আব্বাসীয় খিলাফাত, বাইজেনটাইন সাম্রাজ্য, মঙ্গোল সাম্রাজ্য, ইনকা সভ্যতা, মায়া সভ্যতা, আজটেক সভ্যতা, ধর্মযুদ্ধ। এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এশিয়া মহাদেশ – ১ দূরপ্রাচ্য, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া। [Live Class – 3 & 4]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

GKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

GKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
ভারতের প্রথম মুসলমান রাষ্ট্রপতি কে?
  1. এপিজে আব্দুল কালাম
  2. ড. মাহমুদ হোসেন
  3. ড. ফখরুদ্দিন আলী আহমেদ
  4. জাকির হোসেন
ব্যাখ্যা
ভারত:
- দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশ ভারত।
- ভারত স্বাধীনতা লাভ করে: ১৫ আগস্ট, ১৯৪৭ সালে।
- সংবিধান কার্যকর হয়: ২৬ জানুয়ারি, ১৯৫০ সালে।
- প্রজাতন্ত্র ঘোষণা দেয়: ২৬ জানুয়ারি, ১৯৫০ সালে।

উল্লেখ্য,
- ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি: ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ।
- ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী: জওহরলার নেহরু।
- ভারতের প্রথম মুসলমান রাষ্ট্রপতি: জাকির হোসেন।
- ভারতের প্রথম নারী রাষ্ট্রপতি: প্রতিভা পাতিল।
- ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী: নরেন্দ্র মোদী।
- ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রপতি: দ্রৌপদী মুর্মু (প্রথম সাওতাল উপজাতি রাষ্ট্রপতি)।

উৎস: Britannica.
.
'আব্বাসীয় খিলাফত'-এর রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. মক্কা
  2. বাগদাদ
  3. মদীনা
  4. দামেস্ক
ব্যাখ্যা
আব্বাসীয় খিলাফত:
- ‘আব্বাসীয় খিলাফত’ ইসলামী খিলাফতগুলোর মধ্যে তৃতীয় খিলাফত।
- এটি আব্বাসীয় বংশ কর্তৃক শাসিত হয়।
- উমাইয়া খলিফাদের ক্ষমতাচ্যুত করার পর আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়।
- আব্বাসীয় রাজবংশে মোট ৩৭ জন খলিফা শাসন পরিচালনা করেছেন।
- তাঁরা ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ হতে ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
- আল আব্বাস আল সাফফাহ প্রথম আব্বাসীয় খলিফা।
- আর এর শেষ খলিফা আল-মুতাসিম বিল্লাহ।
- বাগদাদ এই খিলাফতের রাজধানী ছিল।
- আব্বাসীয় খিলাফত নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর চাচা আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের বংশধরদের কর্তৃক ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে কুফায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মঙ্গোল নেতা হালাকু খানের বাগদাদ দখলের পর ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দে এটি বিলুপ্ত হয়।
- মোট ৫০৮ বছর আব্বাসীয় খিলাফত দীর্ঘস্থায়ী হয়।

উৎস: i) Britannica.
         ii) ইসলামের ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
অ্যাজটেক সভ্যতা কে ধ্বংস করে?
  1. গ্রিকরা
  2. রোমানরা
  3. ফরাসিরা
  4. স্প্যানিশরা
ব্যাখ্যা
অ্যাজটেক সভ্যতা:
- উত্তর মেসোআমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- বর্তমান মেক্সিকো অঞ্চলে এই সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- যার বিস্তৃতি ছিল উত্তর আমেরিকার বেশির ভাগ অংশজুড়ে।
- কৃষিকাজের মাধ্যমে আজটেক সভ্যতার প্রসার ঘটে।
- খ্রিস্টীয় ১২ শতকে এ সভ্যতার উৎপত্তি হয়েছিল।
- আজটেকের রাজধানী ছিল টেনোচিটিলান।
- টিনোচ ছিলেন আজটেকদের প্রথম রাজা।

উল্লেখ্য,
- সৃজনশীল ও উন্নত সংস্কৃতির ধারক হিসেবে প্রায় ৪৫০ বছর নিজেদের সভ্যতা টিকিয়ে রাখতে পেরেছিল আজটেকরা।
- আজটেক সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছিল ১৫২১ খ্রিষ্টাব্দে স্প্যানিশদের দ্বারা।

উৎস: Britannica.
.
কোন চুক্তির মাধ্যমে ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান ঘটে?
  1. পারিস্য শান্তি চুক্তি
  2. রোম চুক্তি
  3. ভিয়েনা চুক্তি
  4. ওয়েস্টফিলিয়া চুক্তি
ব্যাখ্যা
পারিস্য শান্তি চুক্তি:
- স্বাক্ষরিত হয় ২৭ জানুয়ারি, ১৯৭৩ সালে।
- স্থান: ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে।
- স্বাক্ষরকারী দেশ: যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনাম।
- উদ্দেশ্য: ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানো।
- ফলাফল: ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান।

উৎস: History Channel.
.
কত খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত উমাইয়া খলিফাদের শাসন স্থায়ী ছিল?
  1. ৬১১ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ৭১১ খ্রিস্টাব্দ
  4. ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
উমাইয়া খিলাফাত:
- খুলাফায়ে রাশেদীনের অবসানের পর ৬১১ খ্রিস্টাব্দে উমাইয়া বংশের শাসন শুরু হয়।
- উমাইয়া বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন মুয়াবিয়া (রা)।
- সিরিয়ার দামেস্ক ছিল তাঁর রাজধানী।
- উমাইয়া খলিফাদের শাসন ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।
- উমাইয়া বংশের মোট ১৪ জন খলিফা রাজত্ব করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ইসলামের কত জন খলিফাকে খুলাফায়ে রাশেদীন বা রাশিদুন খলিফা বলা হয়?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৪ জন
ব্যাখ্যা
রাশিদুন খিলাফত:
- রাশিদুন খিলাফত ছিল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠিত চারটি প্রধান খিলাফতের মধ্যে প্রথম।
- ৬৩২ সালে মহানবীর (সা.) এর মৃত্যুর পর এই শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- ইসলামের প্রথম চার খলিফাকে খুলাফায়ে রাশেদীন বা রাশিদুন খলিফা বলা হয়।
- 'খোলাফায়ে রাশেদীন'রা হলেন:
১. হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা) (৬৩২-৬৩৪ খ্রি.),
২. হযরত ওমর ফারুক (রা) (৬৩৪-৬৪৪ খ্রি.),
৩. হযরত উসমান (রা) (৬৪৪-৬৫৬ খ্রি.) এবং,
৪. হযরত আলী (রা) (৬৫৬-৬৬১ খ্রি.)।
- উক্ত চারজন খলিফা ছিলেন রাসূলুল্লাহর (স:) ঘনিষ্ঠ সহচর।
- তাঁরা নবীর (স) শিক্ষা ও আদর্শের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করেছেন।
- তাঁদের শাসন ছিল ন্যায় ও ইনসাফে পরিপূর্ণ।
- এ সময় রাজধানী ছিল মদিনা।
- তাঁদের ত্রিশ বছরের খিলাফত কালই ইসলামী শাসনব্যবস্থার আদর্শ সোনালী যুগ। 

উৎস: i) Britannica.
         ii) ইসলামের ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কাদের হাতে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের পতন হয়েছিল?
  1. ফরাসিদের
  2. স্প্যানিশদের
  3. আরববাসীদের
  4. তুর্কীদের
ব্যাখ্যা
তুর্কীদের হাতে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের পতন হয়েছিল।

বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য:

- খ্রিস্টপূর্ব ৭৫৩ সালে ইতালির টাইবার নদীর তীরে রোম নগরী স্থাপিত হয়।
- এই নগরীর গোড়াপত্তন করেন রোমাস ও রমুলাস নামে দুই ভাই।
- এই বিশাল সাম্রাজ্য শাসনের জন্য রোমান সম্রাট কনস্টানটাইন সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী বাইজান্টিয়াম নামক স্থানে দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেন।
- ৩৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দ্বিতীয় রাজধানীর নামকরণ করা হয় কনস্টান্টিনোপল।
- পূর্ব রাজধানীকে কেন্দ্র করে রোমান সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চল তথা পূর্ব ইউরোপ, পূর্ব-ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল, এশিয়া মাইনরসহ পশ্চিম এশিয়া অঞ্চল শাসিত হতো

বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের পতন:
- পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে ইসলামী সভ্যতার উত্থান ও বিকাশের পটভূমিতে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের সীমা ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে ক্রমাগত সংকুচিত হয়ে পড়তে থাকে।
- আব্বাসীয় শাসনামল পর্যন্ত ইসলামী সাম্রাজ্য পশ্চিম ইউরোপের স্পেন, সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
- ১২৫৮ সালে মোঙ্গল নেতা হালাকু খানের হাতে বাগদাদের পতন ঘটার পর ইসলামী সভ্যতার নেতৃত্ব গ্রহণ করে ওসমানীয় তুর্কিরা।
- চতুর্দশ শতাব্দী থেকে ওসমানীয় তুর্কিদের শক্তি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
- ১৪৫৩ সালে ওসমানীয় খলিফা দ্বিতীয় মোহাম্মদের হাতে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপলের পতন ঘটে।
- পরবর্তী পর্যায়ে তুর্কি শক্তি সমগ্র গ্রিস অঞ্চলসহ পূর্ব ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।
- ১৪৫৩ সাল ইউরোপ তথা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি মাইল ফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

উৎস: আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কার নেতৃত্বে চীনে প্রজাতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয়?
  1. মাও সেতুং
  2. সান ইয়েৎ সেন
  3. চিয়াং কাইশেক
  4. হো চি মিন
ব্যাখ্যা
গণচীন:
- ১৯১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চীনে প্রায় দুই হাজার বছরের রাজতন্ত্র উচ্ছেদ হয়ে প্রজাতন্ত্রের সূচনা হয়।
- এই দিন চীনের কিং রাজবংশের সর্বশেষ সম্রাট পুয়িকে সিংহাসন থেকে উৎখাত করা হয়।
- এর আগে ১৯১১ সালের অক্টোবরে সান ইয়েৎ সেনের নেতৃত্বে চীনে প্রজাতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- সান ইয়েৎ সেন ছিলেন চীন প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট।
- ১৯৪৯ সালে মাও সেতুং এর নেতৃত্বে চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৯ সালের ১লা অক্টোবর, এক রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের মাধ্যমে China) বা গণচীন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মাও সেতুং কে গণচীনের জনক বলা হয়।

অন্যদিকে -
- চিয়াং কাইশেক চীনের পুঁজিবাদ তন্ত্রের প্রবর্তক।
- ভিয়েতনামের স্বাধীনতা সংগ্রামেরপুরোধা ব্যক্তিত্ব হো চি মিন।

উৎস: Britannica.
.
কত সালে তালেবানরা পুনরায় কাবুল দখল করে?
  1. ২০০৯ সালে
  2. ২০১১ সালে
  3. ২০১৯ সালে
  4. ২০২১ সালে
ব্যাখ্যা
আফগানিস্তান:
- আফগানিস্তান দক্ষিণ এশিয়ার একটি রাষ্ট্র।
- রাষ্ট্রীয় নাম: ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান (Islamic Emirate of Afghanistan)।
- আফগানিস্তান শব্দটির অর্থ 'আফগান বা পশতুন জাতির দেশ'।
- ভাষা: পশতু, দারি।
- মুদ্রা: আফগানি।

উল্লেখ্য,
- ১৯১৯ সালে তৃতীয় ব্রিটিশ-আফগান যুদ্ধশেষে আফগানিস্তান দেশটি ব্রিটেন থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে।
- ১৯৯৬ সালে তালেবান গোষ্ঠী কাবুলের দখল নেয়।
- ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০০১-এর সন্ত্রাসী হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান আক্রমণ করে এবং ২০০১-এর শেষে তালেবানদের উৎখাত করে।
- ২০২১ সালে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পর তালেবানরা কাবুল পুনরায় দখল করে।
- আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ।

উৎস: National Geographic Kids ওয়েবসাইট।
১০.
কোন চুক্তির মাধ্যমে হংকং ব্রিটিশ কলোনিতে পরিণত হয়?
  1. উই রিভার চুক্তি
  2. হংকং চুক্তি
  3. নানকিং চুক্তি
  4. তিয়েনসিন চুক্তি
ব্যাখ্যা
হংকং:
- হংকং চীনের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের একটি সমৃদ্ধিশালী দ্বীপ।
- চীনের ‘প্রবেশদ্বার’ নামে পরিচিত হংকং।

উল্লেখ্য,
- ২৪৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে চীনের কিং সাম্রাজ্যের সময় প্রথমবারের মতো হংকং চীন সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- রানি ভিক্টোরিয়ার আমলে হংকং পরিণত হয় ব্রিটিশ উপনিবেশে।
- উপনিবেশ হিসেবে ৯৯ বছরের ইজারার মেয়াদ শেষ হলে ১৯৯৭ সালে ব্রিটেন চীনের কাছে হংকংকে ফিরিয়ে দেয়।
- হংকংয়ের ব্রিটিশ উপনিবেশে পরিণত হওয়ার পেছনে আছে ‘আফিম যুদ্ধের’ ভূমিকা।
- প্রথম আফিম যুদ্ধে চীন পরাজিত হলে ১৮৪১ সালে ব্রিটেন হংকং দ্বীপ দখল করে নেয় এবং হংকংকে সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে।
- নানকিং চুক্তির মাধ্যমে হংকং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ‘ক্রাউন কলোনি’তে পরিণত হয়।
- ১৯৮৪ সালে বেইজিংয়ের ‘হল অব দ্য পিপল’-এ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার এবং চীনা প্রধানমন্ত্রী ঝাও জিয়াং হংকংকে চীনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন।
- ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ব্রিটেন হংকংকে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই চীনের কাছে হস্তান্তর করতে রাজি হয়।
- ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই মধ্যরাতে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, প্রিন্স চার্লস, চীনের প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাডেলিন অলব্রাইটসহ অনেক আন্তর্জাতিক নেতার অংশগ্রহণে হংকংকে শান্তিপূর্ণভাবে চীনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
- ঘোষণাপত্রের অন্যতম শর্ত ছিল চীনের অধীনে যাওয়ার ৫০ বছর পর্যন্ত চীন হংকংকে ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতি অনুযায়ী শাসন করবে অর্থাৎ পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো ছাড়া হংকং পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ভোগ করবে।
- ২০৪৭ সালে ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতির বাধ্যবাধকতা উঠে গেলে চীন হংকংকে নিজেদের একটি প্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করবে।

উৎস: Britannica.
১১.
কত শতাব্দী ধরে ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল?
  1. এক শতাব্দী
  2. দুই শতাব্দী
  3. তিন শতাব্দী
  4. চার শতাব্দী
ব্যাখ্যা
ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ (১০৯৫-১২৯১ খ্রিস্টাব্দ):
- ইউরোপের নবজাগরণ ও অগ্রগতিতে ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।
- একাদশ শতাব্দীর শেষভাগ হতে ত্রয়োদশ শতাব্দী পর্যন্ত মুসলমানদের নিকট থেকে যীশু খ্রিস্টের জন্মভূমি জেরুজালেম উদ্ধার করার জন্য ইউরোপের খ্রিস্টানগণ প্রাচ্যের মুসলমানদের সঙ্গে যে ভয়াবহ যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল ইতিহাসে তাই ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ নামে পরিচিত।
- প্রকৃতপক্ষে এ যুদ্ধ ছিল আফ্রো-এশিয়ার মুসলিম ও ইউরোপের খ্রিস্টানদের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘকালের ঘৃণা-বিদ্ধেষ ও দ্বন্দ্ব কলহের বহিঃপ্রকাশ।
- ধর্মীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক প্রভৃতি নানাবিধ স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে এ নৃশংস ক্রুসেড সংঘটিত হয়েছিল।
- মধ্যযুগের ইতিহাসে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে অনুষ্ঠিত যে কোন যুদ্ধ অপেক্ষা এটা ছিল ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী।

উল্লেখ্য,
- প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এই ধর্মযুদ্ধ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিল।
- শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশের ক্ষেত্রেও ক্রুসেডের উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল।
- ঐতিহাসিক টয়েনবি বলেছেন, 'ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধের ফলেই আধুনিক ইউরোপ জন্মলাভ করেছে'।
- ধর্মযুদ্ধের ফলে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছিল।
- নতুন নতুন জলপথ আবিষ্কৃত হয় এবং নৌপথে বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়।
- খ্রিস্টান-মুসলমানদের শিক্ষা উন্নত কৃষিপদ্ধতি এবং শিল্পজীবনের সঙ্গে পরিচয় লাভ করে।
- সমাজে সামন্ত রাজা, খ্রিস্টান ধর্মযাজক ও পোপের ক্ষমতা বহুলাংশে হ্রাস পায়।
- এর ফলে ইউরোপে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে।
- এভাবেই রেনেসাঁ এবং পরে নব্য ইউরোপের জন্ম হয়েছিল।

উৎস: সিভিক এডুকেশন-১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
চেঙ্গিস খান নিচের কোন সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা?
  1. আচেমেনিয়ান সাম্রাজ্য
  2. মুঘল সাম্রাজ্য
  3. মোঙ্গল সাম্রাজ্য
  4. অটোমান সাম্রাজ্য
ব্যাখ্যা
মোঙ্গল সাম্রাজ্য:
- মোঙ্গল সাম্রাজ্য ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্য।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মধ্য এশিয়ায় দুর্ধর্ষ মঙ্গল মঙ্গল জাতির উত্থান ঘটে।
- চেঙ্গিস খানের নেতৃত্বে মোঙ্গলদের এই বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা হয়।
- মোঙ্গলরা চীন থেকে শুরু করে মধ্য এশিয়া, পারস্য ও রাশিয়াতে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে এবং মিশর, ভারত, জাপান, কোরিয়া, বার্মা ও ইন্দোনেশিয়াতেও তাদের অভিযানের তরঙ্গ প্রবলভাবে আঘাত হানে।
- মোঙ্গলদের অভিযানগুলো নিষ্ঠুরতা লুণ্ঠন ও হত্যাকাণ্ডের কাহিনীতে ভরপুর। 
- এ কারণে অনেক ঐতিহাসিক মঙ্গলদিগকে "বিধাতার অভিশাপ" ও "বিশ্বের ত্রাস" বলে অভিহিত করেছেন।

উল্লেখ্য,
- চেঙ্গিস খান ছিলেন বিশাল এ সাম্রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা।
- ধারণা করা হয়, ১১৬২ সালে বা ১১৫৫ সালে মঙ্গোলিয়ার খেনতি পর্বতমালায় চেঙ্গিস খানের জন্ম
- কমোঙ্গল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর চেঙ্গিস খান ইউরেশিয়া দখলে পা বাড়ান।
- চেঙ্গিস খান ১২২৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- মূলত এ সময় থেকেই মোঙ্গল সাম্রাজ্য দুর্বল হতে শুরু করে।

অন্যদিকে,
- সাইরাস দ্য গ্রেট ছিলেন আচেমেনিয়ান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।
- ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর। 
- ওসমান প্রথম অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা

উৎস: i) Britannica.
         ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
রিদ্দা কী?
  1. ধর্মযুদ্ধ
  2. স্থানের নাম
  3. ব্যক্তির নাম
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
রিদ্দা যুদ্ধ:
- খলিফা আবু বকরের শাসনামলে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় তাকে বলে রিদ্দার যুদ্ধ।
- এটি একটি ধর্মযুদ্ধ।

উল্লেখ্য,
- 'রিদ্দা' আরবী শব্দ।
- এর অর্থ প্রত্যাবর্তনকরণ বা পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়া।
- মহানবী (স.) এর মৃত্যুর পর এক শ্রেণির মুসলিম ইসলাম ধর্মকে বর্জন করে, তাদের পৌত্তলিকতায় প্রত্যাবর্তন করে।
- ইসলাম প্রচারের পর মক্কা ও মদীনা কেন্দ্রীক ইসলাম ধর্ম সীমাবদ্ধ হয়ে রইল।
- এই সময় মহানবীর মৃত্যুর পরে কতিপয় ভণ্ডনবীর আবির্ভাব ঘটল, কেউ কেউ পৌত্তলিকতায় ফিরে গেল।
- সমগ্র আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে অর্ন্তদ্বন্দ্ব সৃষ্টি হল।
- ইসলামের প্রথম খলীফা এই সকল স্বধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন, যা ইতিহাসে 'রিদ্দার যুদ্ধ' হিসেবে পরিচিত। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
মুসলিমরা স্পেনকে কী নামে অভিহিত করতো?
  1. গ্যালিসিয়া
  2. আন্দালুসিয়া
  3. মুরসিয়া
  4. আইবেরীয় উপদ্বীপ
ব্যাখ্যা
স্পেনে মুসলিম শাসন :
- মধ্যযুগে যেসকল স্থানে আরব সভ্যতা গড়ে উঠেছিল এর মধ্যে স্পেন অন্যতম।
- ৭১১ সালে এ অঞ্চলটি মুসলিম শাসনাধীনে আসে।
- মুসলিমরা এর নাম দিয়েছিল আন্দালুসিয়া বা আল-আন্দালুস।
- শুরুতে স্পেন দামেস্কের উমাইয়া খিলাফতের অধীনে একটি প্রদেশ হিসেবে পরিণত হয়।
- ৭৫৬ সালে আব্দুর রহমান আদ্‌-দাখিল এখানে একটি স্বাধীন উমাইয়া আমীরাত প্রতিষ্ঠা করেন।
- ৯২৯ সালে তৃতীয় আব্দুর রহমান এই আমীরাতকে খিলাফতে উন্নীত করেন।
- ১০৩১ সালে উমাইয়া খিলাফতের অবসানের পর স্পেনে আরব, বার্বার ও স্লাভরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজবংশের সৃষ্টি করে শাসন করতে থাকে।
- উত্তরের খ্রিস্টানরা ক্রমাগত আক্রমণ করে যখন ক্ষুদ্র রাজ্যগুলি একে একে গ্রাস করছিল।
- সেসময় উত্তর আফ্রিকার মরক্কো হতে মুরাবিতুন (১০৯১-১১৪৬) রাজবংশ স্পেনের রাজক্ষমতা গ্রহণ করে এবং মরক্কো হতেই স্পেন শাসন করতে থাকে।
- এরপর মুরাবিতুনদের হটিয়ে মুয়াহিদুন (১১৪৬-১২৪৮) রাজবংশ মরক্কো হতে স্পেন শাসন করে।
- ,স্পেনে মুসলিমদের শেষ রাজবংশ ছিল গ্রানাডার নসর বংশ (১২৩২-১৪৯২)।
- ১৪৯২ সালে এই বংশের পতনের মধ্য দিয়ে স্পেনে মুসলিম শাসনের চির অবসান হয়। 

উল্লেখ্য,
- রোমান শাসনামলে স্পেনকে বলা হত আইবেরীয় উপদ্বীপ।
- মুসলিম আমলে এর নাম হয় আন্দালুসিয়া।
- স্পেনের দক্ষিণভাগের বিরাট অংশের নাম ছিল আন্দালুসিয়া।
- এ কারণে মুসলিমরা স্পেনকে এই নামে জানত।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
গুয়াতেমালার পিরামিডে কোন সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া যায়?
  1. মায়া সভ্যতা
  2. ইনকা সভ্যতা
  3. অ্যাজটেক সভ্যতা
  4. ব্যবলনীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মায়া সভ্যতা:
- মায়া সভ্যতাকে বলা হয় রহস্যময় সভ্যতা।
- মায়া সভ্যতার অবস্থান ছিল মধ্য আমেরিকায়।
- মেক্সিকো, বেলিজ, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর ও হন্ডুরাসের রেইনফরেস্টের মধ্যে এটি অবস্থিত।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ সালের প্রথম দিকে মায়ারা গ্রামে বসতি স্থাপন করেছিল।
- প্রধান শহরগুলির মধ্যে ছিল টিকাল , উয়াক্সাক্টুন , কোপান , বোনাম্পাক , ডস পিলাস , ক্যালাকমুল , প্যালেনকে , এবং রিও বেক। 
- শহরগুলোর ধ্বংসাবশেষ, জটিল হায়ারোগ্লিফিক লিপি আর চিরায়ত রহস্যের মধ্যে আটকা পড়েছে এ সভ্যতার গল্প। 
- প্রায় ৬০০ বছর ধরে মায়ার লোকেরা ঐশ্বর্যময় সভ্যতা নিয়ে টিকে ছিল।

উল্লেখ্য,
- গুয়াতেমালার একটি পিরামিডের ধ্বংসাবশেষে মায়া সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া যায়।

উৎস: i) Britannica.
         ii) আনন্দ বাজার পত্রিকা।