পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]

পরীক্ষাব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়05 minutes
মোট প্রশ্ন১৪
সিলেবাস
Exam - 10 Daily Quiz: Bangla: Topic: শব্দ ও পদের গঠন, প্রকৃতি-প্রত্যয়।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৪ প্রশ্ন

.
'বর্ধন' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √বৃদ্ধি + অন
  2. √বৃদ্ + অন
  3. √বৃধ্‌ + অন
  4. √বৃদ্ধ + অন
ব্যাখ্যা

• অন (<অনট) প্রত্যয়:
• √নন্দ + ই + অন = নন্দন,
- √সাধ + অন = সাধন,
- √তপ্ + অন = তপন,
- √বৃধ্‌ + অন = বর্ধন 
- √গম + অন = গমন,
- √শী + অন = শয়ন,
- √কৃ + অন = করণ, 
- √নী + অন = নয়ন,
- √চর্ + অন = চরণ
- √শী + অন = শয়ন,
- √স্থা + অন = স্থান,
- √ভূ + অন = ভুবন,
- √গণ+ অন আ-গণনা,
- √উপ + আস্+অন+আ=উপাসনা, এরূপ-এষণা, বেদনা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. √ভাস্ + অন্ত = ভাসন্ত
  2. √বাড়ু + অন্ত = বাড়ন্ত
  3. √জিব্‌ + অন্ত = জীবন্ত
  4. √উঠ্‌ + আন্তি = উঠন্তি
ব্যাখ্যা

• অন্ত >-অন্তি -উন্তি(প্রত্যয়)

যেমন:
- √ভাস্ + অন্ত = ভাসন্ত;
- √বাড়্‌ + অন্ত = বাড়ন্ত;
- √জীব্‌ + অন্ত = জীবন্ত;
- √উঠ্‌ + অন্তি = উঠন্তি;
এ রকম- উড়ন্ত, চলন্ত, পড়ন্ত, ঝুলন্ত, ডুবন্ত, বাড়ন্ত, ফুটন্ত ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

.
মৌলিক শব্দ নয় কোনটি?
  1. মাটি
  2. কলা
  3. ভাই
  4. গোলাপী
ব্যাখ্যা

মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গোলাপ, নাক, লাল, তিন, ভাই, কলা, মাটি

অন্যদিকে,
সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায়, এক কথায় তাকেই বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ যোগ করে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সাধিত শব্দ ।

যেমন-
- দেশি, মাটির, বোনের, হাতগুলো, বউটি, গোলাপী, ভাইয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ - সংস্করণ) এবং বাংলা ২য় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
'নর্তক' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √নর্ত + অক
  2. √নৃত্‌ + অক
  3. √নীর + তক
  4. √নর + অক
ব্যাখ্যা

• নর্তক = নৃত্‌ + অক।

• অক (ণক্):

- √নী + অক = নায়ক,
- √কৃ + অক = কারক,
- √বহ + অক = বাহক,
- √রুধ+ অক = রোধক;
- √নিন্দ + অক = নিন্দক;
- √হিনস + অক = হিংসক;

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

.
নিচের কোনটি লগ্নক নয়?
  1. এর
  2. লাম
  3. টি
  4. উপ
ব্যাখ্যা

• 'উপ' লগ্নন নয়। এটি একটি  উপসর্গ।

• লগ্নক:

- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ। পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। লগ্নক চার ধরনের:

• বিভক্তি:

- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

• নির্দেশক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

• বচন:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি(২০২৫ সংস্করণ)

.
'রজক' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √র + অক
  2. √রাজ + অক 
  3. √রজ্‌ + অক 
  4. √রন্‌জ্‌ + অক 
ব্যাখ্যা

'রজক' = √রন্‌জ্‌ + অক।

• অক (ণক্):
- √নী + অক = নায়ক, 
- √কৃ + অক = কারক, 
- √বহ + অক = বাহক,
- √রুধ+ অক = রোধক; 
- √নিন্দ + অক = নিন্দক;
- √হিনস + অক = হিংসক;

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

.
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে কি বলে?
  1. উপসর্গ
  2. প্রত্যয়
  3. অনুসর্গ
  4. বিভক্তি
ব্যাখ্যা

• উপসর্গ:

- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
যেমন:
'পরিচালক' শব্দের 'পরি' হলো একটি উপসর্গ।

অন্যদিকে,
• প্রত্যয়: 
- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন:
'সাংবাদিক(সংবাদ + ইক)  শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।

• অনুসর্গ:
- 'অনু’ কথাটির অর্থ পরে , আর ‘সর্গ’ মানে সৃষ্টি বা ব্যবহার। সুতরাং সাধারণভাবে অনুসর্গ বলতে বোঝায় যা পরে ব্যবহৃত হয়। উপসর্গ যেমন ধাতুর আগে বসে, অনুসর্গ তেমন পদের পরে বসে। যেসব অব্যয় বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে পৃথকভাবে বসে শব্দ বিভক্তির মতো তাদের কারক-সম্বন্ধ নির্ধারণ করে, তাদের অনুসর্গ বলা হয়।
যেমন:
তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। 'দিয়ে' এখানে অনুসর্গ।

• বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
যেমন:
'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫সংস্করণ)।

.
'জাত' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √জা + ক্ত
  2. √জন্‌ + ক্ত
  3. √জন্‌ + ক্তি
  4. √জন্‌ + ত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• ক্ত-প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি- প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো।

যেমন:
- √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
- √ছিদ্‌ + ক্ত=ছিন্ন,
- √জন্‌ + ক্ত = জাত,
- √দা + ক্ত = দত্ত,
- √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. √বদ্‌ + ইন = বাদী
  2. √বাদ্‌ + ইন = বাদী
  3. √ব্যই্‌ + ইন = বাদী
  4. √বাৎ + ইন = বাদী
ব্যাখ্যা

• ইন্ (ণিন্<ণিনি):
- √স্থা + ইন্ = স্থায়িন্ > স্বায়ী,
- √বদ + ইন = বাদিন > বাদী,
এরূপ- পায়ী (স্তন্যপায়ী), গামী (অনুগামী), সন্ন্যাসী (সম্-নি + √অস্ + ইন) ইত্যাদি।
- ইন্ (ঘিণুন্):  প্র-√বস্ + ইন্ = প্রবাসিন্ > প্রবাসী, 
- √যুজ্ + ইন্ = যোগিন্> যোগী, এরূপ- অনুরাগী, বিবেকী ইত্যাদি।
- ঈন (শানচ্): √আস্ + ঈন = আসীন।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১০.
কোনটি নির্দেশক?
  1. রা
  2. পরি
  3. জন
ব্যাখ্যা

নির্দেশক:
- যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন-টা, টি, খানা, -খানি, -জন, -টুকু। নিচে কয়েকটি নির্দেশকের প্রয়োগ দেখানো হলো ।

ক) -টা, -টি:
- বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে -টা, টি নির্দেশক বসে। এর দুটি রূপান্তর: -টো ও -টে।
- যেমন - বাড়িটা, ছেলেটা, এটা, সেটা, আমারটা, কিছুটা, একটা, সারাটা, করাটা; দিনটি, মেয়েটি, একটি, কয়েকটি, আরেকটি; দুটো; তিনটে ইত্যাদি।

খ) -খানা, খানি:
বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে খানা, খানি নির্দেশক বসে। যেমন -
ব্যাপারখানা, ভাবখানা, একখানা, আধখানা, মুখখানি, অনেকখানি ইত্যাদি।
যেসব ক্ষেত্রে -টা বা -টি বসে, সেসব ক্ষেত্রে -খানা বা -খানি বসতে পারে। যেমন, বাড়িটা বা বাড়িটি না বলে বাড়িখানা বা বাড়িখানিও বলা যায়।

গ) -জন:
- শুধু মানুষের বেলায় -জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়। যেমন-
- বিজ্ঞজন, লোকজন, অনেকজন, কয়জন, এতজন, পণ্ডিতজন।
- সংখ্যার সঙ্গেও -জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়। যেমন - একজন রাজা, দুজন ডাক্তার ইত্যাদি।
- অধিক সংখ্যার বেলায় ‘জন' নির্দেশকটি সংখ্যা পরে আলাদা শব্দের মতো বসে। যেমন - পাঁচ জন, পঁচিশ জন, ৪৫ জন ইত্যাদি।

ঘ) -টুকু:
-টুকু নির্দেশক দিয়ে কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝায়।
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়। এর রূপভেদ -টু বা -টুক।
যেমন: সাবানটুকু, হাসিটুকু, শরবতটুকু, এতটুকু, সময়টুকু, একটু আধটু, যতটুক, ততটুক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
রা - বচনে ব্যবহৃত হয়।
পরি - একটি উপসর্গ।
ই -  একটি বলক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।

১১.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. চোরামি 
  2. কেষ্টা
  3. তেজস্বী
  4. নিমাই
ব্যাখ্যা

• তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, ইষ্ঠ, ঈন্, বতু্প্, নীন, নীয়, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য;
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক;
- কুসুম + ইত = কুসুমিত;
- পঙ্ক + ইল্ = পঙ্কিল;
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন;
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয়কে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: আরু, ইয়া, অট, লা, আটিয়া, উক, উয়া, আই, আ, উরিয়া ইত্যাদি।
যেমন:
- কেষ্ট + আ = কেষ্টা
- বোমা + আরু = বোমারু।
- নিম + আই = নিমাই
- ভাদর + ইয়া = ভাদরিয়া > ভাদুরে।
- চোর + আমি = চোরামি
- ভরা + অট = ভরাট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১২.
"ছেলেরা মাঠে ক্রিকেট খেলে।" বাক্যে কয়টি সলগ্নক পদ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

'ছেলেরা মাঠে ক্রিকেট খেলে' এই বাক্যের 'ছেলেরা', 'মাঠে' ও 'খেলে' সলগ্নক পদ আর 'ক্রিকেট অলগ্নক পদ।

• সলগ্নক পদ:

• বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলোকে সলগ্নক পদ।

• অলগ্নক পদ:
• যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলোকে অলগ্নক পদ বলে।

• লগ্নক:

- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ। পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫সংস্করণ)।

১৩.
তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতিকে কী বলা হয়?
  1. প্রাতিপদিক
  2. ধাতু
  3. প্রত্যয়
  4. অন্বয়
ব্যাখ্যা

 তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি - প্রাতিপদিক।

• তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
যেমন -
→ লাজ + উক = লাজুক,
→ বড় + আই = বড়াই,
→ ঘর + আমি = ঘরামি।

- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।

• বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার। যথা:
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪.
'তখনই' শব্দে 'ই' কী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিভক্তি
  2. নির্দেশক
  3. বচন
  4. বলক
ব্যাখ্যা

• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

• লগ্নক:

- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। লগ্নক চার ধরনের:

বিভক্তি:

- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫সংস্করণ)।