পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes৩২ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৩৪
সিলেবাস
“Award Mania: Season - 8” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিকসমূহ: ১. শব্দপ্রকরণ [সমাস; উপসর্গ ও অনুসর্গ] ২. পদ-প্রকরণ [পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ] ৩. বাক্য প্রকরণ [বাক্য ও বাক্যের প্রকারভেদ; বাক্য ও উক্তির পরিবর্তন; কারক ও বিভক্তি; বাচ্য ও বাচ্যের পরিবর্তন।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৪ প্রশ্ন

.
উপসর্গ কী?
  1. শব্দের শেষাংশ
  2. শব্দের অর্থ
  3. শব্দের প্রথমাংশ
  4. শব্দের মধ্যবর্তী অংশ
সঠিক উত্তর:
শব্দের প্রথমাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দের প্রথমাংশ
ব্যাখ্যা

• উপসর্গ: 
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে। 
- অজানা (অ+জানা), অভিযােগ (অভিযােগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ’, ‘অভি’, ‘বে’ হলাে উপসর্গ। 
- উপসর্গের কাজ নতুন শব্দ তৈরি করা। 
- উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবােধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য বলা হয় "উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে"। 
- বাংলা ভাষায় অর্ধশতাধিক উপসর্গ রয়েছে। 
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. খাটি বাংলা উপসর্গ, 
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং 
৩. বিদেশি উপসর্গ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
বাক্যের উপকরণ/ বৃহত্তম একক কোনটি?
  1. চিহ্ন
  2. ধ্বনি
  3. বর্ণ
  4. শব্দ
সঠিক উত্তর:
শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দ
ব্যাখ্যা
• বাক্যের উপকরণ/ বৃহত্তম একক - শব্দ।

অন্যদিকে,
• বাক্যের উপাদান/ ক্ষুদ্রতম একক - ধ্বনি।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
ভাষার মূল উপকরণ/প্রাণ - বাক্য।
ভাষার মূল উপাদান /ক্ষুদ্রতম একক - ধ্বনি এবং
বর্ণ হচ্ছে শব্দের গঠনগত একক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
বাংলা ভাষায় উপসর্গ কত ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষায় উপসর্গকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন:
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ।
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।
৩. বিদেশি উপসর।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম। 
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'গোলাপফুল' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. তৎপুরুষ
  3. কর্মধারয়
  4. বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
- যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন –
- গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল,
- যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

অন্যদিকে:
তৎপুরুষ সমাস:
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন –
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

• দ্বন্দ্ব সমাস:
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ‘সােনা-রুপা সমস্তপদের ব্যাসবাক্য ‘সােনা ও রুপা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
নিম্নলিখিত কোনটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ?
  1. অপ
  2. আড়
  3. অভি
  4. উপ
সঠিক উত্তর:
আড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আড়
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষায় উপসর্গকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন:
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ।
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।
৩. বিদেশি উপসর।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

•  খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম। 
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
.
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে কী বলা হয়?
  1. শব্দ
  2. পদ
  3. উপসর্গ
  4. অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ
ব্যাখ্যা
• পদ:
বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে৷

অন্যভাবে,
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।

• বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
যথা:
- বিশেষ্য,
- সর্বনাম,
- বিশেষণ,
- ক্রিয়া,
- ক্রিয়াবিশেষণ,
- অনুসর্গ,
- যােজক,
- আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
.
"মন দিয়ে পড়ালেখা কর।" - বাক্যে 'দিয়ে' কোন অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ
  2. সাধারণ অনুসর্গ
  3. বিশেষ অনুসর্গ
  4. ক্রিয়াধর্মী অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি,
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি,
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।

অন্যদিকে,
সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
- যেমন: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
.
'অচিন' শব্দের “অ” উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অধিক
  2. শূন্যতা বা অভাব
  3. সামান্য
  4. সম্পূর্ণ
সঠিক উত্তর:
শূন্যতা বা অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্যতা বা অভাব
ব্যাখ্যা
• 'অচিন' শব্দের 'অ' উপসর্গটি অভাব অর্থে ব্যবহৃত।

• 'অ' উপসর্গ:
- নিন্দিত অর্থে: অকেজো, অচেনা, অপয়া।
- অভাব অর্থে: অচিন, অজানা, অথৈ।
- ক্রমাগত অর্থে: অঝোর, অঝোরে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
মানুষের মনের ভাব পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় কীসের সাহায্যে?
  1. ধ্বনি
  2. শব্দ
  3. বাক্য
  4. পদ
সঠিক উত্তর:
বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্য
ব্যাখ্যা
• মানুষের মনের ভাব পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় — বাক্য দিয়ে।

• ভাষা ও বাক্য:
- গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিভ, তালু, দাঁত, নাক প্রভৃতি প্রত্যঙ্গ দিয়ে মানুষ নানা রকম ধ্বনি তৈরি করে।
- এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি হয় শব্দ। শব্দের গুচ্ছ দিয়ে বাক্য গঠিত হয়।
- বাক্য দিয়ে মানুষ মনের ভাব আদান-প্রদান করে।
- মনের ভাব প্রকাশক এসব বাক্যের সমষ্টিকে বলে ভাষা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১০.
নিম্নের কোনটি তৎসম উপসর্গ?
  1. খাস
  2. ইতি
  3. অধি
  4. লা
সঠিক উত্তর:
অধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় উপসর্গকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন:
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ।
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।
৩. বিদেশি উপসর।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

•  খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম। 
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
১১.
বাক্যের অংশগুলো হচ্ছে-
  1. কর্তা
  2. কর্ম
  3. ক্রিয়া
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাক্য:
• এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে। 
• বাক্যের মাধ্যমে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
যেমন - সজল ও লতা বই পড়ে। 

সাধারণ বাক্যের প্রধান তিনটি অংশ।
যথা,
- কর্তা,
- কর্ম ও
- ক্রিয়া।

• কর্তা: বাক্যের ক্রিয়াকে চালায়; 
• কর্ম: যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয়; 
• ক্রিয়া: যে অংশ দিয়ে কোন কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বোঝায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২.
কোনটি পদের নাম নয়?
  1. আবেগ
  2. অনুসর্গ
  3. যোজক
  4. পদাণু
সঠিক উত্তর:
পদাণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদাণু
ব্যাখ্যা
• পদ:
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।

• পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়:
যথা - 
- বিশেষ্য, 
- সর্বনাম, 
- বিশেষণ, 
- ক্রিয়া, 
- ক্রিয়াবিশেষণ, ,
- অনুসর্গ, 
- যােজক, 
- আবেগ।

অন্যদিকে,
- 'পদাণু' পদের নাম নয়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩.
নিচের কোনটি অনুসর্গ নয়?
  1. জন্য
  2. থেকে
  3. গাছা
  4. দ্বারা
সঠিক উত্তর:
গাছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাছা
ব্যাখ্যা
• ‘গাছা’ — অনুসর্গের উদাহরণ নয়।
- এটি একটি প্রদাশ্রিত নির্দেশক।

• অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন -
• সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।
এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

• কোন পর্যন্ত পড়েছ?
এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
- সাধারণ অনুসর্গ ও
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
১৪.
অব্যয় পদ প্রধানত কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
ব্যাখ্যা
• অব্যয় পদ:
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।

• অব্যয় পদ প্রধানত — চার প্রকার।
যথা: 
- সমুচ্চয়ী,
- অনন্বয়ী,
- অনুসর্গ এবং
- অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫.
কর্তা কারকে ‘-এ’ বিভক্তির উদাহরণ কোনটি?
  1. বনে বাঘ আছে।
  2. ছাগলে কিনা খায়।
  3. ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
  4. লোকে কিনা বলে।
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
কর্তা কারকে ‘-এ’ বিভক্তির উদাহরণ:
খ) ছাগলে কিনা খায়।
ঘ) লোকে কিনা বলে।

অপশনে দ্বৈত উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো। 

• কর্তা কারক: 

- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে।
- বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।
- কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।

যেমন -
- আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
- অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।

- কর্তা কারকে কখনো কখনো -এ বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন
পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়। 

অন্যদিকে,
- "বনে বাঘ আছে।" - অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।
- "ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।" - করণ কারক দ্বিতীয়া বিভক্তি।
- "লোকে কিনা বলে।" - কর্তা কারকে সপ্তমী। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬.
‘সে ঢাকা যাবে।’—এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. আদেশবাচক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. সক্রিয় বাক্য
সঠিক উত্তর:
সক্রিয় বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সক্রিয় বাক্য
ব্যাখ্যা
• বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায় :
- সক্রিয় বাক্য
- অক্রিয় বাক্য

• সক্রিয় বাক্য:
যে বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলোকে সক্রিয় বাক্য বলে.
যেমন:
- আমার মা চাকরি করেন।
- সে ঢাকা যাবে।

• অক্রিয় বাক্য:
যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলোকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন:
- তিনি বাংলাদশের নাগরিক।

• তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়োগে এগুলো সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন: 
- ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন’ বা ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১৭.
'মাঝে' অনুসর্গটি কোন বাক্যে একদেশিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।
  2. সীমার মাঝে অসীম তুমি।
  3. নিমেষ মাঝেই সব শেষ।
  4. সে নদীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে।
সঠিক উত্তর:
এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।
ব্যাখ্যা
• 'এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।' এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - একদেশিক অর্থে।

• অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন -
বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)

- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন -
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।

• অনুসর্গের প্রয়োগ:
মাঝে:
- মধ্যে অর্থে - 'সীমার মাঝে অসীম তুমি'। সে নদীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে।
- একদেশিক অর্থে - এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।
- ক্ষণকাল অর্থে - নিমেষ মাঝেই সব শেষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮.
"ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।" - এখানে 'ফুলের' পদটি কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. সম্বন্ধ কারক
  4. কর্ম কারক
সঠিক উত্তর:
সম্বন্ধ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• সম্বন্ধ কারক: 
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। 
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ। 
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘র’, -এর’, -য়ের’, ‘কার’, ‘কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। 
যেমন- 
• ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না। 
আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম। 
তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতাে মাইলের পর মাইল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯.
কর্তাবাচ্যের বাক্যে কর্তার অবস্থান কীভাবে প্রকাশিত হয়?
  1. কর্তা গোপন থাকে।
  2. ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
  3. ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে।
  4. ক্রিয়ার মাধ্যমে কর্তার ক্রিয়াকলাপ প্রকাশিত হয় না।
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
ব্যাখ্যা
• বাচ্য:
- বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে।

- প্রকাশভঙ্গির এই ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার।
যথা - 
১. কৰ্তাবাচ্য,
২. কর্মবাচ্য ও
৩. ভাববাচ্য। 

কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
- যেমন:
• তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
• প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।
• আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
• একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

- অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে। যেমন –
• ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।
• শরতে শিউলি ফোটে।  

কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
- যেমন:
• পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
• চিঠিটা পড়া হয়েছে ।
• তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
• আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
• আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
- যেমন:
• আমার যাওয়া হল না।
• কোথা থেকে আসা হলো।
• এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০.
বাক্যের দুটি অংশ থাকে। যথা -
  1. সাধু, চলিত
  2. উদ্দেশ্য, বিধেয়
  3. উপমা, ছন্দ
  4. প্রসাদ্গুণ, মাধুর্যগুণ
সঠিক উত্তর:
উদ্দেশ্য, বিধেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্দেশ্য, বিধেয়
ব্যাখ্যা
• একটি বাক্যের প্রধান দুটি অংশ থাকে। 
যথা:
১. উদ্দেশ্য,
২. বিধেয়।

• উদ্দেশ্য:
বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয় সেই অংশকে বাক্যের উদ্দেশ্য বলে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে।
অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।

• বিধেয়:
কর্তা বা উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে।
বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২১.
'তাঁর মঙ্গল হোক।’- কোন ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  2. আবেগবাচক বাক্য
  3. বিবৃতিবাচক বাক্য
  4. বিস্ময়সূচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'তাঁর মঙ্গল হোক।’ - অনুজ্ঞাবাচক বাক্য।

• বাক্য:
- এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে।
- এদিক দিয়ে পদ হলো বাক্যের একক।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
যেমন -
- সজল ও লতা বই পড়ে।
এটি একটি বাক্য। পাঁচটি শব্দ দিয়ে গঠিত এই বাক্যে বক্তার মনের ভাব পুরোপুরি প্রকাশিত হয়েছে।

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন -
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তাঁর মঙ্গল হোক।
- দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
২২.
উপসর্গ নিষ্পন্ন শব্দ কোনটি?
  1. পুকুরে
  2. নিদাঘ
  3. প্রত্যেক
  4. বড়াই
সঠিক উত্তর:
নিদাঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিদাঘ
ব্যাখ্যা
• 'নিদাঘ' শব্দে তৎসম 'নি' উপসর্গ 'আতিশয্য' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অন্যদিকে,
• প্রত্যেক শব্দের 'প্র' এই শব্দে উপসর্গ নয়, কারণ ইহা কোন শব্দের আগে বসেনি।
- এবং, অন্য অপশনের 'পু' এবং 'ব' উপসর্গ নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩.
কামাল বলল, "বাহ! পাখিটি তো চমৎকার।" - বাক্যটির পরোক্ষ উক্তিতে কী হবে?
  1. কামাল বলল, পাখিটি চমৎকার।
  2. কামাল আনন্দের সাথে বলেছিল, পাখিটি অনেক চমৎকার।
  3. কামাল বলল, পাখিটি খুব চমৎকার।
  4. কামাল আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।
সঠিক উত্তর:
কামাল আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামাল আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।
ব্যাখ্যা
• কামাল বলল, "বাহ! পাখিটি তো চমৎকার।" - এর সঠিক পরোক্ষ উক্তি - কামাল আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।

• আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তিত করার সময় নিম্নলিখিত বাক্যাংশগুলো ব্যবহার করতে হয়।
যেমন- আনন্দের সাথে/ আক্ষেপের সাথে/ দুঃখের সাথে/বিরক্তিভরে/বিস্ময়ের সাথে + বলল/বললেন/ বললাম + যে।

• অতপর খণ্ড বাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন-
প্রত্যক্ষ : লোকটি বলল, “বাঃ! পাখিটি তো চমৎকার।”
পরোক্ষ : লোকটি আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪.
“পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে” - বাক্যটির জটিল রূপ কী?
  1. পরিশ্রমীরা সাফল্য লাভ।
  2. যে লোক পরিশ্রমী, সে সাফল্য লাভ করে।
  3. পরিশ্রমী লোক সাফল্য লাভ করে।
  4. যে পরিশ্রম করে সে সাফল্য পাবে।
সঠিক উত্তর:
যে লোক পরিশ্রমী, সে সাফল্য লাভ করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে লোক পরিশ্রমী, সে সাফল্য লাভ করে।
ব্যাখ্যা
• পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে - বাক্যটির জটিল রূপ -যে লোক পরিশ্রমী, সে সাফল্য লাভ করে।

• বাক্যের মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে সরল, জটিল ও যৌগিক বাক্যের পারস্পরিক রূপান্তর করা সম্ভব।

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত- তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন-
সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

সরল বাক্য: ধার্মিকেরা সুখী।
জটিল বাক্য: যারা ধার্মিক, তারা সুখী।

সরল বাক্য: পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
জটিল বাক্য: যে লোক পরিশ্রমী, সে সাফল্য লাভ করে।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ
২৫.
"এই" এর পরোক্ষ রূপ কী হবে?
  1. ইহা
  2. তাহা
  3. সেই
  4. সে
সঠিক উত্তর:
সেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেই
ব্যাখ্যা
প্রত্যক্ষরূপ - পরোক্ষরূপ: 
• আগামীকাল - পরদিন,
• এই - সেই,
• ইহা - তাহা,
• গতকাল - আগেরদিন,
• আজ - সেদিন,
• গতকল্য - পূর্বদিন,
• এখানে - সেখানে,
• ওখানে - ঐখানে,
• এখন - তখন,
• এ - সে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
২৬.
‘রাজ মাঠে খেলতে যায়।’—এ বাক্যের উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. রাজ
  2. মাঠে
  3. খেলতে
  4. যায়
সঠিক উত্তর:
রাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজ
ব্যাখ্যা
• উদ্দেশ্য ও বিধেয়:
- বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য এবং উদ্দেশ্য সম্বন্ধে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে।
যেমন:
- সজল স্কুলে যায়।
এখানে, উদ্দেশ্য হচ্ছে 'সজল' এবং বিধেয় হচ্ছে 'স্কুলে যায়'।

তেমনিভাবে,
"রাজ মাঠে খেলতে যায়।" - এখানে উদ্দেশ্য হলো - রাজ। এবং বিধেয় হলো - মাঠে খেলতে যায়।

- বিশেষ্য বা বিশেষ্যস্থানীয় অন্যান্য পদ বা পদসমষ্টিযোগে গঠিত বাক্যাংশও বাক্যের উদ্দেশ্য হতে পারে।
যেমন:
- সৎ লোকেরাই প্রকৃত সুখী। (বিশেষ্যরূপে ব্যবহৃত বিশেষণ)।
- মিথ্যা কথা বলা খুবই অন্যায়। (ক্রিয়াজাত বাক্যাংশ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭.
নেতিবাচক: “শহিদের মৃত্যু নেই” বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কী হবে?
  1. শহিদদের মৃত্যু নেই।
  2. শহিদেরা অমর।
  3. শহিদেরা বেঁচে আছে।
  4. শহিদের কি মৃত্যু হয়?
সঠিক উত্তর:
শহিদেরা অমর।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহিদেরা অমর।
ব্যাখ্যা
• নেতিবাচক বাক্য থেকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর:
নেতিবাচক বাক্যকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলেমৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে।

সূত্র: ১
বাক্য পরিবর্তিত হলেও মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন -
নেতিবাচক: সেটা কখনোই সফল হতে পারে না।
অস্তিবাচক: সেটা সর্বদাই অসফল হয়।

সূত্র: ২ 
'না', 'নয়', 'নি', 'নেই', 'নহে' ইত্যাদি নঞর্থক পদ তুলেদিতে হয় এবং শব্দের পরিবর্তন ঘটিয়ে হ্যা-বাচক ভাব ফুটিয়ে তুলতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: কোথাও শান্তি ছিল না
অস্তিবাচক: সর্বত্র অশান্তি ছিলো।

সূত্র: ৩
প্রয়োজনমতো নেতিবাচক শব্দের বাক্যাংশকে অস্তিবাচক শব্দদ্বারা অস্তিবাচকে রূপান্তর করতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: শহিদের মৃত্যু নেই।
অস্তিবাচক: শহিদেরা অমর।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮.
লোকটি বললেন, ‘আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।’ – এটি পরোক্ষ উক্তিতে কী হবে?
  1. লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন এখানে আবার যাবেন।
  2. লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
  3. লোকটি বললেন যে, আগামীকাল এখানে আবার আসবেন।
  4. সে লোকটি বললেন যে, আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।
সঠিক উত্তর:
লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
ব্যাখ্যা
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।

যেমন - প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।” 
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন ।

উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।

উক্তি দুই প্রকার।
যথা: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি।
যেমন-
প্রত্যক্ষ উক্তি: যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।” – এটি প্রত্যক্ষ উক্তি। 

পরােক্ষ উক্তি: যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। এটি পরােক্ষ উক্তি।

প্রত্যক্ষ উক্তিতে চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরােক্ষ উক্তিতে ক্রিয়ার কালের কোনাে পরিবর্তন হয় না।
যেমন - যেমন: শিক্ষক বললেন, "পৃথিবী গোলাকার।"
 শিক্ষক বললেন যে, পৃথিবী গোলাকার। 

উৎস; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৯.
সমাসের 'ব্যাসবাক্য' বলতে কী বোঝায়?
  1. সমাসের পূর্বপদ
  2. যেসব শব্দ দিয়ে সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়।
  3. সমাসের শেষ শব্দ
  4. সমাসবদ্ধ শব্দ
সঠিক উত্তর:
যেসব শব্দ দিয়ে সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেসব শব্দ দিয়ে সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়।
ব্যাখ্যা
সমাস:
- পরস্পর অর্থ সঙ্গতিবিশিষ্ট দুই বা বহুপদের একপদে পরিণত হওয়াকে বলা হয় সমাস।
- সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ।
- অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক পদের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে'। 

সমাসের কয়েকটি পরিভাষা:

ক. সমস্যমান পদ:
- যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেককে সমস্যমান পদ বলে।
যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এ বাক্যে সিংহ, চিহ্নিত, আসন- এ তিনটি হচ্ছে সমস্যমান পদ।

খ. সমস্ত পদ:
- সমস্যমান পদগুলো মিলিত হয়ে যে একপদে পরিণত হয়, তাকে সমস্ত পদ বলে।
- একে আবার সমাসবদ্ধ পদও বলা হয়।
যেমন— সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এখানে সিংহাসন হচ্ছে সমস্ত পদ।

গ. ব্যাসবাক্য:
- যেসব শব্দ দিয়ে সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়। 

- সমাসবদ্ধ পদটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য যে বাক্য তৈরি করা হয় তাকে ব্যাসবাক্য বলে।
- ‘ব্যাস' শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ।
- একে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যও বলা হয়।
উপরের বাক্যে 'সিংহ চিহ্নিত আসন' হলো সিংহাসন শব্দের ব্যাসবাক্য।

ঘ. পূর্বপদ ও পরপদ:
- সমাস যুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষ অংশকে বলা হয় পরপদ বা উত্তরপদ।
সিংহাসন শব্দের সিংহ হলো পূর্বপদ, আর আসন হলো পরপদ বা উত্তরপদ।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০২২ সংস্করণ)।
৩০.
"ছেলেরা খেলছে" - বাক্যে কোনটি সলগ্নক পদ?
  1. ছেলেরা
  2. খেলছে
  3. ক + খ
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক + খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + খ
ব্যাখ্যা
গঠনগতভাবে পদ দুই রকমের।
যথা -
- অলগ্নক পদ,
- সলগ্নক পদ। 
 
সলগ্নক পদ:
• বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলোকে সলগ্নক পদ বলে।
যেমন -
'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'। 
- বাক্যে, 'ছেলেরা' ও 'খেলে' হলো সলগ্নক পদ, কারণ এখানে 'রা' ও 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।
 
অলগ্নক পদ:
• যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলোকে অলগ্নক পদ বলে।
যেমন -
'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'।
- এ বাক্যে 'ক্রিকেট' অলগ্নক পদ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ২০২২ সংস্করণ।
৩১.
“হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল” বাক্যটির নেতিবাচক রূপ কী হবে?
  1. হৈমন্তী কিছু বলল না।
  2. হৈমন্তী চুপ না থাকিয়া পারিল না।
  3. হৈমন্তী চুপ না থাকিল না।
  4. হৈমন্তী চুপ করিল না।
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
নিয়ম অনুসারে "হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল"এর নেতিবাচক রূপ হিসেবে "ক) হৈমন্তী কিছু বলল না।" এবং "খ) হৈমন্তী চুপ না থাকিয়া পারিল না।" দুটিই সঠিক। 
অপশনে দ্বৈত উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।
-------------------
অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে পরিবর্তনের সূত্র:

১. বাক্যে না, নয়, নহে, নি, নেই, নাহি, নাই ইত্যাদি নঞর্থক অব্যয়যোগে অস্তিবাচক বাক্যের বিধেয় ক্রিয়াকে (সমাপিকা ক্রিয়া) নেতিবাচক করতে হবে।
২. হ্যাঁ-সূচক বাক্যকে না করতে হলে মুল অর্থ পরিবর্তন না করে বাক্য পরিবর্তন করতে হবে।
৩. বাক্যের বিশেষণ পদটিকে বিপরীত শব্দে রূপান্তর করতে হবে।
৪. প্রয়োজন মতো বাক্যের অন্য শব্দকে 'না' সূচক বাক্যের প্রয়োগের আওতাভুক্ত করতে হবে।
৫. 'না' বাচক ক্রিয়া ও 'না' বাচক শব্দ বা 'না' বাচক অব্যয় মিলে বাক্যের অস্তিবাচক বা হ্যাঁ-সূচক ভাবটি বজায় রাখতে হয়।

যেমন:
অস্তিবাচক: হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।
নেতিবাচক: হৈমন্তী চুপ না থাকিয়া পারিল না।

অস্তিবাচক: এমন দিনে তারে বলা যায়।
নেতিবাচক: এমন দিনে তারে না বলে পারা যায় না।

অস্তিবাচক: পাখিটা মরল।
নেতিবাচক: পাখিটা বাঁচল না।

অস্তিবাচক: এভাবে সমাজ অচল হয়ে পড়ে।
নেতিবাচক: এভাবে সমাজ চলে না।

অস্তিবাচক: অনুপমার উচিত কাজ হয়েছে।
নেতিবাচক: অনুপমার অনুচিত কাজ হয়নি।

অস্তিবাচক: বাড়িটা তারা দখল করেছে।
নেতিবাচক: বাড়িটা তারা দখল না করে ছাড়েনি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
'পাতি' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহার করা হয়?
  1. নিম্ন
  2. মন্দ
  3. ছোটো
  4. বিপরীত
সঠিক উত্তর:
ছোটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছোটো
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ: 
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- অজনা = অ + জানা, 
- অভিযোগ = অভি + যোগ।

এখানে,
অ এবং অভি - উপসর্গ।

- উপসর্গের নিজের কোনো অর্থ নেই।
- কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এজন্য বলা হয় - উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্ত অর্থ দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে।

• 'পতি' বাংলা উপসর্গের উদাহরণ। 
• 'পাতি' উপসর্গটি  — ছোটো অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
• যেমন- পাতি+হাঁস = পাতিহাঁস। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৩.
"আমরা সেদিন পাহাড় থেকে নেমে আসলাম" বাক্যটি ভাববাচ্যে রূপান্তর করলে কী হবে?
  1. পাহাড় থেকে নেমে আসলাম।
  2. আমাদের দ্বারা সেদিন পাহাড় থেকে নেমে আসতে হলো।
  3. আমাদের সেদিন পাহাড় থেকে নেমে আসা হলো।
  4. আমরা পাহাড় থেকে নেমে আসলাম।
সঠিক উত্তর:
আমাদের সেদিন পাহাড় থেকে নেমে আসা হলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাদের সেদিন পাহাড় থেকে নেমে আসা হলো।
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্য:
নিয়ম: কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে -
১. কর্তায় ষষ্ঠী বা দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়।
২. ক্রিয়া নাম পুরুষের হয়।
যেমন -
- আমি যাবো না। -- আমার যাওয়া হবে না।
- তুমিই ঢাকা যাবে। -- তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।
- তোমরা কখন এলে? -- তোমাদের কখন আসা হলো?
- আমরা সেদিন পাহাড় থেকে নেমে আসলাম। -- আমাদের সেদিন পাহাড় থেকে নেমে আসা হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৪.
কোন উপসর্গটি আরবি ভাষা থেকে এসেছে?
  1. অনু
  2. আম
  3. উৎ
  4. সম
সঠিক উত্তর:
আম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আম
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।