আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ (Spiritual Values): - মানুষের কিছু আধ্যাত্মিক বা আত্মিক মূল্যবোধ রয়েছে। - এজন্যই মানুষ ভালোভাবে, সৎভাবে বাঁচতে চায়, সৎ থাকতে চায় এবং সৎ মানুষকে পছন্দ করে, মিথ্যেবাদীকে ও অসৎ মানুষকে ঘৃণা করে, ভালো কাজ করতে পারলে মনে মনে স্বস্তি ও তৃপ্তিবোধ করে। - অন্তর্নিহিত আত্মিক শক্তিই (Spiritual Power) মানুষকে এসবে উদ্বুদ্ধ করে। - আত্মিক মূল্যবোধ সহজাত।
সুশাসনের অভাবজনিত প্রভাব: - সুশাসন একটি দেশের কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। - এর অভাবে দেশের উপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন:
⇒ দুর্নীতি বৃদ্ধি: - সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়। - কারণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।
⇒ সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি: - সুশাসনের অভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয়। - যখন জনগণ অনুভব করে যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকার তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।
⇒ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া: - সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। - কারণ, অদক্ষ নীতি, দুর্নীতি এবং অপব্যবহারের কারণে সম্পদের সঠিক ব্যবহার হয় না।
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন: - মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক। - মূল্যবোধ শিক্ষার যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। - মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।
⇒ মূল্যবোধ না থাকলে সুশাসনের উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠা ও বিকশিত করা সম্ভব নয়। - মূল্যবোধের অভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটে না। - মূল্যবোধ অনুপস্থিত থাকলে সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। - মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে। - আর এভাবে ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের অবসান ঘটায়। - তাই মূল্যবোধ শিক্ষা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ ব্যবস্থায় সব ধরণের অবক্ষয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারে।
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র: - জনগণের কল্যাণ সাধনই আধুনিক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দশ্য। - আধুনিক প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রই মূলত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র। - কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বুঝায় যার সমুদয় সম্পদ ও শক্তিকে নাগরিকের সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত করা হয়। - যে রাষ্ট্রে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য কর্মসূচী প্রণয়ণ ও বাস্তবায়ন করে তাঁকে কল্যাণ রাষ্ট্র বলা হয়। - কল্যাণ রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। - মৌলিক চাহিদা বা প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই রাষ্ট্র পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি এবং সুষম বন্টন নিশ্চিত করে। - এছাড়া বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা, বেকার ভাতা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে। - সংক্ষেপে আমরা বলতে পারি কল্যাণ রাষ্ট্র মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকারকে সমুন্নত রেখে সর্বাধিক কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যাদি সুসম্পন্ন করে থাকে। - রাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করাই এই রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, - আধুনিক রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ। - এজন্য আধুনিক অধিকাংশ রাষ্ট্রকেই 'জনকল্যাণমূকর রাষ্ট্র' বলা হয়। - বর্তমান, রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো 'সুশাসন' প্রতিষ্ঠা। - 'সুশাসন' একদিনে প্রতিষ্ঠা হতে পারে না। - সুশাসনের ধারণাও একদিনে গড়ে উঠেনি।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকার 'তথ্য অধিকার আইন' প্রবর্তন করে -
ক
২০০৮ সালে
খ
২০০৯ সালে
গ
২০১০ সালে
ঘ
২০১১ সালে
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও বাংলাদেশ: - সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। - সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন করতে চলছে। - প্রত্যেক বছর সরকার প্রতিটি বিভাগে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান করছে।
উল্লেখ্য, - সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ও দুর্নীতি দমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে আইন প্রণীত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯', 'তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯', 'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯', 'সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯', 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯', 'চার্টার্ড সেক্রেটারিজ আইন, ২০১০', 'জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১', 'মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২', 'মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২', 'প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২' ইত্যাদি।
উৎস: তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৬.
সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের অন্যতম বৈশিষ্ট্য কী?
ক
সংস্কৃতি চর্চায় বাধা প্রদান
খ
বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ
গ
অপসংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহ প্রদান
ঘ
অন্য সংস্কৃতির প্রতি অসহিষ্ণুতা
ব্যাখ্যা
সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ (Cultural Values): - যে সব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সাংস্কৃতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বলে। - সমাজে বসবাসকারী মানুষের ভিন্ন ভিন্ন সাংস্কৃতিক বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, আচার-ব্যবহার, কর্মকাণ্ড ও সংগঠন থাকতে পারে। - সেগুলোর প্রতি সকলের শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। - সব ধরনের সংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহ প্রদান করতে হবে। - সামাজিক বা রাষ্ট্রীয়ভাবে সংস্কৃতি চর্চায়, বাধানিষেধ আরোপ করা উচিত নয়। - তবে সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি চর্চা, পশ্চিমা সংস্কৃতির রুচিহীন চর্চা, আকাশ-সংস্কৃতির মন্দ দিকগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে পারে।
‘আইনের অনুশাসন’ কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন অধ্যাপক ডাইসি।
আইনের অনুশাসন (Rule of Law): - আধুনিক যুগের লক্ষ্য হল একটি রাষ্ট্রের অন্তর্গত সকল নাগরিকের ওপর একই ভাবে আইন প্রয়োগ করা। - অধ্যাপক ডাইসির মতে- "আইনের চোখে সকল নাগরিকই সমান।" - আইনের অনুশাসন বলতে মধ্যযুগীয় ধারণায় বলা হয়- "আইনের ক্ষমতা সর্বোচ্চ।" - এর দ্বারা সরকার, আইন প্রণেতা ও সাধারণ নাগরিক সকলেই নিয়ন্ত্রিত হয়। - অধ্যাপক ডাইসি (A. V. Dicey) ছিলেন আইনের অনুশাসনের অন্যতম প্রবক্তা। - অধ্যাপক ডাইসি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত তাঁর সাংবিধানিক আইনের ভূমিকা (An Introduction to the Law of the Constitution) শীর্ষক গ্রন্থে বলেছেন আইনের অনুশাসন তিনটি নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত ।
⇒ আইনের অনুশাসন বিষয়ে ডাইসির তত্ত্ব: ১। বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকারের বিলুপ্তি: - এতে সরকার ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের বিশেষ অধিকারের ক্ষমতা লোপ করে প্রতিটি মানুষের ন্যায় বিচার পাবার কথা বলা হয়েছে। এই অনুশাসন অনুসারে যতক্ষণ পর্যন্ত কোন ব্যক্তি আইনের চোখে দোষী প্রমাণিত না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে কোনো শাস্তি দেওয়া যাবে না। আইনের অনুশাসনের অর্থ হল আইন দ্বারা সমানভাবে সংরক্ষিত হওয়া। ২। আইনের চোখে সকলের সমান অধিকারের তত্ত্ব: - এই তত্বে বলা হয়েছে আইনের ওপরে কেউ নেই। রাষ্ট্রের প্রত্যেক ব্যক্তির গতিবিধি, পদমর্যাদা এবং সামাজিক প্রতিপত্তি, রাষ্ট্রের সাধারণ আইন ও সাধারণ আদালতের বিচারাধীন। প্রশাসনিক আধিকারিকরাও সাধারণ নাগরিকের মতই আইন মান্য করবে এবং আইন লঙ্ঘন করলে তাদেরও শাস্তি হবে। এইভাবেই জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে সাম্য ও স্বাধীনতার অধিকার। ৩। কোন দেশের সংবিধান মূলত তার নিজস্ব আইনি কার্যাবলী নির্ধারণ করে: - কোন দেশের সংবিধান বিদেশি কোন আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। জনসাধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং কর্তব্য নির্ণয় করাই হল সংবিধানের মূল উদ্দেশ্য এবং তা করা হয়ে থাকে দেশের প্রচলিত আইন ও বিচারালয়ের পরিকাঠামোর মধ্যে থেকেই। সংবিধান সম্বন্ধে মানুষের ধারণা মূলত আইনের অনুশাসন সম্বন্ধে জ্ঞান থেকেই উপলব্ধি হয়। গ্রীক দার্শনিক অ্যরিস্টটলের মতে শাসন ও শাসিত সকলেরই সমভাবে আইনের অধীন হওয়া কাম্য-সেটাই আদর্শ আইনের শাসন।
সুশাসনের কোন উপাদান সরকারের নীতি-সিদ্ধান্ত ও কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে?
ক
দায়িত্বশীলতা
খ
স্বচ্ছতা
গ
গণতন্ত্র
ঘ
দক্ষতা
ব্যাখ্যা
দায়িত্বশীলতা (Responsibility): - সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো দায়িত্বশীলতা। - এর অর্থ হলো সরকার ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কর্মকাণ্ডের দায়িত্বশীলতা। - সরকারের শাসন বিভাগ তাদের নীতি-সিদ্ধান্ত ও কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে। - এভাবে পরোক্ষভাবে শাসন কর্তৃপক্ষ জনগণের নিকটই দায়ী থাকে।
অন্যদিকে, • গণতন্ত্র (Democracy): - গণতন্ত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ। সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।
স্বচ্ছতা (Transparency): - স্বচ্ছতার অর্থ পরিস্কার, স্পষ্ট ও নির্ভুল। দ্বৈত অর্থবোধকতার অনুপস্থিতিই হলো স্বচ্ছতা। শাসন ব্যবস্থার আইন কানুন, নীতি বা সিদ্ধান্ত যদি স্পষ্ট, পরিস্কার বা স্বচ্ছ হয়, যদি এর একাধিক অর্থ বা ব্যাখ্যা করার সুযোগ না থাকে তাহলে তা সহজেই জনগণের বোধগম্য হয়। নীতি বা সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।
• দক্ষতা (Efficiency): - দক্ষতার অর্থ হলো প্রাপ্ত সম্পদের ও উপকরণের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা অর্জন। অবাধ তথ্য সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ও তার ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে জ্ঞান, দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব, কর্তব্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, কাজের আগ্রহ, কাজে ফাঁকি দেয়ার অভ্যাস বা বিলম্বে যোগ দেয়ার বদ্অভ্যাস পরিত্যাগ, সততা ইত্যাদি বজায় থাকলে দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
‘যেখানে আইন থাকে না, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না’-উক্তিটিতে কী প্রকাশ পাচ্ছে?
ক
আইন স্বাধীনতার রক্ষক
খ
আইন স্বাধীনতার প্রতিবন্ধক
গ
আইন স্বাধীনতার ভক্ষক
ঘ
আইন স্বাধীনতার প্রচারক
ব্যাখ্যা
‘যেখানে আইন থাকে না, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না’-উক্তিটিতে প্রকাশ পাচ্ছে আইন স্বাধীনতার রক্ষক।
আইন: - আইন স্বাধীনতার শর্ত ও প্রধান রক্ষাকবচ। - আইন স্বাধীনতা ভোগের পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং স্বাধীনতাকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে তোলে। - রাষ্ট্র আইনের সাহায্যে মানুষের অবাধ স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করে। - আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব হয়। - আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর। - রাষ্ট্রদার্শনিক লকের (Locke) মতে, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব: - সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি: - গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।
২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি: - গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি কর্মঠ ও পরিশ্রমী হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।
৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে: - গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে। দেশকে ভালোবাসা ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে।
৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে: - গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।
৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে: - গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে।
৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়: - গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ: - গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা দায়িত্বশীল আচরণের সৃষ্টি হয়। যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা তাদের কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট তথা জনগণের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বা কৈফিয়ত প্রদান করেন। সরকার এবং বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে।
৮. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করে: - সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ধাপ বা সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ একটি জাতিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে রাষ্ট্রের উন্নতি ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।
৯. নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন: - গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নির্বাচনি রায় বা জনগণের ম্যান্ডেটকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা, সরকারকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করতে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার গঠন ও পরিবর্তনে বিশ্বাসী করে তোলে।
আত্মোপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড'- এটি কোন মতবাদ নির্দেশ করে?
ক
উদারতাবাদ
খ
অস্তিত্ববাদ
গ
পূর্ণতাবাদ
ঘ
উপযোগবাদ
ব্যাখ্যা
পূর্ণতাবাদ: - পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদ অনুসারে পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধিই মানব জীবনের পরম কল্যাণ। - অর্থাৎ পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড। - প্লেটোর মতে, বুদ্ধি বা প্রজ্ঞার দ্বারা কামনা বাসনা জাতীয় প্রবৃত্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার ফলেই মানুষের পূর্ণতা বা কল্যাণ আসে। - এরিস্টটলের মতে, সদগুণ অনুযায়ী মানুষের অন্ত নিহিত শক্তিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন করার ফলেই পূর্ণতা আসে। - তিনি মনে করেন, মানব জীবনের উৎকর্ষতা ইন্দ্রিয়জ অনুভূতির পরিবর্তে বুদ্ধির উপর নির্ভর করে।
⇒ সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন: - পূর্ণতাবাদের মতে, পূর্ণতালাভ বা আত্মোপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড। - এ মতবাদ অনুসারে আত্মোপলব্ধি বলতে মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশকেই বোঝানো হয়ে থাকে। - পূর্ণ বিকাশ বলতে বোঝায় মানুষের মধ্যে একপ্রকার অন্তর্নিহিত শক্তি আছে সেই শক্তিসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন। - মানুষ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন জীব হওয়ায় মানুষের পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধির ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয় প্রবৃত্তি ও বিচারবুদ্ধি এই উভয় দিকের বিচার বিবেচনা করতে হয়। - এ কথা ঘোষণা করার সাথে সাথে পূর্ণতাবাদ, সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।
উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
সমাজের প্রতিটি ব্যক্তি আইনের দৃষ্টিতে সমান-এ থেকে কী প্রমাণিত হয়?
ক
আইন নিয়মকানুনের সমষ্টি
খ
আইন ব্যক্তি স্বাধীনতার রক্ষক
গ
আইন সর্বজনীন
ঘ
আইন বাহ্যিক আচরণের সাথে যুক্ত
ব্যাখ্যা
আইন: - মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
• আইনের বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি: ১. সার্বভৌম ক্ষমতা কর্তৃক অনুমোদিত, ২. সর্বজনীন, ৩. বিধিবদ্ধ নিয়মাবলি, ৪. বাহ্যিক আচরণের নিয়ন্ত্রক, ৫. ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষক, ৬. সুস্পষ্টতা, ৭. আইন গতিশীল, ৮. দেশকাল ভেদে পরিবর্তনশীল।
উল্লেখ্য, - আইন সার্বজনীন ও সমভাবে প্রযোজ্য। সমস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর আইনের কর্তৃত্ব সমভাবে প্রতিষ্ঠিত।
উৎস: i) পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক 'সুশাসন' সম্পর্কে কী সংজ্ঞা প্রদান করে?
ক
জনগণের প্রতি সরকারের দায়িত্বহীনতা
খ
শাসকের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ
গ
রাষ্ট্রের সামরিক শক্তির ব্যবহার
ঘ
সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
সুশাসন: - সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance। - সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন। - বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।
⇒ 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা। - ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়। - ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।' - ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
⇒ ব্যক্তিক অধিকার: - ব্যক্তি জীবনের পবিত্রতা এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও রক্ষার জন্য ব্যক্তি যে সব অধিকার লাভ তাকে ব্যক্তিক অধিকার বলে। জীবনের নিরাপত্তা লাভ, নির্বিঘ্নে জীবন যাপন, নিজ ধর্ম নির্ভয়ে পালন, নিজের রুচি সংরক্ষণ, গৃহের গোপনীয়তা রক্ষা, চিঠি-পত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, নিজের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও জামিন লাভের অধিকার ব্যক্তিক অধিকারের কয়েকটি উদাহরণ
⇒ রাজনৈতিক অধিকার: - রাষ্ট্রীয় কাজে সক্রিয় হওয়ার জন্য নাগরিকগণ যে সমস্ত অধিকার ভোগ করেন তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। অন্যকথায় রাজনৈতিক বিষয়াদিতে অংশগ্রহণ ও মতামত নাদের সুযোগই রাজনৈতিক অধিকার। ভোটদানের অধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকার গৃহীত ব্যবস্থার পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার অধিকার প্রভৃতি রাজনৈতিক অধিকার।
⇒ অর্থনৈতিক অধিকার: - অর্থনৈতিক অধিকারের গুরুত্বের প্রেক্ষিতেই বলা হয়ে থাকে যে, অর্থনৈতিক অধিকার ছাড়া রাজনৈতিক অধিকার অর্থহীন। - বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থনৈতিক অধিকার বলতে ক্ষুধা, দারিদ্র ও বেকারত্ব থেকে মুক্ত থাকা বুঝায়। - ধারনের ন্যূনতম ক্যালরীসম্পন্ন খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার অর্থনৈতিক অধিকার। - কর্মের অধিকার ও নিশ্চয়তা, ন্যায্য মজুরী লাভের অধিকার, আইন অনুযায়ী স্বীকৃত সময়ের বেশি কাজ না করার অধিকার, কর্মস্থলে শারীরিক ক্ষয়-ক্ষতির বিরুদ্ধে সামাজিক নিরাপত্তা লাভ প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকার।
⇒ সামাজিক অধিকার: - রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত সংঘবদ্ধ জীবনের অধিকারকে সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য এই অধিকারগুলো অপরিহার্য। শিক্ষার অধিকার, সম্পত্তি অর্জন ও ভোগের অধিকার প্রকৃতি সামাজিক অধিকার।
⇒ সাংস্কৃতিক অধিকার: - নিজ ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য, রীতিনীতি ও ধর্মীয় প্রথা-প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী জীবন গঠন ও পরিচালনার অধিকারকে সাংস্কৃতিক অধিকার বলে। অবশ্য বর্তমান যুগে ভিন্ন সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ও আগ্রাসনের ফলে কোন কোন জনগোষ্ঠীর সনাতন সংস্কৃতির পরিবর্তন সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। এভাবে অপসংস্কৃতির জন্য হতে পারে আবার সংস্কৃতি সমৃদ্ধও হতে
⇒ ধর্মীয় অধিকার: - স্বাধীনভাবে ধর্মগ্রহণ, পালন, ধর্ম পরিবর্তন ও নিজ ধর্মের বিকাশে কর্তব্য পালন, অন্য ধর্মের জন্য বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য চাঁদা দিতে বাধ থাকার স্বাধীনতাকে ধর্মীয় অধিকার বলে। ধর্মকে কেন্দ্র করে এক জাতির চাল-চলন ও আচরণ, বিশ্বাস ও জীবন ব্যবস্থা পৃথক হতে পারে। ধর্মীয় অধিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অধিকার।
উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত কোন স্বাধীনতা অর্থহীন?
ক
সামাজিক
খ
রাজনৈতিক
গ
আইনগত
ঘ
নাগরিক
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক সাম্য: - অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সকল সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া নয়। - অর্থনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায়- জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সব নাগরিককে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যোগ্যতা অনুযায়ী সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া। - যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকের কাজ করার ও ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুযোগকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে। - বেকারত্ব থেকে মুক্তি, বৈধ পেশা গ্রহণ ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত।
⇒ কোল এজন্যই বলেছেন, 'অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন'।
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ: - আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর। - এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে। - ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়। - প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়। - ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।
সুশাসন: - সু-শাসন হচ্ছে এক ধরণের শাসন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ক্ষমতা সুষ্ঠুভাবে চর্চা করা হয়। - এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণ স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সরকারের নীতি ও কর্মকান্ড সম্পর্কে অবগত থাকে এবং নারী-পুরুষ স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে। - এটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করে।য় - সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক। - এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।
⇒ সুশাসনের প্রধান ক্ষেত্রসমূহ হল- (ক) রাজনৈতিক: গণতন্ত্র ও সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, (খ) অর্থনৈতিক: মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিকরণ, (গ) সামাজিক-সংস্কৃতিক: পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রসার এবং, (ঘ) তথ্য ও প্রযুক্তি: বিশ্বজুড়ে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার।
চার্লস মন্টেস্কু কোন গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির ব্যাখ্যা করেন
ক
Human Society in Ethics and Politics
খ
The Spirit of Laws
গ
Power: A New Social Analysis
ঘ
Leviathan
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি: - ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল অর্থ - সরকারের সমগ্র কাজকে তিনভাবে বিভক্ত করা। - প্রতিটি বিভাগ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কার্য পরিচালনার জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত। - এ নীতি অনুসারে, আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবে, শাসন বিভাগ আইনকে কার্যকর করবে এবং বিচার বিভাগ উক্ত আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করবে। - কোন বিভাগ অন্য কোন বিভাগের কাজের উপর হস্তক্ষেপ করবে না। - প্রত্যেক বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।
• ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী চার্লস মন্টেস্কু তাঁর বিখ্যাত "The Spirit of Laws" গ্রন্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। - তিনিই ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা। - তিনি বলেন, "যখন একই ব্যক্তি বা একই শাসক বর্গের হাতে আইন রচনা এবং শাসন করার ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয় তখন জনগনের স্বাধীনতা থাকতে পারে না, অথবা আইন ও শাসন ক্ষমতা যদি বিচার বিভাগ থেকে স্বতন্ত্র না হয় তাহলেও স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে 'Interest group' বলে আখ্যায়িত করেছেন -
ক
এইচ জিগলার
খ
এলান আর বল
গ
অধ্যাপক মাইরন উহনার
ঘ
অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল
ব্যাখ্যা
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী: - চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার উপরে প্রভাব বিস্তার করে। - ক্ষমতা দখল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য নয় বরং নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করাই এর উদ্দেশ্য। - সরকারি নীতি নির্ধারণে চাপ প্রয়োগ করে গোষ্ঠীগত স্বার্থ রক্ষা করাই চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান উদ্দেশ্য।
⇒ অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছেন।
⇒ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এইচ জিগলার 'Interest group' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
⇒ অধ্যাপক মাইরন উহনারের বক্তব্য খুবই প্রনিধানযোগ্য, তিনি বলেন, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল কোন স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী যা সরকারী কাঠামোর বাইরে থেকে সরকারী কর্মকর্তাদের মনোনয়ন ও নিয়োগ, সরকারী নীতি গ্রহণ, পরিচালনা বা নির্ধারনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।
• অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এক ধরনের স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন। তারা সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোকে ৪টি শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন। যথা- (১) স্বতঃস্ফূর্ত স্বার্থগোষ্ঠী, (২) সংগঠনভিত্তিক স্বার্থগোষ্ঠী, (৩) সংগঠনহীন স্বার্থগোষ্ঠী, (৪) প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থগোষ্ঠী।
সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা কোন দুটি উপাদানের অন্তর্ভুক্ত?
ক
শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের
খ
শুধুমাত্র মূল্যবোধের
গ
শুধুমাত্র সুশাসনের
ঘ
মূল্যবোধ ও সুশাসনের
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ এবং সুশাসনের সম্পর্ক: • সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ: - মূল্যবোধ সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটায়। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ রক্ষা পায়। গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ। সমাজজীবনে অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। শৃঙ্খলাবোধ মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজজীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ সুশাসনের ও বৈশিষ্ট্য এবং প্রয়োজনীয় উপাদান।
• আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: - আইনের শাসন মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি তার সামাজিক মর্যাদা খুঁজে পাবে এবং অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে নিশ্চিত হবে। আইনের শাসন সুশাসনেরও গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ও আবশ্যকীয় উপাদান। আইনের শাসন না থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় না।
• সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা: - মূল্যবোধ সমাজজীবনকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে এবং সমাজজীবনে ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে।
• নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা: - মূল্যবোধ মানুষের নৈতিক গুণাবলি জাগ্রত ও বিকশিত করে।
• কর্তব্যবোধ জাগ্রত করে: - কর্তব্যবোধ মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান। কর্তব্যবোধ না থাকলে সুশাসন ও প্রতিষ্ঠিত হয় না। এজন্যই নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধকে নাগরিকের অন্যতম গুণ বলা হয়।
• সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা: - সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতাকে মূল্যবোধের যেমন উপাদান মনে করা হয় তেমনি তা সুশাসনের ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান বা বৈশিষ্ট্য মনে করা হয়।
সুশাসনের কোন উপাদানটি প্রাপ্ত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা অর্জনে সহায়তা করে?
ক
দক্ষতা
খ
দায়বদ্ধতা
গ
দায়িত্বশীলতা
ঘ
স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
দক্ষতা (Efficiency): - দক্ষতার অর্থ হলো প্রাপ্ত সম্পদের ও উপকরণের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা অর্জন। - অবাধ তথ্য সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ও তার ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে জ্ঞান, দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব, কর্তব্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, কাজের আগ্রহ, কাজে ফাঁকি দেয়ার অভ্যাস বা বিলম্বে যোগ দেয়ার বদ্অভ্যাস পরিত্যাগ, সততা ইত্যাদি বজায় থাকলে দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।