পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন২৪
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৩২: বিষয়: সাধারণ বিজ্ঞান সিলেবাস জীব বিজ্ঞান: পদার্থের জীববিজ্ঞান-বিষয়ক ধর্ম, টিস্যু, জেনেটিকস, জীববৈচিত্র্য, এনিম্যাল ডাইভারসিটি, প্লান্ট ডাইভারসিটি, এনিম্যাল টিস্যু, অর্গান এবং অর্গান সিস্টেম, সালোক সংশ্লেষণ, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, জুলোজিক্যাল নমেনক্লেচার, বোটানিক্যাল নমেনক্লেচার, প্রাণিজগৎ, উদ্ভিদ, ফুল, ফল, রক্ত ও রক্ত সঞ্চালন, রক্তচাপ, হৃদপিণ্ড এবং হৃদরোগ আধুনিক বিজ্ঞান: বিবর্তন, সামুদ্রিক জীবন, মানবদেহ, রোগের কারণ ও প্রতিকার, সংক্রামক রোগ, রোগ জীবাণুর জীবনধারণ, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, ইম্যুনাইজেশন এবং ভ্যাকসিনেশন, এইচআইভি, এইডস, টিবি, পোলিও, জোয়ার-ভাটা, এপিকালচার, সেরিকালচার, পিসিকালচার, হর্টিকালচার, ইত্যাদি। উৎস: যেকোনো গাইড বই, ষষ্ঠ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বোর্ড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৪ প্রশ্ন

.
ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কী দ্বারা গঠিত?
  1. সেলুলোজ
  2. কাইটিন
  3. প্রোটিন
  4. সুবেরিন
সঠিক উত্তর:
কাইটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাইটিন
ব্যাখ্যা

• কাইটিন ছত্রাকের কোষপ্রাচীরের প্রধান গাঠনিক উপাদান। এটি ছত্রাককে কাঠামোগত শক্তি প্রদান করে এবং বাহ্যিক চাপ থেকে রক্ষা করে।

• কোষপ্রাচীর (cell wall):
- কোষপ্রাচীর উদ্ভিদ কোষের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
- এটি মৃত বা জড়বস্তু দিয়ে তৈরি। প্রাণিকোষে কোষপ্রাচীর থাকে না।
- কোষপ্রাচীরের রাসায়নিক গঠন বেশ জটিল, এতে সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, লিগনিন, পেকটিন, সুবেরিন নামক রাসায়নিক পদার্থ থাকে।
- তবে ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর প্রোটিন, লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে তৈরি ।
- ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি।
- প্রাথমিক কোষ প্রাচীরটি এক স্তরবিশিষ্ট। 
- কোষপ্রাচীর কোষকে দৃঢ়তা প্রদান করে, কোষের আকার ও আকৃতি বজায় রাখে।
- পাশের কোষের সাথে প্লাজমোডেজমাটা (আণুবীক্ষণিক নালি) সৃষ্টির মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে এবং পানি ও খনিজ লবণ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
প্রতিসাম্যতার ভিত্তিতে 'অ্যামিবা' কী ধরনের প্রাণী?
  1. কেন্দ্রীয় প্রতিসাম্য
  2. অরীয় প্রতিসাম্য
  3. অপ্রতিসাম্য
  4. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য
সঠিক উত্তর:
অপ্রতিসাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপ্রতিসাম্য
ব্যাখ্যা

• অ্যামিবা একটি এককোষী প্রাণী যার কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই। ক্ষণপদের সাহায্যে এটি প্রতিনিয়ত আকার পরিবর্তন করে বলে একে কোনো অক্ষ বা তল বরাবর দুটি সমান অংশে ভাগ করা যায় না, তাই এটি অপ্রতিসাম্য প্রাণীর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

• অ্যানিমেল ডাইভারসিটি বা প্রাণি বৈচিত্র্য:
- প্রকৃতির বিভিন্ন অঞ্চলে সাফল্যমণ্ডিতভাবে বংশবিস্তার করে টিকে থাকার উদ্দেশ্যে প্রাণি প্রজাতিগুলোর বহিঃঅঙ্গসংস্থান ও অন্তঃঅঙ্গসংস্থান, আকার, আকৃতি, প্রকৃতি ইত্যাদি প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করে অভিযোজিত হওয়ার ফলে প্রাণীদের মধ্যে যে বৈচিত্র্যময়তার উদ্ভব ঘটে, তাকে প্রাণিবৈচিত্র্য বলে।

প্রতিসাম্য:
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে।
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
ক. গোলীয় প্রতিসাম্য:
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus).
খ. অরীয় প্রতিসাম্য:
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে খ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus).
গ. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য:
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa).
ঘ. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য:
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica).
ঙ. অপ্রতিসাম্য:
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus).

 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

.
মানবদেহের কোন অঙ্গে পিত্তরস উৎপন্ন হয়?
  1. প্যানক্রিয়াস
  2. যকৃত
  3. প্লীহা
  4. কিডনি
সঠিক উত্তর:
যকৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যকৃত
ব্যাখ্যা

• যকৃত:
- যকৃত হলো দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
- পেটের উপরিভাগে ডানদিকে যকৃত অবস্থিত।
- প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের শরীরে যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি।
- যকৃত থেকে পিত্তরস নামক এক প্রকার রস নিঃসৃত হয়ে যকৃতনালীর মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে এসে পিত্তথলিতে জমা হয়।
- পিত্তনালীর মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে।
- যকৃতকে শরীরের জৈব রসায়নাগার বলে।

• যকৃতের কাজ:
- যকৃত অতিরিক্ত গ্লুকোজ ও গ্লাইকোজেনকে চর্বিরূপে জমা রাখে।
- যকৃত অতিরিক্ত এমাইনো এসিডকে ইউরিয়ায় পরিণত করে।
- যকৃত ভিটামিন A, D, E, K ও ফলিক এসিড সঞ্চয় করে।
- যকৃতের হেপাটোসাইট কোষ অনবরত পিত্তরস তৈরি করে পিত্তথলিতে জমা করে।
- যকৃত কোলেস্টেরল উৎপাদন করে।
- যকৃত দেহ থেকে বিভিন্ন রোগজীবাণু অপসারিত করে।
- এছাড়াও যকৃত চর্বি ও কোলেস্টেরল পরিপাক ও শোষণে সহায়তা করে।

উৎস:গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
সূর্য থেকে উদ্ভিদের পাতায় পৌঁছানো আলোর কত অংশ সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়?
  1. ১-২%
  2. ১০-১২%
  3. ৫০-৬০%
  4. ৬-১০%
সঠিক উত্তর:
১-২%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১-২%
ব্যাখ্যা

• সালোক সংশ্লেষণ:
- যে উদ্ভিদ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্য্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোক সংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।
 
- সালোক সংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে (১) আলো, (২) ক্লোরোফিল, (৩) পানি ও (৪) কার্বন ডাই- অক্সাইড।
- সূর্য হতে যে আলো পৃথিবীতে আসে তার যে অংশ উদ্ভিদের পাতায় পতিত হয় সে অংশের শতকরা ১ থেকে ২ ভাগ মাত্র সালোক সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়, বাকী ৯৮ থেকে ৯৯ ভাগ সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত হয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে অথবা কিছু অংশ তাপ শক্তি রূপে শোষিত হয়।
- বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন এর মতে সূর্যের আলো এ পৃথিবীতে আসে তড়িৎ চুম্বকীয় বিচ্ছুরিত রশ্মি বা তরঙ্গ হিসাবে এবং সৌর শক্তি ফোটন (photon) নামক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কনিকাসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- সূর্যের যে আলো পৃথিবীতে আসে তা বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের হয়।
- তরঙ্গ দৈর্ঘ্য মিটার, সেন্টিমিটার, ন্যানোমিটার, মিলিমাইক্রন এবং অ্যাংস্ট্রম হিসাবে প্রকাশ করা হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

.
দ্বিপদ নামকরণের জনক কে?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  3. গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
  4. রবার্ট হুক
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা

সুইডিশ প্রকৃতিবিদ ক্যারোলাস লিনিয়াস ১৭৫৩ সালে তার 'Species Plantarum' গ্রন্থে উদ্ভিদের এবং ১৭৫৮ সালে 'Systema Naturae' গ্রন্থের ১০ম সংস্করণে প্রাণীর দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি প্রবর্তন করেন। এই পদ্ধতিতে একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ (গণ ও প্রজাতি) নিয়ে গঠিত হয়।
- এই বৈপ্লবিক কাজের জন্য তাকে দ্বিপদ নামকরণের জনক বলা হয়।

• দ্বিপদ নামকরণ: 
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিতে জীববিজ্ঞানের একটী স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা। 

- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যাারিস্টটল, জন রে এবং ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতি বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। 
- ক্যারোলাস লিনিয়াসই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়। 
- এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo Sapiens. 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

অন্যান্য অপশন:
- অ্যারিস্টটল: জীববিজ্ঞানের জনক বলা হলেও তিনি আধুনিক দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি প্রবর্তন করেননি।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেল: তিনি বংশগতিবিদ্যার জনক হিসেবে পরিচিত এবং মটরশুঁটি নিয়ে গবেষণার জন্য বিখ্যাত।
- রবার্ট হুক: তিনি সর্বপ্রথম কোষ আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত কিন্তু নামকরণের জনক নন।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

.
অ্যালভিওলাই মানবদেহের কোন অঙ্গের অংশ?
  1. পেশীতন্ত্র
  2. পরিপাকতন্ত্র
  3. শ্বসনতন্ত্র
  4. স্নায়ুতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
শ্বসনতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বসনতন্ত্র
ব্যাখ্যা

• অ্যালভিওলাই ফুসফুসের প্রধান কার্যকরী একক যা সরাসরি বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগের কাজ সম্পন্ন করে। এটি শ্বসনতন্ত্রের অন্যতম প্রধান অংশ।

• শ্বসনতন্ত্র (Respiratory system):
- নাসারন্ধ্র, গলবিল, ল্যারিংস, ট্রাকিয়া, ব্রঙ্কাস, ব্রঙ্কিওল, অ্যালভিওলাই এবং একজোড়া ফুসফুস নিয়ে মানুষের শ্বসনতন্ত্র গঠিত।
- এই তন্ত্র পরিবেশ থেকে গৃহীত অক্সিজেনের সাহায্যে মানুষের দেহের সঞ্চিত খাদ্য থেকে জারণ প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদন করে।
- এ শক্তি দেহের দৈনন্দিন কাজে সহায়তা করে।

অন্যদিকে,
-  কঙ্কাল পেশী, মসৃণ পেশী এবং হৃদপেশী নিয়ে পেশীতন্ত্র গঠিত।
- মুখগহ্বর, পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র এবং বৃহদান্ত্র নিয়ে পরিপাকতন্ত্র গঠিত।
- মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড এবং করোটিক স্নায়ু নিয়ে স্নায়ুতন্ত্র গঠিত।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম কোনটি?
  1. Mangifera indica
  2. Nymphaea nouchali
  3. Oryza sativa
  4. Artocarpus heterophyllus
সঠিক উত্তর:
Nymphaea nouchali
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Nymphaea nouchali
ব্যাখ্যা

• শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম হলো Nymphaea nouchali। এটি Nymphaeaceae পরিবারের একটি উদ্ভিদ।

• দ্বিপদ নামকরণ:
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়।
- প্রথম অংশটি তার গণের নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি তার প্রজাতির নাম।
-  যেমন: গোল আলুর বৈজ্ঞানিক নাম Solanum tuberosum।
- এখানে Solanum গণ নাম এবং tuberosum প্রজাতির নাম বুঝায়, এরূপ দুটি পদ নিয়ে গঠিত নামকে দ্বিপদ নাম।
- এবং নামকরণের প্রক্রিয়াকে দ্বিপদ নামকরণ (binomial nomenclature) পদ্ধতি বলে।
- দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির লক্ষ্য একটাই, তা হচ্ছে এই বৈচিত্র্যময় জীবজগতের প্রতিটি জীবকে আলাদা নামে সঠিকভাবে জানা।
- 1753 সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস Species plantarum বইটি রচনা করেন।
- এই বইটি উদ্ভিদবিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে।
- কারণ এর প্রকাশনার মাধ্যমে তিনি দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির প্রবর্তন করেন এবং গণ ও প্রজাতির সংজ্ঞা দেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
জীববৈচিত্র্যকে কয়টি স্তরে ভাগ করা যায়?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা

• জীববৈচিত্র্যক বা Biodiversity মূলত তিন ভাগে বা স্তরে ভাগ করা হয়েছে।
- যথা: ১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity), ২। বংশগতীয় বৈচিত্র্য (Genetical diversity) এবং ৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity)।

প্রজাতিগত বৈচিত্র্য:
- এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ের ভিন্নতাই হলো প্রজাতিগত বৈচিত্র্য।
- সাধারণভাবে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের মোট প্রজাতির সংখ্যাকেই বোঝায়। যেমন- বাঘের সাথে হরিণের আকার, স্বভাব, হিংস্রতা, সংখ্যা, বৃদ্ধির ধরন ইত্যাদি ভিন্ন হয়।

বংশগতীয় বৈচিত্র্য:
- এ বৈচিত্র্যতার কারণ হচ্ছে জিনের মাধ্যমেই জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চালিত হয়।
- প্রাণিদেহের প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদা আলাদা জীন দায়ী।
- বিভিন্ন কারণে এ জীনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন হয়ে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটায় এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়। এ বংশানুক্রমিক প্রক্রিয়ায় জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য ঘটে তাকেই বংশগতীয় বৈচিত্র্য বলা হয়।

বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য:
- একটি বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান ও জৈবিক উপাদানগুলোর মধ্যে কোন প্রকার পরিবর্তন দেখা দিলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে।
- এ পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য সেখানে বসবাসরত জীবের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- এ পরিবর্তনের জন্য যে জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকেই বলা হয় বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য।
যেমন- একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে যে সব উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসতি গড়ে উঠে তা নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে ভিন্নতর।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোন জাতীয় খাদ্যের কারণে মূত্রের অম্লতা বৃদ্ধি পায়?
  1. খনিজ লবণ
  2. প্রোটিন
  3. কার্বোহাইড্রেট
  4. ফলের রস
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
ব্যাখ্যা

• প্রোটিন জাতীয় খাদ্য বিপাকের ফলে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড এবং ফসফরিক এসিডের মতো অম্লীয় উপাদান তৈরি হয়, যা মূত্রের অম্লতা বাড়িয়ে দেয়।

• রেচন পদার্থ:
- রেচন পদার্থ বলতে মূলত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থকে বোঝায়।
- মানবদেহের রেচন পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে আসে।
- স্বাভাবিক মূত্রের ভর হিসেবে প্রায় 95% হলো পানি।
- অন্যান্য উপাদানের মধ্যে আছে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ও বিভিন্ন ধরনের লবণ।
- ইউরোক্রোম নামে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতিতে মূত্রের রং হালকা হলুদ হয়।
- আমিষ-জাতীয় খাদ্য খেলে মূত্রের অম্লতা বৃদ্ধি পায়।
- আবার ফলমূল এবং তরিতরকারি খেলে সাধারণত ক্ষারীয় মূত্র তৈরি হয়।

• বৃক্ক (Kidney):
- মানবদেহের উদরগহ্বরের পিছনের অংশে, মেরুদণ্ডের দুদিকে বক্ষপিঞ্জরের নিচে পিঠ-সংলগ্ন অবস্থায় দুটি বৃক্ক অবস্থান করে।
- প্রতিটি বৃক্ক দেখতে শিমবিচির মতো এবং এর রং লালচে হয়।
- বৃক্কের বাইরের পার্শ্ব উত্তল এবং ভিতরের পার্শ্ব অবতল হয়।
- বৃক্ক সম্পূর্ণরূপে এক ধরনের তন্তুময় আবরণ দিয়ে বেষ্টিত থাকে, একে রেনাল ক্যাপসুল বলে।
- বৃক্কের ইউরিনিফেরাস নালিকার ক্ষরণকারী অংশ এবং কাজ করার একককে নেফ্রন বলে।

অন্যান্য অপশন:
- খনিজ লবণ দেহের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য রক্ষা করে এবং এটি সরাসরি মূত্রের অম্লতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ নয়।
- কার্বোহাইড্রেট বিপাকের ফলে মূলত শক্তি উৎপন্ন হয় এবং এর উপজাতগুলো মূত্রের অম্লতায় বিশেষ প্রভাব ফেলে না।
- ফলের রস বিপাকের পর শরীরে ক্ষারীয় অবশিষ্টাংশ তৈরি করে যা মূত্রকে অম্লীয় করার পরিবর্তে ক্ষারীয় করে তোলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০.
DNA কাটা হয় কী দ্বারা?
  1. ইলেকট্রন
  2. সূক্ষ ইলেকট্রিক ছুরি
  3. লাইগেজ এনজাইম
  4. রেস্ট্রিকশন এনজাইম
সঠিক উত্তর:
রেস্ট্রিকশন এনজাইম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেস্ট্রিকশন এনজাইম
ব্যাখ্যা

• রেস্ট্রিকশন এনজাইম (Restriction Enzyme):
- রেস্ট্রিকশন এনজাইম (Restriction Endonuclease) হল এক ধরনের এনজাইম, যা নির্দিষ্ট নিউক্লিওটাইড সিকোয়েন্স (Recognition Site) চিনে DNA কেটে ছোট টুকরোয় বিভক্ত করে।
- Escherichia coli একটি জনপ্রিয় রেস্ট্রিকশন এনজাইম।
- রেস্ট্রিকশন এনজাইমকে (Restriction Enzyme) আণবিক কাঁচি (Molecular Scissors) বলা হয়।

• ব্যবহার:
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ DNA কাটার জন্য।
- DNA ক্লোনিং ও রিকম্বিনেন্ট DNA (rDNA) প্রযুক্তিতে।
- PCR ও জেল ইলেকট্রোফোরেসিস পরীক্ষায়।
- DNA টেস্টিং পরিক্ষায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।

১১.
পরাগরেণুর নিউক্লিয়াস কোন প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়? 
  1. মিয়োসিস
  2. মাইটোসিস
  3. অ্যামাইটোসিস
  4. মেটামরফোসিস
সঠিক উত্তর:
মাইটোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইটোসিস
ব্যাখ্যা

• পরাগরেণু একটি হ্যাপ্লয়েড কোষ। হ্যাপ্লয়েড কোষের নিউক্লিয়াস যখন সংখ্যাবৃদ্ধি করে বা বিভাজিত হয়, তখন তা মাইটোসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ঘটে। এই বিভাজনের ফলে পরাগরেণুর ভেতরে জনন নিউক্লিয়াস ও নালী নিউক্লিয়াস সৃষ্টি হয়।

- পরাগরেণু হচ্ছে পুংগ্যামিটোফাইটের প্রথম কোষ।
-  পরাগরেণুর হ্যাপ্লয়েড (n) নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে দুটি অসম নিউক্লিয়াস গঠন করে।
-  এদের বড়টিকে বলা হয় নালিকা পরাগধানীর প্রাচীর ফেঁটে গেলে সাধারণত এ দ্বি-নিউক্লিয়াসযুক্ত পরাগরেণু বাইরে বেরিয়ে আসে।
- এ পরাগরেণু বিভিন্ন বাহকের মাধ্যমে স্ত্রীকেশরের গর্ভমুন্ডে পতিত হয় এবং পরাগায়ন ঘটায়। 

অন্যান্য অপশন:
- মিয়োসিস: পরাগরেণু নিজে হ্যাপ্লয়েড হওয়ায় এতে পুনরায় হ্রাসমূলক বিভাজন ঘটা সম্ভব নয়।
- অ্যামাইটোসিস: এটি মূলত অতি নিম্নশ্রেণির এককোষী জীবের সরাসরি বিভাজন পদ্ধতি যা উন্নত উদ্ভিদে দেখা যায় না।
- মেটামরফোসিস: এটি প্রাণীর দৈহিক রূপান্তর প্রক্রিয়া যা কোষ বিভাজনের কোনো পদ্ধতি নয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১২.
আদিকোষে পাওয়া যায়-
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  3. রাইবোজোম
  4. প্লাস্টিড
সঠিক উত্তর:
রাইবোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইবোজোম
ব্যাখ্যা

• আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ (Prokaryotic cell) :
- এ ধরনের কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস (nucleus) থাকে না।
- এজন্য এদের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষও বলা হয়।
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস কোনো পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে না, তাই নিউক্লিও-বস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে।
- এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না।
- তবে রাইবোজোম থাকে।
- ক্রোমোজোমে কেবল DNA থাকে।
- নীলাভ সবুজ শৈবাল বা ব্যাকটেরিয়ায় এ ধরনের কোষ পাওয়া যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩.
নিচের কোনটিকে 'জৈব মুদ্রা' বলা হয়?
  1. ATP
  2. DNA
  3. Chlorophyll
  4. NADP
সঠিক উত্তর:
ATP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ATP
ব্যাখ্যা

• ATP-কে 'জৈবমুদ্রা' বা 'শক্তি মুদ্রা' (Biological coin or energy coin) বলা হয়।
- ATP (Adenosine Triphosphate) অণুর মধ্যে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন ফসফেট বন্ধনী থাকে যা ভেঙে প্রয়োজনীয় জৈবিক শক্তি নির্গত হয়। এই শক্তি কোষে জমা থাকে এবং প্রয়োজনের সময় খরচ হয় বলে একে জৈব মুদ্রা বা শক্তি মুদ্রা বলা হয়।

• ATP(অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট):
- DNA এবং RNA-এর গাঠনিক উপাদানগুলোর একটি হলো অ্যাডেনিন।
- এটি একটি নাইট্রোজেন বেস। এর সাথে পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ সুগার অণু যুক্ত হয়ে তৈরি হয় অ্যাডিনোসিন।
- অ্যাডিনোসিন অণুর সাথে পর্যায়ক্রমে একটি, দুটি এবং তিনটি ফসফেট/ফসফোরিক এসিড গ্রুপ যুক্ত হয়ে যথাক্রমে অ্যাডিনোসিন মনোফসফেট (AMP), অ্যাডিনোসিন ডাইফসফেট (ADP) এবং অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট (ATP) গঠন করে।
- ATP-এর রাসায়নিক বন্ধন ভেঙে যে শক্তি বের হয়, সেই শক্তি দিয়ে জীবদেহের প্রতিটি জৈবনিক কাজ অর্থাৎ, মাংসপেশির সংকোচন থেকে ইন্দ্রিয়ানুভূতি, খাবার খাওয়া থেকে হজম করা, নিঃশ্বাস নেওয়া থেকে কথা বলা, চিৎকার করা থেকে হাসি-কান্না, দৈহিক বৃদ্ধি থেকে প্রজনন, দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখা থেকে শুরু করে দেহের প্রতিটি কোষের স্বাভাবিক আয়তন বজায় রাখা- এর সবই সম্পন্ন হয়।
- আমরা যে খাবার খাই তা জারিত হয়, সেই জারণ থেকে নির্গত শক্তি দ্বারা ফসফোরাইলেশনের মাধ্যমে আবার সেই ভাঙা দুই টুকরা জোড়া লেগে ATP তৈরি হয়।
- শক্তির প্রয়োজন হলে তা আবার ভাঙে।
- তারপর খাদ্য থেকে শক্তি নিয়ে আবার জোড়া লাগে।
- এ যেন এক রিচার্জেবল ব্যাটারি। ATP শক্তি জমা করে রাখে এবং প্রয়োজন অনুসারে অন্য বিক্রিয়ায় শক্তি সরবরাহ করে।
- এজন্য ATP-কে অনেক সময় 'জৈবমুদ্রা' বা 'শক্তি মুদ্রা' (Biological coin or energy coin) বলা হয়।

অন্যান্য অপশনগুলোর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা, ফসফেট এবং চার ধরণের নাইট্রোজেন বেস নিয়ে DNA গঠিত।
- ম্যাগনেসিয়াম পরমাণু এবং পোরফাইরিন রিং নামক জটিল রাসায়নিক কাঠামো নিয়ে ক্লোরোফিল গঠিত।
- ভিটামিন বি৩ বা নিয়াসিন থেকে উদ্ভূত কো-এনজাইম কাঠামো নিয়ে NADP গঠিত।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪.
কোনটি আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ?
  1. চন্দ্রমল্লিকা
  2. শসা
  3. ডালিয়া
  4. লেটুস
সঠিক উত্তর:
শসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শসা
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে করা হয়:
• আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ (Day Neutral Plant):
- পুষ্পায়নে দিনের আলো কোনো প্রভাব ফেলে না। যেমন: শসা, সূর্যমুখী।
• ছোটদিনের উদ্ভিদ (Short Day Plant):
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে 8-12 ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। যেমন: চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া।
• বড়দিনের উদ্ভিদ (Long Day Plant):
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে 12-16 ঘণ্টা আলো প্রয়োজন।যেমন: লেটুস।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫.
রক্তের লাল রঙের জন্য কোন পদার্থ দায়ী? 
  1. হিমোগ্লোবিন 
  2. প্লাজমা 
  3. লিউকোসাইট 
  4. বিলিরুবিন
সঠিক উত্তর:
হিমোগ্লোবিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমোগ্লোবিন 
ব্যাখ্যা

• হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকায় অবস্থিত একটি লৌহঘটিত প্রোটিন রঞ্জক। এই প্রোটিনে আয়রন বা লোহা থাকায় এটি অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন গঠন করে, যার ফলে রক্ত উজ্জ্বল লাল দেখায়।

• রক্ত: 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬.
নিচের কোনটি ফল ও বীজ উৎপাদনে প্রধান ভূমিকা পালন করে?
  1. ইথিলিন
  2. অক্সিন
  3. সাইটোকাইনিন
  4. অ্যাবসিসিক অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
অক্সিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিন
ব্যাখ্যা

• অক্সিন (Auxins):
- ফল ও বীজ উৎপাদনে প্রধান ভূমিকা পালন করে অক্সিন।
- সার্থক পলিনেশনের পরপরই গর্ভাশয়ে অক্সিন তৈরি বেড়ে যায়।
- পরাগনালিকা যখন বাড়তে থাকে তখন পরাগনালিকা হতে একপ্রকার এনজাইম নিঃসৃত হয়, যার প্রভাবে ট্রিপটোপাফ্যান অক্সিন এ পরিবর্তিত হয়।

অক্সিনের শারীরবিজ্ঞানিক প্রভাব:
১। অক্সিনের প্রভাবে কোষ দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পায়।
২। অক্সিন উদ্ভিদ কর্তৃক অধিক পানি গ্রহণে সহায়তা করে। 
৩। অক্সিন শীর্ষমুকুলের বৃদ্ধিতে প্রাধান্য সৃষ্টি করে। 
৪। অক্সিন মূল সৃষ্টি সূচনা করে। এতে মূলের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
৫। পরাগায়ন ও নিষেক ছাড়া ফল সৃষ্টিতে অব্জিন সহায়তা করে।
৬। অক্সিন শ্বসনের হার বৃদ্ধি করে।
৭। অক্সিনের প্রভাবে পাতা ও ফলের বোঁটায় অ্যাবসিশন স্তর সৃষ্টিতে বাধার সৃষ্টি হয়, তাই পাতা ও ফল ঝরে যায় না।

অন্যদিকে,
- ইথিলিন: এটি একমাত্র গ্যাসীয় হরমোন যা ফল পাকানোর পাশাপাশি পাতা ও ফুলের ঝরে পড়াকে ত্বরান্বিত করে।
- সাইটোকাইনিন: এটি কোষের জরা বা বার্ধক্য রোধ করে এবং মূলত ডিএনএ সংশ্লেষণে অংশ নেয়।
- অ্যাবসিসিক অ্যাসিড: এটি প্রতিকূল পরিবেশে (যেমন- খরা) স্টোমাটা বন্ধ করে উদ্ভিদের পানি হ্রাস কমায়।

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

১৭.
বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয়- 
  1. Evolution 
  2. Entomology
  3. Ethology
  4. Mycology
সঠিক উত্তর:
Evolution 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Evolution 
ব্যাখ্যা

• বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয়- Evolution. 
- Evolution বা বিবর্তনবিদ্যা জীববিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা যেখানে সময়ের সাথে জীবের বংশগতিমূলক বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন এবং নতুন প্রজাতির উৎপত্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়। চার্লস ডারউইন এই ধারার প্রধান প্রবক্তা।
 
অন্যদিকে, 
- পতঙ্গ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Entomology।
- প্রাণীর আচরণ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Ethology।
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Mycology।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

১৮.
নিচের কোনটি C3 উদ্ভিদ নয়?
  1. টমেটো
  2. ভুট্টা
  3. ধান
  4. গম
সঠিক উত্তর:
ভুট্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুট্টা
ব্যাখ্যা

• ভুট্টা (Maize) একটি C4 উদ্ভিদ।

• সালোকসংশ্লেষণের গতিপথ:
- কার্বন ডাইঅক্সাইড হতে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কার্বোহাইড্রেট সৃষ্টির তিনটি স্বীকৃত গতিপথ আবিষ্কৃত হয়েছে।
যথা- (ক) ক্যালভিন চক্র (খ) হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র এবং (গ) CAM পথ। 

ক্যালভিন চক্র: 
- ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বনবিশিষ্ট তাই এ চক্রকে C3 চক্রও বলা হয়। 
- যে সব উদ্ভিদে C3 চক্র বর্তমান তাদেরকে C3 উদ্ভিদ বলা হয়।
- পৃথিবীর অধিকাংশ উদ্ভিদই C3 উদ্ভিদ।
- যেমন: ধান, গম, পাট, বেগুন, টমেটো ইত্যাদি।

হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র: 
- হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্রে প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো অ্যাসিটিক এসিড। তাই একে C4 চক্রও বলা হয়। 
- যে সব উদ্ভিদে এ চক্র চলে তাদেরকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়।
- যেমন: ইক্ষু, ভুট্টা, মুথা ঘাস, কাটানটে, ডাটাশাক ইত্যাদি।

CAM পথ: 
- CAM চক্র C3 ও C4 চক্র হতে ভিন্নতর। 
- এটি প্রথমে ক্রাসিলুসি গোত্রের উদ্ভিদসমূহে পরিলক্ষিত হয়, তাই একে CAM চক্র বলে। 
- CAM উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র দিনে বন্ধ এবং রাতে খোলা থাকে। 
- অধিকাংশ মরুজ উদ্ভিদ CAM জাতীয় উদ্ভিদ। 
- শুষ্ক পরিবেশে আনারস গাছে C4 চক্র চলে কিন্তু পর্যাপ্ত পানি পেলে C3 চক্র চলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও সিংহ-এর মধ্যে কোন ধরনের বৈচিত্র্য বিদ্যমান? 
  1. জিনগত বৈচিত্র্য 
  2. স্বভাবগত বৈচিত্র্য 
  3. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য 
  4. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য 
সঠিক উত্তর:
প্রজাতিগত বৈচিত্র্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজাতিগত বৈচিত্র্য 
ব্যাখ্যা

জীব-বৈচিত্র্য: 
- পৃথিবীতে জীবের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই প্রাণীর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়। 
- প্রাণীগুলোর মধ্যে কোনোটি এতোই ছোট যে এদের খালি চোখে দেখা যায় না, আবার কোনোটি আকারে বড় তাই খালি চোখে দেখা যায়। 
- এদের মধ্যে কোনোটি মানুষের জন্য উপকারি, কোনোটি ক্ষতিকর। 
- এদের স্বভাব, বৈচিত্র্য, আবাস স্থলের ভিন্নতা ও দলগতভাবে এদের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়। 
- তাই প্রাণিদের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞান থাকা অতীব প্রয়োজনীয়। 
 
প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity): 
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে। 
- প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়।
যথা- 
১। জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity): 
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।
আবার মানুষ (Homo sapiens) একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। 
 
২। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity): 
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
- একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। 
- যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) ও সিংহ (Panthera leo) একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে। 
 
৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity): 
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়। 
যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি । 
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে। 
যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২০.
সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে কী বলে? 
  1. ক্রোমোপ্লাস্ট 
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. লিউকোপ্লাস্ট 
  4. ক্রোমাটোপ্লাস্ট
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা

• ক্লোরোফিল নামক সবুজ রঞ্জক পদার্থ ধারণকারী প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলা হয়। এটি উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরিতে সরাসরি সাহায্য করে।

প্লাস্টিড: 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- 
 ১। ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 
 
২। ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- ক্রোমোপ্লাস্টগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটি হলুদ, কোনটি নীল আবার কোনটি লাল দেখায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। 
 
৩। লিউকোপ্লাস্ট: 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি), সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২১.
শ্বসন প্রক্রিয়ার কোন ধাপ মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঘটে না?
  1. অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি
  2. ইলেকট্রন প্রবাহ তন্ত্র
  3. গ্লাইকোলাইসিস
  4. ক্রেবস চক্র
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোলাইসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোলাইসিস
ব্যাখ্যা

• শ্বসন ক্রিয়ার ধাপ চারটি: গ্লাইকোলাইসিস, অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি, ক্রেবস চক্র এবং ইলেকট্রন প্রবাহ তন্ত্র।
- এর প্রথম ধাপ (গ্লাইকোলাইসিসের বিক্রিয়াগুলো) মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঘটে না।
- তবে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপ মাইটোকন্ড্রিয়ার মধ্যেই সম্পন্ন হয়।

মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria):
- মাইটোকন্ড্রিয়া দুই স্তরবিশিষ্ট আবরণী বা ঝিল্লি দিয়ে ঘেরা।
- ভিতরের স্তরটি ভিতরের দিকে আঙ্গুলের মতো ভাঁজ হয়ে থাকে।এদের ক্রিস্টি (cristae) বলে।
- ক্রিস্টির গায়ে বৃন্তযুক্ত গোলাকার বস্তু থাকে, এদের অক্সিজোম (oxisomes) বলে।
- অক্সিজোমে উৎসেচকগুলো (enzymes) সাজানো থাকে।
- মাইটোকন্ড্রিয়নের (এক বচন) ভিতরে থাকে ম্যাট্রিক্স (matrix)।
- জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ। 
- শ্বসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ক্রেবস চক্র (তৃতীয় ধাপ) মাইটোকন্ড্রিয়াতেই সম্পন্ন হয়।
- ক্রেবস চক্রে সবচেয়ে বেশি শক্তি উৎপাদিত হয়।
- এজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের 'শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র' বা 'পাওয়ার হাউস' বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২২.
নিচের কোনটি DNA ভাইরাস?
  1. র‍্যাবিস
  2. ভ্যারিওলা
  3. HIV
  4. TMV
সঠিক উত্তর:
ভ্যারিওলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্যারিওলা
ব্যাখ্যা

• ভ্যারিওলা (Variola) হলো একটি DNA ভাইরাস যা গুটিবসন্ত বা স্মলপক্স (Smallpox) রোগের সৃষ্টি করে।

• নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস দু' প্রকার।

যথা : (i) DNA ভাইরাস এবং (ii) RNA ভাইরাস।

• DNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- উদাহরণ- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা, TIV (Tipula Iridiscent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি ভাইরাস। Parvoviridae গোত্রের ভাইরাসের DNA একসূত্রক।

• RNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- উদাহরণ- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস।
- Reoviridae গোত্রের (রিওভাইরাস, ধানের বামন রোগের ভাইরাস) ভাইরাসের RNA দ্বিসূত্রক।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২৩.
AIDS রোগ প্রথম কোন দেশে চিহ্নিত হয়?
  1. আমেরিকা
  2. ব্রাজিল
  3. চীন
  4. জাপান
সঠিক উত্তর:
আমেরিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমেরিকা
ব্যাখ্যা

• এইডস রোগ: 
- সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রোগ হচ্ছে ‘এইডস’ (AIDS)। 
- এটি একটি সংক্রামক রোগ। 
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। 
- আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। 
- প্রাকৃতিক নিয়মে সব মানুষের দেহেই রোগ-জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে, একে ইমিউনিটি বলা হয়। 
- রক্তের লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি প্রস্তুতের মাধ্যমে জীবাণুর আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে যা AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ধীরে ধীরে এই ক্ষমতা কমতে থাকে। 

- এই কারণে এ রোগটির নাম দেওয়া হয়েছে- AIDS ( Acquired Immune Deficiency Syndrome)। 
- এটি এক ধরনের ভাইরাস, যার নাম Human Immunodeficiency Virus (HIV), এটি AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে। 
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। 
- দেহের রক্তস্রোতে প্রবেশ করার পর HIV রক্তের শ্বেত কণিকার T- লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করে, যার ফলে দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। 
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। 
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। 
- প্রধাণত যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়, মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে সদ্যোজাত শিশুর দেহে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে, এছাড়াও রক্ত সঞ্চালন কিংবা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ সঞ্চারিত হতে পারে। 
- AIDS প্রতিরোধ করার সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয় হলো, HIV সংক্রমণ কীভাবে ঘটে সে সম্পর্কে সবাইকে শিক্ষা দেওয়া। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৪.
নিচের কোনটি সরল টিস্যুর উদাহরণ নয়?
  1. কোলেনকাইমা টিস্যু
  2. ফ্লোয়েম টিস্যু
  3. প্যারেনকাইমা টিস্যু
  4. স্ক্লেরেনকাইমা টিস্যু 
সঠিক উত্তর:
ফ্লোয়েম টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লোয়েম টিস্যু
ব্যাখ্যা

• ফ্লোয়েম হলো একটি জটিল টিস্যু (Complex Tissue), যা একাধিক ধরণের কোষ (যেমন: সিভনল, সঙ্গী কোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা ও ফ্লোয়েম ফাইবার) নিয়ে গঠিত।
- অন্যদিকে সরল টিস্যুর সকল কোষ আকার ও আকৃতিতে অভিন্ন থাকে।

সরল টিস্যু (Simple tissue):
- যে স্থায়ী টিস্যুর প্রতিটি কোষ আকার, আকৃতি ও গঠনের দিক থেকে অভিন্ন, তাকে সরল টিস্যু বলে।
- কোষের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
- প্যারেনকাইমা,
- কোলেনকাইমা এবং
- স্ক্লেরেনকাইমা।

অন্যদিকে,
জটিল টিস্যু (Complex tissues):
- জটিল টিস্যু (Complex tissues) বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে।
- জটিল টিস্যু দুই ধরনের,
- জাইলেম এবং
- ফ্লোয়েম। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।