পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়18 minutes৩৪ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৩৫
সিলেবাস
বাংলা ব্যাকরণঃ ধ্বনি, বর্ণ, শব্দ, পদ, বাক্য, প্রত্যয় ও সন্ধি। সোর্সঃ যেকোনো গাইড বই, যেকোনো একাডেমিক ব্যক্তির বই এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৫ প্রশ্ন

.
বাংলা ভাষায় সান্ধ্যক্ষর কয়টি?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ১১টি
  3. গ) ২৫টি
  4. ঘ) ৩৯টি
সঠিক উত্তর:
গ) ২৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৫টি
ব্যাখ্যা
পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চরণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনি রূপে উচ্চারিত হয়। এ রূপে এক সঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বর, সন্ধিস্বর, সান্ধ্যক্ষর বা দ্বিস্বর বলা হয়। বাংলা ভাষায় ২৫টি যৌগিক স্বরধ্বনি রয়েছে। বাংলা বর্ণমালায় দ্বিস্বর বা যুগ্ম স্বরধ্বনির বা যৌগিক স্বরজ্ঞাপক দুটো বর্ণ রয়েছে : ঐ(অ + ই) এবং ঔ(অ + উ) বা (ও + উ)। উদাহরণ : কৈ, বৌ। অন্য যৌগিক স্বরের চিহ্ন স্বরূপ কোনো বর্ণ নেই।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
.
‘র’-বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনিকে বলা হয়-
  1. ক) পার্শ্বিক ধ্বনি
  2. খ) অনুনাসিক ধ্বনি
  3. গ) তাড়নজাত ধ্বনি
  4. ঘ) কম্পনজাত ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
ঘ) কম্পনজাত ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কম্পনজাত ধ্বনি
ব্যাখ্যা
কম্পনজাত ধ্বনি: ‘র’-বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি জিহ্বার অগ্রভাগকে কম্পিত করে এবং দন্তমূলকে একাধিক বার দ্রুত আঘাত করে উচ্চারিত হয়। জিহ্বাগ্রকে কম্পিত করা হয় বলে এ ধ্বনিকে কম্পনজাত ধ্বনি বলা হয়।
পার্শ্বিক ধ্বনি: ‘ল’-বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগকে মুখের মাঝামাঝি দন্তমূলে ঠেকিয়ে রেখে জিহ্বার এক বা দু পাশ দিয়ে মুখবিবর থেকে বায়ু বের করে দেওয়া হয়। দু পাশ দিয়ে বায়ু নিঃসৃত হয় বলে একে পার্শ্বিক ধ্বনি বলা হয়।
তাড়নজাত ধ্বনি: ‘ড়’ ও ‘ঢ়’- বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি জিহ্বার অগ্রভাগের তলদেশ দ্বারা অর্থাৎ উল্টো পিঠের দ্বারা ওপরের দন্তমূলে দ্রুত আঘাত বা তাড়না করে উচ্চারিত হয়। এজন্য এদেরকে তাড়নজাত ধ্বনি বলে।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
.
নিচের কোনটিতে অ-ধ্বনির সংবৃত উচ্চারণ হয়েছে?
  1. ক) প্রত্যয়
  2. খ) প্রভাত
  3. গ) প্রতিভা
  4. ঘ) প্রণাম
সঠিক উত্তর:
গ) প্রতিভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রতিভা
ব্যাখ্যা
অ-ধ্বনির স্বাভাবিক উচ্চারণ হলো বিবৃত উচ্চারণ। এরূপ উচ্চারণে চোয়াল বেশি ফাঁক হলেও সে তুলনায় ঠোট তত গোল বা বাঁকা হয় না। যেমনঃ কলম, অটল, গঠিত, কথা, অমানিশা, প্রণাম, প্রত্যয়, প্রভাত প্রভৃতি।
অ-ধ্বনি যখন ও-ধ্বনির মতো উচ্চারিত হয় তখন তাকে সংবৃত উচ্চারণ বলে। এরূপ উচ্চারণে চোয়ালের ফাঁক কম ও ঠোঁট গোলাকৃত হয়ে ‘ও’- এর মতো উচ্চারিত হয়। যেমনঃ অতি (ওতি), প্রতিভা (প্রোতিভা), করুণ (কোরুণ), যাবতীয় (যাবতীয়ো)।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
.
নিচের কোন বর্ণের দ্যোতিত ধ্বনি অঘোষ অল্পপ্রাণ?
  1. ক) খ
  2. খ) জ
  3. গ) ষ
  4. ঘ) ভ
সঠিক উত্তর:
গ) ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ষ
ব্যাখ্যা
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয়, তাদের ঘোষ ধ্বনি এবং যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না তাদের অঘোষ ধ্বনি বলে। ১ম ও ২য় বর্গের ধ্বনি সমূহ অঘোষ ধ্বনি এবং ৩য়, ৪র্থ এবং ৫ম বর্গের ধ্বনিসমূহ হলো ঘোষ ধ্বনি।
অন্যদিকে যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে, তাদের মহাপ্রাণ ধ্বনি এবং যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে না, তাদের অল্পপ্রাণ ধ্বনি বলে। ১ম ও ৩য় বর্গের ধ্বনি সমূহ অল্পপ্রাণ ধ্বনি এবং ২য় ও ৪র্থ বর্গের ধ্বনিসমূহ হলো মহাপ্রাণ ধ্বনি।
এছাড়া শ, ষ, স- এই তিনটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অঘোষ অল্পপ্রাণ, ‘হ’ ঘোষ মহাপ্রাণ।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
.
ধ্বনির উচ্চারণ বিধি অনুসারে কেন্দ্রীয় নিম্নাবস্থিত স্বরধ্বনি কোনটি?
  1. ক) অ
  2. খ) এ
  3. গ) অ্যা
  4. ঘ) আ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আ
ব্যাখ্যা
বাংলা আ- ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা সাধারণত শায়িত অবস্থায় থাকে এবং কণ্ঠের দিকে আকৃষ্ট হয় এবং মুখের সম্মুখ ও পশ্চাৎ অংশের মাঝামাঝি বা কেন্দ্রস্থানীয় অংশে অবস্থিত বলে আ-কে কেন্দ্রীয় নিম্নাবস্থিত স্বরধ্বনি এবং বিবৃত স্বরধ্বনিও বলা হয়। বাংলায় আ- ধ্বনির উচ্চারণ অনেকটা ইংরেজি শব্দ ‘a’ এর মত।
এছাড়া অ-নিম্নাবস্থিত পশ্চাৎ স্বরধ্বনি, এ- মধ্যবস্থিত সম্মুখ স্বরধ্বনি, অ্যা- নিম্নাবস্থিত সম্মুখ স্বরধ্বনি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
.
‘বহিষ্কার’ শব্দের যুক্তব্যঞ্জনে কোন কোন বর্ণ রয়েছে?
  1. ক) স্‌ + ক
  2. খ) ক্‌ + স
  3. গ) ক্‌ + ষ
  4. ঘ) ষ্‌ + ক
সঠিক উত্তর:
ঘ) ষ্‌ + ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ষ্‌ + ক
ব্যাখ্যা
‘বহিষ্কার’ শব্দের সংযুক্ত ব্যঞ্জন বর্ণ: ষ্ক = ষ্‌ + ক (যেমন: শুষ্ক, পরিষ্কার ইত্যাদি)। এছাড়া সংযুক্ত ব্যঞ্জন বর্ণ স্ক = স্‌ + ক (যেমন: স্কুল, স্কন্ধ ইত্যাদি), ক্ষ = ক্‌ + ষ (যেমন: বক্ষ, রক্ষা, শিক্ষা ইত্যাদি), ক্স = ক্‌ + স (যেমন: বাক্স)।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
.
‘ফাল্গুন > ফাগুন’ ধ্বনির কোন ধরনের পরিবর্তন?
  1. ক) সম্প্রকর্ষ
  2. খ) ধ্বনিচ্যুতি
  3. গ) অন্তর্হতি
  4. ঘ) ব্যঞ্জন বিকৃতি
সঠিক উত্তর:
গ) অন্তর্হতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অন্তর্হতি
ব্যাখ্যা
অন্তর্হতি: পদের মধ্যে কোন ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি। যেমনঃ ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি।
ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি: পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়। এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি। যেমন- বউদিদি > বউদি, বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।
ব্যঞ্জন বিকৃতি: শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। যেমন-কবাট > কপাট, ধােবা > ধােপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।
সম্প্রকর্ষ: দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোন ধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ। যেমনঃ বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
.
ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) লাল > নাল
  2. খ) চাকরি > চারকি
  3. গ) শরীর > শরীল
  4. ঘ) কবাট > কপাট
সঠিক উত্তর:
খ) চাকরি > চারকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চাকরি > চারকি
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের সময় শব্দের কোনাে কোনাে ধ্বনির স্থান পরিবর্তন হলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। একে বর্ণ বিপর্যয়ও বলা হয়।
যেমন- নকশা > নশকা, কলমি > কমলি, পিশাচ > পিচাশ, বাক্স > বাসক, রিক্সা > রিসকা, লাফ > ফাল, তলােয়ার > তরােয়াল, চাকরি > চারকি, লােকসান > লােসকান, তুলতুলা > লুতলুতা, এক্সিডেন্ট > এস্কিডেন্ট ইত্যাদি।
অপরদিকে, শব্দের মধ্যে কোনাে ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যদি কোনাে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়, তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে।
যেমন- ধােবা > ধােপা, কবাট > কপাট, ধাইমা > দাইমা, শাক > শাগ ইত্যাদি।
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন- লাল > নাল, শরীর > শরীল ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর]
.
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে-
  1. ক) অভিশ্রুতি
  2. খ) স্বরসঙ্গতি
  3. গ) সমীভবন
  4. ঘ) অপিনিহিতি
সঠিক উত্তর:
খ) স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। যেমনঃ দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, শিকা > শিকে, মুলা > মুলো ইত্যাদি।
অপরদিকে, বিপর্যস্থ স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে। যেমনঃ শুনিয়া > শুনে, বলিয়া > বলে, মাছুয়া > মেছো, হাটুয়া > হাউটা।
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে। যেমনঃ সত্য > সইত্য, আজি > আইজ, চারি > চাইর, সাধু > সাউধ, বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।
শব্দমধ্যস্থ দুটি ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন। যেমন - জন্ম > জম্ম, কাঁদনা > কান্না, সত্য > সচ্চ, বিদ্যা > বিজ্জা ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর]
১০.
‘উনান’ কোন ধরনের শব্দ?
  1. ক) দেশি
  2. খ) অর্ধ-তৎসম
  3. গ) তদ্ভব
  4. ঘ) বিদেশি
সঠিক উত্তর:
গ) তদ্ভব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তদ্ভব
ব্যাখ্যা
তদ্ভব শব্দের উদাহরণ: আজ, ওঝা, উনান, কনুই, ঘর, চাকা, চামার, ঢাক, ভাত, নুন, বাছা, সাঁঝ, হাত ইত্যাদি।
অর্ধতৎসম শব্দের উদাহরণ: বোষ্টম, ছেরাদ্দ, গিন্নী, কুচ্ছিত, চম্মআর, ভত্ত, লোণ, হত্থ, খিদে, চন্দর, নেমন্তন্ন, পত্তর, পিরিতি, মিত্তির, সুরুজ ইত্যাদি।
দেশি শব্দ: কুলা, গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর, ডাব, ডাগর, ঢেঁকি, কুড়ি, পেট, চুলা, ঝাঁটা, ঝোল, টক, তেতুল, জলপাই, ঝিঙ্গে ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা(ড. সৌমিত্র শেখর)]
১১.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. ক) চামার
  2. খ) বহূ
  3. গ) ডাগর
  4. ঘ) বৎস
সঠিক উত্তর:
ঘ) বৎস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বৎস
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দ: জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, গৃহিণী, বৈষ্ণব, কুৎসিত, চন্দ্র, ভবন, ধর্ম, মনুষ্য, পাত্র, নক্ষত্র, ক্ষুধা, সূর্য, পদ্ম, ক্ষমা, অন্ন, নিমন্ত্রণ, চন্দ্র, স্বামী, পত্র, খাদ্য, বৎস, অস্তি, অদ্য, অর্ধ, ইন্দ্রাগার, উপাধ্যায়, ঊষ্ণাপন, করোতি, কথয়তি, কার্য, গৃহ, চক্র, চর্মকার, বধূ, ভক্ত, মিথ্যা, লবণ, হস্ত, স্তম্ভ ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা(ড. সৌমিত্র শেখর)]
১২.
কোনটি দেশি শব্দ নয়?
  1. ক) ঢেউ
  2. খ) টোপর
  3. গ) ঝাঁটা
  4. ঘ) বোষ্টম
সঠিক উত্তর:
ঘ) বোষ্টম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বোষ্টম
ব্যাখ্যা
দেশি শব্দ: কুলা, গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর, ডাব, ডাগর, ঢেঁকি, কুড়ি, পেট, চুলা, ঢেউ, ঝাঁটা, ঝোল, টক, তেতুল, জলপাই, ঝিঙ্গে ইত্যাদি।
অর্ধতৎসম শব্দের উদাহরণ: বোষ্টম, ছেরাদ্দ, গিন্নী, কুচ্ছিত, চম্মআর, ভত্ত, লোণ, হত্থ, খিদে, চন্দর, নেমন্তন্ন, পত্তর, পিরিতি, মিত্তির, সুরুজ ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা(ড. সৌমিত্র শেখর)]
১৩.
‘চুরুট’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. ক) তামিল
  2. খ) বার্মিজ
  3. গ) চিনা
  4. ঘ) পাঞ্জাবি
সঠিক উত্তর:
ক) তামিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তামিল
ব্যাখ্যা
তামিল শব্দ- চুরুট বা চুরট।
বার্মিজ (মায়ানমার) শব্দ- লুঙ্গি, ফুঙ্গি ইত্যাদি।
চিনা শব্দ- চা, চিনি, সাম্পান, লিচু, লুচি ইত্যাদি।
পাঞ্জাবি ভাষা থেকে আগত শব্দ- চাহিদা,শিখ ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা(ড. সৌমিত্র শেখর)]
১৪.
নিচের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়?
  1. ক) কুলটা
  2. খ) রাজ্ঞী
  3. গ) অসূর্যম্পশ্যা
  4. ঘ) অর্ধাঙ্গিনী
সঠিক উত্তর:
খ) রাজ্ঞী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাজ্ঞী
ব্যাখ্যা
কতগুলো শব্দের পুরুষবাচক হয় না। এদের নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলা হয়।
যেমন- সতীন, সৎমা, সধবা, এয়ো, দাই, কুলটা, বিধবা, সপত্নি, অসূর্যম্পশ্যা, অর্ধাঙ্গিনী, অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ- ঢাকী, কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার ইত্যাদি।
রাজ্ঞী- এর পুরুষবাচক শব্দ রাজা।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
১৫.
‘ঠিক যেন তোর মতো, তোর নামে নাম।’ বাক্যটিতে কি ধরনের বিশেষণের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বিশেষণের বিশেষণ
  2. খ) বিশেষ্যের বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) অব্যয়ের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়ের বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়ের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে ভাব-বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে। যথা-
ধিক্ তারে, শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন।
ঠিক যেন তোর মতো, তোর নামে নাম।
তুমি তো প্রায় পাগলের মতো দৌড়াচ্ছ।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
১৬.
আত্মবাচক সর্বনাম পদ কোনটি?
  1. ক) আমি
  2. খ) কেউ
  3. গ) নিজে
  4. ঘ) যিনি
সঠিক উত্তর:
গ) নিজে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিজে
ব্যাখ্যা
আত্মবাচক সর্বনাম পদ- স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম পদ - কোন, কেহ, কেউ, কিছু ইত্যাদি।
সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম পদ- যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা।
ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম পদ- আমি, তুমি, আমরা, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী]
১৭.
নিচের কোনটি ভাববাচক বিশেষ্য পদ?
  1. ক) সৌন্দর্য
  2. খ) তারুণ্য
  3. গ) উন্মাদনা
  4. ঘ) স্বাস্থ্য
সঠিক উত্তর:
গ) উন্মাদনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উন্মাদনা
ব্যাখ্যা
যে বিশেষ্য পদে কোন ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- গমন, দর্শন, ভোজন, দেখা, শোনা, শয়ন, উন্মাদনা, তৃপ্তি, অস্থিরতা ইত্যাদি।
যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোন বস্তুর গুণ বা দোষের নাম বোঝায়, তাকেই গুণবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- মধুরতা, তারল্য, তিক্ততা, সৌরভ, যৌবন, স্বাস্থ্য, তারুণ্য, সৌন্দর্য ইত্যাদি।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
১৮.
‘ঘিয়ের চেয়ে দুধ বেশি উপকারী।’ এই বাক্যে ‘বেশি’ হল-
  1. ক) বাক্যের বিশেষণ
  2. খ) ক্রিয়া বিশেষণ
  3. গ) বিশেষণীয় বিশেষণ
  4. ঘ) বিশেষ্যের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষণীয় বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষণীয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যথা- সামান্য একটু দুধ দাও। রকেট অতি দ্রুত চলে। ঘিয়ের চেয়ে দুধ বেশি উপকারী।
(বাংলা শব্দে দুটি বস্তুর মধ্যে অতিশায়নে জোর দিতে হলে মূল বিশেষণের আগে অনেক, অধিক, বেশি, অল্প, কম, অধিকতর প্রভৃতি বিশেষণীয় বিশেষণ যোগ করতে হয়।)
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী]
১৯.
নিচের কোনটি বিদেশী অব্যয় শব্দ?
  1. ক) কদাপি
  2. খ) খুব
  3. গ) দৈবাৎ
  4. ঘ) পুনশ্চ
সঠিক উত্তর:
খ) খুব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) খুব
ব্যাখ্যা
যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে। বাংলা ভাষায় (উত্স অনুযায়ী) তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে- বাংলা, তৎসম এবং বিদেশী অব্যয় শব্দ।
বাংলা অব্যয় শব্দঃ আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।
তৎসম অব্যয় শব্দঃ যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি।
বিদেশী অব্যয় শব্দঃ আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী]
২০.
‘সংশয়ে সংকল্প সদা টলে, পাছে লোকে কিছু বলে।’ পঙক্তিটিতে ‘পাছে’ কোন ধরনের অব্যয়?
  1. ক) পদান্বয়ী অব্যয়
  2. খ) সমুচ্চয়ী অব্যয়
  3. গ) অনুসর্গ অব্যয়
  4. ঘ) অনন্বয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
অনন্বয়ী অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সাথে সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। ‘সংশয়ে সংকল্প সদা টলে পাছে লোকে কিছু বলে। পঙক্তিটিতে ‘পাছে’ অনন্বয়ী অব্যয়। এটি সম্ভাবনা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী]
২১.
‘যশস্বী’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) যশঃ + নীন্‌
  2. খ) যশঃ + ষ্ণি
  3. গ) যশঃ + বিন্‌
  4. ঘ) যশঃ + ইন্‌
সঠিক উত্তর:
গ) যশঃ + বিন্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যশঃ + বিন্‌
ব্যাখ্যা
আছে অর্থে বিশেষণ গঠনে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বিন্‌(বী) ব্যবহৃত হয়। যথাঃ মেধা + বিন্‌ = মেধাবী, মায়া + বিন্‌ =মায়াবী, যশঃ +বিন্‌= যশস্বী ইত্যাদি।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী]
২২.
‘ঘরামি’ শব্দে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়টি কি অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ভাব অর্থে
  2. খ) জাত অর্থে
  3. গ) নিন্দা জ্ঞাপনে
  4. ঘ) বৃত্তি (জীবিকা) অর্থে
সঠিক উত্তর:
ঘ) বৃত্তি (জীবিকা) অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বৃত্তি (জীবিকা) অর্থে
ব্যাখ্যা
বৃত্তি(জীবিকা) অর্থে ‘আমি’ প্রত্যয় যোগে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ ঘরামি (ঘর + আমি)।
ভাব অর্থে ‘আমি’ প্রত্যয় যোগে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ ইতরামি, পাগলামি, চোরামি, বাঁদরামি ইত্যাদি।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী]
২৩.
‘কার্য’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √কৃ + য
  2. খ) √কৃ + য্য
  3. গ) √কৃ + ঘ্যণ্‌
  4. ঘ) √কৃ + ণক
সঠিক উত্তর:
গ) √কৃ + ঘ্যণ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) √কৃ + ঘ্যণ্‌
ব্যাখ্যা
কর্ম ও ভাব বাচ্যে ঘ্যণ্‌ হয়। যথা- √কৃ + ঘ্যণ্‌ = কার্য্য> কার্য। যথা- √ধৃ + ঘ্যণ্‌ = ধার্য। এরূপ- পরিহার্য, বাচ্য, ভোজ্য, যোগ্য, হাস্য ইত্যাদি।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী]
২৪.
হিন্দি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ-
  1. ক) বাজিকর
  2. খ) দারোয়ান
  3. গ) সওদাগর
  4. ঘ) চৌকিদার
সঠিক উত্তর:
খ) দারোয়ান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দারোয়ান
ব্যাখ্যা
হিন্দি ‘ওয়ান > আন’ তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ দারোয়ান।
ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ বাজিকর (গর > কর), সওদাগর (গর > কর), চৌকিদার(দার)।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী]
২৫.
নিচের কোনটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. ক) প্রাচ্য
  2. খ) কাব্য
  3. গ) কুলীন
  4. ঘ) নন্দন
সঠিক উত্তর:
ঘ) নন্দন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নন্দন
ব্যাখ্যা
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ: √নন্দি+ অন = নন্দন।
তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ: প্রাচী + য = প্রাচ্য; কবি + য = কাব্য; কুল + নীন > ঈন = কুলীন।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর]
২৬.
নিচের কোনটি সরল বাক্য নয়?
  1. ক) স্নেহময়ী জননী স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালবাসেন।
  2. খ) মা ছিলনা বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।
  3. গ) তার দর্শনমাত্রই আমরা প্রস্থান করলাম।
  4. ঘ) মিথ্যা কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থকে, তাকে সরল বাক্য বলে।যেমন-
- স্নেহময়ী জননী স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালবাসেন;
- ‘তার দর্শনমাত্রই আমরা প্রস্থান করলাম’;

- ‘মা ছিলনা বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’। জটিল বাক্য
- ‘মিথ্যা কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি’ এটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ।

[অপশনে একাধিক উত্তর থাকায় উত্তরের ইনপুট তুলে দেয়া হলো।]

[সূত্র :উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি : ড. হায়াৎ মাহমুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি]
২৭.
‘মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।’- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) খন্ড বাক্য
  2. খ) সরল বাক্য
  3. গ) মিশ্র বাক্য
  4. ঘ) যৌগিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
দুই বা তার বেশি সরল বা জটিল বাক্য সংযোজক বা বিয়োজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়ে একটি দীর্ঘ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে। যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, কিংবা, বরং, তথাপি ইত্যাদি অব্যয়যোগে সংযুক্ত থাকে। ‘মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে’- এটি যৌগিক বাক্য। এর সরল রূপঃ মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি]
২৮.
‘মহার্ঘ’ শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) মৈঃ+ অর্ঘ
  2. খ) মহা+অর্ঘ
  3. গ) মহাঃ+অর্ঘ
  4. ঘ) মৌ+ অর্ঘ
সঠিক উত্তর:
খ) মহা+অর্ঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মহা+অর্ঘ
ব্যাখ্যা
অ কার কিংবা আ কারের পর অ কার কিংবা আ কার থাকলে উভয় মিলে আ কার হয়, আ কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। যথাঃ মহা+অর্ঘ= মহার্ঘ(আ+অ= আ)। এরূপ যথা+অর্থ= যথার্থ ,আশা+অতীত= আশাতীত, কথা+অমৃত= কথামৃত ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি]
২৯.
‘অত্যধিক’ শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ-
  1. ক) অতি+ধিক
  2. খ) অত্যা+অধিক
  3. গ) অতি+অধিক
  4. ঘ) অত্যা+ধিক
সঠিক উত্তর:
গ) অতি+অধিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অতি+অধিক
ব্যাখ্যা
ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ছাড়া অন্য কোন স্বরধ্বনি থাকলে ই বা ঈ ‘য’ হয় এবং য- ফলা পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন- অতি+অধিক = অত্যধিক, অতি+অন্ত = অত্যন্ত, প্রতি+অহ = প্রত্যহ, আদি+অন্ত = আদ্যন্ত, যদি+অপি = যদ্যপি, পরি+অন্ত = পর্যন্ত। এরূপ- প্রত্যাশা, প্রত্যাবর্তন, অত্যাশ্চর্য, অত্যুক্তি,অভূত্থান, অগ্নুৎপাত, প্রত্যুপকার ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি]
৩০.
নিচের কোনটি অন্তঃসন্ধি?
  1. ক) পবিত্র
  2. খ) বিদ্যালয়
  3. গ) উল্লিখিত
  4. ঘ) শুভেচ্ছা
সঠিক উত্তর:
ক) পবিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পবিত্র
ব্যাখ্যা
অন্তঃসন্ধি: যে সন্ধি অর্থজ্ঞাপনকারী কোনো শব্দ নয়, কোনো ধ্বনি, অব্যয়, উপসর্গ, বা ওই জাতীয় শব্দাংশ বা ধ্বনিসমষ্টির সমন্বয়ে সৃষ্টি হয়। যেমন- পো+ ইত্র > পবিত্র। এখানে পো বা ইত্র-র কোনো পৃথক অর্থ নেই। অনুরূপ- ভক্ত, মুগ্ধ, দুগ্ধ ইত্যাদি।
বহিঃসন্ধি: দুটি পৃথক অর্থ বিশিষ্ট শব্দ একত্র বসে যে সন্ধি হয়। যেমন- বিদ্যা+আলয়> বিদ্যালয়।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর]
৩১.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি নয়?
  1. ক) পরস্পর
  2. খ) ষড়ানন
  3. গ) মনীষা
  4. ঘ) একাদশ
সঠিক উত্তর:
খ) ষড়ানন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ষড়ানন
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনসন্ধি(ব্যঞ্জনধ্বনি+স্বরধ্বনি): ক, চ, ট, ত, প থাকলে এবং তাদের পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ, জ, ড (ড়), দ, ব হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন- ষট্+আনন = ষড়ানন।
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি গুলো হলো- ষট্ + দশ = ষোড়শ, মনীষা = মনস + ঈষা, বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি, আশ্চর্য = আ+ চর্য, পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি, তস্কর = তৎ + কর, বনস্পতি = বন + পতি, পরস্পর = পর + পর, একাদশ = এক + দশ ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
৩২.
“তিরোধান” শব্দটি কোন সন্ধির মাধ্যমে গঠিত হয়েছে?
  1. ক) স্বরসন্ধি
  2. খ) ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. গ) বিসর্গ সন্ধি
  4. ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ
সঠিক উত্তর:
গ) বিসর্গ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিসর্গ সন্ধি
ব্যাখ্যা
বিসর্গ সন্ধি(বিসর্গ ও ব্যঞ্জনের সন্ধি): ‘অ’-কারের পরিস্থিত স-জাত বিসর্গের পর ঘোষ ধ্বনি, নাসিক্য ধ্বনি কিংবা অন্তস্থ য, অন্তস্থব, র, ল, হ থাকলে অ-কার ও স-জাত বিসর্গ উভয় স্থলে ও-কার হয়। যেমনঃ তিরোধান = তিরঃ + ধান, মনোরম = মনঃ + রম, মনোহর = মনঃ + হর, তপোবন = তপঃ + বন।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি]
৩৩.
‘শুদ্ধোদন’ কোন ধরনের সন্ধি?
  1. ক) স্বরসন্ধি
  2. খ) ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. গ) বিসর্গ সন্ধি
  4. ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি: প্র+ঊঢ় = প্রৌঢ়, অন্য+অন্য =অন্যান্য, শুদ্ধ+ ওদন = শুদ্ধোদন, গো+ অক্ষ = গবাক্ষ, কুল+অটা = কুলটা, মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর]
৩৪.
‘ভালো করে পড়লে সফল হবে।’- বাক্যটিতে ক্রিয়ার কোন ভাব প্রকাশ পেয়েছে?
  1. ক) নির্দেশক ভাব
  2. খ) অনুজ্ঞা ভাব
  3. গ) সাপেক্ষ ভাব
  4. ঘ) আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব
সঠিক উত্তর:
গ) সাপেক্ষ ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাপেক্ষ ভাব
ব্যাখ্যা
সাপেক্ষ ভাবঃ একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন - ভালো করে পড়লে সফল হবে (উদ্দেশ্য বোঝাতে), যদি সে পড়ত তবে পাশ করত (সম্ভাবনায়), আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি]
৩৫.
‘হাট-বাজার’ মিশ্র শব্দটি কোন দুটি ভাষা থেকে আগত শব্দের মিশ্রনে গঠিত?
  1. ক) তৎসম+ফারসি
  2. খ) বাংলা+ফারসি
  3. গ) ফারসি+আরবি
  4. ঘ) তৎসম+আরবি
সঠিক উত্তর:
ক) তৎসম+ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তৎসম+ফারসি
ব্যাখ্যা

হাট - {(তৎসম বা সংস্কৃত) হট্ট>}
বাজার - {(ফারসি) বাজার}
অর্থাৎ, হাট-বাজার শব্দটি তৎসম+ফারসি শব্দের মিশ্রণে গঠিত।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।

উল্লেখ্য, নবম দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বইতে এটা ভুল দেয়া আছে।
দুইটি ভিন্ন ধরনের শব্দ সমাসবদ্ধ হয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে একত্রিত হলে ওই নতুন শব্দটিকে বলা হয় মিশ্র শব্দ।
বোর্ড বই থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিশ্র শব্দের উদাহরণ দেয়া হল -
রাজা-বাদশা (তৎসম+ফারসি),
হেড-মৌলভি (ইংরেজি+ফারসি),
হেড-পন্ডিত (ইংরেজি+তৎসম),
খ্রিষ্টাব্দ (ইংরেজি+তৎসম),
ডাক্তার-খানা (ইংরেজি+ফারসি),
পকেট-মার (ইংরেজি+বাংলা),
চৌ-হদ্দি (ফারসি+আরবি) ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি]