পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্সতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
Bangla - 03: সন্ধি, সমাস, পদ-প্রকরণ, উপসর্গ, অনুসর্গ।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
'শয়ন' কোন বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) গুণবাচক বিশেষ্য
  2. খ) সাধারণ বিশেষ্য
  3. গ) নামবাচক বিশেষ্য
  4. ঘ) ভাববাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাববাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাববাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাকে বিশেষ্য পদ বলে।

বিশেষ্যপদ ছয় প্রকার:
১. সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য,
২. জাতিবাচক বিশেষ্য,
৩. বস্তুবাচক বিশেষ্য,
৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য,
৫. ভাববাচক বিশেষ্য,
৬. গুণবাচক বিশেষ্য।

• যে বিশেষ্য পদ দ্বারা ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন: গমন, শয়ন, ভোজন, দর্শন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি সন্ধির বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) পদক্রম অনেক সময় ভিন্নরূপ হয়।
  2. খ) দুই পদের মাঝে অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়।
  3. গ) প্রত্যেক শব্দের অর্থ বজায় থাকে।
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ) প্রত্যেক শব্দের অর্থ বজায় থাকে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রত্যেক শব্দের অর্থ বজায় থাকে।
ব্যাখ্যা
- সন্ধির বৈশিষ্ট্য হলো: প্রত্যেক শব্দের অর্থ বজায় থাকে।

• সন্ধির কিছু বৈশিষ্ট্য হলো:

১. পাশাপাশি ব্যবহৃত দুটি ধ্বনির বা বর্ণের মিলনকে সন্ধি বলে । যেমন— দিক্ + অন্ত = দিগন্ত, পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ।
২. সন্ধিতে প্রত্যেক শব্দের অর্থ বজায় থাকে।
৩. সন্ধির মিলন মূলত উচ্চারণগত বা ধ্বনির মিলন।
৪. সন্ধিতে পদ থেকে বিভক্তি লোপ পায় না, সংকুচিত হয়।
৫. সন্ধিতে শব্দগুলো ক্রম পরিবর্তিত না হয়ে যুক্ত হয়।
৬. সন্ধিতে দুই বর্ণের মধ্যে যোগ চিহ্ন (+) ব্যবহার করে দেখাতে হয়।
৭. সন্ধিতে কয়েকটি পদ মিলে একাকার হয়ে যায়। যেমন- আদি + অন্ত = আদ্যন্ত।
৮. সন্ধিতে ধ্বনি লোপ পায়।

উৎস:
১. বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ )।
২. প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
.
'ষোল আনা দখল'-এ 'ষোল আনা' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. ক) রূপবাচক বিশেষণ
  2. খ) অংশবাচক বিশেষণ
  3. গ) উপাদানবাচক বিশেষণ
  4. ঘ) অবস্থাবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
খ) অংশবাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অংশবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
নাম বিশেষণ : যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ :
ক. রূপবাচক : নীল আকাশ, কালো মেঘ;
খ. গুণবাচক : দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক : তাজা মাছ, রোগা ছেলে;
ঘ. সংখ্যাবাচক : হাজার লোক, দশ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক : দশম শ্রেণি, প্রথমা কন্যা;
চ. পরিমাণবাচক : পাঁচ শতাংশ ভূমি, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক : অর্ধেক সম্পত্তি, সিকি পথ;
জ. উপাদানবাচক : বেলে মাটি, মেটে কলসি।
ঝ. প্রশ্নবাচক : কতদূর পথ, কেমন অবস্থা;
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক : এই লোক, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।  
.
নিচের কোনটি সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ?
  1. ক) দিক + আন্ত = দিগন্ত
  2. খ) দিগ + অন্ত = দিগন্ত
  3. গ) দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত
  4. ঘ) দিগ + আন্ত = দিগন্ত
সঠিক উত্তর:
গ) দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত
ব্যাখ্যা
- দিগন্ত শব্দটির সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ 'দিক্‌+অন্ত = দিগন্ত'।

- সন্নিহিত দুইটি ধ্বনির মিলনের নাম সন্ধি:
- যেমন: আশা + অতীত = আশাতীত;

গুরুত্বপূর্ণ কিছু সন্ধি;
- সুপ + অন্ত = সুবন্ত;
- ষট্‌ + আনন = ষড়ানন;
- অনু + এষণ = অন্বেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ?
  1. ক) মহা + ঔষধি = মহৌষধি
  2. খ) মহা + ঔষধ = মহৌষধ
  3. গ) বন + ঔষধি = বনৌষধি
  4. ঘ) পরম + ওষধ = পরমৌষধ
সঠিক উত্তর:
খ) মহা + ঔষধ = মহৌষধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মহা + ঔষধ = মহৌষধ
ব্যাখ্যা

নিয়ম অনুযায়ী- 
• অ - কার কিংবা আ - কারের পর ও-কার কিংবা ঔ - কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ - কার হয়;
• ঔ - কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।

যেমন -

• পরমৌষধ = পরম + ঔষধ (অ + ঔ = ঔ);
• মহৌষধ = মহা + ঔষধ (আ + ঔ = ঔ);
• মহৌষধি = মহা + ওষধি (আ + ও = ঔ);
• বনৌষধি = বন + ওষধি (অ + ও = ঔ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।

.
গাছে টসটসে ফল দেখা যায়। বাক্যে টসটসে কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য পদ
  2. খ) বিশেষণ পদ
  3. গ) অব্যয় পদ
  4. ঘ) সর্বনাম পদ
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ পদ
ব্যাখ্যা
বিশেষণ পদ
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।

বিশেষণ পদকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়।
যথা-
১. নাম বিশেষণ
২. ভাব বিশেষণ 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।  
.
'সজ্জন' সন্ধি বিচ্ছেদ নির্ণয় করুন।
  1. ক) সদ + জন
  2. খ) সদ্‌ + জন
  3. গ) সট + জন
  4. ঘ) সৎ + জন
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৎ + জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৎ + জন
ব্যাখ্যা
নিয়ম অনুযায়ী-
• ত্ ও দ্—এরপর জ্ ও ঝ্ থাকলে ত্ ও দ্—এর স্থানে জ্ হয়৷
যেমন-
• কুৎ + ঝটিকা = কুজ্ঝটিকা,
• বিপদ + জাল = বিপজ্জাল,
• সৎ + জন = সজ্জন৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
.
‘আজ্ঞা কর দাসে, শাস্তি নরাধমে।’- এখানে ‘দাস’ শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) সম্প্রদায় অর্থে
  2. খ) উপাস্য অর্থে
  3. গ) বিনয় প্রকাশে
  4. ঘ) তুচ্ছার্থে
সঠিক উত্তর:
গ) বিনয় প্রকাশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিনয় প্রকাশে
ব্যাখ্যা
অনেক সময় বাক্যে সর্বনামের বিশিষ্ট প্রয়োগ হয়ে থাকে। 
বিনয় প্রকাশে উত্তম পুরুষের এক বচনে দীন, অধম, বান্দা, সেবক, দাস প্রভৃতি শব্দ ব্যবহৃত হয়।
যেমন: ‘দীনের আরজ’।

এছাড়াও- 

• উপাস্যের প্রতি সাধারণত 'আপনি' স্থানে 'তুমি' ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন- 'প্রভু, তুমি রক্ষা কর এ দীন সেবকে।
• অভিনন্দন পত্রেও অনেক সময় সম্মানিত ব্যাক্তিকে 'তুমি' সম্বোধন করা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) হজ্বযাত্রা
  2. খ) বিদ্যাহীন
  3. গ) দেশসেবা
  4. ঘ) প্রাণাধিক
সঠিক উত্তর:
খ) বিদ্যাহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিদ্যাহীন
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
-  পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লােপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।

যেমন-

- বিদ্যা দ্বারা হীন= বিদ্যাহীন,
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদিত = বস্ত্রাচ্ছাদিত,
- লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা,
- ইন্দ্রিয় দ্বারা গ্রাহ্য = ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য,
- দৃষ্টি দ্বারা হীন = দৃষ্টিহীন,
- বাগ দ্বারা দত্তা = বাগদত্তা,
- মন দ্বারা গড়া = মনগড়া,
- শােক দ্বারা আর্ত = শােকার্ত।

এছাড়াও আরও কিছু তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- হজের জন্য যাত্রা = হজ্বযাত্রা, - চতুর্থী তৎপুরুষ।
- দেশের সেবা = দেশসেবা - ষষ্ঠী তৎপুরুষ।
- প্রাণের চেয়ে অধিক = প্রাণাধিক - পঞ্চমী তৎপুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. ক) কুলটা
  2. খ) পতঞ্জলি
  3. গ) মার্তণ্ড
  4. ঘ) অন্যান্য
সঠিক উত্তর:
খ) পতঞ্জলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পতঞ্জলি
ব্যাখ্যা
যে সকল ব্যঞ্জনসন্ধি কোনাে নিয়ম না মেনে, বরং নিয়মের ব্যতিক্রম করে সন্ধি হয়, তাদেরকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
- পতৎ +অঞ্জলি =পতঞ্জলি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি।
- এছাড়া আরো কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যাঞ্জনসন্ধির উদাহরণ-
•  আশ্চর্য, গোষ্পদ, বনস্পতি, বৃহস্পতি, তস্কর, পরস্পর, ষোড়শ, একাদশ, মনীষা ইত্যাদি।

অন্যদিকে-

• মার্তণ্ড (মার্ত + অণ্ড),
• কুলটা (কুল + অটা),
• গবাক্ষ (গো + অক্ষ),
• প্রৌঢ় (প্র + ঊঢ়),
• অন্যান্য (অন্য + অন্য),
• শুদ্ধোদন (শুদ্ধ + ওদন) ইত্যাদি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
১১.
ইতিহাস শব্দের 'ইতি' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) এ বা এর
  2. খ) বিশেষ
  3. গ) পুরানো
  4. ঘ) একান্ত
সঠিক উত্তর:
গ) পুরানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পুরানো
ব্যাখ্যা
- উপসর্গটি 'ইতিহাস' শব্দে 'পুরানো' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 
- উল্লেখিত 'ইতিহাস' শব্দের 'ইতি' হলো বাংলা উপসর্গ।

বাংলা উপসর্গ
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি : অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

নিচে এদের প্রয়োগ দেখানো হলো-
• ইতি —ইতিকর্তব্য, ইতিপূর্বে (এ বা এর অর্থে);
• ঊন (ঊনা) কম অর্থে ঊনপাঁজুরে, ঊনিশ;
• কদ্ (নিন্দিত) অর্থে কদবেল, কদর্য, কদাকার।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২.
‘এ ঘটনার পরে আর এখানে থাকা চলে না। নিম্নরেখ অনুসর্গটি কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) দীর্ঘ বিরতি অর্থে
  2. খ) পেছনে
  3. গ) স্বল্প বিরতি অর্থে
  4. ঘ) ভবিষ্যৎ অর্থে
সঠিক উত্তর:
গ) স্বল্প বিরতি অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্বল্প বিরতি অর্থে
ব্যাখ্যা
- 'পরে' অনুসর্গটি দুইটি অর্থে শব্দে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন-
"শরতের পরে আসে বসন্ত" এখানে 'পরে' অনুসর্গটি দীর্ঘ বিরতি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 
'এই ঘটনার পরে আর এখানে থাকা চলে না' এই বাক্যে স্বল্প বিরতি অর্থে 'পরে' অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩.
বিদেশি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) আমমোক্তার
  2. খ) কদর্য
  3. গ) নিখুঁত
  4. ঘ) উনপাঁজুরে
সঠিক উত্তর:
ক) আমমোক্তার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আমমোক্তার
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ ৩ প্রকার।
যথা-
- বাংলা উপসর্গ,
- তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশী উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১টি। যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
• তৎসম উপসর্গ ২০টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

আমমোক্তার = আরবি 'আম' উপসর্গযোগে গঠিত। 
আমমোক্তার শব্দে  'আম' উপসর্গটি 'সাধারণ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
কদর্য, নিখুঁত ও উনপাঁজুরে = বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪.
ঝম্‌ ঝম্‌ করে বৃষ্টি পড়ছে। বাক্যে 'বৃষ্টি পড়ছে' কোন ক্রিয়ার অন্তর্গত?
  1. ক) মিশ্র ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) নামধাতুর ক্রিয়া
  4. ঘ) প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক) মিশ্র ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মিশ্র ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
মিশ্র ক্রিয়া
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে, তাকে মিশ্র ক্রিয়া বলে।

যেমন–

বিশেষ্যের (পরে) : আমরা তাজমহল দর্শন করলাম; এখন গোল্লায় যাও। 
ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের পরে : ঝম্‌ ঝম্‌ করে বৃষ্টি পড়ছে।  

এছাড়াও-

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে একটি সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। 
যেমন:
নিরন্তরতা অর্থে: তিনি বলতে লাগলেন।
অনুমোদন অর্থে: এখন যেতে পার। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫.
'নির্ধন' শব্দের 'নির' উপসর্গ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বহির্মুখিতা
  2. খ) অভাব
  3. গ) নিশ্চয়তা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অভাব
ব্যাখ্যা
• 'নির্ধন' শব্দে 'নির' উপসর্গটি 'অভাব' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

এছাড়াও-
- নিরব, নির্জীব, নিরাশ্রয় ইত্যাদি শব্দ গুলোতে 'নির' উপসর্গ অভাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- নির্গত, নিঃসরণ, নির্বাসন শব্দগুলোতে 'নির' উপসর্গ বাহির/বহির্মুখিতা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- নির্ধারণ শব্দে “নির” উপসর্গটি ধারনের নিশ্চয়তা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
- নির্ণয়, নির্ভর শব্দগুলো ও একই নিয়ম মেনে চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
'সাপুড়ে সাপ খেলায়' এ বাক্যে ‘খেলায়’ কোন ক্রিয়া?
  1. ক) দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  2. খ) অসমাপিকা ক্রিয়া
  3. গ) সমাপিকা ক্রিয়া
  4. ঘ) প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রযোজক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অপরজন কর্তৃক সম্পাদিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া বলে।
প্রযোজক ক্রিয়া: যে ক্রিয়া প্রযোজনা করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
প্রযোজ্য কর্তা: যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।

যেমন:

মা (প্রযোজক কর্তা) শিশুকে (প্রযোজ্য কর্তা) চাঁদ দেখাচ্ছে(প্রযোজক ক্রিয়া)।
সাপুড়ে সাপ খেলায়।
মা শিশুটিকে হাসান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭.
'রাজার পক্ষে সব কিছুই সম্ভব।' - 'পক্ষে' অনুসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) নিকটে অর্থে
  2. খ) ব্যাপ্তি অর্থে
  3. গ) সক্ষমতা অর্থে
  4. ঘ) সহায় অর্থে
সঠিক উত্তর:
গ) সক্ষমতা অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সক্ষমতা অর্থে
ব্যাখ্যা
পক্ষে অনুসর্গটি দুইটি অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে। 
সেগুলো হলো:
সক্ষমতা অর্থে – রাজার পক্ষে সব কিছুই সম্ভব।
সহায় অর্থে – আসামির পক্ষে উকিল কে?

এইরকম আরও কিছু উদাহরণ হলো:
মাঝে:
মধ্যে অর্থে – ‘সীমার মাঝে অসীম তুমি'।
একদেশিক অর্থে – এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।
ক্ষণকাল অর্থে – নিমেষ মাঝেই সব শেষ।

মাঝারে:
ব্যাপ্তি অর্থে – ‘আছ তুমি প্রভু, জগৎ মাঝারে।”

কাছে:
নিকটে অর্থে – আমার কাছে আর কে আসবে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)
১৮.
'প্রাণের অপেক্ষা প্রিয় আর কী আছে? এখানে 'অপেক্ষা' কোন অনুসর্গ?
  1. ক) সংস্কৃত অনুসর্গ
  2. খ) বিবর্তিত অনুসর্গ
  3. গ) ফারসি অনুসর্গ
  4. ঘ) ক্রিয়া অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
ক) সংস্কৃত অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সংস্কৃত অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ 
• বাংলা ভাষায় এক ধরনের সহায়ক শব্দ বাক্যে অন্য কোন পদের পরে বসে পদটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে কিংবা বিভক্তির মত কাজ করে।
• এগুলো অনুসর্গ নামে পরিচিত।
• এদেরকে পরসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়ও শব্দ বলা হয়ে থাকে।

অনুসর্গ প্রধানত দুই প্রকার।
যথা- 
- নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ।
- ক্রিয়া অনুসর্গ।

নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা -
- সংস্কৃত অনুসর্গ: অপেক্ষা, অভিমুখ, উপরে, কর্তৃক, জন্য, দিকে ইত্যাদি।
- বিবর্তিত অনুসর্গ: আগে, কাছে, ছাড়া, তরে, পানে, পাশে, বই, ভেতর, মাঝে, সাথে, সামনে ইত্যাদি।
- ফারসি অনুসর্গ: দরুন, বদলে, বনাম, বাদে, বাবদ, বরাবর ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
১৯.
'ধনুষ্টঙ্কার' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) ধনু + টঙ্কার
  2. খ) ধনুঃ + টঙ্কার
  3. গ) ধনুষ + টঙ্কার
  4. ঘ) ধনুশ + টঙ্কার
সঠিক উত্তর:
খ) ধনুঃ + টঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধনুঃ + টঙ্কার
ব্যাখ্যা
• বিসর্গের পর অঘােষ অল্পপ্রাণ কিংবা মহাপ্রাণ তালব্য ব্যঞ্জন থাকলে বিসর্গের স্থলে তালব্য শিশ ধ্বনি হয়, অঘােষ অল্পপ্রাণ কিংবা অঘােষ মহাপ্রাণ মূর্ধন্য ব্যঞ্জন থাকলে বিসর্গ স্থলে মূর্ধন্য শিশ ধ্বনি হয়, অঘােষ অল্পপ্রাণ কিংবা অঘােষ মহাপ্রাণ দন্ত্য ব্যঞ্জনের স্থলে দন্ত্য শিশ ধ্বনি হয়।

যেমন -

• ঃ + চ/ছ = শ + চ /ছ
নিঃ + চয় = নিশ্চয়,
শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ। 

• ঃ + ট / ঠ = ষ + ট/ ঠ
ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার,
নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর।

• ঃ + ত/ থ = স + ত/ থ
দুঃ +থ = দুস্থ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।