পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন২১
সিলেবাস
Exam - 8 বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য Topic: ব্যাকরণ অংশ: ১. সন্ধি, সমাস, পদ-প্রকরণ, কারক-বিভক্তি, প্রকৃতি-প্রত্যয়, বাক্যের শেণি বিভাগ, ক্রিয়ার কাল ও ক্রিয়াপদ, বাক্য রূপান্তর, বাক্য শুদ্ধি, যতিচিহ্ন, বাচ্য ও উক্তি। সাহিত্য অংশ: ১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্যতীত আধুনিক যুগের সকল সাহিত্যিক। (লেখকদের জীবনী, গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে হবে)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২১ প্রশ্ন

.
"নদীর সদৃশ = উপনদী" কোন ধরনের সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. কর্মধারয়
  3. অব্যয়ীভাব
  4. তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
 পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়, তবে থাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রধান হয়।
যেমন:
- কূলের সমীপে = উপকূল;
- ভাষার সদৃশ = উপভাষা;
- নদীর সদৃশ = উপনদী;
- (আয়তনে) জেলার ক্ষুদ্র = উপজেলা;
- কণ্ঠের সমীপে= উপকণ্ঠ;
- কথার সদৃশ = উপকথা।

এরূপ, মন্ত্রীর সদৃশ = উপমন্ত্রী; অব্যয়ীভাব সমাসের দৃষ্টান্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ চিহ্নিত করুন: "দুশ্চিন্তা"
  1. দুঃ + চিন্তা
  2. দুঃ + চিন্ত
  3. দুশ + চিন্তা
  4. দুষ + চিন্তা
সঠিক উত্তর:
দুঃ + চিন্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃ + চিন্তা
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম / সূত্র:
পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ্ বা ছ্‌ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ্; ট্ বা ঠ্‌ থাকলে ষ; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।

• সন্ধিজাত শব্দগঠন:
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়।
- দুঃ + চিন্তা = দুশ্চিন্তা।
- নিঃ + ছিদ্র = নিশ্ছিদ্র।
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ।
- চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়।
- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার।
- নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর।
- ইতঃ + ততঃ = ইতস্তত।
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
"পাখি সব করে রব, রাতি পোহাইল" - এখানে 'পাখি' কোন কারক?
  1. কর্মকারক
  2. কর্তৃকারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা
কর্তা কারক: 
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে।  
- বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।
- কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।

- যেমন:
• গরুতে দুধ দেয়। 
• বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দিব কিসে?   
• গাঁয়ে মানে না, আপনি মোড়ল।

• "পাখি সব করে রব" – এখানে 'করে' শব্দটি ক্রিয়া, এবং 'পাখি' সেই সত্ত্বা, যা কাজটি করছে।
অতএব, 'পাখি' এই বাক্যে কর্তৃকারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'ঐচ্ছিক' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ঐচ্ছিক (বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- ইচ্ছানুরূপ,
- ইচ্ছানুযায়ী,
- ইচ্ছাধীন।

উল্লেখ্য, 
• 'ঐচ্ছিক' শব্দের বিপরীত শব্দ 'আবশ্যিক'।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
"যে বইটি আমি কিনেছি, সেটি খুব দামি।" - বাক্যটির সরল বাক্যের রূপ কোনটি?
  1. আমি যে বইটি কিনেছি, সেটি দামি।
  2. আমার কেনা বইটি খুব দামি।
  3. বইটি আমি কিনেছি এবং এটি খুব দামি।
  4. বইটি দামি।
সঠিক উত্তর:
আমার কেনা বইটি খুব দামি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার কেনা বইটি খুব দামি।
ব্যাখ্যা
• "যে বইটি আমি কিনেছি, সেটি খুব দামি।" - এই জটিল বাক্যের সরল বাক্যের রূপ হলো: "আমার কেনা বইটি খুব দামি।"

সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন - পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
----------------------------- 
• জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময় সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজককে বাদ দিতে হয়।
যেমন:
জটিল বাক্য: যে অন্ধ তাকে আলো দাও।
সরল বাক্য: অন্ধকে আলো দাও।

জটিল বাক্য: যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
সরল বাক্য: বিদ্বান সর্বত্র আদরণীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
.
আত্মবাচক সর্বনাম পদ কোনটি?
  1. কেউ
  2. স্বয়ং
  3. যাহারা
  4. আমি
সঠিক উত্তর:
স্বয়ং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বয়ং
ব্যাখ্যা
• আত্মবাচক সর্বনাম পদ- স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।

অন্যদিকে,
"কেউ" - অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম পদ।
"যাহারা" - সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম পদ।
"আমি" - ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী) (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. আমি সন্তুষ হলাম।
  2. সে তাকে দেখে চমৎকার হয়েছে।
  3. তাকে নির্বোধ প্রমাণ করতে সকলেই উদ্‌গ্রীব।
  4. নিন্দক ব্যক্তি সকল দেশেই আছে।
সঠিক উত্তর:
তাকে নির্বোধ প্রমাণ করতে সকলেই উদ্‌গ্রীব।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাকে নির্বোধ প্রমাণ করতে সকলেই উদ্‌গ্রীব।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: "তাকে নির্বোধ প্রমাণ করতে সকলেই উদ্‌গ্রীব।"

অন্য অপশনের শুদ্ধ বাক্য,
• আমি সন্তুষ হলাম। - আমি সন্তুষ্ট হলাম।
• সে তাকে দেখে চমৎকার হয়েছে। - সে তাকে দেখে চমৎকৃত হয়েছে। 
• নিন্দক ব্যক্তি সকল দেশেই আছে। - নিন্দুক সকল দেশেই আছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
.
কোনটি পুরাঘটিত বর্তমানের উদাহরণ?
  1. প্রতিদিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
  2. তারা বাড়িতে ফিরেছে।
  3. আমাদের পরীক্ষা চলছে।
  4. বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
সঠিক উত্তর:
তারা বাড়িতে ফিরেছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারা বাড়িতে ফিরেছে।
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত বর্তমান কাল: 
- ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলেও তার ফল এখনো বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।

বাকি অপশনগুলো হলো:
• প্রতিদিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম। - নিত্যবৃত্ত বর্তমান।
• আমাদের পরীক্ষা চলছে। - ঘটমান বর্তমান।
• বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম। - পুরাঘটিত অতীত।

উৎস:
১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
কোন যতিচিহ্নের বিরতি-কালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড'?
  1. হাইফেন
  2. লোপ চিহ্ন
  3. কোলন
  4. ব্র্যাকেট
সঠিক উত্তর:
কোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন
ব্যাখ্যা
• যেসব যতিচিহ্নের বিরতি কালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড'-
- দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস।

• থামার প্রয়োজন নেই -
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০.
‘নীল-দর্পণ’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
নীল-দর্পণ: 
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত নীল-দর্পণ নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে।
- নীল-দর্পণ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror'।
- অনুবাদটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত A Native ছদ্মনামে এই অনুবাদ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
"কামাল কর্তৃক উপন্যাসটি পঠিত হচ্ছে।" – এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তাবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্মবাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্মবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।

যেমন:
→ আমাকে আবৃত্তি করতে হয়েছে।
→ কামাল কর্তৃক উপন্যাসটি পঠিত হচ্ছে।
→ আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
→ আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১২.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. সে কানেতে শোনে না।
  2. আমার সন্তান যেন থাকে দুধ ভাতে।
  3. আমার এ পুস্তকের কোনো আবশ্যকতা নেই।
  4. নতুন নতুন ছেলেগুলো উতপাত করছে।
সঠিক উত্তর:
আমার এ পুস্তকের কোনো আবশ্যকতা নেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার এ পুস্তকের কোনো আবশ্যকতা নেই।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: "আমার এ পুস্তকের কোনো আবশ্যকতা নেই।"

অন্য অপশনের শুদ্ধ বাক্য,
• "সে কানেতে শোনে না।" - সে কানে শোনে না।
• "আমার সন্তান যেন থাকে দুধ ভাতে।" - আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে।
• "নতুন নতুন ছেলেগুলো উতপাত করছে।" - নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
কোন বাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. ভাববাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়। যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

অন্যদিকে,
• কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।
- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন: 
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

কর্মকর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
বিষয়টি ভালো শোনায় না।
বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪.
"উড়ানি" শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ উড়া + আনি 
  2. √ উড়্‌ + আনি 
  3. √ উড়ু + আনি 
  4. √ উড়্‌ + নি 
সঠিক উত্তর:
√ উড়্‌ + আনি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ উড়্‌ + আনি 
ব্যাখ্যা
• "উড়ানি" শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় - "√ উড়্‌ + আনি"।
------------------------- 
আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি-প্রত্যয়:
→ পরলোক + ষ্ণিক = পারলৌকিক।
→ সুভগ + ষ্ণ্য = সৌভাগ্য।
→ পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক।
→ সর্বভূমি + ষ্ণ = সার্বভৌম।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫.
"কমল আমাকে বলল, 'আমি এক্ষুণি আসছি।" - পরোক্ষ উক্তিতে বাক্যটি কী হবে?
  1. কমল আমাকে বলল যে সে এক্ষুণি আসছে।
  2. কমল আমাকে বলল যে সে তক্ষুণি যাচ্ছে।
  3. কমল আমাকে বলল যে আমি এক্ষুণি যাচ্ছি।
  4. কমল আমাকে বলল যে, তুমি তক্ষুণি যাচ্ছ।
সঠিক উত্তর:
কমল আমাকে বলল যে সে তক্ষুণি যাচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমল আমাকে বলল যে সে তক্ষুণি যাচ্ছে।
ব্যাখ্যা
• মূল বাক্য: "কমল আমাকে বলল, "আমি এক্ষুণি আসছি।"

বাক্যটির পরোক্ষ উক্তি:
"কমল আমাকে বলল যে সে তক্ষুণি যাচ্ছে।"

পরোক্ষ উক্তিতে রূপান্তরের সময় নিম্নলিখিত নিয়মগুলো অনুসরণ করা হয়:

• 'আমি' পরিবর্তিত হয়ে বক্তার (কমল) অনুযায়ী 'সে' হয়ে যায়।
• 'এক্ষুণি' পরিবর্তিত হয়ে পরোক্ষ উক্তির জন্য 'তক্ষুণি' হয়।
• ক্রিয়াপদ 'আসছি' পরিবর্তিত হয়ে 'যাচ্ছে' হবে।
----------------- 
প্রত্যক্ষ উক্তি: 
যে বাক্যে বক্তার কথা অবিকল উদ্ধৃত হয়, তাকে প্রত্যক্ষ উক্তি বলে।
প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার কথা উদ্ধরণ চিহ্ন (‘ ’/“ ”)-এর মধ্যে থাকে এবং বক্তার কথা ‍উদ্ধৃত করার আগে কমা (,) ব্যবহার করা হয়। এগুলো দেখে সহজেই প্রত্যক্ষ উক্তি চেনা যায়।
যেমন,
- খোকা বলল, আমার বাবা বাড়ি নেই।
- লোকটি আমাকে বললেন, 'অনুগ্রহ করে আপনি সামনের আসনে বসুন।'

পরোক্ষ উক্তি: 
যে বাক্যে বক্তার কথা অন্যের জবানীতে পরিবর্তিত/রূপান্তরিত ভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে পরোক্ষ উক্তি বলে।
পরোক্ষ উক্তিতে কোনো উদ্ধরণ চিহ্ন থাকে না, এবং প্রথম উদ্ধরণ চিহ্নের স্থলে ‘যে’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
বেশিরভাগ পরোক্ষ উক্তিতেই ‘যে’ সংযোজক অব্যয়টি থাকে বলে একে দেখে পরোক্ষ উক্তি চেনা যেতে পারে। তবে ‘যে’ ছাড়াও অনেক পরোক্ষ উক্তি গঠিত হতে পারে।
যেমন, 
- খোকা বলল যে, তার বাবা বাড়ি ছিলেন না।
- লোকটি আমাকে সামনের আসনে বসতে অনুরোধ করলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১৬.
"সে তুর্কি নাচন নাচিল।" - বাক্যে "তুর্কি নাচন" কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্মকারক
  2. কর্তৃকারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক
ব্যাখ্যা
• 'সে তুর্কি নাচন নাচিল'- বাক্যে 'তুর্কি নাচন' কর্মকারকের উদাহরণ। 

• বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে "কী / কাদের/ কাকে দ্বারা" প্রশ্ন করলে যা উত্তর আসে তাই কর্মকারক।
- 'সে তুর্কি নাচন নাচিল' - এখানে 'কী' নাচিল প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'তুর্কি নাচন'। তাই 'তুর্কি নাচন' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।
--------------------- 
• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন - 
- বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।

উল্লেখ্য,
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭.
শেকসপীয়রের 'ম্যাকবেথ' নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন -
  1. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. আবুল ফজল
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
• শেকসপীয়রের 'ম্যাকবেথ' নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন - গিরিশচন্দ্র ঘোষ।

• গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- ১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের 'শর্মিষ্ঠা' নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন।
- দীনবন্ধু মিত্রের 'সধবার একাদশী' প্রহসনে তিনি 'নিমচাঁদ' চরিত্রে অভিনয় করেন।
- প্রেমভক্তি, স্বদেশপ্রেম ও সমকালীন সামাজিক সমস্যা গিরিশচন্দ্রের নাটকের বিষয়বস্তু।
- মধুসূদনের চৌদ্দ মাত্রার অমিত্রাক্ষর ছন্দকে ভেঙ্গে তিনি অভিনয়ের উপযোগী ছোট ছোট ছত্রে বিন্যস্ত করেন।
- তাঁর নামানুসারে এ ছন্দের নাম হয় ‘গৈরিশ ছন্দ’। 
- তিনি শেকসপীয়রের 'ম্যাকবেথ' (১৮৯৩) নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন এবং বঙ্কিমচন্দ্রের 'মৃণালিনী', 'বিষবৃক্ষ' ও 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস, মধুসূদনের  'মেঘনাদবধ কাব্য' ও নবীনচন্দ্রের 'পলাশীর যুদ্ধ' কাব্যের নাট্যরূপ দেন।
-  ১৯১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এ মহান অভিনেতা ও নাট্যকার কলকাতায় পরলোক গমন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৮.
শুদ্ধ যতিচিহ্নের ব্যবহার হয়েছে কোন বাক্যটিতে?
  1. ১৮ পৌষ, বুধবার ১৩১০, বঙ্গাব্দ।
  2. ১৮ পৌষ বুধবার, ১৩১০ বঙ্গাব্দ।
  3. ১৮ পৌষ, বুধবার, ১৩১০ বঙ্গাব্দ।
  4. ১৮, পৌষ বুধবার ১৩১০ বঙ্গাব্দ।
সঠিক উত্তর:
১৮ পৌষ, বুধবার, ১৩১০ বঙ্গাব্দ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮ পৌষ, বুধবার, ১৩১০ বঙ্গাব্দ।
ব্যাখ্যা
• মাসের তারিখ লিখতে বার ও মাসের পরে - 'কমা' বসে।

• মাসের তারিখ লিখতে বার ও মাসের পর কমা বসবে।
যেমন;
১৮ পৌষ, বুধবার, ১৩১০ বঙ্গাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯.
‘পবন’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প + অন
  2. পো + বন
  3. পো + অন
  4. পৌ + বন
সঠিক উত্তর:
পো + অন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পো + অন
ব্যাখ্যা
• সন্ধির নিয়ম: 
এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।
যেমন-
- নে + অন = নয়ন,
- শে + অন = শয়ন,
- নৈ + অক = নায়ক,
- গৈ + অক = গায়ক,
- পো + অন = পবন,
- লো + অন = লবণ,
- গো + আদি = গবাদি,
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০.
নিচের কোনটি পরোক্ষ উক্তি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
  1. এখানে 
  2. গতকল্য 
  3. সেদিন
  4. এটা 
সঠিক উত্তর:
সেদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেদিন
ব্যাখ্যা
• 'সেদিন'- পরোক্ষ উক্তির শব্দ। 

• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ রূপ:
• এই  -  সেই।
• ইহা  -  তাহা/উহা।
এখানে  -  ওইখানে।
• আগামীকাল  -  পরদিন।
গতকল্য  -  পূর্বদিন।
• এটা  - ওটা/সেটা।
• এ  -  সে।
• আজ  - সেদিন।
• গতকাল  -  আগেরদিন।
• এখন  -  তখন।

উৎস; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২১.
বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস -
  1. সাড়া
  2. তিথিডোর
  3. লালমেঘ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু:
- একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়',
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।