পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (সাহিত্য)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
"বাংলাবিদ সাহিত্য পরীক্ষা - ১: টপিক: বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাজন ও প্রাচীন যুগ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা, চর্যাপদ [লাইভ ক্লাস ⎯ ১ ও ২]"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

বাংলাবিদ (সাহিত্য) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
'কৃষ্ণাচার্য পাদ' চর্যার কোন কবির নাম?
  1. কুক্কুরীপা 
  2. কাহ্নপা
  3. লুইপা
  4. সরহপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা

• কাহ্নপা:
- কাহ্নপা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবি গোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- তাঁর রচিত পদগুলো: ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ৩৬, ৪০, ৪২, ৪৫ নং পদ উদ্ধার হয়েছে।
- কিন্তু ২৪ নং পদ টি পাওয়া যায়নি। তাই চর্যাপদে কাহ্নপার প্রাপ্ত পদ সংখ্যা ১২টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।"- চর্যার পদটি কোন কবির রচনা?
  1. শবরপা 
  2. ভুসুকুপা
  3. ঢেণ্ডুণপা 
  4. কুক্কুরীপা
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।"- এটি কুক্কুরীপা রচিত চর্যাপদের ২নং পদ।

• এর বাংলা অর্থ- দিনে বউটি কাকের ভয়ে ভীত হয় কিন্তু রাত হলেই সে কামরূপ যায়।

------------------
• কুক্কুরীপা:
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা। কুক্কুরীপা চর্যাগীতির তিনটি গানের রচয়িতা। এদের মধ্যে একটি গান [৪৮ সংখ্যক পুথির লুপ্ত অংশ ছিল।

- তিনি উচ্চবংশীয় ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁর চর্যার ভাষা সে ইঙ্গিত বহন করে। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'যোগভাবনাপ্রদেশ', 'স্রবপরিচ্ছদ'।

- কুক্কুরীপা তান্ত্রিক নাম কিংবা ছদ্মনাম। কুলীন বা উচ্চবংশীয় হলেও কাব্যমূর্তির কারণে বা তান্ত্রিকতার আকর্ষণে তিনি এ নাম ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। নামের সঙ্গে 'পা' যুক্ত থাকায় কেউ কেউ একে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাসূচক ছদ্মনাম বলে মনে করেন। তারানাথের মতে, সঙ্গে সবসময় একটি কুকুরী থাকত বলে তাঁর নামকরণ হয়েছে কুক্কুরীপা।

- কুক্কুরীপা বাংলার উত্তরখণ্ডের অধিবাসী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য হিন্দিভাষীরা তাঁকে কপিলাবস্তু বা বুদ্ধের জন্মস্থান নেপালের লোক বলেছেন।

- সংস্কৃত রচনা 'মহামায়াসাধন'-এর রচয়িতা হিসেবে কুক্কুরীপার নাম পাওয়া গেছে। এ থেকে অনুমিত হয়, তিনি মহামায়ার উপাসক ছিলেন। ড. শহীদুল্লাহ্ মতে, কুক্কুরীপা ৭৪০ থেকে ৮২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জীবিত ছিলেন। ধারণা করা হয়, ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ধর্মপালের শাসনামলে কুক্কুরীপা তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক।

.
ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন চর্যার কোন কবি?
  1. ভাদেপা 
  2. তন্ত্রীপা 
  3. ডোম্বীপা
  4. গুণ্ডরীপা  
সঠিক উত্তর:
ডোম্বীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডোম্বীপা
ব্যাখ্যা

• ডোম্বীপা:
- তিনি ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন। পরে বিভিন্ন দেশ পরিভ্রমণ করেন। তার অলৌকিক ক্ষমতা ছিল বলে মনে করা হয়।
- তিনি দীর্ঘজীবী পুরুষ ছিলেন। ৭৯০ থেকে ৮৯০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তাঁর জীবনকাল ছিল।
- ডোম্বীপার শুরু ছিলেন বিরুপা।
- ডোম্বীপা চর্যার ১৪ সংখ্যক পদ রচনা করেছেন। 
- তাঁর রচিত পদে গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র। কড়ি ছাড়াই এখানে নদী পার হওয়ার চিত্র ফুটে ওঠেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কত তম বার নেপাল সফরকালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন?
  1. প্রথম বার 
  2. দ্বিতীয় বার 
  3. তৃতীয় বার
  4. চতুর্থ বার
সঠিক উত্তর:
তৃতীয় বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয় বার
ব্যাখ্যা

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তাঁর তৃতীয়বার নেপাল সফরকালে (১৯০৭ সালে) নেপালের রাজগ্রন্থাগার (রয়্যাল লাইব্রেরি) থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন।

------------------------
• বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত চর্যাপদগুলো সম্পর্কে ১৯০৭ সালের আগে কোন তথ্যই জানা ছিল না।

• ১৮৮২ সালে প্রকাশিত Sanskrit Buddhist Literature in Nepal গ্রন্থে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র সর্বপ্রথম নেপালের বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত বিবরণী প্রকাশ করে যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছিলেন তাতে উদ্দীপ্ত হয়ে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তৃতীয় বার নেপাল সফর কালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে সে সাহিত্যের কতগুলো পদ আবিষ্কার করেন।

• তাঁর সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে সে সব পদ ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়', 'ডাকার্ণব', 'সরহপাদের দোহা' ও 'কৃষ্ণপাদের দোহা' —এ চারটি পুঁথি একত্রে 'হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 

• এগুলোর মধ্যে একমাত্র চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ই প্রাচীন বাংলায় লেখা; অন্য তিনটি বাংলায় নয়, অপভ্রংশ ভাষায় রচিত।
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় Origin and Development of the Bengali Language (ODBL) নামক বিখ্যাত গ্রন্থে ১৯২৬ সালে এগুলোর ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য প্রথম আলোচনা করেন। ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মমত সম্পর্কে প্রথম আলোচনা করেন।
• ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

.
কীর্তিচন্দ্ৰ মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন কোন নামে?
  1. চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
  2. আশ্চর্যচর্যাচয়
  3. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
  4. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
সঠিক উত্তর:
চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'। নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন।
সে আমলে শত শত চর্যাগীতি রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন।

কীর্তিচন্দ্ৰ মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে।

• এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'। আধুনিক পণ্ডিতগণের অনুমান যে পুঁথিটির নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ' এবং এর সংস্কৃত টীকার নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

.
চর্যাপদের পূর্ণ কয়টি পদ পাওয়া যায় নি?
  1. দুইটি 
  2. তিনটি 
  3. চারটি 
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি 
ব্যাখ্যা

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপাল থেকে আবিষ্কৃত চর্যাপদের পাণ্ডুলিপিতে মোট ৩টি পূর্ণ পদ (২৪, ২৫, ৪৮ নং) এবং একটি পদের শেষাংশ (২৩ নং) পাওয়া যায়নি। 

চর্যাপদ:

• চর্যার প্রাপ্ত পুঁথিতে একান্নটি গান ছিল। তার মধ্যে একটি (১১ সংখ্যক) পদ টীকাকার কর্তৃক ব্যাখ্যাত হয় নি। আবার কয়েকটি পাতা নষ্ট হওয়ায় তিনটি সম্পূর্ণ (২৪, ২৫ ও ৪৮ সংখ্যক ) পদ এবং একটি (২৩ সংখ্যক) পদের শেষাংশ পাওয়া যায় নি। তাই পুঁথিতে সর্বসমেত সাড়ে ছেচল্লিশটি পদ পাওয়া গেছে।

• চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিটির লিপিকাল বার বা চৌদ্দ থেকে ষোল শতকের মধ্যে বলে অনুমান করা হয়। তবে ১১৯৯ সালে লিপিকৃত 'পঞ্চাকার' নামের পুঁথির লিপির সঙ্গে চর্যাপদের লিপির সাদৃশ্য বিবেচনা করে কেউ কেউ এর লিপিকাল বার শতক বলে মনে করেন। চর্যার পুঁথিটি বাংলা অক্ষরে লিপিকৃত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

.
চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন- 
  1. সরহপা 
  2. কুক্কুরীপা 
  3. শবরপা 
  4. ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা

• ভুসুকু পা:
- চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকু পা। তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে। নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকু নামটিকে ছদ্মনাম বলে মনে করা হয়। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।

- তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান করেন। সেজন্য ভুক্তির ভু, সুপ্তির সু এবং কুটিরের কু—এই তিন আদ্যক্ষর যোগে তাঁকে ভুসুকু বলে পরিহাস করা হত।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন। রাহুল সংকৃত্যায়নের মতে ভুসুকুর জীবৎকালের শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকু জীবিত ছিলেন। তিনি রাউত বা অশ্বারোহী সৈনিক ছিলেন। পরে ভিক্ষু ও সিদ্ধা হন। তবে অনেকে এই শান্তিদেব ভুসুকু ও চর্যা রচয়িতা ভুসুকুকে পৃথক ব্যক্তি বলে অনুমান করেছেন। কারও কারও অনুমান চর্যার ভুসুকুর সময় একাদশ শতকের মধ্যভাগ।
- 'আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী। নিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেলী।'—ভুসুকুর এই উক্তিকে প্রমাণ স্বরূপ মনে করে তাঁকে বাঙালি অনুমান করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে নিচের কোন কবি বাঙালি ছিলেন?
  1. দারিক পা 
  2. বীণা পা 
  3. বিরূপ পা
  4. শান্তি পা 
সঠিক উত্তর:
বিরূপ পা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরূপ পা
ব্যাখ্যা

• বিরূপ পা:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মনে করেন, জালন্ধরী পার শিষ্য বিরূপ ছিলেন বাঙালি। তাঁর জন্মস্থান দেবপালের রাজ্য ত্রিপুরায়। তাঁর শিষ্য ডোম্বী পা। - বিরূপ আট শতকে বর্তমান ছিলেন। রাহুল সংকৃত্যায়নের মতে, বিরূপ পা ভিক্ষুরূপে সোমপুরী বিহারে বাস করতেন। তিনি দেবপালের রাজত্বকালে জীবিত ছিলেন।
- তাঁর জীবৎকালের শেষ সীমা ৮৩০ সালের শেষের দিকে। তিনি ছিলেন বহু গ্রন্থ প্রণেতা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

.
চর্যাপদের ভাষাতে কোন ভাষার প্রভাব রয়েছে-
  1. বৈদিক 
  2. আর্য
  3. মৈথিলী 
  4. অপভ্রংশ
সঠিক উত্তর:
অপভ্রংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপভ্রংশ
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের ভাষার বৈশিষ্ট্য:
চর্যাপদের ভাষা বাংলা বলে প্রমাণিত হলেও তাতে অপভ্রংশের কিছু কিছু নিদর্শন আছে। চর্যাপদ যে সময়ের রচনা তখন বাংলা ভাষা তার পূর্ববর্তী স্তর অপভ্রংশ থেকে নিজস্ব রূপ গ্রহণ করলেও একেবারে সম্পর্কহীন হয়ে পড়ে নি। চর্যাকারেরা অনেকেই অপভ্রংশে পদ রচনা করেছেন। তাঁদের বাংলা রচনাতে তাই প্রাকৃত বা অপভ্রংশের প্রভাব থাকা স্বাভাবিক।

অপভ্রংশের প্রভাব লক্ষ করা যায় এ সব ক্ষেত্রে: আইসন, জৈসন, জিম, তিম, জসু, তসু প্রভৃতি শব্দ; নিষেধার্থক 'মা' অব্যয়ের ব্যবহার—মা হোহি; ক্বচিৎ যুক্ত ব্যঞ্জনের উপস্থিতি—আচ্ছিলেঁ সংপুন্না; 'ইউ' প্রয়োগে অতীতকাল তোড়িউ; ‘মি’ বিভক্তি—পীবমি, পুছমি; সর্বনামজাত ক্রিয়াবিশেষণ—জব, তব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

১০.
চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. কঙ্কণপা
  2. ধর্মদেবপা 
  3. জয়নন্দীপা
  4. মহীধরপা
সঠিক উত্তর:
ধর্মদেবপা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মদেবপা 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের কবি নন- ধর্মদেবপা। 

চর্যাপদের কবিগণ:

- চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে:
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

কবিগণ হলেন:
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১১.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ নিচের কোন কবির ভাষা প্রাচীন বাংলা বঙ্গকামরূপী বলে মতামত দিয়েছেন?
  1. সরহ পা 
  2. শান্তি পা 
  3. আর্যদেব পা 
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
সরহ পা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরহ পা 
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ আর্যদেবের ভাষা উড়িয়া, শান্তি পাদের ভাষা মৈথিলি এবং কাহ্ন, সরহ, ও ভুসুকু প্রমুখের ভাষা প্রাচীন বাংলা বঙ্গকামরূপী বলে সিদ্ধান্ত করেছেন। 

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তাঁর Origin and Development of the Bengali Language (ODBL) গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে ধ্বনিতত্ত্ব ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার করে সিদ্ধান্ত করেছেন যে, চর্যার পদসংকলনটি আদিতম বাংলা ভাষায় রচিত।
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, ড. সুকুমার সেন ও ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী মনে করেন চর্যাপদ বার শতকের মধ্যে রচিত হয়েছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

১২.
কোন আমলে চর্যাপদের রচনা শুরু হয়?
  1. গুপ্ত 
  2. মৌর্য
  3. সেন 
  4. পাল 
সঠিক উত্তর:
পাল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাল 
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
-  ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি  সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়। 
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- এতে তেইশজন/চব্বিশ পদকর্তার ৫০টি মতান্তরে ৫১টি পদ আছে। পাল আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩.
ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন কত সালে?
  1. ১৯৩৮ সালে 
  2. ১৮৪১ সালে 
  3. ১৯৪৬ সালে 
  4. ১৯৪৭ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯৪৬ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৬ সালে 
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রপথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।

• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৪.
আধুনিক ছন্দের বিচারে চর্যাপদ কোন ছন্দের অধীনে বিবেচ্য?
  1. পায়ার 
  2. মাত্রাবৃত্ত 
  3. ত্রিপদী 
  4. স্বরবৃত্ত 
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত 
ব্যাখ্যা

'চর্যাপদ' এর ছন্দ সম্পর্কিত তথ্য:
- চর্যাপদ প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে।
- চর্যাপদের ছন্দে সংস্কৃত পজঝটিকা ছন্দের প্রভাব রয়েছে। পজঝটিকা ছন্দের প্রতিটি চরণ ষোল মাত্রার, চরণে চার পর্ব, চার মাত্রা।
- আবার শৌরসেনী প্রাকৃত প্রভাবিত মাত্ৰাপ্রধান পাদাকুলক ছন্দের সঙ্গেও চর্যার ছন্দের মিল রয়েছে।
- পাদাকুলক ছন্দের চরণও ষোল মাত্রার, প্রতিটি চরণে চার পর্ব, প্রতি পর্বে চার মাত্রা।
- চর্যাপদের ছন্দ মাত্রাবৃত্ত রীতিতে গঠিত হলেও মাত্রাবৃত্তের বর্তমান সুনির্দিষ্ট গণনা পদ্ধতি এতে মানা হয় নি। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা।

১৫.
চর্যাপদের টীকা রচনায় কে সন্ধ্যাভাষার সরলার্থ করেছেন?
  1. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  2. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 
  3. কৃতিচন্দ্র 
  4. মুনিদত্ত 
সঠিক উত্তর:
মুনিদত্ত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনিদত্ত 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের টীকা রচনায় টীকাকার মুনিদত্ত সন্ধ্যাভাষার সরলার্থ করেছেন। এর ফলে চর্যাপদের তত্ত্বকথা সম্বন্ধে অদীক্ষিত ব্যক্তিও কিছু কিছু জ্ঞানার্জন করতে সমর্থ। 

• তবে চর্যাপদ প্রধানত সহজিয়া মতের ওপর প্রতিষ্ঠিত হলেও এতে হীনযান, মহাযান, কালচক্রযান, বজ্রযান, ব্রাহ্মণ্যতত্ত্ব ও নাথধর্মের নানা প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৬.
"টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়িত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।'- চর্যাপদের কত নং পদ?
  1. ২২ নং 
  2. ৩৯ নং 
  3. ৩৩ নং 
  4. ২ নং 
সঠিক উত্তর:
৩৩ নং 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৩ নং 
ব্যাখ্যা

• "টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়িত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।'- চর্যাপদের ৩৩নং পদটির রচয়িতা চর্যাকার ঢেণ্ডণপা।

অর্থ: অর্থাৎ লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভীড় করে।

• ঢেণ্ডণপা: 
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন। 
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন। 
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭.
চর্যাপদের ধর্মমত সম্পর্কে প্রথম আলোচনা করেন কে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 
  2. ড. এনামুল হক 
  3. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ড. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৮.
'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের কত জন কবির নাম উল্লেখ আছে? 
  1. ২২ জন 
  2. ২৩ জন 
  3. ২৪ জন 
  4. ২৫ জন 
সঠিক উত্তর:
২৩ জন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ জন 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।

- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৯.
চর্যার খণ্ডিত পদটি কার রচনা?
  1. ভাদেপা 
  2. শান্তিপা 
  3. ভুসুকুপা
  4. শবরপা 
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের কবি 'ভুসুকুপা':
• ভুসুকুপা চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদের রচয়িতা। তিনি মোট আটটি পদ রচনা করেন।
চর্যার খণ্ডিত ২৩নং পদটি তারই রচনা। চর্যার ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া যায়। ২৩নং পদের ৬টি পঙ্‌ক্তি পাওয়া গেছে। বাকি ৪টি পঙ্‌ক্তি পাওয়া যায়নি। 
• ভুসুকুপা রচিত চর্যার পদগুলো হলো: ৬নং, ২১নং, ২৩নং, ২৭নং, ৩০ নং, ৪১নং, ৪৩ নং, ৪৯নং।
• তিনি তাঁর রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পউআঁ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।

৪৯নং পদ-
বাজ ণাব পাড়ী পউআঁ খালে বাহিউ.
অদঅ বঙ্গাল দেশ লুড়িউ।।
আজি ভুসুকু ভইলী।
নিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।