পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়36 minutes
মোট প্রশ্ন৪৩
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 9” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- [এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে] বিষয় - গাণিতিক যুক্তি টপিক - পাটিগণিত [i) বাস্তব সংখ্যা, ভগ্নাংশ, ল.সা.গু ও গ.সা.গু, শতকরা, ii) সরল ও যৌগিক মুনাফা, লাভ-ক্ষতি, অংশীদারী হিসাব, অনুপাত ও সমানুপাত] এবং বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) প্রাচীন যুগ - প্রাচীন জনপদ বিভিন্ন রাজবংশের শাসন, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি; ii) মধ্যযুগ - মুসলিম শাসন, মুঘল, সুলতানি ও নবাবী আমলে বাংলা ও উপমহাদেশ; iii) উপমহাদেশ ইউরোপীয়দের আগমন, ইংরেজ শাসন ও ইংরেজ শাসনামলে আন্দোলন সংগ্রাম ও উপমহাদেশের ইতিহাস।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৩ প্রশ্ন

.
চন্দ্র রাজবংশের প্রথম শক্তিধর রাজা কে ছিলেন?
  1. শ্রীচন্দ্র
  2. ত্রৈলোক্যচন্দ্র
  3. গৌবিন্দচন্দ্র
  4. কল্যাণচন্দ্র
ব্যাখ্যা
চন্দ্র রাজবংশ:
- পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলায় সবচেয়ে শক্তিধর রাজবংশ হচ্ছে চন্দ্রবংশ।
- খ্রিস্টীয় দশম শতকের শুরুতেই চন্দ্রবংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রায় দেড়শ বছর এই বংশ শাসনকার্য পরিচালনা করে।
- চন্দ্র রাজাদের মূল কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার লালমাই পাহাড়।
- কুমিল্লার লালমাই পাহাড়কে সে যুগে বলা হতো রোহিতাগিরি।
- চন্দ্রবংশের রাজাদের ধর্মও ছিল বৌদ্ধ।

উল্লেখ্য,
⇒ এই বংশের প্রথম শক্তিধর রাজার নাম ত্রৈলোক্যচন্দ্র।
- তিনি মহারাজাধিরাজ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন।
- শক্তিধর ত্রৈলোক্যচন্দ্র হরিকেল ও চন্দ্রদ্বীপ দখল করেছিলেন।
- একে একে তাঁর অধিকারে আসে বঙ্গ ও সমতট।
- ত্রৈলোক্যচন্দ্র প্রায় ত্রিশ বছর শাসন করেন।

⇒ পিতার মৃত্যুর পর রাজা হন শ্রীচন্দ্র।
- শ্রীচন্দ্র বংশের গৌরব আরও বৃদ্ধি করেন।
- তিনি বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে রাজধানী গড়ে তোলেন।
- তাঁর উপাধি ছিল 'পরমেশ্বর' 'পরম ভট্টারক' 'মহারাজাধিরাজ'।
- শ্রীচন্দ্র প্রায় পয়তাল্লিশ বছর রাজত্ব করেন।

⇒ এর পর সিংহাসনে বসেন শ্রীচন্দ্রের পুত্র কল্যাণচন্দ্র।
- কল্যাণচন্দ্রের পুত্র লড়হচন্দ্রের রাজত্বকালেও এই গৌরব ম্লান হয়নি।
- শেষ চন্দ্ররাজা ছিলেন গৌবিন্দচন্দ্র।
- তিনি লড়হচন্দ্রের পুত্র।
- তাঁর রাজত্বকালে বাইরের আক্রমণের আঘাত আসে।
- চোল সম্রাট রাজেন্দ্রচোল ও কলচুরিরাজ কর্ণ বঙ্গ আক্রমণ করলে চন্দ্রবংশের পতন হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পরী বিবির আসল নাম কী?
  1. ইরান দুখত
  2. গুলতেকিন
  3. ফাতেমা
  4. গুলবাহার
ব্যাখ্যা
পরী বিবি:
- পরী বিবি বাংলার মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খান এর কন্যা।
- বাদশাহ আওরঙ্গজেব এর পুত্র মুহম্মদ আজম এর স্ত্রী।
- তাঁর আসল নাম ইরান দুখত।
- লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে মসজিদের পূর্ব দিকে বিবি পরীকে সমাহিত করা হয়।
- শায়েস্তা খান কন্যার সমাধির উপর একটি সুদৃশ্য সৌধ নির্মাণ করেন।

উল্লেখ্য,
⇒ লালবাগ কেল্লা:
- লালবাগ কেল্লার নাম ছিল কেল্লা আওরঙ্গবাদ বা আওরঙ্গবাদ দুর্গ।
- এই কেল্লার নকশা করেন শাহ আজম।
- মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব-এর ৩য় পুত্র আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার সুবেদারের বাসস্থান হিসেবে এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- নবাব শায়েস্তা খান লালবাগ দুর্গ নির্মাণ করেন।
- তিনি ১৬৮০ সালে ঢাকায় এসে এই দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- শায়েস্তা খানের কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ বন্ধ করে দেন।
- পরী বিবিকে দরবার হল এবং মসজিদের ঠিক মাঝখানে সমাহিত করা হয়।
- ১৮৪৪ সালে ঢাকা কমিটি নামে একটি আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান দুর্গের উন্নয়ন কাজ শুরু করে।
- এ সময় দুর্গটি লালবাগ দুর্গ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ১৯১০ সালে লালবাগ দুর্গের প্রাচীর সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে আনা হয়।
- এটি মোগল আমল এর একটি চমৎকার নিদর্শন।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ৯ ডিসেম্বর ২০১৬, প্রথম আলো।
.
হান্টার কমিশন নিম্নের কোন শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেছিলো?
  1. মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা
  2. ইংরেজি শিক্ষা ব্যবস্থা
  3. প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
হান্টার কমিশন:
- ১৮৫৪ সালে উডের ডেসপ্যাচে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উন্নতির জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
- কিন্তু এই ডেসপ্যাচের ভাবধারা কে অবহেলা করে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উপর গুরুত্ব না দিয়ে শুধু উচ্চশিক্ষা ও সরকারি স্কুল কলেজগুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতি একেবারেই হয় না।
- তাই সরকার প্রথমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নতি সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করেন।

⇒ হান্টার কমিশন গঠন:
- এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড রিপন ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০ জন সদস্য নিয়ে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- এটি প্রথম "ভারতীয় শিক্ষা কমিশন” নামে পরিচিত।
- এই কমিশন স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টারের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল বলে একে "হান্টার কমিশন” বলা হয়।
- স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টার ছিলেন এই কমিশনের সভাপতি।
- অন্যান্য সদস্যরা হলেন আনন্দমোহন বসু, কে.টি. তেলাং, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রমুখ।
- প্রাথমিক শিক্ষা ও নিরক্ষরতা বিষয়ে এই কমিশনকে বিশেষভাবে বিচার করার কথা বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
সম্রাট আকবরের উল্লেখযোগ্য অবদান নয় কোনটি?
  1. জিজিয়া কর রহিত
  2. বাংলা সন প্রবর্তন
  3. সোমপুর বিহার প্রতিষ্ঠা
  4. ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন
ব্যাখ্যা
সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মোগল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- আকবর সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন।
- আকবরের দরবারে জ্ঞানী, গুণী, বিদ্যান, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল।
- তার দরবারে ভারতীয়, ইরানী তুরানী, কাশ্মীরি গায়ক ছিলেন।
- বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের তথ্য মতে, আকবরের দরবারে ৩৬ জন গায়ক ছিলেন।
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ তানসেন সম্রাট আকবরের দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে।
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য তাঁর আদেশে প্রাচীন বর্ষপঞ্জি সংস্কার করে বাংলা সনের প্রবর্তন করা হয়।
- মোগল সম্রাট আকবর 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।

অন্যদিকে,
- ধর্মপাল সোমপুর বিহার প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'এলাহাবাদ চুক্তি' হয় কার কার মধ্যে?
  1. বাবর ও শের শাহ
  2. সিরাজউদ্দৌলা ও ক্লাইভ
  3. ক্লাইভ ও দ্বিতীয় শাহ আলম
  4. ক্লাইভ ও মীর জাফর
ব্যাখ্যা
এলাহাবাদ চুক্তি ও বাংলার ক্ষমতা দখল:
- ১৭৬৫ সালে ইংরেজ কোম্পানির বাংলার দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল তাকে ঐতিহাসিকেরা দ্বৈত শাসনব্যবস্থা (Dual system of administration) বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- ১৭৬৫ সালে এলাহাবাদ চুক্তি বলে বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করেছিল ইংরেজরা।
- দিউয়ানি এবং নিয়ামত-এই দুটি শাসন কাজের ভাগাভাগিকে এক অর্থে দ্বৈত শাসন বলা যায়।
- রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার ছিল কোম্পানির উপর।
- অন্যদিকে নিজামত তথা বিচার ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় নবাবের উপর।
- কোম্পানির সরাসরি দিউয়ানির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যে অর্থ ও লোকবল প্রয়োজন তা যেমন ছিলনা, তেমনি এদেশীয় ভাষা ও আইন কানুন সম্পর্কে কোম্পানির কর্মচারীদের জ্ঞানও ছিল না।
- তাই রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ তাদের জন্য সম্ভব ছিল না।
- এ সকল দিক চিন্তা করেই তারা দ্বৈত শাসন নীতি প্রবর্তন করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
⇒ বক্সার যুদ্ধের পর কোম্পানির কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা চরমে উঠলে এবং বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ খারাপ হলে, ইংরেজ সরকার ভীত হয়ে পড়লেন।
- ফলে ইংল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ কোম্পানির দুর্নীতি দমন ও স্বার্থ বৃদ্ধির জন্য পুনরায় ক্লাইভকে লর্ড উপাধি দান করে বাংলায় দ্বিতীয়বার প্রেরণ করেন (১৭৬৫-১৭৬৭ খ্রি.)।
- এদেশে এসেই তিনি মীর কাশিমের মিত্রশক্তি অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও দিল্লির সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের প্রতি নজর দেন।
- বক্সার যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ লক্ষ টাকা এবং কারা ও এলাহাবাদ জেলা দু'টি পেয়ে অযোধ্যার নবাবের সাথে মিত্রতা স্থাপন করেন।
- তারপর তিনি দিল্লির দুর্বল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে সন্ধি স্থাপন করেন।
- ক্লাইভ কারা ও এলাহাবাদ জেলা দু'টি ও বাৎসরিক ২৬ লক্ষ টাকা কর প্রদানের বিনিময়ে সম্রাটের নিকট হতে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করলেন (১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে ১২ আগস্ট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিউয়ানি সনদ লাভ করে)।
- এর ফলে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইংরেজ উপনিবেশের পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে কাকে?
  1. সিকান্দার শাহ
  2. আলাউদ্দীন হোসেন শাহ
  3. ইলিয়াস শাহ
  4. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
ব্যাখ্যা
সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ:
- সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন এবং সুলতান হয়ে 'আলাউদ্দিন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত।
- তিনি বাংলার আকবর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব “বৈষ্ণব ধর্ম” প্রচার করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য,
⇒ ছোট সোনা মসজিদ ‘সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন’ বলে আখ্যায়িত।
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন।

⇒ তার শাসনামলে বাংলার সালতানাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটে।
- হুসেন শাহ কামরূপ ও কামতা জয় করেন।
- ঊড়িষ্যা এবং ত্রিপুরার কিছু অংশ তার শাসনাধীন আসে।
- এছাড়া তিনি আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে 'নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।

⇒ তিনি হিন্দু-মুসলমান সম্প্রতি স্থাপনের জন্য প্রচেষ্টা চালান, যা তৎকালীন সমাজজীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।
- হুসেন শাহ সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তার শাসনামলে বাংলা সাহিত্যের ব্যাপক উন্নতি ঘটে।
- তার সময়ের বিখ্যাত কবিদের মধ্যে ছিলেন রূপ গোস্বামী, মালাধর বসু, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, এবং পরাগল খান।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
.
প্রথম সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খিলজি
  2. মুহম্মদ ঘুরী
  3. সুলতান মাহমুদ
  4. মুহাম্মদ বিন কাসিম
ব্যাখ্যা
সিন্ধু বিজয়:
- আরবদের সিন্ধু বিজয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- এটিকে দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলমানদের আগমনের সূচনালগ্ন ধরা হয়।
- এ ঐতিহাসিক ঘটনার প্রধান কুশীলব ছিলেন আরব সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম ও সিন্ধুর তৎকালীন রাজা দাহির।
- প্রথম সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি ছিলেন মুহাম্মদ বিন কাসিম।

উল্লেখ্য,
- খলিফা প্রথম ওয়ালিদের সময় মুসলমানগণ সিন্ধু অভিযান করে।
- খলিফার অনুমতি নিয়ে ইরাকের গভর্ণর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এই অভিযান পাঠান।
- সিন্ধু বিজয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাম্রাজ্যের বিস্তার সাধন এবং অর্থ সম্পদ লাভ।
- মুহম্মদ বিন কাসিম এক শক্তিশালী বাহিনী নিয়ে সিন্ধুদেশ আক্রমণ করেন।
- তিনি দাইবুল, নীরুন, সিওয়ান ও সিসাম দখল করে আরও উত্তরে অগ্রসর হন।
- সিন্ধুরাজ দাহির রাওয়ার দুর্গ রক্ষার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু তিনি যুদ্ধে নিহত হন।
- রাওয়ার দখলের পর মুহম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুর রাজধানী আলোর জয় করেন।
- এরপর মুলতানও মুসলমানদের দখলে আসে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ভারতে প্রথম প্রতীক মুদ্রার প্রচলন কে করেন?
  1. জহিরউদ্দিন মুহম্মদ বাবর
  2. মুহম্মদ বিন তুঘলক
  3. কুতুবউদ্দিন আইবেক
  4. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ বিন তুঘলক:
- গিয়াসউদ্দীন তুঘলকের মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র মুহম্মদ বিন তুঘলক দিল্লীর সিংহাসনে আরোহন করেন।
- তাঁর রাজত্বকালের প্রথম তের বছর দেশে শান্তি বিরাজমান ছিল।
- এ সময়ের মধ্যে মুহম্মদ বিন তুঘলক দিল্লি থেকে রাজধানী দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন।
- এছাড়াও খোরাসান অভিযান, কারাচিল অভিযান, প্রতীক মুদ্রার প্রচলন, দোয়াবে কর বৃদ্ধি ইত্যাদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
- সিন্ধুর বিদ্রোহ দমনকালে ক্লান্ত সুলতান মৃত্যু বরণ করেন।
- তিনি জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অসাধারণ পন্ডিত ছিলেন।

⇒ মুহম্মদ বিন তুঘলক ভারতে প্রথম প্রতীক মুদ্রা প্রবর্তন করেন।
- তিনি সোনা ও রুপার পরিবর্তে প্রতীকী তামার মুদ্রা প্রচলন করে মুদ্রামান নির্ধারণ করেন।
- কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য 'দিওয়ান-ই-কোহী' স্বতন্ত্র কৃষি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন।

অন্যদিকে -
- সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক দিল্লির কুতুব মিনার নির্মাণ করেন।
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার প্রথম স্বাধিন সুলতান। তিনি রাজধানী সোনারগায়ে প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'আন্টাঘর ময়দান' নিম্নের কোন ঘটনার স্মৃতি বহন করে?
  1. ভারত ছাড় আন্দোলন
  2. জালিওয়ালাবাগ হত্যাকান্ড
  3. আলীগড় আন্দোলন
  4. সিপাহি বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
বাহাদুর শাহ পার্ক:
- বাহাদুর শাহ পার্ক বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত।
- ১৮৫৮ সালে রানি ভিক্টোরিয়ার নামানুসারে এই স্থানের নামকরণ হয় ‘ভিক্টোরিয়া পার্ক’।
- পার্কটি আন্টাঘর ময়দান নামে পরিচিত ছিল।
- এটি সিপাহি বিদ্রোহের স্মৃতি বহন করে।

⇒ ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর এক প্রহসনমূলক বিচারে ইংরেজ শাসকেরা ফাঁসি দেয় অসংখ্য বিপ্লবী সিপাহিকে।
- তারপর জনগণকে ভয় দেখাতে সিপাহিদের লাশ এনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এই ময়দানের বিভিন্ন গাছের ডালে।
- ১৯৫৭ সালে (মতান্তরে ১৯৬১) সিপাহি বিদ্রোহের শতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে পার্কের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাহাদুর শাহ পার্ক।
- সিপাহী বিদ্রোহ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইংরেজ শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ এর শাসন পুনরায় আনার জন্য।
- তাই তাঁর নামানুসারে এর নতুন নামকরণ করা হয় ‘বাহাদুর শাহ পার্ক’।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১০.
হোসেনী দালান কে নির্মাণ করেন?
  1. শায়েস্তা খান
  2. মীর কাসিম
  3. মীর মুরাদ
  4. মীর জুমলা
ব্যাখ্যা
হোসেনী দালান:
- হোসেনী দালান পুরানো ঢাকায় অবস্থিত শিয়া সম্প্রদায়ের একটি ইমারত।
- এটি মুঘল আমলে নির্মিত হয়েছিল।
- ৬১ হিজরির ১০ মুহররম (৬৮০ খ্রিস্টাব্দের ১০ অক্টোবর) তারিখে ইরাকের কারবালার যুদ্ধে আল-হোসেনের শহীদত্বকে স্মরণ করার জন্য ইমারত নির্মাণ করা ছিল শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত একটি সাধারণ রীতি।
- শাহ সুজার শাসনকালে জনৈক মীর মুরাদ প্রথম এ ইমারত নির্মাণ করেন বলে মনে করা হয়।
- শাহ সুজা নিজে সুন্নি মুসলমান হলেও শিয়াদের মধ্যে প্রচলিত রীতিনীতির পৃষ্ঠপোষকতা করতে আগ্রহী ছিলেন।
- সৈয়দ মুরাদ একদা স্বপ্নে আল হোসেনকে একটি ‘তাজিয়াখানা’ নির্মাণ করতে দেখে এই ইমারত নির্মাণে উৎসাহিত হন।
- তিনিই এই ইমারতের নাম রাখেন হোসেনী দালান।
- ইমারতটি সম্ভবত একটি ছোট্ট স্থাপনা ছিল।
- পরবর্তীকালে ১৮০৭ ও ১৮১০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উদ্যোগে ইমারতটির সংস্কার করা হয় এবং ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের পর এর কিছু অংশ নতুন করে পুনর্নির্মাণ করা হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১.
ওয়ারেন হেস্টিংস কোনটি প্রবর্তন করেন?
  1. চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
  2. নীল আইন
  3. পাঁচসালা বন্দোবস্ত
  4. ভারত শাসন আইন
ব্যাখ্যা
পাঁচসালা বন্দোবস্ত:
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের আগে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস রাজস্ব আদায়ের জন্য পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু করেন।
- জমি বন্দোবস্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকায় জমিদাররা অর্থ আদায়ের জন্য কৃষকদের প্রতি চরম নির্যাতন মূলক ব্যবস্থা নিতো।
- অথচ কৃষকের বা জমির উন্নয়নের প্রতি তাদের কোনো লক্ষ ছিল না।
- এ অবস্থায় হেস্টিংস জমিদারদের সঙ্গে এক সালা বন্দোবস্ত চালু করেন।
- ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে কর্নওয়ালিস দশসালা বন্দোবস্ত চালু করেন।

উল্লেখ্য,
⇒ ওয়ারেন হেস্টিংস:
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস।
- তাঁর শাসন কালকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়, প্রথমপর্ব: ১৭৭২-১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার গভর্নর হিসেবে আর দ্বিতীয় পর্ব, ১৭৭৪-১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত গভর্নর জেনালের হিসেবে।
- তিনি বাংলায় দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটান এবং বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জমিদারদের সাথে 'পাঁচসালা ভূমি বন্দোবস্ত' করেন।
- তবে নানা কারণে এ ব্যবস্থা ফলপ্রসূ না হলে তিনি ১৭৭৭ সালে 'একসালা বন্দোবস্ত' করেন।
- গভর্নর পদে নিযুক্ত হয়ে হেস্টিংস সর্ব প্রথমেই সীমান্ত নীতি বিষয়ে পরিবর্তন সাধন করেন এবং অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির সূচনা করেন।

অন্যদিকে,
- গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিশ নানা বিচার-বিশ্লেষণ করে ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথার প্রবর্তন করেন।

উৎস: i)  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
পুন্ড্রনগর কোন শাসনামলের স্মৃতি ধারন করে?
  1. গুপ্ত
  2. পাল
  3. সেন
  4. মুঘল
ব্যাখ্যা
পুন্ড্র:
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তীকালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়।

⇒ সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুন্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুন্ড্রনগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুন্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
তেভাগা আন্দোলন তীব্র ছিল কোন কোন জেলায়?
  1. টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ
  2. সিলেট ও চট্টগ্রাম
  3. রংপুর ও দিনাজপুর
  4. চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
তেভাগা আন্দোলন:
- তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন ইলা মিত্র।
- তেভাগা আন্দোলন বাংলায় সংঘটিত বর্গাচাষীদের একটি কৃষক আন্দোলন।
- ১৯৪০ থেকে ১৯৫০ সালে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন।
- এই আন্দোলনের আরেকজন নেতা হলেন হাজী দানেশ।
- কৃষকদের অধিকার আদায়ে তেভাগা আন্দোলনে অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করেন নড়াইলের অমল সেন।
- তেভাগা আন্দোলনের দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা প্রভৃতি জেলায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ১৮ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো।
১৪.
'পঞ্চাশের মন্বন্তর' ইংরেজি কত সালে হয়?
  1. ১৯৪৩ সালে
  2. ১৯৪৭ সালে
  3. ১৯৫০ সালে
  4. ১৯৫৩ সালে
ব্যাখ্যা
পঞ্চাশের মন্বন্তর:
- বাংলার ইতিহাসে একটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ছিল পঞ্চাশের মন্বন্তর।
- ইংরেজি ১৯৪৩ সালে অর্থাৎ বাংলা ১৩৫০ সালে এই দুর্ভিক্ষটি হয়েছিল বলে এটি পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত।

⇒ ১৭৭০ সালের পর বাংলায় সংঘটিত সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ছিল এটি।
- পঞ্চাশের মন্বন্তরে প্রায় সাত লাখ পরিবারের ৩৮ লাখ মানুষের জীবনযাত্রার মানের মারাত্মক অবনতি ঘটে।
- ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই দুর্ভিক্ষ এবং দুর্ভিক্ষ-পরবর্তী মহামারিতে ৩৫ থেকে ৩৮ লাখ মানুষ মারা যায়।
- এই দুর্ভিক্ষের পেছনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল একটা বড় কারণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫.
মাস্টারদা সূর্যসেনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল কোথায়?
  1. দিল্লী
  2. ঢাকা
  3. চট্টগ্রাম
  4. কলকাতা
ব্যাখ্যা
মাস্টারদা সূর্য সেন:
- তার পুরো নাম সূর্যকুমার সেন।
- মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্ম ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে।

⇒ বিএ পড়ার সময় তিনি তাঁর এক শিক্ষক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন।
- অধ্যাপক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী যুগান্তর নামে বিপ্লবী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- সূর্য সেন ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে বিপ্লবী যুগান্তর দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন।
- শিক্ষকতা করার কারণে তিনি পরিচিত মহলে 'মাস্টারদা' আখ্যা পান।

⇒ সূর্যসেন যখন নোয়াপাড়া উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ের ছাত্র তখন বঙ্গভঙ্গকে (১৯০৫) কেন্দ্র করে বাংলায় স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয়।
- ক্রমে এই আন্দোলন বিশেষ করে চট্টগ্রাম এলাকায় বিপ্লবী আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯১৬ সালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে বি.এ. শ্রেণিতে পড়াকালীন শিক্ষক শতীশচন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন সূর্যসেন।
- সূর্যসেন চট্টগ্রামে ফিরে গিয়ে ব্রিটিশ বিরোধী একটি বিপ্লবী দল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন।
- সূর্য সেন ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে বিপ্লবী যুগান্তর দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন।

⇒ ১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের প্রধান সংগঠক মাস্টারদা সূর্যসেন।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ফসল।
- ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬.
টোডরমল স্মরণীয় হয়ে আছেন কেন?
  1. অতিরিক্ত কর বিলোপের জন্য
  2. রাজস্ব সংস্কারের জন্য
  3. সামরিক সংস্কারের জন্য
  4. নতুন কর সংযোজনের জন্য
ব্যাখ্যা
আকবরের ভূমি শাসন ব্যবস্থা:
- সম্রাট আকবরের ভূমি শাসন ব্যবস্থা অনন্য কৃতিত্বের দাবীদার।
- শেরশাহের রাজস্ব-সংস্কার নীতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে মুজাফ্ফর খান তুরবতী ও রাজা টোডরমলের সহযোগিতায় আকবর রাজস্ব ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করেন।
- তাঁর রাজস্ব নীতির মূল লক্ষ্য ছিল- ১. জমির শ্রেণি বিভাগকরণ, ২. উৎপন্ন শস্যের উপর ভিত্তি করে রাজস্ব নির্ধারণ।

⇒ সম্রাট আকবরের অর্থমন্ত্রী সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত টোডরমল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত সকল জমি জরিপ করিয়ে উর্বরতা ও কত কাল যাবৎ চাষাবাদ করা হয়-এসব তথ্যর ভিত্তিতে চাষের জমি সমূহকে ৪ ভাগে ভাগ করেন। যথা -
১. পোলাজ জমি- এ সমস্ত জমি প্রতি বছর চাষ করা হত।
২. পরাউতি জমি- এ ধরনের জমি একবার চাষের পর উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য কিছুদিন অনাবাদী রাখা হত।
৩. চাচর জমি এ সমস্ত জমি তিন বা চার বছর পর পর চাষ করা হত।
৪. বনযার জমি এ ধরনের জমি পাঁচ বছরের জন্য অনাবাদী থাকত।
- প্রথম দুই ধরনের ভূমি থেকে উৎপন্ন শস্যের এক তৃতীয়াংশ ভূমি রাজস্ব হিসেবে গৃহীত হতো।
- চাচর ও বনযার জমির উপর সামান্য হারে রাজস্ব ধার্য করা হয়।
- কৃষকগণ নগদ টাকায় অথবা শস্যে খাজনা দিতে পারতো।
- এই ভূমি রাজস্ব নীতি 'যাবতী' বা টোডরমলের 'রায়তওয়ারী' প্রথা নামে পরিচিত।
- এছাড়াও কোন কোনো জমির উৎপাদিত ফসলের ১/৩ অংশ সরকার কর হিসেবে পেত। 
- তিনি আদায়কৃত রাজস্ব থেকে সুবাদারকে প্রয়োজনীয় অর্থ দেয়ার পর উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় রাজকোষে প্রেরণ করতেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
কৌটিল্য কার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন?
  1. হর্ষবর্ধন
  2. শশাঙ্ক
  3. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  4. অশোক
ব্যাখ্যা
চন্দ্ৰগুপ্ত মৌর্য:
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- তার রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যই প্রাচীন ভারতে অখন্ড ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথে প্রথম বড় ধরনের সফল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তাঁর সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে।
- মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়।
- বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- সামাজিক ক্ষেত্রে আর্য-অনার্যের পার্থক্য ক্রমেই ঘুঁচে যেতে শুরু করে।
- শিল্প- সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুণগত পরিবর্তনের সূচনা হয়।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কৌটিল্য বা চাণক্য (চাণক্য, প্রায়ই কৌটিল্য এবং বিষ্ণুগুপ্ত নামে পরিচিত)।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
হিউয়েন সাং কোন সময়ে বাংলা ভ্রমণ করেন?
  1. ৬০৫-৬১১ সাল
  2. ৬১৮-৬২২ সাল
  3. ৬৩০-৬৪০ সাল
  4. ৬৬৫-৬৭০ সাল
ব্যাখ্যা
হিউয়েন সাং:
- ফা-হিয়েনের পরবর্তী তীর্থ-ভ্রমণকারী ছিলেন হিউয়েন-সাং।
- তাঁর বিবরণী থেকে সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধের বাংলা সম্পর্কে কিছুটা তথ্য জানা যায়।
- সে সময় উত্তর ভারতে হর্ষবর্ধন, বাংলায় শশাঙ্ক এবং আসামে ভাস্করবর্মণ শাসন করছিলেন।
- ৬২৯ সালে চীন থেকে যাত্রা শুরু করে হিউয়েন সাং উত্তরের বাণিজ্য পথ ধরে মধ্য এশিয়ার কুশ হয়ে উত্তর ভারতে পৌঁছান।
- হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন।
- কনৌজনগরে পৌঁছে তিনি ভারতীয় সম্রাট হর্ষবর্ধনের আতিথ্য লাভ করেন।
- হিউয়েন-সাং যখন নালন্দা মহাবিহারে অধ্যয়ন করেন তখন বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু শীলভদ্র ছিলেন এর অধ্যক্ষ।
- হিউয়েন-সাং শীলভদ্রের একজন ছাত্র ছিলেন।

⇒ হিউয়েন-সাং ৬৩৮ (৬৩০-৬৪০) সালের দিকে বাংলায় আসেন।
- তাঁর বিবরণী শশাঙ্ক-এর ইতিহাস, বিশেষ করে হর্ষবর্ধনের সঙ্গে তাঁর বৈরিতা এবং শশাঙ্কের ধর্মনীতি সম্পর্কে জানার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
- ৬৪৫ সালে হিউয়েন সাং চীনে প্রত্যাবর্তন করলে তাঁকে বিপুল সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
- ৬৬৪ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বৌদ্ধ রচনার অনুবাদে জীবনের বাকি সময় ব্যয় করেন হিউয়েন সাং।

উল্লেখ্য,
- শৈশব থেকেই তিনি ধর্মগ্রন্থ, বিশেষ করে চৈনিক ধ্রুপদি গ্রন্থ ও প্রাচীন জ্ঞানী লোকদের লেখা পাঠে আগ্রহী হন।
- লুওইয়াং নগরে অবস্থানকালে হিউয়েন সাং মাত্র ১৩ বছর বয়সে বৌদ্ধভিক্ষু সম্প্রদায়ে প্রবেশ করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
চারটি ঘণ্টা একত্রে বেজে যথাক্রমে ৪, ৬, ৯, ও ১৫ সেকেন্ড অন্তর অন্তর বাজতে লাগলো। কতক্ষণ পরে ঘণ্টা গুলো পুনরায় একত্রে বাজবে?
  1. ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ড
  2. ৩ মিনিট
  3. ৩ মিনিট ৩০ সেকেন্ড
  4. ৪ মিনিট
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: চারটি ঘণ্টা একত্রে বেজে যথাক্রমে ৪, ৬, ৯, ও ১৫ সেকেন্ড অন্তর অন্তর বাজতে লাগলো। কতক্ষণ পরে ঘণ্টা গুলো পুনরায় একত্রে বাজবে?

সমাধান:
৪, ৬, ৯, ও ১৫ এর ল. সা. গু = ১৮০

∴ ঘণ্টাগুলো পুনরায় একত্রে বাজবে = ১৮০ সেকেন্ড পর
= (১৮০/৬০) মিনিট পর [∵ ৬০ সেকেন্ড = ১ মিনিট]
= ৩ মিনিট
২০.
বার্ষিক শতকরা ৫ টাকা হার সুদে ১২০০ টাকার ৫ বছরের সুদাসল কত?
  1. ১৪৫০ টাকা
  2. ১৫০০ টাকা
  3. ১৫৫০ টাকা
  4. ১৬০০ টাকা
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: বার্ষিক শতকরা ৫ টাকা হার সুদে ১২০০ টাকার ৫ বছরের সুদাসল কত?

সমাধান:
আমরা জানি,
সুদ = (আসল × সুদের হার × সময়)/১০০
= (১২০০ × ৫ × ৫)/১০০
= ৩০০ টাকা

∴ সুদাসল = সুদ + আসল
= ৩০০ + ১২০০
= ১৫০০ টাকা
২১.
৫% হার মুনাফায় ২০০০ টাকার ৩ বছরের চক্রবৃদ্ধি মুনাফা এবং সরল মুনাফার পার্থক্য কত?
  1. ১৮.২৫ টাকা
  2. ১৫.২৫ টাকা
  3. ২০.৫ টাকা
  4. ১৭.২৫ টাকা
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ৫% হার মুনাফায় ২০০০ টাকার ৩ বছরের চক্রবৃদ্ধি মুনাফা এবং সরল মুনাফার পার্থক্য কত?

সমাধান:
এখানে,
আসল, P = ২০০০,
সময়, n = ৩ বছর,
মুনাফার হার, r = ৫%

আমরা জানি,
সরল মুনাফার ক্ষেত্রে,
মুনাফা = Pnr = ২০০০ × ৩ × (৫/১০০) = ৩০০ টাকা

আবার,
চক্রবৃদ্ধি হারে,
চক্রবৃদ্ধি মূলধন = P(1 + r)n
= ২০০০ × (১ + (৫/১০০))
= ২০০০ × (১০৫/১০০) = ২৩১৫.২৫ টাকা

∴ চক্রবৃদ্ধি মুনাফা = ২৩১৫.২৫ - ২০০০ = ৩১৫.২৫ টাকা
∴ চক্রবৃদ্ধি মুনাফা এবং সরল মুনাফার পার্থক্য = ৩১৫.২৫ - ৩০০ = ১৫.২৫ টাকা।
২২.
রানা, জামাল এবং কামালের বয়সের সমষ্টি ১৬৮ বছর। তাদের বয়সের অনুপাত ৩ : ৪ : ৫ হলে, জামাল এবং রানার বয়সের পার্থক্য কত বছর?
  1. ১০ বছর
  2. ১২ বছর
  3. ১৪ বছর
  4. ১৬ বছর
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: রানা, জামাল এবং কামালের বয়সের সমষ্টি ১৬৮ বছর। তাদের বয়সের অনুপাত ৩ : ৪ : ৫ হলে, জামাল এবং রানার বয়সের পার্থক্য কত বছর?

সমাধান:
অনুপাতের যোগফল = ৩ + ৪ + ৫ = ১২
তাহলে, রানার বয়স = ১৬৮ × (৩/১২) = ৪২ বছর
জামালের বয়স = ১৬৮ × (৪/১২) = ৫৬ বছর

∴ জামাল ও রানার বয়সের পার্থক্য = ৫৬ - ৪২ বছর
= ১৪ বছর
২৩.
সাকিব একটি অনলাইন শপ থেকে একটি পণ্য কিনলো যার সাথে ১২% ডেলিভারি চার্জ সহ মোট ৮৪০ টাকা খরচ হলো। পণ্যের মূল দাম কত?
  1. ১২০ টাকা
  2. ৭৩০ টাকা
  3. ৭৫০ টাকা
  4. ৭৮০ টাকা
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: সাকিব একটি অনলাইন শপ থেকে একটি পণ্য কিনলো যার সাথে ১২% ডেলিভারি চার্জ সহ মোট ৮৪০ টাকা খরচ হলো। পণ্যের মূল দাম কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে, ডেলিভারি চার্জ = ১২%
চার্জসহ মোট দাম = ১০০% + ১২% = ১১২%

প্রশ্নমতে,
১১২% = ৮৪০
বা, ১% = ৮৪০/১১২
∴ ১০০% = (৮৪০ × ১০০)/১১২
= ৭৫০

∴ পণ্যের মূল দাম ৭৫০ টাকা।
২৪.
যদি a একটি জোড় সংখ্যা হয়, তাহলে (5a + 8) থেকে বড় ক্ষুদ্রতম জোড় সংখ্যা এবং (3a + 11) থেকে ছোট বৃহত্তম জোড় সংখ্যার পার্থক্য কত?
  1. 2a - 1
  2. a + 2
  3. 2a
  4. a = 3
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: যদি a একটি জোড় সংখ্যা হয়, তাহলে (5a + 8) থেকে বড় ক্ষুদ্রতম জোড় সংখ্যা এবং (3a + 11) থেকে ছোট বৃহত্তম জোড় সংখ্যার পার্থক্য কত?

সমাধান:
5a + 8 এর চেয়ে বড় ক্ষুদ্রতম জোড় সংখ্যা = 5a + 8 + 2 = 5a + 10
3a + 11 এর চেয়ে ছোট বৃহত্তম জোড় সংখ্যা = 3a + 11 - 1 = 3a + 10

∴ পার্থক্য = 5a + 10 - 3a - 10
= 2a
২৫.
একটি পণ্যের নির্মাতা ও খুচরা বিক্রেতা উভয়ই ২৫% লাভে বিক্রয় করে, ঐ পণ্যের নির্মাণ খরচ ৪০০ টাকা হলে খুচরা মূল্য কত?
  1. ৬০০ টাকা
  2. ৬২৫ টাকা
  3. ৬৫০ টাকা
  4. ৬৭৫ টাকা
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি পণ্যের নির্মাতা ও খুচরা বিক্রেতা উভয়ই ২৫% লাভে বিক্রয় করে, ঐ পণ্যের নির্মাণ খরচ ৪০০ টাকা হলে খুচরা মূল্য কত?

সমাধান:
নির্মাতার ২৫% লাভে,
নির্মাণ খরচ ১০০ টাকা হলে বিক্রয়মূল্য = ১২৫ টাকা
∴ নির্মাণ খরচ ১ টাকা হলে বিক্রয়মূল্য = ১২৫/১০০ টাকা
∴ নির্মাণ খরচ ৪০০ টাকা হলে বিক্রয়মূল্য = (১২৫/১০০) × ৪০০ টাকা
= ৫০০ টাকা

খুচরা বিক্রেতার ২৫% লাভে,
ক্রয়মূল্য ৫০০ টাকা হলে বিক্রয়মূল্য = (১২৫/১০০) × ৫০০ টাকা
= ৬২৫ টাকা
২৬.
কোন অনুপাতের উভয় পদের সাথে 2 যোগ করলে অনুপাতটি 4 : 5 এবং উভয় পদ থেকে 1 বিয়োগ করলে অনুপাতটি 3 : 4 হবে?
  1. 9 : 16
  2. 10 : 13
  3. 8 : 15
  4. 7 : 9
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: কোন অনুপাতের উভয় পদের সাথে 2 যোগ করলে অনুপাতটি 4 : 5 এবং উভয় পদ থেকে 1 বিয়োগ করলে অনুপাতটি 3 : 4 হবে?

সমাধান:
ধরি,
নির্ণেয় অনুপাত = x : y
১ম শর্তমতে, (x + 2)/(y + 2) = 4/5
বা, 5x + 10 = 4y + 8
বা, 5x = 4y - 2
∴ x = (4y - 2)/5

২য় শর্তমতে, (x - 1)/(y - 1) = 3/4
বা, 4x - 4 = 3y - 3
বা, 4x - 3y = 1
বা, 4{(4y - 2)/5} - 3y = 1 [x এর মান বসিয়ে]
বা, (16y - 8)/5 - 3y = 1
বা, 16y - 8 - 15y = 5
বা, 16y - 15y = 13
∴ y = 13
∴ x = (4 × 13 - 2)/5 = 50/5 = 10
∴ নির্ণেয় অনুপাত = 10 : 13
২৭.
১০০ থেকে ১৩০ এর মধ্যবর্তী সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মৌলক সংখার পার্থক্য কত?
  1. ২৪
  2. ২৫
  3. ২৩
  4. ২৬
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ১০০ থেকে ১৩০ এর মধ্যবর্তী সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মৌলক সংখার পার্থক্য কত?

সমাধান:
১০০ থেকে ১৩০ এর মধ্যবর্তী,
সর্বোচ্চ মৌলিক সংখ্যা = ১২৭
সর্বনিম্ন মৌলিক সংখ্যা = ১০১

পার্থক্য = ১২৭ - ১০১ = ২৬
২৮.
রহিম ও করিমের জমির পরিমাণের অনুপাত ২ : ৩। করিম ও জব্বারের জমির পরিমাণের অনুপাত ৪ : ৫। রহিমের জমির পরিমাণ ৪০ শতক হলে জব্বারের জমির পরিমাণ কত?
  1. ৬০ শতক
  2. ৭৫ শতক
  3. ৮০ শতক
  4. ৮৫ শতক
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: রহিম ও করিমের জমির পরিমাণের অনুপাত ২ : ৩। করিম ও জব্বারের জমির পরিমাণের অনুপাত ৪ : ৫। রহিমের জমির পরিমাণ ৪০ শতক হলে জব্বারের জমির পরিমাণ কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
রহিমের জমির পরিমাণ = ৪০ শতক
রহিম ও করিমের জমির অনুপাত = ২ : ৩
∴ করিমের জমির পরিমাণ = রহিমের জমির ৩/২ অংশ
= ৪০ × (৩/২) শতক
= ৬০ শতক

আবার,
করিম ও জব্বারের জমির অনুপাত = ৪ : ৫
∴ জব্বারের জমির পরিমাণ = করিমের জমির ৫/৪ অংশ
= ৬০ × (৫/৪) শতক
= ৭৫ শতক
∴ জব্বারের জমির পরিমাণ ৭৫ শতক।
২৯.
কোন ভগ্নাংশটি ৪/৭ থেকে ছোট?
  1. ৩/৪
  2. ৫/৯
  3. ৭/১২
  4. ৮/৯
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: কোন ভগ্নাংশটি ৪/৭ থেকে ছোট?

সমাধান:
৪/৭ = ০.৫৭

৮/৯ = ০.৮৯
৭/১২ = ০.৫৮
৫/৯ = ০.৫৬
৩/৪ = ০.৭৫

∴ ৫/৯ কোন ভগ্নাংশটি ৪/৭ থেকে ছোট।
৩০.
একজন ব্যবসায়ী ৫০টি বই ৫০০ টাকায় কিনে ২৫টি বই ১৫০ টাকায় বিক্রি করলে শতকরা কত ক্ষতি হবে?
  1. ২০%
  2. ৩০%
  3. ৪০%
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একজন ব্যবসায়ী ৫০টি বই ৫০০ টাকায় কিনে ২৫টি বই ১৫০ টাকায় বিক্রি করলে শতকরা কত ক্ষতি হবে?

সমাধান:
৫০টি বইয়ের ক্রয়মূল্য = ৫০০ টাকা
১টি বইয়ের ক্রয়মূল্য = ৫০০/৫০ = ১০ টাকা

২৫টি বইয়ের বিক্রয়মূল্য = ১৫০ টাকা
১টি বইয়ের বিক্রয়মূল্য = ১৫০/২৫ = ৬ টাকা
∴ ক্ষতি = (১০ - ৬) = ৪ টাকা

১০ টাকায় ক্ষতি হয় = ৪ টাকা
১ টাকায় ক্ষতি হয় = ৪/১০ টাকা
১০০ টাকায় ক্ষতি হয় = (৪ × ১০০)/১০ = ৪০ টাকা বা ৪০%
৩১.
এক কেজি আপেল ২৪০ টাকায় ক্রয় করে ২৫০ গ্রাম কত টাকায় বিক্রি করলে ২০% লাভ হবে?
  1. ৮০ টাকা
  2. ৭৬ টাকা
  3. ৭২ টাকা
  4. ৭8 টাকা
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: এক কেজি আপেল ২৪০ টাকায় ক্রয় করে ২৫০ গ্রাম কত টাকায় বিক্রি করলে ২০% লাভ হবে?

সমাধান:
১০০০ গ্রাম (১ কেজি) আপেলের ক্রয়মূল্য = ২৪০ টাকা
১ গ্রাম আপেলের ক্রয়মূল্য = ২৪০/১০০০ টাকা
২৫০ গ্রাম আপেলের ক্রয়মূল্য = (২৪০ × ২৫০)/১০০০ টাকা
= ৬০ টাকা

২০% লাভে,
ক্রয়মূল্য ১০০ টাকা হলে বিক্রয়মূল্য = ১২০ টাকা
ক্রয়মূল্য ১ টাকা হলে বিক্রয়মূল্য = ১২০/১০০ টাকা
ক্রয়মূল্য ৬০ টাকা হলে বিক্রয়মূল্য = (১২০ × ৬০)/১০০ টাকা
= ৭২ টাকা

২৫০ গ্রাম আপেল ৭২ টাকায় বিক্রি করতে হবে।
৩২.
কোন বৃহত্তম সংখ্যা দ্বারা ২৭, ৪০ ও ৬৫ কে ভাগ করলে যথাক্রমে ৩, ৪ ও ৫ ভাগশেষ থাকবে?
  1. ১৫
  2. ১২
  3. ১০
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: কোন বৃহত্তম সংখ্যা দ্বারা ২৭, ৪০ ও ৬৫ কে ভাগ করলে যথাক্রমে ৩, ৪ ও ৫ ভাগশেষ থাকবে?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
একটি বৃহত্তম সংখ্যা দ্বারা ২৭, ৪০ ও ৬৫ কে ভাগ করলে যথাক্রমে ৩, ৪, ৫ ভাগশেষ থাকবে।

এখানে,
২৭ - ৩ = ২৪
৪০ - ৪ = ৩৬
৬৫ - ৫ = ৬০

∴ বৃহত্তম সংখ্যাটি হবে ২৪, ৩৬ ও ৬০ এর গ. সা. গু।
২৪, ৩৬ ও ৬০ এর গ. সা. গু = ১২
∴ নির্ণেয় বৃহত্তম সংখ্যা = ১২।
৩৩.
ডালের মূল্য ১২% কমে যাওয়ায় ৭০০০ টাকায় পূর্বাপেক্ষা ১ কুইন্টাল ডাল বেশি পাওয়া যায়। এক কুইন্টাল ডালের বর্তমান মূল্য কত?
  1. ৯৪০ টাকা
  2. ৬৪০ টাকা
  3. ৭৪০ টাকা
  4. ৮৪০ টাকা
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ডালের মূল্য ১২% কমে যাওয়ায় ৭০০০ টাকায় পূর্বাপেক্ষা ১ কুইন্টাল ডাল বেশি পাওয়া যায়। এক কুইন্টাল ডালের বর্তমান মূল্য কত?

সমাধান:
১২% মূল্য কমে যাওয়ায় বর্তমান মূল্য = ১০০ - ১২ = ৮৮ টাকা

এখন,
পূর্বমূল্য ১০০ টাকা হলে বর্তমান মূল্য = ৮৮ টাকা
∴ পূর্বমূল্য ১ টাকা হলে বর্তমান মূল্য = ৮৮/১০০ টাকা
∴ পূর্বমূল্য ৭০০০ টাকা হলে বর্তমান মূল্য = (৮৮ × ৭০০০)/১০০ টাকা
= ৬১৬০ টাকা

∴ ১ কুইন্টাল ডালের বর্তমান মূল্য = ৭০০০ - ৬১৬০ = ৮৪০ টাকা
৩৪.
√০.০০০২৫৬ এর বর্গমূল কত?
  1. ০.০১৬
  2. ০.০০১৬
  3. ০.০০০৮
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: √০.০০০২৫৬ এর বর্গমূল কত?

সমাধান:
√০.০০০২৫৬ এর মান = ০.০১৬

√০.০০০২৫৬ এর বর্গমূল = ০.০১৬ এর বর্গমূল
= √০.০১৬
= ০.১২৬
৩৫.
দুইটি সংখ্যার ল.সা.গু ৭২০ এবং গ.সা.গু ৪। একটি সংখ্যা ৮০ হলে, অপর সংখ্যাটি কত?
  1. ৩৬
  2. ৪২
  3. ৪৮
  4. ৫৬
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: দুইটি সংখ্যার ল.সা.গু ৭২০ এবং গ.সা.গু ৪। একটি সংখ্যা ৮০ হলে, অপর সংখ্যাটি কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
ল.সা.গু = ৭২০
গ.সা.গু = ৪
একটি সংখ্যা = ৮০

ধরি,
অপর সংখ্যাটি = a

আমরা জানি,
দুটি সংখ্যার গুণফল = ল.সা.গু × গ.সা.গু
বা, ৮০ × a = ল.সা.গু × গ.সা.গু
বা, ৮০ × a = ৭২০ × ৪
বা, a = (৭২০ × ৪)/৮০
∴ a = ৩৬
∴ অপর সংখ্যাটি ৩৬।
৩৬.
একটি স্কুলের ক্লাস ক্যাপ্টেন নির্বাচনে ৭ম শ্রেণির দুইজন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। বিজয়ী শিক্ষার্থী, পরাজিত শিক্ষার্থী থেকে ৬০ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করে। বিজয়ী শিক্ষার্থী মোট ভোটের ৬৫% পেলে, মোট ভোটারের সংখ্যা কত?
  1. ২২০ জন
  2. ২০০ জন
  3. ১৮০ জন
  4. ২২৫ জন
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি স্কুলের ক্লাস ক্যাপ্টেন নির্বাচনে ৭ম শ্রেণির দুইজন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। বিজয়ী শিক্ষার্থী, পরাজিত শিক্ষার্থী থেকে ৬০ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করে। বিজয়ী শিক্ষার্থী মোট ভোটের ৬৫% পেলে, মোট ভোটারের সংখ্যা কত?

সমাধান:
ধরি, মোট ভোট = ১০০%
তাহলে, পরাজিত শিক্ষার্থী ভোট পায় = ১০০% - ৬৫% = ৩৫%
∴ বিজয়ী শিক্ষার্থী ভোট বেশি পায় = ৬৫% - ৩৫% = ৩০%

প্রশ্নমতে,
৩০% = ৬০ জন
∴ ১% = ৬০/৩০ জন
∴ ১০০% = (৬০/৩০) × ১০০
= ২০০ জন

∴ মোট ভোটারের সংখ্যা ২০০ জন।
৩৭.
বার্ষিক ১০% হারে ষান্মাসিক চক্রবৃদ্ধিতে ২০০০ টাকার ১ বছরের সুদ কত হবে
  1. ২০৫ টাকা
  2. ২১০ টাকা
  3. ২১৫ টাকা
  4. ২২০ টাকা
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: বার্ষিক ১০% হারে ষান্মাসিক চক্রবৃদ্ধিতে ২০০০ টাকার ১ বছরের সুদ কত হবে?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
মূলধন, P = ২০০০ টাকা
সময়, n = ১ বছর = ২ অর্ধবর্ষ
সুদের হার, r = (১০/২)% = ৫% = ৫/১০০ = ০.০৫

আমরা জানি,
চক্রবৃদ্ধি মুনাফায় সবৃদ্ধিমূল, C = P(১ + r)n
= ২০০০(১ + ০.০৫)
= ২০০০ × (১.০৫)
= ২০০০ × ১.০৫ × ১.০৫
= ২০০০ × ১.১০২৫
= ২২০৫

চক্রবৃদ্ধি মুনাফা = ২২০৫ - ২০০০ = ২০৫ টাকা
৩৮.
রহিম একটি ব্যবসায় ১৮০০০ টাকা বিনিয়োগ করে এবং কয়েক মাস পরে করিম ঐ ব্যবসায় ২৭০০০ টাকা বিনিয়োগ করে। বছর শেষে তাদের প্রত্যেকের লাভ সমান হলে, করিম কত মাস পর যোগ দেয়?
  1. ৩ মাস
  2. ৪ মাস
  3. ৫ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: রহিম একটি ব্যবসায় ১৮০০০ টাকা বিনিয়োগ করে এবং কয়েক মাস পরে করিম ঐ ব্যবসায় ২৭০০০ টাকা বিনিয়োগ করে। বছর শেষে তাদের প্রত্যেকের লাভ সমান হলে, করিম কত মাস পর যোগ দেয়?

সমাধান:
ধরি,
করিম ব্যবসায় x মাস পরে যোগদান করলেন।
তাহলে,
১৮০০০ × ১২ = ২৭০০০ × (১২ - x)
⇒ (১৮০০০ × ১২)/২৭০০০ = ১২ - x
⇒ ২১৬০০০/২৭০০০ = ১২ - x
⇒ ৮ = ১২ - x
∴ x = ৪
করিম ৪ মাস পর ব্যবসায় যোগ দেয়।
৩৯.
একজন সবজি ব্যবসায়ীর ১৫% সবজি পচে যায় এবং ৫% সবজি পরিবহনের সময় নষ্ট হয়ে যায়। বাকি সবজি শতকরা কত টাকা লাভে বিক্রয় করলে মোটের উপর তার ২৫% লাভ হবে?
  1. ৪৫%
  2. ৫৬.২৫%
  3. ৫০%
  4. ৬০.৫০%
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একজন সবজি ব্যবসায়ীর ১৫% সবজি পচে যায় এবং ৫% সবজি পরিবহনের সময় নষ্ট হয়ে যায়। বাকি সবজি শতকরা কত টাকা লাভে বিক্রয় করলে মোটের উপর তার ২৫% লাভ হবে?

সমাধান:
ধরি,
সবজি ক্রয় করে ১০০ টাকার
মোট সবজি নষ্ট হয় = ১৫ + ৫ = ২০%
বাকি থাকে = ১০০ - ২০ = ৮০%

২৫% লাভে,
বিক্রয়মূল্য = ১০০ + ২৫ = ১২৫ টাকা
৮০ টাকায় লাভ করতে হবে = ১২৫ - ৮০ = ৪৫ টাকা
∴ ১ টাকায় লাভ করতে হবে = ৪৫/৮০ টাকা
∴ ১০০ টাকায় লাভ করতে হবে = (৪৫ × ১০০)/৮০ টাকা
= ৫৬.২৫ টাকা
অতএব, বাকি সবজি ৫৬.২৫% লাভে বিক্রি করলে মোটের উপর ২৫% লাভ হবে।
৪০.
৫০০০ এর শতকরা ১৫ ভাগ অপেক্ষা ৫০০০ এর শতকরা ২৫ ভাগ কত বেশি?
  1. ৪০০ টাকা
  2. ৫০০ টাকা
  3. ৬০০ টাকা
  4. ৭০০ টাকা
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ৫০০০ এর শতকরা ১৫ ভাগ অপেক্ষা ৫০০০ এর শতকরা ২৫ ভাগ কত বেশি?

সমাধান:
৫০০০ এর শতকরা ২৫ ভাগ = ৫০০০ × (২৫/১০০) = ১২৫০ টাকা 
৫০০০ এর শতকরা ১৫ ভাগ = ৫০০০ × (১৫/১০০) = ৭৫০ টাকা 
∴ পার্থক্য = ১২৫০ - ৭৫০ = ৫০০ টাকা 
৪১.
একটি খুঁটির ১/৪ অংশ মাটিতে, ১/২ অংশ জলে এবং অবশিষ্ট ৬ মিটার জলের উপরে আছে। খুঁটিটির মোট দৈর্ঘ্য কত?
  1. ২৮ মিটার
  2. ৩০ মিটার
  3. ২৪ মিটার
  4. ৩৬ মিটার
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি খুঁটির ১/৪ অংশ মাটিতে, ১/২ অংশ জলে এবং অবশিষ্ট ৬ মিটার জলের উপরে আছে। খুঁটিটির মোট দৈর্ঘ্য কত?

সমাধান:
ধরি,
সম্পূর্ণ খুঁটির দৈর্ঘ্য = ১ অংশ
মাটিতে ও জলে আছে = (১/৪) + (১/২) অংশ
= (২ + ৪)/৮ অংশ
= ৬/৮ অংশ

∴ জলের উপরে আছে = ১ - (৬/৮) অংশ
= (৮ - ৬)/৮ অংশ
= ২/৮ অংশ

প্রশ্নমতে,
২/৮ অংশ = ৬ মিটার
∴ ১ বা সম্পূর্ণ অংশ = ৬ × (৮/২) মিটার
= ২৪ মিটার
∴ খুঁটিটির মোট দৈর্ঘ্য ২৪ মিটার।
৪২.
দুটি ক্রমিক পূর্ণ সংখ্যার বর্গের অন্তর ৪৫। বড় সংখ্যাটি কত?
  1. ২১
  2. ২২
  3. ২৩
  4. ২৪
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: দুটি ক্রমিক পূর্ণ সংখ্যার বর্গের অন্তর ৪৫। বড় সংখ্যাটি কত?

সমাধান:
ধরি,
বড় সংখ্যাটি = ক
ছোট সংখ্যাটি = ক - ১

প্রশ্নমতে,
- (ক - ১) = ৪৫
⇒ ক - ক + ২ক - ১ = ৪৫
⇒ ২ক = ৪৬
∴ ক = ২৩

শর্টকাট:
বড় সংখ্যাটি = (বর্গের অন্তর + ১)/২
= (৪৫ + ১)/২
= ২৩
৪৩.
রাজু ও কবিরের দৈনিক বিক্রয়ের অনুপাত ৪ : ৫। তাদের দুইজনের দৈনিক বিক্রয় একত্রে ১৮০০০ টাকা। একমাস পর রাজুর বিক্রয় ৩০০ টাকা বেড়ে গেল এবং কবিরের বিক্রয় ৪০০ টাকা বেড়ে গেল। একমাস পর রাজু ও কবিরের দৈনিক বিক্রয়ের অনুপাত কত হবে?
  1. ৮৭ : ৯৩
  2. ৫২ : ৬৭
  3. ৮৩ : ১০৪
  4. ৯৭ : ১১১
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: রাজু ও কবিরের দৈনিক বিক্রয়ের অনুপাত ৪ : ৫। তাদের দুইজনের দৈনিক বিক্রয় একত্রে ১৮০০০ টাকা। একমাস পর রাজুর বিক্রয় ৩০০ টাকা বেড়ে গেল এবং কবিরের বিক্রয় ৪০০ টাকা বেড়ে গেল। একমাস পর রাজু ও কবিরের দৈনিক বিক্রয়ের অনুপাত কত হবে?

সমাধান:
ধরি,
রাজু ও কবিরের বিক্রয় যথাক্রমে ৪x ও ৫x

প্রশ্নমতে,
৪x + ৫x = ১৮০০০
বা, ৯x = ১৮০০০
বা, x = ১৮০০০/৯
∴ x = ২০০০

∴ একমাস পর রাজু ও কবিরের দৈনিক বিক্রয়ের অনুপাত হবে =
(৪x + ৩০০) : (৫x + ৪০০)
= (৪ ⋅ ২০০০ + ৩০০) : (৫ ⋅ ২০০০ + ৪০০)
= (৮০০০ + ৩০০) : (১০০০০ + ৪০০)
= ৮৩০০ : ১০৪০০
= ৮৩ : ১০৪