পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্সতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২২
সিলেবাস
Exam - 12 Bangla: Topic: শব্দ ও পদের গঠন, বানান, শব্দের উৎস, শব্দের শ্রেণি বিভাগ, প্রকৃতি-প্রত্যয়।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স · তারিখ অনির্ধারিত · ২২ প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. নারি
  2. নারী
  3. নাল
  4. নালিশ
ব্যাখ্যা
• নারী - তৎসম শব্দ।

• তৎসম শব্দ:
- সংস্কৃত শব্দ যদি অপরিবর্তিতরূপে হুবহু বাংলায় ব্যবহৃত হয় তাহলে সেই শব্দকে তৎসম শব্দ বলে।
- 'তৎসম' অর্থ তার (তৎ) সমান (সম)। এখানে 'তার' অর্থ সংস্কৃতের।

• নিচে তৎসম শব্দের উদাহরণ হলো:
- চন্দ্র, সূর্য, আকাশ, হস্ত, পদ, মস্তক, চক্ষু, কর্ণ, নারী, নর, বৃক্ষ, লতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নারি - বাংলা শব্দ।
নাল - আরবি শব্দ।
নালিশ - ফারসি শব্দ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'জলযান' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. রূঢ়ি শব্দ
  3. যৌগিক শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ: 
যে সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই, সেসব শব্দকে যৌগিক শব্দ বলে। 
অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গায়ক (মূল শব্দ) - গৈ+অক (শব্দ গঠন অর্থ) - যে গান করে (অর্থ)।
- মধুর = মধু + র; অর্থ - মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- জল + যান = জলযান।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নির্মূলীকরন
  2. নির্মুলীকরণ
  3. নির্মূলিকরণ
  4. নির্মূলীকরণ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'নির্মূলীকরণ' - শুদ্ধ বানান।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
নিচের কোনটি প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. দম্পতি
  2. মিঠাই
  3. সিংহাসন
  4. প্রতিদিন
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:
- শব্দ বা ধাতুর পরে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়।

যেমন:
মিঠা + আই = মিঠাই, 
কুসুম + ইত = কুসুমিত, 
চল্ + অন্ত = চলন্ত, 
কৃ + তব্য = কর্তব্য।

অন্যদিকে,
সমাসের সাহায্যে শব্দ গঠন:
পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুই বা ততোধিক পদের একপদে পরিণত হওয়ার মাধ্যমে নতুন শব্দ গঠিত হয়।

যেমন:
জায়া ও পতি = দম্পতি; দ্বন্দ্ব সমাস প্রক্রিয়ায় গঠিত।
সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
কুলের সমীপে = উপকূল; অব্যয়ীভাব সমাস।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
.
কীভাবে সাধিত শব্দ তৈরি হয়?
  1. উপসর্গ যোগ করে
  2. প্রত্যয় যােগ করে
  3. সমাস প্রক্রিয়ায়
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।

- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে।
যেমন - ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় -
  1. বলক
  2. লগ্নক
  3. পদ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।

• লগ্নক চার ধরনের:
১. বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের' পদের ‘এর শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

২. নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। ‘লোকটি’ বা ‘ভালোটুকু পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

৩. বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। ‘ছেলেরা’ বা ‘বইগুলো পদের 'রা' বা 'গুলো হলো বচনের উদাহরণ।

৪. বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 'তখনই' বা ‘এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'লেখক' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয় কোনটি?
  1. √লেখ্‌ + অক
  2. √লিখ্‌ + য়ক
  3. √লিখ + নক
  4. √লিখ + অক
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'লেখক' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়:  √লিখ + অক। 

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি- প্রত্যয়:
• 'দর্শনীয়': √দৃশ্‌ + অনীয়।
• 'গণক': √গণ্ + অক।
• 'প্রাচ্য': প্রাচ্‌ + য।
• 'পাঠক': পঠ্‌ + অক ।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'নাশতা' কোন ভাষার শব্দ?
  1. দেশি
  2. তৎসম
  3. হিন্দি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'নাশতা' - ফারসি শব্দ।



• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
কুলফি, কুস্তি, কোফতা, গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
কোন শব্দটি প্রকৃতি-প্রত্যয় অনুসারে অর্থ প্রকাশ না করে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে?
  1. বাক্স
  2. চালক
  3. গবেষণা
  4. জলধি
ব্যাখ্যা
রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দ গঠনের উপাদান অর্থাৎ প্রকৃতি-প্রত্যয় অনুসারে অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে। 
যেমন:
- 'সন্দেশ' শব্দটির প্রকৃতি- প্রত্যয় (সম্‌+দেশ) অনুসারে অর্থ হলো সংবাদ। কিন্তু সন্দেশ বলতে আমরা বুঝি এক ধরনের মিষ্টি।
আবার,
যেমন- গবেষণা (গো+ এষণা)  অর্থ- গরু খোজা; গভীরতম অর্থ- ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।

এরূপ- বাঁশি, তৈল, প্রবীণ ইত্যাদি৷

অন্যদিকে,
বাক্স - মৌলিক শব্দ।
চালক - চল্‌ + অক; যৌগিক শব্দ।
জলধি - যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১০.
কোন বানানটি সঠিক?
  1. ধাধাঁ
  2. ধাধা
  3. ধাঁধাঁ
  4. ধাঁধা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'ধাঁধা' - শুদ্ধ শব্দ।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১.
'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে।' - বাক্যে 'অলগ্নক' পদ কোনটি?
  1. ছেলেরা
  2. ক্রিকেট
  3. খেলে
  4. ক্রিকেট খেলে
ব্যাখ্যা
অলগ্নক পদ:
- যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলোকে অলগ্নক পদ বলে।
যেমন -
'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'
- এ বাক্যে 'ক্রিকেট' অলগ্নক পদ।
 
অন্যদিকে,
সলগ্নক পদ:
- বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলোকে সলগ্নক পদ বলে। যেমন -
- 'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'
- এ বাক্যে 'ছেলেরা' ও 'খেলে' সংলগ্নক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২.
কৃৎ-প্রত্যয়য়োগে গঠিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. পাকড়াও
  2. বড়াই
  3. চিরনি
  4. উড়ন্ত
ব্যাখ্যা
• বড়াই (বড় + আই) — বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় 'আই' যোগে গঠিত শব্দ।

বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়য়োগে গঠিত শব্দ:
• আ-কারান্ত প্রযোজক (ণিজন্ত) ধাতুর পরে 'আন' প্রত্যয় যুক্ত হলে 'আনো' হয়।
যেমন:
√জানা + আন = জানানো।
এরূপ- শোনানো, ভাসানো ইত্যাদি।

• আও-প্রত্যয়: ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে 'আও' প্রত্যয় যুক্ত হয়।
যেমন:
√পাকড় + আও = পাকড়াও;
√চড্ + আও = চড়াও।

• 'অনি' (বিকল্পে) উনি-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
√চির + অনি = চিরনি

• 'অন্ত' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
√উড় + অন্ত = উড়ন্ত;
√ডুব + অন্ত = ডুবন্ত।

• 'অক' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
√মুড় + অক = মোড়ক;
√ঝিল্ + অক = ঝলক।

• আল-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ-
√মাত্ + আল = মাতাল;
√মিশ্ + আল = মিশাল। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৩.
'রাখাল' কোন ধরনের শব্দ?
  1. তৎসম
  2. দেশি
  3. আরবি
  4. পাঞ্জাবি
ব্যাখ্যা
• 'রাখাল' দেশি শব্দ।
অর্থ: গবাদিপশু চরানো যার পেশা।

• দেশি শব্দ:
- বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের (যেমন: তামিল, কোল প্রভৃতি) ভাষার কিছু কিছু শব্দ বাংলায় রক্ষিত হয়েছে। এসব শব্দকে 'দেশি শব্দ' বলে।
- অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ধারণ করা যায় না; কিন্তু কোন ভাষা থেকে এসেছে তার হদিস মেলে।

• দেশি ভাষার কয়েকটি শব্দ হলো:
যথা: কুড়ি, পেট, চুলা, চালতা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪.
'সুহৃদ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক
  2. যৌগিক
  3. যোগরূঢ়
  4. রূঢ়ি
ব্যাখ্যা
• যোগরূঢ় শব্দ: 
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে।
যেমন-
- পঙ্কজ ( যা পঙ্কে বা কাদায় জন্মে); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ- পদ্ম। 
- মহাযাত্রা ( মহাসমারোহে যাত্রা); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ- 'মৃত্যু' 
- রাজপুত ( রাজার পুত); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ জাতি বিশেষ।
- সুহৃদ (সুন্দর হৃদয় যার); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ - বন্ধু, সখা।
- জলধি (জল ধারণ কর এমন); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ 'সমুদ্র' ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৫.
দেশের প্রতি ভালোবাসা তার ________ থেকে উৎসারিত হয়েছিল।
  1. অন্তস্তল
  2. অন্ততল
  3. অন্তস্থল
  4. অন্তঃস্থল
ব্যাখ্যা
• সঠিক শব্দটি -
দেশের প্রতি ভালোবাসা তার অন্তস্তল থেকে উৎসারিত হয়েছিল।




উৎস: বাংলা একাডেমি  আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬.
'সুখিন্‌' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. সুখ + ই
  2. সুখ + ন্‌
  3. সুখ + ইন্‌
  4. সুখ + ষ্ণিক
ব্যাখ্যা
• 'সুখিন্‌' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় — সুখ + ইন্‌ (ঈ)। 
---------------------- 
আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি- প্রত্যয়: 
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √ নন্দি+অন। 
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √ দৃশ্ + অনীয়।
- 'দাপট' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = দাপ + অট। 
- 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্‌ + ইন্‌ '।  
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়  : √দৃশ্‌ + অনীয়'। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭.
নিচের কোনটি ফরাসি শব্দ?
  1. গ্রন্থাগার
  2. গ্যালারি
  3. গ্যারাজ
  4. গ্যালন
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'গ্যারাজ' - ফরাসি শব্দ।



অন্যদিকে,
গ্রন্থাগার - সংস্কৃত শব্দ।
গ্যালারি; গ্যালন - ইংরেজি শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৮.
কোন শব্দগুচ্ছ শুদ্ধ?
  1. গণনা, ইদানিং
  2. গড্ডালিকা, কল্যান
  3. মিথস্ক্রিয়া, মালীনি
  4. অ্যাটাশে, অহোরাত্র
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) অ্যাটাশে, অহোরাত্র।

বিশ্লেষণ:
ক) গণনা, ইদানিং -
গণনা (শুদ্ধ)
ইদানিং (ভুল) → ইদানীং (শুদ্ধ)।

খ) গড্ডালিকা, কল্যান
গড্ডালিকা - (ভুল) → গড্ডলিকা (শুদ্ধ);
কল্যান - (ভুল) → কল্যাণ (শুদ্ধ)।

গ) মিথস্ক্রিয়া, গীতালি -
মিথস্ক্রিয়া → মিথস্ক্রিয়া (শুদ্ধ)
মালীনি (ভুল) → মালিনী (শুদ্ধ)।

ঘ) অ্যাটাশে, অহোরাত্র
অ্যাটাশে (শুদ্ধ - দূতাবাসের সহদূত)
অহোরাত্র (শুদ্ধ - দিনরাত)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৯.
'ইন্' কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. জ্ঞানী
  2. মানী
  3. শ্রমী
  4. গুণী
ব্যাখ্যা
• ইন্-কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ - √ শ্রম্ + ইন্ = শ্রমী।
- ইন্- প্রত্যয় (ইন্ = ঈ-কার হয়)।

অন্যদিকে,
‘ইন্’ তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হলো:
জ্ঞান + ইন্ = জ্ঞানী।
• গুণ + ইন্ = গুণী।
• মান + ইন্ = মানী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. বহুদূর
  2. দূরীকরণ
  3. দূষণীয়
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান সমূহ-
- বহুদূর, দূরবীক্ষন, দূতাবাস, দূরদর্শিতা, দূর্বা, দূষণীয়
- দুর্নাম, দুর্বিষহ, দুর্বল, দুর্জয়, দুরবিন।

[দূরত্ব সম্পর্কিত কিছু বোঝাতে 'দূর-'] ব্যতিক্রম - দূরীকরণ, দূর্বা, দূন, দূষক, দূষিত, দূষণীয়, 
[দুরত্ব সম্পর্কিত কিছু না বোঝাতে 'দুর-'] ব্যতিক্রম - দুরবিন।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২১.
নিচের কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. কর্তব্য
  2. উপসর্গ
  3. আদিত্য
  4. মহাযাত্রা
ব্যাখ্যা
• 'উপসর্গ'-  রূঢ়ি শব্দ। 

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যেসব প্রত্যয় নিষ্পন্ন শব্দ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
উপ + সর্গ = উপসর্গ; ব্যুৎপত্তিগত অর্থ- পূর্বের অধ্যায়। কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ- রোগের লক্ষণ। 

অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
গায়ক = গৈ + ণক ( অক) অর্থ গান করে যে;
কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ যা করা উচিত।

যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, আদিত্য

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২২.
'অপেরা' কোন ভাষার শব্দ?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. ইতালিয়ান
  4. জার্মান
ব্যাখ্যা
• 'অপেরা' — ইতালিয়ান ভাষা হতে আগত শব্দ।



• ইতালিয়ান ভাষার আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
- পিৎজা, পিয়ানো, লাসানিয়া, সোপ্রানো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।