পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

পরীক্ষাবার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়50 minutes
মোট প্রশ্ন৭৭
সিলেবাস
Exam - 16 • Full Model Test - 10 Topic: Full Syllabus
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬ · তারিখ অনির্ধারিত · ৭৭ প্রশ্ন

.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৫০ অনুসারে, স্মল কজ কোর্টে কোন ধরনের ডিক্রি কার্যকর করা যায় না?
  1. অস্থাবর সম্পত্তির বিরুদ্ধে ডিক্রি
  2. স্থাবর সম্পত্তির বিরুদ্ধে ডিক্রি
  3. ব্যক্তিগত ঋণের ডিক্রি
  4. ক্ষতিপূরণের ডিক্রি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, আদেশ ৫০ (Order L) অনুযায়ী, "ক্ষুদ্র কারণ আদালত" (Small Cause Court) বা এমন আদালত যা ক্ষুদ্র কারণ আদালতের এখতিয়ার প্রয়োগ করে, সেখানে স্থাবর সম্পত্তির বিরুদ্ধে ডিক্রি কার্যকর করা যায় না।
→ এটি Order L, clause (a)(ii) তে স্পষ্টভাবে বলা আছে:
"the execution of decrees against immovable property or the interest of a partner in partnership property" – এই ধরনের ডিক্রিগুলোর কার্যকরতা Small Cause Court-এ নিষিদ্ধ।
অন্যদিকে, অস্থাবর সম্পত্তির বিরুদ্ধে ডিক্রি কার্যকর করা যায়, ব্যক্তিগত ঋণ বা ক্ষতিপূরণের ডিক্রি Small Cause Court-এর এখতিয়ারে পড়ে।
অর্থাৎ স্মল কজ কোর্টে স্থাবর সম্পত্তির বিরুদ্ধে ডিক্রি কার্যকর করা যায় না, কারণ এটি আদেশ L, বিধি ১(ক)(ii) অনুসারে এই আদালতের এখতিয়ারের বাইরে।
অতএব, সঠিক উত্তর হলো খ) স্থাবর সম্পত্তির বিরুদ্ধে ডিক্রি।

⇒দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ L, বিধি ১(ক)(ii) অনুসারে, ১৮৮৭ সালের স্মল কজ কোর্ট আইনের অধীনে গঠিত স্মল কজ কোর্ট বা এই আইনের অধীনে স্মল কজ কোর্টের এখতিয়ার প্রয়োগকারী আদালতগুলোতে স্থাবর সম্পত্তির বিরুদ্ধে ডিক্রি বা অংশীদারি সম্পত্তিতে অংশীদারের স্বার্থের বিরুদ্ধে ডিক্রি কার্যকর করা যায় না। এর কারণ হলো, স্মল কজ কোর্টের এখতিয়ার সীমিত এবং এটি মূলত কম মূল্যের, সরল প্রকৃতির মামলা নিষ্পত্তির জন্য গঠিত। স্থাবর সম্পত্তি (যেমন জমি, বাড়ি) সংক্রান্ত মামলা বা ডিক্রি কার্যকর করা জটিল প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত, যা স্মল কজ কোর্টের কার্যপরিধির বাইরে।
- স্মল কজ কোর্ট আইন, ১৮৮৭: এই আইন স্মল কজ কোর্টের এখতিয়ার এবং সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করে। এটি স্পষ্ট করে যে স্থাবর সম্পত্তি বা জটিল মামলা এই আদালতের এখতিয়ারের বাইরে।
- দেওয়ানি কার্যবিধি, আদেশ L: এই আদেশ স্মল কজ কোর্টে প্রযোজ্য নয় এমন বিধানগুলো তালিকাভুক্ত করে, যার মধ্যে স্থাবর সম্পত্তির বিরুদ্ধে ডিক্রি কার্যকর করা অন্যতম।
- স্মল কজ কোর্টের উদ্দেশ্য হলো দ্রুত এবং কম খরচে বিচার প্রদান। তাই, জটিল প্রক্রিয়া যেমন স্থাবর সম্পত্তির ডিক্রি কার্যকর করা, আপিল, পুনর্বিবেচনা বা বিস্তারিত সাক্ষ্য গ্রহণ এই আদালতের কার্যপরিধির বাইরে রাখা হয়েছে। এটি নিশ্চিত করে যে স্মল কজ কোর্ট কেবল সরল এবং কম মূল্যের মামলায় মনোনিবেশ করতে পারে।
.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী হলফনামায় শপথগ্রহণ করার বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ১৪০
  2. ধারা ১৩৯
  3. ধারা ১৩৮
  4. ধারা ১৩৫
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ১৩৯-এ বলা হয়েছে, এই বিধিমালার অধীনে প্রদত্ত কোনো হলফনামার (affidavit) ক্ষেত্রে কে বা কারা শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন।
- এই ধারা অনুযায়ী শপথ গ্রহণ করানোর ক্ষমতা রয়েছে:
১) যেকোনো আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেটের,
২) সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির, এবং
৩) সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো আদালতের কোনো কর্মকর্তার।
- এটি একটি প্রক্রিয়াগত বিধান যা নিশ্চিত করে যে, হলফনামা যথাযথভাবে শপথসহ সম্পাদিত হয়েছে এবং তা আদালতে গ্রহণযোগ্য।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section-139. Oath on affidavit by whom to be administered.
In the case of any affidavit under this Code- 
(a) any Court or Magistrate, or 
(b) any officer or other person whom 107[the Supreme Court] may appoint in this behalf, or 
(c) any officer appointed by any other Court which the Government has generally or specially empowered in this behalf, 
may administer the oath to the deponent.

.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১৩, বিধি ৮ অনুযায়ী, আদালত মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট কী আটক করতে পারে?
  1. শুধুমাত্র পণ্যের নমুনা
  2. উদ্ধারকৃত ও চোরাই সম্পত্তি
  3. যেকোনো ধরনের দলিল বা বই
  4. শুধু মূল্যবান অস্থাবর সম্পত্তি
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১৩, বিধি ৮ অনুযায়ী, আদালত যেকোনো ধরনের দলিল বা বই (any document or book) আটক (Impound) করার আদেশ দিতে পারে। 
- এটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ধরনের দলিল বা সম্পত্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
- মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট যেকোনো দলিল বা বই আদালত প্রয়োজন মনে করলে আটক করতে পারে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১৩, বিধি ৮ – আদালত যেকোনো নথি জব্দের নির্দেশ দিতে পারে:
- এই আদেশের বিধি ৫ বা বিধি ৭ অথবা আদেশ ৭-এর বিধি ১৭-এর যেকোনো কিছুতে যা-ই থাকুক না কেন, যদি আদালত যথেষ্ট কারণ মনে করে, তবে কোনো মোকদ্দমায় আদালতে উপস্থাপিত যেকোনো নথি বা বই জব্দ করার এবং আদালতের কোনো কর্মচারীর হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিতে পারে, এবং এটি যতদিন এবং যেসব শর্তে আদালত উপযুক্ত মনে করে, ততদিন তা বজায় থাকবে।

⇒The Code of Civil Procedure, 1908, Order XIII, Rule 8 – Court may order any document to be impounded:
- Notwithstanding anything contained in Rule 5 or Rule 7 of this Order or in Rule 17 of Order VII, the Court may, if it sees sufficient cause, direct any document or book produced before it in any suit to be impounded and kept in the custody of an officer of the Court, for such period and subject to such conditions as the Court thinks fit.

.
দেওয়ানী কার্যবিধি অনুযায়ী সহকারী জজের বর্তমান আর্থিক এখতিয়ার কত পর্যন্ত?
  1. ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত
  2. ১৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত
  3. ২৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত
  4. সীমাহীন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি (Code of Civil Procedure), ১৯০৮-এর ধারা ৬ অনুযায়ী বলা হয়েছে যে, কোনো দেওয়ানী আদালত তার নির্ধারিত আর্থিক এখতিয়ারের বাইরে কোনো মামলা গ্রহণ বা বিচার করতে পারবে না – যদি না অন্য কোথাও ভিন্নভাবে নির্দিষ্ট করা থাকে।
- তবে এই আর্থিক এখতিয়ার নির্ধারিত হয় “Civil Courts Act, 1887”-এর অধীন, বিশেষতঃ ধারা ১৯ অনুযায়ী।
১। সহকারী জজ আদালত (Assistant Judge):
- আর্থিক এখতিয়ার – ১৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত
- সংশ্লিষ্ট আইন – Civil Courts Act, 1887 এর ধারা ১৯
২। সিনিয়র সহকারী জজ আদালত (Senior Assistant Judge):
- আর্থিক এখতিয়ার – ১৫,০০,০০১ টাকা থেকে ২৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত
- সংশ্লিষ্ট আইন – Civil Courts Act, 1887 এর ধারা ১৯
৩। যুগ্ম জেলা জজ আদালত (Joint District Judge):
- আর্থিক এখতিয়ার – ২৫,০০,০০১ টাকা এবং তদূর্ধ্ব (সীমাহীন)
- সংশ্লিষ্ট আইন – Civil Courts Act, 1887 এর ধারা ১৮

→ সহকারী জজ → ১৫ লক্ষ পর্যন্ত
→ সিনিয়র সহকারী জজ → ১৫ লক্ষের পরে থেকে ২৫ লক্ষ পর্যন্ত
→ যুগ্ম জেলা জজ → ২৫ লক্ষের পরে (সীমাহীন)
.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৭৭ অনুযায়ী অনুরোধপত্র ব্যবস্থাটি কিসের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়?
  1. মামলা প্রত্যাহারের
  2. কমিশন জারি করার
  3. সাক্ষ্য গোপন রাখার
  4. সাক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৭৭ অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানরত সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কমিশন ইস্যু করার পরিবর্তে, আদালত অনুরোধপত্র (Letter of Request) পাঠাতে পারে। এটি একটি বিকল্প ব্যবস্থা, যা তখন ব্যবহার করা হয় যখন সাক্ষী বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করেন এবং কমিশনের মাধ্যমে তাঁকে পরীক্ষা করা সম্ভব বা সুবিধাজনক নয়।
- ধারা ৭৭ স্পষ্টভাবে বলে: "In lieu of issuing a commission the Court may issue a letter of request..."
- অর্থাৎ, "কমিশন ইস্যু করার বিকল্প হিসেবে অনুরোধপত্র ব্যবস্থাটি প্রযোজ্য।"

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ৭৭ ধারা- অনুরোধপত্র:
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নয়, এরূপ যে কোন দেশে বসবাসকারী সাক্ষীর পরীক্ষা করার নিমিত্তে আদালত কমিশন প্রেরণ করার বিপরীতে অনুরোধ পত্র প্রেরণ করতে পারে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section 77: Letter of request:
In lieu of issuing a commission the Court may issue a letter of request to examine a witness residing at any place not within Bangladesh.

.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৮৯ক অনুযায়ী, সমঝোতা হলে আদালত কত দিনের মধ্যে ডিক্রি জারি করবে?
  1. ৩ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ১৫ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮৯ক (Section 89A of the Code of Civil Procedure, 1908) অনুযায়ী, যদি মধ্যস্থতার মাধ্যমে পক্ষগণের মধ্যে সমঝোতা (settlement) হয়, তবে মধ্যস্থতা প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার পর আদালতকে ৭ (সাত) দিনের মধ্যে একটি আদেশ বা ডিক্রি (order or decree) জারি করতে হবে।
এই ডিক্রি জারির পর এর বিরুদ্ধে আপিল, রিভিশন বা রিভিউ গ্রহণযোগ্য নয়—অর্থাৎ তা চূড়ান্ত ও বাধ্যতামূলক।
-  তাই সঠিক উত্তর: খ) ৭ দিন।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 section-89A (5) The Legal Aid Officer or mediator, as the case may be, shall, without violating the confidentiality of the parties to the mediation proceedings, submit to the court a report of result of the mediation proceedings; and if the result is of compromise of the dispute or disputes in the suit, the terms of such compromise shall be reduced into writing in the form of an agreement, bearing signatures or left thumb impressions of the parties as executants, and signatures of the pleaders, if any, and the Legal Aid Officer or mediator, as the case may be, as witnesses; and the Court shall, within seven days from receiving the said report, pass an order or a decree in accordance with relevant provisions of Order XXIII of the Code.
(6) When the Court itself mediates, it shall prepare a report and pass an order in the manner to that as stated in sub-section (5).
-----------------
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধিতে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির দুটি পন্থা বর্ণিত হয়েছে, যথা— (১) মধ্যস্থতা (Mediation) এবং (২) সালিশি (Arbitration)। দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ক ধারায় মধ্যস্থতা সম্পর্কে বিস্তারিত বিধান প্রদান করা হয়েছে। এ ধারার অধীনে আদালত যদি পক্ষগণকে মধ্যস্থতার জন্য নির্দেশ দেয়, তবে আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ আদালতকে জানাবে তারা মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করেছে কিনা। যদি তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে ব্যর্থ হয়, তবে আদালত নিজে ৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে। মধ্যস্থতার জন্য নির্ধারিত ফি সাধারণত পক্ষগণ নিজেরা নির্ধারণ করে; কিন্তু এতে তারা ব্যর্থ হলে আদালত মধ্যস্থতাকারীর পারিশ্রমিক নির্ধারণ করবে এবং তা পক্ষগণের জন্য বাধ্যতামূলক হবে।

⇒ মধ্যস্থতাকারীকে ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তবে আদালত স্বপ্রণোদিতভাবে অথবা পক্ষগণের যৌথ আবেদনের ভিত্তিতে অতিরিক্ত ৩০ দিন সময় বাড়াতে পারে। অর্থাৎ সর্বাধিক ৯০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা শেষ করতে হবে। যদি মধ্যস্থতার মাধ্যমে পক্ষগণের মধ্যে সমঝোতা হয়, তবে আদালত সমঝোতা প্রতিবেদন পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে একটি আদেশ বা ডিক্রি জারি করবেন। এই ডিক্রির বিরুদ্ধে কোনো আপিল, রিভিশন বা পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই। তবে উল্লেখযোগ্য যে, দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতার এই বিধান অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

⇒ অপরদিকে, দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯খ ধারায় সালিশি পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে। এই ধারার অধীনে আদালত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিষয়টি সালিশে প্রেরণের অনুমতি দিতে পারেন। এর জন্য মামলা চলাকালীন যেকোনো পর্যায়ে পক্ষগণ আদালতের কাছে সালিশে যাওয়ার জন্য আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে মামলা তুলে নেওয়ার অনুমতি দেন। এরপর সালিশ আইন, ২০০১ অনুযায়ী বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হয়। তবে যদি কোনো কারণে সালিশ অনুষ্ঠিত না হয় বা সালিশের রোয়েদাদ (Award) প্রদান না হয়, তাহলে পূর্বের মামলা নতুনভাবে আবার দায়ের করা যাবে।
.
আদেশ ৩২ বিধি-১৪ অনুযায়ী, নাবালক বাদী যদি সাবালক হয়ে যায়, তাহলে কী করতে পারে?
  1. মামলাটি মুলতবি করতে পারে
  2. মামলার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে
  3. মামলার খারিজ চেয়ে আবেদন করতে পারে
  4. মামলার পুনঃশুনানি চেয়ে আবেদন করতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩২, বিধি ১৪ (Order 32, Rule 14 of the Code of Civil Procedure, 1908) অনুযায়ী, যখন নাবালক বাদী সাবালক হয়ে যায়, তখন যদি সে মনে করে যে, তার নেক্সট ফ্রেন্ড কর্তৃক দায়ের করা মামলা অযৌক্তিক বা অসংগত ছিল, তাহলে সে মামলাটি খারিজ চেয়ে আদালতে আবেদন করতে পারে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩২ বিধি-১৪: অযৌক্তিক বা অনুচিত মোকদ্দমা:
১) কোন নাবালক একমাত্র বাদি হলে সাবালকত্ব প্রাপ্ত হয়ে এ মর্মে আবেদন করতে পারে যে, তার নেক্সট ফ্রেন্ড কর্তৃক তার নামে রুজুকৃত মোকদ্দমা অযৌক্তিক বা অসংগত হওয়ার কারণে খারিজ হবে।
২) সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের উপর আবেদনের নোটিশ জারি করতে হবে এবং উক্ত অসংগত কারণ সম্পর্কে সন্তুষ্ট হয়ে আদালত আবেদন মঞ্জুর করতে পারে এবং আবেদনপত্র ও মোকদ্দমার ব্যাপারে কোন কিছু সম্পর্কে সকল পক্ষ বরাবর খরচাদি পরিশোধের জন্য নেক্সট ফ্রেন্ডকে আদেশ দিতে পারে বা আদালত উপযুক্ত মনে করে অন্য কোন উপযুক্ত নির্দেশ দিতে পারে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-32 Rule-14:
(1)A minor, upon attaining majority, may, if he is the sole plaintiff, apply for the dismissal of a suit instituted in his name by his next friend on the grounds that it was unreasonable or improper.
(2)Notice of the application shall be served on all the parties concerned. Upon being satisfied of the unreasonableness or impropriety of the suit, the Court may grant the application and order the next friend to pay the costs of all parties regarding the application and anything done in the suit, or make such other order as it deems appropriate.
.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ-৪৯, বিধি-১ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক প্রক্রিয়ার বা হাইকোর্ট বিভাগে কার্যপ্রণালীর নোটিশ কে পরিবেশন করতে পারে?
  1. মামলায় নিযুক্ত উকিল
  2. উকিলদের দ্বারা নিযুক্ত ব্যক্তি
  3. হাইকোর্টের নির্দেশিত ব্যক্তি
  4. উল্লিখিত সবাই পারে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) উল্লিখিত সবাই পারে।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ-৪৯, বিধি-১ অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগের মূল দেওয়ানি এখতিয়ার, বিবাহ সংক্রান্ত, উইল সংক্রান্ত এবং উইল ছাড়া উত্তরাধিকার সংক্রান্ত প্রক্রিয়া, যেমন নথি উপস্থাপনের নোটিশ, সাক্ষীদের সমন এবং অন্যান্য বিচারিক প্রক্রিয়া পরিবেশন করা যেতে পারে:
১) মামলায় নিযুক্ত উকিল (অ্যাডভোকেট)
২) উকিলদের দ্বারা নিযুক্ত ব্যক্তি
৩) হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশিত অন্য ব্যক্তি
এতএব, উল্লিখিত সবারই (অর্থাৎ উকিল, উকিলের নিযুক্ত ব্যক্তি, এবং হাইকোর্টের নির্দেশিত ব্যক্তি) হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক প্রক্রিয়া পরিবেশন করার অধিকার আছে।

HIGH COURT DIVISION
- ORDER XLIX, Rule-1: Who may serve processes of the High Court Division:
Notices to produce documents, summonses to witnesses, and all other judicial processes issued by the High Court Division while exercising its original civil jurisdiction (including matrimonial, testamentary, and intestate jurisdictions)—except for summonses to defendants, writs of execution, and notices to respondents—may be served by: The advocates involved in the suits, Persons employed by those advocates, or Any other persons as directed by the High Court Division through its rules or orders.
.
রিসিভারকে আদালত যে ক্ষমতা দিতে পারে, তার মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. আদালতে হিসাব দাখিল
  2. নিজের নামে সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করা
  3. অবহেলাজনিত ক্ষতির জন্য দায়ী থাকা
  4. প্রাপ্ত অর্থ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রদান
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪০ (Order XL) রিসিভার নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান প্রদান করে। আদালত যখন রিসিভার নিয়োগ করে, তখন তাকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও ক্ষমতা প্রদান করে। তবে, এই ক্ষমতা সীমিত এবং মালিকানাসুলভ নয়।
- রিসিভার হলেন একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি যিনি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কোনো বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও আয়-ব্যয়ের হিসাব রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সেই সম্পত্তির মালিক হন না।
⇒ রিসিভারের ক্ষমতা ও দায়িত্বসমূহ (আদেশ ৪০, বিধি ১ ও ৩):
- আদালতের আদেশ অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহণ ও পরিচালনা (বিধি ১)
- মামলা পরিচালনা, ভাড়া আদায়, সম্পত্তির সংরক্ষণ ও উন্নয়ন
- আদালতের আদেশ অনুযায়ী আয়-ব্যয় সম্পর্কিত হিসাব দাখিল (বিধি ৩(b))
- প্রাপ্ত অর্থ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রদান (বিধি ৩(c))
- অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত ত্রুটির জন্য দায়ী হওয়া (বিধি ৩(d))

• কিন্তু রিসিভারের ক্ষমতার মধ্যে “নিজের নামে সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করা” অন্তর্ভুক্ত নয়।
কারণ, রিসিভার কেবল অস্থায়ী তত্ত্বাবধায়ক – তিনি কখনোই মালিকানা দাবী করতে পারেন না।
আদালতের অনুমোদন ব্যতীত রিসিভার কোনোভাবে সম্পত্তি নিজের নামে স্থানান্তর করতে পারেন না।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৪০, বিধি-৩. রিসিভারের দায়িত্ব:
নিয়োগকৃত প্রতিটি রিসিভারকে—
(ক) সম্পত্তি বাবদ যা কিছু গ্রহণ করবে তার যথাযথ হিসাব প্রদানের জন্য আদালত যেরূপ নিরাপত্তা (যদি প্রয়োজন হয়) নির্ধারণ করে তা প্রদান করতে হবে;
(খ) আদালত যে সময় ও ফরম্যাট নির্ধারণ করবে সেই অনুযায়ী হিসাব দাখিল করতে হবে;
(গ) আদালত যে পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে বলবে তা প্রদান করতে হবে; এবং
(ঘ) তার ইচ্ছাকৃত ত্রুটি বা গুরুতর অবহেলার কারণে সম্পত্তির যেকোনো ক্ষতির জন্য দায়ী থাকবে।

Order XL, Rule-3. Duties of Receiver:
Every receiver so appointed shall—
(a) furnish such security (if any) as the Court thinks fit, duly to account for what he shall receive in respect of the property;
(b) submit his accounts at such periods and in such form as the Court directs;
(c) pay the amount due from him as the Court directs; and
(d) be responsible for any loss occasioned to the property by his wilful default or gross negligence.
১০.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১৫৩ এর অধীনে সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. মামলা দ্রুত শেষ করা
  2. মামলার খরচ কমানো
  3. পক্ষগণের সুবিধা দেওয়া
  4. প্রকৃত প্রশ্ন বা বিষয় নির্ধারণ
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫৩ ধারা-সংশোধন করার সাধারণ ক্ষমতা:
আদালত যে কোনো সময়, এবং তার উপযুক্ত মনে হলে খরচ বা অন্য কোনো শর্ত আরোপ সাপেক্ষে, কোনো মামলার কার্যধারায় যে কোনো ত্রুটি বা ভুল সংশোধন করতে পারে; এবং মামলার কার্যধারার উপর নির্ভরশীল বা উত্থাপিত প্রকৃত প্রশ্ন বা বিষয় নির্ধারণের উদ্দেশ্যে সকল প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section: 153. General power to amend:
The Court may at any time, and on such terms as to costs or otherwise as it thinks fit, amend any defect or error in any proceeding in a suit; and all necessary amendments shall be made for the purpose of determining the real question or issue raised by or depending on such proceeding.
১১.
দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এ মোট কতটি তফসিল (Schedule) অন্তর্ভুক্ত আছে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ (Code of Civil Procedure, 1908)-এ মূলত মোট ৫টি তফসিল (Schedules) অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- এই তফসিলগুলো হলো:
→ প্রথম তফসিল (First Schedule): এতে রয়েছে আদেশ (Orders) এবং বিধি (Rules), যা দেওয়ানি মামলার প্রক্রিয়াগত বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে। এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তফসিল।
→ দ্বিতীয় তফসিল (Second Schedule): Arbitration সংক্রান্ত ছিল, কিন্তু এটি পরে বাতিল করা হয়।
→ তৃতীয় তফসিল (Third Schedule): ফর্ম বা দাখিলযোগ্য ফরমেট ছিল (Forms), বহু ক্ষেত্রেই এটি প্রয়োগে আসে না।
→ চতুর্থ তফসিল (Fourth Schedule): Court Fees নির্ধারণসংক্রান্ত বিষয় ছিল।
→ পঞ্চম তফসিল (Fifth Schedule): Certain repeals ও transitional provisions ছিল।
- বর্তমানে কেবল ৩টি তফসিল কার্যকর বা বলবৎ আছে, কারণ কিছু তফসিল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাতিল বা অপ্রয়োজনে পরিণত হয়েছে।
- বর্তমানে বলবৎ তফসিল: ৩টি (প্রথম, তৃতীয় ও পঞ্চম তফসিলের কিছু অংশ)।
→ তবে প্রশ্নে মোট তফসিলের সংখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছে, তাই সঠিক উত্তর ৫টি।
১২.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪১, বিধি-২১ক এর অধীন একতরফা ডিক্রি জারির পর বিবাদি কত দিনের মধ্যে আপিল পুনঃশুনানির আবেদন করতে পারবেন?
  1. ১০ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৪১, বিধি ২১ক (Order 41, Rule 21A) অনুযায়ী: যদি কোন আপিল একতরফাভাবে (ex parte) শুনানি শেষে বিবাদির অনুপস্থিতে নিষ্পত্তি হয়, তাহলে বিবাদি যদি পুনঃশুনানির (re-hearing) আবেদন করতে চান, তাহলে তাঁকে অবশ্যই ডিক্রি জারির তারিখ থেকে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে এফিডেভিটসহ একটি আবেদন করতে হবে আদালতে।
- বিধির বক্তব্য: “Provided that an appeal under this rule shall not be reheard unless an application, supported by affidavit, praying for such re-hearing is made to the Court within thirty days of the date on which the ex parte decree is passed against the respondent.”
⇒ অর্থাৎ একতরফা ডিক্রি জারির তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে যদি আবেদন না করা হয়, তবে আদেশ ৪১, বিধি ২১ক-এর অধীনে পুনঃশুনানির সুযোগ থাকবে না।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৪১ বিধি-২১ক: সরাসরি আপিল পুনঃশুনানি:
১) বিধি ২১ বা অন্য কোন আইনের যা কিছুই নে থাকুক না কেন, আদালত বিলম্ব এড়ানো এবং নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করানোর লক্ষ্যে কোন একতরফাভাবে শুনানি করতে আপিল সরাসরি পুনরায় শুনতে পারেন।
বিধি ২১ এর অধীন বিবাদিকে পর্যাপ্ত কারণ বিষয়ে সন্তুষ্ট করতে সাক্ষ্য উপস্থাপনের নির্দেশ না দেয়, তবে আদালত যথোপযুক্ত মনে করে নির্ধারিণ করা সাপেক্ষে অনধিক তিন হাজার টাকার খরচা পরিশোধের নিমিত্তে বিবাদিকে নির্দেশ দিতে পারেন:
তবে শর্ত থাকে যে, এরূপ একতরফা ডিক্রি বিবাদির বিরুদ্ধে যে তারিখে প্রদান করা হয়, সে তারিখে থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে যদি অন্য এফিডেবিট সহযোগে এরূপ আপিল পুনঃশুনানির কোন আবেদন আদালতে দাখিল করা না হয়ে থাকে, তাহলে এই বিধির অধীন কোন আপিলকে পুনরায় শুনা যাবে না:
তবে আরও শর্ত থাকে যে, এই বিধির অধীন কোন আপিল একাধিকবার পুনরায় শুনা যাবে না।
২) কোন আপিল পুনঃশুনানির কোন আদেশ উপ-বিধি (১) এর অধীন প্রদানে সঙ্গে সঙ্গে আদালতে বিবাদির খরচায় আপিলকারীর নিকট নোটিশ প্রেরণ করাবেন।
১৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৫ অনুযায়ী, যদি অযথা কারণে গ্রেপ্তার, জব্দ বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয় এবং মামলাটি ব্যর্থ হয়, তাহলে বিবাদী সর্বোচ্চ কত টাকা ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে পারেন?
  1. ৩,০০০ টাকা
  2. ৫,০০০ টাকা
  3. ২,০০০ টাকা
  4. ১০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৫ অনুযায়ী, যদি কোনো মামলায় অযথা বা অপর্যাপ্ত কারণ দেখিয়ে গ্রেপ্তার (arrest), সম্পত্তি জব্দ (attachment), অথবা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (temporary injunction) চাওয়া হয়, এবং মামলাটি পরবর্তীতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বিবাদী (defendant) আদালতের নিকট ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে পারেন।
- ধারা ৯৫(১) অনুসারে যদি আদালত মনে করে যে গ্রেপ্তার, জব্দ বা নিষেধাজ্ঞার আবেদন অযৌক্তিক ছিল, এবং মামলার পেছনে যুক্তিসঙ্গত বা সম্ভাব্য কারণ ছিল না, তাহলে আদালত বিবাদীর আবেদনের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ আদেশ দিতে পারে।
- শর্ত: আদালতের আর্থিক এখতিয়ার (pecuniary jurisdiction) অনুযায়ী এই পরিমাণ সীমিত থাকতে হবে।
- ধারা ৯৫(২) অনুসারে: একবার যদি আদালত ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আদেশ প্রদান করে, তাহলে একই বিষয়ে আর কোনো নতুন মামলা দায়ের করা যাবে না। অর্থাৎ, এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হবে।

⇒ অর্থাৎ আদালতের কাছে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করা যেতে পারে, যদি প্রমাণ হয় যে মামলাটি বা তাতে চাওয়া অন্তর্বর্তী আদেশগুলো (যেমন গ্রেপ্তার বা নিষেধাজ্ঞা) অযথা কারণে করা হয়েছে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908,Section- 95.Compensation for obtaining arrest, attachment or injunction on insufficient grounds.
(1) Where, in any suit in which an arrest or attachment has been effected or a temporary injunction granted under the last proceeding section,- 
(a) it appears to the Court that such arrest, attachment or injunction was applied for on insufficient grounds, or 
(b) the suit of the plaintiff fails and it appears to the Court that there was no reasonable or probable ground for instituting the same, 
the defendant may apply to the Court, and the Court may, upon such application, award against the plaintiff by its order such amount, not exceeding ten thousand Taka, as it deems a reasonable compensation to the defendant for the expense or injury caused to him: 
Provided that a Court shall not award, under this section, an amount exceeding the limits of its pecuniary jurisdiction. 
(2) An order determining any such application shall bar any suit for compensation in respect of such arrest, attachment or injunction.

১৪.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪৫, বিধি-৩(১) অনুসারে, আপিল বিভাগে আপিল করার জন্য আবেদনপত্রে কী উল্লেখ করতে হবে?
  1. আপিলের ফি
  2. বিচারকের মতামত
  3. আইনজীবীর নাম
  4. আপিলের ভিত্তি বা কারণ
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪৫, বিধি ৩(১)-এ বলা হয়েছে: প্রত্যেকটি আবেদনপত্রে আপিলের ভিত্তি বা কারণ (grounds of appeal) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
- এছাড়া, এই উপবিধিতে আরও বলা হয়েছে যে আবেদনপত্রে একটি certificate-এর জন্য প্রার্থনাও থাকতে হবে—যা নিশ্চিত করে যে মামলা section 110 অনুযায়ী আপিলযোগ্য অথবা "otherwise a fit one"।
⇒ আপিলের ভিত্তি বা কারণ (grounds of appeal) উল্লেখ করাটাই হলো আদেশ ৪৫, বিধি ৩(১) অনুসারে বাধ্যতামূলক। তাই সঠিক উত্তর হলো: ঘ)

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৪৫, বিধি ৩: মামলার মূল্য বা উপযুক্ততা সম্পর্কিত সনদ (Certificate as to value or fitness)
(১) আপিলের অনুমতির জন্য দাখিলকৃত প্রতিটি দরখাস্তে  আপিলের কারণসমূহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে, এবং এর সাথে একটি সনদের প্রার্থনা থাকতে হবে,  হয় এই মর্মে যে, মামলার অর্থমূল্য বা প্রকৃতি অনুযায়ী, এটি ধারা ১১০-এর শর্ত পূরণ করে, অথবা, এই মর্মে যে, মামলাটি উপরোক্ত শর্ত পূরণ না করলেও, এটি আপিল বিভাগে আপিলের জন্য উপযুক্ত একটি মামলা।
(২) এমন দরখাস্ত প্রাপ্তির পর আদালত, বিপক্ষ পক্ষকে নোটিশ ইস্যু করবে, যাতে তারা আদালতকে কারণ দর্শাতে পারে , কেন উক্ত সনদ প্রদান করা উচিত নয়।

⇒ Order XLV, Rule 3 – Code of Civil Procedure, 1908: Certificate as to value or fitness for appeal to the Appellate Division:
(1) Every petition for leave to appeal shall Clearly state the grounds of appeal, and Be accompanied by a prayer for a certificate — either:
that, based on the amount or value and the nature of the case, it meets the requirements of section 110,
or that, even if it does not meet those requirements, it is otherwise a fit case for appeal to the Appellate Division.
(2) Upon receiving such a petition, the Court shall Direct notice to be served on the opposite party,
So that they may have an opportunity to show cause why the certificate should not be granted.

১৫.
দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর কোন ধারায় আদালতের সহজাত ক্ষমতার বিষয়ে বলা হয়েছে?
  1. ধারা ১৫১
  2. ধারা ১৪৪
  3. ধারা ১১৫
  4. ধারা ১১৪
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১৫১ – এটি আদালতের Inherent Power বা সহজাত ক্ষমতা সম্পর্কে কথা বলে। এই ধারা অনুযায়ী, আদালত এমন আদেশ দিতে পারে যা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে অথবা আদালতের কার্যধারার অপব্যবহার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় হয়।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫১ ধারায় আদালতের সহজাত ক্ষমতা রক্ষণের বিধান রয়েছে। ১৫১ ধারামতে দেওয়ানী আদালত ২টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা (For the ends of justice); এবং
ii) আদালতের কার্যধারা বা আদালত কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা (To prevent abuse of the process of the court)।
- ন্যায়বিচারের জন্য অথবা আদালতের পরোয়ানার অবমাননা প্রতিরোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় আদেশ দানের ব্যাপারে আদালতের যে অনন্তর্নিহিত ক্ষমতা রয়েছে, এই বিধির কোন বিধান দ্বারা তা সীমাবদ্ধ বা কোনভাবে প্রভাবিত হবে না।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section: 151. Saving of inherent powers of Court:
- Nothing in this Code shall be deemed to limit or otherwise affect the inherent power of the Court to make such orders as may be necessary for the ends of justice or to prevent abuse of the process of the Court.
১৬.
নিঃস্ব হিসেবে মোকদ্দমা দায়েরের জন্য আবেদনকারীর সম্পত্তির পরিমাণ কত টাকার বেশি হলে তাকে নিঃস্ব হিসেবে গণ্য করা হবে না?
  1. ১,০০০ টাকা
  2. ৩,০০০ টাকা
  3. ৫,০০০ টাকা
  4. ১০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৩ বিধি-১ এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি কোর্ট ফি দিতে অক্ষম হন অথবা তার প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র ও মামলার বিষয়বস্তু ব্যতীত অন্য কোনো সম্পত্তি ৫,০০০ টাকার বেশি না থাকে, তাহলেই তাকে "নিঃস্ব (pauper)" হিসেবে গণ্য করা হয়।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৩ বিধি-১ বিধান মতেঃ নিঃস্ব হিসাবে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে (Suits may be instituted in forma pauperis): আদালত কর্তৃক নিঃস্ব ঘোষিত হলে নিঃস্ব ব্যক্তি হিসেবে মোকদ্দমা করা যায়।
- কোনো ব্যক্তি নিঃস্ব (Pauper) বলে গণ্য হবে যদি- মোকদ্দমা দায়ের করতে প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি দিতে অক্ষম হয় বা যে ক্ষেত্রে কোন কোর্ট ফি নির্ধারিত নয় এবং সেক্ষেত্রে মোকদ্দমার বিষয়বস্তু ও তার প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র ছাড়া ৫০০০ টাকার বেশি সম্পত্তি না থাকে।
--------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-33 Rule-1. Suits may be instituted in forma pauperis: Subject to the following provisions, any suit may be instituted by a pauper.
Explanation−A person is a "pauper" when he is not possessed of sufficient means to enable him to pay the fee prescribed by law for the plaint in such suit, or, where no such fee is prescribed, when he is not entitled to property worth five thousand Taka other than his necessary wearing-apparel and the subject-matter of the suit.
১৭.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর কোন আদেশে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বিধান দেওয়া হয়েছে?
  1. Order XXXIX
  2. Order XL
  3. Order XLI
  4. Order XLIII
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর Order XXXIX (আদেশ ৩৯)-এ “Temporary Injunctions and Interlocutory Orders” অর্থাৎ "অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ" সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।
- Rule 1 (বিধি ১):আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে যদি, বাদির একটি prima facie (প্রাথমিকভাবে গ্রহণযোগ্য) মামলা থাকে, অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, দেখা যায় উত্তরপক্ষ এমন কিছু করছে বা করতে যাচ্ছে, যা বাদির অধিকার ক্ষুণ্ণ করবে।

⇒ আদেশ ৩৯, দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ অনুসারে, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction) হল আদালত কর্তৃক প্রদত্ত একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ যার উদ্দেশ্য মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির স্থিতাবস্থা বজায় রাখা, অবৈধ ক্ষতি বা প্রতারণা রোধ করা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
- আদেশ ৩৯ এর বিধি ১ ও ২ অনুযায়ী, যদি শপথপত্র বা অন্য কোনো প্রমাণ দ্বারা দেখা যায় যে মামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি অপচয়, হস্তান্তর, ধ্বংস বা বেআইনিভাবে বিক্রয়ের আশঙ্কা রয়েছে কিংবা বিবাদী প্রতারণার উদ্দেশ্যে সম্পত্তি অপসারণ বা হস্তান্তরের হুমকি দিচ্ছে, তাহলে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করতে পারে।
- এই নিষেধাজ্ঞা মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকে এবং আদালত প্রয়োজনে শর্তযুক্ত আদেশ, সম্পত্তি ক্রোক, এমনকি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিতে পারে।
- এছাড়া, একতরফা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পূর্বে সাধারণত প্রতিপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়, তবে তা বিলম্বজনিত ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে অব্যাহত রাখা যেতে পারে।
- তাই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আদালতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক হাতিয়ার যা আইনের শাসন, অধিকার রক্ষা ও ভবিষ্যৎ ক্ষতি প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়।
১৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৩৫ক কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. আপিলে
  2. মূল মামলায়
  3. জারির কার্যক্রমে
  4. দায়েরকৃত মোকদ্দমায়
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৩৫ক (Section 35A of the Code of Civil Procedure) মিথ্যা বা হয়রানিমূলক (false or vexatious) দাবি বা জবাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে ক্ষতিপূরণমূলক খরচ (Compensatory Cost) পাওয়ার সুযোগ দেয়।
তবে এই ধারা “কোনো আপিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়” — এটি স্পষ্টভাবে আইনে উল্লেখ আছে।
অর্থাৎ, যদি একটি মিথ্যা বা হয়রানিমূলক দাবি মূল মামলায়, জারির কার্যক্রমে, অথবা দায়েরকৃত মোকদ্দমায় করা হয়, তাহলে ধারা ৩৫ক প্রযোজ্য হবে।
কিন্তু আপিলের পর্যায়ে এই ধারা প্রয়োগ করা যাবে না।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৫ক ধারার বিধান: মিথ্যা বা বিব্রতকর দাবি বা আত্মপক্ষ সমর্থনের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণমূলক খরচ:
১) যদি কোন মোকদ্দমা অথবা জারির কর্মপদ্ধতিসহ অন্য কার্যক্রমে, কিন্তু আপিলে নয়, কোন পক্ষ দাবিতে অথবা জবাবে এই জন্য আপত্তি প্রদান করে যে, দাবি কিংবা জবাব, অথবা উহার কোন পার্ট, মিথ্যা বা বিরক্তিকর, এবং তৎপরবর্তীতে ঐরূপ দাবি কিংবা জবাবকে মিথ্যা অথবা বিরক্তিকর হিসাবে ধারণা প্রদান করার কারণ লিপিবদ্ধ করার পর ক্ষতিপূরণ হিসাবে আপত্তিকারীকে খরচা প্রদান করার আদেশ দিবে, যা আদালতের আর্থিক এতিয়ারের পরিসীমা অতিক্রান্ত না করে বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত হবে।
২) এই ধারার অধীন তাতে বর্ণিত কারণে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদেশ প্রদান করা হলে ঐ দাবি কিংবা জবাব সম্পর্কে তাকে ফৌজদারি দায় থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হবে না।
৩) মিথ্যা কিংবা বিরক্তিকর দাবি অথবা জবাবের নিমিত্তে উক্ত ধারার অধীন মঞ্জুরীকৃত খরচার পরিমাণ পরবর্তী খেসারত অথবা ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমায় ঐরূপ দাবি অথবা জবাব সম্পর্কে বিবেচনায় রাখতে হবে।
------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section 35A. Compensatory costs in respect of false or vexatious claims or defences:
(1) If in any suit or other proceeding, including an execution proceeding, not being an appeal, any party objects to the claim or defence on the ground that the claim or defence, or any part of it, is false or vexatious, and if, thereafter, such claim or defence is disallowed, in whole or in part, the Court shall, after recording its reasons for holding such claim or defence to be false or vexatious, make an order for the payment to the objector, such cost by way of compensation which may, without exceeding the limit of the Court's pecuniary jurisdiction, extend upto twenty thousand taka.
(2) No person against whom an order has been made under this section shall, by reason thereof, be exempted from any criminal liability in respect of any claim or defence made by him.
(3) The amount of any cost awarded under this section in respect of a false or vexatious claim or defence shall be taken into account in any subsequent suit for damages or compensation in respect of such claim or defence.
১৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২১ক অনুযায়ী, একটি অরেজিস্ট্রিকৃত স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তির ক্ষেত্রে আদালত কী করতে পারে?
  1. সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করতে পারে না
  2. সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করতে পারে
  3. ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করতে পারে
  4. চুক্তিটি বাতিল করতে পারে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করতে পারে না।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ২১ক অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ অনুসারে নিবন্ধিত নয় এমন স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য নয়।
চুক্তিটি লিখিত ও নিবন্ধিত না হলে, এবং চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মামলার সময় আদালতে জমা না দিলে আদালত সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের আদেশ দিতে পারে না।
- এই বিধান শুধুমাত্র স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারার বিধান অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্য: এই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রিয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিস্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা তার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।
---------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Section 21A Unregistered contract for sale not specifically enforceable: Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, no contract for sale of any immovable property can be specifically enforced unless–
(a) the contract is in writing and registered under the Registration Act, 1908, whether or not the transferee has taken possession of the property or any part thereof; and
(b) the balance amount of consideration of the contract is deposited in the court at the time of filing the suit for specific performance of the contract.
২০.
সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের মামলা যদি আদালত মঞ্জুর না করে, তাহলে ৩৭ ধারার অধীনে আদালত কী করতে পারেন?
  1. ক্ষতিপূরণ
  2. চুক্তি রদ
  3. চুক্তি সংশোধন
  4. নতুন চুক্তির আদেশ
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩৭ অনুযায়ী, যদি আদালত কোনও লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন (Specific Performance) মঞ্জুর না করে, তবে বিকল্পভাবে চুক্তিটি রদ (Rescission) করে বাতিল (Cancel) করে দিতে পারে।
- ধারা ৩৭: "A plaintiff instituting a suit for the specific performance of a contract in writing may pray in the alternative that, if the contract cannot be specifically enforced, it may be rescinded and delivered up to be cancelled."
- অর্থাৎ, বাদী মামলা দায়েরের সময় যদি বিকল্পভাবে চুক্তি রদের প্রার্থনা করেন, তবে আদালত যদি চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকরী করতে অস্বীকার করেন, তখন আদালত চুক্তি রদের আদেশ দিতে পারেন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারার বিধান- সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মোকদ্দমার বিকল্প হিসাবে রদের আর্জি:
লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মোকদ্দমা রুজুকারী বাদী বিকল্প হিসাবে আবেদন অবহিত করতে পারেন যে, চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা না গেলে তা রদ করা হোক এবং বিলুপ্ত হিসাবে ত্যাগ করা হোক; এবং আদালত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে অস্বীকার করলে তা রদ করা এবং সে অনুসারে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
--------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 37- Alternative prayer for rescission in suit for specific performance:
A plaintiff instituting a suit for the specific performance of a contract in writing may pray in the alternative that, if the contract cannot be specifically enforced, it may be rescinded and delivered up to be cancelled; and the Court, if it refuses to enforce the contract specifically, may direct it to be rescinded and delivered up accordingly.
২১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ১৭ অনুসারে, আদালত কোন ধারায় উল্লিখিত আংশিক চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের আদেশ দিতে পারে?
  1. ১৪ ধারায়
  2. ১৫ ধারায়
  3. ১৬ ধারায়
  4. উল্লিখিত সব ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ (The Specific Relief Act, 1877)-এর ধারা ১৭ অনুযায়ী, আদালত শুধুমাত্র ধারা ১৪, ১৫ ও ১৬-এ বর্ণিত নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে আংশিক চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন (specific performance of part of a contract) অনুমোদন করতে পারে।
- ধারা ১৭ এর মূল বক্তব্য: “The Court shall not direct the specific performance of a part of a contract except in cases coming under one or other of the three last preceding sections.”
- অর্থাৎ: আদালত আংশিক চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আদেশ করতে পারবে না, যদি না তা ধারা ১৪, ১৫ অথবা ১৬ এর অধীনে পড়ে।

ধারা ১৪, ১৫ ও ১৬ সংক্ষেপে:
→ ধারা ১৪: যখন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট এবং টাকার দ্বারা ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব। আদালত এটি কার্যকর করতে পারে।
→ ধারা ১৫: যখন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ বড় এবং ক্রেতা সম্মত থাকে শুধু সম্পাদনযোগ্য অংশ গ্রহণ করতে ক্ষতিপূরণ ছাড়াই — তখন আদালত বিক্রেতাকে বাধ্য করতে পারে।
→ ধারা ১৬: যখন চুক্তির অংশবিশেষ স্বতন্ত্র এবং আলাদাভাবে কার্যকরযোগ্য — তখন সেই অংশের কার্যকর আদেশ আদালত দিতে পারে।

→ অর্থাৎ ধারা ১৭ স্পষ্টভাবে বলে দেয়, আংশিক চুক্তির কার্যকর আদেশ কেবল ধারা ১৪, ১৫ ও ১৬-এর সীমায় আদালত দিতে পারে।
- এই তিনটি ধারাই আংশিক চুক্তির কার্যকর করার ব্যতিক্রমধর্মী অবস্থা বর্ণনা করে।
→ তাই সঠিক উত্তর: "ঘ) উল্লিখিত সব ধারায়"।
২২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা কোন ধরনের সম্পত্তির দখল সংক্রান্ত মামলা প্রযোজ্য?
  1. অস্থাবর সম্পত্তি
  2. স্থাবর সম্পত্তি
  3. উভয়ই
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারায় বলা হয়েছে যে, যখন কোনো ব্যক্তি তার অসম্মতিতে স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তখন সে বা তার মাধ্যমে দাবিদার মামলা দায়ের করে সেই দখল পুনরুদ্ধার করতে পারেন।
এখানে স্থাবর সম্পত্তি অর্থাৎ জমি বা স্থায়ী সম্পত্তি নিয়ে কথা বলা হচ্ছে।
অন্যদিকে, অস্থাবর সম্পত্তি (যেমন- movable property) সম্পর্কিত দখল সংক্রান্ত বিরোধের জন্য এই ধারা প্রযোজ্য নয়।
এভাবে, ৯ ধারা স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত দখল পুনরুদ্ধারের মামলা প্রযোজ্য।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারার বিধান: স্থাবর সম্পত্তির দখল চ্যুত ব্যক্তি কর্তৃক মামলা:
-যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে আইনগত পন্থা ছাড়াই স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তাহলে সে বা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করতে পারে। তবে এই ধারার কোন কিছুই এমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার নিমিত্তে কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা রুজু করার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না।
-সরকারের ক্ষেত্রে এই ধারার কোনো প্রয়োগযোগ্য নেই।
-আদালত যে আদেশ দিবে তার বিরুদ্ধে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে না।
---------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section-9: Suit by person dispossessed of immoveable property:
If any person is dispossessed without his consent of immoveable property otherwise than in due course of law, he or any person claiming through him may, by suit recover possession thereof, notwithstanding any other title that may be set up in such suit.
Nothing in this section shall bar any person from suing to establish his title to such property and to recover possession thereof.
No suit under this section shall be brought against the Government.
No appeal shall lie from any order or decree passed in any suit instituted under this section, nor shall any review of any such order or decree be allowed.

২৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় বলা হয়েছে যে নিরোধক প্রতিকার আদালতের সুবিবেচনায় নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে মঞ্জুর করা হয়?
  1. ৫ ধারা
  2. ৬ ধারা
  3. ৭ ধারা
  4. ৫২ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৫২ ধারা অনুযায়ী নিরোধক প্রতিকার (Preventive Relief) আদালতের সুবিবেচনামূলক ক্ষমতাবলে প্রদান করা হয়, এবং তা হয় অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (temporary or perpetual injunction) এর মাধ্যমে।
- ধারা ৫২-এর মূল ভাষ্য: "Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual."
- অতএব, এই ধারাই নিরোধক প্রতিকারের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারার বিধান নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুরের প্রক্রিয়া:- আদালতের সুবিবেচনামূলক ক্ষমতাবলে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়।
⇒ প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief):
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৬ ধারায় "প্রতিরোধমূলক প্রতিকার" এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
- এছাড়া ৫ ধারার (গ) উপধারা অনুযায়ী, যে প্রতিকার কোন কাজ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয় – অর্থাৎ “না করার আদেশ” – সেটিকেই প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief) বলা হয়।

উদাহরণস্বরূপ:
- কোন ব্যক্তি যদি অন্যের জমিতে জবরদস্তি প্রবেশ করতে চায়, তখন আদালত তাকে তা থেকে বিরত রাখার জন্য নিষেধাজ্ঞা (injunction) প্রদান করতে পারে — এটাই প্রতিরোধমূলক প্রতিকার।
২৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির অনুসারে, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (CJM) প্রদত্ত ক্ষমতা কে প্রত্যাহার করতে পারেন?
  1. সরকার
  2. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪১(২) অনুসারে, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অর্পিত ক্ষমতা তিনিই নিজেই প্রত্যাহার করতে পারেন। একইভাবে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতাও তিনিই প্রত্যাহার করতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১ ধারার বিধান হল, ক্ষমতাদি প্রত্যাহারকরণ:
(১) সরকার এই কার্যবিধি অনুসারে কোন ব্যক্তি বা ইহার অধীনস্থ কোন অফিসারকে অর্পিত সকল বা যে কোন ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে পারবেন:
শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে উক্তরূপ ক্ষমতা অর্পণ এই কার্যবিধি অনুসারে হয় সেক্ষেত্রে এই বিষয়ে হাইকোর্ট ডিভিশনের সাথে আলোচনা করতে হবে। এ ধরণের প্রত্যাহার সেই আদালতের সাথে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে।
(২) যেক্ষেত্রে কোন ক্ষমতা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত হয়, সেক্ষেত্রে তা সেভাবে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রত্যাহৃত  হতে পারবে।
--------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 41: Withdrawal of powers:
(1)The Government may withdraw all or any of the powers conferred under this Code on any person by it or by any officer subordinate to it:
Provided that where the conferring of a power is, under this code, required to be made in consultation with the High Court Division, the withdrawal thereof shall be made in consultation with that Court.
(2) Any powers conferred by the Chief Judicial Magistrate or the District Magistrate may be withdrawn by the chief Judicial Magistrate or the District Magistrate respectively.

২৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির অনুসারে, অনুপস্থিতিতে বিচারের (Trial in absentia) জন্য কতটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হয়?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
→ ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরু করার জন্য ২টি জাতীয় দৈনিক বাংলা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৩৯খ অনুযায়ী, যদি কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতের সামনে উপস্থিত না হন এবং তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব না হয় বা তিনি আত্মগোপন করেন, তবে আদালত তার অনুপস্থিতিতে বিচার শুরু করতে পারে, তবে তার জন্য কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
- এ ক্ষেত্রে, প্রথম শর্ত হলো, অভিযুক্তকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য ২টি জাতীয় দৈনিক বাংলা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। এই বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্তকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির হতে বলা হয়। যদি সেই সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত হাজির না হন, তবে আদালত তার অনুপস্থিতিতে বিচারের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
- এই প্রক্রিয়াকে "Trial in absentia" বা "অনুপস্থিতিতে বিচার" বলা হয়, যা মূলত তখন করা হয় যখন আদালত বিশ্বাস করে যে, অভিযুক্ত পলায়ন করেছে বা তার গ্রেফতার সম্ভব নয় এবং সে আত্মগোপন করেছে।
- এছাড়াও, ধারা ৮৭ এবং ৮৮ এর বিধান অনুসরণ করতে হয়, যেখানে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা না গেলে এবং আদালত নিশ্চিত হয় যে, তার গ্রেফতার করার কোন সম্ভাবনা নেই, তখনই এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।
- এই নিয়মটি নিশ্চিত করে যে, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচারের আগে যথাযথ প্রচার এবং নোটিফিকেশন প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে তার অধিকার ক্ষুণ্ন না হয় এবং আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা থাকে।
-------------
⇒ The Code of Criminal Procedure- Section 339B: Trial in absentia-
(1) Where after the compliance with the requirements of section 87 and section 88, the Court has reason to believe that an accused person has absconded or concealing himself so that he cannot be arrested and produced for trial and there is no immediate prospect of arresting him, the Court taking cognizance of the offence complained of shall, by order published in at least two national daily Bengali Newspapers having wide circulation, direct such person to appear before it within such period as may be specified in the order, and if such person fails to comply with such direction, he shall be tried in his absence.
(2) Where in a case after the production or appearance of an accused before the Court or his release on bail, the accused person absconds or fails to appear, the procedure as laid down in sub-section (1) shall not apply and the Court competent to try such person for the offence complained of shall, recording its decision so to do, try such person in his absence.
২৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারা অনুসারে, আদালত অবমাননার অপরাধীকে জরিমানা না দিলে কী শাস্তি পেতে পারে?
  1. ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  2. ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  3. ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  4. ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। 

→ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারা অনুযায়ী: যদি দণ্ডবিধির ধারা ১৭৫, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০ বা ২২৮ এ বর্ণিত কোনো অপরাধ আদালতের সম্মুখে বা উপস্থিতিতে সংঘটিত হয়, তবে: সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি, ফৌজদারি বা রাজস্ব আদালত অপরাধীকে দ্রুত বিচার করে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা জরিমানা দিতে পারে, এবং জরিমানা না দিলে সর্বোচ্চ ১ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিতে পারে।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারার বিধান:- অবমাননার কতিপয় ক্ষেত্রে পদ্ধতি:
কোন দেওয়ানী, ফৌজদারি বা রাজস্ব আদালতের দৃষ্টি গোচরে বা উপস্থিতিতে দণ্ডবিধির ধারা-১৭৫, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০ বা ২২৮ এ উল্লিখিত কোন অপরাধ করা হলে উক্ত আদালত অপরাধীকে কারাগারে আটক রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন এবং ঐদিন আদালতের অধিবেশন শেষ হওয়ার পূর্বে যেকোনো সময় উপযুক্ত মনে করলে অপরাধটি আমলে নিতে পারবেন এবং অপরাধীকে সর্বোচ্চ ২০০ (দু'শত) টাকা অর্থদণ্ডে এবং যথাশীঘ্র জরিমানার টাকা প্রদান করা না হলে এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন।
---------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section - 480: Procedure in certain cases of contempt:
-When any such offence as is described in section 175, section 178, section 179, section 180 or section 228 or the Penal Code is committed in the view or presence of any Civil, Criminal or Revenue Court, the Court may cause the offender to be detained in custody and at any time before the rising of the Court on the same day may, if it thinks fit, take cognizance of the offence and sentence the offender to fine not exceeding two hundred taka, and in default of payment, to simple imprisonment for a term which may to one month, unless such fine be sooner paid.

২৭.
ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারায় পুলিশ গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে অস্ত্র জব্দ করতে পারে?
  1. ধারা ৫৩
  2. ধারা ৫২
  3. ধারা ৫১
  4. ধারা ৪৬
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) ধারা ৫৩।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে যে কোনো পুলিশ অফিসার বা ব্যক্তি যদি কাউকে গ্রেফতার করে, তাহলে তার কাছে থাকা অস্ত্র বা বিপজ্জনক জিনিস জব্দ করতে পারেন।
এবং জব্দকৃত অস্ত্রগুলো সংশ্লিষ্ট আদালত বা অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে, যার সামনে আসামিকে হাজির করা হবে।

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৫৩ অনুযায়ী: Power to seize offensive weapons:
“The officer or other person making any arrest under this Code may take from the person arrested any offensive weapons which he has about his person, and shall deliver all weapons so taken to the Court or officer before which or whom the officer or person making the arrest is required by this Code to produce the person arrested.”
২৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭ অনুযায়ী, কোন ক্ষেত্রে সরকার পাবলিক প্রসিকিউটরকে আপিল দাখিলের নির্দেশ দিতে পারে?
  1. আসামীর মৃত্যুর পর
  2. আসামীর খালাসের পর
  3. আসামীর অভিযুক্ত হওয়ার পর
  4. আসামীর সাজা বাড়ানোর পর
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭ অনুযায়ী, সরকার পাবলিক প্রসিকিউটরকে আসামীর খালাসের পর আপিল দাখিলের নির্দেশ দিতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭ ধারায় খালাসের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান আলোচনা করা হয়েছে। খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়-১- হাইকোর্ট বিভাগে ২- দায়রা জজের নিকট।
- খালাস আদেশটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দিলে দায়রা জজের নিকট এবং দায়রা আদালত দিলে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করতে হবে।
- খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে- ১. পাবলিক প্রসিকিউটর ২. অভিযোগকারী। 
৪১৭ (১) ধারায় পাবলিক প্রসিকিউটর এবং ৪১৭ (২) ধারায় অভিযোগকারী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারে।
- পাবলিক প্রসিকিউটর যেকোনো মামলায় (G.R এবং C.R উভয় মামলায়) প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিলকরতে পারে।
- অভিযোগকারী শুধুমাত্র নালিশী মামলায় (C.R মামলায়) প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭(৩) ধারা অনুসারে, খালাস আদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আপিল দায়ের করতে পারে ৬০ দিনের মধ্যে এবং তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৫৭ ধারা অনুচ্ছেদ অনুসারে পাবলিক প্রসিকিউটর খালাসের বিরুদ্ধে ৬ মাসের মধ্যে আপিল দায়ের করতে পারে।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 417- Appeal in case of acquittal:
(1) Subject to the provisions of sub-section (4), the Government may, in any case, direct the Public Prosecutor to present an appeal-
(a) to the High Court Division from an original or appellate Order of acquittal passed by any Court of Session;
(b) to the Court of Session from an original or appellate Order of acquittal passed by any Magistrate.
(2) Notwithstanding anything contained in section 418, if such an order is passed in any case instituted upon complaint, and if the order involves an error of law occasioning failure of justice, the complainant may present an appeal-
(a) to the High Court Division from an original order of acquittal passed by any Court of Session;
(b) to the Court of Session from an original order of acquittal passed by any Magistrate.
(3) No appeal by the complaint from an order of acquittal shall be entertained by the High Court Division or a Court of Session] after the expiry of sixty days from the date of the order of acquittal.
(4) If, in any case, the admission of an appeal from an order of acquittal is refused, no appeal from that order of acquittal shall lie under sub-section (1).
২৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৩ অনুযায়ী, তল্লাশির সময় প্রস্তুতকৃত জবরদখলকৃত দ্রব্যের তালিকা কী করতে হবে?
  1. মিডিয়ায় প্রকাশ করা
  2. শুধুমাত্র পুলিশ রেকর্ডে রাখা
  3. সাক্ষীদের দ্বারা স্বাক্ষরিত করা
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৩ অনুযায়ী, তল্লাশীর সময় বাজেয়াপ্ত করা সমস্ত জিনিসের একটি তালিকা প্রস্তুত করতে হবে এবং এই তালিকায় সাক্ষীদের স্বাক্ষর থাকতে হবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারা- সাক্ষীর উপস্থিতিতে তল্লাশী কার্যক্রম চালাতে হবে:
(১) এই অধ্যায় মোতাবেক তল্লাশী করার পূর্বে যে অফিসার বা ব্যক্তি তা করতে গিয়েছেন, তিনি যে এলাকার মধ্যে, যে স্থান তল্লাশী করতে হবে তা অবস্থিত, সেই এলাকার দুই বা ততোধিক নিরপেক্ষ ও গণ্যমান্য অধিবাসীকে তল্লাশীর সাক্ষী হবার জন্য আহ্বান করবেন এবং এরূপ করার জন্য তাদেরকে বা তাদের যে কোন একজনের প্রতি লিখিত আদেশ দিতে পারবেন।
(২) তাদের সমক্ষে তল্লাশী করতে হবে, এবং ঐরূপ অফিসার বা অন্য ব্যক্তি ঐরূপ তল্লাশী করার সময় যেসব জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং যেসব স্থানে ঐগুলি যথাক্রমে পাওয়া যায় তার একটি তালিকা তৈয়ারী করবেন এবং ঐরূপ সাক্ষীগণ তাতে সহি দিবেন; কিন্তু আদালত বিশেষভাবে সমন না দিলে এই ধারায় সম্পাদিত তল্লাশী দর্শনকারী ব্যক্তিকে আদালতে হাজিরা দিতে হবে না।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898- Section 103- Search to be made in presence of witnesses:
(1) Before making a search under this Chapter, the officer or other person about to make it shall call upon two or more respectable inhabitants of the locality in which the place to be searched is situate to attend and witness the search and may issue an order in writing to them or any of them so to do.
(2) The search shall be made in their presence, and a list of all things seized in the course of such search and of the places in which they are respectively found shall be prepared by such officer or other person and signed by such witnesses; but no person witnessing a search under this section shall be required to attend the Court as a witness of the search unless specially summoned by it.

৩০.
ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৩৮২ অনুযায়ী, গর্ভবতী মহিলার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করবে কোন আদালত?
  1. দায়রা আদালত
  2. জেলা আদালত
  3. আপিল বিভাগ
  4. হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৩৮২ অনুযায়ী: "If a woman sentenced to death is found to be pregnant, the High Court Division shall order the execution of the sentence to be postponed, and may, if it thinks fit, commute the sentence to transportation for life."
 - অর্থাৎ, যদি কোনো নারী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন এবং দেখা যায় তিনি গর্ভবতী, তাহলে: হাইকোর্ট বিভাগ অবশ্যই তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার নির্দেশ দিবে; এবং চাইলে, দণ্ডটি আজীবন কারাদণ্ডে (transportation for life) রূপান্তর করতে পারে।
 অতএব, ধারা ৩৮২ অনুযায়ী এই ক্ষমতা কেবল হাইকোর্ট বিভাগের।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮২ অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো নারী যদি গর্ভবতী হিসেবে প্রমাণিত হন, তাহলে: হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার আদেশ দিবে; এবং চাইলে, সেই মৃত্যুদণ্ডকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে (transportation for life) রূপান্তর করতে পারে।
--------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 382. Postponement of capital sentence on pregnant woman:
- If a woman sentenced to death is found to be pregnant, the High Court Division shall order the execution of the sentence to be postponed, and may, if it thinks fit, commute the sentence to transportation for life.
৩১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬২ অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত বিচারের পদ্ধতিতে যদি একজন আসামীর দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তার সর্বোচ্চ সাজা কত দিন হতে পারে?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬২ অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত বিচারের পদ্ধতিতে যদি একজন আসামীর দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তার সর্বোচ্চ সাজা ২ বছর হতে পারে।

- এটি সংক্ষিপ্ত বিচারের পদ্ধতির একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য, যেখানে গুরুতর অপরাধের জন্য বিচারের ব্যবস্থা করা হয় না, বরং লঘু অপরাধের জন্য দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া প্রযোজ্য।
- এই প্রক্রিয়ায় সাজা দিতে হলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে, যা গুরুতর অপরাধের জন্য প্রযোজ্য না।

- ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ২৬২(২) অনুসারে, সংক্ষিপ্ত বিচারের (Summary Trial) মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া যাবে না।
ধারা ২৬২(২)-এর বিধান:
"No sentence of imprisonment for a term exceeding two years shall be passed in the case of any conviction under this Chapter."
অর্থাৎ,  ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬২-এ স্পষ্ট বলা আছে যে, সংক্ষিপ্ত বিচারে ২ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া যায় না।
৩২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৬ ধারা অনুসারে, কোন আদালত দণ্ডিত ব্যক্তিকে শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকার আদেশ দিতে পারে?
  1. হাইকোর্ট
  2. দায়রা আদালত
  3. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  4. উল্লিখিত সকলে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) উল্লিখিত সকলে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৬ ধারা অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ বা জননিরাপত্তার বিরুদ্ধে অপরাধে দণ্ডিত হয়, তখন বিচারকারী আদালত (যেটি এই অপরাধে তাকে দণ্ড প্রদান করেছে) তাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শান্তি রক্ষার মুচলেকা দেওয়ার আদেশ দিতে পারে।
- এই ধারা যেহেতু "বিচারকারী আদালত"কে এই ক্ষমতা দেয়, এবং বিচারকার্যে অংশ নিতে পারে: হাইকোর্ট (যদি সেখানে বিচার হয়ে থাকে), দায়রা আদালত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, তাই ধারা ১০৬ এর আওতায় এদের প্রত্যেকেই এই আদেশ দিতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১০৬ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো অপরাধে দণ্ডিত হন যা: শান্তিভঙ্গ বা তা উসকে দেওয়া সংক্রান্ত, অথবা আসামি দ্বারা হুমকি প্রদর্শন (criminal intimidation) সংক্রান্ত, এবং আদালত মনে করেন যে, তাকে ভবিষ্যতে শান্তি বজায় রাখতে বাধ্য করা প্রয়োজন, তাহলে আদালত মুচলেকা (bond) প্রদান করার আদেশ দিতে পারেন।
-এই মুচলেকার মেয়াদ সর্বোচ্চ হতে পারে ৩ (তিন) বছর।
- এই আদেশ দিতে পারেন: হাইকোর্ট বিভাগ, দায়রা আদালত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট।
- যদি দণ্ডটি আপিলে বাতিল হয়, তাহলে মুচলেকাও বাতিল হয়ে যাবে।
 অতএব, ধারা ১০৬ অনুসারে শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকার সর্বোচ্চ সময়কাল ৩ বছর।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-106: Security for keeping the peach on conviction:
(1) Whenever any person accused of any offence punishable under Chapter VIII of the Penal Code, other than an offence punishable under section 143, section 149, section 153A or section 154 thereof, or of assault or other offence involving a breach of the peace, or of abetting the same, or any person accused of committing criminal intimidation, is convicted of such offence before High Court Division, a Court of Session, or the Court of a Metropolitan Magistrate, or a Magistrate of the first class, and such Court is of opinion that it is necessary to require such person to execute a bond for keeping the peace, such Court may, at the time of passing sentence on such person, order him to execute a bond for a sum proportionate to his means, with or `without sureties, for keeping the peace during such period, not exceeding three years, as it thinks fit to fix.
(2) If the conviction is set aside on appeal or otherwise, the bond so executed shall become void.
(3) An order under this section may also be made by an Appellate Court or by the High Court Division when exercising its powers of revision.
৩৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০০ অনুযায়ী, যদি জামিনে মুক্তির জন্য আদালত আদেশ জারি করে, তবে কে তাকে মুক্তি দেবে?
  1. জামিনদাতা।
  2. পুলিশ কর্মকর্তা।
  3. আদালতের বিচারক।
  4. জেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০০(১) অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তি জামিনে মুক্তির জন্য আদালত আদেশ জারি করে, তখন আদালত ওই ব্যক্তির মুক্তির জন্য জেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে একটি আদেশ প্রদান করে। সেই কর্মকর্তা আদেশটি গ্রহণ করার পর ওই ব্যক্তিকে মুক্তি দেন।
- এখানে আদালত জামিনের আদেশ জারি করলেও, মুক্তির কার্যকর বাস্তবায়নটি জেলের কর্মকর্তার মাধ্যমে হয়, কারণ তারা সরাসরি বন্দির মুক্তির দায়িত্বে থাকে।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫০০:
(১) যেহেতু বন্ড সম্পাদিত হয়েছে, যাদের উপস্থিতির জন্য বন্ড সম্পাদিত হয়েছে, তাদের মুক্তি প্রদান করা হবে; এবং, যদি তারা জেলে থাকে, তবে আদালত জামিন মঞ্জুরকারী আদালত মুক্তির জন্য আদেশ জারি করবে জেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে, এবং ঐ কর্মকর্তা আদেশ গ্রহণের পর তাকে মুক্তি দিবে।
(২) এই ধারা, ধারা ৪৯৬ বা ধারা ৪৯৭ এর কোন কিছু এমনভাবে বিবেচিত হবে না যা কোনো ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য বাধ্য করে যদি তাকে অন্য কোনো কারণে আটক রাখা হয়, যার সঙ্গে বন্ড সম্পাদিত বিষয় সম্পর্কিত নয়।
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 500. Discharge from custody:
(1) As soon as the bond has been executed, the person for whose appearance it has been executed shall be released; and, when he is in jail, the Court admitting him to bail shall issue an order of release to the officer in charge of the jail, and such officer on receipt of the order shall release him. 
(2) Nothing in this section, section 496 or section 497 shall be deemed to require the release of any person liable to be detained for some matter other than that in respect of which the bond was executed.
৩৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির অনুসারে, দায়রা আদালতে চার্জ গঠনের সময় অভিযুক্তকে অপরাধ স্বীকার করা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয় কোন ধারা অনুসারে?
  1. ধারা ২৬৫ক
  2. ধারা ২৬৫ঘ
  3. ধারা ২৬৫চ
  4. ধারা ২৬৫ঙ
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ অনুযায়ী দায়রা আদালতে বিচার সংক্রান্ত ধারাগুলোর মধ্যে ধারা ২৬৫ঘ (Section 265D) বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই ধারায় বলা হয়েছে—
“When a charge has been framed, the charge shall be read and explained to the accused and the accused shall be asked whether he pleads guilty or claims to be tried.”
- অর্থাৎ, চার্জ গঠনের সময়, বিচারক: অভিযোগ পড়ে শোনাবেন এবং ব্যাখ্যা করবেন। এরপর অভিযুক্তকে প্রশ্ন করবেন— সে অপরাধ স্বীকার করে কিনা।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 265D. Framing charge:
(1) If, after such consideration and hearing as aforesaid, the Court is of opinion that there is ground for presuming that the accused has committed an offence, it shall frame in writing a charge against the accused. 
(2) Where the Court frames a charge under sub-section (1), the charge shall be read and explained to the accused shall be asked whether he pleads guilty of the offence charged or claims to be tried.
৩৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় মেডিকেল সাক্ষীর জবানবন্দি প্রমাণ হিসেবে গ্রহণের বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৫০১
  2. ধারা ৫০৯
  3. ধারা ৫০৯ক
  4. ধারা ৫১০
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৯(১)-এ সিভিল সার্জন বা অন্য কোনো মেডিকেল সাক্ষীর জবানবন্দি প্রমাণ হিসেবে গ্রহণের বিধান রয়েছে।
- এই জবানবন্দি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নেওয়া হতে হবে বা অধ্যায় XL-এর অধীন কমিশনের মাধ্যমে নেওয়া হতে পারে।
- এ ক্ষেত্রে সাক্ষীকে সরাসরি আদালতে হাজির না করেও তার জবানবন্দি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
ধারা ৫০৯ অনুযায়ী: একজন সিভিল সার্জন বা অন্য কোন মেডিকেল সাক্ষী, যাঁর জবানবন্দি ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বা কমিশনের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে, তা প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যদিও ওই সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা না হয়।
- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য যে, আদালত যদি মনে করে, তবে সাক্ষীকে আদালতে ডেকে তার জবানবন্দি পুনরায় শোনা যেতে পারে।
এতে বলা হয় যে, আদালত সিভিল সার্জন বা অন্য কোনো মেডিকেল ডেপোজিশনার দ্বারা দেওয়া জবানবন্দি প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে, যদি সেই সাক্ষী আদালতে হাজির হতে না পারেন।
- সঠিক উত্তর: খ) ধারা ৫০৯।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 509. Deposition of medical witness:
(1) The deposition of a Civil Surgeon or other medical witness, taken and attested by a Magistrate in the presence of the accused, or taken on commission under Chapter XL, may be given in evidence in any inquiry, trial or other proceeding under this Code, although the deponent is not called as a witness.
Power to summon medical witness:
(2) The Court may, if it thinks fit, summon and examine such deponent as to the subject-matter of his deposition.
৩৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারায় হাইকোর্ট বিভাগের সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্য নয় কোনটি?
  1. ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা
  2. বিচারপ্রার্থীর ব্যয় কমানো
  3. আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করা
  4. ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে প্রদত্ত কোন আদেশ কার্যকর করা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারা (Section 561A, CrPC) হাইকোর্ট বিভাগের সহজাত বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা সংরক্ষণ করে এবং এই ধারা তিনটি উদ্দেশ্যে হাইকোর্টকে ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ দেয়:
১। ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে প্রদত্ত কোনো আদেশ কার্যকর করা
২। কোনো আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করা
৩। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা
কিন্তু "বিচারপ্রার্থীর ব্যয় কমানো" — এই উদ্দেশ্য ৫৬১ক ধারার উদ্দেশ্যের মধ্যে নেই।
- এটি একটি সামাজিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বের বিষয় হতে পারে, কিন্তু এই ধারার অধীনে হাইকোর্টের inherent power প্রয়োগের কোনো উদ্দেশ্য নয়।

-একটি মামলার ক্ষেত্রে কি পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে সে বিষয়ে যাবতীয় বিধি দেওয়ানী ও ফৌজদারি কার্যবিধিতে রয়েছে। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে এমন অবস্থার উদ্ভব হতে পারে, আদালতের কি করণীয় হবে সে বিষয়ে কোন সুস্পষ্ট বিধি নেই। এক্ষেত্রে ন্যায় বিচারের প্রয়োজনে আদালত তার সুবিবেচনা অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনার জন্য যে ক্ষমতা প্রয়োগ করে, তাকেই আদালতের সহজাত বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent power of the court) বলে।

-ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারামতে, ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ ৩টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে প্রদত্ত কোন আদেশ কার্যকর করা (to give effect to any order under CrPC);
ii) কোন আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করা (to prevent abuse of the process of any court); এবং
iii) ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা (to secure the ends of justice)। 

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 561A: Saving of inherent power of High Court Division:
- Nothing in this Code shall be deemed to limit or affect the inherent power of the High Court Division to make such orders as may be necessary to give effect to any order under this Code, or to prevent abuse of the process of any Court or otherwise to secure the ends of justice.
৩৭.
ফৌজদারি কার্যবিধিতে "Sentence of death" সম্পর্কিত ধারা কোনটি?
  1. ধারা ৩৬৭
  2. ধারা ৩৬৮
  3. ধারা ৩৬৯
  4. ধারা ৩৭০
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৩৬৮: মৃত্যুদণ্ড ও নির্বাসন সংক্রান্ত বিধান:
(১) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ: যখন কোনো ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়, তখন সেই দণ্ডাদেশে অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে যে তাকে “গলায় ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুবরণ করা পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখা হবে”।
(২) নির্বাসন (Transportation) এর আদেশ: নির্বাসনের আদেশে যে স্থানে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে প্রেরণ করা হবে, তা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা যাবে না।

⇒ The Code of Criminal Procedure- Section- 368. Sentence of death:
(1) When any person is sentenced to death, the sentence shall direct that he be hanged by the neck till he is dead.
- Sentence of transportation:
(2) No sentence of transportation shall specify the place to which the person sentenced is to be transported.
৩৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলের কোন কলামে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করা হয়?
  1. ১ম কলাম
  2. ২য় কলাম
  3. ৩য় কলাম
  4. ৪র্থ কলাম
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলের ১ম কলাম-এ দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করা হয়।
- প্রথম কলামে পেনাল কোডের অধীন সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ উল্লেখ করা হয়, যা অপরাধের ধরন এবং শাস্তির বিধান বর্ণনা করে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলে মোট ৮টি কলাম রয়েছে। 
দ্বিতীয় তফসিল- (Second Schedule)
১ম কলাম- পেনাল কোডের অধীন ধারাসমূহ।
২য় কলাম- অপরাধ।
৩য় কলাম- পরোয়ানা ছাড়া পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে কি পারে না অর্থাৎ আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ।
৪র্থ কলাম- প্রথমেই সমন বা ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হবে কিনা।
৫ম কলাম- অপরাধটি জামিনযোগ্য নাকি জামিন-অযোগ্য।
৬ষ্ঠ কলাম- অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য (Compoundable) কিনা।
৭ম কলাম- দণ্ডবিধির অধীন উল্লিখিত শাস্তি।
৮ম কলাম- যে আদালত কর্তৃক অপরাধটি বিচারযোগ্য।
৩৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ক ধারার অধীনে ম্যাজিস্ট্রেট কী ভিত্তিতে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেন?
  1. পুলিশ রিপোর্টের ভিত্তিতে
  2. অভিযোগের ভিত্তিহীনতা
  3. অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি
  4. তদন্ত কর্মকর্তার মতামত
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ক ধারার অধীনে, ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেন যদি তিনি অভিযোগকে ভিত্তিহীন মনে করেন।
- এটি নির্ধারণ করতে ম্যাজিস্ট্রেট মামলার রেকর্ড, দাখিলকৃত কাগজপত্র, তদন্তের ফলাফল, এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য পর্যালোচনা করেন। ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগের ভিত্তি এবং প্রমাণের ঘাটতি বা মিথ্যাপ্রতিপাদন খতিয়ে দেখেন, এবং যদি তিনি মনে করেন যে অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই, তাহলে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অতএব, সঠিক উত্তর হবে: খ) অভিযোগের ভিত্তিহীনতা।

- এখানে পুলিশ রিপোর্ট, তদন্ত কর্মকর্তা বা অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি কোনওভাবেই ম্যাজিস্ট্রেটের অব্যাহতির সিদ্ধান্তের একমাত্র ভিত্তি নয়, তবে ম্যাজিস্ট্রেট সব প্রমাণ এবং তথ্য পর্যালোচনা করে অভিযোগের ভিত্তিহীনতা নির্ধারণ করেন।

-ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার সম্পর্কে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ থেকে ২৫০ ধারা পর্যন্ত বর্ণনা করা হয়েছে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ক ধারার বিধান: ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আসামির অব্যাহতি [Discharge of Accused by Magistrate): আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে চার্জ গঠনের আগে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে ২৪১ক ধারায় অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে পারে।অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট মামলার নথি ও দাখিলকৃত কাগজপত্র আমলে নিবে।পুলিশ কেসের ক্ষেত্রে মামলার এফআইআর, চার্জশিট,পুলিশের নিকট দেয়া বা সংগ্রহকৃত তথ্য বা প্রস্তুতকৃত ডকুমেন্ট,তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট প্রদত্ত জবানবন্দি এবং মেডিকেল সার্টিফিকেট ইত্যাদি।
আর নালিশি কেসের ক্ষেত্রে মামলার অভিযোগ,বিচারিক অনুসন্ধান ও মেডিকেল সার্টিফিকেট ইত্যাদি কাগজপত্র আমলে নিবেন।

উল্লেখ্য, যদি ম্যাজিস্ট্রেট ২৪১(ক) ধারায় অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেন, তাহলে ফরিয়াদি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়রা জজ কোর্টে রিভিশন আবেদন করতে পারেন।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 241A. When accused shall be discharged:
When the accused appears or is brought before the Magistrate, and if the Magistrate, upon consideration of the record of the case and the documents submitted therewith and making such examination, if any, of the accused as the Magistrate thinks necessary and after giving the prosecution and the accused an opportunity of being heard, considers the charge to be groundless, he shall discharge the accused and record his reasons for so doing.

৪০.
যদি গর্ভবতী নারী গর্ভে শিশু ‘quick with child’ (জীবনের লক্ষণযুক্ত) অবস্থায় থাকে এবং কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ভপাত ঘটায়, তবে ৩১২ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি কী হবে?
  1. ৩ বছর কারাদণ্ড
  2. ৫ বছর কারাদণ্ড
  3. ৭ বছর কারাদণ্ড
  4. ১০ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৩১২ অনুযায়ী বলা হয়েছে: “যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় এমন কোনো কার্য করেন, যার ফলে গর্ভবতী নারীর গর্ভপাত হয়, এবং যদি তা মায়ের জীবন রক্ষার জন্য “সৎ বিশ্বাসে” (good faith) করা না হয়ে থাকে, তাহলে সেই ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা জরিমানা, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।”

-এছাড়াও, যদি ঐ নারী “quick with child” অর্থাৎ গর্ভধারণের পর নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছে থাকেন (সাধারণত দ্বিতীয় বা তৃতীয় ত্রৈমাসিক বোঝানো হয়), তাহলে শাস্তি আরও বেশি হয় – সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা।

⇒ অর্থাৎ গর্ভবতী নারী ‘quick with child’ অবস্থায় থাকলে এবং কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ভপাত ঘটায়, তবে ৩১২ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি হবে ৭ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানা। 

ধারা ৩১২: গর্ভপাত ঘটানো (Causing miscarriage)
"যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো গর্ভবতী নারীর গর্ভপাত ঘটায়, এবং যদি তা মায়ের জীবন রক্ষার জন্য সৎ বিশ্বাসে (good faith) করা না হয়, তবে সে ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত যেকোনো প্রকার কারাদণ্ডে (simple বা rigorous imprisonment) দণ্ডিত হবেন, অথবা জরিমানা দিতে হবে, কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
আর যদি নারী “quick with child” অবস্থায় থাকেন, তবে সেই ব্যক্তির সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত যেকোনো প্রকার কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান থাকবে।
ব্যাখ্যা: এই ধারার অধীনে এমনকি যদি কোনো নারী নিজেই নিজের গর্ভপাত ঘটান, তাহলে তিনিও অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন।
--------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 312. Causing miscarriage:
Whoever voluntarily causes a woman with child to miscarry, shall, if such miscarriage be not caused in good faith for the purpose of saving the life of the woman, be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both; and,
if the woman be quick with child, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.
Explanation.-A woman who causes herself to miscarry, is within the meaning of this section.
৪১.
অবৈধ সমাবেশের কোনো সদস্য যদি সম্মিলিত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বলপ্রয়োগ বা সহিংসতা করে, তাহলে তা কী বলে গণ্য হবে?
  1. হরতাল
  2. দাঙ্গা
  3. ডাকাতি
  4. মারামারি
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৪৬ থেকে ১৪৮ ধারা "দাঙ্গা" (Riot)-এর সংজ্ঞা ও শাস্তি নির্ধারণ করে। ১৪৬ ধারা অনুযায়ী, ৫ জন বা তার বেশি লোক যদি অবৈধভাবে একত্রিত হয়ে সামূহিক উদ্দেশ্যে বলপ্রয়োগ বা সহিংসতা করে, তাহলে তা দাঙ্গা হিসেবে গণ্য হয়। অবৈধ সমাবেশ বলতে এমন একটি জমায়েতকে বোঝায় যা আইন দ্বারা নিষিদ্ধ বা শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা সৃষ্টি করে।

ধারা ১৪৬ (Rioting):
"Whenever force or violence is used by an unlawful assembly, or by any member thereof, in prosecution of the common object of such assembly, every member of such assembly is guilty of the offence of rioting."
- অর্থাৎ, যদি অবৈধ সমাবেশের কোনো সদস্য সম্মিলিত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য বলপ্রয়োগ বা সহিংসতা করে, তবে তা “দাঙ্গা” (Rioting) হিসেবে গণ্য হবে।

- দাঙ্গার শাস্তি: দাঙ্গার অপরাধে অংশগ্রহণকারীদের ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় শাস্তি হতে পারে (১৪৭ ধারা)। নেতৃত্বদানকারীদের শাস্তি আরও কঠোর (১৪৮ ধারা)।

৪২.
দণ্ডবিধির ৩৪৪ ধারা অনুযায়ী কাউকে দশ বা ততোধিক দিন অবৈধভাবে আটক রাখার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৩ মাস কারাদণ্ড
  2. ৬ মাস কারাদণ্ড
  3. ১ বছর কারাদণ্ড
  4. ৩ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৪৪ ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ কাউকে ১০ দিন বা তার বেশি সময় অবৈধভাবে আটক বা অবরুদ্ধ রাখে, তবে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।
⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৪ ধারার বিধান দশ বা ততোধিক দিনব্যাপি অবৈধভাবে অবরোধ:- কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দশ বা ততোধিক দিনের জন্য অবৈধভাবে অবরোধ করে রাখে; তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 344. Wrongful confinement for ten or more days:- Whoever wrongfully confines any person for ten days, or more, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine.
৪৩.
‘রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ’ দণ্ডবিধির কোন অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত?
  1. ষষ্ঠ অধ্যায়
  2. নবম অধ্যায়
  3. চতুর্থ অধ্যায়
  4. দশম অধ্যায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ষষ্ঠ অধ্যায় (ধারা ১২১-১৩০) "রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ" (Offences Against the State) নিয়ে আলোচনা করে।
এই অধ্যায়ে নিম্নলিখিত অপরাধগুলি অন্তর্ভুক্ত:
- রাষ্ট্রদ্রোহ (Sedition) – ধারা ১২৪ক
- যুদ্ধ ঘোষণা বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগদান – ধারা ১২১।
- সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ ।

অর্থাৎ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ষষ্ঠ অধ্যায় (Chapter VI)-এ রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ (Offences against the State) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ও বিষয়বস্তু:
দ্বিতীয় অধ্যায়: সাধারণ ব্যাখ্যা (ধারা ৬-৫২-ক) – অপরাধ সংজ্ঞায়নের মূল শব্দাবলি।
তৃতীয় অধ্যায়: শাস্তি (ধারা ৫৩-৭৫) – মৃত্যুদণ্ড, কারাদণ্ড, জরিমানা প্রভৃতি।
চতুর্থ অধ্যায়: সাধারণ ব্যতিক্রম (ধারা ৭৬-১০৬) – আত্মরক্ষা, ভুল ইত্যাদি কারণে দায়মুক্তি।
পঞ্চম অধ্যায়: অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা (ধারা ১০৭-১২০)।
পঞ্চম-ক অধ্যায়: অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (ধারা ১২০-ক থেকে ১২০-খ)।
ষষ্ঠ অধ্যায়: রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ (ধারা ১২১-১৩০) – রাষ্ট্রদ্রোহ, যুদ্ধঘোষণা ইত্যাদি।
নবম অধ্যায়: সরকারি কর্মকর্তাদের অপরাধ (ধারা ১৬১-১৭১) ।
নবম-ক অধ্যায়: নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ (ধারা ১৭১-ক থেকে ১৭১-ঝ)।
ষোড়শ অধ্যায়: মানবদেহের বিরুদ্ধে অপরাধ (ধারা ২৯৯-৩৭৭) – হত্যা, আহত করা, ধর্ষণ ইত্যাদি।
সপ্তদশ অধ্যায়: সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ (ধারা ৩৭৮-৪৬২খ) – চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা।
বিংশ অধ্যায়: বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধ (ধারা ৪৯৩-৪৯৮) – বহুবিবাহ, বৈবাহিক প্রতারণা।
একবিংশ অধ্যায়: মানহানি (ধারা ৪৯৯-৫০২) – মিথ্যা অপবাদ দেওয়া।
৪৪.
রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের অধিকার সংক্রান্ত বিধান দণ্ডবিধির কোন ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ধারা ৫৪
  2. ধারা ৫৫
  3. ধারা ৫৫ক
  4. ধারা ৫৬
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৫৫ক (Section 55A of the Penal Code) এ রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের অধিকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
- ধারা ৫৫ক বলছে:
"Nothing in section fifty-four or section fifty-five shall derogate from the right of the President to grant pardons, reprieves, respites or remissions of punishment."
অর্থাৎ, দণ্ডবিধির ধারা ৫৪ ও ৫৫ অনুসারে সরকার দণ্ড রূপান্তর করতে পারলেও, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা, দণ্ড মওকুফ, বিলম্ব বা স্থগিতাদেশ প্রদানের সাংবিধানিক অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে।

সুতরাং, দণ্ডবিধির ধারা ৫৫ক-এ রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের বিশেষ অধিকার সংরক্ষিত হয়েছে।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
ক) ধারা ৫৪: শুধুমাত্র মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে অন্যান্য শাস্তিতে রূপান্তরের সরকারি ক্ষমতা।
খ) ধারা ৫৫: আজীবন কারাদণ্ডকে সীমিত মেয়াদে রূপান্তরের বিধান।
ঘ) ধারা ৫৬: বিলুপ্ত ধারা (Transportation শাস্তি সংক্রান্ত)।
৪৫.
“আকস্মিক ও মারাত্মক প্ররোচনায় আত্ম-সংযম হারিয়ে কারো মৃত্যু ঘটানো” দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার কোন ব্যতিক্রমের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ব্যতিক্রম-১
  2. ব্যতিক্রম-২
  3. ব্যতিক্রম-৩
  4. ব্যতিক্রম-৪
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩০০-এ বর্ণিত ব্যতিক্রম-১-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যখন: আকস্মিক ও মারাত্মক প্ররোচনা (Grave and Sudden Provocation) এর ফলে অপরাধী আত্মসংযম হারিয়ে ফেলে (Deprived of Self-Control) এবং সেই অবস্থায় প্ররোচনাদানকারীকে হত্যা করে অথবা দুর্ঘটনাবশত অন্য কাউকে হত্যা করে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার ব্যতিক্রম-১ (Exception 1) বলছে:
“Culpable homicide is not murder if the offender, whilst deprived of the power of self-control by grave and sudden provocation, causes the death…”
 অর্থাৎ,যদি কেউ  আকস্মিক (sudden) এবং মারাত্মক (grave) প্ররোচনায়, আত্ম-সংযম হারিয়ে, প্ররোচক ব্যক্তি অথবা ভুলক্রমে অন্য কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করে, তবে এটি খুন নয়, বরং শাস্তিযোগ্য নরহত্যা।

⇒ ব্যতিক্রম-১ এর মূল শর্তাবলী:
- প্ররোচনা অপরাধী নিজে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তৈরি করেনি
- প্ররোচনা আইনসম্মত কার্যক্রম (যেমন পুলিশের গ্রেফতার) বা সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের ফলে সৃষ্ট নয়
- প্ররোচনা আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের ফলে সৃষ্ট নয়

সুতরাং, "আকস্মিক ও মারাত্মক প্ররোচনায় আত্ম-সংযম হারিয়ে কারো মৃত্যু ঘটানো" ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ব্যতিক্রম হল ব্যতিক্রম-১ (ক)।

উদাহরণ:
যদি কেউ হঠাৎ করে তার স্ত্রীকে অন্য পুরুষের সাথে অবৈধ সম্পর্কে দেখে ফেলে এবং উত্তেজিত হয়ে তাকে হত্যা করে, তাহলে এটি ব্যতিক্রম-১ এর আওতায় পড়তে পারে (যদি আদালত প্ররোচনাকে যথেষ্ট মারাত্মক ও আকস্মিক বলে স্বীকৃতি দেয়)। কারণ এটি grave and sudden provocation।
৪৬.
৯ বছরের নিচে একটি শিশু যদি কোনো কাজ করে, তা দণ্ডবিধির কোন ধারায় অপরাধ বলে গণ্য হবে না?
  1. ধারা ৮১
  2. ধারা ৮২
  3. ধারা ৮৩
  4. ধারা ৮৪
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৮২-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: "৯ বছরের কম বয়সী শিশু দ্বারা সংঘটিত কোনো কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে না।"
- অর্থাৎ, এমন কোনো শিশু যদি কোনো কার্য করে যা সাধারণভাবে অপরাধ হতো, তবুও তার বয়স যদি ৯ বছরের কম হয়, তবে সেটি আইনের চোখে অপরাধ বলে গণ্য হবে না।

⇒ The Penal Code Section 82. Act of a child under nine years of age
- Nothing is an offence which is done by a child under nine years of age.
৪৭.
দণ্ডবিধির ২১২ ধারা অনুসারে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধীর আশ্রয়দাতার শাস্তির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কোনটি?
  1. বন্ধু বন্ধুকে আশ্রয় দিলে
  2. বাবা ছেলেকে আশ্রয় দিলে
  3. স্ত্রী তার স্বামীকে আশ্রয় দিলে
  4. বড় ভাই ছোট ভাইকে আশ্রয় দিলে
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ২১২ অনুযায়ী, যে ব্যক্তি কোনো অপরাধ সংঘটনের পর যদি অপরাধীকে আশ্রয় দেন বা লুকিয়ে রাখেন, তাহলে তিনি দণ্ডনীয় হবেন।
 তবে, এই ধারায় একটি ব্যতিক্রম রয়েছে:
-  Exception: এই ধারা প্রযোজ্য হবে না, যদি অপরাধীর স্বামী বা স্ত্রী তাকে আশ্রয় দেন বা লুকিয়ে রাখেন।
- অর্থাৎ, স্বামী স্ত্রী পরস্পরকে আশ্রয় দিলে তারা দণ্ডবিধির ২১২ ধারায় দণ্ডিত হবেন না।

⇒ দণ্ডবিধির ২১২ ধারায় অপরাধীকে আশ্রয় বা লুকিয়ে রাখার জন্য শাস্তির বিধান আছে। যদি দোষী ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে আশ্রয়দাতা পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যাবজ্জীবন বা দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে, দণ্ডিতের জন্য শাস্তি তিন বছর পর্যন্ত। দশ বছরের নিচে এক বছর পর্যন্ত দণ্ডনীয় অপরাধে দণ্ডিত হলে, দণ্ডের সর্বাধিক মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড হতে পারে।
এই ধারার 'অপরাধ' বলতে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় যে কোনো কাজ বোঝানো হয়েছে, যা বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত হলেও দণ্ডনীয় হবে। তবে, দোষী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী যদি তাকে আশ্রয় দেন, তাহলে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।

- দণ্ডবিধির ২১২ ধারার বিধান দোষী ব্যক্তিকে আশ্রয় দান করা:- কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দোষী বলে জ্ঞাত করা থাকা সত্ত্বেও অথবা সে দোষী বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তাকে আইনের সাজা হতে বাঁচাবার উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখে বা আশ্রয়দান করে, সেক্ষেত্রে-
দোষী ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:
- যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
দোষী ব্যক্তি যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:
- যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে কিংবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
যদি অপরাধটি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় এবং দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় না হয়, তবে সে ব্যক্তি সেই অপরাধটির জন্য বিহিত প্রকারের কারাদণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
 
- অত্র ধারার 'অপরাধ' বলতে বাংলাদেশের মধ্যে যে কাজ অনুষ্ঠিত হলে তা ৩০২, ৩০৪, ৩৮২, ৩৯২, ৩৯৩, ৩৯৪, ৩৯৫, ৩৯৬, ৩৯৭, ৩৯৮, ৩৯৯, ৪০২, ৪৩৫, ৪৩৬, ৪৪৯, ৪৫০, ৪৫৭, ৪৫৮, ৪৫৯ এবং ৪৬০ ধারায় যে কোনটি অনুযায়ী দণ্ডনীয় হত, তা বাংলাদেশের বাইরে যেকোন স্থানে অনুষ্ঠিত হলে তাকেও বুঝাবে এবং অনুরূপ যেকোন কাজ যেন অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই সংঘটনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, এমনভাবেই দণ্ডনীয় বলে পরিগণিত হবে।
⇒ ব্যতিক্রম:- দোষী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী অনুরূপ আশ্রয়দান করলে বা লুকিয়ে রাখলে তখন এই বিধান প্রয়োগযোগ্য হবে না।
৪৮.
দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারায় সামরিক আদালতে বিচার কার্যক্রমকে কী বলা হয়েছে?
  1. সাধারণ অনুসন্ধান
  2. প্রশাসনিক কার্যক্রম
  3. অসাংবিধানিক বিচার
  4. বিচারবিভাগীয় কার্যক্রম
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারার ব্যাখ্যা-১-এ বলা হয়েছে যে, সামরিক আদালতে (Court-martial) বিচার কার্যক্রম একটি বিচারবিভাগীয় কার্যক্রম হিসেবে গণ্য হবে।
- ব্যাখ্যা-১: "সামরিক আদালত (Court-martial) সংঘটিত বিচারও একটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম।"
- অর্থাৎ, সামরিক আদালতের বিচার কার্যক্রমও একইভাবে বিচারবিভাগীয় কার্যক্রম হিসেবে গণ্য করা হয় এবং সেখানে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য একই শাস্তির বিধান প্রযোজ্য।

⇒ দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারার বিধান মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের যে কোন পর্যায়ে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্যদান ব্যবহার করার জন্য ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্‌ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে; এবং
-কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ক্ষেত্রে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে বা তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
-ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- সামরিক আদালত (Court-martial) সংঘটিত বিচারও একটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম।
- ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- কোন আদালতের কোন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পূর্বে আইনের নির্দেশানুগ প্রারম্ভিক তদন্ত ও বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।
- ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- কোন আদালত দ্বারা আইনানুসারে নির্দেশিত এবং কোন আদালতের ক্ষমতানুসারে পরিচালিত কোন তদন্ত বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-193. Punishment for false evidence: Whoever intentionally gives false evidence in any stage of judicial proceeding, or fabricates false evidence for the purpose of being used in any stage of a judicial proceeding, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine;
and whoever intentionally gives or fabricates false evidence in any other case, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine.
Explanation 1.-A trial before a Court-martial is a judicial proceeding.
Explanation 2.-An investigation directed by law preliminary to a proceeding before a Court of Justice, is a stage of a judicial proceeding, though that investigation may not take place before a Court of Justice.
Explanation 3.-An investigation directed by a Court of Justice according to law, and conducted under the authority of a Court of Justice, is a stage of a judicial proceeding, though that investigation may not take place before a Court of Justice.
৪৯.
দণ্ডবিধির বিধান অনুযায়ী, নিচের কোনটি মুদ্রা (Coin) নয়?
  1. কড়ি
  2. ফরুখাবাদ টাকা
  3. সরকারি স্ট্যাম্পযুক্ত ধাতবদ্রব্য
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২৩০ ধারায় "মুদ্রা" বলতে এমন ধাতব বস্তু বোঝানো হয় যা সরকার কর্তৃক স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত, এবং যেটি অর্থরূপে ব্যবহৃত হয়।
→ কড়ি: এটি সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত বা স্ট্যাম্পযুক্ত ধাতব বস্তু নয়, তাই এটি মুদ্রা নয়।
→ ফারুকাবাদী টাকা: এটি একসময় ভারত সরকারের অধীনে অর্থরূপে ব্যবহৃত হত এবং এখনো "বাংলাদেশি মুদ্রা" হিসেবে গণ্য হয়, যদিও এটি বর্তমানে প্রচলিত নয়।
→ সরকারি স্ট্যাম্পযুক্ত ধাতবদ্রব্য: এটি সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত এবং অর্থরূপে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাই এটি মুদ্রা।
অতএব, সঠিক উত্তর: ক) কড়ি।

⇒ দণ্ডবিধির ২৩০ ধারার বিধান: 'মুদ্রার' সংজ্ঞা:- বর্তমানে অর্থরূপে ব্যবহৃত এবং অনুরূপে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য কোন রাষ্ট্রে বা সার্বভৌম শক্তির ক্ষমতাধীনে স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতব দ্রব্যকে মুদ্রা বলে।
- বাংলাদেশি মুদ্রা:- বাংলাদেশি মুদ্রা বলতে বাংলাদেশের সরকারের ক্ষমতাধীন অর্থরূপে ব্যবহারের জন্য স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতবদ্রব্য বুঝাবে; এবং অর্থরূপে, ব্যবহার রহিত হওয়া সত্ত্বেও এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যাবলীর দিক হতে অনুরূপভাবে স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতবদ্রব্য বাংলাদেশি মুদ্রা বলে পরিচিত হবে।
উদাহরণ:
(ক) কড়ি (কাউরি) মুদ্রা নয়।
(খ) স্ট্যাম্পবিহীন তামার টুকরো, যদিও তা অর্থরূপে ব্যবহৃত হয়, মুদ্রা নয়।
(গ) মেডেল মুদ্রা নয়, কারণ সেগুলো অর্থরূপে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয় না।
(ঘ) কোম্পানির টাকা নামে পরিচিত মুদ্রা রানির মুদ্রা।
(ঙ) "ফরুখাবাদ" টাকা, যা পূর্বে ভারত সরকারের কর্তৃত্বে অর্থরূপে ব্যবহৃত হতো, তা বাংলাদেশি মুদ্রা হিসেবেই গণ্য হবে, যদিও তা এখন আর ব্যবহৃত হয় না।
---------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 230. “Coin” defined Bangladesh coin:
- Coin is metal used for the time being as money, and stamped and issued by the authority of some State or Sovereign Power in order to be so used.
- Bangladesh coin is metal stamped and issued by the authority of the Government in order to be used as money; and metal which has been so stamped and issued shall continue to be Bangladesh coin for the purposes of this Chapter, notwithstanding that it may have ceased to be used as money.

Illustrations:
(a) Cowries are not coin.
(b) Lumps of unstamped copper, though used as money, are not coin.
(c) Medals are not coin, inasmuch as they are not intended to be used as money.
(d) The coin denominated as the Company's taka is the Queen's coin.
(e) The "Farukhabad" taka, which was formerly used as money under the authority of the Government of India, is Bangladesh coin although it is no longer so used.
৫০.
একজন ব্যক্তি যদি দাঙ্গা দমনকালে পুলিশকে আক্রমণ করে, তাহলে দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুসারে দণ্ডিত হবে?
  1. ধারা ১৪৯
  2. ধারা ১৫১
  3. ধারা ১৫২
  4. ধারা ১৫৩
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) ধারা ১৫২।
→ দণ্ডবিধির ১৫২ ধারা (Section 152 of the Penal Code, 1860) অনুযায়ী: যদি কোনো ব্যক্তি দাঙ্গা দমন বা অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গের সময় দায়িত্বরত সরকারি কর্মচারীকে আক্রমণ করে, বাধা দেয়, হুমকি দেয় অথবা বল প্রয়োগ করে, তাহলে সে এই ধারায় দণ্ডিত হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৫২ ধারার বিধান: দাঙ্গা ইত্যাদি দমনকালে সরকারি কর্মচারীকে আক্রমণ বা বাধাদান করা:- কোন সরকারি কর্মচারী অনুরূপ সরকারি কর্মচারী হিসেবে তাঁর কর্তব্য সম্পাদন উদ্দেশ্যে একটি অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার অথবা দাঙ্গা দমন করার প্রচেষ্টাকালে কোন ব্যক্তি যদি তাকে আক্রমণ করে অথবা আক্রমণ করার হুমকি প্রদর্শন করে, অথবা বাধাদান করে বা বাধাদান করার চেষ্টা করে, অথবা অনুরূপ সরকারি কর্মচারীর প্রতি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে বা করার হুমকি প্রদর্শন করে বা চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
---------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-152- Assaulting or obstructing public servant when suppressing riot, etc.
- Whoever assaults or threatens to assault, or obstructs or attempts to obstruct, any public servant in the discharge of his duty as such public servant, in endeavouring to disperse an unlawful assembly, or to suppress a riot or affray, or uses, or threatens, or attempts to use criminal force to such public servant, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years or with fine, or with both.
৫১.
দণ্ডবিধির ২৬৫ ধারা অনুসারে, যে ব্যক্তি ভুয়া ওজন বা পরিমাপ প্রতারণামূলকভাবে ব্যবহার করে, তার সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. ৬ মাস কারাদণ্ড
  2. ১ বছর কারাদণ্ড
  3. ২ বছর কারাদণ্ড
  4. ৩ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ২৬৫ অনুযায়ী বলা হয়েছে,
- "যে ব্যক্তি প্রতারণার উদ্দেশ্যে ভুয়া ওজন বা পরিমাপ (দৈর্ঘ্য বা আয়তনের) ব্যবহার করে, অথবা প্রকৃত ওজন/পরিমাপকে ভিন্ন হিসেবে ব্যবহার করে, সে ব্যক্তি দণ্ডিত হবে সর্বোচ্চ এক বছর মেয়াদে কারাদণ্ডে, বা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে।"
- অর্থাৎ, দণ্ডবিধির ২৬৫ ধারা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি ভুয়া ওজন বা পরিমাপ প্রতারণামূলকভাবে ব্যবহার করে, তাকে ১ বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা, বা উভয় দণ্ড প্রদান করা হতে পারে।

সুতরাং, এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড।
৫২.
"ক" একজন ব্যক্তিকে খুনের ষড়যন্ত্র করে এবং খুনের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকে, এক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ১১৪ ধারা অনুযায়ী 'ক' এর বিচার কী হবে?
  1. শুধুমাত্র ষড়যন্ত্রের জন্য
  2. শুধুমাত্র সহায়তার জন্য
  3. খুনের অপরাধী হিসেবে
  4. কোন অপরাধে নয়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১১৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো অপরাধে সহায়তা করে (abetment), যাতে সে অপরাধ সংঘটনের সময় উপস্থিত থাকে, তাহলে তাকে আর শুধু সহায়তাকারী হিসেবে নয়, প্রধান অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে।
- অর্থাৎ, উস্কানিদাতা (Abettor) যদি অপরাধ সংঘটনের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকে, তাহলে আইন তাকে সহায়তাকারী না ভেবে মুল অপরাধী হিসেবে দেখবে এবং তদনুসারে শাস্তি প্রদান করবে।

⇒The Penal Code, 1860- Section- 114: Abettor present when offence is committed:
Whenever any person, who if absent would be liable to be punished as an abettor, is present when the act or offence for which he would be punishable in consequence of the abetment is committed, he shall be deemed to have committed such act or offence.

→ যেহেতু "ক" খুনের ষড়যন্ত্র করেছে এবং খুনের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল, তাই দণ্ডবিধির ১১৪ ধারা অনুযায়ী তাকে খুনের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে।
সঠিক উত্তর: গ) খুনের অপরাধী হিসেবে।
৫৩.
দণ্ডবিধির ২৮২ ধারা অনুসারে, যে ব্যক্তি একটি জলযানে অস্বাভাবিকভাবে বা অতিরিক্ত ভারী করে মানুষ পরিবহন করে, তার সর্বোচ্চ কত দিনের কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ২৮২ অনুযায়ী: "যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলায়, এমন কোনো জলযানে কাউকে ভাড়ার বিনিময়ে পরিবহন করে, যা এতটাই দুর্বল বা অতিরিক্ত বোঝাই যে, তাতে যাত্রীর জীবন ঝুঁকির সম্মুখীন হয়— তবে তিনি দণ্ডনীয় হবেন" সর্বোচ্চ ৬ মাস মেয়াদে কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড।

অর্থাৎ দণ্ডবিধির ২৮২ ধারা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি একটি জলযানে অস্বাভাবিকভাবে বা অতিরিক্ত ভারী করে মানুষ পরিবহন করে, তার সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড হতে পারে। 
৫৪.
দণ্ডবিধির ৪১৪ ধারা অনুসারে চুরি হওয়া সম্পত্তি লুকানোতে সহায়তা করার অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. ৬ মাসের কারাদণ্ড
  2. ১ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৫ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর:গ) ৩ বছরের কারাদণ্ড।
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৪১৪ অনুযায়ী, "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কোনো সম্পত্তি গোপন করা, অপসারণ বা ধ্বংস করার কাজে সহায়তা করে, যার ব্যাপারে সে জানে বা বিশ্বাস করার কারণ আছে যে তা চুরি করা হয়েছে—সে ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।"

- দণ্ডবিধির ধারা ৪১৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে (voluntarily), চুরিকৃত সম্পত্তি লুকানো, অপসারণ বা বিক্রয়ে সহায়তা করে, এ সময় জানে বা বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে সম্পত্তিটি চুরিকৃত, তাহলে তার শাস্তি হবে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড (সাধারণ বা কঠোর) অথবা জরিমানা অথবা উভয় শাস্তি।

⇒The Penal Code, 1860 – Section 414. Assisting in concealment of stolen property:
- Whoever voluntarily assists in concealing or disposing of or making away with property which he knows or has reason to believe to be stolen property, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.

৫৫.
দণ্ডবিধির ২১৬ক কোন ধরনের অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. খুনী
  2. প্রতারক
  3. ডাকাত ও দস্যু
  4. দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২১৬ক ধারা (Section 216A of the Penal Code, 1860) সুনির্দিষ্টভাবে "দস্যু" (robbers) এবং "ডাকাত" (dacoits) কে আশ্রয়দান বা গোপন রাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য প্রযোজ্য।
- এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি জানে বা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ থাকে যে কিছু লোক ডাকাতি বা দস্যুতা করতে যাচ্ছে বা করেছে, এবং তিনি তাদের অপরাধ করতে সাহায্য করার জন্য বা শাস্তি থেকে বাঁচাতে আশ্রয় দেন, তবে তিনি অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন এবং তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে।

ব্যতিক্রম: এই ধারা স্বামী বা স্ত্রীর মাধ্যমে দেওয়া আশ্রয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

- তাই এই ধারা কেবলমাত্র: ডাকাত ও দস্যুদের আশ্রয়দাতার বিরুদ্ধে প্রযোজ্য।
- তাই সঠিক উত্তর: গ) ডাকাত ও দস্যু।

⇒The Penal Code, 1860 – Section 216A. Penalty for harbouring robbers or dacoits:
Whoever, knowing or having reason to believe that any persons are about to commit or have recently committed robbery or dacoity, harbours them or any of them, with the intention of facilitating the commission of such robbery or dacoity, or of screening them or any of them from punishment, shall be punished with rigorous imprisonment for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine. 
- Explanation.-For the purposes of this section it is immaterial whether the robbery or dacoity is intended to be committed, or has been committed, within or without Bangladesh. 
- Exception.–This provision does not extend to the case in which the harbour is by the husband or wife of the offender.
৫৬.
সাক্ষ্য (সংশোধন) আইন, ২০২২ অনুসারে ডিজিটাল রেকর্ডের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. কম্পিউটার মেমরি
  2. সিসিটিভি রেকর্ড
  3. ম্যাগনেটিক রেকর্ড
  4. হাতে লেখা দলিল
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য (সংশোধন) আইন, ২০২২ (The Evidence [Amendment] Act, 2022) অনুসারে "ডিজিটাল রেকর্ড" বলতে বোঝানো হয়েছে—
- কম্পিউটার, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইসে প্রস্তুতকৃত, সংরক্ষিত, পাঠানো, গৃহীত বা ধারণকৃত যেকোনো তথ্য বা উপাত্ত।
- এর মধ্যে রয়েছে:
- কম্পিউটার মেমরি
- সিসিটিভি রেকর্ড
- ম্যাগনেটিক, ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক, অপটিক্যাল ডিভাইস
- মোবাইল ফোনে ধারণকৃত অডিও-ভিডিও
- ড্রোন ফুটেজ
- ওয়েবসাইট প্রকাশিত গেজেট ইত্যাদি
- তবে, "হাতে লেখা দলিল" একটি প্রচলিত / প্রচলিত কাগজে লেখা দলিল, যা ডিজিটাল রেকর্ডের সংজ্ঞার আওতাভুক্ত নয়।
- এটি সাধারণত কাগজ-কলমে তৈরি হওয়ায় "ইলেকট্রনিক" বা "ডিজিটাল" নয়।

অর্থাৎ হাতে লেখা দলিল ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রস্তুত নয়, তাই ডিজিটাল রেকর্ড নয়।
-অন্য তিনটি (কম্পিউটার মেমরি, সিসিটিভি রেকর্ড, ম্যাগনেটিক রেকর্ড) ডিজিটাল রেকর্ডের অন্তর্ভুক্ত।
৫৭.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯৬ অনুযায়ী, যদি ভাষা এমন হয় যা একাধিক ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে কেবল একজনের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে, তাহলে–
  1. দলিল অবৈধ বলে গণ্য
  2. সকলের ক্ষেত্রেই দলিল কার্যকর
  3. কে উদ্দেশ্য ছিল তা প্রমাণযোগ্য
  4. কেবল প্রাপক পক্ষ ব্যাখ্যা দিতে পারবে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) কে উদ্দেশ্য ছিল তা প্রমাণযোগ্য।

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৯৬ অনুযায়ী—
- যদি দলিলের ভাষা এমন হয় যা একাধিক ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে কেবল একজনের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে এবং তা আরও কারো জন্য প্রযোজ্য হতে পারে না, তাহলে: আদালত সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারে, যা থেকে বোঝা যাবে, ঠিক কোন ব্যক্তি বা বস্তু আসলে উদ্দেশ্য ছিল।

 অর্থাৎ যখন ভাষা একাধিক ব্যক্তির উপর প্রযোজ্য হতে পারে কিন্তু বাস্তবে কেবল একজনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়, তখন সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা যায় (ধারা ৯৬)।

⇒The Evidence Act, 1872, Section- 96. Evidence as to application of language which can apply to one only of several persons:
- When the facts are such that the language used might have been meant to apply to any one, and could not have been meant to apply to more than one, of several persons or things, evidence may be given of facts which show which of those persons or things it was intended to apply to.
৫৮.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১২৬ অনুসারে, একজন উকিল কী প্রকাশ করতে বাধ্য নন?
  1. আদালতের রায়
  2. নিজের আয়ের বিবরণ
  3. মক্কেলের দেওয়া সকল তথ্য
  4. পেশাগত সম্পর্কের সময় প্রাপ্ত গোপনীয় তথ্য
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) পেশাগত সম্পর্কের সময় প্রাপ্ত গোপনীয় তথ্য।
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১২৬ অনুযায়ী:
একজন ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল তাঁর মক্কেলের পক্ষে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময়: মক্কেলের পক্ষ থেকে বা উদ্দেশ্যে প্রাপ্ত বার্তা, মক্কেলকে দেওয়া পরামর্শ, অথবা যে দলিলসমূহের সঙ্গে তিনি পরিচিত হয়েছেন, এসব গোপনীয় তথ্য তিনি মক্কেলের স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া প্রকাশ করতে পারেন না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারার বিধান পেশা সম্পর্কিত বার্তা: ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল মক্কেলের ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল হিসাবে কাজ করিবার সময় এবং উদ্দেশ্যে উক্ত মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে তাহার নিকট প্রদত্ত কোন বার্তার বিষয় মক্কেলের অনুমতি ব্যতীত প্রকাশ করিতে অনুমতি পাইবেন না। অথবা বৃত্তিগত কার্য সম্পাদনকালে এবং প্রসঙ্গে মক্কেলের যেই সকল দলিলের সহিত তিনি পরিচিত হইয়াছিলেন, সেইগুলির বিষয়বস্তু বা অবস্থার কোন বিবৃতি দিতে পারিবেন না অথবা তাহার কার্যকালে ও উদ্দেশ্যে মক্কেলকে তিনি যে পরামর্শ দিয়াছেন, তাহা প্রকাশ করিতে পারিবেন না।

তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নলিখিত বিষয়গুলি প্রকাশ হইতে এই ধারার কিছু অব্যাহতি দিবেন না।
(১) বেআইনি উদ্দেশ্যে সাধনকল্পে যে সংবাদ আদান- প্রদান করা হইয়াছে,
(২) ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল পেশাগত কার্যে নিযুক্ত থাকবার সময় তৎকর্তৃক লক্ষিত বিষয় যদ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তাহার নিযুক্তির পরে কোন অপরাধ বা প্রতারণা সংঘটিত হইয়াছে অনুরূপ ঘটনার প্রতি উক্ত ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল মনোযোগ তাহার মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে আকৃষ্ট করা হইয়াছিল কিনা তাহা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

ব্যাখ্যা: এই ধারার বর্ণিত বাধ্যবাধকতা নিযুক্তির অবসান ঘটিবার পরও অব্যাহত থাকে।
------------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 126 Professional communications:
- No Advocate shall at any time be permitted, unless with his client's express consent, to disclose any communication made to him in the course and for the purpose of his employment as such Advocate by or on behalf of his client, or to state the contents or condition of any document with which he has become acquainted in the course and for the purpose of his professional employment, or to disclose any advice given by him to his client in the course and for the purpose of such employment:

Provided that nothing in this section shall protect from disclosure–
(1) any such communication made in furtherance of any illegal purpose:
(2) any fact observed by any Advocate, in the course of his employment as such, showing that any crime of fraud has been committed since the commencement of his employment.
It is immaterial whether the attention of such Advocate was or was not directed to such fact by or on behalf of his client.

Explanation.– The obligation stated in this section continues after the employment has ceased.
৫৯.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে "Evidence" বলতে কী বোঝায়?
  1. মৌখিক সাক্ষ্য
  2. লিখিত সাক্ষ্য
  3. ফরেনসিক উপাদান
  4. উল্লিখিত সবগুলা
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন (Evidence Act), ধারা ৩ অনুযায়ী "Evidence" বা সাক্ষ্য বলতে বোঝানো হয়েছে তিনটি বিষয়কে:
(১) মৌখিক সাক্ষ্য (Oral Evidence): “all statements which the Court permits or requires to be made before it by witnesses, in relation to matters of fact under inquiry”
- অর্থাৎ: যেসব বক্তব্য আদালত সাক্ষীর মাধ্যমে গ্রহণ করে, তা মৌখিক সাক্ষ্য।
(২) লিখিত সাক্ষ্য বা নথিপত্র (Documentary Evidence): “all documents produced for the inspection of the Court”
- অর্থাৎ: মামলার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো কাগজপত্র বা নথি যা আদালতে উপস্থাপন করা হয়, তা লিখিত সাক্ষ্য।
(৩) ফরেনসিক বা শারীরিক উপাদান (Physical or Forensic Evidence):  এই অংশটি একটি সংশোধনী (Amendment) দ্বারা যুক্ত হয়েছে এবং এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে: রক্ত, চুল, বীর্য, DNA, অঙ্গ বা তার অংশ, আঙুলের ছাপ, তালুর ছাপ, চোখের মণির ছাপ, পায়ের ছাপ ইত্যাদি এমন বস্তু যা অপরাধ প্রমাণে বা অপরাধী ও ভুক্তভোগীর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনে সহায়ক।
- এদের বলা হয়: physical or forensic evidence.

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৩ অনুযায়ী: "Evidence includes—
(1) all oral statements which the Court permits as testimony (oral evidence),
(2) all documents produced for inspection (documentary evidence), and
(3) forensic materials like DNA, fingerprints, etc."

⇒ সাক্ষ্য আইন অনুসারে, "Evidence" বলতে বোঝায়: মৌখিক সাক্ষ্য , লিখিত সাক্ষ্য, ফরেনসিক উপাদান। 
তাই সঠিক উত্তর হলো: ঘ) উল্লিখিত সবগুলা।
৬০.
নিচের কোন ডিভাইস থেকে প্রাপ্ত রেকর্ড ডিজিটাল সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে?
  1. ড্রোন
  2. ডিভিডি
  3. স্মার্টফোন
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
 সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবকয়টি।

⇒ সাক্ষ্য (সংশোধন) আইন, ২০২২ অনুযায়ী, সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩-এ "ডিজিটাল রেকর্ড" বা "ইলেকট্রিক রেকর্ড" এর সংজ্ঞা বিস্তৃত করে বলা হয়েছে যে, প্রযুক্তিগত যন্ত্র বা ডিভাইসের মাধ্যমে প্রস্তুত, ধারণ, গৃহীত বা প্রেরিত রেকর্ড—যেমন ভিডিও, অডিও, ছবি, টেক্সট ইত্যাদি—ডিজিটাল সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে।

নিচের প্রতিটি ডিভাইসই সেই সংজ্ঞার আওতায় পড়ে:
• ড্রোন:
→ ড্রোন দ্বারা তোলা ছবি ও ভিডিও ড্রোন ডেটা হিসেবে স্বীকৃত, যা ডিজিটাল রেকর্ডের অন্তর্ভুক্ত।
• ডিভিডি (DVD):
→ Digital Versatile Disk-এ সংরক্ষিত ভিডিও/অডিও রেকর্ড একটি ডিজিটাল মাধ্যম; এটি পরিষ্কারভাবে সংশোধিত সংজ্ঞায় রয়েছে। 
• স্মার্টফোন:
→ ফোনে ধারণকৃত ছবি, ভিডিও, ভয়েস রেকর্ড, বার্তা ইত্যাদি ডিজিটাল রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।

অর্থাৎ এই তিনটি ডিভাইস থেকেই প্রাপ্ত রেকর্ড The Evidence (Amendment) Act, 2022 অনুযায়ী ডিজিটাল সাক্ষ্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপনযোগ্য এবং গ্রহণযোগ্য।
তাই সবগুলোই ডিজিটাল রেকর্ড হিসেবে গণ্য হবে।
৬১.
সাক্ষ্য আইনের ১৬৭ ধারা অনুসারে, কখন অন্যায়ভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জনের কারণে নতুন বিচারের দাবি করা যাবে না?
  1. যদি আদালত সাক্ষ্য গ্রহণে বিলম্ব করে
  2. যদি আপত্তিকৃত সাক্ষ্যটি মামলার একমাত্র প্রমাণ হয়
  3. যদি কোনো সাক্ষ্যই আদালতে উপস্থাপন না করা হয়
  4. যদি আপত্তিকৃত সাক্ষ্য ছাড়াও সিদ্ধান্তের জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১৬৭ এর মূল কথা হলো: কেবলমাত্র অন্যায়ভাবে কোনো সাক্ষ্য গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে—এই যুক্তিতে মামলার রায় বাতিল বা নতুন বিচার (new trial) দাবি যথেষ্ট নয়, যদি: - আপত্তিকৃত সাক্ষ্য বাদ দিয়েও আদালতের রায় যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে সমর্থিত হয়, অথবা প্রত্যাখ্যান করা সাক্ষ্য রায়ে কোনো বাস্তব পরিবর্তন আনত না।
- আদালতের মূল লক্ষ্য হলো সত্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায্য বিচার। তাই সাক্ষ্যগ্রহণে ত্রুটি হলেও যদি ন্যায়বিচার হয়, তবে মামলার ফলাফলে তা প্রভাব ফেলে না।

⇒ তাই সঠিক উত্তর: "ঘ) যদি আপত্তিকৃত সাক্ষ্য ছাড়াও সিদ্ধান্তের জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকে" — তখন কেবলমাত্র সেই সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জনের অজুহাতে নতুন বিচার চাওয়া যাবে না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৬৭ ধারামতে,
- আদালত অন্যায়ভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জন করে থাকলে যে সাক্ষ্যের বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে, সেই সাক্ষ্য ছাড়াও যদি এমন সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকে যা দ্বারা আদালতের সিদ্ধান্তের ন্যায্যতা প্রতিপন্ন হয়, অথবা যে সাক্ষ্য বর্জন করা হয়েছে, তা গ্রহণ করা হলেও আদালতের সিদ্ধান্তে কোন তারতম্য হতো না, তবে কেবলমাত্র অন্যায়ভাবে কোন সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জন করার অজুহাতে কোন মামলার পুনর্বিচার বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন দাবি করা যাবে না। সাক্ষ্য আইনের ১৬৭ ধারার বিধান দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলাতেই সমভাবে প্রযোজ্য।
----
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 167- No new trial for improper admission or rejection of evidence:
The improper admission or rejection of evidence shall not be ground of itself for a new trail or reversal of any decision in any case, if it shall appear to the Court before which such objection is raised that, independently of the evidence objected to and admitted, there was sufficient evidence to justify the decision, or that, if the rejected evidence had been received, it ought not to have varied the decision.
৬২.
সাক্ষ্য আইনের Estoppel নীতি কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. আইনগত প্রশ্নে
  2. ঘটনাভিত্তিক প্রশ্নে
  3. দেওয়ানি মামলায়
  4. ব্যক্তি ও তার প্রতিনিধির মধ্যে
ব্যাখ্যা
⇒  Estoppel কেবল ঘটনা বিষয়ক প্রশ্নে প্রযোজ্য; আইনগত অধিকার বা বিধান বিষয়ে এটি প্রযোজ্য নয়।

- Estoppel (স্বকার্যজনিত প্রতিবন্ধকতা) হলো এমন একটি নীতি, যা কাউকে তার পূর্বে প্রদত্ত ঘোষণা, কাজ বা কার্যবিরতির পরিপন্থী কথা বলার বা দাবি করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যদি সেই পূর্ববর্তী আচরণ বা কথার ভিত্তিতে অন্য ব্যক্তি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে।

⇒ তবে এই নীতির প্রযোজ্যতা কিছু নির্দিষ্ট সীমারেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ:
- ঘটনাভিত্তিক প্রশ্নে (Questions of fact): যেমন, কে কী বলেছিল, কে কী কাজ করেছিল, কোনো জমি কার দখলে ছিল ইত্যাদি।
- দেওয়ানি মামলায় (Civil cases): বিশেষত অধিকার ও মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে।

আইনগত প্রশ্নে (Questions of law):
- যদি কোনো ব্যক্তি কোনো আইনগত অধিকার সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যা দেয় বা স্বীকার করে, তবুও Estoppel এর মাধ্যমে সে তার প্রকৃত আইনি অধিকার হারাবে না।
- অর্থাৎ আইন বিষয়ে ভুল বক্তব্য বা বিশ্বাস কাউকে তার আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে না।

উদাহরণ:
যদি কেউ ভুল করে বলে যে তার কোনো জমির উপর মালিকানা নেই, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে আইন অনুযায়ী মালিক হয়, তাহলে পরে সে তার মালিকানা দাবি করলেও Estoppel তার বিরুদ্ধে কার্যকর হবে না — কারণ এটি আইনের প্রশ্ন।

সঠিক উত্তর: ক) আইনগত প্রশ্নে।
৬৩.
A-এর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে অপরাধের অভিযোগ উঠে। যদি প্রমাণ হয় সে একই দিনে ঢাকায় ছিল, সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১১ অনুসারে এটা কী?
  1. প্রাসঙ্গিক
  2. অপ্রাসঙ্গিক
  3. সিদ্ধান্তমূলক
  4. অনুমানযোগ্য
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) প্রাসঙ্গিক।
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১১ অনুযায়ী, সাধারণভাবে অপ্রাসঙ্গিক যেসব তথ্য রয়েছে, সেগুলো তখনই প্রাসঙ্গিক হয়ে যায় যখন:
- তা বিচার্য বিষয় (fact in issue) বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, অথবা
- তা নিজে অথবা অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে বিচার্য বিষয়ের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্বকে অত্যন্ত সম্ভাব্য বা অসম্ভব করে তোলে।

প্রাসঙ্গিক উদাহরণ (Illustration [a] of Section 11):
- প্রশ্ন হলো, A কি নির্দিষ্ট দিনে চট্টগ্রামে অপরাধ করেছিল?
- যদি দেখা যায়, A সেই দিনে ঢাকায় অবস্থান করছিল, তবে তা সেই অপরাধে তার জড়িত থাকার সম্ভাবনাকে খুব কমিয়ে দেয়।
- ফলে, A-এর ঢাকায় থাকা প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে গণ্য হবে, যদিও তা সরাসরি অপরাধের অংশ নয়।

অর্থাৎ A যদি অপরাধের দিনে অন্য শহরে থাকে, তবে তার উপস্থিতির তথ্য সেই অপরাধে জড়িত থাকার সম্ভাবনা হ্রাস করে, তাই এটি প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য।

⇒ The Evidence Act, 1872, Section-11. When facts not otherwise relevant become relevant: 
- Facts not otherwise relevant are relevant–
(1) If they are inconsistent with any fact in issue or relevant fact;
(2) If by themselves or in connection with other facts they make the existence or non-existence of any fact in issue or relevant fact highly probable or improbable.

Illustrations: 
(a) The question is whether A committed a crime at Chittagong on a certain day.
The fact that, on that day, A was at [Dhaka] is relevant.
The fact that, near the time when the crime was committed, A was at a distance from the place where it was committed, which would render it highly improbable, though not impossible, that he committed it, is relevant.
(b) The question is, whether A committed a crime.
The circumstances are such that the crime must have been committed either by A, B, C or D. Every fact which shows that the crime could have been committed by no one else and that it was not committed by either B, C or D, is relevant.
৬৪.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে বোবা সাক্ষীর দ্বারা লিখে বা ইশারার মাধ্যমে প্রদত্ত সাক্ষ্য কী ধরনের সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হয়?
  1. লিখিত সাক্ষ্য
  2. মৌখিক সাক্ষ্য
  3. গোপন সাক্ষ্য
  4. অনুমানভিত্তিক সাক্ষ্য
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১১৯ অনুযায়ী, যদি কোনো সাক্ষী (যেমন বোবা ব্যক্তি) কথা বলতে অক্ষম হন, তবে তিনি লিখে বা ইশারার মাধ্যমে তাঁর সাক্ষ্য প্রদান করতে পারেন —
- তবে শর্ত হলো, এই লেখা বা ইশারা আদালতে উন্মুক্তভাবে (Open Court) হতে হবে।
- এইভাবে প্রদত্ত সাক্ষ্যকে “মৌখিক সাক্ষ্য” (Oral Evidence) হিসেবেই গণ্য করা হয়, যদিও সেটা মুখে উচ্চারণ না করে অন্যভাবে প্রকাশিত।
অর্থাৎ যদিও মুখে বলা সম্ভব না, তবুও আদালতের কাছে বোঝাতে সক্ষম যেকোনো মাধ্যম (যেমন ইশারা বা লেখা) মৌখিক সাক্ষ্য হিসেবেই গণ্য হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১৯ ধারা- বোবা সাক্ষী:
যে সাক্ষী কথা বলিতে অক্ষম, তিনি তাহার বক্তব্য অন্য কোনোভাবে অর্থাৎ লিখিয়া বা ইশারা করিয়া বুঝাইতে পারেন এবং সেইভাবে সাক্ষ্যদিতে পারেন, তবে সেই লেখা বা ইশারা প্রকাশ্য আদালতে লিখিতে বা করিতে হইবে। এইরূপভাবে যে সাক্ষ্য দেওয়া হইবে তাহা মৌখিক সাক্ষ্য বলিয়া গণ্য হইবে।

⇒ The Evidence Act, 1872, Section 119- Dumb witnesses:
A witness who is unable to speak may give his evidence in any other manner in which he can make it intelligible, as by writing or by signs; but such writing must be written and the signs made in open Court. Evidence so given shall be deemed to be oral evidence.
৬৫.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ অনুসারে ধারা ১৫৪ কী বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. আদালতের সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষমতা
  2. নিজের সাক্ষীকে জেরা করার অনুমতি
  3. প্রতিপক্ষের সাক্ষী প্রত্যাহার
  4. সত্য গোপন করা সাক্ষীদের শাস্তি দেওয়া
ব্যাখ্যা
⇒ সঠিক উত্তর: গ) নিজের সাক্ষীকে জেরা করার অনুমতি। 
⇒ সাধারণত একজন পক্ষ তার নিজের সাক্ষীকে বন্ধুত্বপূর্ণ সাক্ষী ধরে নেয় এবং তাকে জেরা (cross-examination) করা যায় না।
তবে ধারা ১৫৪ অনুযায়ী যদি আদালত মনে করে যে, সাক্ষীটি পক্ষদ্বারাই ডাকা হলেও সে বৈরী (hostile) হয়ে গেছে বা সত্য গোপন করছে,  তাহলে আদালত নিজের বিবেচনায় (in its discretion) সেই পক্ষকে জেরার মতো প্রশ্ন করার অনুমতি দিতে পারে,  যা সাধারণত প্রতিপক্ষই করে থাকে।

⇒সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৫৪ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধান, যা Hostile Witness বা বৈরী সাক্ষী সম্পর্কিত। সাধারণত একটি পক্ষ তার নিজের সাক্ষীকে জেরা করতে পারে না, কারণ সাক্ষীকে সেই পক্ষই আনে এবং ধরে নেওয়া হয়, সে তার পক্ষে কথা বলবে।
কিন্তু ধারা ১৫৪ অনুযায়ী, যদি কোনো সাক্ষী নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে বা বিরুদ্ধ পক্ষের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়, তাহলে আদালতের অনুমতি নিয়ে সেই পক্ষ নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে — যেভাবে একটি পক্ষ সাধারণত প্রতিপক্ষের সাক্ষীকে করে।
এ ধরনের সাক্ষীকে বলে "বৈরী সাক্ষী" বা "Hostile Witness"। আদালতের বিচার বিবেচনায় অনুমতি দেওয়া হয় (discretionary)।

উদাহরণ:
আসামী তার পক্ষে যে সাক্ষীকে এনেছে, সে যদি হঠাৎ বিপরীত কথা বলতে শুরু করে, তাহলে আদালত আসামীকে তার নিজের সাক্ষীকে জেরা করতে দিতে পারে।

⇒ The Evidence Act, 1872, Section 154. Question by party to his own witness:
 The Court may, in its discretion, permit the person who calls a witness to put any questions to him which might be put in cross-examination by the adverse party.
৬৬.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯৩ অনুযায়ী কোন ক্ষেত্রে দলিলের অস্পষ্টতা দূর করার জন্য প্রমাণ দেওয়া যাবে না?
  1. দলিলের ভাষা স্পষ্ট হলে
  2. দলিলের তারিখ ভুল হলে
  3. দলিলের শর্তাবলী পরিবর্তন করতে
  4. দলিলের ভাষা অস্পষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ হলে
ব্যাখ্যা

→ উত্তর: ঘ) দলিলের ভাষা অস্পষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ হলে।

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৯৩ বলছে:
“যখন কোন দলিলের ভাষা তার নিজের মধ্যেই (on its face) অস্পষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ হয়, তখন তথ্য বা সাক্ষ্য উপস্থাপন করে সেই অর্থ পরিষ্কার করা বা ত্রুটি পূরণ করা যাবে না।”
অর্থাৎ, দলিলটি যদি প্রথম দেখাতেই এমন হয় যে তাতে দ্ব্যর্থবোধকতা বা ভুল রয়েছে,
তাহলে আদালত বাইরের কোনো প্রমাণ গ্রহণ করবে না সেই অস্পষ্টতা দূর করতে।

⇒The Evidence Act, 1872, Section- 93. Exclusion of evidence to explain or amend ambiguous document:
- When the language used in a document is, on its face, ambiguous or defective, evidence may not be given of facts which would show its meaning or supply its defects.

Illustrations:
(a) A agrees, in writing, to sell a horse to B for Taka 1,000 or Taka 1,500. Evidence cannot be given to show which price was to be given.
(b) A deed contains blanks. Evidence cannot be given of facts which would show how they were meant to be filled.

৬৭.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ অনুযায়ী, ধারা ১৬৬ কোন বিষয়ে সম্পর্কিত?
  1. জুরি বা অ্যাসেসরের প্রশ্ন করার ক্ষমতা
  2. আদালতের সাক্ষ্য রেকর্ড করার পদ্ধতি
  3. আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন
  4. সাক্ষী সুরক্ষা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) জুরি বা অ্যাসেসরের প্রশ্ন করার ক্ষমতা।

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৬৬ বলছে, যখন কোনো মামলা জুরি (jury) বা অ্যাসেসরদের (assessors) উপস্থিতিতে বিচারাধীন থাকে, তখন তারা সাক্ষীকে প্রশ্ন করতে পারে।
তবে এই প্রশ্নগুলো করতে হবে—
- বিচারকের মাধ্যমে বা তাঁর অনুমতি নিয়ে (through or by leave of the Judge),
- প্রশ্ন হতে হবে এমন, যা বিচারক নিজেও করতে পারতেন, এবং
- বিচারক যদি মনে করেন প্রশ্নটি উপযুক্ত, তখনই তা করা যাবে।

 উদাহরণস্বরূপ:
একটি ফৌজদারি মামলায় যদি জুরি বোর্ড থাকে এবং কোনো সাক্ষীর জবানবন্দিতে দ্ব্যর্থতা থাকে, তাহলে জুরি সদস্যরা বিচারকের অনুমতি নিয়ে সেই বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারেন।

মূল উদ্দেশ্য: এই ধারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়ক, কারণ এতে জুরি বা অ্যাসেসরদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় এবং তারা বিচার প্রক্রিয়ার সত্য উদঘাটনে ভূমিকা রাখতে পারেন।

⇒The Evidence Act, 1872, Section- 166. Power of jury or assessors to put questions:
- In cases tried by jury or with assessors, the jury or assessors may put any questions to the witnesses, through or by leave of the Judge, which the Judge himself might put and which he considers proper.

৬৮.
“Statement made in will or deed relating to family affairs” সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ৩২(৪)
  2. ৩২(৫)
  3. ৩২(৬)
  4. ৩২(৮)
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৩২(৬)-এ বলা হয়েছে:
- “When the statement relates to the existence of any relationship by blood, marriage or adoption between persons deceased, and is made in any will or deed relating to the affairs of the family... it is relevant.”
অর্থাৎ, যদি কোনো ব্যক্তি যিনি এখন মৃত, তাঁর উইল (will) বা পারিবারিক দলিলে (deed relating to family affairs) রক্ত, বিবাহ বা দত্তক সম্পর্ক সম্পর্কে কোনো বিবৃতি দিয়ে যান — এবং সেই বিবৃতি বিরোধের উদ্ভব হওয়ার আগেই দেওয়া হয় — তাহলে তা আদালতে প্রাসঙ্গিক বিবৃতি হিসেবে গণ্য হবে।

 অতএব, “Statement made in will or deed relating to family affairs” = ধারা ৩২(৬)
 সঠিক উত্তর: গ) ৩২(৬)

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে, আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-
ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারণ সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণা (dying declaration);
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি (statement made in course of business);
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরণের মামলার উদ্ভব করতে পারে (statement against interest of maker);
iv) সর্বসাধারণের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত (opinion as to public right or custom, or matters of general interest);
v) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি (relates to existence of relationship);
vi) পারিবারিক দলিল বা উইল (statement made in will or deed relating to family affairs);
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি (Statement made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question).
-----------
-The Evidence Act, 1872, Section-32: Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant.
- When it relates to cause of death;
or is made in course of business;
or against interest of maker;
or gives opinion as to public right or custom, or matters of general interest;
or relates to existence of relationship;
or is made in will or deed relating to family affairs;
or in document relating to transaction mentioned in section 13, clause (a);
or is made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question

Illustrations:
(a) The question is, whether A was murdered by B; or
A dies of injuries received in a transaction in the course of which she was ravished. The question is whether she was ravished by B; or
The question is whether A was killed by B under such circumstances that a suit would lie against B by A's widow.
Statements made by A as to the cause of his or her death, referring respectively to the murder, the rape and the actionable wrong under consideration are relevant facts.
৬৯.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের প্রথম বিভাগে কী বিষয়ে তামাদির সময়সীমা অন্তর্ভুক্ত?
  1. আপিল দায়ের
  2. দরখাস্ত দায়ের
  3. মামলা দায়ের
  4. রিভিশন দায়ের
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের প্রথম বিভাগ (First Division of the First Schedule of the Limitation Act, 1908) মূলত "Suit" বা "মামলা দায়ের" সংক্রান্ত বিষয়াদি নির্ধারণ করে।
-এই বভাগে বলা হয়েছে বিভিন্ন প্রকার মামলার জন্য তামাদির নির্দিষ্ট সময়সীমা (Limitation Period) কত হবে এবং কারণ সৃষ্টি হওয়ার (cause of action) কোন তারিখ থেকে সময় গণনা শুরু হবে।

⇒ প্রথম তফসিলের গঠন:
তামাদি আইনের প্রথম তফসিল তিনটি বিভাগে বিভক্ত:
⇒ প্রথম বিভাগ – Suit (মামলা দায়ের)
- বিভিন্ন ধরনের দেওয়ানি মামলার জন্য সময়সীমা ও তার শুরুর দিন কী হবে, তা নির্ধারণ করা হয়েছে।
⇒ দ্বিতীয় বিভাগ – Appeals (আপিল দায়ের)
- বিভিন্ন আদালতে আপিল করার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা।
⇒ তৃতীয় বিভাগ – Applications (দরখাস্ত দায়ের)
- বিভিন্ন প্রকার দরখাস্ত, যেমনঃ রিভিশন, রিভিউ ইত্যাদির জন্য সময়সীমা।
৭০.
তামাদি আইন অনুযায়ী রোয়েদাদ বাতিলের আবেদনের ক্ষেত্রে কী বাদ দেওয়া হবে?
  1. আদালতের ছুটির দিন
  2. রায় ঘোষণার তারিখ
  3. আবেদন দাখিলের তারিখ
  4. রোয়েদাদের নকল পাওয়ার সময়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১২(৪) বলছে:
"In computing the period of limitation prescribed for an application to set aside an award, the time requisite for obtaining a copy of the award shall be excluded."
অর্থাৎ — রোয়েদাদ বাতিলের আবেদনের তামাদি সময় গণনায়, রোয়েদাদের কপি সংগ্রহে যে সময় প্রয়োজন হয়, তা বাদ যাবে।

৭১.
তামাদি আইনের ধারা ৬ অনুযায়ী নাবালকের জন্য তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে কখন থেকে?
  1. অভিভাবকের আবেদনের তারিখ থেকে
  2. নাবালকত্ব শেষ হওয়ার তারিখ থেকে
  3. মামলার কারণ সৃষ্টির তারিখ থেকে
  4. আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার তারিখ থেকে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) নাবালকত্ব শেষ হওয়ার তারিখ থেকে।
⇒ তামাদি আইনের ধারা ৬ অনুযায়ী, যদি মামলার জন্য অধিকারী ব্যক্তি নাবালক, অপ্রকৃতিস্থ বা জড়বুদ্ধিসম্পন্ন হন, তবে তামাদির সময় গণনা স্থগিত থাকে। এর মানে হলো, এই ব্যক্তির ক্ষেত্রে তামাদি গণনা তার অক্ষমতা বা অযোগ্যতা দূর হওয়ার পর শুরু হবে। অতএব, নাবালকত্ব শেষ হওয়ার তারিখ থেকেই তামাদি সময় গণনা শুরু হবে।
৭২.
হোটেল, সরাইখানা (tavern) বা অতিথিশালার রক্ষক কর্তৃক বিক্রিত খাদ্য বা পানীয় দ্রব্যের মূল্য আদায়ের জন্য তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৮ অনুসারে বলা হয়েছে:
- "For the price of food or drink sold by the keeper of a hotel, tavern or lodging-house – One year.
- Time starts from: When the food or drink is delivered."

- অর্থাৎ, কোনো হোটেল, সরাইখানা বা অতিথিশালার রক্ষক যখন খাদ্য বা পানীয় দ্রব্য সরবরাহ করেন, তখন সরবরাহের তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে মূল্য আদায়ের জন্য মামলা করতে হবে। অন্যথায় মামলা তামাদি হয়ে যাবে।
৭৩.
তামাদি আইনের ধারা ২৫ এর মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. তামাদি মেয়াদ বৃদ্ধি করা
  2. আদালতের কাজের চাপ কমানো
  3. দলিল প্রণয়নের পদ্ধতি সহজীকরণ
  4. সময় গণনায় একরূপতা আনয়ন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: সময় গণনায় একরূপতা আনয়ন।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৫ অনুযায়ী, সকল দলিলকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিবেচনা করার বিধান রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো সময় গণনার ক্ষেত্রে কোনো বিভ্রান্তি বা বৈচিত্র্য না রেখে একরূপ ও নির্ভরযোগ্য সময়চক্র নিশ্চিত করা, যাতে আইন প্রয়োগে সুনির্দিষ্টতা বজায় থাকে।

⇒ দলিলে উল্লিখিত সময়ের গণনা (Computation of Time mentioned in instruments )- তামাদি আইনের ২৫ ধারায় দলিলে উল্লিখিত সময় গণনার বিধান রয়েছে। তামাদি আইনের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে যাবতীয় দলিল গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি (Gregorian calendar) অনুসারে প্রণীত বলে বিবেচিত হবে।
-------
-The Limitation Act, 1908, Section-25. Computation of time mentioned in instruments:
All instruments shall, for the purposes of this Act, be deemed to be made with reference to the Gregorian calendar.

৭৪.
তামাদি আইনের ধারা ১৪(১) অনুযায়ী কোন ক্ষেত্রে তামাদি সময় বাদ দেওয়া হবে?
  1. বাদীর অসুস্থতার সময়
  2. মামলা স্থগিত থাকাকালীন সময়
  3. আদালতের সাধারণ ছুটির সময়
  4. ভুল এখতিয়ারের আদালতে সৎ উদ্দেশ্যে মামলা পরিচালনার সময়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ধারা ১৪(১) অনুযায়ী, যদি কোনো বাদী ভুলবশত এমন একটি আদালতে মামলা করেন যার এখতিয়ার নেই, এবং তিনি যদি সৎ উদ্দেশ্যে (good faith) ও যথাযথ যত্নসহকারে (due diligence) মামলা পরিচালনা করেন, তাহলে তিনি যে সময়টুকু ঐ আদালতে মামলাটি পরিচালনা করেছেন তা তামাদির গণনা থেকে বাদ যাবে।
 এই ধারা শুধুমাত্র তখনই প্রযোজ্য হয়, যখন—
- মামলাটি একই কারণে প্রতিষ্ঠিত হয় (same cause of action)
- সৎ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়
- আদালত এখতিয়ারের অভাবে মামলা গ্রহণে অক্ষম হয়

⇒ তামাদি আইনের ধারা ১৪: এখতিয়ারবিহীন আদালতে সৎ উদ্দেশ্যে কার্যক্রমের সময় বাদ দেওয়া:
(১) যেকোনো মামলার জন্য নির্ধারিত তামাদি মেয়াদ গণনা করতে গেলে, বাদী যদি অন্য একটি দেওয়ানি কার্যক্রমে যথাযথ যত্নসহকারে অন্য একজন বিবাদীর বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে থাকেন—এটি প্রথম আদালতে হোক বা আপিল আদালতে—তাহলে সেই সময় বাদ দেওয়া হবে, যদি উক্ত কার্যক্রমটি একই কারণে প্রতিষ্ঠিত হয়ে এবং সৎ উদ্দেশ্যে সেই আদালতে পরিচালিত হয়ে থাকে, যা এখতিয়ারের অভাবে বা অনুরূপ অন্য কারণে মামলা গ্রহণ করতে অক্ষম।

(২) কোনো আবেদনটির জন্য নির্ধারিত তামাদি মেয়াদ গণনা করতে গেলে, আবেদনকারী যদি একই পক্ষের বিরুদ্ধে একই ক্ষতিপূরণের জন্য অন্য একটি দেওয়ানি কার্যক্রমে যথাযথ যত্নসহকারে মামলা চালিয়ে থাকেন—এটি প্রথম আদালতে হোক বা আপিল আদালতে—তাহলে সেই সময় বাদ দেওয়া হবে, যদি উক্ত কার্যক্রমটি সৎ উদ্দেশ্যে এমন একটি আদালতে পরিচালিত হয়ে থাকে, যা এখতিয়ারের অভাবে বা অনুরূপ অন্য কারণে মামলা গ্রহণ করতে অক্ষম।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section-14: Exclusion of time of proceeding bona fide in Court without jurisdiction:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, the time during which the plantiff has been prosecuting with due diligence another civil proceeding, whether in a Court of first instance or in a Court of appeal, against the defendant, shall be excluded, where the proceeding is founded upon the same cause of action and is prosecuted in good faith in a Court which, from defect of jurisdiction, or other cause of a like nature, is unable to entertain it.

(2) In computing the period of limitation prescribed for any application, the time during which the applicant has been prosecuting with due diligence another civil proceeding, whether in a Court of first instance or in a Court of appeal, against the same party for the same relief shall be excluded, where such proceeding is prosecuted in good faith in a Court which, from defect of jurisdiction, or other cause of a like nature, is unable to entertain it.

Explanation I - In excluding the time during which a former suit or application was pending, the day on which that suit or application was instituted or made, and the day on which the proceedings therein ended, shall both be counted.
Explanation II - For the purposes of this section, a plaintiff or an applicant resisting an appeal shall be deemed to be prosecuting a proceeding.
Explanation III - For the purposes of this section misjoinder of parties or of causes of action shall be deemed to be a cause of a like nature with defect of jurisdiction.
৭৫.
বাংলাদেশ আইনজীবী ও বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১১ অনুযায়ী, বার কাউন্সিলের কোন কমিটির সদস্য সংখ্যা ৯ জন?
  1. নির্বাহী কমিটি
  2. আর্থিক কমিটি
  3. আইন শিক্ষা কমিটি
  4. তালিকাভুক্ত কমিটি
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ আইনজীবী ও বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১১(১)(গ) অনুযায়ী: আইন শিক্ষা কমিটি (Legal Education Committee) গঠিত হবে ৯ জন সদস্য নিয়ে—
যার মধ্যে - ৫ জন হবেন বার কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত, এবং ৪ জন হবেন কো-অপ্টেড সদস্য, যাঁরা কাউন্সিলের সদস্য নন, এবং
এই ৪ জন কো-অপ্টেড সদস্যের মধ্যে অন্তত ২ জন হতে হবে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের আইন বিভাগের শিক্ষক।

অন্যদিকে:
নির্বাহী কমিটি ও অর্থ কমিটি – উভয়ের সদস্য সংখ্যা মাত্র ৫ জন (অনুচ্ছেদ ১১(১)(ক) ও (খ) অনুযায়ী)।
"তালিকাভুক্ত কমিটি" নামে কোনো স্থায়ী কমিটি অনুচ্ছেদ ১১-তে উল্লেখ নেই।

⇒ বাংলাদেশ আইনজীবী ও বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২ - অনুচ্ছেদ ১১:
(১) বার কাউন্সিল নিম্নলিখিত স্থায়ী কমিটি গঠন করবে:
(ক) একটি নির্বাহী কমিটি, যা কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত পাঁচজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে;
(খ) একটি অর্থ কমিটি, যা কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত পাঁচজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে;
(গ) একটি আইন শিক্ষা কমিটি, যা নয়জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে—যার মধ্যে পাঁচজন কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন এবং চারজন কাউন্সিল কর্তৃক কো-অপ্টেড (co-opted) হবেন, যারা কাউন্সিলের সদস্য নন। এই চারজনের মধ্যে কমপক্ষে দুজন বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের আইন বিভাগের শিক্ষক হবেন।
(২) উল্লিখিত কমিটিগুলোর ক্ষমতা ও কার্যাবলী যেরূপ নির্ধারণ করা হবে, সেরূপ হবে।
(৩) বার কাউন্সিল এই আদেশের অধীনে তার কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য প্রয়োজন মনে করলে তার সদস্যদের মধ্য থেকে অন্যান্য কমিটি গঠন করতে পারবে।
---------------
⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972, Article-11: (1) The Bar Council shall constitute the following standing committees namely:-
(a) an executive committee consisting of five members elected by the Council from amongst its members;
(c) a finance committee consisting of five members elected by the Council from amongst its members;
(d) a legal education committee consisting of nine members-five elected by the Council from amongst its members and four co-opted by the Council from persons other than the members of the Council at least two of whom shall be teachers of law in any university or college in Bangladesh.

(2) The aforesaid committees shall have such powers and functions as may be prescribed.
(3) The Bar Council may constitute from amongst its members such other committees as it may deem necessary for the performance of its functions under this Order.
৭৬.
Canons of Professional Conduct and Etiquette অনুযায়ী, বিচারক নিয়োগে অ্যাডভোকেটের ভূমিকা কী?
  1. রাজনৈতিক বিবেচনায় সমর্থন দেওয়া
  2. শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পরিচিতদের সমর্থন করা
  3. যোগ্যতা ও নৈতিকতাকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করা
  4. নিজের আত্মীয়স্বজনকে নিয়োগের সুপারিশ করা
ব্যাখ্যা
⇒ Canons of Professional Conduct and Etiquette, অধ্যায়-৩, বিধি-৭ অনুযায়ী, একজন অ্যাডভোকেটের দায়িত্ব হচ্ছে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা নয়, বরং যোগ্যতা এবং নৈতিকতাকে প্রাধান্য দেওয়া। অ্যাডভোকেটদের উচিত শুধুমাত্র যোগ্য ও নৈতিকভাবে উপযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারক হিসেবে নিয়োগের জন্য সমর্থন করা। তারা অবশ্যই চেষ্টা করবেন এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে যারা বিচারকদের দায়িত্ব পালনে মুক্ত এবং নিরপেক্ষ থাকবেন, এবং যারা রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক চাপ থেকে মুক্ত।

অতএব, বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমর্থন (ক), ব্যক্তিগত পরিচিতদের সমর্থন (খ), অথবা আত্মীয়স্বজনের সুপারিশ (ঘ) করা আদর্শ আচরণ নয় এবং আইনিভাবে একে সমর্থন করা হয় না।

7. It is the duty of Advocates to endeavour to prevent political considerations from outweighing judicial fitness in the appointment and selection of Judges. They should protest earnestly and actively against the appointment or selection of persons who are unsuitable for the Bench and thus should strive to have elevated thereto only those willing to forego other employments whether of a business, political or other character, which may embarrass their free and fair consideration of questions before them for decision. The aspiration of Advocates for judicial position should be governed by an impartial estimate of their ability to add honour to the office and not by a desire for the distinction the position may bring to themselves.
৭৭.
Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর Article 8 অনুযায়ী, Ad-hoc Bar Council-এর মেয়াদ সর্বোচ্চ কতদিন?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর সংশোধিত Article 8(2)-এ পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে:
"...for a term not exceeding one year and this term shall not be further extended."
- এক বছরের অধিক নয় এবং এই মেয়াদ আর বৃদ্ধি করা যাইবে না।
অর্থাৎ, Ad-hoc Bar Council-এর সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ১ (এক) বছর, এবং সেটি আরও বাড়ানো যাবে না।
সুতরাং, সঠিক উত্তর: খ) ১ বছর। 

⇒  Article- 8. (1) Elections to the Bar Council shall be held so as to conclude on or before the thirty first day of May in the year in which the term of the Bar Council expires.
(2) If the elections to the Bar Council cannot be held within the time specified in clause (1) due to pandemic, epidemic, act of God or for any other unavoidable circumstances as may be determined by the Government from time to time, the Government may, by notification in the official Gazette, constitute an Ad-hoc Bar Council consisting of fifteen members for a term not exceeding one year and this term shall not be further extended.
The Attorney-General for Bangladesh shall be one of the members of the Ad-hoc Bar Council and shall also be its Chairman.
(4) Notwithstanding anything contained in any other provision of this Order, the Ad-hoc Bar Council shall exercise such powers and functions of the Bar Council as specified in this Order and the rules made thereunder.