পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৪৯
সিলেবাস
পরীক্ষা- ১২ বাক্য গঠন ও বাক্য শুদ্ধিকরণ (লেকচার ১০)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৯ প্রশ্ন

.
কোনটি শুদ্ধ? 
  1. তোমার সঙ্গে আমার একটি গোপনীয় পরামর্শ আছে ।
  2.  আবশ্যকীয় ব্যয়ে কার্পণ্যতা অনুচিৎ
  3. তোমার সাথে আমার একটি গোপন পরামর্শ আছে ।
  4. এ বিষয়ে তাহারা সচেষ্টিত নহে
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্যঃ তোমার সঙ্গে আমার একটি গোপনীয় পরামর্শ আছে ।
এ বিষয়ে তাহারা সচেষ্ট নহে।
আবশ্যকীয় ব্যয়ে কার্পণ্য অনুচিত।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. তারা যেন ভুল করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
  2. আশাকরি তুমি আরোগ্য হইয়াছ।
  3.  ইহা প্রমাণ হইয়াছে
  4. অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য
ব্যাখ্যা

শুদ্ধঃ  তারা যেন ভুল করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
আশাকরি তুমি আরোগ্য লাভ করিয়াছ
ইহা প্রমাণিত হইয়াছে ।
অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
কোনটি ভুল?
  1. চরিত্রহীন লোক পশ্বাধম ।
  2.  তার অন্তর তিমিরাচ্ছন্ন।
  3. মাতৃহীন শিশুর কি দুঃখ!
  4. বিনয়পূর্বক নিবেদন করি ।
ব্যাখ্যা

শুদ্ধঃ চরিত্রহীন লোক পশ্বধম ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. বিদ্যান হইতে হলে নিয়মিত অধ্যয়ন করতে হয়
  2. দিবারাত্র পরিশ্রমে তাহার স্বাস্থ্য ভঙ্গ হইয়াছে ।
  3. তাহার সৌন্দর্যতাবোধ আমাকে অভিভূত করেছে। 
  4. দুর্বিসহ বনানটি অধিকাংশ ব্যাক্তি ভূল লেখে ।
ব্যাখ্যা

শুদ্ধঃ 
 দিবারাত্র পরিশ্রমে তাহার স্বাস্থ্য ভঙ্গ হইয়াছে ।
দুর্বিষহ বানানটি অধিকাংশ ব্যক্তি ভুল লেখে।
বিদ্বান হতে হলে নিয়মিত অধ্যয়ন করতে হয়।
তার সৌজন্যবোধ আমাকে অভিভূত করেছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. বিদ্বান লোকেরা মনে করেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা অধ্যয়ন ছেড়েছে বলেই তারা ব্যথা, আকাঙ্ক্ষা, মুহূর্ত, প্রতিযোগিতা, দরিদ্রতা ইত্যাদি বানান ভুল করে। 
  2. আমি সন্তোষ হইলাম
  3. আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই
  4.  ছেলেটি নিষ্পাপী নিরপরাধী কিন্তু সেই সেষ বংশের মাথায় চূর্ণকালী দিল ।
ব্যাখ্যা

শুদ্ধঃ 
বিদ্বান লোকেরা মনে করেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা অধ্যয়ন ছেড়েছে বলেই তারা ব্যথা, আকাঙ্ক্ষা, মুহূর্ত, প্রতিযোগিতা, দরিদ্রতা ইত্যাদি বানান ভুল করে। 

আজকাল বিদুষী মেয়ের অভাব নেই।

আমি সন্তুষ্ট হইলাম ।

ছেলেটি নিষ্পাপ, নিরপরাধ কিন্তু সেই শেষ পর্যন্ত বংশের মুখে চুনকালি দিল।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. করিম, তুমি ও আমি আজ পড়িতে যাইব 
  2.  ক্ষমা একটি মহান গুণ
  3. এমন লজ্জাস্কর ব্যাপার যে ঘটবে তাহা কদাপিও চিন্তা করিনি
  4. দৈনতা সব সময় ভালো নয় 
ব্যাখ্যা

শুদ্ধঃ করিম, তুমি ও আমি আজ পড়িতে যাইব ।
ক্ষমা একটি মহৎ গুণ।
এমন লজ্জাকর ব্যাপার যে ঘটবে তা কখনও চিন্তা করিনি ।
দীনতা সব সময় ভালো নয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
কোনটি শুদ্ধ ? 
  1. শঙ্কিত চিত্তে সে বলল
  2. তিনি স্বস্ত্রীক বাজারে গিয়েছেন 
  3. সে ক্রোধে আত্মহারা হইয়া উঠিয়াছে 
  4. সশঙ্কিত চিত্তে সে বলল
ব্যাখ্যা

শুদ্ধঃ শঙ্কিত চিত্তে সে বলল।
তিনি সস্ত্রীক বাজারে গিয়েছেন ।
সে ক্রোধান্ধ হইয়াছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
কোনটি ভুল? 
  1. এটা কাঁচা হাতের লেখা ।
  2. আমরা বাংলাদেশের সুসন্তান এই কথা যেন কদাপি না ভুলি ।
  3.  মেয়েটি সুহাসিনী ও সুকেশী।
  4. মেয়েটি সুকেশিনী ও সুহাসি।
ব্যাখ্যা

শুদ্ধঃ সুকেশ, সুকেশা, সুকেশী, সুকেশিনী, সুহাসিনী। 

প্রতিপাদিতঃ বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
‘সুনামীর তান্ডবে অনেকেই সর্বশান্ত হয়েছে।'- বাক্যটিতে কয়টি ভুল আছে?
  1. একটি
  2. দুটি
  3. তিনটি
  4. ভুল নেই
ব্যাখ্যা

 শুদ্ধরূপ বাক্য- 'সুনামির তাণ্ডবে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়েছে।'

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

১০.
‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2.  জটিল 
  3. যৌগিক
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে। জটিল বাক্যে পরস্পর সাপেক্ষ যে বাক্যগুলো থাকে তাদের সাধারণত খণ্ডবাক্য বলে। 'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলোরে' বাক্যে ‘তবে একলা চলোরে' প্রধান খণ্ডবাক্য। 'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে' আশ্রিত খণ্ডবাক্য। মূলত এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গান। ১৯০৫ সালের সেপ্টেম্বরে 'ভান্ডার' পত্রিকায় 'একা' শিরোনামে গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

১১.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. দৈন্যতা সর্বদা মহত্বের পরিচায়ক নয়
  2. দৈন্য সর্বদা মহত্বের পরিচায়ক নয়
  3. দৈন্য সর্বদা মহত্ত্বের পরিচায়ক নয়
  4. দৈন্যতা সর্বদা মহত্ত্বের পরিচায়ক নয় 
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : বিশেষ্য পদের সঙ্গে পুনরায় বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয় যুক্ত করলে শব্দ অশুদ্ধ হয়। যেমন সৌজন্য, দৈন্য, দারিদ্র্য, আলস্য ইত্যাদি বিশেষ্য শুদ্ধ। কিন্তু এগুলোর সাথে পুনরায় বিশেষ্যবাচক 'তা' যোগ করে সৌজন্যতা, দৈন্যতা, দারিদ্র্যতা, আলস্যতা করলে অশুদ্ধ হবে।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

১২.
কোন চরণটি সঠিক? 
  1. ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা
  2. ধন্য ধান্যে পুষ্পে ভরা
  3. ধণ্যে ধান্যে পুষ্প ভরা
  4. ধন ধান্য পুষ্পে ভরা
ব্যাখ্যা

১৩.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ? 
  1. তাহার জীবন সংশয়পূর্ণ
  2. তাহার জীবন সংশয়ময়
  3. তাহার জীবন সংশয়াপূর্ণ
  4. তাহার জীবন সংশয়াপন্ন
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ: তাহার জীবন সংশয়াপন্ন। 

প্রতিপাদিত: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪.
শুদ্ধ বাক্যটি চিহ্নিত করুন-
  1. বিদ্যান ব্যক্তিগণ দরিদ্রের শিকার হন
  2. বিদ্যান ব্যক্তিগণ দারিদ্রতার শিকার হন
  3. বিদ্বান ব্যক্তিগণ দারিদ্র্যের শিকার হন
  4.  বিদ্যান ব্যক্তিগণ দরিদ্রতার শিকার হন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : বিদ্বান, দরিদ্র, দরিদ্রতা, দারিদ্র্য বানানগুলো শুদ্ধ। দারিদ্র্যতা ভুল।

১৫.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. দুর্বলতাবশত অনাথিণী বসে পড়লে
  2. দুর্বলতাবশত অনাথীনী বসে পড়ল
  3. দুর্বলবশত অনাথা বসে পড়ল
  4. দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : অনাথ শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ অনাথা। অনাথিনী ব্যবহার ভুল ।

১৬.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. জ্ঞানি মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর 
  2. জ্ঞানি মূর্খতা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ
  3. জ্ঞানি মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ
  4. জ্ঞানী মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য- জ্ঞানী মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ । বাকীগুলোতে ব্যাকরণগত ভুল রয়েছে।

১৭.
কোনটি নির্ভুল বাক্য?
  1. আদ্যাবধি তার শারিরীক অবস্থার উন্নতি হয়নি 
  2. আদ্যবধি তার শারিরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি
  3. অদ্যবধি তার শারিরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি 
  4. অদ্যাবধি তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি
ব্যাখ্যা

শুদ্ধঃ  অদ্যাবধি তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। 

১৮.
কোনটি সঠিক?
  1. নদী সাগরের উদ্দ্যশে ধেয়ে চলে
  2. নদী সাগরের উদ্দ্যেশে ধেয়ে চলে
  3. নদী সাগরের উদ্দ্যেশ্য ধেয়ে চলে
  4. নদী সাগরের উদ্দেশে ধেয়ে চলে 
ব্যাখ্যা

শুদ্ধঃ   নদী সাগরের উদ্দেশে ধেয়ে চলে ।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৯.
‘আমার হৃদয় মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো' বাক্যটিতে কোন দোষ আছে?
  1. বাগধারা দোষ
  2. গুরুচণ্ডালী দোষ
  3. বাহুল্য দোষ 
  4. উপমার ভুল প্রয়োগ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : বাক্যটিতে উপমার ভুল প্রয়োগ হয়েছে। কারণ বীজ মন্দিরে উপ্ত হয় না বা বপন করা হয় না। বীজ বপন করা হয় ক্ষেতে । সুতরাং বলতে হবে- আমার হৃদয় ক্ষেতে আশার বীজ উপ্ত হল।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

২০.
‘গরু মাংস খায়’- বাক্যটি অশুদ্ধ কেন?
  1. আসত্তির অভাব 
  2. যোগ্যতার অভাব
  3. অর্থ অস্পষ্ট বলে
  4. পদবিন্যাসে ত্রুটি থাকা
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলোর মধ্যে অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা। যেমন- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।
কিন্তু 'গরু মাংস খায়' বাক্যে যোগ্যতার অভাব রয়েছে। কারণ গরু কখনো মাংস খায় না।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

২১.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ? 
  1. মনোরম উদ্যানে ভ্রমণ দূরাকাঙ্ক্ষা 
  2. মনরম উদ্যানে ভ্রমণ দুরাকাংখা
  3. মনোরম উদ্যানে ভ্রমণ দুরাকাঙ্ক্ষা
  4. মনরোম উদ্যানে ভ্রমণ দুরাকাংখা
ব্যাখ্যা

শুদ্ধঃ  মনোরম উদ্যানে ভ্রমণ দুরাকাঙ্ক্ষা। 

২২.
কার সঙ্গে ‘গুরুচণ্ডালী দোষ' সম্পর্কিত? [
  1. উচ্চারণের সঙ্গে
  2. বানানের সঙ্গে
  3. রূপতত্ত্বের সঙ্গে
  4. ভাষারীতির সঙ্গে 
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : ‘গুরুচণ্ডালী দোষ' ভাষারীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

২৩.
‘হে সিন্ধু। বন্ধু মোর- মজিনু তব রূপে।' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞাসূচক
  2. কার্যকারণাত্মক
  3. বিস্ময়সূচক
  4. প্ৰাৰ্থনাসূচক
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : যে বাক্যে মনের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ইত্যাদি আবেগ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশিত হয় তাকে বিস্ময়সূচক বাক্য বলে।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

২৪.
শব্দের যোগ্যতার সঙ্গে কয়টি বিষয় জড়িত?
  1. ৩ টি
  2. ৪টি 
  3. ৫টি
  4.  ৬টি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : শব্দের যোগ্যতার সাথে ৬টি বিষয় জড়িত থাকে- ক) রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা, খ) দুর্বোধ্যতা, গ) উপমার ভুল প্রয়োগ, ঘ)
বাহুল্য দোষ, ঙ) বাগধারার শব্দ পরিবর্তন, চ) গুরুচণ্ডালী দোষ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

২৫.
‘সকল অহংকার হে আমার ডুবাও চোখের জলে' বাক্যটি- 
  1.  মিশ্ৰ 
  2. যৌগিক 
  3. জটিল
  4. সরল
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : ‘সকল অহংকার হে আমার ডুবাও চোখের জলে সরল বাক্য। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উক্তি ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

২৬.
‘অরণ্যে রোদন' না বলে 'বনে ক্রন্দন' বললে বাক্যটি কি হারাবে?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. যোগ্যতা
  3. উদ্দেশ্য
  4. বাহুল্য দোষ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : বাগধারা ভাষাবিশেষের ঐতিহ্য। এর যথেচ্ছ পরিবর্তন করলে বাক্য তার যোগ্যতা হারায়। যেমন- ‘অরণ্যে রোদন' (অর্থ:
নিষ্ফল আবেদন)-এর পরিবর্তে যদি বলা হয়, ‘বনে ক্রন্দন' তবে বাক্যটি তার যোগ্যতা হারাবে।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

২৭.
‘শবপোড়া' শব্দটির কি দোষ দেখা যায়? 
  1. গুরুচণ্ডালী
  2. দুর্বোধ্যতা
  3. উপমার ভুল প্রয়োগ
  4. আকাঙ্ক্ষার ভুল প্রয়োগ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটলে গুরুচণ্ডালী দোষ ঘটে। শবপোড়ার ক্ষেত্রে 'শব' সাধু এবং 'পোড়া' চলিত ভাষা ।
তাই শবপোড়া গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

২৮.
‘ঘোটকের গাড়ি এটি কোন দোষে দুষ্ট?
  1. গুরুচন্ডালী 
  2.  বাহুল্য
  3. দুর্বোধ্যতা 
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

 সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে। এখানে ঘোটক সাধু, গাড়ি চলিত। শুদ্ধরূপ- ঘোড়ার গাড়ি।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

২৯.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. আমি সাক্ষী দিব না
  2. একথা প্রমাণিত হয়েছে
  3. বিধি লঙ্ঘন হয়েছে
  4. দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয় 
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : আমি সাক্ষ্য দিব না, বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে, দৈন্য/দীনতা প্রশংসনীয় নয় ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

৩০.
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদ বিন্যাসই হলো-
  1. মাধুৰ্য
  2. আসত্তি 
  3. আকাঙ্ক্ষা
  4. যোগ্যতা
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি। যেমন : ‘ফিরেছি থেকে আজ আমি বাড়ি' বললে বাক্য হয় না। ‘আজ আমি বাড়ি থেকে ফিরেছি' বললে বাক্য হয়।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

৩১.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ? 
  1. উল্লিখিত বিষয়ে আমি কিছুই জানি না
  2. লোকটি নিরাপরাধী কিন্তু নিরহংকারী নয়
  3. তোমার দুরাবস্থা দেখে ব্যথিত হলাম
  4. উপরের কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : শুদ্ধ বাক্য: ক. উল্লিখিত বিষয়ে আমি কিছুই জানি না; খ. লোকটি নিরাপরাধ কিন্তু নিরহংকার নয়; গ. তোমার দুরবস্থা দেখে
ব্যথিত হলাম;

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

৩২.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ? 
  1. সকল লোকেরাই ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল
  2. সে কোর্টে সাক্ষ্য দিয়েছে
  3. আমি কোর্টে সাক্ষী দিতে যাচ্ছি
  4. আমি আসিতে থাকবো
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : শুদ্ধ বাক্য- ক. সকল লোকই ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল গ. আমি কোর্টে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছি ঘ. আমি আসতে থাকবো।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

৩৩.
গুরুচন্ডালী দোষে বাক্য কি হারায়?
  1. যোগ্যতা
  2. আসক্তি 
  3. আকাঙ্খা 
  4. প্রসাদগুন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : গুরুচন্ডালী দোষে বাক্য যোগ্যতা হারায়। এছাড়াও উপমার ভুল প্রয়োগ, বাহুল্য দোষ, বাগধারার শব্দ পরিবর্তন ইত্যাদি দোষে বাক্য যোগ্যতা হারায়।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

৩৪.
‘সে আসতে চায় তথাপি আসেন না' বাক্যটি-
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে যৌগিক বাক্য হয়। বাক্যগুলো সাধারণত এবং, ও, কিন্তু, অথবা, কিংবা, বরং, তথাপি দ্বারা যুক্ত থাকে । 

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

৩৫.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ? 
  1. তার অপরিসীম আনন্দ হলো 
  2. অধীনস্ত কর্মচারীরা করেছে
  3. সে সংকট অবস্থায় পড়েছে
  4. দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : শুদ্ধ বাক্য খ. অধীন কর্মচারীরা করেছে; গ. সে সংকটে (বা সংকটজনক অবস্থায়) পড়েছে; ঘ. দীনতা/দৈন্য প্রশংসনীয় নয়।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।  

৩৬.
যে বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, সেটি কোন ধরনের বাক্য? 
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. অধীন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : সরল বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

৩৭.
'কালো মেঘে চারিদিক মৌ মৌ করছে- এখানে কোন গুণের অভাব রয়েছে?
  1. আসত্তি
  2. যোগ্যতা
  3. আকাঙ্ক্ষা
  4. অলংকার
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : বাক্যে ব্যবহৃত পদসমূহের সঙ্গত অর্থ প্রকাশের ক্ষমতাই যোগ্যতা। যেমন: 'কালো মেঘে চারিদিক মৌ মৌ করছে বললে অর্থসঙ্গত বাক্য হয় না। কারণ কালো মেঘে চারিদিক মৌ মৌ করে না। 'ফুলের গন্ধে চারিদিক মৌ মৌ করছে' বললে বাক্যের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় পাওয়া যায়। এটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

৩৮.
মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে। এটি কোন বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : ‘মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে'- সরল বাক্য। 'যখন মেঘ গর্জন করে তখন ময়ূর নৃত্য করে - জটিল বাক্য ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

৩৯.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, অর্থগতভাবে বাক্য কত প্রকার?
  1. আট
  2.  পাঁচ
  3. ছয়
  4. সাত
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা: অর্থ অনুসারে বাক্যকে ৭ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ১) বিবৃতিমূলক বাক্য। ২) প্রশ্নবাচক বাক্য। ৩) অনুজ্ঞাবাচক বাক্য। ৪) ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য। ৫) কার্যকারণাত্মক বাক্য। ৬) সন্দেহসূচক বাক্য। ৭) আবেগসূচক বাক্য।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

৪০.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. অশ্রুজলে বুক ভেসে গেল
  2. এটি লজ্জাস্কর ব্যাপার
  3.  আমার আর বাঁচিবার স্বাদ নাই
  4. মহারাজ সভাগৃহে প্রবেশ করলেন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : শুদ্ধবাক্য- ক. অশ্রুতে / চোখের জলে বুক ভেসে গেল। খ. আমার আর বাঁচিবার সাধ নাই। গ. এটা লজ্জাকর ব্যাপার ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

৪১.
‘দরিদ্র হলেও তার মন ছোট নয়' বাক্যটি- 
  1. অনুজ্ঞাসূচক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য 
  4. সরল বাক্য
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : 'দরিদ্র হলেও তার মন ছোট নয়- সরল বাক্য। সে দরিদ্র, কিন্তু তার মন ছোট নয়'- যৌগিক বাক্য।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

৪২.
‘দোষ স্বীকার কর, তোমাকে শাস্তি দিব না।' এটি কোন ধরনের বাক্য? 
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : যৌগিক বাক্য- 'দোষ স্বীকার কর, তোমাকে শাস্তি দিব না' । জটিল বাক্য- 'যদি দোষ স্বীকার কর, তাহলে তোমাকে শাস্তি দিব না"।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

৪৩.
কাজটি শেষ করার জন্য সে আদায় কাঁচকলায় খেয়ে নেমেছে।' বাক্যটি কী হারিয়েছে?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. যোগ্যতা
  4. পদক্রম
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : বাগধারার শব্দ ভুল প্রয়োগ হলে বাক্য যোগ্যতা হারায়। ‘আদা-কাঁচকলায়' অর্থ ঘোর শত্রুতা, 'আদা জল' অর্থ প্রাণপণ চেষ্টা করা। সুতরাং শুদ্ধ হবে 'আদা জল খেয়ে নেমেছে ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

৪৪.
কোনটি ভুল? 
  1. মনুজান নিজের সমস্ত বিষয়সম্পত্তি স্বত্ত্ব ত্যাগ করে তা ঠাই হাজি মুহম্মদ মহসীনকে দিয়ে দিয়েছিলেন। 
  2. লোকটি সাত্ত্বিক
  3. মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা
  4. সবগুলোই শুদ্ধ
ব্যাখ্যা

স্বত্ব, সত্ত্ব, সত্তা। 
স্বত্ব : ( স+ ত্ব)। 'স' মানে নিজে। শব্দটি বিশেষণ, এর সঙ্গে ত্ব যোগ করে একে বিশেষ্য পদে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এখন মানে দাঁড়াল নিজত্ব, অর্থাৎ নিজের অধিকার যেখানে আছে; এক কথায় এর অর্থ 'মালিকানা'। যেমন— মনুজান নিজের সমস্ত বিষয়সম্পত্তি স্বত্ব ত্যাগ করে তা ঠাই হাজি মুহম্মদ মহসীনকে দিয়ে দিয়েছিলেন। 
সত্ত্ব : ( সৎ + ত্ব)। ৎ আর ত সন্ধির ফলে ও হয়েছে, সেইসঙ্গে ব-ফলা তার নিজের জায়গাতেই আছে।
ক. 'সৎ' শব্দের এক অর্থ হচ্ছে 'বিদ্যমান'। 'সত্ত্ব' শব্দের অর্থ এর ফলে অস্তিত্ব বা বিদ্যমানতা। যে-মেয়ে মা হতে যাচ্ছে তাকে আমরা বলি, 'মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা', অর্থাৎ মেয়েটির 'অন্তঃ'তে (-অভ্যন্তরে, ভেতরে) আরেকটি প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। 'সত্ত্বেও' কথাটা এখান থেকেই এসেছে; যেমন- নিবেধ সত্ত্বেও (অর্থাৎ নিবেধ বিদ্যমান থাকতেও) এ কাজ করলে কেন?
খ। 'সত্ত্ব' শব্দের দ্বিতীয় অর্থ- প্রকৃতির তিনটি গুণের (সত্ত্ব রজঃ তমঃ) মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ। মানুষের মনের যে-সব শেষ্ঠ অনুভূতি আছে, যেমন দয়া প্রেম ন্যায়নিষ্ঠা মনুষ্যত্ববোধ বিবেক ইত্যাদি সব সম্মিলিত করলে যা দাঁড়ায় তা-ই সত্ত্বগুণ। যাঁর এইগুণ আছে তাঁকে বলি 'সাত্ত্বিক' লোক। 'সাত্ত্বিক' বিশেষণ পদে তা যোগ করে (সাত্ত্বিক+তা=) 'সাত্ত্বিকতা' বিশেষ্য পদ তৈরি করা যায়।
গ. 'সত্ত্ব' শব্দের তৃতীয় অর্থ- রস, ফলের রস। 'আমসত্ত্ব' তো আসলেই আমের রস, তবে জ্বাল দিয়ে দিয়ে ঘন করে তারপরে শুকিয়ে নেওয়া। ['সত্ত্ব' শব্দের মতো আরেক টি শব্দ তৈরি হয়েছে তত্ত্ব তত্ত্ব। অর্থাৎ তার স্বরূপ বা প্রকৃতি। তত্ত্ব, তাত্ত্বিক, তত্ত্বীয়—এগুলো পরস্পরসম্পৃক্ত শব্দ।
সত্তা= ( সৎ + তা)। 'সৎ' শব্দের এক অর্থ যে 'বিদ্যমান' তা আগেই বলেছি, 'তা' হলো বিশেষ্যে রূপান্তরিত হওয়ার চিহ্ন। মানে দাঁড়াল তা হলে বিদ্যমানতা, অস্তিত্ব। যেমন- সত্তা হারিয়ে ফেলা।
এই 'সত্তা' আর আগের 'সত্ত্ব' অর্থের দিক থেকে একই, তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে তফাত আছে। এই সত্তা থেকেই সততা শব্দের উৎপত্তি। সততা ব্যাকরণসিদ্ধ শব্দ নয়। 

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৫.
কোনটি ভুল?
  1. তার সঙ্গে দেখা না হলে এখনি ফিরে আসব
  2. তুমি নাহলে এ কাজটা করবে কে? আমি তো দ্বিতীয় লোক দেখি না।
  3. নাচ নাহলে গান- অনুষ্ঠানে কিছু তো একটা হবে। যা হয় তাই দেখব, তাই শুনব।
  4.  যা ঘটনা, সত্যি করে সব বল; না হলে আমি সব বলে দিলে তোমার গুমোর ফাঁস হয়ে যাবে।
ব্যাখ্যা

" না হলে / নাহলে
ক. তার সঙ্গে দেখা না হলে এখনি ফিরে আসব, তুমি ধৈর্য ধরে আধঘণ্টা বস
যোগ-বিয়োগ শেখা না হলে গুণ-ভাগ কেউ করতে পারে?
আপনি আমার পাশে বসতে পারলে বসুন, তা না হলে দাঁড়িয়ে থাকুন।
খ. নাচ নাহলে গান- অনুষ্ঠানে কিছু তো একটা হবে। যা হয় তাই দেখব, তাই শুনব।
যা ঘটনা, সত্যি করে সব বল; নাহলে আমি সব বলে দিলে তোমার গুমোর ফাঁস হয়ে যাবে।
তুমি নাহলে এ কাজটা করবে কে? আমি তো দ্বিতীয় লোক দেখি না।
ক—অংশের উদাহরণ তিনটিতে 'না হলে' অর্থ স্পষ্টতই 'না হয়', অর্থাৎ 'না হয়' ও 'না হলে পরিপূর্ণভাবে সমার্থক, একটির বিকল্পে অন্যটি বলা চলে। খ-অংশের তিনটি বাক্যের 'নাহলে' কিন্তু নাহয়' শব্দের সমার্থক নয়। এক্ষেত্রে 'নাহলে' অর্থ : অথবা, নইলে, অন্যথায়, ব্যতীত।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৪৬.
কোনটি ভুল?
  1. কার উদ্দেশে একথা বলা হলো কেউ বুঝতে পারল না।
  2. তাঁর পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্য এই গ্রন্থ উৎসর্গিত হয়েছে।
  3. সাবধানে থেকো। লোকটা সুবিধের নয়, উদ্দেশ্য ছাড়া কোনো কাজ করে না।
  4. ভদ্রলোক ফালতু কথা একেবারেই বলেন না। তিনি যখন এ-কথা বলেছেন, তখন বুঝতে হবে-এর কোনো উদ্দেশ্য আছে।
ব্যাখ্যা

উদ্দেশ/উদ্দেশ্য : উদ্দেশ শব্দে বোঝায় : হদিস, খোঁজ, লক্ষ্য। যেমন :
ক. কার উদ্দেশে একথা বলা হলো কেউ বুঝতে পারল না।
খ. নদী ধায় সাগর উদ্দেশে'।
গ. তাঁর পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে এই গ্রন্থ উৎসর্গিত হয়েছে। 

উদ্দেশ্য শব্দের অর্থ : অভিপ্রায় বা মতলব, তাৎপর্য, প্রয়োজন। যেমন :
ক. আমার কাছে এসব কেন বল? তোমার উদ্দেশ্য কী খুলে বল।
খ. সাবধানে থেকো। লোকটা সুবিধের নয়, উদ্দেশ্য ছাড়া কোনো কাজ করে না।
গ. ভদ্রলোক ফালতু কথা একেবারেই বলেন না। তিনি যখন এ-কথা বলেছেন, তখন বুঝতে হবে-এর কোনো উদ্দেশ্য আছে।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৪৭.
কোনটি ভুল?
  1. নিজের ঘরসংসারের দিকে তার কোনো লক্ষ্য নেই
  2.  নিজের ঘরসংসারের দিকে সে কোনো লক্ষই করে না
  3. আমার লক্ষ্য দেশের উন্নতি করা। 
  4. নিজের ঘরসংসারের দিকে সে কোনো লক্ষ্যই করে না
ব্যাখ্যা

লক্ষ/লক্ষ্য আমরা সকলেই জানি যে, 'লক্ষ' শব্দের অর্থ ১০০ হাজার এবং 'লক্ষ্য' মানে উদ্দেশ্য বা দেখা আমরা যা জানি না তা হলো, উদ্দেশ্য বা দেখা অর্থে লক্ষ্য ও লক্ষ দুটো বানানই ঠিক, তবে বাক্যে এদের প্রয়োগ করার মধ্যে ভিন্নতা আছে। যেমন : ক. আমার লক্ষ্য দেশের উন্নতি করা। (উদ্দেশ্য অর্থে)
খ. নিজের ঘরসংসারের দিকে তার কোনো লক্ষ্য নেই। (দৃষ্টি, নজর অর্থে)
গ. নিজের ঘরসংসারের দিকে সে কোনো লক্ষই করে না। (দৃষ্টি, নজর অর্থে) অর্থাৎ দৃষ্টিপাত করা, মনোযোগ দেওয়া অর্থে এই শব্দের বানান দু রকম হচ্ছে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহার করলে য ফলা দিতে হবে (ক সংখ্যক এবং ঐ সংখ্যক উদাহরণ); আর ক্রিয়াপদ হিসেবে ব্যবহার করলে য-ফলা লাগবে না। 

৪৮.
কোনটি শুদ্ধ? 
  1. অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়
  2.  ইহার আবশ্যক নাই
  3. রাঙ্গামাটি পার্বতীয় এলাকা
  4. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ
ব্যাখ্যা

শুদ্ধঃ 
অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
ইহার আবশ্যকতা নাই।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য এলাকা।
আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৯.
কোনটি শুদ্ধ? 
  1. পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
  2. মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
  3. তৎকালীন রাজা নসিবুল্লা অদ্যাপি নিরুদ্দেশ।
  4.  সবগুলোই শুদ্ধ। 
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্যঃ তৎকালীন রাজা নসিবুল্লা অদ্যাপি নিরুদ্দেশ।
পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান
মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।