পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৪৮
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৬ সিরাতুন নবি: শান্তির দূত মুহাম্মদ (সাঃ), হুদাইবিয়ার সন্ধি, বিশ্বের বিভিন্ন বাদশাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত, মক্কা বিজয় ও ইসলামের বিস্তৃতিতে এর প্রভাব, বিদায় হজ। [উৎস: লেকচার-৪ ও সংশ্লিষ্ট বই]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৮ প্রশ্ন

.
হুদায়বিয়ার সন্ধিতে কুরাইশদের প্রধান প্রতিনিধি কে ছিলেন?
  1. উরওয়া ইবনে মাসউদ
  2. মুকরিয ইবনে হাফস
  3. বুদাইল ইবনে ওয়ারাকা
  4. সুহাইল ইবনে আমর
ব্যাখ্যা

হুদায়বিয়ার সন্ধিতে কুরাইশদের প্রধান প্রতিনিধি ছিলেন সুহাইল ইবনে আমর ( سهيل بن عمرو)।
হুদায়বিয়ার সন্ধি ছিল ৬২৮ খ্রিস্টাব্দে (৬ হিজরী) মক্কার কুরাইশ ও মদিনার মুসলিমদের মধ্যে সম্পাদিত একটি চুক্তি। এই সন্ধিতে মুসলিমদের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং কুরাইশদের পক্ষ থেকে প্রধান প্রতিনিধি ছিলেন সুহাইল ইবনে আমর। 

.
বাইআতে রিদওয়ান কুরআনের কোন সুরায় উল্লেখ আছে?
  1. সুরা নুর
  2. সুরা ফাতহ
  3. সুরা হজ্জ
  4. সুরা মায়েদা
ব্যাখ্যা

সূরা আল-ফাতহের ১৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বাইয়াতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারী সাহাবায়ে কেরামের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এই আয়াতে তাদের প্রতি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বাইয়াতুর রিদওয়ান (رضوان) শব্দটি এসেছে "রিদওয়ান" শব্দ থেকে, যার অর্থ সন্তুষ্টি। এই শপথ বা অঙ্গীকারের ঘটনাটি ঘটেছিল ৬ষ্ঠ হিজরিতে মক্কার অদূরে হুদাইবিয়া নামক স্থানে। মূলত, কুরাইশদের দ্বারা হযরত উসমান (রাঃ)-কে হত্যার গুজব রটলে, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর সাহাবায়ে কেরামকে সাথে নিয়ে কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হন এবং সেখানে গাছের নিচে তাঁরা প্রতিজ্ঞা করেন যে, প্রয়োজনে তারা জীবন উৎসর্গ করবেন।

.
হুদায়বিয়া চুক্তি কোন গোত্র ভঙ্গ করেছিল?
  1. মুসলমানরা
  2. বনু বকর
  3. বনু খুজাআ
  4. হাওয়াজিন
ব্যাখ্যা

হুদায়বিয়ার চুক্তি কুরাইশদের মিত্র বনু বকর গোত্র ভঙ্গ করেছিল। তারা মুসলিমদের মিত্র বনু খুজাআ গোত্রের উপর আক্রমণ করে চুক্তিটি লঙ্ঘন করে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে (৮ হিজরী), মুহাম্মদ (সা.) মক্কা বিজয়ের জন্য ১০,০০০ সৈন্য নিয়ে যাত্রা করেন। 

.
হুদায়বিয়া কূপে পানির সংকট হলে নবি (সা) কী করেছিলেন?
  1. সাহাবাদের নিয়ে অন্য কূপ থেকে পানি নিয়ে আসেন
  2. কূপে খেজুর পাতা ফেলে দেন
  3. পাশে নতুন কূপ খনন করেন
  4. কূপে নিজের তীর ফেলে দেন
ব্যাখ্যা

হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় মুসলিম বাহিনী পানির সংকটে পড়লে, নবী (সাঃ) কূপে একটি তীর নিক্ষেপ করেন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। এরপর কূপ থেকে প্রচুর পানি উঠতে শুরু করে এবং মুসলিম বাহিনীর সবাই সেই পানি পান করতে সক্ষম হন, যা ছিল তাঁর একটি অলৌকিক ঘটনা।

.
সুরাবিল বিন আমর কর্তৃক মুসলিম দূতকে হত্যা করা হলে নবি (সা) কোন যুদ্ধ ঘোষণা করেন?
  1. মুতার যুদ্ধ
  2. তাবুক যুদ্ধ
  3. হুনাইন যুদ্ধ
  4. খায়বারের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

সুরাবিল বিন আমর কর্তৃক মুসলিম দূত হত্যার পর নবী (সাঃ) মু'তার যুদ্ধ ঘোষণা করেন। মু'তার যুদ্ধ ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে (৮ হিজরি) সংঘটিত হয়। এটি ছিল মুসলিম ও বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের মিত্র গাসানিদ রাজ্যের মধ্যে একটি যুদ্ধ। ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন নবী (সাঃ) এর দূতকে গাসানিদ নেতা শুরাহবিল বিন আমর হত্যা করে। এই ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবেই মু'তার যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

.
৬ষ্ঠ হিজরিতে উমরাহ প্রতিরোধে কুরাইশরা কার নেতৃত্বে অশ্বারোহী বাহিনী পাঠায়?
  1. আবু সুফিয়ান
  2. খালিদ বিন ওয়ালিদ
  3. আমর ইবনে আস
  4. ইকরামা
ব্যাখ্যা

৬ষ্ঠ হিজরিতে মুসলিমগণ হুদায়বিয়ার প্রান্তরে পৌঁছালে মুসলিম বাহিনীকে প্রতিরোধ করার জন্য মক্কা থেকে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের নেতৃত্বে একটি বাহিনী পাঠানো হয়েছিল। তারা মুসলমানদের ওপর সরাসরি আক্রমণের সাহস পায়নি। তাদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ নামাযরত অবস্থায় মুসলমানদের ওপর আক্রমণের পরিকল্পনা করে। 

.
কোন বাদশাহ রাসুল (সা) এর দূতের পত্র ছিঁড়ে ফেলেছিল? 
  1. কাইসার কিসরা
  2. মুকাওকিস
  3. সুরাবিল বিন আমর
  4. হারেছ গাসসানি
ব্যাখ্যা

রাসুল (সা.) এর দূত এর চিঠি ছিঁড়ে ফেলেছিলেন পারস্য সম্রাট খসরু পারভেজ (কাইসার কিসরা)। 
বিশ্বের শাসকদের কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন বিভিন্ন দেশের শাসক ও সম্রাটদের কাছে চিঠি পাঠান, তখন পারস্য সম্রাট খসরু পারভেজ তাঁর দূত মারফত পাঠানো চিঠিটি ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। তিনি এই চিঠিকে অবজ্ঞাভরে প্রত্যাখ্যান করেন এবং এটিকে তাঁর ক্ষমতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখেছিলেন। 

.
جَاءَ الْحَقُّ وَ زَهَقَ الْبَاطِلُ  আয়াতে কারিমা পবিত্র কুরআনের কোন সুরায় রয়েছে?
  1. সুরা কাহফ, আয়াত ৬১
  2. সুরা ইউসুফ, আয়াত ৮১
  3. সুরা ইসরা, আয়াত ৮০
  4. সুরা ইসরা, আয়াত ৮১
ব্যাখ্যা

"جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ" আয়াতটি পবিত্র কুরআনের সুরা বনি ইসরাঈল (সুরা ১৭), আয়াত ৮১ এ রয়েছে। এই আয়াতের অর্থ হল: “সত্য সমাগত, মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে; নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল।”

.
বিদায় হজের সময় রাসুল (সা) আরাফাতের যে উপত্যকায় ভাষণ দেন, তার নাম কী?
  1. উরানাহ
  2. মিনা
  3. মাররুয যাহরান
  4. হুদায়বিয়া
ব্যাখ্যা

বিদায় হজের সময় রাসুলুল্লাহ (সা) আরাফার যে উপত্যকায় ভাষণ দেন, তার নাম উরানাহ উপত্যকা (Wadi e Uranah)। এই ভাষণটি ইতিহাসে বিদায় হজের ভাষণ নামে পরিচিত। বিদায় হজের ভাষণটি ১০ম হিজরির ৯ই জিলহজ তারিখে আরাফার ময়দানে দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ আছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের এটিই ছিল শেষ আনুষ্ঠানিক ভাষণ। এই ভাষণে প্রায় এক লাখ চব্বিশ হাজার সাহাবী উপস্থিত ছিলেন বলে ধারণা করা হয়।

১০.
‘আখেরি চাহার সোম্বা’ হলো-
  1. রবিউল আউয়াল মাসের শেষ বুধবার
  2. রবিউল আউয়াল মাসের শেষ সোমবার
  3. সফর মাসের ১ম বুধবার
  4. সফর মাসের শেষ বুধবার
ব্যাখ্যা

আখেরি চাহার শোম্বা মানে সফর মাসের শেষ বুধবার৷ এই দিনে আমাদের দেশে সরকারি ছুটিও আছে৷  কথিত আছে সফর মাসের শেষ বুধবার রাসুল ﷺ অসুস্থতা থেকে কিছুটা সুস্থতাবোধ করেন৷ সেদিন গোসলও করেন৷ আমাদের ভারতবর্ষে এই দিবস ঘটা করে পালন করা হয়৷ রঙচঙ মিশিয়ে এই দিবসকেন্দ্রিক ভিত্তিহীন ঘটনাও বর্ণনা করা হয়৷ বিশেষত 'মকসুদুল মুমিনীন ও বারোচান্দের ফযীলত' নামক ভিত্তিহীন কথায় ভরপুর বই দুটিতে এ সম্পর্কে মুখরোচক কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়৷ যা সম্পূর্ণই ভিত্তিহীন ও জাল৷

১১.
হুদায়বিয়ার চুক্তিতে ‘মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ’ এর পরিবর্তে ‘মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ’ লেখার দাবি কে করেন? 
  1. সুহাইল ইবনে আমর
  2. হুওয়াইতির ইবনে আবদিল উযযা
  3. মুকরি ইবনে হাফস
  4. খালিদ বিন ওয়ালিদ
ব্যাখ্যা

হুদায়বিয়ার চুক্তিতে "মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ" লেখার পরিবর্তে "মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ" লেখার দাবি করেছিলেন সুহাইল বিন আমর, যিনি ছিলেন মক্কার কুরাইশদের প্রতিনিধি। তিনি নবীর রিসালাত (নবুওয়াত) স্বীকার করতেন না, তাই এই পরিবর্তন চেয়েছিলেন। চুক্তির শুরুতে যখন "এটি আল্লাহর রাসুল, মুহাম্মদ (সা.)" লেখা হচ্ছিল, তখন সুহাইল আপত্তি করে এই অংশটি "মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ" দিয়ে প্রতিস্থাপনের দাবি করে। নবী মুহাম্মদ (সা.) প্রথমে এতে রাজি না হলেও পরে তাঁর অনুরোধে রাজি হন। 

১২.
কোন সাহাবি সর্বপ্রথম বাইয়াতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণ করেন?
  1. জাদ্দ ইবনে কায়েস (রা)
  2. আবু সিনান আসাদি (রা)
  3. উসমান (রা)
  4. আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা)
ব্যাখ্যা

সর্বপ্রথম যিনি এই বায়আত করেছিলেন তিনি ছিলেন হযরত আবু সিনান আসাদি (রা)। তিনি সকলের আগে অগ্রসর হয়ে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসুল (সা)! হাত বাড়িয়ে দিন যাতে আমি বাইয়াত গ্রহণ করতে পারি।” তিনি বললেন: “কীসের উপর বাইয়াত করবে?” উত্তরে তিনি বলেন: “আপনার অন্তরে যা রয়েছে তারই উপর আমি বাইয়াত করবো।” তাঁর পিতার নাম ছিল অহাব।

১৩.
৬ষ্ঠ হিজরিতে হুদায়বিয়া সফরে রাসুল (সা) উমর (রা) কে মক্কায় পাঠাতে চাইলে তিনি যেতে অসম্মতি জানান কেন?
  1. অসুস্থ ছিলেন
  2. কুরাইশদের কাছে অপ্রিয় ছিলেন
  3. রাসুলের অনুমতি ছিল না
  4. বাহন ছিল না
ব্যাখ্যা

৬ষ্ঠ হিজরিতে হুদায়বিয়া সফরে রাসুলুল্লাহ (সা) হযরত উমার (রা)-কে ডেকে পাঠালেন যে, তিনি যেন মক্কায় গিয়ে কুরাইশ নেতৃবর্গকে বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা) যুদ্ধের উদ্দেশ্যে আসেননি, বরং শুধু বায়তুল্লাহ শরিফের উমরা করার উদ্দেশ্যে এসেছেন। কিন্তু হযরত উমার (রা) রাসুলুল্লাহ (সা)-এর এ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বললেন: “হে আল্লাহর রাসুল (সা)! আমার ধারণামতে এ কাজের জন্যে হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা)-কে মক্কায় পাঠানো উচিত। মক্কায় আমার বংশের এখন কেউ নেই। অর্থাৎ বানু আদ্দি ইবনে কাবের গোত্রের লোকেরা নেই যারা সহযোগিতা করত। কুরাইশদের সাথে আমার যা কিছু হয়েছে তা তো আপনার অজানা নেই। তারা তো আমার উপর ভীষণ রাগান্বিত অবস্থায় রয়েছে। তারা আমাকে পেলে তো জীবিত অবস্থায় ছেড়ে দিবে না।” রাসুলুল্লাহ (সা) হযরত উমার (রা)-এর এ মতকে যুক্তিযুক্ত মনে করলেন এবং হযরত উসমান (রা)-কে আবু সুফিয়ান (রা) এবং অন্যান্য কুরেইশ নেতৃবর্গের নিকট পাঠিয়ে দিলেন।

১৪.
মক্কা বিজয় সংঘটিত হয় কত তারিখ?
  1. ২০ রমজান
  2. ৯ রমজান
  3. ২৬ রমজান
  4. ২৪ রমজান
ব্যাখ্যা

৮ হিজরি, রমজান মাসের ২০ তারিখ  (মতান্তরে ১৭ বা ১৮ রমজান) মোতাবেক ৬৩০ সালের ১০ জানুয়ারি মক্কা বিজয় সংঘটিত হয়। ।হুদায়বিয়াহ সন্ধির একটি শর্ত ছিল, দুই পক্ষের কেউ অন্য পক্ষকে আক্রমণ করলে সন্ধি ভঙ্গ হবে। কুরাইশদের মিত্র বনু বকর গোত্র মুসলিমদের মিত্র বনু খুজা'আ গোত্রকে আক্রমণ করে। এর মাধ্যমে সন্ধি ভঙ্গ হয় এবং মক্কা বিজয়ের ঘটনা ঘটে।

১৫.
হুদায়বিয়া সফর থেকে হযরত উসমান (রা) মক্কায় গিয়ে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতে অস্বীকার করেন কেন?
  1. অসুস্থ ছিলেন
  2. রাসুল (সা)-এর আগে তাওয়াফ করতে চাননি
  3. কুরাইশরা বাধা দিয়েছিল
  4. পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন
ব্যাখ্যা

হুদায়বিয়া সফর থেকে হযরত উসমান (রা) মক্কায় গিয়ে কুরাইশদের বড় বড় নেতাদের নিকট গেলেন এবং তাদের কাছে রাসুলুল্লাহ (সা)-এর পয়গাম পৌঁছিয়ে দিলেন। তারা তাঁকে বললো: “আপনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে চাইলে করে নিন।” তিনি উত্তরে বললেন: “রাসুলুল্লাহ (সা)-এর পূর্বে আমি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করবো- এটা অসম্ভব ।" অর্থাৎ তিনি রাসুলে কারিম (সা) এর আগে তাওয়াফ করতে চাননি।

১৬.
নিচের কোন গোত্র ৬ষ্ঠ হিজরিতে উমরার প্রস্তুতি নেয়নি?
  1. গিফার
  2. আনসার
  3. মুহাজির
  4. আওস
ব্যাখ্যা

ষষ্ঠ হিজরিতে রাসুল (সা) যখন সকল সাহাবিদের মাঝে সাধারণ ঘোষণা দিলেন প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য। সাহাবিরা প্রস্তুতি নিয়েছিল কিন্তু মদিনার চতুর্দিকে বসবাসকারী কয়েকটি গোত্র প্রস্তুতি নেয়নি। যেমন গিফার, মুযাইনা, জাহাইনা, আসলাম এবং দুআল গোত্রসমূহ। প্রস্তুতি না নেওয়ার কারণ আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে- তারা সন্তান-সন্ততি ও সম্পদের মোহে যেতে পারেনি।

১৭.
মক্কা বিজয়ে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
  2. শত্রু দমন
  3. ইসলামের দাওয়াত
  4. প্রতিশোধ প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা

মক্কা বিজয়ের পর হযরত মুহাম্মদ (সা.) সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রতিশোধ প্রতিরোধ করা। মক্কার জনগণের মধ্যে শান্তি ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠা করা এবং তাদের ইসলাম গ্রহণের পথে উৎসাহিত করাও উদ্দেশ্য। এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি বিজিতদের প্রতি ঘৃণা বা প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমা ও উদারতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। 

১৮.
সুরা মায়দার ৩ নং আয়াত কোথায় অবতীর্ণ হয়?
  1. উরানা উপাত্যকা
  2. জাবালে রহমত
  3. মসজিদে খায়েফ
  4. মুজদালিফা
ব্যাখ্যা

সুরা মায়দার ৩ নং আয়াত বিদায় হজের সময় জাবালে রহমতে অবতীর্ণ হয়। এটি ইসলাম ধর্মের প্রসিদ্ধ একটি আয়াত। এখানে আল্লাহ বলেছেন, “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নিআমত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য দীন হিসেবে পছন্দ করলাম ইসলামকে।”

১৯.
জান্নাত থেকে দুনিয়ায় আগমনের পর হযরত আদম (আ) ও হাওয়া (আ)-এর প্রথম সাক্ষাত হয়েছিল কোথায়?
  1. জাবালে রহমতে
  2. শ্রীলঙ্কায়
  3. উমলুজ প্রান্তরে
  4. মুজদালিফাতে
ব্যাখ্যা

জান্নাত থেকে দুনিয়ায় আগমনের পর হযরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর প্রথম সাক্ষাতের স্থান নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে, অধিকাংশ ইসলামিক বর্ণনা অনুযায়ী, মক্কার আরাফাতের ময়দানের নিকটে জাবালে রহমতে তাদের পুনর্মিলন হয়। কেউ কেউ বলেন, শ্রীলঙ্কার আদম চূড়ায় হযরত আদম (আ.) এবং হেজাজে (বর্তমান সৌদি আরব) হযরত হাওয়া (আ.) প্রথম অবতরণ করেন। 

২০.
কোন মসজিদে/স্থানে ৭০ জন নবি-রাসুল নামাজ আদায় করেছেন?
  1. মসজিদে কিবলাতাইন
  2. মসজিদে কুবা
  3. মসজিদে খায়েফ
  4. মসজিদে শাজারাহ
ব্যাখ্যা

সৌদি আরবের দক্ষিণ মিনার আল-দিবাআ পর্বতের পাদদেশে মসজিদুল খায়েফে মহানবী (সা.), মুসা (আ.)-সহ ৭০ জন নবী-রাসুল নামাজ আদায় করেছেন। এ জন্য একে নবীদের মসজিদ বলা হয়। মূলত এর নাম মসজিদুল খায়েফ। ইসলামের ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ মসজিদ মিনার দক্ষিণে ছোট জামরার কাছে অবস্থিত। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় অবস্থানকালে এ মসজিদে নামাজ আদায় করতেন।

২১.
মক্কা বিজয়ের সময়ে মুসলিম বাহিনী মক্কার অদূরে ______ উপত্যকায় শিবির স্থাপন করে।
  1. মার-উজ জিহান
  2. মার-উজ জাফরান
  3. মার-উজ জাহান
  4. মার-উজ জাহরান
ব্যাখ্যা

মক্কা বিজয়ের সময় মুসলিম বাহিনী মক্কার অদূরে মার-উজ জাহরান উপত্যকায় শিবির স্থাপন করেছিল। এটি ছিল ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা অভিযানের অংশ। 
এই অভিযানে ১০ হাজার সৈন্য নিয়ে মুসলিম বাহিনী মক্কার দিকে অগ্রসর হয় এবং মক্কার কাছাকাছি মার-উজ জাহরান নামক স্থানে শিবির স্থাপন করে। কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান মুসলিম বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য দুজন সঙ্গী সহ মক্কার বাইরে এসেছিলেন, কিন্তু মুসলিম বাহিনীর উপস্থিতি জানতে পেরে ভীত হয়ে পড়েন।

২২.
বিদায় হজের ভাষণে রাসুলে কারিম (সা) সর্বপ্রথম কার সুদ রহিত করেন?
  1. কুরাইশ বংশের সুদ
  2. আবু তালিব ইবন আবদুল মুত্তালিব-এর সুদ
  3. আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব-এর সুদ
  4. আবদুল মুত্তালিব-এর সুদ
ব্যাখ্যা

বিদায় হজের ভাষণে রাসুলে কারিম (সা) বলেন, জাহেলিয়াত যুগের সমস্ত সুদ চিরতরে রহিত করা হয়েছে। আমি প্রথম যে সুদ রহিত করছি, তা হলো আমার চাচা আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব-এর সুদ।

২৩.
বিদায় হজের ভাষণে রাসুলে কারিম (সা) সর্বপ্রথম কার রক্তের প্রতিশোধ রহিত করেন?
  1. আবু তালিব ইবন আবদুল মুত্তালিব-এর
  2. আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব-এর
  3. আমির ইবন রাবিআ ইবন হারিস-এর
  4. আবদুল মুত্তালিব-এর
ব্যাখ্যা

বিদায় হজের ভাষণে রাসুলে কারিম (সা) সর্বপ্রথম তাঁর নিজের গোত্রের রক্তের প্রতিশোধ রহিত করেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, আমরা প্রথম যে রক্ত প্রতিশোধ রহিত করছি, তা হলো আমার আত্মীয় আমির ইবন রাবি'আ ইবন হারিস-এর রক্তের প্রতিশোধ। জাহেলিয়াতের যুগের সকল রক্তের দাবি বাতিল করা হলো এবং সর্বপ্রথম তাঁর নিজের গোত্রের প্রাপ্য সকল প্রকার রক্তের দাবিও তিনি রহিত করেন। 

২৪.
বিদায় হজে রাসুলে কারিম (সা) এর সঙ্গী ছিল কোন উট?
  1. শাহবা
  2. আদবা
  3. কাসওয়া
  4. জাদ'আ
ব্যাখ্যা

বিদায় হজে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গী ছিল "কাসওয়া" নামের উটটি। এই উটটি তাঁর হিজরত, হুদাইবিয়ার সন্ধি, মক্কা বিজয় এবং বিদায় হজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী ছিল। বিদায় হজের সময়, রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কা থেকে মিনায় যাওয়ার পথে এই উটের উপরেই ছিলেন। কাসওয়া ছিল রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সবচেয়ে প্রিয় উট এবং এটি তাঁর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণে সঙ্গী হয়েছে। 

২৫.
মক্কা বিজয়ের সময় রাসুল (সা) কাবার চাবি কাকে হস্তান্তর করেছিলেন?
  1. উসমান ইবনে তালহাকে
  2. আবু সুফিয়ান
  3. ইকরামা
  4. হারিস বিন হিশাম
ব্যাখ্যা

মক্কা বিজয়ের আগে কাবার চাবি উসমান ইবনে তালহার কাছে ছিল, এবং তিনি তখনও ইসলাম গ্রহণ করেননি। রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন কাবাঘরে প্রবেশ করেন, তখন তিনি উসমান ইবনে তালহাকে ডেকে কাবার চাবি চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি প্রথমে দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এর নির্দেশে তিনি চাবি হস্তান্তর করেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) কাবাঘর পরিষ্কার করার পর পুনরায় চাবিটি তার হাতেই ফিরিয়ে দেন এবং এই দায়িত্ব আল-শাইবা পরিবারের হাতেই থাকবে বলে ঘোষণা করেন।

২৬.
কুরাইশ কর্তৃক হুদায়বিয়ার সন্ধি ভঙ্গের পরে তা নবায়ন করার জন্য কাকে মদিনায় পাঠানো হয়েছিল?
  1. আবু সুফিয়ান
  2. খালিদ বিন ওয়ালিদ
  3. সুহাইল ইবনে আমর
  4. আমর বিন আস
ব্যাখ্যা

সন্ধিচুক্তি অগ্রাহ্য করে বনু বকরকে সহযোগিতা করাটা ছিল কুরাইশদের প্রচন্ড অন্যায় আর চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তটিও যে তদনুরুপ অন্যায় ও নির্বুদ্ধিতার পরিচায়ক হয়েছে কুরাইশ নেতারা তা অচিরেই উপলব্ধি করতে শুরু করে। তাই তারা চুক্তি নবায়নের জন্য শীঘ্রই তাদের অন্যতম নেতা আবু সুফিয়ানকে মদীনায় প্রেরণ করে। কিন্তু তাকে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়।

২৭.
মক্কা বিজয়ের দিন নবি মুহাম্মদ (সা) এর চাচা হযরত আব্বাস (রা) কোন কুরাইশ নেতাকে নিরাপত্তা দেন?
  1. খালিদ বিন ওয়ালিদ
  2. হাকিম ইবনে হিযাম
  3. বুদাইল ইবনে ওয়ারাকা
  4. আবু সুফিয়ান ইবনে হারব
ব্যাখ্যা

মক্কা বিজয়ের দিন হযরত আব্বাস (রা.) কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান ইবনে হারবকে নিরাপত্তা দিয়েছিলেন। আবু সুফিয়ান তখনও ইসলাম গ্রহণ করেননি, এবং তিনি ছিলেন মক্কার প্রভাবশালী কুরাইশ নেতা। মক্কা বিজয়ের সময় হযরত আব্বাস (রা.) তাকে নিরাপত্তা প্রদানের মাধ্যমে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন। হযরত আব্বাস (রা.) আবু সুফিয়ানকে নবী মুহাম্মদ (সা.) এর কাছে নিয়ে যান এবং আবু সুফিয়ান ইসলাম গ্রহণ করেন।

২৮.
মক্কা বিজয়ের দিন সকলকে সাধারণ ক্ষমা করা হলেও কতজনকে ক্ষমা করা হয়নি?
  1. ৫ জন
  2. ৭ জন
  3. ৮ জন
  4. ১৫জন
ব্যাখ্যা

জঘন্য অপরাধ এবং অমানবিক কাজের কারণে ১৫ জন কাফের মক্কা বিজয়ের দিন সাধারণ ক্ষমার আওতাভুক্ত ছিল না। ১৫ জনের মধ্য থেকে ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। হজরত সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, বিজয়ের দিন নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। তবে চার পুরুষ ও দুই নারী ছাড়া। তিনি বলেন, তাদের যদি কাবার গিলাফ আঁকড়ে ধরা অবস্থাতেও পাও, তবুও তাদের হত্যা করো।’ (আবু দাউদ)

১৫ অপরাধীর তালিকা হলো আবদুল্লাহ ইবনে খাতাল, ফারতানা ও কারিনা (এরা দুজন ছিল আবদুল্লাহ ইবনে খাতালের দাসি), সারাহ, হুয়াইরিস ইবনে নুকাইদ, মিকয়াস ইবনে সুবাবা, আবদুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে আবি সারাহ, ইকরামা ইবনে আবি জাহেল, হাব্বার ইবনে আসওয়াদ, কাব ইবনে জুহাইর, ওয়াহশি ইবনে হারব, হারিস ইবনে তুলাতিল, আবদুল্লাহ ইবনে জিবারা, হুবাইরা ইবনে আবি ওয়াহাব এবং হিন্দ বিনতে উতবা।

২৯.
বিদায় হজে আল্লাহর রাসুল (সা) যে হজ আদায় করেছিলেন-
  1. তামাত্তু
  2. ইফরাদ
  3. কিরান
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

বিদায় হজে আল্লাহর রাসুল (সা) হজ্জে কিরান আদায় করেছিলেন। এটি এমন একটি হজ, যেখানে একই সাথে উমরা ও হজের নিয়ত করা হয় এবং উভয়টির কাজ একসাথে আদায় করা হয়। তালবিয়া একবার পাঠ করলেই যথেষ্ট। একই ইহরাম দিয়ে উমরা ও হজের কাজ সম্পন্ন করতে হয় হজ্জে কিরানে।

৩০.
বিদায় হজ্ব কবে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ৯ হিজরি, যিলহজ্ব
  2. ১০ হিজরি, যিলহজ্ব
  3. ১১ হিজরি, যিলহজ্ব
  4. ১২ হিজরি, যিলহজ্ব
ব্যাখ্যা

বিদায় হজ ১০ম হিজরির যিলহজ্ব মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা ৬৩২ খ্রিস্টাব্দ সালের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি ছিল রাসুল মুহাম্মাদ (সা)-এর জীবনের শেষ এবং একমাত্র হজ। তারপরে ১১ হিজরিতে রাসুলে কারিম (সা) ইন্তেকাল করেন।

৩১.
বাইয়াতে রিদওয়ান কোন গাছের নিচে হয়েছিল? 
  1. খেজুর গাছ
  2. সামুরা গাছ
  3. কড়ই গাছ
  4. বরই গাছ
ব্যাখ্যা

বাইয়াতুর রিদওয়ান (বাইয়াতে রিদওয়ান) হুদাইবিয়া নামক স্থানে একটি গাছের নিচে হয়েছিল, যার কারণে এটি বাইয়াতে সাজার বা "গাছের বাইয়াত" নামেও পরিচিত। এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ১৪০০ সাহাবি রাসুল (সা.)-এর হাতে হাত রেখে বাইয়াত বা শপথ গ্রহণ করেন। এটি হয়েছিল বাবলা বা সামুরা গাছের নিচে।

৩২.
বিদায় হজের সময় রাসুল (সা) উটের পিঠে বসে ভাষণ দিয়েছিলেন কেন? 
  1. উটের প্রতি ভালবাসা ছিল
  2. মরুভূমিতে দাঁড়ানোর জায়গা পাওয়া যায়নি বলে
  3. লোকেরা সবাই যেন দেখতে ও শুনতে পারে
  4. আরবের রাজারা উটের পিঠে বসে বক্তব্য দিতেন
ব্যাখ্যা

বিদায় হজে  রাসুল (সা)-এর উটের পিঠে বসে ভাষণ দেওয়ার মূল কারণ ছিল শ্রোতাদের সুবিধার জন্য। তিনি চেয়েছেন যেন আরাফাতের বিশাল ময়দানে সমবেত লাখো মানুষের কাছে তাঁর ভাষণ স্পষ্টভাবে পৌঁছায় এবং সবাই তাঁর কথা শুনতে পায়।

৩৩.
হিরাক্লিয়াস কোন সাম্রাজ্যের সম্রাট ছিলেন?
  1. সাসানীয়
  2. পারস্য
  3. মিশরীয়
  4. রোমান বাইজেন্টাইন
ব্যাখ্যা

হিরাক্লিয়াস বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সম্রাট ছিলেন। তিনি ৬০৮ সাল থেকে ৬৪১ সাল পর্যন্ত এই সাম্রাজ্যের শাসক ছিলেন এবং তার রাজত্বকালে সাম্রাজ্যটি একাধিক সীমান্তে হুমকির সম্মুখীন হয়েছিল। রাসুলে কারিম (সা) দূত মারফত তার কাছে ইসলামের দাওয়াত প্রেরণ করেছিলেন।

৩৪.
মুসলিমরা আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন-
  1. নবুয়তের পঞ্চম বছর
  2. নবুয়তের ষষ্ঠ বছর
  3. নবুয়তের সপ্তম বছর
  4. নবুয়তের অষ্টম বছর
ব্যাখ্যা

আবিসিনিয়ায় হিজরতের এই ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। এতে মুসলিমরা মক্কার নেতাদের নিপীড়ন থেকে বাঁচার জন্য আশ্রয় খুঁজে পায়। প্রথম হিজরত হয় নবুয়তের পঞ্চম বছরে, রজব মাসে। এ সময় মোট ১১ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী হিজরত করেন।

৩৫.
মহানবী (সা) নবুয়তের কোন বছরে মদিনাবাসীর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামের দাওয়াত প্রচার শুরু করেন?
  1. অষ্টম
  2. একাদশ
  3. ত্রয়োদশ
  4. পঞ্চদশ
ব্যাখ্যা

মহানবী (সা) নবুয়তের একাদশ বছরে মদিনাবাসীর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামের দাওয়াত প্রচার শুরু করেন। এটি হিজরতের আগেই সংঘটিত হয়েছিল। হজের সময়ে মদিনা থেকে বিভিন্ন মেয়াদে মানুষজন মক্কায় এসে নবী মুহাম্মদের সঙ্গে আকাবা নামক স্থানে সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা সবাই ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নবীর সঙ্গে আনুগত্যের চুক্তি বা বাইআত করেন। তাঁরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার এবং জাহেলিয়া যুগের গোত্রীয় গোঁড়ামি পরিত্যাগ করার অঙ্গীকার করেন। এর মাধ্যমেই মদিনাবাসীর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামের দাওয়াত প্রচার শুরু হয়।

৩৬.
হুদায়বিয়ার সন্ধির আগে মহানবী (সা) কাকে ইয়েমেনে ইসলামের দাওয়াত প্রচারের জন্য পাঠিয়েছিলেন?
  1. উমায়র ইবন ওয়াহাব (রা)
  2. খালিদ ইবন সাঈদ (রা)
  3. খালিদ ইবন আস (রা)
  4. আবু উমামা (রা)
ব্যাখ্যা

হুদায়বিয়ার সন্ধির আগে মহানবী (সা.)-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বহির্বিশ্বে যেসব দাঈ ও দাওয়াতি কাফেলা প্রেরিত হয় তা হলো—ইয়েমেনে খালিদ ইবন সাঈদ (রা.), বনু বাহিলার কাছে আবু উমামা (রা.), বনু সাদের কাছে লায়ছ গোত্রীয় এক সাহাবি (রা.), হামাদান গোত্রের কাছে আলী (রা.), বনু আদল ও বনু আল-কারার উদ্দেশে ১০ জনের দাওয়াতি কাফেলা, নজদের বনু আমেরের উদ্দেশে ৭০ জনের দাওয়াতি কাফেলা, দুমাতুল জুন্দলের খ্রিস্টানদের উদ্দেশে দাওয়াতি কাফেলা, বালি গোত্রের দাওয়াতি কাফেলা এবং মক্কায় ইসলাম প্রচারের জন্য উমায়র ইবন ওয়াহাব (রা.)-কে প্রেরণ করা হয়।

৩৭.
রাসুলে কারিম (সা) আনুষ্ঠানিকভাবে কবে বিদেশি রাজা-বাদশাদের কাছে ইসলাম প্রচার শুরু করেন?
  1. সপ্তম হিজরির মহররম মাস
  2. সপ্তম হিজরির রবিউস সানি মাস
  3. ষষ্ঠ হিজরির মহররম মাস
  4. ষষ্ঠ হিজরির শাবান মাস
ব্যাখ্যা

রাসুলুল্লাহ (সা.) হোদায়বিয়া সন্ধির পর ৭ম হিজরীর মুহাররম মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশি রাজা-বাদশাদের কাছে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। তিনি পত্রবাহকদের মাধ্যমে আরব ও আরবের বাইরের বিভিন্ন রাজা-বাদশার কাছে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে পত্র প্রেরণ করেন। সপ্তম হিজরির মহররম মাসের একদিন তিনি সাহাবিদের বলেন, ‘বহুল প্রতীক্ষিত সেই মুহূর্ত এসে গেছে। আমি তোমাদের ইসলামের বার্তা সহকারে রাজা-বাদশাহদের দরবারে পাঠাতে চাই। যাও, আল্লাহর ওপর ভরসা করে রাজা-বাদশাহদের কাছে ইসলামের বার্তা পৌঁছে দাও।’ (সিরাত বিশ্বকোষ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

৩৮.
আবিসিনিয়ার সম্রাট নাজ্জাশির মূল নাম কী ছিল?
  1. আসহাম ইবন আবজার
  2. মিসররাজ মুকাওকিস বিন ইয়ামিন
  3. মুনজির ইবন সাওয়া আল-আমিরি আল উবাদি
  4. জায়ফর ইবন জুলন্দি
ব্যাখ্যা

আবিসিনিয়ার সম্রাট নাজ্জাশির মূল নাম ছিল আসহাম (আরবি: أصحمة) ইবন আবজার, যিনি আল-নাজ্জাশি নামেও পরিচিত। তিনি ছিলেন পূর্ব আফ্রিকার আকসুম রাজ্যের রাজা, যা বর্তমান ইথিওপিয়া কেন্দ্রিক ছিল।

৩৯.
মহানবি (সা) কর্তৃক প্রেরিত পত্র কোন শাসক ছিড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলেন?
  1. হিরাক্লিয়াস
  2. খসরু পারভেজ
  3. মুকাওকিস
  4. হাওয়া ইবন আলী
ব্যাখ্যা

মহানবি (সা) কর্তৃক প্রেরিত পত্র পারস্যের সম্রাট খসরু দ্বিতীয় (দ্বিতীয় খসরু) ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলেছিলেন। তিনি এটাকে তাঁর নিজের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে দেখেছিলেন। মহানবী (সা.) কাইসার কিসরার (খসরু পারভেজ) এই অসৌজন্যমূলক আচরণের বিবরণ শুনে ইরশাদ করলেন, ‘আল্লাহ তাআলা তার রাজত্বকে এভাবে ছিন্নবিছিন্ন করে দেবেন।’

৪০.
হুদায়বিয়ার সন্ধিপত্রের শুরুতে লেখা হয় “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”। কুরাইশরা এটি পরিবর্তন করে কী লিখতে বাধ্য করে?
  1. বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা
  2. বিসমিকা আল্লাহুম্মা
  3. বিসমিল্লাহিল আযিম
  4. আল্লাহুম্মা বিসমিকা
ব্যাখ্যা

হুদায়বিয়ার সন্ধিপত্রের শুরুতে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” লিখতে গেলে কুরাইশরা আপত্তি জানায় এবং তাদের পক্ষ থেকে সুহাইল বিন আমর “বিসমিকা আল্লাহুম্মা” লিখতে বলে। রাসুলে কারিম (সা) তার দাবি মেনে নেন।

৪১.
হুদায়বিয়ার সন্ধি অনুযায়ী যদি মক্কা থেকে কেউ মদিনায় হিজরত করে, তবে— 
  1. তাকে গ্রহণ করা যাবে
  2. তাকে ফেরত পাঠাতে হবে
  3. তাকে হত্যা করা হবে
  4. তাকে দাস করা হবে
ব্যাখ্যা

হুদায়বিয়ার সন্ধি অনুযায়ী, মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করা কোনো ব্যক্তিকে (পুরুষ বা মহিলা) তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া মদিনায় গ্রহণ করা হবে না, বরং তাকে মক্কায় ফেরত পাঠাতে হবে। যদিও সন্ধির পরে কুরাইশদের কোনো ব্যক্তি মদিনায় গেলে তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে, কিন্তু মুসলিম নারী বা পুরুষ মক্কা থেকে মদিনায় আসলে তাকে মুসলিমদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে না। 

৪২.
হুদায়বিয়ার সন্ধি ভঙ্গের  ‍মূল কারণ ছিল—
  1. হুনাইন যুদ্ধ
  2. হাওয়াজিন গোত্রের বিশ্বাসঘাতকতা
  3. বানু বকর ও খুজাআ গোত্রের দ্বন্দ্ব
  4. বনু মুস্তালিকের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

হুদায়বিয়ার সন্ধি ভঙ্গের মূল কারণ ছিল বনু বকর ও খুজাআ গোত্রের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব ও তাদের একে অপরের উপর আক্রমণ, যা হুদায়বিয়ার চুক্তির শর্তাবলী লঙ্ঘন করে। বনু বকর গোত্র কুরাইশদের সাথে এবং খুজাআ গোত্র মুসলমানদের সাথে চুক্তিবদ্ধ ছিল, কিন্তু বনু বকর খুজাআ গোত্রকে আক্রমণ করলে কুরাইশরা তাদের সমর্থন করে, যা চুক্তির পরিপন্থী ছিল। 

৪৩.
হুদায়বিয়ার সন্ধির মাধ্যমে মুসলমানরা প্রথমবার কুরাইশদের কাছে কোন স্বীকৃতি লাভ করে? 
  1. রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে
  2. ধর্মীয় শক্তি হিসেবে
  3. রাষ্ট্রীয় শক্তি হিসেবে
  4. যুদ্ধ শক্তি হিসেবে
ব্যাখ্যা

হুদায়বিয়ার সন্ধির মাধ্যমে মুসলমানরা প্রথমবার কুরাইশদের কাছে রাষ্ট্রীয় শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এই সন্ধিটি ৬২৮ খ্রিস্টাব্দে (৬ হিজরি) মদিনার প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে নবী মুহাম্মদ (সা.) এবং মক্কার কুরাইশ গোত্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় এবং এটি ছিল উভয় পক্ষের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। এর মাধ্যমে কুরাইশরা প্রকারান্তরে মদিনাকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

৪৪.
হুদায়বিয়ার সন্ধি ছিল মুসলমানদের জন্য এক প্রকারের— 
  1. সামরিক জয়
  2. সামাজিক পরাজয়
  3. রাজনৈতিক বিজয়
  4. কৌশলগত বিজয়
ব্যাখ্যা

হুদায়বিয়ার সন্ধি মুসলমানদের জন্য এক প্রকারের কৌশলগত ও স্পষ্ট বিজয় ছিল। যদিও বাহ্যিকভাবে চুক্তিটি মুসলমানদের জন্য কিছুটা অপমানজনক মনে হয়েছিল, তবে এর ফলে কুরাইশরা প্রথমবারের মতো মদিনার ইসলামী শক্তিকে স্বীকৃতি দেয় এবং মুসলমানদের শান্তি ও নির্বিঘ্নে ইসলামের দাওয়াত প্রচার করার সুযোগ তৈরি হয়, যা অবশেষে মক্কা বিজয়ের পথ প্রশস্ত করে দেয়।

৪৫.
যুল-হুলাইফা মিকাতটি ভিন্ন কী নামে পরিচিত?
  1. হুদায়বিয়া
  2. বাবে রহমত
  3. আবইয়ারে আলী
  4. মিকাতুন নবি
ব্যাখ্যা

যুল হুলাইফা মিকাতের অপর নাম হলো আবিয়ারে আলী বা বীরে আলী। এই স্থানটি মদীনার নিকটবর্তী এবং বর্তমানে সাধারণ মানুষের কাছে এই নামেই পরিচিত।
যুল হুলাইফা মিকাতটির ঐতিহাসিক বা মূল নাম, যা মদীনা থেকে মক্কাগামী হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত।

৪৬.
বিদায় হজের অন্যতম প্রধান শিক্ষণীয় বিষয় হলো—
  1. অমুসলিমদের প্রতি কঠোর নীতি
  2. মানবসমাজে ন্যায় ও সমতা প্রতিষ্ঠা
  3. জিহাদে অংশগ্রহণের বাধ্যবাধকতা
  4. মুসলিম রাষ্ট্রের প্রসার
ব্যাখ্যা

বিদায় হজের অন্যতম প্রধান শিক্ষণীয় বিষয় হলো— মানবসমাজে ন্যায় ও সমতা প্রতিষ্ঠা। বিদায় হজের ভাষণে রাসুলে কারিম (সা) ন্যায় ও সাম্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। ন্যায় ও সাম্য বলতে বোঝায় এমন একটি নীতি, যেখানে সমাজের প্রতিটি ব্যক্তির ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা হয়।

৪৭.
“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম” – এই আয়াত কোন দিনে নাজিল হয়? 
  1. আরাফার দিন
  2. তাশরীকের দিন
  3. কুরবানির দিন
  4. হিজরতের দিন
ব্যাখ্যা

“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম…” – এই আয়াতটি বিদায় হজ্জের আরাফাহর দিন জুমু'আহ (শুক্রবার) নাজিল হয়। এটি সুরা আল-মায়িদাহ-এর ৩ নম্বর আয়াত। এটি ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিদায় হজ্জের সময়, যখন তিনি আরাফাহর ময়দানে এক ঐতিহাসিক খুতবা দিয়েছিলেন এবং ইসলামের মূলনীতিগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। 

৪৮.
মক্কা বিজয়ের পর যে কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে একজন ছিলেন—
  1. আবু সুফিয়ান
  2. ইকরিমা ইবনে আবু জাহল
  3. উসমান ইবনে তালহা
  4. আবদুল্লাহ ইবনে খাত্তাল
ব্যাখ্যা

মক্কা বিজয়ের সময় নবী (সা.)-এর হাতে যাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে খাতাল অন্যতম ছিলেন। তিনি ও তাঁর দুই বাঁদি তাঁদের মনিবের সঙ্গে কবিতা ও গানে গানে রাসুল (সা.)-এর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করতেন এবং এই কারণে তাঁদের এই দণ্ড দেওয়া হয়েছিল।