পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]

পরীক্ষাব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়05 minutes
মোট প্রশ্ন১৩
সিলেবাস
Exam - 102 Bangla: Topic: ধ্বনি পরিবর্তন, লিঙ্গ, দ্বিরুক্ত শব্দ, যুক্তবর্ণ।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৩ প্রশ্ন

.
'মুরগ > মুরোগ > মোরগ' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রুতি 
  2. বিপ্রকর্ষ 
  3. আদি স্বরাগম 
  4. সম্প্রকর্ষ 
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
• অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ; বস্তি > বসতি ইত্যাদি।
• ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
• উ- মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার > শুকুরবার ইত্যাদি।
• এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক> পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
• ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি

অন্যদিকে, 
• অভিশ্রুতি:
অপিনিহিতির প্রভাবজাত ই কিংবা উ-ধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে মিলে শব্দের পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে। বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষায় যেমন অপিনিহিতির প্রাচুর্য, পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক কথ্যভাষা ও মান্যচলিত ভাষায় তেমনি অনেক অভিশ্রুতি শব্দ লক্ষ করা যায়।
যেমন: মানিয়া > মাইন্যা > মেনে। 

• আদি স্বরাগম:
ধ্বনি পরিবর্তনের ফলে মূল শব্দের আদিতে স্বরধ্বনির আগমন ঘটাকে আদি স্বরাগম বলে।
যেমন- স্কুল > ইস্কুল, স্ত্রী > ইস্ত্রী। 

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন- বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
'ব্যাঙ্গমা' শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. বেঙ্গামি 
  2. বেঙ্গমি 
  3. বেঙ্গইন 
  4. ব্যাঙ্গমি
ব্যাখ্যা


• 'ব্যাঙ্গমা' অর্থ- রূপকথায় বর্ণিত পাখিবিশেষ যা মানুষের মতো কথা বলতে পারে। 
স্ত্রীবাচক শব্দ- ব্যাঙ্গমি।

ঈ-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ: 
• ব্যাঙ্গমা - ব্যাঙ্গমি, 
• ভাগনা/ভাগনে - ভাগনী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

.
বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ কোনটি?
  1. জ্বর জ্বর
  2. কবি কবি
  3. হাতে হাতে
  4. ভালো ভালো
ব্যাখ্যা

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ- হাতে হাতে। 

অন্যদিকে, 
জ্বর জ্বর, কবি কবি ও ভালো ভালো বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ। 

-----------------
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:

পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
অশুদ্ধ যুক্তবর্ণ কোনটি?
  1. দ্‌ + ন = দ্ম
  2. ঞ্‌ + চ = ঞ্চ
  3. হ্ + ন = হ্ন
  4. জ্‌ + ঞ = জ্ঞ
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ যুক্তবর্ণ- দ্‌ + ন = দ্ম। 
- শুদ্ধ যুক্তবর্ণ-  দ্‌ + ম = দ্ম। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ক্ + ট = ক্ট, 
- জ্ + জ = জ্জ,
- ঞ + চ = ঞ্চ,
- ষ্‌ + ণ = ষ্ণ,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ঞ্‌ + জ = ঞ্জ,
- জ্‌ + ঞ = জ্ঞ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

.
স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ কোনটি?
  1. ঞ্চ
  2. ক্ত
  3. ক্স 
  4. স্খ
ব্যাখ্যা

• যুক্তবর্ণ- স্‌ + খ = স্খ। 

---------------
• যুক্তবর্ণ:

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ট, জ, জ্ব, ঞ, ণ্ড, ন্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ঋ, ণ্ঠ, ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্ল, ন্স, জ, ল্প, ল্ট, ন্ড, ল্প, ফ, শু, স্থ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্ব, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ত (ক্ + ত),
ক্স (ক্ + ম),
ক্ষ (ক্ + ষ),
ক্ষ্ম (ক্ + ষ + ম),
ক্স (ক্ + স),
গু (গ্‌ + উ),
ন্ধ (গ্‌ + ধ),
ঙ্গ (ঙ্‌ + গ),
জ্ঞ (জ্‌ + ঞ),
ঞ্চ (ঞ্‌ + চ),
ঞ্জ (ঞ্‌ + জ),
ষ্ণ (ষ্‌ + ণ)
হু (হ্‌ + উ),
হৃ (হ্‌ + ঋ ),
হ্ন (হ্‌ + ন),
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

.
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে-
  1. বিষমীভবন
  2. সমীভবন 
  3. অভিশ্রুতি
  4. অপিনিহিতি 
ব্যাখ্যা

• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
যেমন:
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা,
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বিষমীভবন: 
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন: শরীর > শরীল, লাল > নাল, লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

• সমীভবন:
উচ্চারণের সময় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হয়ে যাওয়াকে বলে সমীভবন।
যেমন- জম্ম > জন্ম, কাঁদনা > কান্না। 

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন: আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
'চুপচাপ' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. অনুকার দ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. বিভক্তিযুক্ত দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়। প্রকাশ পায় 'এই রকম একটা' ভাব।

যেমন-
অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, টাটু-ফাটু, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষ-মেষ, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে।

• অনুকার দ্বিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে।
যেমন-
আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি, ঘোরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি, দামাদামি, পাকাপাকি, বাড়াবাড়ি, মোটামুটি, টুকরো-টাকরা, ধারধোর, জোগাড়-জাগাড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

.
ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. বালিকা
  2. অধ্যাপিকা
  3. নাটিকা
  4. নায়িকা
ব্যাখ্যা

• ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ করা হয়:
একাঙ্ক - একাঙ্গিকা,
নাটক - নাটিকা,
মালা- মালিকা,
গীত - গীতিকা,
পুস্তক - পুস্তিকা,
ঘট - ঘটি।

অন্যদিকে,
• যেসব শব্দের শেষে 'অক্' রয়েছে সেসব শব্দে 'অক্' স্থলে 'ইকা' হয়। যেমন:
বালক - বালিকা,
নায়ক - নায়িকা,
সেবক - সেবিকা,
অধ্যাপক - অধ্যাপিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

.
শুদ্ধ যুক্তবর্ণ কোনটি
  1. হ্‌ + ঊ = হু
  2. হ্‌ + ণ = হ্ণ
  3. হ্‌ + র = হৃ
  4. হ্‌ + ণ = হ্ন
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ যুক্তবর্ণ: হ্‌ + ণ = হ্ণ। 

• যুক্তবর্ণ:

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।
যেমন:
হ্‌ + উ = হু, 
হ্‌ + ঊ = হূ, 
হ্‌ + ঋ = হৃ, 
হ্‌ + ন = হ্ন,  
হ্‌ + ণ = হ্ণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১০.
অপিনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. আজি > আইজ
  2. সাধু > সাউধ
  3. স্কুল> ইস্কুল
  4. চারি > চাইর
ব্যাখ্যা

• অপিনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয়- স্কুল > ইস্কুল। 
- 'স্কুল > ইস্কুল' আদি স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তন।

-----------------
• অপিনিহিতি:

পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- সত্য > সইত্য,
- আজি > আইজ,
- চারি > চাইর,
- সাধু > সাউধ,
- বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১১.
ধ্বনিবাচক দ্বিরুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. গুটিশুটি
  2. অঙ্ক-টঙ্ক
  3. অল্পস্বল্প
  4. কড়কড়
ব্যাখ্যা

• ধ্বনিবাচক দ্বিরুক্ত শব্দ:
কোনোকিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ জাতীয় শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।

ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ বিভিন্নভাবে হতে পারে:
১। মানুষের বিভিন্ন ধ্বনির অনুকরণের সাহায্যে: ভেউ ভেউ করে কাঁদা, ট্যাট্যা করে কাঁদা, হা হা করে হাসা, ঠাঠা করে হাসা ইত্যাদি
২। জীব-জন্তুর ধ্বনিকে অনুকরণ করে: মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ডাক), গুনগুন (মৌমাছির ডাক) ইত্যাদি।
৩। কোন বস্তুর ধ্বনির অনুকরণে: ঝমঝম (বৃষ্টির শব্দ), চুকচুক (দুধ খাবার শব্দ) মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ইত্যাদি।
অনুরূপভাবে, কড়কড় (বিশেষ্য) মেঘগর্জন ধ্বনি; বজ্রপাতের শব্দ।

অন্যদিকে, 
অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ: অল্পস্বল্প, গুটিশুটি, অঙ্ক-টঙ্ক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১২.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. সতীন
  2. বিধবা
  3. দুঃখিনী
  4. সধবা
ব্যাখ্যা

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক। এগুলোর পুরুষবাচক শব্দ নেই। যেমন- সতীন, সৎমা, এয়ো, দাই, সধবা ইত্যাদি।
নিত্য স্ত্রীবাচক তৎসম শব্দ- সতীন, অর্ধাঙ্গিনী, কুলটা, বিধবা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
 • ঈনী, নী প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ-  মায়াবী-মায়াবিনী, কুহক-কুহকিনী, যোগী-যোগিনী, মেধাবী-মেধাবিনী, দুঃখী-দুঃখিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩.
ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. কবাট > কপাট
  2. ধোবা > ধোপা
  3. ধাইমা > দাইমা
  4. মাছুয়া > মেছো
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধোবা > ধোপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
----------------
• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
যেমন:
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।