পরীক্ষা আর্কাইভ

GKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

পরীক্ষাGKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১ টপিক: বৈশ্বিক ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) প্রস্তর যুগ · ধাতুরযুগ, নৃগোষ্ঠী - ককেশীয়, মঙ্গোলীয়, নিগোয়েড ও অস্ট্রেলীয় । সভ্যতা, মেসোপটেমিয়া সভ্যতা (সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয়, অ্যাসেরীয় ও ক্যালডীয়) এবং মিশরীয় সভ্যতা, সিন্ধু সভ্যতা ফিনিশীয় সভ্যতা, পারস্য সভ্যতা, হিব্রু সভ্যতা। প্রাচীন যুগ (বাকী অংশ) চৈনিক সভ্যতা, ইজিয়ান সভ্যতা, গ্রীক সভ্যতা, রোমান সভ্যতা। [Live Class - 1 & 2]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

GKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

GKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
ককেশীয় জাতির প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. কালো ত্বক
  2. সরু নাক
  3. চ্যাপটা নাক
  4. ভারি ঠোঁট
সঠিক উত্তর:
সরু নাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরু নাক
ব্যাখ্যা

ককেশীয় বা শ্বেতকায়:
- নৃগোষ্ঠী (Race) বলতে জৈবিক ও দৈহিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মানবপ্রজাতির একেকটি উপবিভাগকে বোঝায়।
- মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ অধিবাসী ককেশীয় নৃগোষ্ঠীর।
- ককেশীয় নৃ-গোষ্ঠীর মূল বাসস্থান ইউরোপ, আমেরিকা, উত্তর আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায়।

⇒ ককেশীয়দের মাথা প্রধানত লম্বাকৃতির হয়।
- এদের মুখ সরু বা লম্বাকৃতির, নাক প্রধানত খাড়া, চিকন, লম্বা ও সরু, চোখের রং হালকা থেকে কালো বাদামি, ঠোঁট পাতলা ধরনের এবং কান মাঝারি গোছের।
- এদের গায়ের রং প্রধানত সাদা বা লালচে সাদা।
- ককেশীয়দের চুলের রং বাদামি বা সোনালি এবং এরা দীর্ঘ দেহের অধিকারী।

উৎস: i) Britannica.
ii) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
মিশরীয় সভ্যতার প্রথম ফারাও-এর মর্যাদাও লাভ করেন কে?
  1. রাজা মেনেস
  2. রাজা তুতেনখামেন
  3. রাজা থুতমোস
  4. সম্রাট ইখনাটন
সঠিক উত্তর:
রাজা মেনেস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা মেনেস
ব্যাখ্যা

মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতার যাত্রা শুরু হয়েছিল ৫০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। 
- রাজা মেনেস নামে এক শক্তিশালী সামন্ত রাজা খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ অব্দে উত্তর ও দক্ষিণ মিসরকে একত্রিত করে একটি বড় রাজ্যে পরিণত করেন। তাঁকে মিশরের প্রথম রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। তিনি প্রথম ফারাও-এর মর্যাদাও লাভ করেন।
- উচ্চ মিসরের রাজধানী ছিল থিবস (Thebes)। দক্ষিণ মিসরের মেক্ষিশ শহরে নতুন রাজধানী স্থাপন করা হয়।
- রাজা মেনেসের পর থেকে তিন হাজার বছর পর্যন্ত প্রাচীন মিসরে ৩১টি রাজবংশের ইতিহাস পাওয়া যায়।
- মিসরের 'ফারাও' বা সম্রাটের মধ্যে বিখ্যাত ছিলেন রাজা মেনেস, প্রথম আহমোজ, রাজা থুতমোস, সম্রাট ইখনাটন, তৃতীয় আমেনহোটেপ এবং প্রথম ও দ্বিতীয় র‍্যামেসিস।

⇒ স্থাপত্য ও ভাস্কর্য:
- মিশরীয়দের বলা হয় ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। পাথর কেটে কেটে তারা প্রকাণ্ড সব সৌধ বানাতে ছিল খুব দক্ষ। তাদের এসব সৌধ হচ্ছে মিশরের বিখ্যাত পিরামিড। সবচেয়ে বড় পিরামিড ফারাও খুফুর পিরামিড যার উচ্চতা ৪৮১ ফুট। তারা মৃত্যুর পর আরেকটি জীবনে বিশ্বাসী ছিল। সে জীবনেও রাজা হবেন ফারাও। তাই তাদের মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্যে তৈরি করা হয়েছিল পিরামিড। আর মধ্যরাজ বংশের আমলে পিরামিডের বদলে ফারাওরা তৈরি করেন ধর্ম মন্দির। সবচেয়ে বড় মন্দির কারনাক মন্দির। ভাস্কর্যের অধিকাংশ নিদর্শন দেখা যায় সমাধি, সৌধ ও মন্দিরের প্রবেশ পথে। মন্দিরের ভেতরের দেয়াল সাজানো হতো মূর্তি খোদাই করে। মিশরীয় ভাস্কর্যের সবচেয়ে গৌরব 'স্ফীংস' তৈরিতে। বহুখণ্ড পাথরের গায়ে ফুটিয়ে তোলা হতো এ ভাস্কর্য। এর দেহ ছিল সিংহের আর মাথা ছিল ফারাওয়ের। এর দ্বারা বুঝানো হতো ফারাও সিংহের মতো বলবান।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ব্যাবিলনীয় সভ্যতার বিখ্যাত রাজা কে?
  1. হাম্মুরাবী
  2. সার্গন
  3. হিত্তি রাজা
  4.  অ্যাশারবানিপাল
সঠিক উত্তর:
হাম্মুরাবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাম্মুরাবী
ব্যাখ্যা

রাজা হাম্মুরাবী:
- রাজা হাম্মুরাবী (১৭৯২-১৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) ছিলেন এ্যামোরাইট তথা ব্যবিলনীয় সভ্যতা জাতির বিখ্যাত নেতা।
- তাঁর আমলে ব্যবিলন নতুন সভ্যতায় উদ্ভাসিত হয়।
- ইউফ্রেটিস উপত্যকায় ব্যবিলনে তিনি কেন্দ্রীয় রাজ্য স্থাপন করেন এবং যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে এক বিশাল শক্তিশালী রাজ্য গড়ে তোলেন।

⇒ ব্যবিলনীয় সভ্যতা চরম খ্যাতি অর্জন করে বিখ্যাত সম্রাট হাম্মুরাবীর শাসনামলে। হাম্মুরারীর আইন জগত বিখ্যাত। পরবর্তীতে ব্যবিলনীয় সভ্যতা জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং ব্যবসা বাণিজ্যে প্রভূত উন্নতি সাধন করে।

⇒ ব্যবিলনীয় সভ্যতা:

- মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে গড়ে ওঠা অপর সভ্যতা (ব্যাবিলনীয়) সভ্যতার জনক ছিলো-সেমিটিক জাতি।
- ব্যাবিলনীয় সভ্যতা গড়ে তোলে এ্যামোরাইট নামক সেমিটিক জাতি। প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে সেমিটিক জাতির অবদান সর্বাধিক। প্রকৃত পক্ষে সুমেরীয় রাজা ডুঙির মৃত্যুর পর পরই সুমেরীয় সভ্যতার পতন ঘটে। সুমেরীয় সভ্যতার ধ্বংসস্তূপের ওপর গড়ে ওঠে ব্যবিলনীয় সাম্রাজ্য বা সভ্যতা।
- অ্যামোরাইটরা আরব মরুভূমির উত্তরাঞ্চল থেকে মেসোপটেমিয়ায় এসে ১৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ব্যবিলনে সভ্যতা গড়ে তোলে। এই সভ্যতাকে প্রাচীন ব্যবিলনীয় সভ্যতা বলা হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নিম্নের কোন নিদর্শনটি সিন্ধু সভ্যতায় পাওয়া গেছে?
  1. বৃহৎ স্নানাগার
  2. বিরাট শস্যাগার
  3. বৃহৎ হল
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে অনেক সময়ে হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়ে থাকে। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের মহেঞ্জোদারোতে এবং পাঞ্জাবের হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়। মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা উভয় অঞ্চল একই সভ্যতার অন্তর্গত।
- সিন্ধু সভ্যতার সিল ও মাটির পাত্রের সাথে মেসোপটেমীয় দ্রব্যের মিল দেখে এ সভ্যতার আনুমানিক সময়কাল নির্ণয় করা হয়েছে।
- ধারণা করা হয় যে, দ্রাবিড় জাতি-এ সভ্যতা গড়ে তুলেছিল।

⇒ স্থাপত্য ও ভাস্কর্য:
- সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসিরা গুরুত্বপূর্ণ এবং চমৎকার স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন রেখে গেছে।
- সেখানে দুই কক্ষ থেকে পঁচিশ কক্ষের বাড়ির সন্ধানও পাওয়া গেছে। আবার কোথাও দুই তিন তলার ঘরের অস্তিত্ব আবিস্কৃত হয়েছে।
- তাদের ঘরবাড়িগুলো দেখলে সহজে বুঝা যায়- নগরবাসীরা বিলাসী ছিল। মহেঞ্জোদারোর স্থাপত্যের চমৎকার উদাহরণ হলো 'বৃহৎ হল।' ৮০ ফুট জায়গা জুড়ে তৈরি হয়েছিল এ ঘরটি। ঘরে ছিল সারি বাঁধা বেঞ্চ আর সামনে মঞ্চ। এটি একটি সভাগৃহ ছিল বলে ধারণা করা হয়। হরপ্পাতে ১৬৯×১৩৫ ফুটের একটা প্রকাণ্ড গুদামঘর পাওয়া গেছে।
- তাছাড়া বিরাট এক প্রাসাদের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- হরপ্পাতে বিরাট আকারের শস্যাগারও পাওয়া গেছে।
- মহেঞ্জোদারোতে একটি 'বৃহৎ স্নানাগার'-এর নিদর্শন পাওয়া গেছে, যার মাঝখানে বিশাল চৌবাচ্চাটি ছিল সাঁতার কাটার উপযোগী।
- হরপ্পা মহেঞ্জোদারোতে প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্ম হলো বিভিন্ন ধরনের প্রায় ২৫০০ সিল। ধর্মীয় ও ব্যবসায় বাণিজ্যের প্রয়োজনে এগুলো ব্যবহৃত হতো। তবে সিলগুলোর লেখা এখনও পড়ে তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হয়নি। এ থেকে ধারণা করা যায় যে, সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসিরা লেখা পড়া জানতো।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
চাকার আবিষ্কার কোন যুগে হয়েছিল?
  1. তাম্র যুগ
  2. মধ্য প্রস্তর যুগ
  3. নব্য প্রস্তর যুগ
  4. প্রাচীন প্রস্তর যুগ
সঠিক উত্তর:
নব্য প্রস্তর যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নব্য প্রস্তর যুগ
ব্যাখ্যা

নব্য প্রস্তর যুগ:
- 'নব্যপ্রস্তর' শব্দটি এসেছে ইংরেজি Neolithic প্রতিশব্দ থেকে।
- আনুমানিক ৮০০০-৩৫০০ খ্রিস্টপূর্ব অব্দের মধ্যে ও নিকট প্রাচ্যে নব্য প্রস্তরযুগের প্রথম বিকাশ ঘটে।
- অতঃপর ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল এবং অবশেষে খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দে ইংল্যান্ডে এ যুগের সূচনা হয়।
- এ যুগে তাঁত বা বয়ন শিল্পের বিকাশ ঘটে।
- নব্য প্রস্তরযুগের গুরুত্বপূর্ণ একটি কীর্তি হল চাকার আবিষ্কার।
- চাকার আবিষ্কার, মৃৎশিল্প, তাঁতশিল্প, পরিবহন এবং যুদ্ধকৌশলে পরিবর্তন ঘটায়।
- কৃত্রিম পদ্ধতিতে আগুন জ্বালানোর কৌশল আয়ত্ত্ব এবং এর ব্যাপক ব্যবহার নব্য প্রস্তর যুগের অর্জন।
- নব্য প্রস্তরযুগে বিবাহ ও পরিবার ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

⇒ নব্য প্রস্তরযুগের শেষপর্যায়ে এসে সীমিত আকারে তামার ব্যবহার শুরু হয়।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
হাইডেলবার্গ মানব কোন যুগের প্রতিনিধি?
  1. মধ্য প্রস্তর যুগ
  2. নিম্ন প্রাচীন প্রস্তর যুগ
  3. নব্য প্রস্তর যুগ
  4. ধাতু যুগ
সঠিক উত্তর:
নিম্ন প্রাচীন প্রস্তর যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্ন প্রাচীন প্রস্তর যুগ
ব্যাখ্যা

হাইডেলবার্গ মানব:
- নিম্ন প্রাচীন প্রস্তর যুগের প্রতিনিধি হাইডেলবার্গ মানব।
- হোমো হাইডেলবার্গেনসিস নামে এরা পরিচিত ছিল।
- এরা ছিল জাভা ও পিকিং মানুষের সমসাময়িক।

⇒ আফ্রিকা, ইউরোপ এবং সম্ভবত এশিয়ায় ৬০০,০০০ থেকে ২০০,০০০ বছর আগেকার জীবাশ্ম থেকে এদের ধারনা পাওয়া যায়। 
- ড্যানিয়েল হার্টম্যান ১৯০৭ সালে জার্মানির হাইডেলবার্গে মায়ার নামক স্থানে এই প্রজাতির মানুষের চোয়ালের কিছু হাড় আবিষ্কার করেন।
- মায়ার অঞ্চলে আবিষ্কৃত হয় বলে এদের মায়ার মানুষও বলা হয়।
- মনের ভাব প্রকাশ করত মুখে বিভিন্ন রকম শব্দ তুলে ও অঙ্গভঙ্গির মাধ্যেমে।
- এদের চোয়াল ছিল নিম্নমুখী ও অনেক শক্তিশালী।

উৎস: Britannica.

.
পৃথিবীর ইতিহাসে কারা প্রথম সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক সভ্যতা গড়ে তোলে?
  1. ফিনিশীয়রা 
  2. হিব্রুরা 
  3. গ্রীকরা 
  4. ইজিয়ানরা
সঠিক উত্তর:
ফিনিশীয়রা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিনিশীয়রা 
ব্যাখ্যা

ফিনিশীয় সভ্যতা:
- ভূমধ্যসাগর এবং লেবানন পর্বতের মাঝে ১২৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৫ কিলোমিটার প্রস্থ সম্বলিত একখণ্ড সরু উপকূল অঞ্চলে ফিনিশীয় নামের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটি গড়ে উঠেছিল।
- ফিনিশীয় একটি সম্প্রদায়ের নাম। তাদের সামনে ছিল সাগর আর পিছনে ছিল পাহাড়। 
- কৃষিকাজ করার মতো কোন উর্বর ভূমি না থাকায় তাদের আয়ের একমাত্র উৎস ছিল বাণিজ্য।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে তাদের উত্থান হয়েছিল।
- নানা ঘটনা প্রবাহের পর ৩৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিক বীর আলেকজান্ডার টায়ার নগরী দখল করে একে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেন। আর তখনই ফিনিশীয় সভ্যতার পতন ঘটে।

⇒ প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের পরিচয় শ্রেষ্ঠতম নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে। তাদের মূল অবদানসমূহ জড়িয়ে আছে নৌ-বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে। তাদের ছিল অনেকগুলো সমুদ্র বন্দর। তাদের বিখ্যাত দুটি বন্দর হলো টায়ার ও সিডন। 
- ফিনিশীয় বণিকগণ জাহাজ নিয়ে ব্যবসার জন্য ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণসাগড় পাড়ি দিত।
- প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে ফিনিশীয়দের খ্যাতি ছিল প্রচুর।
- মূলত ফিনিশীয়রাই প্রথম পৃথিবীর ইতিহাসে সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক সভ্যতা গড়ে তোলে।

⇒ ফিনিশীয়দের উন্নতির মূলে ছিল নৌ-বাণিজ্য। ফিনিশীয়গণ বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। তারা স্পেন থেকে সোনা, রুপা ও টিন এনে তা বিভিন্ন দেশে বিক্রি করত।
- ফিনিশীয়রা বাণিজ্যের পাশাপাশি কারিগরি ক্ষেত্রেও দক্ষতা অর্জন করেছিল। 
- গ্রিক কবি হোমারের লেখায় ফিনিশীয়দের তৈরি পোশাক ও সোনার অলংকারের কথা রয়েছে।
- হিব্রুদের গ্রন্থে রয়েছে ফিনিশীয়দের সোনা, রুপা, লোহা ও কাঠের দ্রব্যের কথা।
- এ্যাসিরীয়দের রাজপ্রাসাদের আসবাবপত্র তৈরি করে দিয়েছিল ফিনিশীয় কারিগররা।
- তারা জেরুজালেমে তৈরি করেছিল মন্দির।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কার আক্রমণের মাধ্যমে ক্যালডীয় সভ্যতার পতন ঘটে?
  1. পারস্যদের আক্রমণ
  2. মঙ্গোলীয়দের আক্রমণ
  3. রোমানদের আক্রমণ
  4. গ্রিকদের আক্রমণ
সঠিক উত্তর:
পারস্যদের আক্রমণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারস্যদের আক্রমণ
ব্যাখ্যা

ক্যালডীয় সভ্যতা:
- ৬১২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এ্যাসিরীয়দের পতন এবং ক্যালডীয়দের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মেসোপটেমীয় সভ্যতা চূড়ান্ত পর্বে উন্নীত হয়।
- মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় বসবাসকারী সেমিটিক জাতিভুক্ত ক্যালডীয়রা এ সভ্যতা গড়ে তোলে বলে ইতিহাসে এটি ক্যালডীয় সভ্যতা নামে পরিচিত।
- এ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা নেবোপালেসার এ্যাসিরীয়দের সমৃদ্ধ রাজধানী নিনেভা ধ্বংস করে পুনরায় ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরী ব্যাবিলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ও তাদের সভ্যতা গড়ে তোলে বলে এ সভ্যতা নতুন ব্যাবিলনীয় সভ্যতা নামেও পরিচিত।
- এ সাম্রাজ্যের উল্লেখযোগ্য শাসক ছিলেন সম্রাট নেবুচাঁদনেজার।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৮ অব্দে ক্যালডীয় সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়ে পারস্য সম্রাট কাইরাস ক্যালডীয়দের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে।

⇒ উল্লেখযোগ্য অবদান:
- ব্যাবিলনীয় সভ্যতার স্থপতি হাম্মুরাবির সংস্কৃতি অনেকটাই গ্রহণ করেছিল ক্যালডীয়রা।
- সম্রাট নেবুচাঁদনেজার তৈরি করেছিলেন আশ্চার্য সুন্দর এক বাগান, ইতিহাসে যা 'শূন্য উদ্যান' নামে পরিচিত।
- ক্যালডীয়দের প্রধান দেবতা ছিল বৃহস্পতি বা জুপিটার গ্রহ। 
- ক্যালডীয়রাই প্রথম সপ্তাহকে সাত দিনে বিভক্ত করে।
- তারাই প্রতিদিনকে ১২ জোড়া ঘণ্টায় ভাগ করার পদ্ধতি বের করে।
- বছরের দৈর্ঘ্যও তারা বের করে।
- এ যুগের জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ ১২টি নক্ষত্রপুঞ্জের সন্ধান পান। তা থেকে ১২টি রাশিচক্রের সৃষ্টি হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
সম্রাট দারিয়ুস কোন গণনা রীতি চালু করে দিনপঞ্জি তৈরি করেন?
  1. ১০ মাসে বছর ও ২৫ দিনে মাস
  2. ১২ মাসে বছর ও ৩০ দিনে মাস
  3. ১৫ মাসে বছর
  4. ৬ মাসে বছর
সঠিক উত্তর:
১২ মাসে বছর ও ৩০ দিনে মাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ মাসে বছর ও ৩০ দিনে মাস
ব্যাখ্যা

পারস্য সভ্যতা:
- আজকের ইরান দেশটি প্রাচীনকালে পারস্য নামে পরিচিত ছিল।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫৫৯ অব্দ থেকে ৩০০ অব্দের মধ্যে এখানে পারস্য সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- রাজা ক্যামবিসাস আততায়ীর হাতে নিহত হলে দারিয়ুস নামক এক সামন্ত অভিজাত খ্রিস্টপূর্ব ৫২২ অব্দে পারস্যের সম্রাট নিযুক্ত হন। তাঁর শাসনামলে পারস্য গ্রীক ও রোমানদের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। রাজা দারিয়ুসের মৃত্যুর পর তার পুত্র জারেক্সস পারস্য শাসন করেন। পারস্য সাম্রাজ্যের শেষ দিকে দুর্বল শাসনের কারণে রাজশক্তির ক্ষয় হয়। ৩৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিক বীর আলেকজান্ডার পারস্য আক্রমণ করে দখল করে নেন। 

⇒ সম্রাট দারিয়ুস চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নের জন্য কাজ করেন।
- মিশরীয় চিকিৎসা বিদ্যালয়কে তিনি সংস্কার করেন।
- বিখ্যাত ক্যালডীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী 'নেবুরিমানু'কে তিনি সব ধরনের সহযোগিতা দেন। এছাড়া ক্যালডীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী 'কিদিন'ও পারস্য সম্রাটের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন।
- সম্রাট দারিয়ুস ১২ মাসে বছর ও ৩০ দিনে মাস গণনার রীতি চালু করে পারসীয় দিনপঞ্জি তৈরি করেন।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
ধাতুর যুগের প্রথম ধাতু কোনটি?
  1. লোহা
  2. তামা
  3. সোনা
  4. রুপা
সঠিক উত্তর:
তামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তামা
ব্যাখ্যা

ধাতুর যুগ:
- নতুন প্রস্তর যুগের শেষদিকে ভারতের আদি মানবেরা ধাতুর ব্যবহার শিখে।
- নতুন পাথরের যুগে উন্নত ধরনের হাতিয়ার তৈরি হত। এইজন্য প্রয়োজন ছিল শক্ত পাথরের। এই পাথর খুঁজতে গিয়েই এক সময় মানুষ তামার সন্ধান পায়।

উল্লেখ্য,
- স্বর্ণের সন্ধান পেয়েছিল মানুষ প্রথমেই। এর উজ্জ্বলতা তাদের আকৃষ্টও করেছিল। কিন্তু, অভিজ্ঞতা দিয়ে তারা দেখেছে অস্ত্র ও ব্যবহার্য দ্রব্য তৈরিতে স্বর্ণের চেয়ে তামা বেশি কার্যকর। এভাবেই, প্রাগৈতিহাসিক যুগের শেষদিকে ভারতে ব্যাপকভাবে তামার ব্যবহার শুরু হয়। তবে, অঞ্চলভেদে তামার ব্যবহারের তারতম্য ছিল।

⇒ প্রত্নতত্ত্ববিদগণ মনে করেন, উত্তর ভারতে প্রথম পাথরের বদলে তামার ব্যবহার শুরু হয়। এ সময় তামা দিয়ে মূলত: অস্ত্র এবং সাধারণ পাত্র তৈরি করা হতো। উত্তর ভারতের প্রায় সর্বত্রই তামার তৈরি দ্রব্য-সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে। তবে, সবচেয়ে বেশি এ অঞ্চলে পাওয়া দ্রব্য সামগ্রীর মধ্যে কুঠার, তলোয়ার, হারপূণ, তীরের ফলা, বাটালি ইত্যাদির নাম করা যেতে পারে।
- তামা ব্যবহারের যুগটিকে ইতিহাসে তাম্রযুগ বলা হয়। 

⇒ তামা আবিষ্কারের বহুকাল পর মানুষ লোহার সন্ধান পায়। লোহা ব্যবহারের যুগটি পরিচিত ছিল লৌহ যুগ নামে।
- এই দুই যুগের মাঝ পর্বে আরেক ধরনের ধাতু ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ধাতুটি হচ্ছে ব্রোঞ্জ। তামা এবং টিন মিশিয়ে এই ব্রোঞ্জ তৈরি করা হতো। এ যুগে মানুষ ব্রোঞ্জ তৈরির কায়দা উদ্ভাবন করতে পেরেছিল।
- লোহা আবিষ্কারের পর তামার ব্যবহার কমে যায়।
- পণ্ডিতগণ মনে করেন, আর্যরা ভারতে প্রথম লোহার ব্যবহার শুরু করেছিল।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
চৈনিক সভ্যতার বিখ্যাত দার্শনিক কে?
  1. কনফুসিয়াস
  2. সক্রেটিস
  3. অ্যারিস্টটল
  4. প্লেটো
সঠিক উত্তর:
কনফুসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কনফুসিয়াস
ব্যাখ্যা

চীন সভ্যতা:
- চীনের তিনটি অঞ্চলে প্রাচীন চৈনিক সভ্যতা গড়ে ওঠে। প্রথমটি হোয়াং হো নদীর তীরে, দ্বিতীয়টি ইয়াং জে কিয়াং নদীর তীরে আর তৃতীয়টি দক্ষিণ চীনের ভূখণ্ডে। চীনের এই প্রাচীন সভ্যতা সৃষ্টি হয় শাং রাজাদের ও চৌ রাজাদের যুগে।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে এখানে সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছিল।
- চীনবাসীরা হোয়াং-হো ও ইয়াংসি নদীর দুটি পাড়েই বসবাস করত। 

⇒ চীনের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী দার্শনিক ছিলেন কনফুসিয়াস।
- তিনি চীনাদের মধ্যে আদর্শ জীবনের বাণী প্রচার করেন।
- খ্রিস্টপূর্ব ২০৬ অব্দে তাঁর নৈতিক দর্শন ধর্মে রূপান্তরিত হয়।
- এছাড়া চীনের উল্লেখযোগ্য দার্শনিক লাওৎসে, জেনসিয়াস, মোতি।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) EBSCO.
iii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
সুমেরীয় সভ্যতার রাজধানী কোনটি?
  1. উর
  2. নিনেভে
  3. সুসা
  4. ব্যাবিলন
সঠিক উত্তর:
উর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উর
ব্যাখ্যা

সুমেরীয় সভ্যতার অবস্থান ও সময়কাল:
- মেসোপটেমীয় অঞ্চলে বসতি গড়ে তোলায় প্রথম নেতৃত্ব দেয় সুমেরীয়রা।
- তাদের আদি বাসস্থান ছিল মেসোপটেমিয়ার (বর্তমান ইরাক) উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এলামের পাহাড়ি অঞ্চলে।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে এদের একটি শাখা মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণে বসতি গড়ে তোলে। তাদের নামানুসারে এ অঞ্চলটির নাম সুমেরীয় অঞ্চল। 

⇒ নগররাষ্ট্র:
- কয়েকটি নগরকে কেন্দ্র করে সুমেরীয়রা সভ্যতার বিকাশ ঘটিয়েছিল।
- সুমেরীয়রা কতকগুলি নগরের গোড়াপত্তন করেছিল।
- এগুলোর মধ্যে তাদের রাজধানী ছিল উর।
- রাজধানী উর ছাড়াও সভ্যতার প্রাণ কেন্দ্র ছিল লাগাস, কিস, ইরিদু এবং উরুক অন্যতম।
- সুমেরীয়রা প্রথম মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে খাল খনন, জলাশয় ও বাঁধ নির্মাণ করে সেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলে এবং নিজেদের উন্নতি ঘটিয়ে নগর সভ্যতার উদ্ভব ঘটায়।
- ৩৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে প্রায় ১৮টি নগর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এসব নগর রাষ্ট্রের প্রশাসকরা 'এনসি' নামে পরিচিত ছিলেন।
- বিখ্যাত শাসক সারগন সুমেরের নগর রাষ্ট্রগুলিকে একত্রিত করে সভ্যতার বিকাশ ঘটান।
- সুমেরিয়ায় সারগনের প্রতিষ্ঠিত আক্কাদীয় রাজ্য দুশো বছর স্থায়ী ছিল।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
‘চাঁদের নিজের কোনো আলো নেই’-এর আবিষ্কারক কারা?
  1. মিসরীয়রা
  2. গ্রিকরা
  3. রোমানরা
  4. চৈনিকরা
সঠিক উত্তর:
গ্রিকরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিকরা
ব্যাখ্যা

গ্রিক সভ্যতা:
- গ্রিস দেশটি আড্রিয়াটিক সাগর, ভূমধ্যসাগর ও ঈজিয়ান সাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত। 
- আনুমাণিক খ্রিস্টপূর্ব ১৩০০-১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিক সভ্যতার সূচনা হয় যার পূর্ণ বিকাশ ঘটে খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ ও ৫ম শতকে।
- গ্রিকরা ৩৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত সভ্যতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়।
- অড্রিয়াটিক সাগর, ভূমধ্যসাগর, এজিয়ান সাগর দ্বারা বেষ্টিত থাকার কারণে গ্রীক সভ্যতাকে 'ওসেনিয়ান' (সাগরীয়) সভ্যতা বলা হয়।
- গ্রীক সভ্যতার দুটি স্তর রয়েছে। প্রথম স্তর হেলেনিক সভ্যতা এবং দ্বিতায় স্তরে হেলেনিস্টিক সভ্যতা।

⇒ গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে।
- পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অংকন করেন গ্রিক বিজ্ঞানিরা।
- তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।
- চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই, বজ্র ও বিদ্যুৎ জিউসের ক্রোধের কারণে নয় প্রাকৃতিক কারণে ঘটে। এই সত্য তারাই প্রথম আবিষ্কার করেন।
- জ্যামিতি বিষয়ে পন্ডিত ইউক্লিড পদার্থবিদ্যায়ও পারদর্শী ছিলেন। বিখ্যাত গণিতবিদ পিথাগোরাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিপোক্রেটসের যথেষ্ট খ্যাতি ছিল।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
কারা সর্বপ্রথম লোহার অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী গঠন করে ও যুদ্ধ রথের ব্যবহার করে?
  1. পারস্যিকরা
  2. গ্রিকরা
  3. মিশরীয়রা
  4. এ্যাসেরীয়রা
সঠিক উত্তর:
এ্যাসেরীয়রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ্যাসেরীয়রা
ব্যাখ্যা

এ্যাসিরীয় সভ্যতা:
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১০০০-৯০০ অব্দের মধ্যে এ্যাসিরীয় সভ্যতার পত্তন ঘটে।
- ব্যাবিলন থেকে প্রায় দু'শ মাইল উত্তরে টাইগ্রিস নদীর তীরে একটি শহর গড়ে ওঠে। সমৃদ্ধ এ শহরের নাম এ্যাসুর। এ শহরের অধিবাসীরা এ্যাসিরীয় নামে পরিচিত ছিল।
- প্রথমদিকে কৃষিকাজ আর পশুপালন করে এরা জীবন চালাত। 

⇒ সামরিক ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- তারা গোলন্দাজ বাহিনী গঠন করে এবং যুদ্ধরথের ব্যবহার করে। তারা সর্বপ্রথম লোহার অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী গঠন করে ও যুদ্ধ রথের ব্যবহার করে।
- ক্রমে এ্যাসিরীয় রাষ্ট্র একটি সামরিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- এ্যাসিরীয় সম্রাট বিশ্বাস করতেন তিনি দেবতা অসুরের প্রতিনিধি।
- এ্যাসিরীয়দের অর্থনীতির মূল উৎস ছিল বিভিন্ন দেশ থেকে লুণ্ঠন করে আনা ধনসম্পদ। অল্প বিস্তর বাণিজ্যও তারা করত।

⇒ ধর্মীয় ক্ষেত্রে এ্যাসিরীয়রা ব্যাবিলনীয়দের অনুসরণ করে।
- তাদের প্রধান দেবতা ছিল আসুর। এরপর ছিল ইশতারের স্থান।

⇒ এ্যাসিরীয়রা পাথর দিয়ে ঘর-বাড়ি নির্মাণ ও তৈজসপত্র তৈরিতে দক্ষ ছিল।
- জ্ঞান-বিজ্ঞানে তাদের উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল। সম্রাট আশুরবনিপালের গড়া একটি বৃহৎ গ্রন্থাগার পাওয়া গেছে রাজধানী নিম্পরে।
- তারাই প্রথম বৃত্তকে ৩৬০° তে ভাগ করে।
- পৃথিবীকে সর্বপ্রথম তারা অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশে ভাগ করেছিল।
- চিকিৎসাবিদ্যায় এ্যাসিরীয়দের ভূমিকা ছিল অসামান্য। তারা পাঁচশ'রও বেশি উদ্ভিদ ও খনিজ ওষুধের তালিকা প্রণয়ন করে সেগুলোর গুণাগুণ ও ব্যবহার পদ্ধতি লিপিবদ্ধ করে।
- উত্তরসূরি শাসকদের বিভিন্ন দুর্বলতা এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর আক্রমণের মুখে তিন'শ বছরের এই প্রাচীন সভ্যতা খ্রিস্টপূর্ব ৬১২ অব্দে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
ইজিয়ান সভ্যতা কোথায় গড়ে উঠেছিল?
  1. গ্রিসে
  2. জেরুজালেমে
  3. ইরাকে
  4. মিশরে
সঠিক উত্তর:
গ্রিসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিসে
ব্যাখ্যা

ইজিয়ান সভ্যতা:
- ইজিয়ান সভ্যতা গড়ে উঠেছিল গ্রিসে।

⇒ ইজিয়ান সভ্যতা প্রস্তর ও ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা।
- ইজিয়ান সাগরের অঞ্চলে যথাক্রমে প্রায় ৭০০০-৩০০০ খ্রিস্টপূর্বে এবং প্রায় ৩০০০-১০০০  খ্রিস্টপূর্বে গড়ে উঠে।
- ইজিয়ান সভ্যতার অপর নাম মিনীয় (Minoan) সভ্যতা।
- মিনীয় সভ্যতা অঞ্চলটি ক্রিট, সাইক্লেডস এবং অন্যান্য কিছু দ্বীপ এবং গ্রীক মূল ভূখন্ড, পেলোপোনিজ, মধ্য গ্রীস এবং থেসালি নিয়ে গঠিত।
- ইজিয়ান সভ্যতার কেন্দ্র ছিল গ্রিস।
- ইজিয়ান সাগরের তীরবর্তী পূর্ব বলকান অঞ্চল নিয়ে ইজিয়ান সভ্যতা গড়ে উঠে।
- ইজিয়ান সভ্যতার তথ্য পাওয়া যায় গ্রিক কবি হোমারের ইলিয়ড ও ওডেসি মহাকাব্যে।
- ইজিয়ান সভ্যতার পতন ঘটে ১১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।

উৎস: Britannica.

১৬.
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নাট্যশালা নির্মিত হয়েছিল কোথায়?
  1. মিশরীয় সভ্যতায়
  2. সিন্ধু সভ্যতায়
  3. গ্রিক সভ্যতায়
  4. রোমান সভ্যতায়
সঠিক উত্তর:
রোমান সভ্যতায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান সভ্যতায়
ব্যাখ্যা

কলোসিয়াম:
- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নাট্যশালা কলোসিয়াম প্রাচীন রোমান সভ্যতায় গড়ে ওঠে। 

⇒ কলোসিয়াম হচ্ছে রোমানদের তৈরি এক বিশাল অ্যাম্ফিথিয়েটার বা নাট্যশালা।
- কালোসিয়ামের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ৭২ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট ভেসপেসিয়ান (Vespasian) এর শাসনামলে এবং তার পুত্র টিটাস (Titus) ৮০ খ্রিস্টাব্দে এটি সম্পূর্ণ করেন। পরে, সম্রাট ডমিশিয়ান (Domitian) কিছু সংস্কার কাজ করেন।
- কলোসিয়ামটি মূলত গ্ল্যাডিয়েটরদের লড়াই এবং অন্যান্য জনসমক্ষে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীগুলোর জন্য ব্যবহৃত হতো। 
- এর প্রাথমিক নাম ছিল ফ্ল্যাভিয়ান অ্যাম্ফিথিয়েটার। 
- এটি প্রায় ৫০,০০০ দর্শক ধারণক্ষম ছিল।
- ইউনেস্কো ১৯৯০ সালে কলোসিয়ামকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

⇒ রোমান সভ্যতা:
- গ্রিক সভ্যতার অবসানের আগেই ইতালিতে টাইবার নদীর তীরে একটি বিশাল সম্রাজ্য ও সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- রােমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা রােমান সভ্যতা নামে পরিচিত।
- প্রথম দিকে রােম একজন রাজার শাসনাধীন ছিল।
- এ সময় একটি সভা ও সিনেট ছিল।
- রাজা স্বৈরাচারী হয়ে উঠলে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ৫১০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ রােমে একটি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রােমান সভ্যতা প্রায় ছয়শ’ বছর স্থায়ী হয়েছিল। 
- ৭৫৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে রোম নগরী প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান বর্বর জাতিগুলোর হাতে রোমান সম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতন হয়।
- রোমের গণতন্ত্র একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। 

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭.
ছায়াঘড়ি ও জলঘড়ি আবিষ্কার করে কারা?
  1. সুমেরীয়রা 
  2. মিশরীয়রা 
  3. ক্যালডীয়রা 
  4. গ্রিকরা
সঠিক উত্তর:
মিশরীয়রা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশরীয়রা 
ব্যাখ্যা

মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতার যাত্রা শুরু হয়েছিল ৫০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।
- রাজা মেনেস নামে এক শক্তিশালী সামন্ত রাজা খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ অব্দে উত্তর ও দক্ষিণ মিসরকে একত্রিত করে একটি বড় রাজ্যে পরিণত করেন।
- বিখ্যাত গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডটাস মিসরের উৎকর্ষতা দেখে বিস্মিত হয়ে তিনি মিসরকে "নীলনদের দান" বা "The gift of the Nile" বলে উল্লেখ করেছেন।

⇒ মিশরীয় সভ্যতা ছিল কৃষিনির্ভর। সে কারণে নীল নদের প্লাবন, নাব্যতা, পানি প্রবাহের মাপ জোয়ারভাটা ইত্যাদি ছাড়াও জমির মাপ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। এসবের সঙ্গে জ্যোতিষশাস্ত্র ও অংক শাস্ত্রের ছিল গভীর যোগাযোগ। ফলে এ দুটি বিদ্যা তারা আয়ত্ত করেছিল প্রয়োজনের তাগিদে।
- তারা অংক শাস্ত্রের দুটি শাখা- জ্যামিতি এবং পাটিগণিতের প্রচলন করে। মিশরীয় সভ্যতার মানুষ যোগ, বিয়োগ ও ভাগের ব্যবহার জানত।
- খ্রিস্টপূর্ব ৪২০০ অব্দে তারা পৃথিবীতে প্রথম সৌর পঞ্জিকা আবিষ্কার করে।
- ৩৬৫ দিনে বছর এ হিসাবের আবিষ্কারকও তারা।
- প্রাচীন মিশরের অধিবাসীরা সময় নির্ধারণের জন্য সূর্য ঘড়ি, ছায়াঘড়ি, জলঘড়ি আবিষ্কার করে।
- ধর্মের কারণে মিশরীয়রা বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহী ছিল।
- চিকিৎসা শাস্ত্রে মিশরীয়রাই সর্বপ্রথম ‘মেটেরিয়া মেডিকা' বা ঔষুধের তালিকা প্রণয়নে সক্ষম হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
মধ্য প্রস্তর যুগের মানুষের প্রধান পেশা কী ছিল?
  1. শিকার ও মাছ ধরা
  2. কৃষি কাজ
  3. মৃৎশিল্প
  4. চাকা আবিষ্কার
সঠিক উত্তর:
শিকার ও মাছ ধরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিকার ও মাছ ধরা
ব্যাখ্যা

মধ্যপ্রস্তর যুগ:
- প্রাচীন প্রস্তর যুগ থেকে নতুন পাথরের যুগে প্রবেশের মাঝখানে কিছুটা সময় অতিবাহিত হয়েছে। 
- হাতিয়ারের বিচারে এই যুগটিকে পুরনো পাথরের যুগও বলা যায় না - আবার নতুন পাথরের যুগও বলার উপায় নেই।
- ইতিহাসে এই সময়টি মধ্য প্রস্তর যুগ নামে পরিচিত।
- আজ থেকে ১০,০০০ বছর পূর্বে এ যুগের শুরু হয়েছিল।

⇒ এ যুগে শিকার করা, মাছ ধরা, খাদ্য সংগ্রহ প্রভৃতিতে একটি বিশেষ ধারা ছিল।
- এ যুগের বৈশিষ্ট্য হলো, মানুষ এ সময় বসতি গড়ে তুলেছিল নদী ও হ্রদের তীরে। কারণ, শিকার ও মাছ ধরা ছিল এ সময়ের প্রধান পেশা।

⇒ মধ্য প্রস্তর যুগের হাতিয়ারগুলো ছিল আকারে ছোট ও সূক্ষ্ম। এ যুগের বেশ কিছু হাতিয়ার ভারতবর্ষে পাওয়া গিয়েছে। পাওয়া গিয়েছে নুড়ি পাথরের তীরের ফলা।
- মধ্য প্রস্তর যুগে হাতে বানানো মৃৎপাত্র ব্যবহার করা হতো।
- এ যুগের মানুষ প্রথম দিকে পশু ও মৎস শিকার করলেও শেষ দিকে তারা কৃষিকাজ শুরু করে।
- মধ্য প্রস্তর যুগে বিভিন্ন ধরণের অস্ত্র পাওয়া গিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের চাঁছা-ছিলার অস্ত্র। অস্ত্রগুলো গোল, চতুষ্কোণ অথবা ছুঁচালো হত। এ যুগে পাওয়া হাতকুঠারগুলো ছিল আকারে ছোট। ছোট ছোট তীক্ষ্ণ তীরের ফলা পাওয়া গেছে। ক্ষুদ্র পাথরের হাতিয়ারগুলোর সাথে কাঠের বাট লাগিয়ে তাকে ফলপ্রসূভাবে ব্যবহার করেছে এযুগের মানুষ।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।